ভ্রমণ =উড়িষ্যা পার্ট (1)পুরী +রঘুরাজপুর।
অনেক দিন পরে কিছু পুরানো ফটো দেখছিলাম।
হঠাৎ উড়িষ্যার ফটো গুলি দেখে মনেপড়ে গেল কয়েকটি ভ্রমনের কথা। আর সেই কারনে লিখতে বসে গেলাম ভ্রমন উড়িষ্যা।
তবে পুরো লেখাটি একসাথে লিখতে গেলে অনেক বড় হয়ে যাবে তাই লেখাটি তিন ভাগে ভাগ করে লিখলাম পার্ট (1 ) পার্ট (2 ) পার্ট (3 ) .
পার্ট (1 )পুরী +রঘুরাজপুর।
পার্ট (2 ) শিমলিপাল--
পার্ট (3 ) বাংরিপসি =বারিপদা
পার্ট (1 )পুরী +রঘুরাজপুর।
রঘুরাজপুর উড়িষ্যা।
সকালে পুরীর মন্দিরে পুজোদিয়ে বিকেলে বেশ কয়েক ঘন্টা সমুদের আনন্দ উপভোগ করে রাত্রে হোটেলে কাটালাম।
সমুদ্রের পারে স্বর্গদ্বারে গেলেই মন উদাস হয়ে যায়।
এমন খোলা আকাশের নিচে উন্মুক্ত স্থানে শ্বশান ,তাও ভীষণ বীভৎস ভাবে দাহ করার এমন দৃশ দাঁড়িরে দেখা যায়না।
যাইহোক রাট কাটিয়ে সকালে বেরিয়ে পড়লাম রঘুরাজপুর যাবার জন্য।
পুরী থেকে গাড়িতে মাত্র আধঘণ্টার পথ গ্রাম রঘুরাজপুর।
ছোট্ট গ্রাম,খুব বেশি ঘড় নাই এখানে, সকল মানুষদের পেশা পটচিত্র অঙ্কন।
গ্রামবাসীরা আমাদের প্রায় ছেঁকে ধরেছে শুধু ওদের কাজ দেখানোর জন্য।
পথের দুই ধরে সারি সারি ওদের ঘর। প্রতিটি ঘরেই চলছে ওদের পিট শিল্পের কাজ।
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এরা পটচিত্রকে বাঁচিয়ে চলেছে।
ওদের সাথে কথা বলে জানলাম ওর চায় ওদের প্রচার। প্রচার বাড়লেই ওদের বিক্রি বাড়বে এবং এইভাবে যদি কোন দিন সরকারের সুনজরে পরে।
ওরা বলছিলো সরকার ওদের জন্য সেভাবে কিছুই করেনি। প্রচারের আলো এসে না পৌঁছলেও ওরা আঁকড়ে ধরে আছে দেড়শো-দুশো বছর পুরনো পিট শিল্প। ঠাকুর্দার করা কাজ, বিশেষত পারম্পরিক পটচিত্র যা দেখে বাবা শিখেছে, আবার বাবার কাছে ছেলের হাতেখড়ি। অনেকেই বিভিন্ন পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী। তারপরেও কী আকুতি, বার বার বলছিলো কিনতে হবেনা, একটু দেখে যান, আমাদের ভালো লাগবে। আর ভালো লাগলে পরের বার আসবেন।
সত্যি কথা হল দেখতে হবে স্বচক্ষে ওদের শিল্প কলা।অপূর্ব সুন্দর ,নানান কারু কার্য ,রঙের বাহার।
ভুরি ভুরি জমিয়ে যত্নে রেখেছে পুরোনো দিনের ওদের বাপ্ ঠাকুরদারের শিল্প।
এখানকার কিছু পরিবার নাকি জগন্নাথ মন্দিরে সেবা করে। অর্থাৎ স্নানযাত্রার সময় যখন প্রভুর পনেরো দিন জ্বর থাকে তখন পটেই পুজো হয়।সেই পট কিভাবে তৈরী হয় তা ওরা বুঝিয়ে দিলো।
দেখাল কীভাবে দুটো কাপড় আঠা দিয়ে জুড়ে পাথরে ঘষে ঘষে পট তৈরি হয়।
ওরা কোন কেমিক্যাল রং ব্যবহার করে না। যা রং ব্যবহার করে সবই নেচারাল অর্গানিক রং।
নানান রঙের পাথর ভেঙে গুঁড়ো করে ,তাথেকেই রং তৈরী করে
( নীল রঙের পাথর থেকে নীল রঙ, শঙ্খ থেকে শাদা, হেঙ্গুর পাথর থেকে লাল, হরিতার পাথর হলুদ, গেরিমাটি থেকে খয়েরি এবং কাজল থেকে কালো রঙ। পাথর গুঁড়ো করে গ্রেইন্ড করে হয় মণ্ড, মণ্ড থেকে রঙ। কৎবেল গাছের আঠা ব্যবহার করা হয় রঙ যাতে নষ্ঠ বা ফ্যাকাশে না হয়। )
ওদের কথায় জানলাম বৎসরে চার বার জগন্নাথ,সুভদ্রা ও বলরাম কে রাজবেশ পরানো হয়।
( ওদের এই পটচিত্র হল চান্দুয়া বা মণ্ডলাও বলে কারণ গোল গোল করে এঁকে তার ভেতরে আবার কোনো কাহিনীবর্ণন। বৃত্তের ওপরে পাঁচ নিচে পাঁচ এভাবে দশাবতার থাকে চান্দুয়া পটচিত্রে।)
ওডিসি নৃত্যগুরু কেলুচরণ মহাপাত্রের জন্মস্থান এই রঘুরাজপুর গ্রামে ।
পুরীতে গেলে এমন শিল্পীদের সাথে একটু দেখা করে আসতেই পারেন ,ভালো লাগবে।
=========================================================
এর পরে পার্ট (2 ) শিমলিপাল--
সমুদ্রের পারে স্বর্গদ্বারে গেলেই মন উদাস হয়ে যায়।
এমন খোলা আকাশের নিচে উন্মুক্ত স্থানে শ্বশান ,তাও ভীষণ বীভৎস ভাবে দাহ করার এমন দৃশ দাঁড়িরে দেখা যায়না।
যাইহোক রাট কাটিয়ে সকালে বেরিয়ে পড়লাম রঘুরাজপুর যাবার জন্য।
পুরী থেকে গাড়িতে মাত্র আধঘণ্টার পথ গ্রাম রঘুরাজপুর।
ছোট্ট গ্রাম,খুব বেশি ঘড় নাই এখানে, সকল মানুষদের পেশা পটচিত্র অঙ্কন।
গ্রামবাসীরা আমাদের প্রায় ছেঁকে ধরেছে শুধু ওদের কাজ দেখানোর জন্য।
পথের দুই ধরে সারি সারি ওদের ঘর। প্রতিটি ঘরেই চলছে ওদের পিট শিল্পের কাজ।
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এরা পটচিত্রকে বাঁচিয়ে চলেছে।
ওদের সাথে কথা বলে জানলাম ওর চায় ওদের প্রচার। প্রচার বাড়লেই ওদের বিক্রি বাড়বে এবং এইভাবে যদি কোন দিন সরকারের সুনজরে পরে।
ওরা বলছিলো সরকার ওদের জন্য সেভাবে কিছুই করেনি। প্রচারের আলো এসে না পৌঁছলেও ওরা আঁকড়ে ধরে আছে দেড়শো-দুশো বছর পুরনো পিট শিল্প। ঠাকুর্দার করা কাজ, বিশেষত পারম্পরিক পটচিত্র যা দেখে বাবা শিখেছে, আবার বাবার কাছে ছেলের হাতেখড়ি। অনেকেই বিভিন্ন পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী। তারপরেও কী আকুতি, বার বার বলছিলো কিনতে হবেনা, একটু দেখে যান, আমাদের ভালো লাগবে। আর ভালো লাগলে পরের বার আসবেন।
সত্যি কথা হল দেখতে হবে স্বচক্ষে ওদের শিল্প কলা।অপূর্ব সুন্দর ,নানান কারু কার্য ,রঙের বাহার।
ভুরি ভুরি জমিয়ে যত্নে রেখেছে পুরোনো দিনের ওদের বাপ্ ঠাকুরদারের শিল্প।
এখানকার কিছু পরিবার নাকি জগন্নাথ মন্দিরে সেবা করে। অর্থাৎ স্নানযাত্রার সময় যখন প্রভুর পনেরো দিন জ্বর থাকে তখন পটেই পুজো হয়।সেই পট কিভাবে তৈরী হয় তা ওরা বুঝিয়ে দিলো।
দেখাল কীভাবে দুটো কাপড় আঠা দিয়ে জুড়ে পাথরে ঘষে ঘষে পট তৈরি হয়।
ওরা কোন কেমিক্যাল রং ব্যবহার করে না। যা রং ব্যবহার করে সবই নেচারাল অর্গানিক রং।
নানান রঙের পাথর ভেঙে গুঁড়ো করে ,তাথেকেই রং তৈরী করে
( নীল রঙের পাথর থেকে নীল রঙ, শঙ্খ থেকে শাদা, হেঙ্গুর পাথর থেকে লাল, হরিতার পাথর হলুদ, গেরিমাটি থেকে খয়েরি এবং কাজল থেকে কালো রঙ। পাথর গুঁড়ো করে গ্রেইন্ড করে হয় মণ্ড, মণ্ড থেকে রঙ। কৎবেল গাছের আঠা ব্যবহার করা হয় রঙ যাতে নষ্ঠ বা ফ্যাকাশে না হয়। )
ওদের কথায় জানলাম বৎসরে চার বার জগন্নাথ,সুভদ্রা ও বলরাম কে রাজবেশ পরানো হয়।
( ওদের এই পটচিত্র হল চান্দুয়া বা মণ্ডলাও বলে কারণ গোল গোল করে এঁকে তার ভেতরে আবার কোনো কাহিনীবর্ণন। বৃত্তের ওপরে পাঁচ নিচে পাঁচ এভাবে দশাবতার থাকে চান্দুয়া পটচিত্রে।)
ওডিসি নৃত্যগুরু কেলুচরণ মহাপাত্রের জন্মস্থান এই রঘুরাজপুর গ্রামে ।
পুরীতে গেলে এমন শিল্পীদের সাথে একটু দেখা করে আসতেই পারেন ,ভালো লাগবে।
=========================================================
এর পরে পার্ট (2 ) শিমলিপাল--
পার্ট (2 )
ভ্রমণ =উড়িষ্যা পার্ট (2 ) শিমলিপাল--
শিমলিপাল------
আমাদের প্রতিবেশী রাজ্য উড়িষ্যা নানান বৈচিত্রে পরিপূর্ন। এখানে অনেক ভ্রমণস্থল গুলিতে যেখানে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়।
তারই মধ্যে একটি স্থান হলো শিমলিপাল অভয়ারণ্য।
কলকাতা থেকে এর দূরত্ব প্রায় 300 কিমি। বালাসোর অথবা বারিপদা পৌঁছে , সেখান থেকে গাড়িতে পৌঁছে যাওয়া যায় শিমলিপাল টাইগার রিজার্ভ।
গ্রানাইট পাথরের পাহাড় , গাছ পালায় পরিপূর্ন ঘন জঙ্গল , অজস্র পাখি, সরীসৃপ ,স্তন্যপায়ী জন্তু। উড়িষ্যার ময়ূরভঞ্জ জেলার এই জাতীয় উদ্যানটি বৈচিত্রের সাথে সাথে রহস্যময়ী ও বটে।
শিমলিপাল নামটি এসেছে শিমুল গাছের থেকে ।
এখানে আছে প্রচুর শিমুল গাছ আর সেই কারণেই এই অভয় অরণ্যের নাম শিমলিপাল।
আয়তনের হিসাবে শিমলিপাল উড়িষ্যা তথা পূর্ব ভারতের বৃহত্তর অরণ্য।
ভ্রমণ =উড়িষ্যা পার্ট (2 ) শিমলিপাল--
শিমলিপাল------
আমাদের প্রতিবেশী রাজ্য উড়িষ্যা নানান বৈচিত্রে পরিপূর্ন। এখানে অনেক ভ্রমণস্থল গুলিতে যেখানে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়।
তারই মধ্যে একটি স্থান হলো শিমলিপাল অভয়ারণ্য।
কলকাতা থেকে এর দূরত্ব প্রায় 300 কিমি। বালাসোর অথবা বারিপদা পৌঁছে , সেখান থেকে গাড়িতে পৌঁছে যাওয়া যায় শিমলিপাল টাইগার রিজার্ভ।
গ্রানাইট পাথরের পাহাড় , গাছ পালায় পরিপূর্ন ঘন জঙ্গল , অজস্র পাখি, সরীসৃপ ,স্তন্যপায়ী জন্তু। উড়িষ্যার ময়ূরভঞ্জ জেলার এই জাতীয় উদ্যানটি বৈচিত্রের সাথে সাথে রহস্যময়ী ও বটে।
শিমলিপাল নামটি এসেছে শিমুল গাছের থেকে ।
এখানে আছে প্রচুর শিমুল গাছ আর সেই কারণেই এই অভয় অরণ্যের নাম শিমলিপাল।
আয়তনের হিসাবে শিমলিপাল উড়িষ্যা তথা পূর্ব ভারতের বৃহত্তর অরণ্য।
এটি তিনভাগে বিভক্ত
1< হাদগর ওয়ার্ল্ডলাইফ সাংচুয়ারী,
2< কুলডিহা ওয়ার্ল্ডলাইফ সাংচুয়ারী,
3< শিমলিপাল টাইগার রিজার্ভ ফরেস্ট।
এই জাতীয় উদ্যান ইকোলজিকাল দিক থেকেও স্বতন্ত্র। 2750 বর্গ কিমি র এই অভয়ারণ্যের মধ্যে 980 বর্গ কিমি সংরক্ষিত ও পর্যটকদের বিচরণ ক্ষেত্র। তার মধ্যে 300 বর্গ কিমি কোরএ রিয়া। এখানে 1076প্রজাতির উদ্ভিদ,42 প্রজাতির স্তন্যপায়ী, 242 প্রজাতির পাখী, 30 প্রজাতির সরীসৃপের সাথে 12 টি নদী ও খৈরীবুরু ও মেঘাসানি পাহাড় থাকায় অভয়ারণ্য টি সম্পূর্ণ পাহাড়ী ও সমতলভূমি থেকে উচ্চে অবস্থিত।
ভারতবর্ষের একমাত্র মেলানিস্টিক বাঘের আবাসস্থল এই অরণ্যে শেষ খবর অনুযায়ী ৯৯টি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। বুধবালঙ্গা, খৈরী, পলপলা, সালান্দা নদী এই অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে তিনটি জলপ্রপাতের সৃষ্টি করেছে 1 উস্কি 2 জোরান্ডা(ভারতবর্ষের 19 তম জলপ্রপাত,সপ্তম সিঙ্গল ড্রপ ওয়াটারফলস) 3 বরেহপানি( ভারতবর্ষের দ্বিতীয় উচ্চতম জলপ্রপাত) ।
শিমলিপাল নিয়ে একটি পুরানো ঘটনা আপনাদের জানাচ্ছি - অনেক কাল আগে এখানে এক নিঃসন্তান বাঙালি রেঞ্জার ফ্যামিলি বাস করতেন। তারা একবার পথভোলা আশ্রয়হীন এক ব্যাঘ্র শাবক কে খুঁজে পান। তারপর সেই কন্যা ব্যাঘ্রটিকে মানুষ করতে থাকেন সন্তান স্নেহে। তার নাম রাখা হয় খৈরী । সে যখন বড় হয় আস্তে আস্তে ফিরে পেতে থাকে তার অভিজাত ব্যাঘ্র বংশের গরিমা এবং হিংস্র হয়ে উঠতে থাকে। ইতিমধ্যে একদিন প্রতিদিনের অভ্যাসবশত রেঞ্জার সাহেবের সহধর্মিনী যখন তাদের এই কন্যা সন্তান টিকে সাথে নিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন তখন খৈরী তার গলার টুঁটি টিপে ধরে । রেঞ্জার সাহেব কোনোভাবে বুঝতে পেরে ছুটে এসে এই ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে যান। মুহূর্তে নিজেকে সামলে নিয়ে নিজ পত্নীর প্রাণ বাঁচাতে তিনি তার লাইসেন্সড রাইফেল থেকে খৈরী কে গুলি করেন ।
মৃত্যু হয় খৈরীর। ততক্ষনে অবশ্য রেঞ্জার সাহেবের স্ত্রীও পরলোক গমন করেছেন। এই ঘটনায় রেঞ্জার সাহেব ভীষণ ভেঙে পড়েছিলেন। একাধারে স্ত্রীর মৃত্যু তারসাথে তারই হাতে প্রাণ প্রিয় কন্যা সন্তান সম খৈরীর মৃত্যুর পরিনামও খুব খারাপ হয়। শোকে ,কিছুদিনের মধ্যে তিনিও মৃত্যু বরণ করেন।শিমলিপালে যারা গেছেন তারা এটা শুনে থাকবেন আর যারা যেতে চান তারা গেলে তারাও স্থানীয় মানুষ জনের থেকে এটা শুনতে পাবেন।
ঘটনাটি যেমন হৃদয়বিদারক তেমনি আরো আকর্ষণীয় করে তোলে সিমলিপালকে।
ন্যাশনাল হাইওয়ে 6 নম্বর দিয়ে পৌঁছানো এই অভয়ারণ্যে সর্বমোট 7 টি চেক গেট আছে।
1< কালিকাপ্রসাদ
2< ব্রুন্দা বান
3< নিগিরধা
4<ভজন
5< পিথাবাটা
6< চাহালা
7<এবং তুলসিবানি।
1< হাদগর ওয়ার্ল্ডলাইফ সাংচুয়ারী,
2< কুলডিহা ওয়ার্ল্ডলাইফ সাংচুয়ারী,
3< শিমলিপাল টাইগার রিজার্ভ ফরেস্ট।
এই জাতীয় উদ্যান ইকোলজিকাল দিক থেকেও স্বতন্ত্র। 2750 বর্গ কিমি র এই অভয়ারণ্যের মধ্যে 980 বর্গ কিমি সংরক্ষিত ও পর্যটকদের বিচরণ ক্ষেত্র। তার মধ্যে 300 বর্গ কিমি কোরএ রিয়া। এখানে 1076প্রজাতির উদ্ভিদ,42 প্রজাতির স্তন্যপায়ী, 242 প্রজাতির পাখী, 30 প্রজাতির সরীসৃপের সাথে 12 টি নদী ও খৈরীবুরু ও মেঘাসানি পাহাড় থাকায় অভয়ারণ্য টি সম্পূর্ণ পাহাড়ী ও সমতলভূমি থেকে উচ্চে অবস্থিত।
ভারতবর্ষের একমাত্র মেলানিস্টিক বাঘের আবাসস্থল এই অরণ্যে শেষ খবর অনুযায়ী ৯৯টি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। বুধবালঙ্গা, খৈরী, পলপলা, সালান্দা নদী এই অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে তিনটি জলপ্রপাতের সৃষ্টি করেছে 1 উস্কি 2 জোরান্ডা(ভারতবর্ষের 19 তম জলপ্রপাত,সপ্তম সিঙ্গল ড্রপ ওয়াটারফলস) 3 বরেহপানি( ভারতবর্ষের দ্বিতীয় উচ্চতম জলপ্রপাত) ।
শিমলিপাল নিয়ে একটি পুরানো ঘটনা আপনাদের জানাচ্ছি - অনেক কাল আগে এখানে এক নিঃসন্তান বাঙালি রেঞ্জার ফ্যামিলি বাস করতেন। তারা একবার পথভোলা আশ্রয়হীন এক ব্যাঘ্র শাবক কে খুঁজে পান। তারপর সেই কন্যা ব্যাঘ্রটিকে মানুষ করতে থাকেন সন্তান স্নেহে। তার নাম রাখা হয় খৈরী । সে যখন বড় হয় আস্তে আস্তে ফিরে পেতে থাকে তার অভিজাত ব্যাঘ্র বংশের গরিমা এবং হিংস্র হয়ে উঠতে থাকে। ইতিমধ্যে একদিন প্রতিদিনের অভ্যাসবশত রেঞ্জার সাহেবের সহধর্মিনী যখন তাদের এই কন্যা সন্তান টিকে সাথে নিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন তখন খৈরী তার গলার টুঁটি টিপে ধরে । রেঞ্জার সাহেব কোনোভাবে বুঝতে পেরে ছুটে এসে এই ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে যান। মুহূর্তে নিজেকে সামলে নিয়ে নিজ পত্নীর প্রাণ বাঁচাতে তিনি তার লাইসেন্সড রাইফেল থেকে খৈরী কে গুলি করেন ।
মৃত্যু হয় খৈরীর। ততক্ষনে অবশ্য রেঞ্জার সাহেবের স্ত্রীও পরলোক গমন করেছেন। এই ঘটনায় রেঞ্জার সাহেব ভীষণ ভেঙে পড়েছিলেন। একাধারে স্ত্রীর মৃত্যু তারসাথে তারই হাতে প্রাণ প্রিয় কন্যা সন্তান সম খৈরীর মৃত্যুর পরিনামও খুব খারাপ হয়। শোকে ,কিছুদিনের মধ্যে তিনিও মৃত্যু বরণ করেন।শিমলিপালে যারা গেছেন তারা এটা শুনে থাকবেন আর যারা যেতে চান তারা গেলে তারাও স্থানীয় মানুষ জনের থেকে এটা শুনতে পাবেন।
ঘটনাটি যেমন হৃদয়বিদারক তেমনি আরো আকর্ষণীয় করে তোলে সিমলিপালকে।
ন্যাশনাল হাইওয়ে 6 নম্বর দিয়ে পৌঁছানো এই অভয়ারণ্যে সর্বমোট 7 টি চেক গেট আছে।
1< কালিকাপ্রসাদ
2< ব্রুন্দা বান
3< নিগিরধা
4<ভজন
5< পিথাবাটা
6< চাহালা
7<এবং তুলসিবানি।
প্রবেশের জন্য বাংরিপসির নিকটবর্তী পিথাবাটা গেট অথবা ঠিক অন্যপ্রান্তের জোশিপদার দিকে ,খৈরী লুলুং গেট ব্যাবহার করা যায়। এখানে, চাহালা বলে একটি স্থান আছে যেখানে বন্য জন্তু রা নুনমাটি খেতে আসে। রহস্যময়ী এই জঙ্গলে ঘুড়ে বেরিয়ে দেখতে বেশ ভালোই আগে।
==========================================================ok
এর পরে পার্ট (3 ) বাংরিপসি =বারিপদা
পার্ট ( 3)
ভ্রমণ =উড়িষ্যা পার্ট (3 ) বাংরিপসি =বারিপদা
এবারের ভ্রমণ একটু অন্য রকম ,কারন আমি একাই ঘুরতে ভালোবাসি ,কিন্তু দুইজন বন্ধুর
অনুরোধ রাখতে এক টুর পার্টির সাথে বেরিয়ে পড়লাম।
টুর পার্টির সাত জন ,এবং আমরা তিনজন ,আমি ,রাঘো সিং,ও অর্জুন পান্ডে ,
সর্বমোট দশ জন মিলে রওনা দিলাম উড়িষ্যার রাংরিপসি ভ্রমণে।
চার দিনের ভ্রমণ ,যাওয়া আসার দুইদিন এবং বাংরিপসি র সৌন্দর্য উপভোগ করতে দুই দিন।
সকালে হাওড়া থেকে ধোওলি এক্সপ্রেস ধরে বালাসোর স্টেশন। সেখান থেকে বাসে করেই আমরা পৌঁছে ছিলাম হোটেল বাংরিপসিতে।
বাংরিপসি যাবার জন্য জাতীয় সড়ক 49 ধরেই যেতে হয়। এটি সিমলিপাল জাতীয় উদ্যানের অংশ।
কাছেই মা দুয়ারাসুনির মন্দির। বাংরিপসি রেলস্টেসন টিও সুন্দর ,
এই বাংরিপসির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারনে একে ম্যাজিক অফ নেচার বলাহয়।
উইকএন্ডের ছুটি কাটাবার জন্য এবং প্রকৃতির দূষণ মুক্ত নানান সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে ঘুরে বেড়াবার জন্য খুব সুন্দর মনোরম স্থান। এখানকার আদিবাসী গ্রাম গুলিও অতি সুন্দর।
এখান থেকে ঠাকুরাণী পাহাড়ের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য কোনদিন ভুলবার নয়।
কোলকাতা থেকে মাত্র 228 কিলোমিটার দূরে এমন মনোরম স্থান বোধহয় খুব কমই আছে।
এখানে কাছেই আছে বিদ্যাভান্ডার ,পাথরাকুসি এবং বুড়াবুড়ি পাহাড়।
কাছেই বয়ে চলেছে বুড়িবালাম নদী।
এখানকার আদিবাসীদের হস্তশিল্প ডোখরা ,সে এক অপূর্ব শিল্প।
বাংরিপসির = ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলায় বারিপদা থেকে মাত্র 30/35 কিমি দূরে ছোটো এক গ্রাম বাংরিপসি ।
==========================================================ok
এর পরে পার্ট (3 ) বাংরিপসি =বারিপদা
পার্ট ( 3)
ভ্রমণ =উড়িষ্যা পার্ট (3 ) বাংরিপসি =বারিপদা
এবারের ভ্রমণ একটু অন্য রকম ,কারন আমি একাই ঘুরতে ভালোবাসি ,কিন্তু দুইজন বন্ধুর
অনুরোধ রাখতে এক টুর পার্টির সাথে বেরিয়ে পড়লাম।
টুর পার্টির সাত জন ,এবং আমরা তিনজন ,আমি ,রাঘো সিং,ও অর্জুন পান্ডে ,
সর্বমোট দশ জন মিলে রওনা দিলাম উড়িষ্যার রাংরিপসি ভ্রমণে।
চার দিনের ভ্রমণ ,যাওয়া আসার দুইদিন এবং বাংরিপসি র সৌন্দর্য উপভোগ করতে দুই দিন।
সকালে হাওড়া থেকে ধোওলি এক্সপ্রেস ধরে বালাসোর স্টেশন। সেখান থেকে বাসে করেই আমরা পৌঁছে ছিলাম হোটেল বাংরিপসিতে।
বাংরিপসি যাবার জন্য জাতীয় সড়ক 49 ধরেই যেতে হয়। এটি সিমলিপাল জাতীয় উদ্যানের অংশ।
কাছেই মা দুয়ারাসুনির মন্দির। বাংরিপসি রেলস্টেসন টিও সুন্দর ,
এই বাংরিপসির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারনে একে ম্যাজিক অফ নেচার বলাহয়।
উইকএন্ডের ছুটি কাটাবার জন্য এবং প্রকৃতির দূষণ মুক্ত নানান সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে ঘুরে বেড়াবার জন্য খুব সুন্দর মনোরম স্থান। এখানকার আদিবাসী গ্রাম গুলিও অতি সুন্দর।
এখান থেকে ঠাকুরাণী পাহাড়ের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য কোনদিন ভুলবার নয়।
কোলকাতা থেকে মাত্র 228 কিলোমিটার দূরে এমন মনোরম স্থান বোধহয় খুব কমই আছে।
এখানে কাছেই আছে বিদ্যাভান্ডার ,পাথরাকুসি এবং বুড়াবুড়ি পাহাড়।
কাছেই বয়ে চলেছে বুড়িবালাম নদী।
এখানকার আদিবাসীদের হস্তশিল্প ডোখরা ,সে এক অপূর্ব শিল্প।
বাংরিপসির = ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলায় বারিপদা থেকে মাত্র 30/35 কিমি দূরে ছোটো এক গ্রাম বাংরিপসি ।
আমাদের টুর পার্টির গাইড জানালেন যে
বর্ষাকালে বাংরিপসির সৌন্দর্য নাকি অপূর্ব সবুজের দেশে সবুজ সুন্দরী রূপের ডালি লয়ে আনন্দে খেলা করেন।
আর আমরা তো গিয়েছিলাম শীতকালে। সময় ও দিন মনে নাই তবে শীতের পোশাক পরেই ঘুরে বেরিয়েছিলাম। পুরানো দিনের ছবি গুলি দেখে মনে পড়ছে।
সেই কারনে যেটুকু মনের গভীরে বাসা বেঁধে আছে সেই টুকুই লিখতে বসলাম।
শীতকালে বাংরিপসি অপূর্ব শোভায় সুশোভিত এক ছোট এক রোমান্টিক গ্রাম । প্রকৃতি এখানে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছে ।
প্রথমে গেলাম ব্রাহ্মণ কুন্ড দেখতে,
--অপূর্ব এই কুন্ডটি দেখেই মনে হবে যেন এক প্রাকৃতিক পাথর বাটী । চারিদিকে পাথর দ্বারা ঘেরা এক কুন্ড (পুকুর) আর উপর থেকে জলরাশি পড়ছে । ব্রাহ্মণ কুন্ড আসতেই চোখে পড়ল ঠাকুরানী হিল ।
বর্ষাকালে বাংরিপসির সৌন্দর্য নাকি অপূর্ব সবুজের দেশে সবুজ সুন্দরী রূপের ডালি লয়ে আনন্দে খেলা করেন।
আর আমরা তো গিয়েছিলাম শীতকালে। সময় ও দিন মনে নাই তবে শীতের পোশাক পরেই ঘুরে বেরিয়েছিলাম। পুরানো দিনের ছবি গুলি দেখে মনে পড়ছে।
সেই কারনে যেটুকু মনের গভীরে বাসা বেঁধে আছে সেই টুকুই লিখতে বসলাম।
শীতকালে বাংরিপসি অপূর্ব শোভায় সুশোভিত এক ছোট এক রোমান্টিক গ্রাম । প্রকৃতি এখানে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছে ।
প্রথমে গেলাম ব্রাহ্মণ কুন্ড দেখতে,
--অপূর্ব এই কুন্ডটি দেখেই মনে হবে যেন এক প্রাকৃতিক পাথর বাটী । চারিদিকে পাথর দ্বারা ঘেরা এক কুন্ড (পুকুর) আর উপর থেকে জলরাশি পড়ছে । ব্রাহ্মণ কুন্ড আসতেই চোখে পড়ল ঠাকুরানী হিল ।
সিমলিপাল ফরেস্টের বাইরের অংশে ফুলঝরা গ্রাম পেরিয়ে বাংরিপসি থেকে ৫০ কিমি দূরে এই ব্রাহ্মণকুন্ড।
বুড়িবালাম নদী --বাংরিপসি থেকে ৭ কিমি দূরে ব্রাহ্মণ কুন্ড যাওয়ার রাস্তায় এই নদী । এই বুড়িবালাম নদী চলে গেছে বালাসোর হয়ে চাঁদিপুর ।
এখানেই বাংলার বীর স্বাধীনতা সংগ্রামী বাঘাযতীনের সাথে ইংরেজ দের লড়াই হয়েছিল এই বালাসোরে বুড়িবালাম নদীর ধারে ।নদীর স্বচ্ছ জল কুল কুল করে বয়ে চলেছে ধীর গতিতে , নদীর দুই কোলে অপূর্ব সকল ফুলের মেলা ,নানান রঙের নাম নাজানা পাখিদের কলতান সাথে শীতের আমেজ প্রদূষম মুক্ত বাতাস। বার বার বুক ভরে বাতাস কে ধরে রাখতে ইচ্ছা কইছিলো।
কিসুন্দর শান্ত পরিবেশ। দেখে মনে হল খুব কম মানুষই আসে এখানে।
একথা স্বীকার করতে বাধা নাই যে যারা প্রকৃতই প্রকৃতি প্রেমী তারা কিন্তু বার বার আসে এখানকার সৌন্দর্য উপভোগ করতে।
বাঁকবল ড্যাম আর সুলাইপাট ড্যাম ---
বাংরিপসি থেকে জোশিপুরের দিকে বাঁকবল ড্যাম 26 কিমি আর সুলাইপাত ড্যাম 55 কিমি । দুটো ড্যামের দৃশ্য খুবই সুন্দর ।বিশাল জলরাশি র ভান্ডার ,আশেপাশের পাহাড় থেকে বয়ে আসা জল এখানে ধরে রাখা।দূরে দেখলাম ছোট ছোট ডিঙি নৌকা নিয়ে জেলেরা মাছ ধরছে।
জাল গুলি মাথার উপর থেকে ঘুরিয়ে দূরে জলে ফেলছে। মনে হচ্ছিল গোলাকার এক খাঁচা ঝুপ করে জলে পরে মাছগুলিকে ঘিড়ে বন্ধি করে তুলে আনছে। নিরালায় শান্ত পরিবেশে ড্যামের উপরে দাঁড়িয়ে এমন দৃশ্য ভুলবার নয়।
সুলাইপাট ড্যাম টি খড়কাই নদীর ওপরে ড্যাম। সুলাইপাট দেখে এগিয়ে গেলাম বাঁকবল
ড্যামে ,এটি বেশ বড় ড্যাম। এইখানে গাড়ি চালাবার পারমিশন নাই তাই পায়ে হেঁটেই দেখতে হয়।
বাদামপাহাড়-- বাংরিপসি থেকে 65 কিমি । এখানে আয়রন মাইন্স আছে । টাটানগর থেকে রোজ একটা ডেমু ট্রেন বাদামপাহাড় আসে । বাদামপাহাড়েই রেল লাইন শেষ হয়ে গেছে ।
শঙ্করমারা ড্যাম (হ্রদ) আর বালিডিহা ড্যাম
এই শঙ্করমারা হ্রদ এতো টাই সুন্দর এর প্রকৃতি আর উপত্যকা যা বর্ণনা করতে গেলে কবি হতে হবে।
কবির মতন ভাব বা মন কোনটাই আমার নাই সেইকারণে এহেন সৌন্দর্যকে মনের মধ্যেই রেখে দিলাম যত্নে।
আর বালিডিহা ড্যাম আর পাঁচটা ড্যামের মতো নয় । এখানে জল যেনো জলপ্রপাতের মত পাহাড়ের গা বেয়ে নামছে । দেখে মনে হবে যেন কৃত্তিম ভাবে তৈরী কোন পার্কার জল ভে চলেছে। এখানে স্নান করাযায় আর স্নান করতে করতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার আদর্শ জায়গা । খুবই সুন্দর মনে গেথে রাখার মতন ড্যাম ।
সীতাকুন্ড জলপ্রপাত---এই সীতা কুন্ডে কম লোকেই যায় । বারিপদার পিঠাবাটা গেট দিয়ে ঢোকার একটু আগে জঙ্গলের মধ্যে সুন্দর এক জলপ্রপাত ।যেটি এখানে কুন্ড সৃষ্টি করেছে ।এখানেও দেখলাম অনেকে স্নান করছে , স্নান করা যায় খুব ভালো ভাবে । জলপ্রপাতের একদম কাছে যেতে হলে একটু সাবধানে যেতে হয় রাস্তা কিছুটা কঠিন ও দুর্গম।
কুলিয়ানার ডোকরা শিল্পের গ্রাম--
বাংরিপসি আর বারিপদার ঠিক মাঝে ডোকরা শিল্পের কুলিয়ানা গ্রাম.
এখানে সামান্য কয়েকটি ঘড় যাদের শিল্প দেশ বিদেশে সমাদর লাভ করেছে।
পেতলের নানান মূর্তি ও তার কারু কার্য দেখলে স্তম্ভিত হতে হয়।
বাড়িগুলি মাটির দেওয়াল কিন্তু ওদের ভেতরে যে এমন প্রতিভা তা ভাবনার অতীত।
এইসকল পেতলের হস্ত শিল্প এখানে খুবই সস্তা।ওরা বলছিলো মেলায় গিয়ে যখন ওরা এইগুলি বিক্রি করে তখন মানুষেরা অনেক দাম দিয়ে গুলি কিনে নেয়। কিন্তু তাতে শিল্পীদের বিশেষ লাভ হয়না কারন দালালরাই বেশিটা নিয়ে নেয় আর ওরা সামান্যই পায়। তারথেকে এখানে বসে যদি সরাসরি ওরা বিক্রি করতে পারে তবে গায়কও কমদামে পায় আর ওদের দুপয়সা লাভ হয়।
===========================================================
উড়িষ্যা ভ্রমণ এখানেই শেষ করলাম
বুড়িবালাম নদী --বাংরিপসি থেকে ৭ কিমি দূরে ব্রাহ্মণ কুন্ড যাওয়ার রাস্তায় এই নদী । এই বুড়িবালাম নদী চলে গেছে বালাসোর হয়ে চাঁদিপুর ।
এখানেই বাংলার বীর স্বাধীনতা সংগ্রামী বাঘাযতীনের সাথে ইংরেজ দের লড়াই হয়েছিল এই বালাসোরে বুড়িবালাম নদীর ধারে ।নদীর স্বচ্ছ জল কুল কুল করে বয়ে চলেছে ধীর গতিতে , নদীর দুই কোলে অপূর্ব সকল ফুলের মেলা ,নানান রঙের নাম নাজানা পাখিদের কলতান সাথে শীতের আমেজ প্রদূষম মুক্ত বাতাস। বার বার বুক ভরে বাতাস কে ধরে রাখতে ইচ্ছা কইছিলো।
কিসুন্দর শান্ত পরিবেশ। দেখে মনে হল খুব কম মানুষই আসে এখানে।
একথা স্বীকার করতে বাধা নাই যে যারা প্রকৃতই প্রকৃতি প্রেমী তারা কিন্তু বার বার আসে এখানকার সৌন্দর্য উপভোগ করতে।
বাঁকবল ড্যাম আর সুলাইপাট ড্যাম ---
বাংরিপসি থেকে জোশিপুরের দিকে বাঁকবল ড্যাম 26 কিমি আর সুলাইপাত ড্যাম 55 কিমি । দুটো ড্যামের দৃশ্য খুবই সুন্দর ।বিশাল জলরাশি র ভান্ডার ,আশেপাশের পাহাড় থেকে বয়ে আসা জল এখানে ধরে রাখা।দূরে দেখলাম ছোট ছোট ডিঙি নৌকা নিয়ে জেলেরা মাছ ধরছে।
জাল গুলি মাথার উপর থেকে ঘুরিয়ে দূরে জলে ফেলছে। মনে হচ্ছিল গোলাকার এক খাঁচা ঝুপ করে জলে পরে মাছগুলিকে ঘিড়ে বন্ধি করে তুলে আনছে। নিরালায় শান্ত পরিবেশে ড্যামের উপরে দাঁড়িয়ে এমন দৃশ্য ভুলবার নয়।
সুলাইপাট ড্যাম টি খড়কাই নদীর ওপরে ড্যাম। সুলাইপাট দেখে এগিয়ে গেলাম বাঁকবল
ড্যামে ,এটি বেশ বড় ড্যাম। এইখানে গাড়ি চালাবার পারমিশন নাই তাই পায়ে হেঁটেই দেখতে হয়।
বাদামপাহাড়-- বাংরিপসি থেকে 65 কিমি । এখানে আয়রন মাইন্স আছে । টাটানগর থেকে রোজ একটা ডেমু ট্রেন বাদামপাহাড় আসে । বাদামপাহাড়েই রেল লাইন শেষ হয়ে গেছে ।
শঙ্করমারা ড্যাম (হ্রদ) আর বালিডিহা ড্যাম
এই শঙ্করমারা হ্রদ এতো টাই সুন্দর এর প্রকৃতি আর উপত্যকা যা বর্ণনা করতে গেলে কবি হতে হবে।
কবির মতন ভাব বা মন কোনটাই আমার নাই সেইকারণে এহেন সৌন্দর্যকে মনের মধ্যেই রেখে দিলাম যত্নে।
আর বালিডিহা ড্যাম আর পাঁচটা ড্যামের মতো নয় । এখানে জল যেনো জলপ্রপাতের মত পাহাড়ের গা বেয়ে নামছে । দেখে মনে হবে যেন কৃত্তিম ভাবে তৈরী কোন পার্কার জল ভে চলেছে। এখানে স্নান করাযায় আর স্নান করতে করতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার আদর্শ জায়গা । খুবই সুন্দর মনে গেথে রাখার মতন ড্যাম ।
সীতাকুন্ড জলপ্রপাত---এই সীতা কুন্ডে কম লোকেই যায় । বারিপদার পিঠাবাটা গেট দিয়ে ঢোকার একটু আগে জঙ্গলের মধ্যে সুন্দর এক জলপ্রপাত ।যেটি এখানে কুন্ড সৃষ্টি করেছে ।এখানেও দেখলাম অনেকে স্নান করছে , স্নান করা যায় খুব ভালো ভাবে । জলপ্রপাতের একদম কাছে যেতে হলে একটু সাবধানে যেতে হয় রাস্তা কিছুটা কঠিন ও দুর্গম।
কুলিয়ানার ডোকরা শিল্পের গ্রাম--
বাংরিপসি আর বারিপদার ঠিক মাঝে ডোকরা শিল্পের কুলিয়ানা গ্রাম.
এখানে সামান্য কয়েকটি ঘড় যাদের শিল্প দেশ বিদেশে সমাদর লাভ করেছে।
পেতলের নানান মূর্তি ও তার কারু কার্য দেখলে স্তম্ভিত হতে হয়।
বাড়িগুলি মাটির দেওয়াল কিন্তু ওদের ভেতরে যে এমন প্রতিভা তা ভাবনার অতীত।
এইসকল পেতলের হস্ত শিল্প এখানে খুবই সস্তা।ওরা বলছিলো মেলায় গিয়ে যখন ওরা এইগুলি বিক্রি করে তখন মানুষেরা অনেক দাম দিয়ে গুলি কিনে নেয়। কিন্তু তাতে শিল্পীদের বিশেষ লাভ হয়না কারন দালালরাই বেশিটা নিয়ে নেয় আর ওরা সামান্যই পায়। তারথেকে এখানে বসে যদি সরাসরি ওরা বিক্রি করতে পারে তবে গায়কও কমদামে পায় আর ওদের দুপয়সা লাভ হয়।
===========================================================
উড়িষ্যা ভ্রমণ এখানেই শেষ করলাম
No comments:
Post a Comment