100> মিশরকে একটু জানার চেষ্টা।
1> মিশরকে একটু জেনেনি।
2>মিশরের পিরামিড নিয়ে দুচার কথা।
3>আমার দেখা মিশরের মন্দির গুলি। যেটুকু বুঝেছি সেই টুকুই লিখছি।
4>কর্ণাক টেম্পল:
5>ভ্যালি অফ দা কিং।-
6>আবু সিম্বেল মন্দির’।
7>আবু আল-আব্বাস আল-মুরসি মসজিদ।
8>তুতানখামেন::
9>আলেক্সান্দ্রিয়া কপ্টিক।
10>আলেকজান্দ্রিয়ার প্রাচীন গ্রন্থাগার
11>আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর:।
12>স্ট্যানলি সেতু।
13>কম এল শোকাফার ধ্বংসাবশেষ।
14>বিখ্যাত পম্পি পিলার।
15>|| রোমান থিয়েটার আলেক্সান্দ্রিয়া |
===========================
★1>মিশরকে একটু জেনেনি।
মিশর Egypt-----উত্তর আফ্রিকার আরব দেশ টির নাম মিশর।
এটি আরব প্রজাতন্ত্রের এক দেশ, উত্তর আফ্রিকার একটি প্রাচীন রাষ্ট্র। দেশটির বেশির ভাগ অংশ আফ্রিকাতে অবস্থিত, কিন্তু এর সবচেয়ে পূর্বের অংশটি,হোল সিনাই উপদ্বীপ। সিনাই উপদ্বীপ আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে স্থলসেতুর মত কাজ করে। মিশরের অধিকাংশ এলাকা মরুময়। নীলনদ দ্বারা দেশটি দুইটি অসমান ভাগে বিভ্ক্ত। নীলনদের উপত্যকা ও ব-দ্বীপ অঞ্চলেই মিশরের বেশির ভাগ মানুষ বাস করেন। কায়রো দেশের বৃহত্তম শহর ও রাজধানী। এখানকার মুদ্রা :--মিশরীয় পাউন্ড বা ( ই জি পি ) রাজধানী এবং বৃহত্তম নগরী কায়রো. 30 2' উত্তর 31 13' পূর্ব. এখন কার ভাষা - আরবি।
সরকার অর্ধ-রাষ্ট্রপতি প্রজাতন্ত্র। প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার বিশেষ বিখ্যাত গিজার পিরামিড।
উত্তর আফ্রিকার পূর্বাঞ্চলের একটি প্রাচীন সভ্যতা এই প্রাচীন মিশর।
নীলনদের নিম্নভূমি অঞ্চলে এই সভ্যতা গড়ে ওঠে। এই অঞ্চলটি বর্তমানে মিশর রাষ্ট্রের অন্তর্গত। মিশরীয় গণিত ব্যবস্থা, চিকিৎসা ব্যবস্থা, সেচ ও উৎপাদন কৌশল . প্রথম জাহাজ নির্মাণ,মিশরীয় চীনামাটি ও কাঁচশিল্প উল্লেখ যোগ্যম।
এখানকার পুরাকীর্তিগুলি বিশ্বের দরবারে
সমাদৃত। শতাব্দীর পর শতাব্দী প্রাচীন মিশরের পুরাকীর্তিগুলির ধ্বংসাবশেষ পর্যটক ও লেখকদের কল্পনাশক্তিকে অনুপ্রাণীত করেছে। আধুনিক যুগের প্রথম ভাগে পুরাকীর্তি ও খননকার্যের প্রতি নতুন করে মানুষের আগ্রহ জেগে উঠলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মিশরের সভ্যতা সম্পর্কে অনুসন্ধান শুরু হয়।
এর ফলে মিশরীয় সভ্যতার সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারগুলি মিশর ও বিশ্ববাসীর সম্মুখে নতুন রূপে উপস্থাপিত হয়।
( সংকলিত)
=============================
★2>মিশরের পিরামিড নিয়ে দুচার কথা।
মিশরের পিরামিডের ইতিহাস যতই পড়ি ততই অবাক হতে হয়।
আজ মিশরের " বুক অফ দ্যা ডেড"
সমন্ধে একটু জানবার চেষ্টাতে কিছু খোঁজ করলাম এবং জানলাম।
আর সেই কারণে কিছু লিখলাম।
মিশরের গিজা পিরামিড এক ঐতিহাসিক অসাধারন সুন্দর পিরামিড।
যেটি সমবাহু, সুবিশাল,সুচারু রূপে নির্মিত এক শ্রেষ্ঠ ও অত্যাশ্চর্য নির্মাণ।
যে নির্মাণকে ভাবতে গেলে মনে হয় এ কোন ভিনগ্রহের প্রাণীদের দ্বারাই সৃষ্টি।
মিশরীয় সভ্যতায় পিরামিড এক বিস্ময়কর সৃষ্টি।
আমরা যে পিরামিডের সামনে দাঁড়িয়ে আছি সেটি গিজার সেই সুবৃহৎ পিরামিড।
জানতে পারলাম এই গিজার পিরামিডের মতন সুউচ্চ পিরামিডগুলি ছিল আসলে স্বর্গের দেবতাদের কাছাকাছি পৌঁছনোর মাধ্যম।
কায়রো থেকে ঘণ্টা দেড়েকের পথে নীলনদের পশ্চিম দিকের কিছু পিরামিড আজও দাঁড়িয়ে আছে। মনে করা হয় এই পিরামিড গুলি
পিরামিড তৈরির প্রথম ও প্রারম্ভিক চিন্তা ও কর্মকান্ডের নিদর্শন।
ঐতিহাসিক সাক্কারায় রাজা জোসারের তৈরি ছয় ধাপবিশিষ্ট স্টেপ পিরামিড তার মধ্যে একটি।
কিছু পিরামিড ভিতরে কিছু কিছু পার্থক্য আছে, যেমন একটি পিরামিডে রাজকুমারী ইদুতের সমাধি।সেখানে
সারা দেওয়ালে খোদাই করা আছে অজস্র চিত্র। অতি আশ্চর্যের বিষয় যে সেকালের রং এখনো টিকে আছে। ছবির বিষয় বস্তুতে শ্রমজীবী মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম, ষাঁড় বলিদানের দৃশ্য এবং কিছু নৌকার ছবিও আছে।
অবশ্য নৌকা নীলনদের জীবন জীবিকার অঙ্গ, আবার প্রাচীন মিশরে নৌকা ছিল ইহলোকের সঙ্গে পরলোকের যোগাযোগের মাধ্যমও।
অবশ্য প্রত্যেকটি মন্দির , সমাধিতে এই নৌকার ছবি দেখাযায়।
আর অন্য আরেকটি সমাধি গৃহ যেটি আরও পুরানো। জানতে পারলাম
সেই পুরানো পিরামিড দেখতে বা রাজা উনাসের ভাঙা পিরামিডের বিষয় জানতে ওই ভাঙা পিরামিডের ভেতরে যেতে হবে।
মিশরের পরবর্তী কালের সমাধিগৃহ গুলোতে দেব-দেবীর ছবি,স্বর্গ যাত্রার ছবি ,মর্তের দৈনন্দিন জীবন যাত্রার ছবি,প্রভৃতি অনেক কিছুই থাকত,
আবার কোন কোন পিরামিডে সে সকল কিছুই থাকেনা, পরিবর্তে সারা দেওয়াল জুড়ে লেখা, হায়রোগ্লিফিক লিপিতে।
জানতে পারলাম যে এই লেখাগুলোকে বলা হয় পিরামিডের লিপি।
এগুলি আসলে কিছু মন্ত্র ।
যে মন্ত্র বলে রাজা যাতে সুস্থ ভাবে সমস্ত বাধা পেরিয়ে স্বর্গে পৌঁছতে পারেন, এবং সেখানে পুনর্জীবন লাভ করতে পারেন, দিব্য শরীর ধারণ করতে পারেন ও স্বর্গের দেবতাদের সঙ্গে মিলিত হতে পারেন এবং সেখানে যেন শান্তিতে আনন্দ পূর্ন হৃদয়ে বাস করতে পারেন তার জন্যই এই মন্ত্র লিপি বদ্ধ করা থাকে।
কথিত আছে যে এই লিপি অনুসন্ধানের
আগে পুরহিতরা রাজার সমাধিতে এসে নিয়মিত মন্ত্রপাঠ করতেন। উনাসের সময় থেকে সেই মন্ত্রগুলি দেওয়ালে গ্ৰস্থিত কড়াশুরু হয়। যাতে করে পুরোহিতদের অনুপস্থিতিতেও রাজার আত্মা নিজেই মন্ত্রগুলো পড়ে নিতে পারেন।
এই মন্ত্রগুলি কায়রোর গ্র্যান্ড
ইজিপশিয়ান মিউজিয়মেও আছে।
কফিনের ভেতরের দেওয়ালে লিপি গুলি লেখা আছে। আর সমস্ত ঘর জুড়ে পিরামিড লিপি ।
এই পিরামিড লিপি গুলি ছোট আকারে কফিনে লেখা হতো।
পরে অবশ্য প্যাপিরাসের পুঁথিতে লেখা মন্ত্র কফিনে রাখা হত বই এর মতন করে এই বইকে বলা হয় ----
"দি বুক অফ দ্যা ডেড"।
স্বর্গের দেবতা আনুবিশেই শেষ বিচার করতেন।
হৃৎপিণ্ডের ওজন মেপে দেখতেন পাপের বোঝায় ভারী কি না এবং সেই হিসাবে বিচার করতেন।
দেবতা আনুবিশের কাছে পৌঁছনোর আগে মৃত ব্যক্তির আত্মাকে নানান প্রশ্নের উত্তর দিতে হত।
তার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও নানান মন্ত্র লেখা থাকত ওই 'বুক অফ দা ডেড' 'এতে।
মিশরের পিরামিড, কফিন, মমি এসকল দেখে মনে হয় প্রাচীন মিশর
ইহ জীবন থেকে পরলোকের জন্য অধিক চিন্তিত ছিল।
আসলে তা নয় মিশর পরলোকে গভীর ভাবে বিশ্বাসী ছিলেন। আর সেই কারণে
মিশরের রাজা , রানী, ফেরাও এবং বিত্ত বান মানুষেরা নিজেদের পরলোকের সুখের ব্যবস্থা নিজেরাই করে যেতেন।
বিশেষ ভাবে জানতে পারলাম "মিশরের
প্রথম পিরামিড অর্থাৎ জোসারের স্টেপ পিরামিড যিনি নির্মাণ করেন,
রাজস্থপতি ও সভাপন্ডিত ইমহোটেপ-- তাঁকে দেবতার স্তরে উন্নীত করা হয়।
ইমহোটেপ একাধারে চিকিৎসাবিদ, স্থপতি ও জ্যোতির্বিদ ছিলেন।
আসওয়ানে কোন-অম্বু মন্দিরে একটি অর্ঘ্যবেদি, যেখানে চিকিৎসার যন্ত্রপাতি ইমহোটেপের উদ্দেশ্যে অর্পিত, আর ফিলে আইল্যান্ডে তাঁর মন্দিরও আছে।
জানলাম এগুলি জোসারের মৃত্যুর দুই হাজার বছর পর নির্মিত।
সেই কারণে এই সকল স্থপতি দেখে বোঝা যায় যে এগুলি শুধু পরলোক বাদ নয় বা পরলোকের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নয় এগুলি আদিম সভ্যতার নানা প্রযুক্তির বিকাশের নিদর্শনও বটে।
★3>আমার দেখা মিশরের মন্দির গুলি।
যেটুকু বুঝেছি সেই টুকুই লিখছি।
প্রাচীন মিশরের টেম্পেল গুলি বিশেষ গুরুত্ব পূর্ণ । টেম্পেল গুলিতে প্রাচীন মিশরের গড ও গডেস গন বাস করতেন।
প্রত্যেক গড ও গডেস আলাদা আলাদা টেম্পল যেখানে তারা পূজিত হতেন টেম্পেলের পৃষ্ট ও ফেরাও দের দ্বারা।
টেম্পল গুলিতে সকল মানুষের পূজার অনুমতি ছিলনা।
কেবল মাত্র রাজা ও পৃষ্ট গনই পূজা করতে পারতেন কঠোর শুদ্ধি করণের মাধ্যমে। সাধারন মানুষ কেবল মাত্র কোন উৎ সবের দিনে, যখন মনে করা হতো যে দেবতারা বাইরে বেরিয়ে আসতেন তখনই সাধারন মানুষ টেম্পেলে প্রবেশ করার অধিকার পেতেন।
প্রাচীন মিশরীয় টেম্পল গুলির মহত্ব দেশের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য অতিশয় মূল্যবান ও বিষেশ ভাবে জড়িত।
টেম্পল গুলির অধীনে প্রচুর জমি বা অঞ্চল থাকত।এবং প্রচুর শ্রমিক মানুষ চাকুরী রত থাকত । এবং মনে করা হত এখানে ফেরাও গন ও রাজা সরাসরি দেবতাদের সাথে যোগাযোগ করতেন।
দেশেরব মানুষ মন্দিরের নানান কাজে যুক্ত থাকতো। তারজন্য তারা অর্থ পেতো।
আর মন্দিরের অধীনে সমস্ত জমিতে কৃষি কাজ ,খনি থেকে পাথর উত্তোলন প্রভৃতি
কাজ হতো। উদ্বৃত্ব ফসল ও নানান সামগ্রী নিকট বর্তী অঞ্চলে রপ্তানি করে প্রচুর
অর্থ উপার্জন হতো। সেই অর্থে দেশের উন্নয়ন ও ফারাওদের নিজের নিজের কৃতী স্থাপনের কাজ হতো।
প্রাচীন মিশরীয় টেম্পল গুলির প্রধানত দুই ভাগে বিভ্ক্তো ছিলো।
প্রথমটি ছিল যেটি বিশেষ কোন গড বা গডেজের জন্য উৎসর্গকৃত।
যেমন ইডফুর হোরাসের টেম্পেল। আসোয়ানের আইসিসির টেম্পেল।
দ্বিতীয় ধরার টেম্পেল গুলি সমাধিসংক্রান্ত যেগুলি ফেরাও দের মৃত্যুর পরে তাদের জন্য নিবেদিত হত। যেখানে ফেরাও রা দেবতা রূপে পূজিত হতেন।
যেমন থীবজ নগরীর রামেসেজ 2 টেম্পল।
দেখে যেটূকু বুঝেছি টেম্পল গুলি এমন স্যান্ড স্টোন দিয়ে তৈরি যা বেশি দিন টিকে থাকতে সক্ষম।
ঘরের মেঝে কোআটজ ( Courts) নামক পাথরের, এবং হলগুলির পিলার গুলি প্যাপিরাস গাছের ( যে গাছের ছাল থেকে পুরাকালে মানুষ কাগজ প্রস্তুত করতো) সেই গাছ, পালম গাছ, ও পদ্ম ফুলের আকারে তৈরি করতো। গৃহের ছাদ গুলি সাজানো হত তারা, নক্ষত্র, ইত্যাদি অঙ্কন করে। এবং আশ্রয়স্থল নির্দেশ করতো ঢিবির মতন সু উচ্ছ স্থানে। টেম্পেল গুলি পূর্ব পশ্চিম নির্দেশিত হত কারন মনে করা হত সূর্য পিলার গুলির উপরে উদিত হয়ে সামনের গেট দিয়ে প্রবেশ করে মন্দিরে উপরে অস্ত যেতো। মন্দিরের ভেতরে ফেরাও দের নানা কার্যের নিদর্শন,দেবতা পূজা অনুষ্ঠান, আর নানা যুদ্ধের চিত্র,
অঙ্কন করে সাজানো হত। আর বাহিরের দেওয়ালে ফেরাও গন দেখাতেন সকল বিরক্তিকর বিশৃঙ্খলার ছবি।
প্রাচীন মিশরে প্রথম পৌরাণিক মন্দির তৈরি হয়েছিল আনুমানিক চার মিলিনিয়াম বি,সি, তে। নল খাগড়ার কুরে ঘরের মতন। সর্বশেষ মিসরীয় টেম্পল যেগুলি ফিলাটে তৈরী হয়ে ছিল 6th সেঞ্চুরি AD তে সেইগুলি ব্যবহারের অযোগ্য বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে পরবর্তীতে নানান রকমারি টেম্পেল তৈরী হয়েছে দীর্ঘ দিন ধরে।
( সংকলিত)
====================
★4>কর্ণাক টেম্পল::-------
কর্ণাক মন্দির, মিশর বা কারনাক ট্যাম্পেল:
এই মন্দিরের শহরটি 2000 বছরেরও বেশি সময় আগে নির্মিত হয়েছিল। কর্ণাকের মন্দির হল স্থাপত্য-কাঠামো ও সুন্দর কারু কার্য সমন্বিত নির্মিত একটি সুবিশাল ইমারত ভবন। এই অঞ্চলটি এখনো আধুনিক বিশ্বের বেশ কিছু বিস্ময়করের সঙ্গে তুলনা করা চলে। কর্ণাক টেম্পল প্রায় 200 একর এলাকায় বিস্তারিত এবং এখান থেকেই সমস্ত ধর্মীয় ভবনগুলির তৈরী করা হয়েছিল । এই মন্দিরটি 4,000 বছরেরও বেশী সময় ধরে মিসরবাসীর তীর্থ স্থান।
মিশরের অনেক আকর্ষণীয় মন্দির গুলোর মধ্যে কার্নাক মন্দির সবচেয়ে প্রাচীন। কার্নাক মন্দিরটি প্রাচীন বৃহত্তম ধর্মীয় স্থাপনা। এটি মূলত একটি মন্দিরের শহর যা 2000 বছরেরও বেশি আগে নির্মিত হয়েছে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় বিস্ময়গুলোর মধ্যে একটি। এখন এটি একটি অনন্য পর্যটনস্থল।এখানকার বিশাল হলগুলি হাইপোস্টাইল হল. ( হাইপোস্টাইল হল হলো বিশাল আকৃতির হল যেখানে বিশাল বিশাল পিলার , বেশির ভাগ হল গুলি অন্ধকার কিন্তু মাঝখানের হলে ছাদ কেটে জানালার আকারে করা হয়। এই হলটিকে প্রাচীন মিসরের মঙ্গলের প্রতিভূ।
এখানকার পিলার গুলি PAPYRUS PLANTSএর আকারে তৈরী ( যে গাছ থেকে কাগজ তৈরি হয় ) সেই গাছের আকারে পিলার গুলি। অন্ধকারে পিলার গুলি দেখতে ঠিক পাপেরাস গছের মাথায় যেন পদ্মের কুড়ি। মাঝখানটা যেখানে সূর্যের আলো প্রবেশ করে সেখানে মনে হয় পাপেরাস গাছের মাথায় যেন উজ্জ্বল সূর্য ঝল মল করছে। ভিতরের দেওয়াল গুলি ধর্মীয় নানান ছবি খোদাই করা। হলের এই মাঝের হলে কেবল মাত্র বিশেষ প্রিস্ট ও ফেরাও গণই প্রবেশের অধিকার পেতেন। এবং এই হলে ধার্মিক ক্রিয়া অনুষ্ঠান সম্পাদিত হতো।
3000 হাজার বৎসরের পুরোনো লাক্সর টেম্পল,কর্ণক মন্দির ,ফিন্যাক্স এর মূর্তি এবং লাক্সররের টেম্পেল অপূর্ব পিয়ার গুলি ও টেম্পল যে গুলি তৈরী করেছিলেন
তুতেনখামেন ,এবং আলেক্সজেন্ডার দি গ্রেট। এই সকল কারু কার্যের নিদর্শনেই গভীর অনুভূতি র সাথে বিভিন্ন ফেরাও গনের মূর্তি ও ছবি ,যেগুলি মনের গভীরে গেথে রইলো।
এইরকম এক অদ্ভুত অনুভূতি মনকে যেন আছন্ন করে রইলো।
এমন অবস্থায় ক্রজে ফিরে রাত্রের ডিনার শেষ করে ক্রজের সৌন্দর্য মন্ডিত রুমে
মহা আরামে চতুর্থ দিনের সমস্ত চিন্তা গুলি মাথায় নিয়ে শুয়ে পড়লাম।
( সংকলিত)
==========================
★5>ভ্যালি অফ দা কিং::---
প্রাচীন মিশরের সবচেয়ে জনপ্রিয় শহর
লুক্সর বা লক্সোরের তীর ঘেঁষে বয়ে চলা নীলনদের পশ্চিম পাশে পাহাড় দিয়ে ঘেরা এলাকার নামই হলো ‘’ভ্যালী অব কিংস”। এটি একটি উপত্যকা যা মিশরের রাজা ও রাজার পরিষদবর্গের জন্য নির্মাণ করা হয়। প্রায় ৫০০ বছর পূর্বে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এই উপত্যকায় ৬৩ টি সমাধি ও ১২০ টি প্রকোষ্ঠ আছে ।
রাজকীয় সমাধিটি চমৎকার মিশরীয় পুরাণের কাহিনীর দৃশ্য দিয়ে সাজানো হয়েছে যা দেখে প্রাচীন যুগের বিশ্বাস ও ধর্মানুষ্ঠান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
এই জায়গা চারিদিকে পাহাড় দিয়ে ঘেরা যার পেছনে নীল নদ ও সামনে মরুভূমি।
========================
★6>আবু সিম্বেল মন্দির’।
আবু ও সিম্বেল এই দুটি মন্দিরকে নীলনদের প্রভাব থেকে উদ্ধার করার কার্যক্রম। মানুষের এই অবিস্মরণীয় পুরাকীর্তিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে ইউনেস্কো এগিয়ে আসে। ১৯৬৪ সালে ইউনেস্কো ও মিশর সরকারের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয় উদ্ধার কার্য। ইঞ্জিনিয়ার ও স্থপতিদের ঐকান্তিক চেষ্টায়, মন্দিরটি নতুনভাবে নির্মাণ করা হয় আসওয়ান হাই ড্যাম রিজার্ভারের উপর। পরিকল্পনা অনুসারে, প্রথমে মন্দির দু’টিকে টুকরো-টুকরো করে কেটে হাজার হাজার ভাগে করে । প্রত্যেকটি ভাগকে নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করে, কাছের একটি পাহাড়ের উপর তোলা হয়। একেকটা অংশের ওজন প্রায় ত্রিশ টন। প্রত্যেকটি অংশকে তুলে তীরের চেয়ে ৬৫ মিটার উঁচুতে হুবহু মূল মন্দিরের অনুকরণে সাজিয়ে তাদের বসানো হয়। মূল মন্দির ও পাহাড়ের চূড়ার মাঝখানে যে হাজার-হাজার টনের পাথর ছিল। কিন্তু নতুন স্থাপিত মন্দিরে সেই পাথরের পরিবর্তে তৈরি করা হয় কংক্রিটের বিশাল ডোম। ঠিক যেন উল্টানো হাঁড়ির মতো দেখতে এই ডোমের ছাদের উপর লক্ষ-লক্ষ টন বালি ফেলে, তাকে পাহাড়ের আকৃতি দেওয়া হয়। অনেক হিসেব কষে সূর্যের কক্ষপথের সঙ্গে মন্দিরের অবস্থানকে আগের মতোই মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে । সম্পূর্ণ কাজটি করতে সময় লেগেছিল প্রায় চার বছর। আর এভাবেই বর্তমান কালের স্থপতিদের তত্ত্বাবধানে মন্দিরটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করা হয়।
বর্তমানে মন্দিরটির ‘নতুন’ কলেবরে তৈরি, কিন্তু অবিকল পুরানো চেহারার মতো। তফাৎ শুধু একটাই যে, আধুনিক যুগে যন্ত্রের সাহায্যে যে কাজ করা হয়েছে, বহু যুগ আগে লক্ষ-লক্ষ টন ওজনের পাথর কাটা ও বসানোর মতো অতিমানবীয় কাজ সে সময়কার মানুষ তাদের আপন হাতে ও বুদ্ধিমত্তার জোরে সম্পন্ন করেছিল যা সত্যিই অবিশ্বাস্য। এভাবে এ যুগের নামকরা স্থাপত্যদের সার্বিক প্রচেষ্ঠায় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হলো প্রাচীনকালের স্থপতিদের কলা-কৌশলে তৈরি পৃথিবীর এক বিস্ময়কর পাথুরে স্থাপত্য ‘আবু সিম্বেল মন্দির’।
( সংকলিত)
=====================
★7>আবু আল-আব্বাস আল-মুরসি মসজিদ::--
আলেকজান্দ্রিয়া মিশর শহরের মসজিদ। এটি ত্রয়োদশ শতাব্দীর মার্সিয়ান আন্দালুসি সুফি সাধক আবুল আব্বাস আল-মুরসির উদ্দেশ্যে উত্সর্গীকৃত করে তৈরি করেন, এবং সমাধিতে রয়েছে এখানে।
মসজিদটি বর্তমান ডিজাইন করছেন ইউজিনিও ভালজানিয়া এবং মারিও রসি ১৯২৯/৪৫ সালে নতুনভাবে ডিজাইন করেছিলেন এবং এটি মিশরের পুরানো কায়রো ভবন মত করা হয়েছে।
( সংকলিত)
=========================
★8>তুতানখামেনের সমাধি:----
সমাধি আর অভিশাপেই বিখ্যাত তুতানখামেন।
তুতানখামেন মিশরের ফারাও ছিলেন না
তিনি ছিলেন পুরোহিততন্ত্রের হাতের পুতুল। কিন্তু তাঁর মমির সঙ্গে পাওয়া গিয়েছে রাজকীয় ঐশ্বর্য, এবং জানাগেছে
মৃতের প্রতিশোধ নেওয়ার অলৌকিক কিংবদন্তি।
তুতানখামেন ছিলেন ফারাও চতুর্থ আমেনহোটেপ বা আখেনাতেনের জামাই। আখেনাতেন-এর স্ত্রী ছিলেন সুন্দরী নেফারতিতি। এঁদের পুত্রসন্তান ছিল না, ছিল সাতটি কন্যা। এঁদেরই এক জামাই তুতানখামেন। তিনি মিশরের ১৮তম রাজবংশের সবচেয়ে কম দিনের বালক রাজা। তাঁর জন্ম সম্ভবত আমরানাতে, খ্রিস্টপূর্ব ১৩৪১ অব্দে, এবং রাজত্বকাল খ্রিস্টপূর্ব ১৩৩২-১৩২৩।
তুতানখামেনের আসল নাম ছিল শ্বশুরের পূজিত সূর্যদেব বা আটন-এর নামে, তুত আনখ আটন। প্রথমেই পুরোহিতদের আদেশে তিনি তাদের পছন্দের দেবতা আমনের নামে নাম বদল করে নতুন নাম নেন, তুত আনখ আমন, বা তুতানখামেন। মিশরের মন্দিরে মহাসমারোহে আমন দেব আবার পুজো পেতে লাগলেন। সারা দেশ থেকে দেবতা আটন এবংআখেনাতেন- এর নাম মুছে ফেলা শুরু হল।
পুরোহিতদের হাতের পুতুল, শ্বশুরের নাম ও পূজিত দেবতাকে নির্বাসনে পাঠিয়েছেন, তবুও প্রচারের সব আলো
তুতানখামেনের এত প্রচার মাত্র একটি কারণে। তাঁর সমাধি থেকে উদ্ধারকৃত অতুল ঐশ্বর্যের জন্য। মিশরের ইতিহাসে সবচেয়ে ছোট এই সমাধির মধ্য থেকে পাওয়া গেছে ৫,৩৯৮টি অপরূপ সামগ্রী। সোনার মুকুট, সোনার শবাধার, তুতানখামেনের মমি একটির ভিতর আর একটি, এভাবে তিনটি সোনার আধারের মধ্যে রাখা ছিল। বহুমূল্য রত্নরাজি ছাড়াও পাওয়া গিয়েছে উল্কাপিণ্ডের লোহা দিয়ে নির্মিত সুদৃশ্য ছোরা, হাতির দাঁতের হাতলের সঙ্গে উটপাখির পালকের হাতপাখা ইত্যাদি। এ ছাড়াও পাওয়া গিয়েছে অপূর্ব সুন্দর কারুকাজ করা কাঠের মূর্তি। আর একটি অদ্ভুত কাঠের জানোয়ারের মূর্তি উদ্ধার হয়েছে যার শরীর ও পা বেড়ালের, মুখটা ঘোড়ার, মুখে গজদন্ত দ্বারা নির্মিত বিড়ালের মতো তীক্ষ্ণ শ্বদন্ত। এই সমাধি থেকে পাওয়া রাজকীয় ঐশ্বর্যের পুরোটাই প্রায় তাঁর শ্বশুর ও দাদাশ্বশুরের সম্পত্তি। তুতানখামেনের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে মিশরের ইতিহাসের ১৮তম রাজবংশের পরিসমাপ্তি ঘটে।
তুতানখামেনের সমাধি আবিষ্কার হওয়ার
পর একদিকে যেমন সমাধি থেকে প্রাপ্ত অতুল ঐশ্বর্যের চর্চা শুরু হয়, তেমনি আবার দু’টি মুখরোচক গল্পের চর্চারও
ছড়িয়ে পড়ে।
প্রথমটি হচ্ছে, তুতানখামেনের হত্যারহস্য। বলা হয়, অত্যন্ত দুর্বল স্বাস্থ্যের এই ফারাওয়ের কোনও বংশধর না থাকায়, ক্ষমতা দখলের লোভে তার স্ত্রী আঁখেসেনামুন নাকি তাঁদের ঘোড়ার গাড়ির কোচোয়ানকে দিয়ে তাঁকে হত্যা করান।
কিন্তু পরে প্রমাণিত যে, সেই সময়ে ফারাওদের নিজের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেই বিয়ে হত। সম্ভবত সেই কারণেই তুতানখামেনের অসংখ্য জিনগত রোগ ছিল। পায়ের সমস্যায় ঠিকমতো হাঁটতে পারতেন না, বেতের ছড়িতে ভর দিয়ে চলতেন। তাঁর ব্যবহৃত ছড়িগুলি সমাধির মধ্যেই পাওয়া গেছে। এছাড়াও গন্নাকাটা বা ক্লেফ্ট প্যালেট সমস্যার জন্য নাকি সুরে কথা বলতেন। বিজ্ঞানীদের মত, এত কম বয়সে মৃত্যুর কারণ সম্ভবত মিশরের কুখ্যাত প্লাসমোডিয়াম ফ্যালসিপেরাম মশার কামড়।
দ্বিতীয় মুখরোচক গল্প হল, তুতানখামেনের অভিশাপ। এ প্রসঙ্গে অবশ্যই আসবে বিশিষ্ট মিশর-বিশেষজ্ঞ হাওয়ার্ড কার্টারের নাম। ধনকুবের লর্ড কার্নারভনের সহযোগিতায় শুরু হয় ইতিহাসে বিস্মৃত তুতানখামেনের সমাধি খুঁজে বের করার প্রয়াস। কারণ ততদিনে ইতিহাসবিখ্যাত ফারাওদের পিরামিড এবং কিংস ভ্যালির সমাধিগুলি তন্নতন্ন করে খুঁজেও তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। ১৯২২ সালের ২৬ নভেম্বর তুতানখামেনের মূল সমাধিগৃহে প্রবেশ করা হয়। সমাধিটি মাত্র ১১০ বর্গফুট আয়তনের।
এই অসাধারণ আবিষ্কার সারা পৃথিবীতে আলোড়ন ফেলে।
সেযুগের গণমাধ্যমও কাগজের কাটতি বাড়াতে তুতানখামেনের মমির অভিশাপ নাম দিয়ে অলৌকিক সব খবর ছাপতে থাকে। কেউ লেখেন, সমাধির উপরে উল্লেখ করা আছে, বাইরের কেউ সমাধিতে প্রবেশ করলে মৃত্যু অনিবার্য। কেউ কেউ সমাধির মধ্যে রক্ষিত শেয়ালদেবতা অনুবিস ও মমি নিয়ে নানা মনগড়া স্টোরি ছাপেন।
এঁরা কেউ হিয়েরোগ্লিফিক লিপি না বুঝেই লিপির বক্তব্য বুঝে ফেলতেন!
অভিশাপের নামে যেসব গালগপ্পো বহুল প্রচারিত ছিল, তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিল,
১) ফারাওদের রাজমুকুটে উদ্যতফণা গোখরো সাপের মূর্তি থাকত। সমাধি উন্মুক্ত করার দিন ঘরে ফিরে কার্টার সাহেব দেখেন যে, একটি মিশরীয় গোখরো তাঁর পোষা হলুদ ক্যানারি পাখিটিকে গিলে খাচ্ছে।
২) দাড়ি কাটতে গিয়ে খুরে গাল কেটে যাওয়া কিছু আশ্চর্য নয়। কিন্তু প্রজেক্টের পৃষ্ঠপোষক লর্ড কার্নারভনের ক্ষেত্রে তা হয়ে দাঁড়ায় সেপ্টিসেমিয়া। তখন ওষুধপত্র তত উন্নত ছিল না, তাই ১৯২৩ সালের ৫ এপ্রিল কায়রোতে ওঁর মৃত্যু ঘটে। আবার কাকতালীয় ভাবে ওই দিন সকালেই নাকি লন্ডনে তাঁর পোষা কুকুরটিও মারা যায়। দুয়ে দুয়ে চার করে ভয়ঙ্কর সব গল্প ছড়িয়ে পড়ে।
৩) এর পর এই উৎখনন কাজের সঙ্গে যুক্ত লোকেদের পরিবারের কারও কিছু হলেই, মমির অভিশাপের গল্প জুড়ে দেওয়া হত। লর্ড কার্নারভনের এক সৎভাই অন্ধ হয়ে যান, কার্টারের এক সহযোগী আর্সেনিকের বিষক্রিয়ায় মারা যান— সবই নাকি মমির অভিশাপের ফল।
আর হাজার হাজার বছর ধরে চোরের দল, কবরে ঢুকে সব কিছু লুটেপুটে নিয়ে গেছে, গিজার বড় বড় পিরামিডের মধ্যে আর একটিও মমি অবশিষ্ট নেই, তাদের উপরে কোনও অভিশাপ বর্ষণ হয়নি। গত শতকেও কায়রোর রাস্তায় প্রকাশ্যে সারি সারি মমি বিক্রি হত, সেসব নিয়ে কোনও গল্প নেই। স্বয়ং হাওয়ার্ড কার্টার সুস্থ শরীরে ৬৪ বছর অবধি বেঁচে ছিলেন।
সেই ঘটনার প্রায় একশো বছর হতে চলল। কিন্তু মমির অভিশাপ নিয়ে লাগাতার টিভি শো, সিনেমা-র বিরাম নেই। কারণ মানুষ গল্প শুনতে চায়, আর কে না জানে, গল্পের বাজারে ভূত প্রেত বা অলৌকিক কাহিনির কোনও মার নেই।
( সংকলিত)
========================
★9>আলেক্সান্দ্রিয়া কপ্টিক:-------
Rakotə, হল মিশরের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং এই শহরেই মিশরের বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর অবস্থিত। আলেক্সান্দ্রিয়া উত্তর-পশ্চিম মিশরে ভূমধ্যসাগরের উপরে এবং নিচে প্রায় 32 কিলোমিটার (20 মাইল) পর্যন্ত বিস্তৃত। এই শহরের মিশরের বিখ্যাত গ্রন্থাগার বিবলিওথেকা আলেক্সান্দ্রিয়া অবস্থিত। এটি শিল্প ও বাণিজ্য কেন্দ্র, কারণ এর সাথে সুয়েজহয়ে আসা প্রাকৃতিক গ্যাস এবং তেলেরপাইপলাইন রয়েছে। এই শহরটি গভর্ণর শাসিত এবং এ ধরনের শহরকে মিশরে মুহাফাজা বলা হয়।
প্রাচীনকালে এই শহরটি বাতিঘর (প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি) এবং গ্রন্থাগারের(প্রাচীন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গ্রন্থাগার) জন্য বিখ্যাত ছিল।
সম্প্রতি আলেক্সান্দ্রিয়ার সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় সামুদ্রিক নৃবিজ্ঞান এর উপর ভিত্তি করে পরিচালিত গবেষণায় (যা 1994 সালে শুরু হয়েছিল) আলেক্সান্ডারের আগমনের পূর্বে যখন এই শহরের নাম ছিল রাকোটিস সেই সময় এবং টলেমীয় রাজত্বেরসময়ের আলেক্সিন্দ্রিয়া সম্বন্ধে নতুন অনেক তথ্যই আছে। যা প্রাচীন ও আধুনিক স্থাপনার নিদর্শন।
আলেক্সান্দ্রিয়ার নামকরণ করা হয়েছে এর প্রতিষ্ঠাতা আলেক্সান্ডার দি গ্রেটের নামানুসারে। আলেক্সান্ডারের মৃত্যুর পর তার অন্যতম সেনাপতি টলেমী আলেক্সান্ডারের সাম্রাজ্যের এই অংশের অধিকারী হন। এটি ছিল মিশরের টলেমীয় শাসকদের রাজধানী এবং হেলেনীয়পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম শহর যা আয়তন এবং সম্পদে একমাত্র রোমের থেকে পিছনে ছিল। মিশরের মধ্যযুগীয় মুসলিম শাসকগণ যখন কায়রো শহরের গোড়াপত্তন ঘটান তখনই আলেক্সান্দ্রিয়ার পতনের শুরু হয় এবং উসমানীয় রাজত্বের সময় এটি নিছক একটি ছোট জেলেপাড়া হিসেবে পরিগণিত হয়।
আলেক্সান্ডার দি গ্রেট আলেক্সান্দ্রিয়া নগরী প্রতিষ্ঠা করেন আনুমানিক 334 খৃস্টপূর্বাব্দের দিকে।
সঠিক তারিখ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। প্রতিষ্ঠার সময় এর প্রকৃত নাম ছিল Aleksándreia; ।
এই নগরী তৈরিতে আলেক্সান্ডারের প্রধান স্থপতি হিসেবে কাজ করেছেন রোড্সের ডাইনোক্রেট্স।
( সংকলিত)
=========================
★10>আলেকজান্দ্রিয়ার নুতন এবং
প্রাচীন গ্রন্থাগার।::----
প্রাচীন বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাগার দ্য গ্রেট লাইব্রেরি অফ আলেকজান্দ্রিয়া।
ইতিহাসের কথা পরে লিখছি,
আগে আমি নিজে যেমন দেখেছি আলেক্সান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগারটি, সেই কথাই আগে লিখছি।
এতো বিশাল গ্রন্থাগার ভাবনার অধিক।
এতো বড় যে একটি গ্রন্থাগার হতে পারে সেটা ভেবেই কোন কুল-কিনারা পাচ্ছিনা।
দেখেই মনে হচ্চে সেই প্রাচীন গৌরব পুনরুদ্ধারে এটি এখন বিশ্বঐতিহ্য ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে।
আমরা কাঁচের নির্মিত রাস্তা দিয়ে ভবনে প্রবেশ করলাম। সম্পুর্ন কাঁচের সিঁড়ি।
বাইরের দেওয়াল টি বাঁকানো এবং বৃহৎ আকারের যেটি আসওয়ানের গ্রানাইট থেকে তৈরি। ভেতরে শক্ত কাঠের লাইন হল। এ ছাড়া মেঝে ওক গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি।১১ তলা লাইব্রেরি টি
এর ভেতরে আছে জাদুঘর, একটি সম্মেলন কেন্দ্র, প্ল্যানেটেরিয়াম এবং একটি পাঠকক্ষ। পাঠকক্ষ ১১টি স্তরে দুই হাজার জন এক সময়ের পড়াশোনা করতে পারে।
প্রতিটি পড়ার টেবিলে আছে অত্যাধুনিক লেপটপ। যে কোন ছাত্র ছাত্রী টেবিলে বসেই লেপটপে ইচ্ছা অনুসারে পড়াশুনা করতে পারে।
বর্তমানে ৮০টি ভাষায় ১৫ লক্ষ বই এখানে আছে, তবে সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ৮০ লক্ষ গ্রন্থ। রয়েছে ৫০ হাজার ম্যাপ, ১০ হাজার পাণ্ডুলিপি, ৫০ হাজার দুর্লভ গ্রন্থ এবং ১০ হাজার আধুনিক বিশ্বের কপি ও ৫০ হাজার ভিজ্যুয়াল অডিও ফাইল।
প্রতিটি বইয়ের তাকে ডিজিটাল সংক্রিয় ব্যবস্থায় বই খুঁজে নেবার ব্যবস্থা।
তাও আবার ৮০ টি ভাষায়।
ওই বিশাল বইয়ের সমুদ্রে আমি খুঁজে পেয়েছিলাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলি সহ বেশকিছু বই। পেয়েছিলাম
স্বামী বিবেকানন্দের কিছু বই।
বাংলা ও ইংরেজিতে। পেয়েছিলাম আমাদের রামায়ণ মহাভারতের মতন বেশ কিছু গ্রন্থ।
গ্রন্থাগারের বেজমেন্টে ডিজিটাল ল্যাবের দেখলাম। যেখানে পুরাতন বইকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাল করার প্রোগ্রাম আছে। জানলাম বর্তমানে প্রতিবছর গ্রন্থাগারে ৮০ লক্ষ ভিজিটর আসা-যাওয়া করেন।
এসত্যি আমার ভাবনার তথা কল্পনার বাইরে।
আলেকজেন্দ্রিয়ার পুস্তক ভান্ডার,
তিন ঘণ্টা দেখেও মনে হাঁ হাঁ কার নিয়েই ফিরে আসলাম।
এমন বিশাল পুস্তক ভান্ডার।
চোখে না দেখলে বিশ্বাস করাই যে ভার।
বিশাল পরিসর,সমগ্র বিশ্বের বইয়ের পাহাড়।
ই-বুকের সংগ্রহ,যেন মনেহয় ই-বুকের সমুদ্র।
আহা কি দেখিলাম, চোখে দেখেও বিশ্বাস হারালাম।
এবারে বলি প্রাচীন গ্রন্থাগারের ইতিহাস::---সেটি নাকি আরও বড় ছিল।
আলেকজান্দ্রিয়ার প্রাচীন গ্রন্থাগার বা আলেকজান্দ্রিয়ার রাজ-গ্রন্থাগার ছিল প্রাচীন বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাগারগুলির একটি।
এটি মিশরেরআলেকজান্দ্রিয়া শহরে অবস্থিত ছিল। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে মিশরের টলেমিক রাজবংশের পৃষ্ঠপোষকতায় একটি প্রধান শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে এই গ্রন্থাগারটি গড়ে উঠেছিল।
৩০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোমানদের মিশর আক্রমণের সময় পর্যন্ত এই গ্রন্থাগার কার্যকরী ছিল। গ্রন্থ সংগ্রহের পাশাপাশি এই গ্রন্থাগারে বক্তৃতাকক্ষ, সভাকক্ষ ও বাগানও ছিল। এই গ্রন্থাগার প্রকৃতপক্ষে ছিল মিউজিয়াম নামে এক বৃহত্তর গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অংশ। এখানে প্রাচীন বিশ্বের বহু বিশিষ্ট দার্শনিক পড়াশোনা করেছিলেন।
এই গ্রন্থাগার ছিল মিশরের ঐশ্বর্য ও ক্ষমতার প্রতীক। সারা পৃথিবী থেকে বই ধার করে তার অনুলিপি তৈরি করা ও সেই বই গ্রন্থাগারে নিয়ে আসার জন্য এই গ্রন্থাগারে কর্মচারী নিয়োগ করা হত। অধিকাংশ বইই রাখা হয় প্যাপিরাস স্ক্রোলের আকারে। তবে ঠিক কতগুলি স্ক্রোল এই গ্রন্থাগারে রক্ষিত ছিল তা জানা যায় না।
এই গ্রন্থাগার পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল। যার ফলে বহু স্ক্রোল ও বই চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়। আলেকজান্দ্রিয়ার প্রাচীন গ্রন্থাগারের অগ্নিকাণ্ড তাই সাংস্কৃতিক জ্ঞান ধ্বংসের প্রতীক। প্রাচীন গ্রন্থগুলিতে এই অগ্নিকাণ্ডের সময় নিয়ে বিতর্ক দেখা যায়। কে এই অগ্নিসংযোগ ঘটিয়েছিলেন তা নিয়েও মতান্তর রয়েছ।
আলেকজান্দ্রিয়ার প্রাচীন গ্রন্থাগারের আকার কেমন ছিল, তা সঠিক না জানা যায়নি।
তবে নানান লেখকের লেখা থেকে পাওয়া গেছে কিছু তথ্য প্রাচীন গ্রন্থগুলির বর্ণনা অনুসারে, "এই গ্রন্থাগারে স্ক্রোলের বিশাল সংগ্রহ, আঁকাবাঁকা পায়ে চলার পথ, একত্র ভোজনের কক্ষ, পড়ার ঘর, সভাকক্ষ, বাগান ও বক্তৃতাকক্ষ ছিল। আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলির শিক্ষাপ্রাঙ্গণে এই ধরনের নকশা দেখা যায়। গ্রন্থাগারের একটি অধিগ্রহণ বিভাগ এবং একটি ক্যাটালগিং বিভাগ ছিল। একটি বড়ো ঘরে তাকে প্যাপিরারের সংগ্রহ রাখা হত। এগুলিকে বলা হত "বিবলিওথেকাই" । জনশ্রুতি, এই তাকগুলির উপর একটি ফলকে লেখা থাকত: "আত্মার চিকিৎসার স্থান"।
গ্রন্থাগারটি ছিল আলেকজান্দ্রিয়ার মিউজিয়ামের একটি অংশ। এটি ছিল একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান।গ্রন্থাগার ছাড়াও মিউজিয়ামে ছিল জ্যোতির্বিদ্যা ও শরীরস্থান পঠনপাঠনের কক্ষ এবং দুষ্প্রাপ্য প্রাণীদের একটি চিড়িয়াখানা। যেসব বিশিষ্ট চিন্তাবিদ এই গ্রন্থাগারে পড়াশোনা ও গবেষণা করেছেন তাঁদের মধ্যে গণিত, প্রযুক্তিবিদ্যা, শারীরবিদ্যা, ভূগোল ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিশিষ্ট প্রথীতযশা মণীষীরা আছেন। এঁরা হলেন ইউক্রিড, আর্কিমিডিস, এরাটোস্থেনিস, হেরোফিলাস, এরাসিস্ট্রাটাস, হিপ্পারাকাস, এডেসিয়া, পাপ্পাস, থেওন, হাইপেশিয়া, আরিস্টারকাস অফ সামোস ও সেন্ট ক্যাথারিন।"
"কথিত আছে, রাজা টলেমি দ্বিতীয় ফিলাডেলফাসের রাজত্বকালে (309-246 খ্রিস্টপূর্বাব্দ) গ্রন্থাগারে 500,000-এরও বেশি স্ক্রোল ছিল।কথিত আছে, বিবাহের যৌতুক হিসেবে পারগামাম গ্রন্থাগারের 200,000 স্ক্রোল মার্ক অ্যান্টনি ক্লিওপেট্রাকে উপহার দিয়েছিলেন।"
"গ্রন্থ সংগ্রহের পর প্রধান অনুলিপিগুলি তৈরি করা হত সারা পৃথিবীর বিদ্বান, রাজপরিবার ও ধনী গ্রন্থ সংগ্রাহকদের জন্য। তা থেকে গ্রন্থের প্রচুর আয়ও হত।"
"এই গ্রন্থাগারের বিবরণ ইতিহাস ও কিংবদন্তির মিশ্রণই রয়ে গিয়েছে।
আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগারের দায়িত্ব ছিল সারা বিশ্বের জ্ঞান সংগ্রহ করা। গ্রন্থাগারের অধিকাংশ কর্মচারী প্যাপিরাসে বই অনুবাদের কাজে ব্যস্ত থাকতেন। রোডস ও এথেন্সেরবইমেলায় ঘুরে রাজার অর্থে প্রচুর বই সংগ্রহ করে এই কাজ চলত।"
"এই গ্রন্থাগারের সম্পাদকেরা হোমারের গ্রন্থ সম্পাদনার জন্য বিশেষভাবে খ্যাত ছিলেন। অধিকতর বিখ্যাত সম্পাদকেরা সাধারণত "প্রধান গ্রন্থাগারিক" উপাধি পেতেন। এঁদের মধ্যে জেনোডোটাস, রোডসের অ্যাপোলোনিয়াস, এরাটোস্থেনিস, বাইজান্টিয়ামের অ্যারিস্টোফেনস ও সামোথ্রেসের অ্যারিস্টারকাসের নাম উল্লেখযোগ্য।প্রথম গ্রন্থপঞ্জিকার ও পিনাকেস-এর রচয়িতা ক্যালিমাকাস এই গ্রন্থাগারের প্রথম ক্যাটালগ তৈরি করেছিলেন। তবে তিনি এই গ্রন্থাগারের প্রধান গ্রন্থাগারিক ছিলেন না।খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে গবেষকরা নিরাপদতর স্থানে বড়ো রাজার পৃষ্ঠপোষকতা লাভের আশায় এই গ্রন্থাগার ছেড়ে যেতে শুরু করেন।
145 খ্রিস্টপূর্বাব্দে অষ্টম টলেমি আলেকজান্দ্রিয়া থেকে সকল বিদেশি গবেষককে বিতাড়িত করেন।"
খ্রিষ্টপূর্ব 48 অব্দে জুলিয়াস সিজার এবং মিশরের রাজা টলেমি ত্রয়োদশ (Ptolemy XIII) -এর মধ্যে যুদ্ধের সময়, সিজারের সৈন্যরা জাহাজে আগুন লাগিয়ে দেয়। এই সময় জাহাজ সংলগ্ন এই গ্রন্থাগারে আগুন ধরে যায়। এই গ্রন্থাগারটি পুড়ে যাবার পর, বিশেষজ্ঞরা মূল গ্রন্থাগারের উপগ্রন্থাগার হিসাবে একটি ছোটো গ্রন্থাগার ব্যবহার করতেন। মূলত এই ছোটো গ্রন্থাগারটি ছিল অন্য শহরে। এর নাম ছিলSerapeum। এই সময় প্রায় 40,000 গ্রন্থ পুড়ে যায় এবং প্রায় সম পরিমাণ বই সম্পূর্ণ পুড়ে না গেলেও পাঠের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল।"
Bulaq Press/Amiri Press
বলাক প্রেস / আমিরী প্রেস
অতি সাধারণ কাঠের লেটার যেগুলি
ব্যবহার হতো বলাক প্রেসে 1820তে।
আমিরী প্রেস/আমিরীয়া প্রেস কেই
বলাক প্রেস বলা হত।
যেহেতু এই প্রেস টি বলাক নামক স্থানে ছিলো তাই এমন নাম।
এটি কায়রোর বিশেষ প্রভাব শালী,জরুরি
এবং মূল্যবান তুর্কি ভাষার প্রেস।
( সংকলিত)
=========================
11>আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর::--
সমুদ্রবন্দর থেকে বন্দরে প্রবেশ বা নির্গমণের ক্ষেত্রে দিক নির্দেশনা প্রদায়ী একটি বাতি ঘর। এ বাতিঘরটিকে প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের একটি হিসাবে বিবেচনা করা হয়। খ্রিষ্টপূর্ব ৩য় শতাব্দীতে মিশরের সম্রাট প্রথম টলেমি ফ্যারোসে দ্বীপে এই বাতিঘর তৈরি করিয়েছিলেন। এই বাতিঘরটিই আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর নামে খ্যাত। উল্লেখ্য প্রাচীন যুগে সমুদ্রপথে জাহাজ ঘনকুয়াশা কিংবা রাতের অন্ধকারে নাবিকরা পথ হারিয়ে বন্দরে পোঁছুতে পারতো না। এই অসুবিধার জন্য নাবিক এবং ব্যবসায়ীরা আতঙ্কগ্রস্ত থাকতো। এই অসুবিধা দূর করার জন্য 270 খ্রিষ্টাব্দে ভূমধ্যসাগর উপকূলে আলেকজান্দ্রিয়া নামক স্থানে এই বাতিঘর স্থাপন করা হয়।
এই বাতিঘরটির মূল ভিত্তিভূমির আয়তন ছিল 110 বর্গফুট। এর বাইরে ছিল দেওয়াল উচ্চতা ছিল
450 ফুট। মূল স্তম্ভটিকে ঘিরে পেঁচানো সিঁড়ি ছিল। কোনো কোনো মতে, এই সিঁড়ির বাইরে দেয়াল ছিল। এ সিঁড়ি বেয়েই উপরে ওঠে 450 ফুট উঁচুতে রক্ষিত একটি বেদিতে বিশাল অগ্নিকুণ্ড জ্বালিয়ে দেওয়া হতো। রাত্রিবেলায় খোলা সমুদ্র প্রায় 50 মাইল দূর থেকে এই অগ্নিকুণ্ড দেখা যেতো।
( সংকলিত)
=============================
12>স্ট্যানলি সেতু
মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ায় অবস্থিত স্ট্যানলী সেতু 331 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে মহান আলেকজান্ডার দ্বারা প্রবর্তিত আলেকজান্দ্রিয়া, গ্রেইকো-রোমান মিশরের রাজধানী হয়ে উঠেছিল।
আজকের দিনে, আলেকজান্দ্রিয়া “ভূমধ্য সাগরের মুক্তো” বা
“দ্য পার্ল অফ মেডিটারেনিয়ান” নামে সুপরিচিত রয়েছে এবং
এটি হল মিশরের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর।
একটি বাতাবরণের সঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যের তুলনায় ভূমধ্যসাগরীয় হয়ে উঠেছে।
এখানকার সাংস্কৃতিক বহু আকর্ষণ ও ধ্বংসাবশেষের প্রাচুর্য্যতা এই শহরটির
পরিদর্শনকে সুন্দর করে তুলেছে যা তার মহিমান্বিত অতীতের প্রসঙ্গে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
( সংকলিত)
===========================
13>কম এল শোকাফার ধ্বংসাবশেষ:
কোম এল সোকোয়াফারের সমাধি হোল আলেকজান্দ্রিয়ার সবচেয়ে অত্যাশ্চর্য স্মৃতিস্তম্ভ।মধ্য যুগের সাতটি আশ্চর্যের মধ্যে একটি। এটি একটি ভূগর্ভের নিচে বিশাল সবাধার। এবং এটি মিশরের সেরা সংরক্ষিত ধ্বংসাবশেষ। এই সমাধি শহরের পূর্বপাড়ে অতীত মিশরের প্রথম শতাব্দীর AD এর নিদর্শন।
এই সবাধার টি আবিষ্কারের পৌরাণিক অনেক গল্প কথা আছে।
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে একটি গাধা পাথর বোঝাই একটি টাঙা গাড়ি টেনে নিয়ে যাচ্ছিল, হটাৎ গাধাটি একটি গর্তে পরে যায়।সেই গর্ত টি একটি মাটির গর্ভে কবরের সুরঙ্গ।
আরও একটি প্রচলিত কাহিনি আছে,
মসিউর এস-সাঈদ আলী গিবিয়া নামে এক মানুষ যিনি এক দিন এলাকার মিউজিয়ামের অধিকারীকে জানায় যে সে মাটির নিচে একটি কবরের সন্ধান পেয়েছেন এটি একটি ভূগর্ভস্থ কবর।
প্রথমে মিউজিয়ামের অধিকারী গণ এহেন খবরকে উপেক্ষা করেন এবং সন্দেহজনক বলে মনে করেন। কিন্তু অচিরেই তাদের ভুল বুঝতে পেরে নিজেরাই দুঃখ প্রকাশ করেন। প্রকৃতপক্ষে একটি সেই কালের শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার ছিল।
কম এল শোকাফার ক্যাটাকোমব এক বৃহত্তম সমাধি যেটি গ্রীক-রোমান যুগের অনুরূপ যেটি আবিষ্কৃত হোয়েছে।
এটি ভূগর্ভে লুকন শতাব্দীর জন্য কবর টানেল ছিলো। এইটি বিভিন্ন প্রাচীন শিল্প ও সংস্কৃতির একটি মিশ্রন। কবরটির প্রবেশ দ্বার গড (God) দ্বারা সুরক্ষিত থাকতো।কম এল শোকাফার ক্যাটাকোমব কার্য্য কর ছিলো দ্বিতীয় শতাব্দীর কাছাকাছি সময়ে। এমন অক্ষত সাক্ষী থাকার নির্দশন খুব বেশি নেই যা তৎ কালীন মিসরীয়,গ্রিক,রোমান এই তিন সভ্যতার মিশ্রণের নিদর্শন।
এই কবরটি সম্পুর্ন রূপে একটি আদর্শ কবর। কম এল শোকাফার নামটি প্রাচীন গ্রিক থেকে উদ্ভূত হয়।
এলাকাটি মৃৎশিল্পের পাইলস ধারণ করতে ব্যবহৃত হয়েছিল বা সাধারণত এখানে যারা সমাধি পরিদর্শন করতেন তাদের দ্বারা আনা ওয়াইন পান বা খাবার খাবার জন্য ব্যবহৃত হত। এটি, মিশরীয় রোমান এবং গ্রিক সংস্কৃতির শৈলীতে নির্মিত।
এটিকে বড় কবরস্থান হিসাবে বর্ধিত করা হয়েছিল, কারণ গুলি অজানা। অবশ্যই, শুধু যে আলেকজান্দ্রিয়া তেই এহেন কবর নির্মিত হয়েছিল তাকিন্তু নয়। তাই যে কম এল শোকাফা একমাত্র ধ্বংসাবশেষ নয়।অনেক বেশি কবরস্থান নেকোপোলিসের অংশ ছিল,তথাকথিত যাকে বলা হয় মৃতের শহর, সেগুলি ছিলো শহরের পশ্চিম দিকে।
কম এল শোকাফার একটি ফানেলের আকৃতি বিশিষ্ঠ 18ফুট বিস্তারিত ভূগর্ভের নিচে সবাধর। শবদেহ উপর থেকে নিচে রোপ ও কপিকলের ( পুলি) র সাহায্যে নামানো হত বা ওঠানো হত। এইটি বিভিন্ন বয়সের আকর্ষণীয় মিশ্রণ উৎসর্গের অঙ্গীকার ,মিসরীয় ও রোমানিয় মৃতদের সাথে।
ভাস্কর্যশিল্পঅলংকৃত শিলালিপিসমন্বিত প্রস্তর শবাধার। এর উপরের অংশে বিশেষ কিছু নাই।কিন্তু এখান দিয়েই ভিতরে প্রবেশের পথ। মাঝের অংশটি গ্রিক টেম্পেলের অনুরূপ এবং এখানে কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়।
যেখান দিয়ে ভুগর্ভস্থ সমাধিক্ষে ত্রের শেষ প্রান্তে পৌঁছবার ধাব গুলি এবং প্রতি দুটি পিলারের মাঝে সমাধির "প্রোনাস " আছে। 20 শতকের শুরুতে মাটি খুঁড়ে তোলা "প্রোনাসের"মাঝে র প্রকোষ্ঠের মনো মুগ্ধকর কারু শিল্প একই সময়ে সঙ্ঘটন স্ত্রী ও পুরুষের জটিল মূর্তির চিত্র অঙ্কন প্রকট আসল ভাড়াটেদের সমাধি চিহ্নিত করে।
যদিও শরীর গুলির চিত্রায়ন ও বক্রতা ঠিক যেন মিশরীয়দের অনুরূপ, পুরুষ মানুষ গুলির মাথা গ্রিকের অনুরূপ । ঠিক তেমনি ভাবে স্ত্রী লোকের মাথা নিচে করা রোমানদের মতন।
আর একটি জটিল সমাধান এই মাঝের অংশে দুটি সাপ যার কল্পনানুসারে গ্রীকের নির্দেশ করে। যাকে বলা হয় "Agathodaimon'" অথবা শুভ আত্মা।
সে যাই হোক এগুলো খুবই হৃদয় আনন্দ দায়ক। যে সর্প যুগল সুশোভিত ঠিক যেমটা দেখাযায় রোমান ও মিশরীয় সংস্কৃতিতে।
আর একটি বিস্ময়কর স্তম্ভিত করার মতন
চিত্রাঙ্কন তা হোল এই সাপেদের মাথার উপরে অঙ্কিত জেলি - মাছ ( Medusa ). যেটির নির্দেশ করে গ্রীক পুরাণের এক কুখ্যাত নিদর্শন , যার দ্বারা বুজতে পারাজয় যে ওই "Medusa" শবাধারকে রক্ষ্যা করে চলেছে অনধিকার প্রবেশকারী ও বহিরাগত যে কোন অনুপ্রবেশকারীদের থেকে।
শুরুতে মাঝের অংশই কেবলমাত্র একটি " U"- এর আকারে দালান।কিন্তু এইস্থানে অধিক মৃত ব্যক্তির সমাধি হবার কারনে, কিছু জটিল ব্যবস্থার মাধ্যমে রুপান্তরিত করে স্থানান্তরিত করা হয় আরো কক্ষ এবং আরো হল গঠিত করে।
মাঝের অংশের স্তরের তলদেশে ক্যাপসুল সংযোজন করা হয়ে ছিলো। প্রাচীন বিশ্বের যেগুলি হারিয়ে গেছে।
দুর্ভাগ্য বসত এই অংশটি জলে ডুবে গিয়েছে, ফলে দর্শকেরা জানতেও পারেনা যে এখানে কি ছিল।ঐতিহাসিক গণ মনে করেন যে এগুলি বিত্তবান মানুষ তাদের বংশের সমাধি হিসাবে ব্যবহার করতো। মনে করা হয় যে এই ফেমিলি গুলি প্রাচীন পৌত্তলিক ধর্মালম্বি।অতি শিগ্রই এই সমাধি গুলি একটি বরো সমাধি সাইট হয়ে ওঠে।
এই কম এল শোকাফার ধ্বংসাবশেষ প্রাচীন মিশরের পৈত্তলিক ধর্মীয় বিশ্বাসের শেষ প্রধান কাঠামোর একটি উপরুন্ত এগুলি, সরাসরি প্রভাব লক্ষিত হয় এখানে উপস্থিত অন্যান্য অনেক সংস্কৃতি অসাধারণ স্থাপত্যে ।
এগুলোকে সমাধি বলার এক মাত্র কারণ একই প্রকার সমাধি ছিলো খ্রীষ্ট ধর্মালোম্বি রোমানদের। সেখানে তিন স্তর বিশিষ্ঠ কবর ছিল। মিশরীয়,গ্রিক,এবং রোমান স্থাপত্যে সহ বিভিন্ন প্রকার স্থাপত্য ছিল। স্তর গুলি শিলা মধ্যে উত্কীর্ণ এবং একটি সিঁড়ি এবং একটি রোটুন্ডা।এখানে আছে একটি পার্শ্বকক্ষ, একটি কবর কক্ষ,একটি চাঁদনি। কবর কক্ষ্যের মধ্যে তিনটি ভাস্কর্যশিল্পঅলংকৃত শিলালিপিসমন্বিত প্রস্তর শবাধার। সমাধি কক্ষ্য গুলি খুব ভাল সংরক্ষিত এবং অনুরূপ ভাবেই থাকত যেভাবে তারা অনেক শতাব্দী আগে করে রেখে ছিল।
কিন্তু নিচের স্তর গুলি এখনো উপসাগরীয় জলের মধ্যে ডুবে আছে। সেখানে 99 ধাপ সহ একটি সর্পিল সিঁড়ি আছে যেটি একটি খাদের মধ্যে গেছে। এই খাদ ব্যাবহার হোত মৃত দেহ উপর থেকে নিচে রোপের সাহায্যে অখ্যাত ভাবে নামানোর জন্য,কোন প্রকার ক্ষয় ক্ষতি ছাড়া।
সিঁড়ির পরেই আছে চাঁদনি। এই জায়গাটি দর্শক দের উপর থেকে নিচে সিঁড়ি দিয়ে আসার পরে বিশ্রামের জন্য।
রোটুন্ডা টি দ্বিতীয় তলে একটি গোলাকার বিশালাকার হল বিস্তৃত দেওয়াল উপরের ডোম পর্যন্ত। এই ডোম টি পিলার দিয়ে সাপোর্ট দেওয়া। এই খাদটি প্রথম তালা থেকেই দেখাযায়। পাঁচটি পাথরের হাত পাওয়া গেছে রোটুন্ডার নিচে, যেগুলো জাদুঘরে রাখা আছে।
ইউ ( U )আকৃতির ট্রীক্লিনিয়াম অথবা ভোজ ঘরে তিনটি বেঞ্চ আছে যেগুলি পিলার দিয়ে সাপোর্ট দেওয়া।মোজাইক করা ফ্লোর সিলিং টি শেলের মতন অলঙ্কৃত।
এই স্থান টি অতিথিদের বিশ্রাম ও খাবার খাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট। তথাপি এমনটার কোন সন্দেহ নাই যে Kom el Shoqafa একটি বিশেষ সংরক্ষণ কেন্দ্র,
প্রাচীন মিশরের ধ্বংসাবশেষ নিদর্শনের, সমৃদ্ধ মিশ্রণ ছিলো যা সমৃদ্ধ করেছে তৎ কালের সংস্কৃতির। তাই এটি একটি প্রাচীন সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধর উপযুক্ত নিদর্শন।
এটি অতি অতীতের এক নিদর্শন যা সত্যই একটি মধ্য যুগের সাতটি বিস্ময়কর নিদর্শনের একটি।
( সংকলিত)
============================
14>বিখ্যাত পম্পি পিলার
এখানে আছে সেই বিখ্যাত পম্পি পিলার যা তৈরী হয়েছিল সেই রাজাদের সম্মানে।
সম্পূর্ণ পিলারটি 28মিটার লম্বা 3rd century A.D. তে তৈরী করেছিলো আসোয়ানের লাল গ্রানাইড দিয়ে।
( সংকলিত)
=========================
15>|| রোমান থিয়েটার আলেক্সান্দ্রিয়া |
"The Roman Amphitheatre Alexandria রোমান অ্যামি্পথিয়েটার আলেক্জান্দ্রি়া
(Alexandria in Kom El Dekka) (কম এল ডেক্কা।)
আলেক্জান্দ্রি়ার রোমান অ্যামি্পথিয়েটার একটি বিশেষ জনপ্রিয় স্মৃতিসৌধ। এহেন অ্যামি্পথিয়েটার বিভিন্ন দেশেই আছে
যেমন গ্রিসে,ইতালিতে, তুর্কি তে,তৈরি হয়েছিল রোমানদের শাসন কালে।
রোমান টিয়েটারের অস্তিত্ব একনও আছে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে ।
কিন্তু আলেক্জান্দ্রি়ার রোমান অ্যামি্পথিয়েটার এক বিশেষ শৈলীতে গঠন একমাত্র মিশরে।
The Meaning of the Word Kom EL Dekka কম এল ডেক্কার অর্থ।
এটি আরবীয় ভাষায় যাকে বলাহয় পাথরকুঁচি র পাহাড়। বা বেঞ্চ পাহাড়।এই নামকরণ করেছেন বিখ্যাত ঐতিহাসিক এল নিওয়ারি 20 শতকের শুরুতে।
19 শতকের শেষের দিকে এল নিওয়ারি যখন মামুদিয়া কেনেল টি খনন করছিলেন তখন তিনি আবিষ্কার করেন এই পাথর কুঁচির পাহাড়।
1960 সালে শুধু মাত্র নিছক কাকতালীয় ভাবে আবিষ্কৃত হয়েছিলো এই থিয়েটার । কম এল ডেক্কা অঞ্চলে গভর্মেন্ট এর কিছু কনস্ট্রাশনের কাজের জন্য কাজের লোকরা কিছু জায়গার ধুলোর গাদা ও বালু পরিষ্কার করতে গিয়ে তারা কিছু শক্ত পিলারের মতন মাটির নিচে প্রোথিত আছে বলে মনে করেন।তারপরেই সেই স্থানে খনন কার্য্য শুরু হয়, কম এল ডেক্কাতে। এই খনন কার্য টি করে রোমান মিউজিয়াম ও স্থানীয় পুলিশ ।
খনন কার্যের তত্ত্বাবধান করে ইউনিভার্সিটি অফ ওয়ার্সও। অতি শীঘ্রই প্রকাশিত হয় মিশরের 20 শতকের বিশেষ গুরুত্ব পূর্ণ আবিষ্কার আলেক্জান্দ্রি়ার রোমান অ্যামি্পথিয়েটার ।
এই থিয়েটার সপ্তম শতাব্দী পর্যন্ত সচল ছিলো। নানান অনুষ্ঠান, ড্রামা,মিজিক, প্রভিতি অনুষ্ঠিত হতো। এবং এই থিয়েটার রোমান, বাইজেন্টাইন,ও প্রাথমিক ইসলামী যুগে সচল থাকার বিভিন্ন প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই দীর্ঘ কাল যাবৎ এই থিয়েটার বিভিন্ন প্রকারের অনুষ্ঠান গুলি সু সম্পন্ন করে চলে ছিলো।
এটি একটি odeum হিসাবে ব্যবহৃত হতো যেখানে বাদ্যযন্ত্র শো পরিবেশিত হত রোমানদের সময়ে।এই থিয়েটারে সকল উপাদান ছিল তার নিখুঁত কর্মক্ষমতা নিমন্ত্রণকর্তা গম্বুজ যা একনো দাঁড়িয়ে আছে
অন্য দিকে বাইজেন্টাইন কালে এটি ব্যবহৃত হতো বিভিন্ন সম্মেলন কেন্দ্র হিসাবে। যেমন জরুরি কোন সভা যেমন জন সাধারনের সমাহারগুলি এবং গভর্মেন্ট এর শীর্ষ-বৈঠক গুলি এখানেই অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু ইসলামিক সময়ে এটি অবহেলিত হোয়ে পরে। ফলে ধীরে ধীরে এটি ভূগর্ভে বলি মাটি চাপা পড়ে মানুষের চোখের আড়ালে চলে যায় ।
এই রোমান অ্যামি্পথিয়েটার 20 শতকের আলেকজান্দ্রিয়া শহরের ঐতিহাসিক স্থানগুলির মধ্যে একটি।"
Amphitheater এর কিছু বর্ণনা::-
আমরা যেমন দেখেছি সেই টুকুই লিখবার চেষ্টা করছি।
আমরা স্টেডিয়ামে দাড়িয়ে ভীষণ এক আনন্দের অনুভব করলাম, সাথে এটা ভাবতে অবাক হচ্ছিলাম যে এই অপূর্ব থিয়েটার টি চতুর্থ শতাব্দীতে নির্মিত হয়ছিল। গ্রিক রোমান কালে যার একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিল। Amphitheaters বিশেষ ছাদ থিয়েটার ছিল।
সেখানে মিশরিয় রোমানদের রাজত্ব কালে, নিয়মিত নিমন্ত্রিত ও অনুষ্ঠিত হত সঙ্গীত অনুষ্ঠান, নানান প্রতিযোগিতা, প্রভীতি নানান অনুষ্ঠান।
এই থিয়েটারের বৈশিষ্ট্য ছিল এখানে একটি মার্বেলের দর্শক আসন ছিলো। যেটি সম্পূর্ণ উইংএর সমান।এখানে ৬০০ জন দর্শকের আসন আছে । এবং দর্শক আসন ৩৩ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত অর্ধ গোলাকারে ১৩ টি সারি আসন ছিলো। সম্পুর্ন আসন গুলি ইউরোপিয়ান সদা মার্বেলের । সকলের উপরের সারিতে সবার উপরে একটি বারান্দা যেটি গ্রানাইট পাথর দিয়ে তৈরি এবং কএকটি পিলার যে পাথর গুলি আসোয়ান মিশর থেকে আনা হয়ে ছিলো। সেই পিলার গুলির কিছু এখনো অক্ষত অবস্থায় আছে।
আমরা দেখলাম যে সুন্দর ভাবে ১৩ টি সারিতেই রোমান হরপে নম্বর অঙ্কিত করা আছে। দর্শক আসনে আরও পাঁচটি ভাগ বা চেম্বার আছে সেকানে বিশেষ গণ্য মান্য অথিদের জন্য সংরক্ষিত। এই বিশেষ চেম্বারের ছাদ টি গ্রানাইড পাথর দিয়ে এমন ভাবে তৈরী যাতে দর্শকদের রোদ বা বৃষ্টি না লাগে। এছাড়াও এই আসন গুলিতে সাউন্ড বক্স আলাদা করে ছিল যাতে করে দর্শক রা সকলে ভালো করে শুনতে পারে।
বর্তমানে এই ছাদ গুলি ভেঙ্গে গেছে ভূমি পাম্পের কারণে। যে ভূমি কম্পটি হয়েছিলো আলেক্সজান্ড্রিয়াতে ষষ্ঠ শতাব্দী AD তে। ফলে তখনকার দিনের অনেক কিছুই ধ্বংস হয়ে গেছে। তখনকার বিখ্যাত আলেক্সজান্ড্রিয়ার লাইট হাউস টি ও ধ্বংস হয়ে গেছে। এতো ক্ষয় ক্ষতির মধ্যেও থিয়েটার টির দেওয়ালের কোন ক্ষতি হয় নি। কারণ এই দেওয়াল গুলি লাইম স্টোনের হলেও একটি দেওয়ালে পেছনে আর একটি দেয়াল সাপোর্টে আছে। এমনটাই দ্বিতীয় ও চুতুর্থ শতাব্দীর গঠন কার্যের বিশেষত্ত্ব।
সম্পূর্ণ স্টেজ টি ইংরেজি " C " অক্ষরের ন্যায় তৈরী ,যাতে করে সকল দর্শক ঠিক ভাবে বসতে, দেখতে, ও শুনতে পারে। পুরো থিয়েটার টির ঠিক মাঝখানে থাকতো অর্কেস্ট্রা যেখান সম্পূর্ণ মিউজিক পরিবেশিত হতো। এই অংশ টি দুটি বিশাল মার্বেল পাথরের স্তম্ভ দিয়ে সুরক্ষিত।
থিয়েটারের সম্পূর্ণ মেঝেটি মোজাইক পাথর দিয়ে পালিশ করা সুন্দর ভাবে। মোটের উপরে সম্পূর্ণ থিয়েটার টি অতি মনোরম ভাবে সু সজ্জিত। প্রাচীন আলেক্সজান্ড্রিয়ার এক গর্ভকরার মতন শহর ও দর্শনীয় স্থান।
বর্তমানে আমেরিকান গবেষণা কেন্দ্র এই থিয়েটারের উত্তর দিগে যেকানে প্রচুর পরিমানে ইটের টুকরো জমানো ছিল ঠিক সেই স্থানে একটি স্নানাগার খুঁজে পায়। এবং একটি বাড়ির ধ্বংসাবশেষ পায় যেটি নাম দিয়েছে " পাখির ভিলা " , কারণ এই বাড়িটির মেঝে এমন সুন্দর মোজাইক করা যে দেখে মনে হয় বিভিন্ন আকারের নানান পাখি উড়ে চলেছে। প্রতিটি পাখি আলাদা আলাদা জ্যামেতিক আকারে সজ্জিত। সেই কারণে গবেষ গণ মনেকরেন বর্তমানের আবিষ্কারের মধ্যে এটি একটি শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার।
( সংকলিত)
=========================
★★||মিশর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা।।
SV2 ম্যাগাজিন
<-----আদ্যনাথ--->
মমি দেখেছিলাম কোলকাতার মিউজিয়ামে।
জীবনে ঘুরেছি অনেক দেশ বিদেশের নানান স্থানে, শহর,গ্রাম,পাহাড়,পর্বত,জঙ্গল,ঘুরতে হয়েছে কাজে ও ঘুরে বেড়াবার আনন্দে। তথাপি মনের আশ মেটেনি । যতই দেখি আরো দেখবার ইচ্ছাগুলি মনকে তারা করে চলে। মনের মতন জায়গাতে যেতে পারলে মনে ভীষণ আনন্দ লাগে।
সেদিন রাত্রে হঠাৎ সাম্য আমায় বললো,
বাবা, জাবেনাকি মিশরে ?
প্রথমে মনে করলাম বুঝি ভুল শুনলাম, তাই জিজ্ঞাসা করলাম কি বলছো?
কোথায় যাবে?
সাম্য বললো উত্তর আফ্রিকা মিশর সেই মমি ও পিরামিড দেখতে।
আমি মহা উৎসাহে বলেছিলাম হ্যাঁ হ্যাঁ যাবো ,
কবে যাবে ?
সাম্য বললো দাড়াও আগে ভিসা এবং অফিসের ছুটি এমন সকল ব্যবস্থা গুলো করি।
আমি নিজে রিটায়ার্ড মানুষ এখন বয়সও হয়েগেল 69 বৎসর আর তাই আমার তো আর অফিসের ছুটির চিন্তা নাই আমি তখন থেকেই এক ভীষণ আনন্দ অনুভব করতে লাগলাম ,আর দিন গুনতে থাকলাম কবে আমার সেই ছোটবেলার স্বপ্ন পূর্ণ হবে।
কবে মমির দেশ ঘুরতে যাব।
একদিন সত্যই সেইদিন আসলো।
আমার স্বপ্ন পুরনের দিন আসলো।
দিনটি ছিল ৩১ মার্চ ২০১৯ রবিবার আমরা বেরিয়ে পড়লাম।
মমির দেশে সাতরাত্রি ও আটদিন,
সে এক রোমাঞ্চকর অনুভূতির দিন।
আমারদের পোগ্রাম ছিল ------
কায়রো,--আসওয়ান---ইডফু--লক্সোর---কায়রো,-- আলেকজান্দ্রিয়া।
কায়রো মিশরের পর্যটন আকর্ষণ যেগুলি আমারা দেখেছিলাম -কায়রো, মিশর,আসওয়ান, মিশর,সূদানেমিশরের আলেকজান্দ্রিয়া,স্ট্যানলি সেতু, কর্ণাক মন্দির,নীল নদে জাহাজ ভ্রমণ, গিজার পিরামিড,ভ্যালি অফ দা কিং,মিশরে আবু সিম্বেল-এর মন্দির।
এবারে আমাদের ভ্রমণের প্রতি দিনের কিছু বিবরণ। যদিও সম্পূর্ণ বিবরণ দেওয়া আমার পক্ষে অসম্ভব।
কারণ আমি নিজে ইতিহাসের স্টুডেন্ট নোই। এবং ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞানও অতি সামান্য।
তাই যতটুকু গাইডদের মুখে শুনেছি তার কিছু সামান্য অংশই মনে রাখতে পেরেছি। যেটুকু মনে রাখতে পেরেছি তারই সামান্য কিছু এখানে লেখার চেষ্টা করছি ।
কারণ সম্পুর্ন লিখতে গেলে সে বিশাল হয়ে যাবে । তাইতো সামান্য অংশই লিখছি এখানে।
আমাদের যাত্রা হোল শুরুর::---
★★প্রথম দিন, ৩১ মার্চ ২০১৯ রবিবার।
আমাদের যাত্রার প্রথম দিন শুরু হলো দম দম এয়ার পোর্ট থেকে।
৩০ মার্চ ২০১৯ শনিবার রাত্রি ১১:৩০ মিনিট এআরপর্টের জন্য রওনা দিলাম ।
কারন আমাদের ফ্লাইট ভোর ০৪:২০ মিনিট অর্থাৎ 31/03/2019--04:20 am রবিবার।
কলকাতা থেকে আবু ধাবি ফ্লাইট (EY 255) কোলকাতা নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস ইন্টারন্যাশনাল এআরপোর্ট থেকে প্লেন ঠিক সময় মতোই ৫ ঘণ্টায় আমাদের আবুধাবিতে পৌঁছে দিলো।
সেখান থেকে সংযোগ কারি প্লেন ( EY 653) আবুধাবি থেকে ৩ ঘণ্টায় কায়রো ইন্টার ন্যাশনাল এআরপোর্টে পৌঁছলাম ১১:৪৫এতে।
সেখান থেকে A/C বাসে করে পৌঁছে গেলাম হোটেলে ( CAIRO HOTEL "GRAND NILE TOWER" )
হোটেল রুম বুক করাই ছিলো। সেখানে দুপুরের খাবার খেয়ে একটু বিশ্রাম করে সন্ধায় গিজার
ঐতিহাসিক লাইট এন্ড সাউন্ড পোগ্রাম দেখতে গেলাম।
( LIGHT & SOUND SHOW AT THE GREAT PYRAMID OF GIZA ) এক ঘণ্টার অবিশ্বাস্য লাইট ও সাউন্ড এর পোগ্রাম উপভোগ করলাম।
সন্ধায় এখানে প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে সকলেই কম্বল ভাড়া করে ,গায়ে জড়িয়ে নিয়ে বসে দেখলাম এক ঘণ্টার অবিশ্বাস্য পোগ্রাম গোধূলি লগ্নে । (ওখানেই কাউন্টারের পাশে কম্বল ভাড়া পাওয়া যায়, আমরা সকলেই ওখান থেকে কম্বল ভাড়ানিয়ে ছিলাম )
দেখলাম সেই ঐতিহাসিক .GREAT SPHINX
( মিশরের অতিকায় মূর্তি যার দেহ সিংহের মতন ও মাথা স্ত্রীলোকের মতন। )
মনে হলো এই এক ঘন্টা ওই SPHINX ই যেন দর্শকের দিকে মুখ করে অনর্গল নাটকীয় ভাবে বিস্তারিত মিশরের পৌরাণিক ইতিহাসকে লাইট এন্ড সাউন্ড এর মাধ্যমে আমাদের বুঝিয়ে দিচ্ছিল।
সম্পূর্ণ মিশরের ঐতিহাসিক ঘটনা। কেন, কীভাবে, এখানে তৈরি হয়েছিল এই পিরামিড সকল ।
সেই সকল ঘটনাকে চাক্ষুষ দেখিয়ে দিচ্ছে লাইট এন্ড সাউন্ড এর মোহিত করা নাটকীয় শুর ও ছন্দ।
পিরামিডের অনেক অজানা তথ্য এমন সুন্দর করে বর্ণনা করছিলো যেন মনে হলো মমি গুলি জেগে উঠে কাজে লেগে পড়েছে। পরিশ্রমী মানুষেরা বড়ো বড়ো পাথর কি সুন্দর ভাবে বয়ে নিয়ে একে একে
সাজিয়ে তৈরী করছে পিরামিড। কিছু মানুষ পিরামিডের ভেতরে এক একটি প্রকোষ্ঠ তৈরীকরতে ব্যস্ত।
পিরামিড গুলি যেন এক একটি প্রাচীন ঐতিহাসিক মহা মূল্যবান খনি গর্ভ।
বিশ্ব ঐতিহ্যের নানা নিদর্শন ও স্থাপনা ছড়িয়ে রয়েছে সমগ্র মিশর জুড়ে।
এহেন শো দেখে মনে এক অদ্ভুত অনুভূতির শিহরণ নিয়ে ফিরলাম কায়রোর “Grand Nile Tower”-হোটেলে
রাত্রে এলাহী খাবার ব্যবস্থা।
তারপরে ঘুম।
ঘুম থেকে উঠেই দ্বিতীয় দিনের পোগ্রামের জন্য তৈরী হলাম।
------------------------------------------
★★দ্বিতীয় দিন,১এপ্রিল২০১৯,সোমবার।
সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে সকাল ৭ টায় জলখাবারের ভুরি ভোজ, এলাহী ব্যবস্থা জল খাবারের।
যে যেমন পারো তেমন যত ইচ্ছা খাও। খাবারের মেনুতে শুধু ভাত ছাড়া সবই আছে। কত খাবার অতোগুলো খাবারের নাম বলাও মুশকিল আমিষ,নিরামিষ কি নাই সেটাই বললাম। শুধু ভাত টাই নাই। অঢেল ফল বিশেষ করে খেঁজুর এতো বরো বরো খেজুর এই প্রথম দেখলাম। কি অপুর্ব স্বাদ ,আঙ্গুর ,কলা ,কলা মানে এমন সুন্দর সুস্বাদু কলা ,যা বলে বোঝানো সম্ভব নয় ,সরবতী লেবু এক একটি লেবু আধা কিলো ,কি অপূর্ব যেমন মিষ্টি তেমনি সুস্বাদু। যাইহোক জল খাবারের ভুরি ভোজ সেরে লাগেজ গুটিয়ে এ সি বাসে করে বেরিয়ে পড়লাম সালাদিন চিটাডেল ( SALADIN CITADEL ) দেখতে যেটি তৈরী করেছিলেন সালা আল-দিন, মকিউটাম পাহাড়ে in the year 1183 AD as a defense against Crusader armies.
সালাদিন চিটাডেলের প্রসস্থ লন থেকে কায়রোর সুদূর প্রসারিত শহরটি দেখে মন ভরেগেল কি অপূর্ব মনরম দৃশ্য এবং বিশুদ্ধহওয়া, সত্যি অপূর্ব যার জন্য এই স্থান বিশেষ উল্লেখ যোগ্য। সত্যই কিসুন্দর হাওয়াদার জায়গা। এখান থেকে সম্পূর্ণ কায়রো শহরটি ছবির মতন অপূর্ব দেখাছিলো।
কায়রো যে সত্যই অট্টালিকার শহর সেটা এখান থেকে না দেখলে বোঝাই যেতনা ।
এখানে আছে ঐতিহাসিক মসজিদ ও সংগ্রহ সালা, এবং মুহাম্মদ আলী পাশার মসজিদ। মসজিদ গুলি দেখার মতন। মসজিদের ভেতরের কারু কার্য কি অপূর্ব। ভারতে অনেক মসজিদ দেখেছি তবে এই মসজিদ গুলি র কারু কার্য ও শিল্প কলা দেখবার মতন। রং বেরঙের কাঁচের শ্রেণী বিন্যাস দেখার মতন।
তারপর আমরা পৌঁছে গেলাম কায়রো এয়ার পোর্টে, আসোয়ান মিশর যাবার জন্য। কায়রো টাইম অনুসারে ৩ তে :৪৫ মিনিটে আমাদের ফ্লাইট। আমরা আসোয়ান এতে পৌঁছে গেলে আমাদের নিয়ে গেল নীলনদের ক্র্রুজে, এই ক্র্রুজ টির নাম "M S NILE RUBY ".
ক্র্রুজ টি ফাইভ ষ্টার হোটেলেকেও হার মানায়। কি নাই তাতে সুইমিং পুল , বিশাল ডেক। ড্যান্স বার ,বিশাল ডাইনিং। ওয়াইন সপ, মল,কেনা কাটার সুন্দর বাজার। বেশ বড়ো বড়ো রুম। সম্পূর্ণ জাহাজটিই এসি। জাহাজের মৃদু দোলায় স্বেত শুভ্র বিছানায় পারফিউমের সুবাসে লেপ মুড়িদিয়ে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখার অভিজ্ঞতা ভোলাবার নয়। সন্ধ্যায় আমরা টেম্পল ফিলেতে লাইট এন্ড সাউন্ড শো দেখলাম। এখানকার এই লাইট এন্ড সাউন্ড পোগ্রাম গুলি বড়োই সুন্দর। এখানেও ওই লাইট এন্ড সাউন্ড শো দিয়ে পুরো ঐতিহাসিক ব্যাপার টা ভালো করে বুঝিয়ে দেয়। এখানে লাইট এবং সাউন্ড এর পোগ্রামে গডেস আইসিস ও ওসিরিস এর জীবন বৃত্যন্ত সুন্দর করে বুঝিয়ে দিলো। তারপরে আমরা সম্পূর্ণ টেম্পেল টি ঘুরে দেখলাম। অপূর্ব কারুকার্য চিত্র কলা এবং সকল কিছুতেই গডেস আইসিস ও ওসিরিসের জীবন গাঁথা। গডেজ আইসিসের জীবনের যেটুকু শুনেছি সেটা এখানে লিখতে গেলে ভ্রমণ কাহিনী অনেক দীর্ঘ হয়েযাবে তাই এখানে সেই কাহিনীর বিস্তার উল্যেখ না করে সুযোগ পেলে পরে আলাদা ভাবে এই কাহিনীর বিস্তার লিখব।
সত্যই মিশর একটি মন্দিরের শহর যা2000 বছরেরও বেশি আগে নির্মিত হয়েছে। এই ঐতিহাসিক মিশরে বসবাসকারী মানুষদের কাছে নীলনদ এক রক্ষাকর্তা স্বরূপ। এই নীলনদে জাহাজে ভ্রমণ ও আসওয়ান মিশর মিশরের সৌন্দর্য কে বহু গুনে বাড়িয়ে দিয়েছে।
আমার মনেহোল নীল নদে জাহাজ ভ্রমণ, অবকাশ যাপনের এক শান্তি পূর্ন অতি উত্তম পন্থা। এই নীল নদে জাহাজ ভ্রমণের সহায়তার , ইতিহাসের মিশরীয় মন্দিরগুলি পরিদর্শনের উৎকৃষ্ট অবলম্বন।
এই জাহাজ গুলিতে অত্যাধুনিক অনেক সুবিধা রয়েছে। এই জাহাজে ভ্রমণের মাধ্যমে জীবনে একবার হলেও এমন এক অনন্য ভ্রমণ অভিজ্ঞতা উপলব্ধি করা সত্যই বিস্ময় কর অভিজ্ঞতা। এই জাহাজে ভ্রমণের মাধ্যমে চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য ও বালিয়াড়ি দেখার যে অপূর্ব সুযোগ যা সত্যি বিস্ময় কর অভিজ্ঞতা, যা এই জাহাজভ্রমণ ছাড়া বোধ হয় সম্পূর্ণ রূপে সম্ভব নয়।
মিশরের মানুষ নদী পথেই তাদের ব্যবসা বাণিজ্য চালায় আর সড়ক পথে উট আর ঘোড়ার গাড়ি সেইকারনে এখানের বাতাসে পলিউশন খুবই কম। তাইতো দিনরাত মুক্ত বাতাসে বুক ভরে স্বাস নিতে কোন বাধা নাই। আর তাই বুঝি এখানকার মানুষ দীর্ঘ দেহি ও বেশ বল শালী।
★★আসওয়ান, মিশর::---
আসওয়ান হল মিশরের সবচেয়ে রৌদ্রজ্জ্বল দক্ষিণী শহর, নীল নদের উপত্যকায় অবস্থিত শহরটি অসাধারণ। সৌক বা স্থানীয় বাজারগুলি মশলা এবং পারফিউমের গন্ধ ও বর্ণে পরিপূর্ণ, রান্নার যে কত প্রকার মশলা পাওয়া যায় সেটা না দেখলে বিশ্বাস করাই মুশকিল।
তবে হ্যা সকল মশলায় সম্পূর্ণ অর্গানিক কোনপ্রকার রং বা এসেন্স বর্জিত বিশুদ্ধ মশলা।
এর সঙ্গে রয়েছে সুন্দর আফ্রিকান হস্তশিল্প, নুবিয়ান হস্তনির্মিত দ্রব্য,
এইসকল দেখতে দেখতেই দ্বিতীয় দিন কেটে গেল।
এর পরে আবার আমরা ক্র্রুজে ফিরলাম।
ফিরে ডিনার খেয়ে দ্বিতীয় দিনের সকল চিন্তা নিয়ে শুয়ে পড়লাম।
=============================
★★তৃতীয় দিন,২এপ্রিল২০১৯,মঙ্গলবার।
সকালের ব্রেকফাস্ট সেরে। বেরিয়ে পড়লাম পৃথিবী বিখ্যাত হাই ড্যাম দেখতে এবং সেই ফিলক টেম্পল এর অসমাপ্ত অসাধারণ পিলার গুলি এবং তাদের বিপর্যয়, যা কিনা দুইজন গডেজের নাম উৎসর্গ গডেজ আইসিস ও হাথোর।
তারপরে দুপুরের খাবার খেতে ক্র্রুজে ফিরলাম।
আমরা যখন লাঞ্চ করছি তখন জাহাজ রওনা দিলো কোম -ওম্ব টেম্পেলের দিগে। আমরা দেখলাম ও জানলাম কোম -ওম্ব টেম্পেল দুইজন দেবতার নামে সোবেক ও হেইরোরিস। জাহাজ আবার এগিয়ে চললো ইডফু দিকে। রাত ভর জাহাজ চলছিলো। আমরা রাতের খাবার খেয়ে জাহাজের ডেকে বসে অনেক রাত পর্যন্ত নীল নদের উভয় পারের দৃশ্য ও নীলনদে চলমান আরও কতগুলি ক্র্রুজ দেখতে দেখতে উত্তর আফ্রিকার রাত্রি কে প্রাণ ভোরে উপভোগ করছিলাম।
দিনের বেলা জাহাজটি যখন হাই ড্যামটি পারকরে এক শুরু লক গেট দিয়ে তখন জাহাজটি ডাইনে বায়ে বার বার ধাক্কা লাগছিলো সেই সময় নীল নদে যতগুলি জাহাজ ছিলো সব একের পরে এক এভাবেই পার করলো ড্যাম। এবার আমরা পৌঁছে গেলাম ইডফুতে। এই হাই ড্যামের উপরেই নুতন করে স্থাপনা করা হয়েছেআবু সিম্বেল মন্দির দুটি। সে কথা পরে বলছি।
----------------------------------------------------
★★চতুর্থ দিন,৩ এপ্রিল ২০১৯ বুধবার।
আমাদের জাহাজ রাত্রেই পৌঁছে গেছে ইডফু তে। ভোর বেলাই চা /কফি খেয়ে নিয়ে রওনা দিলাম ইডফুর টেম্পল দেখতে ঘোড়ার গাড়ি করে । মিশরে ঘোড়ার গাড়ি চড়া সেও এক মজাদার যাত্রা। এখানকার ঘোড়া গুলি বেশ বড়ো সরো এবং বেশ তাগড়াই তাই এমন এক্কাতে চড়ে বেশ আনন্দ উপভোগ করা গেল। আমাদের গাইডের কথা হোল "মিসরে এসেছেন এখানকার সব কিছুই উপভোগ করুন। ভারতে তো কতো গাড়ি চড়েছেন , এখানকার মরুভূমির উট আর শহরের ঘোড়া।এমন তাগড়াই ঘোড়া কোথায় পাবেন স্যার।"
ফিরে এসে দুপুরের লাঞ্চ সারছিলাম ততক্ষনে ক্র্রুজ রওনা দিয়েছে লাক্সর যাবার জন্য ভায়া এসনা।তারপরেই
মাঝ পথে গাইড আমাদের নিয়ে গেল নীলনদের পূর্ব তীরে কর্ণক ও লাক্সর টেম্পল দর্শনের জন্য। 3000 হাজার বৎসরের পুরোনো লাক্সর টেম্পল নীলনদের পূর্ব পারে। কর্নক ও লাক্সর টেম্পল অতি সুন্দর এই টেম্পল। বিশাল বিশাল দম্বুজ গুলি, হাইপোস্টাইল হল।
(আরও সম্পুর্ন বিবরণ আলাদা করে লিখলাম ★৩>কর্ণাক )
--------------------------------------------------------
★★পঞ্চম দিন, ৪এপ্রিল২০১৯,বৃস্পতিবার।
**LUXOR SUNRISE HOT AIR BALLOON RIDES-
মিশরে পিরামিড দর্শন টেম্পল দর্শন
এগুলোর ছিলো একান্ত আকর্ষণীয় ।
সকল আকর্ষণ কে ছাপিয়ে লক্সোরের হট বেলুন চড়া অদ্ভুত এক শিহরণ।
বেলুনে চড়ে 530 উচুতে উঠে সূর্য উদয় দর্শন।
অবর্ণনীয় সেই অভিজ্ঞতার ক্ষণ।
মেঘমুক্ত নিল আকাশে,সূর্যের রক্তিম আভার বিচ্ছুরণ।
এহেন সূর্যোদয় দর্শনের শংসা
লক্সোরের হট বেলুন চড়ার প্রশংসা।
মরু দেশ অদ্ভুত সেই শংসিত,
মনোমুগ্ধ কর দর্শনীয় ষড়ৈশ্বর্য ।
বিশাল বেলুনে বাঁধা এক ঝুড়ি
তাতেই চড়ে বসলাম আমরা জনা কুড়ি।
পাইলট ছিলেন একজন।
গ্যাস সিলিন্ডার সহ চারটি ওভেন।
চারটি ওভেনে জ্বালিয়ে আগুন
উৎপন্ন করে হাইড্রোজেন গ্যাস, তাতেই ফুলেওঠে বিশাল সেই বেলুন।
এবারে বেলুন উড়লো আকাশে,
আমরা ভেসে চললাম বাতাসে।
530 ফুট ওপর থেকে মিশর দর্শণ,
আমাদের হৃদয়ে নুতন এক শিহরণ।
চলছিলাম আমরা হওয়ার বেগে,
নীলনদকে দেখছিলাম প্রাণ ভরে।
উঁচু থেকে দেখলাম সকল টেম্পল,
পিরামিড বালুকা ময় বিস্তীর্ন অঞ্চল।
মাঝে মাঝে ওভেনের আগুনের হালকা,
সে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা।
তখম সময় হয়েছিল ভোর পাঁচটা চল্লিশ,
উর্ধো আকাশে ছিল শীতের আবেশ।
এমন মজাদার খোলা আকাশে ভ্রমণ,
হট বেলুনে ভ্রমণ সত্যই অসাধারণ।
লক্সোরের হট বেলুনের ভ্রমনে,
কিছু নিয়ম কানুন হয় মনে রাখতে।
এই রাইড 45,--60মিনিটের রাইড,
সাথে থাকে উপযুক্ত গাইড/পাইলট
যে ইংরেজি বলতে পারে ভাল।
*Ride টি FULL PASSANGER INSURANCE,
*HAVE A SKILLED PILOT,
*প্রশাসন অতিশয় সচেতন।
*সম্পূর্ণ যাত্রা পথ সি সি টিভির আওতায়
থাকে তখন। তথাপি নিজেদের ও সতর্ক থাকতে হয়। বিশেষ করে বেলুনে চড়তে, নামতে, বা উপরে হওয়ার বেগ বেড়ে গেলে। তবে দেখলাম ওখানকার প্রশাসন ভীষণ ভাবে সতর্ক।
আমাদের বেলুন হওয়ার বেগের কারনে
বেশ একটু দুরে চলে গিয়ে ছিলো।
কিন্তু অবতরণের সময় দেখলাম
সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মুহূর্তে পৌঁছে গিয়ে ছিলো অবতরণের স্থানে।
প্রশাসনের এহেন সতর্কতা দেখে ভীষণ ভালো লাগলো।
আমাদের সকলকে একটি করে পার্সোনাল ফ্লাইট সার্টিফিকেট দিলো।
ক্র্রুজে ফিরে এসে সকালের ব্রেকফাস্ট খেয়ে নিয়ে লাগেজ প্যাক করে রাখলাম। আমরা আবার বেরিয়ে পড়লাম নীল নদের পশ্চিম পাড়ের দিকে 62 জন ফেরাওদের কবর খানা দেখতে যেটি ---ভ্যালি অফ দা কিং: নামে খ্যাত।
তারপরে দেখলাম রানী আহাৎশেপ্সুতর সমাধি টেম্পল আনুমানিক 15th century BC যার নিদর্শন আছে EI-Deir EI-Bahari তে এবং The Colossi of Memnon.
দুটি স্ট্যাচু বসেআছে যাদের হাত গুলি হাঠুর উপরে আছে। পূর্ব দিকে মুখ করে অর্থাৎ নদীর দিকি মুখ করে বসে আছে।
পৃথক দুটি বিশাল কোয়ার্জ পাথরের মূর্তি। উচ্চতা 18মি ( 60 ফুট ) তৈরী হয়েছিল 1350 BC এর পরে আমরা দিনের খাবার খেয়ে বেনানা দ্বীপে গেলাম কলা বাগান দেখতে। সেখানেও দোকানে দুটি কুমির রাখা আছে। কুমির এদের বড়ো প্রিয় আদরের। এর পরে আমরা চলে গেলাম লাক্সর এয়ারপোর্টে কায়রো যাবার ফ্লাইট রাত্রি 9 টায়। কায়রোতে পৌঁছে আমাদের হোটেল “Mercure Cairo Le Sphinx”. রাত হোটেলেই কাটলো।
-----------------------------------------------------
★★ষষ্ঠদিন,৫ এপ্রিল ২০১৯ শুক্রুবার।
কারোর হোটেলে সকালের ব্রেকফাস্ট করে গাইড আমাদের নিয়েগেল গিজার পিরামিড দেখাতে। মিশরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান হচ্ছে গিজার পিরামিড মিশর ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থেকে যাবে যদি গিজার পিরামিড না দেখা হয় । প্রাচীন বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের একটি এই পিরামিড। মিশরের রাজাদের সমাধিস্থল হচ্ছে এই পিরামিড। মিশরের ফারাও অর্থাৎ রাজাদের মৃতদেহ মমি করে রাখা আছে এই পিরামিডের মধ্যে। কায়রো শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে মরুভূমির মধ্যে নীলনদ বরাবর গিজার পিরামিড অবস্থিত। গিজাতে আছে তিন ( 3 )টি পিরামিড- খুফু, খাফ্রে ও মেংকাউরে পিরামিড।
এখানে উটের পিঠে চড়ার ব্যবস্থা ছিলো।
বাচ্ছা বুড়ো সকলেই উটের পিঠে চড়ে বালিয়াড়ি পর করে পিরামিডের কাছে গিয়ে দেখে আসলো।
যেখান থেকে উঠে চড়ার জন্য সকল উট গুলি ছিলো। আমি দেখলাম একজন মহিলা তার একটি উটের দুধ দোয়াচ্ছেন।
সকলে যখন উঠে চড়ার আনন্দে মাতোয়ারা তখন আমি সুযোগ বুঝে ওই উটের মালিক মহিলাকে 20 আরবীয় পাউন্ড দিয়ে একটু উটের দুধ চেয়ে নিয়ে খেলাম।
( CENTRAL BANK OF EGYFT এর
10 POUNDS মূল্যের দুটি নোট দিয়ে ছিলাম )
এমন তাজা উটের দুধ পেয়ে সত্যি খুব আনন্দ অনুভব করেছিলাম।
ওই দুধের কি দাম তাতো আমার জানা ছিলোনা। তবে দুটি দশ টাকার পাউন্ড দেখাতেই এক কথায় এক গ্লাস দুধ দিয়েছিলেন।আন্দাজ করি 200মিলি
দুধ ছিলো।
বড়ো পিরামিডের সামনে স্ফিংস নামক সেই বিখ্যাত মূর্তিটি আছে, যার দেহটি সিংহ এর আকৃতি ও মাথাটি মানুষের মতন। এটি একটি অনন্য নিদর্শন। বড়ো পিরামিড টির ভিতরে গিয়ে দুই জায়গাতে হামাগুড়ি দিতে হোল। আমার পক্ষে এই টুকুই সম্ভব হোল ,বাকি যাদের একটু কম বয়েস তারা পুরোটাই এঞ্জয় করতে পেরেছে। এখানথেকে বেরিয়ে আরও কয়েকটি পিরামিডের ভেতরে গিয়ে দেখলাম। তারপরে রাজা টুটানখামুনের সমাধি। এই সমাধি দেখার জন্য আলাদা করে বেশি মূল্যের টিকিট নিতে হয়েছিল।
( টুটানখামুনের সমাধি এক বিস্ময়কর সমাধি যার বিবরণ একটু আলাদা করে
লিখলাম। )
এর পরে গেলাম মিশরের মিউজিয়াম দেখতে যে খানে আছে টুটানখামুনের সমাধিতে রাণী নেফারতিতির গোপন কুঠুরি মিশরের প্রত্নতত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন,রাজা টুটানখামুনের সমাধিতে তারা এমন একটি গোপন কুঠুরি থাকার প্রমাণ পাচ্ছেন যেখানে হয়তো রাণী নেফারতিতির কবর ছিল। সকলের ধারণা যদি সত্যি সত্যি এরকম এক গোপন কুঠুরি খুজে পাওয়া যায় সেটা হবে শতাব্দীর সবচেয়ে বড় আবিস্কার। লাক্সারের এই অত্যন্ত প্রাচীন স্থানটিতে এখনো খোজ চলছে । তার পরে দেখলাম মমিদের মিউজিয়াম। যেখানে সারি সারি লাইন দিয়ে কাঁচের বক্সএ রাখা আছে সকল মমি। এখানেও অনেক নামনাজানা মমি আছে। বিশাল বিশাল সোনার মুখোশ। সোনার নির্মিত কফিন। সোনার অলংকার ,নানান মূল্যবান পাথরে সু স্বজ্জিত।
রাতে হোটেলে ফিরলাম। হোটেল টির নাম ::-
MERCURE CAIRO LE SPHINX HOTEL
-----------------------------------------------------
★★>সপ্তম দিন-----(7 th day )
*****------6 এপ্রিল ২০১৯-----*****
""""""""""""""""""""শনিবার""""""""""""""""
সকালে 6 টায় ব্রেকফাস্ট সেরে 7 টায় বেরিয়ে পরলাম আলেক্সান্দ্রিয়ার উদ্যেশ্যে। কায়রো থেকে আলেক্সান্দ্রিয়া প্রায় 3ঘণ্টার রাস্তা।
আলেকজান্দ্রিয়া কায়রো::---
6th April 2019::--
সকালে গেলাম আলেকজান্দ্রিয়া কায়রো থেকে 230 কিমি দূরে, ভূমধ্যসাগরের দক্ষিণ উপকূলে।
এটি মিশরের পুরোনো একটি শহর।
খুব সুন্দর শহরটি সাজানো গোছানো।
গ্রীকরাজ আলেকজান্ডার 301 খ্রিস্টপূর্বে তৈরি করেছিলেন শহরটি।
এখানে আছে রোমানদের সমাধিভূমি
ক্যাটাকম্ব কোম ( মাটির তলায় তিন তলার চার্চ)। চার্চের সামনেই
সারকেফেগাস- কম-এল-সোকাফা
( Sarcofagaes-Kom-El-Shouqafa)
যেটি চতুর্থ শতকে নির্মিত।
পম্পেই পিলার (Pompei Pillar)
কম-এল-ডেক্কা সাইট ( Kom-El-Dekka site) দেখলাম।
ভূমধ্যসাগরের উপমূলে নানান রকমের দোকান । দোকানের রংবাহারি সাজ দেখতে দেখতে চা খেলাম।
সমুদ্র প্রান্তে ক্যাটবে সিটাবেল দুর্গ দেখা যাচ্ছিলো।
তারপরে দিনের খাবার খেতে গেলাম হোটেলে । সেখানে নানান প্রকার সী-ফুড
খেলাম। শামুক, ঝিনুক, অক্টোপাস, আরও নানান খাবার সামগ্রি সব গুলোর নামও জানানাই।
তারপরে গেলাম পৃথিবী বিখ্যাত বিবলিওথিকা লাইব্রেরীতে
( আলেকজান্দ্রিয়া)।
এখানে আনুমানিক দশ লক্ষ বই আছে।
এক বা দুই দিনে সমগ্র লাইব্রেরী ঘুরে দেখা সম্ভম নয়।
এতো কিছু দেখার পরে যে দেখা গুলি না দেখেও গাইডের মুখে শুনেই স্তম্ভিত রোমাঞ্চিত হয়ে ছিলাম সেই গুলির একটু কথা লিখছি আলাদা করে।
তবে নানান সময় সংঘটিত পৃথক পৃথক অগ্নিকাণ্ডে আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগার সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয় ।"
বর্তমানে সম্পুর্ন নুতন করে আবার তৈরি হয়েছে গ্রন্থাগার।
**আলেক্সান্দ্রিয়া
( যেটুকু সংগ্রহ করতে পারছি, কিছুটা
নিজের চোখে দেখে,কিছুটা গাইডের কথায় কিছুপ্রাচীন ইতিহাস থেকে)
আজকে জাজা দেখেছি সেগুলির নাম লিখলাম:---
১>আলেক্সান্দ্রিয়ার বিখ্যাত গ্রন্থাগার "বিবলিওথেকাই"
২>সুন্দর স্টেনলি সেতু,
৩>এল-মুরসি আবুল আব্বাস মসজিদ
৪>আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর
৫>আলেক্সান্দ্রিয়া র পুরানো বাজার।
৬>কম এল শোকাফার ধ্বংসাবশেষ:
৭>বিখ্যাত পম্পি পিলার
৮>রোমান থিয়েটার--( আলাদা করে লিখলাম )
( এই ১ থেকে ৮ প্রতিটি আলাদা করে লিখলাম)
অনেক দেখেও সম্পূর্ণ না দেখতে পারার এক বিশাল বেদনা নিয়ে রাতে হোটেলে ফিরলাম। হোটেল টির নাম ::-
MERCURE CAIRO LE SPHINX HOTEL
-----------------------------------------------------
★★>অষ্টম দিন-----(8 the day ) ::
*****-----৭ এপ্রিল ২০১৯-----*****
"""""""""""""""""রবিবার""''"""""""'''''"'
আজ আমাদের বাড়ি ফেরার পালা।
সকালে ব্রেকফাস্ট সেরে হোটেল থেকে Check out Time করলাম সকাল ৯টায়। কায়রো ইন্টার নেশানাল এয়ারপোর্ট পৌছোলাম সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে। Take the flight from Cairo to Abu Dhabi (EY 654) and landed at 05:13 connecting flight to Kolkata (EY 256).
জীবনে অনেক ঘুরেছি তবুও যাকিছু ভালো সবই যেন খুব তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায়।
আবার বলি ভ্রমণ এক নেশা
চোখের নেশা, মনের নেশা
একান্ত হৃদয়ের নেশা।
প্রকৃতি যেন হাত ছানি দিয়ে ডাকে
মন কিছু খুঁজে বেড়ায় অজানা পথে।
কিছু খুঁজে পেতে চায় নুতন করে
কিছু পেতে চায় প্রকৃতিকে আপন করে।
আজ-কাল অতি ব্যস্ত জীবনে সময়ের মাঝে পরিবারের সঙ্গে একটু ঘুরে বেড়ানো একটু অবকাশ খুব সহজে মেলেনা, আর তাই সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে হয়। সুযোগ আসার পর চলতে থাকে তার প্রস্তুতি। নির্দিষ্ট দিনের অপেক্ষা এবং তার প্রতীক্ষার উত্তেজনা সত্যি সুখের, আমাদেরও এমন সুখের আটটি দিন
মনে হয় মুহূর্তেই যেন হয়ে গেল শেষ।
কাল থেকেই আবার সেই গতানুগতিক
জীবনের ঘনি টানা হবে শুরু।
আর এভাবেই হয় শেষ থেকে শুরু।
সকলকে আমার আন্তরিক ভালোবাসা জানিয়ে আজ এখানেই করছি শেষ।
<---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->
৬/২ এ, শ্যামবিহার ফেজ ll
আর ই ই-১৫ রঘুনাথপুর
কোলকাতা-৭০০ ০৫৯ ========================