Sunday, March 29, 2020

53>ভ্রমন =উড়িষ্যার কেওনঝড়, মা তারিনী মন্দির==dt ???

ভ্রমন =উড়িষ্যার  কেওনঝড়, মা তারিনী মন্দির

সেদিন হঠাৎ রাজা মানে আমার ছেলে বলল চলো ঘুরে আসবে কেওনঝর ,তারিণী মন্দির
কেওনঝড় Salandi Dam.  মা তারিনী মন্দির,  Gudichaghai জলপ্রপাত,
Sitabinji_Rock_Cave ও Kanjhari_Dam.  Kandahar_Water_Falls.
Hadibhanga_Water_Falls. Tensa_view_point
ভীমকুন্ড ও বৈতরনী নদীর মিলন স্থান



NH6 ধরে ৩৩০ কিমি পাড়ি দিয়ে
প্রথম গন্তব্যে পৌছালাম ১১টায়,
  কেওনঝড় Salandi Dam.
এই Dam টি স্হানীয় ভাষায় Hadagarh Dam নামেও পরিচিত।
বর্ষার  জলমগ্ন বাঁধের সুদৃশ্য দেখে রওনা দিলাম ঘাটগোস্হিত মা তারিনী মন্দির, মা এর রাতুল চরনে প্রনাম নিবেদন করে,মধ্যাহ্নভোজন সম্পন্ন করলাম।
পরবর্তীতে চললাম Gudichaghai জলপ্রপাত,
এই জলপ্রপাতের জলোচ্ছাসের গর্জন শুনে মনের মধ্যে একটি বাংলা প্রবাদ কড়া নাড়ল
"বন্যরা বনে সুন্দর,শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"
আর জলপ্রপাতের সৌন্দর্য দেখতে হলে আপনাকে আসতেই হবে বর্ষাকালে।
পরবর্তী গন্তব্য ছিল Sitabinji_Rock_Cave ও Kanjhari_Dam.দুটি স্হানই অপরুপ সৌন্দর্যে পরিপূর্ন ও পাখির কোলাহলে মুখরিত।
এখান থেকে চলেগেলাম কেওনঝড়ের  Kandahar_Water_Falls.
এখানের কিছু স্মৃতি লেন্স বন্দি করে চললাম Hadibhanga_Water_Falls.এখানে গিয়ে দেখলাম প্রকৃতি তার রুপ উজার করে দিয়েছে।
এরপর গন্তব্য Tensa_view_point, পাহাড়ী রাস্তা দিয়ে Tensa যেতেই বিকাল গড়িয়ে এল,
পরেরদিন রওনা গোনাসিকার গুপ্ত গঙ্গা মন্দির।
গোনাসিকা মন্দির দর্শন করে রওনা হলাম এই ট্রুরের অন্তিম দর্শনীয় স্হান ভীমকুন্ড।
ভীমকুন্ড ও বৈতরনী নদীর মিল বন্ধন দেখে আমাদের উন্মাদনার মাত্রা এতটাই বৃদ্ধি পেল মনে হয় টাইম মেশিনে চড়ে ১০ বছর পিছিয়ে শৈশবে চলে এসেছি।
তবে এবার   ঘরেফেরা হল।
======================


মা তারিনী মন্দির ----
উড়িষ্যা, ঘাটগাঁও,কেওঝড় উড়িষ্যা।


এমন গল্প কথা শোনাজায় যে
কেওনঝড়ের মহারাজা ইচ্ছা করলেন               "মা" তারিনীদেবী কে পুরী থেকে কেওনঝড়ে নিয়ে আসবেন।
অনেক সাধ্য সাধনার পরে " মা" তারিনী দেবী ইচ্ছা প্রকাশ করলেন যে তিনি কেওনঝড়ে যাবেন।
তবে তার জন্য মা নিজে রাজাকে একটি শর্ত দিলেন।
শর্ত টি এমন যে রাজা হাটা পথে যাবেন আগে আগে আর পেছনে আসবেন "মা "
তারিনী দেবী। চলার পথে কখনো কোথাও রাজা থামতে পারবেন না বা পেছনে ফিরে
দেখতে পারবেন না।
রাজা যদি পথে কখনো কোন স্থানে এই সর্থ উপেক্ষা করেন বা পেছন ফিরে দেখেন তবে মা সেই স্থানেই অবস্থান করবেন।
শর্ত অনুসারে রাজা চলেছেন ,
পেছনে মায়ের চলার নুপুরের আওয়াজ
শুনতে শুনতে।
এমনি করে চলতে চলতে কেওনঝড়ের
গভীর জঙ্গলে পৌঁছলেন ।
ঘন জঙ্গলের কারনে রাজা আর মায়ের
চলার নুপারের আওয়াজ শুনতে না পেয়ে
বিচলিত মনে হঠাৎ পেছনে ফিরে তাকালেন ।
আর সাথে সাথে "মা" এই গভীর জঙ্গলে
স্থায়ী হয়ে বসে গেলেন জঙ্গলের রানী রূপে।

চৈতিযাত্রাব রূপে  এখানে বিশেষ পূজা
হয়। ইংরেজি এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত
হয় এই পূজা।
চৈত্র মাসের শেষ 5দিন ও বৈশাখ মাসের দুই দিন এই পূজা হয়।
মোটামুটি 9 থেকে 15 এপ্রিল মাসের ই
এই পূজা হয়।
=================

Sunday, March 22, 2020

52>ভ্রমণ >শিরডি সাই বাবা== =( বর্ননা )

ভ্রমণ >শিরডি সাই বাবা--==( বর্ননা )

মহারাষ্ট্রের আহমেদনগর জেলায় অবস্থিত সিরডি, একটি শহর।
শ্রী সাঁই বাবার সমাধির উপর নির্মিত সিরডি সাঁই মন্দিরে সারা বিশ্ব জুড়ে ভক্তদের ভিড় হয়।
 সিরডি ভ্রমণ করতে এলে এই মন্দিরের পাশে অবস্থিত শনি মন্দির, নরসিংহ মন্দির, কান্দোবা মন্দির, সাকোরি আশ্রম এবং চাংদেব মহারাজের সমাধি ।
এ গুলও দর্শকদের আকর্ষণ করে।
শিরডি সাই বাবা---------

শিরডি সাই বাবা (১৮৩৫ - ১৫ অক্টোবর, ১৯১৮)  ছিলেন একজন ভারতীয় ধর্মগুরু, যোগী ও ফকির। হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের ভক্তরাই তাঁকে সন্ত আখ্যা দিয়েছিলেন।
শিরডি সাই বাবাজন্ম১৮৩৫ সেপ্টেম্বরমৃত্যু১৫ অক্টোবর, ১৯১৮ (বয়স ৮৩)যুগবিংশ শতাব্দীঅঞ্চলভারতধারাহিন্দুধর্ম (অদ্বৈত বেদান্ত) ও ইসলাম(সুফিবাদ)
হিন্দু ভক্তেরা তাঁকে দত্তাত্রেয়ের অবতার মনে করতেন। অনেক ভক্তের মতে, তিনি ছিলেন সদ্গুরু, সুফি পির বা কুতুব। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁর পরিচিতি ছড়িয়ে পড়লেও, ভারতেই তিনি সর্বাধিক শ্রদ্ধা অর্জন করেছিলেন।
সাই বাবার প্রকৃত নাম জানা যায় না। শিরডিতে আগমনের পর তাঁকে "সাই" নাম দেওয়া হয়। তাঁর জন্ম বা জন্মস্থান সংক্রান্ত কোনো তথ্যও জানা যায় না। সাই বাবা তাঁর পূর্বাশ্রমের কথা জানিয়ে যাননি। সাই শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে উৎসারিত। এই শব্দের অর্থ "সাক্ষাৎ ঈশ্বর" বা "দিব্য"। ভারতীয় ভাষাগুলিতে সাম্মানিক "বাবা" কথাটির অর্থ "পিতা", "পিতামহ", "বৃদ্ধ ব্যক্তি" বা "মহাশয়"। অর্থাৎ, সাই বাবা নামের অর্থ "দিব্য পিতা" বা "পিতৃরূপী সন্ত"।
তাঁর পিতামাতা, জন্মের বৃত্তান্ত এবং ষোলো বছর বয়সের পূর্বের কথা জানা যায় না। তাই তাঁর পূর্বাশ্রম সম্পর্কে নানা জল্পনা-কল্পনা করা হয়ে থাকে।
সাই বাবা পার্থিব বস্তুর প্রতি আগ্রহী ছিলেন না। তাঁর একমাত্র চিন্তা ছিল আত্ম-উপলব্ধি। তিনি সন্ত হিসেবে খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। বিশ্বের নানা অংশের মানুষ তাঁর পূজা করেন। তিনি ভালবাসা, ক্ষমা, পরস্পরকে সহায়তা, দান, সন্তুষ্টি, আন্তরিক শান্তি ও ঈশ্বর ও গুরুর প্রতি ভক্তির শিক্ষা দিতেন। সাই বাবার শিক্ষার উপাদান সংগৃহীত হয়েছিল হিন্দু ও ইসলাম উভয় ধর্ম থেকেই। যে মসজিদে তিনি বাস করতেন, তার একটি হিন্দু নামও দিয়েছিলেন। এই নামটি হল "দ্বারকাময়ী"।তিনি হিন্দু ও মুসলিম উভয় ধর্মেরই অনুষ্ঠানাদি পালন করতেন। উভয় সম্প্রদায়ের ভাষা ও ব্যক্তিত্বদের উদাহরণ দিয়ে উপদেশ দান করতেন। শিরডির একটি হিন্দু মন্দিরে তাঁকে সমাহিত করা হয়। তাঁর বিখ্যাত উক্তি "সবকা মালিক এক" ("একই ঈশ্বর সকলকে শাসন করেন")। কথাটি ইসলাম ও সুফিবাদের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তিনি সর্বদা "আল্লাহ্‌ মালিক" ("ঈশ্বরই রাজা") কথাটি উচ্চারণ করতেন।
শিষ্য
বহু হিন্দু ও সুফি ধর্মনেতা সাই বাবাকে শ্রদ্ধা করতেন। তাঁর কয়েকজন শিষ্য বিশিষ্ট ধর্মগুরুও হয়েছিলেন। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপাসনি মহারাজ, সন্ত বিদকর মহারাজ, সন্ত গঙ্গাগির, সন্ত জানকিদাস মহারাজ ও সতী গোদাবরী মাতাজি।
রামকৃষ্ণ যোগ
তাঁরা ছিলেন সমসাময়িক, কিন্তু দেশের দুই রাজ্যে। একজন বাংলায়, অন্য জন সুদূর মহারাষ্ট্রে। বাংলার রামকৃষ্ণ পরমহংস জন্মেছিলেন ১৮৩৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। অন্য দিকে, সাঁই বাবার জন্মতারিখ নিয়ে দোলাচল থাকলেও, অনেকের মতে তিনি জন্মেছিলেন ১৮৩৫ সালের সেপ্টেম্বরে। ঠাকুর রামকৃষ্ণ নিজে কালী ভক্ত হলেও, তাঁর কাছে সব ধর্মই ছিল সমান। একই ভাবে, সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দিয়েছিলেন সাঁই বাবাও। তাঁদের দর্শনেই যে শুধু মিল ছিল, তা নয়। অবাক হতে হয় এক তথ্য জানলে যে, ঠাকুর ও সাঁই বাবার মৃত্যুতেও ছিল এক অদ্ভূত যোগসূত্র। কোথাও লিপিবদ্ধ না থাকলেও, কথিত যে, ১৮৮৬ সালের অগস্ট মাস নাগাদ সাঁই বাবা সমাধিস্থ হন তিন দিনের জন্য। জানা যায়, ওই একই সময়ে, বাংলায় তখন মৃত্যুশয্যায় ছিলেন ঠাকুর। এবং তিন দিন পরে সাঁই বাবা নিজের দেহে ফিরে এলে, ঠাকুর চলে যান নশ্বর দেহ ছেড়ে। কথিত, সাঁই বাবা ফিরে এসে বলেন যে, তিনি তো চিরদিনের জন্যই ‘আল্লা’র কাছে চলে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, সেখানে গিয়ে জানতে পারেন যে, তাঁর বন্ধু শ্রীরামকৃষ্ণও যেতে চান ভগবানের কাছে। তাই তিনি ফিরে আসেন ধরাধামে। প্রসঙ্গত, এমনও শোনা যায় যে, ঠাকুর রামকৃষ্ণ নাকি সাঁই বাবা সম্পর্কে বলতেন যে, এমনই এক ফকির এসেছেন পৃথিবীতে, যাঁকে হিন্দুরা পুজো করে ঈশ্বর হিসেবে আর মুসলমানরা করে পীর হিসেবে।
,=======================

সাই বাবার মন্দিরে ভক্তরা হাঁটলেই তৈরি হবে বিদ্যুৎ



#মুম্বই: পয়লা অক্টোবর শতবর্ষে পা দেবে দেশের ঐতিহ্যবাহী শিরডি সাই মন্দির ৷ সেই উপলক্ষে পরিবেশবান্ধব হয়ে ওঠার জন্য বিভিন্ন রকমের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে ৷ বেশ কয়েকটি নতুন উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে ৷
তাদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হচ্ছে ফুট এনার্জি প্রোজেক্ট ৷ এতে ভক্তদের হাঁটার শক্তিকে ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে ৷
এরকম প্রোযেক্ট এই প্রথম ভারতে করা হবে ৷ প্রতিদিন প্রায় ৫০,০০০ ভক্তরা এই মন্দিরে দর্শন করতে আসেন ৷ মন্দির কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, উপস্থিত ভক্তদের প্রতি পদক্ষেপের শক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তরিত করে সেই জায়গার আলো ও পাখা চালানোর ব্যবস্থা করা হবে ৷ ৷ যদি এটি সফল হয় তাহলে বাকি মন্দিরেও এই ব্যবস্থায় ব্যবহার করা হবে ৷
এর জন্য ২x২ ফুটে ২২০টি টাইলস বসানো হবে প্রথম পর্যায়ে ৷ প্রথম মডেল শেষ হতে আরও দু’মাস সময় লাগবে ৷ আপাতত মন্দিরে ডোনেশন হিসেবে ক্রুণালের সংস্থা বিনামূল্যেই এই টাইলস বসাবে। বিকল্প উপায়ে যদি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় তাহলে পরিবেশ দূষণ অনেকটাই রোধ করা যাবে ৷
=====================
এর থেকে বছরে আয় হবে ১.২৫ কোটি টাকা
২০০ কেজি সোনা সরকারের ঘরে জমা রাখতে চায় সিরিডি সাঁইবাবা মন্দির
মুম্বই:নিজেদের হেফাজতে থাকা ২০০ কেজি সোনা কেন্দ্র সরকারের গোল্ড মনেটাইজেশন স্কিমে জমা রাখতে চায় সিরিডি সাঁইবাবা মন্দির কর্তৃপক্ষ।মুম্বই মিররের রিপোর্ট অনু‌যায়ী,ভক্তরা বহু কোটি টাকার সোনা মন্দিরে দান করেছেন।সেই সোনা গলাতে পারবে না মন্দির কর্তৃপক্ষ।এনিয়ে বম্বে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।তাই আয়ের জন্য ঘুরপথে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
২০১২ সালের মার্চ মাসে বম্বে হাইকোর্ট মন্দিরের ১৫ সদস্যের কমিটি বাতিল করে দেয়।সেই জায়গায় ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেয়।মন্দিরে জমা থাকা বিপুল পরিমান সোনা, রুপো-সহ মূল্যবান রত্নসামগ্রী নিলাম করার ওপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করে আদালত।একটি জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ওই রায় দেওয়া হয়।ওই জনস্বার্থ মামলায় বলা হয়, মন্দিরে ‌যে সমস্থ সেনাদানা দেওয়া হয়েছে তা ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে।তা বিক্রি করে টাকা তোলার জন্য নয়।উল্লেখ্য, দেশের অন্যতম ধনী এই মন্দিরে মোট ৩৮০ কেজি সোনা মজুত রয়েছে।একটি হিসেব অনু‌যায়ী মন্দির কর্তৃপক্ষ ‌যদি ওই সোনা সরকারের ঘরে জমা রাখে তাহলে বছরে ১.২৫ কোটি টাকা সুদ হিসেবে মন্দিরের আয় হতে পারে।
মন্দিরের সোনা সে কেন্দ্র সরকারের স্কিমে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে তা স্বীকার করেছেন মন্দিরের কেয়ারটেকার কমিটির আধিকারীক বাজিরাও সিন্ধে, জেলাশাসক অনিল খায়াডে ও জেলা জজ শ্রীকান্ত কুলকার্নি।সিন্ধে জানিয়েছেন,আদালত ‌যদি ওই সোনা সরকারের স্কিমে জমা রাখার অনুমতি দেয় তাহলে সেখান থেকে আয়ের টাকা চিকিৎসা পরিষেবার উন্নতিতে ব্যবহার করা ‌যাবে।পাশপাশি ওই বিপুল টাকার সম্পত্তি আগলে রাখার ‌যে ঝক্কি তাও কিছুটা লাঘব হবে।
সিন্ধে জানিয়েছেন, মন্দির কর্তৃপক্ষ গরীব মানুষদের জন্য প্রতিবছর ২৫০ কোটি টাকার বিনামূল্যে খাবার,বাসস্থান,চিকিৎসার ব্যবস্থা করে থাকে।রোজ গড়ে ৫০ হাজার মানুষ সিরিডি মন্দিকে আসেন।এর মধ্যে ৪০ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে খাবার দেওয়া হয়।প্রতি বছর ৩৫ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয়।
======================.

51> মহারাষ্ট্রের (7 )টি গুহা:---এবং মহারাষ্ট্রের দর্শনীয় শহরবগুলি।=IN DETAILS

2>ভ্রমণ > মহারাষ্ট্রের (7 )টি গুহা:---এবং মহারাষ্ট্রের দর্শনীয় শহরবগুলি।

ভারতবর্ষ সকল দেশের সেরা।
ভারতবর্ষ এক মহা মিলন ক্ষেত্র।
এখানে নানান বৈচিত্র তথাপি
এক মহা মিলন ক্ষেত্র।
ভাষা,নানা মত তবুও সকলের মিলন ক্ষেত্র।
তাইতো ভারতের তুলনা
কারো সাথেই নয়।
ভারত তার ত্যাগ তপস্যা দিয়ে
বিশ্ব করেছে জয়।
এই ভারতের এক রাষ্ট্র মহারাষ্ট্র।
কতো ইতিহাসকে বহন করে চলেছে।
যা ওখানে গিয়ে চাক্ষুষ না দেখলে
 বিশ্বাস করাই মুশকিল।
প্রথমে বলি  মহারাষ্ট্রের গুহাগুলি
যেগুলি না দেখলে এই রাজ্যে ঘোরা
অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

ভারতের পশ্চিম অংশে অবস্থিত সুন্দর
এই  রাষ্ট্রটি ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র ।
এটি দুটি প্রধান ভূমিরূপ নিয়ে গঠিত এবং
একটি অত্যন্ত সুন্দর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অধিকারী।
যেটি কঙ্কন উপকূলীয় অঞ্চল নামে যার খ্যাতি।
অন্যটি দাক্ষিণাত্য টেবিল মালভূমি।
যেগুলি পরিদর্শন করতে সমগ্র বিশ্বের
মানুষ ছুটে আসে বার বার।

 মহারাষ্ট্র ,--

মহারাষ্ট্র ,:::--অন্ধ্র প্রদেশ, ছত্তীসগড়, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, গোয়া এবং কর্ণাটক দ্বারা বেষ্টিত।
ফলে পর্যটকদের মহারাষ্ট্রের চারপাশথেকে আকর্ষণ করে।

এই রাজ্যের অধিকার রক্ষার জন্য,কত  রক্ত- ক্ষয়,বহু ভীতিকর ভংকর যুদ্ধ ঘটেছে, আজ ও ইতিহাস যার  সাক্ষ্য বহন করছে।
মুঘলরা বার বার  এই রাজ্য কে অধিকার করতে  চেষ্টা করেও খুবই কম মুঘল সম্রাট
পেয়েছিলেন  সফলতা ।

শিবাজি, মারাঠাদের প্রথম মহান বীর শাসক, যিনি জাতির উত্থানের জন্য এক বীর যোদ্ধার  আদর্শ ব্যক্তিত্ব হিসাবে দাঁড়িয়ে আছেন, এমনকি তিনি ব্রিটিশদের চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছিলেন।

বলিউডের খ্যাতি, মহারাষ্ট্রকে পর্যটকদের মধ্যে অন্যতম আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

অজন্তা এবং ইলোরা এই রাজ্যের দুটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান যা সর্বদা পর্যটকদের আকর্ষণ করে চলেছে।

 আজ থেকে তিন হাজার বছর পূর্বের ধর্ম এবং মানুষের কল্পনার নিদারূণ অঙ্কন এবং ভাস্কর্যগুলি অন্বেষণ ও সাক্ষ্য প্রমাণের জন্য অবশ্যই অজন্তা ভ্রমণ করতে হবে।

মহারাষ্ট্রের পরিদর্শনমূলক স্থান।
এখানকার অসংখ্য গুহা, আকর্ষণীয় শৈলশহর, সুন্দর সমুদ্র সৈকত, প্রচুর বন্যপ্রাণী
অপূর্ব প্রাকিতিক সৌন্দর্য এবং
 বলিউড মহারাষ্ট্রকে ভারতের অন্যান্য রাজ্যের থেকে অনন্য করে তুলেছে।

এবার বলেলি  মহারাষ্ট্রের  ( 7 ) সাত টি
গুহার কথা::--------সংক্ষেপে

I>অজন্তা গুহা

খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকের সাক্ষী বহন করে চলেছে এই গুহা। গুহার দেওয়ালে আঁকা ছবি ও খোদাই করা চালচিত্র বৌদ্ধ ধর্মের  ইতিহাস বহন করে চলেছে।
এটি একটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসাবে ঘোষণাও করা হয়েছে।

II>ইলোরা গুহা

পাথর কেটে বানানো ইলোরা গুহা প্রাচীন স্থাপত্য কলার এক উল্লেখযোগ্য নিদর্শন।
পঞ্চম থেকে দশম শতাব্দির মধ্যে তৈরি এই গুহাটিকেও ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসাবে ঘোষণা করেছে ইউনেস্কো।
এখানকার স্থাপত্যে হিন্দু, জৈন ও বৌদ্ধদের সংষ্কৃতি মিলেমিশে একাকার।
সবই পাথর কেটে গড়ে তোলা ।

III>কারলা গুহা

লোনাভালা শহরের কাছেই এই গুহাটি অবস্থিত।
দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শতাব্দির মধ্যে এই গুহাচিত্র গড়ে উঠেছিল।

IV>এলিফ্যান্টা গুহা

মুম্বই শহর থেকে  মাত্র 11 কিলোমিটার
দূরত্ব এই এলিফ্যান্টা গুহাটি, যেটি
এলিফ্যান্টা দ্বীপে অবস্থিত।
এখানকার দেওয়ালে হিন্দু ও বৌদ্ধ সংষ্কৃতির ছাপ স্পষ্ট ।
মূলত ভগবান শিবকে নিয়ে পৌরাণিক নানা গল্পই গুহার দেওয়ালে বর্ণিত হয়েছে।
ইংরেজ আমলে এই গুহার দেওয়ালের নানা চালচিত্র নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।

এলিফ্যান্টা গুহা

মুম্বাই উপকূল থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে আরব সাগরের নিকটবর্তী দ্বীপগুলিতে বহু গুহা রয়েছে। এই গুহা গুলিতে ৪৫০ থেকে ৭৫০ খ্রীস্টাব্দ প্রাচীন প্রভু শিবের মহিমা সম্বলিত নিদারুণ ভাস্কর্য দেখা যায়। বোট-জেটি থেকে নিয়মিত মোটর-বোট গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া থেকে  দ্বীপপুঞ্জে নিয়ে যাবে। এই গুহা ইউনেস্কো দ্বারা বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে ঘোষিত হয়েছে।

V>বেডসে গুহা

মহারাষ্ট্রের পুণে শহরে অবস্থিত এই গুহাটি।
এটি অতি পুরনো গুহা। খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দিতে এটি গড়ে ওঠে। লোহাগড়, তুঙ্গ, তিকোনা ও বিসাপুরের পরিচিত কেল্লাগুলি এই গুহার পাশেই অবস্থিত।

VI>ঔরঙ্গাবাদ গুহা

ঔরঙ্গাবাদে অবস্থিত এই গুহার সর্বত্র বৌদ্ধ ধর্মের ছাপ স্পষ্ট। অজন্তা-ইলোরার গুহাচিত্রের কাছে এটি ঢাকা পড়ে গেলেও অতীত যুগের সাক্ষী বহন করে চলেছে এই গুহা।


ঔরঙ্গাবাদ

ঔরঙ্গাবাদ শহর বিশেষত অজন্তা এবং ইলোরার ঐতিহ্যমণ্ডিত স্থানগুলির জন্য বিখ্যাত। ২৯-টি পাহাড় কর্তিত গুহার আধিক্য সহ এই গুহা দেশের স্থাপত্য সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসাবে চিহ্নিত। অজন্তার ম্যুরাল চিত্র এবং চিত্রানুগ অবস্থান সহ ইলোরার ভাস্কর্য আপনাকে মুগ্ধ করে তুলবে। এই শহরের নাম মুঘল সম্রাট, ঔরঙ্গজেবের নামে নামাঙ্কিত যিনি দাক্ষিণাত্যের উপর রাজত্ব করার জন্য একে রাজপ্রতিনিধিত্বমূলক রাজধানী হিসাবে তৈরি করেছিলেন। সম্রাট তার মাকে শ্রদ্ধা জানাতে এখানে বিবি-কা-মকবরা নির্মিত করেন। এটি বিখ্যাত তাজমহলের একটি অনুকরণ। পান চাকি এবং দরওয়াজা প্রাচীন কালের অসাধারণ দক্ষ স্থাপত্যের উদাহরণ।

VII>পাণ্ডবলেনি গুহা

নাসিকে অবস্থিত এই গুহাটিও বৌদ্ধ ধর্মের নিদর্শন বহন করে চলেছে। এটির আগের নাম ছিল 'ত্রিরাশমি গুহা'।

এই 7 টি গুহাই দর্শন করেছি
তবে এক সাথে নয় বাড়ে বাড়ে সময় বুঝে
==============================================



3>মহারাষ্ট্রের দর্শনীয় শহরবগুলি

সিরডি //  মুম্বাই //এলিফ্যান্টা গুহা//ঔরঙ্গাবাদ//

 ঔরঙ্গাবাদ// গণপতিপুলে  //পঞ্চগনি //পেঞ্চ জাতীয় উদ্যান// পুনে //নাগপুর ,//মাথেরান//
===================


I>সিরডি:::-আলাদা করে লেখা আছে
---------------------------------------------------
II>মহাবালেশ্বর, লোনাভালা এবং খান্ডালা

 মহারাষ্ট্রের শৈলশহরগুলির সৌন্দর্য সত্যই বিশেষ আকষণীয়।
মহাবালেশ্বর এখানকার মন্দিরগুলির মধ্যে অন্য তমো।
এটি একটি জনপ্রিয় হানিমুনের স্থান।
 এখানকার বিশুদ্ধ বাতাস, নির্মল পরিবেশ, শান্ত হ্রদ এবং নির্ঝর জলপ্রপাত
শশব্যস্ততা থেকে দূরে এই গন্তব্যটিকে একটি আকর্ষণীয়  করে তোলে রেখেছে ।
========================

III>মুম্বাই//

মুম্বাই মহারাষ্ট্রের রাজধানী শহর। এই শহর তার অঢেল সম্পদের কারণে অনেক স্বপ্নকে আকার দিয়েছে তাই একে ‘ভারতের স্বপ্ন নগরী’ বলে অভিহিত করা হয়। এছাড়াও মুম্বাই ভারতের অর্থনৈতিক রাজধানী।
এই শহরের পরিদর্শনযোগ্য স্থানগুলি হল গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া, হ্যাঙ্গিং গার্ডেন, হাজী আলী মসজিদ, মেরিন ড্রাইভ, জুহু সৈকত এবং চৌপাটি। মুম্বাই শহর বলিউডের সদর দপ্তর।

রাত্রি বেলায় নবনির্মিত বান্দ্রা-ওরলি সমুদ্র লিঙ্কের একটি ড্রাইভ  একটি চিরবিস্মরণীয়
স্মৃতি প্রদান করে ।

এসেল্ ওয়ার্ল্ড এই দেশের মধ্যে শিশুদের জন্য এক অত্যন্ত আকর্ষণীয় স্থান। শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশমূল্য আলাদা। বরিষ্ঠ নাগরিকদের প্রবেশ মূল্যে বিশেষ ছাড় রয়েছে।


==========

IV>পঞ্চগনি::--

পাঁচটি পাহাড় দ্বারা বেষ্টিত, পঞ্চগনি পৃথিবীর একটি স্বর্গরাজ্য। এই স্থানের পরম সৌন্দর্য এবং চিত্রানুগ পারিপার্শ্বিক লক্ষণীয়। এই শৈল শহর পর্যটকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। পঞ্চগনিতে অনেক সমৃদ্ধ এবং বিখ্যাত ব্যক্তিদের খামার-বাড়ী আছে।
--------------------------------------------------
V>পেঞ্চ জাতীয় উদ্যান::--

দক্ষিণে সাতপুরা পর্বতমালার পাদদেশে বিশাল. এলাকা জুড়ে অবস্থিত এই স্থানটি আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের
 এখানে  বিভিন্ন বন্যপ্রানী দেখার জন্য একটি উৎকৃষ্ট স্থান। পেঞ্চ জাতীয় উদ্যানে বাঘ, চিতাবাঘ, চিতল সাম্বার, খেঁক হরিণ, নীল গাই, কালো হরিণ, গাউর, বন্য শূকর, চৌসিংহ, আলস্য ভল্লুক, লেঙ্গুর, বানর, ইঁদুর হরিণ, হায়েনা এবং উড়ুক্কু কাঠবিড়ালী দেখা যায়।
=================


VI>পুণে:::---

শহর পুণের সবুজ পাহাড় ও সুন্দর হ্রদ দর্শকদের অবশ্যই মুগ্ধ করে চলেছে।
মহারাষ্ট্রের পুণে শহর
“প্রাচ্যের অক্সফোর্ড” বা “দাক্ষিণাত্যের রানী” হিসেবে সুপরিচিত।

================≠====

VII> নাগপুর::---

নাগপুর--নাগরপুর ভ্রমণের জন্য এক উথকৃষ্ট
জায়গা।
এখানে দেখার আছে -------
*ভোঁসলেদের রাজধানী ছিল নাগপুর।
*ভোঁসলে প্রাসাদ,
*ভোঁসলে ছত্তিশ,
*গান্ধীসাগর,
*গান্ধীবাগ,
*সতী মন্দির,
*সর্বেশ্বরা মন্দির ইত্যাদি।

==============≠≠=======
VIII>মাথেরান::-

NB::--আলাদা করে লেখা আছে

50>|| কৈলাসনাথ মন্দির,ইলোরা || ++कैलाशनाथ मंदिर "-+--অজন্তা +ইলোরা= বর্ণনা

5>|| কৈলাসনাথ মন্দির,ইলোরা || অজন্তা  +ইলোরা=বর্ণনা 
                  <---©-আদ্যনাথ--->

কৈলাসনাথ মন্দির----ইলোরা


আজ এমন এক মন্দিরের কথা বলছি
যা পৃথিবী তথা সারা বিশ্বে সৌন্দর্য্যের জন্য বিখ্যাত।
আমি বেশ কয়েকবার সুযোগ পেয়েছি এই অজন্তা  ও ইলোরার গুহা দর্শন করার।
যতবার দেখেছি খুব ভালো করেই দেখেছি ,তথাপি মন ভরেনি।
যদি আবার সুযোগ পাই তবে অবশ্যি আবার যাবো।

কৈলাসনাথ মন্দির----

পৃথিবীতে এমন কিছু মন্দির আছে যা  সৌন্দর্য্যের জন্য সারা বিশ্বে পরিচিত
এবং সৌন্দর্যের আড়ালে অনেক রহস্য লুকিয়ে আছে ।
অজন্তা ,ইলোরার কত কিছু আমরা ইতিহাসে পড়েছি। আমরা অনেকেই হয়তো  এমন বিখ্যাত
গুহা দর্শন ও করেছি।
যদিও আমরা অজন্তা ,ইলোরা একসাথেই বলি কিন্তু এই দুটি গুহার মধ্যে দূরত্ব প্রায় 100 km
বাই রোড বা বাই ট্রেন দুই ভাবেই যাওয়া যায়।
অজন্তার মোট গুহা আছে মোটামুটি 30 টি
ইলোরায় গুহা আছে 34 টি ( 1 থেকে 12 নম্বর পর্যন্ত বৌদ্ধ ধর্মের আদর্শে তৈরী  এবং 13 থেকে 29 পর্যন্ত হিন্দু দের মন্দির আর 30 থেকে 34 নম্বর গুহা জৈন গুহা।  )

ইলোরা থেকে 25km Aurangabad
AURANGA BAD  to JALGAON 128 KM
JALGAON TO AJANTA CAVE 84 KM


ELLORA TO AURANGABAD 270 KM
AURANGABAD TO BHUSAVAL JN 50 KM
BHUSAVAL JN TO AJANTA CAVE BY ROAD 50 KM


কৈলাসনাথ মন্দির-
এই কৈলাসনাথ মন্দির-অর্থাৎইলোরা গুহার  16 নম্বর গুহা। এই  মন্দিরটি মহারাষ্টের ঔরঙ্গাবাদ জেলায় প্রসিদ্ধি ইলোরা গুহার মধ্যে অবস্থিত। ইলোরা গুহাকে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন গুহা বলে মনে করা হয়।
এখানে পাথর কেটে 34 টি গুহা এবং একটি রহস্যময় প্রাচীন হিন্দু মন্দির বানানো হয়েছে যার নাম কৈলাসনাথ মন্দির ।এই মন্দিরটি বানানো হয়েছে একটি মাত্র পাহাড়কে কেটে তাও আবার উপরের থেকে নিচের দিকে কেটে।   যা খুবই কঠিন এবং জটিল।
ভারতের তৃতীয় আশ্চর্য অনুপম ভাস্কর্যের ইলোরা গুহা।
ইলোরার গুহাগুলি পশ্চিমমুখী ,তাই বিকেলেও যথেষ্ট আলোকিত হয় গুহাগুলি।
অনুমান করাহয় এর নির্মাণ কার্য শুরু হয় ছয় শতকের মধ্য ভাগে ,চলেছিলো 500 বছর।
ব্যাসাল্ট পাথর কেটে তৈরী গুহা গুলি উত্তর থেকে দক্ষিণে 2 km  বৃস্তিত। 34 টি গুহা হিন্দু , বৌদ্ধ
ও জৈন ধর্মের সমন্বয়ে গঠিত।
গুহা গুলি 1 থেকে  12 নম্বর পর্যন্ত বৌদ্ধ গুহা।  13 থেকে   29 পর্যন্ত হিন্দু গুহা।  30 থেকে 34 পর্যন্ত
জৈন গুহা।
স্থাপত্য ,ভাস্কর্য আর গঠন সৌষ্ঠবে অভিনব 16 নম্বর তথা কৈলাশ গুহা।
এই কৈলাশ গুহা থেকেই ইলোরার দর্শন শুরু।
কৈলাশ গুহা দেখে বেরিয়ে এসে ডান  দিকে  17 থেকে  34 নম্বর গুহা দেখে ফিরেআসতে হয়
কৈলাশ গুহায়। এবারে বা দিকে 15 থেকে 1 নম্বর গুহা। 25 আর  26 নম্বর গুহার মাঝখানে
পাহাড়ের ঢাল দিয়ে নদী নামছে জলপ্রপাতের মতন।

এখানকার কৈলাশ নাথ  মন্দিরের  স্তম্ভ এবং কলাকৃতি দেখে  অনুমান করা হয়  এই মন্দির  বানাতে প্রচুর পরিমাণ পাথর কেটে সরাতে হয়েছে। আজ পর্যন্ত কেউ সঠিক অনুমান করতে পারিনি যে এই মন্দির কত বছরের পুরনো। এটিকে শুধুমাত্র একটি পাহাড় কেটে বানানো হয়েছে আর পাহাড়ের বয়স এবং মন্দিরের বয়সের মধ্যে তফাৎ থাকাটা স্বাভাবিক।
 কারণ পাহাড় কোটি বছরের পুরোনো হতে পারে এবং পরে সেই পাহাড় কেটে মন্দির নির্মাণের কাজ কয়েক হাজার বছর পরই শুরু করা হয়েছে বলে মনে করা হয়।

আর্কিওলজিক্যাল এবং জিওলজিস্টরা পরীক্ষা করে জানিয়েছে যে এটি কোন সাধারণ মন্দির নয়, এই মন্দিরে নিচে আছে ভূমিগত গুহা। যেখানে যাওয়ার রাস্তা সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ করা আছে এই দরজার পেছনে আছে এমন সুরঙ্গ যা পৌঁছে গেছে  এক ভূগর্ভস্থ শহরে।
আর্কিওলজিস্টরা বলছেন একটি মাত্র পাথর কেটে এই ধরনের মন্দির বানানোর জন্য প্রায় 4 লাখ টন পাথর কেটে সরাতে হবে, ইতিহাস বলছে কৈলাস মন্দির বানানোর জন্য কেবলমাত্র 18 বছর সময় লেগেছিল যা সত্যি অসম্ভব।

অনেকের ধারণা এই মন্দির বানানোর জন্য শ্রমিকরা প্রতিদিন 12 ঘণ্টা কাজ করেছে তাহলে 18 বছরে মধ্যে চার লাখ টন পাথর কেটে সরানো সহজ ব্যাপার নয়।

তাদের প্রতি বছর প্রায় 22 হাজার 222 টন পাথর কেটে সরাতে হয়েছে যার মানে হচ্ছে 60 টন পাথরকে রোজ এবং 5 টন পাথরকে প্রতি ঘন্টায় এখান থেকে কেটে সরানো হয়েছে, এতো হল শুধুমাত্র পাথরগুলি কেটে সরানোর অনুমান।
 এরপর রয়েছে এই মন্দিরে কলাকৃতি এবং ভাস্কর্য । মন্দিরের ভেতরের ভবনগুলি বানাতে কতটা সময় লেগেছে এই রহস্য, কৈলাস মন্দিরকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

আজ থেকে কয়েক হাজার বছর আগে যখন আজকের মতো আধুনিক উপকরণ ছিল না তখন শুধুমাত্র পাথরের কিছু যন্ত্রপাতির সাহায্যে এই ধরনের মন্দির তৈরি করা সত্যি একটি অবিশ্বাস্য বিষয়।
সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ব্যাপারটি হল পাহাড় কেটে যে পাথরগুলি বার করা হয়েছিল তার অবশেষ এই মন্দিরের আশেপাশে এমনকি কয়েক শো মাইলের মধ্যেও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এখন প্রশ্ন হল, সেই সময়ে যখন কোন বড় ক্রেনের মত যন্ত্র এবং উন্নত প্রযুক্তি ছিল না, সেই সময় এত পরিমান পাথর কি করে কাটা সম্ভব হয়েছিল এবং মন্দির স্থল থেকে কি করেই বা সরানো হয়েছিল।

এই মন্দিরে বৃষ্টির জল সংরক্ষণের জন্য ভূমিগত নালার ব্যবস্থাও দেখা যায়, এই মন্দিরে ছাদ, সিরি এবং থাম এত নিখুত ভাবে তৈরি করা হয়েছিল যা দেখে এটি মানব দ্বারা নির্মিত বলে সন্দেহ হয়।

এই মন্দিরটিকে উপর থেকে নিচের দিকে কেটে বানানো হয়েছিল এর থেকে পরিষ্কার প্রমানিত হয় যে মন্দিরটিকে তৈরি করার আগে খুব ভালভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
এমন কথাও জানাজায় যে 1682 সালে তৎকালীন রাজা আওরঙ্গজেব হাজার জন সৈনিকের একটি দল পাঠিয়েছিল এই মন্দিরটিকে পুরোপুরি ভেঙে নষ্ট করে দেয়ার জন্য। এই হাজার জন সৈনিক প্রায় তিন বছর ধরে এই মন্দিরটিকে ভাঙার চেষ্টা চালিয়ে যায় তবুও তারা এই মন্দিরটিকে পুরোপুরি নষ্ট করতে পারিনি।
 যখন ঔরঙ্গজেব বুঝতে পারেন যে মন্দিরটিকে নষ্ট করা প্রায় অসম্ভব তখন তিনি মন্দিরটিকে নষ্ট করার কাজ বন্ধ করে দেন।

এখন একটি প্রশ্ন যদি কোন মানুষ এই মন্দিরটি নষ্ট না করতে পারে তাহলে কি সত্যি এই মন্দির কোনো মানুষ দ্বারা নির্মিত? আজকের সময় এই ধরনের মন্দির বানানোর জন্য হাজার ড্রইং, কয়েক শ কম্পিউটার এবং অনেক ছোট ছোট মডেল বানিয়ে এর পরিকল্পনা করতে হবে কিন্তু সেই সময় এই সমস্ত প্রযুক্তি ছাড়াই এই কাজটি কি করে করা সম্ভব হলো। এখনো এই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই।
আজকের সমস্ত আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেও এই ধরনের দ্বিতীয় আরোকটি মন্দির বানানো প্রায় অসম্ভব।
এই সকল কারনেই মনে করা হয় এই মন্দিরের নির্মাণ এলিয়ন প্রযুক্তিতে করা হয়েছিল।

 আজও সকলের একটাই প্রশ্ন এই মন্দিরের নির্মাণ সত্যিই কোন এলিয়ন প্রযুক্তিতে করা হয়েছিল নাকি আমাদের পূর্বপুরুষের কাছে এমন উন্নত প্রযুক্তি ছিল যা আজকের যুগে আমরা কল্পনাই করতে পারি না। এই মন্দিরের দর্শনের সময় সূর্য উদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
সত্যিই, রহস্যময় পৃথিবীতে প্রাকৃতিক বা অ-প্রাকৃতিক রহস্যের সীমা নেই।

          <--©----আদ্য নাথ রায় চৌধুরী--->
                       মহারাষ্ট, ঔরঙ্গাবাদ
                         18/06/1969

===========================

कैलाशनाथ मंदिर "---------

कैलाश मन्दिर, एलोरा, औरंगाबाद महाराष्ट्र।

यह मन्दिर द्रविड़ शैली में बनाया गया है। यहां भगवान शिव नंदी सहित विरजमान हैं, तथा भगवान शिव की लगभग सभी मुद्राओं को मन्दिर में दर्शाया गया है ।

विजयनगर साम्राज्य की सिर्फ एक बानगी है जो अद्भुत ,अद्वित्य और अप्रतिम है।

यह मन्दिर राष्ट्रकूट राजाओं के वंशजों ने बनाया। मन्दिर को बनाये जाने में लगभग 200 वर्ष का समय लगा। जिस तरह से पर्वत को काटकर चौक, परकोटे, खम्भे, मूर्तियां व बहुमंजिला गर्भगृह बनाया गया है, वह आश्चर्यजनक है।

मन्दिर में दर्शन का समय:
मन्दिर में दर्शन सूर्य उदय से सूर्य अस्त तक किए जा सकते हैं।

आज से 1400 साल पहले ... 200 साल तक 10 पीढ़ियों ने पहाड़ को उपर से नीचे की तरफ तराश कर बनाया गया यह " कैलाशनाथ मंदिर " .... भारतीय शिल्प कला का अद्भुत नमूना है .. संपूर्ण हिन्दू पौराणिक कथाओं के शिल्प है ... विष्णु अवतार , महादेव से लेकर रामायण महाभारत भी ... मूर्तियों के रूप में दर्शाया है ...
वो भी 1400 साल पहले ........

महाराष्ट्र के औरंगाबाद जिले में एलोरा की गुफाएं हैं। इनमें 16 नम्बर की गुफा में शिव मन्दिर है, जिसे कैलाश मन्दिर के नाम से जाना जाता है। माना जाता है कि सम्पूर्ण विश्व में एक पत्थर को काटकर बनाया गया यह सबसे बड़ा मन्दिर है। दो तल में बना यह मंदिर लगभग 276 फीट लम्बा, 154 फीट चौड़ा तथा 90 फीट ऊँचा है।

               <--©--आद्यनाथ राय चौधुरी-->
                        औरंगाबाद महाराष्ट्र
                         18/06/1969
- - - - - - - - - - - - - - -
           TOUR  ( 5 )----------END
========================================================
I>অজন্তা গুহা

খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকের সাক্ষী বহন করে চলেছে এই গুহা। গুহার দেওয়ালে আঁকা ছবি ও খোদাই করা চালচিত্র বৌদ্ধ ধর্মের  ইতিহাস বহন করে চলেছে।
এটি একটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসাবে ঘোষণাও করা হয়েছে।

গাইডের কথা ------
সহ্যাদ্রি পাহাড়ের কোলে বাকাতক রাজাদের কালে খ্রিপূঃ 200 থেকে খ্রিস্টোত্তর  650– এই সময় ধরে গড়ে ওঠে 29টি বৌদ্ধগুহা মন্দির। এদের মধ্যে পাঁচটি, 9, 10, 19, 26 ও 29 নম্বর গুহা চৈত্য অর্থাৎ ছোট্টো ভজনালয় এবং বাকি 24 টি মন্যাস্টেরি বা বিহার, সন্ন্যাসীদের বাসের জন্য ছোট ছোট ঘর।
দেওয়ালচিত্র ও ভাস্কর্যের এমন অপূর্ব সমন্বয় যা দেখে মনে একটাই চিন্তা হচ্ছিল যে সে প্রাচীন কালের মানুষ কতো পরিশ্রম ও একাগ্রতা নিয়ে তৈরি করে ছিলো এমন সব আশ্চর্য জনক সব নিদর্শন যা দেখে আজ আমরা ধন্য হলাম।
মনের স্বাদ মিটিয়ে দিন ভর অজন্তা গুহা দেখলাম।
বিকেলের দিকে আধ ঘণ্টা চড়াই ভেঙে
ভিউ পয়েন্টে গিয়েছিলাম । ওপর থেকে সুন্দর লাগে পুরো অজন্তা ও তার চার পাশ।
এখান থেকে সূর্যাস্তও অতি মনোরম দৃশ্য।
কুলকুল করে বয়ে চলেছে ছিপছিপে বাঘোড়া। তারই তীরে গড়ে ওঠা এই গুহা।

II>ইলোরা গুহা

পাথর কেটে বানানো ইলোরা গুহা প্রাচীন স্থাপত্য কলার এক উল্লেখযোগ্য নিদর্শন।
পঞ্চম থেকে দশম শতাব্দির মধ্যে তৈরি এই গুহাটিকেও ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসাবে ঘোষণা করেছে ইউনেস্কো।
এখানকার স্থাপত্যে হিন্দু, জৈন ও বৌদ্ধদের সংষ্কৃতি মিলেমিশে একাকার।
সবই পাথর কেটে গড়ে তোলা ।

আওরঙ্গাবাদ থেকে ইলোরা 30 কিমি।
পৌঁছে গেলাম ইলোরা।
অর্ধচন্দ্রাকারে দাঁড়িয়ে থাকা ভারতের তৃতীয় আশ্চর্য অনুপম ভাস্কর্যের ইলোরা গুহা।
আমাদের গাইডের কথা ------
ইলোরার গুহাগুলি পশ্চিমমুখী, তাই পড়ন্ত দুপুর তথা বিকেলে যথেষ্ট আলোকিত হয় গুহাগুলি। অনুমান করা হয়, এর নির্মাণকাজ শুরু হয় ছয় শতকের মধ্যভাগে, চলেছিল
500 বছর ধরে। ব্যাসল্ট রক কেটে তৈরি এই গুহাগুলি উত্তর থেকে দক্ষিণে 2 কিমি ধরে বিস্তৃত। গুহামন্দিরের সংখ্যা 34 টি।
হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের সমন্বয় ঘটেছে এই গুহা গুলিতে। 1 থেকে 12 নম্বর বৌদ্ধ গুহা, 13 থেকে 29 হিন্দু গুহা এবং 30 থেকে 34 জৈন গুহা।
স্থাপত্য, ভাস্কর্য আর গঠন সৌন্দর্যে  অভিনব 16 নম্বর গুহা তথা কৈলাস গুহা।
এই কৈলাস গুহা থেকেই ইলোরা দর্শন শুরু করতে হয়। সত্যি এমন জিনিষ না দেখলে মনে হয় জীবনটাই বৃথা।
কৈলাস গুহা থেকে বেরিয়ে এসে ডান হাতে 17 থেকে 34 নম্বর গুহা দেখে আবার ফিরে এসে ছিলাম কৈলাস গুহায়।
তারপরে গিয়েছিলাম বাঁ দিকে 15 থেকে 1 নম্বর গুহা দেখতে। 25 ও 26 নম্বর গুহার মাঝখানে পাহাড়ের ঢাল দিয়ে নদী নামছে জলপ্রপাতের মত।

ইলোরাও ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগের তত্বাবধানে এবং 10 টাকা করে টিকিট ।
গেটে ঢোকার পর আরও বেশ কিছুটা পাহাড়ের ওপর উঠে প্রথম দেখার জায়গা।
ইলোরার গুহা।
এখানে ইলোরায় সবমিলিয়ে যা দেখার আছে, তার জন্য এখানে একদিন থাকলে ভালো হয় । ইলোরার গুহার কাছেই মহারাষ্ট্র ট্যুরিজম এর থাকার ব্যবস্থা আছে, চাইলে এখানে থাকা যেতে পারে ।

তবে এখানে এক শত গুহা আছে।
ইলোরার গুহায় ইন্দ্রের মূর্তিইলোরার প্রধান বৈশিষ্ট্য এই গুহাগুলো সম্পূর্ণভাবেই পাহাড় কেটে তৈরি করা । আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে আমাদের দেশের শিল্পকীর্তি যে কোন পর্যায়ে পৌঁছেছিল, সেটা আমরা ছোটোবেলায় ইতিহাস বইতে অনেকবার পড়েছি । কিন্তু সেগুলো নিজের চোখে দেখার অভিজ্ঞতাই আলাদা । ডিনামাইট বা কোনওরকম বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের সাহায্য ছাড়া শুধুমাত্র ছেনি আর হাতুড়ির সাহায্যে এত নিপুনভাবে পাহাড় কেটে তৈরি এই গুহা এবং সেইসঙ্গে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম মূর্তি এবং কারুকার্যের কথা ভাবতেই অবাক লাগে।
দেবদেবী মানুষ পশুপাখি গাছপালা কি নেই সেই কারুকার্যের মধ্যে ! তখনকার দিনের মানুষের জীবনযাত্রা, ব্যবহারের সামগ্রী সবকিছুরই নিখুঁত ভাবে তৈরি করা রয়েছে এই কারুকার্যের মধ্যে । এছাড়া রয়েছে গুহার দেওয়ালে আঁকা ছবি । ছবিতে রঙের ব্যবহার বিশেষ প্রশংসার দাবী রাখে ।
একজন গাইড নিলে অনেক কিছুই জানাজায়।
সেই ইকো সাউন্ড এর পিলার।
উপাসনাগৃহ । ঘরটা বেশ বড়,
এই ঘরে এমন ব্যবস্থা করা আছে যে ঘরের কেন্দ্রস্থলে বসে না চেঁচিয়ে কথা বললেও ঘরের সবাই সেটা শুনতে পাওয়া যায় ।
গুহা গুলি দেখার পরে ইলোরার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ – কৈলাস মন্দির ।
কৈলাস মন্দিরঅষ্টম শতকে রাষ্ট্রকূট বংশের রাজত্বকালে তৈরি হয় এই কৈলাস মন্দির । এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এটা একটা পাথর কেটে তৈরি করা । মন্দিরটা দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে বেশ বড় ।
প্রধান মন্দিরটা দোতলা – দোতলাতেই মন্দিরের সামনে একটা চাতাল আর তারও সামনে একটা জায়গা যেখান থেকে অনেকটা জায়গা দেখা যায় । মন্দিরটা ঘিরে একটা বেশি বড় চাতাল আছে আর তাকে ঘিরে আবার আরেকদফা বারান্দার মতো । বড় চাতালটায় হাতির মূর্তি, ওবেলিস্ক-এর মতো বিশাল স্তম্ভ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য ।


49>নাগপুর ---ভুশওয়াল---অজন্তা---আওরঙ্গাবাদ--ইলোরা = 14/08/1979 to 20/08/1979= ( 7 দিন )

6>নাগপুর ---ভুশওয়াল---অজন্তা---আওরঙ্গাবাদ--ইলোরা & back
    14/08/1979  to 20/08/1979=  ( 7  দিন )
নাগরপুরে থাকার সময়ে একদিন মনে হলো
যাই একটু অজন্তা,ইলোরা ঘুরে আসি।
তিনজনকে সাথী পেলাম ফলে একটু সুবিধা হলো।
বেরিয়ে পরলাম দুই দিনের ভ্রমণে।

সংক্ষেপে বিবরণ ------
নাগপুর থেকে ---ভুশওয়াল------অজন্তা
-------আওরঙ্গাবাদ-----ইলোরা---আওরঙ্গাবাদ
-----নাগপুর।

>প্রথম দিন----
নাগপুর থেকে  ট্রেনে পৌঁছে গেলাম ভুশওয়াল। মোটা মুটি 390km ।
ভুশওয়াল থেকে গাড়ি ভাড়া করে পৌঁছলাম
অজন্তা টি জংশনে । ভুশওয়াল থেকে অজন্তা, 71 কিমি।
এখন থেকে  ব্যাটারি চালিত গাড়িতে অজন্তা গুহায় পৌঁছলাম।কারণ এক ঘন্টা সময় ছিলো
তাই ওই একঘন্টা একটু ঘুরে আবার টি জংশনে ফিরে আসলাম।
একটি হোটেলে উঠলাম
N==রাত্রিবাস অজন্তা।
(এখানে হোটেলে দুই রাত্রি থেকে ছিলাম।)
   আমাদের পরবর্তী প্ল্যান -----
>দ্বিতীয় দিন ==অজন্তা ভালকরে দেখে তার পরে যেতে হবে
আওরঙ্গাবাদ।
আওরঙ্গাবাদ থেকে  গাড়ি ভাড়া করে আওরঙ্গাবাদ ঘুড়ে নিয়েছিলাম। 
( পরে জেনেছিলাম যে  অটো ভাড়া করে চলে যাওয়া যায় *ইলোরাও।
সেই অটোকে  বলে রাখলে  সে পরের দিন এসে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।))

আমরা  অজন্তায় থাকলাম। কারণ সকালে ধীরেসুস্থে অজন্তা দেখবার ইচ্ছা ছিল।
পরের দিন  মনের স্বাদ মিটিয়ে দিন ভর অজন্তা গুহা দেখলাম।
বিকেলের দিকে আধ ঘণ্টা চড়াই ভেঙে
ভিউ পয়েন্টে গিয়েছিলাম । ওপর থেকে সুন্দর লাগে পুরো অজন্তা ও তার চার পাশ।
এখান থেকে সূর্যাস্তও অতি মনোরম দৃশ্য।
কুলকুল করে বয়ে চলেছে ছিপছিপে বাঘোড়া। তারই তীরে 850 বছর ধরে তিল তিল করে গড়ে ওঠা এই গুহা।
গাইডের কথা ------
সহ্যাদ্রি পাহাড়ের কোলে বাকাতক রাজাদের কালে খ্রিপূঃ 200 থেকে খ্রিস্টোত্তর  650– এই সময় ধরে গড়ে ওঠে 29টি বৌদ্ধগুহা মন্দির। এদের মধ্যে পাঁচটি, 9, 10, 19, 26 ও 29 নম্বর গুহা চৈত্য অর্থাৎ ছোট্টো ভজনালয় এবং বাকি 24 টি মন্যাস্টেরি বা বিহার, সন্ন্যাসীদের বাসের জন্য ছোট ছোট ঘর।
দেওয়ালচিত্র ও ভাস্কর্যের এমন অপূর্ব সমন্বয় যা দেখে মনে একটাই চিন্তা হচ্ছিল যে সে প্রাচীন কালের মানুষ কতো পরিশ্রম ও একাগ্রতা নিয়ে তৈরি করে ছিলো এমন সব আশ্চর্য জনক সব নিদর্শন যা দেখে আজ আমরা ধন্য হলাম।

N==>রাত্রিবাস অজন্তা।


>তৃতীয়  দিন – সকালে রওনা দিলাম আওরঙ্গাবাদ, 101 কিমি।
দুপুরের খাবার খেয়ে,
দেখলাম আওরঙ্গাবাদের 10 টি গুহা। তারপরে তাজমহলের অনুকরণে তৈরি
 বিবি কা মকবরা,
পানি চাক্কি ও তারই চত্বরে
আওরঙ্গজেবের সুফি ধর্মগুরু বাবা শাহর সমাধি তথা দরগা।
এই সকল দেখতে দেখতে সন্ধ্যা হয়ে গেল
আমরা একটি হোটেলে উঠলাম।
ঔরঙ্গাবাদ শহর বিশেষত অজন্তা এবং ইলোরার ঐতিহ্যমণ্ডিত স্থানগুলির জন্য বিখ্যাত। 29-টি পাহাড় কর্তিত গুহার আধিক্য সহ এই গুহা দেশের স্থাপত্য সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসাবে চিহ্নিত। অজন্তার চিত্র  সহ ইলোরার ভাস্কর্য সত্যি মুগ্ধ করে।  এই শহরের নাম মুঘল সম্রাট, ঔরঙ্গজেবের নামে নামাঙ্কিত যিনি দাক্ষিণাত্যের উপর রাজত্ব করার জন্য একে রাজপ্রতিনিধিত্বমূলক রাজধানী হিসাবে তৈরি করেছিলেন। সম্রাট তার মাকে শ্রদ্ধা জানাতে এখানে বিবি-কা-মকবরা নির্মিত করেন। এটি বিখ্যাত তাজমহলের একটি অনুকরণ। পান চাকি এবং দরওয়াজা প্রাচীন কালের অসাধারণ দক্ষ স্থাপত্যের উদাহরণ।

N==>রাত্রিবাস আওরঙ্গাবাদ।

>চতুর্থ  দিন –আজকের গন্তব্য ইলোরা,
আওরঙ্গাবাদ থেকে ইলোরা 30 কিমি।
পৌঁছে গেলাম ইলোরা।
অর্ধচন্দ্রাকারে দাঁড়িয়ে থাকা ভারতের তৃতীয় আশ্চর্য অনুপম ভাস্কর্যের ইলোরা গুহা।
আমাদের গাইডের কথা ------
ইলোরার গুহাগুলি পশ্চিমমুখী, তাই পড়ন্ত দুপুর তথা বিকেলে যথেষ্ট আলোকিত হয় গুহাগুলি। অনুমান করা হয়, এর নির্মাণকাজ শুরু হয় ছয় শতকের মধ্যভাগে, চলেছিল
500 বছর ধরে। ব্যাসল্ট রক কেটে তৈরি এই গুহাগুলি উত্তর থেকে দক্ষিণে 2 কিমি ধরে বিস্তৃত। গুহামন্দিরের সংখ্যা 34 টি।
হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের সমন্বয় ঘটেছে এই গুহা গুলিতে। 1 থেকে 12 নম্বর বৌদ্ধ গুহা, 13 থেকে 29 হিন্দু গুহা এবং 30 থেকে 34 জৈন গুহা।
স্থাপত্য, ভাস্কর্য আর গঠন সৌন্দর্যে  অভিনব 16 নম্বর গুহা তথা কৈলাস গুহা।
এই কৈলাস গুহা থেকেই ইলোরা দর্শন শুরু করতে হয়। সত্যি এমন জিনিষ না দেখলে মনে হয় জীবনটাই বৃথা।
কৈলাস গুহা থেকে বেরিয়ে এসে ডান হাতে 17 থেকে 34 নম্বর গুহা দেখে আবার ফিরে এসে ছিলাম কৈলাস গুহায়।
তারপরে গিয়েছিলাম বাঁ দিকে 15 থেকে 1 নম্বর গুহা দেখতে। 25 ও 26 নম্বর গুহার মাঝখানে পাহাড়ের ঢাল দিয়ে নদী নামছে জলপ্রপাতের মত।

ইলোরাও ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগের তত্বাবধানে এবং 10 টাকা করে টিকিট ।
গেটে ঢোকার পর আরও বেশ কিছুটা পাহাড়ের ওপর উঠে প্রথম দেখার জায়গা।
ইলোরার গুহা।
এখানে ইলোরায় সবমিলিয়ে যা দেখার আছে, তার জন্য এখানে একদিন থাকলে ভালো হয় । ইলোরার গুহার কাছেই মহারাষ্ট্র ট্যুরিজম এর থাকার ব্যবস্থা আছে, চাইলে এখানে থাকা যেতে পারে ।

তবে এখানে এক শত গুহা আছে।
ইলোরার গুহায় ইন্দ্রের মূর্তিইলোরার প্রধান বৈশিষ্ট্য এই গুহাগুলো সম্পূর্ণভাবেই পাহাড় কেটে তৈরি করা । আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে আমাদের দেশের শিল্পকীর্তি যে কোন পর্যায়ে পৌঁছেছিল, সেটা আমরা ছোটোবেলায় ইতিহাস বইতে অনেকবার পড়েছি । কিন্তু সেগুলো নিজের চোখে দেখার অভিজ্ঞতাই আলাদা । ডিনামাইট বা কোনওরকম বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের সাহায্য ছাড়া শুধুমাত্র ছেনি আর হাতুড়ির সাহায্যে এত নিপুনভাবে পাহাড় কেটে তৈরি এই গুহা এবং সেইসঙ্গে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম মূর্তি এবং কারুকার্যের কথা ভাবতেই অবাক লাগে।
দেবদেবী মানুষ পশুপাখি গাছপালা কি নেই সেই কারুকার্যের মধ্যে ! তখনকার দিনের মানুষের জীবনযাত্রা, ব্যবহারের সামগ্রী সবকিছুরই নিখুঁত ভাবে তৈরি করা রয়েছে এই কারুকার্যের মধ্যে । এছাড়া রয়েছে গুহার দেওয়ালে আঁকা ছবি । ছবিতে রঙের ব্যবহার বিশেষ প্রশংসার দাবী রাখে ।
একজন গাইড নিলে অনেক কিছুই জানাজায়।
সেই ইকো সাউন্ড এর পিলার।
উপাসনাগৃহ । ঘরটা বেশ বড়,
এই ঘরে এমন ব্যবস্থা করা আছে যে ঘরের কেন্দ্রস্থলে বসে না চেঁচিয়ে কথা বললেও ঘরের সবাই সেটা শুনতে পাওয়া যায় ।
গুহা গুলি দেখার পরে ইলোরার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ – কৈলাস মন্দির ।
কৈলাস মন্দিরঅষ্টম শতকে রাষ্ট্রকূট বংশের রাজত্বকালে তৈরি হয় এই কৈলাস মন্দির । এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এটা একটা পাথর কেটে তৈরি করা । মন্দিরটা দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে বেশ বড় ।
প্রধান মন্দিরটা দোতলা – দোতলাতেই মন্দিরের সামনে একটা চাতাল আর তারও সামনে একটা জায়গা যেখান থেকে অনেকটা জায়গা দেখা যায় । মন্দিরটা ঘিরে একটা বেশি বড় চাতাল আছে আর তাকে ঘিরে আবার আরেকদফা বারান্দার মতো । বড় চাতালটায় হাতির মূর্তি, ওবেলিস্ক-এর মতো বিশাল স্তম্ভ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য ।

>পঞ্চম দিন ইলোরাতেই কাটালাম
  
N= রাত্রি বাস ইলোরায়।

>ষষ্ঠ  দিন – আবার এগিয়ে চলা
 ইলোরা গুহা থেকে 1 কিমি দূরে
দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম   গৃষনেশ্বর দর্শনের পরে আবার  ফিরে আসলাম  আওরঙ্গাবাদ।
এখানে 5 কিলোমিটার দূরে  দেখলাম
আওরঙ্গজেবের সমাধি খুলদাবাদ  তার পর
 9 কিলোমিটার দূরের   দেবগিরি তথা দৌলতাবাদ ফোর্ট ।
তারপরে ফিরে গেলাম আওরঙ্গাবাদ।
আমরা রাত্রেই পেয়েগেলাম ট্রেন

>সপ্তম  দিন --
ফিরে আসলাম নাগরপুরে।

কিছু জরুরী খবর ------
1) সোমবার ও জাতীয় ছুটির দিন অজন্তা বন্ধ থাকে।
আর ইলোরা গুহা মঙ্গলবার ও জাতীয় ছুটির দিন ইলোরা বন্ধ থাকে।
অজন্তা গুহা খোলার সময় সকাল 9 টা থেকে বিকেল সাড়ে 5 টা পর্যন্ত।
আর ইলোরা গুহা খোলা সকাল 6 টা থেকে
সন্ধে 6 টা পর্যন্ত। 
অজন্তা গুহা দেখার জন্য ডুলি ও চেয়ার মেলে। এখানে   বৈদ্যুতিক আলো ভাড়া
পাওয়াযায় গুহা গুলি ভালো করে দেখার জন্য।
2) দৌলতাবাদ ফোর্ট সকাল 9 টা থেকে বিকেল 5 টা পর্যন্ত খোলা। পুরো ফোর্ট না হলেও অন্তত ভুলভুলাইয়া দেখার জন্য গাইড নিতেই হবে।
  
=====.=================
XXXXXXXXXXXXXXXXXXXXX
=======================



  



48>ঔরঙ্গাবাদ---গৃষ্মেশ্বর মন্দির,---ভদ্রমূর্তি মন্দির---- বিবি কা মক্‌বারা =12/02/1981 to 14/02/1981

7>ঔরঙ্গাবাদ---গৃষ্মেশ্বর মন্দির,---ইলোরা গুহা,---ভদ্রমূর্তি মন্দির---- বিবি কা মক্‌বারা । দৌলতাবাদ দুর্গ /ঔরঙ্গাবাদ::--
        12/02/1981 to 14/02/1981 
 ১৯৮০ তে ধানবাদে বি সি সি এলে এতে  জয়েন করার পরে ১২/০২/১৯৮১ এ  বিশেষ কাজের জন্য   যেতে হলো নাগপুর। 
নাগপুরে সেমিনারি হিলে সি এম পি দি আই এল এর অফিসে দেখা হল  ভি কে এস  কুট্টি র সাথে দেখা হতেই কুট্টি বললো যে ওনারা চারজন যাচ্ছেন  ঔরঙ্গাবাদ। আমিও ওদের সাথে যেতে রাজি হয়েগেলাম।
আমরা  দুই  দিন ঔরঙ্গাবাদে  থেকে ঘুড়ে দেখলাম। 
 
গৃষ্মেশ্বর মন্দির,
ইলোরা গুহা,
ভদ্রমূর্তি মন্দির
এবং বিবি কা মক্‌বারা ।

গৃষ্মেশ্বর মন্দির,------
ঔরঙ্গাবাদ থেকে 35 কিলোমিটার দূরে  গৃষ্মেশ্বর মন্দির । কিন্তু  ইলোরা গুহার  খুবই কাছে ।
(ইলোরার বর্ণনা আলাদা করে লেখা আছে )

ভদ্রমূর্তি মন্দির -----
আমাদের পরবর্তী দর্শনীয়  স্থান – ভদ্রমূর্তি মন্দির ।
ইলোরা থেকে এর দূরত্ব 5 কিলোমিটারের মতো । এটি এক  হনুমান মন্দির  । এখানে হনুমানের একটা শোওয়ানো মূর্তি আছে ।

দৌলতাবাদ কেল্লা -------
ঔরঙ্গাবাদ যাওয়ার পথে রাস্তা য় দেখে নিয়ে ছিলাম দৌলতাবাদ কেল্লা ।   এটা একটা পাহাড়ের
মাথায় এবং এখানে কিছুদূর যাওয়ার পরে আর গাড়ি যায় না – বাকিটা হেঁটে উঠতে হয়
তবে মহম্মদ-বিন-তুঘলকের আমলে তৈরি এই বিশেষ কেল্লাটা অবশ্যই দেখা উচিৎ ।
ঔরঙ্গাবাদে প্রবেশ করতে গেলে এখানকার তোরণদ্বার পারকরেই যেতে হয়।
ঔরঙ্গাবাদের তোরণদ্বার ঔরঙ্গাবাদ শহরের আরেকটা উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।
এই  শহরে ঢোকার মুখের তোরণদ্বার । একসময়ে মোট 52 টা দ্বার ছিলো কিন্তু
বর্তমানে ছোটবড় মিলিয়ে মাত্র কয়েকটি  অবশিষ্ট আছে । এগুলির মধ্যে  সব থেকে  বড়
ও  পুরনো দ্বার হল ‘ভাদকাল দ্বার’।
দাক্ষিণাত্যে শাসনব্যবস্থা জোরদার করার জন্য ঔরঙ্গজেব নিরাপত্তার কারণে পুরো ঔরঙ্গাবাদ শহরটাকে পাঁচিল দিয়ে ঘিরে ফেলে ছিলেন । আর সেই পাঁচিলের মাঝেই জায়গায় জায়গায় এই গেটগুলো তৈরী করেছিলেন  । এখন পাঁচিলের খুব সামান্যই অবশিষ্ট আছে আর তাই গেটগুলিও নষ্ট হয়ে গেছে।

  বিবি কা মক্‌বারা------
তারপরে গেলাম বিবি কা মক্‌বারা ।
বিবি কা মক্‌বারা বন্ধ হয় রাত্রি 10 টায়।
ঔরঙ্গাবাদ শহর থেকে  প্রথমে মাত্র 3কিলোমিটার দূরে বিবি কা মক্‌বারা
 বা কেউ কেউ  মিনি তাজমহল ও বলেথাকেন ।  ঔরঙ্গজেব এটা তৈরি করান নিজের পত্নীর সমাধিস্থলে ।
 বিবি কা মক্‌বারা দেখতে একেবারেই তাজমহলের মতো হলেও আকারে অনেক ছোট এবং এটি সম্পূর্ণ  মার্বেল দিয়ে তৈরি নয়।  ওপরের দিকটা সাদা  রঙ করা ।
এই  বিবি কা মক্‌বারাও ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগ দেখাশোনা করে । এখানে গেটে  টিকিট কেটে ঢুকতে হয় ।
এবার আমি ফিরেগেলাম নাগপুর হয়ে ধানবাদে। 
ওনারা গেলো অজন্তা ,ইলোরা দেখতে। 

   
            
========================================

দৌলতাবাদ দুর্গ /ঔরঙ্গাবাদ::--

আউরঙ্গাবাদ থেকে ১৩ কিমি দূরে অবস্থিত দ্বাদশ শতকের দৌলতাবাদ দুর্গ যাদব রাজাদের আমলে দেবগিরি নামে প্রসিদ্ধ ছিল। মহম্মদ বিন তুঘলক এই দুর্গে তাঁর রাজধানী দিল্লী থেকে এখানে সরিয়ে নিয়ে এসে এই দুর্গের নাম রাখেন দৌলতাবাদ। স্থানাঙ্ক:   19°56'38"N   75°12'56"E
এই দুর্গে ৩০মিটার উঁচু চাঁদ মিনার নামে একটি মিনার আছে।

★দৌলতাবাদ ফোর্ট ঔরঙ্গাবাদ:-
★দৌলতাবাদ দুর্গের সময়:--
★ঔরঙ্গাবাদ থেকে দৌলতাবাদ দুর্গ দূরত্ব
★কাছাকাছি দেখার জন্য অন্যান্য স্থান
  ●কাগজী পুর পেপার মিল
   ●জৈন মন্দির
   ●বিবি কা মাকবারা
   ●ভাদ্র মারুতি মন্দির
    ●সিদ্ধার্থ গার্ডেন


দৌলতাবাদ ফোর্ট ঔরঙ্গাবাদ মহারাষ্ট্রের একটি সুপরিচিত পর্যটন আকর্ষণ। 
এটি একটি শক্তিশালী দুর্গ।

ঔরঙ্গাবাদে অবস্থিত, দৌলতাবাদ একটি ছোট গ্রাম যা রাজকীয় দেবগিরি বা দেওগিরি দুর্গের জন্য পরিচিত। 
এটি ইলোরা গুহা এবং ঔরঙ্গাবাদের মোটামুটি  মধ্য স্থলে অবস্থিত। 
এটি শহরের উত্তর-পশ্চিমে 16 কিমি দূরে এবং কাছাকাছি আরও কয়েকটি পর্যটন স্থান আছে।

একসময়ের বিশাল রাজধানী শহর, দৌলতাবাদ ঔরঙ্গাবাদকে একটি গ্রামে পরিণত করা হয়েছিল   বর্তমানে অনেকটাই পরিত্যক্ত। 




দৌলতাবাদ ফোর্ট ঔরঙ্গাবাদ
শহরের সবচেয়ে প্রিয় পর্যটন স্থান, এই দৌলতাবাদ কিল্লা আওরঙ্গাবাদ, একটি লোভনীয় এবং মহৎ কাঠামো। 

দুর্গটি অত্যন্ত জটিল এবং জটিল নকশা সহ একটি শঙ্কুকৃতি পাহাড়ের উপর অবস্থিত। এটির একটি পৌরাণিক তাত্পর্যও রয়েছে কারণ এমন মনে করা হয় যে ভগবান শিব এই পাহাড়ে সময় কাটিয়েছিলেন। 
প্রতিরক্ষা বাড়ানোর জন্য পাহাড়ের নীচের ঢালগুলি কাটা হয়েছিল। চূড়ার সর্বত্র বড় বড় কামান রয়েছে। আক্রমণকারী এবং শত্রুদের বিভ্রান্ত করার জন্য পথের মাঝখানে একটি গুহা তৈরি করা হয়েছিল। 

দুর্গের চূড়ায় পৌঁছানো চ্যালেঞ্জিং কারণ এখানে পৌঁছতে একটি ছোট সেতু অতিক্রম করতে হয় যা একসঙ্গে দু'জন মানুষ পাশা পাশি যেতে  পারে।

অপূর্ব স্থাপত্যের কারণে দুর্গটি দৌলতাবাদে দেখার মতো শীর্ষ স্থানগুলির মধ্যে একটি। এটির সুবিধাজনক অবস্থান, দুর্দান্ত নির্মাণ এবং তিন স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে মধ্যযুগের সবচেয়ে শক্তিশালী পাহাড়ি দুর্গগুলির মধ্যে একটি।

দৌলতাবাদ দুর্গে প্রবেশের সময়::--
দৌলতাবাদ ফোর্ট ঔরঙ্গাবাদ প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

★আওরঙ্গাবাদ দৌলতাবাদের কাছাকাছি দেখার জন্য অন্যান্য স্থান
ঔরঙ্গাবাদ একটি জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য এবং কাছাকাছি অনেক আকর্ষণ রয়েছে।
,

 


●কাগজী পুর পেপার মিল
কাগজিপুরায় একটি ছোট কাগজ তৈরির সম্প্রদায় রয়েছে যারা 700 বছরের পুরনো ঐতিহ্যকে অব্যাহত রেখেছে। এটি দৌলতাবাদ ফোর্ট ঔরঙ্গাবাদের কাছাকাছি এবং আপনি যদি ইতিহাস এবং প্রাচীন অনুশীলন পছন্দ করেন তবে এটি ভ্রমণের মূল্যবান। এই সম্প্রদায়টি পুরানো দিনে বিশাল চাদর তৈরি করেছিল, প্রায়শই ছয় ফুট ছাড়িয়ে যেত। ব্রিটিশ-আবিষ্কৃত শ্বেতপত্রের চেয়ে তাদের দীর্ঘ শেলফ লাইফ ছিল।

●জৈন মন্দির:-
প্রাচীন স্থাপত্য প্রদর্শন করে, জৈন মন্দিরে একটি দুর্দান্ত মূর্তি রয়েছে যা প্রায় 250 বছর আগে একটি ভূগর্ভস্থ ভাণ্ডার থেকে উন্মোচিত হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। মন্দিরটিকে একটি অলৌকিক স্থান হিসাবে বিবেচনা করা হয় এবং মনে করা হয় যে অতিপ্রাকৃত গুণাবলী রয়েছে যা উপাসকদের প্রার্থনা মঞ্জুর করে৷ হাজার হাজার তীর্থযাত্রী তাদের শ্রদ্ধা জানাতে তাদের গ্রাম বা শহর থেকে ঔরঙ্গাবাদ জৈন মন্দিরে দীর্ঘ যাত্রা করে। মন্দিরের সংলগ্ন একটি ধর্মশালাও রয়েছে যা অতিথিদের খাবার এবং থাকার জায়গা প্রদান করে।


●বিবি কা মাকবারা;;-
দৌলতাবাদ ফোর্ট ঔরঙ্গাবাদের কাছে সবচেয়ে সুন্দর স্থাপনা হল বিবি কা মাকবারা। এটি তার বিশাল সৌন্দর্য এবং বিখ্যাত তাজমহলের সাদৃশ্যের জন্য পরিচিত। সৌধটি পারস্য ও মুঘল স্থাপত্যের সমন্বয়ে গঠিত। বিবি কা মাকবারা অক্ষীয় পুকুর, ঝর্ণা, জলের চ্যানেল এবং প্রশস্ত পথ সহ একটি প্রাকৃতিক দৃশ্যের পার্কে অবস্থিত।
এটি আওরঙ্গজেবের স্ত্রী রাবিয়া-দুররানির শেষ বিশ্রামস্থল চিহ্নিত একটি সমাধি। আওরঙ্গজেব বিবি কা মাকবারা নির্মাণ শুরু করেন এবং তার পুত্র যুবরাজ আজম শাহ এটি সম্পন্ন করেন।

●ভাদ্র মারুতি মন্দির::--
হিন্দু দেবতা, ভগবান হনুমানকে উৎসর্গ করা, ভাদ্র মারুতি মন্দির দুর্গের কাছাকাছি আরেকটি প্রাচীন এবং সুন্দর স্থান। মন্দিরটি খুলদাবাদের শাসক দ্বারা নির্মিত হয়েছিল, যিনি ভগবান রামের ভক্ত ছিলেন। ভগবান হনুমানের মূর্তিটি ভাব সমাধি বা ঘুমন্ত অবস্থায় রয়েছে, সমগ্র ভারতে মাত্র তিনটির মধ্যে একটি। মারাঠি ক্যালেন্ডারের "শ্রাবণ" মাসে, বিশেষ করে শনিবারে বেশিরভাগ ভক্তরা মন্দিরে যান।

●সিদ্ধার্থ গার্ডেন::--
সিদ্ধার্থ গার্ডেন দৌলতাবাদের কাছে একটি নিখুঁত ছুটির জায়গা, বিশেষ করে বাচ্চাদের উপভোগ করার জন্য। সুন্দরভাবে ডিজাইন করা এবং রসালোভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা, এই পর্যটন স্পটটিতে একটি বিশাল এলাকা জুড়ে একটি পার্ক এবং একটি চিড়িয়াখানা রয়েছে। পার্কটি বিশেষ করে জগার, বন্যপ্রাণী উত্সাহী এবং ফটোগ্রাফারদের পছন্দ। এটি বিশেষ করে সপ্তাহান্তে সন্ধ্যার সময় প্রচুর পরিমানে থাকে।

বাগানে প্রাণবন্ত পুষ্প, মনোরম গাছ, রঙিন লন এবং বিভিন্ন ধরণের মাছের অ্যাকোয়ারিয়াম রয়েছে। দর্শনার্থীরা বাঘ, সিংহ, সিভেট বিড়াল, চিতাবাঘ, সাপ, শিয়াল, হরিণ, কুমির, ইমু এবং হায়েনা সহ বিদেশী প্রাণীগুলিও দেখতে পান।
==========================


  

47> নাগপুর -পুনে-মহাবালেশ্বর--পুনে -হরিহরেশ্বর-মুরুড--পুনে 12 Days = 20/10/1979 to 31/10/1979

10> নাগপুর ---পুনে----মহাবালেশ্বর-----পুনে -----হরিহরেশ্বর-----মুরুড------পুনে 87 km,
10 দিনের টুর।  20/10/1979  to 31/10/1979
পুনে থেকে---মহাবালেশ্বর==120 km
পুনে  থেকে---- হরিহরেশ্বর===172 km=4h 15m by car

========================================================
20th October 1979 saturday.
অক্টবর মাসের ২০ তারিখ শনিবার দিন ১২ দিনের ছুটি নিয়ে 
আমরা চারজন মিলে বাসে  সকালেই  নাগপুর থেকে রওনা দিলাম পুনের উদ্দেশ্যে ।

এখানের  মহারাষ্ট্র বাস সার্ভিস বেশ ভালো এসি বাস আরাম দায়ক সিট্ , টিপ্ টপ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন।
তার উপরে রাস্তা খুবই সুন্দর। বাস প্রচন্ড স্পিডে চলে কিন্তু জানারারপর্দা টেনে দিলে কিছুই বুজতে পরাজয় না তাই আরামে ঘুমানো যায়। আমি অবশ্য পর্দা একটু ফোক করে পথ ঘাট দেখতে দেখতে চললাম।  সত্যি এখন কার বাস জার্নি খুবই আরাম দায়ক। আর এই সকল কারণেই  ট্রেনে না গিয়ে বাসেই গিয়েছিলাম।বাসে  730 km পথ।
পুনে পৌঁছেই একটি হোটেল খুঁজে সেখানে ব্যাগ গুলি রেখে   বিকেলে  ঘোরাঘুরি করে নিলাম পুনেতে।
পুনে তে পৌঁছেই একটা গাড়ির খোঁজ করলাম যে গাড়ি আমাদের দশ বারো দিন পুরো
ঘুরিয়ে দেখাবে।  অনেক চেষ্টা করেও তেমন গাড়ি পেলাম না।
তখন আমরা পুনের এক টুরিস্ট সেন্টারে গেলাম।
তারা বললো এভাবে এতো ডিস্টেন্সের ও এতো দিনের জন্য কোন গাড়ি পাওয়া যাবেনা।
তাছাড়া যেহেতু আমরা চার জন ছিলাম তাই বললো চার জনের জন্য গাড়ি ভাড়াও বেশি পরবে।
কমসে কম ছয় জন হলে একটা ব্যবস্থা হতে পারে।
আমরা চারজন আর দুইজন কোথায় পাবো।  এই নিয়ে মহারাষ্ট্রের টুরিস্ট মেনেজারের সাথে কথা চলছিল।
এমন সময় হঠাৎ তিনজন বয়স্ক লোক এসে ঠিক আমাদের মতন গাড়ির খোঁজ করছিলো।
পাশে বসা কাউন্টারে।
সেই মেনেজার আমাদের ভীষণ সাহায্য করলেন।আমাদের ওই তিনজনের সাথে মিলিয়ে দিলেন।
আমরা এবং ওই তিনজন মিলে মোট সাতজন হলাম।
একটি জোঙা জিপ এর ড্রাইভারের সাথে কথা বলে আমাদের জানালেন   যে এই জিপ টি  আমরা
পেতে পারি ও  আমাদের পুরো পুনে শহর ঘুরিয়ে মহাবালেশ্বর পর্যন্ত নিয়ে যাবে।
এই চার দিন ও আমাদের সাথে থাকবে। আর মহাবালেশ্বর গিয়ে ও জানাশুনা কোন গাড়ির
ব্যবস্থা করে দেবে।
ড্রাইভার বললো আপনাদের কোন চিন্তা নাই। মহাবালেশ্বর রে ওর কোন জানা শুনা গাড়ি
আছে, সেই গাড়ি ব্যবস্থা করে দেবে। এবং এতে আমাদের ভাড়াও অনেক কম লাগবে।
1979 সালে আমাদের গাড়ি বাবদ খরচা লেগে ছিল জন পিছু 600 টাকা করে।
এই ভাবে  আমাদের তিনবার গাড়ি পাল্টাতে হয়ে ছিল।
পরে অবশ্য জেনেছিলাম এগুলি মহারাষ্ট্রের ট্রাভেল এজেন্সির গাড়ি।
এই জিপি গুলি এই ভাবেই ভাড়া খাটে।
যাইহোক গাড়ির ব্যবস্থা হবার পরে ,হোটেলে গিয়ে খাওয়া সেরে শুয়ে পড়লাম। 
N==রাত্রিবাস পুনেতে।

তিন রাত্রি ছিলাম পুনেতে।

3rd day – আজও  সারাদিন পুনেতে।
কারণ এখানে অনেক কিছু দেখার আছে।
যেটুকু দেখেছি সেই কথাই লেখার চেষ্টা করছি।
*(1) মারাঠা শৈলীতে নানাসাহেবের তৈরি পার্বতী মন্দির।
*(2) পার্বতী মন্দিরের পাদদেশে  পেশোয়া উদ্যান।এবং জানলাম যে
একটু কাছেই বাঙলার সাহিত্যিক শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুঠি।
*(3)  পেটে রাজা দিনকর কেলকর মিউজিয়াম।
      (রাজা দিনকর কেলকর মিউজিয়াম প্রতি দিন সকাল 8টা থেকে বিকেল সাড়ে 5টা পর্যন্ত,
খোলা থাকে  )

*(4) শহর থেকে 5 কিমি দূরে তালেগাঁও রোডে  আগা খাঁ এর প্রাসাদ।
    আগে খাঁ একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন ;
1942-এর আন্দোলনে এখানেই বন্দিবাস করেছিলেন  মহাত্মা গান্ধী, কস্তুরবা গান্ধী, মহাত্মার সেক্রেটারি মহাদেবভাই দেশাই, সরোজিনী নাইডু প্রমুখ।
এখানেই বন্দিবাসে প্রয়াত হন কস্তুরবা, মহাদেবভাই।
পাশেই গান্ধী জাতীয় মিউজিয়াম।
( গান্ধী জাতীয় মিউজিয়াম সকাল 9টা খোলে দুপুর সাড়ে 12টা ও দুপুর দেড়টা থেকে সন্ধে 6টা পর্যন্ত খোলা থাকে।  )
এই সকল দেখতে দেখতে ও একটু ঘোড়া ঘুড়ি করতে করতে  সন্ধ্যা হয়েগেল।

N==রাত্রিবাস পুনে।

4th day======
*(5) চতুর্থ  দিন সকালে আমরা গেলাম  পেটে পেশোয়া বাজিরাও 1-এর কাঠের তৈরি 7 তলা দুর্গাকার প্রাসাদ বা শনিবার ওয়াড়া। এর অন্দরেই ঘটেছিল বাজিরাও ও রূপসী নর্তকী মস্তানির প্রেম।
(শনিবার ওয়াড়া সকাল 9টা থেকে বিকেল সাড়ে 5টা পর্যন্ত খোলা।)
(শনিবার ওয়াড়া  ফোর্টের গল্প মানেই
বিশ্বাসঘাতকের কাহিনী...
ইতিহাসে বিশ্বাসঘাতকের কাহিনীর শেষ নাই,
বিশ্বাসঘাতকের কাহিনী নিয়ে অনেক লেখক  অনেক কথাই  বলেছেন সময়ে সময়ে।
সবথেকে বরো কথা —রাজ্ষ বংশ মানেই বিশ্বাস ঘাতকতার গল্প। আর তাই মনে হয়
ড়যন্ত্র আর বিশ্বাসঘাতকতা যে রাজবংশে নেই, সে রাজবংশ, সত্যি কারের রাজবংশই নয়।

আর  বিশ্বাসঘাতক বলতে আমাদের প্রথমেই মীরজাফরের কথা মনে পড়ে, রামায়নে ঘরশত্রু বিভীষণের কথা মনে হয়—এছাড়াও
আরো কতো  বিশ্বাসঘাতকতার  কাহিনী আছে আমদের ইতিহাসে।
আবার এমনটাই দেখাযায় যে যুগে যুগে এই বিশ্বাসঘাতকেরাই রাজা হয়ে
সিংহাসনে বসেছেন। রাজ্য শাসন করেছেন।
এমনই এক শনিবার দিনের ঘটনা যা ইতিহাসে আজও
'ক্রুয়েলেস্ট অ্যাসাসিনেশন’নাম চিহ্নিত।
ঘটনাটি এমন , কিছু বিশ্বাসঘাতক ষড়যন্ত্র করে তরুণ পেশোয়া নারায়ণ রাওকে হত্যা করে টুকরো টুকরো করে কেটে ছিলো এই ওয়াড়া ফোর্টে।

যে কারণে শনিবার ওয়াড়া ফোর্ট আজও অভিশপ্ত হয়ে আছে। আজও নাকি নারায়ণ রাওয়ের অন্তিম মর্মান্তিক আর্তচিৎকার ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হয় দূর্গের প্রতিটি দেওয়ালে দেওয়ালে ! হতভাগ্য তরুণ পেশোয়া শেষ নিঃশ্বাস ফেলার আগেও বিশ্বাস করেছিল তার ‘কাকা’ অর্থাৎ রঘুনাথ রাও এসে তাঁকে বাঁচাবেন! কিন্তু কে জানত যে সেই বিশ্বাসী কাকাই তাঁর মৃত্যুর ষড়যন্ত্র করেছিলেন! তরুণ পেশোয়া নারায়ণ রাও ক্ষত-বিক্ষত হয়ে শুধু মরিয়া ও অসহায় জীবনের শেষ শ্বাস পর্যন্ত চিৎকার করে গিয়েছিলেন—‘কাকা মালা ভাচভা!’ —‘কাকা মালা ভাচভা (কাকা, আমায় বাঁচাও)। কিন্তু কেউ আসেনি!তাকে বাঁচাতে । তরুণ পেশোয়া নারায়ণ রাও কে।
আজও এই হত্যাকে বলা হয় ‘ ক্রুয়েলেস্ট অ্যাসাসিনেশন’।
এইছিল শনিবার ওয়াড়া  ফোর্টের সেদিনের মর্মান্তিক কাহিনি।)

*(৬) কাছেই রাস্তার ও-পারে শিবাজির লাল মহল, ছবিতে শিবাজির জীবনচরিত
সুন্দর করে বর্ণনা আছে।
তারপরে গেলাম 
*(৭) পাতালেশ্বর মন্দির – শহরের পশ্চিমে শিবাজিনগরে রাষ্ট্রকূটদের কালে আট (8) শতকের গুহামন্দির। ধাপে ধাপে সিঁড়ি উঠতে হয়।
এখন থেকে এগিয়ে  গেলাম ,
*(৮) সরসবাগ গণপতি মন্দির।
*(৯) শ্রী মহালক্ষ্মী মন্দির।
*(১০) দাগদুশেঠ হালোয়াই গণপতি মন্দির।
 গাড়ি ভাড়া করে ঘুরলে একটা সুবিধা যে গাড়ির ড্রাইভার নিজেই গাইডের কাজ করে।

N==রাত্রি বাস পুনেতে।

5th day – ভোরেই বেরিয়ে পড়েছিলাম সিংহগরেড় উদ্দেশ্যে শহর থেকে 24 কিমি দূরে **সিংহগড়,
*ভুলেশ্বর পর্বতমালায়  4320 ফুট উচ্চতায় **শিবাজির দুর্গ। পথে যাবার সময় দেখে ছিলাম।
তারপরে** খড়াকভাসলা লেক,*পাথাল লেক ইত্যাদি।
এই সকল দেখতে দেখতে পৌঁছে গিয়েছিলাম পুনে থেকে 95 কি,মি দূরে
*শৈবতীর্থ ভীমাশংকর, দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম। সহ্যাদ্রি পাহাড়ে 3392 ফুট উচ্চতায় মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে ভীমাশংকর।
ফিরে  এসে 
N==রাত্রিবাস পুনেতে ।

6 th day –

পুনে থেকে---মহাবালেশ্বর, পঞ্চগনি 
সকালেই বেরিয়ে পড়েছিলাম পুনে থেকে 120 কিমি দূরে, *মহাবালেশ্বর (4500 ফুট, )
তারপরে  *কৃষ্ণাবাঈ তথা *পঞ্চগঙ্গা মন্দির (কৃষ্ণা, ভেন্না, কোয়না, সাবিত্রী আর গায়ত্রী নদীর জল 5টি ধারায় বয়ে চলেছে ),

তারপরে দেখলাম  **অতিবালেশ্বর ও মহাবালেশ্বর মন্দির। এ ছাড়াও অন্তত 30 টি ভিউ পয়েন্ট রয়েছে মহাবালেশ্বরে। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য
*আর্থার সিট, //*হান্টিং পয়েন্ট, //*ইকো পয়েন্ট,//** ম্যালকম পয়েন্ট, // *টাইগার স্প্রিং, // *উইলসন পয়েন্ট যেটি বাজার থেকে একটু  দূরে, মহাবালেশ্বরের উচ্চতম পয়েন্ট, *নিডল হোলপয়েন্ট,// *মাংকিস পয়েন্ট,*লোডউইক পয়েন্ট, *এলফিনস্টোন পয়েন্ট,*বেবিংটন পয়েন্ট, //*কেটিস পয়েন্ট,
*ভেন্না লেক, //*মুম্বাই পয়েন্ট রক্ষণ থেকে  সূর্যাস্তের অতি মনোরম নয়নাভিরাম দৃশ্য ইত্যাদি।
এছাড়াও আরও কিছু ভিউ পয়েন্ট আছে। সব ভিউ পয়েন্ট দেখা অসম্ভব। তথাপি যত গুলি
সম্ভব দেখলাম।
সত্যি আমাদের কোন অসুবিধাই হয়নি কারণ আমাদের ড্রাইভার নিজেই আমাদের ভীষণ ভাবে
সাহায্য করেছিল। রাত্রে একটা হোটেলে উঠলাম।

N==রাত্রিবাস মহাবালেশ্বর।

7 th day –

সকালেই গেলাম **প্রতাপগড়,
  1656-তে  শিবাজির হাতে তৈরি দুর্গ, যদিও বিধ্বস্ত, তবে আকর্ষণ কম নয়।
450 সিঁড়ি উঠে  1030 মিটার উচ্চতায় দুর্গ। এখানেই বিজাপুরের সুলতান
আদিলশাহের দূত আফজল খাঁকে বাঘনখ দিয়ে বধ করেছিলেন  শিবাজি।

মহাবালেশ্বর ফিরে যাবার পথে 20 km দুরে
*পঞ্চগনি (4242 ফুট, )।
পথে আরো আছে
*লিঙ্গমালা ফলস্‌। পঞ্চগনিতে,
*পার্সি পয়েন্ট (নিচুতে কৃষ্ণা ভ্যালি),
*শহরের শিরে টেবল ল্যান্ড,
*রাজপুরী পয়েন্ট তথা
*কার্তিকেয় মন্দির,
14 কিমি দূরে ওয়াইতে কৃষ্ণা নদীর ধারে প্রাচীন আরো কিছু মন্দির আছে সব গুলো
দেখা সম্ভব নয়।
------------------

পঞ্চগণি আর মহাবালেশ্বর।
মুম্বাইয়ের দক্ষিণ পশ্চিম পার্বত্য অঞ্চল পঞ্চগনি।এই পার্বত্য অঞ্চল টি মহারাষ্ট্রের
টেবিল অঞ্চল নাম পরিচিত। এটি একটি বিশাল আগ্নেয়গিরি প্লেট।

সহ্যাদ্রী পাহাড়ের কোলে মহারাষ্ট্রের দুই যমজ শৈল শহর পঞ্চগণি আর মহাবালেশ্বর।

 আমরা এলাম  ওয়াই পয়েন্ট ।এখান থেকেই  পঞ্চগণি আর মহাবালেশ্বরের রাস্তা শুরু।

 এই ওয়াই শহর এখানথেকেই আশেপাশের সকল দর্শনীয় সকল স্থান গুলি যাবার রাস্তা
 বিভিন্ন দিকে চলে গেছে।কৃষ্ণা নদীর দু-পাড়ে প্রায় শ’খানেক মন্দির রয়েছে এই শহরে, যার মধ্যে অন্যতম  গণপতি বা মহাগণপতি মন্দির। স্থানীয়দের কাছে ওয়াই পরিচিত ‘দক্ষিণের কাশী’ হিসেবে। কিছুক্ষণ এই ওয়াইয়ে কাটিয়ে ফের পথ চলা শুরু। রাস্তা এ বার ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী।
পথ চলেছে এঁকে বেকে পৌঁছলাম পঞ্চগনির টেবলল্যান্ডে। অর্থাৎ  পঞ্চগনি পৌঁছলাম । ওয়াই থেকে  14 কিমি সমুদ্রতল থেকে উচ্চতা 4300 ফুট।

পঞ্চগনি শহরের কেন্দ্রস্থল শিবাজি চক। এখান থেকে বাঁ দিকের রাস্তা উঠে গিয়েছে টেবিল ল্যান্ডের দিকে। প্রায় দেড় কিলোমিটার  খাড়াই পথ অতিক্রম করে তবে  টেবলল্যান্ড ।

‘পঞ্চগনি’ মানে  পাঁচ পাহাড়।
 পাঁচ পাহাড়ে ঘেরা এই শহর। তাদের চূড়াগুলো সব এক হয়ে সমতল জমিতে পরিণত হয়েছে।
তৈরি হয়েছে এই টেবলল্যান্ড। টিবেটান মালভূমির পরে এশিয়ার দ্বিতীয় উচ্চতম সমতলভূমি এই টেবিল ল্যান্ড। প্রায় ছ’কিমি দীর্ঘ। এখান থেকে পঞ্চগনি শহর এমনকি ওয়াই শহরও সুন্দর দেখায়। একটু এগোলে দেখা যায় মহাবালেশ্বর থেকে নেমে আসা  কৃষ্ণা নদীকেও।
কাছেই সেই বিখ্যাত পার্সি পয়েন্টের ।

আমরা এগিয়ে গেলাম  পার্সি পয়েন্টের দিকে। শিবাজি চক থেকে মহাবালেশ্বরের দিকে
 কিছু দূরে  এই পয়েন্ট।
এই জায়গাটির মাহাত্ম্য কৃষ্ণা নদীর দর্শনের জন্য।
মহাবালেশ্বর থেকে উৎপত্তি হওয়ার পর এখানেই প্রথম দেখাযায়  কৃষ্ণা নদী। তবে
এমনিতে  দেখলে নদী নয়, লেক মনে হয়। আসলে নীচে রয়েছে একটি জলাধার যার
ফলে কৃষ্ণানদীকে এখানে দেখতে প্রশস্থ  লেকের মতন মনে হয় ।

পঞ্চগনির আরও কিছু দর্শনীয় স্থান, আছে যেমন  রাজাপুরী গুহা।
অদ্ভুত এই গুহা।

এগিয়ে গেলাম মহাবালেশ্বরের দিকে,
মহাবালেশ্বর। মহারাষ্ট্রের উচ্চতম শৈল শহর। উচ্চতা  4700 ফুট।
শহরের প্রাণকেন্দ্রের কিছুটা আগেই বিনা লেক। অপূর্ব সুন্দর হ্রদ।
টলটলে জলের ধারে কিছুক্ষণ সময় কাটালাম।  এমন সুন্দর লেক এখানে না বসেলে মন ভরবে না
 বোটিং-এর জন্য সুন্দর ব্যবস্থা আছে।
এনেকে মানুষ স্ত্রী পুরুষ নির্বিশেষে  বোটিং করছে ।

মহাবালেশ্বরের দর্শনীয় স্থান অনেক।
তবে বিশেষ আকর্ষণীয়  **পঞ্চগঙ্গা মন্দির। মহাবালেশ্বর মধ্য স্থল  থেকে সাত কিমি দূরে অবস্থিত প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর পুরনো এই মন্দির। দক্ষিণে ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ **নদী কৃষ্ণার উৎপত্তি এই মন্দির থেকেই। কৃষ্ণার সঙ্গে আরও চারটি নদীর উৎপত্তি  এই মন্দিরের মধ্যে থেকে–কয়না, গায়ত্রী, সাবিত্রী আর ভেনা।

এবার ফিরে  যাবার পালা। 

ফিরেগেলাম পুনেতে পরেরদিন অর্থাৎ সপ্তম দিনে
8 th Day --------


সকালেই গাড়ি ভাড়া করে হরিহরেশ্বর।
*হরিহরেশ্বর,পুনে থেকে  206 কিমি। পশ্চিমঘাট পাহাড়ের কোলে রমণীয় সাগরবেলা, সাগরতীরে টিলা।
হরিহরেশ্বর  থেকে আমরা গেলাম *কালভৈরব মন্দির। মন্দিরের পিছন দিক থেকে নেমে গিয়েছে গণেশ গলি, দু’টি পাথরের মাঝখান দিয়ে তিন ফুট চওড়া পথ, 150 ফুট দীর্ঘ পথ নেমে গিয়েছে সমুদ্রতীরে।
*সাবিত্রী নদী আর সমুদ্রের মোহনা যে স্থান  *শুক্লতীর্থ নাম বিখ্যাত। *পাশেই গায়ত্রীতীর্থ।
 হরিহরেশ্বরে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত অতি সুন্দর  রমণীয় মনে রাখবার মতন।

N==রাত্রিবাস হরিহরেশ্বর।

9 the day –
সকালে গেলাম ফেরি ঘটে ,এই ফেরি  পেরিয়ে গেলাম  *ব্যাঙ্কট ফোর্ট,
*বাগমণ্ডলা সৈকত।
ফিরে এসে কিছু খাবার খেয়ে 56 km দূরে *মুরুড সৈকত, ।
পথে *শ্রীবর্ধন এখানে সৈকত ও লক্ষ্মী-নারায়ণ মন্দির সহ আরও অনেক মন্দির আছে।
*দিবেগরের  সৈকত ও এখানে আছে  সোনার গণেশ মন্দির।
তারপরে  মুরুড পৌঁছে আবার  ফেরিতে সাগরের মাঝে*জঞ্জিরা ফোর্ট।
 * নবাব প্যালেস বা আহমেদগঞ্জ প্রাসাদ, *দত্তাত্রেয় মন্দির, *গরম্বি ফলস্‌।
এখানে দর্শনীয় স্থানের অগুনতি সমারোহ। আমরা যতদূর পারলাম দেখলাম।
যতই দেখি পরে আবার জানতে পারি আরও কিছু দেখা হয় নি।
রাত্রে মুরুডে থাকলাম। সকালে উঠেই রওনা দিতে হবে পুনের দিকে।

N==রাত্রিবাস মুরুড।

10 the day –

এবার ফেরার পালা। 
মুরুড থেকে গাড়ি পথে পুনে 87 km, এবং পুনে থেকে ফিরলাম নাগপুর।

            TOURE  -( 10 ) ----END
 ============================================================
CCCXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXX
===========================================================

Friday, March 20, 2020

46>|| ধানবাদ---নাগপুর--তাড়োবা----বোধলকসা ও নাগজিরা =9 days +3 days

(2) || ভ্রমণ ||  feb 1988
    
|| ভ্রমণ=ধানবাদ----নাগপুর--তাডোবা----বোধলকসা ও নাগজিরা=
       12/02/1988 to 20/02/1988=9 days 
আমি এখন ধানবাদে ,গোবিন্দপুর  এরিয়া 3, আকাশ কিনারি  ও সি পি তে ,ব্লক 4 এর আন্ডারে পোস্টিং
একদিন হঠাৎ ভি সি আর পিল্লাই আমাকে বললো "দাদা let us go  NAGJIRA চলুন নাগজিরা যাই। 
আমিও রাজিহয়ে গেলাম এবং প্ল্যান করে প্রস্তুত হলাম নাগজীরা ব্যাঘ্র প্রকল্প যাবার জন্য।
আমাদের এবারের ভ্রমণের প্রধান উদ্যেশ্য নাগজিরার অভয় অরণ্যে বাঘ দেখা।


ফেব্রুয়ারি 1988 আমাদের নয় দিনের ভ্রমণের পোগ্রাম।
প্রথম দিন =ধানবাদ থেকে টেনে  নাগপুর।

দ্বিতীয় দিন --নাগপুর থেকে তাডোবা   (  মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর জেলায়  আন্ধেরি জাতীয় উদ্যান )


 মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর জেলায় অবস্থিত এই তাডোবা আন্ধেরি জাতীয় উদ্যান।

কথিত আছে ঘন জঙ্গলে বসবাসকারী আদিবাসীরা তাড়ু নামের দেবতার উপাসনা করতেন। অনেকের মতে গ্রামের প্রধানের নাম ছিল তাড়ু , যিনি বাঘের সঙ্গে লড়াই করে মারা যান।এই মৃত্যু তাঁকে মানুষের কাছে ভগবান বানিয়ে দেয়। তার নামের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্যই আজকের তাডোবা, যা মহারাষ্ট্রের বৃহত্তম জাতীয় উদ্যান।
তাড়োবা লেকের কাছে তাড়ু দেবতার মন্দিরও আছে। এই ঠাকুরের পুজো ও মেলা দেখতে হলে যেতে হবে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে।

ধানবাদ থেকে ট্রেনে  নাগপুর।
নাগপুরে আগে থেকে গাড়ি  করে তাডোবা। নাগপুর থেকে তাডোবার দূরত্ব 150  কিমি। আমরা চার জন ছিলাম। পিল্লাই জির নিকট এক আত্মীয় থাকেন এই তাডোবাতে। উনি ফরেস্ট অফিসার
তাই আমাদের যাতায়াত ও সফারি করতে কোন অসুবিধাই হয়নি।
পিল্লাই জি আগে আমাদের সে কথা জানায় নি। নাগপুরে ট্রেন থেকে নেমেই দেখি পিল্লাই জি এক ভদ্রলোকের সাথে কথা বলছেন। এবং একটু পরেই দেখি একটি জিপ এসে হাজির ।সেই জিপে করেই ওই ফরেস্ট অফিসার পি কে এস কুট্টি আমাদের নিয়ে গেলেন।ওনার বাংলোতে, বিশাল এক বাংলো তার সাথেই বিশাল এক গেস্ট হাউজ   সেখানে আমরা রাত্রের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লাম।
( তাডোবা মঙ্গলবার বন্ধ থাকে )

তৃতীয় দিন ----পরের দিন সকাল বেলা আমরা  নির্ধারিত সময়ে জিপে করে মোহারলি গেটে পৌঁছে গেলাম। গেটে পরিচয় পত্র সহ অনুমতি পত্র দেখিয়ে প্রবেশ করলাম। যেহেতু আমরা ফরেস্ট অফিসারের গেস্ট তাই বোধ হয় আমাদের গাড়িতে একজন রাইফেল ধরি গার্ড উঠলেন,
গাড়ি এগিয়ে চলল জঙ্গলের ভেতর দিয়ে।
প্রথমেই কয়েকটা ময়ূর দেখা গেল। তাপরে কত রকমের পাখি ওদের কারুরই নাম জানিনা
রাইফেল ধরি গার্ড সব নাম  বলছিলো তার মধ্যে অনেকটাই আমরা বুঝতে পারিনি।
গেস্ট হাউসে ফিরে রাত্রে ডিনার করবার সময় কুট্টিজি বলতে শুরু করলেন ওখানে জাজা  আছে
পার্পল সান বার্ড, গ্রেট ইগ্রেট,ক্রেস্টেড সারপেন্ট্ ঈগল, ওরিয়েন্টাল ম্যাগপাই রবিন, রেড্ ভেন্টেড বুলবুল,রুফাস ট্রিপাই,ডাভ্,  ডার্টার বার্ড, ব্ল্যাক ড্রোঙ্গো, ইন্ডিয়ান পি ফাউল ও পিকক্, স্পটেড ডিয়ার, গ্রীন বি ইটার, জাঙ্গল ফাউল, সাম্বার ডিয়ার, বাঘ, কুমীর, গ্রে হেডেড ফিশ আউল, ইত্যাদি ইত্যাদি,
আরও কত নাম বললেন সেগুলি আর লিখে রাখতে পারিনি।
আমরা রাতের খাবার খেয়ে যে যার বেডে  চলে গেলাম। রাত্রে বেশ ভালোই ঘুম হল।

চতুর্থ  দিন------

 আজ সাফারি খুটওয়ান্ডা গেটে।
একটা কথা বলা হয়ইনি আমাদের ড্রাইভার খুব ভালো হিন্দি ও ইংরেজি  বলতে পারে সে কারনে আমরা ওনাকে অনুরোধ করেছিলাম যে আমাদের একটু ডাইড করতে। আর যে গাইড তথা গার্ড আমাদের সাথে আছে সে তামিলেই বেশি বলে মাঝে সাঝে একটু হিন্দি বলেন। হিন্দি বলতে ওনার অনিচ্ছা বার বার প্রকাশ টের পাচ্ছিলাম।
ড্রাইভার ভদ্রলোক আমাদের অনুরোধ পালন করেছিলেন।
আমরা একটু এগোনোর পরেই সামনে একটি ছোট্ট পুকুর ড্রাইভার বললেন এখানে চুপ করে একটু অপেক্ষা করুন , বাঘেরা দুপুরে এই জলায় জল খেতে আসে , এই কথা বলতে বলতেই ড্রাইভার বললেন সামনে ওই ঝোপের আড়ালে দেখুন ,ওদিকে তাকাতেই দেখি দুটি বাঘ গায়ে ডোরাকাটা দাগ  ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে বোধ হয় আমাদেরই দেখছে । প্রায় আধ ঘন্টা হয়ে গেল। চুপ করে বসে আছি। এমন সময় ড্রাইভার হঠাৎ করে বলে উঠলো "সামনে দেখিয়ে"। দেখলাম বড় ঘাসের জঙ্গল থেকে একটি বাঘ  বেরিয়ে এল। গরমকে উপশম করার জন্য জলে নামল। তিন থেকে চার মিনিট পর উঠে আবার ঘাস জঙ্গলে ঢুকে গেলেন। নিজের চোখকে বিশ্বাসই হচ্ছিল না। আবার একটু পরেই দেখি ওই লুকিয়ে থাকা দুটি বাঘও জলে নেমে গা ডুবিয়ে আবার উঠে গেল জঙ্গলের দিকে। আমরা অনেক্ষণ  ওখানেই কাটালাম। যদি আবার কেউ আসে  এই আশায়। কিন্তু এলেন না। সময় শেষ হতে থাকলো।
আমরা যতদূর পারলাম জঙ্গল ঘুরে দেখলাম আজ  মনে হল ওই পাখিদের যেন  আমরা চিনতে পারছি। সামনে  দেখি ঝাঁকে ঝাঁকে ময়ুর উড়ে যাচ্ছে ,তাদের পেছনে ই নানা রঙএর টিয়ে পাখি ,
মনে হল ওরা  মনের আনন্দে গান গেয়ে গেয়ে উড়ে চলেছে।
হঠাৎ দেখি আমাদের জিপের একেবারে কাছে দুটি হয়না রাস্তা পার করে চলে গেল আর মনে হল ওরা যেন তাচ্ছিল্যের ছলে একবার আমাদের দেখে মুখ ভেংচে চলে গেল।
সন্ধ্যা হয়ে গেছে ড্রাইভার বললেন " অভি ওয়াপাস জানা হোগা " আমরা জঙ্গল থেকে বেরহয়ে আসলাম। মন কিন্তু পড়ে রইল সেই ঘাস জঙ্গলে।কিন্তু আরতো থাকার উপায় নাই ,কারন রাতে এখানে কাউকে এলাউ করে না। তাই আমরাও ফিরে  আসলাম।


( এখানে আরও একটু জানিয়ে রাখি যে 1988 এর ফেব্রূয়ারিতে দুই দিন তাডোবায় ঘুরে বেরিয়ে দেখেও কেন জানিনা আমার মন আবার একবার তাডোবায়  যাবার জন্য  ব্যাকুল হয়ে পড়ল আর সেই কারনে কোন সাথী ছাড়া একলাই আবার মে 1989 তে গিয়েছিলাম এই তাডোবায়।
সে কথা পড়তে লিখছি -----------)

  N==রাত্রিবাস তাডোবায়ে 
 পঞ্চম দিন তাডোবা থেকে-------বোধলকসা

ফরেস্ট অফিসার পি কে এস কুট্টি আমাদের জন্য একটি গাড়ি ব্যবস্থা করে দিলেন যেটি আমাদের
সাথে চার দিন থেকে  বোধলকসা হয়ে  নাগজিরা নিয়ে যাবে এবং নাগপুরে ফিরিয়ে আনবে।
নাগপুর থেকে বোধলকসা --135 কিমি
বোধলকসা থেকে নাগজিরা --57 কিমি

বোধলকসা। ছোটো ছোটো পাহাড়, জঙ্গল, ঝরনার মাঝে প্রকৃতি উপভোগ ভালই লাগে বোধলকসায়।
এমন নিরালা প্রাকৃতিক সৌন্দৰ্য্যে পড়িপূর্ণ স্থান ,যেখানে সাধারণত সহসা কেউ আসেনা বা অনেকে হয়তো জানেই না। ধীরে ধীরে প্রচার বারলেই মানুষের ভিড়ও বাড়বে। কারন এমন মনোরম নির্জন অথছ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পড়ি পূর্ন বর্তমানে খুব কমই আছে। মহারাষ্ট্রের বনদপথরের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এমন সুন্দর দূষণ মুক্ত  পরিবেশ গড়ে উঠেছে।
আমরা দিনভর ঘুড়ে বেড়ালাম পায়ে হেটে কারন কোনপ্রকারের গাড়ির প্রবেশ নিষেধ।
আমরা সকাল 11টা থেকে বিকেল 5টা এই 6 ঘন্টা হেটে হেটে ঘুরে দেখলাম।
আমাদের গাইড নেবার দরকার হয় নি কারন মিঃ কুট্টি সাহেবের নির্দেশে আমাদের ড্রাইভারই গাইডের কাজ করেছেন। কিন্তু অসুবিধা যা হয়েছিল সেটা আমাদেরই ভুলে। কারন আমরা সাথে কিছু খাবার আনিনি ,আর সাথে খাবার আনলেও ফরের্স্টের ভেতরে খেতে পারতাম না। অগত্যা দিন ভর উপোষেই কাটলো। তবু ভাগ্য ভালো কুট্টি সাহেব আমাদের যাতে কষ্ট নাহয় তারজন্য প্রচুর মাত্রায় জল দিয়ে দিয়ে ছিলেন প্লাস্টিকের ড্রামে করে।
আজকাল নাহয় বোতলে করে জল পাওয়া যায়। সেই সময় এই সকল শিল্ড ওয়াটার বোতল পাওয়া যেতোনা ,বা পাওয়া গেলেও আমাদের জানাছিলোনা। তাই আমরা ওই কুট্টি সাহেবের দেওয়া ড্রামের জল জেজার নিজের ওয়াটার বোতলে ভরে নিয়েই কাজ চালিয়েছি। তার মধ্যে আমার নিজে ওয়াটার ব্যাগ যাকে  বলে ছোট ছাগল তাতে প্রায় পাঁচ লিটার জল রাখতে পারতাম।  সেই কারনে আমরা বেশ আরামেই ঘুরে বেড়িয়েছি ,কোন কষ্টই হয়নি। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দৰ্য এতটাই সুন্দর যে আমরা কিছু খাবার কথা ভুলেই গিয়ে ছিলাম। পার্ক থেকে বেরিয়ে রওনা দেবার সময় ড্রাইভারকে বললাম রাস্তায় কোন হোটেল দেখলেই দাঁড়াবে। ড্রাইভার বললেন এখানে কোন হোটেল বা ধাবা পাওয়া যাবেনা। পাওয়া যাবে সেই নাগজিরাতে।
আমরা রাত্রি 8:30 মিনিট নাগাদ পৌঁছলাম নাগজিরাতে।
আমাদের ড্রাইভারই নিয়ে গেল এক হোটেলে। সেই  হোটেলেই  রাত্রে থাকার জন্য দুটো রুম নিলাম।
ড্রাইভার বললো ওনার থাকার জায়গা আছে হোটেলেই। এবং ড্রাইভারদের থাকা খাওয়া নাকি ফ্রী।
সে যাইহোক আমরা রাত্রের খাবার খেয়ে যেজার মতন  শুয়ে পড়লাম।
N==রাত্রিবাস নাগজিরাতে।  

ষষ্ঠ দিন  – ||  নগজীরা--ব্যাঘ্র প্রকল্প ||
                     <--©-আদ্যনাথ-->

কিছু ছোট ঘটনা যা মনকে ছুঁয়ে থাকে
চিরকাল মনের কোণে উজ্জ্বল হয়ে থাকে।
তেমনি এক ছোট্ট ভ্রমণের কথা।
যেটি আজও আছে মনে গাঁথা
ঠিক যেন সদ্য ঘটে যাওয়া কথা।

মনেপরে মহারাষ্ট্রের নগজীরা বা নাগজীরা জঙ্গলে,
যেখানে বাঘেরা ঘুড়ে বেড়ায় আপন মনে।
ফাল্গুনের সন্ধ্যার দখিনা হাওয়ায়,
মহুয়ার গন্ধে মনকে মাতায়।

মৃদু মন্দ শীতল হাওয়া আমলকি বনে,
ভ্রমরের গুঞ্জন পলাশের ডালে ডালে।
হরিণ, ছাগল গুলি ভাল্লুকের পাশে শুয়ে,
মহুয়া ফল খেয়ে, নেশায় মাতাল হয়ে।

সন্ধে হলেই বাঘের গর্জনে বন কাপায়,
হরিণ,ছাগল অনায়াসে ধরে খায়।
কখনোবা চলে ভাল্লুক বাঘের লড়াই,
মাচায় বসে দেখেছি সেই লড়াই।

চলেজান দেখে আসুন নগজীরার
ব্যাঘ্র প্রকল্প।
বাঘেরা ঘুড়ে বেড়ায় দিনে ও রাত্রে।
সেদিন মাসটি ছিল ফেব্রুয়ারী  সাল 1988 
আমাদের  নগজীরা ভ্রমণের সাল ও মাস টুকুই মনে আছে। 
সেদিন  উদ্যেশ্য ছিল বন্য বাঘ  দেখা। 
নাগজীরা অভয় অরণ্যের  বাঘ দেখা, খুশি টুকু আজও মনে আছে সেই দেখা।
সে ছিল ফেব্রুয়ারি মাস ভ্রমণ কারিদের ভিড় ছিল বেশ।
আমরা  বেড়িয়ে ছিলাম চারজনে  
সাফারি করলাম মনের আনন্দে।
দেখে ছিলাম তিন তিনটি বাঘ, 
কি ভীষণ ভয়ঙ্কর তাদের চেহারা,
গায়ে ডোরা ডোরা দাগ।

ভাগ্যবান ছিলাম বোধহয় আমরা,
দেখেছিলাম বাঘ ও মহিষের যুদ্ধ,
দুটি বাঘ ও একটি মহিষের যুদ্ধ।
সেই মর্মান্তিক দৃশ্য জীবনে ভুলবার নয়।
বোধয় এক ঘন্টা চলেছিল সেই যুদ্ধ।

এই অভয় অরণ্য টি পূর্বে বিদর্ভের ভাণ্ডারা ও গন্দিয়া জেলার সীমার সাকলি থেকে 22 km দুর।
বর্তমানে নিউ নগজীরা প্রকল্প চালু হয়েছে। নগজীরায় অভয় অরণ্য নানান জীব জন্তুতে পরিপূর্ন।
আর আছে নানান প্রজাতির রকমারি গাছ সম্পুর্নটাই গভীর জঙ্গলে পরিপূর্ন। গ্রীষ্ম কালের ফল আম, জাম,কাঁঠাল,মনের স্বাদ পূর্ন হবে পেটপুরে খেয়ে আম। ফাল্গুনে বসন্তের শুরুতে নানান প্রজাতির
রকমারি ফুল।
মুহুয়ার গন্ধে মন মাতাল হতে চাইবে।
দিগন্ত জুড়ে পলাশের রক্তিম আভা
সূর্যালোকে কি দারুণ তার শোভা।
স্বার্থক  অরণ্য ভ্রমণ
নগজীরার অভয় অরণ্য দর্শন।

মহারাষ্ট্রের সুন্দর এই অরণ্য নগরী
একটা কৃত্তিম  লেককে ঘিরে গড়ে ওঠা 134 বর্গ কিমি আয়তনের এই অভয়ারণ্য এখানে আছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ও নানান প্রজাতির বাঘ।
গরমের সময় এই অভয়ারণ্যে বড় বড় অর্জুন, শাল, সেগুন, সিমুল, শিশু, মহুয়া, তেন্দুর, গামার প্রভৃতি গাছের ছায়ায় দিনের বেলায় ঘুরে বেড়ায় বাঘ চিতা, ভাল্লুক, বাইসন, চিতল, সম্বর, অ্যান্টিলোপ, নীলগাই সহ নানান জন্তু।
নাগজীরার গেস্টহাউসের ঠিক উল্টোদিকে রয়েছে একটা ওয়াচটাওয়ার। হাঁটতে হাঁটতে টিলার মাথায় উঠে দেখে নেওয়া যায় জঙ্গলের রূপ সৌন্দর্য। সারাদিন গাছ গাছালিতে চেনা  অচেনা অসংখ্য পাখির ডাকে মুখরিত জঙ্গল যেন এক মায়াময় পরিবেশ। এখানে পাখিদের দলে আছে  বুলবুলি, ময়না, ভীমরাজ, ফিঙে, দোয়েল, খঞ্জনা, পাপিয়া, রোজ রিং প্যারাকিট, ময়ূর, মাছরাঙা, ল্যাপউইং প্রভৃতি।
সেই কারণেই নগজীরা অভয়ারণ্যের মনোরম শোভার আকর্ষণ ভুলে যাওয়া অসম্ভব।

N== রাত্রিবাস নাগজিরা।

সপ্তম দিন ----

আমাদের নাগজীরা ভ্রমণের আসল উদ্যেশ্য বন্য বাঘ দেখা।
এখানে  অভয় অরণ্যে বাঘ দেখতে পাওয়ার সুযোগ অনেক বেশি ।তাই আমরা ফেব্রুয়ারি মাসে নাগজিরা তে গিয়েছিলাম।
আমরা যখন পৌঁছেছি তখন বেশ ভিড় ছিল।
যাইহোক তার মধ্যেও আমরা দুইদিন সাফারি করে মনের স্বাদ মিটিয়েছি।
বেশ কটি বাঘ দেখতে পেয়েছিলাম।
সব থেকে ভাগ্যবান বোধহয় আমরাই ছিলাম।
কারণ ঠিক আমাদের থেকে একটু দূরে দুটি বাঘকে দেখলাম একটি মহিষ কে শিকার করতে।
আমরা প্রায় এক ঘন্টা ধরে ওই দৃশ্য দেখে ছিলাম।
এই অভয় অরণ্য টি পূর্বে বিদর্ভের ভাণ্ডারা এবং গন্দিয়া জেলার সীমার সাকলি থেকে
22 কিমি  দুর।
বর্তমানে নিউ নগজিরা প্রকল্প চালু হয়েছে।
নাগজিরায় নানান জীব জন্তু দেখলাম।
আমি অনেক অভয় অরণ্যে  সাফারি করেছি।
কিন্তু আজ পর্যন্ত ওই নাগজিরার মতন এত ভালো বাঘ ও অন্যান্য জন্তু দেখতে পাইনি।
নগজীরা সাফারি করার সময় -------
( Monday 3–7pm
Tuesday 6–10am and 3 pm to7pm
Wednesday 6–10am and 3–7pm
ThursdayClosed
Friday 6–10am and 3–7pm
Saturday 6–10am and 3–7pm
Sunday 3–7pm )
আজকাল অবশ্য অনেক রিসোর্ট, হলিডে হোম,হতেছে।
N==রাত্রি বাস নাগজিরাতে।

অষ্টম দিন। ---আজ আমাদের ফেরার পালা।

নগজীরা পৌঁছবার সহজ পথ
সবথেকে কাছের রেলওয়ে স্টেশন গোন্ডিয়া
এই গোন্ডিয়া থেকে নাগজীরার  সাকোলি নামক স্থানের গেট  মাত্র ২০ কিমি দূরে।

 আমরা গোন্ডিয়া স্টেশন থেকে ট্রেনে ফিরতে পারতাম। কিন্তু মিঃ কুট্টি ড্রাইভার কে বলেদিয়েছিলেন নাগপুরে পৌঁছে দিতে।  ড্রাইভার সেই মতন আমাদের নাগপুরে নিয়ে গেলেন। তখন রাত্রি 9 টা বাজে। আমরা স্টেশনে পৌঁছতেই দেখি মিঃ কুট্টি দাঁড়িয়ে আছেন। উনি পিল্লাই এর সাথে কথাবলে আমাদের আবার ওনার বাংলোতে নিয়ে গেলেন।
সেদিন মিঃ কুট্টির মেয়ের জন্ম দিন ছিল আর সেই কারনে সেখানে প্রচুর মানুষের সমাগম।
আমরাও অনেক রাত পর্যন্ত আনন্দ ফুর্তি করে ওনার গেস্ট হাউজে শুয়ে পড়লাম।
দেখলাম গেস্ট হাউসে অনেক মানুষই রাতে রয়ে গেলেন।

আমরা সকালে ঘুম থেকে উঠে চা কফি ও টিফিন খেয়ে বসে আছি।
মিঃ কুট্টি আমাদের হাতে ধরিয়ে দিলেন আমাদের ট্রেনের টিকিট রিজার্ভেশন সহ।
সকাল 11টায় আমাদের ট্রেন।

XXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXX



16 th May 1989.তাড়োবা for 3 days 
    16/05/1989 to 18/05/1989
 
এখানে আরও একটু জানিয়ে রাখি যে 1988 এর ফেব্রূয়ারিতে দুই দিন তাডোবায় ঘুরে বেরিয়ে দেখেও কেন জানিনা আমার মন আবার একবার তাডোবায়  যাবার জন্য  ব্যাকুল হয়ে পড়ল আর সেই কারনে কোন সাথী ছাড়া একলাই আবার মে 1989 তে গিয়েছিলাম এই তাডোবায়।

নাগপুর ----তাড়োবা
      নাগপুর থেকে তাড়োবা। আমার 3 দিনের পোগ্রাম। february 1988 এর পরে আবার
       May 1989.তাড়োবা ঘুরে আসলাম।

নাগপুর থেকে তাড়োবা একদিনেই ঘুরে দেখে আসা যায়।
তবে তাতে মন ভরবে না।
তাই আমি এখানের গেস্ট হাউজে একরাত্রি
থেকে খুব ভালো করে ,মনের স্বাদ মিটিয়ে ঘুরে দেখেছি।
নাগপুর থেকে তাড়োবার দূরত্ব 150 কিমি।

আমি হাওড়া থেকে বোম্বে মেলে নাগপুর আবার  নাগপুর থেকে ট্রেনে গেলাম  চন্দ্রপুর । চন্দ্রপুর থেকে তাড়োবার দূরত্ব মাত্র 45 কিমি বাসে ।
বাস চলে প্রচুর।
প্রতি মঙ্গলবার পর্যটকদের জন্য বন্ধ থাকে তাড়োবা।
তাড়োবা ন্যাশনাল পার্ক সাফারির সময় প্রতিদিন সকাল 6 টা থেকে 10 টা অবধি এবং বিকেল 3 টে থেকে সন্ধে 6 টা পর্যন্ত।
সাফারি করার জন্য গাড়ি পাওয়া যায় গাইড ও পাওয়া যায়।)

পার্কের কিছু  বিবরণ:-
যেমন গাইড বলেছিল।
কানহার দক্ষিণ পশ্চিমে পশ্চিমঘাট পর্বতমালার টিক ও বাঁশে ছাওয়া আরণ্যক পরিবেশে 117 বর্গকিমি ব্যাপ্ত তাড়োবা জাতীয় উদ্যান। অনেক বাঘ আছে পার্কে।

 বিশাল পার্ক  ঘিরে সেগুন, শিরীষ, মহুয়া, পলাশ, এর অরণ্যে দেখতে পাওয়াযায়   বাঘ,  চিতা, ভাল্লুক, গাউর, নীলগাই, সম্বর, চিতল, লেঙ্গুর, হায়না, চৌশিঙ্গা প্রভৃতি নানা ধরনের বন্য জন্তু। গ্রীষ্মে পিপাসার্ত হয়ে বনচরেরা আসে  লেকের জলে তৃষ্ণা মেটাতে।
তেমনই গোটা তাড়োবা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে  সল্ট লেক । লেকের জলে রয়েছে কুমীর ও কচ্ছপ। জল ছেড়ে স্থলেও মাঝে মধ্যে কুমীর। অনেক প্রকারের সাপ ও আছে এখানে।গাইড বললো পাইথনও আছে জঙ্গলে।
নানান স্থানে মাচান রয়েছে জন্তু দেখবার জন্য। নিজস্ব ব্যাবস্থায় জিপ চলে তাড়োবায়। তাছারাও উপযুক্ত গাইড সথে নিয়ে পায়ে পায়ে ভ্রমণ করা যায় তাড়োবার জঙ্গলে। বেড়াবার মরশুম নভেম্বর থেকে জুন হলেও গ্রীষ্মের সকাল ও সন্ধ্যায়  জন্তু দেখবার জন্য অতি উত্তম।

 তাড়োবা় আন্ধেরি টাইগার রিজার্ভ, মহারাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ও পুরনো টাইগার রিজার্ভ। এক সময় এই জঙ্গলে বাঘ শিকার বৈধ ছিল। কিন্তু  1935 সালের পর শিকার নিষিদ্ধ হয়। এর কুড়ি বছর পর, 1955 সালে এই অরণ্য সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষিত হয়। 1986 সালে এর ঠিক পাশেই ‘আন্ধেরি ওয়াইল্ড লাইফ স্যাংচুয়ারি’ তৈরি হয়। এখন জানলাম যে  আমরা যে সময়ে গিয়েছিলাম তার সাত সাল পরে1995 সালে তাড়োবা ন্যাশনাল পার্ক ও ‘আন্ধেরি ওয়াইল্ড লাইফ স্যাংচুয়ারি’ একসঙ্গে করে নাম হয় তাড়োবা আন্ধেরি টাইগার রিজার্ভ।
আজকাল তো বাঘের সংখ্যাও অনেক বেড়ে গেছে।
==================================================








45>|| নাগপুর,-ভুশওয়াল,অজন্তা,ইলোরা,আওরঙ্গাবাদ।06/06/1979 to 10/06/1979=5 days

45>| নাগপুর,ভুশওয়াল,অজন্তা,ইলোরা,আওরঙ্গাবাদ।
   ( 5 দিনের ভ্রমণ )==06/06/1979  to 10/06/1979
নাগরপুরে থাকার সময়ে একদিন মনে হলো
যাই একটু অজন্তা,ইলোরা ঘুরে আসি।
তিনজনকে সাথী পেলাম ফলে একটু সুবিধা হলো।
বেরিয়ে পরলাম দুই দিনের ভ্রমণে।


প্রথম দিন----
নাগপুর থেকে  ট্রেনে পৌঁছে গেলাম ভুশওয়াল। মোটা মুটি 390km ।
ভুশওয়াল থেকে গাড়ি ভাড়া করে পৌঁছলাম
অজন্তা টি জংশনে । ভুশওয়াল থেকে অজন্তা, 71 কিমি।
এখন থেকে  ব্যাটারি চালিত গাড়িতে অজন্তা গুহায় পৌঁছলাম।কারণ এক ঘন্টা সময় ছিলো
তাই ওই একঘন্টা একটু ঘুরে আবার টি জংশনে ফিরে আসলাম।
একটি হোটেলে উঠলাম
N==রাত্রিবাস অজন্তা।
(এখানে হোটেলে দুই রাত্রি থেকে ছিলাম।)
   আমাদের পরবর্তী প্ল্যান -----
অজন্তা ভালকরে দেখে তার পরে যেতে হবে
আওরঙ্গাবাদ।
আওরঙ্গাবাদ যেতে হবে গাড়ি ভাড়া করে।
আওরঙ্গাবাদ ঘুরতে হবে গাড়ি বা অটো ভাড়া করে।
এমনকি অটো ভাড়া করে চলে যাওয়া যায়  ইলোরা।
সেই অটোকে  বলে রাখলে  সে পরের দিন এসে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।))
আমরা  অজন্তায় থাকলাম। কারণ সকালে ধীরেসুস্থে অজন্তা দেখবার ইচ্ছা ছিল।
পরের দিন  মনের স্বাদ মিটিয়ে দিন ভর অজন্তা গুহা দেখলাম।
বিকেলের দিকে আধ ঘণ্টা চড়াই ভেঙে
ভিউ পয়েন্টে গিয়েছিলাম । ওপর থেকে সুন্দর লাগে পুরো অজন্তা ও তার চার পাশ।
এখান থেকে সূর্যাস্তও অতি মনোরম দৃশ্য।
কুলকুল করে বয়ে চলেছে ছিপছিপে বাঘোড়া। তারই তীরে গড়ে ওঠা এই গুহা।
গাইডের কথা ------
সহ্যাদ্রি পাহাড়ের কোলে বাকাতক রাজাদের কালে খ্রিপূঃ 200 থেকে খ্রিস্টোত্তর  650– এই সময় ধরে গড়ে ওঠে 29টি বৌদ্ধগুহা মন্দির। এদের মধ্যে পাঁচটি, 9, 10, 19, 26 ও 29 নম্বর গুহা চৈত্য অর্থাৎ ছোট্টো ভজনালয় এবং বাকি 24 টি মন্যাস্টেরি বা বিহার, সন্ন্যাসীদের বাসের জন্য ছোট ছোট ঘর।
দেওয়ালচিত্র ও ভাস্কর্যের এমন অপূর্ব সমন্বয় যা দেখে মনে একটাই চিন্তা হচ্ছিল যে সে প্রাচীন কালের মানুষ কতো পরিশ্রম ও একাগ্রতা নিয়ে তৈরি করে ছিলো এমন সব আশ্চর্য জনক সব নিদর্শন যা দেখে আজ আমরা ধন্য হলাম।
N==>রাত্রিবাস অজন্তা।

2=>দ্বিতীয় দিন – সকালে রওনা দিলাম আওরঙ্গাবাদ, 101 কিমি।
দুপুরের খাবার খেয়ে,
দেখলাম আওরঙ্গাবাদের 10 টি গুহা। তারপরে তাজমহলের অনুকরণে তৈরি
 বিবি কা মকবরা,
পানি চাক্কি ও তারই চত্বরে আওরঙ্গজেবের সুফি ধর্মগুরু বাবা শাহর সমাধি তথা দরগা।
এই সকল দেখতে দেখতে সন্ধ্যা হয়ে গেল
আমরা একটি হোটেলে উঠলাম।
ঔরঙ্গাবাদ শহর বিশেষত অজন্তা এবং ইলোরার ঐতিহ্যমণ্ডিত স্থানগুলির জন্য বিখ্যাত। 29-টি পাহাড় কর্তিত গুহার আধিক্য সহ এই গুহা দেশের স্থাপত্য সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসাবে চিহ্নিত। অজন্তার চিত্র  সহ ইলোরার ভাস্কর্য সত্যি মুগ্ধ করে।  এই শহরের নাম মুঘল সম্রাট, ঔরঙ্গজেবের নামে নামাঙ্কিত যিনি দাক্ষিণাত্যের উপর রাজত্ব করার জন্য একে রাজপ্রতিনিধিত্বমূলক রাজধানী হিসাবে তৈরি করেছিলেন। সম্রাট তার মাকে শ্রদ্ধা জানাতে এখানে বিবি-কা-মকবরা নির্মিত করেন। এটি বিখ্যাত তাজমহলের একটি অনুকরণ। পান চাকি এবং দরওয়াজা প্রাচীন কালের অসাধারণ দক্ষ স্থাপত্যের উদাহরণ।
N==>রাত্রিবাস আওরঙ্গাবাদ।

3=>তৃতীয় দিন –আজকের গন্তব্য ইলোরা,
আওরঙ্গাবাদ থেকে ইলোরা 30 কিমি। পৌঁছে গেলাম ইলোরা।
অর্ধচন্দ্রাকারে দাঁড়িয়ে থাকা ভারতের তৃতীয় আশ্চর্য অনুপম ভাস্কর্যের ইলোরা গুহা।
আমাদের গাইডের কথা ------
ইলোরার গুহাগুলি পশ্চিমমুখী, তাই পড়ন্ত দুপুর তথা বিকেলে যথেষ্ট আলোকিত হয় গুহাগুলি। অনুমান করা হয়, এর নির্মাণকাজ শুরু হয় ছয় শতকের মধ্যভাগে, চলেছিল
500 বছর ধরে। ব্যাসল্ট রক কেটে তৈরি এই গুহাগুলি উত্তর থেকে দক্ষিণে 2 কিমি ধরে বিস্তৃত। গুহামন্দিরের সংখ্যা 34 টি।
হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের সমন্বয় ঘটেছে এই গুহা গুলিতে। 1 থেকে 12 নম্বর বৌদ্ধ গুহা, 13 থেকে 29 হিন্দু গুহা এবং 30 থেকে 34 জৈন গুহা।
স্থাপত্য, ভাস্কর্য আর গঠন সৌন্দর্যে  অভিনব 16 নম্বর গুহা তথা কৈলাস গুহা।
এই কৈলাস গুহা থেকেই ইলোরা দর্শন শুরু করতে হয়। সত্যি এমন জিনিষ না দেখলে মনে হয় জীবনটাই বৃথা।
কৈলাস গুহা থেকে বেরিয়ে এসে ডান হাতে 17 থেকে 34 নম্বর গুহা দেখে আবার ফিরে এসে ছিলাম কৈলাস গুহায়।
তারপরে গিয়েছিলাম বাঁ দিকে 15 থেকে 1 নম্বর গুহা দেখতে। 25 ও 26 নম্বর গুহার মাঝখানে পাহাড়ের ঢাল দিয়ে নদী নামছে জলপ্রপাতের মতো।  
N= রাত্রি বাস ইলোরায়।

4=>চোথূর্থ দিন – আবার এগিয়ে চলা ইলোরা গুহা থেকে 1 কিমি দূরে
দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম   গৃষনেশ্বর দর্শনের পরে আবার  ফিরে আসলাম  আওরঙ্গাবাদ।
এখানে 5 কিলোমিটার দূরে  দেখলাম আওরঙ্গজেবের সমাধি খুলদাবাদ  তার পর  9 কিলোমিটার দূরের  দেবগিরি তথা দৌলতাবাদ ফোর্ট ।
তারপরে ফিরে গেলাম আওরঙ্গাবাদ।
আমরা রাত্রেই পেয়েগেলাম ট্রেন 
5=>পঞ্চম দিন --
ফিরে আসলাম নাগরপুরে।
কিছু জরুরী খবর ------
1) সোমবার ও জাতীয় ছুটির দিন অজন্তা বন্ধ থাকে।
আর ইলোরা গুহা মঙ্গলবার ও জাতীয় ছুটির দিন ইলোরা বন্ধ থাকে।
অজন্তা গুহা খোলার সময় সকাল 9 টা থেকে বিকেল সাড়ে 5 টা পর্যন্ত।
আর ইলোরা গুহা খোলা সকাল 6 টা থেকে
সন্ধে 6 টা পর্যন্ত। 
অজন্তা গুহা দেখার জন্য ডুলি ও চেয়ার মেলে। এখানে   বৈদ্যুতিক আলো ভাড়া পাওয়াযায় গুহা গুলি ভালো করে দেখার জন্য। 
=======================






44>ভ্রমণ = নাগপুর--কবিতা

|| ভ্রমণ নাগপুর--||----কবিতা 
নাগরপুরে থাকার সময়ে একদিন
মনে হলো নাগপুর ঘুরে দেখতে
আর তাই বেরিয়ে পরলাম নাগপুর
দর্শনে।
আমি মনে করি,
সংশয় যুক্ত মন সদা
হাজার ভ্রমের জন্ম দাতা।
ভ্রমে ভ্রমিয়া কলুর বলদের প্রায়
শ্রান্ত মন যদি কখন উদার হয়,
মন তখন একটু মুক্ত হওয়া চায়,
ব্যাকুল হৃদয়, আনন্দ খুঁজে বেড়ায়,
তখনি ভ্রমন সার্থক হয়।
আর সেই ভ্রমণে মনে প্রশান্তি আনে
হৃদয়ের দুয়ার খোলে,
মন,প্রাণ, প্রকৃতিকে ভালো বসতে শেখে।
                ---------
--নাগপুর--নাগরপুর ভ্রমণের জন্য এক উথকৃষ্ট জায়গা।
ভোঁসলেদের রাজধানী ছিল নাগপুর।
এখানে দেখার আছে -------
ভোঁসলে প্রাসাদ,
ভোঁসলে ছত্তিশ,
গান্ধীসাগর,
গান্ধীবাগ,
সতী মন্দির,
সর্বেশ্বরা মন্দির ইত্যাদি।
নাগপুর গান্ধীসাগর,গান্ধীবাগ
     TURE )-----END
=======================.=

Thursday, March 19, 2020

43>ভ্রমণ =কোঙ্কন রেলওয়ে।-13/04/2000 to 27/04/2000=15 days

 ভ্রমণ =কোঙ্কন রেলওয়ে।-----
      13/04/2000 to 27/04/2000=15 days
( কোঙ্কন রেলওয়ের পথে যে যে জায়গা গুলি ঘুরে বেড়িয়েছি ::-
রত্নগিরী, গণপতিপুলে  ,থীভিম,কারমালি, মেডগাওন।
RATNAGIRI, GANPATIPULE, THIVIM, KARMALI, MADGAON, )


এই রেল পথটির অপূর্ব সৌন্দর্যের গল্প শুনলাম কে সি পি রমন ও এন কে কুট্টি র মুখে।
এমন সুন্দর রেল যাত্রার কথা শোনা অবধি
মন ভীষণ চঞ্চল হলো একবার দেখবার জন্য।
অবশেষে এল টি সির ছুটি গ্র্যান্ড হলো
15 দিনের। 13 ই এপ্রিল 2000 বৃহস্পতিবার থেকে 15 দিনের জন্য।
ধনবাদ থেকে মুম্বাই
মুম্বাইয়ের দাদর থেকে রাত্রি 11টা র
পরে ট্রেন ছাড়লো প্রথমে রত্নগিরি তে নামলাম
ভোর বেলায়। দুই দিন  রত্নগিরি তে ঘুরলাম।

রত্নগীরী মহারাষ্ট্রের একটি সুন্দর শহর বন্দর।
এখানে আরব সাগরের তীরে রত্নদুর্গ কেল্লা বা ফর্ট। ভগবতী মন্দির, লাইট হাউস, মিউজিয়াম ও অ্যাকরিয়াম, থিবো প্লেস,
গণপতি মন্দির, এখানে ভগবান গণেশের মূর্তি
এখানে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র।
জঙ্গলে দেখলাম বাঘ, হরিণ, প্রচুর পাখি নানান জাতের । প্রচুর পরিমাণে বন জঙ্গল।

এমন সৌন্দর্যের খোঁজ কেনা জানে।
তাই আমিও এমন সৌন্দর্যের লোভ সামলাতে
না পেরে বেরিয়ে পড়েছিলাম এই রেল পথে
একটু ভ্রমণ করতে।13 ই এপ্রিল 2000 সালে।

আমার একমাত্র  উদ্বেশ্য ছিলো শুধু এই রেল পথে ভ্রমণ আর উপরি পাওনা হিসাবে ঘুরে বেরিয়েছি আসে পাশের কিছু  কিছু দর্শনীয় স্থান ।
আর তাই মনের সুখে ঘুড়ে বেড়িয়েছি ::--RATNAGIRI, THIVIM, KARMALI, MADGAON,

সম্পুর্ন রেলের পথটি  পাহাড়ের তরাইয়ের
ঢাল ও সমুদ্রের ধার বরাবর, গভীর বন জঙ্গল ভেদ করে একটার পর একটাব্রিজ ও টানেলের মধ্য দিয়ে পাহাড় গুলি পার করে এগিয়ে গেছে।
সমস্ত পথটাই ভীষণ রোমাঞ্চ কর ও এক অদ্ভুত অনুভুতির পরশ যা ভোলা অসম্ভব।
মুখে বলে বা লিখে এমন সৌন্দর্য বর্ণনা করা অসম্ভব।

এবার আমাকে একলাই বেরিয়ে পড়তে হোল।
অনেক চেষ্টা করেও কোন সাথী জোগাড় করতে না পেরে একলাই রওনা দিলাম
কোঙ্কন রেলওয়ের দর্শনে।

মানুষ ঈশ্বর দর্শনেই বেশি ভ্রমণ করে,
আমি রেল পথে ঘুরে বেড়াবার জন্য বেরিয়ে পরলাম।

মহারাষ্ট্রের, বেলাপুর নভিমুম্বাই এর কোঙ্কন রেলওয়ে দ্বারা পরিচালিত কোঙ্কন রেলওয়ে।
1993 র 20মার্চ একটি প্যাসেঞ্জার ট্রেন পরীক্ষা মূলক ভাবে চালিয়ে ছিলো।যেটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
পরবর্তী সময়ে সম্পুর্ন রেলের পথটি নূতন রূপে উন্নত টেকনোলজি তে সাজিয়ে
January 26, 1998, the অর্থাৎ ভারতের স্বাধীনতা দিবসের দিনে  চালু হোল কোঙ্কন রেলওয়ে। মোট 741 km (461 mi) দীর্ঘ লাইন।
মহারাষ্ট্রের মুম্বাই থেকে কর্ণাটকের মেঙ্গালোরে,ভারতের দক্ষিণ পশ্চিম সামুদ্রিক শহর পর্যন্ত বিস্তৃত মহারাষ্ট্র, গোয়া,এবং কর্ণাটক রাজ্য জুড়ে।
সর্বমোট স্টেশন সংখ্যা 67 টি।
""   ""  : : : টানেল 10 টি
বড়ো টেনেল টি 6 কি মিঃ।
ছোট টানেল টি 1 কি মিঃ।
মোট ব্রিজ আছে 6 টি।
এগুলি ছাড়া আরও বহু টানেল ও ছোট ছোট ব্রিজ আছে পথে।
লাইন টির দৈর্ঘ  741 কি মিঃ,(461 মাইল)

স্টেশন, টানেল,ও ব্রিজ, গুলি হোল::----

0 Roha (RN)// 13 Kolad// 24 Indapur //
30 Mangaon// 41 Goregaon Road//
47 Veer// 55 Sape Wamane//
63 Karanjadi // 71 Vinhere//

Natuwadi Tunnel (4 km)**

81 Diwankhavati // 98 Khed /112Anjani
128 Chiplun //

Chiplun Tunnel (2 km)**

138 Kamathe//

Savarde Tunnel (3 km)**//

147 Sawarda Shastri Bridge//##

Parchuri Tunnel (3 km)**//

150 Aravali Gad Bridge //##

171 Sangameshwar// 184 Ukshi //

Karbude Tunnel (6 km )**//

197 Bhoke// 203 Ratnagiri Panval Nadi Viaduct//

Tike Tunnel (4 km)**//

219 Nivasar// 235 Adavali //

Berdewadi Tunnel (4 km)**//

250 Vilavade// 267 Rajapur Road//
284 Vaibhavwadi Road//
299 Nandgaon Road// 314 Kankavali //
333 Sindhudurg // 343 Kudal//
353 Zarap // 364 Sawantwadi Road//
371 Madure //
Maharashtra state / RN limits Goa state KAWR limits//

Pernem Tunnel (1 km)**//

382 Pernem // 393 Thivim//

Mandovi Bridge//##

411 Karmali //

Zuari Bridge//##

427 Verna to Vasco da Gama //
432 Majorda Junction// 435 Suravali//
438 Madgaon Junction  to Londa Junction // 456 Balli //

Barcem Tunnel (3 km)**//

472 Canacona // 482 Loliem//
Goa stateKarnataka state //
492 Asnoti //

Kalinadi Bridge//##

500 Karwar//

Karwar Tunnel (3 km)**//

513 Harwada // 528Ankola//
526 Gokarna Road // 555 Kumta//
568 Honnavar //

Sharavati Bridge //##

586 Manki // 595 Murdeshwar//
603 Chitrapur // 609 Bhatkal //
617 Shiro//
625 Mookambika Road Byndoor//
631 Bijoor // 644 Senapura//
658 Kundapura // 674 Barkur //
690 Udupi // 700 Innanje //706 Padu//
723 Mulki //
732 Surathkakkto Hassan Junction (MYS) to Mangalore Junction (PGT)
741 k m.
=====================
. নূতন রূপে চালু হবার থেকে যে টেকনোলজি গুলি ব্যবহার হচ্ছে তার মধ্যে প্রধান হোল
The anti-collision devices, the Sky Bus and RORO are a few of the innovations from Konkan Railway.

সম্পুর্ন রেলের পথটি  পাহাড়ের তরাইয়ের ঢাল ও সমুদ্রের ধার বরাবর, গভীর বন জঙ্গল ভেদ করে একটার পর একটা টানেলের মধ্য দিয়ে পাহাড় গুলি পার করে এগিয়ে গিয়েছে ।
সমস্ত পথটাই ভীষণ রোমাঞ্চ কর ও এক অদ্ভুত অনুভুতির পরশ যা ভোলা অসম্ভব।
মুখে বলে বা লিখে এমন সৌন্দর্য বর্ণনা করা অসম্ভব।
এই পথে এতো টানেল ও ব্রিজ আছে যার হিসাব ভবনার অতীত।
কেউ কেউ বলেন সর্ব মোট টানেল আছে 92 টি, সব কটি টানেল যোগ করলে তার লম্বাই হবে82 কিলোমিটার এবং বরো ব্রিজের সংখ্যা নাকি 179 টিও ছোট ব্রিজ 1819 টি। পথে
288 টি রেল ক্রসিং।
এখন নাকি পথ টি 760 কি মী।
সে যাইহোক আমার ও সকল হিসাবের কি কাজ।
আমি এসেছি একটু প্রকৃতির উন্মুক্ত বাতাসে খোলা আকাশের নিচে প্রকৃতির শোভা দর্শন করতে।
দিন ভোর রত্ন গীরিতে ঘুলেও মন ভরলো না তাই বাধ্য হয়ে একটা হোটেলে রাত কাটালাম।
সকালে রত্নগিরি থেকে গণপতিপুলে  গাড়িতে প্রায় একঘন্টা 46 km ।
এর আগেও দুইবার গণপতিপুলে এসেসিলাম। যদিও এখানে সিবিচ ছাড়া দেখার তেমন কিছুই নাই
তবুও এই অঞ্চলে আসে পাশে ঘুরে বেড়াতে ওয়াই পয়েন্ট ও এই গণপতিপুলে আসতেই হয়।

গণপতিপুলেতে আছে থিবাউ পেলেস,বা   থিবো প্যালেস (বার্মারাজ থিবোকে বন্দি করে রাখার জন্য ব্রিটিশদের গড়া প্রাসাদ),
*ভগবতী মন্দির,
লোকমানি তিলক স্বারক ,পতিতপাবন মন্দির। *রত্নগিরি দুর্গ,
দিনভর ঘুরে বিকেলে মানে দুপুরের পরেই আবার ফিরলাম  রত্নগিরি।


রত্নগিরি জায়গাটা বেশ সুন্দর । বেশ ফাঁকা ফাঁকা মালভূমি ধরনের জায়গা । রাস্তাগুলো মাঝে মাঝে অনেকটা ওপরে উঠে গেছে আবার কখনও কখনও নেমে যায়। কখনো   পাশে চলে পড়ে সমুদ্র । পাহাড়ের ওপর থেকে  সমুদ্র দেখা এক বিশেষ ভালোলাগার অভিজ্ঞতা ।সমুদ্রের জলে প্রচন্ড ঢেউ না থাকলেও পরিষ্কার জলটা দেখতে দারুণ লাগে । এই দৃশ্যই রত্নগিরি থেকে গণপতিপুলে যাওয়ার পথে সবথেকে বড় পাওনা ।


কোঙ্কন রেলওয়ের পথটা খুব সুন্দর, অনেকটা অংশই পাহাড় ও নদীর মধ্যে দিয়ে ।
বাইরের দৃশ্য সত্যিই খুব সুন্দর । রেলপথটা পুরোটাই পাহাড়ের ভেতর দিয়ে, মাঝে মাঝে পাশে নদী চলেছে । পথটা অনেকটা উঁচু । মাঝে মাঝে ট্রেন টানেলের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে । একেকটা টানেল বেশ লম্বা । রত্নগিরি পৌঁছনোর কিছুক্ষণ আগে একটা বেশ লম্বা টানেল । পাহাড়ের টানেলের মধ্যে দিয়ে ট্রেনে যাওয়ার  এই জিনিস দেখে যে অভিভূত হয়ে পড়া অতি স্বাভাবিক।
রত্নগিরি স্টেশনটা একটু উপরে একটা পাহাড়ের মাথায়, স্টেশন থেকে বেরোতে গেলে আরও কিছুটা ওপরে উঠতে হয় । তারপরে গণপতিপুলে যাওয়ার গাড়ি জোগাড় করা বেশ মুস্কিল।
প্রথমতঃ স্টেশনটা খুব বড় কিছু নয়, তাই স্টেশনে কোনও গাড়ির স্ট্যান্ড নেই । যেটা আছে সেটা অটোর স্ট্যান্ড । এখান থেকে অটো গণপতিপুলে যায় কিন্তু লাগেজ বেশি হলে অটোতে হবেনা।
গণপতিপুলের পথে সমুদ্রের দৃশ্য ,সে দেখার মতন।

( মহারাষ্ট্র ট্যুরিজম্‌ ডেভেলপ্‌মেন্ট কর্পোরেশন রিসর্টে আছে এখানে। সেগুলি আগে থেকে বুক করে নিতে হয়। আমি তো কোনকিছু প্ল্যান করে আসিনি তাই অমন সুন্দর থাকার জায়গা পাওয়া অসম্ভব
আমি কোনমতে রাত্রি টুকু কাটাবার মতন একটি ছোট হোটেলে থাকলাম  )

গণপতিপুলে বীচ্‌এতে সমুদ্রের স্নান করা যায়।
আরব সাগরে এমনিতে ঢেউ কম, তবে গণপতিপুলে অঞ্চলে সমুদ্রের ঢাল বেশ বেশি, তাই এখানে ঢেউ বেশি আর সেই সঙ্গে সঙ্গে আন্ডার কারেন্টও বেশি । আর এখানকার জলের আরেকটা বৈশিষ্ট্য হল জলটা বেশ নীল, বিশেষ ঘোলা নয় । জলে চালানোর জন্য আবার ওয়াটারক্র্যাফটও ভাড়া পাওয়া যায় ।
সমুদ্রের ওপর মেঘের আড়ালে সূর্য্যাস্তবিকেল বেশ সুন্দর লাগে।
গণপতিপুলেতে সমুদ্র ছাড়া আর কিছুই নেই, তবে এখানকার বীচটা খুব সুন্দর, বসে থাকতে ভালোই লাগে । বীচে তিনচাকার মোটরবাইক, টয়ট্রেন ইত্যাদি চলে ।

সর্বোপরি এই এলাকার  প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্য ছেড়ে ফিরে যেতে মন চায় না।
এখনও তো আরো অর্ধের পথ বাকি তাই ফিরে যাবার জন্য ট্রেনের খোজ করলাম।
জানলাম রাত্রি একটার আগে কোন ট্রেন নাই।
হোটেলের মালিক বললেন রাতের ট্রেন ধরতে হলে আমাকে সন্ধ্যা 7 টার মধ্যে বেরিয়ে পড়তে হবে।
আমি বললাম কেন এখান থেকে স্টেশন তো মাত্র 15 মিনিটের পথ।
তা এতো আগে কেন যাবো।
উনি বললেন দেখুন সন্ধ্যা সাতটার পরে ভেন ও  পাবেন না ।আর ভ্যান বা অটো  না পেলে এই পথ টুকু হেঁটে আজ কাল যাওয়া ধিষণ রিস্ক।
যে কোন সময়ে শেয়াল বা লাকার বাঘ বা ভাল্লুকের আক্রমণ হতে পরে একলা পেয়ে।
তাই সন্ধ্যার আগেই স্টেশন পৌঁছে যাওয়া ভালো।
অগত্যা আমি কিছু রুটি তরকা খেয়ে রওনা দিলাম একটি রিক্সা করে। তাই সন্ধ্যার আগেই
পৌঁছে গেলাম স্টেশনে।
কিন্তু একি একটু আগেও বেশ দিনের আলো ছিলো , হঠাৎ করে মনে হলো কেউ  কালো পর্দা দিয়ে সম্পুর্ন আকাশ বন জঙ্গল ঢেকে দিল।
অন্ধকার হয়ে গেল। তার উপরে হঠাৎ করে শুরু হলো ঝড় বৃষ্টি।
এমন ঝড় কোনদিন দেখিনি।কি প্রচণ্ড হওয়া সাথে বৃষ্টি। শুরু হল ঠাণ্ডা।, কম্বল টা বার করে
জড়িয়ে নিয়ে বসলাম।
কাউন্টারে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম ট্রেনের জন্য।কাউন্টার থেকে বললো রাত্রি একটায় ট্রেন
তাই রাত্রি 12 টার আগে টিকিট পাওয়া যাবেনা।
এর পরেই ঘটলো এক মজার ঘটনা।
দেখি কয়েকজন কুলি ও দুইজন সাধারণ যাত্রী প্লাটফর্মের এক কোনায় কিছু কাঠ কুটো
জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছে প্রচন্ড শীতে আগুনের লোভ সামলানো মুশকিল তাই আমিও
ওদের সাথে যোগ দিলাম। আগুনের পাশে এক কোনায় পাঁচিলে হেলান দিয়ে কম্বল মুড়ি
দিয়ে বসলাম। তখন মাত্র 7.30 .এখনো পাঁচ ঘন্টা বসতে হবে। কিট্স্ ব্যাগ তা পাশে রেখে
কম্বল টা ভালো করে জড়িয়ে বসে পড়লাম। কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম সেটা বুজতেই
পারিনি।  যখন ঘুম ভাঙলো তখন দেখি আমি একলাই বসে বসে আছি। এবং রাত্রি তখন
দুটো বাজে। হড়বড় করে কাউন্টারের দিকে এগিয়ে গিয়ে দেখি কাউন্টার বন্ধ।
কি করি কাকে জিজ্ঞাসা করি ট্রেনের খবর , কেউ কোথাও নাই। এদিগে ফায়ার এসে দেখি
আমার কিট্স্ ব্যাগটাও নাই। বিপদ যখন আসে সব দিক থেকে আসে।
বুঝলাম  আমার সব কিছু চুরি হয়ে গেছে। যদিও ব্যাগে দুটো পেন্ট তিনটে জামা কিছু
জাঙ্ঘিয়া ছাড়া আর কিছু ছিল না ও আর একটি টর্চ ও সেভিং কিট্স্ ছিল ব্যাগে।
কি আর করি কোন মোতে বসে বসে রাট কাটলো। তবে এই খালি জায়গা ছেড়ে কাউন্টারের
কাছে রেলিং ঘেরা জায়গাতে গিয়ে বসলাম। এখন তো ভাব না হলো সকালে বাজারে গিয়ে
আগে একটা ব্যাগ ও জামা কাপড় কিনতে হবে।
ঘুম আর হলোনা। বসে বসে রাত  কাটলো। সকাল হতেই স্টেশন থেকে বেরিয়ে দেখি একটা
অটো ভ্যান  দাঁড়িয়ে। ওকে বললাম ভাই এখানকার কাপড় জামার  বাজার কতো দূর।
ভ্যান  ওয়ালা বললো এই তো কাছেই ,তবে কাপড় জামার দোকান তো আটটার আগে খোলা
পাবেন না। আর এতো সকালে কাপড় জামার দোকান খোঁজ করছেন কেন ?
আমি ওকে আমার ব্যাগ চুরির ঘটনা বললাম। ভ্যান  ওয়ালা সব শুনে বললেন দেখুন তো ওই
দিকে বড়ো তেতুল গাছটার নিচে একটা কিট্স্ ব্যাগ পরে আছে ,ওটাই আপনার নাকি ?
আমি উর্দ্ধ স্বাসে ওই গাছটার দিগে ছুটে গিয়ে দেখি হ্যা ওটাই আমার ব্যাগ। আর আসে পশে
ছড়িয়ে আছে জামা পয়েন্ট গুলি। আমি এক এক করে যাৰ গুছিয়ে ব্যাগে ভোরে নিয়ে এসে
ভ্যান  আলাকে ধন্যবাদ জানাতে আসলাম। ভ্যান  ওয়ালা বললো এগুলি ওই লেঙ্গুরের কাজ।
অর্থায় আমার ব্যাগ কোন ছোড়ে চুরি করেনি ,ওই হনুমান বা বাঁদর গুলি সুযোগ বুঝে
কিছু খাবারের লোভে ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে ছিলো। শুধু ব্যাগটা একটু ছিঁড়েছে। ব্যাগের
চেন খুলতে পারেনি তাই ব্যাগ টাই ছিঁড়েছে।
যাইহোক বিরাট খরচের হাত থেকে বাচলাম। তবে ব্যাগ একটা কিনতেই হবে।
ভ্যান  ওয়ালা বললো বিকেল তিনটায় ট্রেন। তাই কি আর করি ভ্যান  ওয়ালাকে বললাম
চলো যাবে আমাকে বাজার যেতেই হবে তবে তাওতো অনেক সময় আর দিন ভোর ঘুরেই
বেড়াতে হবে।  রিক্সা ওয়ালা বললো সে 40 টাকা নেবে দিন ভোর আসে পাশের দুটি সুন্দর
মন্দির ও গোটা কয়েক ভিউ পয়েন্ট দেখিয়ে 2.30 এতে স্টেশনে পৌঁছে দেবে।
আমি ওর কোথায় রাজি হয়ে আবার একটু ঘুরে বেড়ালাম।
ভ্যান  ওয়ালার নাম মঙরু  পাসোয়ান। মঙরুর সাথে ঘুড়ে বেড়ালাম। তবু দুইদিন পরে
কথা বলার মতন একজন কে পেয়ে বেশ ভালো লাগলো।
মঙরুকে নিয়ে প্রথমে চায়ের দোকানে গেলাম। মঙরু বললো বাবু নাস্তা কোরবেন কি ?
আমি হ্যা বলতেই ও একটি বেশ ভাল রেস্টুরেন্টে নিয়ে গেল।
আমি মঙরু কে সাথে করে নিয়ে একসাথে টিফিন করলাম ডিম্ রুটি ও ঘুগনি।
তারপরে বাজারে গিয়ে একটা ব্যাগ কিনে , ভ্যানে  করে ঘুড়ে বেড়ালাম।
দুপুর দেড়টার সময় আমি ও মঙরু একসাথে হোটেলে মাছ ভাত খেয়ে স্টেশনে
পৌঁছে গেলাম। ওকে ভাড়া দিলাম একশো চল্লিশ টাকা কিন্তু মঙরু বললো "নানা বাবু আমাকে
আপনি একশো  টাকা দিলেই হবে ," আমি বললাম কেন একশো  কেন ?
ওর কথা হলো দিন  ভোর এতো চা টিফিন , ভাত মাছ খাইয়েছি ওকে তাই ও একশো টাকাই নেবে।
আমি বললাম নারে ভাই তুমি আমার অনেক উপকার করেছো , প্রথমে তো আমার
ব্যাগটা পেতে সাহায্য করেছো তারপরে এতো সুন্দর সুন্দর জায়গা দেখলে যা আমি দুদিন
থেকেও দেখতে পারিনি তা তুমি এই কয়েক ঘন্টায় দেখলে। আর সব থেকে বরো কথা
এখানে আমি একলা ঘুরতে এসেছি , দুইদিন কারুর সাথে কথা বলতে নাপেড়ে হাপিয়ে
গেছি ,আজ সারাদিন তোমার সাথে কথা বলে মনটা হালকা হয়ে ছে।
তুমি আমার ভীষণ উপকার করেছো। তাই তুমি এই টাকা টা  রাখো। এই বলে আমি ওকে
একশো পঞ্চাশ টাকা দিলাম। ও ভীষণ খুশি হয়ে বললো আপনি বসুন আমি গিয়ে টিকিট কেটে
আনছি।
মঙরু কে টাকা দিলাম ও গিয়ে টিকিট কেটে আনলো।
ঠিক 3.40 এ ট্রেন আসলো আমিও রওনা দিলাম
পরবর্তী স্টেশন থীভিম এর উদ্দ্যেশ্যে।

থীভিম::-

তিনদিন রত্নগীরিতে ঘুড়েও মন ভরলো না।
তবুও রওনা দিলাম।
এবার যাবো থীভিম পর্যন্ত।
রত্নগীরি থেকে থীভিম 190 কিলোমিটার,
রাত্রে পৌঁছেই একটা হোটেলে গেলাম।
সকালে আজ প্রথমেই একটা রিক্সার খোজ করলাম কিন্তু কোন রিকশাই দিনভর সাইট সিন দেখাতে রাজি হলনা , কারণ অনের চড়াই উতরাই পথ।
তারপরে সমুদ্র সৈকতে ওরা রিক্সা চালাতে বেশ কষ্ট।
তাই ওরাই বললো একটা অটো ভেন ভাড়া করে যেতে।
আমি সেই মতো একটা ভ্যান ভাড়া করলাম।
ওরা একটা ভ্যানে চারজন নেয়, আমি একা
তাই ভাড়া তো চারজনের দিতে হবে।
আমিবললাম যে জায়গা গুলি ভালো লাগল হয়তো তিন চার দিন ঘুরবো।
শেষে ও রাজি হলো 400 টাকায়।
চার দিন। যদিও অনেক বেশি চাইলো।তবুও রাজি হলাম ।
সত্যি অপূর্ব জায়গা,যেমন ঘনো জঙ্গল তেমনি সমুদ্র সৈকত। স্পীড বোট।
ডাইভিং করার ব্যবস্থা।
প্রকৃতি যেন অকাতরে প্রাণ ভরে সাজিয়ে রেখেছে ।
স্টেশন এর কাছেই হোটেল টা ছিলো।
এখনও দুদিন পাহাড় জঙ্গলের শোভা উপভোগ করলাম।
এরপরে গেলাম কারমালি এখারে অবশ্য একদিন থেকে চলেগেলাম মেডগাওন।
মেডগাওনে দুই দিন এবং মেঙ্গলোর বা
বেঙ্গলোর বা মেঙ্গলুরু।

 মেঙ্গলুরু তো বরো নামী শহর। এখানে 4দিন থেকে যতটা পরলাম মনের সুখে ঘুরে বেড়ালাম।
তবে হ্যাঁ বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন শহর ঘুরে বেড়িয়ে ভালই লাগলো।
এমন শহরের কোনটা ভালো আর কোনটা খারাপ বলাই মুশকিল।
যা দেখি তাই ভীষন ভালো লাগে।

 ইচ্ছা ছিল গোয়া যাবার কিন্তু সত্যি বলতে কি এমন সুন্দর বনাঞ্চল এমন সুন্দর
শান্ত পরিবেশে ঘোড়ার পরে আর কোন শহর বা জনবহুল অঞ্চল ঘুরতে
মন ছিল না তাই এবার বাড়ি ফেরার জন্য মন স্থির করলাম।
মেঙ্গালুরু থেকে মুম্বাই টেক্সি তে এসে মুম্বাই থেকে প্লেনে কলকাতা।
কলকাতা ফিরে  বাড়িতে দুইদিন থেকে ফিরেগেলাম ধানবাদ।
                   END  OF TOUR --(11  )
==============================================================
xxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxx
==============================================================