Friday, September 5, 2025

100> মিশরকে একটু জানার চেষ্টা।

100> মিশরকে একটু জানার চেষ্টা।

1> মিশরকে একটু জেনেনি।

2>মিশরের পিরামিড নিয়ে দুচার কথা।

3>আমার দেখা মিশরের মন্দির গুলি।             যেটুকু বুঝেছি সেই টুকুই লিখছি।

4>কর্ণাক টেম্পল:

5>ভ্যালি অফ দা কিং।-
6>আবু সিম্বেল মন্দির’।
7>আবু আল-আব্বাস আল-মুরসি মসজিদ।
8>তুতানখামেন::
9>আলেক্সান্দ্রিয়া কপ্টিক।

 10>আলেকজান্দ্রিয়ার প্রাচীন গ্রন্থাগার  

11>আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর:।       

12>স্ট্যানলি সেতু।      
13>কম এল শোকাফার ধ্বংসাবশেষ।   

14>বিখ্যাত পম্পি পিলার।      
15>|| রোমান থিয়েটার আলেক্সান্দ্রিয়া |

===========================

★1>মিশরকে একটু জেনেনি।
মিশর  Egypt-----উত্তর আফ্রিকার আরব দেশ টির নাম  মিশর।
এটি আরব প্রজাতন্ত্রের এক দেশ,  উত্তর আফ্রিকার একটি প্রাচীন রাষ্ট্র। দেশটির বেশির ভাগ অংশ আফ্রিকাতে অবস্থিত, কিন্তু এর সবচেয়ে পূর্বের অংশটি,হোল সিনাই উপদ্বীপ। সিনাই উপদ্বীপ আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে স্থলসেতুর মত কাজ করে। মিশরের অধিকাংশ এলাকা মরুময়। নীলনদ দ্বারা  দেশটি দুইটি অসমান ভাগে বিভ্ক্ত। নীলনদের উপত্যকা ও ব-দ্বীপ অঞ্চলেই মিশরের বেশির ভাগ মানুষ বাস করেন। কায়রো দেশের বৃহত্তম শহর ও রাজধানী। এখানকার মুদ্রা :--মিশরীয় পাউন্ড বা ( ই জি পি ) রাজধানী এবং বৃহত্তম নগরী কায়রো. 30 2' উত্তর  31 13' পূর্ব. এখন কার ভাষা - আরবি।
সরকার অর্ধ-রাষ্ট্রপতি প্রজাতন্ত্র। প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার বিশেষ বিখ্যাত গিজার পিরামিড।
উত্তর আফ্রিকার পূর্বাঞ্চলের একটি প্রাচীন সভ্যতা এই প্রাচীন মিশর।
নীলনদের নিম্নভূমি অঞ্চলে এই সভ্যতা গড়ে ওঠে। এই অঞ্চলটি বর্তমানে মিশর রাষ্ট্রের অন্তর্গত। মিশরীয় গণিত ব্যবস্থা, চিকিৎসা ব্যবস্থা, সেচ ও উৎপাদন কৌশল . প্রথম জাহাজ নির্মাণ,মিশরীয় চীনামাটি ও কাঁচশিল্প উল্লেখ যোগ্যম।
এখানকার পুরাকীর্তিগুলি বিশ্বের দরবারে
সমাদৃত। শতাব্দীর পর শতাব্দী প্রাচীন মিশরের পুরাকীর্তিগুলির ধ্বংসাবশেষ পর্যটক ও লেখকদের কল্পনাশক্তিকে অনুপ্রাণীত করেছে। আধুনিক যুগের প্রথম ভাগে পুরাকীর্তি ও খননকার্যের প্রতি নতুন করে মানুষের আগ্রহ জেগে উঠলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মিশরের সভ্যতা সম্পর্কে অনুসন্ধান শুরু হয়।
এর ফলে মিশরীয় সভ্যতার সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারগুলি মিশর ও বিশ্ববাসীর সম্মুখে নতুন রূপে উপস্থাপিত হয়।
         ( সংকলিত)

=============================

★2>মিশরের পিরামিড নিয়ে দুচার কথা।


মিশরের পিরামিডের ইতিহাস যতই পড়ি ততই অবাক হতে হয়।

আজ মিশরের " বুক অফ দ্যা ডেড"

সমন্ধে একটু জানবার চেষ্টাতে কিছু খোঁজ করলাম এবং জানলাম।

আর সেই কারণে কিছু লিখলাম।


মিশরের গিজা পিরামিড এক ঐতিহাসিক অসাধারন সুন্দর পিরামিড।

যেটি সমবাহু, সুবিশাল,সুচারু রূপে নির্মিত এক শ্রেষ্ঠ ও অত্যাশ্চর্য  নির্মাণ।

যে নির্মাণকে ভাবতে গেলে মনে হয় এ কোন ভিনগ্রহের প্রাণীদের দ্বারাই সৃষ্টি।

মিশরীয় সভ্যতায় পিরামিড এক বিস্ময়কর সৃষ্টি।

আমরা যে পিরামিডের সামনে দাঁড়িয়ে আছি সেটি গিজার সেই সুবৃহৎ পিরামিড।

জানতে পারলাম এই গিজার পিরামিডের মতন সুউচ্চ পিরামিডগুলি ছিল আসলে স্বর্গের  দেবতাদের কাছাকাছি পৌঁছনোর মাধ্যম।

কায়রো থেকে ঘণ্টা দেড়েকের পথে নীলনদের পশ্চিম দিকের কিছু পিরামিড আজও দাঁড়িয়ে আছে। মনে করা হয় এই পিরামিড গুলি

পিরামিড তৈরির প্রথম ও প্রারম্ভিক চিন্তা ও কর্মকান্ডের নিদর্শন।

ঐতিহাসিক সাক্কারায় রাজা জোসারের তৈরি ছয় ধাপবিশিষ্ট স্টেপ পিরামিড তার মধ্যে একটি।

কিছু পিরামিড  ভিতরে কিছু কিছু  পার্থক্য আছে, যেমন একটি পিরামিডে রাজকুমারী ইদুতের সমাধি।সেখানে  

সারা দেওয়ালে খোদাই করা আছে অজস্র চিত্র। অতি আশ্চর্যের বিষয়  যে সেকালের রং এখনো টিকে আছে। ছবির বিষয় বস্তুতে শ্রমজীবী মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম, ষাঁড় বলিদানের দৃশ্য এবং কিছু নৌকার ছবিও আছে।

অবশ্য নৌকা নীলনদের জীবন জীবিকার অঙ্গ, আবার প্রাচীন মিশরে নৌকা ছিল ইহলোকের সঙ্গে পরলোকের যোগাযোগের মাধ্যমও।

অবশ্য প্রত্যেকটি মন্দির , সমাধিতে এই নৌকার ছবি দেখাযায়।

আর অন্য আরেকটি সমাধি গৃহ যেটি আরও পুরানো। জানতে পারলাম

সেই পুরানো পিরামিড দেখতে বা রাজা উনাসের  ভাঙা পিরামিডের বিষয় জানতে ওই ভাঙা পিরামিডের ভেতরে যেতে হবে।

মিশরের পরবর্তী কালের সমাধিগৃহ গুলোতে দেব-দেবীর ছবি,স্বর্গ যাত্রার ছবি ,মর্তের দৈনন্দিন জীবন যাত্রার ছবি,প্রভৃতি অনেক কিছুই থাকত,

আবার কোন কোন পিরামিডে সে সকল কিছুই থাকেনা, পরিবর্তে সারা দেওয়াল জুড়ে লেখা, হায়রোগ্লিফিক লিপিতে।

জানতে পারলাম যে এই লেখাগুলোকে  বলা হয় পিরামিডের লিপি।

এগুলি আসলে কিছু মন্ত্র । 

যে মন্ত্র বলে রাজা যাতে সুস্থ ভাবে সমস্ত বাধা পেরিয়ে স্বর্গে পৌঁছতে পারেন, এবং সেখানে পুনর্জীবন লাভ করতে পারেন, দিব্য শরীর ধারণ করতে পারেন ও স্বর্গের দেবতাদের সঙ্গে মিলিত হতে পারেন এবং সেখানে যেন শান্তিতে আনন্দ পূর্ন হৃদয়ে বাস করতে পারেন তার জন্যই এই মন্ত্র লিপি বদ্ধ করা থাকে।

কথিত আছে যে এই লিপি অনুসন্ধানের

আগে পুরহিতরা রাজার সমাধিতে এসে নিয়মিত মন্ত্রপাঠ করতেন। উনাসের সময় থেকে সেই মন্ত্রগুলি দেওয়ালে  গ্ৰস্থিত কড়াশুরু হয়। যাতে করে পুরোহিতদের অনুপস্থিতিতেও রাজার আত্মা নিজেই মন্ত্রগুলো পড়ে নিতে পারেন।

এই মন্ত্রগুলি কায়রোর গ্র্যান্ড 

ইজিপশিয়ান  মিউজিয়মেও আছে।

 কফিনের ভেতরের দেওয়ালে লিপি গুলি লেখা আছে। আর সমস্ত ঘর জুড়ে পিরামিড লিপি ।

এই পিরামিড লিপি গুলি ছোট আকারে কফিনে লেখা হতো।

পরে অবশ্য প্যাপিরাসের পুঁথিতে লেখা মন্ত্র কফিনে রাখা হত বই এর মতন করে এই বইকে বলা হয় ----

 "দি বুক অফ দ্যা ডেড"।

স্বর্গের দেবতা আনুবিশেই শেষ বিচার করতেন।

হৃৎপিণ্ডের ওজন মেপে দেখতেন পাপের বোঝায় ভারী কি না এবং সেই হিসাবে বিচার করতেন।

দেবতা আনুবিশের কাছে পৌঁছনোর আগে মৃত ব্যক্তির আত্মাকে নানান প্রশ্নের উত্তর দিতে হত।

তার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও নানান মন্ত্র লেখা থাকত ওই 'বুক অফ দা ডেড' 'এতে।

মিশরের পিরামিড, কফিন, মমি এসকল দেখে মনে হয় প্রাচীন মিশর 

ইহ জীবন থেকে পরলোকের জন্য অধিক চিন্তিত ছিল।

আসলে তা নয় মিশর পরলোকে গভীর ভাবে বিশ্বাসী ছিলেন। আর সেই কারণে

মিশরের রাজা , রানী, ফেরাও  এবং বিত্ত বান মানুষেরা নিজেদের পরলোকের সুখের ব্যবস্থা নিজেরাই করে যেতেন।

বিশেষ ভাবে জানতে পারলাম "মিশরের

প্রথম পিরামিড অর্থাৎ জোসারের স্টেপ পিরামিড যিনি নির্মাণ করেন, 

রাজস্থপতি ও সভাপন্ডিত ইমহোটেপ-- তাঁকে দেবতার স্তরে উন্নীত করা হয়।

ইমহোটেপ একাধারে চিকিৎসাবিদ, স্থপতি ও জ্যোতির্বিদ ছিলেন।

আসওয়ানে কোন-অম্বু মন্দিরে একটি অর্ঘ্যবেদি, যেখানে চিকিৎসার যন্ত্রপাতি ইমহোটেপের উদ্দেশ্যে অর্পিত, আর ফিলে আইল্যান্ডে তাঁর মন্দিরও আছে।

জানলাম এগুলি জোসারের মৃত্যুর দুই হাজার বছর পর নির্মিত।

সেই কারণে এই সকল স্থপতি দেখে বোঝা যায় যে এগুলি শুধু পরলোক বাদ নয় বা পরলোকের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নয় এগুলি আদিম সভ্যতার  নানা প্রযুক্তির বিকাশের নিদর্শনও বটে।

=========================

★3>আমার দেখা মিশরের মন্দির গুলি।
যেটুকু বুঝেছি সেই টুকুই লিখছি।
প্রাচীন মিশরের  টেম্পেল গুলি বিশেষ গুরুত্ব পূর্ণ । টেম্পেল গুলিতে প্রাচীন মিশরের গড ও গডেস গন বাস করতেন।
প্রত্যেক গড ও গডেস আলাদা আলাদা টেম্পল যেখানে তারা পূজিত হতেন টেম্পেলের পৃষ্ট ও ফেরাও দের দ্বারা।
টেম্পল গুলিতে সকল মানুষের পূজার অনুমতি ছিলনা।
কেবল মাত্র রাজা ও পৃষ্ট গনই পূজা করতে পারতেন কঠোর শুদ্ধি করণের মাধ্যমে। সাধারন মানুষ কেবল মাত্র কোন উৎ সবের দিনে, যখন মনে করা হতো যে দেবতারা বাইরে বেরিয়ে আসতেন তখনই সাধারন মানুষ টেম্পেলে প্রবেশ করার অধিকার পেতেন।
প্রাচীন মিশরীয় টেম্পল গুলির মহত্ব  দেশের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য অতিশয় মূল্যবান ও বিষেশ  ভাবে জড়িত।
টেম্পল গুলির অধীনে প্রচুর জমি বা অঞ্চল থাকত।এবং প্রচুর শ্রমিক মানুষ চাকুরী রত থাকত । এবং মনে করা হত এখানে ফেরাও গন ও রাজা সরাসরি দেবতাদের সাথে যোগাযোগ করতেন।
দেশেরব মানুষ মন্দিরের নানান কাজে যুক্ত থাকতো। তারজন্য তারা অর্থ পেতো।
আর মন্দিরের অধীনে সমস্ত জমিতে কৃষি কাজ ,খনি থেকে পাথর উত্তোলন প্রভৃতি
কাজ হতো। উদ্বৃত্ব ফসল ও নানান সামগ্রী নিকট বর্তী অঞ্চলে রপ্তানি করে প্রচুর
অর্থ উপার্জন হতো। সেই অর্থে দেশের উন্নয়ন ও ফারাওদের নিজের নিজের কৃতী স্থাপনের কাজ হতো।
প্রাচীন মিশরীয় টেম্পল গুলির প্রধানত দুই ভাগে বিভ্ক্তো ছিলো।
প্রথমটি ছিল যেটি বিশেষ কোন গড  বা গডেজের জন্য উৎসর্গকৃত।
যেমন ইডফুর হোরাসের টেম্পেল। আসোয়ানের আইসিসির টেম্পেল।
দ্বিতীয় ধরার টেম্পেল গুলি সমাধিসংক্রান্ত যেগুলি ফেরাও দের মৃত্যুর পরে তাদের জন্য নিবেদিত হত। যেখানে ফেরাও রা দেবতা রূপে পূজিত হতেন।
যেমন  থীবজ নগরীর রামেসেজ 2  টেম্পল।
দেখে যেটূকু  বুঝেছি টেম্পল গুলি এমন স্যান্ড স্টোন  দিয়ে তৈরি  যা বেশি দিন টিকে থাকতে সক্ষম।
ঘরের মেঝে কোআটজ ( Courts) নামক পাথরের, এবং হলগুলির পিলার গুলি প্যাপিরাস গাছের ( যে গাছের ছাল থেকে পুরাকালে মানুষ কাগজ প্রস্তুত করতো) সেই গাছ, পালম গাছ, ও পদ্ম ফুলের আকারে তৈরি করতো। গৃহের ছাদ গুলি সাজানো হত তারা, নক্ষত্র, ইত্যাদি অঙ্কন করে। এবং আশ্রয়স্থল নির্দেশ করতো ঢিবির মতন সু উচ্ছ স্থানে। টেম্পেল গুলি পূর্ব পশ্চিম নির্দেশিত হত কারন মনে করা হত সূর্য পিলার গুলির উপরে উদিত হয়ে সামনের গেট দিয়ে প্রবেশ করে মন্দিরে উপরে অস্ত যেতো। মন্দিরের ভেতরে ফেরাও দের নানা কার্যের নিদর্শন,দেবতা পূজা অনুষ্ঠান, আর নানা যুদ্ধের চিত্র,
অঙ্কন করে সাজানো হত। আর বাহিরের দেওয়ালে ফেরাও গন দেখাতেন সকল  বিরক্তিকর বিশৃঙ্খলার ছবি।
প্রাচীন মিশরে প্রথম পৌরাণিক মন্দির তৈরি হয়েছিল আনুমানিক চার মিলিনিয়াম বি,সি, তে। নল খাগড়ার কুরে ঘরের মতন। সর্বশেষ মিসরীয় টেম্পল যেগুলি ফিলাটে তৈরী হয়ে ছিল 6th সেঞ্চুরি AD তে সেইগুলি ব্যবহারের অযোগ্য বলে  চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে পরবর্তীতে নানান রকমারি টেম্পেল তৈরী হয়েছে দীর্ঘ দিন ধরে।
            ( সংকলিত)
   
====================  

★4>কর্ণাক টেম্পল::-------

কর্ণাক মন্দির, মিশর  বা  কারনাক ট্যাম্পেল:
 
এই মন্দিরের শহরটি 2000 বছরেরও বেশি সময় আগে নির্মিত হয়েছিল। কর্ণাকের মন্দির হল স্থাপত্য-কাঠামো ও সুন্দর কারু কার্য সমন্বিত  নির্মিত একটি সুবিশাল ইমারত ভবন। এই অঞ্চলটি এখনো আধুনিক বিশ্বের বেশ কিছু  বিস্ময়করের  সঙ্গে তুলনা করা চলে। কর্ণাক টেম্পল  প্রায় 200 একর এলাকায় বিস্তারিত  এবং এখান থেকেই  সমস্ত ধর্মীয় ভবনগুলির তৈরী করা হয়েছিল । এই মন্দিরটি 4,000 বছরেরও বেশী সময় ধরে মিসরবাসীর তীর্থ স্থান।
মিশরের অনেক আকর্ষণীয় মন্দির গুলোর মধ্যে কার্নাক মন্দির সবচেয়ে প্রাচীন। কার্নাক মন্দিরটি প্রাচীন বৃহত্তম ধর্মীয় স্থাপনা। এটি মূলত একটি মন্দিরের শহর যা 2000 বছরেরও বেশি আগে নির্মিত হয়েছে। এটি বিশ্বের  সবচেয়ে জনপ্রিয় বিস্ময়গুলোর মধ্যে একটি। এখন এটি  একটি অনন্য পর্যটনস্থল।এখানকার  বিশাল হলগুলি হাইপোস্টাইল হল. ( হাইপোস্টাইল হল হলো বিশাল আকৃতির হল যেখানে বিশাল বিশাল পিলার , বেশির ভাগ হল গুলি অন্ধকার কিন্তু মাঝখানের হলে ছাদ কেটে জানালার আকারে করা হয়। এই হলটিকে প্রাচীন মিসরের  মঙ্গলের প্রতিভূ।
এখানকার পিলার গুলি PAPYRUS PLANTSএর আকারে তৈরী ( যে গাছ থেকে কাগজ তৈরি হয় ) সেই গাছের আকারে পিলার গুলি। অন্ধকারে পিলার গুলি দেখতে ঠিক পাপেরাস গছের মাথায় যেন পদ্মের কুড়ি। মাঝখানটা যেখানে সূর্যের আলো প্রবেশ করে সেখানে মনে হয় পাপেরাস গাছের মাথায় যেন উজ্জ্বল সূর্য ঝল মল করছে। ভিতরের দেওয়াল গুলি ধর্মীয় নানান ছবি খোদাই করা। হলের এই মাঝের হলে কেবল মাত্র বিশেষ  প্রিস্ট ও ফেরাও গণই  প্রবেশের অধিকার পেতেন। এবং এই হলে ধার্মিক ক্রিয়া অনুষ্ঠান সম্পাদিত হতো।
3000 হাজার বৎসরের পুরোনো লাক্সর টেম্পল,কর্ণক মন্দির ,ফিন্যাক্স এর মূর্তি এবং লাক্সররের টেম্পেল  অপূর্ব পিয়ার গুলি ও টেম্পল যে গুলি তৈরী করেছিলেন
তুতেনখামেন ,এবং আলেক্সজেন্ডার দি গ্রেট। এই সকল কারু কার্যের নিদর্শনেই  গভীর অনুভূতি র সাথে বিভিন্ন ফেরাও গনের মূর্তি ও ছবি ,যেগুলি মনের গভীরে গেথে রইলো।
এইরকম এক অদ্ভুত অনুভূতি মনকে যেন আছন্ন করে রইলো।
এমন অবস্থায় ক্রজে ফিরে রাত্রের ডিনার শেষ করে ক্রজের সৌন্দর্য মন্ডিত রুমে
মহা আরামে চতুর্থ দিনের সমস্ত  চিন্তা গুলি মাথায় নিয়ে  শুয়ে পড়লাম।
              ( সংকলিত)
      
==========================

★5>ভ্যালি অফ দা কিং::---

প্রাচীন মিশরের সবচেয়ে জনপ্রিয় শহর
লুক্সর বা লক্সোরের  তীর ঘেঁষে বয়ে চলা নীলনদের পশ্চিম পাশে পাহাড় দিয়ে ঘেরা এলাকার নামই হলো ‘’ভ্যালী অব কিংস‌”। এটি একটি উপত্যকা যা মিশরের রাজা ও রাজার পরিষদবর্গের জন্য নির্মাণ করা হয়। প্রায় ৫০০ বছর পূর্বে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এই উপত্যকায় ৬৩ টি সমাধি ও ১২০ টি প্রকোষ্ঠ আছে ।
রাজকীয় সমাধিটি চমৎকার মিশরীয় পুরাণের কাহিনীর দৃশ্য দিয়ে সাজানো হয়েছে যা দেখে প্রাচীন যুগের বিশ্বাস ও ধর্মানুষ্ঠান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
এই জায়গা চারিদিকে পাহাড় দিয়ে ঘেরা যার পেছনে নীল নদ ও সামনে মরুভূমি।
        
  
========================

★6>আবু সিম্বেল মন্দির’।

আবু ও সিম্বেল এই দুটি মন্দিরকে নীলনদের প্রভাব থেকে উদ্ধার করার কার্যক্রম। মানুষের এই অবিস্মরণীয় পুরাকীর্তিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে ইউনেস্কো এগিয়ে আসে। ১৯৬৪ সালে ইউনেস্কো ও মিশর সরকারের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয় উদ্ধার কার্য। ইঞ্জিনিয়ার ও স্থপতিদের ঐকান্তিক চেষ্টায়, মন্দিরটি নতুনভাবে নির্মাণ করা হয় আসওয়ান হাই ড্যাম রিজার্ভারের উপর। পরিকল্পনা অনুসারে, প্রথমে  মন্দির দু’টিকে টুকরো-টুকরো করে কেটে হাজার হাজার   ভাগে  করে । প্রত্যেকটি ভাগকে নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করে, কাছের একটি পাহাড়ের উপর তোলা হয়। একেকটা অংশের ওজন প্রায় ত্রিশ টন। প্রত্যেকটি অংশকে তুলে তীরের চেয়ে ৬৫ মিটার উঁচুতে হুবহু মূল মন্দিরের অনুকরণে সাজিয়ে তাদের বসানো হয়। মূল মন্দির ও পাহাড়ের চূড়ার মাঝখানে যে হাজার-হাজার টনের পাথর ছিল। কিন্তু নতুন স্থাপিত মন্দিরে সেই পাথরের পরিবর্তে তৈরি করা হয় কংক্রিটের বিশাল ডোম। ঠিক যেন উল্টানো হাঁড়ির মতো দেখতে এই ডোমের ছাদের উপর লক্ষ-লক্ষ টন বালি ফেলে, তাকে পাহাড়ের আকৃতি দেওয়া হয়। অনেক হিসেব কষে সূর্যের কক্ষপথের সঙ্গে মন্দিরের অবস্থানকে আগের মতোই মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে । সম্পূর্ণ কাজটি করতে সময় লেগেছিল প্রায় চার বছর। আর এভাবেই বর্তমান কালের স্থপতিদের তত্ত্বাবধানে মন্দিরটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করা হয়।

বর্তমানে মন্দিরটির ‘নতুন’ কলেবরে তৈরি, কিন্তু অবিকল পুরানো চেহারার মতো। তফাৎ শুধু একটাই যে, আধুনিক যুগে যন্ত্রের সাহায্যে যে কাজ করা হয়েছে, বহু যুগ আগে লক্ষ-লক্ষ টন ওজনের পাথর কাটা ও বসানোর মতো অতিমানবীয় কাজ সে সময়কার মানুষ তাদের আপন হাতে ও বুদ্ধিমত্তার জোরে সম্পন্ন করেছিল যা সত্যিই অবিশ্বাস্য। এভাবে এ যুগের নামকরা স্থাপত্যদের সার্বিক প্রচেষ্ঠায় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হলো প্রাচীনকালের স্থপতিদের কলা-কৌশলে তৈরি পৃথিবীর এক বিস্ময়কর পাথুরে স্থাপত্য ‘আবু সিম্বেল মন্দির’।
              ( সংকলিত)
       
=====================

★7>আবু আল-আব্বাস আল-মুরসি মসজিদ::--
আলেকজান্দ্রিয়া মিশর শহরের মসজিদ। এটি ত্রয়োদশ শতাব্দীর মার্সিয়ান আন্দালুসি সুফি সাধক আবুল আব্বাস আল-মুরসির উদ্দেশ্যে উত্সর্গীকৃত করে তৈরি করেন, এবং সমাধিতে রয়েছে এখানে।
মসজিদটি বর্তমান ডিজাইন করছেন ইউজিনিও ভালজানিয়া এবং মারিও রসি ১৯২৯/৪৫ সালে নতুনভাবে ডিজাইন করেছিলেন এবং এটি মিশরের পুরানো কায়রো ভবন মত করা হয়েছে।
            ( সংকলিত)
  
=========================

★8>তুতানখামেনের সমাধি:----

সমাধি আর অভিশাপেই বিখ্যাত তুতানখামেন।
তুতানখামেন মিশরের ফারাও ছিলেন না
তিনি ছিলেন পুরোহিততন্ত্রের হাতের পুতুল। কিন্তু তাঁর মমির সঙ্গে পাওয়া গিয়েছে রাজকীয় ঐশ্বর্য, এবং জানাগেছে
মৃতের প্রতিশোধ নেওয়ার অলৌকিক কিংবদন্তি।
তুতানখামেন ছিলেন ফারাও চতুর্থ আমেনহোটেপ বা আখেনাতেনের জামাই। আখেনাতেন-এর স্ত্রী ছিলেন সুন্দরী নেফারতিতি। এঁদের পুত্রসন্তান ছিল না, ছিল সাতটি কন্যা। এঁদেরই এক জামাই তুতানখামেন। তিনি মিশরের ১৮তম রাজবংশের সবচেয়ে কম দিনের বালক রাজা। তাঁর জন্ম সম্ভবত আমরানাতে, খ্রিস্টপূর্ব ১৩৪১ অব্দে, এবং রাজত্বকাল খ্রিস্টপূর্ব ১৩৩২-১৩২৩
তুতানখামেনের আসল নাম ছিল শ্বশুরের পূজিত সূর্যদেব বা আটন-এর নামে, তুত আনখ আটন। প্রথমেই পুরোহিতদের আদেশে তিনি তাদের পছন্দের দেবতা আমনের নামে নাম বদল করে নতুন নাম নেন, তুত আনখ আমন, বা তুতানখামেন। মিশরের মন্দিরে মহাসমারোহে আমন দেব আবার পুজো পেতে লাগলেন। সারা দেশ থেকে দেবতা আটন এবংআখেনাতেন- এর নাম মুছে ফেলা শুরু হল।
পুরোহিতদের হাতের পুতুল, শ্বশুরের নাম ও পূজিত দেবতাকে নির্বাসনে পাঠিয়েছেন, তবুও প্রচারের সব আলো
তুতানখামেনের এত প্রচার মাত্র একটি কারণে। তাঁর সমাধি থেকে উদ্ধারকৃত অতুল ঐশ্বর্যের জন্য। মিশরের ইতিহাসে সবচেয়ে ছোট এই সমাধির মধ্য থেকে পাওয়া গেছে ৫,৩৯৮টি অপরূপ সামগ্রী। সোনার মুকুট, সোনার শবাধার, তুতানখামেনের মমি একটির ভিতর আর একটি, এভাবে তিনটি সোনার আধারের মধ্যে রাখা ছিল। বহুমূল্য রত্নরাজি ছাড়াও পাওয়া গিয়েছে উল্কাপিণ্ডের লোহা দিয়ে নির্মিত সুদৃশ্য ছোরা, হাতির দাঁতের হাতলের সঙ্গে উটপাখির পালকের হাতপাখা ইত্যাদি। এ ছাড়াও পাওয়া গিয়েছে অপূর্ব সুন্দর কারুকাজ করা কাঠের মূর্তি। আর একটি অদ্ভুত কাঠের জানোয়ারের মূর্তি উদ্ধার হয়েছে যার শরীর ও পা বেড়ালের, মুখটা ঘোড়ার, মুখে গজদন্ত দ্বারা নির্মিত বিড়ালের মতো তীক্ষ্ণ শ্বদন্ত। এই সমাধি থেকে পাওয়া রাজকীয় ঐশ্বর্যের পুরোটাই প্রায় তাঁর শ্বশুর ও দাদাশ্বশুরের সম্পত্তি। তুতানখামেনের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে মিশরের ইতিহাসের ১৮তম রাজবংশের পরিসমাপ্তি ঘটে।
তুতানখামেনের সমাধি আবিষ্কার হওয়ার
পর একদিকে  যেমন সমাধি থেকে প্রাপ্ত অতুল ঐশ্বর্যের চর্চা শুরু হয়, তেমনি আবার দু’টি মুখরোচক গল্পের চর্চারও
ছড়িয়ে পড়ে।
প্রথমটি হচ্ছে, তুতানখামেনের হত্যারহস্য। বলা হয়, অত্যন্ত দুর্বল স্বাস্থ্যের এই ফারাওয়ের কোনও বংশধর না থাকায়, ক্ষমতা দখলের লোভে তার স্ত্রী আঁখেসেনামুন নাকি তাঁদের ঘোড়ার গাড়ির কোচোয়ানকে দিয়ে তাঁকে হত্যা করান।
কিন্তু পরে প্রমাণিত যে, সেই সময়ে ফারাওদের নিজের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেই বিয়ে হত। সম্ভবত সেই কারণেই তুতানখামেনের অসংখ্য জিনগত রোগ ছিল। পায়ের সমস্যায় ঠিকমতো হাঁটতে পারতেন না, বেতের ছড়িতে ভর দিয়ে চলতেন। তাঁর ব্যবহৃত ছড়িগুলি সমাধির মধ্যেই পাওয়া গেছে। এছাড়াও গন্নাকাটা বা ক্লেফ্ট প্যালেট সমস্যার জন্য নাকি সুরে কথা বলতেন। বিজ্ঞানীদের মত, এত কম বয়সে মৃত্যুর কারণ সম্ভবত মিশরের কুখ্যাত প্লাসমোডিয়াম ফ্যালসিপেরাম মশার কামড়।
দ্বিতীয় মুখরোচক গল্প হল, তুতানখামেনের অভিশাপ। এ প্রসঙ্গে অবশ্যই আসবে বিশিষ্ট মিশর-বিশেষজ্ঞ হাওয়ার্ড কার্টারের নাম। ধনকুবের লর্ড কার্নারভনের সহযোগিতায় শুরু হয় ইতিহাসে বিস্মৃত তুতানখামেনের সমাধি খুঁজে বের করার প্রয়াস। কারণ ততদিনে ইতিহাসবিখ্যাত ফারাওদের পিরামিড এবং কিংস ভ্যালির সমাধিগুলি তন্নতন্ন করে খুঁজেও তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। ১৯২২ সালের ২৬ নভেম্বর তুতানখামেনের মূল সমাধিগৃহে প্রবেশ করা হয়। সমাধিটি মাত্র ১১০ বর্গফুট আয়তনের।
এই অসাধারণ আবিষ্কার সারা পৃথিবীতে আলোড়ন ফেলে।
সেযুগের গণমাধ্যমও কাগজের কাটতি বাড়াতে তুতানখামেনের মমির অভিশাপ নাম দিয়ে অলৌকিক সব খবর ছাপতে থাকে। কেউ লেখেন, সমাধির উপরে উল্লেখ করা আছে, বাইরের কেউ সমাধিতে প্রবেশ করলে মৃত্যু অনিবার্য। কেউ কেউ সমাধির মধ্যে রক্ষিত শেয়ালদেবতা অনুবিস ও মমি নিয়ে নানা মনগড়া স্টোরি ছাপেন।
এঁরা কেউ হিয়েরোগ্লিফিক লিপি না বুঝেই লিপির বক্তব্য বুঝে ফেলতেন!
অভিশাপের নামে যেসব গালগপ্পো বহুল প্রচারিত ছিল, তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিল,
১) ফারাওদের রাজমুকুটে উদ্যতফণা গোখরো সাপের মূর্তি থাকত। সমাধি উন্মুক্ত করার দিন ঘরে ফিরে কার্টার সাহেব দেখেন যে, একটি মিশরীয় গোখরো তাঁর পোষা হলুদ ক্যানারি পাখিটিকে গিলে খাচ্ছে।
২) দাড়ি কাটতে গিয়ে খুরে গাল কেটে যাওয়া কিছু আশ্চর্য নয়। কিন্তু প্রজেক্টের পৃষ্ঠপোষক লর্ড কার্নারভনের ক্ষেত্রে তা হয়ে দাঁড়ায় সেপ্টিসেমিয়া। তখন ওষুধপত্র তত উন্নত ছিল না, তাই ১৯২৩ সালের ৫ এপ্রিল কায়রোতে ওঁর মৃত্যু ঘটে। আবার কাকতালীয় ভাবে ওই দিন সকালেই নাকি লন্ডনে তাঁর পোষা কুকুরটিও মারা যায়। দুয়ে দুয়ে চার করে ভয়ঙ্কর সব গল্প ছড়িয়ে পড়ে।
৩) এর পর এই উৎখনন কাজের সঙ্গে যুক্ত লোকেদের পরিবারের কারও কিছু হলেই, মমির অভিশাপের গল্প জুড়ে দেওয়া হত। লর্ড কার্নারভনের এক সৎভাই অন্ধ হয়ে যান, কার্টারের এক সহযোগী আর্সেনিকের বিষক্রিয়ায় মারা যান— সবই নাকি মমির অভিশাপের ফল।
আর হাজার হাজার বছর ধরে চোরের দল, কবরে ঢুকে সব কিছু লুটেপুটে নিয়ে গেছে, গিজার বড় বড় পিরামিডের মধ্যে আর একটিও মমি অবশিষ্ট নেই, তাদের উপরে কোনও অভিশাপ বর্ষণ হয়নি। গত শতকেও কায়রোর রাস্তায় প্রকাশ্যে সারি সারি মমি বিক্রি হত, সেসব নিয়ে কোনও গল্প নেই। স্বয়ং হাওয়ার্ড কার্টার সুস্থ শরীরে ৬৪ বছর অবধি বেঁচে ছিলেন।
সেই ঘটনার প্রায় একশো বছর হতে চলল। কিন্তু মমির অভিশাপ নিয়ে লাগাতার টিভি শো, সিনেমা-র বিরাম নেই। কারণ মানুষ গল্প শুনতে চায়, আর কে না জানে, গল্পের বাজারে ভূত প্রেত বা অলৌকিক কাহিনির কোনও মার নেই।
        
            ( সংকলিত)
      

========================

★9>আলেক্সান্দ্রিয়া কপ্টিক:-------

Rakotə,  হল মিশরের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং এই শহরেই মিশরের বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর অবস্থিত। আলেক্সান্দ্রিয়া উত্তর-পশ্চিম মিশরে ভূমধ্যসাগরের উপরে এবং নিচে প্রায় 32 কিলোমিটার (20 মাইল) পর্যন্ত বিস্তৃত। এই শহরের মিশরের বিখ্যাত গ্রন্থাগার বিবলিওথেকা আলেক্সান্দ্রিয়া অবস্থিত। এটি শিল্প ও বাণিজ্য কেন্দ্র, কারণ এর সাথে সুয়েজহয়ে আসা প্রাকৃতিক গ্যাস এবং তেলেরপাইপলাইন রয়েছে। এই শহরটি গভর্ণর শাসিত এবং এ ধরনের শহরকে মিশরে মুহাফাজা বলা হয়।
প্রাচীনকালে এই শহরটি বাতিঘর (প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি) এবং গ্রন্থাগারের(প্রাচীন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গ্রন্থাগার) জন্য বিখ্যাত ছিল।
সম্প্রতি আলেক্সান্দ্রিয়ার সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় সামুদ্রিক নৃবিজ্ঞান এর উপর ভিত্তি করে পরিচালিত গবেষণায় (যা 1994 সালে শুরু হয়েছিল) আলেক্সান্ডারের আগমনের পূর্বে যখন এই শহরের নাম ছিল রাকোটিস সেই সময় এবং টলেমীয় রাজত্বেরসময়ের আলেক্সিন্দ্রিয়া সম্বন্ধে নতুন অনেক তথ্যই আছে। যা প্রাচীন ও আধুনিক স্থাপনার নিদর্শন।
আলেক্সান্দ্রিয়ার নামকরণ করা হয়েছে এর প্রতিষ্ঠাতা আলেক্সান্ডার দি গ্রেটের নামানুসারে। আলেক্সান্ডারের মৃত্যুর পর তার অন্যতম সেনাপতি টলেমী আলেক্সান্ডারের সাম্রাজ্যের এই অংশের অধিকারী হন। এটি ছিল মিশরের টলেমীয় শাসকদের রাজধানী এবং হেলেনীয়পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম শহর যা আয়তন এবং সম্পদে একমাত্র রোমের থেকে পিছনে ছিল। মিশরের মধ্যযুগীয় মুসলিম শাসকগণ যখন কায়রো শহরের গোড়াপত্তন ঘটান তখনই আলেক্সান্দ্রিয়ার পতনের শুরু  হয় এবং উসমানীয় রাজত্বের সময় এটি নিছক একটি ছোট জেলেপাড়া হিসেবে পরিগণিত হয়।
আলেক্সান্ডার দি গ্রেট আলেক্সান্দ্রিয়া নগরী প্রতিষ্ঠা করেন আনুমানিক 334 খৃস্টপূর্বাব্দের দিকে।
সঠিক তারিখ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। প্রতিষ্ঠার সময় এর প্রকৃত নাম ছিল Aleksándreia; ।
এই নগরী তৈরিতে আলেক্সান্ডারের প্রধান স্থপতি হিসেবে কাজ করেছেন রোড্‌সের ডাইনোক্রেট্‌স।
                  ( সংকলিত)
             
=========================

★10>আলেকজান্দ্রিয়ার নুতন এবং   
               প্রাচীন গ্রন্থাগার।::----
প্রাচীন বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাগার দ্য গ্রেট লাইব্রেরি অফ আলেকজান্দ্রিয়া।
ইতিহাসের কথা পরে লিখছি,
আগে আমি নিজে যেমন দেখেছি  আলেক্সান্দ্রিয়ার  গ্রন্থাগারটি, সেই কথাই  আগে লিখছি।

এতো বিশাল গ্রন্থাগার ভাবনার অধিক।
এতো বড় যে একটি গ্রন্থাগার হতে পারে সেটা ভেবেই কোন কুল-কিনারা পাচ্ছিনা।
দেখেই মনে হচ্চে সেই প্রাচীন গৌরব পুনরুদ্ধারে এটি এখন বিশ্বঐতিহ্য ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে।
আমরা কাঁচের নির্মিত রাস্তা দিয়ে ভবনে প্রবেশ করলাম। সম্পুর্ন কাঁচের সিঁড়ি।
বাইরের দেওয়াল টি বাঁকানো এবং বৃহৎ আকারের যেটি  আসওয়ানের গ্রানাইট থেকে তৈরি। ভেতরে শক্ত কাঠের লাইন হল। এ ছাড়া মেঝে ওক গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি।১১ তলা লাইব্রেরি টি
এর ভেতরে আছে  জাদুঘর, একটি সম্মেলন কেন্দ্র, প্ল্যানেটেরিয়াম এবং একটি পাঠকক্ষ। পাঠকক্ষ ১১টি স্তরে দুই হাজার জন এক সময়ের পড়াশোনা করতে পারে।
প্রতিটি পড়ার টেবিলে আছে অত্যাধুনিক লেপটপ। যে কোন ছাত্র ছাত্রী টেবিলে বসেই লেপটপে ইচ্ছা অনুসারে পড়াশুনা করতে পারে।
বর্তমানে ৮০টি ভাষায় ১৫ লক্ষ বই এখানে আছে, তবে সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ৮০ লক্ষ গ্রন্থ। রয়েছে ৫০ হাজার ম্যাপ, ১০ হাজার পাণ্ডুলিপি, ৫০ হাজার দুর্লভ গ্রন্থ এবং ১০ হাজার আধুনিক বিশ্বের কপি ও ৫০ হাজার ভিজ্যুয়াল অডিও ফাইল।
প্রতিটি বইয়ের তাকে ডিজিটাল সংক্রিয় ব্যবস্থায় বই খুঁজে নেবার ব্যবস্থা।
তাও আবার ৮০ টি ভাষায়।
ওই বিশাল বইয়ের সমুদ্রে আমি খুঁজে পেয়েছিলাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলি সহ বেশকিছু বই। পেয়েছিলাম
স্বামী বিবেকানন্দের কিছু বই।
বাংলা ও ইংরেজিতে। পেয়েছিলাম আমাদের রামায়ণ মহাভারতের মতন বেশ কিছু গ্রন্থ।
গ্রন্থাগারের বেজমেন্টে ডিজিটাল ল্যাবের দেখলাম। যেখানে পুরাতন বইকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাল করার প্রোগ্রাম আছে। জানলাম বর্তমানে প্রতিবছর গ্রন্থাগারে ৮০ লক্ষ ভিজিটর আসা-যাওয়া করেন।
এসত্যি আমার ভাবনার তথা কল্পনার বাইরে।
আলেকজেন্দ্রিয়ার পুস্তক ভান্ডার,
তিন ঘণ্টা দেখেও মনে হাঁ হাঁ কার নিয়েই ফিরে আসলাম।
এমন বিশাল পুস্তক ভান্ডার।
চোখে না দেখলে বিশ্বাস করাই যে ভার।
বিশাল পরিসর,সমগ্র বিশ্বের বইয়ের পাহাড়।
ই-বুকের সংগ্রহ,যেন মনেহয় ই-বুকের সমুদ্র।
আহা কি দেখিলাম, চোখে দেখেও বিশ্বাস হারালাম।
এবারে বলি প্রাচীন গ্রন্থাগারের ইতিহাস::---সেটি নাকি আরও বড় ছিল।
আলেকজান্দ্রিয়ার প্রাচীন গ্রন্থাগার বা আলেকজান্দ্রিয়ার রাজ-গ্রন্থাগার ছিল প্রাচীন বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাগারগুলির একটি।
এটি মিশরেরআলেকজান্দ্রিয়া শহরে অবস্থিত ছিল। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে মিশরের টলেমিক রাজবংশের পৃষ্ঠপোষকতায় একটি প্রধান শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে এই গ্রন্থাগারটি গড়ে উঠেছিল।
৩০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোমানদের মিশর আক্রমণের সময় পর্যন্ত এই গ্রন্থাগার কার্যকরী ছিল। গ্রন্থ সংগ্রহের পাশাপাশি এই গ্রন্থাগারে বক্তৃতাকক্ষ, সভাকক্ষ ও বাগানও ছিল। এই গ্রন্থাগার প্রকৃতপক্ষে ছিল মিউজিয়াম নামে এক বৃহত্তর গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অংশ। এখানে প্রাচীন বিশ্বের বহু বিশিষ্ট দার্শনিক পড়াশোনা করেছিলেন।
এই গ্রন্থাগার ছিল মিশরের ঐশ্বর্য ও ক্ষমতার প্রতীক। সারা পৃথিবী থেকে বই ধার করে তার অনুলিপি তৈরি করা ও সেই বই গ্রন্থাগারে নিয়ে আসার জন্য এই গ্রন্থাগারে কর্মচারী নিয়োগ করা হত। অধিকাংশ বইই রাখা হয় প্যাপিরাস স্ক্রোলের আকারে। তবে ঠিক কতগুলি স্ক্রোল এই গ্রন্থাগারে রক্ষিত ছিল তা জানা যায় না।
এই গ্রন্থাগার পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল। যার ফলে বহু স্ক্রোল ও বই চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়। আলেকজান্দ্রিয়ার প্রাচীন গ্রন্থাগারের অগ্নিকাণ্ড তাই সাংস্কৃতিক জ্ঞান ধ্বংসের প্রতীক। প্রাচীন গ্রন্থগুলিতে এই অগ্নিকাণ্ডের সময় নিয়ে বিতর্ক দেখা যায়। কে এই অগ্নিসংযোগ ঘটিয়েছিলেন তা নিয়েও মতান্তর রয়েছ।
আলেকজান্দ্রিয়ার প্রাচীন গ্রন্থাগারের আকার কেমন ছিল, তা সঠিক না জানা যায়নি।
তবে নানান লেখকের লেখা থেকে পাওয়া গেছে কিছু তথ্য প্রাচীন গ্রন্থগুলির বর্ণনা অনুসারে, "এই গ্রন্থাগারে স্ক্রোলের বিশাল সংগ্রহ, আঁকাবাঁকা পায়ে চলার পথ, একত্র ভোজনের কক্ষ, পড়ার ঘর, সভাকক্ষ, বাগান ও বক্তৃতাকক্ষ ছিল। আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলির শিক্ষাপ্রাঙ্গণে এই ধরনের নকশা দেখা যায়। গ্রন্থাগারের একটি অধিগ্রহণ বিভাগ এবং একটি ক্যাটালগিং বিভাগ ছিল। একটি বড়ো ঘরে তাকে প্যাপিরারের সংগ্রহ রাখা হত। এগুলিকে বলা হত "বিবলিওথেকাই" । জনশ্রুতি, এই তাকগুলির উপর একটি ফলকে লেখা থাকত: "আত্মার চিকিৎসার স্থান"।
গ্রন্থাগারটি ছিল আলেকজান্দ্রিয়ার মিউজিয়ামের একটি অংশ। এটি ছিল একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান।গ্রন্থাগার ছাড়াও মিউজিয়ামে ছিল জ্যোতির্বিদ্যা ও শরীরস্থান পঠনপাঠনের কক্ষ এবং দুষ্প্রাপ্য প্রাণীদের একটি চিড়িয়াখানা। যেসব বিশিষ্ট চিন্তাবিদ এই গ্রন্থাগারে পড়াশোনা ও গবেষণা করেছেন তাঁদের মধ্যে গণিত, প্রযুক্তিবিদ্যা, শারীরবিদ্যা, ভূগোল ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিশিষ্ট প্রথীতযশা মণীষীরা আছেন। এঁরা হলেন ইউক্রিড, আর্কিমিডিস, এরাটোস্থেনিস, হেরোফিলাস, এরাসিস্ট্রাটাস, হিপ্পারাকাস, এডেসিয়া, পাপ্পাস, থেওন, হাইপেশিয়া, আরিস্টারকাস অফ সামোস ও সেন্ট ক্যাথারিন।"
"কথিত আছে, রাজা টলেমি দ্বিতীয় ফিলাডেলফাসের রাজত্বকালে (309-246 খ্রিস্টপূর্বাব্দ) গ্রন্থাগারে 500,000-এরও বেশি স্ক্রোল ছিল।কথিত আছে, বিবাহের যৌতুক হিসেবে পারগামাম গ্রন্থাগারের 200,000 স্ক্রোল মার্ক অ্যান্টনি ক্লিওপেট্রাকে উপহার দিয়েছিলেন।"
"গ্রন্থ সংগ্রহের পর প্রধান অনুলিপিগুলি তৈরি করা হত সারা পৃথিবীর বিদ্বান, রাজপরিবার ও ধনী গ্রন্থ সংগ্রাহকদের জন্য। তা থেকে গ্রন্থের প্রচুর আয়ও হত।"
"এই গ্রন্থাগারের বিবরণ ইতিহাস ও কিংবদন্তির মিশ্রণই রয়ে গিয়েছে।
আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগারের দায়িত্ব ছিল সারা বিশ্বের জ্ঞান সংগ্রহ করা। গ্রন্থাগারের অধিকাংশ কর্মচারী প্যাপিরাসে বই অনুবাদের কাজে ব্যস্ত থাকতেন।  রোডস ও এথেন্সেরবইমেলায় ঘুরে রাজার অর্থে প্রচুর বই সংগ্রহ করে এই কাজ চলত।"

"এই গ্রন্থাগারের সম্পাদকেরা হোমারের গ্রন্থ সম্পাদনার জন্য বিশেষভাবে খ্যাত ছিলেন। অধিকতর বিখ্যাত সম্পাদকেরা সাধারণত "প্রধান গ্রন্থাগারিক" উপাধি পেতেন। এঁদের মধ্যে জেনোডোটাস, রোডসের অ্যাপোলোনিয়াস, এরাটোস্থেনিস, বাইজান্টিয়ামের অ্যারিস্টোফেনস ও সামোথ্রেসের অ্যারিস্টারকাসের নাম উল্লেখযোগ্য।প্রথম গ্রন্থপঞ্জিকার ও পিনাকেস-এর রচয়িতা ক্যালিমাকাস এই গ্রন্থাগারের প্রথম ক্যাটালগ তৈরি করেছিলেন। তবে তিনি এই গ্রন্থাগারের প্রধান গ্রন্থাগারিক ছিলেন না।খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে গবেষকরা নিরাপদতর স্থানে বড়ো রাজার পৃষ্ঠপোষকতা লাভের আশায় এই গ্রন্থাগার ছেড়ে যেতে শুরু করেন।
145 খ্রিস্টপূর্বাব্দে অষ্টম টলেমি আলেকজান্দ্রিয়া থেকে সকল বিদেশি গবেষককে বিতাড়িত করেন।"

খ্রিষ্টপূর্ব 48 অব্দে জুলিয়াস সিজার এবং মিশরের রাজা টলেমি ত্রয়োদশ (Ptolemy XIII) -এর মধ্যে যুদ্ধের সময়, সিজারের সৈন্যরা জাহাজে আগুন লাগিয়ে দেয়। এই সময় জাহাজ সংলগ্ন এই গ্রন্থাগারে আগুন ধরে যায়। এই গ্রন্থাগারটি পুড়ে যাবার পর, বিশেষজ্ঞরা মূল গ্রন্থাগারের উপগ্রন্থাগার হিসাবে একটি ছোটো গ্রন্থাগার ব্যবহার করতেন। মূলত এই ছোটো গ্রন্থাগারটি ছিল অন্য শহরে। এর নাম ছিলSerapeum। এই সময় প্রায় 40,000 গ্রন্থ পুড়ে যায় এবং প্রায় সম পরিমাণ বই সম্পূর্ণ পুড়ে না গেলেও পাঠের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল।"

Bulaq Press/Amiri Press
বলাক প্রেস / আমিরী প্রেস
অতি সাধারণ কাঠের লেটার যেগুলি
ব্যবহার হতো বলাক প্রেসে 1820তে।
আমিরী প্রেস/আমিরীয়া প্রেস কেই
বলাক প্রেস বলা হত।
যেহেতু এই প্রেস টি বলাক নামক স্থানে ছিলো তাই এমন নাম।
এটি কায়রোর বিশেষ প্রভাব শালী,জরুরি
এবং মূল্যবান তুর্কি ভাষার প্রেস।
            ( সংকলিত)
=========================

11>আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর::--

সমুদ্রবন্দর থেকে বন্দরে প্রবেশ বা নির্গমণের ক্ষেত্রে দিক নির্দেশনা প্রদায়ী একটি বাতি ঘর।  এ বাতিঘরটিকে প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের একটি হিসাবে বিবেচনা করা হয়। খ্রিষ্টপূর্ব ৩য় শতাব্দীতে মিশরের সম্রাট প্রথম টলেমি ফ্যারোসে দ্বীপে এই বাতিঘর তৈরি করিয়েছিলেন। এই বাতিঘরটিই আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর নামে খ্যাত। উল্লেখ্য প্রাচীন যুগে সমুদ্রপথে জাহাজ ঘনকুয়াশা কিংবা রাতের অন্ধকারে নাবিকরা পথ হারিয়ে বন্দরে পোঁছুতে পারতো না। এই অসুবিধার জন্য নাবিক এবং ব্যবসায়ীরা আতঙ্কগ্রস্ত থাকতো। এই অসুবিধা দূর করার জন্য 270 খ্রিষ্টাব্দে ভূমধ্যসাগর উপকূলে আলেকজান্দ্রিয়া নামক স্থানে এই বাতিঘর স্থাপন করা হয়।

এই বাতিঘরটির মূল ভিত্তিভূমির আয়তন ছিল 110 বর্গফুট। এর বাইরে ছিল দেওয়াল উচ্চতা ছিল
450 ফুট। মূল স্তম্ভটিকে ঘিরে পেঁচানো সিঁড়ি ছিল। কোনো কোনো মতে, এই সিঁড়ির বাইরে দেয়াল ছিল। এ সিঁড়ি বেয়েই উপরে ওঠে 450 ফুট উঁচুতে রক্ষিত একটি বেদিতে বিশাল অগ্নিকুণ্ড জ্বালিয়ে দেওয়া হতো। রাত্রিবেলায় খোলা সমুদ্র প্রায় 50 মাইল দূর থেকে এই অগ্নিকুণ্ড দেখা যেতো।     
          ( সংকলিত)
    
=============================                                
            12>স্ট্যানলি সেতু
    
মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ায় অবস্থিত স্ট্যানলী সেতু 331 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে মহান আলেকজান্ডার দ্বারা প্রবর্তিত আলেকজান্দ্রিয়া, গ্রেইকো-রোমান মিশরের রাজধানী হয়ে উঠেছিল।
আজকের দিনে, আলেকজান্দ্রিয়া “ভূমধ্য সাগরের মুক্তো” বা
“দ্য পার্ল অফ মেডিটারেনিয়ান” নামে সুপরিচিত রয়েছে এবং
এটি হল মিশরের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর।
একটি বাতাবরণের সঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যের তুলনায় ভূমধ্যসাগরীয় হয়ে উঠেছে।
এখানকার সাংস্কৃতিক বহু আকর্ষণ ও ধ্বংসাবশেষের প্রাচুর্য্যতা এই শহরটির
পরিদর্শনকে সুন্দর করে তুলেছে যা তার মহিমান্বিত অতীতের প্রসঙ্গে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
          ( সংকলিত)
    
===========================
13>কম এল শোকাফার ধ্বংসাবশেষ:

কোম এল সোকোয়াফারের সমাধি হোল আলেকজান্দ্রিয়ার সবচেয়ে অত্যাশ্চর্য স্মৃতিস্তম্ভ।মধ্য যুগের সাতটি আশ্চর্যের মধ্যে একটি। এটি একটি ভূগর্ভের নিচে বিশাল সবাধার। এবং এটি  মিশরের  সেরা সংরক্ষিত ধ্বংসাবশেষ। এই সমাধি শহরের পূর্বপাড়ে অতীত মিশরের প্রথম শতাব্দীর AD এর নিদর্শন।

এই সবাধার টি আবিষ্কারের পৌরাণিক অনেক গল্প কথা আছে।

পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে একটি গাধা পাথর বোঝাই  একটি টাঙা গাড়ি টেনে নিয়ে যাচ্ছিল, হটাৎ গাধাটি একটি গর্তে পরে যায়।সেই গর্ত টি একটি মাটির গর্ভে কবরের সুরঙ্গ।

আরও একটি প্রচলিত কাহিনি আছে,

মসিউর এস-সাঈদ আলী গিবিয়া নামে এক মানুষ যিনি এক দিন এলাকার মিউজিয়ামের     অধিকারীকে  জানায়  যে সে মাটির নিচে একটি কবরের সন্ধান পেয়েছেন এটি একটি ভূগর্ভস্থ কবর।

প্রথমে মিউজিয়ামের অধিকারী গণ এহেন খবরকে উপেক্ষা করেন এবং সন্দেহজনক বলে মনে করেন। কিন্তু অচিরেই তাদের ভুল বুঝতে পেরে নিজেরাই দুঃখ প্রকাশ করেন। প্রকৃতপক্ষে একটি সেই কালের শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার ছিল।

কম এল শোকাফার ক্যাটাকোমব এক বৃহত্তম সমাধি যেটি গ্রীক-রোমান যুগের অনুরূপ যেটি আবিষ্কৃত হোয়েছে।

এটি ভূগর্ভে লুকন শতাব্দীর জন্য কবর টানেল ছিলো। এইটি বিভিন্ন প্রাচীন শিল্প ও সংস্কৃতির একটি মিশ্রন। কবরটির প্রবেশ দ্বার গড (God) দ্বারা সুরক্ষিত থাকতো।কম এল শোকাফার ক্যাটাকোমব কার্য্য কর ছিলো দ্বিতীয় শতাব্দীর কাছাকাছি সময়ে। এমন অক্ষত  সাক্ষী থাকার নির্দশন খুব বেশি নেই যা  তৎ কালীন মিসরীয়,গ্রিক,রোমান  এই তিন সভ্যতার মিশ্রণের নিদর্শন।

এই কবরটি সম্পুর্ন রূপে একটি আদর্শ কবর।  কম এল শোকাফার নামটি প্রাচীন গ্রিক থেকে উদ্ভূত হয়।
এলাকাটি  মৃৎশিল্পের পাইলস ধারণ করতে ব্যবহৃত হয়েছিল বা সাধারণত এখানে যারা সমাধি পরিদর্শন করতেন তাদের  দ্বারা আনা ওয়াইন পান বা খাবার খাবার জন্য ব্যবহৃত হত। এটি, মিশরীয়  রোমান এবং গ্রিক সংস্কৃতির শৈলীতে নির্মিত।
এটিকে বড় কবরস্থান হিসাবে বর্ধিত করা হয়েছিল, কারণ গুলি অজানা। অবশ্যই, শুধু যে আলেকজান্দ্রিয়া তেই এহেন কবর নির্মিত হয়েছিল তাকিন্তু নয়। তাই যে কম এল শোকাফা একমাত্র ধ্বংসাবশেষ নয়।অনেক বেশি কবরস্থান নেকোপোলিসের অংশ ছিল,তথাকথিত যাকে বলা হয় মৃতের শহর, সেগুলি ছিলো শহরের পশ্চিম  দিকে।
কম এল শোকাফার একটি ফানেলের আকৃতি বিশিষ্ঠ 18ফুট বিস্তারিত  ভূগর্ভের নিচে সবাধর। শবদেহ উপর থেকে নিচে রোপ ও কপিকলের ( পুলি) র সাহায্যে নামানো হত বা ওঠানো হত। এইটি বিভিন্ন বয়সের আকর্ষণীয় মিশ্রণ  উৎসর্গের অঙ্গীকার ,মিসরীয় ও রোমানিয় মৃতদের সাথে।
ভাস্কর্যশিল্পঅলংকৃত শিলালিপিসমন্বিত প্রস্তর শবাধার।  এর উপরের অংশে বিশেষ কিছু নাই।কিন্তু এখান দিয়েই ভিতরে প্রবেশের পথ। মাঝের অংশটি গ্রিক টেম্পেলের অনুরূপ এবং এখানে কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়।
যেখান দিয়ে ভুগর্ভস্থ সমাধিক্ষে ত্রের শেষ প্রান্তে পৌঁছবার ধাব গুলি এবং প্রতি দুটি পিলারের মাঝে সমাধির "প্রোনাস " আছে। 20 শতকের শুরুতে মাটি খুঁড়ে তোলা "প্রোনাসের"মাঝে র প্রকোষ্ঠের মনো মুগ্ধকর কারু শিল্প একই সময়ে সঙ্ঘটন স্ত্রী ও পুরুষের জটিল মূর্তির চিত্র অঙ্কন প্রকট আসল ভাড়াটেদের সমাধি চিহ্নিত করে।

যদিও শরীর গুলির চিত্রায়ন ও বক্রতা  ঠিক যেন মিশরীয়দের অনুরূপ, পুরুষ মানুষ গুলির মাথা গ্রিকের  অনুরূপ । ঠিক তেমনি ভাবে স্ত্রী লোকের মাথা নিচে করা রোমানদের মতন।

আর একটি জটিল সমাধান এই মাঝের অংশে দুটি সাপ যার কল্পনানুসারে গ্রীকের নির্দেশ করে। যাকে বলা হয় "Agathodaimon'" অথবা শুভ আত্মা।

সে যাই হোক এগুলো খুবই হৃদয় আনন্দ দায়ক। যে সর্প যুগল সুশোভিত  ঠিক যেমটা দেখাযায় রোমান ও মিশরীয় সংস্কৃতিতে।

আর একটি বিস্ময়কর স্তম্ভিত করার মতন

চিত্রাঙ্কন তা হোল এই সাপেদের মাথার উপরে অঙ্কিত জেলি - মাছ ( Medusa ). যেটির নির্দেশ করে গ্রীক পুরাণের এক কুখ্যাত নিদর্শন , যার দ্বারা বুজতে পারাজয় যে ওই "Medusa" শবাধারকে  রক্ষ্যা করে চলেছে অনধিকার প্রবেশকারী ও বহিরাগত যে কোন অনুপ্রবেশকারীদের থেকে।

শুরুতে মাঝের অংশই কেবলমাত্র একটি " U"- এর আকারে দালান।কিন্তু এইস্থানে অধিক মৃত ব্যক্তির সমাধি হবার কারনে, কিছু জটিল ব্যবস্থার মাধ্যমে রুপান্তরিত করে স্থানান্তরিত করা হয় আরো কক্ষ এবং আরো হল গঠিত করে।

মাঝের অংশের স্তরের তলদেশে ক্যাপসুল সংযোজন করা হয়ে ছিলো। প্রাচীন বিশ্বের যেগুলি হারিয়ে গেছে।

দুর্ভাগ্য বসত এই অংশটি জলে ডুবে গিয়েছে, ফলে দর্শকেরা জানতেও পারেনা যে এখানে কি ছিল।ঐতিহাসিক গণ মনে করেন যে এগুলি বিত্তবান মানুষ তাদের বংশের সমাধি হিসাবে ব্যবহার করতো। মনে করা হয় যে এই ফেমিলি গুলি প্রাচীন পৌত্তলিক ধর্মালম্বি।অতি শিগ্রই  এই সমাধি গুলি একটি বরো সমাধি সাইট হয়ে ওঠে।

এই  কম এল শোকাফার ধ্বংসাবশেষ প্রাচীন মিশরের পৈত্তলিক ধর্মীয় বিশ্বাসের শেষ প্রধান কাঠামোর একটি উপরুন্ত এগুলি, সরাসরি প্রভাব লক্ষিত হয় এখানে উপস্থিত অন্যান্য অনেক সংস্কৃতি অসাধারণ স্থাপত্যে ।

এগুলোকে সমাধি বলার এক মাত্র কারণ একই প্রকার সমাধি ছিলো খ্রীষ্ট ধর্মালোম্বি রোমানদের। সেখানে  তিন স্তর বিশিষ্ঠ কবর ছিল। মিশরীয়,গ্রিক,এবং রোমান স্থাপত্যে সহ  বিভিন্ন প্রকার স্থাপত্য ছিল। স্তর গুলি শিলা মধ্যে উত্কীর্ণ এবং একটি সিঁড়ি এবং একটি রোটুন্ডা।এখানে আছে একটি পার্শ্বকক্ষ, একটি কবর কক্ষ,একটি চাঁদনি। কবর কক্ষ্যের মধ্যে তিনটি ভাস্কর্যশিল্পঅলংকৃত শিলালিপিসমন্বিত প্রস্তর শবাধার। সমাধি কক্ষ্য গুলি খুব ভাল সংরক্ষিত এবং অনুরূপ ভাবেই থাকত যেভাবে তারা অনেক শতাব্দী আগে করে রেখে ছিল।

কিন্তু নিচের স্তর গুলি এখনো উপসাগরীয় জলের মধ্যে ডুবে আছে। সেখানে 99 ধাপ সহ একটি সর্পিল সিঁড়ি আছে যেটি একটি খাদের  মধ্যে গেছে। এই খাদ ব্যাবহার হোত মৃত দেহ উপর থেকে নিচে রোপের সাহায্যে অখ্যাত ভাবে নামানোর জন্য,কোন প্রকার ক্ষয় ক্ষতি ছাড়া।

সিঁড়ির পরেই আছে চাঁদনি। এই জায়গাটি দর্শক দের উপর থেকে নিচে সিঁড়ি দিয়ে আসার পরে বিশ্রামের  জন্য।

রোটুন্ডা টি দ্বিতীয় তলে একটি গোলাকার বিশালাকার হল বিস্তৃত দেওয়াল উপরের ডোম পর্যন্ত। এই ডোম টি পিলার দিয়ে সাপোর্ট দেওয়া। এই খাদটি প্রথম তালা থেকেই দেখাযায়। পাঁচটি পাথরের হাত পাওয়া গেছে রোটুন্ডার নিচে, যেগুলো জাদুঘরে রাখা আছে।

ইউ ( U )আকৃতির ট্রীক্লিনিয়াম অথবা ভোজ ঘরে তিনটি বেঞ্চ আছে যেগুলি পিলার দিয়ে সাপোর্ট দেওয়া।মোজাইক করা ফ্লোর সিলিং টি শেলের মতন অলঙ্কৃত।

এই স্থান টি অতিথিদের বিশ্রাম ও খাবার খাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট। তথাপি এমনটার কোন সন্দেহ নাই যে Kom el Shoqafa একটি বিশেষ সংরক্ষণ কেন্দ্র,

প্রাচীন মিশরের ধ্বংসাবশেষ নিদর্শনের, সমৃদ্ধ মিশ্রণ ছিলো যা সমৃদ্ধ করেছে তৎ কালের সংস্কৃতির। তাই এটি একটি প্রাচীন সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধর উপযুক্ত নিদর্শন।

এটি অতি অতীতের এক নিদর্শন যা সত্যই একটি মধ্য যুগের সাতটি বিস্ময়কর নিদর্শনের একটি।        
             ( সংকলিত)
       
============================

14>বিখ্যাত পম্পি পিলার

এখানে আছে সেই বিখ্যাত পম্পি পিলার যা তৈরী হয়েছিল সেই রাজাদের সম্মানে।
সম্পূর্ণ পিলারটি 28মিটার লম্বা 3rd century A.D. তে তৈরী করেছিলো আসোয়ানের লাল গ্রানাইড দিয়ে।
           ( সংকলিত)
   =========================

15>|| রোমান থিয়েটার আলেক্সান্দ্রিয়া |

"The Roman Amphitheatre Alexandria রোমান অ্যামি্পথিয়েটার আলেক্জান্দ্রি়া
(Alexandria in Kom El Dekka) (কম এল ডেক্কা।)
আলেক্জান্দ্রি়ার রোমান অ্যামি্পথিয়েটার একটি বিশেষ জনপ্রিয় স্মৃতিসৌধ। এহেন অ্যামি্পথিয়েটার  বিভিন্ন দেশেই আছে 

যেমন গ্রিসে,ইতালিতে, তুর্কি তে,তৈরি হয়েছিল রোমানদের শাসন কালে।

রোমান টিয়েটারের অস্তিত্ব একনও আছে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে ।

কিন্তু আলেক্জান্দ্রি়ার রোমান অ্যামি্পথিয়েটার এক বিশেষ শৈলীতে গঠন একমাত্র মিশরে।

The Meaning of the Word Kom EL Dekka কম এল ডেক্কার অর্থ।
এটি আরবীয় ভাষায় যাকে বলাহয় পাথরকুঁচি র পাহাড়। বা বেঞ্চ পাহাড়।এই নামকরণ করেছেন বিখ্যাত ঐতিহাসিক এল নিওয়ারি 20 শতকের শুরুতে।

19 শতকের শেষের দিকে এল নিওয়ারি যখন মামুদিয়া কেনেল টি খনন করছিলেন তখন তিনি আবিষ্কার করেন এই পাথর কুঁচির পাহাড়।
1960 সালে শুধু মাত্র নিছক কাকতালীয় ভাবে আবিষ্কৃত হয়েছিলো এই থিয়েটার । কম এল ডেক্কা অঞ্চলে গভর্মেন্ট এর কিছু কনস্ট্রাশনের কাজের জন্য কাজের লোকরা কিছু জায়গার ধুলোর গাদা ও বালু পরিষ্কার করতে গিয়ে তারা কিছু শক্ত পিলারের মতন মাটির নিচে প্রোথিত আছে বলে মনে করেন।তারপরেই  সেই স্থানে খনন কার্য্য শুরু হয়, কম এল ডেক্কাতে। এই খনন কার্য টি করে রোমান মিউজিয়াম ও স্থানীয় পুলিশ ।
খনন কার্যের তত্ত্বাবধান করে ইউনিভার্সিটি অফ ওয়ার্সও। অতি শীঘ্রই প্রকাশিত হয় মিশরের 20 শতকের বিশেষ গুরুত্ব পূর্ণ আবিষ্কার আলেক্জান্দ্রি়ার রোমান অ্যামি্পথিয়েটার ।
এই থিয়েটার সপ্তম শতাব্দী পর্যন্ত সচল ছিলো। নানান অনুষ্ঠান, ড্রামা,মিজিক, প্রভিতি অনুষ্ঠিত হতো। এবং এই থিয়েটার রোমান, বাইজেন্টাইন,ও প্রাথমিক ইসলামী যুগে সচল থাকার বিভিন্ন প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই দীর্ঘ কাল যাবৎ এই থিয়েটার  বিভিন্ন প্রকারের অনুষ্ঠান গুলি সু সম্পন্ন করে চলে ছিলো।
এটি একটি odeum হিসাবে ব্যবহৃত হতো যেখানে বাদ্যযন্ত্র শো পরিবেশিত হত রোমানদের সময়ে।এই থিয়েটারে সকল উপাদান ছিল তার নিখুঁত কর্মক্ষমতা নিমন্ত্রণকর্তা গম্বুজ যা একনো দাঁড়িয়ে আছে
অন্য দিকে বাইজেন্টাইন কালে এটি ব্যবহৃত  হতো বিভিন্ন  সম্মেলন কেন্দ্র হিসাবে। যেমন জরুরি কোন  সভা যেমন জন সাধারনের সমাহারগুলি এবং গভর্মেন্ট এর শীর্ষ-বৈঠক গুলি এখানেই অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু ইসলামিক সময়ে এটি অবহেলিত হোয়ে পরে। ফলে ধীরে ধীরে এটি ভূগর্ভে বলি মাটি চাপা পড়ে মানুষের চোখের আড়ালে চলে যায় ।
এই রোমান অ্যামি্পথিয়েটার 20 শতকের আলেকজান্দ্রিয়া শহরের ঐতিহাসিক স্থানগুলির মধ্যে একটি।"
Amphitheater এর কিছু বর্ণনা::-
আমরা যেমন দেখেছি সেই টুকুই লিখবার চেষ্টা করছি।

আমরা  স্টেডিয়ামে দাড়িয়ে ভীষণ এক আনন্দের অনুভব করলাম, সাথে এটা ভাবতে অবাক হচ্ছিলাম যে এই  অপূর্ব থিয়েটার টি চতুর্থ শতাব্দীতে নির্মিত হয়ছিল। গ্রিক রোমান কালে যার  একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিল।    Amphitheaters বিশেষ ছাদ থিয়েটার ছিল।

সেখানে মিশরিয় রোমানদের রাজত্ব কালে, নিয়মিত নিমন্ত্রিত ও অনুষ্ঠিত হত সঙ্গীত অনুষ্ঠান, নানান  প্রতিযোগিতা, প্রভীতি নানান অনুষ্ঠান।

এই থিয়েটারের বৈশিষ্ট্য ছিল এখানে একটি মার্বেলের দর্শক আসন ছিলো। যেটি সম্পূর্ণ  উইংএর সমান।এখানে  ৬০০ জন  দর্শকের আসন আছে । এবং দর্শক আসন ৩৩ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত অর্ধ গোলাকারে ১৩ টি সারি আসন ছিলো। সম্পুর্ন আসন গুলি ইউরোপিয়ান সদা মার্বেলের । সকলের উপরের সারিতে সবার উপরে একটি বারান্দা যেটি গ্রানাইট পাথর দিয়ে তৈরি এবং কএকটি পিলার যে পাথর গুলি আসোয়ান মিশর থেকে আনা হয়ে ছিলো। সেই পিলার গুলির কিছু এখনো অক্ষত অবস্থায় আছে।

আমরা দেখলাম যে সুন্দর ভাবে ১৩ টি সারিতেই রোমান হরপে নম্বর অঙ্কিত করা আছে। দর্শক আসনে আরও পাঁচটি ভাগ বা চেম্বার আছে সেকানে বিশেষ গণ্য মান্য অথিদের জন্য সংরক্ষিত। এই বিশেষ চেম্বারের ছাদ টি গ্রানাইড পাথর দিয়ে  এমন ভাবে তৈরী যাতে দর্শকদের রোদ বা বৃষ্টি না লাগে। এছাড়াও এই আসন গুলিতে সাউন্ড বক্স আলাদা করে ছিল যাতে করে দর্শক রা সকলে ভালো করে শুনতে পারে।

বর্তমানে  এই ছাদ গুলি ভেঙ্গে গেছে ভূমি পাম্পের কারণে। যে ভূমি কম্পটি হয়েছিলো আলেক্সজান্ড্রিয়াতে ষষ্ঠ শতাব্দী AD তে। ফলে তখনকার দিনের অনেক কিছুই ধ্বংস হয়ে গেছে। তখনকার বিখ্যাত আলেক্সজান্ড্রিয়ার লাইট হাউস টি ও ধ্বংস হয়ে গেছে। এতো ক্ষয় ক্ষতির মধ্যেও থিয়েটার টির দেওয়ালের কোন ক্ষতি হয় নি। কারণ এই দেওয়াল গুলি লাইম স্টোনের হলেও একটি দেওয়ালে পেছনে আর একটি দেয়াল সাপোর্টে আছে। এমনটাই দ্বিতীয় ও চুতুর্থ শতাব্দীর গঠন কার্যের  বিশেষত্ত্ব।

সম্পূর্ণ স্টেজ টি ইংরেজি " C " অক্ষরের ন্যায় তৈরী ,যাতে করে সকল দর্শক ঠিক  ভাবে বসতে, দেখতে, ও শুনতে পারে। পুরো থিয়েটার টির ঠিক মাঝখানে থাকতো অর্কেস্ট্রা যেখান সম্পূর্ণ মিউজিক পরিবেশিত হতো। এই অংশ টি দুটি বিশাল মার্বেল পাথরের স্তম্ভ দিয়ে সুরক্ষিত।

থিয়েটারের   সম্পূর্ণ মেঝেটি মোজাইক পাথর দিয়ে পালিশ করা সুন্দর ভাবে। মোটের উপরে সম্পূর্ণ থিয়েটার টি অতি মনোরম ভাবে সু সজ্জিত। প্রাচীন আলেক্সজান্ড্রিয়ার এক গর্ভকরার মতন শহর ও দর্শনীয় স্থান।

বর্তমানে আমেরিকান গবেষণা কেন্দ্র এই থিয়েটারের উত্তর দিগে যেকানে প্রচুর পরিমানে ইটের টুকরো জমানো ছিল ঠিক সেই স্থানে একটি স্নানাগার খুঁজে পায়। এবং একটি বাড়ির ধ্বংসাবশেষ পায় যেটি নাম দিয়েছে " পাখির ভিলা " , কারণ এই বাড়িটির মেঝে এমন সুন্দর মোজাইক করা যে দেখে মনে হয় বিভিন্ন আকারের নানান পাখি উড়ে চলেছে। প্রতিটি পাখি আলাদা আলাদা জ্যামেতিক আকারে সজ্জিত। সেই কারণে গবেষ গণ মনেকরেন বর্তমানের আবিষ্কারের মধ্যে এটি একটি শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার।   
               ( সংকলিত)
                                                                        =========================







★★||মিশর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা।।

           SV2 ম্যাগাজিন
             <-----আদ্যনাথ--->
মমি  দেখেছিলাম কোলকাতার মিউজিয়ামে।
জীবনে ঘুরেছি অনেক দেশ বিদেশের নানান স্থানে, শহর,গ্রাম,পাহাড়,পর্বত,জঙ্গল,ঘুরতে হয়েছে কাজে ও ঘুরে বেড়াবার আনন্দে। তথাপি মনের আশ মেটেনি । যতই দেখি আরো দেখবার ইচ্ছাগুলি মনকে তারা করে চলে। মনের মতন জায়গাতে যেতে পারলে মনে ভীষণ আনন্দ লাগে।
সেদিন রাত্রে হঠাৎ সাম্য আমায় বললো,
বাবা, জাবেনাকি মিশরে ?
প্রথমে মনে করলাম বুঝি ভুল শুনলাম, তাই জিজ্ঞাসা করলাম কি বলছো?
কোথায় যাবে?
সাম্য বললো উত্তর আফ্রিকা মিশর সেই মমি ও পিরামিড দেখতে।
আমি মহা উৎসাহে বলেছিলাম হ্যাঁ হ্যাঁ যাবো ,
কবে যাবে ?
সাম্য বললো দাড়াও আগে ভিসা এবং অফিসের ছুটি এমন সকল ব্যবস্থা গুলো করি।
আমি নিজে  রিটায়ার্ড মানুষ এখন বয়সও হয়েগেল 69 বৎসর আর তাই আমার তো আর অফিসের ছুটির চিন্তা নাই  আমি তখন থেকেই এক ভীষণ  আনন্দ অনুভব করতে লাগলাম ,আর দিন গুনতে থাকলাম কবে আমার সেই ছোটবেলার স্বপ্ন পূর্ণ হবে।
কবে মমির দেশ ঘুরতে যাব।

একদিন সত্যই সেইদিন আসলো।
আমার স্বপ্ন পুরনের দিন আসলো।
দিনটি ছিল ৩১ মার্চ ২০১৯ রবিবার আমরা বেরিয়ে পড়লাম।

মমির দেশে সাতরাত্রি ও আটদিন,
সে এক রোমাঞ্চকর অনুভূতির দিন।
আমারদের পোগ্রাম ছিল ------
কায়রো,--আসওয়ান---ইডফু--লক্সোর---কায়রো,-- আলেকজান্দ্রিয়া।
কায়রো  মিশরের পর্যটন আকর্ষণ যেগুলি আমারা দেখেছিলাম -কায়রো, মিশর,আসওয়ান, মিশর,সূদানেমিশরের আলেকজান্দ্রিয়া,স্ট্যানলি সেতু, কর্ণাক মন্দির,নীল নদে জাহাজ ভ্রমণ, গিজার পিরামিড,ভ্যালি অফ দা কিং,মিশরে আবু সিম্বেল-এর মন্দির।                                                                 

এবারে আমাদের ভ্রমণের প্রতি দিনের কিছু বিবরণ। যদিও সম্পূর্ণ বিবরণ দেওয়া আমার পক্ষে অসম্ভব।
কারণ আমি নিজে ইতিহাসের স্টুডেন্ট নোই। এবং ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞানও অতি সামান্য।
তাই যতটুকু গাইডদের মুখে শুনেছি তার কিছু সামান্য অংশই মনে রাখতে পেরেছি। যেটুকু মনে রাখতে পেরেছি তারই সামান্য কিছু এখানে  লেখার চেষ্টা করছি ।
কারণ সম্পুর্ন লিখতে গেলে সে বিশাল হয়ে যাবে । তাইতো সামান্য অংশই লিখছি এখানে।

আমাদের যাত্রা হোল শুরুর::---

★★প্রথম দিন, ৩১ মার্চ ২০১৯ রবিবার।

আমাদের যাত্রার প্রথম দিন শুরু হলো দম দম এয়ার পোর্ট থেকে।
৩০ মার্চ ২০১৯ শনিবার রাত্রি  ১১:৩০ মিনিট এআরপর্টের জন্য রওনা দিলাম ।
কারন আমাদের ফ্লাইট ভোর ০৪:২০ মিনিট  অর্থাৎ 31/03/2019--04:20 am রবিবার।
কলকাতা থেকে আবু ধাবি ফ্লাইট (EY 255) কোলকাতা নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস ইন্টারন্যাশনাল এআরপোর্ট থেকে প্লেন ঠিক সময় মতোই ৫ ঘণ্টায় আমাদের আবুধাবিতে পৌঁছে দিলো।
সেখান থেকে  সংযোগ কারি প্লেন ( EY 653) আবুধাবি থেকে  ৩ ঘণ্টায় কায়রো ইন্টার ন্যাশনাল  এআরপোর্টে পৌঁছলাম  ১১:৪৫এতে।
সেখান থেকে A/C বাসে করে পৌঁছে গেলাম হোটেলে ( CAIRO HOTEL "GRAND NILE TOWER" )
হোটেল রুম বুক করাই ছিলো। সেখানে দুপুরের খাবার খেয়ে একটু বিশ্রাম করে সন্ধায় গিজার
ঐতিহাসিক লাইট এন্ড  সাউন্ড পোগ্রাম দেখতে গেলাম।
( LIGHT & SOUND SHOW AT THE GREAT PYRAMID OF GIZA )  এক ঘণ্টার অবিশ্বাস্য লাইট ও সাউন্ড এর পোগ্রাম উপভোগ করলাম।
সন্ধায় এখানে প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে সকলেই কম্বল ভাড়া করে ,গায়ে জড়িয়ে নিয়ে বসে দেখলাম এক ঘণ্টার অবিশ্বাস্য পোগ্রাম গোধূলি লগ্নে । (ওখানেই কাউন্টারের পাশে কম্বল ভাড়া পাওয়া যায়, আমরা সকলেই ওখান থেকে কম্বল ভাড়ানিয়ে ছিলাম )
দেখলাম সেই ঐতিহাসিক .GREAT SPHINX
( মিশরের অতিকায় মূর্তি যার দেহ সিংহের মতন ও মাথা স্ত্রীলোকের মতন। )
মনে হলো এই এক ঘন্টা  ওই  SPHINX ই যেন দর্শকের দিকে মুখ করে অনর্গল নাটকীয় ভাবে বিস্তারিত মিশরের পৌরাণিক ইতিহাসকে লাইট এন্ড  সাউন্ড এর মাধ্যমে আমাদের  বুঝিয়ে দিচ্ছিল।
সম্পূর্ণ মিশরের ঐতিহাসিক ঘটনা। কেন, কীভাবে, এখানে তৈরি হয়েছিল এই পিরামিড সকল ।
সেই সকল ঘটনাকে চাক্ষুষ দেখিয়ে দিচ্ছে লাইট এন্ড  সাউন্ড এর মোহিত করা নাটকীয় শুর ও ছন্দ।
পিরামিডের অনেক অজানা তথ্য এমন সুন্দর করে বর্ণনা করছিলো যেন মনে হলো মমি গুলি জেগে উঠে কাজে লেগে পড়েছে। পরিশ্রমী মানুষেরা বড়ো বড়ো পাথর কি সুন্দর ভাবে বয়ে নিয়ে একে একে
সাজিয়ে তৈরী করছে পিরামিড। কিছু মানুষ পিরামিডের ভেতরে এক একটি প্রকোষ্ঠ তৈরীকরতে ব্যস্ত।
পিরামিড গুলি যেন এক একটি প্রাচীন ঐতিহাসিক মহা মূল্যবান  খনি গর্ভ।
বিশ্ব ঐতিহ্যের নানা নিদর্শন ও স্থাপনা ছড়িয়ে রয়েছে সমগ্র মিশর জুড়ে।
এহেন শো দেখে মনে এক অদ্ভুত অনুভূতির শিহরণ নিয়ে ফিরলাম কায়রোর “Grand Nile Tower”-হোটেলে
রাত্রে এলাহী খাবার ব্যবস্থা।
তারপরে ঘুম।
ঘুম থেকে উঠেই দ্বিতীয় দিনের পোগ্রামের  জন্য তৈরী হলাম।                                                         

------------------------------------------
★★দ্বিতীয় দিন,১এপ্রিল২০১৯,সোমবার।

সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে  সকাল ৭ টায়  জলখাবারের ভুরি ভোজ, এলাহী ব্যবস্থা জল খাবারের।
যে যেমন পারো তেমন যত ইচ্ছা খাও। খাবারের মেনুতে শুধু ভাত ছাড়া সবই আছে। কত খাবার অতোগুলো খাবারের নাম বলাও  মুশকিল আমিষ,নিরামিষ কি নাই সেটাই বললাম। শুধু ভাত টাই নাই। অঢেল ফল বিশেষ করে খেঁজুর এতো  বরো বরো খেজুর এই প্রথম দেখলাম। কি অপুর্ব স্বাদ ,আঙ্গুর ,কলা ,কলা মানে এমন সুন্দর সুস্বাদু কলা ,যা বলে বোঝানো সম্ভব নয় ,সরবতী লেবু এক একটি লেবু আধা কিলো ,কি অপূর্ব যেমন মিষ্টি তেমনি সুস্বাদু।  যাইহোক জল খাবারের ভুরি ভোজ  সেরে লাগেজ গুটিয়ে এ সি বাসে   করে বেরিয়ে পড়লাম সালাদিন চিটাডেল ( SALADIN CITADEL ) দেখতে যেটি তৈরী করেছিলেন সালা আল-দিন, মকিউটাম পাহাড়ে in the year 1183 AD as a defense against Crusader armies.

সালাদিন চিটাডেলের  প্রসস্থ লন থেকে কায়রোর সুদূর প্রসারিত শহরটি  দেখে মন ভরেগেল কি অপূর্ব মনরম দৃশ্য এবং বিশুদ্ধহওয়া, সত্যি অপূর্ব  যার জন্য এই স্থান বিশেষ উল্লেখ যোগ্য। সত্যই কিসুন্দর হাওয়াদার জায়গা। এখান থেকে সম্পূর্ণ কায়রো শহরটি ছবির মতন  অপূর্ব দেখাছিলো।
কায়রো যে সত্যই অট্টালিকার শহর সেটা এখান থেকে না দেখলে বোঝাই যেতনা ।
এখানে আছে  ঐতিহাসিক মসজিদ ও সংগ্রহ সালা, এবং মুহাম্মদ আলী পাশার মসজিদ। মসজিদ গুলি দেখার মতন। মসজিদের ভেতরের কারু কার্য কি অপূর্ব। ভারতে অনেক মসজিদ দেখেছি তবে এই মসজিদ গুলি র কারু কার্য ও শিল্প কলা দেখবার মতন। রং বেরঙের কাঁচের শ্রেণী বিন্যাস দেখার মতন।
তারপর আমরা পৌঁছে গেলাম  কায়রো এয়ার পোর্টে, আসোয়ান মিশর  যাবার জন্য। কায়রো টাইম অনুসারে ৩ তে :৪৫ মিনিটে   আমাদের ফ্লাইট। আমরা আসোয়ান  এতে পৌঁছে গেলে আমাদের নিয়ে গেল নীলনদের ক্র্রুজে, এই  ক্র্রুজ  টির নাম "M S NILE  RUBY ".
ক্র্রুজ টি ফাইভ ষ্টার হোটেলেকেও হার মানায়। কি নাই তাতে সুইমিং পুল , বিশাল ডেক। ড্যান্স বার ,বিশাল ডাইনিং। ওয়াইন সপ, মল,কেনা কাটার সুন্দর বাজার। বেশ বড়ো বড়ো রুম। সম্পূর্ণ জাহাজটিই এসি। জাহাজের মৃদু দোলায় স্বেত শুভ্র বিছানায় পারফিউমের সুবাসে লেপ মুড়িদিয়ে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখার অভিজ্ঞতা ভোলাবার নয়। সন্ধ্যায় আমরা টেম্পল ফিলেতে লাইট এন্ড  সাউন্ড শো দেখলাম।  এখানকার এই লাইট এন্ড সাউন্ড পোগ্রাম গুলি বড়োই সুন্দর। এখানেও  ওই  লাইট এন্ড সাউন্ড শো দিয়ে পুরো ঐতিহাসিক ব্যাপার টা  ভালো করে বুঝিয়ে দেয়। এখানে লাইট এবং সাউন্ড এর পোগ্রামে  গডেস আইসিস ও ওসিরিস এর জীবন বৃত্যন্ত সুন্দর করে বুঝিয়ে দিলো। তারপরে আমরা সম্পূর্ণ টেম্পেল টি ঘুরে দেখলাম। অপূর্ব কারুকার্য চিত্র কলা এবং সকল কিছুতেই গডেস আইসিস ও ওসিরিসের জীবন গাঁথা। গডেজ আইসিসের জীবনের যেটুকু শুনেছি সেটা এখানে লিখতে গেলে ভ্রমণ কাহিনী অনেক দীর্ঘ হয়েযাবে তাই এখানে সেই কাহিনীর বিস্তার উল্যেখ না করে সুযোগ পেলে পরে  আলাদা ভাবে এই কাহিনীর বিস্তার লিখব।
সত্যই মিশর  একটি মন্দিরের শহর যা2000 বছরেরও বেশি আগে নির্মিত হয়েছে। এই ঐতিহাসিক মিশরে বসবাসকারী মানুষদের কাছে নীলনদ এক রক্ষাকর্তা স্বরূপ। এই নীলনদে জাহাজে ভ্রমণ ও আসওয়ান মিশর মিশরের সৌন্দর্য কে বহু গুনে বাড়িয়ে দিয়েছে।
আমার মনেহোল নীল নদে জাহাজ ভ্রমণ,  অবকাশ যাপনের এক শান্তি পূর্ন অতি উত্তম পন্থা। এই নীল নদে জাহাজ ভ্রমণের সহায়তার , ইতিহাসের মিশরীয় মন্দিরগুলি পরিদর্শনের উৎকৃষ্ট অবলম্বন।
এই জাহাজ গুলিতে অত্যাধুনিক  অনেক সুবিধা রয়েছে। এই জাহাজে ভ্রমণের মাধ্যমে জীবনে একবার হলেও এমন এক অনন্য ভ্রমণ অভিজ্ঞতা উপলব্ধি করা সত্যই বিস্ময় কর অভিজ্ঞতা। এই জাহাজে ভ্রমণের মাধ্যমে  চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য ও বালিয়াড়ি দেখার যে অপূর্ব সুযোগ যা সত্যি বিস্ময় কর অভিজ্ঞতা,  যা এই জাহাজভ্রমণ ছাড়া বোধ হয় সম্পূর্ণ রূপে  সম্ভব নয়।
মিশরের মানুষ নদী পথেই তাদের ব্যবসা বাণিজ্য চালায় আর সড়ক পথে উট আর ঘোড়ার গাড়ি সেইকারনে এখানের বাতাসে পলিউশন খুবই কম। তাইতো দিনরাত মুক্ত বাতাসে বুক ভরে স্বাস নিতে কোন বাধা নাই। আর তাই বুঝি এখানকার মানুষ দীর্ঘ দেহি ও বেশ বল শালী।

★★আসওয়ান, মিশর::---

আসওয়ান হল মিশরের সবচেয়ে রৌদ্রজ্জ্বল দক্ষিণী শহর, নীল নদের  উপত্যকায় অবস্থিত শহরটি অসাধারণ। সৌক বা স্থানীয় বাজারগুলি মশলা এবং পারফিউমের গন্ধ ও বর্ণে পরিপূর্ণ, রান্নার যে কত প্রকার মশলা পাওয়া যায় সেটা না দেখলে বিশ্বাস করাই মুশকিল।

তবে হ্যা সকল মশলায় সম্পূর্ণ অর্গানিক কোনপ্রকার রং বা এসেন্স বর্জিত বিশুদ্ধ মশলা।
এর সঙ্গে রয়েছে সুন্দর আফ্রিকান হস্তশিল্প, নুবিয়ান হস্তনির্মিত দ্রব্য,
এইসকল দেখতে দেখতেই দ্বিতীয় দিন কেটে গেল।
এর পরে আবার আমরা ক্র্রুজে ফিরলাম।
ফিরে ডিনার খেয়ে দ্বিতীয় দিনের সকল চিন্তা নিয়ে শুয়ে পড়লাম।
=============================
★★তৃতীয় দিন,২এপ্রিল২০১৯,মঙ্গলবার।

সকালের ব্রেকফাস্ট সেরে। বেরিয়ে পড়লাম পৃথিবী বিখ্যাত হাই ড্যাম দেখতে এবং সেই ফিলক টেম্পল এর অসমাপ্ত অসাধারণ পিলার গুলি এবং তাদের বিপর্যয়, যা কিনা দুইজন গডেজের নাম উৎসর্গ গডেজ আইসিস ও হাথোর।
তারপরে দুপুরের খাবার খেতে ক্র্রুজে  ফিরলাম।
আমরা যখন লাঞ্চ করছি তখন জাহাজ রওনা দিলো কোম -ওম্ব টেম্পেলের দিগে। আমরা দেখলাম ও জানলাম  কোম -ওম্ব টেম্পেল দুইজন দেবতার নামে সোবেক ও হেইরোরিস। জাহাজ আবার এগিয়ে চললো ইডফু দিকে। রাত  ভর জাহাজ চলছিলো। আমরা রাতের খাবার খেয়ে জাহাজের ডেকে বসে অনেক রাত পর্যন্ত নীল নদের উভয় পারের দৃশ্য ও নীলনদে চলমান আরও কতগুলি ক্র্রুজ  দেখতে  দেখতে উত্তর আফ্রিকার রাত্রি কে প্রাণ ভোরে উপভোগ করছিলাম।                        
দিনের বেলা জাহাজটি যখন হাই ড্যামটি পারকরে এক শুরু লক গেট দিয়ে তখন জাহাজটি ডাইনে বায়ে বার বার ধাক্কা লাগছিলো সেই সময় নীল নদে যতগুলি জাহাজ ছিলো সব একের পরে এক এভাবেই পার করলো ড্যাম। এবার আমরা পৌঁছে গেলাম ইডফুতে। এই হাই ড্যামের উপরেই নুতন করে স্থাপনা করা হয়েছেআবু সিম্বেল মন্দির দুটি। সে কথা পরে বলছি।
----------------------------------------------------
★★চতুর্থ দিন,৩ এপ্রিল ২০১৯ বুধবার।
        
আমাদের জাহাজ রাত্রেই পৌঁছে গেছে ইডফু তে। ভোর বেলাই চা /কফি খেয়ে নিয়ে রওনা দিলাম ইডফুর  টেম্পল দেখতে ঘোড়ার গাড়ি করে । মিশরে ঘোড়ার গাড়ি চড়া সেও এক মজাদার যাত্রা। এখানকার ঘোড়া গুলি বেশ বড়ো সরো এবং বেশ তাগড়াই তাই এমন এক্কাতে চড়ে বেশ আনন্দ উপভোগ করা গেল। আমাদের গাইডের কথা হোল "মিসরে এসেছেন এখানকার সব কিছুই উপভোগ করুন। ভারতে তো কতো গাড়ি চড়েছেন , এখানকার মরুভূমির উট আর শহরের ঘোড়া।এমন তাগড়াই ঘোড়া কোথায় পাবেন  স্যার।"
ফিরে এসে দুপুরের লাঞ্চ সারছিলাম ততক্ষনে ক্র্রুজ  রওনা দিয়েছে লাক্সর যাবার জন্য ভায়া এসনা।তারপরেই
মাঝ পথে গাইড আমাদের নিয়ে গেল নীলনদের পূর্ব তীরে কর্ণক ও লাক্সর টেম্পল দর্শনের জন্য। 3000 হাজার বৎসরের পুরোনো লাক্সর টেম্পল নীলনদের পূর্ব পারে। কর্নক ও লাক্সর টেম্পল অতি সুন্দর এই টেম্পল। বিশাল বিশাল দম্বুজ গুলি, হাইপোস্টাইল হল।
(আরও সম্পুর্ন বিবরণ আলাদা করে লিখলাম ★৩>কর্ণাক )
--------------------------------------------------------
★★পঞ্চম দিন, ৪এপ্রিল২০১৯,বৃস্পতিবার।

**LUXOR SUNRISE HOT AIR BALLOON RIDES-
মিশরে পিরামিড দর্শন টেম্পল দর্শন
এগুলোর ছিলো একান্ত আকর্ষণীয় ।
সকল আকর্ষণ কে ছাপিয়ে লক্সোরের হট বেলুন চড়া অদ্ভুত এক শিহরণ।
বেলুনে চড়ে 530 উচুতে উঠে সূর্য উদয় দর্শন।
অবর্ণনীয় সেই অভিজ্ঞতার ক্ষণ।
মেঘমুক্ত নিল আকাশে,সূর্যের রক্তিম আভার বিচ্ছুরণ।
এহেন সূর্যোদয় দর্শনের শংসা
লক্সোরের হট বেলুন চড়ার প্রশংসা।
মরু দেশ অদ্ভুত সেই শংসিত,
মনোমুগ্ধ কর দর্শনীয় ষড়ৈশ্বর্য ।

বিশাল বেলুনে বাঁধা এক ঝুড়ি
তাতেই চড়ে বসলাম আমরা জনা কুড়ি।
পাইলট ছিলেন একজন।
গ্যাস সিলিন্ডার সহ চারটি ওভেন।
চারটি ওভেনে জ্বালিয়ে আগুন
উৎপন্ন করে হাইড্রোজেন গ্যাস, তাতেই ফুলেওঠে বিশাল সেই বেলুন।
এবারে বেলুন উড়লো আকাশে,
আমরা ভেসে চললাম বাতাসে।
530 ফুট ওপর থেকে মিশর দর্শণ,
আমাদের হৃদয়ে নুতন এক শিহরণ।
চলছিলাম আমরা হওয়ার বেগে,
নীলনদকে দেখছিলাম প্রাণ ভরে।
উঁচু থেকে দেখলাম সকল টেম্পল,
পিরামিড বালুকা ময় বিস্তীর্ন অঞ্চল।
মাঝে মাঝে ওভেনের আগুনের হালকা,
সে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা।
তখম সময় হয়েছিল ভোর পাঁচটা চল্লিশ,
উর্ধো আকাশে ছিল শীতের আবেশ।
এমন মজাদার খোলা আকাশে ভ্রমণ,
হট বেলুনে ভ্রমণ সত্যই অসাধারণ।
  লক্সোরের হট বেলুনের ভ্রমনে,
কিছু নিয়ম কানুন হয় মনে রাখতে।
এই রাইড 45,--60মিনিটের রাইড,
সাথে থাকে উপযুক্ত গাইড/পাইলট
যে ইংরেজি বলতে পারে ভাল।
*Ride টি FULL PASSANGER INSURANCE,
*HAVE A SKILLED PILOT,
*প্রশাসন অতিশয় সচেতন।
*সম্পূর্ণ যাত্রা পথ সি সি টিভির আওতায়
থাকে তখন। তথাপি নিজেদের ও সতর্ক থাকতে হয়। বিশেষ করে বেলুনে চড়তে, নামতে, বা উপরে হওয়ার বেগ বেড়ে গেলে। তবে দেখলাম ওখানকার প্রশাসন ভীষণ ভাবে সতর্ক।
আমাদের বেলুন হওয়ার বেগের কারনে
বেশ একটু দুরে চলে গিয়ে ছিলো।
কিন্তু অবতরণের সময় দেখলাম
সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মুহূর্তে পৌঁছে গিয়ে ছিলো অবতরণের স্থানে।
প্রশাসনের এহেন সতর্কতা দেখে ভীষণ ভালো লাগলো।
আমাদের সকলকে একটি করে পার্সোনাল ফ্লাইট সার্টিফিকেট দিলো।
ক্র্রুজে ফিরে এসে সকালের ব্রেকফাস্ট খেয়ে নিয়ে লাগেজ প্যাক করে রাখলাম। আমরা আবার বেরিয়ে পড়লাম নীল নদের পশ্চিম পাড়ের দিকে 62 জন ফেরাওদের কবর খানা দেখতে যেটি ---ভ্যালি অফ দা কিং:  নামে  খ্যাত।
তারপরে দেখলাম রানী  আহাৎশেপ্সুতর সমাধি টেম্পল আনুমানিক 15th century BC যার নিদর্শন আছে EI-Deir EI-Bahari তে এবং The  Colossi of Memnon.
দুটি স্ট্যাচু বসেআছে যাদের হাত গুলি হাঠুর উপরে আছে। পূর্ব দিকে মুখ করে অর্থাৎ নদীর দিকি মুখ করে বসে আছে।
পৃথক দুটি বিশাল  কোয়ার্জ  পাথরের মূর্তি। উচ্চতা 18মি ( 60 ফুট ) তৈরী হয়েছিল 1350 BC এর পরে আমরা দিনের খাবার খেয়ে বেনানা দ্বীপে গেলাম কলা বাগান দেখতে। সেখানেও দোকানে দুটি কুমির রাখা আছে। কুমির এদের বড়ো প্রিয় আদরের। এর পরে আমরা চলে গেলাম লাক্সর এয়ারপোর্টে কায়রো যাবার ফ্লাইট রাত্রি 9 টায়। কায়রোতে পৌঁছে আমাদের হোটেল “Mercure Cairo Le Sphinx”. রাত হোটেলেই কাটলো।
-----------------------------------------------------
★★ষষ্ঠদিন,৫ এপ্রিল ২০১৯ শুক্রুবার।

কারোর হোটেলে সকালের ব্রেকফাস্ট করে গাইড আমাদের নিয়েগেল গিজার পিরামিড দেখাতে। মিশরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান হচ্ছে গিজার পিরামিড মিশর ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থেকে যাবে যদি গিজার পিরামিড না দেখা হয় । প্রাচীন বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের একটি এই পিরামিড। মিশরের রাজাদের  সমাধিস্থল হচ্ছে এই পিরামিড। মিশরের ফারাও অর্থাৎ রাজাদের মৃতদেহ মমি করে রাখা আছে এই পিরামিডের মধ্যে। কায়রো শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে মরুভূমির মধ্যে নীলনদ বরাবর গিজার পিরামিড অবস্থিত। গিজাতে  আছে তিন ( 3 )টি পিরামিড- খুফু, খাফ্রে ও মেংকাউরে পিরামিড।
এখানে উটের পিঠে চড়ার ব্যবস্থা ছিলো।
বাচ্ছা বুড়ো সকলেই উটের পিঠে চড়ে বালিয়াড়ি পর করে পিরামিডের কাছে গিয়ে দেখে আসলো।
যেখান থেকে উঠে চড়ার জন্য সকল উট গুলি ছিলো। আমি দেখলাম একজন মহিলা তার একটি উটের দুধ দোয়াচ্ছেন।
সকলে যখন উঠে চড়ার আনন্দে মাতোয়ারা তখন আমি সুযোগ বুঝে ওই উটের মালিক মহিলাকে 20 আরবীয় পাউন্ড দিয়ে একটু উটের দুধ চেয়ে নিয়ে খেলাম।
( CENTRAL BANK OF EGYFT এর
10 POUNDS মূল্যের দুটি নোট দিয়ে ছিলাম )
এমন তাজা উটের দুধ পেয়ে সত্যি খুব আনন্দ অনুভব করেছিলাম।
ওই দুধের কি দাম তাতো আমার জানা ছিলোনা। তবে দুটি দশ টাকার পাউন্ড দেখাতেই এক কথায় এক গ্লাস দুধ দিয়েছিলেন।আন্দাজ করি 200মিলি
দুধ ছিলো।
বড়ো  পিরামিডের সামনে স্ফিংস নামক সেই  বিখ্যাত মূর্তিটি  আছে, যার দেহটি সিংহ এর আকৃতি ও মাথাটি মানুষের মতন। এটি একটি  অনন্য নিদর্শন। বড়ো পিরামিড টির ভিতরে গিয়ে দুই জায়গাতে হামাগুড়ি দিতে হোল। আমার পক্ষে এই টুকুই সম্ভব হোল ,বাকি যাদের  একটু কম বয়েস তারা পুরোটাই এঞ্জয় করতে পেরেছে। এখানথেকে বেরিয়ে আরও কয়েকটি পিরামিডের ভেতরে গিয়ে দেখলাম। তারপরে রাজা টুটানখামুনের সমাধি। এই সমাধি দেখার জন্য আলাদা করে বেশি মূল্যের টিকিট নিতে হয়েছিল।
( টুটানখামুনের সমাধি এক বিস্ময়কর সমাধি যার বিবরণ একটু আলাদা করে
লিখলাম। )
এর পরে গেলাম  মিশরের মিউজিয়াম দেখতে যে খানে আছে টুটানখামুনের সমাধিতে রাণী নেফারতিতির গোপন কুঠুরি মিশরের প্রত্নতত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন,রাজা টুটানখামুনের সমাধিতে তারা এমন একটি গোপন কুঠুরি থাকার প্রমাণ পাচ্ছেন যেখানে হয়তো রাণী নেফারতিতির কবর ছিল। সকলের ধারণা যদি সত্যি সত্যি এরকম এক গোপন কুঠুরি খুজে পাওয়া যায় সেটা হবে শতাব্দীর সবচেয়ে বড় আবিস্কার। লাক্সারের এই অত্যন্ত প্রাচীন স্থানটিতে এখনো খোজ চলছে । তার পরে দেখলাম মমিদের মিউজিয়াম। যেখানে সারি সারি লাইন দিয়ে কাঁচের বক্সএ রাখা আছে সকল মমি। এখানেও অনেক নামনাজানা মমি আছে। বিশাল বিশাল সোনার মুখোশ। সোনার নির্মিত কফিন। সোনার অলংকার ,নানান মূল্যবান পাথরে সু স্বজ্জিত।
রাতে হোটেলে ফিরলাম। হোটেল টির  নাম ::-
MERCURE CAIRO LE SPHINX  HOTEL        
-----------------------------------------------------                                           
★★>সপ্তম দিন-----(7 th day )
*****------6 এপ্রিল ২০১৯-----*****
""""""""""""""""""""শনিবার""""""""""""""""

সকালে 6 টায় ব্রেকফাস্ট সেরে 7 টায় বেরিয়ে পরলাম আলেক্সান্দ্রিয়ার উদ্যেশ্যে। কায়রো থেকে আলেক্সান্দ্রিয়া প্রায় 3ঘণ্টার রাস্তা।
আলেকজান্দ্রিয়া কায়রো::---
6th April 2019::--
সকালে গেলাম আলেকজান্দ্রিয়া কায়রো থেকে 230 কিমি দূরে, ভূমধ্যসাগরের দক্ষিণ উপকূলে।
এটি মিশরের পুরোনো একটি শহর।
খুব সুন্দর শহরটি সাজানো গোছানো।
গ্রীকরাজ আলেকজান্ডার 301 খ্রিস্টপূর্বে তৈরি করেছিলেন শহরটি।
এখানে আছে রোমানদের সমাধিভূমি
ক্যাটাকম্ব কোম ( মাটির তলায় তিন তলার চার্চ)। চার্চের সামনেই
সারকেফেগাস- কম-এল-সোকাফা
( Sarcofagaes-Kom-El-Shouqafa)
যেটি চতুর্থ শতকে নির্মিত।

পম্পেই পিলার (Pompei Pillar)
কম-এল-ডেক্কা সাইট ( Kom-El-Dekka site) দেখলাম।
ভূমধ্যসাগরের উপমূলে নানান রকমের দোকান । দোকানের রংবাহারি সাজ দেখতে দেখতে চা খেলাম।
সমুদ্র প্রান্তে ক্যাটবে সিটাবেল দুর্গ দেখা  যাচ্ছিলো।
তারপরে দিনের খাবার খেতে গেলাম হোটেলে । সেখানে নানান প্রকার সী-ফুড
খেলাম। শামুক, ঝিনুক, অক্টোপাস, আরও নানান খাবার সামগ্রি সব গুলোর নামও জানানাই।
তারপরে গেলাম পৃথিবী বিখ্যাত বিবলিওথিকা লাইব্রেরীতে
( আলেকজান্দ্রিয়া)।
এখানে আনুমানিক দশ লক্ষ বই আছে।
এক বা দুই দিনে সমগ্র লাইব্রেরী ঘুরে দেখা সম্ভম নয়।
এতো কিছু দেখার পরে যে দেখা গুলি না দেখেও গাইডের মুখে শুনেই স্তম্ভিত রোমাঞ্চিত হয়ে ছিলাম সেই গুলির একটু কথা লিখছি আলাদা করে।
তবে নানান সময় সংঘটিত পৃথক পৃথক অগ্নিকাণ্ডে আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগার সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয় ।"
বর্তমানে সম্পুর্ন নুতন করে আবার তৈরি হয়েছে গ্রন্থাগার।

**আলেক্সান্দ্রিয়া
( যেটুকু সংগ্রহ করতে পারছি, কিছুটা
নিজের চোখে দেখে,কিছুটা গাইডের কথায় কিছুপ্রাচীন  ইতিহাস থেকে)

আজকে জাজা দেখেছি সেগুলির নাম লিখলাম:---
১>আলেক্সান্দ্রিয়ার বিখ্যাত গ্রন্থাগার "বিবলিওথেকাই"
২>সুন্দর স্টেনলি সেতু,
৩>এল-মুরসি আবুল আব্বাস মসজিদ
৪>আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর
৫>আলেক্সান্দ্রিয়া র পুরানো বাজার।
৬>কম এল শোকাফার ধ্বংসাবশেষ:
৭>বিখ্যাত পম্পি পিলার
৮>রোমান থিয়েটার--( আলাদা করে লিখলাম )
( এই ১ থেকে ৮ প্রতিটি আলাদা করে লিখলাম)
অনেক দেখেও সম্পূর্ণ না দেখতে পারার এক বিশাল বেদনা নিয়ে রাতে হোটেলে ফিরলাম। হোটেল টির  নাম ::-
MERCURE CAIRO LE SPHINX  HOTEL
-----------------------------------------------------                                                                                             
★★>অষ্টম দিন-----(8 the day ) ::
*****-----৭ এপ্রিল ২০১৯-----*****
"""""""""""""""""রবিবার""''"""""""'''''"'
আজ আমাদের বাড়ি ফেরার পালা।
সকালে ব্রেকফাস্ট সেরে হোটেল থেকে Check out Time করলাম সকাল ৯টায়। কায়রো ইন্টার নেশানাল এয়ারপোর্ট পৌছোলাম সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে। Take the flight from Cairo to Abu Dhabi (EY 654) and landed at 05:13 connecting flight to Kolkata (EY 256).
জীবনে অনেক ঘুরেছি তবুও যাকিছু ভালো সবই যেন খুব তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায়।
আবার বলি ভ্রমণ এক নেশা
চোখের নেশা, মনের নেশা
একান্ত হৃদয়ের নেশা।
প্রকৃতি যেন হাত ছানি দিয়ে ডাকে
মন কিছু খুঁজে বেড়ায় অজানা পথে।
কিছু খুঁজে পেতে চায় নুতন করে
কিছু পেতে চায় প্রকৃতিকে আপন করে।

আজ-কাল অতি ব্যস্ত জীবনে সময়ের মাঝে পরিবারের সঙ্গে একটু ঘুরে বেড়ানো একটু অবকাশ খুব সহজে মেলেনা, আর তাই সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে হয়।  সুযোগ আসার পর চলতে থাকে তার প্রস্তুতি। নির্দিষ্ট দিনের অপেক্ষা এবং তার প্রতীক্ষার উত্তেজনা সত্যি সুখের, আমাদেরও  এমন সুখের আটটি দিন
মনে হয় মুহূর্তেই যেন হয়ে গেল শেষ।
কাল থেকেই আবার সেই গতানুগতিক
জীবনের ঘনি টানা হবে শুরু।
আর এভাবেই হয় শেষ থেকে শুরু।

সকলকে আমার আন্তরিক ভালোবাসা জানিয়ে আজ এখানেই  করছি শেষ।
       <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---> 
         ৬/২ এ, শ্যামবিহার ফেজ ll
         আর ই ই-১৫ রঘুনাথপুর
             কোলকাতা-৭০০ ০৫৯                                                           ========================    


         
                                  

Monday, June 5, 2023

99>|| ইতিহাস সমৃদ্ধ আঁটপুর ও রাজবলহাট |


99>|| ইতিহাস সমৃদ্ধ আঁটপুর ও রাজবলহাট ||

1> || আঁটপুর ও রাজবলহাট শ্বেতকালী বিস্তারিত ইতিহাস :||:--
2>আঁটপুরের টেরাকোটা মন্দির::---
3>এক মহান পুণ্যতীর্থ আঁটপুর।
4>আঁটপুরের প্রাচীন চন্ডীমন্ডপের ইতিহাস::--
==========================

★আঁটপুর রামকৃষ্ণমিশন::--

Ramakrishna Math Antpur

কাছের রেল স্টেশন -হরিপাল।

Train station::--Haripal stn. 


Howrah to Tarkeshwar local -->HARIPAL stn  

   Or

HWH to Arambag local--->Haripal stn.

Haripal stn to Antpur Ramakrishna Math by road 12km

তারকেশ্বর লোকালে  হরিপাল স্টেশনে পৌঁছে হরিপাল স্টেশম থেকে ট্রেকারে করে মিশনে।


★ANTPUT RAMAKRISHNA MATH,

Dt:--Hooghly. West Bengal

Pin::-- 712424.

Phone::---03212-259250/259910

Email= antpur@rkmm.org.

https.//www.rkmantpur.org.

======================




1> || আঁটপুর ও রাজবলহাট শ্বেতকালী বিস্তারিত ইতিহাস :||:--
এক দিনের সংক্ষিপ্ত ভ্ৰমন।
আজ রবিবার 28 মে 2023 সকালে বেরিয়ে পড়লাম আঁটপুর যাবার জন্য।
অনেক দিনের ইচ্ছা আঁটপুর রামকৃষ্ণ মিশন ও ওখানকার টেরাকোটার মন্দির দেখবো।
সকালে বেরিয়ে বাড়ির কাছেথেকে বেলঘড়িয়া এক্সপ্রেস ওয়েতে ম্যাজিক গাড়ি( ট্রেকের মতন ব্যাটারি চালিত ) ধরে বালি ষ্টেশন পৌঁছলাম।
বলি ষ্টেশন পৌঁছে জানতে পারলাম আজ তারকেশ্বর লাইনের সকল ট্রেন বন্ধ, কারন লাইনে জরুরি কাজ চলছে।
অগত্যা আমরা একটু হতাশ হয়ে  ফিরে যাবার মনস্থির করছিলাম।
এমন সময় এক জন দোকানদার জানালেন যে এক্সপ্রেস ওয়েতে 26 নম্বর পাবলিক বাসে গজারমোড় পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকে অটো বা ট্রেকরে আঁটপুর যাওয়া যায়।
(26 নম্বর বাস বনহুগলি থেকে চাপাডাঙ্গা যায় গজার মোড় হয়ে)
ব্যাস আমরাও সেই মতন 26 নম্বর বাস ধরে দের ঘন্টার পথ বাসে করে গিয়ে পৌঁছলাম গজার মোড়, সেখান থেকে
₹100/- টাকায় একটি আটো রিজার্ফ করে পৌঁছে গেলাম আঁটপুর রামকৃষ্ণ মিশনে।
আজকের এই ভ্রমণে কিছু নিজের অভিজ্ঞতা এবং কিছু তথ্য সংগ্রহীত।
এই সকল মিলিয়েই আজকের ভ্রমণ কাহিনী।----
হাওড়া তারকেশ্বর লাইনে
হরিপাল স্টেশনে নেমে বাস অথবা ট্রেকারে আঁটপুর।
হরিপাল থেকে আঁটপুর 12 কি.মি.
হরিপাল থেকে রাজবলহাট 17 কি.মি.
এই আঁট পুর থেকে রাজবলহাট 6কি.মি.

সমস্ত দিন মিশনে কাটিয়ে খুব ভালো করে দেখেলাম স্বামী বিবেকানন্দের
স্মৃতিবিজড়িত আঁটপুরের রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন। দেখলাম শ্রীরামকৃষ্ণ মন্দির,
স্বামী প্রেমানন্দের পৈতৃক বাড়ি,গঙ্গাধর শিবমন্দির,শ্রীশ্রী লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দির,দুর্গামন্ডপ,ধুনিমন্ডপ, নরেন্দ্র সরোবর,  পরমেশ্বর দাস ঠাকুরের শ্রীপাট,
পাঁচটি শিব মন্দির,দোলমঞ্চ,রাসমঞ্চ,শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ জীউর মন্দির, প্রাচীন চন্ডীমন্ডপ ইত্যাদি।

আঁটপুরের বাবুরাম ঘোষ তথা স্বামী প্রেমানন্দের পৈতৃক বাড়ির চীর স্বরনীয়
ধুনিমন্ডপ --
দুর্গা মন্ডপের সামনের ডান কোনে ১৯৮১ সালে একটি স্মারক মন্ডপ দেখলাম যে
মন্ডপের দেওয়ালে স্বামী বিবেকানন্দ সহ নয়জন সংকল্প গ্রহণকারী সন্ন্যাসীর খোদাই করা মূর্তি এবং তাঁদের চারদিকে টেরাকোটার শ্রীরামকৃষ্ণদেবের জীবনী ও রামকৃষ্ণ ভাবসম্ভার বিষয়ক উনপঞ্চাশটি টেরাকোটার মূর্তির  রয়েছে।
১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে ২৪ ডিসেম্বর অর্থাৎ ১২৯৩ বঙ্গাব্দের ১০ পৌষ, শুক্রবার রাত্রে
৯ জন শ্রী রামকৃষ্ণ শিষ্য সংকল্প গ্রহণ করেছিলেন।
১●নরেন্দ্রনাথ দত্ত----------
                   স্বামী বিবেকানন্দ।
২●বাবুরাম ঘোষ------------
                     স্বামী প্রেমানন্দ।
৩●শ্রী শরৎচন্দ্র চক্রবর্তী----
-                    স্বামী সারদানন্দ।
৪●শ্রী শশীভূষণ চক্রবর্তী----
                      স্বামী রামকৃষ্ণানন্দ।
৫●শ্রী তারক ঘোষাল--------
                       স্বামী শিবানন্দ।
৬●শ্রী কালীপ্রসাদ চন্দ্র-------
                        স্বামী অভেদনন্দ।
৭●শ্রী নিত্যরঞ্জন ঘোষ-------
                          স্বামী নিরঞ্জনা নন্দ।
৮●শ্রী গঙ্গাধর গঙ্গোপাধ্যায়--
                            স্বামী অখন্ডানন্দ।
৯●শ্রী সারদাচরণ মিত্র-------
                            স্বামী ত্রিগুণাতীতানন্দ।
এর পরে দোতলায় উঠে দেখলাম স্বামী বিবেকানন্দ ও শ্রীশ্রী মা য়ের শয়ন ঘর।
*********

ঠাকুর ও মায়ের ঘর। বাবুরাম ঘোষ তথা
স্বামী প্রেমানন্দের জন্মস্থান ও বসত বাড়ি৷
দুপুরে মিশনে ভোগ প্রসাদ খেয়ে একটু বিশ্রাম করে গেলাম রাধাগোবিন্দ জিউ মন্দিরের টেরাকোটার মন্দির, পাঁচ শিব মন্দির, দোল মঞ্চ, রাশমঞ্চ, খড় আর  কাঁঠাল কাঠের  সুস্বজ্জিত দারুশিল্পের  অপূর্ব নিদর্শন চন্ডীমন্ডপ দেখতে।
আঁটপুর ভালোকরে দেখে আবার টোটো করে গেলাম রাজবলহাট।
তারপরে বাড়ি ফিরতে একটু রাত হয়ে গেছিল।
একদিন আঁটপুরের মিশনে থেকে গেলে আরও ভালোকরে সকল দেখা যেত।
যাইহোক এবারে হলনা,কারন প্রচন্ড গরম,
গরমে নাজেহাল অবস্থা।
তবুও এখন নির্জন জায়গা গাছ গাছালিতে পরিপূর্ণ শান্ত নির্মল পরিবেশ।
আবার একবার যাবো।
তবে এবার গেলে শীত কালেই যাব।

আঁটপুরের টেরাকোটা মন্দিরে রাধাগোবিন্দ জিউর মন্দির,সিদ্ধেশ্বরী মায়ের মন্দির,
রাজবলহাটের দেবী ও রাজবল্লভী মা শ্বেতকালী।

স্বামী বিবেকানন্দ ও তাঁর গুরুভাইদের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাম আঁটপুর হুগলী জেলার হরিপালের কাছে অবস্থিত৷ ১৭০৮ সালে তৈরি মিত্রদের রাধাগোবিন্দের আটচালা শৈলীর মন্দিরটির টেরাকোটার কাজ অতুলনীয়৷ বাংলার প্রাচীন কাঠ খোদাইয়ের অন্যতম নিদর্শন মেলে কাছের চন্ডীমন্ডপে৷ স্বামীজীর গুরুভাই স্বামী প্রেমানন্দের জন্মস্থান আঁটপুর৷
★আঁটপুর মন্দিরময়৷ বহতা নদীর ধারে অবস্থিত আঁটপুর গ্রামটি আটটি গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত৷
★আটটি গ্রাম ●তড়া, ●বোমনগর, ●কোমরবাজার, ●ধরমপুর, ●আনারবাটি, ●রানিরবাজার, ●বিলাড়া, ●লোহাগাছি৷ ★বর্ধমান রাজা তিলোকচন্দ্র বাহাদুরের দেওয়ান কৃষ্ণরাম মিত্র বৈদ্যবাটির নিমাইতীর্থের ঘাট থেকে গঙ্গাজল, গঙ্গামাটি এনে সেই মাটি পুড়িয়ে তাতে ইট তৈরি করে রাধাগোবিন্দের মন্দির নির্মাণ করেন৷ টেরাকোটার কাজের জন্য তিনি বিষ্ণুপুর থেকে মৃৎশিল্পী আনান৷ মন্দিরটি প্রায় ১০০ ফুট উঁচু৷ মন্দিরের সম্মুখভাগে ও দুই পাশের দেয়ালে অজস্র টেরাকোটার প্যানেল আছে৷ সামাজিক দৃশ্য থেকে পৌরাণিক দৃশ্য সবই দেখা যায় টেরাকোটার ক্ষুদ্র প্যানেলে৷
এই মন্দিরে ঢোকার মুখে বিশাল সিংহ দুয়ার যে দুয়ারের দুই পাশে দুই পিলারের মাথার বিরাজমান বিশালাকার সিংহ মূর্তি।

দেখলাম আঁটপুরের মন্দির গুলি
যেন বিশ্ব ভাতৃত্বের নানান হেতু
মিত্র বাড়ির আঙ্গনে মহাত্মা কৃষ্ণরাম মিত্রের একান্ত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা
সর্বধর্ম সমন্বয়ের মিলন সেতু।
অবাক দৃষ্টিতে দুচোখ ভরে দেখলাম আঁপুরের সুন্দরও মনোরম পরিবেশে  প্রাণ মন ভরে।
আঁটপুর মন্দিরের শহর।
এখানে মন্দিরে স্থান পেয়েছে বিশ্ব ভাতৃত্বের নানান নিদর্শন-সহ মানুষ, ধর্ম, শিল্প,সংস্কৃতি, ইতিহাস সব যেন মিলে মিশে একাকার,
বিশ্বকেই বেঁধে রেখেছে ভাতৃত্বের বন্ধনে।
এমন মেল বন্ধন মিত্র বাড়ির আঙিনায় যা নাদেখলে ভাবনার অতীত হয়ে রয়েযায়।

আমাদের ধর্ম, শিল্প,সংস্কৃতি,ভাষা এসকলের দন্ধ চিরকালের। আসল দন্ধ তো মানুষে মানুষে।
আঁটপুরের মিত্র বংশের মহাত্মা পুরুষ কৃষ্ণরাম মিত্র নিজের মনবলে ও প্রবল আত্মবিশ্বাসে ভর করে সকল দন্ধ কে এক আঙিনার এক আসনে বসিয়ে  বিশ্বের দরবারে ভাতৃত্বের এমন সুন্দর মেলবন্ধনের নিদর্শন আর কোথাও আছে বলে আমার জানা নাই।
সমগ্র বিশ্বই যেন এখানে এক আত্মার নানান রূপও রং।
এ যেন এক স্বপ্ন চিন্তারও অতীত।
এ যেন সমগ্র বিশ্বকে মেলে ধরেছে আঁটপুরের মিত্র বাড়ির আঙিনায়।
এই রাধা গোবিন্দ জিউর মন্দিরের টেরাকোটায় ধরা আছে সমাজের ক্রমবিবর্তনের ইতিহাস,মুনি, ঋষি, দেবদেবী, অষ্টাদশ পুরাণ, রামায়ন, মহাভারত,লোককাব্য, পলাশি যুদ্ধের
শিল্পরূপ। হিন্দু,মুসলিম, খ্রিষ্টান সকলকেই স্থান দিয়েছেন মন্দিরের গায়ে। 100ফুট উঁচু মন্দিরে কোনকিছুই বাদ পড়েনি এই টেরাকোটার মেল বন্ধনে।

শুদু কি তাই!!
রাধাগবিন্দ জিউ মন্দিরের মাথায় ব্রহ্মাণ্ডের নিদর্শন স্বরূপ মহাকাশ, আছে সূর্যের প্রতীকের সাথে গোলাকার ধাতুনির্মিত তারকা ও গ্রহ- উপগ্রহের প্রতীক, যা স্বাচ্ছন্দে ব্যক্ত করে মহাকাশের কাল্পনিক রূপ। অর্থাৎ মহাবিশ্বের পরিবেশে পৃথিবীর রূপটিকে এখানে ধরে রাখা হয়েছে এই মন্দিরের চূড়ায়।
সে এক অদ্ভুত মেল বন্ধন, না দেখলে বিশ্বাস করাই কঠিন।

এই টেরাকোটা মন্দিরের কোন মূর্তিই ছাঁচে ঢেলে তৈরি নয়, প্রতিটি মূর্তি শিল্পীর নিজের হাতে গড়া অপূর্ব সৃষ্টি।
শিল্পীর প্রতিটি চিন্তাকে ফুটিয়ে তুলেছে তার নিজ হাতে গড়া প্রতিটি মূর্তিতে নিরপেক্ষ ভাবে।
টেরাকোটার এমন মন্দির যেখানে এতগুলি ঘর ও দোতলা বিশিষ্ট মন্দির অন্য কোথাও এমন দেখা যায় না।
এ এক অপূর্ব সম্পুর্নএকলা নিদর্শন।

এই মন্দিরের এহেন বিশ্বমৈত্রী,ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানব ভাতৃত্বের শিল্পকলা
দেখে মুগ্ধ হতেই হবে এমনটাই আমার বিশ্বাস। এজেন মানবিকতার মহামন্ত্রের মিলন স্থল।
আঁটপুরের আর একটি বিশিষ্ট শিল্পকীর্তি আছে যেটি হল চন্ডীমন্ডপ। বাংলার গ্রাম্য জীবনের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে এই চন্ডীমন্ডপের সম্পর্ক।
বেশিরভাগ চন্ডীমন্ডপ মাটির দেওয়াল খড়ের চাল। আর এখানেই বাৎসরিক পূজাপার্বন নানান অনুষ্ঠান হত।
এই চন্ডীমন্ড আবার গ্রামের মাতব্বরদের আড্ডা খানাও বটে। তবে নানা প্রকারের চন্ডীমন্ডপের নিদর্শন পাওয়া যায়।
এই আঁটপুরের চন্ডীমন্ডপের দেখা যায় সম্পুর্ন সুন্দর এক বৈশিষ্টপূর্ন এক
অনন্য শিল্প কলার নিদর্শন ।
এখানে আছে বিশেষ ভাবে সুন্দর সজ্জিত কাঠের ফ্রেমে  উপরের দিকে রাধাকৃষ্ণের অতি সুন্দর, অনবদ্য যুগল মূর্তি।
নিচের দিকে মানুষ,ও জন্তুর নিচুর দিকে মাথা করা মূর্তি গুলি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
কাঁঠাল কাঠের উপরে এমন সুন্দর নক্সা করা, কারুকার্য দেখে মহিত হলাম।

আজথেকে 250 বৎসের আগের টেরাকোটা ও দারুশিল্পের  নিদর্শন।
সর্বধর্ম সমন্বয়ে প্রচেষ্টা আজও নানা ভাবে প্রশংসিত।
এখানকার এই মন্দির গুলি ও চন্ডীমন্ডপের প্রাসঙ্গিকতার কথা উল্লেখ করে বহু বিশিষ্ট জনের মত যে মন্দিরগুলিতে সারা পৃথিবীর ধর্ম, বর্ণ,শিল্প, ও সংস্কৃতি মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে।
এই আঁটপুরেই রয়েছে আরেক প্রাচীন মন্দির  আঁটপুর থেকে দুই কিলোমিটার দূরে । - ★সিদ্ধেশ্বরী  কালী মন্দির।

আঁটপুরের সিদ্ধেশ্বরী এবং রাজবলহাটের রাজবল্লভী হুগলির দুই শ্বেত "মা কালী",

জগৎ জননী মা কালী, পরম শক্তির আধার, তাই তো তাঁকে নানারূপে নানাভাবে মাতৃরূপে উপাসনা করা হয়।
ভক্তের সঙ্গে একাত্ম হয়ে দৈবিক সত্ত্বার বাইরেও  তিনি হয়ে উঠেছেন ঘরের মেয়ে। আবার তিনিই 'মা'।
আবার এই দুই 'মা' কালী যাদের গায়েররং সাদা কিন্তু তাঁরা দুই বোন কালী নামেও পরিচিত।
একজন আঁটপুরের সিদ্ধেশ্বরী "মা"শ্বেত কালী,
আর একজন রাজবলহাটের রাজবল্লভী
"মা" শ্বেত কালী।

আঁটপুরের মা সিদ্ধেশ্বরী।
আঁটপুর রামকৃষ্ণ মঠ থেকে দুই কি,মি,
দূরে এই আঁটপুরেই রয়েছে প্রাচীন সেই মন্দির - সিদ্ধেশ্বরী শ্বেত কালী মন্দির।

গড় ভবানীপুরের রাজা সদানন্দ প্রতিষ্ঠা করেন রাজবলহাটের রাজবল্লভী।
আবার সেখানকার রানি তারাদেবীকে
এই সিদ্ধেশ্বরী শ্বেত কালী স্বপ্নাদেশ দেন আঁটপুরে তাঁকে প্রতিষ্ঠা করতে। স্বপ্নের মাধ্যমেই তিনি জানিয়েছিলেন তাঁর রূপের কথা। পূর্ণিমার পূর্ণ চন্দ্রের মতন যেন তাঁর রূপ হয়, এ কথাই মা জানান রানিকে। রানি মায়ের আদেশে মাতৃ মন্দির প্রতিষ্ঠা করা ছাড়াও মন্দিরসংলগ্ন ৩৬৫ বিঘা জমিও দান করেন। আগে মায়ের মূর্তি ছিল অষ্টধাতু নির্মিত। বাংলার ১৪০০ সালে প্রাচীন মন্দিরটি সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত হলে মাতৃভক্ত গ্রামবাসীগণ মন্দিরটি পুনঃনির্মাণ করেন। তারাদেবী মাতৃ মন্দিরের দুই পাশে দুইটি শিব মন্দির নির্মাণ করে দিয়েছিলেন। বর্তমানে সেই দুটির পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে। ১৪২০ সালের ৮ জ্যৈষ্ঠ মায়ের নতুন মূর্তি স্থাপন করা হয়।
এখানে "মা সিদ্ধেশ্বরী" চতুর্ভুজা শ্বেত কালী। ডান হাত দুটিতে অভয় ও বর মুদ্রা আর বাম হাত দুটিতে খড়্গ ও কাটা মুন্ডু।

"মা সিদ্ধেশ্বরী" ও "রাজবল্লভী মা"
দুজনেকেই  আমিষ ঘ্যাঁট তরকারি ভোগ নিবেদন করা হয়। এই আমিষ ঘ্যাঁট তরকারিই মায়ের প্রধান ভোগ।

★★★★
রাজবল্লভী, রাজবলহাট, হুগলী
আঁটপুর থেকে ৬ কি,মি, দূরে রাজবলহাট
এখানকার 'মা' দ্বিভুজা রাজবল্লভী শ্বেতকালী।
রাজবলহাটের সবুজ ঘেরা শান্ত পরিবেশে বিরাজ করছেন 'মা' রাজবল্লভী। মন্দির অঙ্গনে ঢোকার আগেই একটা গোড়া বাঁধানো বটগাছ। মন্দির প্রাঙ্গণে অনেকটা জায়গা জুড়ে নাটমন্দির আর উঁচু ভিতের উপরে প্রতিষ্ঠিত অনাড়ম্বর মন্দির। অনন্য সুন্দর দেবীর গাত্রবর্ণ সাদা, তাই রাজবল্লভী মাতা শ্বেতকালী নামেই  পরিচিত। দেবীর মাথায় কারুমণ্ডিত মুকুট। দেবী ত্রিনয়না। হাত দুটি। ডান হাতে ছুরি, সামনের দিকে প্রসারিত বাম হাতে রুধির অর্থাৎ রক্তের পাত্র। স্মিত হাসি ও প্রসন্নতায় ভরা মুখমণ্ডল, ডাগর ডাগর চোখ। পদপ্রান্তে শায়িত কালভৈরবের বুকে দেবীর ডান পা। আর দেবীর বাঁ পা স্পর্শ করে আছে সুদর্শন বিরূপাক্ষের মাথা। দেবীর  কণ্ঠে শোভাপাচ্ছে নরমুণ্ডমালা ও কোমরে মনুষ্য হস্তের কোমরবন্ধনী আছে। তবে,এই কোমর বন্ধনী দৃশ্যমান নয়। কারণ, দেবী ১৪ হাত শাড়ি পরিহিতা।
এখনকার রাজা ছিলেন সদানন্দ, হঠাৎ একদিন তাঁর নিজেরই শিকার করা পশুদের সামনে বিষণ্ণ মনে দাঁড়িয়ে ভাবছেন যে, তিনি এমন-ই নরাধম! ব্রাহ্মণকুলে জন্মগ্রহণ করেও শুধু এই রাজরক্ষায় নিজেকে আবদ্ধ রেখেছেন।
এমন চিন্তায় রাজা সদানন্দ বিষন্ন হয়ে
উদাস মনে গভীর ভাবনায় ডুবে ছিলেন,
ঠিক সেই সময় অস্তগামী সূর্যের
অস্পষ্ট আলোয় রাজা হঠাৎই লক্ষ করলেন, রুদ্রাক্ষমালা পরে এক সন্ন্যাসী
ধ্যানমগ্ন অবস্থায় বসে আছেন ঠিক তাঁর সামনে পদ্মাসনে। রাজা  সন্ন্যাসীর কাছে গিয়ে প্রণাম করলেন। তারপর রাজা স্ব-ইচ্ছায় সন্নাসীকে তাঁর নিজের মনের দ্বন্দ্বের কথা জানালেন। সন্ন্যাসী সকল কথা শুনে  রাজা সদানন্দকে শক্তিমন্ত্রে দীক্ষত করেন। সন্ন্যাসীর উপদেশেই রাজা সদানন্দ শিবসাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন। ওই সাধনাকালেই দ্বিভুজা মহামায়া, ষোড়শী রমণীমূর্তি রূপে দেখা দেন রাজাকে। 'মা' রাজাকে আদেশ করেন, এই জায়গাতেই যেন তাঁর (মা রাজবল্লভী) মূর্তি প্রতিষ্ঠা ও পুজোর ব্যবস্থা করা হয়। এরপরই সাধক রাজা সদানন্দ বরাভয়দায়িনী, নৃ-মুণ্ডমালিনী, শ্বেতকালিকা দেবী রাজবল্লভী মায়ের প্রতিষ্ঠা করেন রোন নদী ও দামোদর নদের মাঝামাঝি ভূখণ্ডে। জন্ম হল এক নতুন গ্রামের। নাম হল রাজবল্লভহাট।
আনুমানিক ১২৪২ সালে রাজবল্লভীর প্রতিষ্ঠা বছর ধরা যেতে পারে।
এখন থেকে অর্থাৎ আজ ২০২৩ সালে থেকে কমবেশি ৭৮১ বছর আগে শ্বেতকালী তথা মা রাজবল্লভীর প্রথম মন্দির ও বিগ্রহ প্রতিষ্ঠাকাল। এই জায়গার পূর্বে নাম ছিল রাজপুর। রাজা সদানন্দ রায় দেবী প্রতিষ্ঠার পর নামকরণ করেন রাজবল্লভীহাট। দেবীর নামানুসারে হল গ্রামের নাম। কালক্রমে সে নাম রূপান্তরিত হয়ে দাঁড়াল রাজবল্লভহাট। এখন পরিচিত হয়েছে রাজবলহাট। এটি দামোদর নদের পূর্ব তীরে। পশ্চিম তীরে ডিহি ভুরসুট গ্রাম।
প্রতি ১২ থেকে ১৪ বছর অন্তর মায়ের নবকলেবর (নতুন মূর্তি) তৈরি হয় গঙ্গাজল আর গঙ্গামাটি দিয়ে। সেই দেবীমূর্তিকে বৈশাখ মাসে শুভ অক্ষয় তৃতীয়ার দিন প্রতিষ্ঠা করা হয়। যে কারণে অক্ষয় তৃতীয়ার দিন ভোরবেলা মায়ের বিশেষ পুজো অনুষ্ঠিত হয়। এখানে দুর্গাপুজো মহাসমারোহে পালন করা হয়। নবমীর দিন হয় ছাগবলি এবং পুরোনো রীতি মেনে মহিষ বলিও হয়। ওইদিন মায়ের অন্নভোগ হয় না। ●মাকে ওই দিন ছাতুভোগ নিবেদন করা হয়। এছাড়া● চৈত্র সংক্রান্তির দিনও অন্নভোগের পরিবর্তে মাকে নিবেদন করা হয় চিঁড়েভোগ। ●বছরে এই দু'দিন ছাড়া সারা বছর মাকে অন্নভোগ নিবেদন করা হয় এবং সেই প্রসাদ ভক্তরাও পেয়ে থাকেন। তার জন্য সকাল সাড়ে দশটার মধ্যে ২৫ টাকার বিনিময়ে কুপন সংগ্রহ করতে হয়। তবে এখানে অনধিক ৭০০ জনের বসে প্রসাদ গ্রহণের ব্যবস্থা আছে। বর্তমান দেবীমন্দিরে গর্ভগৃহের একটি খপ্পর আছে। ছাগ ও মেষবলির পর খণ্ডিতদেহ ফেলা হয় ওই খপ্পরে। কথিত আছে, ওই খপ্পর নির্মিত স্থানটিতে রাজা সদানন্দ রায়ের পঞ্চমুণ্ডির আসন ছিল। রাজা মন্দির নির্মাণের সঙ্গে নাটমন্দির, নহবতখানা, শিবমন্দির ও প্রতিদিন ভোগের জন্য নির্মাণ করলেন রন্ধনশালা। কালের নিয়মে সদানন্দ নির্মিত কোনো কিছুই একসময় আর রইল না। পরবর্তীকালে এগুলি সব নতুন করে নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করেছেন বিভিন্ন ভক্ত ও স্থানীয় সম্পন্ন গ্রামবাসীরা। তবে যাত্রীদের স্নানের জন্য রাজার খনন করানো বড়ো পুকুরটি আজও আছে মন্দিরের সামনে।
রাজবল্লভী মায়ের মন্দির পরিচালনার জন্য যদিও একটি স্বতন্ত্র কমিটি আছে,
qকিন্তু মা তাঁর সারা বছরের পুজোর খরচ চালানোর ব্যবস্থা নিজেই করে রেখেছেন। মায়ের নামে একটি বড়ো দিঘি এবং বেশ কয়েকটি পুকুর আছে। আছে বেশ কয়েক বিঘা জমিও। আর মায়ের নামাঙ্কিত জমিতে বেশ কিছু দোকানঘর ভাড়া দেওয়া আছে। এইসব মিলিয়ে বছরে যা আয় হয় তা দিয়েই মায়ের সেবা হয়।

এছাড়াও মায়ের অগণিত ভক্তের সক্রিয় সহযোগিতা তো আছেই। বিশেষ করে ওই গ্রামসাসীদের। কারণ এখানে একটা প্রচলিত রীতি আছে যে, যাঁর বাড়িতে বা জমিতে প্রথম যে ফলটা হয় তা রাজবল্লভী মাকে উৎসর্গ করেন। এমনকি নিজের পুকুরের মাছও।

বছরের পুজোর ভার পালা করে চলে। যাঁর যখন পালা হয় তখন তিনিই সব ব্যবস্থা করে থাকেন।

কিন্তু ওই যে ভোগের জন্য মাথাপিছু ২৫ টাকা করে নেওয়া হয় তার থেকে জনপ্রতি ১ টাকা করে যায় মা রাজবল্লভীর এস্টেটে।

প্রতি শনি, রবিবার এবং ছুটির দিনগুলিতে প্রচুর জনসমাগম হয়।

মন্দিরের দরজা খোলা হয় সকাল সাতটায়। পুজো শুরু হয় সকাল এগারোটায়। রাজবল্লভী মায়ের সঙ্গে নিত্যপুজো হয় গণেশ, বাসুদেব, লক্ষ্মী, সরস্বতী, ভগবতী ও মা ষষ্ঠীর। নারায়ণসহ অন্যান্য দেবদেবীদের প্রতিদিন নিরামিষ অন্নভোগ হয়। দুপুর দেড়টায় হয় দেবীর ভোগ নিবেদন। ভাত, ডাল, সব রকমের সবজি দিয়ে তরকারি, তেঁতুল দিয়ে মাছের অম্বল এবং পায়েস।

এরপর সন্ধ্যারতি হয় সাতটায়। আরতি শেষে মাকে নিবেদন করা হয় লুচি, সন্দেশ ও ছানা।

বছরে দু-দিন দুর্গানবমী ও চৈত্র সংক্রান্তিতে অন্নভোগ হয় না।

রাজবল্লভী মাকে প্রায় সারাদিনই পুজো দেওয়া যায়।

সব শেষে মাকে তামাক সেজে দিয়ে দরজা বন্ধ করা হয়। মায়ের মন্দির খোলা থাকে সকাল ৭টা থেকে টানা রাত ১০টা পর্যন্ত (শীতে রাত ৮টা)।

গ্রাম রাজবলহাট,
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হুগলি জেলার অন্তর্গত একটি অঞ্চল। এই জায়গাটি জাঙ্গীপাড়া কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক ও শ্রীরামপুর মহকুমার অধীন।
এখনকার পিন কোড ::--৭১২৪০৮
Telephone code:: ০৩২১২
টেরাকোটায় সমৃদ্ধ মন্দির।
★রাজবলহাট পঞ্চায়েতের অধীন ১৪টি গ্রাম নিয়েই এই গ্রাম।
গ্রামগুলি হল ●শিবচক, ●মোরহাল, ●মুকুন্দপুর, ●কুলিয়ারা, ●ঝান্দা, ●বিনোদবাটি, ●চৈমন চক, ●নস্করডাঙা, ●গুলটিয়া, ●দক্ষিণ গুলটিয়া, ●ত্রিপন, ●নবগ্রাম, ●জাবনী, ●রহিমপুর।
*রাজবলহাটে দুটি উচ্চতর বিদ্যালয় আছে যথা *◆রাজবলহাট হাই স্কুল ও *◆রাজবলহাট গার্লস হাই স্কুল।

১৭৮৯ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী রাজবলহাটে তাদের বাণিজ্যিক রাজধানী প্রতিষ্ঠা করেছিল। সেই সময় হতে রাজবলহাট একটি বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখানকার রেশম তন্তু শাড়ি ও স্বর্ন গহনা প্রধান উৎপন্ন দ্রব্য।

টেরাকোটায় সমৃদ্ধ মন্দির, মাঠের মাঝে ১৭৪৪ এ তৈরি আটচালা রাধাকান্ত ছাড়াও মন্দির রয়েছে আরও অনেক এই রাজবলহাটে। আর আছে ★অমূল্য প্রত্নশালা।
★কবি হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের জন্মভূমি রাজবলহাটে।
দেবী রাজবল্লভী, যার নামে একটা গোটা গ্রাম রাজবলহাট।গোটা অঞ্চলের মানুষ দিন শুরু করেন মায়ের নামে।
★"চার চক চোদ্দ পাড়া তিন ঘাট এ নিয়ে রাজবলহাট।"
এখানে ১৪টি গ্রাম থালেও এই গ্রামে পূজেহয় তেরোটা।
কারণ একটা পাড়ায় শুধু মূসলমানদের বাস।

শুধু দুর্গাপূজো নয়, নিত্যদিন দেবী রাজবল্লভীর দর্শন এবং পূজোর জন্য নানা জেলা. শহর কলকাতা থেকেও যাত্রীরা অাসেন। ইংরেজ অামলে রেভিনিউ সংগ্রহের জন্য বাংলাকে নানা পরগনায় ভাগ করা হয়েছিল।
রেনেল সাহেবের ম্যাপে এই ডিহি.ভরসূট পরগনার উল্লেখ পাবেন। সেই সময়ে খুব সমৃদ্ধ ছিল এই গ্রাম।
তবে আজ অনেক কিছুই হারিয়ে গেলেও এখনও হারাননি "রাজবল্লভী মা"।
৫০০ বিঘা জমিকে দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে দান করেছিলেন ভূরশুট রাজারা দেবী রাজবল্লভীর মন্দিরের সেবায়। এই দেবীর মন্দির বর্তমানে সংস্কার করা হয়েছে।
এক সময় এই জনপদে জলপথই ছিল প্রধান পথ। সে পথেই কৃষি ফসল প্রধানত ধান, সবজী, পাট, তুলো এবং বিখ্যাত ★ভরসূটের তামাক নানা দেশে ছড়িয়ে পড়ত। এখন ও সব নেই। তবে রয়ে গিয়েছে রাজবলহাট গ্রামের বিখ্যাত শাড়ী। রাজবল্লভী দেবী এখানের তন্ত্তুবায়ীদের বোনা শাড়ী পরেন এখনও। রাত্রে শয়নে যাওয়ার অাগে দেবীর জন্য তামাক সেজে গড়গড়ার নলটি মুখের কাছে দেওয়া হয়।

রাধাকান্ত মন্দির, ঘটকতলা, রাজবলহাট, হুগলি,
রাজবলহাটে একাধিক প্রাচীন টেরাকোটা মন্দির আছে যার মধ্যে আঠেরোশো শতকে তৈরী রাধাকান্ত, মতান্তরে রাধাগোবিন্দ মন্দির ও শ্রীধর দামোদর মন্দির অন্যতম। এখানে অমূল্য প্রত্নশালা নামে একটি সংগ্রহালয় আছে।

কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, বাঙলার তালমিছরি শিল্পের জনক দুলাল চন্দ্র ভড়ের বাড়িও রাজবলহাট।

রাজবল্লভী কালীমন্দির,  দেবী রাজবল্লভী শ্বেত বা সাদা কালী নামে পরিচিতা। আদতে দুর্গা, কালী ও সরস্বতীর এক মিশ্র রূপ এই রাজবল্লভীর। ত্রিনেত্রা, মাথায় বিরাট মুকুট, নানা অলংকারে ভূষিতা, প্রসন্নবদনা দেবী। সাদা রঙের ব্যতিক্রমী কালী মূর্ত্তিটি মাটির তৈরী।
অদ্ভুত রূপ এই মন্দিরের মাতৃ বিগ্রহের। দেবীর বর্ণ ধবধবে সাদা;
রাজবলহাটে মা অধিষ্ঠিতা হন শ্বেতকালী রূপে আর পূজিতা হন দুর্গারূপে।
পাশাপাশি এই নতুন প্রতিষ্ঠিত জনপদের নাম হয় রাজপুর। পরবর্তীকালে সেই নাম দেবীর নামানুসারে কিছুটা পরিবর্তিত হয়ে হয়েছিল, রাজবল্লভীহাট। আর বর্তমানে আরও কিছুটা বদলে নাম হয়েছে, রাজবলহাট।
রাজবলহাট তাঁত শিল্পের জন্য বিখ্যাত। সে কারণে আজও এ অঞ্চলের তাঁতীরা প্রথমবার তাঁত বোনা শেখার সময় এবং নতুন কোনও ডিজাইন শুরু করার আগে দেবী মায়ের কাছে শাড়ি মানত করে থাকেন। অন্যদিকে প্রতিবছর দুর্গাপুজোর অষ্টমীর দিন প্রচুর মানতের শাড়ি জমা পড়ে মন্দিরে।

এই মন্দিরের ভোগ নিবেদনেও রয়েছে একটি চমকপ্রদ বৈশিষ্ট্য। এখানে দেবীকে সেদ্ধ ভোগ দেওয়ার প্রথা চালু। কথিত, বহুকাল পূর্বে একবার এক ভক্ত পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তিনি মায়ের ভোগ সাঁতলানোর গন্ধে মোহিত হয়ে মন্দিরে এসে হাজির হন। কিন্তু যে কোনও কারণেই হোক, মায়ের ভোগ পাননি তিনি। ফলে সেই রাতেই মা স্বপ্নাদেশ দেন। এবার থেকে যেন তাঁর ভোগ রান্না করার সময় আর সাঁতলানো না হয়, সেদ্ধ খাবার-ই যেন দেওয়া হয় তাঁকে। তবে সেদ্ধ পদ দেওয়া হলেও ভোগে কুচো চিংড়ির ঘন্ট থাকবেই। এছাড়া, দেবীকে গড়গড়ায় তামাক-ও নিবেদন করা হয় রোজ।

দেবী রাজবল্লভীর বিগ্রহ সম্পূর্ণ গঙ্গামাটি দিয়ে নির্মীত। ফলতঃ ১২ থেকে ১৪ বছর অন্তর দেবীর নবকলেবর ঘটে। অক্ষয় তৃতীয়ার দিন সেই মূর্তি স্থাপন করা হয়। মূল গর্ভগৃহ ছাড়াও মন্দির প্রাঙ্গণে মোট তিনটি আটচালা শিবমন্দির রয়েছে। ●ত্রম্বকেশ্বর, ●সোমেশ্বর আর একই মন্দিরে ●নন্দীশ্বর এবং ●রাজ রাজেশ্বর। ★এছাড়া একটি ষড়ভুজাকৃতি মন্দিরও রয়েছে, সেখানে অবস্থান করেন ●বানেশ্বর শিব। অন্যদিকে মন্দিরের ঠিক গায়েই ★একটি পুকুর— যা শাঁখারী~ নামে পরিচিত।

এক সময় এ জনপদে জলপথই ছিল প্রধান পথ। সে পথেই কৃষি ফসল প্রধানত ধান অার পাট, তুলো এবং বিখ্যাত ভরসূটের তামাক নানা দেশে ছড়িয়ে পড়ত। এখন ও সব নেই। তবে রয়ে গিয়েছে রাজবলহাট গ্রামের বিখ্যাত শাড়ি। রাজবল্লভী দেবী এখানের তন্ত্তুবায়ীদের বোনা শাড়ি পরেন এখনও। রাত্রে শয়নে যাওয়ার অাগে দেবীর জন্য তামাক সেজে গড়গড়ার নলটি মুখের কাছে দেওয়া হয়।

●রাজবলহাটের অমূল্য প্রত্নসালা:;-

১৩৪৮ সালে পন্ডিত অমূল্যাচরন বিদ্যভূষণের স্মৃতিরক্ষার্থে প্রতিষ্ঠিত হয়।

●হেমচন্দ্র স্মৃতি পাঠাগার ও অমূল্য প্রত্নশালা সম্বন্ধে সরকারী গ্রন্থ আছে।

●প্রাচীন শোলার ছবি।

●প্রাচীন বৌদ্ধযুগের দুইটি নিদর্শন 

পাথরের দুইটি মূর্তি।৬ইঞ্চিX৫ ইঞ্চি।


●রাজবলহাটে কবি হেমচন্দ্রের মর্মরমূর্তি।




=========================
■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■
  
2>আঁটপুরের টেরাকোটা মন্দির::---

আঁটপুর এক পুরানো গ্ৰাম,সেখানে মিত্র,ঘোষ,বোসেদের বাস। 
শান্ত, সুন্দর, নিরিবিলি পরিবেশ,
এমন সুন্দর মুগ্ধকর জায়গাতে শীত কালে দুই একদিন ঘুরেবেড়াবার সাথে ভারতের ইতিহাসকে কাছে থেকে জানতে উপযুক্ত জায়গা এই আঁটপুর।
চাইলে দুই একদিন এখানে থেকেও ভালোকরে আসে পাশের  ইতিহাস সমৃদ্ধ গ্রামগুলি দেখে নেওয়া যায়।
রাত্রি বাস,থাকা খাওয়ার জন্য সুন্দর ব্যবস্থা আছে আঁটপুর রামকৃষ্ণ মিশনে।
স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতিবিজড়িত আঁটপুরের রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন,
স্বামী প্রেমানন্দের (বাবুরাম ঘোষের পৈতৃক বাড়ি)
আর এখানেই আছে আঁটপুরের মিত্রবাড়ির রাধা গোবিন্দ মন্দির।
এই মন্দিরটি ১৭০৮শকাব্দে (১৭৮৬ খ্রিষ্টাব্দ) কৃষ্ণ রাম মিত্রএই মন্দির টি প্রতিষ্ঠা করে।পুরোটা গঙ্গা জল গঙ্গা মাটি দিয়ে তৈরি।এটি অন্যদিকে সর্বধর্ম সমন্বয়ে র মন্দির এই মন্দির টি পশ্চিম বঙ্গ এর ২য় বৃহত্তম টেরাকোটা মন্দির,এই মন্দিরের ভেতরে আছে বুলন্দ দরওয়াজা কাজ,চুন সুরকির উপর পঙ্খের কাজ,তাছাড়া আছে১০৮ টা পদ্মের কাজ, রাজস্থানের মিনেয়েচারের কাজ।বাইরে আছে বাবরের ছবি,রনমূর্তি চন্ডী তাছাড়া আছে রামায়ন মহাভারত এর ছবি ভীষ্মের শরশয্যা,মিশরের ফ্যারাও,মিশরের আনুবিস,কবীর গুরু নানক।আছে সাঁওতালি দুগ্গা,আছে জোবচার্নকের ছবি আছে পর্তুগিজ নৈকা,আছে সুমুদ্রগুপ্তের ছবি,আছে পলাশির যুদ্বের কামানের ব্যাবহার,আরো আছে অনেক ছবি বলে শেষ করা যাবে না।এই মন্দির তিনটি সত্বা নিয়ে তৈরি ব্যবলনিয় ,মিশরীয়,সুমেরীয়,।এই মন্দির এর উচ্চতা ১০০ফিট। এত বড় উচ্চতা য় কোন টেরাকোটা মন্দির নেই । এটি উচ্চতায় বাঁকুড়া বিষ্ণুপুর কে টেক্কা দিয়েছেন। এটি আবার বাবুরাম ঘোষের মামার বাড়ি। বাবুরাম এর মা ছিলেন এ বাড়ির মেয়ে।বাবুরাম পরে নাম হয় প্রেমানন্দ মহারাজ। তাছাড়া আছে পাশে ৫টি শিব মন্দির।আছে খড়ের চালের চন্ডী মন্ডপ এটা ও পুরানো,এই কৃষ্ণ মন্দির বানাতে কৃষ্ণ রাম এর ১লাখ টাকা পড়ে। যাইহোক এই মন্দির এর বয়স২৩৫বছর,এই মন্দির টি দেবোত্তর এস্টেট  এর তত্ত্বাবধানে, মন্দিরের দেখাশোনা মিত্ররা করে ,কিন্ন্ত শিল্প সংরক্ষণ এর দায়িত্ব রাজ্যের পুরা তত্ব বিভাগের হাতে। কিছু দিন আগে এই মন্দির সংস্কার করা হয়েছে।এই মন্দির কাছে পিঠে বেড়ানোর সেরা জায়গা।
এই মন্দির, আঁটপুর কেন সারা বিশ্বের কাছে গর্বের ব্যাপার।
শীত কালে বেড়ানোর পক্ষে উপযুক্ত জায়গা।
এই মন্দির খোলার সময়::--
সকাল১১টা থেকে ১ টা পর্যন্ত।
বিকেলে ৪.৩০ থেকে ৭.১০ পর্যন্ত।
         <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->
============================                                       
■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■

3>এক মহান পুণ্যতীর্থ আঁটপুর।

এইযে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন যা সত্যিকারের অজস্র কর্ম যজ্ঞ্যের শাখা প্রশাখা বিস্তার করে সমগ্র বিশ্বের মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে আর্তের সেবার নিমিত্তে,  ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে শহর বন জঙ্গলে, যেখানেই মানুষ অসহায় সেখানেই পৌঁছে যায় ।এখনো এগিয়ে চলছে  উদ্দাম গতিতে ।
সেই রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন রুপি মহান নদীর উৎসস্থল এই আঁটপুরের ঘোষদের দুর্গামন্ডপের সামনের ডান কোনের ধুনিমন্ডপ। সেই ধুনিমন্ডপ যে মন্ডপে
জগৎ-গুরু স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর আট জন গুরু ভাইদের সাথে একসঙ্গে সংকল্প  করেছিলেন।

মন্ডপের গাত্রে আছে স্বামী বিবেকানন্দ সহ নয়জন সংকল্প গ্রহণকারী সন্ন্যাসীর
খোদাই করা মূর্তি এবং তাঁদের চারদিকে টেরাকোটার শ্রীরামকৃষ্ণদেবের জীবনী ও রামকৃষ্ণ ভাবসম্ভার বিষয়ক উনপঞ্চাশটি টেরাকোটার মূর্তি ও  রয়েছে।
১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে ২৪ ডিসেম্বর অর্থাৎ ১২৯৩ বঙ্গাব্দের ১০ পৌষ, শুক্রবার রাত্রে
৯ জন শ্রী রামকৃষ্ণ শিষ্য সংকল্প গ্রহণ করেছিলেন।
১●নরেন্দ্রনাথ দত্ত----------
                   স্বামী বিবেকানন্দ।
২●বাবুরাম ঘোষ------------
                     স্বামী প্রেমানন্দ।
৩●শ্রী শরৎচন্দ্র চক্রবর্তী----
-                    স্বামী সারদানন্দ।
৪●শ্রী শশীভূষণ চক্রবর্তী----
                      স্বামী রামকৃষ্ণানন্দ।
৫●শ্রী তারক ঘোষাল--------
                       স্বামী শিবানন্দ।
৬●শ্রী কালীপ্রসাদ চন্দ্র-------
                        স্বামী অভেদনন্দ।
৭●শ্রী নিত্যরঞ্জন ঘোষ-------
                          স্বামী নিরঞ্জনা নন্দ।
৮●শ্রী গঙ্গাধর গঙ্গোপাধ্যায়--
                            স্বামী অখন্ডানন্দ।
৯●শ্রী সারদাচরণ মিত্র-------
                            স্বামী ত্রিগুণাতীতানন্দ।
<----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->
===========================
■■■■■■■■■■■■■■■■■■■

4>আঁটপুরের প্রাচীন চন্ডীমন্ডপের ইতিহাস::--

আঁটপুরের  প্রাচীন চন্ডী মন্ডপের ইতিহাস
বলতে গিয়ে প্রথমেই বলতে হয় আঁটপুর মিত্রবাড়ি ইতিহাস।
প্রাচীন সুবিশাল এই চন্ডী মন্ডপটি আঁটপুর মিত্রবাড়ি এষ্টেটের অন্তর্গত এবং এর  পেছনে বহু ইতিহাস জড়িয়ে আছে।
সে অনেক কাল আগের কথা। একসময়ে
৺কন্দর্প মিত্র মহাশয় কোন্নগর থেকে
আঁটপুর গ্ৰামে এসে থাকতে শুরু করেন।
তিনি ছিলেন শক্ত, অর্থাৎ শক্তির উপাসক।  তাই তিনি যেখানে বর্তমানে চন্ডী মন্ডপ সেখানে ছোটো করে খড়ের চালায় মা দুর্গা ও কালি পুজো আরম্ভ করেন। (ইংরেজি এর ১৬৮৩ খ্রিস্টাব্দে বাংলার ১০৯০ বঙ্গাব্দেব)। সেই কারনেই বলা চলে যে ১৬৮৩খ্রীঃ থেকে আজ পর্যন্ত আঁটপুর মিত্র বাড়ির  দুর্গা ও কালি পুজো নির বিচ্ছিন্ন ভাবে চলে আসছে ।                                                              অন্যদিকে তার নাতি ৺কৃষ্নরাম মিত্র নিজ গুনে বর্ধমান রাজার দেওয়ান পদ পাবার পর,তিনি ইংরেজি র ১৭৪৭ সালে (১১৫৪ বঙ্গাব্দে)এই চন্ডী মন্ডপের উপর একচালা তৈরি করেন,এই একচালাটি অনেকটা উল্টানো নৈকা এবং প্যাগোডা টাইপের ।এবং তার তলায় আঁটচালা তৈরি করেন।(যেখানে প্রতিমা তৈরি ও বরন হয়)।     কালের প্রভাবে এই একচালা চন্ডী মন্ডপ আজও ঝড়,জল বৃষ্টি কে তুচ্ছ করে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু অন্যদিকে আঁটচালা টি বাংলার ১২৭২ ঝড়ে ভেঙে যায়।                           
    এই আঁটপুর মিত্র বাড়ির খড়ের চালের চন্ডী মন্ডপ টি পশ্চিমবঙ্গের দারু শিল্পের (খড় ও কাঠ)শ্রেষ্ট নিদর্শন,এশিয়ার বিখ্যাত,এটি কাঁঠাল কাঠের চন্ডী মন্ডপ।কৃষ্ণ রাম মিত্র একচালা ও আট চালা চন্ডী মন্ডপ টি যখন করেন ,তিনি তখন কাঁঠাল কাঠের এক অপূর্ব পিলার তৈরি করেছিলেন এই একচালা টি কে ধরার জন্য এই পিলারে নানান ধরনের নকশা করান।
এ ছাড়া চন্ডীমন্ডপের ভিতরে নানান ধরনের ফুলের নকশা,সাহেব মেম দের ছবি, দুর্গা ও কালীর ছবি ,মেরীর কোলে যিশুর ছবি, সবমিলিয়ে এক অন্যরকম বেচিত্র্য আনেন। যা সকালে তথা আজকের সময়েও ভাবনার অতীত ।
কৃষ্ণ রাম তার দাদু কন্দর্প মিত্রর এই চন্ডী মন্ডপে এক অভূতপূর্ব  শিল্পকলার ব্যাবহার করেন যার মাধ্যমে তিনি  একে একে শাক্ত, বৈষ্ণব,শৈব্যর ছোঁয়া দিয়ে সকলকে এক আসনে বসিয়ে দিয়ে সর্ব ধর্মের মিলনের অপূর্ব এক কালজয়ী নজির সৃষ্টি স্থাপন করে যান ।
আঁটপুরের এই চন্ডী মন্ডপ টি দেবোত্তর এষ্টেটের ।এবং শিল্প সংরক্ষণ এর দায়িত্ব রাজ্য সরকারের প্রত্মতত্ত্ব বিভাগের অধীনে।
      এই চন্ডী মন্ডপে এবছর2023 সালে 340 তম বছরের দুর্গা পুজো ও কালি পুজো অনুষ্ঠিত হবে ।এটি এখন সংরক্ষণ এর জন্য রেলিং এর ব্যাবস্থা করা হয়েছে।
এমন ইতিহাস স্বচক্ষে না দেখলে মনকি ভরে! তাই আঁপুরের ভ্রমণ নিতান্ত প্রয়োজন।
    <-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী----->
============================

আটনপুরের মিত্রদের দেবালয়গুলি শিল্পের অক্ষরে লেখা বিশ্বায়িত ভাগবত গীতার রূপ লাভ করেছে।

ধর্মগ্রন্থ গিতায় আমরা জানতে পারি যে অর্জুনকে শ্রীকৃষ্ণ বিশ্বরূপ দর্শন করিয়েছেন।

এই আঁটপুরের  মহাত্মা কৃষ্ণরাম মিত্র

আজও বিশ্ব বাসীকে চাক্ষুষ বিশ্ব রূপ দেখিয়ে চলেছেন  আঁটপুরের তাঁর সৃষ্ট  টেরাকোটা শিল্পকর্মের মাধ্যমে।


আঁপুরের বাবুরামের বাড়ির মূল্যবোধ এবং চর্চা বেশ অন্যরকম ছিল। তাঁদের পূর্বজদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত লক্ষ্মীনারায়ণ শীলা এবং গঙ্গাধর শিবলিঙ্গের সেবাপূজা না হওয়া পর্যন্ত পরিবারের শিশু বা বৃদ্ধ কেউই জলগ্রহণ করতেন না। তাছাড়া 

বাবুরামের মা মাটঙ্গিনী দেবী ছিলেন সৎপ্রবৃত্তি আনয়নের ব্যাপারে আপোষহীন। উত্তরকালে স্বামী প্রেমানন্দ জানিয়েছেন-- " মার খুব কঠোর শাসন ছিল, মিথ্যা বল্লেই মার দিতেন।"স্বামী বিবেকানন্দ একবার বাবুরামকে বলেছিলেন----" এই যেসব ধর্মটর্ম দেখছিস এই সমস্ত কিছুই থাকবে না----

ঠাকুর সব খেয়ে ফেলবেন।"

শ্রী রামকৃষ্ণদেবও তাঁর তরুণ বয়সে আঁটপুরের মিত্রদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত মন্দিরগুলি ও তার গায়ে উৎকীর্ণ টেরাকোটার সংশ্লেষী আদর্শের সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন। সব ধর্মকে খেয়ে ফেলার কাজটির পেছনে আঁটপুর খুব সামান্য অংশ হলেও পূর্বসূত্র রূপে বিবেচিত হতে পারে।

এই সংশ্লেষণ শক্তির যে বিশেষ উত্তরাধিকার রামবাবু বা স্বামী প্রেমানন্দের মধ্যে ছিল তা প্রকাশিত হয়েছে তাঁর পূর্ববঙ্গ পর্যটন এবং আরো খকনো কখনো । ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহ, যাঁর সক্রিয় প্রচেষ্টায় মুসলিম লিগ স্থাপিত হয়েছিল বিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকে, আর যে মুসলিম লিগের সেই সলিমুল্লাহ স্বামী প্রেমানন্দের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা শীল ছিলেন। এমনকি  সলিমুল্লাহর গৃহের  পরদা নসিন মেযেরাও  স্বামী প্রেমানন্দের 

সাথে আলাপ পরিচয় করেন ও শ্রী রামকৃষ্ণদেবের প্ৰসঙ্গ সহ সর্বধর্ম সমন্বয়েকারী আদর্শের বিভিন্ন বিষয়ে প্রেমানন্দ নিজের অনুভ তাদের কাছে  ব্যক্ত করেন। এবং তাদের দেন ঠাকুরের প্রসাদ। তাঁরাও পরম শ্রদ্ধার সাথে সেই প্রসাদ গ্রহণ করেন।

এভাবেই ঢাকার মুশলিম নবাব পরিবারের সঙ্গে মাঠের এক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের সূচনা হয়। ওই পরিবারের নারীরা বেলুড়েও এসেছেন। আর সল্লিমুল্লাহের ভগিনী বেগম আমতারা বানু ঢাকায় রামকৃষ্ণমঠে তাঁর পিতা নবাব আসানুল্লার  স্মৃতিরক্ষার্থে  একটি গৃহ নির্মাণ করেন যা 'আসন-মঞ্জিল' নামে পরিচিত এবং সেই গ্রহ রন্ধনশালা হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

হিন্দু ধর্ম হেশেলে -- এই ভেদ বুদ্ধি দূর করার সেতু কিন্তু স্বামী প্রেমানন্দই।

বাবুরাম ঘোষ থেকে স্বামী প্রেমানন্দ হয়ে ওঠা এবং বিভিন্ন মহত্তর কার্যাবলী এভাবেই আঁপুরের সম্প্রসারিত ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠে।

           The END


Wednesday, May 3, 2023

98>|| ভুবনেশ্বরের লিঙ্গরাজ মন্দির::---|| 29/04/2023

 


98>|| ভুবনেশ্বরের লিঙ্গরাজ মন্দির::---||
  29/04/2023

আমরা যখন গিয়েছিলাম লিঙ্গরাজ দর্শনে সেইসময় এখানে চন্দনযাত্রার উৎসব চলছে।
যে উৎসব অক্ষয়তৃতীয়াতে শুরু হয় এবং 22 দিন চলে। অর্থাৎ এইবৎসর
23 এপ্রিল থেকে 14 ইমে পর্যন্ত চলবে।
আমরা গিয়েছিলাম সাতদিনের দিন।

লিঙ্গরাজ মন্দির পূর্বভারতীয় রাজ্য উড়িষ্যার ভুবনেশ্বরে অবস্থিত প্রাচীন মন্দির গুলোর মধ্যে অন্যতম।
বিশ্বে একমাত্র শিব মন্দির যেখানে
মন্দিরটি লিঙ্গরাজ রূপি শিব কে উৎসর্গীকৃত, কিন্তু এখানে গর্ভগৃহে বিষ্ণু ভগবানের ছোট মূর্তি অধিষ্ঠিত আসছেন।
আর এখানে শিব ও বিষ্ণু উভয় দেবতার পূজা হয় একই লিঙ্গে।
শিব ও বৈষ্ণবধর্মের মিলন স্থান  উড়িষ্যার ভুবনেশ্বরেই এই হর-হরি’ লিঙ্গরাজ।
হিন্দুধর্মের দুটি ধারা শৈবধর্ম ও বৈষ্ণবধর্মের মিলন ঘটেছে এই মন্দিরে যেখানে বিষ্ণু ও শিবের মিলিত রূপ হরিহরকে পূজা করা হয় এক সাথে।

লিঙ্গরাজ মন্দির ভুবনেশ্বরের সব থেকে উঁচু মন্দির। এই মন্দিরের কেন্দ্রীয় মিনারটি ১৮০ ফুট উঁচু। মন্দিরটি কলিঙ্গ স্থাপত্যকলা এবং মধ্যযুগীয় স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত।  মন্দিরটি লিঙ্গরাজ রূপি শিব কে উৎসর্গীকৃত।

মন্দিরটি ভুবনেশ্বর শহরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূস্থাপনা ও অন্যতম প্রধান দর্শনীয় স্থান। লিঙ্গরাজ মন্দির ভুবনেশ্বরের সব থেকে বড় মন্দির।

ভুবনেশ্বর মানেই লিঙ্গরাজ মন্দির।
লিঙ্গরাজ মন্দিরটি পূর্বমুখী এবং চুনাপাথরে তৈরী। মন্দিরের প্রধান প্রবেশ পথটি পূর্বে হলেও উত্তর ও দক্ষিণে দুটি ছোট প্রবেশপথ আছে।

ধারণা করা হয়ে থাকে মন্দিরটি সোমবংশী রাজত্বকালে নির্মিত যা পরবর্তীতে গঙ্গা শাসকদের হাতে বিকশিত হয়। মন্দিরটি দেউল শৈলীতে নির্মিত যার চারটি ভাগ আছে। সেগুলো হচ্ছে বিমান, জগমোহন, নাট্যমন্দির এবং ভোগমন্ডপ। ভাগগুলোর উচ্চতা ক্রমান্বয়ে বেড়েছে। মন্দির চত্ত্বরটি দেয়ালঘেরা।

তবে বহু পূর্বে এই ভুবনেশ্বর শহরটির নাম ছিল একাম্র ক্ষেত্র।পুরান মতে এখানে এক আম গাছ বা এক আম্র গাছের নীচে পূজিত হতেন ‘হর-হরি’ অর্থাৎ একসাথে বিষ্ণু ও শিব , এবং একই লিঙ্গে। আসলে
তাঁরা একসাথে স্বর্গ-মর্ত-পাতালের অধীশ্বর, ত্রিভুবনেশ্বর আর সেই কারনেই এই এক লিঙ্গ রূপই ভুবনেশ্বর। আর এই রূপেই বিষ্ণু বা নারায়ণ পূজিত শিলায়।
আর আশ্চর্যের বিষয় এখানেই, লিঙ্গম বা শিবের মাথায় উপর বিষ্ণু এলেন কী ভাবে?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া অসম্ভব
তবে  ঐতিহাসিকেরা মনে করেন। 
এটি একটি শিব মন্দির। এর প্রতিষ্ঠা শুরু হয়েছিল সৌম্যবংশী রাজাদের হাতে। তাঁরা ছিলেন শৈব উপাসক। উড়িষ্যায় বর্তমানে যে কটি শিব মন্দির আছে, লিঙ্গরাজ মন্দির তার মধ্যে অন্যতম। মন্দির নির্মাণ শেষ হয়েছিল গঙ্গাবংশীয় রাজাদের হাতে।
আর ঠিক সেই সময়েই  উড়িষ্যা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিষ্ণু বা জগন্নাথ দেবের আরাধনা। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের নির্মাণ পর্ব শুরু হয় এই সময়ে। আর সেই সময়েই অনুমান করা হয় যে কিছুটা জোর করেই হয়তো শিবের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল বিষ্ণু বা নারায়ণকে।

মূল লিঙ্গরাজ মন্দিরকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অসংখ মন্দির । পুরাতত্ত্ববিদ ফার্গুসন মনে করেন, মন্দিরের আদি কাঠামো তৈরি হয়েছিল ৬১৫ থেকে ৬৫৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রাজা ললাটেন্দু কেশরীর হাতে। বর্তমানে যে মন্দিরের গঠন দেখতে পাই, সেটার নির্মাণ শুরু রাজা যযাতির, (১০২৫-১০৪০ খ্রিস্টাব্দ) শাসনকালে। পরে রাজা অনন্ত কেশরী ও উদ্যত কেশরী সক্রিয় ভাবে যুক্ত হন এই মন্দির নির্মাণে।
পুরো মন্দির চত্বরটাই উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা।
★"জগমোহন"::--চন্দন কাঠের বিশাল প্রধান ফটক দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করেই দেখলাম মন্দিরের প্রথম অংশ, "জগমোহন",  অর্থাৎ ভক্তদের জমায়েত হওয়ার জায়গা।

★"নাটমন্দির"=তারপর এগিয়ে গিয়ে  জগমোহন থেকে একটু উঁচুতে দেখতে পেলাম  "নাটমন্দির",
এই অংশটি মূলত উৎসবের সময়ে ব্যবহার হত বা এখনো হয়।

★"ভোগ মন্দির",= এরপর আরো একটু উঁচুতে  রয়েছে অপেক্ষাকৃত ছোটো আয়তনের "ভোগ মন্দির",  অর্থাৎএখানেই প্রভুকে ভোগ নিবেদন করা হয়।
★"বিমান"=সব শেষে আরও একটু উপরে আছে  "বিমান" অংশ। এই অংশে চূড়ার
উচ্চতা ১৮০ ফুট। এখানেই অধিষ্ঠান করছে ‘হর-হরি’ লিঙ্গরাজ।
এখানে মূল ভগবান রূপে "বিষ্ণু" বা "নারায়ণের" ছোটো একটি মূর্তিই পূজিত হন।

জগমোহন থেকে ক্রমে বিমান পর্যন্ত মন্দির অংশের উচ্চতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।

★সম্পুর্ন মন্দিরটি ঘুড়ে দেখলাম, অপূর্ব নির্মাণ কৌশল আর সম্পুর্ন  মন্দিরটি তৈরি হয়েছে বেলে পাথর ও ল্যাটেরাইট বা যাকে বলাহয়  'মাকড়া' পাথর দিয়ে। গোটা উড়িষ্যায় মন্দিরের গায়ে এরকম সূক্ষ্মতম ভাস্কর্যর নিদর্শন আর একটাও দেখিনি।
আরও অবাক হলাম যে  মূল দেউলের গায়ে এক ইঞ্চি এমন কোন জায়গা নাই  যেখানে ভাস্কর্য নেই।
দেখলাম পাথরের গায়ে তৈরি করা আছে মানুষ, পশু ও দেব-দেবীর ছবি বা মূর্তি।
আর যে খানে যেখানে ফাঁকা জায়গা আছে সেগুলোতে জায়গা করে নিয়েছে নানা সূক্ষ্ম নক্সা।
আর সবার উপরে মাথায় মন্দিরের চূড়াতে  আছে উল্টানো কলস।

নাটমন্দিরের গায়ে নারী-পুরুষের যুগল মূর্তি, নর্তকী রমণী, মানব জীবনের নানান মুহূর্ত।
তবে এখানে পুরীর মন্দিরের মতন
কোন প্রকার কোন  মৈথুন মূর্তি খুঁজে পেলাম না।
পুরীর মন্দিরে দেখাযায় অনেক প্রকারের মৈথুন মূর্তি, কিন্তু এই লিঙ্গরাজ মন্দিরে সেই প্রকার কোন মূর্তি একেবারেই অনুপস্থিত।

সুবিশাল জগমোহনের প্রবেশদ্বারে রয়েছে, সামনের পায়ে ভর দিয়ে বসে থাকা দুটি বৃহদাকার সিংহ, দ্বাররক্ষীর ভূমিকায়।
এছাড়াও মন্দির চত্বরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে করেছে ভোগ রান্নার জায়গা, পাতকুয়ো, ছোট বড় অসংখ মন্দির।
মন্দির গাত্রে সিঁড়ি বেয়ে একটু উপরে উঠেলেই দেখতে পাওয়া যায় বেশ বড় কষ্টি পাথরের গণেশ মূর্তি।
এখানকার সিঁড়ি গুলি বেশ উঁচু উচু,
এই লিঙ্গরাজ মন্দির ঘিরে বছরভর চলে
নানান প্রকারের উৎসব।

এহেন বিশাল মন্দিরের মূল দেবতা "বিষ্ণু" ভগবানের খুব ছোট মূর্তি দেখে অবাক হতে হয়। আরও অবাক করার কথা যে এই "বিষ্ণু" ভগবানই এখানে "শিব ও বিষ্ণু" এক সাথে উভয় রূপেই পূজিত হন।
মন্দিরের প্রধান দেবতা লিঙ্গরাজকে শিব এবং বিষ্ণু উভয় হিসেবে পূজা করা হয়।

★এই লিঙ্গরাজ মন্দিরের প্রধান উৎসব "শিব রাত্রি"র মেলা। সারা রাত প্রদীপ জ্বালিয়ে চলে প্রার্থনা। শ্রাবণ মাস ভর শিব ভক্তরা বাকে করে কাঁধে বয়ে মহানদী থেকে জল নিয়ে পায়ে হেঁটে মন্দিরে আসে বাবার মাথায় জল ঢালতে।

●●এখানে ভাদ্র মাসে বাইশ দিন ধরে চলে "চন্দন উৎসব"।
আর অশোকাষ্ঠমীর রথযাত্রা তো বিশ্ব বিখ্যাত মেলা যা নিয়ে নতুন করে কিছু বলবার নেই।
এখানে এমনিতে সারাদিন ধরে চলে নিত্য পূজা, মহাস্নান পর্ব, ভোগ নিবেদন।

তবে জানতে পারলাম যে এই মন্দির থেকে লুপ্ত হয়েছে দেবদাসী প্রথা।

★★এই  মন্দিরে প্রবেশ এখনও ‘অহিন্দু’দের জন্য নিষিদ্ধ।

লিঙ্গরাজ মন্দির সকাল ৬ টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে ভোগ প্রদানের সময়ে বন্ধ থাকে। খুব ভোরে লিঙ্গরাজের ঘুম ভাঙাতে প্রকোষ্ঠে বাতি জ্বালানো হয়। তার পরেই স্নান ও আরতি করা হয়।
দুপুর বারোটা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত মন্দির বন্ধ থাকে। দরজা বন্ধ হওয়ার পরে পঞ্চামৃত তথা দুধ, ঘোল, ঘি, মধু ইত্যাদি মিশিয়ে দেবতাকে মহাস্নান করানো হয়।

●বেলা এক টার সময়ে একটা পাকা ফল দুই টুকরো করে একটুকরো সূর্যদেবতার উদ্দেশ্যে এবং অন্য টুকরো দ্বারপালের উদ্দেশ্যে নিবেদন করা হয়।

●দুপুর এক টা থেকে দেড়টার মধ্যে দেবতাকে বল্লভ ভোগ দেওয়া হয়।
খাবারের একাংশ পার্বতীর মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাকে নিবেদন করা হয়।
 
●দুপুর দুটোয় সকাল ধুপ (সকালের খাদ্য নিবেদন) অনুষ্ঠিত হয়।

লিঙ্গরাজকে খাবার প্রদানের পরে পার্বতীর মন্দিরে যাওয়া হয়। সাড়ে তিনটায় ভান্দা ধুপ অনুষ্ঠিত হয়।

●পরে খাবারটি মহাপ্রসাদ হিসেবে তীর্থযাত্রীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়।

★★উৎসব::--

★★শিবরাত্রি::--
লিঙ্গরাজ মন্দিরের প্রধান উৎসব হচ্ছে শিবরাত্রি যা ফাল্গুন মাসে প্রতিবছর আয়োজন করা হয় এবং এ সময়ে কয়েক হাজার ভক্ত মন্দির পরিদর্শনে আসে। সারাদিনের উপবাস শেষে এই শুভদিনে লিঙ্গরাজকে বেলপাতা নিবেদন করা হয়। প্রধান উদ্‌যাপন হয় রাতে যখন ভক্তদল সারা রাত প্রার্থনা করে। মন্দির চত্ত্বরে মহাদ্বীপ প্রজ্জ্বলনের পর ভক্তদল তাদের উপবাস ভঙ্গ করে।

★★শ্রাবণমাসে::--
প্রতিবছর শ্রাবণমাসে হাজারো তীর্থযাত্রী মহানদী থেকে জল এনে পায়ে হেটে জল মন্দিরে বয়ে আনেন।

★★ভাদ্র মাসে সুনিয়ান দিবস::--
ভাদ্র মাসে সুনিয়ান দিবস পালন করা হয় যেদিন মন্দিরের চাকর, সেবায়েত এবং মন্দিরের জমি গ্রাহকেরা লিঙ্গরাজের প্রতি আনুগত্য ও বিশ্বস্ততা নিবেদন করে।

★★চন্দন যাত্রা::--

অক্ষয়তৃতীয়ার দিন এই উৎসব পালিত হয়।
চন্দন যাত্রা হচ্ছে ২২ দিনব্যাপী উৎসব যখন মন্দিরের সেবায়েতরা বিন্দুসাগরে বিশেষভাবে নির্মিত নৌকায় অবস্থান করে। দেবতা এবং সেবায়েতগণকে চন্দনবাটা মাখানো হয়। নৃত্য, একসাথে ভোজন ইত্যাদির আয়োজন করে মন্দিরসংশ্লিষ্ট জনগণ।

★★রুকুন রথ যাত্রা::--
লিঙ্গরাজ মন্দিরের বাৎসরিক রথযাত্রা রুকুন রথ যাত্রা।
প্রতিবছর অশোকাষ্টমীতে লিঙ্গরাজ মন্দিরে রথ উৎসবের আয়োজন করা হয় যা রথযাত্রা নামে পরিচিত। একটি রথে চড়িয়ে দেবতাকে রামেশ্বর দেউল মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। হাজারো ভক্ত রথকে অনুসরণ করে ও রথ টানে। উজ্জ্বলভাবে সুসজ্জিত রথে লিঙ্গরাজ ও তার বোন রুকমনির মূর্তি থাকে।

================
অক্ষয়তৃতীয়ায় চন্দনযাত্রা::--

29/04/2023:::--
আমরা ভুবনেশ্বরে লিঙ্গরাজ দর্শনের পরে গেলাম পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে
চন্দনযাত্রার একটু আনন্দ উপভোগ করতে।
এই চন্দনযাত্রা দেখতে আমরা সপ্তম দিনে পৌঁছে ছিলাম পুরীর মন্দিরে।
অর্থাৎ আমরা 29 এপ্রিলে পৌঁছে ছিলাম।
এইবৎসর চন্দনযাত্রা শুরু হয়েছে 23 এপ্রিল অক্ষয়তৃতীয়ার দিন  থেকে।

চন্দনযাত্রা একটি হিন্দু উৎসব। এই উৎসবটি বিশেষত জগন্নাথের সঙ্গে যুক্ত। প্রতি বছর পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে অক্ষয়তৃতীয়ার দিন এই উৎসব পালিত হয়। এই দিনে রথযাত্রা উৎসবের জন্য রথ নির্মাণ শুরু হয়ে থাকে। সমগ্র উৎসবটি চলে ৪২ দিন ধরে। প্রথম ২১ দিন প্রতিদিন প্রধান দেবতাদের প্রতিনিধিমূর্তি সহ পঞ্চপাণ্ডব নামে পরিচিত পাঁচটি শিবলিঙ্গ সুসজ্জিত করে শোভাযাত্রা সহকারে জগন্নাথ মন্দিরের সিংহদ্বার থেকে নরেন্দ্র তীর্থ জলাধার অবধি নিয়ে যাওয়া হয়।বিভিন্ন ধর্মানুষ্ঠানের পর দেবতাদের একটি সুসজ্জিত রাজকীয় নৌকায় চাপিয়ে সান্ধ্যভ্রমণের জন্য জলাশয়ে ভাসানো হয়। শেষ ২১ দিনের যাবতীয় অনুষ্ঠান অবশ্য মন্দিরের ভিতরেই হয়ে থাকে।
============================


বাগবাজারের গৌড়ীয় মিশনে শ্রীকৃষ্ণের ‘চন্দনশৃঙ্গার’।

“গোপাল কহে পুরী আমার তাপ নাহি যায়/ মলয়জ চন্দন লেপ তবে সে জুড়ায়...” কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামীর শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত-তে আছে, মাধবেন্দ্র পুরী তাঁর আরাধ্য গোপালের জন্য নীলাচল থেকে চন্দন নিয়ে বৃন্দাবন ফেরার পথে রেমুণা-তে গোপীনাথ বিগ্রহে সেই চন্দন লেপন করেন, পালন করেন আরাধ্যের আদেশ। স্কন্দপুরাণ-এর উৎকলখণ্ডে আছে, পুরীর রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নকে অক্ষয়তৃতীয়ায় শ্রীবিগ্রহে চন্দন লেপনের আদেশ দেন স্বয়ং জগন্নাথ। গ্রীষ্মে শ্রীবিগ্রহে চন্দন লেপনের এই বৈষ্ণব পরম্পরা মেনে বাগবাজারের কালীপ্রসাদ চক্রবর্তী স্ট্রিটে গৌড়ীয় মিশনে অক্ষয়তৃতীয়ার দিন থেকে শুরু হয়েছে শ্রীকৃষ্ণের ‘চন্দনশৃঙ্গার’। একুশ দিন ব্যাপী মহোৎসবে চন্দন লেপনের পর প্রতি দিন নানা বেশে সেজে উঠছেন শ্রীকৃষ্ণ, যেমন— নটবর, রাজাধিরাজ, খটদোলী, চক্রনারায়ণ, নৌকেলী, রাসমণ্ডল বেশ ইত্যাদি (ছবিতে গোমতীকৃষ্ণ বেশ)। প্রতি দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বিগ্রহ দর্শন করা যাবে, শোনা যাবে শ্রীমদ্ভাগবত-কথা, সঙ্কীর্তন, চন্দনযাত্রা মাহাত্ম্যকথা, দেখা যাবে আরতি, নৃত্য। এই সব কিছুই আগামী ১৩ মে পর্যন্ত।

=========================

চন্দন যাত্রা::--অক্ষয় তৃতীয়াতে::--

দীর্ঘ ২১ দিন ধরে  প্রত্যহ পূজারী প্রভু গোপীনাথের শ্রীঅঙ্গে চন্দন লেপন করলেন। সেইদিন থেকেই চন্দন যাত্রা শুরু।

হিন্দু পুরাণ মতে, অক্ষয় তৃতীয়ার (Akshaya Tritiya) দিন সত্যযুগের অবসান ঘটিয়ে ক্রেতা যুগের সুচনা হয়। অক্ষয় তৃতীয়া হলো চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্ল পক্ষের তৃতীয়া তিথি, অক্ষয় তৃতীয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ তিথি, অক্ষয় শব্দের অর্থ হল যা ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। বৈদিক বিশ্বাসানুসারে এই পবিত্র তিথিতে কোন শুভকার্য সম্পন্ন হলে তা অনন্তকাল অক্ষয় হয়ে থাকে। উৎকলখণ্ডে বর্ণিত আছে, শ্রীজগন্নাথদেব  মহারাজ ইন্দ্রদ্যুম্নকে বৈশাখী শুক্লা অক্ষয় তৃতীয়াতে সুগন্ধি চন্দন দ্বারা জগন্নাথের অঙ্গে লেপন করার নির্দ্দেশ দিয়েছিলেন। সেদিন থেকে শুরু হয় চন্দন যাত্রা  উৎসব। গ্রীষ্ম ঋতুতে শ্রীহরির অঙ্গে কর্পূর চন্দন লেপন করলে ভগবান শ্রীহরি প্রীত হন।

দুই বছর পর ভক্তদের উপস্থিতিতে এবার বিখ্যাত চন্দন যাত্রা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। পুরীর নরেন্দ্রপুকুর চন্দন যাত্রার জন্য সুন্দর করে সাজানো হয়েছিল। ঐতিহ্য অনুসারে, অক্ষয় তৃতীয়ার অনুষ্ঠান বিশ্ব বিখ্যাত রথযাত্রার রথ নির্মাণের সূচনা করে। চলতি বছরের ১ জুলাই জগন্নাথ রথযাত্রা উৎসব পালন করা হবে।

চন্দ্নযাত্রা

চন্দন যাত্রা চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লা তৃতীয়া তিথিতে শুরু হয়ে ২১ দিন পর্যন্ত চলে। ভগবান শ্রীজগন্নাথদেব এই দিনে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নকে চন্দনযাত্রা মহোৎসবটি পালন করার জন্য সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন। ভগবানের অঙ্গলেপন এক ধরণের ভক্তিমূলক কর্ম এবং চন্দন হল সর্বশ্রেষ্ঠ প্রলেপন। যেহেতু ভারতে বৈশাখ মাস অত্যন্ত উষ্ণ থাকে, তাই চন্দনের শীতল গুণ ভগবানের আনন্দ প্রদান করে। জগন্নাথের দুই চক্ষু ব্যতীত সর্বাঙ্গে চন্দন লেপন করা হয়ে থাকে। এবং উৎসব-মূর্তি বা বিগ্রহগণকে নিয়ে শোভাযাত্রা করা হয় এবং মন্দির পুষ্করিণীতে নৌকাবিহার করা হয়ে থাকে।

শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে দেখা যায়, বৃন্দাবনে পরম বৈষ্ণব শ্রীমাধবেন্দ্র পুরীকে স্বপ্নে তাঁর আরাধ্য শ্রীগোপাল বলছেন, “আমার শরীরের তাপ জুড়োচ্ছে না। মলয় প্রদেশ থেকে চন্দন নিয়ে এসো এবং তা ঘষে আমার অঙ্গে লেপন কর, তা হলে তাপ জুড়োবে।” তার পর বৃদ্ধ মাধবেন্দ্র পুরীপাদ পূর্বভারতে নীলাচলে জগন্নাথধাম পুরীতে এসে রাজার কাছে পূর্ব স্বপ্নগত সমস্ত কথা বললেন। রাজা গোপালের জন্য এক মণ মলয়জ চন্দন, ২০ তুলা কর্পূর এবং এই চন্দন বহে নিয়ে আসার জন্য দুইজন সেবকের ব্যবস্থা করেদিলেন। মাধবেন্দ্র পুরীপাদ রাজার কাছে মলয়জ চন্দন ও কর্পূর নিয়ে বৃন্দাবনে ফিরছিলেন। পথে রেমুণাতে শ্রীগোপীনাথ মন্দিরে আসেন। সেই রাত্রে সেখানে শয়ন কালে স্বপ্ন দেখেন, গোপাল এসে বলছেন, “হে মাধবেন্দ্র পুরী, আমি ইতিমধ্যেই সমস্ত চন্দন ও কর্পূর গ্রহণ করেছি। এখন কর্পূর সহ এই চন্দন ঘষে ঘষে শ্রীগোপীনাথের অঙ্গে লেপন কর। গোপীনাথ ও আমি অভিন্ন। গোপীনাথের অঙ্গে চন্দন লাগালেই আমার অঙ্গ শীতল হবে।” সকালে শ্রীমাধবেন্দ্র পুরিপাদ পূজারীর নিকট রাত্রের স্বপ্নের সমস্ত কথা বলিলেন। পূজারী প্রভু শুনে খুব খুশি হলেন এবং কর্পূর আর চন্দন ঘষে শ্রীগোপীনাথের শ্রীঅঙ্গে লেপন করলেন। দীর্ঘ ২১ দিন ধরে এইভাবে প্রত্যহ পূজারী প্রভু গোপীনাথের শ্রীঅঙ্গে লেপন করলেন। সেইদিন থেকেই চন্দন যাত্রা শুরু হল।

=================================