Friday, March 20, 2020

46>|| ধানবাদ---নাগপুর--তাড়োবা----বোধলকসা ও নাগজিরা =9 days +3 days

(2) || ভ্রমণ ||  feb 1988
    
|| ভ্রমণ=ধানবাদ----নাগপুর--তাডোবা----বোধলকসা ও নাগজিরা=
       12/02/1988 to 20/02/1988=9 days 
আমি এখন ধানবাদে ,গোবিন্দপুর  এরিয়া 3, আকাশ কিনারি  ও সি পি তে ,ব্লক 4 এর আন্ডারে পোস্টিং
একদিন হঠাৎ ভি সি আর পিল্লাই আমাকে বললো "দাদা let us go  NAGJIRA চলুন নাগজিরা যাই। 
আমিও রাজিহয়ে গেলাম এবং প্ল্যান করে প্রস্তুত হলাম নাগজীরা ব্যাঘ্র প্রকল্প যাবার জন্য।
আমাদের এবারের ভ্রমণের প্রধান উদ্যেশ্য নাগজিরার অভয় অরণ্যে বাঘ দেখা।


ফেব্রুয়ারি 1988 আমাদের নয় দিনের ভ্রমণের পোগ্রাম।
প্রথম দিন =ধানবাদ থেকে টেনে  নাগপুর।

দ্বিতীয় দিন --নাগপুর থেকে তাডোবা   (  মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর জেলায়  আন্ধেরি জাতীয় উদ্যান )


 মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর জেলায় অবস্থিত এই তাডোবা আন্ধেরি জাতীয় উদ্যান।

কথিত আছে ঘন জঙ্গলে বসবাসকারী আদিবাসীরা তাড়ু নামের দেবতার উপাসনা করতেন। অনেকের মতে গ্রামের প্রধানের নাম ছিল তাড়ু , যিনি বাঘের সঙ্গে লড়াই করে মারা যান।এই মৃত্যু তাঁকে মানুষের কাছে ভগবান বানিয়ে দেয়। তার নামের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্যই আজকের তাডোবা, যা মহারাষ্ট্রের বৃহত্তম জাতীয় উদ্যান।
তাড়োবা লেকের কাছে তাড়ু দেবতার মন্দিরও আছে। এই ঠাকুরের পুজো ও মেলা দেখতে হলে যেতে হবে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে।

ধানবাদ থেকে ট্রেনে  নাগপুর।
নাগপুরে আগে থেকে গাড়ি  করে তাডোবা। নাগপুর থেকে তাডোবার দূরত্ব 150  কিমি। আমরা চার জন ছিলাম। পিল্লাই জির নিকট এক আত্মীয় থাকেন এই তাডোবাতে। উনি ফরেস্ট অফিসার
তাই আমাদের যাতায়াত ও সফারি করতে কোন অসুবিধাই হয়নি।
পিল্লাই জি আগে আমাদের সে কথা জানায় নি। নাগপুরে ট্রেন থেকে নেমেই দেখি পিল্লাই জি এক ভদ্রলোকের সাথে কথা বলছেন। এবং একটু পরেই দেখি একটি জিপ এসে হাজির ।সেই জিপে করেই ওই ফরেস্ট অফিসার পি কে এস কুট্টি আমাদের নিয়ে গেলেন।ওনার বাংলোতে, বিশাল এক বাংলো তার সাথেই বিশাল এক গেস্ট হাউজ   সেখানে আমরা রাত্রের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লাম।
( তাডোবা মঙ্গলবার বন্ধ থাকে )

তৃতীয় দিন ----পরের দিন সকাল বেলা আমরা  নির্ধারিত সময়ে জিপে করে মোহারলি গেটে পৌঁছে গেলাম। গেটে পরিচয় পত্র সহ অনুমতি পত্র দেখিয়ে প্রবেশ করলাম। যেহেতু আমরা ফরেস্ট অফিসারের গেস্ট তাই বোধ হয় আমাদের গাড়িতে একজন রাইফেল ধরি গার্ড উঠলেন,
গাড়ি এগিয়ে চলল জঙ্গলের ভেতর দিয়ে।
প্রথমেই কয়েকটা ময়ূর দেখা গেল। তাপরে কত রকমের পাখি ওদের কারুরই নাম জানিনা
রাইফেল ধরি গার্ড সব নাম  বলছিলো তার মধ্যে অনেকটাই আমরা বুঝতে পারিনি।
গেস্ট হাউসে ফিরে রাত্রে ডিনার করবার সময় কুট্টিজি বলতে শুরু করলেন ওখানে জাজা  আছে
পার্পল সান বার্ড, গ্রেট ইগ্রেট,ক্রেস্টেড সারপেন্ট্ ঈগল, ওরিয়েন্টাল ম্যাগপাই রবিন, রেড্ ভেন্টেড বুলবুল,রুফাস ট্রিপাই,ডাভ্,  ডার্টার বার্ড, ব্ল্যাক ড্রোঙ্গো, ইন্ডিয়ান পি ফাউল ও পিকক্, স্পটেড ডিয়ার, গ্রীন বি ইটার, জাঙ্গল ফাউল, সাম্বার ডিয়ার, বাঘ, কুমীর, গ্রে হেডেড ফিশ আউল, ইত্যাদি ইত্যাদি,
আরও কত নাম বললেন সেগুলি আর লিখে রাখতে পারিনি।
আমরা রাতের খাবার খেয়ে যে যার বেডে  চলে গেলাম। রাত্রে বেশ ভালোই ঘুম হল।

চতুর্থ  দিন------

 আজ সাফারি খুটওয়ান্ডা গেটে।
একটা কথা বলা হয়ইনি আমাদের ড্রাইভার খুব ভালো হিন্দি ও ইংরেজি  বলতে পারে সে কারনে আমরা ওনাকে অনুরোধ করেছিলাম যে আমাদের একটু ডাইড করতে। আর যে গাইড তথা গার্ড আমাদের সাথে আছে সে তামিলেই বেশি বলে মাঝে সাঝে একটু হিন্দি বলেন। হিন্দি বলতে ওনার অনিচ্ছা বার বার প্রকাশ টের পাচ্ছিলাম।
ড্রাইভার ভদ্রলোক আমাদের অনুরোধ পালন করেছিলেন।
আমরা একটু এগোনোর পরেই সামনে একটি ছোট্ট পুকুর ড্রাইভার বললেন এখানে চুপ করে একটু অপেক্ষা করুন , বাঘেরা দুপুরে এই জলায় জল খেতে আসে , এই কথা বলতে বলতেই ড্রাইভার বললেন সামনে ওই ঝোপের আড়ালে দেখুন ,ওদিকে তাকাতেই দেখি দুটি বাঘ গায়ে ডোরাকাটা দাগ  ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে বোধ হয় আমাদেরই দেখছে । প্রায় আধ ঘন্টা হয়ে গেল। চুপ করে বসে আছি। এমন সময় ড্রাইভার হঠাৎ করে বলে উঠলো "সামনে দেখিয়ে"। দেখলাম বড় ঘাসের জঙ্গল থেকে একটি বাঘ  বেরিয়ে এল। গরমকে উপশম করার জন্য জলে নামল। তিন থেকে চার মিনিট পর উঠে আবার ঘাস জঙ্গলে ঢুকে গেলেন। নিজের চোখকে বিশ্বাসই হচ্ছিল না। আবার একটু পরেই দেখি ওই লুকিয়ে থাকা দুটি বাঘও জলে নেমে গা ডুবিয়ে আবার উঠে গেল জঙ্গলের দিকে। আমরা অনেক্ষণ  ওখানেই কাটালাম। যদি আবার কেউ আসে  এই আশায়। কিন্তু এলেন না। সময় শেষ হতে থাকলো।
আমরা যতদূর পারলাম জঙ্গল ঘুরে দেখলাম আজ  মনে হল ওই পাখিদের যেন  আমরা চিনতে পারছি। সামনে  দেখি ঝাঁকে ঝাঁকে ময়ুর উড়ে যাচ্ছে ,তাদের পেছনে ই নানা রঙএর টিয়ে পাখি ,
মনে হল ওরা  মনের আনন্দে গান গেয়ে গেয়ে উড়ে চলেছে।
হঠাৎ দেখি আমাদের জিপের একেবারে কাছে দুটি হয়না রাস্তা পার করে চলে গেল আর মনে হল ওরা যেন তাচ্ছিল্যের ছলে একবার আমাদের দেখে মুখ ভেংচে চলে গেল।
সন্ধ্যা হয়ে গেছে ড্রাইভার বললেন " অভি ওয়াপাস জানা হোগা " আমরা জঙ্গল থেকে বেরহয়ে আসলাম। মন কিন্তু পড়ে রইল সেই ঘাস জঙ্গলে।কিন্তু আরতো থাকার উপায় নাই ,কারন রাতে এখানে কাউকে এলাউ করে না। তাই আমরাও ফিরে  আসলাম।


( এখানে আরও একটু জানিয়ে রাখি যে 1988 এর ফেব্রূয়ারিতে দুই দিন তাডোবায় ঘুরে বেরিয়ে দেখেও কেন জানিনা আমার মন আবার একবার তাডোবায়  যাবার জন্য  ব্যাকুল হয়ে পড়ল আর সেই কারনে কোন সাথী ছাড়া একলাই আবার মে 1989 তে গিয়েছিলাম এই তাডোবায়।
সে কথা পড়তে লিখছি -----------)

  N==রাত্রিবাস তাডোবায়ে 
 পঞ্চম দিন তাডোবা থেকে-------বোধলকসা

ফরেস্ট অফিসার পি কে এস কুট্টি আমাদের জন্য একটি গাড়ি ব্যবস্থা করে দিলেন যেটি আমাদের
সাথে চার দিন থেকে  বোধলকসা হয়ে  নাগজিরা নিয়ে যাবে এবং নাগপুরে ফিরিয়ে আনবে।
নাগপুর থেকে বোধলকসা --135 কিমি
বোধলকসা থেকে নাগজিরা --57 কিমি

বোধলকসা। ছোটো ছোটো পাহাড়, জঙ্গল, ঝরনার মাঝে প্রকৃতি উপভোগ ভালই লাগে বোধলকসায়।
এমন নিরালা প্রাকৃতিক সৌন্দৰ্য্যে পড়িপূর্ণ স্থান ,যেখানে সাধারণত সহসা কেউ আসেনা বা অনেকে হয়তো জানেই না। ধীরে ধীরে প্রচার বারলেই মানুষের ভিড়ও বাড়বে। কারন এমন মনোরম নির্জন অথছ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পড়ি পূর্ন বর্তমানে খুব কমই আছে। মহারাষ্ট্রের বনদপথরের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এমন সুন্দর দূষণ মুক্ত  পরিবেশ গড়ে উঠেছে।
আমরা দিনভর ঘুড়ে বেড়ালাম পায়ে হেটে কারন কোনপ্রকারের গাড়ির প্রবেশ নিষেধ।
আমরা সকাল 11টা থেকে বিকেল 5টা এই 6 ঘন্টা হেটে হেটে ঘুরে দেখলাম।
আমাদের গাইড নেবার দরকার হয় নি কারন মিঃ কুট্টি সাহেবের নির্দেশে আমাদের ড্রাইভারই গাইডের কাজ করেছেন। কিন্তু অসুবিধা যা হয়েছিল সেটা আমাদেরই ভুলে। কারন আমরা সাথে কিছু খাবার আনিনি ,আর সাথে খাবার আনলেও ফরের্স্টের ভেতরে খেতে পারতাম না। অগত্যা দিন ভর উপোষেই কাটলো। তবু ভাগ্য ভালো কুট্টি সাহেব আমাদের যাতে কষ্ট নাহয় তারজন্য প্রচুর মাত্রায় জল দিয়ে দিয়ে ছিলেন প্লাস্টিকের ড্রামে করে।
আজকাল নাহয় বোতলে করে জল পাওয়া যায়। সেই সময় এই সকল শিল্ড ওয়াটার বোতল পাওয়া যেতোনা ,বা পাওয়া গেলেও আমাদের জানাছিলোনা। তাই আমরা ওই কুট্টি সাহেবের দেওয়া ড্রামের জল জেজার নিজের ওয়াটার বোতলে ভরে নিয়েই কাজ চালিয়েছি। তার মধ্যে আমার নিজে ওয়াটার ব্যাগ যাকে  বলে ছোট ছাগল তাতে প্রায় পাঁচ লিটার জল রাখতে পারতাম।  সেই কারনে আমরা বেশ আরামেই ঘুরে বেড়িয়েছি ,কোন কষ্টই হয়নি। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দৰ্য এতটাই সুন্দর যে আমরা কিছু খাবার কথা ভুলেই গিয়ে ছিলাম। পার্ক থেকে বেরিয়ে রওনা দেবার সময় ড্রাইভারকে বললাম রাস্তায় কোন হোটেল দেখলেই দাঁড়াবে। ড্রাইভার বললেন এখানে কোন হোটেল বা ধাবা পাওয়া যাবেনা। পাওয়া যাবে সেই নাগজিরাতে।
আমরা রাত্রি 8:30 মিনিট নাগাদ পৌঁছলাম নাগজিরাতে।
আমাদের ড্রাইভারই নিয়ে গেল এক হোটেলে। সেই  হোটেলেই  রাত্রে থাকার জন্য দুটো রুম নিলাম।
ড্রাইভার বললো ওনার থাকার জায়গা আছে হোটেলেই। এবং ড্রাইভারদের থাকা খাওয়া নাকি ফ্রী।
সে যাইহোক আমরা রাত্রের খাবার খেয়ে যেজার মতন  শুয়ে পড়লাম।
N==রাত্রিবাস নাগজিরাতে।  

ষষ্ঠ দিন  – ||  নগজীরা--ব্যাঘ্র প্রকল্প ||
                     <--©-আদ্যনাথ-->

কিছু ছোট ঘটনা যা মনকে ছুঁয়ে থাকে
চিরকাল মনের কোণে উজ্জ্বল হয়ে থাকে।
তেমনি এক ছোট্ট ভ্রমণের কথা।
যেটি আজও আছে মনে গাঁথা
ঠিক যেন সদ্য ঘটে যাওয়া কথা।

মনেপরে মহারাষ্ট্রের নগজীরা বা নাগজীরা জঙ্গলে,
যেখানে বাঘেরা ঘুড়ে বেড়ায় আপন মনে।
ফাল্গুনের সন্ধ্যার দখিনা হাওয়ায়,
মহুয়ার গন্ধে মনকে মাতায়।

মৃদু মন্দ শীতল হাওয়া আমলকি বনে,
ভ্রমরের গুঞ্জন পলাশের ডালে ডালে।
হরিণ, ছাগল গুলি ভাল্লুকের পাশে শুয়ে,
মহুয়া ফল খেয়ে, নেশায় মাতাল হয়ে।

সন্ধে হলেই বাঘের গর্জনে বন কাপায়,
হরিণ,ছাগল অনায়াসে ধরে খায়।
কখনোবা চলে ভাল্লুক বাঘের লড়াই,
মাচায় বসে দেখেছি সেই লড়াই।

চলেজান দেখে আসুন নগজীরার
ব্যাঘ্র প্রকল্প।
বাঘেরা ঘুড়ে বেড়ায় দিনে ও রাত্রে।
সেদিন মাসটি ছিল ফেব্রুয়ারী  সাল 1988 
আমাদের  নগজীরা ভ্রমণের সাল ও মাস টুকুই মনে আছে। 
সেদিন  উদ্যেশ্য ছিল বন্য বাঘ  দেখা। 
নাগজীরা অভয় অরণ্যের  বাঘ দেখা, খুশি টুকু আজও মনে আছে সেই দেখা।
সে ছিল ফেব্রুয়ারি মাস ভ্রমণ কারিদের ভিড় ছিল বেশ।
আমরা  বেড়িয়ে ছিলাম চারজনে  
সাফারি করলাম মনের আনন্দে।
দেখে ছিলাম তিন তিনটি বাঘ, 
কি ভীষণ ভয়ঙ্কর তাদের চেহারা,
গায়ে ডোরা ডোরা দাগ।

ভাগ্যবান ছিলাম বোধহয় আমরা,
দেখেছিলাম বাঘ ও মহিষের যুদ্ধ,
দুটি বাঘ ও একটি মহিষের যুদ্ধ।
সেই মর্মান্তিক দৃশ্য জীবনে ভুলবার নয়।
বোধয় এক ঘন্টা চলেছিল সেই যুদ্ধ।

এই অভয় অরণ্য টি পূর্বে বিদর্ভের ভাণ্ডারা ও গন্দিয়া জেলার সীমার সাকলি থেকে 22 km দুর।
বর্তমানে নিউ নগজীরা প্রকল্প চালু হয়েছে। নগজীরায় অভয় অরণ্য নানান জীব জন্তুতে পরিপূর্ন।
আর আছে নানান প্রজাতির রকমারি গাছ সম্পুর্নটাই গভীর জঙ্গলে পরিপূর্ন। গ্রীষ্ম কালের ফল আম, জাম,কাঁঠাল,মনের স্বাদ পূর্ন হবে পেটপুরে খেয়ে আম। ফাল্গুনে বসন্তের শুরুতে নানান প্রজাতির
রকমারি ফুল।
মুহুয়ার গন্ধে মন মাতাল হতে চাইবে।
দিগন্ত জুড়ে পলাশের রক্তিম আভা
সূর্যালোকে কি দারুণ তার শোভা।
স্বার্থক  অরণ্য ভ্রমণ
নগজীরার অভয় অরণ্য দর্শন।

মহারাষ্ট্রের সুন্দর এই অরণ্য নগরী
একটা কৃত্তিম  লেককে ঘিরে গড়ে ওঠা 134 বর্গ কিমি আয়তনের এই অভয়ারণ্য এখানে আছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ও নানান প্রজাতির বাঘ।
গরমের সময় এই অভয়ারণ্যে বড় বড় অর্জুন, শাল, সেগুন, সিমুল, শিশু, মহুয়া, তেন্দুর, গামার প্রভৃতি গাছের ছায়ায় দিনের বেলায় ঘুরে বেড়ায় বাঘ চিতা, ভাল্লুক, বাইসন, চিতল, সম্বর, অ্যান্টিলোপ, নীলগাই সহ নানান জন্তু।
নাগজীরার গেস্টহাউসের ঠিক উল্টোদিকে রয়েছে একটা ওয়াচটাওয়ার। হাঁটতে হাঁটতে টিলার মাথায় উঠে দেখে নেওয়া যায় জঙ্গলের রূপ সৌন্দর্য। সারাদিন গাছ গাছালিতে চেনা  অচেনা অসংখ্য পাখির ডাকে মুখরিত জঙ্গল যেন এক মায়াময় পরিবেশ। এখানে পাখিদের দলে আছে  বুলবুলি, ময়না, ভীমরাজ, ফিঙে, দোয়েল, খঞ্জনা, পাপিয়া, রোজ রিং প্যারাকিট, ময়ূর, মাছরাঙা, ল্যাপউইং প্রভৃতি।
সেই কারণেই নগজীরা অভয়ারণ্যের মনোরম শোভার আকর্ষণ ভুলে যাওয়া অসম্ভব।

N== রাত্রিবাস নাগজিরা।

সপ্তম দিন ----

আমাদের নাগজীরা ভ্রমণের আসল উদ্যেশ্য বন্য বাঘ দেখা।
এখানে  অভয় অরণ্যে বাঘ দেখতে পাওয়ার সুযোগ অনেক বেশি ।তাই আমরা ফেব্রুয়ারি মাসে নাগজিরা তে গিয়েছিলাম।
আমরা যখন পৌঁছেছি তখন বেশ ভিড় ছিল।
যাইহোক তার মধ্যেও আমরা দুইদিন সাফারি করে মনের স্বাদ মিটিয়েছি।
বেশ কটি বাঘ দেখতে পেয়েছিলাম।
সব থেকে ভাগ্যবান বোধহয় আমরাই ছিলাম।
কারণ ঠিক আমাদের থেকে একটু দূরে দুটি বাঘকে দেখলাম একটি মহিষ কে শিকার করতে।
আমরা প্রায় এক ঘন্টা ধরে ওই দৃশ্য দেখে ছিলাম।
এই অভয় অরণ্য টি পূর্বে বিদর্ভের ভাণ্ডারা এবং গন্দিয়া জেলার সীমার সাকলি থেকে
22 কিমি  দুর।
বর্তমানে নিউ নগজিরা প্রকল্প চালু হয়েছে।
নাগজিরায় নানান জীব জন্তু দেখলাম।
আমি অনেক অভয় অরণ্যে  সাফারি করেছি।
কিন্তু আজ পর্যন্ত ওই নাগজিরার মতন এত ভালো বাঘ ও অন্যান্য জন্তু দেখতে পাইনি।
নগজীরা সাফারি করার সময় -------
( Monday 3–7pm
Tuesday 6–10am and 3 pm to7pm
Wednesday 6–10am and 3–7pm
ThursdayClosed
Friday 6–10am and 3–7pm
Saturday 6–10am and 3–7pm
Sunday 3–7pm )
আজকাল অবশ্য অনেক রিসোর্ট, হলিডে হোম,হতেছে।
N==রাত্রি বাস নাগজিরাতে।

অষ্টম দিন। ---আজ আমাদের ফেরার পালা।

নগজীরা পৌঁছবার সহজ পথ
সবথেকে কাছের রেলওয়ে স্টেশন গোন্ডিয়া
এই গোন্ডিয়া থেকে নাগজীরার  সাকোলি নামক স্থানের গেট  মাত্র ২০ কিমি দূরে।

 আমরা গোন্ডিয়া স্টেশন থেকে ট্রেনে ফিরতে পারতাম। কিন্তু মিঃ কুট্টি ড্রাইভার কে বলেদিয়েছিলেন নাগপুরে পৌঁছে দিতে।  ড্রাইভার সেই মতন আমাদের নাগপুরে নিয়ে গেলেন। তখন রাত্রি 9 টা বাজে। আমরা স্টেশনে পৌঁছতেই দেখি মিঃ কুট্টি দাঁড়িয়ে আছেন। উনি পিল্লাই এর সাথে কথাবলে আমাদের আবার ওনার বাংলোতে নিয়ে গেলেন।
সেদিন মিঃ কুট্টির মেয়ের জন্ম দিন ছিল আর সেই কারনে সেখানে প্রচুর মানুষের সমাগম।
আমরাও অনেক রাত পর্যন্ত আনন্দ ফুর্তি করে ওনার গেস্ট হাউজে শুয়ে পড়লাম।
দেখলাম গেস্ট হাউসে অনেক মানুষই রাতে রয়ে গেলেন।

আমরা সকালে ঘুম থেকে উঠে চা কফি ও টিফিন খেয়ে বসে আছি।
মিঃ কুট্টি আমাদের হাতে ধরিয়ে দিলেন আমাদের ট্রেনের টিকিট রিজার্ভেশন সহ।
সকাল 11টায় আমাদের ট্রেন।

XXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXX



16 th May 1989.তাড়োবা for 3 days 
    16/05/1989 to 18/05/1989
 
এখানে আরও একটু জানিয়ে রাখি যে 1988 এর ফেব্রূয়ারিতে দুই দিন তাডোবায় ঘুরে বেরিয়ে দেখেও কেন জানিনা আমার মন আবার একবার তাডোবায়  যাবার জন্য  ব্যাকুল হয়ে পড়ল আর সেই কারনে কোন সাথী ছাড়া একলাই আবার মে 1989 তে গিয়েছিলাম এই তাডোবায়।

নাগপুর ----তাড়োবা
      নাগপুর থেকে তাড়োবা। আমার 3 দিনের পোগ্রাম। february 1988 এর পরে আবার
       May 1989.তাড়োবা ঘুরে আসলাম।

নাগপুর থেকে তাড়োবা একদিনেই ঘুরে দেখে আসা যায়।
তবে তাতে মন ভরবে না।
তাই আমি এখানের গেস্ট হাউজে একরাত্রি
থেকে খুব ভালো করে ,মনের স্বাদ মিটিয়ে ঘুরে দেখেছি।
নাগপুর থেকে তাড়োবার দূরত্ব 150 কিমি।

আমি হাওড়া থেকে বোম্বে মেলে নাগপুর আবার  নাগপুর থেকে ট্রেনে গেলাম  চন্দ্রপুর । চন্দ্রপুর থেকে তাড়োবার দূরত্ব মাত্র 45 কিমি বাসে ।
বাস চলে প্রচুর।
প্রতি মঙ্গলবার পর্যটকদের জন্য বন্ধ থাকে তাড়োবা।
তাড়োবা ন্যাশনাল পার্ক সাফারির সময় প্রতিদিন সকাল 6 টা থেকে 10 টা অবধি এবং বিকেল 3 টে থেকে সন্ধে 6 টা পর্যন্ত।
সাফারি করার জন্য গাড়ি পাওয়া যায় গাইড ও পাওয়া যায়।)

পার্কের কিছু  বিবরণ:-
যেমন গাইড বলেছিল।
কানহার দক্ষিণ পশ্চিমে পশ্চিমঘাট পর্বতমালার টিক ও বাঁশে ছাওয়া আরণ্যক পরিবেশে 117 বর্গকিমি ব্যাপ্ত তাড়োবা জাতীয় উদ্যান। অনেক বাঘ আছে পার্কে।

 বিশাল পার্ক  ঘিরে সেগুন, শিরীষ, মহুয়া, পলাশ, এর অরণ্যে দেখতে পাওয়াযায়   বাঘ,  চিতা, ভাল্লুক, গাউর, নীলগাই, সম্বর, চিতল, লেঙ্গুর, হায়না, চৌশিঙ্গা প্রভৃতি নানা ধরনের বন্য জন্তু। গ্রীষ্মে পিপাসার্ত হয়ে বনচরেরা আসে  লেকের জলে তৃষ্ণা মেটাতে।
তেমনই গোটা তাড়োবা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে  সল্ট লেক । লেকের জলে রয়েছে কুমীর ও কচ্ছপ। জল ছেড়ে স্থলেও মাঝে মধ্যে কুমীর। অনেক প্রকারের সাপ ও আছে এখানে।গাইড বললো পাইথনও আছে জঙ্গলে।
নানান স্থানে মাচান রয়েছে জন্তু দেখবার জন্য। নিজস্ব ব্যাবস্থায় জিপ চলে তাড়োবায়। তাছারাও উপযুক্ত গাইড সথে নিয়ে পায়ে পায়ে ভ্রমণ করা যায় তাড়োবার জঙ্গলে। বেড়াবার মরশুম নভেম্বর থেকে জুন হলেও গ্রীষ্মের সকাল ও সন্ধ্যায়  জন্তু দেখবার জন্য অতি উত্তম।

 তাড়োবা় আন্ধেরি টাইগার রিজার্ভ, মহারাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ও পুরনো টাইগার রিজার্ভ। এক সময় এই জঙ্গলে বাঘ শিকার বৈধ ছিল। কিন্তু  1935 সালের পর শিকার নিষিদ্ধ হয়। এর কুড়ি বছর পর, 1955 সালে এই অরণ্য সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষিত হয়। 1986 সালে এর ঠিক পাশেই ‘আন্ধেরি ওয়াইল্ড লাইফ স্যাংচুয়ারি’ তৈরি হয়। এখন জানলাম যে  আমরা যে সময়ে গিয়েছিলাম তার সাত সাল পরে1995 সালে তাড়োবা ন্যাশনাল পার্ক ও ‘আন্ধেরি ওয়াইল্ড লাইফ স্যাংচুয়ারি’ একসঙ্গে করে নাম হয় তাড়োবা আন্ধেরি টাইগার রিজার্ভ।
আজকাল তো বাঘের সংখ্যাও অনেক বেড়ে গেছে।
==================================================








No comments:

Post a Comment