Thursday, March 19, 2020

43>ভ্রমণ =কোঙ্কন রেলওয়ে।-13/04/2000 to 27/04/2000=15 days

 ভ্রমণ =কোঙ্কন রেলওয়ে।-----
      13/04/2000 to 27/04/2000=15 days
( কোঙ্কন রেলওয়ের পথে যে যে জায়গা গুলি ঘুরে বেড়িয়েছি ::-
রত্নগিরী, গণপতিপুলে  ,থীভিম,কারমালি, মেডগাওন।
RATNAGIRI, GANPATIPULE, THIVIM, KARMALI, MADGAON, )


এই রেল পথটির অপূর্ব সৌন্দর্যের গল্প শুনলাম কে সি পি রমন ও এন কে কুট্টি র মুখে।
এমন সুন্দর রেল যাত্রার কথা শোনা অবধি
মন ভীষণ চঞ্চল হলো একবার দেখবার জন্য।
অবশেষে এল টি সির ছুটি গ্র্যান্ড হলো
15 দিনের। 13 ই এপ্রিল 2000 বৃহস্পতিবার থেকে 15 দিনের জন্য।
ধনবাদ থেকে মুম্বাই
মুম্বাইয়ের দাদর থেকে রাত্রি 11টা র
পরে ট্রেন ছাড়লো প্রথমে রত্নগিরি তে নামলাম
ভোর বেলায়। দুই দিন  রত্নগিরি তে ঘুরলাম।

রত্নগীরী মহারাষ্ট্রের একটি সুন্দর শহর বন্দর।
এখানে আরব সাগরের তীরে রত্নদুর্গ কেল্লা বা ফর্ট। ভগবতী মন্দির, লাইট হাউস, মিউজিয়াম ও অ্যাকরিয়াম, থিবো প্লেস,
গণপতি মন্দির, এখানে ভগবান গণেশের মূর্তি
এখানে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র।
জঙ্গলে দেখলাম বাঘ, হরিণ, প্রচুর পাখি নানান জাতের । প্রচুর পরিমাণে বন জঙ্গল।

এমন সৌন্দর্যের খোঁজ কেনা জানে।
তাই আমিও এমন সৌন্দর্যের লোভ সামলাতে
না পেরে বেরিয়ে পড়েছিলাম এই রেল পথে
একটু ভ্রমণ করতে।13 ই এপ্রিল 2000 সালে।

আমার একমাত্র  উদ্বেশ্য ছিলো শুধু এই রেল পথে ভ্রমণ আর উপরি পাওনা হিসাবে ঘুরে বেরিয়েছি আসে পাশের কিছু  কিছু দর্শনীয় স্থান ।
আর তাই মনের সুখে ঘুড়ে বেড়িয়েছি ::--RATNAGIRI, THIVIM, KARMALI, MADGAON,

সম্পুর্ন রেলের পথটি  পাহাড়ের তরাইয়ের
ঢাল ও সমুদ্রের ধার বরাবর, গভীর বন জঙ্গল ভেদ করে একটার পর একটাব্রিজ ও টানেলের মধ্য দিয়ে পাহাড় গুলি পার করে এগিয়ে গেছে।
সমস্ত পথটাই ভীষণ রোমাঞ্চ কর ও এক অদ্ভুত অনুভুতির পরশ যা ভোলা অসম্ভব।
মুখে বলে বা লিখে এমন সৌন্দর্য বর্ণনা করা অসম্ভব।

এবার আমাকে একলাই বেরিয়ে পড়তে হোল।
অনেক চেষ্টা করেও কোন সাথী জোগাড় করতে না পেরে একলাই রওনা দিলাম
কোঙ্কন রেলওয়ের দর্শনে।

মানুষ ঈশ্বর দর্শনেই বেশি ভ্রমণ করে,
আমি রেল পথে ঘুরে বেড়াবার জন্য বেরিয়ে পরলাম।

মহারাষ্ট্রের, বেলাপুর নভিমুম্বাই এর কোঙ্কন রেলওয়ে দ্বারা পরিচালিত কোঙ্কন রেলওয়ে।
1993 র 20মার্চ একটি প্যাসেঞ্জার ট্রেন পরীক্ষা মূলক ভাবে চালিয়ে ছিলো।যেটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
পরবর্তী সময়ে সম্পুর্ন রেলের পথটি নূতন রূপে উন্নত টেকনোলজি তে সাজিয়ে
January 26, 1998, the অর্থাৎ ভারতের স্বাধীনতা দিবসের দিনে  চালু হোল কোঙ্কন রেলওয়ে। মোট 741 km (461 mi) দীর্ঘ লাইন।
মহারাষ্ট্রের মুম্বাই থেকে কর্ণাটকের মেঙ্গালোরে,ভারতের দক্ষিণ পশ্চিম সামুদ্রিক শহর পর্যন্ত বিস্তৃত মহারাষ্ট্র, গোয়া,এবং কর্ণাটক রাজ্য জুড়ে।
সর্বমোট স্টেশন সংখ্যা 67 টি।
""   ""  : : : টানেল 10 টি
বড়ো টেনেল টি 6 কি মিঃ।
ছোট টানেল টি 1 কি মিঃ।
মোট ব্রিজ আছে 6 টি।
এগুলি ছাড়া আরও বহু টানেল ও ছোট ছোট ব্রিজ আছে পথে।
লাইন টির দৈর্ঘ  741 কি মিঃ,(461 মাইল)

স্টেশন, টানেল,ও ব্রিজ, গুলি হোল::----

0 Roha (RN)// 13 Kolad// 24 Indapur //
30 Mangaon// 41 Goregaon Road//
47 Veer// 55 Sape Wamane//
63 Karanjadi // 71 Vinhere//

Natuwadi Tunnel (4 km)**

81 Diwankhavati // 98 Khed /112Anjani
128 Chiplun //

Chiplun Tunnel (2 km)**

138 Kamathe//

Savarde Tunnel (3 km)**//

147 Sawarda Shastri Bridge//##

Parchuri Tunnel (3 km)**//

150 Aravali Gad Bridge //##

171 Sangameshwar// 184 Ukshi //

Karbude Tunnel (6 km )**//

197 Bhoke// 203 Ratnagiri Panval Nadi Viaduct//

Tike Tunnel (4 km)**//

219 Nivasar// 235 Adavali //

Berdewadi Tunnel (4 km)**//

250 Vilavade// 267 Rajapur Road//
284 Vaibhavwadi Road//
299 Nandgaon Road// 314 Kankavali //
333 Sindhudurg // 343 Kudal//
353 Zarap // 364 Sawantwadi Road//
371 Madure //
Maharashtra state / RN limits Goa state KAWR limits//

Pernem Tunnel (1 km)**//

382 Pernem // 393 Thivim//

Mandovi Bridge//##

411 Karmali //

Zuari Bridge//##

427 Verna to Vasco da Gama //
432 Majorda Junction// 435 Suravali//
438 Madgaon Junction  to Londa Junction // 456 Balli //

Barcem Tunnel (3 km)**//

472 Canacona // 482 Loliem//
Goa stateKarnataka state //
492 Asnoti //

Kalinadi Bridge//##

500 Karwar//

Karwar Tunnel (3 km)**//

513 Harwada // 528Ankola//
526 Gokarna Road // 555 Kumta//
568 Honnavar //

Sharavati Bridge //##

586 Manki // 595 Murdeshwar//
603 Chitrapur // 609 Bhatkal //
617 Shiro//
625 Mookambika Road Byndoor//
631 Bijoor // 644 Senapura//
658 Kundapura // 674 Barkur //
690 Udupi // 700 Innanje //706 Padu//
723 Mulki //
732 Surathkakkto Hassan Junction (MYS) to Mangalore Junction (PGT)
741 k m.
=====================
. নূতন রূপে চালু হবার থেকে যে টেকনোলজি গুলি ব্যবহার হচ্ছে তার মধ্যে প্রধান হোল
The anti-collision devices, the Sky Bus and RORO are a few of the innovations from Konkan Railway.

সম্পুর্ন রেলের পথটি  পাহাড়ের তরাইয়ের ঢাল ও সমুদ্রের ধার বরাবর, গভীর বন জঙ্গল ভেদ করে একটার পর একটা টানেলের মধ্য দিয়ে পাহাড় গুলি পার করে এগিয়ে গিয়েছে ।
সমস্ত পথটাই ভীষণ রোমাঞ্চ কর ও এক অদ্ভুত অনুভুতির পরশ যা ভোলা অসম্ভব।
মুখে বলে বা লিখে এমন সৌন্দর্য বর্ণনা করা অসম্ভব।
এই পথে এতো টানেল ও ব্রিজ আছে যার হিসাব ভবনার অতীত।
কেউ কেউ বলেন সর্ব মোট টানেল আছে 92 টি, সব কটি টানেল যোগ করলে তার লম্বাই হবে82 কিলোমিটার এবং বরো ব্রিজের সংখ্যা নাকি 179 টিও ছোট ব্রিজ 1819 টি। পথে
288 টি রেল ক্রসিং।
এখন নাকি পথ টি 760 কি মী।
সে যাইহোক আমার ও সকল হিসাবের কি কাজ।
আমি এসেছি একটু প্রকৃতির উন্মুক্ত বাতাসে খোলা আকাশের নিচে প্রকৃতির শোভা দর্শন করতে।
দিন ভোর রত্ন গীরিতে ঘুলেও মন ভরলো না তাই বাধ্য হয়ে একটা হোটেলে রাত কাটালাম।
সকালে রত্নগিরি থেকে গণপতিপুলে  গাড়িতে প্রায় একঘন্টা 46 km ।
এর আগেও দুইবার গণপতিপুলে এসেসিলাম। যদিও এখানে সিবিচ ছাড়া দেখার তেমন কিছুই নাই
তবুও এই অঞ্চলে আসে পাশে ঘুরে বেড়াতে ওয়াই পয়েন্ট ও এই গণপতিপুলে আসতেই হয়।

গণপতিপুলেতে আছে থিবাউ পেলেস,বা   থিবো প্যালেস (বার্মারাজ থিবোকে বন্দি করে রাখার জন্য ব্রিটিশদের গড়া প্রাসাদ),
*ভগবতী মন্দির,
লোকমানি তিলক স্বারক ,পতিতপাবন মন্দির। *রত্নগিরি দুর্গ,
দিনভর ঘুরে বিকেলে মানে দুপুরের পরেই আবার ফিরলাম  রত্নগিরি।


রত্নগিরি জায়গাটা বেশ সুন্দর । বেশ ফাঁকা ফাঁকা মালভূমি ধরনের জায়গা । রাস্তাগুলো মাঝে মাঝে অনেকটা ওপরে উঠে গেছে আবার কখনও কখনও নেমে যায়। কখনো   পাশে চলে পড়ে সমুদ্র । পাহাড়ের ওপর থেকে  সমুদ্র দেখা এক বিশেষ ভালোলাগার অভিজ্ঞতা ।সমুদ্রের জলে প্রচন্ড ঢেউ না থাকলেও পরিষ্কার জলটা দেখতে দারুণ লাগে । এই দৃশ্যই রত্নগিরি থেকে গণপতিপুলে যাওয়ার পথে সবথেকে বড় পাওনা ।


কোঙ্কন রেলওয়ের পথটা খুব সুন্দর, অনেকটা অংশই পাহাড় ও নদীর মধ্যে দিয়ে ।
বাইরের দৃশ্য সত্যিই খুব সুন্দর । রেলপথটা পুরোটাই পাহাড়ের ভেতর দিয়ে, মাঝে মাঝে পাশে নদী চলেছে । পথটা অনেকটা উঁচু । মাঝে মাঝে ট্রেন টানেলের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে । একেকটা টানেল বেশ লম্বা । রত্নগিরি পৌঁছনোর কিছুক্ষণ আগে একটা বেশ লম্বা টানেল । পাহাড়ের টানেলের মধ্যে দিয়ে ট্রেনে যাওয়ার  এই জিনিস দেখে যে অভিভূত হয়ে পড়া অতি স্বাভাবিক।
রত্নগিরি স্টেশনটা একটু উপরে একটা পাহাড়ের মাথায়, স্টেশন থেকে বেরোতে গেলে আরও কিছুটা ওপরে উঠতে হয় । তারপরে গণপতিপুলে যাওয়ার গাড়ি জোগাড় করা বেশ মুস্কিল।
প্রথমতঃ স্টেশনটা খুব বড় কিছু নয়, তাই স্টেশনে কোনও গাড়ির স্ট্যান্ড নেই । যেটা আছে সেটা অটোর স্ট্যান্ড । এখান থেকে অটো গণপতিপুলে যায় কিন্তু লাগেজ বেশি হলে অটোতে হবেনা।
গণপতিপুলের পথে সমুদ্রের দৃশ্য ,সে দেখার মতন।

( মহারাষ্ট্র ট্যুরিজম্‌ ডেভেলপ্‌মেন্ট কর্পোরেশন রিসর্টে আছে এখানে। সেগুলি আগে থেকে বুক করে নিতে হয়। আমি তো কোনকিছু প্ল্যান করে আসিনি তাই অমন সুন্দর থাকার জায়গা পাওয়া অসম্ভব
আমি কোনমতে রাত্রি টুকু কাটাবার মতন একটি ছোট হোটেলে থাকলাম  )

গণপতিপুলে বীচ্‌এতে সমুদ্রের স্নান করা যায়।
আরব সাগরে এমনিতে ঢেউ কম, তবে গণপতিপুলে অঞ্চলে সমুদ্রের ঢাল বেশ বেশি, তাই এখানে ঢেউ বেশি আর সেই সঙ্গে সঙ্গে আন্ডার কারেন্টও বেশি । আর এখানকার জলের আরেকটা বৈশিষ্ট্য হল জলটা বেশ নীল, বিশেষ ঘোলা নয় । জলে চালানোর জন্য আবার ওয়াটারক্র্যাফটও ভাড়া পাওয়া যায় ।
সমুদ্রের ওপর মেঘের আড়ালে সূর্য্যাস্তবিকেল বেশ সুন্দর লাগে।
গণপতিপুলেতে সমুদ্র ছাড়া আর কিছুই নেই, তবে এখানকার বীচটা খুব সুন্দর, বসে থাকতে ভালোই লাগে । বীচে তিনচাকার মোটরবাইক, টয়ট্রেন ইত্যাদি চলে ।

সর্বোপরি এই এলাকার  প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্য ছেড়ে ফিরে যেতে মন চায় না।
এখনও তো আরো অর্ধের পথ বাকি তাই ফিরে যাবার জন্য ট্রেনের খোজ করলাম।
জানলাম রাত্রি একটার আগে কোন ট্রেন নাই।
হোটেলের মালিক বললেন রাতের ট্রেন ধরতে হলে আমাকে সন্ধ্যা 7 টার মধ্যে বেরিয়ে পড়তে হবে।
আমি বললাম কেন এখান থেকে স্টেশন তো মাত্র 15 মিনিটের পথ।
তা এতো আগে কেন যাবো।
উনি বললেন দেখুন সন্ধ্যা সাতটার পরে ভেন ও  পাবেন না ।আর ভ্যান বা অটো  না পেলে এই পথ টুকু হেঁটে আজ কাল যাওয়া ধিষণ রিস্ক।
যে কোন সময়ে শেয়াল বা লাকার বাঘ বা ভাল্লুকের আক্রমণ হতে পরে একলা পেয়ে।
তাই সন্ধ্যার আগেই স্টেশন পৌঁছে যাওয়া ভালো।
অগত্যা আমি কিছু রুটি তরকা খেয়ে রওনা দিলাম একটি রিক্সা করে। তাই সন্ধ্যার আগেই
পৌঁছে গেলাম স্টেশনে।
কিন্তু একি একটু আগেও বেশ দিনের আলো ছিলো , হঠাৎ করে মনে হলো কেউ  কালো পর্দা দিয়ে সম্পুর্ন আকাশ বন জঙ্গল ঢেকে দিল।
অন্ধকার হয়ে গেল। তার উপরে হঠাৎ করে শুরু হলো ঝড় বৃষ্টি।
এমন ঝড় কোনদিন দেখিনি।কি প্রচণ্ড হওয়া সাথে বৃষ্টি। শুরু হল ঠাণ্ডা।, কম্বল টা বার করে
জড়িয়ে নিয়ে বসলাম।
কাউন্টারে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম ট্রেনের জন্য।কাউন্টার থেকে বললো রাত্রি একটায় ট্রেন
তাই রাত্রি 12 টার আগে টিকিট পাওয়া যাবেনা।
এর পরেই ঘটলো এক মজার ঘটনা।
দেখি কয়েকজন কুলি ও দুইজন সাধারণ যাত্রী প্লাটফর্মের এক কোনায় কিছু কাঠ কুটো
জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছে প্রচন্ড শীতে আগুনের লোভ সামলানো মুশকিল তাই আমিও
ওদের সাথে যোগ দিলাম। আগুনের পাশে এক কোনায় পাঁচিলে হেলান দিয়ে কম্বল মুড়ি
দিয়ে বসলাম। তখন মাত্র 7.30 .এখনো পাঁচ ঘন্টা বসতে হবে। কিট্স্ ব্যাগ তা পাশে রেখে
কম্বল টা ভালো করে জড়িয়ে বসে পড়লাম। কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম সেটা বুজতেই
পারিনি।  যখন ঘুম ভাঙলো তখন দেখি আমি একলাই বসে বসে আছি। এবং রাত্রি তখন
দুটো বাজে। হড়বড় করে কাউন্টারের দিকে এগিয়ে গিয়ে দেখি কাউন্টার বন্ধ।
কি করি কাকে জিজ্ঞাসা করি ট্রেনের খবর , কেউ কোথাও নাই। এদিগে ফায়ার এসে দেখি
আমার কিট্স্ ব্যাগটাও নাই। বিপদ যখন আসে সব দিক থেকে আসে।
বুঝলাম  আমার সব কিছু চুরি হয়ে গেছে। যদিও ব্যাগে দুটো পেন্ট তিনটে জামা কিছু
জাঙ্ঘিয়া ছাড়া আর কিছু ছিল না ও আর একটি টর্চ ও সেভিং কিট্স্ ছিল ব্যাগে।
কি আর করি কোন মোতে বসে বসে রাট কাটলো। তবে এই খালি জায়গা ছেড়ে কাউন্টারের
কাছে রেলিং ঘেরা জায়গাতে গিয়ে বসলাম। এখন তো ভাব না হলো সকালে বাজারে গিয়ে
আগে একটা ব্যাগ ও জামা কাপড় কিনতে হবে।
ঘুম আর হলোনা। বসে বসে রাত  কাটলো। সকাল হতেই স্টেশন থেকে বেরিয়ে দেখি একটা
অটো ভ্যান  দাঁড়িয়ে। ওকে বললাম ভাই এখানকার কাপড় জামার  বাজার কতো দূর।
ভ্যান  ওয়ালা বললো এই তো কাছেই ,তবে কাপড় জামার দোকান তো আটটার আগে খোলা
পাবেন না। আর এতো সকালে কাপড় জামার দোকান খোঁজ করছেন কেন ?
আমি ওকে আমার ব্যাগ চুরির ঘটনা বললাম। ভ্যান  ওয়ালা সব শুনে বললেন দেখুন তো ওই
দিকে বড়ো তেতুল গাছটার নিচে একটা কিট্স্ ব্যাগ পরে আছে ,ওটাই আপনার নাকি ?
আমি উর্দ্ধ স্বাসে ওই গাছটার দিগে ছুটে গিয়ে দেখি হ্যা ওটাই আমার ব্যাগ। আর আসে পশে
ছড়িয়ে আছে জামা পয়েন্ট গুলি। আমি এক এক করে যাৰ গুছিয়ে ব্যাগে ভোরে নিয়ে এসে
ভ্যান  আলাকে ধন্যবাদ জানাতে আসলাম। ভ্যান  ওয়ালা বললো এগুলি ওই লেঙ্গুরের কাজ।
অর্থায় আমার ব্যাগ কোন ছোড়ে চুরি করেনি ,ওই হনুমান বা বাঁদর গুলি সুযোগ বুঝে
কিছু খাবারের লোভে ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে ছিলো। শুধু ব্যাগটা একটু ছিঁড়েছে। ব্যাগের
চেন খুলতে পারেনি তাই ব্যাগ টাই ছিঁড়েছে।
যাইহোক বিরাট খরচের হাত থেকে বাচলাম। তবে ব্যাগ একটা কিনতেই হবে।
ভ্যান  ওয়ালা বললো বিকেল তিনটায় ট্রেন। তাই কি আর করি ভ্যান  ওয়ালাকে বললাম
চলো যাবে আমাকে বাজার যেতেই হবে তবে তাওতো অনেক সময় আর দিন ভোর ঘুরেই
বেড়াতে হবে।  রিক্সা ওয়ালা বললো সে 40 টাকা নেবে দিন ভোর আসে পাশের দুটি সুন্দর
মন্দির ও গোটা কয়েক ভিউ পয়েন্ট দেখিয়ে 2.30 এতে স্টেশনে পৌঁছে দেবে।
আমি ওর কোথায় রাজি হয়ে আবার একটু ঘুরে বেড়ালাম।
ভ্যান  ওয়ালার নাম মঙরু  পাসোয়ান। মঙরুর সাথে ঘুড়ে বেড়ালাম। তবু দুইদিন পরে
কথা বলার মতন একজন কে পেয়ে বেশ ভালো লাগলো।
মঙরুকে নিয়ে প্রথমে চায়ের দোকানে গেলাম। মঙরু বললো বাবু নাস্তা কোরবেন কি ?
আমি হ্যা বলতেই ও একটি বেশ ভাল রেস্টুরেন্টে নিয়ে গেল।
আমি মঙরু কে সাথে করে নিয়ে একসাথে টিফিন করলাম ডিম্ রুটি ও ঘুগনি।
তারপরে বাজারে গিয়ে একটা ব্যাগ কিনে , ভ্যানে  করে ঘুড়ে বেড়ালাম।
দুপুর দেড়টার সময় আমি ও মঙরু একসাথে হোটেলে মাছ ভাত খেয়ে স্টেশনে
পৌঁছে গেলাম। ওকে ভাড়া দিলাম একশো চল্লিশ টাকা কিন্তু মঙরু বললো "নানা বাবু আমাকে
আপনি একশো  টাকা দিলেই হবে ," আমি বললাম কেন একশো  কেন ?
ওর কথা হলো দিন  ভোর এতো চা টিফিন , ভাত মাছ খাইয়েছি ওকে তাই ও একশো টাকাই নেবে।
আমি বললাম নারে ভাই তুমি আমার অনেক উপকার করেছো , প্রথমে তো আমার
ব্যাগটা পেতে সাহায্য করেছো তারপরে এতো সুন্দর সুন্দর জায়গা দেখলে যা আমি দুদিন
থেকেও দেখতে পারিনি তা তুমি এই কয়েক ঘন্টায় দেখলে। আর সব থেকে বরো কথা
এখানে আমি একলা ঘুরতে এসেছি , দুইদিন কারুর সাথে কথা বলতে নাপেড়ে হাপিয়ে
গেছি ,আজ সারাদিন তোমার সাথে কথা বলে মনটা হালকা হয়ে ছে।
তুমি আমার ভীষণ উপকার করেছো। তাই তুমি এই টাকা টা  রাখো। এই বলে আমি ওকে
একশো পঞ্চাশ টাকা দিলাম। ও ভীষণ খুশি হয়ে বললো আপনি বসুন আমি গিয়ে টিকিট কেটে
আনছি।
মঙরু কে টাকা দিলাম ও গিয়ে টিকিট কেটে আনলো।
ঠিক 3.40 এ ট্রেন আসলো আমিও রওনা দিলাম
পরবর্তী স্টেশন থীভিম এর উদ্দ্যেশ্যে।

থীভিম::-

তিনদিন রত্নগীরিতে ঘুড়েও মন ভরলো না।
তবুও রওনা দিলাম।
এবার যাবো থীভিম পর্যন্ত।
রত্নগীরি থেকে থীভিম 190 কিলোমিটার,
রাত্রে পৌঁছেই একটা হোটেলে গেলাম।
সকালে আজ প্রথমেই একটা রিক্সার খোজ করলাম কিন্তু কোন রিকশাই দিনভর সাইট সিন দেখাতে রাজি হলনা , কারণ অনের চড়াই উতরাই পথ।
তারপরে সমুদ্র সৈকতে ওরা রিক্সা চালাতে বেশ কষ্ট।
তাই ওরাই বললো একটা অটো ভেন ভাড়া করে যেতে।
আমি সেই মতো একটা ভ্যান ভাড়া করলাম।
ওরা একটা ভ্যানে চারজন নেয়, আমি একা
তাই ভাড়া তো চারজনের দিতে হবে।
আমিবললাম যে জায়গা গুলি ভালো লাগল হয়তো তিন চার দিন ঘুরবো।
শেষে ও রাজি হলো 400 টাকায়।
চার দিন। যদিও অনেক বেশি চাইলো।তবুও রাজি হলাম ।
সত্যি অপূর্ব জায়গা,যেমন ঘনো জঙ্গল তেমনি সমুদ্র সৈকত। স্পীড বোট।
ডাইভিং করার ব্যবস্থা।
প্রকৃতি যেন অকাতরে প্রাণ ভরে সাজিয়ে রেখেছে ।
স্টেশন এর কাছেই হোটেল টা ছিলো।
এখনও দুদিন পাহাড় জঙ্গলের শোভা উপভোগ করলাম।
এরপরে গেলাম কারমালি এখারে অবশ্য একদিন থেকে চলেগেলাম মেডগাওন।
মেডগাওনে দুই দিন এবং মেঙ্গলোর বা
বেঙ্গলোর বা মেঙ্গলুরু।

 মেঙ্গলুরু তো বরো নামী শহর। এখানে 4দিন থেকে যতটা পরলাম মনের সুখে ঘুরে বেড়ালাম।
তবে হ্যাঁ বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন শহর ঘুরে বেড়িয়ে ভালই লাগলো।
এমন শহরের কোনটা ভালো আর কোনটা খারাপ বলাই মুশকিল।
যা দেখি তাই ভীষন ভালো লাগে।

 ইচ্ছা ছিল গোয়া যাবার কিন্তু সত্যি বলতে কি এমন সুন্দর বনাঞ্চল এমন সুন্দর
শান্ত পরিবেশে ঘোড়ার পরে আর কোন শহর বা জনবহুল অঞ্চল ঘুরতে
মন ছিল না তাই এবার বাড়ি ফেরার জন্য মন স্থির করলাম।
মেঙ্গালুরু থেকে মুম্বাই টেক্সি তে এসে মুম্বাই থেকে প্লেনে কলকাতা।
কলকাতা ফিরে  বাড়িতে দুইদিন থেকে ফিরেগেলাম ধানবাদ।
                   END  OF TOUR --(11  )
==============================================================
xxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxx
==============================================================

No comments:

Post a Comment