Thursday, June 27, 2019

35>1976 to 2010 আমি@_আমার ভ্রমন কথা।(সংক্ষিপ্ত )


  35>1976 to 2010  আমি@_আমার ভ্রমন কথা।(সংক্ষিপ্ত )

1>1975 to 2010
আমি @_আমার  ভ্রমণ কথা ।
    (সংক্ষিপ্ত )

এখানে ভ্রমণ গুলি সংক্ষিপ্ত ভাবে লেখা।
প্রতিটি ভ্রমণ বিস্তারিত লেখা আলাদা করে  লেখা আছে।


================
আমার ভ্রমণ কথা,
আমার ভ্রমণ মানেই প্রকৃতির কাছে থাকা।
প্রকৃতি কে হৃদয় দিয়ে ছুঁয়ে থাকা,
তাই আমার ভ্রমণ একান্ত নিজের হৃদয়ে গাঁথা।
অনেক যত্নে রাখা সেই গাথা,
আজ লিখছি সেই কথা,
নিয়ে বসে পেন  খাতা,
লিখতে চাই মনের কথা।
কত আনন্দ, বেদনা ভরা সেই কথা,
45 বৎসরের জমে থাকা কথা।
আজও  কানে ভাসে প্রকৃতির সেই
আদর মাখা  কথা ,
প্রকৃতির সাথে আমার হয়েছিল যে কথা।
একলা নিরালায় বসে সেই  কথা
পাখিরাও শুনেছিলো সেই কথা ,
সব টুকু আজও হৃদয়ে আছে গাঁথা।

প্রাক্-কথন::----

আমার এই লেখা  লিখছি কেবল নিজের জন্য।
অন্য কেউ এগুলি জানুক বা না জানুক সেটাও আমি চিন্তা করি না।
এলেখা কেবল মাত্ৰ নিজের জন্য লেখা।
অতীতের স্মৃতি গুলি নিজের মধ্যে জাগিয়ে রাখবার জন্য লেখা।

  ভ্রমণ ---ভ্রমণ আমার নেশা।
আমি ভ্রমণ করি আনন্দে,
নিজের ইচ্ছা মতন পছন্দে।
যখন নম  যেদিকে  চায় ,
বেরিয়ে পরি একলা সদা নির্ভয়,
ভাবিনা কখন কি  হয়।

আজ আমার কিছু ভ্রমনের কথা লিখে রাখছি।
এগুলি বহুদিন আগের কাহিনী, তথাপি লিখছি।
কারণ আজ মনে হচ্ছে আর বেশিদিন ভ্রমণ করতে পারবোনা।
যদিও ডাক্তার বলেন বেশি চলবেন না। পায়ের হাঠুতে বেশি ট্রেস দেবেন না।
তথাপি আমি কিছুই মানিনা সমতলে পাহাড়ে কোথাও চলতে কোন চিন্তা করিনা।
ডাক্তার বলেন হাঠুর জয়েন্টের হাড় ক্ষয় হয়ে ফাঁক হয়ে গেছে আর তাই এতো
ব্যাথা অনুভব করছি।
হোক না ব্যাথা আমি মানিনা ,
কিন্তু চলতেও থামিনা।
আজ পুরোনো ভ্রমণ কথা লিখছি কারণ যদি কখনো সত্যই মনের জোর হারিয়ে ফেলি,
যদি কখনো সত্যি চলতে না পারি ,সেদিন যেন এই পুরোনো স্মৃতি গুলি বার বার
কম্পিউটারের মনিটরে বসে পড়তে পারি ,
আর পুরোনো স্মৃতি গুলি চিন্তা করে একটু আনন্দ পাই।
সেই কারণেই এগুলি লিখে রাখছি।
এগুলি লিখছি কেবল নিজের জন্য।
অন্য কেউ এগুলি জানুক সেটাও আমি চাইনা।
এলেখা কেবল মাত্ৰ নিজের জন্য।
নিজের স্মৃতি গুলি নিজের মধ্যে জাগিয়ে রাখতে।


চেষ্টা করছি কিছু লিখে রাখতে।
চাকুরী করার সময় প্রথম জীবনে অনেক দিন থাকতে হিয়েছিল নাগরপুরে ।
1975 থেকে 1980 পর্যন্ত।
চাকুরীতে কাজ করতে প্রায় 6বৎসর  নাগপুর, বিলাসপুর, চম্পা,অনুপ পুর, শ্যেডোল, চিরিমিরি, কোরবা,
ভিলাইএর নানা স্থানে থাকতে হয়ে ছিলো।

তার পরে 1980 থেকে 2010পর্যন্ত 
30 বৎসর ধনবাদ, বোকারো,রাচি,
হাজারীবাগ, গিরিডি,গোমো, ইসরী,অর্থাৎ ঝাড়খণ্ড ও ছত্রিশ গড়,অঞ্চলে।
এইসকল অঞ্চলে থাকার সময় ঘুরে বেরিয়েছি স্বাধীন ভাবে নিজের ইচ্ছা মতন।
আসে পাশের দর্শনীয় স্থান।
তবে তখন তো আর ইন্টারনেট, মোবাইল,
ই-মেইল ছিলনা।
আজকাল অনেক সুযোগ সুবিধা আছে।
এমন কি কোথাও রাস্তা হারাবার চিন্তা আজকাল আর নাই কারণ জি পি এস আছে। 
যদিও চাকুরী করার আগেও স্কুল কলেজ জীবনে অনেক ঘুরে বেরিয়েছি।
তখন আসাম ,কামাখ্যা, গঙ্গোত্রী ,গোমুখ , অর্থাৎ হিমালয়ে বেশি ঘুরেছি।
এভারেস্ট ক্লাইম্ব করেছি ,চীনের নন্দন কাননে ,ফ্লাওয়ার ভেলি আরও অনেক
ভ্রমণ করেছি।হিমালয়ের সেন্ট্রাল পিক লায়ন পিক ক্লাইম্ব করেছি।
দুইবার অমরনাথ দর্শন করেছি। নর্মদা ভ্রমণ করেছি ,অমরকণ্টক গেছি তিনবার।
সে কাহিনী পরে লিখবো আজ স্রেফ চাকুরী জীবনের কিছু ভ্রমণের কথা লিখছি।
চাকুরী জীবনের বিদেশ ভ্রমণের কথাও পরে লিখবো।
শুধু এই টুকু বলে রাখি যে আমি 1963 সাল অর্থাৎ যখন স্কুল জীবনে  ক্লাস সিক্স এতে পড়ি তখন থেকেই একলা ঘুরে বেড়িয়েছি।
তাই আসাম ,ত্রিপুরা ,নাগাল্যান্ড গাড়োহিল কোথাও বাকিনাই ঘুরতে।
তখনকার  দিনে নাছিলো রাস্তা না ছিলো কোন গাইড শুধু নিজের মনের জোর আর ঈশ্বরের একান্ত আশীর্বাদে ঘুরে বেড়িয়েছি।
কতো কতো মহাপুরুষের দর্শন করেছি।
সে যাইহোক আজ শুধু চাকুরী জীবনের ভ্রমণ কথা লিখছি।

========================
****************************
প্রথম কথা --------

( a )|| ভ্রমণ এক নেশা ||
              <---©-আদ্যনাথ--->

ভ্রমণের নেশায় নষ্ট  আমি,
প্রকৃতির ডাকে ভ্রমণ করি।
যৌবনে ঘুরেছি বন,জঙ্গল, পাহাড়ে,
আজও ভ্রমণের নেশা তাড়াকরে।

মন আমার  মুক্তো আকাশ খুঁজে চলে ,
প্রকৃতির শোভা হৃদয়কে পূর্ণ করে।
প্রকৃতির লোভে লালায়িত যখন
বদ্ধ ঘরে থাকতে  কি আর চায় মন।

ভাবনার অতীত প্রকৃতির শোভায়
জাগরনে স্বপ্নে আমাকে লোভায়।
প্রকৃতির ডাকে মন ব্যাকুল হলে
মনে কি আর তখন অন্য বিচার চলে।

মাঝে কু-চিন্তা গুলি দুঃখকে টেনে আনে,
প্রকৃতি তখন নীরবে বিদ্রুপের হাসি হাসে।
প্রকৃতির নেশায় মত্ত আমি নষ্ট,
প্রকৃতির কোলেই আনন্দ খুঁজে পাই  শ্রেষ্ঠ।

প্রকৃতি শিখায়েছে প্রেম বিলাইতে আনন্দ,
প্রকৃতিই যেন  জীবনের সত্য পরমানন্দ।
আজও মেটেনি ভ্রমণের স্বাদ তেমণকরে,
যতই বেড়াই মনের ইচ্ছা ক্রমে বেড়েই চলে।

ভ্রমণ পিপাসু আমি নষ্ট,
সংসারকে চিনিনি স্পষ্ট।
প্রকৃতিকেও জানিনা স্পষ্ট,
প্রকৃতির ডাক শুনি স্পষ্ট।

দুয়ারে দাড়ায়ে প্রকৃতি ডাকে,
সদাই মনেহয়  প্রাণ খুলে হাসে।
প্রকৃতি শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি ও ধ্বংস কর্মে লিপ্ত,
প্রকৃতির শোভায় বিশ্বভূবন মুগ্ধ।

         <---©-আদ্যনাথ--->
     【--anrc-29/06/2019--】
     【=সকাল:05:08:22=】
【=বেলঘড়িয়া=কোলকাতা -56=】
=======================
কিছু কথা --------

( b )কোনো কাহিনী বা গল্প লেখার অভ্যাস আমার নাই। তবে যা দেখি শুনি ভালো লাগে।
বিশেষ করে প্রকৃতি যখন হাতছানি দিয়ে ডাকে, সেইটুকুই ইচ্ছাকরে নিজের মতন লিখে রাখতে।

প্রকৃতির এতো রূপ, এতো বৈচিত্র, দেখে বার বার হই মুগ্ধ। প্রকৃতির এতো বৈচিত্রের মধ্যেও পৃথিবীর এতো জীব জন্তু, কিট  ,পতঙ্গ,বৃক্ষ,নিজেদের মানিয়ে নিয়ে প্রকৃতির সাথে মিলে মিশে বাস করছে আনন্দে। আর সকলেই প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে নিজেরা প্রকৃতির সাথে
মিলেমিশে থাকছে আনন্দে।
এই  প্রাণী ও প্রকৃতির  বৈচিত্রময় মিলন আনন্দ উপভোগের টানে প্রকৃতির ডাকে সারাদিতে বেড়িয়ে পড়ি ঘরের বাইড়ে।কিন্তু আমিতো মানুষ তাই হয়তো সর্বদা পারিনা ওদের মতন সর্বক্ষণ প্রকৃতির সহায়ক হতে। তথাপি চেষ্টা কিরি যতটুকু পারি প্রকৃতির সাথে মিলে মিশে থাকতে। আর তাই বাড়ে বাড়ে বেরিয়ে পড়ি। যেদিকে মন চায় একটু নিরালায় নিজের মতন আনন্দ খুঁজে নিতে।
সেই কারণেই মনেহয় বেরিয়ে পড়াটাই যেন এক নেশা। সেই নেশার টানে ঘর সংসার ভুলে বেরিয়ে পড়ি মনের দুয়ার খুলে, মিটাইতে মনের চাহিদা।


    মন সর্বদা আনন্দ খুঁজে চলে ,
    হৃদয় সকলকে আহবাহন করে।
    বুদ্ধি সদাই বিচার করে চলে
    কু-চিন্তা গুলি দুঃখকে টেনে আনে।

প্রকৃতি উদার ভাবে দুই বাহু বাড়ায়ে,
মানুষ কে আহ্বাহন করে, আমরা নিজের অহংকারে কূট বুদ্ধির দোষে প্রকৃতিকে ধ্বংস করেচলেছি।

প্রকৃতির কাজ প্রকৃতি করে,মানুষের কল্যাণ করে। আমি সুযোগ পেলেই প্রকৃতিকে জানতে বেরিয়ে পড়ি ঘর ছেড়ে।

আজ আমি চেষ্টা করছি জীবনের কিছু মুহূর্তের কথা লিখে রাখতে।
===========================


এক অদ্ভুত পুকুর ( কুন্ড )::---বোকারো।
বোকারো,হাততালির পুকুর দালাহি কুন্ডের রহস্য::---

রহস্যময় পুকুর,ডালাহি কুন্ড::-

বোকারোর এই রহস্যময় পুকুরটি হাততালির শব্দে প্রতিক্রিয়া জানায়
ভারতের ঝাড়খণ্ডের বোকারো জেলার দালাহি কুন্ড বা হাততালির পুকুর, বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করেছে এবং কয়েক দশক ধরে দর্শকদের কৌতুহলী করেছে।


পুকুরটি উপরে উঠে হাততালির শব্দে প্রতিক্রিয়া করার একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে, ফুটন্ত জলের বিভ্রম তৈরি করে। পুকুরের জলের উত্স এবং উত্স অজানা, এবং অনেক বৈজ্ঞানিক তদন্ত সত্ত্বেও, ঘটনাটি অব্যক্ত রয়ে গেছে।

পুকুরটিকে স্থানীয়দের দ্বারাও পবিত্র বলে মনে করা হয়, যারা বিশ্বাস করে যে এর জলে স্নান করলে চর্মরোগ নিরাময় হয় এবং তাদের ইচ্ছা পূরণ হয়। দালাহি কুন্ডের রহস্য বছরের পর বছর ধরে অনেক বিজ্ঞানী এবং গবেষককে আকৃষ্ট করেছে, যারা বিভিন্ন তত্ত্ব প্রস্তাব করেছে কিন্তু তাদের কোনোটিই কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ বা পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত বা যাচাই করা যায়নি। দালাহি কুন্ডের ইতিহাস এবং কিংবদন্তি স্থানীয় সংস্কৃতি এবং লোককাহিনীর সাথে জড়িত এবং এতে সাধু, উল্কাপাত এবং অলৌকিক ঘটনা জড়িত।

 একটি কিংবদন্তি অনুসারে, পুকুরটি দালাহি গোসাই নামে এক সাধু দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল , যিনি শিবের ভক্ত ছিলেন। তিনি একটি ছোট স্রোতের কাছে ধ্যান করতেন, যেখানে তিনি শিবের পূজা করার জন্য হাততালি দিতেন। একদিন, তিনি লক্ষ্য করলেন যে যখনই তিনি তালি দেবেন তখনই স্রোতের জল উঠে যাবে।

তিনি এটিকে একটি অলৌকিক ঘটনা এবং শিবের আশীর্বাদ হিসাবে বিবেচনা করেছিলেন এবং স্রোতের কাছে একটি মন্দির নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি স্রোতের চারপাশে একটি পুকুরও খনন করেছিলেন, যা ডালাহি কুন্ড নামে পরিচিত হয়েছিল । তারপরে তিনি লোকেদের পুকুরে স্নান করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, দাবি করেছিলেন যে এতে নিরাময় ক্ষমতা রয়েছে এবং এটি তাদের ইচ্ছা পূরণ করতে পারে।


দালাহি কুন্ডের রহস্য ও ব্যাখ্যা
দালাহি কুন্ডের রহস্য বছরের পর বছর ধরে অনেক বিজ্ঞানী এবং গবেষককে আকৃষ্ট করেছে, যারা এর রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করেছে। যাইহোক, তাদের কেউই এর অদ্ভুত আচরণের জন্য সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম হয়নি।

পুকুরের জলে কিছু দ্রবীভূত গ্যাস বা রাসায়নিক পদার্থ থাকে যা শব্দ তরঙ্গের সাথে বিক্রিয়া করে এবং পৃষ্ঠে বুদবুদ বা তরঙ্গ সৃষ্টি করে। পুকুরের জল কিছু ভূগর্ভস্থ জলাধার বা বসন্তের সাথে সংযুক্ত থাকে যা সিসমিক বা আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ দ্বারা চাপে পড়ে। শব্দ তরঙ্গগুলি এমন কিছু প্রক্রিয়াকে ট্রিগার করে যা চাপ প্রকাশ করে এবং জলকে উপরে উঠায়।

ডালাহি কুন্ড
দলহি কুন্দ হার জিন্দেগী
পুকুরের জল কিছু ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বা মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র দ্বারা প্রভাবিত হয় যা কিছু প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম উত্স দ্বারা উত্পন্ন হয়। শব্দ তরঙ্গ এই ক্ষেত্রের সাথে হস্তক্ষেপ করে এবং জলের স্তরে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটায়। যাইহোক, এই তত্ত্বগুলির কোনটিই কোন চূড়ান্ত প্রমাণ বা পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত বা যাচাই করা হয়নি।

ডালাহি কুন্ডের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য
পুকুরের পানি হাততালি ছাড়া অন্য কোনো শব্দে প্রতিক্রিয়া দেখায় না। পুকুরের পানি সমানভাবে উপরে উঠে না কিন্তু শুধুমাত্র নির্দিষ্ট স্থানে বা জোনে উঠে। বারবার হাততালি দিলেও পুকুরের পানি উপচে পড়ে না বা বের হয় না। পুকুরের পানি উপরে ওঠার পরও রং বা তাপমাত্রা পরিবর্তন করে না।


ধর্মীয় তাত্পর্য
কিংবদন্তি বলছে, কয়েক বছর আগে আকাশ থেকে পড়ে যাওয়া উল্কাপিণ্ডের দ্বারা দালাহি কুণ্ড তৈরি হয়েছিল। প্রভাবটি একটি ভূগর্ভস্থ উত্স থেকে জলে ভরা একটি গর্ত তৈরি করেছিল। উল্কাপিণ্ডের কিছু চৌম্বকীয় বৈশিষ্ট্যও ছিল যা জলকে শব্দ তরঙ্গের প্রতি সংবেদনশীল করে তুলেছিল। স্থানীয়রা ঘটনাক্রমে পুকুরের কাছে বিকট শব্দ শুনে এবং পানি উঠতে দেখে ঘটনাটি আবিষ্কার করেন। তারা এটিকে ঐশ্বরিক হস্তক্ষেপের জন্য দায়ী করে এবং পুকুরটিকে একটি পবিত্র স্থান হিসাবে পূজা করে।

বহু বছর ধরে পুকুরটি তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের কাছে একটি জনপ্রিয় গন্তব্য। প্রতি বছর, মকর সংক্রান্তি উৎসবের সময়, যা জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে পড়ে, হাজার হাজার মানুষ দলাহি কুন্ডের জলে পবিত্র স্নান করতে ভিড় করে। এর আশ্চর্য প্রতিক্রিয়া দেখতে তারা পুকুরের কাছে হাততালি দেয়। পুকুরটি একটি কংক্রিটের প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত এবং একটি মন্দির যা দালাহি গোসাইকে উৎসর্গ করা হয়েছে, যিনি স্থানীয় দেবতা হিসাবে পূজনীয়।

সেখানে পাওয়া
সড়কপথে বা ট্রেনে বোকারো স্টিল সিটিতে বা রেলওয়ে স্টেশনে আসতে হবে।

বোকারো স্টিল সিটি থেকে,
 ট্যাক্সি বা অটোরিকশা ভাড়া 27 কিলোমিটার দূরে দালাহি কুন্ডে যাওয়া যায়।
=========================
চাষ বোকারো::--চিরকা/ ছিরকা ধাম।
জাগ্রত শিব লিঙ্গ::---
লিখতে হবে------






******************************
ভুশওয়াল;;--

ভুশওয়াল দেশের প্রায় সব জায়গার সঙ্গে ট্রেনপথে যুক্ত।
আওরঙ্গাবাদ থেকে বাসেই পুনে।
পুনে থেকে  গাড়ি ভাড়া করে  মহাবালেশ্বর। মহাবালেশ্বর থেকে গাড়ি ভাড়া করে  গণপতিপুলে।
হরিহরেশ্বর থেকে গাড়ি ভাড়া করে  মুরুড এবং মুরুড থেকে গাড়ি ভাড়া করে
মুম্বই।

পুনে থেকে সিংহগড় ও ভীমাশংকর যাওয়ার জন্য বাস পাওয়া যায়।

তবে গাড়ি ভাড়া করে নিয়ে ভ্রমন করলে খুব ভালো করে দেখে নেওয়া যায়   সিংহগড় ও ভীমাশংকর।

গণপতিপুলে:--
গণপতিপুলে থেকে এক দিন গাড়ি ভাড়া করে ঘুরে নেওয়া যায়  জয়গড় দুর্গ ও রত্নগিরি।
তারপরে মুরুড থেকে অটোতে করে দেখে নেওয়া যায় হরিহরেশ্বরে এমটিডিসি রিসর্ট।

মহারাষ্ট্রে থাকার সময় ঘুরে বেড়িয়েছি মহারাষ্ট্র।
এখানে সংক্ষেপে জানিয়ে রাখি 
মহারাষ্ট্র রাজ্যের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যটক গন্তব্যগুলি হল: অজন্তা, ইলোড়া, কানরেই, এলিফ্যান্ট গুহা এবং মহাবালেশ্বর, অম্বুলি, দৌলতাবাদ ফোর্ট, নাগজীরা অভয়ারণ্য, জুহু সমুদ্র সৈকত,
ইলোরা গুহা থেকে 1 কিমি দূরে  দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম গৃষনেশ্বর দর্শনে।

  
XxXXXXXXXXXXXXXXXXXXX


ভ্রমন নিয়ে লিখবো এমন ভাবিনি কোনদিন। কিন্তু আজ 29/06/2019 তে
বসে মনে হোল যে জীবনে ভ্রমন তো অনেক করেছি, কিন্তু সেই ভ্রমনের  কিছু লিখে রাখলে পরে বৃদ্ধ বয়সে সেইগুলি পড়ে ও একটু আনন্দ উপভোগ করতে পারবো।
আর সেই কারণেই আজ নিজের ভ্রমনের 
যে টুকু যা মনে আছে সেটাই লিখে রাখা দরকার। নয়তো পরে সব ভুলে যাবো।
এখনইতো কবে কোথায় কিভাবে ভ্রমণ করেছিলাম  সেগুলি ভুলে গেছি।
তথাপি যেটুকু মনে আছে সেইটুকুই লিখে রাখছি।
এই লেখা শুদু নিজের জন্য লেখা।
নাগপুরে থাকার সময়ে আমরা চারজন,
এস এস মানি, ভি সি আর পিল্লাই,
এন,কে আর কুট্টি, ও আমি। নিজেদের ইচ্ছা মতন ঘুরে বেড়িয়েছি।
কারন সেই সময়ে আমরা তিন জন ব্যাচেলর আমাদের মধ্যে শুধু কুট্টি অর্থাত
এন,কে আর কুট্টি ই বিবাহিত।তবে তিনি কখনোই ফেমিলি সাথে রাখেন না।
আর উনি আমাদের ফোরম্যান খুব ভালো টেকনিশিয়ান। কাজের ক্ষেত্রে কুট্টি জি আমাদের গ্রূপলিডার।
কিন্তু ভ্রমণের সময় সকলে আমাকেই আগে রাখতে চায়।
আমিও ভ্রমণের লিডার হতে বেশ আনন্দ উপভোগ করতাম।
---------------





 
   

Monday, June 24, 2019

34>||কেদার-বদ্রীনাথ যাত্রা=18Days ||


34 > ||কেদার-বদ্রীনাথ  যাত্রা=18Days  ||

           18 দিনের ভ্রমণ---

 (প্রথম ভাগ----ভ্রমণের বিবরণ)

(দ্বিতীয় ভাগ---কেদারনাথ মন্দির বিষয়ে

 কিছু কথা।)

(তৃতীয় ভাগ----বদ্রীনাথ মন্দির বিষয়ে

কিছু কথা।)


আজথেকে 52 বৎসর আগে 1970 সালে গিয়েছিলাম কেদারনাথ দর্শনে।

পুরানো ডাইরী খুঁজে পেলাম সেই ভ্রমণের কিছু কথা। সেই কথাই লিখছি আজ।

আমাদের পোগ্রাম ছিল 18 দিনের জন্য।

12/09/1970  to 29/09/1970,

আমরা দুইজন মানিক ও আমি, 

12ই সেপ্টেম্বর শনিবার দিন ট্রেনে করে রওনা দিলাম হরিদ্বারের উদ্দেশ্যে।

দুই দিন 1st and 2nd day ট্রেন জার্নি করে  পৌঁছে গিয়েছিলাম হরিদ্বার।


3rd day---

 হরিদ্বার পৌঁছে । রাতে ভারত সেবাশ্রম এ বিশ্রাম। এখন থেকে শোনপ্রয়াগ জন্য গাড়ি ঠিক করে  কথা বার্তা বলে রাখলাম।

জিপ ওয়ালা পাঁচজনকে নিয়ে যাবে।

তাই ওই জিপ ওয়ালাই আরো তিনজন জোগাড় করে অপেক্ষা করছিলেন,

আমাদের পেয়ে জপ ওয়ালা ও আমরা সকলেই খুব খুশি।


4th day----

পরদিন সকালে আমরা রওনা  দিয়ে পৌঁছেজাই শোনপ্রয়াগ। বিকেল গিয়ে

কেদারনাথ যাবার পারমিশন করিয়ে নি।

রাতে হোটেলে বিশ্রাম।


5th day----

 পরদিন সকালে একটি লোকাল জীপ ভাড়া করে সকলে মিলে ঘুরে আসি ত্রিযুগিনারায়ন মন্দির । 

 গল্প কথায় শুনেছি এখানে শিব পার্বতীর বিয়ে হয়েছিল। সেই হোমের যজ্ঞাগ্নি আজও জ্বলছে। বিকেলবেলা শোনপ্রয়াগে ফিরে শোনগঙ্গা নদীর ধারে এসে কিছুক্ষণ ঘোড়া ঘুড়ি করে হোটেলে ফিরে গিয়ে বিশ্রাম । 

কারণ পরদিন অনেক ভোরে থেকেই  হাঁটা শুরু করতে হবে।


6th day---- : 

আমরা ভোর 5.00 টায় রেডি হয়ে বেরিয়ে পরলাম কেদারনাথের উদ্দশ্যে। 

গৌরীকুণ্ড অবধি শেয়ার জীপ এ গিয়ে।7:00 টা নাগাদ হাঁটা শুরু করলাম কেদারনাথ এর উদ্দেশ্যে। 

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এ ভরপুর রাস্তা উপভোগ করতে করতে পৌঁছে যাই রামবারা । এর পর থেকে বাকি রাস্থা বেশ খাড়াই ও পাথুরে । 

 এমন বন্ধুর পথে চলা বেশ কষ্টের।  রামবারার পর রাস্তায় আর কোন রেলিং

জাতীয় কিছু নেই যে ধরে একটু সাহারা পাওয়া যায়, পথ চলার জন্য লাঠিই একমাত্র ভরসা ও সাহারা এমন খাড়াই রাস্থায় ট্রেকিং করা ভীষণ কষ্টের ও ভয়ের, তার উপরে আবার ঘোড়া ও ডুলি য়ালা দের উৎপাত।বার বার ওদের পথ ছেড়ে দিতে হচ্ছিল। তা না হলে হয়তো ধাক্কা দিয়ে খাদে ফেলে দেবে । সেই কারণে  খুব সাবধানে পথ চলতে হচ্ছিল।

এভাবেই পৌঁছলাম বড় লিঞ্চলি ।

এখন থেকে আরও 4 কিমি পথ বাকি । 

মাঝে মাঝে এক এক টুকরো মেঘ এসে চারিদিক অন্ধকার করে দিচ্ছিল।

সেই মেঘেদের মধ্যদিয়ে হাটতে গিয়ে উইন্ডচিতার জলে ভিজে যাচ্ছিলো।

এভাবেই বেসকেম্প নামক জায়গাতে পৌঁছলাম।

এখানে বিশ্রাম ও প্রয়োজনে সরকারের টেন্টেও থাকার ব্যবস্থা করা যায়।

এখান থেকে আর মাত্র 2 কি মি।

আমরা সামান্য খরচে রাত্রে সরকারি টেন্টেই রাত কাটালাম।


7th day----- : 


ভোরে ঘুম থেকে উঠে টেন্ট থেকে বেরিয়ে 

চারিপাশের দৃশ্য দেখে মনে হোল যেন

স্বর্গে পৌঁছে গেছি।

চোখের সামনে বরফ আবৃত কেদার পাহাড়, চারিপাশ সুউচ্চ পর্বতে ঘেরা, বরফে ঢাকা পর্বতে ধীরে ধীরে সূর্যের আলো এসে পড়ছে, সে এক  অসাধারণ  সকাল । অপলক দৃষ্টিতে হিমালায়কে উপভোগ করে চলেছি। দূর থেকে কেদারনাথের মন্দির দেখতে পেলাম।

মন্দিরের কাছে যেতেই চোখ জুরিয়ে গেল ভক্তি শ্রদ্ধায়। 

মন্দিরের পিছনেই বরফে ঢাকা বিশাল কেদার পর্বত, সে যে কি সুন্দর পরিবেশ

সে কথা ভাষায় প্রকাশ করার ক্ষমতা আমার নাই।

সেই কোন আদি একলে আদি গুরু শঙ্করাচার্যের প্রতিষ্ঠিত এই মন্দির না জানি কত ইতিহাসের সাক্ষী। 

আমরা পুজো দেওয়ার পর চারিদিকে ঘুরে

ফিরে দেখলাম। দিনে মন্দির কমিটির ভান্ডারা তে খেয়ে গোটা দিনটা মনের মতো করে  কাটিয়ে ছিলাম সেই স্বর্গ ভূমিতে।

সারাদিন ঘুরে বেরিয়ে সন্ধ্যা আরতি দেখে 

নিজেকে ধন্য করলাম।

রাতে টেন্টে এ ফিরে বিশ্রাম । পরদিন সকালে আবার নিচে নামার পালা।


8th day------ : 


 কেদারনাথকে বিদায় জানিয়ে নেমে আসি নিচে, শোনপ্রয়াগ  হয়ে।

শোনপ্রয়াগ থেকে শেয়ার জীপ এ গুপ্তকাশি গিয়ে রাত্রে থাকার জন্য এক হোটেলে পৌছাই। হোটেল বলতে কোন মতে মাথা গোঁজার ঠাঁই। তবে ওরা দুই তিনটে করে কম্বল দিয়েছিল বলে রাত্রে ঘুমোতে পেরেছিলাম।

ইচ্ছা ছিল জোশিমঠে রাত কাটাবো কিন্তু 

এই  গুপ্তকাশি থেকে কোনও শেয়ার জীপ বা গাড়ি না পাবার কারণে  ওখানেই থেকে যেতে হয় আমাদের।


9th day----- : 


পরদিন ভোরেই পেয়ে গিয়েছিলাম শেয়ার জিপ । সেই জিপে আমরা পৌঁছে গিয়েছিলাম জোশিমঠে।

তারপরে দুইদিন এই জোশিমঠে থেকে 

ঘুরে বেড়িয়ে ছিলাম ভুখহরতাল নামক বাস স্টান্ড হয়ে উখিমঠ, চোপতা, গোপেশ্বর, চামোলি প্রভৃতি স্থান ।



10th day---- :(জোশিমঠে)


জোশিমঠ থেকে লোকাল জীপ বুক করে  ঘুরে দেখেছিলাম  অসাধারন সুন্দর আউলি , আরও কত সব সুন্দর নাম না জানা পাহাড় পর্বত চারদিকে।এরপর গেলাম তপবন হট স্প্রিং। একটি ছোট্ট জায়গা দিয়ে ফুটন্ত গরম জলের ধারা বেরিয়ে আসছে। সঙ্গে গন্ধকের তীব্র গন্ধ। সেখান থেকে গেলাম বিষ্ণুপ্রয়াগ। একটি অপূর্ব সুন্দর স্থান। এই জায়গার নাম বিষ্ণুপ্রয়াগ। একদিক থেকে নীল রঙের অলকানন্দা ও অন্যদিকে ঘোলা জলের ধৌলিগঙ্গা প্রচণ্ড গর্জন করে এক জায়গাতে  মিলিত হচ্ছে। আর কি ভীষণ স্রোত নদী দুটোতে। দেখলেই ভয় লাগে। এখানে দেখেছিলাম নানান রঙের ফুলের বাহার।



11th day----:


জোশিমঠ থেকে শেয়ার জীপে  চলে যাই বদ্রীনাথ। বদ্রীনাথ যেতে 2 ঘণ্টা সময় লেগেছিল। বদ্রীনাথ গিয়ে সেখানে ভারত সেবাশ্রমে  ছিলাম দুইদিন।  মন্দিরে 

 পুজো দিয়ে খেয়ে নিয়ে সেদিনের মতন বিশ্রাম ।


12th day----:

সকালে দেখে নিলাম চরনপাদুকা হয়ে ,নীলকন্ঠ পর্বতের ভ্যালি। 

অপূর্ব সেই চারদিকের দৃশ্য অসাধারন। বিশাল নীলকন্ঠ পর্বতকে কাছ থেকে দেখতে দারুন লাগছিল। 

তার পরে ফিরে যাই বদ্রীনাথে।

  


13th day---:


 খুব ভোরে উঠে হাঁটতে হাঁটতে গিয়েছিলাম 4 কিমি দূরের মানা গ্রাম। 

শান্ত সুন্দর একটি গ্রাম। তারপরে

সরস্বতী নদির ওপর দিয়ে ভীম পুল পেরিয়ে হেঁটে ঘুরে দেখেএসেছি বসুধারা জলপ্রপাত। অসাধারণ দৃশ্যপট। 

বসুধারার রাস্তা বেশ খাড়াই ও পাথরে ভরা। বাসুধারা ফলস্ টি খুবই সুন্দর। প্রচণ্ড হাওয়ায় যার জলধারা মাটিতে পরার আগেই উড়ে যাচ্ছে । কেউ কেউ দেখলাম ওই প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় বাসুধারার জলে স্নান করছে। শুনেছি এই ফলসের জলে মেডিসিনাল ভ্যাালুও নাকি প্রচুর। মানা থেকে বসুধারা 6 কিমি রাস্তা । 

মানাতে ফিরে ব্যাস গুহা ও গনেশ গুহা ঘুরে শেয়ার জীপ এ করে ফিরে আসি বদ্রীনাথে।



14th day----:


 সকালের বাস ধরে চলে আসি রুদ্রপ্রয়াগ। 

এখানে যে গেস্ট হাউজে উঠেছিলাম সেখান কার লোকেশান দারুন। পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে অলকানন্দা। 

একটু দূরেই দেখা যাচ্ছিল সঙ্গম।

দুপুরে হেঁটে ঘুরে আসি ৩ কিমি. দূরে কোটেশ্বর মহাদেবের মন্দির। 

দেখেছিলাম  প্রয়াগের সন্ধ্যা আরতি।

সেই সন্ধ্যা আরতি তে আমরা সকলেই আরতির প্রদীপ হাতে নিয়ে আরতি করার সুযোগ দিয়ে ছিলেন সেখানকার পূজারী গণ।

 রুদ্রপ্রয়াগ এর সঙ্গমে দাঁড়িয়ে নিজে হাতে আরতি করেছি আমরা।

সার্থক হয়েছিল সেদিন আমাদের ভ্রমন।


এবার তো ফেরার পালা


15th day---:


শেয়ার জীপ ধরে চলে আসি  হরিদ্বারে। 

আবার একবার হরিদ্বারে গঙ্গার আরতি দেখে, হোটেলে রাত কাটালাম ।



16th day----:


আজ হরিদ্বারের থেকে হাওড়ার ট্রেন ধরে 

বাড়িতে ফিরলাম।


 


প্রয়োজনীয় তথ্য :,----  

কিছু জেনেরখা ভালো, আমরাও মনে রেখেছিলাম। 

শুনেছিলাম মে ও জুন মাস সিজিন টাইম, 

খুব ভীর হয় কেদার বদ্রিনাথে, কেদারে ওঠার সময়ে ঘোড়া, ডুলি, লোকের ধাক্কাধাক্কি সব মিলিয়ে বেশ বিরক্ত কর ও বিপদ জনক অবস্থা হয়।

কিন্তু একটু  শান্তিতে ফাকায় ফাকায় ঘুরতে হলে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসে খুব ভালো।

হোটেল ও গাড়ি ভাড়া কম থাকে। 

জুলাই, অগাস্ট এ বৃষ্টি হয় খুব ও পাহাড়ি রাস্তায় ধস নামে। রাস্তা বন্ধ থাকতে পারে ধসে। ওই সময়টা এরিয়ে যাওয়াই ভালো।

যে সময়েই যান না কেন কেদার বদ্রিনাথ যাবার সময় মনে করে বেশ কিছু ভালো জেকেট সোয়েটার এবং উইঞ্চিটার সঙ্গে নিতে ভুললে চলবে না।

আর বিশেষ দরকারি কিছু ঔষধ অতি অবশ্যই সঙ্গে রাখতে হবে। 

একটু কর্পূর সঙ্গে রাখবেন। উচ্চতার কারনে শ্বাসকষ্ট হলে এটি কাজে আসতে পারে। হেঁটে ওঠার সময়ে একটু কর্পূর রুমালে করে হাতে বেঁধে রাখলে, শ্বাসকষ্ট হলে এর গন্ধ শুঁকলে আরাম হবে। এছাড়া homeopathy ওষুধ coca 30 ,আর সর্দি, জ্বর, বমি, মাথাব্যাথা, পেন কিলার, আ্যন্টিসেপ্টিক, ব্যান্ড এড, পেট খারাপ এর ওষুধ, ORS, জিওলিন সঙ্গে রাখা ভালো। মনে রাখবেন পাহাড়ি রাস্তায় বাস জার্নিতে মাথা ঘোরা বা বমি হতে পারে। এছাড়া হার্টের বা আ্যজমা পেশেন্ট রা কেদারনাথ ট্রেকিং এ যাবার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নেওয়া অতি জরুরি। পাহাড়ে হাটবার সময় 

 লজেন্স্, শুকনো খেজুর, কিসমিস বিশেষ উপকারী। পথে সকল সময়  পর্যাপ্ত খাবার জল সাথে রাখা উচিত। 

পাহাড়ে ওঠার সময় অবশ্যই একটা লাঠি কিনে নিতে হবে। পথে ওই লাঠিই সাহারা হবে।

নিজের পরিচয় পত্র সঙ্গে রাখতে হবে।

(আজ কাল তো সব সময়  অরিজিনাল আধার কার্ড ও তার বেশ কয়েকটি জেরক্স কপি সঙ্গে নেবেন।)

 <--আদ্যনাথ রায় চৌধুরী-->

=========================

          (2)   ★★★★★★★★

দ্বিতীয় ভাগ---কেদারনাথ মন্দির বিষয়ে

 কিছু কথা।

 || মন্দির কেদারনাথ মন্দির:;-||


 (প্রথম ভাগের পরে-----

দ্বিতীয় ভাগ---কেদারনাথ মন্দির বিষয়ে

 কিছু কথা।)


আজথেকে 52 বৎসর আগে গিয়েছিলাম কেদারনাথ দর্শনে।

সেই দিনের কথা কিছুই নাই মনে।

তথাপি আপনি যখন বলছেন কিছু লিখতে, সেই কারণে লিখলাম মন্দিরের কিছু কথা।


1970 সালে নিজের চাক্ষুষ দর্শন ও অভিজ্ঞতার অবলম্বনে লিখলাম। আজ 2022 অর্থাৎ 52 বৎসরে নিশ্চই অনেক পরিবর্তন হয়েছে।


ভারতের বিখ্যাত তীর্থযাত্রাগুলির মধ্যে অন্যতম প্রসিদ্ধ তীর্থক্ষেত্র হল কেদারনাথ।


সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩৫৮৪ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত কেদারনাথ মন্দির। এই কেদারনাথ শহরটি মূলত উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপ্রয়াগ জেলায় অবস্থিত । কেদারনাথ মূলত চার ধাম যাত্রার (বৈদ্যনাথ, কেদারনাথ, গঙ্গোত্রী, যমুনেত্রী) অন্তর্ভূক্ত।


ভারতের উত্তরাখন্ড রাজ্যের গাড়োয়াল হিমালয় পর্বতশ্রেণীতে অবস্থিত কেদারনাথ মন্দিরটি  স্থাপত্য শিল্পের এক  সেরা নিদর্শন।   এই কেদারনাথ মন্দির  তৈরি কে তৈরী  করেছিলেন  সেই বিষয়ে নানা মুনির নানা মত আছে, তথাপি বাস্তবে আজকের বিজ্ঞানের অনুমান কে  সাক্ষী করেই বলাচলে  কেদারনাথ মন্দির সম্ভবত অষ্টম শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। একথাও অনুমান করাহয় যে এই মন্দিরটি অন্তত 1200 বছর ধরে বিদ্যমান। কেদারনাথের মন্দির যে জায়গায়  অবস্থিত সেই স্থান একবিংশ শতাব্দীতে যে আজকের থেকেও ভীষণ ভয়ঙ্কর প্রতিকূল ছিল সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই । একদিকে 22,000 ফুট উঁচু কেদারনাথ পাহাড়, অন্য দিকে 21,600 ফুট উঁচু করাচকুন্ড এবং 22,700 ফুট উঁচু ভারতকুন্ড। এই তিনটি পাহাড়ের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত পাঁচটি নদী যথাক্রমে, মন্দাকিনী, মধুগঙ্গা, চিরগঙ্গা, সরস্বতী ও স্বরন্দরী। পুরাণেও এই সকলের নদীর কথা উল্লেখ আছে। প্রাকৃতিক অবস্থানের কারণে এই এলাকাটি "মন্দাকিনী নদীর" ধারেই স্বস্থিত, বরঞ্চ বলাচলে যে "মন্দাকিনী নদীর" অববাহিকায় অবস্থিত এই কেদার নাথ মন্দির।


একথা অতি সহজেই অনুমান করা চলে  যে শীতের সময়ে  প্রচুর পরিমাণে তুষারপাত এবং বর্ষায় প্রবল বেগে জল প্রবাহিত হওয়া সত্ত্বেও এমন ভয়ঙ্কর  জায়গায় একটি শিল্পকর্ম তৈরি করা কতটা কঠিন ও দুর্ষাধ্য ব্যাপার  সেটা আমাদের কল্পনার অতীত।


(ওয়াদিয়া ইনস্টিটিউট অফ জিওলজি, দেরাদুন, কেদারনাথ মন্দিরের পাথরগুলির উপর লিগনোম্যাটিক ডেটিং এর একটি পরীক্ষা পরিচালনা করেছে। এটি "পাথরের বয়স" নির্ণয় করার জন্য করা হয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে যে মন্দিরটি 14 শতক থেকে 17 শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে বরফে ঢাকা ছিল। তবে মন্দির নির্মাণে কোনো ক্ষতি হয়নি।)


2013 সালের ১৬ই এবং ১৭ই জুন কেদারনাথে যে বিপর্যয়কর বিধ্বংসী  বন্যা আঘাত হানে তা সকলের ই নিশ্চয়ই জানা আছে ।এক সমীক্ষায় যানাযায় যে এই সময়ে বৃষ্টিপাতের পরিমান  স্বাভাবিকের (গড়ের) চেয়ে 375% বেশি হয়েছিল। এবং  বন্যায় "5748 জন" (সরকারি পরিসংখ্যান) নিহত হয় এবং 4200টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভারতীয় বায়ুসেনা 1 লাখ 10 হাজারেরও বেশি লোককে এয়ারলিফট করেছে। সব কিছু নিয়ে গেল কিন্তু এমন প্রলয়ঙ্করী বন্যাতেও কেদারনাথ মন্দিরের পুরো কাঠামো বিন্দুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। যে পদ্ধতিতে ও জায়গা নির্বাচনে এই মন্দিরটি তৈরি করা হয়েছে তার পিছনে কোনো অদ্ভুত শক্তি  রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আজ বিজ্ঞান বলছে, মন্দির নির্মাণে যে পাথর ও কাঠামো ব্যবহার করা হয়েছে তার কারণেই এই বন্যায় মন্দিরটি টিকে থাকতে পেরেছিল।


আরও আশ্চর্যের বিষয় যে --কেদারনাথ মন্দির টি "উত্তর-দক্ষিণ" হিসাবে নির্মিত। যদিও ভারতের প্রায় সব মন্দিরই ‘পূর্ব-পশ্চিম’। বিশেষজ্ঞদের মতে, মন্দিরটি যদি "পূর্ব-পশ্চিম" হত, তবে এটি ইতিমধ্যেই ধ্বংস হয়ে যেত। অথবা অন্তত ২০১৩ সালের বন্যায় তা ধ্বংস হয়ে যেত।


এদ্বারা অতি সহজেই অনুমান করা চলে যে এই দিক নির্দেশনার কারণেই টিকে আছে কেদারনাথ মন্দির। আরেকটি বিষয় হলো এতে ব্যবহৃত পাথর খুবই শক্ত ও টেকসই। বিশেষ বিষয় হল এই মন্দির নির্মাণে যে পাথর ব্যবহার করা হয়েছে তা সেখানে পাওয়া যায় না, তাহলে এটাও আমাদের ভাবায় যে কিভাবে সেই পাথর সেখানে নিয়ে আসা হয়ে ছিল। 


সেই সময়ে এত বড় পাথর বহন করার মতো যন্ত্রপাতির আবিষ্কার হয়নি। আবার এই পাথরের বৈশিষ্ট্য হল বরফের নীচে থাকে 400 বছর পরেও এর "বৈশিষ্ট্য"-এতোটুকুও কোন পার্থক্য নেই। এই সকল কারনেই প্রকৃতির এহেন ভয়ানক আবর্তে ও মন্দিরটি তার শক্তি বজায় রেখেছে। আরও আশ্চর্যের বিষয় এটা যে মন্দিরের এই মজবুত পাথরগুলো কোনো সিমেন্ট ব্যবহার ছাড়াই "Ashler" পদ্ধতিতে একত্রে জোড়া হয়েছে। তাই পাথরের জয়েন্টে তাপমাত্রা পরিবর্তনের কোনো প্রভাব ছাড়াই মন্দিরের শক্তি দুর্ভেদ্য।


যা দেখা গেছে 2013 সালে, অলৌকিক ভাবে , মন্দিরের পিছনে একটি বড় পাথর আটকে যায় এবং জলের প্রচন্ড ধারাকে দুইপাশে বিভক্ত করে দেয় এবং মন্দির এবং মন্দিরে আশ্রয় নেওয়া লোকেরা সুরক্ষিত থাকে। . যাদের পরের দিন ভারতীয় বিমান বাহিনী এয়ারলিফট করে।


এটা অবশ্যই কোনো অজানা শক্তির অবদান । তবে কোন সন্দেহ নেই যে মন্দিরটি নির্মাণের জন্য স্থানটি, এর দিকনির্দেশ, এর নির্মাণ সামগ্রী সকল কিছুর মিলনের সাথে ভূ-প্রকৃতিকেও সতর্কতার সাথে বিবেচনা করা হয়েছিল যা 1200 বছর ধরে এর সংস্কৃতি এবং শক্তি সংরক্ষণ করবে।


সবথেকে  আশ্চর্যের বিষয় এটাই যে  আমরা অর্থাৎ আধুনিক বিজ্ঞান যেটা এখন ভাবছে  ও করছে , সেটি 1200 বছর আগে করা হয়েছিল। আর সেই চিন্তা ধারার কারনেই কেদারনাথ মন্দিরের  6-ফুট উচ্চ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে যে বিপুল পরিমাণ বিজ্ঞান মূলক চিন্তার ব্যবহার করা হয়েছে তা ভেবে আজ আমরা হতবাক হতে হই। আজ, সমস্ত বন্যার পরে, আমরা আবারও কেদারনাথের সেই বিজ্ঞানীদের নির্মাণের সামনে মাথা নত করছি যারা একই জাঁকজমকের সাথে 12টি জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে সর্বোচ্চ হওয়ার সম্মান পাবেন।


বৈদিক হিন্দু ধর্ম ও সংস্কৃতি কতটা অগ্রসর ছিল তার নিদর্শন এটি। সেই সময়ে, আমাদের ঋষিরা, অর্থাৎ বিজ্ঞানীরা, স্থাপত্য, আবহাওয়া, মহাকাশ বিজ্ঞান, আয়ুর্বেদে অসাধারণ জ্ঞান ও প্রয়োগ বিদ্যায় অত্যন্ত দক্ষতা লাভ করেছিলেন।


 2013 সালের  জুনে কেদারখন্ডে ঘটে যাওয়া প্রলয়ঙ্কর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আগে গৌরীকুন্ড থেকে 14 km  পথ পাহাড়ি চড়াই পথে ট্রেকিং করে মন্দিরে যেতে হাত।কিন্তু আজ কিভাবে যাবার পথ সে কথা আমার জানা নাই।


 মন্দির টি  কেবল এপ্রিল মাসের শেষ থেকে কার্তিক পূর্ণিমা অবধি খোলা থাকে। 


শীতকালে কেদারনাথ মন্দিরের মূর্তিগুলিকে ছয় মাসের জন্য  উখিমঠে নিয়ে গিয়ে পূজা করা হয়। এই অঞ্চলের প্রাচীন নাম ছিল কেদারখণ্ড; তাই এখানে শিবকে কেদারনাথ অর্থাৎ, কেদারখণ্ডের অধিপতি নামে পূজা করা হয়।


      <--আদ্যনাথ রায় চৌধুরী-->


=============================

        (3)★★★★★★★

তৃতীয় ভাগ----বদ্রীনাথ মন্দির বিষয়ে

কিছু কথা।


★★বদ্রীনাথ মন্দির★★


উত্তর ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের চামোলি জেলায় গাড়ওয়াল পার্বত্য অঞ্চলে অলকানন্দা নদীর তীরে বদ্রীনাথ মন্দিরটি অবস্থিত। 

এই মন্দিরের অপর নাম::--

বদ্রীনারায়ণ মন্দির

বদ্রীনাথ শহর ও বদ্রীনারায়ণ মন্দির ‘চারধাম’ ও ‘ছোটো চারধাম’ নামে পরিচিত তীর্থগুলির অন্যতম। বদ্রীনাথ মন্দির ‘দিব্য দেশম’ নামে পরিচিত 108 টি বৈষ্ণব তীর্থেরও একটি। 


এই মন্দিরটি  সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে 3133 মিটার বা 10279' ফুট  উচ্চতায় অবস্থিত।  

মন্দিরের উল্টোদিকে আছে নর পর্বত। অন্যদিকে দেখাযায় নীলকণ্ঠ শৃঙ্গের পিছনে নারায়ণ পর্বত ।


মূল মন্দিরটি তিনটি  অংশে বিভক্ত: 1>গর্ভগৃহ, 2>দর্শন মণ্ডপ ও 3>সভামণ্ডপ।গর্ভগৃহের ছাদটি এক বিশেষ রূপে তৈরি শঙ্কু-আকৃতিবিশিষ্ট। 

এটি প্রায় 15 মিটার / 49 ফুট । এর মাথায় সোনায় গিলটি করা একটি ছোটো গম্বুজ রয়েছে। 

মন্দিরের সামনের অংশ টি পাথরের তৈরি  আর  জানালা  খিলান-আকৃতি বিশিষ্ট। প্রধান প্রবেশপথটিও একটি সুউচ্চ খিলান-আকৃতির দরজা।  চওড়া সিঁড়ি বেয়ে এই দরজার কাছে পৌঁছাতে হয়। প্রধান প্রবেশদ্বার পার হলেই  বৃহদাকার ও স্তম্ভযুক্ত মণ্ডপে উপস্থিত হতে হয়। 

এই মন্ডপ টি  পার হলেই মন্দিরের মূল গর্ভগৃহে যাওয়া যায়। এই মণ্ডপের স্তম্ভগুলি ও দেওয়ালগুলি সূক্ষ্ম ও সুন্দর কারুকার্য দেখার মতন।


গর্ভগৃহে বদ্রীনারায়ণের 1 মিটার/ 3.3 ফুট উচ্চতার  কষ্টিপাথরের শালিগ্রাম বিগ্রহটি একটি বদ্রী গাছের তলায় সোনার চাঁদোয়ার নিচে রাখা আছে। বদ্রীনারায়ণের মূর্তি উপরের দুই হাত উত্তোলিত অবস্থায় আর সেই হাতে শঙ্খ  ও চক্রধরে আছেন এবং নিচের দুটি হাতে যোগমুদ্রায়  উপবিষ্ট মূর্তির কোলের উপর  রয়েছে।

গর্ভগৃহে বদ্রীনারায়ণ ছাড়াও  কুবের, নারদ, উদ্ধব, নর ও নারায়ণ ঋষির মূর্তি আছে। 

মন্দিরের চারপাশেও অনেক মূর্তি ।

এর মধ্যে আছেন বিষ্ণুর পত্নী লক্ষ্মী, নারায়ণের বাহন গরুড় ও নবদুর্গার মূর্তি। এছাড়াও মন্দিরে লক্ষ্মী নৃসিংহ এবং আদি শঙ্কর  ও আরও অনেক মন্দির আছে , 

মন্দিরের সকল মূর্তি কষ্টিপাথরে তৈরি।


সময় নির্ঘন্ট::---

প্রতি বছর এপ্রিল মাসের শেষভাগ থেকে নভেম্বর মাসের প্রথম ভাগ পর্যন্ত ছয় মাস এই মন্দিরটি খোলা থাকে। 



বদ্রীনাথ মন্দিরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসবটি হল ‘মাতা মূর্তি কা মেলা’। গঙ্গার পৃথিবীতে অবতরণকে স্মরণ করে এই উৎসব পালন করা হয়। বদ্রীনাথ মন্দিরটি উত্তর ভারতে অবস্থিত হলেও এই মন্দিরের প্রধান পুরোহিত বা ‘রাওয়াল’রা দক্ষিণ ভারতের কেরল রাজ্যের নাম্বুদিরি ব্রাহ্মণ গোষ্ঠীর মধ্যে থেকে নির্বাচিত হন।

বদ্রীনাথ ও কেদারনাথ মন্দির কমিটির সদস্যরা রাজ্য সরকারের দ্বারা মনোনীত হন। প্রাচীন হিন্দু ধর্মগ্রন্থ বিষ্ণুপুরাণ ও স্কন্দপুরাণ-এ এই মন্দিরের উল্লেখ পাওয়া যায়। বদ্রীনাথ মন্দিরের কাছে তপ্তকুণ্ড উষ্ণ প্রস্রবন আছে।

   

মন্দিরের ঠিক নিচে তপ্তকুণ্ড নামে একটি উষ্ণ গন্ধক প্রস্রবন রয়েছে। এটির ঔষধিগুণ আছে বলে মনে করা হয়। অনেক তীর্থযাত্রী মনে করেন, মন্দিরে যাওয়ার আগে এই কুণ্ডে স্নান করা আবশ্যক। মন্দিরের দুটি পুকুরের নাম নারদ কুণ্ড ও সূর্যকুণ্ড।


আদি শঙ্করাচার্জ 9ম শতাব্দীতে  প্রথম বদ্রীনাথকে একটি তীর্থস্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। হিন্দু বিশ্বাস অনুসারে, ৮১৪ থেকে ৮২০ সাল পর্যন্ত ছয় বছর তিনি এই অঞ্চলে বাস করেছিলেন। বছরে ছয় মাস তিনি বদ্রীনাথে ও বাকি ছয়মাস কেদারনাথে থাকতেন। হিন্দুরা আরও মনে করে যে, বদ্রীনাথের মূর্তিটি তিনিই অলকানন্দা নদী থেকে উদ্ধার করে তপ্তকুণ্ড উষ্ণ প্রস্রবণের কাছে মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করেন।


পথ নির্দেশ::----


 হৃষিকেশ থেকে বদ্রীনাথ মন্দিরের  দূরত্ব 298 কিলোমিটার বা 185 মাইল। 

পথে দেবপ্রয়াগ, রুদ্রপ্রয়াগ, কর্ণপ্রয়াগ, নন্দপ্রয়াগ, যোশীমঠ, বিষ্ণুপ্রয়াগ ও দেবদর্শিণী হয়ে হৃষীকেশ এসে 

হৃষীকেশ থেকে বদ্রীনাথ আসতে হয়। 

আবার অন্য পথে

কেদারনাথ থেকে 243 কিমি বা 151 মাইল  দীর্ঘ রুদ্রপ্রয়াগের পথ ধরে 

বা 230 কিমি বা 140 মাইল  দীর্ঘ উক্তিনাথ ও গোপেশ্বরের পথ ধরে বদ্রীনাথ আসা যায়


বিঃ দ্রঃ::-----

ইন্টারনেট থেকে জানতে পারলাম যে

2012 সালে মন্দির কর্তৃপক্ষ দর্শনার্থীদের জন্য টোকেন ব্যবস্থা চালু করে। দর্শনের সময়-জ্ঞাপক এই টোকেনগুলি ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের তিনটি স্টল থেকে পাওয়া যায়। প্রত্যেক ভক্ত 10-20 সেকেন্ড বদ্রীনাথকে দর্শন করার জন্য সময় পান। পরিচয়ের প্রমাণ দিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করতে হয়।

       <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

==========================

             THE END




Saturday, June 22, 2019

33>|| উজ্জয়িনী- + মধ্যপ্রদেশ ভ্রমণ || -11/02 to 20/02/2010

13>|| উজ্জয়িনী- + মধ্যপ্রদেশ ভ্রমণ ||
                          <---©-আদ্যনাথ--->

মধ্যপ্রদেশ ভ্রমণঃ ইনদওর-উজ্জয়িনী-মান্ডু-মহেশ্বর-ওঙ্কারেশ্বর-হনুবন্তিয়া!
ইজ্জয়িনী :--
আমাদের দশ  দিনের পোগ্রাম ছিল।--11/02  to 20/02/2010

 ইনদওর-উজ্জয়িনী-মান্ডু-মহেশ্বর-ওঙ্কারেশ্বর-হনুবন্তিয়া!

(নিকটতম বিমানবন্দর ইন্দোর , উজ্জয়ন থেকে 55 কিমি দূরে। কলকাতা-সহ নানা শহর থেকে ট্রেনে  আসাজায়   উজ্জয়ীনিতে । রাজ্যের রাজধানী ভোপালের থেকে 183 km উজ্জয়ীনি বাসে যাওয়া যায় ।) 

আমরা ছয় জনে কৃশানু জি, তেওয়ারি জি,ওমপ্রকাশ, ওঝা জি,পবন,এবং আমি এই ছয় জনে বৃহস্পতি বার  11/02/2010 তে  ধনবাদ থেকে শিপ্রা এক্সপ্রেসে 22912 রাত্রি 10.30 মিনিটে রওনা দিলাম উজ্জয়ীনির উদ্দেশ্যে।
ট্রেনটি এলাহাবাদ, কাটনি, বিনা, ভূপাল হয়ে পরের দিন শুরুবার  উজ্জয়ীনিতে পৌঁছলো রাত্রি একটায়।

শুক্রবার  অর্থাৎ 12ই ফেবুয়ারী শিবরাত্রি।এবং 13 তারিখ কুম্ভ সংক্রান্তি।
আমাদের ইচ্ছা ছিল 11তারিখেই উজ্জয়িনী তে পৌঁছোবার কিন্তু ট্রেনে রিজার্ভেশন না পাওয়ার
কারণে আমাদের একদিন দেরি হয়ে গেলো।

উজ্জয়িনী স্টেশনথেকে মহাকালেশ্বর মন্দির বেশি দূরে নয় তথাপি আমরা একটি ট্যাক্সি নিয়ে রাত্রেই
পৌঁছে গেলাম মন্দিরে।  ( তাড়াহুড়া করার জন্য একটু ঠগতে হলো। যে দেড় দুই কিলোমিটার পথ
হেঁটেই যাওয়া যায় সেই পথ টুকুর জন্য আমাদের 300 টাকা দিতে হলো ট্যাক্সিকে।
আমরা ভেবে ছিলাম এতো রাতে কোথায় কি ভাবে যাবো ,তার থেকে একটু বেশি পয়সা দিয়ে মন্দিরেই
যাওয়া যাক। রাস্তায় আমরা নিজেদের ভুল বুঝতে পারলাম।
কারন কাতরে কাতারে মানুষ হেঁটেই যাচ্ছিলো।)
 যাই হোক আমরা 12তারিখ রাত্রেই   পৌঁছে গেলাম মহাকালেশ্বর মন্দিরে। ব্যাগ ও সঙ্গের সামগ্রী একটি  হোটেলে রেখে।
এখানের মন্দিরের  প্রধান পন্ডিতদের একজন আমাদের ওঝা জির কাকা। তাই তেমন অসুবিধা হয়নি।
শুধু শিব রাত্রির মহা পূজাটি দেখা হলো না। কিন্তু 13 তারিখের প্রথম ভষ্ম আরতি দেখার সুযোগ পেলাম।

তাই আমরা 12 তারিখেই পৌঁছে গিয়ে ছিলাম। মন্দিরে প্রচন্ড ভিড়। বহু মানুষের সমাগম হয়েছে শিব রাত্রের জন্য। বিশাল মেলা চত্বর ,হাজার হাজার মানুষের ভিড়। বিশাল লাইন মানুষের।
আমাদের তেমন কোন অসুবিধা হলনা কারণ ওঝা জির কাকা ওখানকার একজন বিশেষ পূজারী
তাই উনি আমাদের নিয়ে গেলেন মন্দিরের ভেতরে গর্ভ গৃহের মধ্যে।
আমরা  আরামে পূজা ও আরতি দেখলাম। ভোর চারটায় আধা ঘন্টার জন্য মন্দিরের গর্ভ গৃহ বন্ধ হলো। আবার আমরা পৌনে পাঁচটায় পৌঁছে গেলেন মন্দিরে। সকাল আটটা পর্যন্ত চলছিল পূজা পাঠ।
ভোর পাঁচটা থেকে ছয়টা পর্যন্ত ভষ্মআরতি র সেই ভব্য  আরতি দর্শন করলাম।


13/06/2010==তৃতীয় দিন আজ কুম্ভ সংক্রান্তি।
সকালে একটু চা খেয়ে আমরা একটি দোকানে অপেক্ষা করছিলাম।
নয়টা নাগাদ পন্ডিত জি আসলেন এবং ওনার বাড়িতে নিয়ে গেলেন।
ব্রহ্মচারী পন্ডিত। একলাই থাকেন। আমরাই উজ্জ্বগ করে কিছু খাবার আনলাম এবং সকলে মিলে খেলাম। আজ সমস্ত দিন মন্দিরেই কাটালাম। দিন রাত্রি মিলে পাঁচবার আরতি দেখার সুযোগ পেলাম।
এখানে বিশাল মেলা প্রাঙ্গন ,হাজার হাজার মানুষের ভিড়।
ফেরার সময় আমরা প্রণামী হিসাবে কিছু টাকা ওনাকে দিতে চাইলে উনি বললেন আমাদের যা দেবার ইচ্ছা তা যেন মন্দিরের বাক্সে অথবা অফিসে গিয়ে রশিদ কেটে দিয়ে দি।

উজ্জয়ীনি শহর টি  শিপ্রা নদীর তীরে প্রাচীনকালে নাম ছিল অবন্তিকা।
আমরা 14 তারিখ উজ্জয়িনী ঘুড়ে দেখলাম।
প্রতি 12 বছর অন্তর শিপ্রা নদীর রামঘাটে  হয় কুম্ভমেলা। এখানে শহর ও তার চারপাশ জুড়ে অনেক মন্দির।
জয়পুরের মহারাজা দ্বিতীয় জয় সিংহের যে  পাঁচটি যন্তরমন্তর তৈরি করেছিলেন তার একটি এই উজ্জয়নে আছে.।
এখানকার প্রসিদ্ধ দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম মন্দির মহাকালেশ্বরের মন্দির শিপ্রা নদীর পাড়ে ।  পাঁচ তলা মন্দিরটি 18 শতকে তৈরি করে ছিলেন  সিন্ধিয়া রাজবংশের রাজা।
প্রাচীন মন্দির টি ইলতুত্‍মিস  ধ্বংস করে দিয়েছেন 1235 সালে ।

মন্দিরের বাইরে পুজোর উপাচারের দোকান, খাবারের দোকান ইত্যাদি আছে।
প্রতিদিন ঊষালগ্নে অনুষ্ঠিত হয় ভস্ম আরতি।এই ভস্ম শ্মশান থেকেই আনা হয়।
সকাল-সন্ধ্যে আরতি দেখার জন্য লম্বা লাইন পড়ে মন্দিরে। মাটির নীচে গর্ভগৃহে স্বয়ম্ভু শিব, মহাকালেশ্বর।

   উজ্জৈন শহর :--14 th February 2010.

( উজ্জয়িনী (ইংরেজি: Ujjain) ভারতের
মধ্য প্রদেশ রাজ্যের উজ্জয়িনী জেলার
একটি শহর ও পৌর সংস্থার অধীন এলাকা।উজ্জয়িনী ভারতের প্রাচীন নগরী। এর অবস্থান বর্তমান মধ্যপ্রদেশ রাজ্যে শিপ্রা নদীর তীরে। পুরাতাত্ত্বিক উৎখননে এই নগরীর চারিদিকে আনুমানিক খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে নির্মিত একটি প্রাচীর আবিষ্কৃত হয়েছে। দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজধানীর রূপে অনুমিত এই নগরী শক ও গুপ্তযুগে জ্যোতিষ চর্চার প্রসিদ্ধ কেন্দ্র ছিল।
 উজ্জয়িনীর মহাকাল মন্দির অতি বিখ্যাত মন্দির।মহাকাল বা মহাকালেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির  হলবারোটি জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম।

এই মন্দিরটি ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের উজ্জয়িনী শহরে রুদ্রসাগর হ্রদের তীরে অবস্থিত।
এই মন্দিরের শিবলিঙ্গটিকে স্বয়ম্ভু বা শিবের সাক্ষাৎ-মূর্তি মনে করা হয়। )

কিছু প্রচলিত কিংবদন্তি---

( শিবপুরাণ অনুসারে, একবার সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা ও রক্ষাকর্তা বিষ্ণু তাঁদের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ তা নিয়ে বিবাদে রত হন।তাঁদের পরীক্ষা করার জন্য শিব ত্রিভুবনকে ভেদকরে চলিত জ্যোতির্লিঙ্গ নামে এক বিশাল অন্তহীন আলোকস্তম্ভ রূপে আবির্ভূত হন। বিষ্ণু ও ব্রহ্মা এই লিঙ্গের উৎস অনুসন্ধান করতে যান। ব্রহ্মা যান উপর দিকে এবং বিষ্ণু নামেন নিচের দিকে। কিন্তু তাঁরা কেউই এই লিঙ্গের উৎসটি খুঁজে পেলেন না । 
ব্রহ্মা মিথ্যা বলেন যে তিনি উৎসটি খুঁজে পেয়েছেন। কিন্তু বিষ্ণু তাঁর পরাজয় স্বীকার করে নেন। 
শিব তখন একটি দ্বিতীয় জ্যোতির্লিঙ্গ রূপে আবির্ভূত হয়ে মিথ্যা বলার জন্য ব্রহ্মাকে শাপ দেন যে কোন অনুষ্ঠানে তাঁর কোনো স্থান হবে না। অন্যদিকে সত্য কথা বলার জন্য তিনি বিষ্ণুকে আশীর্বাদ করে  বলেন যে সৃষ্টির অন্তিমকাল পর্যন্ত তিনি পূজিত হবেন। 

জ্যোতির্লিঙ্গ হল সেই অখণ্ড সর্বোচ্চ সত্যের প্রতীক, যার অংশ শিব নিজে। হিন্দু বিশ্বাস অনুসারে, জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দিরগুলিতে শিব স্বয়ং অগ্নিময় আলোকস্তম্ভ রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। শিবের ৬৪টি রূপভেদ রয়েছে। তবে এগুলির সঙ্গে জ্যোতির্লিঙ্গকে এক করা হয় না। প্রত্যেক জ্যোতির্লিঙ্গের নির্দিষ্ট নাম আছে – এগুলি শিবের এক এক রূপ।
প্রতিটি মন্দিরেই শিবলিঙ্গ শিবের অনন্ত প্রকৃতির প্রতীক এক আদি ও অন্তহীন স্তম্ভের প্রতিনিধিত্ব করে।)

বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির হল -----

* গুজরাতের সোমনাথ,
* গুজরাতের দ্বারকায় নাগেশ্বর,
* অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীশৈলমের মল্লিকার্জুন,
* মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর মহাকালেশ্বর,
* মধ্যপ্রদেশের ওঙ্কারেশ্বর,
* হিমালয়ের কেদারনাথ,
* মহারাষ্ট্রের ভীমশংকর,
* মহারাষ্ট্রের ত্র্যম্বকেশ্বর,
* মহারাষ্ট্রের আওরঙ্গাবাদের ঘৃষ্ণেরশ্বর।
* উত্তরপ্রদেশের বারাণসীর বিশ্বনাথ,
* ঝাড়খণ্ডের দেওঘরের বৈদ্যনাথ,
* তামিলনাড়ুর রামেশ্বরমের রামেশ্বর ।

পন্ডিত জি আমাদের একটি  গাড়ি ঠিক করে দিয়ে ছিলেন তাই খুম কম পয়সাতেই পেয়ে গেছিলাম
গাড়িটি । সাথের ড্রাইভার ঋতম সিং আমাদের গাইডের কাজও করেছিলেন। 

আমাদের ড্রাইভার  গাইডের মুখে শোনা কিছু কথা :--
পুরাণ অনুসারে, উজ্জয়িনী শহরটির নাম ছিল অবন্তিকা। এই শহরটি ছিল অত্যন্ত সুন্দর এবং ধর্মীয় চিন্তার কেন্দ্র। দূরদূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে আসত হিন্দুশাস্ত্র শিক্ষা করতে। কিংবদন্তি অনুসারে, উজ্জয়িনীতে চন্দ্রসেন নামে এক শাসক ছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত শিবভক্ত। একদিন শ্রীখর নামে এক কৃষক বালক প্রাসাদের পাশ দিয়ে যেতে যেতে শুনতে পায় রাজা শিবের নাম জপ করছেন। বালকটিও  মন্দিরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে প্রার্থনা শুরু করে দেয়। প্রহরীরা তাকে টেনে সেখান থেকে বের করে শহরের বাইরে শিপ্রা নদীর তীরে রেখে দিয়ে আসে। উজ্জয়িনীর পার্শ্ববর্তী দুই শত্রুরাজ্যের রাজা রিপুদমন ও সিংহাদিত্য সেই সময় উজ্জয়িনীর সম্পদের লোভে রাজ্য আক্রমণের কথা ভাবছলেন। এই কথা শুনে শ্রীখর প্রার্থনা শুরু করে। সেই খবর পৌঁছায় বৃধি নামে এক পুরোহিতের কাছে। তিনি এই কথা শুনে ভয় পেয়ে যান এবং ছেলেদের একান্ত অনুরোধে শিপ্রা নদীর তীরে গিয়ে শিবের কাছে প্রার্থনা শুরু করেন। ব্রহ্মারআশীর্বাদে দূষণ নামে এক দৈত্য অদৃশ্য হয়ে যাবার ক্ষমতা পেয়েছিল। শত্রুরাজারা দূষণের সাহায্যে উজ্জয়িনী আক্রমণ করেন। যুদ্ধে তাঁদেরই জয় হয় এবং তাঁরা সকল শিবভক্তের উপর অত্যাচার শুরু করে দেন।

অসহায় ভক্তদের প্রার্থনা শুনে শিব মহাকালের রূপে উজ্জয়িনীতে আবির্ভূত হয়ে চন্দ্রসেনের শত্রুদের ধ্বংস করেন। শ্রীখর ও বৃধির অনুরোধে শিব উজ্জয়িনীতে বাস করতে রাজি হন। তিনিই হন রাজ্যের প্রধান দেবতা এবং শিবভক্তদের রক্ষাকর্তা। সেই থেকে উজ্জয়িনীতে মহাকাল রূপে শিব তাঁর শক্তি পার্বতীকে নিয়ে বাস করছেন।

 এই মন্দিরের শিবলিঙ্গটিকে স্বয়ম্ভ‌ু বা শিবের সাক্ষাৎ মূর্তি মনে  করা হয়। মহাকালেশ্বরের মূর্তিটি দক্ষিণামূর্তি নামেও পরিচিত। ‘দক্ষিণামূর্তি’ শব্দের অর্থ ‘যাঁর মুখ দক্ষিণ দিকে’।

1234-35 সালে সুলতান শাসুদ্দিন ইলতুৎমিস উজ্জয়িনী লুণ্ঠনকালে মহাকালেশ্বর মন্দির চত্বর ধ্বংস করেছিলেন।  1736 সালে হিন্দু  পাদশাহির ছত্রপতি শাহু মহারাজ ও পেশোয়া বাজি রাওয়ের সেনাপতি রানোজিরাও সিন্ধে মহারাজ (সিন্ধিয়া) বর্তমান মন্দিরটি নির্মাণ করান। পরবর্তীকালে মহাদজি সিন্ধে মহারাজ (প্রথম মাধবরাও সিন্ধে,( 1730-1794) ও মহারানি বায়জাবাই রাজে সিন্ধে (1827-1863) এই মন্দিরের সংস্কার ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন।

 1886সাল পর্যন্ত রাজা জয়াজিরাও সাহেব সিন্ধে আলিজার শাসন পর্যন্ত তৎকালীন গোয়ালিয়র রিয়াসতের প্রধান অনুষ্ঠানগুলি এই মন্দিরে অনুষ্ঠিত হত। ভারতের স্বাধীনতার পর দেবস্থান ট্রাস্টের পরিবর্তে উজ্জয়িনী পৌরসংস্থা এই মন্দিরের ভার নেয়। বর্তমানে এটি একটি কালেক্টরয়েটের অধীনে রয়েছে।

তান্ত্রিক শিবনেত্র প্রথা দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে একমাত্র মহাকালেশ্বর মন্দিরেই দেখা যায়। ‘ওঙ্কারেশ্বর মহাদেবে’র মূর্তিটি মহাকাল মন্দিরের গর্ভগৃহের উপরে স্থাপিত। গর্ভগৃহের পশ্চিম, উত্তর ও পূর্ব দিকে যথাক্রমে গণেশ, পার্বতী ও কার্তিকের মূর্তি স্থাপিত। দক্ষিণ দিকে শিবের বাহন নন্দীর মূর্তি স্থাপিত। মন্দিরের তিনতলায় নাগচন্দ্রেশ্বরের মূর্তি আছে। এটি একমাত্র নাগপঞ্চমীর দিন দেখার জন্য খুলে দেওয়া হয়। মন্দিরটি পাঁচতলা। তার মধ্যে একটি ভূগর্ভে অবস্থিত।

মন্দিরের চূড়া একটি বস্ত্র দ্বারা আচ্ছাদিত থাকে। ভূগর্ভস্থ কক্ষটির পথটি পিতলের প্রদীপ দ্বারা আলোকিত করা হয়। এটি মন্দিরের একটি স্বতন্ত্র প্রথা। কারণ, এই রকম প্রথা অন্য কোনও মন্দিরে দেখা যায় না।
হিন্দু বিশ্বাস অনুসারে, এই মন্দিরের প্রধান উপাস্য দেবতা শিব অনন্তকাল ধরে উজ্জয়িনীর শাসক। এই শহরের অধিবাসীদের ধর্মবিশ্বাসে মহাকালেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গের প্রভাব অপরিসীম। শিবরাত্রির সময় মন্দিরের কাছে একটি মেলা বসে। এছাড়াও প্রতি 12 বছর অন্তর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় মেলা ‘কুম্ভ’ এখানে অনুষ্ঠিত হয়। লাখ লাখ ভক্ত এই সময় এখানে আসেন।
============================
উজ্জৈনের মহাকাল মন্দিরের কিছু কথা ,কতটা সত্যি মিথ্যা জানিনা।
তবে এই  কথা উজ্জৈনে প্রচলিত ---
  1>এই মন্দিরের স্থানে রাত্রে বাস করা অতি ভয়ঙ্কর ব্যাপার।
যেকোন নামী মানুষ হোক বা কোন স্ত্রী লোকই হোক না কেন এই স্থানে রাত্রি বাস মানা।
কারণ এখানে রাত্রি বাস করলে মৃত্যু অনিবার্য। কারন উজ্জৈনের রাজা মহাকাল সয়ং।
রাজা বিক্রমাদিত্য নিজেও কোন দিন এইস্থনে রাত্রি বাস করেন নি।

2>মহাকাল মন্দিরের কাছে কোন বরযাত্রী  আসতে মানা।
কারণ মহাকালের সামনে কেউ ঘোড়সাবারী করতে পারেনা।
3>এই মন্দিরের কেউ হামলা করার চেষ্টা করলেই তার মৃত্যু হয়।
4>শ্মশানের চিতা ভস্ম দিয়ে বাবার আরতি হয় রোজ সকালে।

-----------

উজ্জয়নের অন্যান্য মন্দিরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল হরসিদ্ধি মাতার মন্দির, বড় গণেশ মন্দির, চিন্তামণি গণেশ মন্দির, গোপাল মন্দির, গড়কালিকা মন্দির (কবি কালীদাসের আরাধ্য দেবী), মঙ্গলনাথ মন্দির। শহরের একটু দূরে একটি  আশ্রম  আছে । বলা হয়, সন্দীপন মুনির এই আশ্রমে থেকেই বিদ্যাচর্চা করতেন কৃষ্ণ-বলরাম ও কৃষ্ণ-সখা সুদামা। প্রাচীন ভেরুগড়ে কালভৈরব মন্দির উজ্জয়নের অন্যতম আকর্ষণ।
এখানকার বাটিক শিল্পীদের বেশ নাম ডাক আছে। আসে পাশের গ্রাম গুলিতে বাটিক শিল্পীদের
বাস।



আমরা 13এবং 14 দুদিন উজ্জয়নে ঘুড়ে বেরিয়ে রওনা দিলাম ইন্দোরের উদ্দেশে।

এরপরে আমরা উজ্জয়ন থেকে গেলাম  ইন্দোর।
উজ্জয়িনী থেকে ইন্দোর  55 কিলোমিটার।

15/06 2010-- INDORE 4th day

মধ্যপ্রদেশের অন্যতম বৃহত্‍ শহর এবং জমজমাট বাণিজ্যিক কেন্দ্র । প্রচুর গাড়ি ব্যস্ত শহর।
এখানকার এক গাইডের মুখে শোনা কিছু বিবরণ ----
মরাঠা পেশোয়া রাজপরিবারকে সাহায্য করার প্রয়োজনে ইন্দোরের পরিচালনার ভার হোলকার রাজ মলহার রাও নিয়ে নেন। শ্বশুরমশাই মলহার রাও হোলকার পুত্রবধূ অহল্যাবাইকে যে সতী হওয়া থেকে আটকেছিলেন তাই নয়, তাঁর হাতেই তুলে দিয়েছিলেন রাজ্য শাসনের ভার। যদিও তাঁর রাজধানী ছিল মহেশ্বরম কিন্ত ইন্দোর কেও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে গড়ে তোলেন মহিয়সী রানি অহল্যাবাঈ। পরবর্তীকালে রাজধানী উঠে আসে মহেশ্বরম থেকে ইন্দোরে । দেশ স্বাধীন হওয়ার সময় মধ্য ভারতের রাজধানী ছিল ইন্দোর।

শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা খাজুরি বাজার যা গড়ে উঠেছে রাজ-ওয়াড়া অর্থাত্‍ হোলকারদের পুরনো প্রাসাদ ঘিরে। মরাঠা, মোগল ও ফরাসি স্থাপত্যের মিলন ঘটেছে 1747 সালে তৈরি এই প্রাসাদে। সাত তলা প্রাসাদের নীচের তিন তলা পাথরের তৈরি, বাকিটা কাঠ। বেশ কয়েক বার বিধ্বংসী আগুন গ্রাস করেছে এই প্রাসাদকে, সর্বশেষ 1984 সালে আগুনে ভীষণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রাসাদের কিছুটা অবশ্য সারিয়ে তোলা হয়েছে।
কাছেই আছে গোপাল মন্দির এবং আর্ট গ্যালারি। আর আছে খান নদীর ধারে হোলকার রাজাদের সমাধি বা ছত্তিসবাগ। হোলকার বংশের স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে লালবাগ প্যালেস। তিন দশকের বেশি সময়
ধরে  তৈরী হয়েছিল এই প্রাসাদ । ইংল্যান্ডের বাকিংহাম প্রাসাদের অনুকরণে তৈরি প্রবেশ তোরণটি। প্রাসাদের অন্দরমহলে ইউরোপের বিভিন্ন স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন।
দেখলাম  তত্‍কালীন বৈভবের নমুনা, যেমন ইতালিয়ান মার্বেলের পিলার, ঝাড়বাতি, গ্রিক মুরাল ইত্যাদি। হোলকারদের আর এক মহলে বসেছে সেন্ট্রাল মিউজিয়াম। সোমবার বাদে প্রতি দিন সকাল 10টা থেকে বিকেল 5টা অব্দি খোলা।

বিঃ দ্রঃ ----((সেন্ট্রাল মিউজিয়াম সোমবার বন্ধ থাকে।))

এই মিউজিয়ামে রয়েছে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। শহরের অন্যান্য আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে কাচমন্দির, ইন্দো-গথিক শৈলীতে 1902 সালে তৈরি কিং এডওয়ার্ড হল, এখন যার নাম গাঁধী হল।

ইন্দোরের - কাপড় জামার দোকানের নাম ডাক  তো আছেই, বিশেষ করে ট্রাডিশনাল পোশাকের। এখানকার স্বর্ণব্যবসারও বেশ নাম। সোনা-রুপোর দোকানের জন্যে বিখ্যাত সারাফা বাজার।
এই বাজারের বিশেষ আকর্ষণ সন্ধ্যা বেলায়।

গয়না কিনুন আর নাই কিনুন, বহু মানুষ সন্ধ্যেবেলা অবশ্যই হাজির হন এখানে। রাত্রে  দোকান বন্ধ হলেই রাস্তার ধারে  স্টল সাজাতে শুরু করেন দোকানিরা, চালু হয়ে যায় 'খাও গলি' বা 'নাইট স্ট্রিট ফুড মার্কেট'- মোটামুটি সাড়ে আটটা নাগাদ জমে ওঠে খাও গলি, চলে গভীর রাত পর্যন্ত । নানা ধরনের চাট, ভুট্টার টিকিয়া, ছোলে বাটোরা,  মটর শুঁটির কচুরি, নানা ধরণের  মিষ্টি ।
ইন্দোরের   তৈরি খেলনাও বিখ্যাত।এখানে অনেক বেশ ভালো ভালো  হোটেলও  আছে।
আমরা একরি আট সিটের গাড়ি ভাড়া করে নিয়ে ছিলাম।  এই গাড়িতে করেই তিন দিন ঘুরলাম।
ওই পন্ডিত জি ই গাড়িটি ঠিক করে দিয়ে ছিলেন তাই খুম কম পয়সাতেই পেয়ে গেছিলাম।
আমাদের ড্রাইভার কম গাইড বেশ ভালো ছিল ,খুব ভালো হিন্দি বলতে পারতেন ,সেই কারনে আমাদের ওনার কথা বুঝতে কোন অসুবিধা হয়নি। 

16/02/2010--5th day
INDORE  TO MANDSAUR ----260 KM
ইন্দোর দেখার পরে গেলাম  মান্ডুর বা  মান্দুর।


জানলাম যে মান্দুরের রানি রূপমতী ও মালোয়ার রাজা রাজ বাহাদুরের প্রেমকাহিনি মিশে আছে মান্ডু-র আকাশে বাতাসে।
মোগল সম্রাট জাহাঙ্গিরের অতি প্রিয় মান্ডু, বিশেষ করে বর্ষাকালে।তাই মোগল সম্রাট এর  নাম দিয়েছিলেন তিনি সাদিয়াবাদ, অর্থাত্‍ সিটি অফ জয়। বলা হয় যে এখানে অবস্থিত হোসাং শাহের সমাধি নাকি ভারতের প্রথম শ্বেতপাথরে তৈরি সৌধ, যা দেখে সম্রাট শাহজাহান তাজমহল বানানোর অনুপ্রেরণা পান।

মান্দুরে  ছড়িয়ে আছে নানা সৌধ, প্রাসাদ, ইত্যাদি।
তাই খুব ভালো করে  মান্ডু দেখতে হলে সপ্তাহখানেক লেগেই যাবে। আমরা তিনদিন
16/02 to 18/02 মান্ডুর ঘুরে দেখলাম।----5 th to 7th day

আমাদের ড্রাইভার ঋতম সিং  নিজেই এখানে একটি গাড়ির  জোগাড় করে দিয়েছিলো । এবারেও আমাদের গাড়ির ড্রাইভারই আমাদের গাইড। ওর নাম ওমন সিং খুব ভালো হিন্দি বলে তাই আমাদের বুজতে কোন অসুবিধাই হয়নি। তথাপি ওমন বলছিলো আরও দিন দুই থাকলে
সব প্রাসাদ গুলির ভেতরে নিয়ে গিয়ে দেখাতে  পারতো। কারন কয়েকটি জায়গাতে ঢুকতে আগে থেকে পারমিশন নিতে হয়।
সে যাই হোক  আমাদের হাতে তো এত সময় ছিল না । তবুও আমরা বেশ খানিকটাই দেখলাম।   দেখলাম এখন কার  প্রধান আকর্ষণ, ভিলেজ বা সেন্ট্রাল গ্রুপ, রয়াল গ্রুপ এবং রেওয়াকুণ্ড গ্রুপ।

ভিলেজ বা সেন্ট্রাল গ্রুপ ::---

ভিলেজ বা সেন্ট্রাল গ্রুপে আছে  মান্ডুতে প্রবেশ করার তিন ফটক- আলমগির, দিল্লি ও ভাঙ্গি দরওয়াজা, আশরাফি মহল, রামমন্দির, দামাস্কাসের গ্রেট মস্কের অনুকরণে তৈরি জামি মসজিদ ও হোসাং শাহ-র সমাধি। মান্ডুর বাজার এলাকায় অবস্থিত শেষ দু'টি সৌধের জালির কাজ অপূর্ব নজর করার মতো।

রয়াল গ্রুপ::---

রয়াল গ্রুপের আছে  বিখ্যাত জাহাজ মহল। কাপুর তালাও আর মুঞ্জা তালাও-এর মাঝে অবস্থিত প্রায় 120 মিটার লম্বা এই প্রাসাদ। জলে পরিপূর্ণ ঝিল অপূর্ব তার শোভা । তারপরে দেখলাম  অন্দরমহল, তাবেলি ,  সেখানে ছবি তোলা মানা। আর আছে হিন্দোলা মহল। এমন সুন্দর তার গঠন শৈলী যে বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে এই বুঝি বাতাসের ছোঁয়ায় দুলে উঠল কোণাকুনি দেওয়াল সমেত মহল, কিন্তু ভেতরে গেলে দেখা যাবে দিব্বি সোজা দাঁড়িয়ে দেওয়াল। দেখলম রানি রূপমতীর মহল বা চম্পা বাওলি, নহর ঝরোকা এবং জলমহল।

রেওয়া কুণ্ড গ্রুপ ::--

মান্ডু-র দক্ষিণ দিকে  আছে  রেওয়া কুণ্ড গ্রুপের মধ্যে পড়ে বাজ বাহাদুরের প্রাসাদ ও রানি রূপমতীর প্যাভিলিয়ন। এখানে বেশ  খানিকটা  চড়াই-উত্‍রাই রাস্তা , তাই এখানে গাড়ি প্রবেশ নিষেধ , হেঁটেই ঘুরতে হয় ।

ওমন আমাদের বুঝিয়ে বললো ষোড়শ শতাব্দীতে তৈরি বাজ বাহাদুরের প্রাসাদ। বলা হয় যে আকবরের সঙ্গে যুদ্ধ হয় সঙ্গীতজ্ঞ বাজ বাহাদুরের। পরাজিত হন তিনি। তবে যুদ্ধের পর তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরাজয়ের খবর আসার পর রানি রূপমতী আর দেরি করেননি, আগুনে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তারপরে সেই  রানির প্রিয় জায়গায়, আজ যার নাম রূপমতীর প্যাভিলিয়ন। এখান থেকে রানি নীচের বিস্তৃত সমতল ও নর্মদা নদীর দৃশ্য দেখতে খুব ভালো বাসতেন ।

পথে এক জায়গাতে খেলাম  বাওবাব ফলের জুস।
বাওবাব গাছ ও বাওবা ফল নিয়ে অনেক গল্প কথা প্রচলিত আছে।
তবে সকল গল্প কথা বাদ দিয়ে কিছু বিবরণ দেই বাওবা গাছের।

গাছ টি দেখতে অদ্ভুত।দেখে মনে হয় গাছটি উল্টে আছে।
 গাছটি দেখে মনে হয় যেন  ডালপালা শুদ্ধ মাটির গভীরে উল্টো করে পুঁতে রাখা । আর শিকড়গুলো রয়ে গেলো মাটির উপরে।
গল্প গুলি  সত্য কি মিথ্যা তা কে জানে? তবে গাছটি কিন্তু সত্যি। বিশ্বাস না হলে যেতে হবে আফ্রিকার মরুভূমির বুকে।

( গাছটির আদি নিবাস আফ্রিকা, আরব এবং অস্ট্রেলিয়াতে; পাওয়া যায় মাদাগাস্কার এবং ভারতের কয়েকটি অঞ্চলেও। সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় মেসিনা নামক অঞ্চলে। তাই মেসিনাকে বলা হয় দ্য বাওবাব টাউন। মাদাগাস্কারে বাওবাব গাছকে ‘টি পট ট্রি’ বলে, কারণ কান্ডের সাথে চায়ের কাপের অদ্ভুত মিল। অস্ট্রেলিয়ায় একে বলে দ্য প্রিজন ট্রি, মানে জেলখানা গাছ! কেন?
এমন নাম হবার কারণ পরে বলছি।

বাওবাব গাছ Adansonia গণের উদ্ভিদ, জন্মে মরুভূমিতে। একহারা গড়নের গাছের কান্ডটি মাটি থেকে সোজা উর্ধ্বমুখী। ডালপালার বালাই নেই বললেই চলে। মাথায় ঝোপের মতো কয়েকটি ডাল ছাতার মতো সাজানো। দূর থেকে দেখলে কারো মনে হবে একটি গাছকে বুঝি কেউ উঠিয়ে শিকড় উপুড় করে পুঁতে দিয়েছে!

সবচেয়ে বড় গাছটি আছে দক্ষিণ আফ্রিকার লিনপোপো প্রদেশের একটি খামারে, উচ্চতা ৪৭ মিটার আর বেড় ২২ মিটার। এর নাম সানল্যান্ড বিগ বাওবাব।
কার্বন ডেটিং করে এই গাছটির বয়স নির্ধারিত হয়েছে  6000বছর।

শিমুল গোত্রীয় গাছটি পত্রমোচী ঘরানার। বছরের অধিকাংশ সময়ে কোনো পাতা থাকে না। তখন মৃত গাছ বলে ভ্রম হয়। গ্রীষ্ম শেষে নতুন পাতা গজায় বাওবাব গাছে। পাতা না থাকলেও এরা কান্ডের ভেতরে খাদ্য এবং জল সঞ্চয় করে রাখে। খাদ্য-জল সঞ্চিত হতে হতে কান্ডটি ব্যারেলের মতো মোটা হয়ে যায়। কোনো কোনো গাছ তার কান্ডে 120,000 লিটার জল ধরে রাখতে পারে। এত জল নিজের শরীরে ধরে রাখলেও জলাবদ্ধ জায়গায় এরা বাঁচতে পারে না। প্রাণীকূলের হাত থেকে যথেষ্ঠ সুরক্ষিত এরা,  সব গাছের আকার এক রকম হয় না। এদের আকার নির্ভর করে এলাকা ও প্রজাতির উপরে।

বাওবাবের কান্ড এত পুরু যে তা অগ্নি প্রতিরোধী। কান্ড থেকে একধরনের তন্তু পাওয়া যায়। সেগুলো থেকে তৈরি হয় দড়ি, বাদ্যযন্ত্রের তার, জলনিরোধী ব্যাগ, এমনকি ছাতাও। বাওবাব ফুল বেশ বড় এবং দেখতে সাদা রঙের। এদের ফল 18 সেন্টিমিটারের মতো লম্বা হয়। প্রমাণ সাইজের ফলগুলো থেকে পাওয়া যায় পর্যাপ্ত শাঁস, যা বেশ সুস্বাদু খাবার। টক-মিষ্টি স্বাদের বাওয়াব ফল দুগ্ধজাত খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
এই  ফল দিয়ে তৈরি করে দারুণ এক জুস। ভিটামিন সি তে পরিপূর্নএই ফল, সাথে আছে এন্টি অক্সিডেন্ট এবং পর্যাপ্ত আঁশ। শরীররে বুড়িয়ে যেতে বাধা দেয় এই এন্টি অক্সিডেন্ট আর আঁশ পাকস্থলীকে সুস্থ রাখতে দারুণ কার্যকরী। বীজ থেকে তৈরি হয় তেল, সৌন্দর্যচর্চায় যার দারুণ চাহিদা রয়েছে। ভেজে খেতেও মন্দ না বাওবাব বীজ।
আর ফলের খোসা! সেগুলো দিয়ে তৈরি হয় পাল্প এজেন্ট। এদের পাতাও ফেলনা নয়। দারুণ স্বাদের চাটনি তৈরি হয় এদের পাতা সিদ্ধ করে। মালাউই, জাম্বিয়া আর জিম্বাবুয়েতে দারুণ জনপ্রিয় এই চাটনি। টাটকা এবং শুকনো- দু’ভাবেই খাওয়া হয় এদের পাতার নির্যাস। উত্তর নাইজেরিয়াতে এদের আলাদা নাম পর্যন্ত আছে- কুকা। কুকা সুপের প্রধান উপাদান এটি।
 আর অস্ট্রেলিয়ার বাওবাবগুলো ব্যবহার হতো আরো বৈচিত্র্যময় কাজে। সেখানকার অধিবাসীরা কারাগার হিসেবে ব্যবহার করতো বাওবাবের প্রকান্ড খোঁড়ল। কোনো কোনো কোটরে নাকি 20--25 জন বন্দীও ধরে যেত! ভাবুন তাহলে কতবড় হয় বাওবাব গাছ। এজন্য এদের নাম বাওবাব প্রিজন ট্রি!
অস্ট্রেলিয়ার ইউন্ডহ্যাম অঞ্চলে দেখা মেলে এই বাওবাব প্রিজন ট্রির। এখন অবশ্য বন্দী রাখার বন্দোবস্ত নেই। বরং পর্যটকদের কাছে দারুণ আকর্ষণীয় এক জায়গা এটি! রীতিমত সারাবিশ্ব থেকে মানুষ আসে এই গাছগুলো দেখতে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের সাভানুর নামক জায়গায় এমন তিনটি গাছের দেখা মেলে। ধারণা করা হয়, ভারতীয় বুশম্যানরা এখানে আস্তানা গেড়েছিলো এককালে।)

মান্ডু বা মাণ্ডব এতে  আরও অনেক উল্লেখযোগ্য সৌধ আছে ,
যেমন 
//নীলকণ্ঠ প্রাসাদ ও মন্দির,
//আন্ধেরি ও উজালা বাউড়ি,
//দাই কে মহল,
//দাই কি ছোটি বহেন কে মহল,
//সাগর তালাও,
//এক খাম্বা মহল,
//দারিয়া খান মাকবারা,
//হাতি মহল ইত্যাদি।

আমরা এর পরে গেলাম রূপমতীর প্যাভিলিয়ন।
মান্ডু থেকে মহেশ্বর প্রায় 40 কিমি রাস্তা।  নর্মদা নদীর পাড়ে শহর। বলা হয় রামায়ণ-মহাভারতে উল্লিখিত মহিষ্মতী আজকের মহেশ্বর।

নর্মদা নদীর পাড় ধরে একের পর এক ঘাট। ঘাট থেকে ধাপে ধাপে উঠে গেছে দুর্গ তথা প্রাসাদ।
দুর্গের মধ্যে রানি অহল্যাবাঈয়ের রাজগদ্দি,রানীর মূর্তিও আছে এখানে  ।এছাড়া এখানে আছে  পারিবারিক মিউজিয়াম ও অন্যান্য মন্দির । দুর্গের উপর থেকে নদী ও সংলগ্ন ঘাটগুলি দেখতে  বেশ সুন্দর লাগে । দুর্গের শহর প্রান্তের তোরণ পেরিয়ে তাঁতিদের ঘর, বোনা হচ্ছে বিখ্যাত মহেশ্বরী শাড়ি। এহানে শাড়ি বিক্রিও হয়।

এই মহেশ্বর থেকে মাত্র  60 কিমি দূরে ওঙ্কারেশ্বর। নর্মদা ও কাবেরী নদীর মিলন ঘটেছে এখানে। তৈরি হয়েছে দ্বীপ, দ্বীপে শিবের মন্দির। শিবের নামেই দ্বীপের নাম, ওঙ্কারেশ্বর, দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম। আর পাঁচটা তীর্থক্ষেত্রের মতো মন্দিরকে নির্ভর করে গড়ে উঠেছে শহর। মূল ভূখণ্ডের সাথে শহরের যোগাযোগ সেতুর মাধ্যমে । 

(শহরের ঘাট থেকে নৌকো নর্মদা পার করেও  পৌঁছনো যায় দ্বীপে।
দরদাম করে নৌকো ভাড়া করতে হয়।  নৌকোওয়ালার সঙ্গে কথা বলার আগে ভাল করে জেনে 
নিতে হয় মন্দির খোলা-বন্ধের সময়. কারণ, আরতি হওয়ার সময় বা মন্দির বন্ধের সময় নৌকোওয়ালারা দর্শনার্থীদের ব্যতিব্যস্ত করে তোলে, ভাড়াও বেশি চায়। ঠিক সময় জানা থাকলে  অযথা হয়রান হতে হয়  না।)

এর  পরেই পাহাড়ের উপরে  হিন্দোলা মহল::--

সিঁড়ি বেয়ে পাহাড়ের গায়ে তৈরি মন্দিরে পৌঁছতে হয় । বেশ ভিড় হয়। এমনটাই বিশ্বাস যে , পৌরাণিক কালে মান্ধাতার হাতে তৈরি এই মন্দির। বিশাল মন্দির কমপ্লেক্স। অবশ্যই পান্ডাদের উত্‍পাত আছে। অপরিসর গর্ভগৃহে স্বয়ম্ভূ শিব বিরাজমান। তবে সাবধানে পা ফেলতে হয় , ধাক্কাধাক্কি তো আছেই, আর পাথুরে মাটিও বেশ পিচ্ছিল। ছোট-বড় আরও নানা মন্দির আছে। দ্বীপের অন্যান্য আকর্ষণের মধ্যে আছে শঙ্করাচার্যের সাধনস্থল, মহাকালী গুহামন্দির, কোটি তীর্থ ঘাট ইত্যাদি।
তা ছাড়া, নর্মদা নদীর বুকে নৌকোবিহার ভাল লাগে।

মহেশ্বরে লজে থাকার বেশ ভালো ব্যবস্থা। 

এবার আমরা পৌঁছলাম ওঙ্কারেশ্বর।
  

ওঙ্কারেশ্বর----20/02/2010-----9 th day

নদীর উপর ইন্দিরা সাগর ড্যামের বিশাল জলাধার। সেখানে হনুবন্তিয়া গ্রামের প্রান্তে গড়ে উঠেছে মধ্যপ্রদেশ পর্যটনের টুরিস্ট কমপ্লেক্স এবং বোট ক্লাব। সাজানো মাঠ পেরিয়ে নদীর পাড়ে গুটি কয়েক কটেজ। পাশেই ডাইনিং হল। সব জায়গা থেকেই দেখতে পাওয়াযায়  বিস্তৃত নর্মদা নদী । নদীর বুকে ছোট ছোট কয়েকটি দ্বীপেও যাওয়া যায়। আগাম ব্যবস্থা করে ট্রেকিংয়ে যেতে পরাজয়  বোরিয়ামল দ্বীপে। বোট ক্লাব থেকে পাওয়া যায়  স্পিড বোট চড়ার সুযোগ।

বেশ  কয়েক বৎসর ধরে এখানে নিয়মিত অইন্দোর নুষ্ঠিত হচ্ছে জল মহোত্‍সব। টুরিস্ট কমপ্লেক্সের পাশে বিশাল মাঠে তৈরি হয় টেন্ট কলোনি। সেখানে বিলাসবহুল থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা। টুরিস্ট কমপ্লেক্সের মাঠে, বোট ক্লাবের পরিচালনায় নদীর বুকে অনুষ্ঠিত হয় নানা অ্যাডভেঞ্চার মূলক খেলা, রক ক্লাইম্বিং, হট এয়ার বেলুনিং, প্যারাসেলিং, ইত্যাদি। সন্ধেবেলা হয় নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। থাকে শিল্পমেলা, খাদ্যমেলার আয়োজন।

এখন থেকে গেলাম হনুবন্তিয়া!
 তারপরেই আনাদের  ফেরার পালা। আমাদের ট্রেনের রিজার্ভেশন ছিলো উজ্জয়িনী থেকে।
তাই আমরা উজ্জয়িনীতে ফিরে আসলাম।
আসবার সময়ে আবার পন্ডিত জি মানে ওঝা জির সাথে দেখা করে মন্দিরে প্রণাম করে
স্টেশনে এসে ট্রেন ধরলাম 20/06/2010 আমাদের দশ দিনের ভ্রমণ শেষ করে
আমরা এগারো  দিনের দিন 21/02/2010 ধানবাদে ফিরে আসলাম ।

                                                           <---©-আদ্যনাথ--->
                                                         【--anrc---2010--】
                                                          【=রাত্রি:01:08:22=】
                                                 【=বেলঘড়িয়া=কোলকাতা -56=】

=============================================================



Thursday, May 23, 2019

32>আলেক্সান্দ্রিয়া=Bulaq Press/Amiri Press


6th April 2019::--
সকালে গেলাম আলেকজান্দ্রিয়া কায়রো থেকে 230 কিমি দূরে, ভূমধ্যসাগরের দক্ষিণ উপকূলে।
এটি মিশরের পুরোনো একটি শহর।
খুব সুন্দর শহরটি সাজানো গোছানো।
গ্রীকরাজ আলেকজান্ডার 301 খ্রিস্টপূর্বে তৈরি করেছিলেন শহরটি।
দেখানে আছে রোমানদের সমাধিভূমি
ক্যাটাকম্ব কোম ( মাটির তলায় তিন তলার চার্চ)। চার্চের সামনেই 
সারকেফেগাস- কম-এল-সোকাফা
( Sarcofagaes-Kom-El-Shouqafa)
যেটি চতুর্থ শতকে নির্মিত।

পম্পেই পিলার (Pompei Pillar)
কম-এল-ডেক্কা সাইট ( Kom-El-Dekka site) দেখলাম।
তারপরে  হোটেলে নানান প্রমার সী-ফুড
খেলাম।( শামুক, ঝিনুক, অক্টোপাস, আরও নানান সব গুলোর নামও ভালোকরে জানানাই।

ভূমধ্যসাগরের উপমূলে নানান দোকান দেখতে দেখতে চা খেলাম।
সমুদ্র প্রান্তে ক্যাটবে সিটাবেল দুর্গ দেখলাম।
তারপরে গেলাম পৃথিবী বিখ্যাত 
বিবলিওথিকা লাইব্রেরীতে
 ( আলেকজান্দ্রিয়া)।
এখানে আনুমানিক দশ লক্ষ বই আছে।
এক বা দুই দিনে সমগ্র লাইব্রেরী ঘুরে দেখা সম্ভম নয়।


এতো কিছু দেখার পরে যে দেখা গুলি না দেখেও
গাইডের মুখে শুনেই স্তম্ভিত রোমাঞ্চিত হয়ে ছিলাম সেই গুলির একটু কথা লিখছি এবার---




C>আলেক্সান্দ্রিয়া==Bulaq Press/Amiri Pres +
আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর::----
                               <---©-আদ্যনাথ--->

( সামান্য  কিছু লিখছি কিছুটা
গাইডের কথায় কিছু দেখে শুনে  )

আলেক্সান্দ্রিয়া  হল মিশরের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং এই শহরেই মিশরের বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর অবস্থিত। আলেক্সান্দ্রিয়া উত্তর-পশ্চিম মিশরে ভূমধ্যসাগরের উপরে এবং নিচে প্রায় ৩২ কিলোমিটার (২০ মাইল) পর্যন্ত বিস্তৃত। এই শহরের মিশরের বিখ্যাত গ্রন্থাগার বিবলিওথেকা আলেক্সান্দ্রিয়া অবস্থিত। এটি শিল্প ও বাণিজ্য কেন্দ্র, কারণ এর সাথে সুয়েজহয়ে আসা প্রাকৃতিক গ্যাস এবং তেলেরপাইপলাইন রয়েছে। 
এই শহরটি গভর্ণর শাসিত এবং এ ধরনের শহরকে মিশরে মুহাফাজা বলা হয়।
এছাড়াও এখানে আছে অতি সুন্দর স্টেনলি সেতু,
মন্টাজা প্রাসাদ, কর্নিশ,  এল-মুরসি আবুল আব্বাস মসজিদ, কাইটবে সাইটাডেল
মন্তাজা প্রাসাদ

প্রাচীনকালে এই শহরটি বাতিঘর (প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি) এবং গ্রন্থাগারের(প্রাচীন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গ্রন্থাগার) জন্য বিখ্যাত ছিল।

সম্প্রতি আলেক্সান্দ্রিয়ার সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় সামুদ্রিক নৃবিজ্ঞান এর উপর ভিত্তি করে পরিচালিত গবেষণায় (যা ১৯৯৪ সালে শুরু হয়েছিল) আলেক্সান্ডারের আগমনের পূর্বে যখন এই শহরের নাম ছিল রাকোটিস সেই সময় এবং টলেমীয় রাজত্বের সময়ের আলেক্সিন্দ্রিয়া সম্বন্ধে নতুন অনেক তথ্যই পাওয়া যাচ্ছে।

আলেক্সান্দ্রিয়ার নামকরণ করা হয়েছে এর প্রতিষ্ঠাতা আলেক্সান্ডার দি গ্রেটের নামানুসারে। আলেক্সান্ডারের মৃত্যুর পর তার অন্যতম সেনাপতি টলেমী আলেক্সান্ডারের সাম্রাজ্যের এই অংশের অধিকারী হন। এটি ছিল মিশরের টলেমীয় শাসকদের রাজধানী এবং হেলেনীয়পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম শহর যা আয়তন এবং সম্পদে একমাত্র রোমের পরেই আলেক্সান্দ্রিয়ার স্থান
 ছিল। 
মিশরের মধ্যযুগীয় মুসলিম শাসকগণ যখন কায়রো শহরের গোড়াপত্তন করেন তখনই আলেক্সান্দ্রিয়ার পতন ত্বরান্বিত হয় এবং উসমানীয় রাজত্বের সময় এটি নিছক একটি ছোট জেলেপাড়া হিসেবে পরিগণিত হয়।

আলেক্সান্ডার দি গ্রেট আলেক্সান্দ্রিয়া নগরী প্রতিষ্ঠা করেন আনুমানিক ৩৩৪ খৃস্টপূর্বাব্দে। সঠিক তারিখ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। প্রতিষ্ঠার সময় এর প্রকৃত নাম ছিল Aleksándreia; ।
এই নগরী তৈরিতে আলেক্সান্ডারের প্রধান স্থপতি হিসেবে কাজ করেছেন রোড্‌সেরডাইনোক্রেট্‌স।

আলেকজান্দ্রিয়ার প্রাচীন গ্রন্থাগার

প্রাচীন বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাগার দ্য গ্রেট লাইব্রেরি অফ আলেকজান্দ্রিয়া, ও. ফন করফেন, ঊনবিংশ শতাব্দী

আলেকজান্দ্রিয়ার প্রাচীন গ্রন্থাগার বা আলেকজান্দ্রিয়ার রাজ-গ্রন্থাগার ছিল প্রাচীন বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাগারগুলির একটি।
এটি মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া শহরে অবস্থিত ছিল। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে মিশরের টলেমিক রাজবংশের পৃষ্ঠপোষকতায় একটি প্রধান শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে এই গ্রন্থাগারটি গড়ে উঠেছিল। ৩০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোমানদের মিশর আক্রমণের সময় পর্যন্ত এই গ্রন্থাগার কার্যকরী ছিল। গ্রন্থ সংগ্রহের পাশাপাশি এই গ্রন্থাগারে বক্তৃতাকক্ষ, সভাকক্ষ ও বাগানও ছিল। এই গ্রন্থাগার প্রকৃতপক্ষে ছিল মিউজিয়াম নামে এক বৃহত্তর গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অংশ। এখানে প্রাচীন বিশ্বের বহু বিশিষ্ট দার্শনিক পড়াশোনা করেছিলেন।

সম্ভবত টলেমি প্রথম সোটারের (৩২৩-২৮৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) অথবা তাঁর পুত্র টলেমি দ্বিতীয় ফিলাডেলফাসের (২৮৩-২৪৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) রাজত্বকালে এই গ্রন্থাগার পরিকল্পিত ও স্থাপিত হয়েছিল। এই গ্রন্থাগার ছিল মিশরের ঐশ্বর্য ও ক্ষমতার প্রতীক। সারা পৃথিবী থেকে বই ধার করে তার অনুলিপি তৈরি করা ও সেই বই গ্রন্থাগারে নিয়ে আসার জন্য এই গ্রন্থাগারে কর্মচারী নিয়োগ করা হত। অধিকাংশ বইই রাখা হয় প্যাপিরাস স্ক্রোলের আকারে। তবে ঠিক কতগুলি স্ক্রোল এই গ্রন্থাগারে রক্ষিত ছিল তা জানা যায় না।

এই গ্রন্থাগার পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল। যার ফলে বহু স্ক্রোল ও বই চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়। আলেকজান্দ্রিয়ার প্রাচীন গ্রন্থাগারের অগ্নিকাণ্ড তাই সাংস্কৃতিক জ্ঞান ধ্বংসের প্রতীক। প্রাচীন গ্রন্থগুলিতে এই অগ্নিকাণ্ডের সময় নিয়ে বিতর্ক দেখা যায়। কে এই অগ্নিসংযোগ ঘটিয়েছিলেন তা নিয়েও মতান্তর রয়েছে। 
তবে নানান সময় সংঘটিত পৃথক পৃথক অগ্নিকাণ্ডে আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগার সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয় ।

মূল গ্রন্থাগারটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ার পর, গবেষকরা আলেকজান্দ্রিয়া শহরেরই অন্য প্রান্তে সেরাপিয়াম নামে এক মন্দিরে একটি ছোটো গ্রন্থাগার ব্যবহার করতেন। কনস্ট্যান্টিনোপলের সক্রেটিসের মতে কপটিক পোপ থেওপিলাস ৩৯১ খ্রিস্টাব্দে এই মন্দিরটিও ধ্বংস করে দেন।
তবে এই গ্রন্থাগারের বিবরণ ইতিহাস ও কিংবদন্তির মিশ্রণই রয়ে গিয়েছে।

=========================..

Bulaq Press/Amiri Press

বলাক প্রেস / আমিরী প্রেস

অতি সাধারণ কাঠের লেটার যেগুলি
ব্যবহার হতো বলাক প্রেসে 1820তে।

আমিরী প্রেস/আমিরীয়া প্রেস কেই
বলাক প্রেস বলা হত।

যেহেতু এই প্রেস টি বলাক নামক স্থানে ছিলো তাই এমন নাম।
এটি কায়রোর বিশেষ প্রভাব শালী,জরুরি
এবং মূল্যবান তুর্কি ভাষার প্রেস।
============....=======.....===

আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর::----

সমুদ্রবন্দর থেকে বন্দরে প্রবেশ বা নির্গমণের ক্ষেত্রে 
দিক নির্দেশনা প্রদায়ী একটি বাতি ঘর।  
এই বাতিঘরটিকে প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের একটি হিসাবে বিবেচনা করা হয়। খ্রিষ্টপূর্ব ৩য় শতাব্দীতে মিশরের সম্রাট প্রথম টলেমি ফ্যারোসে দ্বীপে এই বাতিঘর তৈরি করিয়েছিলেন। এই বাতিঘরটিই আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর নামে খ্যাত। উল্লেখ্য প্রাচীন যুগে সমুদ্রপথে জাহাজ ঘনকুয়াশা কিংবা রাতের অন্ধকারে নাবিকরা পথ হারিয়ে বন্দরে পোঁছুতে পারতো না। এই অসুবিধার জন্য নাবিক এবং ব্যবসায়ীরা আতঙ্কগ্রস্ত থাকতো। এই অসুবিধা দূর করার জন্য ২৭০ খ্রিষ্টাব্দে ভূমধ্যসাগর উপকূলে আলেকজান্দ্রিয়া নামক স্থানে এই বাতিঘর স্থাপন করা হয়।

এই বাতিঘরটির মূল ভিত্তিভূমির আয়তন ছিল ১১০ বর্গফুট। এর বাইরে ছিল দেওয়াল উচ্চতা ছিল ৪৫০ ফুট। মূল স্তম্ভটিকে ঘিরে পেঁচানো সিঁড়ি ছিল। কোনো কোনো মতে, এই সিঁড়ির বাইরে দেয়াল ছিল। এ সিঁড়ি বেয়েই উপরে ওঠে ৪৫০ ফুট উঁচুতে রক্ষিত একটি বেদিতে বিশাল অগ্নিকুণ্ড জ্বালিয়ে দেওয়া হতো। রাত্রিবেলায় খোলা সমুদ্র প্রায় ৫০ মাইল দূর থেকে এই অগ্নিকুণ্ড দেখা যেতো।

১২০০ শতকে এক প্রচণ্ড ভূমিকম্পে বাতিঘরটি ভেঙে যায়। এখন এই বাতিঘর সম্পর্কে কিছু পুরানো লেখকদের রচনা থেকে জানা যায়।
( সংগ্রহ )
                                                                            <---©-আদ্যনাথ--->

==================


31>Catacombs of Kom el Shoqafa




P>Catacombs of Kom el Shoqafa
                          <---©-আদ্যনাথ--->

কম এল শোকাফার ধ্বংসাবশেষ:

কোম এল সোকোয়াফারের সমাধি হোল
আলেকজান্দ্রিয়ার সবচেয়ে অত্যাশ্চর্য স্মৃতিস্তম্ভ।
মধ্য যুগের সাতটি আশ্চর্যের মধ্যে একটি।
এটি একটি ভূগর্ভের নিচে বিশাল সবাধার।

কোম এল সোকোয়াফারের সমাধি হোল
আলেকজান্দ্রিয়ার সবচেয়ে অত্যাশ্চর্য স্মৃতিস্তম্ভ।
মধ্য যুগের সাতটি আশ্চর্যের মধ্যে একটি।
এটি একটি ভূগর্ভের নিচে বিশাল সবাধার।

এবং এটি  মিশরের  সেরা সংরক্ষিত ধ্বংসাবশেষ।
এই সমাধি শহরের পূর্বপাড়ে অতীত
মিশরের প্রথম শতাব্দীর AD এর নিদর্শন।

এই সবাধর্ টি আবিষ্কারের পৌরাণিক
অনেক গল্প কথা আছে।
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে একটি গাধা পাথর বোঝাই  একটি টাঙা গাড়ি টেনে নিয়ে যাচ্ছিল, হটাৎ গাধাটি একটি গর্তে পরে যায়।সেই গর্ত টি একটি মাটির গর্ভে কবরের সুরঙ্গ।
আরও একটি প্রচলিত কাহিনি আছে,
মসিউর এস-সাঈদ আলী গিবিয়া নামে এক মানুষ যিনি এক দিন এলাকার মিউজিয়ামের     অধিকারীকে  জানায়  যে সে মাটির নিচে একটি কবরের সন্ধান পেয়েছেন এটি একটি ভূগর্ভস্থ কবর।
প্রথমে মিউজিয়ামের অধিকারী গণ এহেন
খবরকে উপেক্ষা করেন এবং সন্দেহজনক বলে মনে করেন।
কিন্তু অচিরেই তাদের  নির্বুদ্ধিতার জন্য নিজেরাই দুঃখ প্রকাশ করেন।
 প্রকৃতপক্ষে একটি তাদের জীবনকালের আবিষ্কার ছিল।

এখন কথা হল এই আবিষ্কারের সুনাম কে পাবে ওই গাধা নাকি মসিউর এস-সাঈদ আলী গিবিয়া?
সে যেই এই আবিষ্কারের সুনাম পাক
আমাদের উদ্দেশ্য কেবল এই
কম এল শোকাফা দেখা ও এর সমন্ধে কিছু
অজানা তথ্য জানা।
কম এল শোকাফার ক্যাটাকোমব এক
বৃহত্তম সমাধি যেটি গ্রীক-রোমান যুগের অনুরূপ যেটি আবিষ্কৃত হোয়েছে। প্রাচীনকালের একটি বিশেষ আকর্ষণীয় শহর
আলেকজান্দ্রিয়াতে।
এটি ভূগর্ভে লুকন শতাব্দীর জন্য কবর টানেল ছিলো। এইটি বিভিন্ন প্রাচীন শিল্প ও সংস্কৃতির একটি মিশ্রন।
কবরটির প্রবেশ দ্বার গড (God) দ্বারা সুরক্ষিত থাকতো।

( Alexander the Great. 331 খ্রিস্টপূর্বাব্দে প্রতিষ্ঠিত,করেছিলেন আলেকজান্দ্রিয়া
সম্ভবত সবচেয়ে বিখ্যাত ঐতিহাসিক যুদ্ধের পরে আলেকজান্দ্রিয়া তার নাম বাছাই করেছিল ইতিহাস যার সাক্ষী হয়েছে,
  আলেকজান্দ্রিয়া শহর হিসাবে একটি বিশিষ্ট
 শক্তি, সংস্কৃতি, এবং জ্ঞান কেন্দ্র হয়ে ওঠে )


কম এল শোকাফার ক্যাটাকোমব কার্য্য কর
ছিলো দ্বিতীয় শতাব্দীর কাছাকাছি সময়ে। এমন অক্ষত  সাক্ষী থাকার নির্দশন খুব বেশি নেই যা  তৎ কালীন মিসরীয়,গ্রিক,রোমান  এই তিন সভ্যতার মিশ্রণের নিদর্শন।
এই কবরটি সম্পুর্ন রূপে একটি আদর্শ
কবর। আলেকজান্দ্রিয়া এহেন স্থাপত্যের
জন্য নিজেদের গর্ভ প্রকাশ করতেই পারে।

কম এল শোকাফার নামটি প্রাচীন গ্রিক থেকে উদ্ভূত হয়,অনুবাদক "শাডোদের ঢাল"
এলাকাটি ছিন্নভিন্ন মৃৎশিল্পের পাইলস ধারণ করতে ব্যবহৃত হয়েছিল বা সাধারণত এখানে যারা সমাধি পরিদর্শন করতেন তাদের  দ্বারা আনা ওয়াইন পান বা খাবার খাবার জন্য ব্যবহৃত হত।
এটি, মিশরীয়  রোমান এবং গ্রিক সংস্কৃতির শৈলীতে নির্মিত।
কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ করে যে এটি বোধ হয় একটি পরিবারের কবরের জন্য ব্যবহৃত হত।
কিন্তু পরে একটি বড় কবরস্থান হিসাবে বর্ধিত করা হয়েছিল, কারণ গুলি অজানা।
অবশ্যই, শুধু যে আলেকজান্দ্রিয়া তে ই
এহেন কবর নির্মিত হয়েছিল তাকিন্তু নয়।

  তাই যে কম এল শোকাফা একমাত্র ধ্বংসাবশেষ নয়।
 অনেক বেশি কবরস্থান নেকোপোলিসের অংশ ছিল,তথাকথিত যাকে বলা হয় মৃতের শহর,
সেগুলি ছিলো শহরের পশ্চিম  দিকে।

কম এল শোকাফার একটি ফানেলের আকৃতি
বিশিষ্ঠ 18ফুট বিস্তারিত  ভূগর্ভের নিচে
সবাধর।
শবদেহ উপর থেকে নিচে রোপ ও কপিকলের
( পুলি) র সাহায্যে নামানো হত বা ওঠানো হত।
এইটি বিভিন্ন বয়সের আকর্ষণীয় মিশ্রণ  উৎসর্গের অঙ্গীকার ,মিসরীয় ও রোমানিয় মৃতদের সাথে।

 ভাস্কর্যশিল্পঅলংকৃত শিলালিপিসমন্বিত প্রস্তর শবাধার।  এর উপরের অংশে বিশেষ কিছু নাই।কিন্তু এখান দিয়েই ভিতরে প্রবেশের পথ।
মাঝের অংশটি গ্রিক টেম্পেলের অনুরূপ
 এবং এখানে কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়।
যেখান দিয়ে ভুগর্ভস্থ সমাধিক্ষে ত্রের শেষ প্রান্তে পৌঁছবার ধাব গুলি এবং প্রতি দুটি পিলারের মাঝে সমাধির "প্রোনাস " আছে।


 20 শতকের শুরুতে মাটি খুঁড়ে তোলা "প্রোনাসের"মাঝে র প্রকোষ্ঠের মনো মুগ্ধকর কারু শিল্প একই সময়ে সঙ্ঘটন
স্ত্রী ও পুরুষের জটিল মূর্তির চিত্র অঙ্কন প্রকট আসল ভাড়াটেদের সমাধি চিহ্নিত করে।
যদিও শরীর গুলির চিত্রায়ন ও বক্রতা  ঠিক যেন মিশরীয়দের অনুরূপ, পুরুষ মানুষ গুলির মাথা গ্রিকের  অনুরূপ ।
ঠিক তেমনি ভাবে স্ত্রী লোকের মাথা নিচে করা
রোমানদের মতন।

আর একটি জটিল সমাধান এই মাঝের অংশে দুটি সাপ যার কল্পনানুসারে গ্রীকের
নির্দেশ করে।যাকে বলা হয় "Agathodaimon'" অথবা শুভ আত্মা।
সে যাই হোক এগুলো খুবই হৃদয় আনন্দ দায়ক। যে সর্প যুগল সুশোভিত  ঠিক যেমটা দেখাযায় রোমান ও মিশরীয়
সংস্কৃতিতে।
আর একটি বিস্ময়কর স্তম্ভিত করার মতন
চিত্রাঙ্কন তা হোল এই সাপেদের মাথার অপরে
অঙ্কিত জেলি - মাছ ( Medusa ). যেটির নির্দেশ করে গ্রীক পুরাণের এক কুখ্যাত
নিদর্শন , যার দ্বারা বুজতে পারাজয় যে ওই
"Medusa" শবাধারকে  রক্ষ্যা করে চলেছে
অনধিকার প্রবেশকারী ও বহিরাগত যে কোন
 অনুপ্রবেশকারীদের থেকে।
শুরুতে মাঝের অংশই কেবলমাত্র একটি
" U"- এর আকারে দালান।কিন্তু এইস্থানে অধিক মৃত ব্যক্তির সমাধি হবার কারনে,
কিছু জটিল ব্যবস্থার মাধ্যমে রুপান্তরিত করে
স্থানান্তরিত করা হয় আরো কক্ষ এবং আরো হল গঠিত করে।
মাঝের অংশের স্তরের তলদেশে ক্যাপসুল
সংযোজন করা হয়ে ছিলো।
প্রাচীন বিশ্বের যেগুলি হারিয়ে গেছে।

দুর্ভাগ্য বসত এই অংশটি জলে ডুবে গিয়েছে,
ফলে দর্শকেরা জানতেও পারেনা যে এখানে কি ছিল।

ঐতিহাসিক গণ মনে করেন যে এগুলি
বিত্তবান মানুষ তাদের বংশের সমাধি হিসাবে ব্যবহার করতো।
মনে করা হয় যে এই ফেমিলি গুলি প্রাচীন পৌত্তলিক ধর্মালম্বি।
 অতি শিগ্রই  এই সমাধি গুলি একটি বরো সমাধি সাইট হয়ে ওঠে।
এই  কম এল শোকাফার ধ্বংসাবশেষ
প্রাচীন মিশরের পৈত্তলিক ধর্মীয় বিশ্বাসের
শেষ প্রধান কাঠামোর একটি
উপরুন্ত এগুলি, সরাসরি প্রভাব লক্ষিত হয়
এখানে উপস্থিত অন্যান্য অনেক সংস্কৃতি অসাধারণ স্থাপত্যে ।
এগুলোকে সমাধি বলার এক মাত্র কারণ
একই প্রকার সমাধি ছিলো খ্রীষ্ট ধর্মালোম্বি
রোমানদের।
সেখানে  তিন স্তর বিশিষ্ঠ কবর ছিল। মিশরীয়,গ্রিক,এবং রোমান স্থাপত্যে সহ  বিভিন্ন প্রকার স্থাপত্য ছিল।
স্তর গুলি শিলা মধ্যে উত্কীর্ণ এবং
একটি সিঁড়ি এবং একটি রোটুন্ডা।
এখানে আছে একটি পার্শ্বকক্ষ,
একটি কবর কক্ষ,একটি চাঁদনি।
কবর কক্ষ্যের মধ্যে তিনটি ভাস্কর্যশিল্পঅলংকৃত শিলালিপিসমন্বিত
প্রস্তর শবাধার।
সমাধি কক্ষ্য গুলি খুব ভাল সংরক্ষিত এবং

অনুরূপ ভাবেই থাকত যেভাবে তারা অনেক শতাব্দী আগে করে রেখে ছিল।
কিন্তু নিচের স্তর গুলি এখনো উপসাগরীয় জলের মধ্যে ডুবে আছে।
সেখানে 99 ধাপ সহ একটি সর্পিল সিঁড়ি আছে যেটি একটি খাদের  মধ্যে গেছে।
এই খাদ ব্যাবহার হোত মৃত দেহ উপর
থেকে নিচে রোপের সাহায্যে অখ্যাত ভাবে নামানোর জন্য,কোন প্রকার ক্ষয় ক্ষতি ছাড়া।
সিঁড়ির পরেই আছে চাঁদনি।
এই জায়গাটি দর্শক দের উপর থেকে নিচে সিঁড়ি দিয়ে আসার পরে বিশ্রামের  জন্য।

রোটুন্ডা টি দ্বিতীয় তলে একটি গোলাকার বিশালাকার হল বিস্তৃত দেওয়াল উপরের
ডোম পর্যন্ত।
এই ডোম টি পিলার দিয়ে সাপোর্ট দেওয়া।
এই খাদটি প্রথম তালা থেকেই দেখাযায়।
পাঁচটি পাথরের হাত পাওয়া গেছে রোটুন্ডার
নিচে, যেগুলো জাদুঘরে রাখা আছে।
ইউ ( U )আকৃতির ট্রীক্লিনিয়াম অথবা
ভোজ ঘরে তিনটি বেঞ্চ আছে যেগুলি
পিলার দিয়ে সাপোর্ট দেওয়া।
মোজাইক করা ফ্লোর সিলিং টি শেলের
মতন অলঙ্কৃত।
এই স্থান টি অতিথিদের বিশ্রাম ও খাবার
খাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট।

তথাপি এমনটার কোন সন্দেহ নাই যে Kom el Shoqafa একটি বিশেষ সংরক্ষণ কেন্দ্র,
প্রাচীন মিশরের ধ্বংসাবশেষ নিদর্শনের,
 সমৃদ্ধ মিশ্রণ ছিলো যা সমৃদ্ধ করেছে তৎ কালের সংস্কৃতির।
তাই এটি একটি প্রাচীন সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধর উপযুক্ত নিদর্শন।
এটি অতি অতীতের এক নিদর্শন যা সত্যই
একটি মধ্য যুগের সাতটি বিস্ময়কর নিদর্শনের
একটি।
                                           <---©-আদ্যনাথ--->


===================



Tuesday, May 21, 2019

30>|| রোমান থিয়েটার আলেক্সান্দ্রিয়া ||


J>|| রোমান থিয়েটার আলেক্সান্দ্রিয়া ||
                         <---©-আদ্যনাথ--->


The Roman Amphitheatre
Alexandria
রোমান অ্যামি্পথিয়েটার আলেক্জান্দ্রি়া
Alexandria in Kom El Dekka
কম এল ডেক্কা।

আলেক্জান্দ্রি়ার রোমান অ্যামি্পথিয়েটার
একটি বিশেষ জনপ্রিয় স্মৃতিসৌধ।

এহেন অ্যামি্পথিয়েটার  বিভিন্ন দেশেই আছে
যেমন গ্রিসে,ইতালিতে, তুর্কি তে,তৈরি হয়েছিল
রোমানদের শাসন কালে।
রোমান টিয়েটারের অস্তিত্ব একনও আছে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে ।
কিন্তু আলেক্জান্দ্রি়ার রোমান অ্যামি্পথিয়েটার এক বিশেষ শৈলীতে গঠন
একমাত্র মিশরে।

The Meaning of the Word Kom EL Dekka
কম এল ডেক্কার অর্থ।
এটি আরবীয় ভাষায় যাকে বলাহয়
পাথরকুঁচি র পাহাড়। বা বেঞ্চ পাহাড়।
এই নামকরণ করেছেন বিখ্যাত ঐতিহাসিক
এল নিওয়ারি 20 শতকের শুরুতে।

19 শতকের শেষের দিকে এল নিওয়ারি
যখন মামুদিয়া কেনেল টি খনন করছিলেন তখন তিনি আবিষ্কার করেন
এই পাথর কুঁচির পাহাড়।

Discovering the Roman Amphitheatre

রোমান থিয়েটার বা আলেক্জান্দ্রি়ার  রোমান অ্যামি্পথিয়েটারের আবিষ্কার::-

1960 সালে শুধু মাত্র নিছক কাকতালীয়
ভাবে আবিষ্কৃত হয়েছিলো এই টিয়েটার ।
কম এল ডেক্কা অঞ্চলে গভর্মেন্ট এর কিছু
কনস্ট্রাশনের কাজের জন্য কাজের লোকরা কিছু জায়গার ধুলোর গাদা ও বালু
পরিষ্কার করতে গিয়ে তারা কিছু শক্ত পিলারের মতন মাটির নিচে প্রোথিত আছে
বলে মনে করেন।
তারপরেই  সেই স্থানে খনন কার্য্য শুরু হয়,
কম এল ডেক্কাতে।
এই খনন কার্য টি করে রোমান মিউজিয়াম ও
স্থানীয় পুলিশ ।
খনন কার্যের তত্ত্বাবধান করে ইউনিভার্সিটি অফ ওয়ার্সও। অতি শীঘ্রই
প্রকাশিত হয় মিশরের 20 শতকের বিশেষ গুরুত্ব পূর্ণ আবিষ্কার
আলেক্জান্দ্রি়ার রোমান অ্যামি্পথিয়েটার ।

এই থিয়েটার সপ্তম শতাব্দী পর্যন্ত সকল ছিলো।নানান অনুষ্ঠান, ড্রামা,মিজিক,
প্রভিতি অনুষ্ঠিত হতো।
এবং এই থিয়েটার রোমান, বাইজেন্টাইন,ও
প্রাথমিক ইসলামী যুগে সচল থাকার
বিভিন্ন প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এই দীর্ঘ কাল যাবৎ এই থিয়েটার  বিভিন্ন প্রকারের অনুষ্ঠান গুলি সু সম্পন্ন
করে চলে ছিলো।

 এটি একটি odeum হিসাবে ব্যবহৃত হতো
যেখানে বাদ্যযন্ত্র শো পরিবেশিত হত
রোমানদের সময়ে।
এই থিয়েটারে সকল উপাদান ছিল তার
নিখুঁত কর্মক্ষমতা নিমন্ত্রণকর্তা গম্বুজ যা
একনো এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে সেই
সেই অর্কেস্ট্রা অধ্যায় এক্ষুনি পরিবেশিত হতে চলেছে।
অন্য দিকে বাইজেন্টাইন কালে এটি ব্যবহৃত  হতো বিভিন্ন  সম্মেলন
কেন্দ্র হিসাবে।
যেমন জরুরি কোন  সভা যেমন জন সাধারনের সমাহারগুলি এবং
গভর্মেন্ট এর শীর্ষ-বৈঠক গুলি এখানেই অনুষ্ঠিত হতো।
 কিন্তু ইসলামিক সময়ে এটি অবহেলিত হোয়ে পরে।
ফলে ধীরে ধীরে এটি ভূগর্ভে বলি মাটি চাপা পড়ে মানুষের চকের আড়ালে
 চলে যায় ,যতদিন না পুনরায় নূতন ভাবে এই মহান  অবিশ্বাস্য ঐতিহাসিক সাইট
আবিষ্কৃত পর্যন্ত।
এই রোমান অ্যামি্পথিয়েটার
20 শতকের আলেকজান্দ্রিয়া শহরের ঐতিহাসিক স্থানগুলির মধ্যে একটি।

 Amphitheater এর কিছু বর্ণনা::-

 আমরা যেমন দেখেছি সেই টুকুই লিখবার চেষ্টা করছি।
আমরা যে স্টেডিয়ামে আজ দাড়িয়ে
ভীষণ এক আনন্দের অনুভূতি দোলে দুলছি
সেই অপূর্ব থিয়েটার টি চতুর্থ শতাব্দীতে নির্মিত হয়ছিল।
গ্রিক রোমান কালে যার  একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিল।
Amphitheaters বিশেষ ছাদ থিয়েটার ছিল।

সেখানে মিশরিয় রোমানদের রাজত্ব কালে, নিয়মিত নিমন্ত্রিত ও অনুষ্ঠিত হত
সঙ্গীত অনুষ্ঠান,কবি প্রতিযোগিতা, প্রভীতি
নানান অনুষ্ঠান।
এই থিয়েটারের বৈশিষ্ট্য ছিল এখানে একটি
একটি মার্বেলের দর্শক অধ্যায় ছিলো।
যেটি বর্ধমান উইংএর সমান।
এখানে  600 জন মাননীয় দর্শকদের হোস্ট করা হত।
এবং দর্শক আসন 33 মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত
অর্ধ গোলাকারে 13টি সারি আসন ছিলো।
সম্পুর্ন আসন গুলি ইউরোপিয়ান সদা মার্বেলের ।
সকলের উপরের সারিতে সবার উপরে
একটি বারান্দা যেটি গ্রানাইট পাথর দিয়ে তৈরি এবং কোটি পিলার যে পাথর গুলি
আসোয়ান মিশর থেকে আনা হয়ে ছিলো।
সেই পিলার গুলির কিছু এখনো অক্ষত অবস্থায় আছে।
আমরা দেখলাম যে সুন্দর ভাবে
13টি সারিতেই রোমান হরপে নম্বর অঙ্কিত করা আছে।
দর্শক আসনে আরও পাঁচটি ভাগ বা চেম্বার আছে সেকানে বিশেষ গণ্য মান্য
অথিদের জন্য সংরক্ষিত।
এই বিশেষ চেম্বারের ছাদ টি গ্রানাইড পাথর দিয়ে  এমন ভাবে তৈরী যাতে
দর্শকদের রুদ্রু বা বৃষ্টি না লাগে।
এছাড়াও এই আসন গুলিতে সাউন্ড বাক্স আলাদা করে থাকে যাতে করে দর্শক রা
ভালো করে শুনতে পারে।
কিন্তু দুর্ভাগ্যের কারণে এই ছাদ গুলি ভেঙ্গে গেছে ভূমি পাম্পের কারণে।
যে ভূমি কম্পটি হয়েছিলো আলেক্সজান্ড্রিয়াতে ষষ্ঠ শতাব্দী AD তে।
ফলে তখনকার দিনের অনেক কিছুই ধ্বংস হয়ে গেছে।
তখনকার বিখ্যাত আলেক্সজান্ড্রিয়ার লাইট হাউস টি ও ধ্বংস হয়ে গেছে।
এতো ক্ষয় ক্ষতির মধ্যেও থিয়েটার টির দেওয়ালের কোন ক্ষতি হয় নি।
কারণ এই দেওয়াল গুলি লাইম স্টোনের হলেও একটি দেওয়ালে পেছনে
আর একটি দেয়াল সাপোর্টে আছে। এমনটাই দ্বিতীয় ও চুতুর্থ শতাব্দীর
গঠন কার্যের  বিশেষত্ত্ব।
সম্পূর্ণ স্টেজ টি ইংরেজি " C " অক্ষরের ন্যায় তৈরী ,যাতে করে সকল দর্শক
ধিক ভাবে বসতে, দেখতে, ও শুনতে পারে।
পুরো থিয়েটার টির ঠিক মাঝখানে থাকতো অর্কেস্ট্রা যেখান সম্পূর্ণ মিউজিক
পরিবেশিত হতো।
এই অংশ টি দুটি বিশাল মার্বেল পাথরের স্তম্ভ দিয়ে সুরক্ষিত।
থিয়েটারের   সম্পূর্ণ মেঝেটি মোজাইক পাথর দিয়ে পালিশ করা সুন্দর ভাবে।
মোটের উপরে সম্পূর্ণ থিয়েটার টি অতি মনোরম ভাবে সু সজ্জিত।
প্রাচীন আলেক্সজান্ড্রিয়ার এক গর্ভকরার মতন শহর ও দর্শনীয় স্থান।
বর্তমানে আমেরিকান গবেষণা কেন্দ্র এই থিয়েটারের উত্তর দিগে যেকানে প্রচুর
পরিমানে ইটের টুকরো জমানো ছিল ঠিক সেই স্থানে একটি স্নানাগার খুঁজে পায়।
এবং একটি বাড়ির ধ্বংসাবশেষ পায় যেটি নাম দিয়েছে " পাখির ভিলা " , কারণ
এই বাড়িটির মেঝে এমন সুন্দর মোজাইক করা যে দেখে মনে হয় বিভিন্ন আকারের
নানান পাখি উড়ে চলেছে।
প্রতিটি পাখি আলাদা আলাদা জ্যামেতিক আকারে সজ্জিত।
সেই কারণে গবেষ গণ মনেকরেন বর্তমানের আবিষ্কারের মধ্যে এটি একটি
শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার।     
                                                                              <---©-আদ্যনাথ--->

============================================================

Thursday, May 16, 2019

29>|| টুটানখামুনের সমাধিতে রাণী নেফারতিতির গোপন কুঠুরি

29>|| টুটানখামুনের |সমাধিতে রাণী নেফারতিতির গোপন কুঠির।                           <---©-আদ্যনাথ--->


প্রাচীন মিশরের মানুষ বিশ্বাস ছিলো মানুষের মৃত্যুর পর আত্মা পুনরায় দেহে ফিরে আসে।
তাই সেই দেহ যাতে নষ্ট না হয়ে যায় সে জন্য তারা এক বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করতো।
এই বিশেষ পদ্ধতিটিই হলো মমি। 
মমি নিয়ে সব সমস্যার সমাধানের  জট এখনো পুরোপুরি খোলা যায় নি। অনেক মমি নিয়েই আছে অনেক রহস্যময় কাহিনী। তবে সবচেয়ে বেশি রহস্য যে মমিটিকে ঘিরে আছে তা হলো ফারাও রাজা তুতানখামেনের মমি।
সব থেকে আচর্যের বিষয় এটাই যে তুতানখামেনের  কবরের  খোজে পাওয়ার আগে তুতেনখামেন  সকলের  কাছে অপরিচিত ছিল কারণ মিশরে তার কনো চিহ্ন ছিল না। তার কবরের দেওয়ালে আকা ছবি গুলোতে তাকে দেখা যায়  একজন শিকারী হিসেবে, একজন রাজা যুদ্ধের মায়দানে, একজন মানুষ যে তার স্ত্রী সেনামুন এর গভীর প্রেমে পরে ছিল এবং সেনামুনের ও একই অবস্থা ।
সেনামুন ছিল নেফেরতিতির মেয়ে। তুতানখামেনের হঠাৎ মৃত্যুর কারণ কেউ জানে না।
এই তুতানখামেন হঠাৎ করে এতো পরিচিতি বিস্তারের কারন মিসরের সকল ফারাও দের মধ্যে
সর্ব কনিষ্ঠ শাসক ছিলেন এবং তুতানখামেনের অভিশাপ।

তুতানখামেনের অভিশাপ এক বিচিত্র  কাকতালীয় গল্প কথা।  

তার মমিকে যে ই বিরক্ত করবে তার নাকি মৃত্যু অনিবার্য।
এই বিশ্বাসটা গাঢ় হওয়ার পিছনে রয়েছে অবিশ্বাস্য কিছু ঘটনা।
মিশরে যে কয়েকজন  ফারাও রাজত্ব করেছেন তাদের মাঝে 
কনিষ্ঠতম শাসক ছিলেন তুতানখামেন।
কিশোর বয়সেই মিশরের সম্রাট হয়ে যাওয়ার
কারনে তাকে  নিয়ে অনেক রহস্যের গল্প শোনা যায়।

মিশরের প্রত্নতত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন, রাজা টুটানখামুনের সমাধিতে তারা এমন একটি গোপন কুঠুরি থাকার প্রমাণ পাচ্ছেন যেখানে হয়তো রাণী নেফারতিতির কবর ছিল।
সকলের ধারণা যদি সত্যি সত্যি এরকম এক গোপন কুঠুরি খুজে পাওয়া যায় সেটা হবে শতাব্দীর সবচেয়ে বড় আবিস্কার।
লাক্সারের এই অত্যন্ত প্রাচীন স্থানটিতে এখনো খোজ চলছে ।
নীল নদীর তীরে বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী যে সভ্যতা গড়ে উঠেছিল একটা লম্বা সময় ধরে তা শাসন করেছেন রাণী নেফারতিতি এবং তার স্বামী ফারাও আখেনাটেন।
রাণী নেফারতিতি ছিলেন অসম্ভব সুন্দরী।
কারও কারও ধারণা টুটানখামেন হয়তো রাণী নেফারতিতির সন্তান ছিলেন। 1922 সালে
টুটানখামেনের দেহাবশেষ খুঁজে পাওয়া যায় । এর প্রায় তিন হাজার বছর আগে
মাত্র 19 বছর বয়সে তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হয়।

তুতানখামেন (খ্রিস্টপূর্ব 1341 - 1323) ছিলেন মিশরীয় অষ্টদশ রাজবংশের ফারাও
(খ্রিস্টপূর্ব 1333 - 1324)। এই সময়কাল মিশরীয় ইতিহাসে নতুন রাজ্য নামে পরিচিত ছিল।
তার আসল নাম তুতানখাতুন,  অর্থ "আমুনের জীবন্ত ছবি"।
প্রায়ই তুতানখামুনের নাম লেখা হতো "আমেন-তুত-আনখ", শব্দে প্রকাশ করার শুরুতে
দেবতার নাম রাখতে কিছু লেখার ব্যবহার করা হতো।
এটি সম্ভবত শনাক্ত করা হতো আমারনার চিঠি, নিবহুররেরেয়া-এর সঙ্গে,
এবং সম্ভবত অষ্টদশ রাজবংশের রাজা রাথটিসনামের সঙ্গে,
যে প্রাচীন ইতিহাসবিদ মানেটনেরমতে, নয় বছর রাজত্ব করেছিলেন
তার জনগণরা তাকে অর্ধেক মানুষ এবং অর্ধেক দেবতা মনে করতো।

কায়রোর মিশরীয় জাদুঘরে তুতানখামেনের মমির মুখোশ, প্রাচীন মিশরের
একটি জনপ্রিয় অতূলনীয় ভাস্কর্য। বলা হয় যে, এর মূল্য রত্নের মুকুটের সমান।
সঙ্গী আঙ্খেসেনামুন ছেলে-মেয়ে দুই জন  (সম্ভবত, উভয় মেয়ে, নামগুলো অজানা)
পিতা আখেনাতেন। মাতা  "অল্পবয়সী নারী"তার খ্যাতি ঢাকা আছে তার কবর দ্বারা, 
হাওয়ার্ড কার্টারের  নেতৃত্বে  এবং সহযোগী  জোজ হেরব্যট এর মধ্যেমে 1922 সালের 4ঠা নভেম্ব আবিষ্কার করেছিল তুতানখামুনর  কবর।
তুতানখামেন হঠাৎ মারা গিয়েছিল এবং তার হাড় গুলোতে অনেক ফাটল ছিল।
হাড় গুলি যখন  এক্স রে করা হয় তখন দেখা যায় যে তার মাথার পিছের অংশে আঘাতের চিহ্ন।
আর একদল গবেষোক সিদ্ধাতে পৌছায় যে তাকে হত্যা করা হয়েছিল যদিও  তা প্রমানিত  হয়নি।
সাম্প্রতিক প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার অনুসারে, তুতানখামেনের বাবা আখেনাতেন।
তুতানখামেন হয়তো আখেনাটন এবং রানী নেফেরতিতি এর পুত্র ছিল।

অন্য একটি অনুমান, তুতানখামেন আমেনহোতেপ IIIএবং রানী টইয়ি এর পুত্র ছিল (অতএব আখেনাটন এর ভাই)
আরও নানান গবেষণায়  অনুমান নিশ্চিত করেছিল যে, তুতানখামেন আখেনাটন এবং কিয়া এর পুত্র ছিল।
  
তুতানখামেনের অভিশাপের্ গল্প --
তুতানখামেন এখনো সবাইকে মুগ্ধ করে। তার কবর যে ঘরে পাওয়া গিয়েছে তার পাশের ঘরে, যেখানে তার ধন সম্পদ ছিল, সেখানে তার কবর আটকানো জন্য যে সিল মোহর ব্যবহার করা হয়েছিল সে সিল মোহর পাওয়া গিয়েছে এবং তার উপর লেখা ছিল তুতানখামেন। তা আবিস্কার করেছে প্রফেসর হাওয়ার কারটারএবং অন্য গুলোর মধ্যে লেখা ছিল তুতানখামেন।  "হাওয়ার কারটার" তুতানখামেনের কফিনেট খোলে, তার ভিতর আরো তিনটা কফিন সে খুজে পায়। এর মধ্যে দুইটি কফিন কায়রো জাদুঘরে আছে। কবরে ভিতর 5398 টি হাতের কাজ করা জিনিষ পাওয়া গিয়েছে।

 তুতানখামেনের কবর আবার খোলা হয়, কারণ তার
মৃত্যুর 1000 বছর পরও যে কবর পাওয়া গিয়েছে সে গুলো এই কবরের সাথে সম্পক যুক্ত।
 নভেম্বর 1922, ব্রিটিশ ভূতাত্ত্বিকবিদ প্রোফেসর হোওয়ারড কাটার আবিষ্কার করেছিল রাজাদের কবর। এই আবিষ্কারটি ছিল অসাধারণ। যখন শ্রমিকরা দামী হাতের কাজ গুলো কবর থেকে উদ্ধার করছিল, তখন তারা কবরকে যে অপবিত্র করেছে তার ফলাফল কি হবে তার ভয় করছিল।
তুতানখামেনের কবরে কাজের সময় হোওয়ারড কাটারের সাথে কানারি ছিল। যে দিন হোওয়ারড কাটার এবং কারনামুন তুতানখামেনের কবরে ঢুকে শ্রমিকরা কানারি কে মৃত দেখে। তারা একে শ্রমিকরা ভাল দিক বলে মনে করে। বলা হয় কানারি কোবরা সাপের কামড়ে কারণে মারা গিয়েছিল। কোবরা সাপ হচ্ছে ফেরাউনদের মুখোসের শিখরের প্রতীক। এখান থেকে শুরু হয় তুতানখামেনের অধিশাপ। একজন লন্ডন টাইসএর বক্তব্যকারী ঘোষনা করেন  ফেরাউনের অধিশাপ আঘত করেছে বলে। কাকতালীয় ভাবে কবরের কক্ষ খোলার ছয় সপ্তাহ পর লর কারনারভন তার হোটেলের ঘরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। পরে একে একে মরতে শুরু করেছে যারা কবর খোরার কাজে কোন এক ভাবে জরিত ছিল। কারনারভন এর ভাইয়ের রক্তে বিষ পাওয়া গিয়েছে। আমেরিকার জাইগুড  রেল লাইনের ইম্মানিয়াতে, ফ্রান্সেস জজ বেনেদিত এরা কবর দেখতে গিয়েছিল। এই ভাবে তুতানখামেনের অভিশাপের জন্ম হয়। পরের বছর গুলোতে এর একটি যুক্তি সংগত ব্যাখ্যা দিতে চেয়ে ছিল। সে চিন্তা করেছে তুতানখামেনের অধিশাপের জাদু নয় জীবণু। যখন তারা কবরে ঢুকেছিল তখন হাজার বছর পুরানো জীবণু যা অন্ধকারে ছিল তা আলো পেয়ে আবার জেগে উঠে। এই তত্ত্ব ঠিক কি না তা পরীহ্মা করার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে জীবণুবিদরা আসেন।

খ্রিস্টের জন্মের প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর আগে মিশরের সিংহাসনে ছিলেন ফ্যারাও চতুর্থ আমেনহোটেপ | যিনি পরিচিত আখেনাতেন নামেও | তাঁর এক রানি হলেন সুন্দরী নেফারতিতি | ঐতিহাসিকরা বলেন‚ প্রথমে স্বামীর সঙ্গে যৌথভাবে‚ পরে স্বামীর অবর্তমানে একাই সাম্রাজ্য শাসন করতে থাকেন এই রানি | পুরুষতান্ত্রিক মিশরীয় সমাজে তিনি রীতি অনুযায়ী পুরুষ-নাম নেন | সেই নাম সম্ভবত নেফারনেফেরয়াতেন বা স্মেনখকারে | রহস্যময় ফ্যারাও নেফারনেফেরয়াতেন বা স্মেনখকারে মিশর শাসন করেন চতুর্থ আমেনহোটেপের পরে এবং তুতানখামেনের আগে | কোনও কোনও ঐতিহাসিক বলেন‚ এই ফ্যারাও আসলে স্বয়ং নেফারতিতি | এই সম্রাজ্ঞীর শাসনে বহু দেবদেবীর অস্তিত্বে বিশ্বাসী মিশর ক্রমশ সরতে থাকে এক দেবতার প্রতি বিশ্বাসে | সেই দেবতা হলেন সূর্যদেবতা |
12 বছর রাজ্য শাসনের পরে কোথায় যেন মিলিয়ে যান নেফারতিতি | তাঁর মৃত্যু নিয়ে কোনও তথ্য নেই প্রাচীন মিসরীয়  ইতিহাসে |
মনে করা হচ্ছে মৃত্যুর প্রায় 3345 বছর পরে এ বার পাওয়া যেতে চলেছে নেফারতিতির সমাধি | কিশোর রাজা তুতানখামেনের সমাধির উত্তরের দেওয়ালের পিছনে |
এই তুতানখামেন ছিলেন চতুর্থ আমেনহোটেপ এবং তাঁর বোনের সন্তান |
অর্থাৎ নেফারতিতির সৎ ছেলে |
মিশরবিদ নিকোলাস রিভস নিশ্চিত তুতানখামেনের সমাধি বলে যেটি স্বীকৃত‚ সেতি নির্মিত হয়েছিল রানি নেফারতিতির জন্য | পরে বিমাতার সমাধিতেই তাড়াহুড়ো করে সমাহিত করা হয় তুতানখামেনকে | একই রকম কথা বলেছিলেন তুতানখামেনের সমাধির আবিষ্কারক  পুরাতাত্ত্বিক কার্টারও | তাঁর মনে হয়েছিল‚ তুতানখামেনের সমাধি অন্য ফ্যারাওদের সমাধির তুলনায়
অনেক ছোট এবং সাদামাটা | তাঁর ধারনা‚ আন-রয়্যাল এই সমাধি পুরুষতান্ত্রিক মিশরে তৈরি
হয়েছিল কোনও রানির জন্য | সেই ধারনাকে এখন সমর্থন করছে নতুন আবিষ্কার |
তুতানখামেনার বয়স যখন  দশ বছর তখন তিনি  রাজ্যের হাল ধরেন।
( খ্রিষ্টপূর্ব 1332 থেকে 1323  )সাল পর্যন্ত ছিল তার রাজত্বকাল। তিনি নয় বছর রাজত্ব করে ছিলেন ।  এই নয়  বছর সিংহাসন সামলানোর পর খ্রিস্টপূর্ব 1323 সালে মাত্র 19 বছর বয়সে মৃত্যু হয়  ওই তরুণ ফারাওয়ের।
কিন্তু তার মৃত্যু নিয়ে রয়েছে অনেক রহস্য। মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও বিজ্ঞানীরা উদ্ঘাটন করতে পারেননি।
তার মৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানান প্রত্নতত্ত্ববিদের রয়েছে নানান মত। কেউ বা বলেন তাকে খুন করা হয়েছে। কেউ মনে করেন তুতানখামেন সাপের কামড়ে মারা গিয়েছিলেন। 
কারও মতে ম্যালেরিয়াতে তিনি মারা যান। আবার কেউ কেউ বিশ্বাস করেন,
ভারী কিছুতে চাপা পড়ে মারা গিয়েছিলেন এই ফারাও।
তুতানখামেনের মমি আবিষ্কৃত হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় তার মৃত্যু নিয়ে গবেষণা।
মমি আবিষ্কারের বেশ কিছুদিন পর একদল বিশেষজ্ঞ জানান যে, যে ছুরি দিয়ে তাকে
খুন করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, সেই ছুরিটি পাওয়া গেছে।
তুতানখামেনের সমাধি থেকে তার ব্যবহৃত সোনা আর স্ফটিকের হাতল বিশিষ্ট ছুরিটি উদ্ধার হয়। প্রাচীন মিশরে লোহা ছিল দুর্লভ। কিন্তু তুতানখামেনের ছুরির ধারালো অংশটি লোহা, নিকেল আর কোবাল্টের সংমিশ্রণে তৈরি। পরে বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে ছুরির ধারালো অংশটি  লোহা নয়, আসলে উল্কার অংশ। উল্কাপিন্ডীয়  ছোরাটি  শুধুই লোভনীয় পর্যায়ের সুন্দরই নয়, বরং এতে মিশরীয় হস্তশিল্পের ছাপ রয়েছে যা থেকে দেখা যায় প্রাচীন মিশরীয় শিল্পীগণ লৌহযুগের
অনেক আগেই পৃথিবীতে আগত উল্লাপিন্ডের লোহা ব্যবহার করে এই শিল্পের বিকাশ শুরু করেছিলেন।
যে প্রযুক্তির মাধ্যমে ছুরির উপাদান বিশ্লেষণ করা হয়েছে তা হলো  X-ray flurescence Spectroscopy ।
( এই প্রকারের X-ray এমন একটি পরীক্ষা
যার দ্বারা পরীক্ষাধীন নমুনাকে শক্তিপ্রদানের মাধ্যমে উত্তেজিত করা হয়। তারপর সেই উত্তেজিত নমুনার বিভিন্ন পরমাণু বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে শক্তি বিকিরণ করে। যার মাধ্যমে গবেষকগণ একটি নমুনায় অবস্থিত বিভিন্ন ধরনের পরমাণুকে আলাদাভাবে শনাক্ত করতে পারেন। এতে পরীক্ষিত নমুনাটিরও কোনো ধরনের ক্ষতি সাধিত হয় না, ফলে প্রাচীন মূল্যবান বস্তুগুলোকে সুরক্ষিত
অবস্থায় পরীক্ষা করা যায় ।)
গবেষকগণ 20 টি সংরক্ষিত উল্কাপিণ্ডের উপাদানের রেকর্ড বিশ্লেষণ করে, এবং ছুরির উপাদানের সাথে মিলিয়ে দেখে  উল্কাপতনের স্থানও নির্ধারণ করে ন , যা প্রাচীন শহরের আলেকজান্দ্রিয়ার কাছাকাছি পশ্চিম দিকে। যদিও তাদের এই  উল্কাপিণ্ডটিকে সংগ্রহ করার জন্য  কয়েকশ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে সেই নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাতে হয়েছে। অতএব এমনটা ধারনা করা হয়, যে তাঁরা উল্কাটিকে আকাশে থেকে পরতে এবং খন্ড-বিখন্ড হয়ে যেতে দেখেছেন।
এমনকি সেটি পতিত হবার স্থান গুলিও স ঠিক নির্ণয় করতে সক্ষম হয়ে ছিল।

তুতানখামেনের মমি আবিষ্কারের পর থেকেই সেই মমি  নিয়ে মানুষের আগ্রহ বেড়েই
চলেছে । কারণ ব্রিটিশ হাওয়ার্ড কার্টার ও জর্জ হার্বার্ট নামের দুই প্রত্নতত্ত্ববিদের নেতৃত্বে তুতানখামেনের মমি আবিষ্কারের সময় তার সমাধি প্রায় অক্ষত অবস্থায় ছিল। কিন্তু মৃতদেহটি মোটেও অক্ষত ছিল না। মিশরের বেশির ভাগ পিরামিডে থাকা মূল্যবান সম্পত্তি লুঠ হয়ে গেলেও তুতানখামেনের সমাধিতে পাওয়া গিয়েছিল বিপুল সম্পত্তি। নানা গুরুত্বপূর্ণ নথি। মিশর সভ্যতার ইতিহাসে নয়া মোড় ঘুরে যায় তুতানখামেনের মমি আবিষ্কার পর।


এবার আশা যাক অভিশাপের ব্যাপারে।
 মিশরের অনেকেই বিশ্বাস করেন, তুতানখামেন মমিকে যারা বিরক্ত করবে, তাদের মৃত্যু অনিবার্য । এই বিশ্বাসটা তৈরি হয়েছিল 1922 সালে প্রথম তুতানখামেনের মমি আবিষ্কারের পর থেকে।মমি আবিষ্কারের নেতৃত্বে ছিলেন ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ হোয়ার্ড কার্টার ও জর্জ হার্বার্ট। এই আবিষ্কারের কয়েকদিন পরেই ঘটে সেই অভিশপ্তময় ঘটনা। জর্জ হার্বার্ট ও কার্টারের নেতৃত্বে যেসব কর্মী এই খননকার্য চালিয়ে ছিলেন, ঘটনাচক্রে তাদের মধ্যে 21 জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে। এরপর থেকেই এঅঞ্চলের মানুষের মধ্যে অভিশাপের কাহিনীটি প্রচার হতে থাকে।
কিন্তু দীর্ঘ সন্ধানেও মিলল না কিছুই,। পেলেন না কিছুই।  শেষে অনুসন্ধান বন্ধ করে দিতে বললেন লর্ড । হাওয়ার্ড পড়লেন মহা বিপদে।  হাওয়ার্ড কাকুতি মিনতি করে এক বছর সময় চেয়ে নিলেন ।
নতুন উদ্যমে মিশর ফিরে এলেন তিনি।
এবং বহু প্রচেষ্টার পরে সফলতা পেলেন।
খবর পাঠালেন লর্ডকে। ব্রিটেন থেকে তিনি এলেন মিশরে। তাঁর উপস্থিতিতে প্রবেশ করা হল মাটির গভীরে। কিছুদূর যাওয়ার পরে হাওয়ার্ড বুঝলেন এ পথে সুদূর অতীতে পা পড়লেও মূল প্রকোষ্ঠ অক্ষত।  একসময় সুড়ঙ্গ পথ শেষ হল সেই মূল প্রকোষ্ঠে। যার প্রবেশদ্বারে লিপিবদ্ধ ফ্যারাও তুতানখামেনের নাম! 1922-এর নভেম্বর মাসে একদিন সর্ব প্রথম   বিংশ শতকের মানুষের পা পড়ল সেখানে।
পাওয়া গেল তিনটি সোনার শবাধার ।  যার একটিতে ছিল  কিশোর রাজা তুতানখামেন মামি  | কিন্তু যুগান্তকারী এই আবিষ্কারের সঙ্গে লেগে গেল অভিশাপের তকমা।
সমাধিতে পা রাখার কয়েক মাসের মধ্যে রহস্যমৃত্যু হল লর্ড কারনারভনের । কোনও এক কীট নাকি কামড়েছিল তাঁর গালে | পরে সেই ক্ষতই সংক্রামিত হয়ে যায়। যখন তিনি কায়রোর হাসপাতালে মারা যান, গোটা কায়রো শহরে একসঙ্গে বিদ্যুৎ চলে যায়। এবং লন্ডনে তখনও তাঁর সংবাদ এসে পৌঁছয়নি । যে সময় লর্ডের মৃত্যু হয়, ওই একই সময়ে লন্ডনে হঠাত্‍ চিৎকার করে ওঠে তাঁর পোষা কুকুর | তারপরেই স্তব্ধ হয়ে যায় পোষ্যটি ।
রহস্য এখানেই শেষ নয়।  হাওয়ার্ডের পোষা হলুদ ক্যানারি পাখিটিকে সাপ মেরে ফেলে। যে রেডিওলজিস্ট এক্স-রে করেছিলেন তুতানখামেনের মামির, তিনি রহস্যজনকভাবে মারা যান।
এক ধনী মার্কিনী দেখতে গিয়েছিলেন তুতানখামেনের সমাধি, তিনি মারা যান নিউমোনিয়ায় ।
 1922 সালে আবিষ্কার হওয়ার পরে 1929 সালের মধ্যে তুতানখামেনের সমাধি আবিষ্কার-অভিযানের সঙ্গে যুক্তদের মধ্যে 11 জনের মৃত্যু হয় রহস্যময় কারণে । এভাবে একে একে বিভিন্ন সময় মোট
 21 জনের মৃত্যু ঘটে যারা জড়িত ছিলেন তুতানখামেনের মমির উদ্ধারকার্যে।
সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হতে থাকে প্রাচীন মিশরীয় বচন,
 "মৃত্যু তার কাছে ক্ষিপ্র ডানায় উড়ে আসে, যে ফ্যারাওয়ের শান্তি বিঘ্নিত করে "।

অনেকেরই বদ্ধমূল ধারনা হয়, তুতানখামেনের সমাধিতে এই বচন লেখা একটি ফলক ছিল, যা সরিয়ে রাখেন হাওয়ার্ড নিজে।  যাতে কোনও গুজব না রটে ।
কিন্তু যুক্তিবাদীরা এই অভিশাপের দাবি মানতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, তুতানখামেন যদি অভিশাপই দেবেন, তাহলে স্বয়ং আবিষ্কারক হাওয়ার্ড কার্টার রেহাই পেলেন কী করে ? তাঁর তো 64বছর বয়সে স্বাভাবিক মৃত্যুই হয়।  এক গবেষক দাবি করেন  তুতানখামেনের অভিশাপ কোনো  জাদু নয়,  জীবাণু। যখন তারা কবরে ঢুকেছিল তখন হাজার বছর পুরানো জীবাণু যা অন্ধকারে ছিল তা আলো পেয়ে আবার জেগে উঠে।  এসব জীবাণুর  সংক্রমণেই ধীরে ধীরে  মারা যায় তারা।
তুতানখামেনের মমি নিয়ে গবেষণা শেষ হয়ে যায় নি। 2017 সালে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী   আরও  একবার  ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ ” নিকোলাস রিভেস” এর তত্ত্ববধানে অভিযান চলবে তুতেনখামেনের সমাধির গোপন ডেরায়। দীর্ঘ ৩৩০০ বছর ধরে লুকিয়ে থাকা তুতানখামেনের সমাধির ভিতর লুকিয়ে থাকা চেম্বারের রহস্য ভেদ করতে তাঁদের এই অভিযান বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ নিকোলাস রিভেস। কী থাকতে পারে এই চেম্বারে? তুতানখামেনের সমাধি নিয়ে এত দিন ধরে নিকোলাস যে গবেষণা চালিয়েছেন, সেখানে সমাধির একটি গুপ্তপথের সূত্র খুঁজে পেয়েছেন তিনি। এই গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি 90 শতাংশ নিশ্চিত, এবারে নতুন কিছু তথ্য হাতে পাবেনই। নিকোলাসের অনুমান তুতেনখামেনের সমাধিতে আরও দুটি গোপন কক্ষ রয়েছে। যার মধ্যে একটি হতে পারে রানি নেফাতিতির সমাধি! খ্রিস্টপূর্ব 1351 থেকে 1334 সাল পর্যন্ত নেফাতিতি মিশরে রাজ করেছিলেন।
তুতানখামেন সমাধির এ রহস্য ভেদ করতে নিকোলাসকে সাহায্য করবে ইতালির তুরিনের একটি পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটি। এবং এর সঙ্গে থাকবে দু’বছর ধরে চালিয়ে যাওয়া অনুসন্ধানকারীর দলও। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে এ গবেষণা কাজ পরিচালিত হবে বলে জানান তুরিনের পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটির পদার্থবিজ্ঞানের প্রফেসর ফ্রাঙ্কো পরসেলি। মাটির তলায় 32 ফুট গভীর পর্যন্ত স্ক্যান করতে পারবে এমন শক্তিশালী রাডার সিস্টেম ব্যবহার করা হবে বলে তিনি জানান। এই রাডারের তরঙ্গায়িত হওয়ার ক্ষমতা 200 মেগা হার্টজ থেকে 2 গিগা হার্টজ পর্যন্ত।
তবে নীল নদের বাসিন্দাদের অনেকের মনে চিন্তা এখন একটাই। যাঁরা বিশ্বাস করেন এই সমাধিতে ঢোকার চেষ্টা করার ফল কখনও ভাল হয়না, তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, তুতানখামেনের সমাধিতে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে ফের হয়তো আগের  মতো কোনও বিভীষিকা ফিরে আসবে না তো! নতুন করে অভিশাপের ছায়া পড়বে না তো মিশরবাসীদের উপর!
                                                                       <------------আদ্যনাথ ----------->
                                                                             17/05/2019::08:53:12pm
==================================


টুটানখামুনের সমাধিতে রাণী নেফারতিতির গোপন কুঠুরি

মিশরের প্রত্নতত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন, রাজা টুটানখামুনের সমাধিতে তারা এমন একটি গোপন কুঠুরি থাকার প্রমাণ পাচ্ছেন যেখানে হয়তো রাণী নেফারতিতির কবর ছিল।
সকলের ধারণা যদি সত্যি সত্যি এরকম এক গোপন কুঠুরি খুজে পাওয়া যায় সেটা হবে শতাব্দীর সবচেয়ে বড় আবিস্কার।
লাক্সারের এই অত্যন্ত প্রাচীন স্থানটিতে এখনো খোজ চলছে ।
নীল নদীর তীরে বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী যে সভ্যতা গড়ে উঠেছিল একটা লম্বা সময় ধরে তা শাসন করেছেন রাণী নেফারতিতি এবং তার স্বামী ফারাও আখেনাটেন।
রাণী নেফারতিতি ছিলেন অসম্ভব সুন্দরী।
কারও কারও ধারণা টুটানখামেন হয়তো রাণী নেফারতিতির সন্তান ছিলেন। টুটানখামেনের দেহাবশেষ সেখানে খুঁজে পাওয়া যায় ১৯২২ সালে। এর প্রায় তিন হাজার বছর আগে মাত্র ১৯ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হয়।
==================
তুতানখামেন
(খ্রিস্টপূর্ব ১৩৪১ - ১৩২৩) ছিলেন মিশরীয় অষ্টদশ রাজবংশের ফারাও (খ্রিস্টপূর্ব ১৩৩৩ - ১৩২৪)। এই সময়কাল মিশরীয় ইতিহাসে নতুন রাজ্য নামে পরিচিত ছিল।
তার আসল নাম তুতানখাতুন, অর্থ "আতেনের জীবন্ত ছবি", যখন তুতানখামেন অর্থ "আমুনের জীবন্ত ছবি"।
প্রায়ই তুতানখামুনের নাম লেখা হতো "আমেন-তুত-আনখ", শব্দে প্রকাশ করার শুরুতে দেবতার নাম রাখতে কিছু লেখার ব্যবহার করা হতো। এটি সম্ভবত শনাক্ত করা হতো আমারনার চিঠি, নিবহুররেরেয়া-এর সঙ্গে, এবং সম্ভবত অষ্টদশ রাজবংশের রাজা রাথটিসনামের সঙ্গে, যে প্রাচীন ইতিহাসবিদ মানেটনেরমতে, নয় বছর রাজত্ব করেছিলেন (ফ্লাভিউস জোসেফুস মানেটনের ধারনাটির সাথে একমত)। তার জনগণরা তাকে অর্ধেক মানুষ এবং অর্ধেক দেবতা মনে করতো।
কায়রোর মিশরীয় জাদুঘরে তুতানখামেনের মমির মুখোশ, প্রাচীন মিশরের একটি জনপ্রিয় অতূলনীয় ভাস্কর্য। বলা হয় যে, এর মূল্য রত্নের মুকুটের সমান।
ফারাওরাজত্বখ্রিস্টপূর্ব ১৩৩৩–১৩২৪ (১৮তম রাজবংশ)পূর্ববর্তীস্মেঙ্খকারে? অথবা নেফেরনেফেরুয়াতেন?
সঙ্গীআঙ্খেসেনামুনছেলে-মেয়ে২ (সম্ভবত, উভয় মেয়ে, নামগুলো অজানা)
পিতা আখেনাতেন। মাতা অশনাক্ত মমি, "অল্পবয়সী নারী"জন্মখ্রিস্টপূর্ব ১৩৪১মৃত্যুখ্রিস্টপূর্ব ১৩২৩সমাধিকেভি৬২
তার খ্যাতি ঢাকা আছে তার কবর দ্বারা, রাজাদের উপত্যকার কেভি৬২, সাধারণত অলঙ্ঘিত, হাওয়ার্ড কার্টার দ্বারা নেতৃত্ব এবং সহায়তাকারী জোজ হেরব্যট এর মধ্যেমে ১৯২২ সালের ৪ঠা নভেম্বর মাসে আবিষ্কার করেছিল তুতানখামুন অস্পৃষ্ট কবর।
তুতানখামেন হঠাৎ মারা গিয়েছিল এবং তার হাড় গুলোতে অনেক ফাটল ছিল। ১৯৬৮ সালে যখন তাকে এক্স রে করা হয় তখন দেখা যায় যে তার মাথার পিছের অংশে আঘাতের চিহ্ন। ২০০২ সালে একদল গবেষোক সিদ্ধাতে পৌছায় যে তাকে হত্যা করা হয়েছে কিন্তু তা প্রমাণ হয়নি।
সাম্প্রতিক প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার অনুসারে, তুতানখামেনের বাবা হবে আখেনাতেন। আগে, বিভিন্ন তত্ত্বসমূহ প্রস্তাব করা হয়েছিল তুতানখামেনের অবরোহণ সমস্যার উপর। সহজভাবে, স্মেনখখারা এর পুত্র হিসেবে তাকে দেখেছিল এবং স্মেনখখারা ছিল তেবে তের কোর্টের রাজ কন্যা গুলোর একটা। অন্য একটি ধরা হতো, বাস্তবিকপক্ষে, সে হতো আখেনাটন এবং রানী নেফেরতিতি এর পুত্র ছিল।
অন্য একটি অনুমান, তুতানখামেন আমেনহোতেপ IIIএবং রানী টইয়ি এর পুত্র ছিল (অতএব আখেনাটন এর ভাই) কিন্তু একটি তত্ত্বের গ্রহণযোগ্যতা ও অন্তর্ভুক্ত দীর্ঘ রাজপ্রতিনিধিত করেছিল, আখেনাটন এবং আমেনহোতেপ এর মধ্যে যখন তুতানখামেন বাচ্চা অবস্থায় সিংহাসন উপরে উঠা ছিল। অনুমানও করা হয় যে, আমেনহোতেপ এর পুত্র দেখেছিল এবং মিতান্নী এর একটি রাজ কন্যা (গিলিকিপা, রাজা শুত্তারনা II মেয়ে, তাই তুশ্রাত্তা এবং আরতাশুমারা এর বোন, মিশরীয় কোর্টে আসেছিল ৩১৭ মেয়ে সঙ্গী এবং অসংখ্য মূল্যবান উপহার নিয়ে), সে কালক্রমিক সমস্যার স্মমুখীন হচ্ছিল। পরিশেষে, আরও অনুমান নিশ্চিত করেছিল যে, তুতানখামেন আখেনাটন এবং কিয়া এর পুত্র ছিল, একটি অমুখ্য রানী, একটি গুরুত্বপূর্ণ কবর, একে আখেনাটন কবরের স্থানে আগে দেওয়া হয়েছে, দেরিতে শেষকৃত্যের একটি দৃশ্য দেখায়। আখেনাটন এবং নেফেরতিতি এর আকারের পূর্বে চীনতে পারে (এটা শেষ সনাক্তনীয় উলটানো উচ্চ শম্ভু টুপি জন্য) একটি মহিলার সঙ্গে যে, সম্ভবত একটি সেবিকা এবং একজন ফ্লাবেল্লো বাহকের চিহ্ন যে কিছু রাজ পরিবারের দৃশ্য উল্লেখ করে। দৃশ্যের এক সম্ভব্য ব্যাখ্যা হতে পারে একটি মৃত্যু সংশ্লিষ্টে একটি রাজকীয় উত্তারাধিকারী জন্মে
আমারনীয়ানা এর ধবংস আখেনাটন সম্বন্ধে তথ্যের সমূহের অনেক ক্ষতি প্রান্ত হয়েছে এবং এইটির সম্বন্ধে তত্ত্ব সমূহের একটি অনেক সংখ্যার উন্নতি লাভের অনুমোদন করেছিল। আমারনীনে উৎস হতে যা মনে হয় তা নির্দেশনা করে আঙ্খতখেপেরুরা নামের একটি রাজার অস্তিত্ব যে হতে পারে আখেনাটন এর মেয়ে গুলোর একটা, অথবা অন্যান্যদের মতে, একই স্ত্রী নেফেরতিতি। তুতানখামেনের সরাসরি পূবগামী পুরুষ স্মেনখখারা ছিল, যেটি এখন একটি তত্ত্ব, সাম্প্রতিক আবিস্কার গুলোর ফলে সে সব তত্ত্ব পরিবতন হচ্ছে, নেফেরতিতি এর একটি অবতার পুনরায় দেখতে পছন্দ করবে, যে আখেনাটন এর ভুল সংশোধনকারী হিসেবে রাজত্ব করবে।
যুবক বয়স, এবং সুযোগ ব্যবহার করা প্রয়োজন শুধু "স্বাভাবিক" রাষ্ট্র প্রশাসন হিসাবে নয়, একটি আসল রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় পুনরুদ্ধার মাধ্যেমে। একটি যুবক রাজার সাহায্যকারী রাজপতিনিধি পদ পরিষদ নিশ্চিতভাবে দ্বারা গঠন করা হয়েছিল আয়, আখেনাটন এর পূবগামী পুরুষের পরামর্শদাতা (এবং তুতানখামেনের উত্তরসূরী), হোরেমহাব, সেনাবাহিনীর প্রধান, এবং প্রকৃত তত্ত্বাবধায়ক তদারকারী রাজকীয় বৃহৎ কবরস্থান টেবানা: রাজার ভ্যালি। নতুন রাজা সিংহাসনের উঠার সল্প সময়ে পরে সম্পূণ কোর্ট আখেনাটনের রাজধানী ছেড়ে "তেবে" তে ফিরে আসে। এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজপতিনিধি পদ পরিষদ গ্রহণ করেছিল অথবা রাজা নিজেই, একটা জিনিষ এক থাকে যে, কারনাক এর নিকটবর্তী যৌগিক মন্দিরের ধর্মযাজকদের আমন এর অধীনে কোর্ট ফিরে এসেছিল। এই পর্যায়কালে তুতানখামেনের নামগুলো পরিবর্তন হয়, এবং নাম নেয় তুতানখামেন যে নামে আমরা সবাই ভাল চিনি, এবং তার স্ত্রী আনাখেছেপাটোন নাম গ্রহণ করেছিল আনাখেছেনামুন।
রাজ্যভিষেক অনুষ্ঠানে, ইতিমধ্যে আখেতাটোন এর পৃষ্ঠপোষকতার দেবতা আটোন এর প্রতিরোধ, কারনাক তেও পুনরাবৃত্তি করা হয়েছিল, এই বার আমনের আরবণ। অনুরুপ প্রতিক্রিয়া ছিল হারেমহাব এর, যদিও পরবতীতে অপব্যবহার ছিল, একটি কঠিন প্রস্তর বিশেষে যেখানে দেখা সম্ভব একটি রাজা যে আমন এর পূর্বে (মাথার টুপি লম্বা পালক গুলোর জন্য চিনা সম্ভব ছিল)।
তুতানখামেনের অভিশাপ
তুতানখামেন এখনো সবাইকে মুগ্ধ করে। তার কবর যে ঘরে পাওয়া গিয়েছে তার পাশের ঘরে, যেখানে তার ধন সম্পদ ছিল, সেখানে তার কবর আটকানো জন্য যে সিল মোহর ব্যবহার করা হয়েছিল সে সিল মোহর পাওয়া গিয়েছে এবং তার উপর লেখা ছিল তুতানখামেন। তা আবিস্কার করেছে প্রফেসর হাওয়ার কারটারএবং অন্য গুলোর মধ্যে লেখা ছিল তুতানখামেন। ১১ নভেম্বর ১৯২৫ সালে যখন "হাওয়ার কারটার" তুতানখামেনের কফিনেট খোলে, তার ভিতর আরো তিনটা কফিন সে খুজে পায়। এর মধ্যে দুইটি কফিন কায়রো জাদুঘরে আছে। কবরে ভিতর ৫৩৯৮ টি হাতের কাজ করা জিনিষ পাওয়া গিয়েছে। তার কবর খোজে পাওয়ার আগে সে আমাদের কাছে অপরিচিত ছিল কারণ মিশরে তার কনো চিহ্ন ছিল না। তার কবরের দেওয়ালে আকা ছবি গুলোতে তাকে দেখা য়ায একজন শিকারী হিসেবে, একজন রাজা যুদ্ধের মায়দানে, একজন মানুষ যে তার স্ত্রী সেনামুন এর গভীর প্রেমে পরে ছিল এবং সেনামুন ও। সেনামুন ছিল নেফেরতিতির মেয়ে। তুতানখামেনের হঠা মৃত্যুর কারণ কেউ জানে না। তুতানখামেনের কবর আবার খোলা হয়, কারণ তার মৃত্যুর ১০০০ বছর পরও যে কবর পাওয়া গিয়েছে সে গুলো এই কবরের সাথে সম্পক যুক্ত। নভেম্বর ১৯২২, ব্রিটিশ ভূতাত্ত্বিকবিদ প্রোফেসর হোওয়ারড কাটার আবিষ্কার করেছিল রাজাদের কবর। এই আবিষ্কারটি ছিল অসাধারণ। যখন শ্রমিকরা দামী হাতের কাজ গুলো কবর থেকে উদ্ধার করছিল, তখন তারা কবরকে যে অপবিত্র করেছে তার ফলাফল কি হবে তার ভয় করছিল। তুতানখামেনের কবরে কাজের সময় হোওয়ারড কাটারের সাথে কানারি ছিল। যে দিন হোওয়ারড কাটার এবং কারনামুন তুতানখামেনের কবরে ঢুকে শ্রমিকরা কানারি কে মৃত দেখে। তারা একে শ্রমিকরা ভাল দিক বলে মনে করে। বলা হয় কানারি কোবরা সাপের কামড়ে কারণে মারা গিয়েছিল। কোবরা সাপ হচ্ছে ফেরাউনদের মুখোসের শিখরের প্রতীক। এখান থেকে শুরু হয় তুতানখামেনের অধিশাপ। একজন লন্ডন টাইসএর বক্তব্যকারী ঘোষনা দেয় ফেরাউনের অধিশাপ আঘত করেছে বলে। কাযালীয়ভাবে কবরের কক্ষ খোলার ছয় সপ্তাহ পর লর কারনারভন তার হোটেলের ঘরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। পরে একে একে মরতে শুরু করেছে যারা কবর খোরার কাজে কোন এক ভাবে জরিত ছিল। কারনারভন এর ভাইয়ের রক্তে বিষ পাওয়া গিয়েছে। আমেরিকার জাইগুদ রেল লাইনের ইম্মানিয়াতে, ফ্রান্সেস জজ বেনেদিত এরা কবর দেখতে গিয়েছিল। এই ভাবে তুতানখামেনের অভিশাপের জন্ম হয়। পরের বছর গুলোতে এর একটি যুক্তি সংগত ব্যাখ্যা দিতে চেয়ে ছিল। সে চিন্তা করেছে তুতানখামেনের অধিশাপের জাদু নয় জীবণু। যখন তারা কবরে ঢুকেছিল তখন হাজার বছর পুরানো জীবণু যা অন্ধকারে ছিল তা আলো পেয়ে আবার জেগে উঠে। এই তত্ত্ব ঠিক কি না তা পরীহ্মা করার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে জীবণুবিদরা আসেন।
=====================
প্রাচীন মিশরের মানুষ বিশ্বাস করতো মানুষের মৃত্যুর পর আত্মা পুনরায় দেহে ফিরে আসে। তাই সেই দেহ যাতে নষ্ট না হয়ে যায় সে জন্য তারা এক বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করতো। এই বিশেষ পদ্ধতিটিই হলো মমি। 
মমি নিয়ে সব জট এখনো পুরোপুরি খোলা যায় নি। অনেক মমি নিয়েই আছে অনেক রহস্যময় কাহিনী। তবে সবচেয়ে বেশি রহস্য যে মমিটিকে ঘিরে আছে তা হলো ফারাও রাজা তুতানখামেনের মমিকে নিয়ে। তার মমিকে যে ই বিরক্ত করবে তার নাকি
মৃত্যু অনিবার্য।
এই বিশ্বাসটা গাঢ় হওয়ার পিছনে রয়েছে অবিশ্বাস্য কিছু ঘটনা।
মিশরে যে কয়েকজন  ফারাও রাজত্ব করেছেন তাদের মাঝে   কনিষ্ঠতম শাসক ছিলেন তুতানখামেন।
কিশোর বয়সেই মিশরের সম্রাট হয়ে যাওয়ার
কারনে তাকে  নিয়ে অনেক রহস্যের গল্প
শোনা যায়।
খ্রিস্টের জন্মের প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর আগে মিশরের সিংহাসনে ছিলেন ফ্যারাও চতুর্থ আমেনহোটেপ | যিনি পরিচিত আখেনাতেন নামেও | তাঁর এক রানি হলেন সুন্দরী নেফারতিতি | ঐতিহাসিকরা বলেন‚ প্রথমে স্বামীর সঙ্গে যৌথভাবে‚ পরে স্বামীর অবর্তমানে একাই সাম্রাজ্য শাসন করতে থাকেন এই রানি | পুরুষতান্ত্রিক মিশরীয় সমাজে তিনি রীতি অনুযায়ী পুরুষ-নাম নেন | সেই নাম সম্ভবত নেফারনেফেরয়াতেন বা স্মেনখকারে | রহস্যময় ফ্যারাও নেফারনেফেরয়াতেন বা স্মেনখকারে মিশর শাসন করেন চতুর্থ আমেনহোটেপের পরে এবং তুতানখামেনের আগে | কোনও কোনও ঐতিহাসিক বলেন‚ এই ফ্যারাও আসলে স্বয়ং নেফারতিতি | এই সম্রাজ্ঞীর শাসনে বহু দেবদেবীর অস্তিত্বে বিশ্বাসী মিশর ক্রমশ সরতে থাকে এক দেবতার প্রতি বিশ্বাসে | সেই দেবতা হলেন সূর্যদেবতা |
১২ বছর রাজ্য শাসনের পরে কোথায় যেন মিলিয়ে যান নেফারতিতি | তাঁর মৃত্যু নিয়ে কোনও তথ্য নেই প্রাচীন ইতিহাসে | মনে করা হচ্ছে মৃত্যুর প্রায় ৩৩৪৫ বছর পরে এ বার পাওয়া যেতে চলেছে নেফারতিতির সমাধি | কিশোর রাজা তুতানখামেনের সমাধির উত্তরের দেওয়ালের পিছনে | এই তুতানখামেন ছিলেন চতুর্থ আমেনহোটেপ এবং তাঁর বোনের সন্তান | অর্থাৎ নেফারতিতির সৎ  ছেলে |
মিশরবিদ নিকোলাস রিভস নিশ্চিত তুতানখামেনের সমাধি বলে যেটি স্বীকৃত‚ সেতি নির্মিত হয়েছিল রানি নেফারতিতির জন্য | পরে বিমাতার সমাধিতেই তাড়াহুড়ো করে সমাহিত করা হয় তুতানখামেনকে | একই রকম কথা বলেছিলেন তুতানখামেনের সমাধির আবিষ্কারক  পুরাতাত্ত্বিক কার্টারও | তাঁর মনে হয়েছিল‚ তুতানখামেনের সমাধি অন্য ফ্যারাওদের সমাধির তুলনায় অনেক ছোট এবং সাদামাটা | তাঁর ধারনা‚ আন-রয়্যাল এই সমাধি পুরুষতান্ত্রিক মিশরে তৈরি হয়েছিল কোনও রানির জন্য | সেই ধারনাকে এখন সমর্থন করছে নতুন আবিষ্কার |
তুতানখামেনার বয়স যখন  দশ বছর তখন তিনি  রাজ্যের হাল ধরেন। ( খ্রিষ্টপূর্ব ১৩৩২ থেকে ১৩২৩  )সাল পর্যন্ত ছিল তার রাজত্বকাল। তিনি নয় বছর রাজত্ব করে ছিলেন ।  এই নয়  বছর সিংহাসন সামলানোর পর খ্রিস্টপূর্ব ১৩২৩ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে মৃত্যু হয়  ওই তরুণ ফারাওয়ের।
কিন্তু তার মৃত্যু নিয়ে রয়েছে অনেক রহস্য। মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও বিজ্ঞানীরা উদ্ঘাটন করতে পারেননি।
তার মৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানান প্রত্নতত্ত্ববিদের রয়েছে নানান মত। কেউ বা বলেন তাকে খুন করা হয়েছে। কেউ মনে করেন তুতানখামেন সাপের কামড়ে মারা গিয়েছিলেন।   কারও মতে ম্যালেরিয়াতে তিনি মারা যান। আবার কেউ কেউ বিশ্বাস করেন, ভারী কিছুতে চাপা পড়ে মারা গিয়েছিলেন এই ফারাও। ১৯২২ সালে তুতানখামেনের মমি আবিষ্কৃত হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় তার মৃত্যু নিয়ে গবেষণা। মমি আবিষ্কারের বেশ কিছুদিন পর একদল বিশেষজ্ঞ জানান যে, যে ছুরি দিয়ে তাকে খুন করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, সেই ছুরিটি পাওয়া গেছে।
১৯২৫ সালে তুতানখামেনের সমাধি থেকে তার ব্যবহৃত সোনা আর স্ফটিকের হাতল বিশিষ্ট ছুরিটি উদ্ধার হয়। প্রাচীন মিশরে লোহা ছিল দুর্লভ। কিন্তু তুতানখামেনের ছুরির ধারালো অংশটি লোহা, নিকেল আর কোবাল্টের সংমিশ্রণে তৈরি। পরে বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে ছুরির ধারালো অংশটি  লোহা নয়, আসলে উল্কার অংশ। উল্কাপিন্ডীয়  ছোরাটি  শুধুই লোভনীয় পর্যায়ের সুন্দরই নয়, বরং এতে মিশরীয় হস্তশিল্পের ছাপ রয়েছে যা থেকে দেখা যায় প্রাচীন মিশরীয় শিল্পীগণ লৌহযুগের অনেক আগেই পৃথিবীতে আগত উল্লাপিন্ডের লোহা ব্যবহার করে এই শিল্পের বিকাশ শুরু করেছিলেন।
যে প্রযুক্তির মাধ্যমে ছুরির উপাদান বিশ্লেষণ করা হয়েছে তা হলো  X-ray flurescence Spectroscopy ।
( এই প্রকারের X-ray এমন একটি পরীক্ষা
যার দ্বারা পরীক্ষাধীন নমুনাকে শক্তিপ্রদানের মাধ্যমে উত্তেজিত করা হয়। তারপর সেই উত্তেজিত নমুনার বিভিন্ন পরমাণু বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে শক্তি বিকিরণ করে। যার মাধ্যমে গবেষকগণ একটি নমুনায় অবস্থিত বিভিন্ন ধরনের পরমাণুকে আলাদাভাবে শনাক্ত করতে পারেন। এতে পরীক্ষিত নমুনাটিরও কোনো ধরনের ক্ষতি সাধিত হয় না, ফলে প্রাচীন মূল্যবান বস্তুগুলোকে সুরক্ষিত অবস্থায় পরীক্ষা করা যায় ।)
গবেষকগণ ২০ টি সংরক্ষিত উল্কাপিণ্ডের উপাদানের রেকর্ড বিশ্লেষণ করে, এবং ছুরির উপাদানের সাথে মিলিয়ে দেখে  উল্কাপতনের স্থানও নির্ধারণ করে ন , যা প্রাচীন শহরের আলেকজান্দ্রিয়ার কাছাকাছি পশ্চিম দিকে। যদিও তাদের এই  উল্কাপিণ্ডটিকে সংগ্রহ করার জন্য  কয়েকশ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে সেই নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাতে হয়েছে। অতএব এমনটা ধারনা করা হয়, যে তাঁরা উল্কাটিকে আকাশে থেকে পরতে এবং খন্ড-বিখন্ড হয়ে যেতে দেখেছেন।
এমনকি সেটি পতিত হবার স্থান গুলিও
স ঠিক নির্ণয় করতে সক্ষম হয়ে ছিল।
তুতানখামেনের মমি আবিষ্কারের পর থেকেই সেই মমি  নিয়ে মানুষের আগ্রহ বেড়েই
চলেছে । কারণ ব্রিটিশ হাওয়ার্ড কার্টার ও জর্জ হার্বার্ট নামের দুই প্রত্নতত্ত্ববিদের নেতৃত্বে তুতানখামেনের মমি আবিষ্কারের সময় তার সমাধি প্রায় অক্ষত অবস্থায় ছিল। কিন্তু মৃতদেহটি মোটেও অক্ষত ছিল না। মিশরের বেশির ভাগ পিরামিডে থাকা মূল্যবান সম্পত্তি লুঠ হয়ে গেলেও তুতানখামেনের সমাধিতে পাওয়া গিয়েছিল বিপুল সম্পত্তি। নানা গুরুত্বপূর্ণ নথি। মিশর সভ্যতার ইতিহাসে নয়া মোড় ঘুরে যায় তুতানখামেনের মমি আবিষ্কার পর।
এবার আশা যাক অভিশাপের ব্যাপারে। মিশরের অনেকেই বিশ্বাস করেন, তুতানখামেন মমিকে যারা বিরক্ত করবে, তাদের মৃত্যু অনিবার্য । এই বিশ্বাসটা তৈরি হয়েছিল ১৯২২ সালে প্রথম তুতানখামেনের মমি আবিষ্কারের পর থেকে।মমি আবিষ্কারের নেতৃত্বে ছিলেন ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ হোয়ার্ড কার্টার ও জর্জ হার্বার্ট। এই আবিষ্কারের কয়েকদিন পরেই ঘটে সেই অভিশপ্তময় ঘটনা। জর্জ হার্বার্ট ও কার্টারের নেতৃত্বে যেসব কর্মী এই খননকার্য চালিয়ে ছিলেন, ঘটনাচক্রে তাদের মধ্যে ২১ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে। এরপর থেকেই এঅঞ্চলের মানুষের মধ্যে অভিশাপের কাহিনীটি প্রচার হতে
থাকে।
কিন্তু দীর্ঘ সন্ধানেও মিলল না কিছুই,। পেলেন না কিছুই।  শেষে অনুসন্ধান বন্ধ করে দিতে বললেন লর্ড । হাওয়ার্ড পড়লেন মহা বিপদে।  হাওয়ার্ড কাকুতি মিনতি করে এক বছর সময় চেয়ে নিলেন ।
নতুন উদ্যমে মিশর ফিরে এলেন তিনি।
এবং বহু প্রচেষ্টার পরে সফলতা পেলেন।
খবর পাঠালেন লর্ডকে। ব্রিটেন থেকে তিনি এলেন মিশরে। তাঁর উপস্থিতিতে প্রবেশ করা হল মাটির গভীরে। কিছুদূর যাওয়ার পরে হাওয়ার্ড বুঝলেন এ পথে সুদূর অতীতে পা পড়লেও মূল প্রকোষ্ঠ অক্ষত।  একসময় সুড়ঙ্গ পথ শেষ হল সেই মূল প্রকোষ্ঠে। যার প্রবেশদ্বারে লিপিবদ্ধ ফ্যারাও তুতানখামেনের নাম! ১৯২২-এর নভেম্বর মাসে একদিন সর্ব প্রথম   বিংশ শতকের মানুষের পা পড়ল সেখানে।
পাওয়া গেল তিনটি সোনার শবাধার ।  যার একটিতে ছিল  কিশোর রাজা তুতানখামেন মামি  | কিন্তু যুগান্তকারী এই আবিষ্কারের সঙ্গে লেগে গেল অভিশাপের তকমা।
সমাধিতে পা রাখার কয়েক মাসের মধ্যে রহস্যমৃত্যু হল লর্ড কারনারভনের । কোনও এক কীট নাকি কামড়েছিল তাঁর গালে | পরে সেই ক্ষতই সংক্রামিত হয়ে যায়। যখন তিনি কায়রোর হাসপাতালে মারা যান, গোটা কায়রো শহরে একসঙ্গে বিদ্যুৎ চলে যায়। এবং লন্ডনে তখনও তাঁর সংবাদ এসে পৌঁছয়নি । যে সময় লর্ডের মৃত্যু হয়, ওই একই সময়ে লন্ডনে হঠাত্‍ চিৎকার করে ওঠে তাঁর পোষা কুকুর | তারপরেই স্তব্ধ হয়ে যায় পোষ্যটি ।
রহস্য এখানেই শেষ নয়।  হাওয়ার্ডের সেই পোষা হলুদ ক্যানারি পাখিটিকে সাপ মেরে ফেলে। যে রেডিওলজিস্ট এক্স-রে করেছিলেন তুতানখামেনের মামির, তিনি রহস্যজনকভাবে মারা যান। এক ধনী মার্কিনী দেখতে গিয়েছিলেন তুতানখামেনের সমাধি, তিনি মারা যান নিউমোনিয়ায় । ১৯২২ সালে আবিষ্কার হওয়ার পরে ১৯২৯ সালের মধ্যে তুতানখামেনের সমাধি আবিষ্কার-অভিযানের সঙ্গে যুক্তদের মধ্যে ১১ জনের মৃত্যু হয় রহস্যময় কারণে । এভাবে একে একে বিভিন্ন সময় মোট ২১ জনের মৃত্যু ঘটে যারা জড়িত ছিলেন তুতানখামেনের মমির উদ্ধারকার্যে।
সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হতে থাকে প্রাচীন মিশরীয় বচন, ‘ মৃত্যু তার কাছে ক্ষিপ্র ডানায় উড়ে আসে, যে ফ্যারাওয়ের শান্তি বিঘ্নিত করে । অনেকেরই বদ্ধমূল ধারনা হয়, তুতানখামেনের সমাধিতে এই বচন লেখা একটি ফলক ছিল, যা সরিয়ে রাখেন হাওয়ার্ড নিজে।  যাতে কোনও গুজব না রটে ।
কিন্তু যুক্তিবাদীরা এই অভিশাপের দাবি মানতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, তুতানখামেন যদি অভিশাপই দেবেন, তাহলে স্বয়ং আবিষ্কারক হাওয়ার্ড কার্টার রেহাই পেলেন কী করে ? তাঁর তো ৬৪ বছর বয়সে স্বাভাবিক মৃত্যুই হয়।  এক গবেষক দাবি করেন  তুতানখামেনের অভিশাপ কোনো  জাদু নয়,  জীবাণু। যখন তারা কবরে ঢুকেছিল তখন হাজার বছর পুরানো জীবাণু যা অন্ধকারে ছিল তা আলো পেয়ে আবার জেগে উঠে।  এসব জীবাণুর  সংক্রমণেই ধীরে ধীরে  মারা যায় তারা।
তুতানখামেনের মমি নিয়ে গবেষণা শেষ হয়ে যায় নি। ২০১৭ সালে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী   আরও  একবার  ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ ” নিকোলাস রিভেস” এর তত্ত্ববধানে অভিযান চলবে তুতেনখামেনের সমাধির গোপন ডেরায়। দীর্ঘ ৩৩০০ বছর ধরে লুকিয়ে থাকা তুতানখামেনের সমাধির ভিতর লুকিয়ে থাকা চেম্বারের রহস্য ভেদ করতে তাঁদের এই অভিযান বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ নিকোলাস রিভেস। কী থাকতে পারে এই চেম্বারে? তুতানখামেনের সমাধি নিয়ে এত দিন ধরে নিকোলাস যে গবেষণা চালিয়েছেন, সেখানে সমাধির একটি গুপ্তপথের সূত্র খুঁজে পেয়েছেন তিনি। এই গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি ৯০ শতাংশ নিশ্চিত, এবারে নতুন কিছু তথ্য হাতে পাবেনই। নিকোলাসের অনুমান তুতেনখামেনের সমাধিতে আরও দুটি গোপন কক্ষ রয়েছে। যার মধ্যে একটি হতে পারে রানি নেফাতিতির সমাধি! খ্রিস্টপূর্ব ১৩৫১ থেকে ১৩৩৪ সাল পর্যন্ত নেফাতিতি মিশরে রাজ করেছিলেন।
তুতানখামেন সমাধির এ রহস্য ভেদ করতে নিকোলাসকে সাহায্য করবে ইতালির তুরিনের একটি পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটি। এবং এর সঙ্গে থাকবে দু’বছর ধরে চালিয়ে যাওয়া অনুসন্ধানকারীর দলও। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে এ গবেষণা কাজ পরিচালিত হবে বলে জানান তুরিনের পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটির পদার্থবিজ্ঞানের প্রফেসর ফ্রাঙ্কো পরসেলি। মাটির তলায় ৩২ ফুট গভীর পর্যন্ত স্ক্যান করতে পারবে এমন শক্তিশালী রাডার সিস্টেম ব্যবহার করা হবে বলে তিনি জানান। এই রাডারের তরঙ্গায়িত হওয়ার ক্ষমতা ২০০ মেগা হার্টজ থেকে ২ গিগা হার্টজ পর্যন্ত।
তবে নীল নদের বাসিন্দাদের অনেকের মনে চিন্তা এখন একটাই। যাঁরা বিশ্বাস করেন এই সমাধিতে ঢোকার চেষ্টা করার ফল কখনও ভাল হয়না, তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, তুতানখামেনের সমাধিতে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে ফের ১৯২২ সালের মতো কোনও বিভীষিকা ফিরে আসবে না তো! নতুন করে অভিশাপের ছায়া পড়বে না তো মিশরবাসীদের উপর! বিজ্ঞানমনস্ক চোখ এ সব উড়িয়ে দিলেও, মানুষের  বিশ্বাসকে কি অত সহজে টলানো যায়!

রেডার বা ইনফ্রারেড টেস্ট-এর চূড়ান্ত রিপোর্ট এখনও আসেনি | স্ক্যানড ছবি জাপানে পাঠিয়েছেন জাপানি রেডার বিশেষজ্ঞ হিরোকাৎসু ওয়াটানাবে | ফলাফল সামনে এলে ভাবনাচিন্তা করা হবে কী করে প্রবেশ করা যায় ওই গোপন প্রকোষ্ঠে |

                                                                         <------------আদ্যনাথ ----------->
                                                                             17/05/2019::08:53:12pm
===============================