Tuesday, August 28, 2018

18>ভ্রমন টাকি 1দিনের টুর

18>ভ্রমন টাকি 1দিনের টুর
একদিনের জন্য আদর্শ ট্যুর।
    <---©-আদ্যনাথ--->


সকাল ৮:২০তে হাসনাবাদ লোকাল ধরে ১০:২০ তে টাকি রোড স্টেশনে।

 নেমে মোটর ভ্যান এ ইছামতি নদীর তীরে।
মাথাপিছু ১৫ টাকা ভাড়া।

এরপর একটু ঘুরে দরদাম করে একটা টোটো নিয়ে প্রথমে মিনি সুন্দরবন দেখা।
ভাড়া দরদাম করে নিতে হবে,মোটামুটি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা জনপ্রতি।
একেবারে বাংলাদেশ বর্ডার ঘেসে মিনি সুন্দরবনে।
BSF এর কাছে পরিচয় পত্র জমা রেখে,সই করে যেতে হবে।
তাই পরিচয়পত্র নিতে ভুলবেন না।
এরপর দারুন ম্যানগ্রোভ অরণ্যের স্বাদ।
পরের গন্তব্য মেজর শঙ্কর রায়চৌধুরীর বাড়ি,

এরপর দেখলাম চাঁদের পাহাড়,বিসর্জন শ্যুটিং স্পট।

তারপর কোটেশরী কালি মন্দির।
এরপর মোহনা,যেখানে ইছামতি এক অপরূপ রূপ ধারণ করেছে বর্ষাতে মেতে।
অপরূপ এই রূপের জন্য ইছামতি দুই বাঙলার মেলবন্ধন ঘটিয়াছে।

এর পর গেলাম ইকো ট্যুরিজম পার্ক এ
এখানে থাকা,খাওয়া,ও বোটিং এর ব্যবস্থা আছে।

পাশে রয়েছে অনেক ইটভাটা।

তারপর দেখলাম টাকি কালীবাড়ি,মা এখানে খুব জাগ্রত।

সবশেষে টাকি রামকৃষ্ণ মিশন,আর ৪০০ বছরের দুর্গাবাড়ি।
যেখানে প্রতি বছর পুজো হয়।
আর সবশেষে বলতে হয় ইটভাটা,

টাকি ঘুরে আসুন,খুব ভালো লাগবে,একদিনের জন্য।
আমরা ২:৫৪ হাসনাবাদ লোকাল ধরে বিকেল ৫:২৫ এ শিয়ালদা নামলাম।

ছুটির একটা দিন এভাবেই উপভোগ করা গেল।
একদিনের জন্য আদর্শ ট্যুর।
যেতে পারেন সবাই।।
টাকি ভ্রমন

                            <---©-আদ্যনাথ--->

17>ভ্রমণে শিখেছি:::--(1--23)

 
17>ভ্রমণে শিখেছি:::--(1--23)
      
        (1)
ভ্রমন এক নেশা---
যে নেশা দেখায় নুতন দিশা।
মনের অতৃপ্ত বাসনার মাঝে,
একটু তৃপ্তি খুঁজে পাওয়া।
    <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী  --->
===========================
            (2)
ভ্রমণ মানেই একটু আনন্দ উপভোগ করা,
একটু খোলা হওয়ায়,হারিয়ে যাওয়া,
একটু একান্তে জিরিয়ে নেওয়া।
    <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী  --->
===========================
             (3)
ভ্রণের সার্থকতা নিজেকে খুঁজতে,
আগামী দিনগুলো-সুন্দর করে বাঁচতে,
একটু মিঠে হওয়া, বুকে ভরে নিতে,
প্রকৃতির মাঝে নিজেকে উপভোগ করতে।
  <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী  --->
===========================
               (4)
ভ্রমন এক নেশা--
নিজেকে সম্পুর্ন উপভোগ করা,
অজানাকে কাছে থেকে জানা।
নিজেকে প্রকৃতির সাথে মিশেয়ে নেওয়া,
কিছু সময় নিরালায় থাকা।
  <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী  --->
===========================
          (5)

ভ্রমণ এক অহঙ্কার,
কিছু নুতন বন্ধু জুটিয়ে নেওয়ার,
মনের আবেগ ভাগকরে নেওয়ার।
কিছু ভালো লাগা, কিছু মানিয়ে নেওয়ার।
কিছু মনের কথা বলার,
কিছু নুতন ভাবনা ভাবার।
  <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী  --->
===========================
             (6)

ভ্ৰমণ,কিছু স্বপ্ন দেখা,
কিছু সময় হারিয়ে যাওয়া।
কিছু পাওয়া না পাওয়া,
নুতন ভাবনায় দোল খাওয়া।
যেটুকু পাওয়া, সেইটুকুই স্মৃতি হয়ে থাকা।
  <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী  --->
===========================
               (7)
ভ্রমণের স্মৃতি,অবসর জীবন যাপনের,
উঠকৃষ্ট ঔষধি ও মনের শক্তি।
  <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী  --->
===========================
            (8)
ভ্রমণের স্মৃতি,
নিরালায় বসে কিছু ভালো লাগা
 উপভোগ করা।
অবসর জীবনের প্রকৃত আনন্দ নিজে খুঁজে নেওয়া।  
প্রকৃতির মাঝে নিজেকে খুঁজে পাওয়া,
থাকেনা কোন অপূর্ন, চাওয়া পাওয়া।
     <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী  --->
===========================
              (9)
প্রকৃতিকে ভালো বেসেছি,
তাইতো ভ্রমণ করে অনেক শিখেছি। 
ভ্রমণের সুন্দর চিন্তা আর ভ্রমনের জন্য অর্থ ও সময় ব্যায়।
সেতো একান্ত নিজের ভালোলাগার জন্য,
ভ্রমনের আনন্দ স্বর্গ সুখের সমান।
    <-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->
=====================
             (10)
ভ্রমন, প্রেমিকার মতন সুন্দর ও মনের মতন।
সেই প্রেমিকা যদি হয় প্রকৃতী,
তবে মন প্রাণ ভরে যায় অজান্তে।
   <-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->
==========================
                (11)
ভ্রমণ পৃথিবীর একমাত্র জিনিস যার 
মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় নতুন প্রাণশক্তি ।
 <-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->
==========================
            (12)
অর্থ সম্পদ যতই থাক, 
ভ্রমনেই পাওয়া যায় নতুন প্রাণশক্তি।
 <-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->
==========================
             (13)
কোন মানুষই ভ্রমণ করেনা,
প্রকৃতিই সঠিক মানুষকে খুঁজে নিজে ভ্রমন করায়।
 <-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->
==========================
             (14)
ভ্রমণ এমনি এক মন মুগ্ধ কর নেশা,
আমৃত্যু ভোলা যায়না সে নেশা। 
ভ্রমণ এক ভীষন ভাইরাস,
যে আক্রান্ত হন এহেন ভাইরাসে,
জীবন ধ্যান মনে করে নিজেকে।
   <-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->
===========================
            (15)
ভ্রমণেই মানুষ নিজেকে চেনে জানে,
এই পৃথিবীতে কর ক্ষুদ্র সে নিজে।
 <-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->
===========================
              (16)
ভ্রমণ অনেক অচেনাকে চেনায়,
বয়সের ভারকে ভুলতে শেখায়,
সথে সহনশীলতা ও সহিষ্ণুতা শেখায়।
 <-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->
===========================
                (17)
ভ্রমণে কিছু আবিষ্কার করতে পাড়ুন বা নাই পাড়ুন,
প্রকৃতির সৌন্দর্য মন প্রাণ ভরে উপভোগ করুণ।
 <-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->
===========================
               (18)
বিশ্ব ব্রহ্মান্ড ঘুড়ে দেখা একজন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়,
তবে যেটুকু সম্ভব সেইটুকুই মন দিয়ে দেখে নিতে হয়।
ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখার চাইতে ঘরের বাইরের প্রকৃতির সাথে নিজেকে মিশিয়ে নেওয়া সহস্র গুণে শ্রেয়।
 <-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->
===========================
              (19)
প্রকৃতি এক সুন্দর রঙিন খোলা বই
এই বইকে জানতে ও পড়তে
প্রয়োজন সুন্দর মানসিকতার সাথে
আর প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতে। 
 <-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->
 ====================≠=======
             (20)
যাকে তুমি ভালোবাসোনা
তার সাথে ভ্রমণে যাওয়া উচিত নয়।
সমুদ্রপারে বা পাহাড়ে গেলে 
মন ভালো হয়ে যায়,
সব দুঃখ বেদনা ভুলতে সহায় হয়।
 <-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->
===========================
         (21)
ভ্রমণের নেশাগ্রস্ত মানুষ 
সর্বদা ভ্রমণকে প্রশ্রয় দেয়।
অলস মানুষ প্রকৃতিকে না বুঝে
সর্বদা অযুহাত দেখায়।
 <-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->
===========================
          (22)
ভ্রমণ নিঃস্বর্থ প্রকৃতির শিক্ষাদেয়,
ভ্রমণে প্রকৃতির সৃষ্টি রহস্য জানাযায়।
প্রকৃতির মাঝে ভ্রমণে যা শেখা যায়,
কোন পুস্তকই তার সমকক্ষ নয়।
 <-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->
===========================
              (23)
पर्यटक के लिये, अगर पता उनकी मन पसंद के अनुसार किसी खूबसूरत जगह है।
तब रास्ता कितना भी कठिन क्यों न हो,
उस रास्ते पर चलने का मजा ही अलग है।
      <----आद्यनाथ राय चौधुरी--->
===================≠=====




Tuesday, August 7, 2018

16>|| ভ্রমন হাজার দুয়ারী , মুর্শিদাবাদ ভ্রমন।

16>||  -হাজার দুয়ারী , মুর্শিদাবাদ ভ্রমন।
                         <---©-আদ্যনাথ--->


(শুক্রবার মিঊজিয়াম বন্ধ থাকে। )

হাজার দুয়ারীর::---এই হাজার দুয়ারী এবং
মুশিদাবাদ কে জানতে  চিনতে একটু ঘুরে দেখতে,
প্রয়োজন একটু জেনে নেওয়া।
আমি চেষ্টা করছি সেই দীর্ঘ কাহিনীর
সামান্য  তুলে ধরতে চারটি অংশে।
Part ( A ) ( B ) ( C ) ( D )এই 4 অংশে :::-------

Part ( A ). ||--পলাশীর যুদ্ধ::-||

23শে জুন 1757 পলাশীর যুদ্ধে,
ডুবে গিয়েছিলো স্বাধীন বাংলার সূর্য।
সিরাজউদ্দৌলা প্রাণ দিয়েও পারেননি,
রক্ষা করতে ভারতের স্বাধীনতা।
মিরজাফরের এমন বিশ্বাসঘাতকতা।

বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা জানলেন, 
ইংরেজ বাহিনীর ধুর্ত লর্ড ক্লাইভ এগোচ্ছেন।
কুচক্রী মির্জাফরের সাথে ফন্দি এঁটেছেন,
দখলের জন্য মুর্শিদাবাদে এগিয়ে আসছেন।

নবাব বুঝতে পেরে ছিলেন সকল যুক্তি,
সেনাপতিরাই ভয়ানক ষড়যন্ত্রে যুক্তচুক্তি।
নবাব সিরাজউদ্দৌলার স্বাধীন চেতা মন,
স্বাধীনতা রক্ষা করতে তাঁর দৃঢ় তন মন।

নবাব পেয়েছিলেন বিদ্রোহের আভাস, 
জেনে  মিরজাফরের কুচক্রের রাজ।
মিরজাফরকে বন্দি না করে করলেন মাফ।
পবিত্রকোরান স্পর্শে শপথ করালেন পাঠ।

সেনাপতি কোরান ছুঁয়ে করলেন অঙ্গীকার।
সে নিশ্চই করবেন যুদ্ধ দেশ রক্ষার।
শরীরের একবিন্দু রক্ত থাকতেও বাংলার, 
স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন হতে দেবেনা কোনপ্রকার।

গৃহবিবাদের মীমাংসা করে নবাব নিজে, 
রায়দুর্লভ,ইয়ার লতিফ,মিরজাফর, 
মিরমদন, মোহনলাল ও ফরাসি সেনাপতি, 
সিনফ্রেঁকে সৈন্য চালানোর দায়িত্ব দিয়ে, 
ক্লাইভের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেন।
প্রবল প্রতাপে সিরাজ অগ্রসর হলেন।

23 শে জুন সকালেই পলাশী প্রান্তরে, 
আম্রকাননে ইংরেজরা সমুখ সমরে। 
নবাবের প্রবল আক্রমণে ক্লাইভ ছত্রভঙ্গ,
ক্লাইভ সৈন্য নিয়ে পালালেন দিয়ে রনেভঙ্গ।


সকাল আটটায়  মিরমদন প্রবল বিক্রমে, 
ক্লাইভকে করেন বিধ্বস্ত ভীষণ আক্রমণে। 
মিরমদনের আক্রমণে ক্লাইভ প্রমাদ গুণলেন।
কিন্তু হঠাৎ বিশ্বাসঘাতক নৃশংস মিরজাফর
সুযোগ বুঝে বেইমানি করলেন।
কামানের গোলায় প্রাণ গেল মিরমদনের।
তদুপরি বিশ্বাসঘাতক কুলাঙ্গার মিরজাফর 
ভুলে শপথ রইলেন নিশ্চল যুদ্ধে দিয়া ক্ষান্ত।
মিরজাফরের এমন বিশ্বাসঘাতকতায়
নবাবের  হল পরাজয়।
নবাবের পরাজয়ের সাথে সাথেই 
ডুবে গিয়েছিলো স্বাধীন বাংলার সূর্য।

বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা,
অকৃতজ্ঞ মোহাম্মদী বেগ দ্বারা হলেন 
হত্যা নৃশংস রূপে।
এহেন হত্যার পিছনেও বিশ্বাসঘাতক,
মিরজাফর ছিলেন প্রত্যক্ষ সহায়ক।

বাংলা"মা"কে বাঁধলেন পরাধীনতার শৃঙ্খলে।
অচিরেই বণিকের মান দন্ড প্রকাশিত রাজ দন্ড রূপে।
কুচক্রী শয়তান বিশ্বাসঘাতক মীরজাফর,
গোলাম হয়ে লেহন করলেন ইংরেজের পদতল।
মীরজাফরের বংশ ব্রিটিশদের গোলামি 
ও পদলেহন করে রাজপদ বহাল রাখতে 
পেরেছিলেন মোট 1শত 44 বছর 
(1757-1901)।

নবাব সিরাজউদ্দৌলার নবাবী প্রাপ্তির মাত্র 
এক বৎসর সময়কালে, 
অর্থলোভী আমত্যপরিষদ, চক্রান্তকারী 
আত্মীয়-স্বজন, সকলে মিলে,
কূটকৌশলী ইংরেজ, বিশ্বাসঘাতক সেনাপতি 
মীরজাফরের ষড়যন্ত্রের জালে,
নবাব সিরাজ কে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ফেলে।

স্বাধীনতাকাঙ্খী  নবাব  সিরাজউদ্দৌলার
দেশপ্রেম ও মর্মান্তিক জীবনদান, 
বাঙালির মনে  সিরাজ এক দেশপ্রেমিক 
বীরের মর্যাদায় অভিষিক্ত চিরকাল।

তাইতো:::---
মুর্শিদাবাদ বলতে প্রথমে যেটি মনে আসে 
তা হলো বাংলার ইতিহাসের এক দুঃখদায়ক, 
হৃদয় বিদারক  নায়ক নবাব সিরাজউদ্দৌলা,
এবং সেই সঙ্গে একনিষ্ঠুর শয়তান কুচক্রী, 
বিশ্বাসঘাতক মীরজাফরের নাম।
             <--©--●অনাথ●--->
           【--anrc-07/08/2018--】
           【রাত্রি00:30:17am=】
           【--কোলিকাতা-59--】
 ========================
Part::- ( B )
হাজার দুয়ারী রাজপ্রাসাদ:-
HAZARDUARY PALACE.
বা যাকে বড়া কোঠি::-BARAKOTHI.
বা যাকে বলাহয়::-NIZAMAT KILA
Or located  at Nizamat Kila.
A Italian style Palace Built in the 19th
century and Greek( Doric) style
At Murshidabad district
24.1864°N
88.2687°E
সৌধ তৈরি শুরু 19 আগস্ট 1829
সম্পূর্ণ  হয় ডিসেম্বর 1837
মোট  করছ::- ₹16.50 লক্ষ টাকা।
সৌধের উচ্চতা::-80 ফুট ।
লম্বায়::-130 মিটার ।
প্রস্থে::-61 মিটার ।
Architect:(আর্কিটেক)::- Colonel Duncan
Macleod.
Located in the Campus of Kila
Nizamat.
তৈরি করেছেন ::- নবাব নাজিম হুমাউন জাঁ ।
বাংলা, বিহার উড়িষ্যার নবাব (1824--1838)
তখন গভর্নর জেনারেল ছিলেন;-
William Cavendish.
1985 তে সৌধ টি Archaeological Survey
 of India হস্তান্তরিত হয়।

হাজার দুয়ারীর পুরোনো কথা:::-------

সেই মুর্শিদাবাদ আর নাই।
তবে মুর্শিদাবাদ বলতে  প্রথমেই মনে আসে
বাংলার ইতিহাসের এক দুঃখদায়ক বীর নায়ক
নবাব সিরাজউদ্দৌলা এবং সেই সঙ্গে এক
বিশ্বাসঘাতক মীরজাফরের নাম।

"মোগল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের প্রপৌত্র বাংলার 
সুবেদার আজিমু-শান্ এর সঙ্গে বিরোধে
জড়িয়ে দেওয়ান মুর্শিদকুলী খাঁ যখন
দেওয়ানি সদর দফতর রাজধানী
জাহাঙ্গীরনগর (বর্তমান ঢাকা) থেকে
মকসুদাবাদে স্থানান্তর করেন।
তখন থেকেই অখ্যাত জঙ্গলাকীর্ণ
সে অঞ্চলের শ্রীবৃদ্ধি হতেতে থাকে
এবং ক্রমে তা মুর্শিদাবাদ নগরীতে
পরিণত হয়।"

দিল্লীর মোগল সম্রাট ১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে 
মুর্শিদকুলী খাঁ কে বাংলার সুবেদার
মনোনীত করলে ঢাকার পরিবর্তে
মুর্শিদাবাদই রাজধানীর মর্যাদা লাভ করে।

তখন এটি হয়ে ওঠে ব্যবসা-বাণিজ্য-
রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র।

বিভিন্ন রাজকীয় প্রাসাদ, সুরম্য অট্টালিকা,
খাজাঞ্চিখানা, তোপখানা, সরাইখানা,
সেনা ছাউনি, টাকশাল, হাতিশাল,
ঘোড়াশাল নির্মিত হলো।
অভিজাত ধনাঢ্য ব্যক্তিরা রাজধানী
মুর্শিদাবাদে এসে বসতি স্থাপন করতে
শুরু করলেন।
ইংরেজ, ফরাসি, ডাচ, আর্মেনীয়রা
রাজধানীর আশেপাশে বাণিজ্য কুঠি স্থাপনে
উৎসাহী হয়ে উঠল।
সুজলা-সুফলা বাংলার রাজধানী
মুর্শিদাবাদের সুনাম ও জৌলুস
ছড়িয়ে পড়লো সর্বত্র।

মুর্শিদকুলী খাঁ মুর্শিদাবাদ নবাবীর পত্তন
করলেও পরবর্তীতে নবাব আলীবর্দিই
মূলত স্বাধীন নবাবী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
ভাগ্যহীন মুর্শিদাবাদের সে গৌরব
আজ আর নেই।
কালের আবর্তে আর ভাগিরথী বক্ষে
বিলীন হয়ে গেছে মুর্শিদকুলী খাঁ নির্মিত
চেহেলসেতুন প্রাসাদ,
সুজাউদ্দিন নির্মিত মহলসরা, ফার্হাবাগ।
নবাব আলীবর্দি নির্মিত মতিঝিল প্রাসাদ,
সিরাজ-উদ-দৌলার সাধের হীরাঝিল
বা মুনসুরাগঞ্জ প্রাসাদ, এনতাজ মহল,
রংমহল।

বর্তমান মুর্শিদাবাদে পর্যটকদের প্রধান
আকর্ষণ হাজার দুয়ারী প্রাসাদ,
যা এখন মিউজিয়াম হিসাবে ব্যবহৃত
এবং ‘হাজার দুয়ারী প্যালেস মিউজিয়াম’
নামে খ্যাত।
এটি নির্মিত হয় নবাব হুমায়ূন জাঁ’র আমলে।
তিনি মীরজাফর প্রতিষ্ঠিত নবাবীর
অষ্টম উত্তরাধিকারী এবং বংশধর
হিসাবে পঞ্চম।
1829 সালের 29 আগস্ট বড়লাট
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের উপস্থিতিতে
স্থপতি কর্নেল ম্যাকলিয়ড ডানকানের
তত্ত্বাবধানে গ্রিসিয়াম ডোরিক স্থাপত্যের
এই সুরম্য প্রাসাদের নির্মাণ কাজ শুরু হয়
এবং দীর্ঘ আট বছরে নির্মাণ সম্পন্ন হয়।

তৎকালীন সময়ে এর নির্মাণ ব্যয় ছিল
এক লক্ষ সাতষট্টি হাজার পাউন্ড
বা সাড়ে ষোল লক্ষ টাকা।

বিশালাকার তিনতলা বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন
প্রাসাদটিতে আসল-নকল মিলে
হাজারটি দরজা থাকায় লোকমুখে
এর নামকরণ হয় ‘হাজার দুয়ারী’।
প্রাসাদের সামনে সুরম্য উদ্যান
ও বিস্তারিত  সবুজ প্রাঙ্গণ। 

প্রাঙ্গণের অন্য প্রান্তে বিশাল ইমামবাড়া।
পূর্বে এ স্থানে সিরাজ-উদ-দৌলা নির্মিত
কাঠের ইমামবাড়া অবস্থিত ছিল।
1846 সালে অগ্নিকাণ্ডে সেটি
ভস্মিভূত হয়ে গেলে পরবর্তী সালে
হুমায়ূন জাঁ’র পুত্র ফেরাদুন জাঁ বর্তমান
ইমামবাড়াটি নির্মাণ করেন।

এটি এ উপমহাদেশের বৃহত্তম ইমামবাড়া।
হাজার দুয়ারী ও ইমামবাড়ার মধ্যস্থলে
সিরাজ নির্মিত মদিনা মসজিদ।

সিরাজের এই একটি মাত্র কীর্তিই
এখানে বর্তমান।
মদিনার কারবালা প্রান্তরের মাটি এনে
এর ভিত তৈরি করা হয়েছিল।
আকারে ছোট হলেও এক সময় মসজিদটি
বহুমূল্য রত্ন খচিত অপরূপ কারুকার্যময়
দরজা-জানালায় শোভিত ছিল।
এখন সে দরজা-জানালা আর নেই।
মদিনা মসজিদের সামনে ঢাকার বিখ্যাত
জনার্দন কর্মকারের তৈরি
18ফুট দৈর্ঘ ও 22ইঞ্চি ব্যাস বিশিষ্ট
বিশালাকার ‘বাচ্চাওয়ালী তোপ’।

প্যালেস মিউজিয়ামের

প্রথম তলা ::-***********

নানা অফিসঘর ও গাড়ি রাখার
জায়গা আছে
এক তলার মধ্যভাগে রয়েছে বিখ্যাত
অস্ত্রাগার।

ইতিহাস খ্যাত রাজা-বাদশাহদের ব্যবহৃত
অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে নাদিরশাহের বর্ম ও
মোচাকৃতি ফলাযুক্ত বল্লম। শেরশাহের
লৌহ শিরস্ত্রাণ,
নবাব আলীবর্দির তলোয়ার,
সিরাজের ব্যবহৃত তরবারী
ও সাত নলা বন্দুক,
ফার্সি লিপিযুক্ত গন্ডারের চামড়ার ঢাল।
সংরক্ষিত আছে লৌহ নির্মিত কয়েকটি কামান
ও নৌকায় ব্যবহারের উপযোগী পিতল নির্মিত
7 টি ছোট আকৃতির কামান।
চল্লিশটি ছোটবড় পিস্তলের মধ্যে একটি
রুপার বাটযুক্ত ক্ষুদ্রাকৃতি পিস্তল,
বিভিন্ন ধরনের বন্দুক, একটি স্টিক বন্দুক।
অসংখ্য তরবারি ও ছোরা যার মধ্যে
অনেকগুলি হাতির দাঁত ও রুপার বাটযুক্ত।
রয়েছে ইংরেজ, ফরাসি ও মোগলদের
ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র।
পলাশীর যুদ্ধে যে কামান বিস্ফোরিত হয়ে
সিরাজের বিশ্বস্ত সেনাপতি মিরমদন
নিহত হয়েছিলেন, সে কামানটি
এবং অকৃতজ্ঞ মোহাম্মদী বেগ যে ছোরা দিয়ে
নিষ্ঠুরভাবে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলাকে
হত্যা করেছিল সেটিও সযত্নে
রক্ষিত আছে হাজার দুয়ারীর
সংগ্রহশালাময়।

বর্তমানে অস্ত্রাগার,
অফিস-কাছারি ও রেকর্ডরুম রয়েছে।
অস্ত্রাগারে মোট 26শত টি অস্ত্র আছে।
পলাশির যুদ্ধে ব্যবহৃত অনেক অস্ত্রও
এখানে আছে।
পলাশির প্রান্তরে ব্যবহৃত
মীর মর্দনের কামানটিও রয়েছে এখানে।
এছাড়া উল্লেখযোগ্য যে অস্ত্র রয়েছে এর মধ্যে
–আলীবর্দীর ব্যবহৃত তলোয়ার
ও বহুনল বিশিষ্ট বন্দুক,
নাদিরশাহের শিরস্ত্রান, মীরকাসিমের ছোরা,
বিভিন্ন ধরন ও আকারের কামান,
ছোরা ইত্যাদি।

যে ছোরার সাহায্যে মোহাম্মদী বেগ সিরাজকে
হত্যা করেন সেটিও এখানে রক্ষিত আছে।


দুই ও তিন তলায় ::--****************

আর্ট গ্যালারি ও লাইব্রেরি।
গ্যালারিতে বহু বিখ্যাত চিত্র শিল্লীর চিত্রকলা
স্থান লাভ করেছে- যেমন
The Burial of Sir John More,
Adom & Eve, Black Bent।"
"এছাড়া এখানে রয়েছে
প্রিন্স হাসান আলী মীর্জা
ও হুসেন আলী মীর্জার
শৈশবের পেইন্টিং।
এর বিশেষত্ব হলো, ছবিগুলো
যেদিক থেকেই দেখা হোক না কেন;
মনে হবে যেনো শিশু দু’টি
দর্শকের দিকেই ঘুরে আছে।
এমনকি তাদের জুতো, কোল-বালিশ
ও জুতার ফিতা
পর্যন্ত সব দর্শকের দিকে।

লাইব্রেরিতে রয়েছে বহু ধর্মপুস্তক,
চুক্তিপত্র, নাটক, নভেল, তাম্রলিপি, ইতিহাস,
প্রয়োজনীয় দলিল-দস্তাবেজ
ও বিদেশি ভাষার গ্রন্থ ইত্যাদি।

আবুল ফজলের আইন-ই-আকবরির
পাণ্ডুলিপিও রয়েছে এখানে।
এখানে রয়েছে একটি অ্যালবাম আছে
যা তিন হাত দীর্ঘ ও প্রস্থে দুই হাত,
ওজন 20 কেজি।
এছাড়া রয়েছে বাগদাদের বিখ্যাত লেখক
হারুন অর রশিদের হস্তলিখিত কোরান।"


দ্বিতীয় তল::--********

দরবার হল, পাঠাগার, অতিথিশালা।
দ্বিতলে আর্ট গ্যালারিতে আছে বিখ্যাত
 চিত্রকরদের আঁকা মুর্শিদকুলী খাঁ থেকে
ওয়ারেস আলী মির্জা পর্যন্ত 18 জন নবাব,
11 জন দেওয়ান ও নবাবের তৈলচিত্র।
হার্ডসনের আঁকা লর্ড কর্নওয়ালিসের ছবি,
দরবারে নিযুক্ত কয়েকজন বৃটিশ প্রতিনিধি
ও কয়েকজন নবাবের শৈশবের ছবি।
রয়েছে জন মার্শালের আঁকা বিখ্যাত ছবি
‘বেরিয়েল অব স্যার জন মুর’।
ইংরেজ-ফরাসি যুদ্ধে নিহত জন মুরকে
রাতের বেলা চন্দ্রালোকে সমাহিত করার
দৃশ্যে আলোছায়ার অপূর্ব সমন্বয়ে চিত্রিত
মোহময় জ্যোৎস্না দর্শক দৃষ্টিকে মোহাবিষ্ট
করে তোলে।
পৃথিবীর মাত্র দু’টি স্থানে সংরক্ষিত এই ছবির
মধ্যে এটি দ্বিতীয়।
অন্যটি বৃটিশ মিউজিয়ামে।
’সেন্টমেরী’র একটি অনন্য সুন্দর তৈলচিত্রের
চিরনতুন অঙ্কন শৈলী দর্শকদের আকৃষ্ট করে।
কিং উইলিয়াম দ্য ফোর্থের একটি পোর্টেট
যা রাজা স্বয়ং উপহার হিসাবে
নবাব হুমায়ূন জাঁ কে প্রদান করেছিলেন
সেটিও সংরক্ষিত আছে।

এ ছাড়া ভ্যান ডিউক, গিরীজা শঙ্কর ও নবাব
সাদেক আলী মীর্জার কয়েকটি চিত্রকর্ম
রয়েছে।
প্যালেস মিউজিয়ামের লাইব্রেরিটি অনেক
মূল্যবান ও দুষ্প্রাপ্য ইংরেজি, উর্দু, ফার্সি
গ্রন্থে সমৃদ্ধ।

প্রদর্শনের জন্য যেগুলি উন্মুক্ত আছে
তার মধ্যে বাগদাদের বিখ্যাত
হারুন-আল-রশিদের হস্তলিখিত এবং নকশা
শোভিত কোরআন, আবুল ফজলের
আইন-ই-আকবরী গ্রন্থের মূল পাণ্ডুলিপি ,
প্রায় 800 বছরের পুরনো কোরআন শরীফ
উল্লেখযোগ্য।

মাত্র দুই ইঞ্চি সাইজের একটি হস্তলিখিত
কোরআন শরীফও এখানে দেখা যায়।
সাড়ে চার ফুট দৈর্ঘ ও তিন ফুট প্রস্তের
 বিশালাকার একটি অ্যালবাম রয়েছে,
যার ওজন প্রায় 20 কেজি।
সংরক্ষিত আছে ঐতিহাসিক চুক্তিপত্র,
 অনুমোদনপত্র, নিয়োগপত্র, রাজকীয়
ফরমান, দলিল, তারপ্রতিলিপি,
রাজা-বাদশাহের সীলমোহর ও মনোগ্রাম।

দ্বিতলে সবচেয়ে আকর্ষণীয় যে অংশটি
সেটি দরবার।
সুরম্য দরবার হলটি গোলাকার।
চারদিকে চারটি দরজা।
দুই দরজার মাঝখানে মার্বেল পাথরের দুটি
বিশালাকৃতির সুদৃশ্য মোমবাতি স্ট্যান্ড।
 80 ফুট উচ্চতার গোলাকৃতি ছাদ
 গ্রিক শিল্পকলায় সজ্জিত।
ছাদের কেন্দ্রে ঝুলানো 101টি বাতিবিশিষ্ট
ভিক্টোরিয়ান ঝাড়।
দরবারের দক্ষিণ দিকে মার্বেল পাথরের
পাটাতনের ওপর সোনার কারুকাজ
বিশিষ্ট রৌপ্য নির্মিত সিংহাসন।
ওপরে বিশাল রুপোর ছাতা এবং
সামনে রৌপ্য নির্মিত আলবোলা।
দেয়ালে বৃটিশ প্রতিনিধির উপস্থিতিতে
নবাব হুমায়ূন জাঁয়ের দরবার পরিচালনার
একটি সুবৃহৎ তৈলচিত্র।
দেয়ালের ওপরের দিকে চারটি ঝরোকা।


তৃতীয় তল::----******

বেগম ও নবাবদের থাকার ঘর। 
ত্রিতলে অবস্থিত বেগম মহলের
মহিলাদের দরবার প্রত্যক্ষ করার
জন্য এ ব্যবস্থা।

রাজকীয় প্রদর্শনে রয়েছে সম্রাট
শাহজাহানের ব্যবহৃত হস্তিদন্ত
নির্মিত তাঞ্জাম।

সম্রাট ঔরঙ্গজেব কন্যা জেবুন্নেছার
রৌপনির্মিত রাজকীয় পালকি,
নবাব ফেরাদুন জাঁয়ের হাতির দাঁতের পালকি,
দু’টি রুপো এবং দু’টি হাতির দাঁতের তৈরি
সুদৃশ্য হাওদা (হাতির পিঠে বসার আসন)।
এছাড়া স্ফটিক ও পাথরের ভাস্কর্য, হাতির
দাঁতের শিল্পকর্ম, খাদ্যে বিষক্রিয়া যাচাইয়ের
টেস্টিং প্লেট, রাজকীয় পোশাকসহ অনেক
শৈল্পিক ও ঐতিহাসিক নিদর্শন।

একটি আর্শ্চয্য আয়না এমনভাবে স্থাপিত
 আছে যার সামনে দু’তিন জন দাঁড়ালে
নিজের প্রতিবিম্বটি নিজে কেবল
দেখা যায় না।
এক নাগাড়ে দেখতে গেলেও সাড়ে তিন
ঘণ্টাসময় লাগে মিউজিয়ামের কক্ষগুলো
ঘুরে দেখতে ।

  অভ্যন্তরে অসংখ্য দুষ্প্রাপ্য ও মূল্যবান
ঐতিহাসিক নিদর্শন, চিত্রকর্ম, শিল্পসম্ভারের
সমৃদ্ধ সংগ্রহের জন্য এ মিউজিয়ামটি
গর্ব করতেই পারে।

 =====================
খোসবাগ:::---

সুবে-বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব
সিরাজ-উদ-দৌলার সমাধিক্ষেত্র খোসবাগ

 খোসবাগ দর্শন না করলে যে বাঙালির
মুর্শিদাবাদ ভ্রমণ অপূর্ণই থেকে যায়।

বাংলা-বিহার-ওড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব
 সিরাজউদ্দোলার সমাধি দর্শনে দেখার মত
বিশেষ কিছু নেই। তবে বাগানটি বহুৎ ভাল ।
গোলাপের অনেক ভ্যারাইটি আছে।
এখানে শুধু চোখ দিয়ে দেখলেই হবেনা
হৃদয় দিয়ে কিছু অনুভবেরও করার আছে।

লালবাগ থেকে ভাগীরথী পার হয়ে
দক্ষিণদিকে প্রায় এক মাইল দূরে শান্ত নির্জন
পরিবেশে শায়িত আছেন সুবে বাংলার
শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা।

নবাব আলীবর্দী খাঁ জীবিত থাকাকালেই
নিজ সমাধির জন্য নির্মাণ করেছিলেন
প্রাচীর বেষ্টিত এবং সুগন্ধী পুষ্পবৃক্ষ
শোভিত খোসবাগ।

এখানে আলীবর্দীর পাশেই প্রিয়
সিরাজের সমাধি।

সিরাজের পদপ্রান্তে বেগম লুৎফা।
পূর্ব দিকে সিরাজের ভ্রাতা মীর্জা মেহেদী,
অত্যন্ত সাধারণ সমাধি ক্ষেত্র।
আড়াইশ বছরের ইতিহাসের জীর্ণ,
এখানকার নির্জনতায়, হৃদয় আপ্লুত
শ্রদ্ধা ভালবাসার এক গভীর আবেগে।

সমাধির পাশে নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে কি এক
শিহরিত আবেশে আপনা হতেই চোখ বুজে
আসে ইতিহাসের অনেক কথাই মনে
করিয়ে দেয়।

         <--©--●অনাথ●--->
           【--anrc-05/08/2018--】
           【রাত্রি09:30:17pm=】
           【--কোলিকাতা-59--】
""====================++++

Part::-( C )
জীবনে হয়তো ঘুড়ে বেরিয়েছেন অনেক,
একবার দেখে আসুন নগরী মুর্শিদাবাদ।

(শুক্রবার মিঊজিয়াম বন্ধ থাকে। )

যেখানে পাবেন অতীতের বিশ্বাসঘাতকতা
ও রক্তাক্ত নিষ্ঠুর ইতিহাসের অনেক কথা।
এখান থেকেই শুরু হয়ে ছিল প্রচন্ড
এক বিশাল উপমাহাদেশ খন্ড বিখন্ড।
জেনে নিন সেই নিষ্ঠুর ইতিহাসকে ।
বেশি দূরে হবেনা যেতে জানতে ইতিহাসকে।
মাত্র 240কি,মি, দূর কোলকাতা থেকে,
রাত্রে ট্রেনে চরলে ভোরে হবার আগেই,
পৌঁছেযাবেন মুর্শিদাবাদ জংশনে।
প্রথমেই দেখে শুনে একটু ভালো হোটেল
সারাদিনের জন্য বুক করে নিন।
এবারে বলেনেই কিকি দেখবেন এখানে::--
1>-হাজার দুয়ারী ,
2>নবাব সুজা উদ্দিনের কবর,
3>আজিমুন্নেসার কবর,
4>মীর জাফরের কবর,
5> কাঠ গোলা বাগান বাড়ি,
6>ফুতী মসজিদ,
7>কাটরা মসজিদ,
8> মতিঝিল পার্ক,
দিনভর ঘুরে আবার রাত্রে ট্রেন ধরে,
আসতে পারেন কোলকাতায় ফিরে।
পুরো দিন ভ্রমনের জন্য কার অথবা
এখানে পাবেন টোটো বা অটো
এই টোটো করেই ঘুরতে পারেন দিন ভর।

1>হাজার দুয়ারী :--টোটো বা অটো তে
চলে যান হাজার দুয়ারী।
গেটে টিকিট কেটে ক্যামেরা
মোবাইল জমাকরে,
ভিতরে ঘুরে দেখে নিন রাজার দুয়ারী।
হাজার দুয়ারী বললেও আসলে আসলে
দুয়ার কিন্ত 900টি এবং নকল দুয়ার 100টি।
নকল দুয়ার গুলো দূর থেকে আসলেই মনে হয়।
ভিতরে ঘুরা ঘুরি শেষ হলে ক্যামেরা,
মোবাইল ফেরত নিয়ে হাজার দুরারির
প্রাঙ্গনে ছবি তুলতে পারবেন ।
ইতিহাসের অনেক ঘটনার নিদর্শন
রয়েছে এই হাজার দুয়ারিতে ।
হয়তো কোন জায়গায় পেলেও পেতে
পারেন নবাব সিরাজ দৌল্লাকে।
হাজার দুরারী দেখা শেষ হলে আবার
টোটো তে করে চলে আসুন
নবাব সুজা উদ্দিনের কবরে ।

2>নবাব সুজা উদ্দিনের কবর::---
হাজার দুয়ারির পাশ দিয়ে বয়ে চলা
ভাগীরথী নদীর পাশে নবাব সুজা উদ্দিনের কবর।
শান্ত নিরব কবর খানা তবুও
ইতিহাসের অনেক গল্পই আছে এখানে।
তারপরে আবার টোটো করে চলে আসুন
আজিমুন্নেসার কবর দেখতে ।

3>আজিমুন্নেসার কবরঃ
নবাব মুর্শিদ কুলি খাঁরয়ের কন্যা আজিমুন্নেসা
তাকে নিয়ে অনেক প্রবাদ গল্প আছে
তবে সে গুলোর কতটা সত্য সেটা জানিনা।
তারপরে চলেযান

4>মীর জাফরের কবরঃ

এনিইতো সেই  কুচক্রী বিশ্বাসঘাতক
শয়তান  মীর জাফরের কবর।
যার বিশ্বশাসঘাতকতা ও চক্রান্তে
বাংলার নবাব সিরাজ দৌল্লার মৃতু।
তার পরে চলে আসুন

5> কাঠ গোলা বাগান বাড়িঃ

হাজার দুয়ারির পর আর একটা সুন্দর
জায়গা এই কাঠ গোলা বাগান বাড়ি ।
যদিও এটা প্রাইভেট প্রোপার্টি
তথাপি অনেক কিছুই দেখার আছে এখানে।
জানলাম এখানকার বসবাস করি রা
সুদুর পাঞ্জাব থেকে এখানে এসেছিলেন ।


তরপরে চলেযান

6>ফুতী মসজিদ::--

ইতিহাসের অনেক সাক্ষী এই ফুতী মসজিদ ।
প্রবাদে আছে এক রাতেই নাকি
তৈরী করা হয়েছিল এই মসজিদ ।
এখন মসজিদের উপরের অনেক কিছুই
নষ্ট হয়ে গেছে।
তার পরেও এই মসজিদ দেখার মতন
একটা মসজিদ এই ফুতী মসজিদ ।
এখানে সিড়ি বেয়ে (বেশ একটু কষ্ট কর )
উপরে উঠে পুরো মুরশিদাবাদ দেখার
মজাই আলাদা আর সেই সাথে অনুভব করবেন
সেই আমলের মুসলমান শাসকদের
মসজিদ প্রীতির উজ্জ্বল ভালবাসাকে ।

তারপরে :::--
7>কাটরা মসজিদঃ

মুর্শিদাবাদের সব থেকে বড়
ঐতিহাসিক মসজিদ এই কাটরা মসজিদ ।
এখানে এর সিড়ির নিচেই আছে এক কবর
যে কবরে রয়েছেন নবাব মুর্শিদ কুলি খাঁ ।
ইতিহাসে আছে তার ঘনিষ্ঠ একজনকে
মৃত্যু দন্ড দেবার কারনে তিনি চেয়েছিলেন
তার কবর যেন মসজিদের সিঁড়ির নিচে দেওয়া হয় ।
যাতে করে সকলের পায়ের ধুলো
তার কবরের উপর পরে,
তাতেই তাঁর পাপের প্রাশ্চিত্ত হবে।


তারপরে চলে যান

8> মতিঝিল পার্ক:::--

সাজানো গুছানো সুন্দর একটা পার্ক
যেখানে নবাব সিরাজ এর
অনেক সৃতি রয়েছে ।

             <--©--●অনাথ●--->
           【--anrc-06/08/2018--】
           【রাত্রি02:30:17am=】
           【--কোলিকাতা-59--】

==========================
Part::-( D )
হাজার দুয়ারী
হাজারদুয়ারি অবস্থান ভারতে
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ জেলায়
লালবাগ নামক অঞ্চলে।
ঐতিহাসিক প্রাসাদ ও জাদুঘর
অনেকে ভুল করে ভাবেন যে,
এই প্রাসাদ বুঝি
নবাব সিরাজউদ্দৌলার তৈরি।
আসলে এটি তৈরি করয়েছেন
নবাব হুমায়ুন জা।
ইউরোপিয় স্থপতি দিয়ে এই প্রাসাদ বানান ৷
ব্রিটিশ যুগে বাংলায় এক বৈশিষ্টপূর্ণ
ঐতিহাসিক নিদর্শন হল হাজারদুয়ারি।
বিশালাকার এই প্রাসাদে প্রত্যেকটি হলঘর
অনুপম সৌন্দর্যের আলোকে সজ্জিত।
বাংলার নবাবি আমলে স্থাপত্যকলার
আর এক উজ্জল প্রতিফলন হল
এই হাজারদুয়ারি প্রাসাদ।

"বর্তমান কম্পাউন্ডের আয়তন 41 একর।
এই প্যালেসের সামনে রয়েছে বাগান।

একতলা প্যালেসের সামনের বিশাল সিঁড়ি
দরবার কক্ষ পর্যন্ত উঠে গেছে।

সামনে লম্বা গোলাকার স্তম্ভে সুন্দর
নকশার কাজ রয়েছেও সিঁড়ির
দু’পাশে দু’টি সিংহ মূর্তি,
ও দু’টি ছোট সেলামি কামান
এর সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এই সেলামি কামানের মাধ্যমে নবাবরা
ব্রিটিশরা আসলে তাদের সেলাম দিতেন।

এভাবে সেলাম দিয়ে পরবর্তী দেড়শো বছর
রাজত্ব করেছে এই হাজার দুয়ারি
প্রাসাদের রাজবংশ।"
"হাজারদুয়ারি প্রাসাদে সংগৃহীত
সামগ্রীর বর্ণনা দিয়ে শেষ করা যাবে না।
নবাবি আমলের অনেক জৌলুসই
এখানে দেখা যাবে।

 প্রাসাদ ভবনে প্রবেশদ্বারের ঠিক
উপরেই রয়েছে একটি প্রতীকী
খোদাই চিত্র যাতে রয়েছে
একটি সিংহ ও একটি ঘোড়া।
ঘোড়াটি শেকল দিয়ে বন্দি কিন্তু সিংহটি মুক্ত।
এই সিংহ ব্রিটিশরাজত্বের প্রতীক আর
বন্দি ঘোড়া পরাধীন নবাবি ও পরাধীন বাংলার প্রতীক।
এভাবেই কেটে গেছে পরাধীনতার 1শ 90 বছর।"
হাজারদুয়ারি প্রাসাদের
এর পাশ দিয়ে ভাগীরথী বয়ে চলেছে বহুদূরে।
সাধারণত এই প্রাসাদটি বহু দরজাবিশিষ্ট,
তাই একে "হাজারদুয়ারি" বলা হয়।
বাহ্যিক ও ভিতরের দিক থেকে
হাজারদুয়ারিতে অনেক দরজা দেখা গেলেও
এর মধ্যে অনেক দরজাই আসালে নকল,
অথচ দূরথেকে আসল বলে মনে হবে।
হাজারদুয়ারি চমক শুধু তার দুয়ারেই নয়।
ঘর গুলিও মনোমুগ্ধকর অতি মনোরম।
এমন জিনিস না দেখলে বলে বোঝানো যায় না।
সতেরশ শতাব্দী থেকে ইংরেজ শাসনের
আগে পর্যন্ত সুবা বাংলা, বিহার ও ওড়িষার
রাজধানী ছিল মুর্শিদাবাদ শহর ৷
এখানে রাজত্ব করতেন নবাবরা ৷
আসলে এই প্রাসাদ তৈরী হয়
সিরাজ জমানার পরে।

সিরাজের প্রাসাদের নাম ছিল
হীরা ঝিল প্রাসাদ ৷
তা এখন ভাগীরথী নদীতে তলিয়ে গেছে ৷
হাজার দুয়ারী ইউরোপিয় ধাঁচে বানানো ৷
ভাগীরথী নদীর তীরে অবস্থিত ৷

তিনতলায়
বেগম ও নবাবদের থাকার ঘর,
দোতলায়
দরবার হল, পাঠাগার, অতিথিশালা এবং
একতলায়
নানা অফিসঘর ও গাড়ি রাখার
জায়গা আছে  |


বর্তমানে ভারতের পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষন
এখানে একটা সংগ্রহশালা বানিয়েছেন ৷
তবে দুর্বল কাঠামোর জন্য দর্শকদের
তিনতলায় উঠতে দেওয়া হয় না ৷

বিঃ দ্রঃ ---শুক্রবার মিঊজিয়াম বন্ধ থাকে।

"এই প্রাসাদ ভারতবর্ষে ইউরোপীয়
স্থাপত্যকলার এক জীবন্ত নিদর্শন।
বলা যায় |
ভারতবর্ষে ব্রিটিশ আধিপত্য কায়েমের
এক উল্লেখযোগ্য নজির এই
হাজার দুয়ারি প্রাসাদ।

বাংলা বিহার উড়িষ্যায়
মোট তিনটি রাজবংশ নবাবি করেছে।
এর মধ্যে প্রথম দু’টি রাজবংশ ছিলো স্বাধীন।
নাসিরি রাজবংশ যার শুরু মুর্শিদকুলি খাঁ
ও শেষ সরফরাজ খাঁর মাধ্যমে।
এ রাজবংশ মাত্র 24 বছর
রাজত্ব করেছে (1717-1740)।

দ্বিতীয়টি হলো আফসার রাজবংশ
যার শুরু আলীবর্দী খাঁ ও শেষ হয়
সিরাজ-উদ-দৌলার মাধ্যমে।
এই রাজবংশ রাজত্ব করেছে
মাত্র 17 বছর (1740-1757)।

তৃতীয় রাজবংশের নাম নাজাফি
রাজবংশ যার শুরু হয় বিশ্বাসঘাতক
মীরজাফর থেকে আর শেষ হয়
ওয়ারিস আলী মীর্যার মাধ্যেমে।
তারা ব্রিটিশদের গোলামি করে
রাজপদ বহাল রাখতে পেরেছেন
মোট 1শ 44 বছর (1757-1901)।

মাঝে 1882 সাল থেকে
বাংলার নবাব পদটি বিলুপ্ত করে
ব্রিটিশরা শুধু
মুর্শিদাবাদের নবাব পদ রাখে।"


ইতিহাসের ‘
"বৃহদাকার হস্তি লোপ পাইয়াতেলাপোকা
টিকিয়া থাকার রহস্য এখানেই"।

"ব্রিটিশ আধিপত্যস্বীকার করে দেড়শো বছর
গদিতে ছিলো মীরজাফরের বংশধর।
আর ব্রিটিশ আধিপত্যস্বীকার না করায়
"বিশ্বাসঘাতকতার অনলে
নিশ্চিহ্ন হয়েছে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য।"
সেই কারণেই
বলা হয় "হাজার দুয়ারি প্রাসাদে
শেকলবন্দি নবাব "।


বিঃ দ্রঃ ------শুক্রবার মিঊজিয়াম বন্ধ থাকে।
          <--©--●অনাথ●--->
           【--anrc-06/08/2018--】
           【রাত্রি02:30:17am=】
           【--কোলিকাতা-59--】
===============================