ভ্রমণ >শিরডি সাই বাবা--==( বর্ননা )
মহারাষ্ট্রের আহমেদনগর জেলায় অবস্থিত সিরডি, একটি শহর।
শ্রী সাঁই বাবার সমাধির উপর নির্মিত সিরডি সাঁই মন্দিরে সারা বিশ্ব জুড়ে ভক্তদের ভিড় হয়।
সিরডি ভ্রমণ করতে এলে এই মন্দিরের পাশে অবস্থিত শনি মন্দির, নরসিংহ মন্দির, কান্দোবা মন্দির, সাকোরি আশ্রম এবং চাংদেব মহারাজের সমাধি ।
এ গুলও দর্শকদের আকর্ষণ করে।
শিরডি সাই বাবা---------
মহারাষ্ট্রের আহমেদনগর জেলায় অবস্থিত সিরডি, একটি শহর।
শ্রী সাঁই বাবার সমাধির উপর নির্মিত সিরডি সাঁই মন্দিরে সারা বিশ্ব জুড়ে ভক্তদের ভিড় হয়।
সিরডি ভ্রমণ করতে এলে এই মন্দিরের পাশে অবস্থিত শনি মন্দির, নরসিংহ মন্দির, কান্দোবা মন্দির, সাকোরি আশ্রম এবং চাংদেব মহারাজের সমাধি ।
এ গুলও দর্শকদের আকর্ষণ করে।
শিরডি সাই বাবা---------
শিরডি সাই বাবা (১৮৩৫ - ১৫ অক্টোবর, ১৯১৮) ছিলেন একজন ভারতীয় ধর্মগুরু, যোগী ও ফকির। হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের ভক্তরাই তাঁকে সন্ত আখ্যা দিয়েছিলেন।
শিরডি সাই বাবাজন্ম১৮৩৫ সেপ্টেম্বরমৃত্যু১৫ অক্টোবর, ১৯১৮ (বয়স ৮৩)যুগবিংশ শতাব্দীঅঞ্চলভারতধারাহিন্দুধর্ম (অদ্বৈত বেদান্ত) ও ইসলাম(সুফিবাদ)
হিন্দু ভক্তেরা তাঁকে দত্তাত্রেয়ের অবতার মনে করতেন। অনেক ভক্তের মতে, তিনি ছিলেন সদ্গুরু, সুফি পির বা কুতুব। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁর পরিচিতি ছড়িয়ে পড়লেও, ভারতেই তিনি সর্বাধিক শ্রদ্ধা অর্জন করেছিলেন।
সাই বাবার প্রকৃত নাম জানা যায় না। শিরডিতে আগমনের পর তাঁকে "সাই" নাম দেওয়া হয়। তাঁর জন্ম বা জন্মস্থান সংক্রান্ত কোনো তথ্যও জানা যায় না। সাই বাবা তাঁর পূর্বাশ্রমের কথা জানিয়ে যাননি। সাই শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে উৎসারিত। এই শব্দের অর্থ "সাক্ষাৎ ঈশ্বর" বা "দিব্য"। ভারতীয় ভাষাগুলিতে সাম্মানিক "বাবা" কথাটির অর্থ "পিতা", "পিতামহ", "বৃদ্ধ ব্যক্তি" বা "মহাশয়"। অর্থাৎ, সাই বাবা নামের অর্থ "দিব্য পিতা" বা "পিতৃরূপী সন্ত"।
তাঁর পিতামাতা, জন্মের বৃত্তান্ত এবং ষোলো বছর বয়সের পূর্বের কথা জানা যায় না। তাই তাঁর পূর্বাশ্রম সম্পর্কে নানা জল্পনা-কল্পনা করা হয়ে থাকে।
সাই বাবা পার্থিব বস্তুর প্রতি আগ্রহী ছিলেন না। তাঁর একমাত্র চিন্তা ছিল আত্ম-উপলব্ধি। তিনি সন্ত হিসেবে খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। বিশ্বের নানা অংশের মানুষ তাঁর পূজা করেন। তিনি ভালবাসা, ক্ষমা, পরস্পরকে সহায়তা, দান, সন্তুষ্টি, আন্তরিক শান্তি ও ঈশ্বর ও গুরুর প্রতি ভক্তির শিক্ষা দিতেন। সাই বাবার শিক্ষার উপাদান সংগৃহীত হয়েছিল হিন্দু ও ইসলাম উভয় ধর্ম থেকেই। যে মসজিদে তিনি বাস করতেন, তার একটি হিন্দু নামও দিয়েছিলেন। এই নামটি হল "দ্বারকাময়ী"।তিনি হিন্দু ও মুসলিম উভয় ধর্মেরই অনুষ্ঠানাদি পালন করতেন। উভয় সম্প্রদায়ের ভাষা ও ব্যক্তিত্বদের উদাহরণ দিয়ে উপদেশ দান করতেন। শিরডির একটি হিন্দু মন্দিরে তাঁকে সমাহিত করা হয়। তাঁর বিখ্যাত উক্তি "সবকা মালিক এক" ("একই ঈশ্বর সকলকে শাসন করেন")। কথাটি ইসলাম ও সুফিবাদের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তিনি সর্বদা "আল্লাহ্ মালিক" ("ঈশ্বরই রাজা") কথাটি উচ্চারণ করতেন।
শিষ্য
বহু হিন্দু ও সুফি ধর্মনেতা সাই বাবাকে শ্রদ্ধা করতেন। তাঁর কয়েকজন শিষ্য বিশিষ্ট ধর্মগুরুও হয়েছিলেন। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপাসনি মহারাজ, সন্ত বিদকর মহারাজ, সন্ত গঙ্গাগির, সন্ত জানকিদাস মহারাজ ও সতী গোদাবরী মাতাজি।
রামকৃষ্ণ যোগ
তাঁরা ছিলেন সমসাময়িক, কিন্তু দেশের দুই রাজ্যে। একজন বাংলায়, অন্য জন সুদূর মহারাষ্ট্রে। বাংলার রামকৃষ্ণ পরমহংস জন্মেছিলেন ১৮৩৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। অন্য দিকে, সাঁই বাবার জন্মতারিখ নিয়ে দোলাচল থাকলেও, অনেকের মতে তিনি জন্মেছিলেন ১৮৩৫ সালের সেপ্টেম্বরে। ঠাকুর রামকৃষ্ণ নিজে কালী ভক্ত হলেও, তাঁর কাছে সব ধর্মই ছিল সমান। একই ভাবে, সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দিয়েছিলেন সাঁই বাবাও। তাঁদের দর্শনেই যে শুধু মিল ছিল, তা নয়। অবাক হতে হয় এক তথ্য জানলে যে, ঠাকুর ও সাঁই বাবার মৃত্যুতেও ছিল এক অদ্ভূত যোগসূত্র। কোথাও লিপিবদ্ধ না থাকলেও, কথিত যে, ১৮৮৬ সালের অগস্ট মাস নাগাদ সাঁই বাবা সমাধিস্থ হন তিন দিনের জন্য। জানা যায়, ওই একই সময়ে, বাংলায় তখন মৃত্যুশয্যায় ছিলেন ঠাকুর। এবং তিন দিন পরে সাঁই বাবা নিজের দেহে ফিরে এলে, ঠাকুর চলে যান নশ্বর দেহ ছেড়ে। কথিত, সাঁই বাবা ফিরে এসে বলেন যে, তিনি তো চিরদিনের জন্যই ‘আল্লা’র কাছে চলে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, সেখানে গিয়ে জানতে পারেন যে, তাঁর বন্ধু শ্রীরামকৃষ্ণও যেতে চান ভগবানের কাছে। তাই তিনি ফিরে আসেন ধরাধামে। প্রসঙ্গত, এমনও শোনা যায় যে, ঠাকুর রামকৃষ্ণ নাকি সাঁই বাবা সম্পর্কে বলতেন যে, এমনই এক ফকির এসেছেন পৃথিবীতে, যাঁকে হিন্দুরা পুজো করে ঈশ্বর হিসেবে আর মুসলমানরা করে পীর হিসেবে।
,=======================
সাই বাবার মন্দিরে ভক্তরা হাঁটলেই তৈরি হবে বিদ্যুৎ
#মুম্বই: পয়লা অক্টোবর শতবর্ষে পা দেবে দেশের ঐতিহ্যবাহী শিরডি সাই মন্দির ৷ সেই উপলক্ষে পরিবেশবান্ধব হয়ে ওঠার জন্য বিভিন্ন রকমের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে ৷ বেশ কয়েকটি নতুন উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে ৷
তাদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হচ্ছে ফুট এনার্জি প্রোজেক্ট ৷ এতে ভক্তদের হাঁটার শক্তিকে ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে ৷
এরকম প্রোযেক্ট এই প্রথম ভারতে করা হবে ৷ প্রতিদিন প্রায় ৫০,০০০ ভক্তরা এই মন্দিরে দর্শন করতে আসেন ৷ মন্দির কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, উপস্থিত ভক্তদের প্রতি পদক্ষেপের শক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তরিত করে সেই জায়গার আলো ও পাখা চালানোর ব্যবস্থা করা হবে ৷ ৷ যদি এটি সফল হয় তাহলে বাকি মন্দিরেও এই ব্যবস্থায় ব্যবহার করা হবে ৷
এর জন্য ২x২ ফুটে ২২০টি টাইলস বসানো হবে প্রথম পর্যায়ে ৷ প্রথম মডেল শেষ হতে আরও দু’মাস সময় লাগবে ৷ আপাতত মন্দিরে ডোনেশন হিসেবে ক্রুণালের সংস্থা বিনামূল্যেই এই টাইলস বসাবে। বিকল্প উপায়ে যদি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় তাহলে পরিবেশ দূষণ অনেকটাই রোধ করা যাবে ৷
=====================
=====================
এর থেকে বছরে আয় হবে ১.২৫ কোটি টাকা
২০০ কেজি সোনা সরকারের ঘরে জমা রাখতে চায় সিরিডি সাঁইবাবা মন্দির
মুম্বই:নিজেদের হেফাজতে থাকা ২০০ কেজি সোনা কেন্দ্র সরকারের গোল্ড মনেটাইজেশন স্কিমে জমা রাখতে চায় সিরিডি সাঁইবাবা মন্দির কর্তৃপক্ষ।মুম্বই মিররের রিপোর্ট অনুযায়ী,ভক্তরা বহু কোটি টাকার সোনা মন্দিরে দান করেছেন।সেই সোনা গলাতে পারবে না মন্দির কর্তৃপক্ষ।এনিয়ে বম্বে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।তাই আয়ের জন্য ঘুরপথে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
২০১২ সালের মার্চ মাসে বম্বে হাইকোর্ট মন্দিরের ১৫ সদস্যের কমিটি বাতিল করে দেয়।সেই জায়গায় ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেয়।মন্দিরে জমা থাকা বিপুল পরিমান সোনা, রুপো-সহ মূল্যবান রত্নসামগ্রী নিলাম করার ওপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করে আদালত।একটি জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ওই রায় দেওয়া হয়।ওই জনস্বার্থ মামলায় বলা হয়, মন্দিরে যে সমস্থ সেনাদানা দেওয়া হয়েছে তা ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে।তা বিক্রি করে টাকা তোলার জন্য নয়।উল্লেখ্য, দেশের অন্যতম ধনী এই মন্দিরে মোট ৩৮০ কেজি সোনা মজুত রয়েছে।একটি হিসেব অনুযায়ী মন্দির কর্তৃপক্ষ যদি ওই সোনা সরকারের ঘরে জমা রাখে তাহলে বছরে ১.২৫ কোটি টাকা সুদ হিসেবে মন্দিরের আয় হতে পারে।
মন্দিরের সোনা সে কেন্দ্র সরকারের স্কিমে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে তা স্বীকার করেছেন মন্দিরের কেয়ারটেকার কমিটির আধিকারীক বাজিরাও সিন্ধে, জেলাশাসক অনিল খায়াডে ও জেলা জজ শ্রীকান্ত কুলকার্নি।সিন্ধে জানিয়েছেন,আদালত যদি ওই সোনা সরকারের স্কিমে জমা রাখার অনুমতি দেয় তাহলে সেখান থেকে আয়ের টাকা চিকিৎসা পরিষেবার উন্নতিতে ব্যবহার করা যাবে।পাশপাশি ওই বিপুল টাকার সম্পত্তি আগলে রাখার যে ঝক্কি তাও কিছুটা লাঘব হবে।
সিন্ধে জানিয়েছেন, মন্দির কর্তৃপক্ষ গরীব মানুষদের জন্য প্রতিবছর ২৫০ কোটি টাকার বিনামূল্যে খাবার,বাসস্থান,চিকিৎসার ব্যবস্থা করে থাকে।রোজ গড়ে ৫০ হাজার মানুষ সিরিডি মন্দিকে আসেন।এর মধ্যে ৪০ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে খাবার দেওয়া হয়।প্রতি বছর ৩৫ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয়।
======================.
No comments:
Post a Comment