Wednesday, November 23, 2022

93>ভালো লাগার ঝাড়খন্ড ভ্রমন::--

 93>ভালো লাগার ঝাড়খন্ড ভ্রমণ  

ঝাড়খন্ড  মানেই ‘ল্যান্ড অব ফরেস্ট’ কিংবা ‘বনভূমির এলাকা’।


প্রাণ ভরে ঝারখন্ড দেখেছি বার বার

দেখেছি  বনজঙ্গলের শোভার বাহার।

ঝারখন্ড মানেই গভীর মনরম বনভূমি

ঝারখন্ড মানেই প্রাণ খোলা মানুষের ভূমি।


যদিও নানান স্থানে আছে বিশেষ বিশেষ খনি

তবুও নানান সমস্যায় জর্জরিত মানুষ গুলি।

যেখানেই গেছি সকলকেই  ভালোবেসেছি ,

যেখানেই গেছি দেখেছি মানুষের প্রাণখোলা হাসি।


এই ভালোলাগা ও ভালোবাসার তাগিদে

মনের ইচ্ছায় ঘুরে বেড়িয়েছি চারিদিকে।

ওদের দেখেছি যেন কতো আপন জন

অফুরন্ত ভালোবাসায় মজেছি তখন।



1>রাঁচি::--

2>নেতারহাট

3>হাজারিবাগ::-----

4>ঘাটশিলা:::----

5>ম্যাকলাস্কিগঞ্জ::--

6>বেতলা ন্যশনাল পার্ক:---

7>জামশেদপুর::--

8>রাজমহল পাহাড়::--

9>দেওঘর::---

====================


1>রাঁচি::--pran 

ঝাড়খণ্ডের সেরা জায়গা হল রাঁচি। রুক্ষ অথচ নির্মল সৌন্দর্য্যের অসাধারণ মেলবন্ধন এই ছোট্টো শহরটি। রাজ্যের যাবতীয় আধুনিক সুখ স্বাচ্ছন্দ্য রয়েছে এখানে। আবার সমতলভূমি, মালভূমি ও পার্বত্য ভূমির সমন্বয় এই শহর। রাঁচি পাহাড়ের চূড়া থেকে গোটা শহর দেখা একটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা। ★রাঁচির শিব মন্দিরটি ধর্ম বিশ্বাসীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র স্থান। শ্রাবণ মাসে এই মন্দিরে ভক্তদের সমাগম বাড়ে। শহরে রয়েছে একটি★ কৃত্রিম হ্রদ। এর নাম ★কাঁকে হ্রদ। এই হ্রদে নৌকাচালনার সুবিধে রয়েছে। এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যও অসাধারণ। এই জলাধারের পাশেই উঁচু পাথুরে টিলার উপর সাজানো রয়েছে

★ 'রক গার্ডেন'। ১৯০৮ সালে রাঁচিতে বেড়াতে এসেছিলেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর। শহরের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ★‘মোরাবাদী হিল’-এর উপর তিনি এক বাড়ি তৈরি করেছিলেন। তারপর থেকেই সেই পাহাড়ের নাম হয়ে যায়★ 'টেগোর হিল'।★ রয়েছে বিরসা মুণ্ডা চিড়িয়াখানা।

রাঁচি শহরের বাইরে আছে তিনটি জলপ্রপাত। ★দশম, ★হুড্রু এবং ★জোনহা জলপ্রপাত। 

রাঁচি শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে কাঞ্চি নদীকে ঘিরে রয়েছে ★দশম জলপ্রপাত। প্রায় ১৪৪ ফিট উঁচু থেকে কাঞ্চির জল দশটি ধারায় ঝাঁপিয়ে পড়ছে সুবর্ণরেখার বুকে। জলের বুকে দেখা যায় রামধনুর সাতটি রং। পাহাড় অরণ্য মিলিয়ে দশম জলপ্রপাত একটি অপূর্ব সুন্দর স্থান।


রাঁচি থেকে প্রায় ৪২ কিলোমিটার দূরে সুবর্ণরেখা নদীর প্রায় ৩২০ ফিট উপর থেকে ঝরনা হয়ে নেমে এসেছে বিখ্যাত ★হুড্রু জলপ্রপাত। ঘোরানো পাথরের সিঁড়ি দিয়ে নদীতে নামা যায়। এখানে যাওয়ার পথে পড়ে বেতলসুদ বাঁধ। বাঁধের ধারে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতাই আলাদা।


রাঁচি শহর থেকে প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার গদূরে অবস্থিত ★জোনহা জলপ্রপাত। যদিও এটি গৌতম ধারা নামে বেশি জনপ্রিয়। গৌতম বুদ্ধের নাম অনুসারেই এই জলপ্রপাতের নাম দেওয়া হয়েছে। পাথুরে সিঁড়ি ভেঙে জলের কাছে যাওয়া যায়। ছবি তোলার জন্যও এই জলপ্রপাতগুলি বেশ আদর্শ।

---------------


2>নেতারহাট::----

পালামৌর পাহাড়ি অঞ্চলের নেতারহাটকে বলা হয় ছোটোনাগপুরের রানি। এখানকার সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখার মতো। রাজধানী রাঁচি থেকে এর দূরত্ব (150 KM )প্রায় দেড়শো কিলোমিটার। ছুটির প্ল্যানের অন্তত একটা দিন নেতারহাটে না কাটালে মন ভরবে না। চাইলে দুই দিনও কাটানো যায়। 


★এখান দশ কিলোমিটার মতো নীচে নামলেই ম্যাগনোলিয়া পয়েন্ট। পাহাড়ের বাঁকে রয়েছে★ কোয়েল নদী, ★নেতারহাট বাঁধ। অদূরেই রয়েছে ★আপার ঘাঘরি জলপ্রপাত। ★নেতারহাট থেকে ট্রেক করে লোয়ার ঘাঘরিতে যাওয়া যায়। পাহাড়ি এই ঝরনাটি নেমে এসেছে প্রায় ৩২০ ফিট উঁচু থেকে। নেতারহাটের কাছেই অবস্থিত ★অঞ্জন গ্রাম। ধর্মীয় বিশ্বাস, এই গ্রামেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন রামায়ণের বীর হনুমান। নেতারহাট থেকে প্রায় ৬১ কিলোমিটার দূরের জঙ্গল রয়েছে প্রায় ৪৬৮ ফিট উঁচু ★য়লোধ জলপ্রপাত।

--------------------------

    

3>হাজারিবাগ::-----


হাজারিবাগের আক্ষরিক অর্থ হলো হাজার বাগানের শহর। 


ঝাড়খণ্ডের আরেকটি স্বাস্থ্যকর এবং অপূর্ব সুন্দর স্থান হাজারিবাগ। রাঁচি থেকে ট্রেনে এবং সড়কপথে হাজারিবাগ পৌঁছানো যায়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য, মনোরম জলবায়ু এবং নির্জনতাই এখানকার সম্পদ। ★হাজারিবাগ জাতীয় উদ্যানটি দেখার মতো স্থান। যদিও এটি শহরের বাইরে অবস্থিত। এখানে আছে বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ এবং প্রাণী। এখানে প্রায় দশটি অবজার্ভেশন টাওয়ার রয়েছে। আছে নেচার ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টার এবং তৃণভোজী প্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্র। নদী-বাঁধ দিয়ে তৈরি হয়েছে অপূর্ব সুন্দর জলাশয়। শহরের কাছেই অবস্থিত ★নজরমিনার। সেখান থেকে জাতীয় উদ্যান দেখার আনন্দই আলাদা। শহরের মধ্যে রয়েছে ★হাজারিবাগ হ্রদ। শান্ত এই স্থানে অনেকটা সময় কাটানো যায়। করা যায় নৌকাবিহারও। হ্রদের কাছে রযেছে ★স্বর্ণজয়ন্তী উদ্যান। হাজারিবাগের থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ★কানহেরি পাহাড় বা ক্যানারি হিল।


রাঁচি-হাজারিবাগ রোডের মাঝামাঝি রামগড় থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে রয়েছে ★রাজারাপ্পা জলপ্রপাত এবং ★ছিন্নমস্তার মন্দির। ফেলুদার গল্পের ভক্তরা এই স্থানের মর্ম ভালোই বুঝবেন। সতীর ৫১ পীঠের অন্যতম এই স্থানে ছিন্নমস্তা রূপে পূজিত হন দেবী। মন্দিরটি ভৈরবী নদী এবং দামোদরের সঙ্গমে একটি টিলার উপর অবস্থিত।

★হাজারিবাগ ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি, ★ইসকো ভিলেজ (রক আর্টের জন্য), ★কোনার বাঁধ (কোনার নদীর ওপর), ★হাজারিবাগ ঝিল (লেক), 

★সুরিয়াকুন্দ প্রভৃতি।



--------------------------------

4>ঘাটশিলা:::----

ঝাড়খণ্ডের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হল ঘাটশিলা। স্বাস্থ্য সচেতন বাঙালির প্রিয় জায়গা এটি। প্রাচীনকাল থেকে আধুনিক কাল ঘাটশিলার জনপ্রিয়তা এতটুকু কমেনি। ঘাটশিলা থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ★গালুডিও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের এক অনবদ্য উদাহরণ। এখানে সুবর্ণরেখা নদীর দুই রকম রূপ। ঘাটশিলা স্টেশন থেকে কাছেই রয়েছে ★সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি 'গৌরীকুঞ্জ'। ★অটো করেই সারা শহর ঘোরা যায়। স্টেশন থেকে অটোয় করে পৌঁছে যাওয়া যায় ★ফুলডুংরি টিলার এক্কেবারে মাথায়। অপূর্ব তার সৌন্দর্য্য। দেখার মতো স্থান ★বুরুডি। চারদিকে পাহাড়ের মাঝে অবস্থিত এক অপূর্ব সুন্দর জলাধার এটি। বুরুডি হ্রদ থেকে পাহাড়ি পথ ধরে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে যাওয়া যায় ★ধারাগিরি প্রপাতে। ঘাটশিলা থেকেই ঘুরে আসা যায় ★ধলভূমগড়,■ চাণ্ডিল বাঁধ এবং ★দলমা পাহাড়।

---------------------------

5>ম্যাকলাস্কিগঞ্জ::--

ঝাড়খণ্ডের নিরিবিলি ★অ্যাংলো-সাহেবি পাড়া ম্যাকলাস্কিগঞ্জ। বাংলা সাহিত্যে বিশেষ করে ★বুদ্ধদেব গুহর লেখায় বার বার এসেছে ম্যাকলাস্কিগঞ্জ। এখানে রয়েছে সাহেবদের পুরোনো বাংলো বাড়ি, সবুজমোড়া জঙ্গল আর ★নিরিবিলি। ম্যাকলাস্কিগঞ্জের পাশেই রয়েছে ★ চট্টি নদী। ★এখানকার আবহাওয়া অত্যন্ত মনোরম। এই অঞ্চল মূলত বসবাস করেন মুণ্ডা, ওঁরাও আদিবাসী মানুষরা। জঙ্গল ছাড়াও রযেছে★ ডেগাডেগি নদী এবং ★কুমারপাত্র নদী। কুমারপাত্র নদীর কাছে রয়েছে অপূর্ব ★কলোরাডো ভূমিরূপ। ★হেসালাং ওয়াচ টাওয়ার থেকে গোটা ম্যাকলাস্কিগঞ্জ দেখা যায়। ★গাড়ি ভাড়া করে এই গঞ্জ ভালোমতো ঘুরে আসা যায়। এখানকার ★দুল্লি গ্রামটি পায়ে হেঁটে ঘুরে আসা যায়। এখানকার ★নাট্টা পাহাড়ে যেতে হলে মায়াপুর জঙ্গল ভেদ করতে হয়। গোটা ঝাড়খণ্ড ঘুরতে না চাইলে শুধু ★ম্যাকলাস্কিগঞ্জেই গোটা ছুটি কাটিয়ে দেওয়া যায়। কঙ্কনা সেনশর্মা পরিচালিত 'আ ডেথ ইন দ্য গঞ্জ' ছবির প্রেক্ষাপট এই ম্যাকলাস্কিগঞ্জ।

___________________

    

6>বেতলা ন্যশনাল পার্ক:---


বেতলা ন্যাশনাল পার্ক হলো এমন একটি জায়গা যেটি বাঘ সংরক্ষণের দিক থেকে ভারতের প্রথম ন্যাশনাল পার্কগুলোর একটি। বেতলার আছে একটি সমৃদ্ধ বন্য জীবন যাকে হয়তো সেভাবে গোনায় ধরা হয় না। বেতলা ন্যশনাল পার্ক হলো বাঘ, লোপার্ড, চিতাল, ভালুক, বাইসন, ইঁদুর প্রজাতির হরিণ প্রভৃতির আবাসস্থল।


সত্যিকার অর্থে বেতলা হচ্ছে বাইসন, হাতি, বাঘ, লোপার্ড ও চিত্রা হরিণের এক ট্রেডমার্ক। বন্য জীবন দেখার পর যদি আপনার হাতে সময় থাকে তাহলে যেতে পারেন ★পালামু ফোর্টে। পুরোনো এই দুর্গটি নির্মাণ করেছিলেন রাকসেল রাজবংশের রাজা। বেতলা থেকে এর দুরত্ব মাত্র তিন কিলোমিটার।_

______________________


7>জামশেদপুর::--


‘দ্য স্টিল সিটি অব ইন্ডিয়া’ নামে সুপরিচিত জামশেদপুর। বিখ্যাত টাটা স্টিলের হোমটাউন হলো ঝাড়খন্ডের বৃহত্তম এই শহর। পুরোনো এ শহরের গোড়াপত্তন ঘটে ১৯১৯ সালে, যার পরিকল্পনা করেছিলেন জামসেটজি নুসেরওয়ানজি টাটা।


জামশেদপুরে বেড়াতে গেলে আপনি ঘুরে দেখতে পারেন জুবিলী পার্ক, ডালমা ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি, ডিমনা লেক, টাটা স্টিল জুওলজিক্যাল পার্ক, দ্য জামশেদপুর মেরিন ড্রাইভ প্রভৃত

___________________


8>রাজমহল পাহাড়::--


আপনি শুনে অবাক হবেন যে, রাজমহল পাহাড় জুরাসিক যুগের। যা কি না হিমালয়ের চেয়েও পুরোনো। যারা ট্রেকিং করতে পছন্দ করেন তাদের কাছে খুবই জনপ্রিয় রাজমহল পাহাড়। এ পাহাড়ে আছে অনেক উদ্ভিজ্জ ফসিল যেগুলো ৬৮-১৪৫ মিলিয়ন বছর আগের।

_______________________

9>দেওঘর::---


দেওঘর হচ্ছে ভারতের পুণ্যার্থীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যগুলোর একটি। ১২টি জিওতিরলিঙ্গা মন্দিরের একটি হচ্ছে বাইধিয়ানাথ ধাম যা দেওঘরে অবস্থিত। রুদ্রভিষেক উৎসবের জন্য প্রতিবছর হাজারো পুণ্যার্থী এই মন্দিরে ভিড় জমান। পুণ্যার্থীরা দিনভর হেঁটে বেড়ান ও ধর্মীয় প্রথা মেনে পবিত্র পানি বয়ে নিয়ে আসেন।


তারা কানওয়ারিয়াস নামে পরিচিত। দেওঘর থেকে দশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত★ ত্রিকুট পাহাড় ঝাড়খন্ড রাজ্যের জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্যগুলোর একটি। এখানে আছে ★রোপওয়েতে চড়ে চমৎকার পাহাড়ি দৃশ্য উপভোগ করার সুবিধা যা আপনার ভ্রমণকে পুরেপুরি সার্থক করবে।


ঝাড়খণ্ডের স্বাস্থ্যকর জায়গাগুলির মধ্যে অন্যতম দেওঘর। নামটা শুনলেই প্রথমে মনে আসে ●বৈদ্যনাথ ধাম বা বাবা ধাম ও ●সত্সঙ্গ আশ্রমের কথা।

জেলার সবচেয়ে দর্শনীয় স্থান হিসাবে এ দু’টি জায়গার নাম সর্বাগ্রে আসে। ●জসিডি জংশন থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে ‘বাবা ধাম’-এ বছরভর পুণ্যার্থীদের আনাগোনা। দেওঘর গেলে ঘুরে আসা যাবে ●ত্রিকূট পাহাড়, ●নন্দন পাহাড়, ●তপোবন।


======================


======================



ঝাড়খণ্ডে পূর্ণ ভ্রমণ::


■ রাঁচি

যখন ঝাড়খণ্ড রাজ্য তৈরি হয়নি তার অনেক আগে থেকেই রাঁচি বিহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর। রাঁচিকে কেন্দ্র করে অনেক কিছু দেখার আছে। মূল শহরের কেন্দ্রেই রাঁচি হিল। এই পাহাড়ের উপরে একটা ●শিব মন্দির আছে। শহরের প্রায় সব দিক থেকেই সে মন্দির চোখে পড়ে। এখান থেকে কিছুটা এগিয়ে গেলেই ●কাঁকে জলাধার। এখান থেকেই পুরো রাঁচি শহরে জল সরবরাহ করা হয়। এই জলাধারের পাশেই উঁচু পাথুরে টিলার উপর সাজানোগোছানো ●‘রক গার্ডেন’— বিনোদনের এক অসামান্য জায়গা। শহরের কোলাহলের বাইরে এমন নিভৃত জায়গায় প্রচুর মানুষ রোজই আসেন। ঠাকুর পরিবারের● জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯০৮ সালে রাঁচিতে বেড়াতে এসেছিলেন। শহরের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে নির্জন ‘মোরাবাদী হিল’-এর উপর তিনি এক বাড়ি বানিয়েছিলেন। জায়গাটার নাম তখন থেকেই হয়ে গিয়েছে● ‘টেগোর হিল’। কাঁকেতে রয়েছে ভারত বিখ্যাত● ‘সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অফ সাইকিয়াট্রি’। এ ছাড়া ●রাজভবন, ●বিধানসভা এমনকী ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ●মহেন্দ্র সিংহ ধোনির বাড়িও রাঁচির ‘এ গ্রেড’ দর্শনীয় স্থানের মধ্যে পড়ে। রাঁচিতে অন্যতম আকর্ষণীয় দ্রষ্টব্যস্থানের তালিকায় আছে ●বিরসা মুন্ডা চিড়িয়াখানাও।


এতো গেল শহরের ভিতরের কথা। রাঁচি গেলে ●তিনটে জলপ্রপাত আপনাকে দেখতেই হবে— সব ক’টিই শহরের বাইরে।

●• দশম জলপ্রপাত: শহর থেকে প্রায় পঞ্চাশ কিলোমিটার দূরে কাঞ্চি নদীকে ঘিরে এই জলপ্রপাত। ১৪৪ ফুট উঁচু থেকে কাঞ্চির জল দশ-ধারায় ঝাঁপিয়ে পড়ছে সুবর্ণরেখার বুকে। জঙ্গল-পাহাড় মিলিয়ে ‘দশম ফলস’ অনন্যসুন্দর। জলের বুকে সূর্যের ছটায় রামধনু দেখা যায়। দশমে যাতায়াতের গ্রামীণ পথও চমত্কার।

●• হুড্রু জলপ্রপাত: রাঁচি থেকে ৪২ কিলোমিটার দূরে। সুবর্ণরেখা নদী ৩২০ ফুট উপর থেকে ঝরনা হয়ে নেমে এসেছে নীচে। এখানেও সোজা-ঘোরানো প্রচুর সিঁড়ি দিয়ে নেমে যাওয়া যায় প্রপাতের কাছে। যাওয়ার পথে বেতলসুদ ড্যাম পড়ে। বাঁধের ধারে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতাই অন্য রকম।

●• জোনহা জলপ্রপাত: এর আরও এক নাম গৌতম ধারা— গৌতম বুদ্ধের নামানুসারে। রাঁচি থেকে দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। অনেক উপর থেকে পাহাড়গাত্রকে অবলম্বন করে নদী-জল এখানে ঝরনা ধারায় নেমে এসেছে। প্রায় ছ’শো সিঁড়ি ভেঙে পৌঁছে যাওয়া যায় জলের কাছে। জলধারার শব্দে নৈঃশব্দ্য ভেঙে খানখান, আর তার মাঝে অবিরাম এক জলপ্রপাত এই জোনহা।


■ ঘাটশিলা-গালুডি::--

জামশেদপুর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে ঘাটশিলা। এক কালে বাঙালি স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য এ সব জায়গায় আসত। ঘাটশিলা থেকে ১২ কিলোমিটার দূরের গালুডিও প্রাকৃতিক বৈচিত্রের কারণেই বিখ্যাত। সুবর্ণরেখা নদীকে দু’টি জায়গা থেকেই অসাধারণ দেখা যায়। ঘাটশিলা স্টেশন থেকে কাছেই সাহিত্যিক ●বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি— গৌরীকুঞ্জ। স্টেশন থেকে অটোয় করে চলে যাওয়া যায় ●ফুলডুংরি টিলার এক্কেবারে চুড়োয়। ফুলডুংরি ও ●সুবর্ণরেখার চর ছাড়া ঘাটশিলার প্রকৃতির সম্ভার উপচে পড়েছে আরও দশ কিলোমিটার দূরের ●বুরুডিতে। চার দিকে পাহাড়, আর তার মাঝে এক অপরূপ জলাধার। ১৯৮৪ সালে স্থানীয় গ্রামগুলির কৃষিকার্যের প্রয়োজনে বাঁধ গড়তে গিয়েই হ্রদটির জন্ম। জাতীয় সড়কের ধারে ●কাশিডা মোড় থেকে যে রাস্তাটা ডাইনে বেঁকে● হুল্লুম হয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের ●কাঁকড়াঝোড়ের দিকে চলে গিয়েছে, সেটা ধরেই সামান্য এগোতে হবে। পাহাড়ি পথে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে● ধারাগিরি প্রপাতে যাওয়ার আগেই ●বুরুডি হ্রদের দেখা মিলবে। বুরুডি হ্রদের টলটলে জলে হাত না-ছুঁইয়ে ফিরে আসা যায় না। ঘাটশিলা থেকেই ঘুরে আসা যায় ◆ধলভূমগড়, ◆চান্ডিল ড্যাম ও ◆দলমা পাহাড়।


■ নেতারহাট

পলামুর পাহাড়ি জনপদ নেতারহাটের খ্যাতি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার জন্য। পাহাড়ি এই বসতিকে ‘ছোটনাগপুরের রানি’ বলা হয়। নেতারহাট রাঁচি থেকে প্রায় দেড়শো কিলোমিটার দূরে। বেতলা থেকেও নেতারহাটে আসা যায়। তবে একটা রাত্তির না থাকলে নেতারহাটকে উপভোগ করা যাবে না। এখান থেকে দশ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে খানিকটা নীচে নামলেই ম্যাগনোলিয়া পয়েন্ট। সূর্যাস্তের সময় বিন্ধ্য পর্বতের শরীর থেকে ধীরে ধীরে সূর্য নেমে যায় উপত্যকায়। পাহাড়ের বাঁকে দেখা যায় ●কোয়েল নদীকে। আছে নেতারহাট ড্যামও। ছয় কিলোমিটার দূরে রয়েছে আপার● ঘাঘরি জলপ্রপাত। নেতারহাট থেকে ◆ট্রেক করে যাওয়া যায় ●লোয়ার ঘাঘরি। ৩২০ ফিট উঁচু থেকে নেমে এসেছে পাহাড়ি এই ঝরনা। সময় থাকলে ঘুরে নেওয়া যায়● হনুমানের জন্মস্থান অঞ্জন গ্রাম। নেতারহাট থেকে ৬১ কিলোমিটার দূরে দুর্ভেদ্য জঙ্গলের মধ্যে ৪৬৮ ফুট উঁচু ●লোধ জলপ্রপাতও যাওয়া যেতে পারে।


■ হাজারিবাগ

রাঁচি থেকে অথবা সরাসরি ট্রেনে ও সড়কপথে হাজারিবাগ পৌঁছানো যায়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, মনোরম জলবায়ু ও নির্জনতাই এখানকার সম্পদ। মূল দর্শনীয় জায়গা শহর থেকে প্রায় 

১৭ কিলোমিটার দূরের ●হাজারিবাগ জাতীয় উদ্যান। বিভিন্ন উদ্ভিদ-প্রাণীর সমাহারে সমৃদ্ধ এই উদ্যানে আছে গোটা দশেক ●অবজার্ভেশন টাওয়ার, নেচার ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টার ও তৃণভোজী প্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্র। নদী-বাঁধ দিয়ে তৈরি হয়েছে সুন্দর জলাশয়। ও পারে আদিম অরণ্য। কাছাকাছি রয়েছে নজরমিনার। তার উপর থেকে উদ্যানের অনেকটাই দৃশ্যমান হয়। শহরের মধ্যে আছে ●হাজারিবাগ লেক। তার শান্ত সুন্দর পাড় ধরে হাঁটতে খুবই ভাল লাগে। এখানে ●বোটিংয়ের ব্যবস্থাও আছে। উল্টো দিকেই ●স্বর্ণজয়ন্তী উদ্যান। ●কানহেরি হিল নামে একটি ছোট পাহাড় রয়েছে শহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে। হাজারিবাগকে কেন্দ্র করে ●কোনার ও তিলাইয়া ড্যাম দেখে নেওয়া যায়।


রাঁচি-হাজারিবাগ রোডের মাঝামাঝি রামগড় থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে ●রাজারাপ্পা জলপ্রপাত ও ●ছিন্নমস্তার মন্দির পর্যটকদের কাছে খুবই আকর্ষণীয়। সতীপীঠের অন্যতম এটি— দেবী এখানে ছিন্নমস্তা। ●ভৈরবী নদী ও দামোদরের সঙ্গমে টিলার উপর এই মন্দির।


■ জামশেদপুর

ভারতের অন্যতম শিল্প গোষ্ঠী টাটাদের ইস্পাত শিল্পের প্রাণকেন্দ্র এই জামশেদপুরে। এটাই গোটা শহরের আর্থ-সামাজিক অবস্তান সুনিশ্চিত করেছে। ★★★ভারতে একমাত্র জামশেদপুর শহরেই কোনও পৌরসভা নেই। নাগরিক সুবিধা দেয় এখানে টাটা গোষ্ঠীর— জুসকো (জামশেদপুর ইউটিলিটি সার্ভিসেস কোম্পানি)। 


জামশেদপুরের দ্রষ্টব্য স্থানগুলি হল ●দলমা পাহাড়, ●ডিমনা লেক ও ●জুবিলি উদ্যান। কাছাকাছির দলমা পাহাড় বিখ্যাত তার ‘দামাল’ হাতিদের জন্য। ডিমনা হ্রদ দলমা পাহাড়ের দক্ষিণপ্রান্তে তিনটি ছোট পাহাড়ের মধ্যে নির্মিত কৃত্রিম এক জলাধার। এখান থেকে পুরো শহরের জল সরবরাহ করা হয়। মূলত বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করা হয় ডিমনায়। এ ছাড়া সুবর্ণরেখা ও খড়কাই নদীর জলও খাল দিয়ে নিয়ে আসা হয় এখানে। লেকটি শহর থেকে একটু দূরে শহরের উত্তর-পশ্চিম কোণে। শহরের কেন্দ্রস্থলেই রয়েছে জুবিলি উদ্যান। এটি জামশেদজি টাটার জন্মশতবর্ষে বানানো হয়েছিল। রয়েছে চিড়িয়াখানাও।

======================



92>ধলভূমগড়::--

   

92>ধলভূমগড়::--


 " ছোটা নাগপুর মালভূমির একটি অংশ গঠন করে এবং এটি একটি পাহাড়ি উচ্চভূমি"। জেলার প্রধান নদীগুলি হল সুবর্ণরেখা ও খরকাই। জামশেদপুর এবং ঘাটশিলার মধ্যে অবস্থিত এলাকাটি প্রধান শিল্প খনির অঞ্চল। জেলার বাকি অংশ প্রধানত কৃষিনির্ভর।


 রাজবাড়ির গন্ধমাখা ধলভূমগড়

মাটির টানে বেরিয়ে পড়া ডাঙাডি গ্রাম, তিরতিরে নদী আর হাটের উদ্দেশে...নিঃশব্দ প্রকৃতির মাঝে পাথরের ফাঁক গলে তিরতিরিয়ে আপনমনে বয়ে চলেছে ছোট নদী



অগভীর: ছোট নদী

এই বিজ্ঞাপনের পরে আরও খবর

বেড়াতে যাওয়ার জন্য একটু অন্য ধরনের লোকেশন কে না ভালবাসে! তাই খুঁজতে খুঁজতে তেমনই জায়গা পেয়ে গেলাম। 


এক রবিবার সকালবেলা 


ঘাটশিলা থেকে গাড়িতে রওনা। চিত্রকূট পাহাড়ে ওঠার রাস্তাকে বাঁ দিকে রেখে এগিয়ে এক ঘণ্টা যেতেই পৌঁছলাম ছবির মতো সাজানো আদিবাসী গ্রামে, ‘ডাঙাডি’। গাড়ি থামল মাঠের ধারে। পায়ে হাঁটা পথে পৌঁছে গেলাম এক অচেনা দেশে।


নিঃশব্দ প্রকৃতির মাঝে পাথরের ফাঁক গলে তিরতিরিয়ে আপনমনে বয়ে চলেছে ছোট নদী, কালচে-সবুজ জলের কলকলানি। নদীর পাড়ে গাছের ডালে বসে থাকা নাম না জানা পাখির ডাক। মন উদাস হতে আর কী চাই? নদীর নামটিও বেশ, ‘খরস্রোতী’। বড় বোল্ডারের উপরে বসে নদীর জলে পা ভিজিয়ে কাটিয়ে দিলাম কিছুক্ষণ। দু’টি জলের ধারা এসে নদীতে মিশছে এক জায়গায়। এই দু’টি ধারার নামই ‘টোটোঝর্না’। সে এক অপরূপ দৃশ্য।


টোটোঝর্নাকে খরস্রোতীর কোলে রেখেই ফিরে এলাম ডাঙাডি গ্রামে। আলাপ হল ভূমিপুত্রদের সঙ্গে। তাঁদের সহজ-সরল ব্যবহারে কী ভাবে যেন তাঁদেরই একজন হয়ে গেলাম। স্থানীয় বাসিন্দা খগেন মুর্মু আর গড়ান হাঁসদার আন্তরিক ডাকে বাধ্য হলাম তাঁদের ঘরে যেতে। জল-বাতাসা খেতে খেতে তাঁদের মুখেই শুনতে থাকলাম স্থানীয় গল্প। দু’চোখ মুগ্ধতায় আটকে গেল মাটির দেওয়ালের আলপনায়।


মেঠো: গ্রামের মানুষ বেচে-কেনে


সময় বেশি নেই। ডাঙাডির মায়া কাটিয়ে গাড়িতে বসলাম। চিরুগোডা রেল স্টেশনের লেভেল ক্রসিং পেরিয়ে এনএইচ ১৮ বরাবর ঝাড়গ্রামের দিকে এসে ডান হাতের রাস্তা ধরে এগোতেই পৌঁছলাম রাজবাড়ি। আদি রাজবাড়ির মাত্র দু’-এক শতাংশ এখনও রয়েছে। ধলরাজাদের শাসনকালে ঘাটশিলা ধলভূমগড় এস্টেটের অধীনে ছিল। রাজবাড়ি সংলগ্ন চত্বরে রয়েছে এমন কিছু মন্দির আর মূর্তি, যার সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে ইতিহাস।


রাজবাড়ি ঘুরে প্রথমে এলাম রাসমঞ্চে রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে। শ্বেত পাথরের রাধাকৃষ্ণের মূর্তি। তাই এখানে কৃষ্ণের গাত্রবর্ণও সাদা। আটকোনা এই মন্দিরটি সপ্তদশরত্ন অর্থাৎ সতেরোটি চূড়াবিশিষ্ট। পরের মন্দিরটির চূড়া দক্ষিণ ভারতীয় শৈলীর। নন্দীদেবের মূর্তি দেখে প্রথমে শিবের মন্দির বলে ভুল করেছিলাম। কিন্তু গর্ভগৃহে শিবলিঙ্গের বদলে তিনটি পাথরের শিলা দেখে মনে হল ঠিক যেন কাটরার বৈষ্ণোদেবীর প্রতিমূর্তি।


সেখান থেকেই গেলাম নাটমন্দির সংলগ্ন দুর্গামন্দিরে। কষ্টিপাথরে নির্মিত ফুট চারেকের অপরূপ মূর্তিটির থেকে চোখ ফেরানো দায়। প্রথমে কালীমূর্তি বলে মনে হলেও দশভুজার লোলজিহ্বাবিহীন শ্রীমুখ ভাল করে লক্ষ করে বুঝলাম এটি দুর্গামূর্তি। দুর্গামন্দিরের পাশেই ছোট আর একটি মন্দিরে কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিও নজর কাড়ল। এই ভীষণ-দর্শনা মূর্তিটি দেখে বৌদ্ধ-তান্ত্রিক দেবীর কথা মনে পড়তে বাধ্য। শিবমন্দির এবং মহালক্ষ্মী মন্দিরের বিগ্রহও যথেষ্ট আকর্ষক।


মন্দিরদর্শনের পরে চললাম রাজবাড়ি থেকে নামমাত্র দূরত্বে হাট দেখতে। ধলভূমগড়ের হাট ক্যানেল পাড়ে বসে প্রতি রবিবার। তবে আজ গরুর গাড়ির বদলে বংশীবদনরা এখন কলসি-হাঁড়ি নিয়ে আসে ম্যাটাডোরে চেপে। গাড়ি থেকে নেমে ক্যানেলের পাড় ধরে হাঁটতে থাকলাম। উচ্ছে থেকে কুলো, মোরগ থেকে মহুয়া... সবই মেলে এই হাটে। গ্রাম্য হাটের আনাচকানাচ ঘুরতে ঘুরতে নিজের অজান্তেই সওদার বোঝাটা বেশ ভারী হয়ে উঠল।




91>দলমা পাহাড়

   

91>দলমা পাহাড়


জামসেদপুরের চিন্তা করলেই দলমা, ডিমনা, জুবিলী পার্কের কথা মনে পড়ে।

 পরে দেখেছি সবিতাদের বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়েই দলমা পাহাড় দেখা যেত।দেখা যেত পাহাড়ের উপরে সেই মন্দিরটি।


আজও পর্যটকদের ভিড়ের তেমন থাকেনা। সেই কারণেই বেশ শান্ত,স্নিগ্ধ পরিবেশ। আর তাই, যারা নির্জনতা পছন্দ করেন, নৈঃশব্দের মধ্যে প্রকৃতির শব্দ শোনার চেষ্টা করেন, তাঁদের জন্য আদর্শ হতেই পারে এই দলমা ।

দলমায় হাতিদের একটু উৎপাত লেগেই থাকে। এছাড়া বেশ শান্ত স্নিগদ্ধ পরিবেশ।


 টাটানগর স্টেশনের বাইরেই পাওয়া যায় গাড়ি । টাটা চাইবাসা রোড ধরে পৌঁছতে হবে লাল মাটির রাস্তা দিয়ে সাঁওতাল গ্রাম কাসিডি হয়ে পাথরভাঙা গ্রামে দলমা রেঞ্জের নারোয়া পাহাড়ের পাদদেশে। 


গাড়ি থেকে নেমে ঘুরে দেখতে পাওয়া যাবে সাঁওতাল গ্রামবাসীদের মাটির বাড়ি, সহজ-সরল জীবনযাত্রা। মাটির বাড়িগুলির সুন্দর অলঙ্করণ বেশ চোখ টানবে। পথের মোড়ে ইতিউতি দেখবেন কৌতূহলী গ্রামবাসী জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখে সোজা সরল মানুষ গুলি।

সব জায়গাতেই দেখা যাবে ভোলে ভালা নিষ্পাপ প্রাণখোলা শিশু গুলি ছুটে চলেছে খেলা করছে।

গ্রাম বাসীদের সাথে কথা বলতে শুরু করলেই খুব তাড়াতাড়ি ওরা খুব কাছের মানুষ হয়ে যাবে । পৌষসংক্রান্তিতে এখানে ‘টুসু’ পরব আর  ফাল্গুন মাসে ‘বাহা’ পরবে মেতে ওঠে এই অঞ্চলের মানুষজন ছেলে মেয়ে বাচ্চা বুড়ো সকলে। সে সময়ে যদি উপস্থিত থাকতে পারেলে

সেই আনন্দের ভাগ নিতে পারলে সারাজীবন মনে থাকবে এই আনন্দের রেশ।


★কাসিডি গ্রাম থেকে বেরিয়ে ★দামুডি গ্রাম হয়ে এ বারে পৌঁছে যান অপূর্ব প্রকৃতির কোলে। দলমা রেঞ্জের ★নারোয়া পাহাড়ের পাদদেশে এই জায়গাটার নাম ★পাথরভাঙা। 


সবুজ গাছপালায় মোড়া নারোয়া পাহাড় আর তার ঠিক নীচেই বড় বড় পাথরের সারিকে পাশ কাটিয়ে কুলুকুলু করে রবে বয়ে চলা এক সুন্দর★ নদী গড়া, নদীটির নাম গড়া। নারোয়া পাহাড় পেরিয়ে এই গড়া নদী গালুডির কাছে মিশে যাচ্ছে সুবর্ণরেখা নদীতে। 

এখানকার প্রকৃতি এমন সুন্দর যে চারিদিকে নানা পাখিদের ডাক আর 

নদীর জলের শব্দ মিলে মিশে এক অপার্থিব সৌন্দর্যের আকর্ষণ যেখানে 

আমরা  ছাড়া অন্য কোনও জনমানবও নেই ত্রিসীমানায়।

এই নারোয়া পাহাড়ে প্রচুর মাত্রায় 

ভালো মানের ★ইউরেনিয়াম পাওয়া যায়। 

আর সেই কারণে এখানে এই ইউরেনিয়াম উত্তোলনের জন্য খনিও তৈরি হয়েছে। তার পরেই গাড়ি নিয়েই  পৌঁছগেলাম নারোয়া পাহাড়ের অন্য প্রান্তে। ★লোয়াডি, ★ধিরোল, ★বাংগো গ্রাম পেরিয়ে বিখ্যাত ★রংকিনীমাতার মন্দির দর্শন করে (রাস্তার ওপরেই) জাদুগোড়া মোড় থেকে বাঁ দিকের (ডান দিকের রাস্তা চলে গেছে ঘাটশিলা অভিমুখে) রাস্তা ধরে চলে যান ★গড়া নদীর ওপর নির্মিত সেতুতে। এখান থেকে গড়া নদীর সর্পিল গতিপথ বেশ অনেকটাই দেখা যায়। ইচ্ছে করলে কিছুটা আগের এক বাঁ হাতি কাঁচা সড়ক দিয়ে ঢুকে চলে যেতে পারেন নদীর একদম কাছে এক পিকনিক স্পটে। এ বার ফেরার পালা। নারোয়া ইউরেনিয়াম খনির গেট পেরিয়ে শর্টকাট রাস্তায় খুব তাড়াতাড়িই ফিরে যেতে পারবেন রিসর্টে।


পর দিনটাও যদি হাতে থাকে তবে ★শঙ্করদার স্নিগ্ধ ভোরের গন্ধ গায়ে মেখে। প্রাতঃরাশ সেরে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন জামশেদপুরের দিকে। ★ডিমনা লেক, ★জুবিলি পার্ক, ★চান্ডিল ড্যাম এই সব নিয়ে সারা দিনের এক আনন্দসফরের অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে আসুন রিসর্টের নিরাপদ আশ্রয়ে।


শেষ দিন দুপুরের জনশতাব্দী ধরেই আবার ফিরুন কলকাতায়। একশো বছর আগে এই গোটা অঞ্চলটাই ছিল জঙ্গলে ঘেরা। গ্রামগুলির কোনও অস্তিত্বই ছিল না। শঙ্কর নামে এক ব্যক্তি প্রথম জঙ্গল কেটে বসতি, চাষবাস ইত্যাদি শুরু করেন এখানে, এমনটাই শোনা যায়। সাঁওতালরা তাঁকে শঙ্করদা বলে ডাকত। তার নাম থেকেই পরবর্তী কালে এ জায়গার নাম হয়ে যায় ★শঙ্করদা।


কী ভাবে যাবেন



Sunday, November 13, 2022

90>★★||মিশর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা।

 90>★★||মিশর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা।।M,B,+ to Samya For SV2 =SOUVENIR 2022 =ম্যাগাজিনেরজন্য।

             <-----আদ্যনাথ--->
মমি  দেখেছিলাম কোলকাতার মিউজিয়ামে।
জীবনে ঘুরেছি অনেক দেশ বিদেশের নানান স্থানে, শহর,গ্রাম,পাহাড়,পর্বত,জঙ্গল,ঘুরতে হয়েছে কাজে ও ঘুরে বেড়াবার আনন্দে। তথাপি মনের আশ মেটেনি । যতই দেখি আরো দেখবার ইচ্ছাগুলি মনকে তারা করে চলে। মনের মতন জায়গাতে যেতে পারলে মনে ভীষণ আনন্দ লাগে।
সেদিন রাত্রে হঠাৎ সাম্য আমায় বললো,
বাবা, জাবেনাকি মিশরে ?
প্রথমে মনে করলাম বুঝি ভুল শুনলাম, তাই জিজ্ঞাসা করলাম কি বলছো?
কোথায় যাবে?
সাম্য বললো উত্তর আফ্রিকা মিশর সেই মমি ও পিরামিড দেখতে।
আমি মহা উৎসাহে বলেছিলাম হ্যাঁ হ্যাঁ যাবো ,
কবে যাবে ?
সাম্য বললো দাড়াও আগে ভিসা এবং অফিসের ছুটি এমন সকল ব্যবস্থা গুলো করি।
আমি নিজে  রিটায়ার্ড মানুষ এখন বয়সও হয়েগেল 69 বৎসর আর তাই আমার তো আর অফিসের ছুটির চিন্তা নাই  আমি তখন থেকেই এক ভীষণ  আনন্দ অনুভব করতে লাগলাম ,আর দিন গুনতে থাকলাম কবে আমার সেই ছোটবেলার স্বপ্ন পূর্ণ হবে।
কবে মমির দেশ ঘুরতে যাব।

একদিন সত্যই সেইদিন আসলো।
আমার স্বপ্ন পুরনের দিন আসলো।
দিনটি ছিল ৩১ মার্চ ২০১৯ রবিবার আমরা বেরিয়ে পড়লাম।

মমির দেশে সাতরাত্রি ও আটদিন,
সে এক রোমাঞ্চকর অনুভূতির দিন।
আমারদের পোগ্রাম ছিল ------
(কায়রো,--আসওয়ান---ইডফু--লক্সোর---কায়রো,-- আলেকজান্দ্রিয়া।)

মিশরের পর্যটন আকর্ষণ::---

A>=কায়রো, মিশর
B>=আসওয়ান, মিশর
C>=সূদানেমিশরের আলেকজান্দ্রিয়া,
        স্ট্যানলি সেতু
D>=কর্ণাক মন্দির,
E>=নীল নদে জাহাজ ভ্রমণ
F>গিজার পিরামিড
G>ভ্যালি অফ দা কিং
H>=মিশরে আবু সিম্বেল-এর মন্দির                                                                      
  ================================     

এবারে আমাদের ভ্রমণের প্রতি দিনের কিছু বিবরণ। যদিও সম্পূর্ণ বিবরণ দেওয়া আমার পক্ষে অসম্ভব।
কারণ আমি নিজে ইতিহাসের স্টুডেন্ট নোই। এবং ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞানও অতি সামান্য।
তাই যতটুকু গাইডদের মুখে শুনেছি তার কিছু সামান্য অংশই মনে রাখতে পেরেছি। যেটুকু মনে রাখতে পেরেছি তারই সামান্য কিছু এখানে  লেখার চেষ্টা করছি ।
কারণ সম্পুর্ন লিখতে গেলে সে বিশাল হয়ে যাবে । তাইতো সামান্য অংশই লিখছি এখানে।

আমাদের যাত্রা হোল শুরুর::---

★★> প্রথম দিন-----(1st day) ::
*****-----৩১ মার্চ ২০১৯-----*****
""""""""""""""""রবিবার"""""""""""""'""

আমাদের যাত্রার প্রথম দিন শুরু হলো দম দম এয়ার পোর্ট থেকে।
৩০ মার্চ ২০১৯ শনিবার রাত্রি  ১১:৩০ মিনিট এআরপর্টের জন্য রওনা দিলাম ।
কারন আমাদের ফ্লাইট ভোর ০৪:২০ মিনিট  (অর্থাৎ 31/03/2019--04:20 am রবিবার।)
কলকাতা থেকে আবু ধাবি ফ্লাইট (EY 255) কোলকাতা নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস ইন্টারন্যাশনাল এআরপোর্ট থেকে প্লেন ঠিক সময় মতোই ৫ ঘণ্টায় আমাদের আবুধাবিতে পৌঁছে দিলো।
সেখান থেকে  সংযোগ কারি প্লেন ( EY 653) আবুধাবি থেকে  ৩ ঘণ্টায় কায়রো ইন্টার ন্যাশনাল  এআরপোর্টে পৌঁছলাম  ১১:৪৫এতে।
সেখান থেকে A/C বাসে করে পৌঁছে গেলাম হোটেলে ( CAIRO HOTEL "GRAND NILE TOWER" )
হোটেল রুম বুক করাই ছিলো। সেখানে দুপুরের খাবার খেয়ে একটু বিশ্রাম করে সন্ধায় গিজার
ঐতিহাসিক লাইট এন্ড  সাউন্ড পোগ্রাম দেখতে গেলাম।
( LIGHT & SOUND SHOW AT THE GREAT PYRAMID OF GIZA )  এক ঘণ্টার অবিশ্বাস্য লাইট ও সাউন্ড এর পোগ্রাম উপভোগ করলাম।
সন্ধায় এখানে প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে সকলেই কম্বল ভাড়া করে ,গায়ে জড়িয়ে নিয়ে বসে দেখলাম এক ঘণ্টার অবিশ্বাস্য পোগ্রাম গোধূলি লগ্নে । (ওখানেই কাউন্টারের পাশে কম্বল ভাড়া পাওয়া যায়, আমরা সকলেই ওখান থেকে কম্বল ভাড়ানিয়ে ছিলাম )
দেখলাম সেই ঐতিহাসিক .GREAT SPHINX
( মিশরের অতিকায় মূর্তি যার দেহ সিংহের মতন ও মাথা স্ত্রীলোকের মতন। )
মনে হলো এই এক ঘন্টা  ওই  SPHINX ই যেন দর্শকের দিকে মুখ করে অনর্গল নাটকীয় ভাবে বিস্তারিত মিশরের পৌরাণিক ইতিহাসকে লাইট এন্ড  সাউন্ড এর মাধ্যমে আমাদের  বুঝিয়ে দিচ্ছিল।
সম্পূর্ণ মিশরের ঐতিহাসিক ঘটনা। কেন, কীভাবে, এখানে তৈরি হয়েছিল এই পিরামিড সকল ।
সেই সকল ঘটনাকে চাক্ষুষ দেখিয়ে দিচ্ছে লাইট এন্ড  সাউন্ড এর মোহিত করা নাটকীয় শুর ও ছন্দ।
পিরামিডের অনেক অজানা তথ্য এমন সুন্দর করে বর্ণনা করছিলো যেন মনে হলো মমি গুলি জেগে উঠে কাজে লেগে পড়েছে। পরিশ্রমী মানুষেরা বড়ো বড়ো পাথর কি সুন্দর ভাবে বয়ে নিয়ে একে একে
সাজিয়ে তৈরী করছে পিরামিড। কিছু মানুষ পিরামিডের ভেতরে এক একটি প্রকোষ্ঠ তৈরীকরতে ব্যস্ত।
পিরামিড গুলি যেন এক একটি প্রাচীন ঐতিহাসিক মহা মূল্যবান  খনি গর্ভ।
বিশ্ব ঐতিহ্যের নানা নিদর্শন ও স্থাপনা ছড়িয়ে রয়েছে সমগ্র মিশর জুড়ে।
এহেন শো দেখে মনে এক অদ্ভুত অনুভূতির শিহরণ নিয়ে ফিরলাম কায়রোর “Grand Nile Tower”-হোটেলে
রাত্রে এলাহী খাবার ব্যবস্থা।
তারপরে ঘুম।
ঘুম থেকে উঠেই দ্বিতীয় দিনের পোগ্রামের  জন্য তৈরী হলাম।                                                         

------------------------------------------
★★>দ্বিতীয় দিন--------(-2nd day) ::
*****-----১ এপ্রিল ২০১৯::-----*****
"""""""""""""""সোমবার""""""""""'""""""""
সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে  সকাল ৭ টায়  জলখাবারের ভুরি ভোজ, এলাহী ব্যবস্থা জল খাবারের।
যে যেমন পারো তেমন যত ইচ্ছা খাও। খাবারের মেনুতে শুধু ভাত ছাড়া সবই আছে। কত খাবার অতোগুলো খাবারের নাম বলাও  মুশকিল আমিষ,নিরামিষ কি নাই সেটাই বললাম। শুধু ভাত টাই নাই। অঢেল ফল বিশেষ করে খেঁজুর এতো  বরো বরো খেজুর এই প্রথম দেখলাম। কি অপুর্ব স্বাদ ,আঙ্গুর ,কলা ,কলা মানে এমন সুন্দর সুস্বাদু কলা ,যা বলে বোঝানো সম্ভব নয় ,সরবতী লেবু এক একটি লেবু আধা কিলো ,কি অপূর্ব যেমন মিষ্টি তেমনি সুস্বাদু।  যাইহোক জল খাবারের ভুরি ভোজ  সেরে লাগেজ গুটিয়ে এ সি বাসে   করে বেরিয়ে পড়লাম সালাদিন চিটাডেল ( SALADIN CITADEL ) দেখতে যেটি তৈরী করেছিলেন সালা আল-দিন, মকিউটাম পাহাড়ে in the year 1183 AD as a defense against Crusader armies.

সালাদিন চিটাডেলের  প্রসস্থ লন থেকে কায়রোর সুদূর প্রসারিত শহরটি  দেখে মন ভরেগেল কি অপূর্ব মনরম দৃশ্য এবং বিশুদ্ধহওয়া, সত্যি অপূর্ব  যার জন্য এই স্থান বিশেষ উল্লেখ যোগ্য। সত্যই কিসুন্দর হাওয়াদার জায়গা। এখান থেকে সম্পূর্ণ কায়রো শহরটি ছবির মতন  অপূর্ব দেখাছিলো।
কায়রো যে সত্যই অট্টালিকার শহর সেটা এখান থেকে না দেখলে বোঝাই যেতনা ।
এখানে আছে  ঐতিহাসিক মসজিদ ও সংগ্রহ সালা, এবং মুহাম্মদ আলী পাশার মসজিদ। মসজিদ গুলি দেখার মতন। মসজিদের ভেতরের কারু কার্য কি অপূর্ব। ভারতে অনেক মসজিদ দেখেছি তবে এই মসজিদ গুলি র কারু কার্য ও শিল্প কলা দেখবার মতন। রং বেরঙের কাঁচের শ্রেণী বিন্যাস দেখার মতন।
তারপর আমরা পৌঁছে গেলাম  কায়রো এয়ার পোর্টে, আসোয়ান মিশর  যাবার জন্য। কায়রো টাইম অনুসারে ৩ তে :৪৫ মিনিটে   আমাদের ফ্লাইট। আমরা আসোয়ান  এতে পৌঁছে গেলে আমাদের নিয়ে গেল নীলনদের ক্র্রুজে, এই  ক্র্রুজ  টির নাম "M S NILE  RUBY ".
ক্র্রুজ টি ফাইভ ষ্টার হোটেলেকেও হার মানায়। কি নাই তাতে সুইমিং পুল , বিশাল ডেক। ড্যান্স বার ,বিশাল ডাইনিং। ওয়াইন সপ, মল,কেনা কাটার সুন্দর বাজার। বেশ বড়ো বড়ো রুম। সম্পূর্ণ জাহাজটিই এসি। জাহাজের মৃদু দোলায় স্বেত শুভ্র বিছানায় পারফিউমের সুবাসে লেপ মুড়িদিয়ে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখার অভিজ্ঞতা ভোলাবার নয়। সন্ধ্যায় আমরা টেম্পল ফিলেতে লাইট এন্ড  সাউন্ড শো দেখলাম।  এখানকার এই লাইট এন্ড সাউন্ড পোগ্রাম গুলি বড়োই সুন্দর। এখানেও  ওই  লাইট এন্ড সাউন্ড শো দিয়ে পুরো ঐতিহাসিক ব্যাপার টা  ভালো করে বুঝিয়ে দেয়। এখানে লাইট এবং সাউন্ড এর পোগ্রামে  গডেস আইসিস ও ওসিরিস এর জীবন বৃত্যন্ত সুন্দর করে বুঝিয়ে দিলো। তারপরে আমরা সম্পূর্ণ টেম্পেল টি ঘুরে দেখলাম। অপূর্ব কারুকার্য চিত্র কলা এবং সকল কিছুতেই গডেস আইসিস ও ওসিরিসের জীবন গাঁথা। গডেজ আইসিসের জীবনের যেটুকু শুনেছি সেটা এখানে লিখতে গেলে ভ্রমণ কাহিনী অনেক দীর্ঘ হয়েযাবে তাই এখানে সেই কাহিনীর বিস্তার উল্যেখ না করে সুযোগ পেলে পরে  আলাদা ভাবে এই কাহিনীর বিস্তার লিখব।
সত্যই মিশর  একটি মন্দিরের শহর যা2000 বছরেরও বেশি আগে নির্মিত হয়েছে। এই ঐতিহাসিক মিশরে বসবাসকারী মানুষদের কাছে নীলনদ এক রক্ষাকর্তা স্বরূপ। এই নীলনদে জাহাজে ভ্রমণ ও আসওয়ান মিশর মিশরের সৌন্দর্য কে বহু গুনে বাড়িয়ে দিয়েছে।
আমার মনেহোল নীল নদে জাহাজ ভ্রমণ,  অবকাশ যাপনের এক শান্তি পূর্ন অতি উত্তম পন্থা। এই নীল নদে জাহাজ ভ্রমণের সহায়তার , ইতিহাসের মিশরীয় মন্দিরগুলি পরিদর্শনের উৎকৃষ্ট অবলম্বন।
এই জাহাজ গুলিতে অত্যাধুনিক  অনেক সুবিধা রয়েছে। এই জাহাজে ভ্রমণের মাধ্যমে জীবনে একবার হলেও এমন এক অনন্য ভ্রমণ অভিজ্ঞতা উপলব্ধি করা সত্যই বিস্ময় কর অভিজ্ঞতা। এই জাহাজে ভ্রমণের মাধ্যমে  চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য ও বালিয়াড়ি দেখার যে অপূর্ব সুযোগ যা সত্যি বিস্ময় কর অভিজ্ঞতা,  যা এই জাহাজভ্রমণ ছাড়া বোধ হয় সম্পূর্ণ রূপে  সম্ভব নয়।
মিশরের মানুষ নদী পথেই তাদের ব্যবসা বাণিজ্য চালায় আর সড়ক পথে উট আর ঘোড়ার গাড়ি সেইকারনে এখানের বাতাসে পলিউশন খুবই কম। তাইতো দিনরাত মুক্ত বাতাসে বুক ভরে স্বাস নিতে কোন বাধা নাই। আর তাই বুঝি এখানকার মানুষ দীর্ঘ দেহি ও বেশ বল শালী।

★★আসওয়ান, মিশর::---

আসওয়ান হল মিশরের সবচেয়ে রৌদ্রজ্জ্বল দক্ষিণী শহর, নীল নদের  উপত্যকায় অবস্থিত শহরটি অসাধারণ। সৌক বা স্থানীয় বাজারগুলি মশলা এবং পারফিউমের গন্ধ ও বর্ণে পরিপূর্ণ, রান্নার যে কত প্রকার মশলা পাওয়া যায় সেটা না দেখলে বিশ্বাস করাই মুশকিল।

তবে হ্যা সকল মশলায় সম্পূর্ণ অর্গানিক কোনপ্রকার রং বা এসেন্স বর্জিত বিশুদ্ধ মশলা।
এর সঙ্গে রয়েছে সুন্দর আফ্রিকান হস্তশিল্প, নুবিয়ান হস্তনির্মিত দ্রব্য,
এইসকল দেখতে দেখতেই দ্বিতীয় দিন কেটে গেল।
এর পরে আবার আমরা ক্র্রুজে ফিরলাম।
ফিরে ডিনার খেয়ে দ্বিতীয় দিনের সকল চিন্তা নিয়ে শুয়ে পড়লাম।
=============================
★★>তৃতীয় দিন----------( 3rd day ) :: *****-----২এপ্রিল ২০১৯::-----*****
""""""""""""""মঙ্গলবার।"""""""""""""""

সকালের ব্রেকফাস্ট সেরে। বেরিয়ে পড়লাম পৃথিবী বিখ্যাত হাই ড্যাম দেখতে এবং সেই ফিলক টেম্পল এর অসমাপ্ত অসাধারণ পিলার গুলি এবং তাদের বিপর্যয়, যা কিনা দুইজন গডেজের নাম উৎসর্গ গডেজ আইসিস ও হাথোর।
তারপরে দুপুরের খাবার খেতে ক্র্রুজে  ফিরলাম।
আমরা যখন লাঞ্চ করছি তখন জাহাজ রওনা দিলো কোম -ওম্ব টেম্পেলের দিগে। আমরা দেখলাম ও জানলাম  কোম -ওম্ব টেম্পেল দুইজন দেবতার নামে সোবেক ও হেইরোরিস। জাহাজ আবার এগিয়ে চললো ইডফু দিকে। রাত  ভর জাহাজ চলছিলো। আমরা রাতের খাবার খেয়ে জাহাজের ডেকে বসে অনেক রাত পর্যন্ত নীল নদের উভয় পারের দৃশ্য ও নীলনদে চলমান আরও কতগুলি ক্র্রুজ  দেখতে  দেখতে উত্তর আফ্রিকার রাত্রি কে প্রাণ ভোরে উপভোগ করছিলাম।                        
দিনের বেলা জাহাজটি যখন হাই ড্যামটি পারকরে এক শুরু লক গেট দিয়ে তখন জাহাজটি ডাইনে বায়ে বার বার ধাক্কা লাগছিলো সেই সময় নীল নদে যতগুলি জাহাজ ছিলো সব একের পরে এক এভাবেই পার করলো ড্যাম। এবার আমরা পৌঁছে গেলাম ইডফুতে। এই হাই ড্যামের উপরেই নুতন করে স্থাপনা করা হয়েছেআবু সিম্বেল মন্দির দুটি। সে কথা পরে বলছি।
----------------------------------------------------
★★>চতুর্থ দিন-----(4th day:)
*****-----৩ এপ্রিল ২০১৯-----*****
"""""""""""""""""বুধবার"""""'""""""""""""
        
আমাদের জাহাজ রাত্রেই পৌঁছে গেছে ইডফু তে। ভোর বেলাই চা /কফি খেয়ে নিয়ে রওনা দিলাম ইডফুর  টেম্পল দেখতে ঘোড়ার গাড়ি করে । মিশরে ঘোড়ার গাড়ি চড়া সেও এক মজাদার যাত্রা। এখানকার ঘোড়া গুলি বেশ বড়ো সরো এবং বেশ তাগড়াই তাই এমন এক্কাতে চড়ে বেশ আনন্দ উপভোগ করা গেল। আমাদের গাইডের কথা হোল "মিসরে এসেছেন এখানকার সব কিছুই উপভোগ করুন। ভারতে তো কতো গাড়ি চড়েছেন , এখানকার মরুভূমির উট আর শহরের ঘোড়া।এমন তাগড়াই ঘোড়া কোথায় পাবেন  স্যার।"
ফিরে এসে দুপুরের লাঞ্চ সারছিলাম ততক্ষনে ক্র্রুজ  রওনা দিয়েছে লাক্সর যাবার জন্য ভায়া এসনা।তারপরেই
মাঝ পথে গাইড আমাদের নিয়ে গেল নীলনদের পূর্ব তীরে কর্ণক ও লাক্সর টেম্পল দর্শনের জন্য। 3000 হাজার বৎসরের পুরোনো লাক্সর টেম্পল নীলনদের পূর্ব পারে। কর্নক ও লাক্সর টেম্পল অতি সুন্দর এই টেম্পল। বিশাল বিশাল দম্বুজ গুলি, হাইপোস্টাইল হল।
(আরও সম্পুর্ন বিবরণ আলাদা করে লিখলাম ★৩>কর্ণাক )
--------------------------------------------------------
★★>পঞ্চম দিন------( 5 th day )
*****-----৪ এপ্রিল ২০১৯::-----*****
""""""""""""""""বৃস্পতিবার""""""""""'''''''''''

**LUXOR SUNRISE HOT AIR BALLOON RIDES-
মিশরে পিরামিড দর্শন টেম্পল দর্শন
এগুলোর ছিলো একান্ত আকর্ষণীয় ।
সকল আকর্ষণ কে ছাপিয়ে লক্সোরের হট বেলুন চড়া অদ্ভুত এক শিহরণ।
বেলুনে চড়ে 530 উচুতে উঠে সূর্য উদয় দর্শন।
অবর্ণনীয় সেই অভিজ্ঞতার ক্ষণ।
মেঘমুক্ত নিল আকাশে,সূর্যের রক্তিম আভার বিচ্ছুরণ।
এহেন সূর্যোদয় দর্শনের শংসা
লক্সোরের হট বেলুন চড়ার প্রশংসা।
মরু দেশ অদ্ভুত সেই শংসিত,
মনোমুগ্ধ কর দর্শনীয় ষড়ৈশ্বর্য ।

বিশাল বেলুনে বাঁধা এক ঝুড়ি
তাতেই চড়ে বসলাম আমরা জনা কুড়ি।
পাইলট ছিলেন একজন।
গ্যাস সিলিন্ডার সহ চারটি ওভেন।
চারটি ওভেনে জ্বালিয়ে আগুন
উৎপন্ন করে হাইড্রোজেন গ্যাস, তাতেই ফুলেওঠে বিশাল সেই বেলুন।
এবারে বেলুন উড়লো আকাশে,
আমরা ভেসে চললাম বাতাসে।
530 ফুট ওপর থেকে মিশর দর্শণ,
আমাদের হৃদয়ে নুতন এক শিহরণ।
চলছিলাম আমরা হওয়ার বেগে,
নীলনদকে দেখছিলাম প্রাণ ভরে।
উঁচু থেকে দেখলাম সকল টেম্পল,
পিরামিড বালুকা ময় বিস্তীর্ন অঞ্চল।
মাঝে মাঝে ওভেনের আগুনের হালকা,
সে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা।
তখম সময় হয়েছিল ভোর পাঁচটা চল্লিশ,
উর্ধো আকাশে ছিল শীতের আবেশ।
এমন মজাদার খোলা আকাশে ভ্রমণ,
হট বেলুনে ভ্রমণ সত্যই অসাধারণ।
  লক্সোরের হট বেলুনের ভ্রমনে,
কিছু নিয়ম কানুন হয় মনে রাখতে।
এই রাইড 45,--60মিনিটের রাইড,
সাথে থাকে উপযুক্ত গাইড/পাইলট
যে ইংরেজি বলতে পারে ভাল।
*Ride টি FULL PASSANGER INSURANCE,
*HAVE A SKILLED PILOT,
*প্রশাসন অতিশয় সচেতন।
*সম্পূর্ণ যাত্রা পথ সি সি টিভির আওতায়
থাকে তখন। তথাপি নিজেদের ও সতর্ক থাকতে হয়। বিশেষ করে বেলুনে চড়তে, নামতে, বা উপরে হওয়ার বেগ বেড়ে গেলে। তবে দেখলাম ওখানকার প্রশাসন ভীষণ ভাবে সতর্ক।
আমাদের বেলুন হওয়ার বেগের কারনে
বেশ একটু দুরে চলে গিয়ে ছিলো।
কিন্তু অবতরণের সময় দেখলাম
সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মুহূর্তে পৌঁছে গিয়ে ছিলো অবতরণের স্থানে।
প্রশাসনের এহেন সতর্কতা দেখে ভীষণ ভালো লাগলো।
**********************
We captured those unforgettable scenes on camera. Look to the east to see the pillars of Karnak Temple greet the morning sun. Then we  turn west to admire Queen Hatshepsut’s Temple cast in the glow of dawn . Our camera was clicking constantly during Balloon Ride over Historic town of LUXOR to capture the unique angles of arial views of the RIVER NILE from 530 fit above.Then, wind  float our balloon  over the Ramesseum, the impressive funerary temple of Pharaoh Ramses II, and gaze down at its pylons, statues and courtyards.
As we fly, a ground support van and crew  follow our balloon, and they were there when we land.
After a safe touchdown, step back to land. There We saw some armed force was Ready to protect us.
Really we fill happy for such protection ০f security by the local Polish and Management Of Balloon' organization.
We  receive our personal flight certificate .
ক্র্রুজে ফিরে এসে সকালের ব্রেকফাস্ট খেয়ে নিয়ে লাগেজ প্যাক করে রাখলাম। আমরা আবার বেরিয়ে পড়লাম নীল নদের পশ্চিম পাড়ের দিকে 62 জন ফেরাওদের কবর খানা দেখতে যেটি ---ভ্যালি অফ দা কিং:  নামে  খ্যাত।
তারপরে দেখলাম রানী  আহাৎশেপ্সুতর সমাধি টেম্পল আনুমানিক 15th century BC যার নিদর্শন আছে EI-Deir EI-Bahari তে এবং The  Colossi of Memnon.
দুটি স্ট্যাচু বসেআছে যাদের হাত গুলি হাঠুর উপরে আছে। পূর্ব দিকে মুখ করে অর্থাৎ নদীর দিকি মুখ করে বসে আছে।
পৃথক দুটি বিশাল  কোয়ার্জ  পাথরের মূর্তি। উচ্চতা 18মি ( 60 ফুট ) তৈরী হয়েছিল 1350 BC এর পরে আমরা দিনের খাবার খেয়ে বেনানা দ্বীপে গেলাম কলা বাগান দেখতে। সেখানেও দোকানে দুটি কুমির রাখা আছে। কুমির এদের বড়ো প্রিয় আদরের। এর পরে আমরা চলে গেলাম লাক্সর এয়ারপোর্টে কায়রো যাবার ফ্লাইট রাত্রি 9 টায়। কায়রোতে পৌঁছে আমাদের হোটেল “Mercure Cairo Le Sphinx”. রাত হোটেলেই কাটলো।
-----------------------------------------------------
★★>ষষ্ঠ দিন এ----::( 6th day ):
*****-------৫ এপ্রিল ২০১৯----******
"""""""""""""""শুক্রুবার""""""""""""""""
কারোর হোটেলে সকালের ব্রেকফাস্ট করে গাইড আমাদের নিয়েগেল গিজার পিরামিড দেখাতে। মিশরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান হচ্ছে গিজার পিরামিড মিশর ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থেকে যাবে যদি গিজার পিরামিড না দেখা হয় । প্রাচীন বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের একটি এই পিরামিড। মিশরের রাজাদের  সমাধিস্থল হচ্ছে এই পিরামিড। মিশরের ফারাও অর্থাৎ রাজাদের মৃতদেহ মমি করে রাখা আছে এই পিরামিডের মধ্যে। কায়রো শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে মরুভূমির মধ্যে নীলনদ বরাবর গিজার পিরামিড অবস্থিত। গিজাতে  আছে তিন ( 3 )টি পিরামিড- খুফু, খাফ্রে ও মেংকাউরে পিরামিড।
এখানে উটের পিঠে চড়ার ব্যবস্থা ছিলো।
বাচ্ছা বুড়ো সকলেই উটের পিঠে চড়ে বালিয়াড়ি পর করে পিরামিডের কাছে গিয়ে দেখে আসলো।
যেখান থেকে উঠে চড়ার জন্য সকল উট গুলি ছিলো। আমি দেখলাম একজন মহিলা তার একটি উটের দুধ দোয়াচ্ছেন।
সকলে যখন উঠে চড়ার আনন্দে মাতোয়ারা তখন আমি সুযোগ বুঝে ওই উটের মালিক মহিলাকে 20 আরবীয় পাউন্ড দিয়ে একটু উটের দুধ চেয়ে নিয়ে খেলাম।
( CENTRAL BANK OF EGYFT এর
10 POUNDS মূল্যের দুটি নোট দিয়ে ছিলাম )
এমন তাজা উটের দুধ পেয়ে সত্যি খুব আনন্দ অনুভব করেছিলাম।
ওই দুধের কি দাম তাতো আমার জানা ছিলোনা। তবে দুটি দশ টাকার পাউন্ড দেখাতেই এক কথায় এক গ্লাস দুধ দিয়েছিলেন।আন্দাজ করি 200মিলি
দুধ ছিলো।
বড়ো  পিরামিডের সামনে স্ফিংস নামক সেই  বিখ্যাত মূর্তিটি  আছে, যার দেহটি সিংহ এর আকৃতি ও মাথাটি মানুষের মতন। এটি একটি  অনন্য নিদর্শন। বড়ো পিরামিড টির ভিতরে গিয়ে দুই জায়গাতে হামাগুড়ি দিতে হোল। আমার পক্ষে এই টুকুই সম্ভব হোল ,বাকি যাদের  একটু কম বয়েস তারা পুরোটাই এঞ্জয় করতে পেরেছে। এখানথেকে বেরিয়ে আরও কয়েকটি পিরামিডের ভেতরে গিয়ে দেখলাম। তারপরে রাজা টুটানখামুনের সমাধি। এই সমাধি দেখার জন্য আলাদা করে বেশি মূল্যের টিকিট নিতে হয়েছিল।
( টুটানখামুনের সমাধি এক বিস্ময়কর সমাধি যার বিবরণ একটু আলাদা করে
লিখলাম। )
এর পরে গেলাম  মিশরের মিউজিয়াম দেখতে যে খানে আছে টুটানখামুনের সমাধিতে রাণী নেফারতিতির গোপন কুঠুরি মিশরের প্রত্নতত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন,রাজা টুটানখামুনের সমাধিতে তারা এমন একটি গোপন কুঠুরি থাকার প্রমাণ পাচ্ছেন যেখানে হয়তো রাণী নেফারতিতির কবর ছিল। সকলের ধারণা যদি সত্যি সত্যি এরকম এক গোপন কুঠুরি খুজে পাওয়া যায় সেটা হবে শতাব্দীর সবচেয়ে বড় আবিস্কার। লাক্সারের এই অত্যন্ত প্রাচীন স্থানটিতে এখনো খোজ চলছে । তার পরে দেখলাম মমিদের মিউজিয়াম। যেখানে সারি সারি লাইন দিয়ে কাঁচের বক্সএ রাখা আছে সকল মমি। এখানেও অনেক নামনাজানা মমি আছে। বিশাল বিশাল সোনার মুখোশ। সোনার নির্মিত কফিন। সোনার অলংকার ,নানান মূল্যবান পাথরে সু স্বজ্জিত।
রাতে হোটেলে ফিরলাম। হোটেল টির  নাম ::-
MERCURE CAIRO LE SPHINX  HOTEL        
-----------------------------------------------------                                           
★★>সপ্তম দিন-----(7 th day )
*****------6 এপ্রিল ২০১৯-----*****
""""""""""""""""""""শনিবার""""""""""""""""

সকালে 6 টায় ব্রেকফাস্ট সেরে 7 টায় বেরিয়ে পরলাম আলেক্সান্দ্রিয়ার উদ্যেশ্যে। কায়রো থেকে আলেক্সান্দ্রিয়া প্রায় 3ঘণ্টার রাস্তা।
আলেকজান্দ্রিয়া কায়রো::---
6th April 2019::--
সকালে গেলাম আলেকজান্দ্রিয়া কায়রো থেকে 230 কিমি দূরে, ভূমধ্যসাগরের দক্ষিণ উপকূলে।
এটি মিশরের পুরোনো একটি শহর।
খুব সুন্দর শহরটি সাজানো গোছানো।
গ্রীকরাজ আলেকজান্ডার 301 খ্রিস্টপূর্বে তৈরি করেছিলেন শহরটি।
এখানে আছে রোমানদের সমাধিভূমি
ক্যাটাকম্ব কোম ( মাটির তলায় তিন তলার চার্চ)। চার্চের সামনেই
সারকেফেগাস- কম-এল-সোকাফা
( Sarcofagaes-Kom-El-Shouqafa)
যেটি চতুর্থ শতকে নির্মিত।

পম্পেই পিলার (Pompei Pillar)
কম-এল-ডেক্কা সাইট ( Kom-El-Dekka site) দেখলাম।
ভূমধ্যসাগরের উপমূলে নানান রকমের দোকান । দোকানের রংবাহারি সাজ দেখতে দেখতে চা খেলাম।
সমুদ্র প্রান্তে ক্যাটবে সিটাবেল দুর্গ দেখা  যাচ্ছিলো।
তারপরে দিনের খাবার খেতে গেলাম হোটেলে । সেখানে নানান প্রকার সী-ফুড
খেলাম। শামুক, ঝিনুক, অক্টোপাস, আরও নানান খাবার সামগ্রি সব গুলোর নামও জানানাই।
তারপরে গেলাম পৃথিবী বিখ্যাত বিবলিওথিকা লাইব্রেরীতে
( আলেকজান্দ্রিয়া)।
এখানে আনুমানিক দশ লক্ষ বই আছে।
এক বা দুই দিনে সমগ্র লাইব্রেরী ঘুরে দেখা সম্ভম নয়।
এতো কিছু দেখার পরে যে দেখা গুলি না দেখেও গাইডের মুখে শুনেই স্তম্ভিত রোমাঞ্চিত হয়ে ছিলাম সেই গুলির একটু কথা লিখছি আলাদা করে।
তবে নানান সময় সংঘটিত পৃথক পৃথক অগ্নিকাণ্ডে আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগার সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয় ।"
বর্তমানে সম্পুর্ন নুতন করে আবার তৈরি হয়েছে গ্রন্থাগার।

**আলেক্সান্দ্রিয়া
( যেটুকু সংগ্রহ করতে পারছি, কিছুটা
নিজের চোখে দেখে,কিছুটা গাইডের কথায় কিছুপ্রাচীন  ইতিহাস থেকে)

আজকে জাজা দেখেছি সেগুলির নাম লিখলাম:---
১>আলেক্সান্দ্রিয়ার বিখ্যাত গ্রন্থাগার "বিবলিওথেকাই"
২>সুন্দর স্টেনলি সেতু,
৩>এল-মুরসি আবুল আব্বাস মসজিদ
৪>আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর
৫>আলেক্সান্দ্রিয়া র পুরানো বাজার।
৬>কম এল শোকাফার ধ্বংসাবশেষ:
৭>বিখ্যাত পম্পি পিলার
৮>রোমান থিয়েটার--( আলাদা করে লিখলাম )
( এই ১ থেকে ৮ প্রতিটি আলাদা করে লিখলাম)
অনেক দেখেও সম্পূর্ণ না দেখতে পারার এক বিশাল বেদনা নিয়ে রাতে হোটেলে ফিরলাম। হোটেল টির  নাম ::-
MERCURE CAIRO LE SPHINX  HOTEL
-----------------------------------------------------                                                                                             
★★>অষ্টম দিন-----(8 the day ) ::
*****-----৭ এপ্রিল ২০১৯-----*****
"""""""""""""""""রবিবার""''"""""""'''''"'
আজ আমাদের বাড়ি ফেরার পালা।
সকালে ব্রেকফাস্ট সেরে হোটেল থেকে Check out Time করলাম সকাল ৯টায়। কায়রো ইন্টার নেশানাল এয়ারপোর্ট পৌছোলাম সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে। Take the flight from Cairo to Abu Dhabi (EY 654) and landed at 05:13 connecting flight to Kolkata (EY 256).
জীবনে অনেক ঘুরেছি তবুও যাকিছু ভালো সবই যেন খুব তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায়।
আবার বলি ভ্রমণ এক নেশা
চোখের নেশা, মনের নেশা
একান্ত হৃদয়ের নেশা।
প্রকৃতি যেন হাত ছানি দিয়ে ডাকে
মন কিছু খুঁজে বেড়ায় অজানা পথে।
কিছু খুঁজে পেতে চায় নুতন করে
কিছু পেতে চায় প্রকৃতিকে আপন করে।

আজ-কাল অতি ব্যস্ত জীবনে সময়ের মাঝে পরিবারের সঙ্গে একটু ঘুরে বেড়ানো একটু অবকাশ খুব সহজে মেলেনা, আর তাই সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে হয়।  সুযোগ আসার পর চলতে থাকে তার প্রস্তুতি। নির্দিষ্ট দিনের অপেক্ষা এবং তার প্রতীক্ষার উত্তেজনা সত্যি সুখের, আমাদেরও  এমন সুখের আটটি দিন
মনে হয় মুহূর্তেই যেন হয়ে গেল শেষ।
কাল থেকেই আবার সেই গতানুগতিক
জীবনের ঘনি টানা হবে শুরু।
আর এভাবেই হয় শেষ থেকে শুরু।

সকলকে আমার আন্তরিক ভালোবাসা জানিয়ে আজ এখানেই  করছি শেষ।
                          ========================   



89>|| মমির দেশে আমরা ( সংক্ষেপে) ||

 89>|| মমির দেশে আমরা ( সংক্ষেপে) ||

             <-----আদ্যনাথ---->

ভ্রমন এক নেশা---

যে নেশা দেখায় নুতন দিশা।

মনের অতৃপ্ত বাসনার মাঝে,

একটু তৃপ্তি খুঁজে পাওয়া।

একটু আনন্দ উপভোগ করা,

একটু খোলা হওয়ায়,

একটু একান্তে জিরিয়ে নেওয়া।

আগামী দিনগুলো-সুন্দর করে বাঁচতে

একটু মিঠে হওয়া, বুকে ভরে নিতে।


ভ্রমন এক নেশা--

নিজেকে পূর্ণ উপভোগ করা,

অজানাকে কাছে থেকে জানা।

নিজেকে প্রকৃতির সাথে মিশেয়ে নেওয়া,

কিছু সময় নিরালায় থাকা।

কিছু নুতন বন্ধু জুটিয়ে নেওয়া,

মনের আবেগ ভাগকরে নেওয়া।

কিছু ভালো লাগা, কিছু মানিয়ে নেওয়া।

কিছু মনের কথা বলা,

কিছু নুতন ভাবনা ভাবা।

কিছু স্বপ্ন দেখা,

কিছু সময় হারিয়ে যাওয়া।

কিছু পাওয়া না পাওয়া,

নুতন ভাবনায় দোল খাওয়া।

যেটুকু পাওয়া, সেইটুকুই স্মৃতি হয়ে থাকা।


আমাদের এমারের ভ্রমন ছিল,

খেজুর গাছের ছায়ায় ঘেরা,

নীলনদের শীতল জলে, ভেসে,

"M S NILE  RUBY ". ক্রুজে চড়ে,

মিশরকে দেখা।


কোলকাতা কায়রো ভায়া আবুধাবি।

আবার কায়রো থেকে আসোয়ান মিশর।

আর সেই বিখ্যাত  নীলনদের ক্র্রুজে।

দুই রাত্রি মিশরের হোটেলে প্রথম

ও সপ্তম রাত্রিতে ।

দুইরাত্রি প্লেনে আকাশ পথে।

চার রাত্রি নীলনদের ক্র্রুজে।


অনেক ভেবে অবশেষে

চললাম আমরা মমির দেশে।

আমরা সবাই মিলেমিশে

আনন্দেতে চলেছি মিশর দেশে।

আমরা ছিলাম ২৭ জন

শিশু, যুবক,বয়স্ক কজন।

পরিবার ছিল ৫টি মাত্র,

স্ত্রী পুরুষ সকলেই অতি ভদ্র।


দি বোহেমিয়ানস এর ব্যবস্থাপনা,

সকলে ছিলাম একান্ত আপনা।

অতি সুন্দর এদের তদারকি,

মিটিয়েছে সকল চাহিদা গুলি।

বোহেমিয়ানসের সাথে চলে,

মুগ্ধ হয়েছি আমরা সকলে।

জাদুমুগ্ধকারি মিশর দেশ,

কত বলি কত লিখি হবেনা শেষ।

সাত রাত্রি আর আটটি দিন,

আমাদের চির স্বরণীয় কটিদিন।


সে এক নুতন অভিজ্ঞতার কটি দিন,

নুতন দেশে নুতন পরিবেশে কটি দিন।

বালুকা ময় বিস্তীর্ণ অঞ্চল,

আবেগে মণ ছিল ভীষণ চঞ্চল।

নীলনদেরজলে ক্রজে ভ্রমন,

নুতন অভিজ্ঞতার শিহরণ।

খাবার জল কতটা দামী,

বুঝে নিতে থাকেনি বাকী।

দিনে সূর্যের প্রচণ্ড তাপ,

রাতে শীতের প্রভাব।

বুঝিয়ে দিয়েছে,

মরু দেশে বালির প্রভাব।


খেজুর,কলা, মোসম্বীর স্বাদ,

দুর হয়ে যায় সকল অবসাদ।

এতো পেয়েও মেটে না আশা,

চোখ ও মনে জাগে নুতন আশা।

আলেকজেন্দ্রিয়ার পুস্তক ভান্ডার,

তিন ঘণ্টা দেখেও মনে হাঁ হাঁ কার।

কি নাই সেখানে, ওদের বইয়ের তাকে,

দেখলাম রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের বই,

বিবেকানন্দের পুস্তক রেখেছে আদরে।

বাদ যায়নি আমাদের রামায়ন,

মহাভারতের সমাদর।


কি বিশাল পুস্তক ভান্ডার।

চোখে না দেখলে বিশ্বাস করাই যে ভার।

বিশাল পরিসর,সমগ্র বিশ্বের বইয়ের পাহাড়।

ই-বুকের সংগ্রহ,যেন মনেহয় ই-বুকের সমুদ্র।

আহা কি দেখিলাম, চোখে দেখেও বিশ্বাস হারালাম।


ভূমধ্য সাগরের ঢেউ অনবরত করিছে ধৌত,

আলেকজেন্দারের স্মৃতি সৌধ।

এই স্থানেই ছিল পৃথিবীর

সর্ব প্রথম লাইট হাউস টি।

যার স্মৃতি স্মরণেই

নব নির্মিত এই আলেকজেন্দারের স্মৃতি সৌধ।

নির্মাণ শিল্পের নিখুঁত কারু কার্য,

এও যেন পৃথিবীর এক অত্যাশ্চর্য।

আর সেই ঝুলন্ত বিশাল গির্জা।

ভাবতেও অবাক লাগে,

প্রাচীন সেই চারু কলা।

প্রাচীন সেই  ইঞ্জিনিয়ারিং,

যা আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিংকেও

হার মানায়।

তাইতো উত্তর আফ্রিকার স্মৃতি,

একবার নাদেখলে চোখে

মনে রয়ে যাবে বাসনা অতৃপ্তি।


ভ্রমণের স্মৃতি,অবসর জীবন যাপনের,

উঠকৃষ্ট ঔষধি ও মনের শক্তি।

নিরালায় বসে আনন্দ স্মৃতি

নিজে উপভোগ করা।

অবসর জীবনের প্রকৃত আনন্দ নিজে খুঁজে নেওয়া।  

প্রকৃতির মাঝে নিজেকে খুঁজে পাওয়া,

থাকেনা কোন অপূর্ন চাওয়া পাওয়া।


     <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী  --->

      ৬/২ এ,শ্যামবিহার ফেজ ll

         আর ই ই-১৫ রঘুনাথপুর ।

          কোলকাতা- ৫৯  

                 

  =====================     




Saturday, November 5, 2022

88>কর্ণাটক ভ্রমণ:-(2):(দ্বিতীয়ভাগ)3D+2N::

 88>কর্ণাটক ভ্রমণ:-(2):(দ্বিতীয়ভাগ)3D+2N::

            <---আদ্যনাথ--->

 তিন (3)দিন দুই(2)রাত্রি।


মাদিকেরি::---


দক্ষিণ-ভারতীয় রাজ্য কর্ণাটকের একটি সুন্দর পাহাড়ি শহর মাদিকেরি।

মাদিকেরিতে দেখার জন্য 16টি স্থান ।


2 রাত এবং 3 দিনের ভ্রমণ


কখন মাদিকেরি বেড়াতে যাবেন

16টি মাদিকেরি পর্যটন স্থান এবং করণীয়

1>নামড্রলিং মঠ

2>মাদিকেরি ফোর্ট

3>অ্যাবে জলপ্রপাত

4>গালিবিদু ট্রেকিং

5>তালাকাভেরি

6>কফি বাগান

7>গাদ্দিগে রাজার সমাধি

8>রাজার আসন

9>চেলাভারা জলপ্রপাত

10>চেতালি

11>ওমকারেশ্বর মন্দির

12>দুবারে হাতি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প

13>কাবেরী নিসর্গধামা

14>চিঙ্গারা জলপ্রপাত

15>মন্ডলপট্টি

16>ভগমণ্ডলা


দক্ষিণ-ভারতীয় রাজ্য কর্ণাটকের একটি সুন্দর পাহাড়ি শহর মাদিকেরি।

মাদিকেরিতে দেখার মতো কিছু জায়গা রয়েছে ।


যদিও মাদিকেরি একটি হিল স্টেশন শহর, গ্রীষ্মগুলি বেশ গরম এবং আর্দ্র হয়। 

সেই কারণে এখানে ভ্রমণের উপযুক্ত সময় 

জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর এবং নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ভ্রমণের সেরা সময়। 


এই সময়ে, তাপমাত্রা বেশ মাঝারি হয়ে যায় এবং ঘন ঘন বৃষ্টির মজা উপভোগ করা যায় এবং বর্ষায় এখানে সবুজ বনে নতুন জীবন নিয়ে আসে।


 ট্রেনে: ট্রেনে মাদিকেরি যাওয়ার জন্য  ম্যাঙ্গালোর স্টেশন থেকে সুব্রহ্মণ্য বা হাসানের জন্য ট্রেনে যেতে হবে।


 সড়কপথে : মাদিকেরি সমস্ত প্রধান ভারতীয় শহর যেমন ম্যাঙ্গালোর (139 কিমি), ব্যাঙ্গালোর (267 কিমি), কোয়েম্বাটোর (307 কিমি), এবং কোচি (389 কিমি) এর সাথে সড়কপথে সু-সংযুক্ত।


মাদিকেরিতে16টি  পর্যটন স্থান::--

1.>নামড্রলিং মঠ::--

মাদিকেরিতে 1963 সালে প্রতিষ্ঠিত,  নামড্রলিং মঠে ধ্যান করে  সময় কাটাবার উপযুক্ত স্থান । এটি 5 হাজারেরও বেশি লামার আবাসস্থল।এখানে নিরালায় নিঃশব্দে প্রকৃতির কোলে প্রাত্যহিক জীবনের তাড়াহুড়ো থেকে নিজের মনকে সহজভাবে শিথিল করার জন্য এটি একটি দুর্দান্ত জায়গা। ভগবান বুদ্ধের 18 মিটার লম্বা সোনার প্রলেপযুক্ত মূর্তি থাকায় স্থানীয়রা এটিকে সোনার মঠ হিসাবেও পরিচিত। 



2>মাদিকেরি ফোর্ট::--

দুর্গটি 17 শতকের শেষের দিকে মুদ্দুরাজা দ্বারা নির্মিত হয়েছিল, যা এটিকে দক্ষিণ ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভে পরিণত করেছিল। এটি অন্যতম জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান মাদিকেরি পর্যটন স্থান । এমন কি সময়ের সাথে সাথে বেশ কিছু সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পরে, আধুনিক ভারতীয় ইতিহাসে ব্রিটিশ শাসনের কিছু অংশ, মাদিকেরি দুর্গের একটি খুব সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক মূল্য রয়েছে।

( প্রতি সোমবার বন্ধ থাকে)

 সোমবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল 10 AM থেকে 5:30 PM এর মধ্যে মাদিকেরি ফোর্টে ঘুরে দেখা । 




3>অ্যাবে জলপ্রপাত

আপনি যদি প্রাকৃতিক জলপ্রপাতের সৌন্দর্য এবং শান্তি উপভোগ করেন তবে অ্যাবে জলপ্রপাত কেবল আপনার গতি। এই 70 ফুট প্রাকৃতিক জলপ্রপাতটি স্বর্গের বাইরে সোজা বলে মনে হয় যা পর্যটকদের আকর্ষণে পরিণত হয়েছে এবং ঠিক তাই। সবুজ সবুজ এবং স্ফটিক স্বচ্ছ জলে ঘেরা, এটি প্রিয়জনদের সাথে পিকনিক বা সন্ধ্যায় একটি সাধারণ হাঁটার জন্য একটি দুর্দান্ত জায়গা। আপনি 15 রুপি এন্ট্রি ফি দিয়ে সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল 9টা থেকে বিকাল 5টা পর্যন্ত অ্যাবে ফলসে আপনার সময় উপভোগ করতে পারেন। 


4>গালিবিদু ট্রেকিং::---

যদি অ্যাডভেঞ্চার এবং এক্সপ্লোরিং আপনার গতি বেশি হয়, কোন চিন্তা নেই! মাদিকেরির কাছে কিছু আশ্চর্যজনক ট্রেকিং স্পট রয়েছে যেখানে আপনি হাইক করতে পারেন। সমস্ত প্রচেষ্টার মূল্যের একটি দৃশ্যের জন্য প্রায় 14 কিমি চড়াই হাঁটুন এবং তারার নীচে ক্যাম্পিং করে আপনার সময় ব্যয় করুন। যদি এটি এমন কিছু মনে হয় যা আপনি উপভোগ করতে নিশ্চিত হন, আপনি বেশ কয়েকটি ট্রেকিং গ্রুপে যোগ দিতে পারেন যেগুলি অনেক কম পায়ে চলার পথ দিয়ে ট্র্যাক করে বা একা একা প্রকৃতি উপভোগ করতে যেতে পারে। 


 


5>তালাকাভেরি::--

রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত কাবেরী নদীটি তালাকাভেরিতে উৎপন্ন হয়েছে, যা স্থানটিকে ভক্তদের কাছে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ করে তুলেছে। পবিত্র নদীটির উৎপত্তিস্থলটি অনেক পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত ধর্মীয় গুরুত্বের এবং একটি ব্যস্ত পর্যটন বাজার নিয়ে গর্ব করে। শুধু তাই নয়, যেহেতু এটি ব্রহ্মগিরি পাহাড়ের এত উচ্চতায় অবস্থিত একটি বিন্দু, তাই আপনি সুন্দরের জন্য উন্মুখ হতে পারেন। কুর্গ উপত্যকা এবং সবুজ-সবুজ পর্বতমালার দৃশ্য। 



6>কফি বাগান::--

আরেকটি সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা যা আপনি মাডিকেরিতে উপভোগ করতে চান তা হল বিভিন্ন কফি বাগান পরিদর্শন করা। মাডিকেরির কৃষকরা কীভাবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানসম্পন্ন প্রাকৃতিক কফি বিন রপ্তানি করছে, প্রক্রিয়াজাত করছে এবং রপ্তানি করছে সে সম্পর্কে আপনি এখানে সব কিছু জানতে পারবেন। আপনি সবুজ কফি বাগানের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এটি জ্ঞান এবং কৌতূহলে পূর্ণ একটি অভিজ্ঞতা। আপনি ভাগ্যবান হলে আপনি এমনকি কিছু ফসল তুলতে সক্ষম হতে পারে! 


 


7>গাদ্দিগে রাজার সমাধি::---

1820-এর দশকে, গাদ্দিগে রাজার সমাধিটি মাদিকেরি স্থানগুলির ঐতিহাসিক সমৃদ্ধির একটি স্তম্ভ । এটি কোডাভাস রয়্যালটির বিশ্রামের জায়গা। তাছাড়া, আকর্ষণীয় টুকরা স্থাপত্য হল একটি বিখ্যাত দর্শনীয় স্থান যা শহরের কেন্দ্র থেকে খুব বেশি দূরে নয়। 


 


8>রাজার আসন:::--

মাদিকেরিতে রাজার আসনটি শান্ত মনন ও ধ্যানের জায়গা। আপনি যদি আরও স্বস্তিদায়ক এবং স্বস্তিদায়ক অভিজ্ঞতার সন্ধান করেন, রাজার আসন আপনার জন্য উপযুক্ত পছন্দ হতে পারে। আপনি কেবল একটি শান্ত সন্ধ্যা কাটাতে পারেন এবং স্থাপত্যের এই সুন্দর অংশে ধ্যান করতে পারেন। 


 


9>চেলাভারা জলপ্রপাত::--

যদিও মূল শহর থেকে বেশ খানিকটা দূরত্বে, চেলাভারা জলপ্রপাত একটি দিন কাটানোর এবং কিছু গ্রাম-যোগ্য ছবি তোলার জন্য একটি স্মরণীয় এবং চমত্কার জায়গা। সবুজে ঘেরা দ্রুত চলমান প্রাকৃতিক জলপ্রপাতটি বর্ষাকালে বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে চেলাভারা ফলস-এ আপনি প্রতিযোগিতামূলক দামে র‌্যাপেলিং-এর মতো ক্রিয়াকলাপ উপভোগ করতে পারেন। 




10>চেতালি::---

আপনার যদি সময় থাকে, মাদিকেরি থেকে চেতালি অবশ্যই ঘুরে আসতে পারেন। মাত্র একদিনের ট্রিপ এবং আপনি এই বিচিত্র সবুজ গ্রামে একটি রাত ক্যাম্পিং করতে পারেন। প্রকৃতির কোলে নৈসর্গিক দৃশ্যগুলি নিজের বা আপনার প্রিয়জনের সাথে কিছু সময় কাটানোর একটি দুর্দান্ত উপায়। 


 


11>ওমকারেশ্বর মন্দির::--

হিন্দু ধর্মে শিবের উপাসনালয়ে নিবেদিত এই সাধারণ মন্দিরটি অনেক ভক্তের উপাসনার স্থান, যাদের মধ্যে কেউ কেউ এই মন্দিরে প্রার্থনা করার জন্য হাজার হাজার কিলোমিটার ভ্রমণ করেন। এছাড়াও আপনি মন্দিরের আশেপাশের রেস্তোরাঁগুলিতে সুস্বাদু নিরামিষ ভারতীয় খাবার উপভোগ করতে পারেন। 


 


12>দুবারে হাতি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প::--

আপনি যদি বন্যপ্রাণী সম্পর্কে আগ্রহী হন তবে এটি একটি সুন্দর সন্ধ্যার জন্য উপযুক্ত স্থান হতে পারে। দুবারে এলিফ্যান্ট ট্রেনিং ক্যাম্পে, আপনি বনের কিছু হাতির সাথে বন্ধুত্ব করতে আপনার সময় দিতে পারেন। এমনকি আপনি এই হাতিগুলিতে চড়তে পারেন যদি তারা আপনাকে যথেষ্ট পছন্দ করে এবং আপনাকে পাহাড়ের ধারে সুন্দর বনের দিকে বিশেষ নজর দেয়। আপনি সকাল 9 AM থেকে 11 AM এবং সেইসাথে 4:30 PM এবং 5:30 PM এর মধ্যে কার্যকলাপগুলি উপভোগ করতে পারেন৷ 


 

13>কাবেরী নিসর্গধামা::--

কাবেরী নিসর্গধমা এমন একটি জায়গা যা সারা বছর ক্রিয়াকলাপের জন্য উন্মুক্ত থাকে। আপনি আপনার পরিবারের সাথে খরগোশের খামার এবং ময়ূরের খামার পরিদর্শন করতে পারেন এবং বনের মধ্য দিয়ে নদীর ধারে হাঁটতে পারেন। আপনি খুব গরম অনুভব করলে নদীটি ডুব দেওয়ার জন্যও খোলা থাকে। আপনি এখানে একটি পূর্ণ দিন কাটাতে পারেন মজাদার কার্যকলাপের সাথে কানায় কানায় পূর্ণ এবং কাছাকাছি রেস্তোরাঁয় আপনার শক্তি পূরণ করতে পারেন। আপনি সকাল 9 টা থেকে বিকাল 5 টার মধ্যে কাবেরী নিসর্গধামা পরিদর্শন করতে পারেন সমস্ত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য 10 টাকা প্রবেশমূল্যের জন্য।


14>চিঙ্গারা জলপ্রপাত::--

আপনি যদি কফি বাগান থেকে আপনার পথে থাকেন, আপনি বিশ্রামের স্টপ হিসাবে চিঙ্গারা জলপ্রপাতের একটি ছোট পরিদর্শন যোগ করতে পারেন। আপনি দ্রুত প্রবাহিত একটি ছোট জলপ্রপাত দ্বারা বেষ্টিত হবে. আপনি এখানে শান্তির কিছু মুহূর্ত কাটাতে পারেন এবং প্রকৃতিকে তার সেরাভাবে প্রশংসা করতে পারেন। আপনি সকাল 6 টা থেকে বিকাল 5 টার মধ্যে চিঙ্গারা জলপ্রপাতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন, কোন প্রবেশ মূল্যের প্রয়োজন নেই। 


 

15>মন্ডলপট্টি:::--

আপনি যদি সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের অনুরাগী হন তবে মন্ডলপট্টি আপনার জন্য জায়গা। 1800 মিটারের উপরে উচ্চতায় যান এবং পশ্চিমঘাটের লীলাভূমির অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করুন। সুন্দর আকাশ আর বাতাস উপভোগ করে সময় কাটাতে পারেন। 


16>ভগমণ্ডলা::---

ভক্তদের কাছে আরেকটি জনপ্রিয় স্থান, ভগমন্ডলা হল কাবেরী নদীর সঙ্গমস্থলে একটি মন্দির এবং এর উপনদী কনাকে এবং সুজ্যোতি। এখানে আপনি পবিত্র নদীগুলির পাশাপাশি হিন্দু ধর্মের অন্যান্য অনেক দেবদেবীর মন্দির পরিদর্শন করতে পারেন। 

        <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

===================__

 





87>কর্ণাটক ভ্রমণ:-(1):(প্রথমভাগ)7D+6N::--

 

87>কর্ণাটক ভ্রমণ:-(1):(প্রথমভাগ)7D+6N::--

            <---আদ্যনাথ---->
    ( সাত (7)দিন ও ছয়(6)রাত্রি।
কর্ণাটক হল একটি সুন্দর রাজ্য যেখানে মন্দির, এবং অভয়ারণ্য থেকে শুরু করে পার্বত্য স্টেশন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি  আকর্ষণ কেন্দ্র রয়েছে।

কর্ণাটকের 15টি সেরা পর্যটন স্থান::--
1>মহীশূর:::---
2>কুর্গ::---
3>ব্যাঙ্গালোর::---,( ★★ Continue)
4>বাদামি::---
5>হাম্পি::--
6>গোকর্ণ::--
7>চিকমাগালুর::--,( ★★ Continue)
        +(চিকমাগালুর থেকে ব্যাঙ্গালো
        :1>বেলুর, 2>হ্যালেবিড আর    
         3>শ্রবনবেলগোলা। )--

8>উডুপি::::-----
9>বান্দিপুর জাতীয় উদ্যান::---
10>জগ জলপ্রপাত:;;---
11>নাগরহোল জাতীয় উদ্যান::---
12>বিজাপুর::---
13>ম্যাঙ্গালোর:::-
14>শ্রাবণবেলগোলা:::---
15>শিমোগা:::---

====================
কর্ণাটক তার সুন্দর স্থাপত্য এবং ঐতিহ্যের কারণে ভারতের একটি জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য, এর সাথে এর অতুলনীয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। কর্ণাটক সৈকত এবং হিল স্টেশনগুলি অফার করে যা সরকারী এবং ব্যক্তিগত পরিবহন ব্যবহার করে ভ্রমণ করা যেতে পারে। প্রাচীন কাল থেকে বহু শাসক দক্ষিণ ভারতীয় সাম্রাজ্যের আবাসস্থল হওয়ায় রাজ্যটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব থেকেও বঞ্চিত নয়। এখানে আপনি কীভাবে কর্ণাটকে পৌঁছাতে পারেন: বিমানের মাধ্যমে: কর্ণাটকের ভারতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিমান সংযোগ রয়েছে। ব্যাঙ্গালোর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্ণাটকের রাজধানীতে অবস্থিত এবং এটি আন্তর্জাতিক শহর এবং টার্মিনালগুলির সাথে একটি প্রধান সংযোগকারী। উপরন্তু, ম্যাঙ্গালোর বিমানবন্দরের ভারত এবং বিদেশে অবস্থিত শহরগুলির সাথেও বিমান সংযোগ রয়েছে। পর্যটকরা কর্ণাটকে ভ্রমণের জন্য দুটি বিমানবন্দরের যে কোনো একটি বেছে নিতে পারেন।

রেলপথে : কর্ণাটক রেলপথ দ্বারাও ভালভাবে সংযুক্ত এবং রাজ্য জুড়ে রেল সংযোগের একটি জটিল ব্যবস্থা রয়েছে। মহীশূর স্টেশন এবং ব্যাঙ্গালোর স্টেশন হল ভারতের অন্যান্য অংশের সাথে সেরা রেল সংযোগকারী।
দেশের চার প্রান্তের মানুষ সরাসরি এবং সংযোগকারী ট্রেনে সহজেই এই স্টপেজে যাতায়াত করতে পারে।

সড়কপথে: কর্ণাটকের কিছু শ্বাসরুদ্ধকর রাস্তা রয়েছে যা মানুষকে মহিমান্বিত পশ্চিমঘাটের মধ্য দিয়ে নিয়ে যায়। যারা রাজ্যে গাড়ি চালানো পছন্দ করেন তারা নিতে পারেন NH44, NH 75, এবং ন্যাশনাল হাইওয়ে 66 হাইওয়ে রাজ্যের যে কোনও প্রান্তে সহজেই পৌঁছানোর জন্য।

কর্ণাটকের 15টি সেরা পর্যটন স্থান::--

1>মহীশূর:::---

মহীশূর বা মাইসুর কর্ণাটকের অন্যতম সেরা পর্যটন স্থান। চামুন্ডি পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত, মহীশূরের একটি সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য রয়েছে যা সারা বিশ্ব থেকে হাজার হাজার পর্যটককে আকর্ষণ করে। মহীশূর ছিল দক্ষিণ ভারতের মহীশূর রাজ্যের রাজধানী শহর। শহরটিতে এখনও অনেক পুরানো স্মৃতিস্তম্ভ এবং ঐতিহ্যবাহী ভবন রয়েছে যা চোখের জন্য একটি বিশেষ ট্রিট। ইতিহাসবিদ এবং লোকেরা যারা দক্ষিণ ভারতের প্রাচীন শিল্প উপভোগ করে তারা এই শহরটিকে সত্যিই মুগ্ধ করবে। মহীশূর প্রাসাদ পর্যটকদের জন্য একটি শীর্ষ আকর্ষণ। রবিবার এবং সরকারী ছুটির দিনে, প্রাসাদটি হলুদ বাতি দিয়ে আলোকিত হয় এবং দৃশ্যটি সত্যিই স্বর্গীয়। মহীশূরের অন্যান্য আকর্ষণীয় স্থানগুলির মধ্যে রয়েছে সেন্ট ফিলোমেনা চার্চ, শ্রী চামরাজেন্দ্র জুলজিক্যাল গার্ডেন, কেশব মন্দির সোমনাথপুরা, প্রাকৃতিক ইতিহাসের আঞ্চলিক যাদুঘর, ফোকলোর মিউজিয়াম, কৃষ্ণরাজসাগর ড্যাম, রঙ্গনাথস্বামী মন্দির, শ্রীরঙ্গপাটনা এবং বৃন্দাবন উদ্যান। মহীশূরে পৌঁছানোর সর্বোত্তম উপায় হবে রেল সংযোগ যা মহীশূর স্টেশনকে চেন্নাই, দিল্লি এবং কলকাতার মতো শহরের সাথে সংযুক্ত করে।

2>কুর্গ::---

কুর্গ কর্ণাটকের অন্যতম মনোরম হিল স্টেশন। কর্ণাটকের এই শীর্ষ পর্যটন স্থানটি এলাকাটির চারপাশে সবুজ পাহাড়ের অত্যাশ্চর্য দৃশ্য দেখায়। বর্ষাকালে, কুর্গ ঘন গাছপালা সহ পাহাড়ের শ্বাসরুদ্ধকর দৃশ্য দেখায়। কুর্গ-এ অনেকগুলি স্রোত এবং জলপ্রপাত রয়েছে এবং পর্যটকরা সেগুলি উপভোগ করতে পারেন৷ সরকারিভাবে কোডাগু বলা হয়, কুর্গকে ভারতের স্কটল্যান্ডও বলা হয়। জায়গাটিতে প্রচুর পরিমাণে কফির বাগান রয়েছে যা কুর্গের শীতল জলবায়ুতে উন্নতি লাভ করে। আপনি বিলাসবহুল হোটেল এবং হোমস্টেগুলির মধ্যে আপনার থাকার স্থান নির্বাচন করতে পারেন, যা যুক্তিসঙ্গত মূল্যে পাওয়া যায়। অতিরিক্তভাবে, আপনাকে মাদিকেরি ফোর্ট, ওমকারেশ্বরা মন্দির, অ্যাবে জলপ্রপাত, রাজার সমাধি, মার্কারা গোল্ড এস্টেট কফি দেখতে হবে। কুর্গে বৃক্ষরোপণ ইত্যাদি। আপনি কফি বাগানে থাকতে বেছে নিতে পারেন এবং আপনার চারপাশের সবুজ উপভোগ করতে পারেন। বেঙ্গালুরু থেকে NH75 হাইওয়ে দিয়ে সড়কপথে কুর্গ পৌঁছানো যায়।

3>ব্যাঙ্গালোর::---
ব্যাঙ্গালোর কর্ণাটকের রাজধানী শহর। এই শহরটিকে ভারতের সিলিকন উপত্যকাও বলা হয় কারণ এখানে বিপুল সংখ্যক শিল্প ও বহুজাতিক কোম্পানি রয়েছে। ব্যাঙ্গালোরের নিজস্ব বিমানবন্দর এবং রেলওয়ে স্টেশন রয়েছে, তাই শহরে পৌঁছানোর জন্য মানুষের কাছে একাধিক বিকল্প রয়েছে। সারা ভারত থেকে ভ্রমণ উত্সাহীরা শীতল আবহাওয়া এবং শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এই কর্ণাটকের পর্যটন স্থানে ছুটে আসে। বেঙ্গালুরুতে প্রচুর সংখ্যক পর্যটন স্থান রয়েছে যা কর্ণাটকের আধুনিক জীবনের একটি আভাস দেয়। কিছু প্রধান দর্শনীয় স্থান হল ব্যাঙ্গালোর প্যালেস, ব্যানারঘাটা চিড়িয়াখানা (বায়োলজিক্যাল পার্ক), লালবাগ বোটানিক্যাল গার্ডেন, কুবন পার্ক, কর্ণাটক বিধান সৌধ, শ্রী ডোড্ডা গণপতি মন্দির, ইত্যাদি। ব্যাঙ্গালোরের ইসকন মন্দির ভক্তদের জন্য একটি বিশেষ আকর্ষণ এবং হাজার হাজার বিদেশী দর্শনার্থীদের গ্রহণ করে। ভ্রমণকারী প্রত্যেক বছর ব্যাঙ্গালোরে কিছু আশ্চর্যজনক রেস্তোরাঁ রয়েছে যা বিভিন্ন ধরণের সুস্বাদু খাবার পরিবেশন করে।

        ,( ★★ Continue)

4>বাদামি::---

বাদামি বা ভাতাপি কর্ণাটকের বাগলকোট জেলায় অবস্থিত। কর্ণাটকের এই বিখ্যাত স্থানটি 500-700 খ্রিস্টপূর্বাব্দে বাদামি চালুক্যদের রাজধানী শহর হিসাবে কাজ করেছিল। বাদামি তার প্রাচীন মন্দির এবং ধ্বংসাবশেষের জন্য ঐতিহাসিক এবং উত্সাহীদের জন্য উপযুক্ত স্থান। বাদামি গুহা মন্দিরগুলি হল পাথর কাটা স্মৃতিস্তম্ভ যা প্রাচীন ভারতীয় জনগণের ব্যতিক্রমী দক্ষতা প্রদর্শন করে। বাদামির মন্দিরগুলি স্থাপত্যের সত্যিকারের অলৌকিক এবং শতাব্দী প্রাচীন হওয়া সত্ত্বেও কমবেশি ভালভাবে সংরক্ষিত। বাদামিতে দেখার জায়গাগুলি হল জাম্বুলিঙ্গেশ্বর মন্দির, ভুতনাথ মন্দির, বাদামি শিবালয়, বাদামি ফোর্ট, ভূতনাথ মন্দির, অগস্ত্য লেক, চিক্কা মহাকুটেশ্বর মন্দির এবং মল্লিকার্জুন মন্দির। বাদামি গুহাগুলিতে পৌঁছানোর জন্য, আপনাকে ব্যাঙ্গালোর স্টেশন থেকে বাদামি স্টেশনে সরাসরি ট্রেনে যেতে হবে। বিকল্পভাবে, আপনি ব্যাঙ্গালোর বিমানবন্দরে উড়ে যেতে পারেন এবং সড়কপথে অবস্থানে ভ্রমণ করতে পারেন।

5>হাম্পি::--
প্রাচীন নিদর্শনগুলির কারণে হাম্পি কর্ণাটকের অন্যতম সেরা পর্যটন স্থান। হাম্পিতে পৌঁছানোর জন্য, পর্যটকরা বেঙ্গালুরু এবং মহীশূর রেলওয়ে স্টেশন থেকে হোসপেট রেলওয়ে স্টেশনে যেতে পারেন। বাদামির মতো, হাম্পি প্রাচীন ভারতীয় স্থাপত্য ও সংস্কৃতির বিস্তৃত প্রদর্শনের জন্য পরিচিত। হাম্পির মন্দিরগুলি ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে স্বীকৃত হয়েছে। শহরটি কর্ণাটকের বিজয়নগর জেলায় অবস্থিত। চতুর্দশ শতাব্দীর সুন্দর এবং মন্ত্রমুগ্ধ শিলা মন্দির। এটি প্রকৃতপক্ষে 16 শতক পর্যন্ত বিজয়নগর সাম্রাজ্যের আসন ছিল। হাম্পির ধ্বংসাবশেষ এখনও ভালভাবে সংরক্ষিত এবং দক্ষিণ ভারতের সংস্কৃতির কিছু অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে। এটি পুরাণ এবং রামায়ণেও উল্লেখ করা হয়েছে, যা বিজয়নগর সাম্রাজ্যের পূর্ববর্তী পুরানো হিন্দু পুরাণ গ্রন্থ। হাম্পিতে দেখার জায়গাগুলি হল শ্রী বিরুপাক্ষ মন্দির, বিজয়া বিট্টলা মন্দির, বিজয়া বিট্টলা মন্দির, হেমাকুটা পাহাড়ী মন্দির, অচ্যুতারায় মন্দির, লক্ষ্মী নরসিংহ মন্দির এবং কদালেকালু গণেশ।

6>গোকর্ণ::--

গোকর্ণ কর্ণাটক রাজ্যের উত্তর কন্নড় জেলার একটি সমুদ্রতীরবর্তী শহর। পর্যটকরা ভারতের যেকোনো বড় শহর থেকে আনকোলার নিকটতম রেলওয়ে স্টেশনে ভ্রমণ করে এই অদ্ভুত শহরে পৌঁছাতে পারেন। এই সমুদ্রতীরবর্তী শহরটি বেঙ্গালুরুর পর্যটক এবং বাসিন্দাদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। স্থানীয়রা এখানে আসে শীতল সামুদ্রিক হাওয়া উপভোগ করতে এবং কয়েক মাস অফিসের চাপের পরে পানিতে ডুব দিতে। শহরটি একটি পর্যটন স্পট যা যুবকদের দ্বারা ঘন ঘন আসে। শহরটি ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু তীর্থস্থানও, এবং ভক্তরা শিবের উপাসনা করার জন্য শহরে ভিড় করে। শহরটি প্রাচীন এবং আধুনিক সময়ের জন্য নিখুঁত মিলনস্থল। আপনি আপনার শ্রদ্ধা জানাতে বিখ্যাত শ্রী মহাবালেশ্বর স্বামী মন্দিরে যেতে পারেন। গোকর্ণের সমুদ্র সৈকত যেমন ওম বিচ, হাফ মুন বিচ, কুদলে বিচ রোড, প্যারাডাইস বিচ এবং গোকর্ণ বিচ রোড পর্যটকরা উপভোগ করতে পারেন। স্থানীয় রন্ধনপ্রণালীও সুস্বাদু এবং বিশেষ উল্লেখের দাবি রাখে।

7>চিকমাগালুর::--

চিকমাগালুর বা চিকমাগালুরু কর্ণাটকের আরেকটি জনপ্রিয় হিল স্টেশন। চিকমাগালুর তার অদ্ভুত পাহাড় এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশের জন্য বিখ্যাত। কাদুর হল চিকমাগালুরের নিকটতম রেলওয়ে স্টেশন, এবং 45 মিনিটের একটি ছোট যাত্রা আপনাকে এই পাহাড়ি স্টেশনে নিয়ে যাবে। এই শহরটি চিকমাগালুরকে ঘিরে পশ্চিমঘাটের কিছু শ্বাসরুদ্ধকর দৃশ্য দেখায়। চিকমাগালুরের গ্রীষ্মমন্ডলীয় রেইনফরেস্ট প্রকৃতি এবং বন্যপ্রাণী ফটোগ্রাফারদের জন্য একটি বিশেষ আকর্ষণ যারা শান্তিতে কাজ করতে চায়। এই শহরটি ব্যস্ত শহরের জীবন থেকে দূরে এবং সবুজের মধ্যে বিশ্রাম দেয়। চারণভূমি। পশ্চিমঘাট উপভোগ করতে আসা পর্যটকদের জন্য প্রচুর সংখ্যক হোমস্টে এবং হোটেল উপলব্ধ। আপনি সরকারী এবং ব্যক্তিগত পরিবহনে খুব সহজেই চিকমাগালুরে পৌঁছাতে পারেন। চিকমাগালুর গান্ধী পার্ক, মুল্লায়ানাগিরি পিক সহ এখানে কফির বাগানগুলি অবশ্যই দেখার মতো। , হিরেকোলালে হ্রদ, কফি মিউজিয়াম, হেব্বি জলপ্রপাত, ভদ্র বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, এবং বাবা বুদাঙ্গিরি।
,( ★★ Continue)

8>উডুপি::::-----

উডুপি একটি বিখ্যাত মন্দির শহর এবং কর্ণাটকের অন্যতম সেরা পর্যটন স্থান। এছাড়াও শহরটি দেশের সমুদ্র সৈকত ভ্রমণকারীদের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য। বিখ্যাত হিন্দু মন্দিরগুলি হল তীর্থস্থান এবং দক্ষিণ ভারতের হিন্দু স্থাপত্যের অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে। এখানকার সৈকতগুলি অল্প বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য উপযুক্ত যারা তাদের অবকাশ উপভোগ করতে চান এবং তাদের দিনগুলি শান্তিতে ও নিরিবিলিতে কাটাতে চান। উদুপির কাছাকাছি দেখার জায়গাগুলি হল উদুপি শ্রী কৃষ্ণ মঠ, কর্পোরেশন ব্যাঙ্ক হেরিটেজ মিউজিয়াম, অনন্তেশ্বর, শ্রী ইন্দ্রাণী পঞ্চদুর্গা পরমেশ্বরী মন্দির, অনন্ত পদ্মনাভ মন্দির, শ্রী চন্দ্রমৌলেশ্বর মন্দির এবং উদুপি মন্দির। উডুপির সমুদ্র সৈকত আকর্ষণগুলি হল সেন্ট মেরি দ্বীপপুঞ্জ, পিথ্রোডি উদয়াভরা সৈকত, মাত্তু সৈকত, পাদুকেরে সৈকত এবং মণিপাল লেক। ম্যাঙ্গালোর বিমানবন্দর থেকে একটি ছোট ক্যাব যাত্রায় পর্যটকরা সহজেই উদুপি পৌঁছাতে পারেন।

9>বান্দিপুর জাতীয় উদ্যান::---

বান্দিপুর জাতীয় উদ্যান পশ্চিমঘাটের বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। মহীশূর থেকে 75 কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত, রিজার্ভটি NH766 হাইওয়ের মাধ্যমে অ্যাক্সেসযোগ্য। কর্ণাটকের এই টাইগার রিজার্ভ তার উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতের কারণে দেখার মতো শীর্ষ স্থানগুলির মধ্যে একটি। আপনি পার্কে সাফারি নিতে পারেন যা কর্মকর্তারা সাজিয়েছেন। এখানে বিভিন্ন প্রাণী পাওয়া যায় বাঘ, চিতাবাঘ, সরীসৃপ, হাতি, ভালুক এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। বান্দিপুর জাতীয় উদ্যান আপনার ভ্রমণপথে একটি বিশেষ স্থানের যোগ্য কারণ এটি কর্ণাটকের অন্যতম বিখ্যাত স্থান। এই অংশটি খুব বেশি ভ্রমণ বা ট্রেকিং ছাড়াই পিকনিক এবং ডে ট্যুরের জন্য উপযুক্ত স্থান। আপনি আরাম করতে এবং দিনের সাফারি থেকে পুনরুদ্ধার করতে কাছাকাছি হোটেলে থাকতে পারেন। শীতকালে এখানে যাওয়া এড়াতে ভুলবেন না। প্রকৃতিপ্রেমীরা পার্কের বিদেশী গাছগুলিও নোট করতে পারেন, যার মধ্যে রয়েছে রোজউড, চন্দন, সেগুন, ভারতীয় কিনো গাছ, দৈত্য ক্লাম্পিং বাঁশ এবং ভারতীয় গুজবেরি।

10>জগ জলপ্রপাত:;;---

সূত্র: Pinterest জগ ফলস আলাদাভাবে একটি বিশেষ উল্লেখের দাবি রাখে কারণ এটি আসলে মেঘালয়ের পরে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জলপ্রপাত। এটি কর্ণাটকের প্রতিটি দর্শনীয় স্থানের তালিকায়ও রয়েছে। জগ ফলস এর শিরোনাম প্রস্তাবিত হিসাবে শ্বাসরুদ্ধকর. জলপ্রপাতের এই সুন্দর ব্যবস্থাটি 253 মিটারের অবিশ্বাস্য উচ্চতা থেকে পড়ে। শিবমোগায় অবস্থিত, এই জনপ্রিয় জলপ্রপাতটি সমস্ত পর্যটকদের জন্য অবশ্যই দর্শনীয়। প্রকৃতির ফটোগ্রাফাররা এই জলপ্রপাতগুলির ছবি তুলতে উপভোগ করবেন কারণ চারপাশ নির্মল এবং ভিড় থেকে তুলনামূলকভাবে মুক্ত। এই জায়গাটি পিকনিক এবং বিশ্রামের দিনের জন্য উপযুক্ত। মানুষ সাগর থেকে জগ জলপ্রপাত একটি সংক্ষিপ্ত ট্রিপ জায়গা পৌঁছাতে পারেন. জগ জলপ্রপাতের সৌন্দর্যে পুরোপুরি ভিজতে আপনি এখানে এক বা দুই দিন থাকার জন্যও বেছে নিতে পারেন। আপনি বর্ষাকালে পরিদর্শন করতে বেছে নিতে পারেন যখন জলপ্রপাতগুলি তাদের পূর্ণ ক্ষমতায় থাকে। জগ জলপ্রপাতে পৌঁছানোর সর্বোত্তম উপায় হল তালগুপ্পা ভ্রমণ করা, যা নিকটতম রেলওয়ে স্টেশন এবং তারপরে একটি ছোট ক্যাব চড়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া।

11>নাগরহোল জাতীয় উদ্যান::---

  নাগারহোল জাতীয় উদ্যান কর্ণাটকের আরেকটি বিখ্যাত বাঘ সংরক্ষণ কেন্দ্র। নাগরহোল জাতীয় উদ্যান প্রকৃতি প্রেমী এবং পর্যটকদের জন্য উপযুক্ত। মহীশূর থেকে মানন্তবাদী রোড হয়ে একটি সংক্ষিপ্ত ড্রাইভ আপনাকে 3 ঘন্টার মধ্যে বিপরীত দিকে নিয়ে যাবে। টাইগার রিজার্ভটি বিভিন্ন প্রাণীর প্রজাতি এবং বিভিন্ন ধরণের উদ্ভিদের আবাসস্থল। এই জাতীয় উদ্যানে পৌঁছাতে এবং বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে সারা দেশ থেকে মানুষ ভ্রমণ করে। বন্যপ্রাণী ফটোগ্রাফাররা এই জায়গাটিকে এর নৈসর্গিক সৌন্দর্য এবং বিরল প্রাণী প্রজাতির জন্য পছন্দ করবে। আপনি জাতীয় উদ্যানের মাধ্যমে স্থানীয় সাফারি বেছে নিতে পারেন। সাফারি এখানে সহজে একটি পুরো দিন সময় নিতে হবে তাই আগে থেকে ভাল প্রস্তুত. নাগরহোল জাতীয় উদ্যানের সূর্যাস্তগুলি বন্যপ্রাণী এবং প্রকৃতির সৌন্দর্যের মধ্যে একটি শো চুরিকারী। রিজার্ভটিতে অনেক সংরক্ষিত গাছ এবং ফুলের গাছও রয়েছে, যা পর্যটকরা উপভোগ করতে পারেন।

12>বিজাপুর::---

কর্ণাটকের সেরা স্থানগুলির মধ্যে রয়েছে বিজাপুর, যা ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। 10 শতকে প্রতিষ্ঠিত, শহরটি অনেক স্থাপত্যের আশ্চর্যের আবাসস্থল। অনেক মুঘল স্থাপত্য যেমন গোল গুম্বাজ, জামিয়া মসজিদ, বড় কামান, মালিক-ই-ময়দান এবং ইব্রাহিম রোজা রোড পর্যটকদের কিছু বিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী ভবন অফার করে। সমতল ভূমিতে অবস্থিত, বিজাপুরে সড়ক ও রেলপথের মাধ্যমে পৌঁছানো তুলনামূলকভাবে সহজ। পর্যটকরা শহরের অন্যান্য সাইটগুলিও ঘুরে দেখতে পারেন যেমন ফোর্ট বিজাপুর, শিবগিরি শিব মন্দির, গগন মহল, ভুতনাল লেক, মেহতার মহল, সাথ খবর এবং আরও অনেক কিছু। আপনি স্থানীয় হোটেলগুলিতে বিজাপুরে থাকতে বেছে নিতে পারেন বা কেবল দিনের জন্য ঘুরে আসতে পারেন। বিজাপুরের সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক ঐতিহ্য অবশ্যই সমস্ত পর্যটকদের মুগ্ধ করবে এবং তাদের প্রশংসা অর্জন করবে। বিজাপুর পৌঁছানোর জন্য হাম্পি থেকে যাত্রীরা NH50 হাইওয়ে নিতে পারেন সহজে

13>ম্যাঙ্গালোর:::-

সূত্র: Pinterest ম্যাঙ্গালোর কর্ণাটকের একটি বিখ্যাত বন্দর শহর। শহরের কিছু শ্বাসরুদ্ধকর সমুদ্র সৈকত রয়েছে যা প্রতি বছর প্রচুর পর্যটকদের আকর্ষণ করে। ম্যাঙ্গালোরে একটি বিমানবন্দরও রয়েছে যা সমস্ত পর্যটকদের জন্য অ্যাক্সেস করা সহজ করে তোলে। এই শহরটি ভারতের একটি প্রধান রপ্তানি কেন্দ্র এবং এখনও এটি একটি সক্রিয় বন্দর যা পশ্চিমঘাট থেকে কফি এবং হস্তশিল্পের সামগ্রী রপ্তানি করে। পর্যটকরা এখানে পানামবুর, তান্নিরভাবি, এনআইটিকে সৈকত, সাসিহিথলু সৈকত, সোমেশ্বরা সৈকত, উল্লাল সৈকত, কোটেকার সৈকত এবং বাটাপাডি সমুদ্র সৈকত উপভোগ করতে আসতে পারেন। লোকেরা ম্যাঙ্গালোরের বিভিন্ন ধর্মীয় স্থান যেমন মঙ্গলাদেবী মন্দির, কাদরি মঞ্জুনাথ মন্দির, সেন্ট অ্যালোসিয়াস চ্যাপেল, রোজারিও ক্যাথেড্রাল, বান্দরের জিনাথ বক্স জুম্মা মসজিদ, মিলাগ্রেস চার্চ এবং উল্লালে হযরত শরীফ উল মাদনির দরগা দেখতে পারেন। ম্যাঙ্গালোরে পৌঁছানোর সর্বোত্তম উপায় হবে বিমানের মাধ্যমে কারণ ম্যাঙ্গালোরে বিশ্বের প্রধান শহরগুলির সাথে অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক উভয় বিমান যোগাযোগ রয়েছে ।

14>শ্রাবণবেলগোলা:::---

শ্রাবণবেলগোলা হল ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের হাসন জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ জৈন তীর্থস্থান। ব্যাঙ্গালোর থেকে NH275 এবং SH47 হাইওয়ে আপনাকে কর্ণাটকের এই পবিত্র স্থানে নিয়ে যাবে। এই আশ্চর্যজনক শহরটি জৈনদের জন্য একটি তীর্থ স্পট এবং ভারত এবং এর আশেপাশে ভ্রমণকারীদের জন্য একটি জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ। সমস্ত রাজ্যের মানুষ এই পবিত্র শহরে পূজা দিতে বা আশীর্বাদ চাইতে আসে। শ্রাবণবেলগোলায় মহাবীরের দর্শনীয় মূর্তি পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ। শহরটি বিখ্যাত প্রাচীন ভারতীয় রাজা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের শেষ বিশ্রামস্থল হিসেবেও পরিচিত। অন্যান্য জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানগুলি হল আক্কানা বাসদী, চন্দ্রগুপ্ত বাসদী, চামুন্ডারায় বাসদী, পার্শ্বনাথ বাসদী, আদর্শ স্মারক মনুমেন্ট ইত্যাদি। শহরের আশেপাশে প্রচুর হোটেল এবং রিসর্ট পাওয়া যায়, যা পর্যটকরা রাত্রি যাপন করতে এবং বিশ্রাম নিতে ব্যবহার করতে পারেন। দিনের সফরের পর।

15>শিমোগা:::---

শিমোগা কর্ণাটকের শিমোগা জেলায় অবস্থিত। এই স্পটটি তার সুন্দর জলপ্রপাত এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে কর্ণাটকের সেরা পর্যটন স্থানগুলির মধ্যে তার স্থান খুঁজে পেয়েছে। তুঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত শহরটিকে মালনাদের প্রবেশদ্বারও বলা হয়। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই অতুলনীয়। আপনি যদি ভিড় থেকে দূরে এবং প্রকৃতির কোলে একটি দিন কাটাতে চান তবে আপনাকে আপনার কর্ণাটক ভ্রমণপথে শিমোগাকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। শিমোগায় যা যা করার এবং দেখার শীর্ষ জিনিসগুলির মধ্যে রয়েছে শিমোগা চিড়িয়াখানা এবং সাফারি, সাক্রেবাইল এলিফ্যান্ট ক্যাম্প, মাত্তুর লেক, গাজানুর ড্যাম, শিবপ্পা নায়ক প্রাসাদ, ওনাকে আব্বি ফলস, কুঞ্চিকাল জলপ্রপাত এবং ডাব্বে জলপ্রপাত। ব্যাঙ্গালোর শহর থেকে NH 48 এবং SH 24 হয়ে শিমোগা জলপ্রপাত পৌঁছানো যায়।

কর্ণাটক ভ্রমণের সেরা সময় হল মার্চ-মে মাস। কিন্তু, বর্ষাকালে পশ্চিমঘাট পর্বত মসলার সৌন্দর্য এক  অনন্য অভিজ্ঞতা ও আনন্দের  সাক্ষী বহন করে।
===========================

★★★3>বেঙ্গালুরু ভ্রমণ::---

এখানে দর্শনীয় স্থান গুলি::--
1>লাল বাগ;::--
2>কাঁচের সংগ্রহ শালা::--
3>কুব্বন পার্ক::--
4>পাবলিক লাইব্রেরী,
5> হাই কোর্ট,
6>সরকারি জাদুঘর
7>বিশ্বেশ্বরাইয়া শিল্প ও প্রযুক্তি জাদুঘর:-
8>গ্রীষ্ম প্রাসাদ::--
9>মন্দির::--(বাসভাঙ্গুড়ী ষাঁড় মন্দির।)
10>ভেঙ্কটারমনাস্বামী মন্দির::---
11>গাভী গঙ্গাধারাশ্বেরা মন্দির::---
12>সোমেশ্বরা মন্দির::--
13>হ্রদগুলি::--
(((1) উলসুর হ্রদ,(2)শংক ট্যাংক, (3)ইয়েদিউর ট্যাংক এবং (4)লাল বাগ হ্রদ। ))
14>গ্রাম হেসারাঘাটা::--

==============
বেঙ্গালুরু বা পূর্বতন বাঙ্গালোর ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের রাজধানী। এই শহরকে "ভারতের সিলিকন ভ্যালি" বলা হয়ে থাকে। বেঙ্গালুরু দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে সমুদ্র সমতল থেকে ৯০০ মিটার (৩,০০০ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত।এটি মহীশূর মাভূমি অঞ্চলের অর্ন্তগত।এই শহরের আয়তন প্রায় ৭৪১ বর্গ কিলোমিটার (২৮৬ বর্গ মাইল)।

জনসংখ্যার বিচারে ব্যাঙ্গালোর ভারতের পঞ্চম জনবহুল মহানগর।
লোকজনের মধ্যে ইংরাজী, তামিল, তেলেগু, উর্দু ও হিন্দি ভাষার প্রচলন রয়েছে।

একসময় কলকাতার পর ব্যাঙ্গালোরে অ্যাঙ্গলো-ইন্ডিয়ান সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম বসতি ছিল। বর্তমানেও কিছু
অ্যাঙ্গলো-ইন্ডিয়ান সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন।
২০০৬ সালে ব্যাঙ্গালোর এর কন্নড় নাম বেঙ্গালুরু সরকারীভাবে গ্রহণ করা হয়।

বিমান বন্দর::--
ব্যাঙ্গালোরের প্রধান বিমান বন্দর কেম্পেগৌড়া আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর শহরের মূলকেন্দ্র থেকে প্রায় ৪০ কি.মি.  দূরে দেভানাহাল্লিতে অবস্থিত।

যাত্রী সংখ্যা ও বিমান ওঠা-নামার পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দিল্লী ও মুম্বাইয়ের পর ব্যাঙ্গালোর ভারতের তৃতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর।

দর্শনীয় স্থান

1>লাল বাগ;::--
লাল বাগ এবং কাবন পার্ক
অষ্টাদশ শতকে হাইদার আলী ও তাঁর পুত্র টিপু সুলতান এই সুন্দর লাল বাগের পত্তন করেন। বাগানের ২৪০ একরের জমিতে পৃচুর গাছপালা এমনকি দুর্লভ গ্রীষ্মমন্ডলীয় গাছপালা রয়েছে। এখানে একটি হরিণ পার্কও রয়েছে

2>কাঁচের সংগ্রহ শালা::--

এখানে একটি কাচনির্মিত একটি সংরক্ষণাগার আছে যেখানে নানান ফুল ও ফল প্রদর্শনের জন্য ব্যবস্থা আছে।

3>কুব্বন পার্ক::--

৩০০ একরের সুন্দর কুব্বন পার্ক ১৮৬৪ সালে নির্মিত হয়।
4>পাবলিক লাইব্রেরী,
5> হাই কোর্ট, (হাই কোর্ট বিল্ডিং ১৮৬৪ সালে নির্মিত)
6>সরকারি জাদুঘর এবং (সরকারি জাদুঘর ১৮৮৬ সালে নির্মিত হয়)
7>বিশ্বেশ্বরাইয়া শিল্প ও প্রযুক্তি জাদুঘর এই পার্ক ক্যাম্পাসের মধ্যে অবস্থিত।
সরকারি জাদুঘরে প্রচুর প্রাচীন সংগ্রহসহ। হেলবিড ও বিজয়নগর কালের মুদ্রা, শিল্প এখানে সুন্দরভাবে সংরক্ষিত আছে এবং এগুলি জাদুঘরের উল্লেখযোগ্য সংগ্রহ।

8>গ্রীষ্ম প্রাসাদ::--
সিটি মার্কটের কাছাকাছি যে দুর্গের অবশেষ রয়েছে তা ছিল টিপু সুলতানের গ্রীষ্মকালীন প্রাসাদ। এই সুবিশাল প্রাসাদ দেখতে অত্যন্ত চমৎকার। এখানে একটি জাদুঘর রয়েছে যেখানে টিপু সুলতান ও হাইদার আলীর ব্যবহৃত জিনিসপত্র রয়েছে।

9>মন্দির::--
বেঙ্গালোরে প্রচুর সুন্দর সুন্দর মন্দির রয়েছে।
শহরের দক্ষিণে রয়েছে নগরীর প্রতিষ্ঠাতা কেমপে গৌড়ার বাসভাঙ্গুড়ী ষাঁড় মন্দির। এটা একক বোল্ডার দিয়ে তৈরী ষাঁড়ের সদৃশ ১৫ ফুটের খোদিত কাঠামো।

10>ভেঙ্কটারমনাস্বামী মন্দির::---

গ্রীষ্ম প্রাসাদের কাছে ৩০০ বছরের পুরনো উদয়ার্স নির্মিত ভেঙ্কটারমনাস্বামী মন্দির রয়েছে। মন্দিরের অবস্থা এখনও সুন্দর রয়েছে।

11>গাভী গঙ্গাধারাশ্বেরা মন্দির::---
এই গাভী গঙ্গাধারাশ্বেরা মন্দির
অন্য একটি আকর্ষণীয় স্থান। এটা এমনভাবে তৈরী একটি গুহা মন্দির যেখানে সংক্রান্তি উৎসবের সময় সূর্য বাইরে নির্মিত ষাঁড়ের উভয় শিঙের মধ্য দিয়ে কিরণ দেয় যাতে করে শিবের ছায়া ফুটে উঠে।

12>সোমেশ্বরা মন্দির::--
শিবের উদ্দেশ্যে কেমপে গৌড়া নির্মিত উলসুর একটি বিখ্যাত মন্দির যেটা সোমেশ্বরা মন্দির নামে পরিচিত।

13>হ্রদগুলি::--
নগরীর আশপাশে কয়েকটি হ্রদ রয়েছে যেখানে নৌবিহারের ব্যবস্থা রয়েছে। অবশ্য দর্শনীয় হ্রদগুলি হলো
(1) উলসুর হ্রদ,
(2)শংক ট্যাংক,
(3)ইয়েদিউর ট্যাংক এবং
(4)লাল বাগ হ্রদ।
এই হ্রদগুলি ভ্রমণে দর্শনার্থীগন মৃদু বাতাস ও বিশ্রাম উপভোগ করতে পারবেন।

14>গ্রাম হেসারাঘাটা::--

গ্রামটি চমৎকার এক দর্শনীয় স্থান।
শহরের ৩৫ কি.মি. দুরে হেসারাঘাটা নামে অজ গ্রাম রয়েছে যেখানে মানুষ তৈরী একটি আকর্ষনীয় হ্রদ রয়েছে। এখানে বিখ্যাত নৃত্য গ্রাম রয়েছে যেখানে নাচের বিভিন্ন কলার উপর চমতকার প্রশিক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে।
========================

★★(7)>চিকমাগলুর::---
এখানে ঘুরেবেড়াতে গাড়ি ভাড়া করে নেওয়ায় উচিত চার দিনের জন্য।
( চার দিনের জন্য গাড়ি ভাড়া মোটা মুটি
15000 পনেরো থেকে 16000 ষোল হাজার টাকা )
পশ্চিমঘাট পর্বতমালায় অবস্থিত চিকমাগালুর।
বর্ষাকালের মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে
পশ্চিমঘাট পর্বতমালা এক অপরূপ রূপ ধারণ করে। আর সেই কারণে
বর্ষাকালের সেই মনমোহনী রূপ চাক্ষুষ
করার মজাই আলাদা।
রাস্তার ধারে সারি সারি দোকান, সিল্ক শাড়ি, কফি, ফিল্টার কফি মেশিন, দোসা ক্যান্টিন, আর দু-চারটি নতুন ধরনের ক্যাফে এই নিয়েই টাউন টি তৈরি।
এখানে কিছু হোটেল আছে।

ইচ্ছে করলে  টাউন পেরিয়ে  পাহাড়ের ভেতরে অবস্থিত বেশকিছু বিলাসবহুল রিসোর্ট অথবা সুন্দর করে সাজানো হোমস্টে গুলিতেও থাকা যায়।
অসুবিধা একটাই, বাজার অনেক দূর। তো রোজ আপনাকে ওই রিসোর্টের একই ধরনের খাওয়া খেতে হবে। অবশ্যই জনপদ থেকে দূর অবস্থান জনিত কারণে, খরচা অনেক বেশি।

1>মূল্যয়নগিরি শৃঙ্গ::--

গাড়ি নিয়ে যাওয়া  মূল্যয়নগিরি শৃঙ্গ তে। বলা হয় এটি কর্নাটকের সবথেকে উচু পাহাড়।
পাহাড়ের নিচের দিকে ভর্তি কফি বাগান। সুন্দর রাস্তা দিয়ে কিছুদুর ওঠার পরে অনেকগুলি ঝরনা দেখতে পাবেন। দক্ষিণ ভারতে বর্ষাকালীন পাহাড়ি ঝরনা গুলিতে চান করা যাকে বলে  আলাদা এক মজা,
যে মজা বা আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
মেঘ ঝরনা কফি বাগান ,
বিঘার পর বিঘা জমি ঘনসবুজ জঙ্গলের ঢাকা। জঙ্গলে হাতি, বাঘ দেখতে পাওয়া অসম্ভব কিছু নয়,এর মূল কারণ
কর্নাটকে  সবথেকে বেশি বাঘ থাকে পুরো ভারতবর্ষের মধ্যে।
বর্ষায় মেঘ আর কুয়াশার জন্য  দূরের কিছু দেখা যায় না।
এখন থেকে পরবর্তী স্থান বাবাবুদান গিরি র দিকে।

2>বাবাবুদান গিরি:::---

এই পাহাড়ের চূড়া তে একজন সুফি সাধকের কবর রয়েছে। বহু মানুষ এখানে আসেন মানত পূরণ করতে, ধর্ম নির্বিশেষে।

3>হিরেকোলালে লেক::---

পরের দিন সন্ধ্যেবেলায়  হিরেকোলালে লেক। কফি বাগান এর মধ্য দিয়ে বেশকিছু হোমস্টে পেরিয়ে  এসে পৌঁছোতে হবে এই জলাশয়। সূর্যাস্তের সময়  এখানে আসার সবথেকে ভাল সময়।
======================

চিকমাগালুর থেকে ব্যাঙ্গালোর:---
পথে দেখে নেওয়া যায়  1>বেলুর, 2>হ্যালেবিড আর 3>শ্রবনবেলগোলা।

বেল্লুর, কর্ণাটক::--
চেন্নাকেশব মন্দির, বেল্লুর, কর্ণাটক::--

Chennakeshava Temple::--

৩ দিননের ছুটিতে ঘুরে আসাজায় চিকমাগালুর।

আর চিকমাগালুর থেকে ব্যাঙ্গালোর ফেরার পথে দেখে নেওয়া যায় 1>বেলুর, 2>হ্যালেবিড আর 3>শ্রবনবেলগোলা।
এই রাস্তার প্রথমেই আসবে বেলুরের চেন্নাকেশব মন্দির। দ্রাবিড় মন্দির স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন হলো এই মন্দির। গোটা কর্ণাটক জুড়েই হৈসল সাম্রাজ্যে নির্মিত স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন মেলে। এই হৈসল সাম্রাজ্যের সময়েই দক্ষিণভারতের শিল্প স্থাপত্যের উৎকর্ষতা চরম শিখরে পৌঁছয়।

Main Temple of Chennakeshava

কর্ণাটকের হাসান জেলায় অবস্থিত এই মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হয় হৈসল রাজবংশের রাজা বিষ্ণুবর্ধনের আমলে। ভগবান বিষ্ণুকে উৎসর্গ করে ১১১৭ খ্রিস্টাব্দে য়াগাচি (Yagachi) নদীর ধারে শুরু হয় এই মন্দিরের নির্মাণ কাজ, আর সেটা সম্পূর্ণ হতে সময় লাগে ১০৩ বছর। কিন্তু চতুর্দশ শতাব্দীর একদম শুরু দিকে দিল্লীর সুলতান আলাউদ্দিন খলজির সেনাধক্ষ্য মালিককাফুর বেলুর আর হ্যালেবিড আক্রমণ করে এবং অনেক স্থাপত্যই নষ্ট করে দেয়। চেন্নাকেশব মন্দির তার কুদৃষ্টি থেকে রেহাই পায়নি। পরে যদিও বিজয়নগর সাম্রাজ্যের সময়কালে এই মন্দির মেরামত করা হয়। সমস্ত মন্দির জুড়ে নক্সা, ভাস্কর্য, কারুকার্য নষ্ট হওয়ার পরেও যে নিদর্শন রয়েছে তা মনে বিস্ময় জাগায়। মন্দিরের দেওয়ালে কখনো ফুটে উঠেছে বিষ্ণুর বিভিন্ন অবতার, কখনো বা রামায়ণ মহাভারতের ঘটনা।

Gopuram of Chennakeshava Temple

৪৪৩ X ৩৯৬ ফুট জায়গা জুড়ে অবস্থিত এই চেন্নাকেশব মন্দির। গোপুরম দিয়ে মন্দির চত্বরে প্রবেশ করার পরেই নজরে পড়বে গরুড স্তম্ভ। বিজয়নগর সাম্রাজ্যের সময়কালে এই স্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। গরুড স্তম্ভের বাঁ দিকে কিছুটা ব্যবধানে আর একটা স্তম্ভ নজরে আসবে। সেটিকে দীপ স্তম্ভ বলা হয়। এই দীপ স্তম্ভ নির্মিত হয়েছিল হৈসল সাম্রাজ্যের সময়কালে। ৪২ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট দীপ স্তম্ভের বিশেষত্ব হলো এটি কেবল একটি বৃহৎ গ্রণাইট পাথরের খণ্ডের উপরে দাঁড়িয়ে আছে, এর কোনো অংশই মাটির নিচে প্রোথিত নেই। আটশো বছরের অধিক কাল ধরে নিজ ওজনের সাহায্যে এই স্তম্ভ একই রকম ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। স্তম্ভটির তলদেশের তিনটি বিন্দু পাথরের বেদির উপর স্পর্শ করে আছে। স্তম্ভটির তলদেশ ও গ্রণাইট পাথরের বেদির মধ্যে ফাঁক আছে কারণ স্তম্ভটির তলদেশটি একদিকে একটু উঠে আছে। স্তম্ভটির Centre of Gravity এমনই যে অত উঁচু নিরেট গ্রণাইট পাথরের বিপুল ওজন ঐ তিনটি বিন্দু দিয়ে ভূমিতে প্রেরিত হয়।

Architecture and Sculpture of Chennakeshava Temple

গোপুরম দিয়ে ঢুকে সোজা হাঁটলে যে বিরাট মন্দিরটি নজরে আসবে সেটিই মূল মন্দির যেটি কেশব মন্দির নামেও পরিচিত। ভগবান বিষ্ণুকে উৎসর্গ করেই এই মূল মন্দির। মূল মন্দিরের বাইরের দেওয়ালে খোদাই করা কারুকার্যই সবথেকে বেশী নজর কাড়বে। এছাড়াও গোটা মন্দির চত্বর জুড়েই অনেক মন্দির রয়েছে। আর প্রতিটা মন্দিরের দেওয়ালেই খোদাই করা আছে পুরাণ গাথা। মন্দিরের ভেতরেও থামগুলোতে খোদাই করা নকশা দেখলে অভিভূত হতে হয়। এছাড়াও মন্দিরের ভেতরে ছাদেও রয়েছে কারুকার্য।

বেলুড় মন্দিরের ভাস্কর্যের চরমতম প্রকাশ হলো মদনিকা মূর্তি। কার্নিসের নীচে ছোট ছোট স্তম্ভের উপর সারা মন্দির জুড়ে মোট আটত্রিশটি মূর্তি রয়েছে। আর গর্ভমন্দিরের ভিতরে চারটি। এই মূর্তিগুলোর মধ্যে এমন এক শিল্প সুষমা সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে যা দর্শকদের বিস্ময়ে অভিভূত করে।

হৈসল যুগে নির্মিত প্রায় সব মন্দিরেই হৈসল রাজপ্রতীক দেখতে পাওয়া যায়। চেন্নাকেশব মন্দিরও তার ব্যতিক্রম নয়। প্রতীকে দেখতে পাওয়া যায় এক ব্যক্তি একটি বাঘকে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করছে। এটা নিয়ে অনেক ব্যাখ্যা শুনতে পাওয়া যায়। কন্নড় লোককথা অনুযায়ী এই প্রতীকের সাথে সল নামে এক যুবকের কাহিনি পাওয়া যায়। লোককথা অনুযায়ী অঙ্গডির (বর্তমানে সোসেবুরু বা Sosevuru) বাসন্তিকা দেবীর মন্দিরে সল একটি বাঘকে আঘাত করে তার জৈন গুরু সুদত্তকে রক্ষা করেন। প্রাচীন কন্নড় ভাষায় (হ্যালেকন্নড় বা Halegannada) ‘আঘাত’ শব্দটির প্রতিশব্দ হল ‘হৈ’। তা থেকেই ‘হৈ-সল’ নামটির উৎপত্তি। এই কিংবদন্তিটির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় বিষ্ণুবর্ধনের বেলুরুতে খোদিত লিপিতে (১১১৭ খ্রিষ্টাব্দ)। তবে সলের এই কাহিনিটির মধ্যে অনেক অসংগতি থাকায় এটিকে নিছক একটি লোককথা বলেই ধরে নেওয়া হয়।আবার অনেকে মনে করেন টালাকাডুর যুদ্ধে রাজা বিষ্ণুবর্ধন চোলেদের পরাজিত করার পর এই প্রতিকটির উদ্ভব ঘটে। কারণ হৈসল রাজপ্রতীকে দেখা যায় এক কিংবদন্তি যোদ্ধা একটি বাঘের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন। আর বাঘ ছিল চোলেদের রাজপ্রতীক। তাই সেখান থেকেই এই প্রতীক। প্রতীকের কারণ যাই হোক না কেন হৈসল যুগে এই প্রতীকের গুরুত্ব যে কতখানি ছিল সেটা ঐসময়কার মন্দির বা স্থাপত্য পরিদর্শন করলেই বোঝা যায়।

Hoysala Emblem at Chennakeshava Temple

খুব ভালো করে মন্দির পরিদর্শন করতে গেলে হাতে কমপক্ষে ২-৩ ঘণ্টা সময় অবশ্যই রাখতে হবে। তবে এটুকু জোর দিয়ে বলতে পারি একবার পর্যবেক্ষণ করা শুরু করলে সময় কোথা দিয়ে চলে যাবে বুঝতেই পারবেন না। তাই ব্যাঙ্গালোরে গেলে একটা দিন আপনারা বেলুরের জন্য রাখতে পারেন।

কীভাবে যাবেন ?
ব্যাঙ্গালোর থেকে বেলুর প্রায় ২২০ কিমি। তাই গাড়ি বুক করে যাওয়া সব থেকে ভাল। ক্যাবে মোটামুটি চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা লাগবে। কম খরচে পৌঁছাতে চাইলে আপনি ব্যাঙ্গালোর থেকে বাসেও পৌঁছতে পারেন। তবে বেলুর এলে অবশ্যই এর সাথে হ্যালেবিদ আর শ্রবনবেলাগোলাও প্ল্যানে রাখবেন। আমরা চিকমাগালুর ভ্রমণের সময়ই এই জায়গাগুলো ঘুরেছিলাম। তাই আপনাদের প্ল্যান যদি থাকে চিকমাগালুর তাহলে অবশ্যই এই জায়গাগুলো আপনাদের প্ল্যানে রাখুন।

========================

ব্যাঙ্গালোর থেকে বেলুর প্রায় 218 কিমি  কিমি বেলুর।
ক্যাবে মোটামুটি চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা সময় লাগে।
ব্যাঙ্গালোর থেকে বাসেও যাওয়া যায়।
বেলুরের  সাথে হ্যালেবিদ আর শ্রবনবেলাগোলাও ঘুড়ে দেখার মতন জায়গা।

আমরা চিকমাগালুর ভ্রমণের সময়ই এই জায়গাগুলো ঘুরেছিলাম। তাই আপনাদের প্ল্যান যদি থাকে চিকমাগালুর তাহলে অবশ্যই এই জায়গাগুলো আপনাদের প্ল্যানে রাখুন।

             <--আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->
===========================




Wednesday, November 2, 2022

86>আগ্রা ভ্রমন গাইড::---

 


86>আগ্রা ভ্রমন গাইড::---


রেলপথে: আগ্রার পাঁচটি রেলওয়ে স্টেশন রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে 

1)আগ্রা ক্যান্ট, 

2)রাজা কি মান্ডি, 

3)আগ্রা সিটি,

4)আগ্রা ফোর্ট রেলওয়ে স্টেশন এবং 5)ইদগাহ রেলওয়ে স্টেশন। 

============

আগ্রার দর্শনীয় স্থান::--13+9+15=37

সর্ব মোট 37 টি স্থান দেখতে দুই কি তিন দিনের টুরের পোগ্রাম করতে হয়।

এবং কার ভাড়া করেই ঘুরতে হবে।


1>তাজমহল: 

2>আগ্রা ফোর্ট::--

বর্তমানে কেবলমাত্র আমর সিং গেট দিয়েই পর্যটকরা দূর্গে প্রবেশ করে (প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা ও সময় সূর সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত)। দুর্গে একে একে দেখতে হবে- 9টি দর্শনীয়---

     ,( ১●দেওয়ান-ই-খাস,

     ২●শাহজাহানের তৈরি 

           দেওয়ান-ই-আম, 

     ৩●মোতি মসজিত,

     ৪●মচ্ছিভবন,

     ৫●হামাম,

     ৬●শিশমহল, 

     ৭●খাসমহল, 

     ৮●জাহাঙ্গির প্রাসাদ, 

     ৯●কুখ্যাত মুসম্মন বুরুজ বা জেসমিন 

        প্রাসাদ, )


3>ইতমৎউদ্দোলার সমাধি::--

4>চিনিকা রোজা::--

5>সিকান্দ্রা:;--

6>ফতেপুর সিক্রি::--

 এখানে দেখা যাবে 15 টি দর্শনীয় স্থান--

        (১●সেলিম চিন্তার শ্বেতপ্রাশাদের  

            সমাধি সৌধ

        ২●দেওয়ান-ই-আম

        ৩●দেওয়ান-ই-খাস

        ৪●যোধাবাই প্রাসাদ

        ৫●মারিয়ামের প্রাসাদ 

        ৬●পচিশি কোট

        ৭●হাওয়ামহল

        ৮●বীরবলের প্রাসাদ

        9●পঞ্চমহল

        ১০●জামা মসজিদ

        ১১●কারাভানসরাই

        ১২●হাথি পোল

        ১৩●হামাম

        ১৪●হিরণ মিনার

         ১৫●আকবরের প্রাসাদ (Tomb of 

            Akbar the Great) 

        ★প্রবেশমূল্য ৩০ টাকা। 

      সময় সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত। )


7>আকবরের সমাধি।

8>মেহতাব বাগ।

9>আঙ্গুরী বাগ।

10>ডলফিন ওয়াটার পার্ক।

11>সুর সরোবর পাখির অভয়ারণ্য।

12>গুরুদ্বার গুরু কা তাল।

13>রাজা যশবন্ত সিংহের ছত্রী।


××××××××××××××××××××××××



★1>তাজমহল: 


তাজমহল ভারতের আগ্রায় অবস্থিত একটি রাজকীয় সমাধি। মুঘল সম্রাট শাহজাহান তাঁর স্ত্রী আরজুমান্দ বানু বেগম যিনি মুমতাজ মহল নামে পরিচিত, তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই অপূর্ব সৌধটি নির্মাণ করেন। সৌধটি নির্মাণ শুরু হয়েছিল ১৬৩২ খ্রিস্টাব্দে যা সম্পূর্ণ হয়েছিল প্রায় ১৬৪৮ খ্রিস্টাব্দে। সৌধটির নকশা কে করেছিলেন এ প্রশ্নে অনেক বিতর্ক থাকলেও, এ পরিষ্কার যে শিল্প-নৈপুণ্যসম্পন্ন একদল নকশাকারক ও কারিগর সৌধটি নির্মাণ করেছিলেন যারা উস্তাদ আহমেদ লাহুরীর সাথে ছিলেন, যিনি তাজমহলের মূল নকশাকারক হওয়ার প্রার্থীতায় এগিয়ে আছেন।



তাজমহল

তাজমহলকে (কখনও শুধু তাজ নামে ডাকা হয়) মুঘল স্থাপত্যশৈলীর একটি আকর্ষণীয় নিদর্শন হিসেবে মনে করা হয়, যার নির্মাণশৈলীতে পারস্য, তুরস্ক, ভারতীয় এবং ইসলামী স্থাপত্যশিল্পের সম্মিলন ঘটানো হয়েছে। যদিও সাদা মার্বেলের গোম্বুজাকৃতি রাজকীয় সমাধীটিই বেশি সমাদৃত, তাজমহল আসলে সামগ্রিকভাবে একটি জটিল অখণ্ড স্থাপত্য। এটি ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। তখন একে বলা হয়েছিল "universally admired masterpiece of the world's heritage।"


১৬৩১ খ্রিস্টাব্দে শাহ জাহান, যিনি মুঘল আমলের সমৃদ্ধশালী সম্রাট ছিলেন। তার দ্বিতীয় স্ত্রী মুমতাজ

মহল-এর মৃত্যুতে প্রচণ্ডভাবে শোকাহত হয়ে পড়েন। মুমতাজ মহল তখন তাদের চতুর্দশ কন্যা সন্তান গৌহর বেগমের জন্ম দিতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছিলেন।


তাজমহলের নির্মাণ কাজ মুমতাজের মৃত্যুর খুব শীঘ্রই শুরু হয়। মূল সমাধিটি সম্পূর্ণ হয় ১৬৪৮ খ্রিস্টাব্দে এবং এর চারদিকের ইমারত এবং বাগান আরও পাঁচ বছর পরে তৈরি হয়।



আগ্রা ফোর্ট ষ্টেশন

তাজমহল তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী নকশার উপর, বিশেষ করে পারস্য ও মুঘল স্থাপত্য অনুসারে। নির্দিষ্ট কিছু নকশা তিমুর ও মুঘল ইমারতের মত হুবুহু করা হয়েছে। যাদের মধ্যে তিমুরের গুর-ই-আমির, সমরখন্দে মুঘল সাম্রাজ্যের পূর্বসূরী, হুমায়ূনের মাজার, ইমাদ-উদ-দৌলার মাজার (কখনো ডাকা হয় শিশু তাজ নামে), এবং দিল্লীতে শাহজাহানের নিজের তৈরি দিল্লী জামে মসজিদ। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায়, মুঘল ইমারত পরিমার্জনের এক নতুন স্তরে পৌছায়। যেখানে পূর্ববর্তী মুঘল ইমারতসমূহ তৈরি হয়েছিল লাল বেলে পাথরে, শাহজাহান চালু করেছিলেন সাদা দামি মার্বেল পাথরের প্রচলন।


তাজমহলের সামনের চত্বরে একটি বড় চারবাগ (মুঘল বাগান পূর্বে চার অংশে বিভক্ত থাকতো) করা হয়েছিল। ৩০০ মিটার X ৩০০ মিটার জায়গার বাগানের প্রতি চতুর্থাংশ উচু পথ ব্যবহার করে ভাগগুলোকে ১৬টি ফুলের বাগানে ভাগ করা হয়। মাজার অংশ এবং দরজার মাঝামাঝি আংশে এবং বাগানের মধ্যখানে একটি উঁচু মার্বেল পাথরের পানির চৌবাচ্চা বসানো আছে এবং উত্তর-দক্ষিণে একটি সরল রৈখিক চৌবাচ্চা আছে যাতে তাজমহলের প্রতিফলন দেখা যায়। এছাড়া বাগানে আরও বেশ কিছু বৃক্ষশোভিত রাস্তা এবং ঝরনা আছে।


 



★2>আগ্রা ফোর্ট::--


আগ্রা ফোর্ট: তাজমহলের ২ কিমি উত্তর-পশ্চিমে আকবর ১৫৬৫-এ নির্মান করান সুবিশাল আগ্রা কেল্লা। গভীর পরিখাবেস্টিত লাল রঙের বেলে পাথরের আগ্রা ফোর্টে প্রবেশের জন্য ছিল চারটি তোরণ - আমর সিং গেট, দিল্লি গেট, ওয়াটার গেট ও দর্শনী দরওয়াজা। 


★বর্তমানে কেবলমাত্র আমর সিং গেট দিয়েই পর্যটকরা দূর্গে প্রবেশ করে (প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা ও সময় সূর সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত)। দুর্গে একে একে দেখবেন- 

●দেওয়ান-ই-খাস,

●শাহজাহানের তৈরি দেওয়ান-ই-আম, 

●মোতি মসজিত,

●মচ্ছিভবন,

●হামাম,

●শিশমহল, 

●খাসমহল, 

●জাহাঙ্গির প্রাসাদ, 

●কুখ্যাত মুসম্মন বুরুজ বা জেসমিন প্রাসাদ, 


যেখানে পুত্র ঔরঙ্গজেবের হাতে শাজাহান বন্দি ছিলেন। বলা হয় প্রিয়তমার স্মৃতি বিজড়িত তাজমহলের দিকে ক্লান্তিহীন চোখে তাকিয়ে থাকতে থাকতে এখানেই তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। 

আগ্রা ফোর্টের কাছেই স্টেশনের উলটো দিকে বেগম জাহানারার তৈরি জামা ★মসজিদটিও দেখে নিতে পারেন। 




★3>ইতমৎউদ্দোলার সমাধি::--


 ইতমৎউদ্দোলার সমাধিঃ যমুনার অপর পাড়ে তাজমহল থেকে প্রায় ৭ কিমি দূরে দুধ সাদা মার্বেলের অসাধারণ এই সমাধি সৌধ জাহাঙ্গিরের প্রধানমন্ত্রী ও সাম্রাঞ্জী নুরজাহানের পিতা গিয়াসউদ্দিন বেগমের স্মৃতিতে নির্মিত। এখানে নুরজাহানের মাকেও সমাধিস্থ করা হয়েছিল। সৌধের ভেতরে শ্বেতপাথরের সূক্ষ্ম জালির কাজ তাজমহলের অন্দর ভাগের থেকে কোনও অংশে কম নয়। এটি ভারতের তৈরি প্রথম সমাধি সৌধ যাতে পারস্য থেকে আনা মোজাইক ব্যবহার করা হয়েছিল। 



★4>চিনিকা রোজা::--


চিনিকা রোজাঃ এটি ইতমৎউদ্দৌলা থেকে মাত্র ১ কিমি. দূরে শাজাহানের প্রধানমন্ত্রী তথা প্রখ্যাত ফার্সি কবি আফজল খাঁর সমাধি সৌধ। নিজের মৃত্যুর আগেই আফজল খাঁ এই সৌধটি তৈরি করিয়েছিলেন। এখনে তাঁর বেগমকেও সমাধিস্থ করা হয়।



★5>সিকান্দ্রা:;--


সিকান্দ্রাঃ লোদি অধিপতি সিকান্দার লোদি ১৪৯২ সালে আগ্রার ১০ কিমি. উত্তরে এই স্থান দখল করেন সিকান্দ্রাবাদ। এখানে দেখবেন আকবরের পাঁচতলা সমাধিসৌধ। সম্রাট স্বয়ং এই সৌধের পরিকল্পনা করে কাজ শুরু করে দেন। এটি অবশ্য সম্পূণতা লাভ করে পুত্র জাহাঈিরের হাতে। এই সৌধের ভুগর্ভে প্রকৃত কবর ও ওপরে নকল কবর। কবরের কাছেই গোলাকার পাথরে একসময় শোভা পেত জগৎবিখ্যাত কহিনুর হীরা। মুঘল সাম্রাজ্যের স্বারনজুগে এখানকার প্রধান তোরণটি ছিল চন্দন কাঠের। আর এই তরণের রুপোর ছাদে ছিল সোনার কারুকাজ। ★এখানে প্রবেশমূল্য ২০ টাকা। 





★6>ফতেপুর সিক্রি::--


ফতেপুর সিক্রিঃ আগ্রার ৩৭ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে ১৫৬৯ সালে আকবর এখানেই তাঁর রাজধানী স্থানান্তরিত করেছিলেন। সম্ভবত জলাভাবের করণে বছর পনেরো বাদে এই নতুন রাজধানী পরিত্যক্ত হয়। জনশ্রুতি এই যে সন্তানহীন আকবর ফতেপুরের ফকির সেলিম চিস্তির শরণাপন্ন হয়ে পুত্রসন্তান লাভ করেন। ফকিরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ফতেপুরের শৈল্যশিখরে হিন্দু ও মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর সমম্বয়ে গড়ে তোলেন দুর্গ ও একাধিক প্রাসাদ। আকবরের গুজরাত বিজয়ের স্মৃতিতে ১৫৭৫ সালের এপ্রিলে সমাপ্ত হয় ১৭৬ ফুট (৫৪ মিটার) উঁচু এশিয়ার উচ্চতম প্রবেশদ্বার ‘বুলন্দ দরওয়াজা’। 

এছাড়াও ফতেপুর সিক্রিতে আকর্ষণীয়-

●সেলিম চিন্তার শ্বেতপ্রাশাদের সমাধি সৌধ

●দেওয়ান-ই-আম

●দেওয়ান-ই-খাস

●যোধাবাই প্রাসাদ

●মারিয়ামের প্রাসাদ 

●পচিশি কোট

●হাওয়ামহল

●বীরবলের প্রাসাদ

●পঞ্চমহল

●জামা মসজিদ

●কারাভানসরাই

●হাথি পোল

●হামাম

●হিরণ মিনার

●আকবরের প্রাসাদ (Tomb of Akbar the Great) 

★প্রবেশমূল্য ৩০ টাকা। 

সময় সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত। 




এই প্রধান দ্রষ্টব্যগুলি ছাড়াও আগ্রাতে দেখবেন-

●জামা মসজিত 

●রামবাগ

●শহিদস্মারক

●দয়ালবাগে শ্বেতপাথরের তৈরি রাধাস্বামী সমাধিমন্দির

●মনকামেশ্বর মন্দির

●রাওয়ালি মহাদেব মন্দির

●রাজেস্বার মহাদেব মন্দির

●কালিদেবী মান্দির

●চামুন্দাদেবী মান্দির।



★7>আকবরের সমাধি


  আকবরের সমাধিটি 119 একর এলাকা জুড়ে রয়েছে এবং এটি সম্রাট নিজেই তৈরি করেছিলেন। এটি শহরের কেন্দ্র থেকে আট কিলোমিটার পশ্চিমে মথুরা রোডে (NH2) আগ্রার শহরতলীতে অবস্থিত। সমাধিটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বেলেপাথরের কাঠামোর জ্যামিতিক নিদর্শনের জন্য, চার-স্তর বিশিষ্ট পিরামিড, মার্বেল প্যাভিলিয়ন, সাদা মিনার এবং প্যানেলগুলিতে জড়ো করা। সমাধির চারপাশে একটি সুসংহত বাগান রয়েছে, যেখানে কেউ বিশাল সমাধি দেখতে পারে।


★8>মেহতাব বাগ::--


  মেহতাব বাগ হল আগ্রার সবচেয়ে নৈসর্গিক স্থানগুলির মধ্যে একটি, উত্তরে তাজমহল, এবং বিপরীত দিকে আগ্রা ফোর্ট এবং যমুনা নদী দেখা যাচ্ছে। বাগানটি তাজমহলের দৃশ্যও দেখায়। মুঘল সম্রাট বাবরের দ্বারা নির্মিত 11টি আনন্দ উদ্যান ছিল বলে জানা যায় এবং এই বাগটিই ছিল সর্বশেষ। হাঁটার রাস্তা, ফোয়ারা এবং প্যাভিলিয়নগুলির জন্য এটি অবসরে হাঁটার জন্য একটি সুন্দর জায়গা।


★9>আঙ্গুরী বাগ::---


 আঙ্গুরি বাগ, আঙ্গুর বাগান নামেও পরিচিত, আগ্রার অন্যতম জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্য। এই মোহনীয় পর্যটন গন্তব্যটি দক্ষিণ, উত্তর এবং পশ্চিমে লাল বেলেপাথর এবং পূর্বে একটি আকর্ষণীয় খাস মহল দ্বারা শোভিত। মুঘল সম্রাজ্ঞীর মহিলারা এই এলাকায় অবসরে ঘুরে বেড়াতেন। পার্কটিতে 85টি প্রতিসম বাগান, একটি চমত্কার ফোয়ারা এবং একটি কমনীয় পুল রয়েছে যা এটিকে দেখার জন্য একটি মনোরম জায়গা করে তোলে।


★10>ডলফিন ওয়াটার পার্ক::--


 এই পার্কটি 2002 সালে উদ্বোধন করা, ডলফিন ওয়ার্ল্ড ওয়াটার পার্কটি 14 একরের বেশি ভূখণ্ডে বিস্তৃত এবং স্লাইড, রোলার কোস্টার, জল এবং অন্যান্য দ্বারা পরিপূর্ণ রাইড তা ছাড়াও, এটিতে একটি বিনোদন পার্ক, একটি শিশুদের খেলার এলাকা, একটি লকার রুম এবং আরও অনেক কিছু রয়েছে, যা এটিকে আগ্রার পর্যটন স্থানগুলির মধ্যে সবচেয়ে মজাদার করে তোলে ৷ এই জল-ভিত্তিক থিম পার্কে বিভিন্ন ধরণের রাইড এবং মজাদার গেমস পাওয়া যায়, পাশাপাশি শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য আলাদা সুইমিং পুল রয়েছে। সময় : 11:30 AM – 6:00 PM কীভাবে পৌঁছাবেন: ওয়াটার পার্কটি NH-2 এর ঠিক দূরে অবস্থিত এবং গাড়িতে যাওয়া যায়।


★11>সুর সরোবর পাখির অভয়ারণ্য::---


  দিল্লি-আগ্রা হাইওয়ে (NH2) এ আগ্রা থেকে 20 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, সুর সরোবর পাখি অভয়ারণ্য বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আবাসস্থল। 7.97 বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত, পাখি অভয়ারণ্যটি 1991 সালে একটি জাতীয় পাখি অভয়ারণ্য মনোনীত করা হয়েছিল। সুন্দর কিথাম লেক এটিকে পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য একটি দুর্দান্ত জায়গা করে তোলে। প্রতি বছর 106 ধরনের পাখি সুর সরোবরে পাড়ি জমায়। এছাড়াও, এটি অসংখ্য প্রজাতির পাখির আবাসস্থল যেমন লিটল গার্ব, কমন টিল, বেগুনি হেরন, ক্যাটল এগ্রেট, ডার্টার এবং পিনটেল। 



★12>গুরুদ্বার গুরু কা তাল::--


 আগ্রার অন্যতম জনপ্রিয় আধ্যাত্মিক আকর্ষণ, গুরুদ্বারা গুরু কা তাল একটি বিশিষ্ট শিখ তীর্থস্থান আকর্ষণ। আগ্রার কাছে সিকান্দ্রায় অবস্থিত, গুরুদ্বারটি আওরঙ্গজেবের কাছে গুরু তেগ বাহাদুরের আত্মসমর্পণের স্মরণ করে। আগ্রা ফোর্ট এবং ফতেহপুর সিক্রির মতো লাল পাথর দিয়ে তৈরি, এই স্মৃতিস্তম্ভটি হাজার হাজার ভক্তকে আকর্ষণ করে যারা গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বছরের পর বছর এই সাইটে ভিড় করে।


★13>রাজা যশবন্ত সিংহের ছত্রী::---


 The Chhatri of Raja Jaswant Singh খিলানযুক্ত স্তম্ভ সহ একটি ছাউনির মতো ডিজাইন করা হয়েছে। মুঘল সাম্রাজ্যের সময় নির্মিত আগ্রার একমাত্র হিন্দু স্মৃতিস্তম্ভ বলে বিশ্বাস করা হয়, এটি 1644 থেকে 1658 সালের মধ্যে নির্মিত হয়েছিল। রাজস্থানের বুন্দির রাজকন্যা রানী হাদা, যিনি রাজা অমর সিং রাঠোরের সাথে বিয়ে করেছিলেন, এই স্মৃতিস্তম্ভটি স্মরণ করে। এর জালি বা পাথরের জাল দিয়ে, এটি হিন্দু এবং মুঘল স্থাপত্য শৈলীর একটি আকর্ষণীয় সমন্বয়।





আগ্রা ঘুরে দেখতে কত দিন লাগে?

আগ্রার ঐতিহাসিক সৌন্দর্য দেখার জন্য প্রায় 2 দিন যথেষ্ট হওয়া উচিত।


আগ্রা দেখার সেরা ঋতু  শরৎ এবং শীতকাল হল সেরা সময় ।

=======================


আগ্রাতে সরকারি ও বেসরকারি কন্ডাক্টেট ট্যুরের (কমবেশি ২০০ টাকা ) প্রচলন থাকলেও কোনও ট্যুরেই সব জায়গা দেখায় না। তাই উচিত  নিজ উদ্যোগে গাড়ি (২০০০-৩০০০ টাকা গাড়ি অনুসারে) বা অটো (৭০০ টাকা) বুক করে উল্লেখিত জাইগাগুলি ঘুরে নেওয়া। 


ঐতিহাসিক ফতেপুর সিক্রিতে একরাত কাটাতে চাইলে পাবেন পযটন বিভাগের- রাহি গুলিস্তান টুরিস্ট কমপ্লেক্স (০৫৬১৩-২৮২৪৯০) এবং বেসরকারি গোবধন টুরিস্ট কমপ্লেক্স (২৮২৬৮৩)। ফতেপুর সিক্রির গাইড চার্জ ১০০-১৫০ টাকা।


★মনে রাখবেন অটো ফতেপুর সিক্রি যায় না।


প্রয়োজনীয় তথ্য ও ফোন নম্বরঃ-

এস এন মেডিক্যাল কলেজ হসপিটাল-২৩৬১৩১৪/৩১৮, টুরিস্ট পুলিশ- ২৪২১২০৪, ডি এম- ২২৬০১৮৪/২৩৬,১২১০, এস পি- ২২৬২২২১/২২২৭২৫৫



_____________________________________________________