Friday, July 8, 2022

81>জঙ্গলমহল= ( ঝাড়গ্রাম, বেলপাহাড়ি , কাঁকড়াঝোর)


81>জঙ্গলমহল= ( ঝাড়গ্রাম, বেলপাহাড়ি , কাঁকড়াঝোর)

          <---আদ্যনাথ--->

জঙ্গলমহল ( ঝাড়গ্রাম , বেলপাহাড়ি , কাঁকড়াঝোর )     ‘ জঙ্গলমহল 'এর নাম শুনলেই মনে জাগে ভয়। আসলে জঙ্গলমহল শব্দটির সাথে জড়িয়ে আছে এক রোমহর্ষক ও গা-ছমছমে আদিমতা।

কিন্তু বহু মানুষ এহেন ভয় ও গা-ছমছমে আদিমতাকেই ভালো বসে। তাইতো তারা বার বার বেরিয়ে পড়ে ওই জঙ্গলের টানে।

মাঝে কিছুকাল কিছু নানান আতঙ্কে সকলেই জঙ্গলমহল  এড়িয়ে চলতো।

এখন আর তেমন ভয় নাই তাই সকলেই আবার বেরিয়ে পড়ছে জঙ্গলমহলের টানে।

আজ আমাদের যাত্রা পথ জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রাম , বেলপাহাড়ি আর কাঁকড়াঝোর।আমরা চারজন, বিশ্বনাথ নাথ, শংকর বিশ্বাস, ভূপেন্দ্র সিং, এবং আমি। 

শুক্রুবার সকালেরই আমরা বেরিয়ে পড়লাম। 

এখন আর কদিন পরেই দুর্গা পূজা তাই শরতের বনাঞ্চল খেত খামার

 মাঠজুড়ে দুলে ওঠে কাশফুল ঝাড়গ্রামের পথেঘাটে জঙ্গল ঘেরা পথ শুধু সবুজ আর সবুজ, আর কাশ ফুলে সমস্ত মাঠ সাদা তুলোর মতন হাওয়ার ঢেউ খেলে যাচ্ছে কাশ ফুলের ওপরে

প্রথম দিন::--

Day 1:         

সকালে হাওড়া স্টেশন থেকে  ইস্পাত এক্সপ্রেস ধরে

প্রায় 9.30 টা নাগাদ এসে পৌঁছলাম ঝাড়গ্রাম। 

স্টেশনের কাছেই একটি হোটেলে থাকার ব্যবস্থা হোল।হোটেলে স্নান  খাওয়াদাওয়া সেরে একটু বিশ্রাম করে বেড়িয়ের পড়লাম একটা ভ্যান ভাড়া করে, একটু কাছেপিঠে ঘুরে বেড়াবার জন্য। 

( আজকাল তো অটো,টোটো, কতকি হয়েছে, আমরা যখন গিয়েছিলাম তখন ঐ ভ্যান রিক্সাই একমাত্র যানবাহন ছিল। আসে পাশে ঘুরবার জন্য)।

পথের সৌন্দর্য অবর্ণনীয় । লাল মাটির  রাস্তা আর দুইপাশে শুধু গাছ আর গাছ, সবুজ ধানের ক্ষেত , শরতের নীল আকাশে পেঁজা তুলোর মত মেঘ আর সাথে প্রচুর কাশবনে কাশ ফুলে চারিদিকে সাদা, অপূর্ব সেই প্রকৃতির শোভাস্টেশন থেকে কাছেই কনকদুর্গা মন্দির।  

মন্দিরের গেটের কাছে নেমে ভিতর যাবার জন্য টিকিট কেটে লাল মাটির রাস্তা ধরে চলে এলাম মন্দিরে। প্রায় 600 বছরের প্রাচীন মন্দিরটি বাজ পড়ে মাঝ বরাবর ভেঙ্গে গেছে দেখলাম। আর তার পাশেই রয়েছে বর্তমান মন্দিরটি , শুনলাম তারও বয়েস প্রায় 90 বছরের মতন।

মন্দিরের পাশ দিয়ে একটু হেঁটে চলে এলাম ডুলুং নদীর ধারে। তারপরে গেলাম চিল্কিগড় রাজবাড়ি । বিশাল বড় এই রাজবাড়ির  না জানি কত ইতিহাস  আছে এই রাজ বাড়ির। এখানে কয়েকটি মন্দিরও  আছে ।

এবার গেলাম ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি। শুনলাম এখানে এখনও রাজপরিবারের সদস্যরা বসবাস করছেন। 

এবার আমরা হোটেলে  ফিরে গেলাম।

রাত্রেই হোটেলে কথা বলে একটা 

এম্বাস্যাডার গাড়ির ব্যবস্থ্যা করে রাখলাম।

দ্বিতীয় দিন----

2nd day:-----

    সকাল সকাল রেডি হয়ে হোটেলে জলখাবার খেয়ে বেড়িয়ে পরলাম গাড়ি করে। 

 দিনের বেলা  জঙ্গলমহলের ঠাণ্ডা মিষ্টি হাওয়া আমাদের সাথ দিয়েছিল সকাল থেকেই মেঘ মেঘ করেছিল। গাড়িতে যেতে যেতে দেখতে থাকি সবুজ ধানক্ষেত , কাশবন, খেজুর গাছের সারি, শাল গাছের জঙ্গল। আকাশে কালো মেঘ আর সবুজ গাছের যুগলবন্দী আর সাথে মনকাড়া সাদা কাশফুলের সারি অপূর্ব ছবি তৈরি করেছিল। মনেহচ্ছিল পটে আঁকা 

সবুজ শাড়িতে সাদা রঙের ফুল আঁকা।

গাড়ি বেশ জোরেই  চলছিল। আমরা

শেষ বর্ষা ও শরতের আগমনীর জঙ্গলমহলের রুপ উপভোগ করতে করতে ঘন্টাখানেক পর পৌঁছলাম ঘাঘরা জলপ্রপাতের কাছে। গাড়িথেকে নেবে 

এক একটি করে পাথর ডিঙিয়ে ডিঙিয়ে গিয়ে পৌঁছলাম সামনে। ছোট্ট একটি জলাধার, সেখানে বেশ স্রোতের সঙ্গে জল নেমে আসছে পাথরের খাঁজ দিয়ে। সেই অর্থে জলপ্রপাত বলতে আমরা যা বুঝি সেরকম এটি নয় হয়ত, কিন্তু দুইপাশের জঙ্গলের ভেতর দিয়ে বয়ে আসা জলধারার সামনে কিছুক্ষণ সময় কাটাতে

বেশ ভালোই লাগলো। তারপরে আমরা গাড়ি করে চললাম তারাফেনী ব্যারেজের দিকে। 

 অল্প সময় পরেই পৌঁছলাম ব্যারেজের সামনে। ব্যারেজের ওপর থেকে তাকিয়ে দেখি নদীর ধারে যেন কাশফুলের মেলা।

হাওয়ায় দুলতে থাকা ঘন কাশের বন দেখে অভিভূত । যতদূর চোখ যায় শুধু সাদা ধবধবে হয়ে আছে চারিদিক। 

মনে হচ্ছিল কোন গল্পের স্বপ্ন পুরীতে ঘুরে বেড়াচ্ছি। ব্যারেজের  সিঁড়ি দিয়ে নেমে এলাম ব্যারেজের নীচে নদীর ধারে। 

 গেলাম বনের ভেতরে। ছুঁয়ে দেখলাম হালকা তুলোর মতো কাশফুলেদের।

মনে হচ্ছিল জঙ্গলমহলে কাশফুলেদের মেলা।

এবার আমাদের গাড়ি  আবার এগিয়ে চললো কাঁকড়াঝোরের পথে। বেশ কিছুক্ষণ যাবার পর শুরু হল পাহাড় জঙ্গলের রাস্তা। রাস্তার দুইদিকে পাহাড় , টিলা আর লালমাটির রাস্তা দিয়ে জঙ্গল চলে গেছে। আদিবাসিদের সুন্দর সুন্দর মাটির বাড়ি মাঝেমধ্যে। চোখে পড়ল হলুদ রঙের কলার মত দেখতে একধরনের ফুল ফুটে আছে সারি সারি। নাম জানিনা। 


গাড়ি দাঁড় করিয়ে সামনে থেকে চাক্ষুষ করার লোভ সামলাতে পারলামনা । এইভাবে জঙ্গলমহলের পথেঘাটে কতবার যে গাড়ি দাঁড় করিয়ে নেমে গিয়ে গাছেদের জড়িয়ে ধরেছি, খোলা আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে মিষ্টি হাওয়া গায়ে মেখেছি ঠিক নেই। আসলে প্রকৃতির নির্ভেজাল আদর শরীরে মনে মেখে নিতে চাইছিলাম আমরা। কাঁকড়াঝোরে নির্দিষ্ট কোন স্পট হয়ত নেই, শুধু ঐ রাস্তা ধরে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে যাব বলেই ঐ পথ দিয়ে আসা। “এই বনপথে যেতে যেতে শুধু সবুজ সবুজ উপহার, আজ ভালোলাগে শুধু ভালোলাগে , মন কিছু চায়না আমার”। এদিকে খিদে খিদে পাচ্ছে, কিন্তু খাবার হোটেল সেরকম চোখে পড়লনা। আসলে আমরা এত বেশি হৈ হৈ করতে মত্ত ছিলাম যে দুপুরের খাবারের কথা ভুলেই গেছি। গাড়িতে যেতে যেতে সঙ্গে থাকা শুকনো খাবার খাচ্ছিলাম। এক জায়গায় দেখলাম জিলিপি, মালপো ভাজছে। গাড়ি থেকে নেমে বেশ বড় সাইজ এর জিলিপি আর মালপো খেয়ে পেট ভরালাম। এখানকার মানুষজনদের ব্যবহারও বেশ আন্তরিক। জঙ্গলমহলকে ভালোভাবে চেনা যাবে কাঁকড়াঝোরের পথে এলে। জানিনা এখানে থাকার কি ব্যবস্থা আছে, পরে কখনও এসে শুধু এই কাঁকড়াঝোরেই থাকার ইচ্ছে আছে এই পাহাড় জঙ্গলের নিস্তব্ধতার আলিঙ্গনে। আমাদের এখন দুটি গন্তব্যে যাওয়া বাকি, খেঁদারানী লেক আর গাড়ড়াসিনী পাহাড়ে হেঁটে ওঠা।

  






কাঁকড়াঝোর থেকে চাকাডোবার পথে


           গাড়ি চলল কাঁকড়াঝোর থেকে চাকাডোবার জঙ্গলের রাস্তা ধরে খেঁদারানী লেকের পথে।

দেখলাম লালমাটির রাস্থা ওপরে উঠে দূরে এক পাহাড়ে যেন সোজাসুজি মিশে গেছে। আর দুই পাশে শাল, মহুয়ার জঙ্গল। গাড়ি থেকে আমরা আবার নীচে নামলাম । 


খেঁদারানী লেক যাবার রাস্তাটা সরু লালমাটির মধ্যে দিয়ে আর দুই পাশে ঘন জঙ্গল। বৃষ্টি পড়ে লালমাটির মধ্যে জায়গায় জায়গায় গর্ত হয়ে জল জমে আছে। ড্রাইভার দাদা ভয় পাচ্ছিলেন যদি গাড়ির চাকা বসে যায়, কারণ বৃষ্টি হলে লালমাটি নাকি নরম হয়ে বসে যায়। যাইহোক পৌঁছলাম লেকের সামনে। পাহাড় জঙ্গলে ঘেরা প্রাকৃতিক এই লেক। লেকের জলে কত পদ্মপাতা, শীতে পরিযায়ী পাখিরা ভীড় জমায় এখানে। পিছনেই গাড়ড়াসিনী পাহাড় দেখতে পেলাম। আকাশ কালো করে পাহাড় বেয়ে যেন মেঘ নেমে এসেছে লেকের জলে। বৃষ্টি ভেজা জঙ্গলমহলকে দেখে মুগদ্ধ হলাম।




 এবার আমাদের শেষ গন্তব্য গাড়ড়াসিনী পাহাড়। বিকেল প্রায় চারটে(4টে ) বাজে।  পৌঁছে গেলাম সত্যানন্দ স্বামীর আশ্রম, এখান থেকে পেরিয়ে শুরু হল হাঁটা । লালমাটির কাঁকুরে রাস্তা ধরে পাথর ডিঙিয়ে ডিঙিয়ে বেশ চড়াই ভেঙ্গে ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে পাহাড়ে উঠতে থাকলাম আমরা চারজন। দাঁড়াবার অবকাশ নেই, কাঁকুড়ে রাস্তায় পা পিছলে যাচ্ছে আর জঙ্গুলে মশারা ছেঁকে ধরছে আমাদের। ওদিকে মাঝেমধ্যেই টুপটাপ করে বৃষ্টিফোঁটারা গাছ বেয়ে ঝরে পড়ছে আমাদের গায়ে।

এখানকার পাহাড়ি পথে চড়াই ভাঙতে 

বেশ কষ্টই হচ্ছিলো। এমন লম্বা ট্রেকিং পথ একটু উঠতে গিয়েই পায়ে ব্যথা করছে আর দাঁড়িয়ে পরছি। দাঁড়াতেও পারছিনা ঠিকমতো, পা পিছলে যাচ্ছে । 

তবুও আমরা প্রায় আধা ঘন্টা  হেঁটে উঠে পৌঁছলাম  পাহাড়ের মাথায়। 


 পাহাড়ের ওপরে উঠে ওপর থেকে জঙ্গলমহল কে দেখে আমরা উচ্ছসিত। নীচে যা দেখা যায় শুধু ঘন জঙ্গল, কোনো বসতি নেই। আর চারিদিক ঘিরে রেখেছে পাহাড়। 


শেষ বিকেলের আলোয় বেশ কিছুক্ষণ কাটালাম পাহাড়ের মাথায় জঙ্গল ঘেরা পরিবেশে। 

হঠাৎ মেঘ ছেয়েছে আকাশ। দুরের পাহাড়দের ঘিরে ধরে মেঘেদের

মনে হচ্ছে এখনই বৃষ্টি নামবে।

 

পাহাড়ের ওপর থেকে দেখি গোটা জঙ্গলমহল ঘিরে যেন এক নিস্তব্ধতা। শাল মহুয়ার এই জঙ্গলের মাতাল করা দৃশ্যে চোখ ডুবিয়ে দিতে দিতে ধীরে ধীরে নামতে থাকলাম। শুনতে থাকলাম সন্ধ্যে নামার মুখে জঙ্গলের শব্দ, ঝিঁঝিঁর ডাক।


           নীচে নেমে আশ্রমটা একটু ঘুরে দেখলাম। এমন মন ভালোলাগার ছোট্ট ভ্রমনে খুশি সকলের মনে। এবার 

বেলপাহাড়ি ছেড়ে চললাম ঝাড়গ্রামের দিকে।  বৃষ্টিভেজা ঠাণ্ডা জঙ্গলের হাওয়ায়

উড়তে উড়তে গাড়িকরে পৌঁছলাম হোটেলে। 


পরদিন বাড়ি ফেরার পালা।

      <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

========================

          


Thursday, July 7, 2022

80>জামশেদপুরের দর্শনীয় স্থানগুলি

80>জামশেদপুরের দর্শনীয় স্থানগুলিশে

জামসেদপুরের 14টি দর্শনীয় স্থান 

1>ডিমনা লেক

2>জুবিলি পার্ক

3>টাটা স্টিল জুওলজিকাল পার্ক

4>দলমা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য

>হাডকো লেক

>রুসি মোদি সেন্টার ফর এক্সেলেন্স

>ভাটিয়া পার্ক

>নদীগুলির সঙ্গমস্থল

>ভুবনেশ্বরী মন্দির

>JRD TATA স্পোর্টস কমপ্লেক্স

>জয়ন্তী সরোবর

>আমাডুবি রুরাল টুরিসম সেন্টার

>জুবিলি লেক

>ট্রাইবাল কালচার সেন্টার





জামশেদপুরে৷ একটি যথার্থ কারণেই, ‍”‍ইস্পাত নগরী” নামে সুপরিচিত, জামশেদপুরকে ভারতের সর্বোৎকৃষ্টভাবে পরিকল্পিত শহরভিত্তিক কেন্দ্র হিসাবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে৷ 



1>ডিমনা লেক::--

 শহরের প্রতি মুহূর্তের কোলাহল থেকে দূরে একটি স্থান সকলের প্রিয় স্থান যেখানে শান্তিতে কিছু সময় কাটানো চলে। 


ডিমনা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যটি অবস্থিত এই স্থানটির অতিশয় সন্নিকটে যেহেতু এটি জামশেদপুর শহরের মূল অংশের থেকে মাত্র 13 কিলোমিটার দূরে৷


এই কৃত্রিম হ্রদটি তার নীরবতা এবং অতীব সুন্দর প্রাণী-তথা-উদ্ভিজ্জ সম্পদের জন্য সুপরিচিত৷ স্বচ্ছ জল এবং নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য এটি করে তোলে বনভোজন ছাড়াও অন্যান্য আরও বহু কিছুর মধ্যে, রোইং, বোটিং, অথবা জেট-স্কিইং এর জন্যও আদর্শ ।



পাহাড়ের পিছন থেকে সূর্যোদয়ের মুগ্ধকর দৃশ্য, বৃক্ষ-উদ্ভিদের প্রাচুর্য এবং পাখির সুমধুর ডাক, এই মনুষ্য-দ্বারা-সৃষ্ট স্থানটিকে করে তোলে বিশিষ্ট৷ একটি সাপ্তাহান্তিক বিরামের অথবা একটি লম্বা ছুটির মধ্যে একটি মজা উপভোগ করার মত ছোট ভ্রমণের জন্য ভ্রমণার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়রাও এই স্থানটিতে আসেন এবং উপভোগ করে৷ ডিমনা লেকে যাওয়ার পথটিও নিজেই দেখার মত একটি অতীব সুন্দর দৃশ্য৷




 


2>জুবিলি পার্ক::--


এখানে বাড়ির বাইরের 

পরিবারের অথবা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য পছন্দের একটি জায়গা৷ টাটা নগর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত, ছড়িয়ে থাকা সবুজের সমারোহটি হল দৌড়ানো এবং সাইকেল-চালকদের জন্য পছন্দের স্থান৷ একটি হ্রদ, মজা করার পার্ক, বিনোদন কেন্দ্র, ঝরনা, এবং চিড়িয়াখানার সাহায্যে এটি বিভিন্ন বয়সের মানুষদের জন্য কিছু সময়ের বিনোদনের উপাদান হিসাবে অতীব সুন্দর একটি জায়গা৷ 


শহরের মধ্যস্থলে এটির অবস্থানের কারণে, গাড়ি, ট্যাক্সি, বাস অন্তর্ভুক্ত করে, যেকোনো পরিবহণের সাহায্যে, এমনকি পায়ে হেঁটেও সেখানে উপস্থিত হওয়া যথেষ্ট সুবিধাজনক৷ সকালে প্রথমে হাঁটা অথবা জগিং এর মধ্যে যেকোনোটি করার জন্য সর্বোৎকৃষ্ট সময় হল ভোরবেলা৷ ঝরণার প্রদর্শনীটি দেখার জন্য সন্ধ্যা 6.30 টার আগে উপস্থিত হন৷ 


 


3>টাটা স্টিল জুওলজিকাল পার্ক


টাটা স্টিল জুওলজিকাল পার্ক হল, জুবিলি পার্কের চৌহদ্দির মধ্যেই থাকা একটি বেসরকারি চিড়িয়াখানা৷ এখানে পশুগুলির রাখা হয়েছে তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে৷ শহরের যে সমস্ত মানুষ অধিক চাপযুক্ত এবং কঠিন পরিশ্রমসাধ্য পেশাগুলিতে নিযুক্ত, তাঁরা পার্কে এলে প্রাণীগুলিকে সেগুলির বিশুদ্ধতম পরিবেশে দেখার এবং প্রকৃতিকে অনুভব করার একটি সুযোগ পেতে পারেন, যা তাঁদের কাজ থেকে কিছু সময়ের জন্য অবসর প্রদান করতে পারে৷ 


চিড়িয়া খানাটিতে একটি সাফারি অঞ্চল রয়েছে, যেখানে দর্শনার্থীরা সাফারি-স্টাইলের গাড়িগুলিতে চলে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে পারেন বন্য প্রাণীগুলিকে তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশে আরও ভালোভাবে দেখার জন্য৷ খুব কাছেই রয়েছে জয়ন্তী সরোবর, আর অবসর যাপনকারীরা সেখানে পেতে পারেন বিভিন্ন ধরণের ওয়াটারস্পোর্টস এবং বোটিং এর সুযোগ৷ সঙ্গে একটি টুপি রাখুন এবং কোন সানস্ক্রিন মেখে নিন৷


পার্কটি, সোমবার ছাড়া সপ্তাহের প্রত্যেক দিন, দর্শনার্থীদের জন্য সকাল 9টা থেকে রাত 9টা পর্যন্ত খোলা থাকে৷ যেহেতু গ্রীষ্মকালে, অধিক তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার কারণে জামশেদপুরের আবহাওয়া যথেষ্ট অস্বস্তিকর হতে পারে, শহরটি দেখতে আসার আদর্শ সময় হল শীতের মাসগুলি, যা থাকে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে৷



4>দলমা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য


ভ্রমণার্থীদের জন্য, দলমা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হল একটি জনপ্রিয় গন্তব্য, কিন্তু স্থানীয়দের জন্য, এটি সর্বাধিকভাবে পরিচিত এখানকার হাতিগুলির জন্য৷ দলমা হাতি হল, জামশেদপুর-পুরুলিয়া অঞ্চলে, একটি সুপরিচিত এবং ভীতিপ্রদ নাম৷ দলমা বনাঞ্চলটি হল একটি বিস্তৃত পরিধির বন্যপ্রাণী, পাখি এবং বৃক্ষরাজির জন্য স্বর্গে মত৷


দলমা পাহাড় রাজকীয়ভাবে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে চক-চক করতে থাকা সুবর্ণরেখা নদীর তীর থেকে শুরু করে

বিস্তীর্ণ সবুজ বনভূমি।

দলমার অনন্য সুন্দর পরিবেশ এবং বন্য প্রাণীগুলিকে চাক্ষুষ করার সুযোগ প্রচুর।

এখানে জঙ্গলের মাঝে মাঝে

 বন বিভাগ বিশ্রাম কুটির এবং বাঁশের ছাউনিগুলির ব্যবস্থা করেছে তাঁদের জন্য যাঁরা খুব কাছ থেকে এবং স্বচক্ষে প্রকৃত অরণ্যের অভিজ্ঞতা লাভ করতে চান৷ এবং সেখানে পাখির কলরব, দূর থেকে একটি বন্য প্রাণীর বিভিন্ন প্রকারের ডাক এবং অন্যথায় সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়ে প্রকৃতির নৈঃশব্দ্য উপভোগ করার জন্য একটি সন্ধ্যা কাটানোর মত অতি সুন্দর জায়গা।

------------------



দলমা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য নানান রং ও জাতির পাখি দেখার অতি সুন্দর স্থান।

এখানে  জঙ্গলে রাত্রিবাসের অভিজ্ঞতা 

এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা।

দলমা পাহাড়ের চূড়ায় কয়েকটি মন্দির আছে তার মধ্যে একটি হনুমান জীর মন্দির ও একটি শিব মন্দিরও আছে।

শ্রাবণ মাসে অসংখ্য মানুষের ভিড় হয় এখানে।

দলমা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের প্রবেশদ্বারটি জামশেদপুর শহর থেকে 16 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং একজন ভ্রমণার্থীর জন্য ভাড়া করা গাড়িতে, 

নিরাপত্তার জন্য  SUV এত মতন যে কোন গাড়িতেই যাওয়া যেতে পারে।





হাডকো লেক



TENCO কলোনির স্বাভাবিকভাবে বিস্ময়কর ব্যবস্থাপনা ছিল হাডকো লেক নামে পরিচিতি, মনুষ্য-নির্মিত হ্রদটি সৃষ্টি করার অনুপ্রেরণা৷ এটি অবস্থিত একটি পার্কের পাশে, যেটিতে রয়েছে একটি গঠন করা ঝরনা যেটিতে জল জোগান দেয় হ্রদটি৷ ঝরনাটি চালানোর জন্য লেকের জল ব্যবহার করা হয়৷ একটি সুন্দর টিলার উপর থেকে হ্রদের তীরের অঞ্চল এবং পার্ক থেকে সম্পূর্ণ শহরের একটি বিস্ময়কর দৃশ্য প্রদান করে৷ এখানে চড়ুইভাতি এবং সান্ধ্যকালীন অনুষ্ঠানগুলিরও আয়োজন করা যেতে পারে৷ 


জামশেদপুরের গোবিন্দপুর কলোনিটি হল হাডকো লেকের গৃহস্বরূপ৷ গোলচক্কর বাস স্টেশন থেকে মাত্র 9.9 কিলোমিটার দূরে এটিতে পৌঁছনো য়ায়৷ এই দূরত্বটি অতিক্রম করতে, রাস্তায় গাড়ির ভিড়ের উপর নির্ভরশীলভাবে, সময় লাগে মাত্র 25 থেকে 30 মিনিট৷


 


রুসি মোদি সেন্টার ফর এক্সেলেন্স



জামশেদপুরের রুসি মোদি সেন্টার ফর এক্সেলেন্স হল বহু সংখ্যক বিভিন্ন পেশাদার গোষ্ঠীর উৎসস্থল, এবং এটি জুবিলি পার্কের ঠিক বাইরে অবস্থিত৷ বিস্তৃতভাবে স্বীকৃত হয় যে হাফিজ কন্ট্র্যাক্টার এখানে সৃষ্টি করেছিলেন একটি স্থাপত্বগত সেরা শিল্পকর্ম, কারণ এই গঠনটি জামশেদপুরের সর্বাধিক আকর্ষণীয় কাঠামোগুলির মধ্যে একটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে৷


কাঠামোটির মূল নাম, জুবিলী পার্ক, এটির ইতিহাসের প্রতিফলন ঘটায়৷ এটি হল কোম্পানীর, বিশ্বের মধ্যে সর্বাধিক সফল এবং সুপরিচিত হয়ে ওঠার পথের একটি বর্ণময় চিত্রায়ন, এবং এটি সংরক্ষিত রয়েছে টাটা স্টিলের অতীত ইতিহাস৷


রুসি মোদি সেন্টার ফর এক্সেলেন্স অবস্থিত CH এরিয়া (পূর্ব) তে, যেটি জামশেদপুরের অন্তর্ভুক্ত৷ গোল চক্কর বাস টার্মিনালটি অবস্থিত সেন্টার থেকে 3 কিলোমিটার দূরত্বে, যেখানে পৌঁছনো যেতে পারে NH118 ধরে মাত্র 7 মিনিটেই৷


 


ভাটিয়া পার্ক


ভাটিয়া পার্ক হল একটি আড়ম্বরপূর্ণ পার্ক যেখানে রয়েছে বিস্তীর্ণ উন্মুক্ত স্থান এবং প্রচুর পরিমাণে তাজা সবুজ উদ্ভিদরাজি৷ এটি সুবর্ণরেখা নদীর তীরে অবস্থিত৷ এটি, বিশেষ মনোযোগ সহকার সৃষ্টি করা সবুজ ঘাস-জমি এবং ফুলের বাগান সহ, সুচারুভাবে রক্ষণাবেক্ষণে অধীন, এবং এটি হল, এর উচ্চ পর্যায়ের রক্ষণাবেক্ষণের কারণে, সাপ্তাহান্তিক ভ্রমণ এবং সান্ধ্যকালীন বিনোদনের জন্য একটি আদর্শ গন্তব্য৷ কাছাকাছির মধ্যে রয়েছে একটি চন্ডি বাবা মন্দির, এবং যেটি সন্ধ্যাবেলা পুজোর জন্য খোলা থাকে৷


ভাটিয়া পার্ক অবস্থিত জামশেদপুর শহরের গোয়ালপাড়ার প্রতিবেশের মধ্যে৷ আপনি সোনারি এয়ারপোর্ট (এয়ারপোর্ট রোড এর মাধ্যমে) থেকে মাত্র প্রায় 9 মিনিটের দূরত্বে সতী ঘাট রোড এর উপর, যেটি 2.8 কিলোমিটার দূরে, পার্কটিতে উপস্থিত হতে পারেন৷


 


নদীগুলির সঙ্গমস্থল



জামশেদপুর শহরের মধ্যে বনভোজনের জন্য একটি আদর্শ স্থান হতে পারে, যেখানে সুবর্ণরেখা এবং দোমোহানি নদীগুলির মিলন ঘটে৷ স্থানটির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হল অভিভূতকারী নৈশব্দ এবং চারপাশকে ঘিরে থাকা আকাশচুম্বী ইউক্যালিপটাস গাছ এবং বিলাসবহুল উদ্ভিদ এবং বৃক্ষের সমাহারের কারণে বিশুদ্ধতা৷ এই স্থানটিতে সূর্যাস্ত সৃষ্টি করে এমন একটি আবহাওয়া যা অতিশয় আরামদায়ক, এবং সেই কারণে, দর্শনের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায় না৷ 


সোনারি, যেটি হল জামশেদপুরেরই একটি অংশ, নদীগুলির সঙ্গম স্থল৷ এটি গোল চক্কর বাস টার্মিনাল থেকে 5.2 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, যেখানে পৌঁছনো যেতে পারে NH118 বরাবর 12 মিনিটের একটি সময়কালের মধ্যে৷ নদীর সঙ্গম স্থলটিতে অন্যান্য পথগুলির মাধ্যমেও, যেটি হল রিভারস মিট রোড, আসা যেতে পারে, যার জন্য সময় লাগতে পারে 14 মিনিটের মত৷ 


 

ভুবনেশ্বরী মন্দির



জামশেদপুরের খারাঙ্গাঝার মার্কেটের কাছে, 500 মিটার উচ্চতায় অবস্থিত, ভুবনেশ্বরী মন্দিরটি সাধারণভাবে TELCO ভুবনেশ্বরী মন্দির নামে পরিচিত৷ মা ভুবনেশ্বরীর মন্দিরের অতিরিক্তভাবে, পবিত্র স্থানটিতে রয়েছে বিভিন্ন দেব-দেবীর মূর্তি, যেমন শিব, কৃষ্ণ, এবং অন্যান্য৷ উঁচু জায়গায় অবস্থিতির কারণে, এটি দর্শনার্থীদের একটি শ্বাসরুদ্ধকারী দৃশ্য দেখার সুযোগ প্রদান করে যা সম্পূর্ণ শহরটিকে আবৃত করে৷


গোলচক্কর বাস টার্মিনাল থেকে স্ট্রেইট মাইল রোড বরাবর প্রায় 26 মিনিটের দূরত্বে এটি অবস্থিত, যেটির মন্দির থেকে দূরত্ব হল 8.2 কিলোমিটার৷


 


JRD TATA স্পোর্টস কমপ্লেক্স



24,000 দর্শকের স্থান সঙ্কুলানকারী, JRD TATA স্পোর্টস ফ্যাসিলিটি হল জামশেদপুর শহরের সব থেকে বড় খেলাধুলোর ব্যবস্থা৷ এটি জামশেদপুরের উত্তরাংশে অবস্থিত৷ সাম্প্রতিক বছরগুলিতে কমপ্লেক্সটি প্রধানতা ফুটবল এবং জিমনাস্টিকের প্রতিযোগিতাগুলির জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, যদিও এটি, অন্যান্য খেলাধুলোগুলির মধ্যে শুটিং, হ্যান্ডবল, কমব্যাট স্পোর্টস, কিকবক্সিং, এবং তীরন্দাজী, বোর্ড গেমস, এবং যোগ ব্যায়াম অন্তর্ভুক্ত করে, একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রকারের অন্যান্য খেলাধুলো এবং কার্যকলাপগুলির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলির দ্বারা সুসজ্জিত৷ এই কমপ্লেক্সটিতে যাওয়ার জন্য আপনি শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে একটি ভাড়া করা গাড়ি অথবা ট্যাক্সি নিতে পারেন৷  


 


জয়ন্তী সরোবর



অতীব সুন্দর জয়ন্তীসরোবরকে পাবেন জামশেদপুর শহরের কেন্দ্র স্থলে৷ লেকটিতে অধিকাংশ দর্শনার্থীই জান শীতের মাসগুলিতে কারণ বছরের মধ্যে এই সময়টি হল অসাধারণ পাখিগুলির বিশাল সংখ্যায় এই অঞ্চলটিতে উপস্থিত হওয়ার সময়৷ স্লাইড, স্কেটিং সার্কেল, এবং অন্যান্য আকর্ষণের দ্বারা পরিপূর্ণ হওয়া, ছোটদের জন্য একটি বিনোদনের পার্কও এই স্থানটিতে উপলব্ধ রয়েছে৷ হ্রদটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে, এখানে ফুলের বাগান এবং চালু জলের ঝরনাগুলি সুন্দরভাবে রক্ষণাবেক্ষণকৃত হয়৷ 


শহরের কেন্দ্রস্থলে এটির অবস্থিতির কারণে, যা এখানে পৌঁছনোকে যথেষ্ট সহজ করে, অটোমোবাইল, ট্যাক্সি, মিনিবাসের মত যেকোনো পরিবহনের মাধ্যমে অথবা এমনকি পায়ে হেঁটেও এখানে পৌঁছনো চূড়ান্তভাবে সহজ৷


 


আমাডুবি রুরাল টুরিসম সেন্টার



জামশেদপুর হল একটি গ্রামীণ গোষ্ঠীর বাসস্থান যা আমাডুবি রুরাল টুরিসম সেন্টার নামে পরিচিত একটি ভ্রমণ গন্তব্য হিসাবে দ্বিগুণ করে৷ দর্শনার্থীরা মোষের গাড়িতে করে অঞ্চলটির স্থানীয় শিল্প এবং সংস্কৃতি দেখতে যেতে পারেন৷ এই অঞ্চলের সর্বাধিক পরিচিত শিল্প হল পটকর অঙ্কন শিল্প৷ প্যারাগ্লাইডিং, পর্বতারোহণ, এবং অন্যান্য সদৃশ কার্যকলাপগুলিতে অংশগ্রহণ করার অতিরিক্তভাবে, আপনি স্থানীয় কীর্তনের সুরের অভিজ্ঞতা করতে এবং ঐতিহ্যগত গৃহগুলি দর্শনও করতে পারেন৷  


এই স্থানটিতে পৌঁছনোর জন্য, যেটি জামশেদপুরের শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে 61.3 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, আপনি একটি গাড়ি ভাড়া নিতে পারেন অথবা একটি সরকারি বাসেও যেতে পারেন এবং এই দূরত্ব অতিক্রম করার জন্য আপনার আনুমানিক এক ঘন্টা সময় লাগতে পারে৷


 


জুবিলি লেক



সুন্দর জুবিলী লেকটিকে দেখা যেতে পারে জামশেদপুর শহরের কেন্দ্রস্থলে৷ এটির চারপাশকে ঘিরে রেখেছে, চিড়িয়াখানা এবং একটি লেজার লাইট থিয়েটার সহ, টাটা স্টিলের ফেসিলিটিগুলি৷ হ্রদটি শহরের মধ্যে একটি বিখ্যাত দর্শনীয় স্থান কারণ এটিতে বোটিং এবং মাছ ধরার সুযোগ পাওয়া যায়৷


টাটানগর জংশন জুবিলি লেখ থেকে 11.6 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত৷ স্টেশন থেকে প্রাইভেট ট্যাক্সি অথবা অন্যান্য পরিবহণ সংরক্ষিত করা যেতে পারে, এবং সেগুলি আপনাকে লেকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে৷


 


ট্রাইবাল কালচার সেন্টার



উপজাতি সংস্কৃতি কেন্দ্রটি হল জামশেদপুরের একটি সুপরিচিত ভ্রমণ কেন্দ্র৷ এর উদ্দেশ্য হল, সাঁওতাল, ওরাঁও, হো, এবং মুন্ডা অন্তর্ভুক্ত করে বহু উপজাতির বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতিগুলিকে সংরক্ষিত করা৷ সেন্টারের মধ্যে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী বিশেষ উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বদের, যেমন বাবা তিলকা মাঝি, বিরসা মুন্ডা এবং সিধো-কানহোর বিশার মূর্তিগুলি দেখা যেতে পারে৷ গ্যালারির দেওয়ালগুলি নানা চিত্রকলার দ্বারা আচ্ছাদিত, যেখানে অন্তর্সজ্জার ভান্ডারটি প্রদর্শন করে শিল্পকর্ম, ভগ্নাবশেষ, এবং পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলির একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ সমাহার৷


গোল চক্কর বাস টার্মিনাল থেকে আপনি NH118 বরাবর 7 থেকে 10 মিনিটের মধ্যেই সেন্টারে পৌঁছতে পারেন অথবা সুবর্ণরেখা লিঙ্ক রোড এবং NH118 এর সংমিশ্রণে 12 মিনিটে৷


 



Tuesday, July 5, 2022

79>|| উত্তরাখন্ড –ঊখীমঠ ||

 79>|| উত্তরাখন্ড –ঊখীমঠ  ||

                                   <---আদ্যনাথ--->

|| উত্তরাখণ্ডের পরিচ::----||

উত্তরাখন্ড ভ্রমনের আগে উত্তরাখন্ড সম্বন্ধে একটু জেনে নিতে হয়।আর সেই কারণে আমি সামান্য একটু পরিচয় করিয়ে দিতে চাই উত্তরাখণ্ডের।

হিমালয়ের প্রান্তে অবস্থিত উত্তরাখণ্ড, ভারতের বর্ষের উত্তরে অবস্থিত এই পাহাড়ী রাজ্য । এই রাজ্যের উত্তর পশ্চিমে হিমাচল প্রদেশ এবং তার দক্ষিণ দিকে উত্তর প্রদেশ অবস্থিত। পূর্বে এটি উত্তরাঞ্চল নামে পরিচিত ছিল। আর এই দূন উপত্যকায় অবস্থিত উত্তরাখণ্ডের রাজধানী দেরাদুন,যে তার নিজেস্ব সুন্দর পরিবেশের জন্য সুবিখ্যাত। 

এই রাজ্যের মোট আয়তন---53,483 বর্গ কিলোমিটার এবং এই রাজ্যকে প্রধানত দুটি ভাগে বিভক্ত একটি গড়বাল এবং আর একটি কুমায়ুন।  এই রাজ্য তার সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক সম্পদ, ঘন বনাঞ্চল, হিমবাহ এবং বরফ-আবৃত শৃঙ্গের জন্য বিখ্যাত।

উত্তরাখণ্ড পর্যটনের জন্য অতি উত্তম স্থান। উত্তরাখণ্ডকে বলা হয়,"দেব ভূমি" বা “দেবতাদের দেশ” ।

 এখানে বহু পবিত্র মন্দির বা চার ধাম; যথা – বদ্রীনাথ, কেদারনাথ, গঙ্গোত্রী এবং যমুনোত্রী অবস্থিত। দেশের দুটি সবচেয়ে পবিত্র এবং বিখ্যাত নদী গঙ্গা ও যমুনা এই রাজ্য থেকে উৎপত্তি। এই উত্তরাখণ্ডের বন্য ফুলের 250-টি প্রজাতি নিয়ে,  “ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স” ইউনেস্কোর একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে গণ্য।

উত্তরাখণ্ডে সমস্ত বিখ্যাত শৈল শহর যেমন নৈনিতাল, উত্তরকাশী, মুসৌরি, চোপতা, চামোলি, আলমোড়া, দেরাদুন, ল্যান্সডাউন্, ফুলের উপত্যকা এবং সাততাল এর জন্য সুপরিচিত। উত্তরাখণ্ডের ঘন জঙ্গলে ১২-টি জাতীয় উদ্যান এবং অভয়ারণ্য অবস্থিত

উত্তরাখন্ডকে জানতে হলে জানতে হবে চিনতে হবে হিমালয়কে, আবার হিমালয়কে জানত ও চিনতে আগে জানতে হবে উত্তরাখণ্ডের দেবভূমি গাড়োয়াল আর কুমায়ুন কে ।

কুমায়ুন ভ্রমণের কিছু স্থানের মধ্যে নৈনিতাল, রানীক্ষেত, আলমোড়া, মুন্সিয়ারি প্রভৃতি উল্যেখযোগ্য।

আর গাড়োয়াল মানেই বেবভূমি দেবতার স্থান।

গাড়োয়াল,::---

হিমালয় পর্বতমালায় অবস্থিত এই অঞ্চলটি উত্তর ভারতে অবস্থিত। এই অঞ্চল টির উত্তর দিকে রয়েছে তিব্বত, পূর্ব দিকে রয়েছে কুমায়ূন বিভাগ, দক্ষিণ দিকে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ রাজ্য এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে রয়েছে হিমাচল প্রদেশ রাজ্য। বিভাগটিতে যেই জেলাগুলি রয়েছে সেগুলি হল; চামোলি, দেরাদুন, হরিদ্বার, পৌড়ী গাড়োয়াল, রুদ্রপ্রয়াগ, তেহরি গাড়োয়াল এবং উত্তরকাশী। প্রতিটি জেলা বিভিন্ন তীর্থ স্থানের জন্য প্রসিদ্ধ। আর সেই কারণেই গারোয়াল মানেই দেবভূমি।


            || ঊখীমঠ – ||

ঊখীমঠ,  মন্দাকিনী নদীর ধারের এক ছোট্ট গ্রাম। উচ্চতা  4300  ফুট। রুদ্রপ্রয়াগ জেলার অন্তর্গত। রুদ্রপ্রয়াগ শহর থেকে  45 কিলোমিটার দূরে।  যার উল্টো দিকে গুপ্তকাশী।  আর ঠিক পিছনেই  কেদারডোম শৃঙ্গ, কেদারনাথ।  তাছাড়াও দেখা যায় নীলকণ্ঠ, মেরু, সুমেরু, চৌখাম্বা, গঙ্গোত্রী-শ্রেণী। সবথেকে সুন্দর  যা দেখে চোখ জুড়িয়ে যায় সেটি হল মন্দাকিনীর ওপারে গুপ্তকাশী সংলগ্ন দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ উপত্যকা।সবুজ উপত্যকার জন্যই এই অঞ্চল বিখ্যাত।--★হরিদ্বার থেকে বাসে ঊখীমঠ যাওয়া।------------------কিন্তু আমরা একটা জিপ ভাড়া করে  পৌঁছে গিয়েছিলাম হরিদ্বার থেকে  শোণিতপুরে  বা ঊখীমঠে। এই উখীমাঠের অনেক গল্প আছে --  আমাদের গাইডের মুখে শোনা একটা গল্প----. 

**ঊখীমঠের গল্প কথা::---

【【শোণিতপুরের শিব-ভক্ত রাজা দোর্দণ্ডপ্রতাপ বাণাসুর। তার নাকি হাজার হাত। একমাত্র শিব তার উপাস্য। অন্য দেবতাকে বানাসুর কোন মতেই পছন্দ করতোনা।

বিশেষ করে ভগবান বিষ্ণুর সাথে তার সম্পর্ক বড়ো খারাপ। এহেন শিবভক্ত ক্ষমতার দম্ভে একদিন শিবকেই অপমান করলেন। কিন্তু শিব বরাবরই ভক্তের প্রতি বড়ো দয়ালু। অপমান হজম করে হেসে শুধু মনেমনে বলেন, “সময় মতো সব প্রাপ্য পেয়ে যাবে বাছাধন”।

বাণাসুরের একমাত্র কন্যা ঊষা। খুবই আদুরে। স্বপ্নে সে অনিরুদ্ধ নামক এক যুবককে দেখে, তার প্রেমে পাগল। স্বপ্নের ঘোরে একদিন সে অনিরুদ্ধকে চিৎকার করে সম্বোধন করে ওঠে “প্রাণনাথ” বলে। ঊষার বাল‍্য তথা ছায়াসঙ্গিনী চিত্রলেখা (যে  একাধারে চিত্রকর ও জাদুকরী) শেষে স্বপ্নে দেখা সেই রাজপুরুষ “অনিরুদ্ধ”-র ছবি একে দেন ঊষাকে। অনিরুদ্ধ হলো কৃষ্ণপুত্র প্রদ্যুম্ন ও রুকমাবতীর পুত্র; অর্থাৎ কৃষ্ণের নাতি। প্রাণাধিক প্রিয় নাতি। 

(কৃষ্ণ-পৌত্র আর বাণাসুর-কন্যা। এ যে এক  অঘটন সেটা বোঝাই যায়।)

ঊষার এক গো। অনিরুদ্ধকে তার চাইই-চাই। 

 ঊষার সহায় তার ছায়াসঙ্গিনী চিত্রলেখা, একদিন  জাদুবলে অনিরুদ্ধকে এনে দিলেন ঊষার কাছে। দেখা গেল, অনিরুদ্ধও সুন্দরী ঊষাকে পেয়ে আত্মহারা। বাণাসুর থেকে ঘটনা গোপন রাখতে অনিরুদ্ধ নারীর ছদ্মবেশে থেকে গেলেন শোণিতপুরে, প্রেমিকা ঊষার কাছে। কিন্তু বাদ সাধলো প্রকৃতি। কিছু দিনেই অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ল ঊষা। এবার অনুপায় হয়ে ঊষা ও অনিরুদ্ধ ধরা পরে গেলেন বাণাসুরের কাছে ফলে অনিরুদ্ধ হলেন অবরুদ্ধ। এদিকে এতদিন নাতি নিরুদ্দেশ, কৃষ্ণ বসে থাকবার পাত্র নন। তাঁর কাছে সকল খবর পৌঁছলে , তিনি সুদূর দ্বারকা থেকে সৈন্য সামন্ত নিয়ে শোণিতপুর চলে এলেন। একদিকে শিবশক্তিতে বলীয়ান বাণাসুর, অপরদিকে স্বয়ং কৃষ্ণ (বিষ্ণু)। শুরু হলো মহাসংগ্রাম।

বাণাসুর যতই শক্তিশালী হোক না কেন, কৃষ্ণ/ বিষ্ণুর  সাথে এঁটে উঠবেন কেন। সুদর্শন চক্র দ্বারা তার হাতগুলো একে একে কাটা পড়তে থাকে। শেষে শিবের অনুরোধে দুটো হাত শুধু অক্ষত রয়ে যায়। বাণাসুরের গর্ব হলো খর্ব। পরাজিত, অপমানিত বাণাসুর বাধ্য হলেন অনিরুদ্ধকে মুক্তি দিতে। সন্ধির শর্তানুযায়ী ভগ্নহৃদয় বাণাসুর, ঊষা ও অনিরুদ্ধর বিবাহ দেন ও নবদম্পতিকে কৃষ্ণের সাথে দ্বারকা যাওয়ার অনুমতি দেন। এই বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং শিব। ঊষার চলে যাওয়াতে শোকগ্রস্থ শোণিতপুরবাসী, রাজ্যের নাম পাল্টে রাখেন ঊষামঠ।  

পরে কালক্রমে সেই  ঊষামঠই লোক মুখে  মুখে হয়েবযায় ঊখীমঠ।  ঊখীমঠে শিব ও কৃষ্ণের (বিষ্ণু) সাক্ষাৎ স্থল হওয়ায়, এখানে শৈব ও বৈষ্ণব মিলনক্ষেত্রও বটে। 】】

**পৌরি জেলাশহর। (হর-কি- পৌরি)---------

পৌরি অর্থাৎ হর-কি-পৌরি বেশ সাজানো গোছানো পরিচ্ছন্ন শহর।  উচ্চতা 5950  ফুট। আমাদের গাইডের বক্তব্য  এই হর-কি-পৌরি থেকে নন্দাদেবী, ত্রিশূল, গঙ্গোত্রীশ্রেণী এখান থেকে স্পষ্ট দেখা যায়।  কিন্তু আমাদের ভাগ্য ছিল বিরূপ তাই তো সেদিন হঠাৎ শুরু হলো বৃষ্টি সেই হেতু আমাদের দেখবার সৌভাগ্য হয় নি।

 [[পৌরিতে এক-দুই রাত থেকে দেখার মতন কাছাকাছি প্রচুর দর্শনীয় স্থান আছে। এই হার-কি- পৌরি থেকে 85কিলোমিটার দূরে ল্যান্সডাউন। এটি আরকটি হট হিল-স্টেশন। ]]

আমরা হর-কি-পৌরি থেকে অলকানন্দা আর মন্দাকিনীর মিলিত স্রোতের ধার ঘেসে শ্রীনগর হয়ে পৌঁছে গেলাম ★রুদ্রপ্রয়াগ। এই রুদ্রপ্রয়াগেই মন্দাকিনী এসে মিশেছে অলকানন্দার সাথে। দুটোই পার্বত্য নদী; অথচ মন্দাকিনী সদাপ্রাণচঞ্চল, প্রচন্ড বেগে বয়ে চলেছে। আর অলকানন্দা অতি শান্ত ধীর গতি। মন্দাকিনীর জল একটু  সবুজ আর অলকানন্দা ঈষৎ নীলচে সবুজ।  

সঙ্গম বা প্রয়াগে উভয়ের জলের পার্থক্য স্পষ্ট বোঝা যায়।  একইরকম পার্থক্য করা যায় দেবপ্রয়াগেও।  যেখানে ভাগীরথী [[গোমুখ থেকে দেবপ্রয়াগ অবধি প্রবাহের নাম ভাগীরথী; দেবপ্রয়াগের পর থেকে ভাগীরথী, অলকানন্দা ও মন্দাকিনী, এই তিন প্রবাহের মিলিত নাম গঙ্গা]] মিলিত হয়েছে অলকানন্দার সাথে। 

**এই রুদ্রপ্রয়াগ থেকেই  রাস্তা ভাগ হয়েছে কেদারনাথ ও বদ্রীনাথ যাওয়ার জন্য। একটা রাস্থা অলকানন্দার গা ঘেসে চলে গেছে বদ্রীনাথ, অন্যটি মন্দাকিনীর ধার বরাবর এগিয়ে গেছে কেদারনাথ। 

আমরা মন্দাকিনীর ধার বরাবর  ধীরে ধীরে পৌঁছে গেলাম  অগস্ত্যমুনি, কুণ্ডচটি হয়ে বাণাসুরের শোণিতপুরে, যেটি আজকের ঊখীমঠ ।

পৌরি থেকে রুদ্রপ্রয়াগের দূরত্ব সম্ভবত 65 কিলোমিটার 

আর রুদ্রপ্রয়াগ থেকে ঊখীমঠ  45 কিলোমিটার। 

★★হরিদ্বার বা হৃষিকেশ থেকে ঊখীমঠ যাওয়াই সহজতম পথ। সে ক্ষেত্রে দূরত্ব  210 কিলোমিটার (হৃষিকেশ থেকে 180 কি.মি.)। সাত থেকে সাড়ে সাত ঘন্টা সময় লাগবে । মদমহেশ্বর যাওয়ার আয়োজনের জন্য ঊখীমঠ থেকে উনিয়ানা যাওয়ার শেয়ার গাড়ি পাওয়া যায়, কিন্তু ভর্তি না হলে ছাড়ে না। সেই কারণে নিজের এগার নম্বর রিজার্ভ গাড়ি পা-গাড়ি ই ভাল। তাই আমরা হাটা শুরু করলাম। দর্শনীয় স্থানগুলির দূরত্ব খুব একটা বেশি নয় । 

 **ওঙ্কারেশ্বর মন্দির এখানকার প্রধান দ্রষ্টব্য।  ওঙ্কারেশ্বর মন্দির ভারতের  অতি প্রাচীন মন্দির গুলির মধ্যে অন্যতম। পৌরাণিক মতে, রাজা মান্ধাতা দ্বাদশ বৎসর একপায়ে দাঁড়িয়ে তপস্যা করে “ওঁ” রূপে মহাদেবের দর্শন পান এবং এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন, তাই এই শিব-মন্দিরের নাম “ওঙ্কারেশ্বর”। প্রশস্ত মন্দিরের চাতাল, ওঙ্কারেশ্বর শিব ছাড়াও এখানে রয়েছে রাজা মান্ধাতার প্রস্তর মূর্তি। এই মন্দিরেই কালীপুজোর পর থেকে অক্ষয় তৃতীয়া অবধি ছয় মাস অবস্থান করেন এবং পুজো গ্রহণ করেন কেদারনাথ (প্রথম) ও মদমহেশ্বর (দ্বিতীয়) শিব। 

**অক্ষয় তৃতীয়ার পর মে মাসে পঞ্চমুখী ডুলিতে করে কেদারনাথজী, কেদারযাত্রা করেন। আর এর প্রায় সপ্তাহখানেক পরে  মদমহেশ্বর শিব, একরাত রাশি গ্রামের রাসেশ্বরী মন্দিরে রাত্রি যাপন করে যাত্রা করেন মদমহেশ্বরে। কথিত আছে যে ঊষা আর অনিরুদ্ধর বিবাহ সম্পন্ন হয় এই স্থানেই। সেই বিবাহ মণ্ডপ  এই মন্দির প্রাঙ্গণেই। উল্লেখ্য, কেদারনাথ ও মদমহেশ্বর এর পুরোহিত বা রাউলরা এই ঊখীমঠেরই  বাসিন্দা।

এছাড়াও এখানে রয়েছে অনেক  মন্দির – ঊষা, অনিরুদ্ধ, শিব, পার্বতী প্রভৃতি দেব-দেবীগণের। তবে এই মন্দিরগুলির দর্শনে বিশেষ পর্যটক  আসেনা। কারন এইসকল স্থানের অধিকাংশ স্থানে পৌঁছতে হয় ট্রাকিং করে। সেইকরনে এইসকল স্থানে ভীড় বিশেষ হয়না। ট্রেকারদের-ই ভিড় বেশি থাকে। আবার এখান থেকে তুঙ্গনাথ (তৃতীয় কেদার), মদমহেশ্বর, দেওরিয়া তাল প্রভৃতি ভ্রমণ সহজ। বেশির ভাগই পর্যটক শুধু রাতটুকু ঊখীমঠ-এ থেকে নিজ নিজ গন্তব্যে এগিয়ে যায়। তাছাড়া এই সব মন্দিরগুলো তেমন প্রচার নাই, কোথাও কোথাও ভীষণ খাড়া সিঁড়ি ভেঙে বেশ উঁচুতে উঠতে হয়।  সর্বসাধারণের জন্য সে পথ নয়, বিশেষ করে বয়স্কদের পক্ষে বেশ কষ্ট সাধ্য পথ। তবে, ইচ্ছাশক্তিতে ভর করে বেরিয়ে পড়তে পারাজয় ওই সব জায়গায়। 

মূল ঊখীমঠের একটু বাইরেই মন্দাকিনীর গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে ভারতসেবাশ্রম সংঘ। ঠিক পাশেই তাঁদের পরিচালিত স্কুল।  এবার আমরা পেয়ে গেলাম শেয়ার জীপ সেইকরনে একটু আরামে ঘুরে নিলাম গুপ্তকাশী। কথিত আছে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পর এস্থানেই নাকি কাশী থেকে এসে আত্মগোপন করেছিলেন মহাদেব। তাই নাম গুপ্তকাশী। আমরা গুপ্তকাশী থেকে আবার শেয়ার গড়ি করেই পৌঁছে গেলাম কালীমঠে। এই কালিমঠ দিয়ে বয়ে চলেছে সবুজ স্বচ্ছ সরস্বতী নদী। কথিত, এই স্থানেই দেবী কালী বধ করেন রক্তবীজকে। এই মন্দিরও প্রাচীন এবং যথেষ্ট জনসমাগম হয় এই জায়গা তে । 

এবার আমরা ফিরেগেলাম উখীমঠে। আমাদের ফিরতে সন্ধে হয়ে গেলো। আমাদের প্লান কাল থেকে শুরু হবে ট্রেক। তাই খাওয়া-দাওয়া করে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লাম। 

[[ ঊখীমঠে প্রায় সারা বছরই আসা যায়, তবে বর্ষাকাল বাদ দিয়ে আসাই বাঞ্ছনীয়। আর সেপ্টেম্বর-অক্টোবরই বেস্ট সিজন।]]

এবার ফেরার পালা কিন্তু এখানে থেকে ফিরতে মন চায় না। তবুও ফিরতেতো  হবেই  তাই ঊখীমঠ কে বিদায় জানিয়ে ফিরলম হরিদ্বার। মন্দাকিনী-অলকানন্দা-গঙ্গার ধার ঘেষে একে একে পার হয়ে আসলাম সকল স্থান।এখানকার সকল স্থানই বিষয়ে বৈচিত্রময়। সমস্ত জায়গাই তার নিজেস্ব সৌন্দর্যের ডালি নিয়ে  আছে। তবে এখানে চলার পথে সর্বক্ষণ সঙ্গ দেয় নদী, আর সেই কারণেই এই পথ এক ভিন্ন মাত্রা পায়। গাড়োয়াল ভ্রমণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই  সঙ্গ দিচ্ছিল নদী। এভাবেই আমরা নেমে এসেছি ঋষিকেশ। এখন থেকেই দেখা যায় লক্ষণঝুলা, রামঝুলা।

পরের দিন সকাল সকালে হরকিপৌরি ঘাটে গঙ্গা স্নান করে একটু পুন্য অর্জন করে  হরিদ্বারের মার্কেটে ঘোড়াঘুড়ি করে হোটেলে ফিরে,  সন্ধ্যায় হার-কি-পৌরীর ঘাটে সন্ধ্যা আরতি দেখে, নিজের নিজের লাগেজ  গুছিয়ে নিয়ে  তৈরী হয়ে রাত্রের  ট্রেন ধরলম হাওড়ায় ফেরার জন্য।

               <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী-------> 

===============================================================

Friday, July 1, 2022

78>|| ভ্রমন ও ট্রেকিং----- ফ্লাওয়ার ভেলি ও হেমকুন্ড সাহিবা।=(1970)

78>|| ভ্রমন ও ট্রেকিং----- ফ্লাওয়ার ভেলি ও হেমকুন্ড সাহিবা।(1970)

কলেজে পড়ার সময় কয়েকবার উত্তরাখণ্ডের গাড়োয়াল অঞ্চলের নানা স্থানে ঘুরে বেরিয়েছি। গাড়োয়াল অঞ্চলের মধ্যে জোশীমঠ,বদ্রিনাথ মঠ, ফ্লাওয়ার ভেলি ও হেমকুন্ড সাহিবা এইসকল জায়গার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য জীবনে ভুলবার নয়। 

 Valley of flowers | কিছু জানবার  বিষয়।

ফ্লওয়ার ভেলির ট্রেকিং শুরু হয় গোবিন্দ ঘাট নামক ছোট্ট একটি গ্রাম থেকে।
এই গোবিন্দ ঘাট জোশী মঠ থেকে 22 কিমি বদ্রিনাথ ঋষিকেশ হাইওয়েতে।

কিন্তু প্রকৃত কক্ষে আসল ট্রেকিং শুরু হয়
পুলনা থেকে।যেটি গোবিন্দ ঘাট থেকে 4 কিমি, গাড়িতে 20 মিনিটের পথ।
আবার এই পুলনা থেকে পাকা পথে
( by paved trail ) 9 কিমি
ঘঙ্গারিয়ায় একটি ছোট বিশ্রামের জায়গা
এখানে কিছু দোকান ও আছে যেখানে প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই পাওয়া যায়।
★★ ট্রেকিং এর সময় সঙ্গে জল রাখতে হবে ঠিক মতন। নয়তো পথে জলের প্রচুর দাম। কখনো ₹ 70 টাকা লিটারেও পাওয়া মুশকিল হয়ে।
★★এই ঘঙ্গারিয়ায় থেকে দুটি রাস্থা দুই দিকে গেছে।
একটি রাস্থা ফ্লাওয়ার ভেলির দিকে গেছে,
আর একটি রাস্থা হেমকুন্ড সাহিবার দিকে।
ঘঙ্গারিয়ায় থেকে হেমকুন্ড সহিবা পথে ট্রেকিং করতে হয় 8 কিমি পথ।
এর মধ্যে কোন কোন জায়গাতে কিছু সিঁড়ি আছে বাকি পথ ট্রেকিং করেই যেতে
হয়।

ভারতের উত্তরাখণ্ডে  গাড়োয়ালের কোলে ট্রেক রুটে জোশীমঠ থেকে ট্রেক করে নন্দাদেবী ন্যাশানাল পার্কে। অর্থাৎ যেটি  "ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার" নামেই পরিচিত।

উত্তরাখণ্ডের 2600 মিটার উচ্চতায় অবস্থিত জনপ্রিয় হিল স্টেশন জোশীমঠ।
ধউলিগঙ্গা ও অলকানন্দার সঙ্গম স্থলে অবস্থিত জোশীমঠ। আগে জয়ত্রীমঠ নামে পরিচিত ছিল এই জোশীমঠ।
আদি গুরু শ্রী শংকরাচার্য‌ এই অঞ্চলে চারটি মঠ খুঁজে পেয়েছিলেন। সেই থেকে এই জায়গার নাম হয় জয়ত্রীমঠ। আর আজ উত্তরাখণ্ডের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটক কেন্দ্র এই জয়ত্রীমঠ বা জোশীমঠ।
★বদ্রিনাথ মঠ থেকে জোশীমঠ  মাত্র
46 কিলোমিটার । শীতে যখন বদ্রিনাথের মন্দিরের দ্বার বন্ধ হয়ে যায়, তখন বদ্রীবিনাথের বিগ্রহ পূজিত হন জোশীমঠের বাসুদেব মন্দিরে।

এই নন্দাদেবী ন্যাশানাল পার্ক ট্রেকিং রুটের তিনটি বেস ক্যাম্প
★প্রথম বেসক্যাম্প জোশীমঠ।
এখানে এই উপত্যকায় বসন্তে ফুলের
সমারোহ দেখার মতন। এই উপত্যকা ‘ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার’ নামেই বিশেষ পরিচিত।
আর সেই ফুলের সমারহ দেখতে মানুষ ছুটে আসে এখানে এই ট্রেকিং রুটে। এখানকার দয়রা বুগিয়াল, চেনাব লেক, তপোবন, বিষ্ণুপ্রয়াগ, বদ্রিনাথ ও হেমকুন্ডের  রুটে ট্রেক করার মজাই আলাদা, আমরা জোশীমঠে একরাত কাটিয়ে শুরু করেছিলাম ট্রেকিং

উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার দক্ষিণে অবস্থিত এই নন্দাদেবী ন্যাশানাল পার্ক।
জোশীমঠ থেকে যাত্রা শুরু করে  আমাদের এই ট্রেক শেষ করতে সময় লাগেছিল 5 দিন ।
(4 দিনেই ট্রেকিং শেষ করা যায়, কিন্তু আমরা ফ্লাওয়ার ভেলিতে এক রাত বেশি থাকার জন্য আমাদের 5দিন লেগেছিল )
প্রথম বেসক্যাম্প জোশীমঠ থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ★দ্বিতীয় বেসক্যাম্প ★গোবিন্দঘাট। গোবিন্দঘাট যাওয়ার জন্য জোশীমঠে ট্যাক্সিও পাওয়া যাবে। তবে গোবিন্দঘাট থেকে 14কিলোমিটার ট্রেক করে পৌছাতে হয় ★তৃতীয়ও শেষবেসক্যাম্প ★ঘাঙ্গারিয়া।

আবার এই ঘাঙ্গারিয়া হল ★হেমকুন্ড সাহিবের প্রথম বেসক্যাম্প।  হেমকুন্ড সাহিবে ট্রেক করার জন্য এখান থেকে
এই ঘাঙ্গারিয়া থেকে যাত্রা শুরু করতে হয়। ঘঙ্গারিয়ায় একটা রাত কাটানোর পর আবার যাত্রা শুরু। এর পরবর্তী 8 (আট )থেকে 10 কিলোমিটার পথে হিমালয়ের নৈসর্গিক সুন্দর দৃশ্যের, যে সৌন্দর্য সারা জীবন স্মরণে থেকে।

যদি বসন্তে এই ফুলের উপত্যকায়
মখমলের মতন কচি  সবুজ ঘাসের সমাহার। এখানে ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে বরফ গলতে শুরু করে। আর তার মাঝ থেকে মাথা চারা দিয়ে ওঠে নতুন সবুজ   আর রাত সথে নানান ফুলের সৌন্দর্য
দেখে মনে হবে কেউ যেন সবুজ কার্পেট বিছিয়ে দিয়ে গেছে হিমালয়ের কোলে। এরই মাঝেই ধরা দেবে নাম না জানা বহু রঙ-বেরঙের ফুল। আর দূরে দেখা যায় গ্লেসিয়ার। এই ফুলের উপত্যকায় দেখতে পাওয়া যায় নানান পশু ও পাখি। আর সেই কারণেই এই উপত্যকা পক্ষীপ্রেমীদের জন্যও স্বর্গোদ্যান।

ফুলের উপত্যকায় আমরা টেন্টে
রাত কাটিয়ে  পরের দিন  ফিরে আসেছিলাম ঘাঙ্গারিয়ায়। তারপর পরের দিন নেমে আসেছিলাম জোশীমঠে।

জীবনে অনেক পাহাড়, পর্বত সমুদ্র  ঘুরেছি। দেশ বিদেশে বহু জায়গা ঘুরেছি।
কিন্তু অবিস্মরণীয় সেই ট্রেকিং রুট
"ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার" এর ট্রেকিংকে
আজ 2022 অর্থাৎ 50/ 52 বৎসর আগের সেই ট্রেকিং কে আজও ভুলতে পারিনি।
  <--আদ্যনাথ রায় চৌধুরী-->
========================

Hemkund Sahib Valley of flower

প্রাকৃতিক ঝর্ণায় ভরপুর সবুজ পাহাড় পার হওয়ার পর নানান বর্নময় ও অলঙ্কৃত বিশেষ সময়ের প্রাণিকুল ও ফুলের সমারহ। এমন পথে পাঁচ ঘণ্টা ট্রেকিং করে আমরা পৌঁছে ছিলাম হেমকুন্ড সাহেবায়।
এমন জায়গাতে পৌঁছে আমি অনুভব করলাম এমন আশ্চর্য কর স্থান
যা সত্যিই বিস্ময়কর এবং ঈশ্বরের অলৌকিক ঘটনাকে চিত্রিত করে।
এটা সেই বিস্ময়কর জায়গা যেখানে আকাশের সাথে মাটির মিলন মনে হয়, দুটোই এক মনে হয়।
ঘাঙ্গারিয়া থেকে  হেমকুন্ড সাহিব 7km

হেমকুন্ড সাহিবাতে যাবার জন্য ঘাঙ্গারিয়া থেকেই যাত্রা শুরু করতে হয়।
এই ঘাঙ্গারিয়ায় সবরকম সুবিধা সহ অনেক হোটেল আছে।
হেমকুন্ড সাহিবা একটি প্রসিদ্ধ গুরুদ্বার
এখানে খাবার ও থাকবার ব্যবস্থা আছে।
তবে এই গুরুদ্বার বিকেল 2:00 PM
এতে বন্ধ হয়। বন্ধ হবার পরে আর কাউকে কোন ভাবেই প্রবেশ করতে দেয় না।
এই ট্রেকিং পথে খুব সাবধানের চলতে হয়
মোটা মুটি ঘন্টায় এক কিলোমিটার পথ চলতে পারা যায়। সিঁড়ি দিয়ে উঠবার সময় মনে হয় স্বর্গের সিঁড়ি বেয়ে চলেছি।
অনেক উচ্চতার কারনে স্বাস নিতে একটু কষ্ট হয়। সেই কারণে খুব ধীরে সুস্থ্যে চড়াই চড়তে হয়।
এই ট্রেকিং পথে সাহস ও মনের জোরই শ্রেষ্ঠ পাথেয়।
এখানে 60 বসরের বেশি বয়সের ও 10 বছরের নীচে কাউকে যাবার অনুমতি দেয়া না। উত্তরকাশী থেকেই অনুমতি পত্র গ্রহণ করতে হয়।

হেমকুন্ড সাহিবাতে পৌঁছে দেখলাম এক সুন্দর স্বচ্ছ জলের পুকুর।
প্রচন্ড ঠান্ডায় ও এখানে কিছু মানুষ এই পুকুরে স্নান করছে।
হেমকুন্ড সাহিব বিশেষ রূপে একই গুরুদ্বার। এটি একটি শিখ সম্প্রদায়ের
ধর্মীয় স্থান উত্তরা খণ্ডের চামলি জেলায়।
শিখগুরু গোবিন্দ সিং(1666–1708) এই স্থানে একটি গুরুদ্বার প্রতিষ্ঠা করেছেন।
গোবিন্দ সিং দশম শিখ গুরু।
এখানে আছে একটি হ্রদ যেটি সাতটি
পর্বতশৃঙ্গ দ্বারা বেষ্টিত।
এই হ্রদ টি একটি হিমবাহ দ্বারা সৃষ্টি হ্রদ ।
সাতটি পাহাড়ের চূড়াতেই গুরু গ্রন্থ সাহেবের একটি করে নিশানা আছে।

হেমকুন্ড অর্থাৎ "লেক অফ শ্নো"বরফের কুন্ড / বরফের লেক। বরফে আবৃত পাহাড়ের মাঝে ঝিল।পৃথির সবথেকে উঁচু তে অবস্থিত গুরুদ্বারা সমুদ্র তল থেকে 4633 মিটার উঁচুতে এই গুরুদ্বারা। হেমকুন্ড সাহিব গুরুদ্বারের নিকট  আছে কিছু ঝর্ণা, হিমালয়ের মনোরম দৃশ্য, এবং ঘনজনহল । গুরু গোবিন্দ সিং এর জীবনীতেই জানাজায় সাত পাহাড়ের মাঝে এই ঝিলের পারে অবস্তিত গুরুদ্বার।

এখানে আছে কাগভূসন্ডি ঝিল।
এখানে ফুলের সমারহের সাথেএই রাষ্ট্রীয় উদ্যানটি 2005 সালে ইউনেস্কো দ্বারা বিশ্ব পর্যটনে সম্মিলিত হয়।
এই ফ্লাওয়ার অফ ভেলির আগে এটির নাম ছিল  ভূইন্দ্র ঘাঁটি  পরে ব্রিটিশ
পর্যটক ও পর্বতারোহী ফ্রাঙ্ক স্মাইথ 1931 সালে এই জায়গার "ফ্লাওয়ার অফ ভেলি" নামকরণ করেন।
এই হেমকুন্ড সাহিব গুরুদ্বারের নিকটে দর্শনীয় স্থান গুলি ডিভাইন আয়ুর্বেদিক স্পা এর তপবন।
শিবানন্দ আশ্রম তথা পরমার্থ নিকেতন যেটি রাম ঝুলার কাছে এক কিলোমিটার দূরে ।
এখানকার ভীম পুল প্রায় 14 কিলোমিটার দূরে মনগাঁও নামক স্থানে বদ্রিনারায়নের কআছে অবস্তিত।

হেমকুন্ড সাহিবার লঙ্গর খানা ও অতি প্রসিদ্ধ। এখানকার উল্লেখ যোগ্য ব্যঞ্জন গুলি যেমন:;---
ভাঙের চাটনি, গারোয়ালের ফন্না, ফানু, বড়ী, কন্ডলীর শাক, চুঁসু, কুমৌনি রায়তা, ঝংগোড়ার ক্ষির, গুলগুলা,অর্সা, সিংগোরি, আলুর ঝোল, ইত্যাদি।

হেমকুন্ড যাত্রার জন্য ভাল সময়
হল মে থেকে অক্টোবরের মধ্যে। তথাপি
মাঝে মাঝে বৃষ্টি হতেই পারে মনসুনের কারণে।
হেমকুন্ড সাহিবাতে পৌঁছবার জন্য অতি সুন্দর সড়ক পথ আছে।
জোশীমাঠের জন্য হারিদ্বার ও দেরাদুন দুই শহরেরই নিজেস্ব রাষ্ট্রীয় পরিবহন সুন্দর ব্যবস্থা আছে।
যেগুলি জোশীমাঠের উদ্যেশে সকালে খুব তাড়াতাড়ি রওনা দিয়ে 9--11ঘন্টা সময় নিয়ে পৌঁছে যায়।
জোশীমাঠ থেকে টেক্সিও পাওয়া যায় যেগুলি গোবিন্দ ঘাট পর্যন্ত যায়।


গুরুদ্বার হেমকুন্ড সাহিবা::--সমুদ্র তল থেকে উচ্চতা 4,632 মিটার বা 15,197 ফুট। গারোয়সল হিমেলের চামলি জেলায় অবস্থিত বিশ্বের সর্বোচ্চ স্থানে গুরুদ্বার। এখানকার ভেলি অফ ফ্লাওয়ারে দেখতে পাওয়া যায় নানান জাতির নানা বর্ণের খুব সুন্দর সব ফুল। ব্রহ্ম কমল, নীল পপি, কোবরা লিলি, অ্যানিমোন, জেরানিয়াম, মার্শ গাঁদা ফুল , নানান রঙের গোলাপ,Prinula গোলাপ, নানা প্রকারের ঔষধি গাছ,বেশ কিছু ঝর্ণা ও নানান প্রকারের হিংস্র জন্তু যেমন হিমালয়ের কালো ভাল্লুক, ব্রাউন বিয়ার,শ্নো লেপার্ড, লাল ফক্স, হিমালযান থর, মস্ক হরিণ, মোনাল, সুউচ্চ মাউন্টেন, প্রচন্ড বেগ বাহি নদী। 

এই ফ্লায়ার ভেলি 87.5 স্কয়ার কিলোমিটার এবং মোটামুটি 8 কি মি লম্বা এবং 2 কি মি চওড়া।
সম্পুর্ন ভেলি নানা প্রকার জীব বৈচিত্র্য পূর্ন। এটি বৃহত্তর হিমালয় ও জানস্কার রেঞ্জের ট্রানজিসন জোনের মধ্যে অবস্থিত।এই ফ্লাওয়ার ভেলি র সৌন্দর্য উপভোগ করবার উপযুক্ত সময় জুলাই আগস্টে
এই সময়ে প্রায় 300 প্রজাতির বন্য ফুল দেখতে পাওয়া যায়।

প্রত্যেক জায়গার জন্য এন্ট্রিফি লাগে।
এছাড়া ঘোড়া, খচ্চর, ডান্ডি, খণ্ডির জন্য প্রত্যেক জায়গাতে আলাদা আলাদা রেট।

========================

78>||ভ্রমন ও ট্রেকিং-----
ফ্লাওয়ার ভেলি ও হেমকুন্ড সাহিবা।
                      <---|| আদ্যনাথ ||--->

"ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার" এতে ট্রেকিং। অবিস্মরণীয় সেই ট্রেকিং রুট।

12 th JULY  SUNDAY TO 21st JULY 1970 TUESDAY.

এবার আমাদের ট্রাকিং রুট:-----
ফ্লাওয়ার ভেলি ও হেমকুন্ড সাহিবা। মোট 10 দিনের টুর পোগ্রাম।
হাওড়া থেকে হারিদ্বার আপ এবং ডাউন 2+ 2=4 চার দিন।
হারিদ্বার থেকে ফ্লাওয়ার ভেলি ও হেমকুন্ড
যাতায়াতে মোট 6 ছয় দিন। অতএব 4 + 6 = 10 দশ দিন।( 1970)

১২ জুলাই ১৯৭০ হাওড়া থেকে রওনা দিয়ে  দুই রাত্রি ও এক দিনে পৌঁছে গিয়েছিলাম হারিদ্বার। 

দুইরাত্রি ও একদিন ট্রেনেই কাটলো 

(Day 3rd )---- তৃতীয় দিন,----- 
ষ্টেশান থেকে একটা গাড়ি ভাড়া করে  পৌঁছে গিয়েছিলাম হারিদ্বার থেকে গোবিন্দ ঘাট,
290 কিমি 12 ঘন্টার পথ।

আমদের গাড়ি শ্রীনগর, রুদ্রপ্রয়াগ,চামলি,এবং জোশীমঠ হয়ে গোবিন্দ ঘাট পৌঁছলো। এই পথটি পাহাড়ি নদী আলোকানন্দার  ধার দিয়ে । যেটি পরে গঙ্গা নামে প্রবাহিত হয়েছে। আমাদের গাড়ি পঞ্চপ্রয়াগ সঙ্গম হয়েই চলেছিল। এই পঞ্চপ্রয়াগ  সঙ্গম হল দেবপ্রয়াগ, রুদ্রপ্রয়াগ,কর্নপ্রয়াগ,নন্দ প্রয়াগ, এবং বিষ্ণু প্রয়াগ। এখানে দেবপ্রয়াগে শহরে ভাগীরথী ও আলোকানন্দার সঙ্গম স্থল । আমরা সন্ধ্যার পরেই পৌঁছেছিলাম গোবিন্দ ঘটে। এই গোবিন্দ ঘাটের একটা হোটেলে ব্যবস্থা করে রাট কাটালাম। 

রাত্রি বাস গোবিন্দ ঘটে।


(Day 4th)==চতুর্থ দিন,-----

সকালেই আমরা বেরিয়ে পড়লাম ট্রেকিং করে পৌঁছলাম ★পুলনা তে।4 কিমি ট্রেকিং পথ। সকালে উঠে হাতমুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে একটি জিপ ভাড়া করে বেরিয়ে পড়লাম গোবন্দ ঘাট থেকে পুলনার উদ্দেশে।আমরা কিন্তু পুলনা পৌঁছে শুরু করেছিলাম ট্রেকিং ঘঙ্গারিয়া গ্রামের উদ্দেশ্যে। 9কিমি ট্রেকিং এর পথ।নদীর ধার বরাবর পথ, ভীষণ সুন্দর সম্পুর্ন পথ। পাহাড়, ঝর্ণা, 3010 মিটার উচ্চতায় এমন সুন্দর পরিবেশ ও সৌন্দর্য মনভরে আনন্দ উপভোগ করেও মন ভরেনা এমন সুন্দর পরিবেশ কল্পনার অতীত । মনে মনে যা ভাবনা নিয়ে এসেছিলাম তার থেকে অনেক অনেক বেশি পেলাম,এই পাওয়া সারা জীবন মনে থাকবে।

ঘঙ্গারিয়ায় রাত কাটালাম।


(Day 5th)==পঞ্চম দিন,----


আজ সম্পুর্ন ট্রেকিং করে পৌঁছলাম বহু দিনের স্বপ্ন পূরণের জায়গা " ভেলি অফ  ফ্লাওয়ারে"
ঘঙ্গারিয়া থেকে যাওয়া ও ফিরে আসা মোট আট (8)কিলোমিটার পথ।
আমরা চড়াই পথে কিছু দূর পর্যন্ত  গিয়েই পৌঁছে গেলাম সেই জংশনে যেখান থেকে দুটি রাস্থা ভাগ হয়ে গেছে। একটি গেছে ফ্লাওয়ার ভেলিতে আর অন্যটি চলে গেছে হেমকুন্ড সাহিবার দিকে।
আমরা প্রথমে ফ্লাওয়ার ভেলির পথে উঠে গেলাম। ফরেস্ট চেকপোস্ট পারহয়ে সরু পথ ধরে এগিয়ে চললাম। যতই এগোয় ততই ঘন জঙ্গল ও নানান ফুলের সৌন্দর্য মন ভুলিয়ে দেয়।
একটি নদীর ব্রিজ পর হয়ে এগিয়েই দেখলাম অপূর্ব এক ঝর্ণা। এভাবেই সম্পুর্ন ডেলি দেখে চোখ মন উভয়ই সার্থক করেছিলাম। সত্যি ফ্লাওয়ার ভ্যেলি না দেখলে ফুলরর সম্পূর্ণ সৌন্দর্য ই দেখা বাকি থেকে যায়।  এমন অপূর্ব মনমোহিনী  সৌন্দর্যের জন্যই ফ্লাওয়ার ভেলি ইউনেস্কো দ্বারা বিশ্বের দরবারে  শ্রেষ্ঠ সন্মান লাভ করেছে। এখানথেকে ফিরেযেতে মন চায়না। তবুও ফিরতে তো হবেই সেকারণে  এবার আমরা ভেলি থেকে ফিরে গেলাম ঘঙ্গারিয়ায়।

ঘঙ্গারিয়ায় রাত কাটিয়ে সকালে বেরিয়ে পড়লাম।


(Day 6th)==ষষ্ঠ দিন,----

আজ আমাদের ট্রেকিং রুট ঘঙ্গারিয়া থেকে হেমকুন্ড সাহিবা  যাওয়া ও ফিরে আসা মাত্র আট +আট মোট (8 +8)=16 কিলোমিটার ট্রেকিং পথ। হেমকুন্ড সাহিবা বিশ্বের সর্বোচ্চ গুরু দ্বারা। সমুদ্র তল থেকে 4632 মিটার বা 15,200 ফুট উচ্চতা। প্রায় 4--5 ঘন্টার পথ। অপূর্ব সুন্দর বর্ণনাতীত সুন্দর  এই হেমকুন্ড সাহিবা। 

ধন্য শিখ গুরু এমন সুন্দর জায়গাটিতে গুরুদ্বারা স্থাপনা করার জন্য।
চতুরদিগে পাহাড়ে ঘেরা সুন্দর সচ্ছ জলের হ্রদ, গ্লেসিয়ারের জলে পুষ্ট । অপূর্ব  তার শোভা।
এই হ্রদে স্নান করার ব্যবস্থা আছে। স্ত্রী পুরুষের আলাদা ঘাট।
স্ত্রী দের জন্য গুরুদ্বারের নীচের দিকে তৈরি করা আছে সুন্দর ঘাট।
আমরা লঙ্গর খানায়  খেয়ে একটা রুম নিয়ে রাত্রে এখানেই থাকবার ব্যবস্থা করে মনপ্রাণ ভরে চারিদিকের শোভা দেখে চোখ স্বার্থক করলাম।


(Day 7th)==সপ্তম দিন,---


এবার আমাদের ফেরার পালা ।
হেমকুন্ড সাহিবার সকালের সানরাইজ ও তার মনভোলান প্রাকৃতিক  দৃশ্য মনপ্রাণ ভরে উপভোগ করে সকালের খাবার খেয়ে রওনা দিলাম। এখানকার সৌন্দর্য ভাষার প্রকাশ করা অসম্ভব। 
হেমকুন্ড সাহিবা থেকে ঘঙ্গারিয়া হয়ে গোবিন্দ ঘাটে ফিরে আসলাম ।
এখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে গিয়ে ছিলাম বদ্রিনাথ মন্দির দর্শন করাতে মানা গ্রামে।
এই মানা গ্রাম ভারত ও চীনের বর্ডারে।
সেখান থেকে ফিরে এসে গোবিন্দ ঘটে রাত্রি বাস।


(Day 8th)==অষ্টম দিন

গোবিন্দ ঘাট থেকে গাড়ি ভাড়া করে হারিদ্বার পৌঁছে গেলাম বিকেলের দিকে।
রাত্রে ট্রেন ধরলাম হাওড়ার জন্য।
     <--আদ্যনাথ রায় চৌধুরী-->
======================================================