Thursday, May 23, 2019

32>আলেক্সান্দ্রিয়া=Bulaq Press/Amiri Press


6th April 2019::--
সকালে গেলাম আলেকজান্দ্রিয়া কায়রো থেকে 230 কিমি দূরে, ভূমধ্যসাগরের দক্ষিণ উপকূলে।
এটি মিশরের পুরোনো একটি শহর।
খুব সুন্দর শহরটি সাজানো গোছানো।
গ্রীকরাজ আলেকজান্ডার 301 খ্রিস্টপূর্বে তৈরি করেছিলেন শহরটি।
দেখানে আছে রোমানদের সমাধিভূমি
ক্যাটাকম্ব কোম ( মাটির তলায় তিন তলার চার্চ)। চার্চের সামনেই 
সারকেফেগাস- কম-এল-সোকাফা
( Sarcofagaes-Kom-El-Shouqafa)
যেটি চতুর্থ শতকে নির্মিত।

পম্পেই পিলার (Pompei Pillar)
কম-এল-ডেক্কা সাইট ( Kom-El-Dekka site) দেখলাম।
তারপরে  হোটেলে নানান প্রমার সী-ফুড
খেলাম।( শামুক, ঝিনুক, অক্টোপাস, আরও নানান সব গুলোর নামও ভালোকরে জানানাই।

ভূমধ্যসাগরের উপমূলে নানান দোকান দেখতে দেখতে চা খেলাম।
সমুদ্র প্রান্তে ক্যাটবে সিটাবেল দুর্গ দেখলাম।
তারপরে গেলাম পৃথিবী বিখ্যাত 
বিবলিওথিকা লাইব্রেরীতে
 ( আলেকজান্দ্রিয়া)।
এখানে আনুমানিক দশ লক্ষ বই আছে।
এক বা দুই দিনে সমগ্র লাইব্রেরী ঘুরে দেখা সম্ভম নয়।


এতো কিছু দেখার পরে যে দেখা গুলি না দেখেও
গাইডের মুখে শুনেই স্তম্ভিত রোমাঞ্চিত হয়ে ছিলাম সেই গুলির একটু কথা লিখছি এবার---




C>আলেক্সান্দ্রিয়া==Bulaq Press/Amiri Pres +
আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর::----
                               <---©-আদ্যনাথ--->

( সামান্য  কিছু লিখছি কিছুটা
গাইডের কথায় কিছু দেখে শুনে  )

আলেক্সান্দ্রিয়া  হল মিশরের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং এই শহরেই মিশরের বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর অবস্থিত। আলেক্সান্দ্রিয়া উত্তর-পশ্চিম মিশরে ভূমধ্যসাগরের উপরে এবং নিচে প্রায় ৩২ কিলোমিটার (২০ মাইল) পর্যন্ত বিস্তৃত। এই শহরের মিশরের বিখ্যাত গ্রন্থাগার বিবলিওথেকা আলেক্সান্দ্রিয়া অবস্থিত। এটি শিল্প ও বাণিজ্য কেন্দ্র, কারণ এর সাথে সুয়েজহয়ে আসা প্রাকৃতিক গ্যাস এবং তেলেরপাইপলাইন রয়েছে। 
এই শহরটি গভর্ণর শাসিত এবং এ ধরনের শহরকে মিশরে মুহাফাজা বলা হয়।
এছাড়াও এখানে আছে অতি সুন্দর স্টেনলি সেতু,
মন্টাজা প্রাসাদ, কর্নিশ,  এল-মুরসি আবুল আব্বাস মসজিদ, কাইটবে সাইটাডেল
মন্তাজা প্রাসাদ

প্রাচীনকালে এই শহরটি বাতিঘর (প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি) এবং গ্রন্থাগারের(প্রাচীন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গ্রন্থাগার) জন্য বিখ্যাত ছিল।

সম্প্রতি আলেক্সান্দ্রিয়ার সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় সামুদ্রিক নৃবিজ্ঞান এর উপর ভিত্তি করে পরিচালিত গবেষণায় (যা ১৯৯৪ সালে শুরু হয়েছিল) আলেক্সান্ডারের আগমনের পূর্বে যখন এই শহরের নাম ছিল রাকোটিস সেই সময় এবং টলেমীয় রাজত্বের সময়ের আলেক্সিন্দ্রিয়া সম্বন্ধে নতুন অনেক তথ্যই পাওয়া যাচ্ছে।

আলেক্সান্দ্রিয়ার নামকরণ করা হয়েছে এর প্রতিষ্ঠাতা আলেক্সান্ডার দি গ্রেটের নামানুসারে। আলেক্সান্ডারের মৃত্যুর পর তার অন্যতম সেনাপতি টলেমী আলেক্সান্ডারের সাম্রাজ্যের এই অংশের অধিকারী হন। এটি ছিল মিশরের টলেমীয় শাসকদের রাজধানী এবং হেলেনীয়পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম শহর যা আয়তন এবং সম্পদে একমাত্র রোমের পরেই আলেক্সান্দ্রিয়ার স্থান
 ছিল। 
মিশরের মধ্যযুগীয় মুসলিম শাসকগণ যখন কায়রো শহরের গোড়াপত্তন করেন তখনই আলেক্সান্দ্রিয়ার পতন ত্বরান্বিত হয় এবং উসমানীয় রাজত্বের সময় এটি নিছক একটি ছোট জেলেপাড়া হিসেবে পরিগণিত হয়।

আলেক্সান্ডার দি গ্রেট আলেক্সান্দ্রিয়া নগরী প্রতিষ্ঠা করেন আনুমানিক ৩৩৪ খৃস্টপূর্বাব্দে। সঠিক তারিখ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। প্রতিষ্ঠার সময় এর প্রকৃত নাম ছিল Aleksándreia; ।
এই নগরী তৈরিতে আলেক্সান্ডারের প্রধান স্থপতি হিসেবে কাজ করেছেন রোড্‌সেরডাইনোক্রেট্‌স।

আলেকজান্দ্রিয়ার প্রাচীন গ্রন্থাগার

প্রাচীন বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাগার দ্য গ্রেট লাইব্রেরি অফ আলেকজান্দ্রিয়া, ও. ফন করফেন, ঊনবিংশ শতাব্দী

আলেকজান্দ্রিয়ার প্রাচীন গ্রন্থাগার বা আলেকজান্দ্রিয়ার রাজ-গ্রন্থাগার ছিল প্রাচীন বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাগারগুলির একটি।
এটি মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া শহরে অবস্থিত ছিল। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে মিশরের টলেমিক রাজবংশের পৃষ্ঠপোষকতায় একটি প্রধান শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে এই গ্রন্থাগারটি গড়ে উঠেছিল। ৩০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোমানদের মিশর আক্রমণের সময় পর্যন্ত এই গ্রন্থাগার কার্যকরী ছিল। গ্রন্থ সংগ্রহের পাশাপাশি এই গ্রন্থাগারে বক্তৃতাকক্ষ, সভাকক্ষ ও বাগানও ছিল। এই গ্রন্থাগার প্রকৃতপক্ষে ছিল মিউজিয়াম নামে এক বৃহত্তর গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অংশ। এখানে প্রাচীন বিশ্বের বহু বিশিষ্ট দার্শনিক পড়াশোনা করেছিলেন।

সম্ভবত টলেমি প্রথম সোটারের (৩২৩-২৮৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) অথবা তাঁর পুত্র টলেমি দ্বিতীয় ফিলাডেলফাসের (২৮৩-২৪৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) রাজত্বকালে এই গ্রন্থাগার পরিকল্পিত ও স্থাপিত হয়েছিল। এই গ্রন্থাগার ছিল মিশরের ঐশ্বর্য ও ক্ষমতার প্রতীক। সারা পৃথিবী থেকে বই ধার করে তার অনুলিপি তৈরি করা ও সেই বই গ্রন্থাগারে নিয়ে আসার জন্য এই গ্রন্থাগারে কর্মচারী নিয়োগ করা হত। অধিকাংশ বইই রাখা হয় প্যাপিরাস স্ক্রোলের আকারে। তবে ঠিক কতগুলি স্ক্রোল এই গ্রন্থাগারে রক্ষিত ছিল তা জানা যায় না।

এই গ্রন্থাগার পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল। যার ফলে বহু স্ক্রোল ও বই চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়। আলেকজান্দ্রিয়ার প্রাচীন গ্রন্থাগারের অগ্নিকাণ্ড তাই সাংস্কৃতিক জ্ঞান ধ্বংসের প্রতীক। প্রাচীন গ্রন্থগুলিতে এই অগ্নিকাণ্ডের সময় নিয়ে বিতর্ক দেখা যায়। কে এই অগ্নিসংযোগ ঘটিয়েছিলেন তা নিয়েও মতান্তর রয়েছে। 
তবে নানান সময় সংঘটিত পৃথক পৃথক অগ্নিকাণ্ডে আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগার সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয় ।

মূল গ্রন্থাগারটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ার পর, গবেষকরা আলেকজান্দ্রিয়া শহরেরই অন্য প্রান্তে সেরাপিয়াম নামে এক মন্দিরে একটি ছোটো গ্রন্থাগার ব্যবহার করতেন। কনস্ট্যান্টিনোপলের সক্রেটিসের মতে কপটিক পোপ থেওপিলাস ৩৯১ খ্রিস্টাব্দে এই মন্দিরটিও ধ্বংস করে দেন।
তবে এই গ্রন্থাগারের বিবরণ ইতিহাস ও কিংবদন্তির মিশ্রণই রয়ে গিয়েছে।

=========================..

Bulaq Press/Amiri Press

বলাক প্রেস / আমিরী প্রেস

অতি সাধারণ কাঠের লেটার যেগুলি
ব্যবহার হতো বলাক প্রেসে 1820তে।

আমিরী প্রেস/আমিরীয়া প্রেস কেই
বলাক প্রেস বলা হত।

যেহেতু এই প্রেস টি বলাক নামক স্থানে ছিলো তাই এমন নাম।
এটি কায়রোর বিশেষ প্রভাব শালী,জরুরি
এবং মূল্যবান তুর্কি ভাষার প্রেস।
============....=======.....===

আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর::----

সমুদ্রবন্দর থেকে বন্দরে প্রবেশ বা নির্গমণের ক্ষেত্রে 
দিক নির্দেশনা প্রদায়ী একটি বাতি ঘর।  
এই বাতিঘরটিকে প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের একটি হিসাবে বিবেচনা করা হয়। খ্রিষ্টপূর্ব ৩য় শতাব্দীতে মিশরের সম্রাট প্রথম টলেমি ফ্যারোসে দ্বীপে এই বাতিঘর তৈরি করিয়েছিলেন। এই বাতিঘরটিই আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর নামে খ্যাত। উল্লেখ্য প্রাচীন যুগে সমুদ্রপথে জাহাজ ঘনকুয়াশা কিংবা রাতের অন্ধকারে নাবিকরা পথ হারিয়ে বন্দরে পোঁছুতে পারতো না। এই অসুবিধার জন্য নাবিক এবং ব্যবসায়ীরা আতঙ্কগ্রস্ত থাকতো। এই অসুবিধা দূর করার জন্য ২৭০ খ্রিষ্টাব্দে ভূমধ্যসাগর উপকূলে আলেকজান্দ্রিয়া নামক স্থানে এই বাতিঘর স্থাপন করা হয়।

এই বাতিঘরটির মূল ভিত্তিভূমির আয়তন ছিল ১১০ বর্গফুট। এর বাইরে ছিল দেওয়াল উচ্চতা ছিল ৪৫০ ফুট। মূল স্তম্ভটিকে ঘিরে পেঁচানো সিঁড়ি ছিল। কোনো কোনো মতে, এই সিঁড়ির বাইরে দেয়াল ছিল। এ সিঁড়ি বেয়েই উপরে ওঠে ৪৫০ ফুট উঁচুতে রক্ষিত একটি বেদিতে বিশাল অগ্নিকুণ্ড জ্বালিয়ে দেওয়া হতো। রাত্রিবেলায় খোলা সমুদ্র প্রায় ৫০ মাইল দূর থেকে এই অগ্নিকুণ্ড দেখা যেতো।

১২০০ শতকে এক প্রচণ্ড ভূমিকম্পে বাতিঘরটি ভেঙে যায়। এখন এই বাতিঘর সম্পর্কে কিছু পুরানো লেখকদের রচনা থেকে জানা যায়।
( সংগ্রহ )
                                                                            <---©-আদ্যনাথ--->

==================


31>Catacombs of Kom el Shoqafa




P>Catacombs of Kom el Shoqafa
                          <---©-আদ্যনাথ--->

কম এল শোকাফার ধ্বংসাবশেষ:

কোম এল সোকোয়াফারের সমাধি হোল
আলেকজান্দ্রিয়ার সবচেয়ে অত্যাশ্চর্য স্মৃতিস্তম্ভ।
মধ্য যুগের সাতটি আশ্চর্যের মধ্যে একটি।
এটি একটি ভূগর্ভের নিচে বিশাল সবাধার।

কোম এল সোকোয়াফারের সমাধি হোল
আলেকজান্দ্রিয়ার সবচেয়ে অত্যাশ্চর্য স্মৃতিস্তম্ভ।
মধ্য যুগের সাতটি আশ্চর্যের মধ্যে একটি।
এটি একটি ভূগর্ভের নিচে বিশাল সবাধার।

এবং এটি  মিশরের  সেরা সংরক্ষিত ধ্বংসাবশেষ।
এই সমাধি শহরের পূর্বপাড়ে অতীত
মিশরের প্রথম শতাব্দীর AD এর নিদর্শন।

এই সবাধর্ টি আবিষ্কারের পৌরাণিক
অনেক গল্প কথা আছে।
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে একটি গাধা পাথর বোঝাই  একটি টাঙা গাড়ি টেনে নিয়ে যাচ্ছিল, হটাৎ গাধাটি একটি গর্তে পরে যায়।সেই গর্ত টি একটি মাটির গর্ভে কবরের সুরঙ্গ।
আরও একটি প্রচলিত কাহিনি আছে,
মসিউর এস-সাঈদ আলী গিবিয়া নামে এক মানুষ যিনি এক দিন এলাকার মিউজিয়ামের     অধিকারীকে  জানায়  যে সে মাটির নিচে একটি কবরের সন্ধান পেয়েছেন এটি একটি ভূগর্ভস্থ কবর।
প্রথমে মিউজিয়ামের অধিকারী গণ এহেন
খবরকে উপেক্ষা করেন এবং সন্দেহজনক বলে মনে করেন।
কিন্তু অচিরেই তাদের  নির্বুদ্ধিতার জন্য নিজেরাই দুঃখ প্রকাশ করেন।
 প্রকৃতপক্ষে একটি তাদের জীবনকালের আবিষ্কার ছিল।

এখন কথা হল এই আবিষ্কারের সুনাম কে পাবে ওই গাধা নাকি মসিউর এস-সাঈদ আলী গিবিয়া?
সে যেই এই আবিষ্কারের সুনাম পাক
আমাদের উদ্দেশ্য কেবল এই
কম এল শোকাফা দেখা ও এর সমন্ধে কিছু
অজানা তথ্য জানা।
কম এল শোকাফার ক্যাটাকোমব এক
বৃহত্তম সমাধি যেটি গ্রীক-রোমান যুগের অনুরূপ যেটি আবিষ্কৃত হোয়েছে। প্রাচীনকালের একটি বিশেষ আকর্ষণীয় শহর
আলেকজান্দ্রিয়াতে।
এটি ভূগর্ভে লুকন শতাব্দীর জন্য কবর টানেল ছিলো। এইটি বিভিন্ন প্রাচীন শিল্প ও সংস্কৃতির একটি মিশ্রন।
কবরটির প্রবেশ দ্বার গড (God) দ্বারা সুরক্ষিত থাকতো।

( Alexander the Great. 331 খ্রিস্টপূর্বাব্দে প্রতিষ্ঠিত,করেছিলেন আলেকজান্দ্রিয়া
সম্ভবত সবচেয়ে বিখ্যাত ঐতিহাসিক যুদ্ধের পরে আলেকজান্দ্রিয়া তার নাম বাছাই করেছিল ইতিহাস যার সাক্ষী হয়েছে,
  আলেকজান্দ্রিয়া শহর হিসাবে একটি বিশিষ্ট
 শক্তি, সংস্কৃতি, এবং জ্ঞান কেন্দ্র হয়ে ওঠে )


কম এল শোকাফার ক্যাটাকোমব কার্য্য কর
ছিলো দ্বিতীয় শতাব্দীর কাছাকাছি সময়ে। এমন অক্ষত  সাক্ষী থাকার নির্দশন খুব বেশি নেই যা  তৎ কালীন মিসরীয়,গ্রিক,রোমান  এই তিন সভ্যতার মিশ্রণের নিদর্শন।
এই কবরটি সম্পুর্ন রূপে একটি আদর্শ
কবর। আলেকজান্দ্রিয়া এহেন স্থাপত্যের
জন্য নিজেদের গর্ভ প্রকাশ করতেই পারে।

কম এল শোকাফার নামটি প্রাচীন গ্রিক থেকে উদ্ভূত হয়,অনুবাদক "শাডোদের ঢাল"
এলাকাটি ছিন্নভিন্ন মৃৎশিল্পের পাইলস ধারণ করতে ব্যবহৃত হয়েছিল বা সাধারণত এখানে যারা সমাধি পরিদর্শন করতেন তাদের  দ্বারা আনা ওয়াইন পান বা খাবার খাবার জন্য ব্যবহৃত হত।
এটি, মিশরীয়  রোমান এবং গ্রিক সংস্কৃতির শৈলীতে নির্মিত।
কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ করে যে এটি বোধ হয় একটি পরিবারের কবরের জন্য ব্যবহৃত হত।
কিন্তু পরে একটি বড় কবরস্থান হিসাবে বর্ধিত করা হয়েছিল, কারণ গুলি অজানা।
অবশ্যই, শুধু যে আলেকজান্দ্রিয়া তে ই
এহেন কবর নির্মিত হয়েছিল তাকিন্তু নয়।

  তাই যে কম এল শোকাফা একমাত্র ধ্বংসাবশেষ নয়।
 অনেক বেশি কবরস্থান নেকোপোলিসের অংশ ছিল,তথাকথিত যাকে বলা হয় মৃতের শহর,
সেগুলি ছিলো শহরের পশ্চিম  দিকে।

কম এল শোকাফার একটি ফানেলের আকৃতি
বিশিষ্ঠ 18ফুট বিস্তারিত  ভূগর্ভের নিচে
সবাধর।
শবদেহ উপর থেকে নিচে রোপ ও কপিকলের
( পুলি) র সাহায্যে নামানো হত বা ওঠানো হত।
এইটি বিভিন্ন বয়সের আকর্ষণীয় মিশ্রণ  উৎসর্গের অঙ্গীকার ,মিসরীয় ও রোমানিয় মৃতদের সাথে।

 ভাস্কর্যশিল্পঅলংকৃত শিলালিপিসমন্বিত প্রস্তর শবাধার।  এর উপরের অংশে বিশেষ কিছু নাই।কিন্তু এখান দিয়েই ভিতরে প্রবেশের পথ।
মাঝের অংশটি গ্রিক টেম্পেলের অনুরূপ
 এবং এখানে কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়।
যেখান দিয়ে ভুগর্ভস্থ সমাধিক্ষে ত্রের শেষ প্রান্তে পৌঁছবার ধাব গুলি এবং প্রতি দুটি পিলারের মাঝে সমাধির "প্রোনাস " আছে।


 20 শতকের শুরুতে মাটি খুঁড়ে তোলা "প্রোনাসের"মাঝে র প্রকোষ্ঠের মনো মুগ্ধকর কারু শিল্প একই সময়ে সঙ্ঘটন
স্ত্রী ও পুরুষের জটিল মূর্তির চিত্র অঙ্কন প্রকট আসল ভাড়াটেদের সমাধি চিহ্নিত করে।
যদিও শরীর গুলির চিত্রায়ন ও বক্রতা  ঠিক যেন মিশরীয়দের অনুরূপ, পুরুষ মানুষ গুলির মাথা গ্রিকের  অনুরূপ ।
ঠিক তেমনি ভাবে স্ত্রী লোকের মাথা নিচে করা
রোমানদের মতন।

আর একটি জটিল সমাধান এই মাঝের অংশে দুটি সাপ যার কল্পনানুসারে গ্রীকের
নির্দেশ করে।যাকে বলা হয় "Agathodaimon'" অথবা শুভ আত্মা।
সে যাই হোক এগুলো খুবই হৃদয় আনন্দ দায়ক। যে সর্প যুগল সুশোভিত  ঠিক যেমটা দেখাযায় রোমান ও মিশরীয়
সংস্কৃতিতে।
আর একটি বিস্ময়কর স্তম্ভিত করার মতন
চিত্রাঙ্কন তা হোল এই সাপেদের মাথার অপরে
অঙ্কিত জেলি - মাছ ( Medusa ). যেটির নির্দেশ করে গ্রীক পুরাণের এক কুখ্যাত
নিদর্শন , যার দ্বারা বুজতে পারাজয় যে ওই
"Medusa" শবাধারকে  রক্ষ্যা করে চলেছে
অনধিকার প্রবেশকারী ও বহিরাগত যে কোন
 অনুপ্রবেশকারীদের থেকে।
শুরুতে মাঝের অংশই কেবলমাত্র একটি
" U"- এর আকারে দালান।কিন্তু এইস্থানে অধিক মৃত ব্যক্তির সমাধি হবার কারনে,
কিছু জটিল ব্যবস্থার মাধ্যমে রুপান্তরিত করে
স্থানান্তরিত করা হয় আরো কক্ষ এবং আরো হল গঠিত করে।
মাঝের অংশের স্তরের তলদেশে ক্যাপসুল
সংযোজন করা হয়ে ছিলো।
প্রাচীন বিশ্বের যেগুলি হারিয়ে গেছে।

দুর্ভাগ্য বসত এই অংশটি জলে ডুবে গিয়েছে,
ফলে দর্শকেরা জানতেও পারেনা যে এখানে কি ছিল।

ঐতিহাসিক গণ মনে করেন যে এগুলি
বিত্তবান মানুষ তাদের বংশের সমাধি হিসাবে ব্যবহার করতো।
মনে করা হয় যে এই ফেমিলি গুলি প্রাচীন পৌত্তলিক ধর্মালম্বি।
 অতি শিগ্রই  এই সমাধি গুলি একটি বরো সমাধি সাইট হয়ে ওঠে।
এই  কম এল শোকাফার ধ্বংসাবশেষ
প্রাচীন মিশরের পৈত্তলিক ধর্মীয় বিশ্বাসের
শেষ প্রধান কাঠামোর একটি
উপরুন্ত এগুলি, সরাসরি প্রভাব লক্ষিত হয়
এখানে উপস্থিত অন্যান্য অনেক সংস্কৃতি অসাধারণ স্থাপত্যে ।
এগুলোকে সমাধি বলার এক মাত্র কারণ
একই প্রকার সমাধি ছিলো খ্রীষ্ট ধর্মালোম্বি
রোমানদের।
সেখানে  তিন স্তর বিশিষ্ঠ কবর ছিল। মিশরীয়,গ্রিক,এবং রোমান স্থাপত্যে সহ  বিভিন্ন প্রকার স্থাপত্য ছিল।
স্তর গুলি শিলা মধ্যে উত্কীর্ণ এবং
একটি সিঁড়ি এবং একটি রোটুন্ডা।
এখানে আছে একটি পার্শ্বকক্ষ,
একটি কবর কক্ষ,একটি চাঁদনি।
কবর কক্ষ্যের মধ্যে তিনটি ভাস্কর্যশিল্পঅলংকৃত শিলালিপিসমন্বিত
প্রস্তর শবাধার।
সমাধি কক্ষ্য গুলি খুব ভাল সংরক্ষিত এবং

অনুরূপ ভাবেই থাকত যেভাবে তারা অনেক শতাব্দী আগে করে রেখে ছিল।
কিন্তু নিচের স্তর গুলি এখনো উপসাগরীয় জলের মধ্যে ডুবে আছে।
সেখানে 99 ধাপ সহ একটি সর্পিল সিঁড়ি আছে যেটি একটি খাদের  মধ্যে গেছে।
এই খাদ ব্যাবহার হোত মৃত দেহ উপর
থেকে নিচে রোপের সাহায্যে অখ্যাত ভাবে নামানোর জন্য,কোন প্রকার ক্ষয় ক্ষতি ছাড়া।
সিঁড়ির পরেই আছে চাঁদনি।
এই জায়গাটি দর্শক দের উপর থেকে নিচে সিঁড়ি দিয়ে আসার পরে বিশ্রামের  জন্য।

রোটুন্ডা টি দ্বিতীয় তলে একটি গোলাকার বিশালাকার হল বিস্তৃত দেওয়াল উপরের
ডোম পর্যন্ত।
এই ডোম টি পিলার দিয়ে সাপোর্ট দেওয়া।
এই খাদটি প্রথম তালা থেকেই দেখাযায়।
পাঁচটি পাথরের হাত পাওয়া গেছে রোটুন্ডার
নিচে, যেগুলো জাদুঘরে রাখা আছে।
ইউ ( U )আকৃতির ট্রীক্লিনিয়াম অথবা
ভোজ ঘরে তিনটি বেঞ্চ আছে যেগুলি
পিলার দিয়ে সাপোর্ট দেওয়া।
মোজাইক করা ফ্লোর সিলিং টি শেলের
মতন অলঙ্কৃত।
এই স্থান টি অতিথিদের বিশ্রাম ও খাবার
খাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট।

তথাপি এমনটার কোন সন্দেহ নাই যে Kom el Shoqafa একটি বিশেষ সংরক্ষণ কেন্দ্র,
প্রাচীন মিশরের ধ্বংসাবশেষ নিদর্শনের,
 সমৃদ্ধ মিশ্রণ ছিলো যা সমৃদ্ধ করেছে তৎ কালের সংস্কৃতির।
তাই এটি একটি প্রাচীন সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধর উপযুক্ত নিদর্শন।
এটি অতি অতীতের এক নিদর্শন যা সত্যই
একটি মধ্য যুগের সাতটি বিস্ময়কর নিদর্শনের
একটি।
                                           <---©-আদ্যনাথ--->


===================



Tuesday, May 21, 2019

30>|| রোমান থিয়েটার আলেক্সান্দ্রিয়া ||


J>|| রোমান থিয়েটার আলেক্সান্দ্রিয়া ||
                         <---©-আদ্যনাথ--->


The Roman Amphitheatre
Alexandria
রোমান অ্যামি্পথিয়েটার আলেক্জান্দ্রি়া
Alexandria in Kom El Dekka
কম এল ডেক্কা।

আলেক্জান্দ্রি়ার রোমান অ্যামি্পথিয়েটার
একটি বিশেষ জনপ্রিয় স্মৃতিসৌধ।

এহেন অ্যামি্পথিয়েটার  বিভিন্ন দেশেই আছে
যেমন গ্রিসে,ইতালিতে, তুর্কি তে,তৈরি হয়েছিল
রোমানদের শাসন কালে।
রোমান টিয়েটারের অস্তিত্ব একনও আছে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে ।
কিন্তু আলেক্জান্দ্রি়ার রোমান অ্যামি্পথিয়েটার এক বিশেষ শৈলীতে গঠন
একমাত্র মিশরে।

The Meaning of the Word Kom EL Dekka
কম এল ডেক্কার অর্থ।
এটি আরবীয় ভাষায় যাকে বলাহয়
পাথরকুঁচি র পাহাড়। বা বেঞ্চ পাহাড়।
এই নামকরণ করেছেন বিখ্যাত ঐতিহাসিক
এল নিওয়ারি 20 শতকের শুরুতে।

19 শতকের শেষের দিকে এল নিওয়ারি
যখন মামুদিয়া কেনেল টি খনন করছিলেন তখন তিনি আবিষ্কার করেন
এই পাথর কুঁচির পাহাড়।

Discovering the Roman Amphitheatre

রোমান থিয়েটার বা আলেক্জান্দ্রি়ার  রোমান অ্যামি্পথিয়েটারের আবিষ্কার::-

1960 সালে শুধু মাত্র নিছক কাকতালীয়
ভাবে আবিষ্কৃত হয়েছিলো এই টিয়েটার ।
কম এল ডেক্কা অঞ্চলে গভর্মেন্ট এর কিছু
কনস্ট্রাশনের কাজের জন্য কাজের লোকরা কিছু জায়গার ধুলোর গাদা ও বালু
পরিষ্কার করতে গিয়ে তারা কিছু শক্ত পিলারের মতন মাটির নিচে প্রোথিত আছে
বলে মনে করেন।
তারপরেই  সেই স্থানে খনন কার্য্য শুরু হয়,
কম এল ডেক্কাতে।
এই খনন কার্য টি করে রোমান মিউজিয়াম ও
স্থানীয় পুলিশ ।
খনন কার্যের তত্ত্বাবধান করে ইউনিভার্সিটি অফ ওয়ার্সও। অতি শীঘ্রই
প্রকাশিত হয় মিশরের 20 শতকের বিশেষ গুরুত্ব পূর্ণ আবিষ্কার
আলেক্জান্দ্রি়ার রোমান অ্যামি্পথিয়েটার ।

এই থিয়েটার সপ্তম শতাব্দী পর্যন্ত সকল ছিলো।নানান অনুষ্ঠান, ড্রামা,মিজিক,
প্রভিতি অনুষ্ঠিত হতো।
এবং এই থিয়েটার রোমান, বাইজেন্টাইন,ও
প্রাথমিক ইসলামী যুগে সচল থাকার
বিভিন্ন প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এই দীর্ঘ কাল যাবৎ এই থিয়েটার  বিভিন্ন প্রকারের অনুষ্ঠান গুলি সু সম্পন্ন
করে চলে ছিলো।

 এটি একটি odeum হিসাবে ব্যবহৃত হতো
যেখানে বাদ্যযন্ত্র শো পরিবেশিত হত
রোমানদের সময়ে।
এই থিয়েটারে সকল উপাদান ছিল তার
নিখুঁত কর্মক্ষমতা নিমন্ত্রণকর্তা গম্বুজ যা
একনো এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে সেই
সেই অর্কেস্ট্রা অধ্যায় এক্ষুনি পরিবেশিত হতে চলেছে।
অন্য দিকে বাইজেন্টাইন কালে এটি ব্যবহৃত  হতো বিভিন্ন  সম্মেলন
কেন্দ্র হিসাবে।
যেমন জরুরি কোন  সভা যেমন জন সাধারনের সমাহারগুলি এবং
গভর্মেন্ট এর শীর্ষ-বৈঠক গুলি এখানেই অনুষ্ঠিত হতো।
 কিন্তু ইসলামিক সময়ে এটি অবহেলিত হোয়ে পরে।
ফলে ধীরে ধীরে এটি ভূগর্ভে বলি মাটি চাপা পড়ে মানুষের চকের আড়ালে
 চলে যায় ,যতদিন না পুনরায় নূতন ভাবে এই মহান  অবিশ্বাস্য ঐতিহাসিক সাইট
আবিষ্কৃত পর্যন্ত।
এই রোমান অ্যামি্পথিয়েটার
20 শতকের আলেকজান্দ্রিয়া শহরের ঐতিহাসিক স্থানগুলির মধ্যে একটি।

 Amphitheater এর কিছু বর্ণনা::-

 আমরা যেমন দেখেছি সেই টুকুই লিখবার চেষ্টা করছি।
আমরা যে স্টেডিয়ামে আজ দাড়িয়ে
ভীষণ এক আনন্দের অনুভূতি দোলে দুলছি
সেই অপূর্ব থিয়েটার টি চতুর্থ শতাব্দীতে নির্মিত হয়ছিল।
গ্রিক রোমান কালে যার  একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিল।
Amphitheaters বিশেষ ছাদ থিয়েটার ছিল।

সেখানে মিশরিয় রোমানদের রাজত্ব কালে, নিয়মিত নিমন্ত্রিত ও অনুষ্ঠিত হত
সঙ্গীত অনুষ্ঠান,কবি প্রতিযোগিতা, প্রভীতি
নানান অনুষ্ঠান।
এই থিয়েটারের বৈশিষ্ট্য ছিল এখানে একটি
একটি মার্বেলের দর্শক অধ্যায় ছিলো।
যেটি বর্ধমান উইংএর সমান।
এখানে  600 জন মাননীয় দর্শকদের হোস্ট করা হত।
এবং দর্শক আসন 33 মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত
অর্ধ গোলাকারে 13টি সারি আসন ছিলো।
সম্পুর্ন আসন গুলি ইউরোপিয়ান সদা মার্বেলের ।
সকলের উপরের সারিতে সবার উপরে
একটি বারান্দা যেটি গ্রানাইট পাথর দিয়ে তৈরি এবং কোটি পিলার যে পাথর গুলি
আসোয়ান মিশর থেকে আনা হয়ে ছিলো।
সেই পিলার গুলির কিছু এখনো অক্ষত অবস্থায় আছে।
আমরা দেখলাম যে সুন্দর ভাবে
13টি সারিতেই রোমান হরপে নম্বর অঙ্কিত করা আছে।
দর্শক আসনে আরও পাঁচটি ভাগ বা চেম্বার আছে সেকানে বিশেষ গণ্য মান্য
অথিদের জন্য সংরক্ষিত।
এই বিশেষ চেম্বারের ছাদ টি গ্রানাইড পাথর দিয়ে  এমন ভাবে তৈরী যাতে
দর্শকদের রুদ্রু বা বৃষ্টি না লাগে।
এছাড়াও এই আসন গুলিতে সাউন্ড বাক্স আলাদা করে থাকে যাতে করে দর্শক রা
ভালো করে শুনতে পারে।
কিন্তু দুর্ভাগ্যের কারণে এই ছাদ গুলি ভেঙ্গে গেছে ভূমি পাম্পের কারণে।
যে ভূমি কম্পটি হয়েছিলো আলেক্সজান্ড্রিয়াতে ষষ্ঠ শতাব্দী AD তে।
ফলে তখনকার দিনের অনেক কিছুই ধ্বংস হয়ে গেছে।
তখনকার বিখ্যাত আলেক্সজান্ড্রিয়ার লাইট হাউস টি ও ধ্বংস হয়ে গেছে।
এতো ক্ষয় ক্ষতির মধ্যেও থিয়েটার টির দেওয়ালের কোন ক্ষতি হয় নি।
কারণ এই দেওয়াল গুলি লাইম স্টোনের হলেও একটি দেওয়ালে পেছনে
আর একটি দেয়াল সাপোর্টে আছে। এমনটাই দ্বিতীয় ও চুতুর্থ শতাব্দীর
গঠন কার্যের  বিশেষত্ত্ব।
সম্পূর্ণ স্টেজ টি ইংরেজি " C " অক্ষরের ন্যায় তৈরী ,যাতে করে সকল দর্শক
ধিক ভাবে বসতে, দেখতে, ও শুনতে পারে।
পুরো থিয়েটার টির ঠিক মাঝখানে থাকতো অর্কেস্ট্রা যেখান সম্পূর্ণ মিউজিক
পরিবেশিত হতো।
এই অংশ টি দুটি বিশাল মার্বেল পাথরের স্তম্ভ দিয়ে সুরক্ষিত।
থিয়েটারের   সম্পূর্ণ মেঝেটি মোজাইক পাথর দিয়ে পালিশ করা সুন্দর ভাবে।
মোটের উপরে সম্পূর্ণ থিয়েটার টি অতি মনোরম ভাবে সু সজ্জিত।
প্রাচীন আলেক্সজান্ড্রিয়ার এক গর্ভকরার মতন শহর ও দর্শনীয় স্থান।
বর্তমানে আমেরিকান গবেষণা কেন্দ্র এই থিয়েটারের উত্তর দিগে যেকানে প্রচুর
পরিমানে ইটের টুকরো জমানো ছিল ঠিক সেই স্থানে একটি স্নানাগার খুঁজে পায়।
এবং একটি বাড়ির ধ্বংসাবশেষ পায় যেটি নাম দিয়েছে " পাখির ভিলা " , কারণ
এই বাড়িটির মেঝে এমন সুন্দর মোজাইক করা যে দেখে মনে হয় বিভিন্ন আকারের
নানান পাখি উড়ে চলেছে।
প্রতিটি পাখি আলাদা আলাদা জ্যামেতিক আকারে সজ্জিত।
সেই কারণে গবেষ গণ মনেকরেন বর্তমানের আবিষ্কারের মধ্যে এটি একটি
শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার।     
                                                                              <---©-আদ্যনাথ--->

============================================================

Thursday, May 16, 2019

29>|| টুটানখামুনের সমাধিতে রাণী নেফারতিতির গোপন কুঠুরি

29>|| টুটানখামুনের |সমাধিতে রাণী নেফারতিতির গোপন কুঠির।                           <---©-আদ্যনাথ--->


প্রাচীন মিশরের মানুষ বিশ্বাস ছিলো মানুষের মৃত্যুর পর আত্মা পুনরায় দেহে ফিরে আসে।
তাই সেই দেহ যাতে নষ্ট না হয়ে যায় সে জন্য তারা এক বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করতো।
এই বিশেষ পদ্ধতিটিই হলো মমি। 
মমি নিয়ে সব সমস্যার সমাধানের  জট এখনো পুরোপুরি খোলা যায় নি। অনেক মমি নিয়েই আছে অনেক রহস্যময় কাহিনী। তবে সবচেয়ে বেশি রহস্য যে মমিটিকে ঘিরে আছে তা হলো ফারাও রাজা তুতানখামেনের মমি।
সব থেকে আচর্যের বিষয় এটাই যে তুতানখামেনের  কবরের  খোজে পাওয়ার আগে তুতেনখামেন  সকলের  কাছে অপরিচিত ছিল কারণ মিশরে তার কনো চিহ্ন ছিল না। তার কবরের দেওয়ালে আকা ছবি গুলোতে তাকে দেখা যায়  একজন শিকারী হিসেবে, একজন রাজা যুদ্ধের মায়দানে, একজন মানুষ যে তার স্ত্রী সেনামুন এর গভীর প্রেমে পরে ছিল এবং সেনামুনের ও একই অবস্থা ।
সেনামুন ছিল নেফেরতিতির মেয়ে। তুতানখামেনের হঠাৎ মৃত্যুর কারণ কেউ জানে না।
এই তুতানখামেন হঠাৎ করে এতো পরিচিতি বিস্তারের কারন মিসরের সকল ফারাও দের মধ্যে
সর্ব কনিষ্ঠ শাসক ছিলেন এবং তুতানখামেনের অভিশাপ।

তুতানখামেনের অভিশাপ এক বিচিত্র  কাকতালীয় গল্প কথা।  

তার মমিকে যে ই বিরক্ত করবে তার নাকি মৃত্যু অনিবার্য।
এই বিশ্বাসটা গাঢ় হওয়ার পিছনে রয়েছে অবিশ্বাস্য কিছু ঘটনা।
মিশরে যে কয়েকজন  ফারাও রাজত্ব করেছেন তাদের মাঝে 
কনিষ্ঠতম শাসক ছিলেন তুতানখামেন।
কিশোর বয়সেই মিশরের সম্রাট হয়ে যাওয়ার
কারনে তাকে  নিয়ে অনেক রহস্যের গল্প শোনা যায়।

মিশরের প্রত্নতত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন, রাজা টুটানখামুনের সমাধিতে তারা এমন একটি গোপন কুঠুরি থাকার প্রমাণ পাচ্ছেন যেখানে হয়তো রাণী নেফারতিতির কবর ছিল।
সকলের ধারণা যদি সত্যি সত্যি এরকম এক গোপন কুঠুরি খুজে পাওয়া যায় সেটা হবে শতাব্দীর সবচেয়ে বড় আবিস্কার।
লাক্সারের এই অত্যন্ত প্রাচীন স্থানটিতে এখনো খোজ চলছে ।
নীল নদীর তীরে বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী যে সভ্যতা গড়ে উঠেছিল একটা লম্বা সময় ধরে তা শাসন করেছেন রাণী নেফারতিতি এবং তার স্বামী ফারাও আখেনাটেন।
রাণী নেফারতিতি ছিলেন অসম্ভব সুন্দরী।
কারও কারও ধারণা টুটানখামেন হয়তো রাণী নেফারতিতির সন্তান ছিলেন। 1922 সালে
টুটানখামেনের দেহাবশেষ খুঁজে পাওয়া যায় । এর প্রায় তিন হাজার বছর আগে
মাত্র 19 বছর বয়সে তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হয়।

তুতানখামেন (খ্রিস্টপূর্ব 1341 - 1323) ছিলেন মিশরীয় অষ্টদশ রাজবংশের ফারাও
(খ্রিস্টপূর্ব 1333 - 1324)। এই সময়কাল মিশরীয় ইতিহাসে নতুন রাজ্য নামে পরিচিত ছিল।
তার আসল নাম তুতানখাতুন,  অর্থ "আমুনের জীবন্ত ছবি"।
প্রায়ই তুতানখামুনের নাম লেখা হতো "আমেন-তুত-আনখ", শব্দে প্রকাশ করার শুরুতে
দেবতার নাম রাখতে কিছু লেখার ব্যবহার করা হতো।
এটি সম্ভবত শনাক্ত করা হতো আমারনার চিঠি, নিবহুররেরেয়া-এর সঙ্গে,
এবং সম্ভবত অষ্টদশ রাজবংশের রাজা রাথটিসনামের সঙ্গে,
যে প্রাচীন ইতিহাসবিদ মানেটনেরমতে, নয় বছর রাজত্ব করেছিলেন
তার জনগণরা তাকে অর্ধেক মানুষ এবং অর্ধেক দেবতা মনে করতো।

কায়রোর মিশরীয় জাদুঘরে তুতানখামেনের মমির মুখোশ, প্রাচীন মিশরের
একটি জনপ্রিয় অতূলনীয় ভাস্কর্য। বলা হয় যে, এর মূল্য রত্নের মুকুটের সমান।
সঙ্গী আঙ্খেসেনামুন ছেলে-মেয়ে দুই জন  (সম্ভবত, উভয় মেয়ে, নামগুলো অজানা)
পিতা আখেনাতেন। মাতা  "অল্পবয়সী নারী"তার খ্যাতি ঢাকা আছে তার কবর দ্বারা, 
হাওয়ার্ড কার্টারের  নেতৃত্বে  এবং সহযোগী  জোজ হেরব্যট এর মধ্যেমে 1922 সালের 4ঠা নভেম্ব আবিষ্কার করেছিল তুতানখামুনর  কবর।
তুতানখামেন হঠাৎ মারা গিয়েছিল এবং তার হাড় গুলোতে অনেক ফাটল ছিল।
হাড় গুলি যখন  এক্স রে করা হয় তখন দেখা যায় যে তার মাথার পিছের অংশে আঘাতের চিহ্ন।
আর একদল গবেষোক সিদ্ধাতে পৌছায় যে তাকে হত্যা করা হয়েছিল যদিও  তা প্রমানিত  হয়নি।
সাম্প্রতিক প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার অনুসারে, তুতানখামেনের বাবা আখেনাতেন।
তুতানখামেন হয়তো আখেনাটন এবং রানী নেফেরতিতি এর পুত্র ছিল।

অন্য একটি অনুমান, তুতানখামেন আমেনহোতেপ IIIএবং রানী টইয়ি এর পুত্র ছিল (অতএব আখেনাটন এর ভাই)
আরও নানান গবেষণায়  অনুমান নিশ্চিত করেছিল যে, তুতানখামেন আখেনাটন এবং কিয়া এর পুত্র ছিল।
  
তুতানখামেনের অভিশাপের্ গল্প --
তুতানখামেন এখনো সবাইকে মুগ্ধ করে। তার কবর যে ঘরে পাওয়া গিয়েছে তার পাশের ঘরে, যেখানে তার ধন সম্পদ ছিল, সেখানে তার কবর আটকানো জন্য যে সিল মোহর ব্যবহার করা হয়েছিল সে সিল মোহর পাওয়া গিয়েছে এবং তার উপর লেখা ছিল তুতানখামেন। তা আবিস্কার করেছে প্রফেসর হাওয়ার কারটারএবং অন্য গুলোর মধ্যে লেখা ছিল তুতানখামেন।  "হাওয়ার কারটার" তুতানখামেনের কফিনেট খোলে, তার ভিতর আরো তিনটা কফিন সে খুজে পায়। এর মধ্যে দুইটি কফিন কায়রো জাদুঘরে আছে। কবরে ভিতর 5398 টি হাতের কাজ করা জিনিষ পাওয়া গিয়েছে।

 তুতানখামেনের কবর আবার খোলা হয়, কারণ তার
মৃত্যুর 1000 বছর পরও যে কবর পাওয়া গিয়েছে সে গুলো এই কবরের সাথে সম্পক যুক্ত।
 নভেম্বর 1922, ব্রিটিশ ভূতাত্ত্বিকবিদ প্রোফেসর হোওয়ারড কাটার আবিষ্কার করেছিল রাজাদের কবর। এই আবিষ্কারটি ছিল অসাধারণ। যখন শ্রমিকরা দামী হাতের কাজ গুলো কবর থেকে উদ্ধার করছিল, তখন তারা কবরকে যে অপবিত্র করেছে তার ফলাফল কি হবে তার ভয় করছিল।
তুতানখামেনের কবরে কাজের সময় হোওয়ারড কাটারের সাথে কানারি ছিল। যে দিন হোওয়ারড কাটার এবং কারনামুন তুতানখামেনের কবরে ঢুকে শ্রমিকরা কানারি কে মৃত দেখে। তারা একে শ্রমিকরা ভাল দিক বলে মনে করে। বলা হয় কানারি কোবরা সাপের কামড়ে কারণে মারা গিয়েছিল। কোবরা সাপ হচ্ছে ফেরাউনদের মুখোসের শিখরের প্রতীক। এখান থেকে শুরু হয় তুতানখামেনের অধিশাপ। একজন লন্ডন টাইসএর বক্তব্যকারী ঘোষনা করেন  ফেরাউনের অধিশাপ আঘত করেছে বলে। কাকতালীয় ভাবে কবরের কক্ষ খোলার ছয় সপ্তাহ পর লর কারনারভন তার হোটেলের ঘরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। পরে একে একে মরতে শুরু করেছে যারা কবর খোরার কাজে কোন এক ভাবে জরিত ছিল। কারনারভন এর ভাইয়ের রক্তে বিষ পাওয়া গিয়েছে। আমেরিকার জাইগুড  রেল লাইনের ইম্মানিয়াতে, ফ্রান্সেস জজ বেনেদিত এরা কবর দেখতে গিয়েছিল। এই ভাবে তুতানখামেনের অভিশাপের জন্ম হয়। পরের বছর গুলোতে এর একটি যুক্তি সংগত ব্যাখ্যা দিতে চেয়ে ছিল। সে চিন্তা করেছে তুতানখামেনের অধিশাপের জাদু নয় জীবণু। যখন তারা কবরে ঢুকেছিল তখন হাজার বছর পুরানো জীবণু যা অন্ধকারে ছিল তা আলো পেয়ে আবার জেগে উঠে। এই তত্ত্ব ঠিক কি না তা পরীহ্মা করার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে জীবণুবিদরা আসেন।

খ্রিস্টের জন্মের প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর আগে মিশরের সিংহাসনে ছিলেন ফ্যারাও চতুর্থ আমেনহোটেপ | যিনি পরিচিত আখেনাতেন নামেও | তাঁর এক রানি হলেন সুন্দরী নেফারতিতি | ঐতিহাসিকরা বলেন‚ প্রথমে স্বামীর সঙ্গে যৌথভাবে‚ পরে স্বামীর অবর্তমানে একাই সাম্রাজ্য শাসন করতে থাকেন এই রানি | পুরুষতান্ত্রিক মিশরীয় সমাজে তিনি রীতি অনুযায়ী পুরুষ-নাম নেন | সেই নাম সম্ভবত নেফারনেফেরয়াতেন বা স্মেনখকারে | রহস্যময় ফ্যারাও নেফারনেফেরয়াতেন বা স্মেনখকারে মিশর শাসন করেন চতুর্থ আমেনহোটেপের পরে এবং তুতানখামেনের আগে | কোনও কোনও ঐতিহাসিক বলেন‚ এই ফ্যারাও আসলে স্বয়ং নেফারতিতি | এই সম্রাজ্ঞীর শাসনে বহু দেবদেবীর অস্তিত্বে বিশ্বাসী মিশর ক্রমশ সরতে থাকে এক দেবতার প্রতি বিশ্বাসে | সেই দেবতা হলেন সূর্যদেবতা |
12 বছর রাজ্য শাসনের পরে কোথায় যেন মিলিয়ে যান নেফারতিতি | তাঁর মৃত্যু নিয়ে কোনও তথ্য নেই প্রাচীন মিসরীয়  ইতিহাসে |
মনে করা হচ্ছে মৃত্যুর প্রায় 3345 বছর পরে এ বার পাওয়া যেতে চলেছে নেফারতিতির সমাধি | কিশোর রাজা তুতানখামেনের সমাধির উত্তরের দেওয়ালের পিছনে |
এই তুতানখামেন ছিলেন চতুর্থ আমেনহোটেপ এবং তাঁর বোনের সন্তান |
অর্থাৎ নেফারতিতির সৎ ছেলে |
মিশরবিদ নিকোলাস রিভস নিশ্চিত তুতানখামেনের সমাধি বলে যেটি স্বীকৃত‚ সেতি নির্মিত হয়েছিল রানি নেফারতিতির জন্য | পরে বিমাতার সমাধিতেই তাড়াহুড়ো করে সমাহিত করা হয় তুতানখামেনকে | একই রকম কথা বলেছিলেন তুতানখামেনের সমাধির আবিষ্কারক  পুরাতাত্ত্বিক কার্টারও | তাঁর মনে হয়েছিল‚ তুতানখামেনের সমাধি অন্য ফ্যারাওদের সমাধির তুলনায়
অনেক ছোট এবং সাদামাটা | তাঁর ধারনা‚ আন-রয়্যাল এই সমাধি পুরুষতান্ত্রিক মিশরে তৈরি
হয়েছিল কোনও রানির জন্য | সেই ধারনাকে এখন সমর্থন করছে নতুন আবিষ্কার |
তুতানখামেনার বয়স যখন  দশ বছর তখন তিনি  রাজ্যের হাল ধরেন।
( খ্রিষ্টপূর্ব 1332 থেকে 1323  )সাল পর্যন্ত ছিল তার রাজত্বকাল। তিনি নয় বছর রাজত্ব করে ছিলেন ।  এই নয়  বছর সিংহাসন সামলানোর পর খ্রিস্টপূর্ব 1323 সালে মাত্র 19 বছর বয়সে মৃত্যু হয়  ওই তরুণ ফারাওয়ের।
কিন্তু তার মৃত্যু নিয়ে রয়েছে অনেক রহস্য। মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও বিজ্ঞানীরা উদ্ঘাটন করতে পারেননি।
তার মৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানান প্রত্নতত্ত্ববিদের রয়েছে নানান মত। কেউ বা বলেন তাকে খুন করা হয়েছে। কেউ মনে করেন তুতানখামেন সাপের কামড়ে মারা গিয়েছিলেন। 
কারও মতে ম্যালেরিয়াতে তিনি মারা যান। আবার কেউ কেউ বিশ্বাস করেন,
ভারী কিছুতে চাপা পড়ে মারা গিয়েছিলেন এই ফারাও।
তুতানখামেনের মমি আবিষ্কৃত হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় তার মৃত্যু নিয়ে গবেষণা।
মমি আবিষ্কারের বেশ কিছুদিন পর একদল বিশেষজ্ঞ জানান যে, যে ছুরি দিয়ে তাকে
খুন করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, সেই ছুরিটি পাওয়া গেছে।
তুতানখামেনের সমাধি থেকে তার ব্যবহৃত সোনা আর স্ফটিকের হাতল বিশিষ্ট ছুরিটি উদ্ধার হয়। প্রাচীন মিশরে লোহা ছিল দুর্লভ। কিন্তু তুতানখামেনের ছুরির ধারালো অংশটি লোহা, নিকেল আর কোবাল্টের সংমিশ্রণে তৈরি। পরে বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে ছুরির ধারালো অংশটি  লোহা নয়, আসলে উল্কার অংশ। উল্কাপিন্ডীয়  ছোরাটি  শুধুই লোভনীয় পর্যায়ের সুন্দরই নয়, বরং এতে মিশরীয় হস্তশিল্পের ছাপ রয়েছে যা থেকে দেখা যায় প্রাচীন মিশরীয় শিল্পীগণ লৌহযুগের
অনেক আগেই পৃথিবীতে আগত উল্লাপিন্ডের লোহা ব্যবহার করে এই শিল্পের বিকাশ শুরু করেছিলেন।
যে প্রযুক্তির মাধ্যমে ছুরির উপাদান বিশ্লেষণ করা হয়েছে তা হলো  X-ray flurescence Spectroscopy ।
( এই প্রকারের X-ray এমন একটি পরীক্ষা
যার দ্বারা পরীক্ষাধীন নমুনাকে শক্তিপ্রদানের মাধ্যমে উত্তেজিত করা হয়। তারপর সেই উত্তেজিত নমুনার বিভিন্ন পরমাণু বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে শক্তি বিকিরণ করে। যার মাধ্যমে গবেষকগণ একটি নমুনায় অবস্থিত বিভিন্ন ধরনের পরমাণুকে আলাদাভাবে শনাক্ত করতে পারেন। এতে পরীক্ষিত নমুনাটিরও কোনো ধরনের ক্ষতি সাধিত হয় না, ফলে প্রাচীন মূল্যবান বস্তুগুলোকে সুরক্ষিত
অবস্থায় পরীক্ষা করা যায় ।)
গবেষকগণ 20 টি সংরক্ষিত উল্কাপিণ্ডের উপাদানের রেকর্ড বিশ্লেষণ করে, এবং ছুরির উপাদানের সাথে মিলিয়ে দেখে  উল্কাপতনের স্থানও নির্ধারণ করে ন , যা প্রাচীন শহরের আলেকজান্দ্রিয়ার কাছাকাছি পশ্চিম দিকে। যদিও তাদের এই  উল্কাপিণ্ডটিকে সংগ্রহ করার জন্য  কয়েকশ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে সেই নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাতে হয়েছে। অতএব এমনটা ধারনা করা হয়, যে তাঁরা উল্কাটিকে আকাশে থেকে পরতে এবং খন্ড-বিখন্ড হয়ে যেতে দেখেছেন।
এমনকি সেটি পতিত হবার স্থান গুলিও স ঠিক নির্ণয় করতে সক্ষম হয়ে ছিল।

তুতানখামেনের মমি আবিষ্কারের পর থেকেই সেই মমি  নিয়ে মানুষের আগ্রহ বেড়েই
চলেছে । কারণ ব্রিটিশ হাওয়ার্ড কার্টার ও জর্জ হার্বার্ট নামের দুই প্রত্নতত্ত্ববিদের নেতৃত্বে তুতানখামেনের মমি আবিষ্কারের সময় তার সমাধি প্রায় অক্ষত অবস্থায় ছিল। কিন্তু মৃতদেহটি মোটেও অক্ষত ছিল না। মিশরের বেশির ভাগ পিরামিডে থাকা মূল্যবান সম্পত্তি লুঠ হয়ে গেলেও তুতানখামেনের সমাধিতে পাওয়া গিয়েছিল বিপুল সম্পত্তি। নানা গুরুত্বপূর্ণ নথি। মিশর সভ্যতার ইতিহাসে নয়া মোড় ঘুরে যায় তুতানখামেনের মমি আবিষ্কার পর।


এবার আশা যাক অভিশাপের ব্যাপারে।
 মিশরের অনেকেই বিশ্বাস করেন, তুতানখামেন মমিকে যারা বিরক্ত করবে, তাদের মৃত্যু অনিবার্য । এই বিশ্বাসটা তৈরি হয়েছিল 1922 সালে প্রথম তুতানখামেনের মমি আবিষ্কারের পর থেকে।মমি আবিষ্কারের নেতৃত্বে ছিলেন ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ হোয়ার্ড কার্টার ও জর্জ হার্বার্ট। এই আবিষ্কারের কয়েকদিন পরেই ঘটে সেই অভিশপ্তময় ঘটনা। জর্জ হার্বার্ট ও কার্টারের নেতৃত্বে যেসব কর্মী এই খননকার্য চালিয়ে ছিলেন, ঘটনাচক্রে তাদের মধ্যে 21 জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে। এরপর থেকেই এঅঞ্চলের মানুষের মধ্যে অভিশাপের কাহিনীটি প্রচার হতে থাকে।
কিন্তু দীর্ঘ সন্ধানেও মিলল না কিছুই,। পেলেন না কিছুই।  শেষে অনুসন্ধান বন্ধ করে দিতে বললেন লর্ড । হাওয়ার্ড পড়লেন মহা বিপদে।  হাওয়ার্ড কাকুতি মিনতি করে এক বছর সময় চেয়ে নিলেন ।
নতুন উদ্যমে মিশর ফিরে এলেন তিনি।
এবং বহু প্রচেষ্টার পরে সফলতা পেলেন।
খবর পাঠালেন লর্ডকে। ব্রিটেন থেকে তিনি এলেন মিশরে। তাঁর উপস্থিতিতে প্রবেশ করা হল মাটির গভীরে। কিছুদূর যাওয়ার পরে হাওয়ার্ড বুঝলেন এ পথে সুদূর অতীতে পা পড়লেও মূল প্রকোষ্ঠ অক্ষত।  একসময় সুড়ঙ্গ পথ শেষ হল সেই মূল প্রকোষ্ঠে। যার প্রবেশদ্বারে লিপিবদ্ধ ফ্যারাও তুতানখামেনের নাম! 1922-এর নভেম্বর মাসে একদিন সর্ব প্রথম   বিংশ শতকের মানুষের পা পড়ল সেখানে।
পাওয়া গেল তিনটি সোনার শবাধার ।  যার একটিতে ছিল  কিশোর রাজা তুতানখামেন মামি  | কিন্তু যুগান্তকারী এই আবিষ্কারের সঙ্গে লেগে গেল অভিশাপের তকমা।
সমাধিতে পা রাখার কয়েক মাসের মধ্যে রহস্যমৃত্যু হল লর্ড কারনারভনের । কোনও এক কীট নাকি কামড়েছিল তাঁর গালে | পরে সেই ক্ষতই সংক্রামিত হয়ে যায়। যখন তিনি কায়রোর হাসপাতালে মারা যান, গোটা কায়রো শহরে একসঙ্গে বিদ্যুৎ চলে যায়। এবং লন্ডনে তখনও তাঁর সংবাদ এসে পৌঁছয়নি । যে সময় লর্ডের মৃত্যু হয়, ওই একই সময়ে লন্ডনে হঠাত্‍ চিৎকার করে ওঠে তাঁর পোষা কুকুর | তারপরেই স্তব্ধ হয়ে যায় পোষ্যটি ।
রহস্য এখানেই শেষ নয়।  হাওয়ার্ডের পোষা হলুদ ক্যানারি পাখিটিকে সাপ মেরে ফেলে। যে রেডিওলজিস্ট এক্স-রে করেছিলেন তুতানখামেনের মামির, তিনি রহস্যজনকভাবে মারা যান।
এক ধনী মার্কিনী দেখতে গিয়েছিলেন তুতানখামেনের সমাধি, তিনি মারা যান নিউমোনিয়ায় ।
 1922 সালে আবিষ্কার হওয়ার পরে 1929 সালের মধ্যে তুতানখামেনের সমাধি আবিষ্কার-অভিযানের সঙ্গে যুক্তদের মধ্যে 11 জনের মৃত্যু হয় রহস্যময় কারণে । এভাবে একে একে বিভিন্ন সময় মোট
 21 জনের মৃত্যু ঘটে যারা জড়িত ছিলেন তুতানখামেনের মমির উদ্ধারকার্যে।
সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হতে থাকে প্রাচীন মিশরীয় বচন,
 "মৃত্যু তার কাছে ক্ষিপ্র ডানায় উড়ে আসে, যে ফ্যারাওয়ের শান্তি বিঘ্নিত করে "।

অনেকেরই বদ্ধমূল ধারনা হয়, তুতানখামেনের সমাধিতে এই বচন লেখা একটি ফলক ছিল, যা সরিয়ে রাখেন হাওয়ার্ড নিজে।  যাতে কোনও গুজব না রটে ।
কিন্তু যুক্তিবাদীরা এই অভিশাপের দাবি মানতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, তুতানখামেন যদি অভিশাপই দেবেন, তাহলে স্বয়ং আবিষ্কারক হাওয়ার্ড কার্টার রেহাই পেলেন কী করে ? তাঁর তো 64বছর বয়সে স্বাভাবিক মৃত্যুই হয়।  এক গবেষক দাবি করেন  তুতানখামেনের অভিশাপ কোনো  জাদু নয়,  জীবাণু। যখন তারা কবরে ঢুকেছিল তখন হাজার বছর পুরানো জীবাণু যা অন্ধকারে ছিল তা আলো পেয়ে আবার জেগে উঠে।  এসব জীবাণুর  সংক্রমণেই ধীরে ধীরে  মারা যায় তারা।
তুতানখামেনের মমি নিয়ে গবেষণা শেষ হয়ে যায় নি। 2017 সালে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী   আরও  একবার  ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ ” নিকোলাস রিভেস” এর তত্ত্ববধানে অভিযান চলবে তুতেনখামেনের সমাধির গোপন ডেরায়। দীর্ঘ ৩৩০০ বছর ধরে লুকিয়ে থাকা তুতানখামেনের সমাধির ভিতর লুকিয়ে থাকা চেম্বারের রহস্য ভেদ করতে তাঁদের এই অভিযান বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ নিকোলাস রিভেস। কী থাকতে পারে এই চেম্বারে? তুতানখামেনের সমাধি নিয়ে এত দিন ধরে নিকোলাস যে গবেষণা চালিয়েছেন, সেখানে সমাধির একটি গুপ্তপথের সূত্র খুঁজে পেয়েছেন তিনি। এই গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি 90 শতাংশ নিশ্চিত, এবারে নতুন কিছু তথ্য হাতে পাবেনই। নিকোলাসের অনুমান তুতেনখামেনের সমাধিতে আরও দুটি গোপন কক্ষ রয়েছে। যার মধ্যে একটি হতে পারে রানি নেফাতিতির সমাধি! খ্রিস্টপূর্ব 1351 থেকে 1334 সাল পর্যন্ত নেফাতিতি মিশরে রাজ করেছিলেন।
তুতানখামেন সমাধির এ রহস্য ভেদ করতে নিকোলাসকে সাহায্য করবে ইতালির তুরিনের একটি পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটি। এবং এর সঙ্গে থাকবে দু’বছর ধরে চালিয়ে যাওয়া অনুসন্ধানকারীর দলও। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে এ গবেষণা কাজ পরিচালিত হবে বলে জানান তুরিনের পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটির পদার্থবিজ্ঞানের প্রফেসর ফ্রাঙ্কো পরসেলি। মাটির তলায় 32 ফুট গভীর পর্যন্ত স্ক্যান করতে পারবে এমন শক্তিশালী রাডার সিস্টেম ব্যবহার করা হবে বলে তিনি জানান। এই রাডারের তরঙ্গায়িত হওয়ার ক্ষমতা 200 মেগা হার্টজ থেকে 2 গিগা হার্টজ পর্যন্ত।
তবে নীল নদের বাসিন্দাদের অনেকের মনে চিন্তা এখন একটাই। যাঁরা বিশ্বাস করেন এই সমাধিতে ঢোকার চেষ্টা করার ফল কখনও ভাল হয়না, তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, তুতানখামেনের সমাধিতে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে ফের হয়তো আগের  মতো কোনও বিভীষিকা ফিরে আসবে না তো! নতুন করে অভিশাপের ছায়া পড়বে না তো মিশরবাসীদের উপর!
                                                                       <------------আদ্যনাথ ----------->
                                                                             17/05/2019::08:53:12pm
==================================


টুটানখামুনের সমাধিতে রাণী নেফারতিতির গোপন কুঠুরি

মিশরের প্রত্নতত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন, রাজা টুটানখামুনের সমাধিতে তারা এমন একটি গোপন কুঠুরি থাকার প্রমাণ পাচ্ছেন যেখানে হয়তো রাণী নেফারতিতির কবর ছিল।
সকলের ধারণা যদি সত্যি সত্যি এরকম এক গোপন কুঠুরি খুজে পাওয়া যায় সেটা হবে শতাব্দীর সবচেয়ে বড় আবিস্কার।
লাক্সারের এই অত্যন্ত প্রাচীন স্থানটিতে এখনো খোজ চলছে ।
নীল নদীর তীরে বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী যে সভ্যতা গড়ে উঠেছিল একটা লম্বা সময় ধরে তা শাসন করেছেন রাণী নেফারতিতি এবং তার স্বামী ফারাও আখেনাটেন।
রাণী নেফারতিতি ছিলেন অসম্ভব সুন্দরী।
কারও কারও ধারণা টুটানখামেন হয়তো রাণী নেফারতিতির সন্তান ছিলেন। টুটানখামেনের দেহাবশেষ সেখানে খুঁজে পাওয়া যায় ১৯২২ সালে। এর প্রায় তিন হাজার বছর আগে মাত্র ১৯ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হয়।
==================
তুতানখামেন
(খ্রিস্টপূর্ব ১৩৪১ - ১৩২৩) ছিলেন মিশরীয় অষ্টদশ রাজবংশের ফারাও (খ্রিস্টপূর্ব ১৩৩৩ - ১৩২৪)। এই সময়কাল মিশরীয় ইতিহাসে নতুন রাজ্য নামে পরিচিত ছিল।
তার আসল নাম তুতানখাতুন, অর্থ "আতেনের জীবন্ত ছবি", যখন তুতানখামেন অর্থ "আমুনের জীবন্ত ছবি"।
প্রায়ই তুতানখামুনের নাম লেখা হতো "আমেন-তুত-আনখ", শব্দে প্রকাশ করার শুরুতে দেবতার নাম রাখতে কিছু লেখার ব্যবহার করা হতো। এটি সম্ভবত শনাক্ত করা হতো আমারনার চিঠি, নিবহুররেরেয়া-এর সঙ্গে, এবং সম্ভবত অষ্টদশ রাজবংশের রাজা রাথটিসনামের সঙ্গে, যে প্রাচীন ইতিহাসবিদ মানেটনেরমতে, নয় বছর রাজত্ব করেছিলেন (ফ্লাভিউস জোসেফুস মানেটনের ধারনাটির সাথে একমত)। তার জনগণরা তাকে অর্ধেক মানুষ এবং অর্ধেক দেবতা মনে করতো।
কায়রোর মিশরীয় জাদুঘরে তুতানখামেনের মমির মুখোশ, প্রাচীন মিশরের একটি জনপ্রিয় অতূলনীয় ভাস্কর্য। বলা হয় যে, এর মূল্য রত্নের মুকুটের সমান।
ফারাওরাজত্বখ্রিস্টপূর্ব ১৩৩৩–১৩২৪ (১৮তম রাজবংশ)পূর্ববর্তীস্মেঙ্খকারে? অথবা নেফেরনেফেরুয়াতেন?
সঙ্গীআঙ্খেসেনামুনছেলে-মেয়ে২ (সম্ভবত, উভয় মেয়ে, নামগুলো অজানা)
পিতা আখেনাতেন। মাতা অশনাক্ত মমি, "অল্পবয়সী নারী"জন্মখ্রিস্টপূর্ব ১৩৪১মৃত্যুখ্রিস্টপূর্ব ১৩২৩সমাধিকেভি৬২
তার খ্যাতি ঢাকা আছে তার কবর দ্বারা, রাজাদের উপত্যকার কেভি৬২, সাধারণত অলঙ্ঘিত, হাওয়ার্ড কার্টার দ্বারা নেতৃত্ব এবং সহায়তাকারী জোজ হেরব্যট এর মধ্যেমে ১৯২২ সালের ৪ঠা নভেম্বর মাসে আবিষ্কার করেছিল তুতানখামুন অস্পৃষ্ট কবর।
তুতানখামেন হঠাৎ মারা গিয়েছিল এবং তার হাড় গুলোতে অনেক ফাটল ছিল। ১৯৬৮ সালে যখন তাকে এক্স রে করা হয় তখন দেখা যায় যে তার মাথার পিছের অংশে আঘাতের চিহ্ন। ২০০২ সালে একদল গবেষোক সিদ্ধাতে পৌছায় যে তাকে হত্যা করা হয়েছে কিন্তু তা প্রমাণ হয়নি।
সাম্প্রতিক প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার অনুসারে, তুতানখামেনের বাবা হবে আখেনাতেন। আগে, বিভিন্ন তত্ত্বসমূহ প্রস্তাব করা হয়েছিল তুতানখামেনের অবরোহণ সমস্যার উপর। সহজভাবে, স্মেনখখারা এর পুত্র হিসেবে তাকে দেখেছিল এবং স্মেনখখারা ছিল তেবে তের কোর্টের রাজ কন্যা গুলোর একটা। অন্য একটি ধরা হতো, বাস্তবিকপক্ষে, সে হতো আখেনাটন এবং রানী নেফেরতিতি এর পুত্র ছিল।
অন্য একটি অনুমান, তুতানখামেন আমেনহোতেপ IIIএবং রানী টইয়ি এর পুত্র ছিল (অতএব আখেনাটন এর ভাই) কিন্তু একটি তত্ত্বের গ্রহণযোগ্যতা ও অন্তর্ভুক্ত দীর্ঘ রাজপ্রতিনিধিত করেছিল, আখেনাটন এবং আমেনহোতেপ এর মধ্যে যখন তুতানখামেন বাচ্চা অবস্থায় সিংহাসন উপরে উঠা ছিল। অনুমানও করা হয় যে, আমেনহোতেপ এর পুত্র দেখেছিল এবং মিতান্নী এর একটি রাজ কন্যা (গিলিকিপা, রাজা শুত্তারনা II মেয়ে, তাই তুশ্রাত্তা এবং আরতাশুমারা এর বোন, মিশরীয় কোর্টে আসেছিল ৩১৭ মেয়ে সঙ্গী এবং অসংখ্য মূল্যবান উপহার নিয়ে), সে কালক্রমিক সমস্যার স্মমুখীন হচ্ছিল। পরিশেষে, আরও অনুমান নিশ্চিত করেছিল যে, তুতানখামেন আখেনাটন এবং কিয়া এর পুত্র ছিল, একটি অমুখ্য রানী, একটি গুরুত্বপূর্ণ কবর, একে আখেনাটন কবরের স্থানে আগে দেওয়া হয়েছে, দেরিতে শেষকৃত্যের একটি দৃশ্য দেখায়। আখেনাটন এবং নেফেরতিতি এর আকারের পূর্বে চীনতে পারে (এটা শেষ সনাক্তনীয় উলটানো উচ্চ শম্ভু টুপি জন্য) একটি মহিলার সঙ্গে যে, সম্ভবত একটি সেবিকা এবং একজন ফ্লাবেল্লো বাহকের চিহ্ন যে কিছু রাজ পরিবারের দৃশ্য উল্লেখ করে। দৃশ্যের এক সম্ভব্য ব্যাখ্যা হতে পারে একটি মৃত্যু সংশ্লিষ্টে একটি রাজকীয় উত্তারাধিকারী জন্মে
আমারনীয়ানা এর ধবংস আখেনাটন সম্বন্ধে তথ্যের সমূহের অনেক ক্ষতি প্রান্ত হয়েছে এবং এইটির সম্বন্ধে তত্ত্ব সমূহের একটি অনেক সংখ্যার উন্নতি লাভের অনুমোদন করেছিল। আমারনীনে উৎস হতে যা মনে হয় তা নির্দেশনা করে আঙ্খতখেপেরুরা নামের একটি রাজার অস্তিত্ব যে হতে পারে আখেনাটন এর মেয়ে গুলোর একটা, অথবা অন্যান্যদের মতে, একই স্ত্রী নেফেরতিতি। তুতানখামেনের সরাসরি পূবগামী পুরুষ স্মেনখখারা ছিল, যেটি এখন একটি তত্ত্ব, সাম্প্রতিক আবিস্কার গুলোর ফলে সে সব তত্ত্ব পরিবতন হচ্ছে, নেফেরতিতি এর একটি অবতার পুনরায় দেখতে পছন্দ করবে, যে আখেনাটন এর ভুল সংশোধনকারী হিসেবে রাজত্ব করবে।
যুবক বয়স, এবং সুযোগ ব্যবহার করা প্রয়োজন শুধু "স্বাভাবিক" রাষ্ট্র প্রশাসন হিসাবে নয়, একটি আসল রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় পুনরুদ্ধার মাধ্যেমে। একটি যুবক রাজার সাহায্যকারী রাজপতিনিধি পদ পরিষদ নিশ্চিতভাবে দ্বারা গঠন করা হয়েছিল আয়, আখেনাটন এর পূবগামী পুরুষের পরামর্শদাতা (এবং তুতানখামেনের উত্তরসূরী), হোরেমহাব, সেনাবাহিনীর প্রধান, এবং প্রকৃত তত্ত্বাবধায়ক তদারকারী রাজকীয় বৃহৎ কবরস্থান টেবানা: রাজার ভ্যালি। নতুন রাজা সিংহাসনের উঠার সল্প সময়ে পরে সম্পূণ কোর্ট আখেনাটনের রাজধানী ছেড়ে "তেবে" তে ফিরে আসে। এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজপতিনিধি পদ পরিষদ গ্রহণ করেছিল অথবা রাজা নিজেই, একটা জিনিষ এক থাকে যে, কারনাক এর নিকটবর্তী যৌগিক মন্দিরের ধর্মযাজকদের আমন এর অধীনে কোর্ট ফিরে এসেছিল। এই পর্যায়কালে তুতানখামেনের নামগুলো পরিবর্তন হয়, এবং নাম নেয় তুতানখামেন যে নামে আমরা সবাই ভাল চিনি, এবং তার স্ত্রী আনাখেছেপাটোন নাম গ্রহণ করেছিল আনাখেছেনামুন।
রাজ্যভিষেক অনুষ্ঠানে, ইতিমধ্যে আখেতাটোন এর পৃষ্ঠপোষকতার দেবতা আটোন এর প্রতিরোধ, কারনাক তেও পুনরাবৃত্তি করা হয়েছিল, এই বার আমনের আরবণ। অনুরুপ প্রতিক্রিয়া ছিল হারেমহাব এর, যদিও পরবতীতে অপব্যবহার ছিল, একটি কঠিন প্রস্তর বিশেষে যেখানে দেখা সম্ভব একটি রাজা যে আমন এর পূর্বে (মাথার টুপি লম্বা পালক গুলোর জন্য চিনা সম্ভব ছিল)।
তুতানখামেনের অভিশাপ
তুতানখামেন এখনো সবাইকে মুগ্ধ করে। তার কবর যে ঘরে পাওয়া গিয়েছে তার পাশের ঘরে, যেখানে তার ধন সম্পদ ছিল, সেখানে তার কবর আটকানো জন্য যে সিল মোহর ব্যবহার করা হয়েছিল সে সিল মোহর পাওয়া গিয়েছে এবং তার উপর লেখা ছিল তুতানখামেন। তা আবিস্কার করেছে প্রফেসর হাওয়ার কারটারএবং অন্য গুলোর মধ্যে লেখা ছিল তুতানখামেন। ১১ নভেম্বর ১৯২৫ সালে যখন "হাওয়ার কারটার" তুতানখামেনের কফিনেট খোলে, তার ভিতর আরো তিনটা কফিন সে খুজে পায়। এর মধ্যে দুইটি কফিন কায়রো জাদুঘরে আছে। কবরে ভিতর ৫৩৯৮ টি হাতের কাজ করা জিনিষ পাওয়া গিয়েছে। তার কবর খোজে পাওয়ার আগে সে আমাদের কাছে অপরিচিত ছিল কারণ মিশরে তার কনো চিহ্ন ছিল না। তার কবরের দেওয়ালে আকা ছবি গুলোতে তাকে দেখা য়ায একজন শিকারী হিসেবে, একজন রাজা যুদ্ধের মায়দানে, একজন মানুষ যে তার স্ত্রী সেনামুন এর গভীর প্রেমে পরে ছিল এবং সেনামুন ও। সেনামুন ছিল নেফেরতিতির মেয়ে। তুতানখামেনের হঠা মৃত্যুর কারণ কেউ জানে না। তুতানখামেনের কবর আবার খোলা হয়, কারণ তার মৃত্যুর ১০০০ বছর পরও যে কবর পাওয়া গিয়েছে সে গুলো এই কবরের সাথে সম্পক যুক্ত। নভেম্বর ১৯২২, ব্রিটিশ ভূতাত্ত্বিকবিদ প্রোফেসর হোওয়ারড কাটার আবিষ্কার করেছিল রাজাদের কবর। এই আবিষ্কারটি ছিল অসাধারণ। যখন শ্রমিকরা দামী হাতের কাজ গুলো কবর থেকে উদ্ধার করছিল, তখন তারা কবরকে যে অপবিত্র করেছে তার ফলাফল কি হবে তার ভয় করছিল। তুতানখামেনের কবরে কাজের সময় হোওয়ারড কাটারের সাথে কানারি ছিল। যে দিন হোওয়ারড কাটার এবং কারনামুন তুতানখামেনের কবরে ঢুকে শ্রমিকরা কানারি কে মৃত দেখে। তারা একে শ্রমিকরা ভাল দিক বলে মনে করে। বলা হয় কানারি কোবরা সাপের কামড়ে কারণে মারা গিয়েছিল। কোবরা সাপ হচ্ছে ফেরাউনদের মুখোসের শিখরের প্রতীক। এখান থেকে শুরু হয় তুতানখামেনের অধিশাপ। একজন লন্ডন টাইসএর বক্তব্যকারী ঘোষনা দেয় ফেরাউনের অধিশাপ আঘত করেছে বলে। কাযালীয়ভাবে কবরের কক্ষ খোলার ছয় সপ্তাহ পর লর কারনারভন তার হোটেলের ঘরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। পরে একে একে মরতে শুরু করেছে যারা কবর খোরার কাজে কোন এক ভাবে জরিত ছিল। কারনারভন এর ভাইয়ের রক্তে বিষ পাওয়া গিয়েছে। আমেরিকার জাইগুদ রেল লাইনের ইম্মানিয়াতে, ফ্রান্সেস জজ বেনেদিত এরা কবর দেখতে গিয়েছিল। এই ভাবে তুতানখামেনের অভিশাপের জন্ম হয়। পরের বছর গুলোতে এর একটি যুক্তি সংগত ব্যাখ্যা দিতে চেয়ে ছিল। সে চিন্তা করেছে তুতানখামেনের অধিশাপের জাদু নয় জীবণু। যখন তারা কবরে ঢুকেছিল তখন হাজার বছর পুরানো জীবণু যা অন্ধকারে ছিল তা আলো পেয়ে আবার জেগে উঠে। এই তত্ত্ব ঠিক কি না তা পরীহ্মা করার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে জীবণুবিদরা আসেন।
=====================
প্রাচীন মিশরের মানুষ বিশ্বাস করতো মানুষের মৃত্যুর পর আত্মা পুনরায় দেহে ফিরে আসে। তাই সেই দেহ যাতে নষ্ট না হয়ে যায় সে জন্য তারা এক বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করতো। এই বিশেষ পদ্ধতিটিই হলো মমি। 
মমি নিয়ে সব জট এখনো পুরোপুরি খোলা যায় নি। অনেক মমি নিয়েই আছে অনেক রহস্যময় কাহিনী। তবে সবচেয়ে বেশি রহস্য যে মমিটিকে ঘিরে আছে তা হলো ফারাও রাজা তুতানখামেনের মমিকে নিয়ে। তার মমিকে যে ই বিরক্ত করবে তার নাকি
মৃত্যু অনিবার্য।
এই বিশ্বাসটা গাঢ় হওয়ার পিছনে রয়েছে অবিশ্বাস্য কিছু ঘটনা।
মিশরে যে কয়েকজন  ফারাও রাজত্ব করেছেন তাদের মাঝে   কনিষ্ঠতম শাসক ছিলেন তুতানখামেন।
কিশোর বয়সেই মিশরের সম্রাট হয়ে যাওয়ার
কারনে তাকে  নিয়ে অনেক রহস্যের গল্প
শোনা যায়।
খ্রিস্টের জন্মের প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর আগে মিশরের সিংহাসনে ছিলেন ফ্যারাও চতুর্থ আমেনহোটেপ | যিনি পরিচিত আখেনাতেন নামেও | তাঁর এক রানি হলেন সুন্দরী নেফারতিতি | ঐতিহাসিকরা বলেন‚ প্রথমে স্বামীর সঙ্গে যৌথভাবে‚ পরে স্বামীর অবর্তমানে একাই সাম্রাজ্য শাসন করতে থাকেন এই রানি | পুরুষতান্ত্রিক মিশরীয় সমাজে তিনি রীতি অনুযায়ী পুরুষ-নাম নেন | সেই নাম সম্ভবত নেফারনেফেরয়াতেন বা স্মেনখকারে | রহস্যময় ফ্যারাও নেফারনেফেরয়াতেন বা স্মেনখকারে মিশর শাসন করেন চতুর্থ আমেনহোটেপের পরে এবং তুতানখামেনের আগে | কোনও কোনও ঐতিহাসিক বলেন‚ এই ফ্যারাও আসলে স্বয়ং নেফারতিতি | এই সম্রাজ্ঞীর শাসনে বহু দেবদেবীর অস্তিত্বে বিশ্বাসী মিশর ক্রমশ সরতে থাকে এক দেবতার প্রতি বিশ্বাসে | সেই দেবতা হলেন সূর্যদেবতা |
১২ বছর রাজ্য শাসনের পরে কোথায় যেন মিলিয়ে যান নেফারতিতি | তাঁর মৃত্যু নিয়ে কোনও তথ্য নেই প্রাচীন ইতিহাসে | মনে করা হচ্ছে মৃত্যুর প্রায় ৩৩৪৫ বছর পরে এ বার পাওয়া যেতে চলেছে নেফারতিতির সমাধি | কিশোর রাজা তুতানখামেনের সমাধির উত্তরের দেওয়ালের পিছনে | এই তুতানখামেন ছিলেন চতুর্থ আমেনহোটেপ এবং তাঁর বোনের সন্তান | অর্থাৎ নেফারতিতির সৎ  ছেলে |
মিশরবিদ নিকোলাস রিভস নিশ্চিত তুতানখামেনের সমাধি বলে যেটি স্বীকৃত‚ সেতি নির্মিত হয়েছিল রানি নেফারতিতির জন্য | পরে বিমাতার সমাধিতেই তাড়াহুড়ো করে সমাহিত করা হয় তুতানখামেনকে | একই রকম কথা বলেছিলেন তুতানখামেনের সমাধির আবিষ্কারক  পুরাতাত্ত্বিক কার্টারও | তাঁর মনে হয়েছিল‚ তুতানখামেনের সমাধি অন্য ফ্যারাওদের সমাধির তুলনায় অনেক ছোট এবং সাদামাটা | তাঁর ধারনা‚ আন-রয়্যাল এই সমাধি পুরুষতান্ত্রিক মিশরে তৈরি হয়েছিল কোনও রানির জন্য | সেই ধারনাকে এখন সমর্থন করছে নতুন আবিষ্কার |
তুতানখামেনার বয়স যখন  দশ বছর তখন তিনি  রাজ্যের হাল ধরেন। ( খ্রিষ্টপূর্ব ১৩৩২ থেকে ১৩২৩  )সাল পর্যন্ত ছিল তার রাজত্বকাল। তিনি নয় বছর রাজত্ব করে ছিলেন ।  এই নয়  বছর সিংহাসন সামলানোর পর খ্রিস্টপূর্ব ১৩২৩ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে মৃত্যু হয়  ওই তরুণ ফারাওয়ের।
কিন্তু তার মৃত্যু নিয়ে রয়েছে অনেক রহস্য। মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও বিজ্ঞানীরা উদ্ঘাটন করতে পারেননি।
তার মৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানান প্রত্নতত্ত্ববিদের রয়েছে নানান মত। কেউ বা বলেন তাকে খুন করা হয়েছে। কেউ মনে করেন তুতানখামেন সাপের কামড়ে মারা গিয়েছিলেন।   কারও মতে ম্যালেরিয়াতে তিনি মারা যান। আবার কেউ কেউ বিশ্বাস করেন, ভারী কিছুতে চাপা পড়ে মারা গিয়েছিলেন এই ফারাও। ১৯২২ সালে তুতানখামেনের মমি আবিষ্কৃত হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় তার মৃত্যু নিয়ে গবেষণা। মমি আবিষ্কারের বেশ কিছুদিন পর একদল বিশেষজ্ঞ জানান যে, যে ছুরি দিয়ে তাকে খুন করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, সেই ছুরিটি পাওয়া গেছে।
১৯২৫ সালে তুতানখামেনের সমাধি থেকে তার ব্যবহৃত সোনা আর স্ফটিকের হাতল বিশিষ্ট ছুরিটি উদ্ধার হয়। প্রাচীন মিশরে লোহা ছিল দুর্লভ। কিন্তু তুতানখামেনের ছুরির ধারালো অংশটি লোহা, নিকেল আর কোবাল্টের সংমিশ্রণে তৈরি। পরে বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে ছুরির ধারালো অংশটি  লোহা নয়, আসলে উল্কার অংশ। উল্কাপিন্ডীয়  ছোরাটি  শুধুই লোভনীয় পর্যায়ের সুন্দরই নয়, বরং এতে মিশরীয় হস্তশিল্পের ছাপ রয়েছে যা থেকে দেখা যায় প্রাচীন মিশরীয় শিল্পীগণ লৌহযুগের অনেক আগেই পৃথিবীতে আগত উল্লাপিন্ডের লোহা ব্যবহার করে এই শিল্পের বিকাশ শুরু করেছিলেন।
যে প্রযুক্তির মাধ্যমে ছুরির উপাদান বিশ্লেষণ করা হয়েছে তা হলো  X-ray flurescence Spectroscopy ।
( এই প্রকারের X-ray এমন একটি পরীক্ষা
যার দ্বারা পরীক্ষাধীন নমুনাকে শক্তিপ্রদানের মাধ্যমে উত্তেজিত করা হয়। তারপর সেই উত্তেজিত নমুনার বিভিন্ন পরমাণু বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে শক্তি বিকিরণ করে। যার মাধ্যমে গবেষকগণ একটি নমুনায় অবস্থিত বিভিন্ন ধরনের পরমাণুকে আলাদাভাবে শনাক্ত করতে পারেন। এতে পরীক্ষিত নমুনাটিরও কোনো ধরনের ক্ষতি সাধিত হয় না, ফলে প্রাচীন মূল্যবান বস্তুগুলোকে সুরক্ষিত অবস্থায় পরীক্ষা করা যায় ।)
গবেষকগণ ২০ টি সংরক্ষিত উল্কাপিণ্ডের উপাদানের রেকর্ড বিশ্লেষণ করে, এবং ছুরির উপাদানের সাথে মিলিয়ে দেখে  উল্কাপতনের স্থানও নির্ধারণ করে ন , যা প্রাচীন শহরের আলেকজান্দ্রিয়ার কাছাকাছি পশ্চিম দিকে। যদিও তাদের এই  উল্কাপিণ্ডটিকে সংগ্রহ করার জন্য  কয়েকশ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে সেই নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাতে হয়েছে। অতএব এমনটা ধারনা করা হয়, যে তাঁরা উল্কাটিকে আকাশে থেকে পরতে এবং খন্ড-বিখন্ড হয়ে যেতে দেখেছেন।
এমনকি সেটি পতিত হবার স্থান গুলিও
স ঠিক নির্ণয় করতে সক্ষম হয়ে ছিল।
তুতানখামেনের মমি আবিষ্কারের পর থেকেই সেই মমি  নিয়ে মানুষের আগ্রহ বেড়েই
চলেছে । কারণ ব্রিটিশ হাওয়ার্ড কার্টার ও জর্জ হার্বার্ট নামের দুই প্রত্নতত্ত্ববিদের নেতৃত্বে তুতানখামেনের মমি আবিষ্কারের সময় তার সমাধি প্রায় অক্ষত অবস্থায় ছিল। কিন্তু মৃতদেহটি মোটেও অক্ষত ছিল না। মিশরের বেশির ভাগ পিরামিডে থাকা মূল্যবান সম্পত্তি লুঠ হয়ে গেলেও তুতানখামেনের সমাধিতে পাওয়া গিয়েছিল বিপুল সম্পত্তি। নানা গুরুত্বপূর্ণ নথি। মিশর সভ্যতার ইতিহাসে নয়া মোড় ঘুরে যায় তুতানখামেনের মমি আবিষ্কার পর।
এবার আশা যাক অভিশাপের ব্যাপারে। মিশরের অনেকেই বিশ্বাস করেন, তুতানখামেন মমিকে যারা বিরক্ত করবে, তাদের মৃত্যু অনিবার্য । এই বিশ্বাসটা তৈরি হয়েছিল ১৯২২ সালে প্রথম তুতানখামেনের মমি আবিষ্কারের পর থেকে।মমি আবিষ্কারের নেতৃত্বে ছিলেন ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ হোয়ার্ড কার্টার ও জর্জ হার্বার্ট। এই আবিষ্কারের কয়েকদিন পরেই ঘটে সেই অভিশপ্তময় ঘটনা। জর্জ হার্বার্ট ও কার্টারের নেতৃত্বে যেসব কর্মী এই খননকার্য চালিয়ে ছিলেন, ঘটনাচক্রে তাদের মধ্যে ২১ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে। এরপর থেকেই এঅঞ্চলের মানুষের মধ্যে অভিশাপের কাহিনীটি প্রচার হতে
থাকে।
কিন্তু দীর্ঘ সন্ধানেও মিলল না কিছুই,। পেলেন না কিছুই।  শেষে অনুসন্ধান বন্ধ করে দিতে বললেন লর্ড । হাওয়ার্ড পড়লেন মহা বিপদে।  হাওয়ার্ড কাকুতি মিনতি করে এক বছর সময় চেয়ে নিলেন ।
নতুন উদ্যমে মিশর ফিরে এলেন তিনি।
এবং বহু প্রচেষ্টার পরে সফলতা পেলেন।
খবর পাঠালেন লর্ডকে। ব্রিটেন থেকে তিনি এলেন মিশরে। তাঁর উপস্থিতিতে প্রবেশ করা হল মাটির গভীরে। কিছুদূর যাওয়ার পরে হাওয়ার্ড বুঝলেন এ পথে সুদূর অতীতে পা পড়লেও মূল প্রকোষ্ঠ অক্ষত।  একসময় সুড়ঙ্গ পথ শেষ হল সেই মূল প্রকোষ্ঠে। যার প্রবেশদ্বারে লিপিবদ্ধ ফ্যারাও তুতানখামেনের নাম! ১৯২২-এর নভেম্বর মাসে একদিন সর্ব প্রথম   বিংশ শতকের মানুষের পা পড়ল সেখানে।
পাওয়া গেল তিনটি সোনার শবাধার ।  যার একটিতে ছিল  কিশোর রাজা তুতানখামেন মামি  | কিন্তু যুগান্তকারী এই আবিষ্কারের সঙ্গে লেগে গেল অভিশাপের তকমা।
সমাধিতে পা রাখার কয়েক মাসের মধ্যে রহস্যমৃত্যু হল লর্ড কারনারভনের । কোনও এক কীট নাকি কামড়েছিল তাঁর গালে | পরে সেই ক্ষতই সংক্রামিত হয়ে যায়। যখন তিনি কায়রোর হাসপাতালে মারা যান, গোটা কায়রো শহরে একসঙ্গে বিদ্যুৎ চলে যায়। এবং লন্ডনে তখনও তাঁর সংবাদ এসে পৌঁছয়নি । যে সময় লর্ডের মৃত্যু হয়, ওই একই সময়ে লন্ডনে হঠাত্‍ চিৎকার করে ওঠে তাঁর পোষা কুকুর | তারপরেই স্তব্ধ হয়ে যায় পোষ্যটি ।
রহস্য এখানেই শেষ নয়।  হাওয়ার্ডের সেই পোষা হলুদ ক্যানারি পাখিটিকে সাপ মেরে ফেলে। যে রেডিওলজিস্ট এক্স-রে করেছিলেন তুতানখামেনের মামির, তিনি রহস্যজনকভাবে মারা যান। এক ধনী মার্কিনী দেখতে গিয়েছিলেন তুতানখামেনের সমাধি, তিনি মারা যান নিউমোনিয়ায় । ১৯২২ সালে আবিষ্কার হওয়ার পরে ১৯২৯ সালের মধ্যে তুতানখামেনের সমাধি আবিষ্কার-অভিযানের সঙ্গে যুক্তদের মধ্যে ১১ জনের মৃত্যু হয় রহস্যময় কারণে । এভাবে একে একে বিভিন্ন সময় মোট ২১ জনের মৃত্যু ঘটে যারা জড়িত ছিলেন তুতানখামেনের মমির উদ্ধারকার্যে।
সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হতে থাকে প্রাচীন মিশরীয় বচন, ‘ মৃত্যু তার কাছে ক্ষিপ্র ডানায় উড়ে আসে, যে ফ্যারাওয়ের শান্তি বিঘ্নিত করে । অনেকেরই বদ্ধমূল ধারনা হয়, তুতানখামেনের সমাধিতে এই বচন লেখা একটি ফলক ছিল, যা সরিয়ে রাখেন হাওয়ার্ড নিজে।  যাতে কোনও গুজব না রটে ।
কিন্তু যুক্তিবাদীরা এই অভিশাপের দাবি মানতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, তুতানখামেন যদি অভিশাপই দেবেন, তাহলে স্বয়ং আবিষ্কারক হাওয়ার্ড কার্টার রেহাই পেলেন কী করে ? তাঁর তো ৬৪ বছর বয়সে স্বাভাবিক মৃত্যুই হয়।  এক গবেষক দাবি করেন  তুতানখামেনের অভিশাপ কোনো  জাদু নয়,  জীবাণু। যখন তারা কবরে ঢুকেছিল তখন হাজার বছর পুরানো জীবাণু যা অন্ধকারে ছিল তা আলো পেয়ে আবার জেগে উঠে।  এসব জীবাণুর  সংক্রমণেই ধীরে ধীরে  মারা যায় তারা।
তুতানখামেনের মমি নিয়ে গবেষণা শেষ হয়ে যায় নি। ২০১৭ সালে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী   আরও  একবার  ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ ” নিকোলাস রিভেস” এর তত্ত্ববধানে অভিযান চলবে তুতেনখামেনের সমাধির গোপন ডেরায়। দীর্ঘ ৩৩০০ বছর ধরে লুকিয়ে থাকা তুতানখামেনের সমাধির ভিতর লুকিয়ে থাকা চেম্বারের রহস্য ভেদ করতে তাঁদের এই অভিযান বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ নিকোলাস রিভেস। কী থাকতে পারে এই চেম্বারে? তুতানখামেনের সমাধি নিয়ে এত দিন ধরে নিকোলাস যে গবেষণা চালিয়েছেন, সেখানে সমাধির একটি গুপ্তপথের সূত্র খুঁজে পেয়েছেন তিনি। এই গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি ৯০ শতাংশ নিশ্চিত, এবারে নতুন কিছু তথ্য হাতে পাবেনই। নিকোলাসের অনুমান তুতেনখামেনের সমাধিতে আরও দুটি গোপন কক্ষ রয়েছে। যার মধ্যে একটি হতে পারে রানি নেফাতিতির সমাধি! খ্রিস্টপূর্ব ১৩৫১ থেকে ১৩৩৪ সাল পর্যন্ত নেফাতিতি মিশরে রাজ করেছিলেন।
তুতানখামেন সমাধির এ রহস্য ভেদ করতে নিকোলাসকে সাহায্য করবে ইতালির তুরিনের একটি পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটি। এবং এর সঙ্গে থাকবে দু’বছর ধরে চালিয়ে যাওয়া অনুসন্ধানকারীর দলও। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে এ গবেষণা কাজ পরিচালিত হবে বলে জানান তুরিনের পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটির পদার্থবিজ্ঞানের প্রফেসর ফ্রাঙ্কো পরসেলি। মাটির তলায় ৩২ ফুট গভীর পর্যন্ত স্ক্যান করতে পারবে এমন শক্তিশালী রাডার সিস্টেম ব্যবহার করা হবে বলে তিনি জানান। এই রাডারের তরঙ্গায়িত হওয়ার ক্ষমতা ২০০ মেগা হার্টজ থেকে ২ গিগা হার্টজ পর্যন্ত।
তবে নীল নদের বাসিন্দাদের অনেকের মনে চিন্তা এখন একটাই। যাঁরা বিশ্বাস করেন এই সমাধিতে ঢোকার চেষ্টা করার ফল কখনও ভাল হয়না, তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, তুতানখামেনের সমাধিতে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে ফের ১৯২২ সালের মতো কোনও বিভীষিকা ফিরে আসবে না তো! নতুন করে অভিশাপের ছায়া পড়বে না তো মিশরবাসীদের উপর! বিজ্ঞানমনস্ক চোখ এ সব উড়িয়ে দিলেও, মানুষের  বিশ্বাসকে কি অত সহজে টলানো যায়!

রেডার বা ইনফ্রারেড টেস্ট-এর চূড়ান্ত রিপোর্ট এখনও আসেনি | স্ক্যানড ছবি জাপানে পাঠিয়েছেন জাপানি রেডার বিশেষজ্ঞ হিরোকাৎসু ওয়াটানাবে | ফলাফল সামনে এলে ভাবনাচিন্তা করা হবে কী করে প্রবেশ করা যায় ওই গোপন প্রকোষ্ঠে |

                                                                         <------------আদ্যনাথ ----------->
                                                                             17/05/2019::08:53:12pm
===============================

Wednesday, May 1, 2019

28> || মিশরের মন্দির গুলি ||------গল্প =ইতিহাস +D+H

 


L> || মিশরের মন্দির গুলি ||-------গল্প=ইতিহাস

The Temples Of Egypt as I see.
                             <---©-আদ্যনাথ--->

আমার দেখা মিশরের মন্দির গুলি।
যেটুকু বুঝেছি সেই টুকুই লিখছি।

প্রাচীন মিশরের  টেম্পেল গুলি বিশেষ গুরুত্ব পূর্ণ । টেম্পেল গুলিতে প্রাচীন মিশরের গড় ও গডেস গন বাস করতেন।
প্রত্যেক গড় ও গডেস আলাদা আলাদা টেম্পল যেখানে তারা পূজিত হতেন টেম্পেলের পৃষ্ট ও ফেরাও দের দ্বারা।
টেম্পল গুলিতে সকল মানুষের পূজার
অনুমতি ছিলনা।
কেবল মাত্র রাজা ও পৃষ্ট গনই পূজা করতে পারতেন কঠোর শুদ্ধি করণের মাধ্যমে।
সাধারন মানুষ কেবল মাত্র কোন উৎ সবের দিনে, যখন মনে করা হতো যে দেবতারা বাইরে বেরিয়ে আসতেন তখনই সাধারন মানুষ টেম্পেলে প্রবেশ করার অধিকার পেতেন।

প্রাচীন মিশরীয় টেম্পল গুলির মহত্ব  দেশের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য অতিশয় মূল্যবান ও
আঙাকিক ভাবে জড়িত।
টেম্পল গুলির অধীনে প্রচুর জমি বা অঞ্চল থাকত।এবং প্রচুর শ্রমিক মানুষ চাকুরী রত
থাকত । এবং মনে করা হত এখানে ফেরাও গন ও রাজা সরাসরি দেবতাদের সাথে
যোগাযোগ করতেন।

প্রাচীন মিশরীয় টেম্পল গুলির প্রধানত
দুই ভাগে বিভ্ক্তো ছিলো।

প্রথমটি ছিল যেটি বিশেষ কোন গড় বা
গডেজের জন্য উৎসর্গকৃত।
যেমন ইডফুর হোরাসের টেম্পেল।
আসোয়ানের আইসিসির টেম্পেল।

দ্বিতীয় ধরার টেম্পেল গুলি সমাধিসংক্রান্ত
যেগুলি ফেরাও দের মৃত্যুর পরে তাদের জন্য
নিবেদিত হত। যেখানে ফেরাও রা দেবতা রূপে পূজিত হতেন।
যেমন থীবজ নগরীর রামেসেজ || টেম্পল।
 যেটুকু দেখে বুঝেছি টেম্পল গুলি এমন
সান্ড স্টোন  দিয়ে তৈরি  যা বেশি দিন টিকে থাকতে সক্ষম।
ঘরের মেঝে কোআটজ ( Courts) নামক পাথরের, এবং হল ও পিলার গুলি
প্যাপিরাস ( যে গাছের ছাল থেকে পুরাকালে
মানুষ কাগজ প্রস্তুত করতো)গাছ, পালম গাছ, ও পদ্ম ফুলের আকারে তৈরি করতো।
গৃহের ছাদ গুলি সাজানো হত তারা, নক্ষত্র,
 ইত্যাদি অঙ্কন করে। এবং আশ্রয়স্থল নির্দেশ করতো ঢিবির মতন সু উচ্ছ স্থানে।
টেম্পেল গুলি পূর্ব পশ্চিম নির্দেশিত হত
কারন মনে করা হত সূর্য পিলার গুলির উপরে উদিত হয়ে সামনের গেট দিয়ে প্রবেশ করে
মন্দিরে উপরে অস্ত যেতো।
 মন্দিরের ভেতরে ফেরাও দের নানা কার্যের
নিদর্শন,দেবতা পূজা অনুষ্ঠান, ফেরাও দের নানা যুদ্ধের চিত্র,অঙ্কন করে সাজানো হত।
আর বাহিরের দেওয়ালে ফেরাও গন দেখাতেন সকল  বিরক্তিকর বিশৃঙ্খলার
ছবি।
প্রাচীন মিশরে প্রথম পৌরাণিক মন্দির তৈরি হয়েছিল আনুমানিক চার মিলিনিয়াম বি,সি,
তে।
" 4th millennium B.C. and depicted the shape of reed huts.
The last of the Egyptian temples were built at Philae which was stopped using after the 6th century A.D., so the temples of ancient Egypt covered a large variety of different structures that evolved over a long period of time."

So When visiting Egypt don't forget to visit these temples .
As I hope you  definite must-see these
Temples.
           =====================
D>=কর্ণাক মন্দির, মিশর  বা  কারনাক ট্যাম্পেল:
     dt--03/04/2019
এই মন্দিরের শহরটি 2000 বছরেরও বেশি সময় আগে নির্মিত হয়েছিল।
কর্ণাকের মন্দির হল স্থাপত্য-কাঠামো ও সুন্দর কারু কার্য সমন্বিত  নির্মিত
একটি সুবিশাল ইমারত ভবন।

এই অঞ্চলটি এখনো আধুনিক বিশ্বের বেশ কিছু  বিস্ময়করের  সঙ্গে তুলনা
করা চলে।
কর্ণাক টেম্পল  প্রায় 200 একর এলাকায় আবৃত এবং এখান থেকেই  সমস্ত ধর্মীয় ভবনগুলির তৈরী করা হয়েছিল । এই মন্দিরটি 4,000 বছরেরও বেশী সময় ধরে মিসর বাসীর  তীর্থ স্থান।
মিশরের অনেক আকর্ষণীয় মন্দির গুলোর মধ্যে কারনাক মন্দির সবচেয়ে প্রাচীন।
কারনাক মন্দিরটি প্রাচীন বৃহত্তম ধর্মীয় স্থাপনা।
এটি মূলত একটি মন্দিরের শহর যা 2000 বছরেরও বেশি আগে নির্মিত হয়েছে।
এটি বিশ্বের  সবচেয়ে জনপ্রিয় বিস্ময়গুলোর মধ্যে একটি।
এখন এটি  একটি অনন্য পর্যটনস্থল।
      ===========================================

H>. আবু সিম্বেল মন্দির:
উই
মিশরীয় বিশ্ব ঐতিহ্যের অনন্য এক স্থাপনা
মিশরের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ আবু সিম্বেল
লেক নাসের এর পশ্চিম তীরে অবস্থিত।
এটি একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান।
এই মন্দির “নূবিয়ান মনুমেন্ট” নামেও  পরিচিত।

আবু সিম্বেল এক নিদর্শন মিশরের দক্ষিণ প্রান্তে নীল নদের তীরে অবস্থিত পাথরের তৈরি পুরাতাত্ত্বিক স্থাপনা ‘আবু সিম্বেল’। এই অনন্য স্থাপনাটি জাতিসংঘ কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি ‘নূবিয়ান মনুমেন্ট’ নামেও পরিচিত। এই মন্দিরের নির্মাণ কৌশল ও শিল্পবোধের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মিশরীয় সভ্যতার এক অজানা ইতিহাস।

 দুটি বিশাল আকৃতির পাথর কেটে এই মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে।
 ১৩’শ শতকে এই জোড়া মন্দিরটি ফারাও রাজা রামেসেসের দ্যা গ্রেট নিজের ও
তার স্ত্রী নেফারতারির সমাধির জন্য নির্মাণ করেছিলেন।
এটি ইউনেস্কো দ্বারা বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান রূপে ঘোষিত হয়েছে।
এই মন্দির দেখার জন্য প্রচুর পর্যটকদের সমাগম ঘটে এখানে।
মিশরের আবু সিম্বেলের মন্দির আবু সিম্বেল, মিশর
দক্ষিণ মিশরে অবস্থিত আবু সিম্বেল হল একটি গ্রাম, যা দু’টি আবু তাহের
মন্দিরের আবাসস্থল।
এগুলি প্রস্তর দ্বারা নির্মিত এবং লেক নাশেরের পশ্চিম তীরে অবস্থিত।
স্থানটি ইউনেস্কো দ্বারা বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান রূপে ঘোষিত হয়েছে এবং
এটি “নূবিয়ান মনুমেন্ট” নামে পরিচিত।
এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য্য এবং আসওয়ান উচ্চ বাঁধের নির্মাণকার্য থেকে
ক্রমবর্ধমান জলস্রোতের দ্বারা আসন্ন ভয়াবহতার দরুণ ইউনেস্কো তাদের
অপসারণ ও পুর্ননির্মাণের জন্য একটি কর্মসূচীর প্রস্তাব উত্থাপণ করেছে।

এই ক্রিয়াকলাপ 1964 ।

মন্দিরটি র সম্বন্ধে যত টুকু জেনেছি তা হল মিশরের আসওয়ান শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে নাসের লেকের তীরে আবু সিম্বেল নামক এক গ্রামের অবস্থান। মিশরের আর পাঁচটা মরু গ্রামের মতোই প্রকৃতি এখানে রুক্ষ। সবুজের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। চোখ শুধুই ধু ধু রুক্ষতার সাক্ষী।  সবুজ বলতে কিছু ঘাস ইতিউতি মাথা তুলেছে। সূর্যস্নাত মিশর দেশের এই শুষ্ক-ধূসর প্রান্তরের গুরুত্ব কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে সমগ্র মানব সভ্যতার কাছে অমূল্য। 
কারণ এখানেই যে রয়েছে ভুবনবিদিত আবু সিম্বেল মন্দির। 
আসওয়ান হাই ড্যাম রিজারভয়ারের উপর দৈত্যাকার মন্দিরদু’টি অবস্থিত। 
পাথরের গায়ে খোদাই করে করে তৈরি করা হয়েছে বিশাল আকৃতির সব মূর্তি।

খ্রিস্টপূর্ব ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ফারাও দ্বিতীয় রামসেসের শাসনকালে নীল নদের তীরে পাথর কেটে এই মন্দির তৈরি করা হয়। মন্দিরটির দুটি অংশ; একটি ছোট, অন্যটি বড়। ঐতিহাসিকদের মতে, বড় মন্দিরটি রামসেস নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন এবং ছোটটি তার প্রিয় রানী নেফারতিতিকে। ৩৩ মিটার লম্বা এবং ৩৮ মিটার চওড়া এই মন্দিরটি পর্যটকদের কাছে খুবই আকষর্ণীয়।


প্রচলিত ধারণা হচ্ছে রামসেস নিজের মহত্ত্ব এবং অসাধারণত্ব প্রমাণ করার জন্যই মন্দিরটি তৈরি করেছিলেন। প্রজা ও পাশের রাজ্যগুলোর কাছে সম্মান বজায় রেখে মিশরীয় ধর্মের প্রতিপত্তি বাড়ানোই ছিল রামসেসের উদ্দেশ্য। বলা হয়, কাদেশ-এর যুদ্ধকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে প্রবল পরাক্রমশালী এই শাসক নিজের ও প্রিয়তমা রানী নেফারতারির মূর্তি খোদিত মন্দির দুটি নির্মাণ করেন। আনুমানিক ১২৬৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। এই মন্দিরের নির্মাণ শেষ হতে সময় লেগেছিল প্রায় বিশ বছর।

দ্বিতীয় রামসেস তার সাহস ও যুদ্ধকৌশলে খুব কম সময়ের মধ্যে দক্ষিণে নুবিয়া পর্যন্ত রাজ্যের সীমানা বিস্তার করেন, ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন মিশরের একচ্ছত্র অধিপতি। শুধু রাজ্যবিস্তারেই নয়; স্থাপত্য, ভাস্কর্য, চিত্রশিল্প, কারিগরী প্রায় সবক্ষেত্রেই তার সময়কালে সব দিকেই উন্নতির ছোঁয়া লেগেছিল, যা পরবর্তীতে হয়ে ওঠে মানব সভ্যতার গর্ব, মিশরীয় সভ্যতা।

এহেন বীরপুরুষ রামসেসের কিন্তু পত্নীর সংখ্যাও ছিল শতাধিক। তাদের মধ্যে ফারাওয়ের প্রিয়তমা ছিলেন সুন্দরী ও অশেষ গুণের অধিকারিণী রানী নেফারতিতি। নেফারতিতিকেই রামসেসের বহু মূর্তির পাশে দেখা যায়; যেমন- আবু সিম্বেলের মন্দিরে। তবে, এ মন্দির স্ত্রীর প্রতি রামসেসের ভালবাসার প্রকাশ নয়, এ হলো বিশালত্বের মধ্যে দিয়ে প্রজা ও প্রতিবেশী রাজ্যের কাছে ফারাওয়ের আত্মাভিমান ও অহং প্রদর্শন

দু’টি মন্দিরে সমন্বয়ে গঠিত আবু সিম্বেল মন্দিরটি। বড় মন্দির, যেটা রামসেসের নিজের নামে। মস্ত পাথরের বেদিতে পরপর চারটি মূর্তি রয়েছে। তিনটি মূর্তি রামসেসের পূজিত দেবতার। চতুর্থটি দেবপদে উন্নীত স্বয়ং রামসেস। মন্দিরটি এমনই কারিগরী উৎকর্ষতায় পরিপূর্ণ যে, সূর্যোদয়ের সঙ্গে-সঙ্গে সূর্যের প্রথম রশ্মি প্রতিটি দ্বার দিয়ে প্রবেশ করে দেবতাদের মুখমন্ডল আলোকিত করে।
দু’টি মন্দিরের বড়টি ফারাও দ্বিতীয়  রামসেসের নামে পরিচিত;

সেই সময়ের অন্য ফারাওদের মতোই রামসেস নিজেকে ঈশ্বরের চেয়ে কম মনে করতেন না। বাইরের দেওয়ালে ২০ মিটার উঁচু রামসেসের নানা রূপের চারটে প্রকান্ড মূর্তি। এই চারটি মূর্তির পায়ের কাছে আছে আরো মূর্তি, সম্ভবত তা রামসেসের সন্তান ও তাদের মায়ের।

মন্দিরের গর্ভগৃহে তিন মিশরীয় দেবতা আমুন, রা-হারাখতি এবং প্তাহ (ptah), চতুর্থটি নিজেকে দেবতা বলে স্বীকৃতি দেয়া রামসেসের মূর্তি;

প্রবেশদ্বারের ঠিক উপরে রা-হারাখতির একটি মূর্তি, যাকে দু’পাশ থেকে পূজো করছেন রামসেস। দেওয়ালের উপর সার দিয়ে বেবুনের মূর্তি দু’হাত তুলে সূর্যের আরাধনা করছে। মিশরীয় স্থাপত্যের এক অদ্ভুত ব্যাপার হলো এর ত্রিকোণ আকৃতি। আবু সিম্বেলেও এর অন্যথা হয়নি। তাই বাইরের ঘরগুলোর তুলনায় ভিতরের ঘরগুলো ছোট।
মন্দিরের অভ্যন্তরে রামসেস, রানি নেফারতিতি ও তার সন্তানদের মূর্তি;

প্রবেশদ্বার দিয়ে ঢুকেই যে বিশাল হলঘরটি (হাইপোস্টাইল হল) তার স্তম্ভ হিসেবে রয়েছে আটটি রামসেসের মূর্তি, যেখানে তাকে মিশরীয় দেবতা ওসাইরিস রূপে দেখানো হয়েছে। দেওয়াল ভর্তি রামসেসের যুদ্ধের ছবি। রয়েছে লিবিয়া, সিরিয়া, নুরিয়ার বিজয় এবং অবশ্যই বিখ্যাত কাদেশ যুদ্ধজয়ের প্রতিকৃতি। দ্বিতীয় হলের দেওয়ালে রামসেস, নেফারতারি ও দেবতাদের ছবিতে ভর্তি।

মন্দিরের দেওয়ালে খচিত নানা চিত্রশিল্প;

দ্বিতীয় এবং ছোট মন্দিরটি রানি নেফারতারি ও সৌন্দর্য, ভালবাসার দেবী হাথোরকে উৎসর্গ করা। এর সামনের দেওয়ালে রয়েছে ছ’টি মূর্তি। চারটে রামসেসের এবং দু’টি নেফারতারির। সব মূর্তির উচ্চতা এক। সমান উচ্চতার ব্যাপারটি উল্লেখযোগ্য এই কারণেই যে , মিশরে রানীদের উচ্চতা ফারওদের মূর্তির হাঁটুর চেয়ে বেশি হতো না। তবু নেফারতারি ও রামসেসের মূর্তির উচ্চতা এক হওয়ার একটাই মানে হতে পারে, ফারাও রানীকে যোগ্যতায় ও সম্মানে নিজের সমান মনে করতেন।

এই মন্দিরে প্রবেশ পথের দু’ধারে খোপের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে ছয়টি পঁয়ত্রিশ ফুট উঁচু মূর্তি। এখানে দুটি রামসেসের মূর্তির মাঝখানে রানীর মূর্তি খোদিত। মন্দিরের গর্ভগৃহেও রয়েছে রানীর একটি মূর্তি। প্রাণহীন এই প্রস্তর অবয়বে লাবণ্য, কমনীয়তা ও বীরত্বের মতো মানব অনুভূতির যে অপূর্ব প্রকাশ রয়েছে, তার শিল্পকুশলতা সকলকে বিস্মিত করে।


কিন্তু প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে আক্রান্ত আবু সিম্বেল মন্দির
সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার, মন্দিরটি আবিষ্কারের পর ফের হারিয়ে যেতে বসেছিল। আসওয়ান হাই ড্যাম নামে পরিচিত বিশাল বাঁধের কারণে চারশো মাইল বিস্তৃত বিশাল হ্রদের সৃষ্টি হয়েছিল। কৃত্রিম হ্রদ ‘নাসের’-এর পানির স্তর বাড়তে থাকায় নদীর তীরে অবস্থিত মন্দিরটি ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়। হ্রদের জল ক্রমশই বেড়ে আবু সিম্বেলকে গ্রাস করবে, এই আশঙ্কায় সমগ্র পৃথিবীর পর্যটকেরা একসময় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল।

আর সেই কারণেই তৈরী হলো আসওয়ান হাই ড্যাম;
নীল নদের প্রভাব থেকে মন্দির উদ্ধার করার উদ্যেশ্যে ইউনেস্কো এগিয়ে আসে।

মানুষের এই অবিস্মরণীয় পুরাকীর্তিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে 
১৯৬৪ সালে ইউনেস্কো ও মিশর সরকারের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয় উদ্ধার কার্য। 
মন্দিরটি নতুনভাবে নির্মাণ করা হয় আসওয়ান হাই ড্যাম রিজার্ভারের উপর।  
মন্দির দু’টিকে টুকরো-টুকরো করে কেটে হাজারের বেশি অংশে ভাগ করা হয়। প্রত্যেকটি টুকরোকে নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করে, কাছের একটি পাহাড়ের উপর তোলা হয়।

ইউনেস্কো ও মিশর সরকারের যৌথ উদ্যোগে এই কাজ 
শুরু হয়;

একেকটা অংশের ওজন প্রায় ত্রিশ টন। প্রত্যেকটি অংশকে তুলে তীরের চেয়ে ৬৫ মিটার উঁচুতে হুবহু মূল মন্দিরের অনুকরণে সাজিয়ে তাদের বসানো হয়। মূল মন্দির ও পাহাড়ের চূড়ার মাঝখানে যে হাজার-হাজার টনের পাথর ছিল, নতুন স্থাপিত মন্দিরে সেই পাথরের পরিবর্তে তৈরি করা হয় কংক্রিটের বিশাল ডোম। উল্টানো হাঁড়ির মতো দেখতে এই ডোমের ছাদের উপর লক্ষ-লক্ষ টন বালি ফেলে, তাকে পাহাড়ের আকৃতি দেওয়া হয়। হিসেব কষে সূর্যের কক্ষপথের সঙ্গে মন্দিরের অবস্থানকে আগের মতোই মিলিয়ে দেওয়া হলো। কাজটায় সময় লেগেছিল প্রায় চার বছর।এ কালের স্থপতিদের তত্ত্বাবধানে মন্দিরটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করা হয়;
বর্তমানে মন্দিরটির ‘নতুন’ কলেবরে তৈরি, কিন্তু অবিকল পুরানো চেহারার মতো। 


শুধু ভাবনা একটাই যে  আধুনিক যুগে যন্ত্রের সাহায্যে যে কাজ করা হয়েছে, বহু যুগ আগে লক্ষ-লক্ষ টন ওজনের পাথর কাটা ও বসানোর মতো অতিমানবীয় কাজ সেসময়কার মানুষ তাদের আপন হাতে ও বুদ্ধিমত্তার জোরে সম্পন্ন করেছিল যা সত্যিই অবিশ্বাস্য।

====================================

H>আবু সিম্বেল: 



মিশরীয় বিশ্ব ঐতিহ্যের অনন্য এক স্থাপনা


বিশ্ব ঐতিহ্যের নানা নিদর্শন ও স্থাপনা ছড়িয়ে রয়েছে সমগ্র মিশর জুড়ে। তেমনি এক নিদর্শন মিশরের দক্ষিণ প্রান্তে নীল নদের তীরে অবস্থিত পাথরের তৈরি পুরাতাত্ত্বিক স্থাপনা ‘আবু সিম্বেল’। এই অনন্য স্থাপনাটি জাতিসংঘ কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি ‘নূবিয়ান মনুমেন্ট’ নামেও পরিচিত। এই মন্দিরের নির্মাণ কৌশল ও শিল্পবোধের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মিশরীয় সভ্যতার এক অজানা ইতিহাস।

মিশরের আসওয়ান শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে নাসের লেকের তীরে আবু সিম্বেল নামক এক গ্রামের অবস্থান। মিশরের আর পাঁচটা মরু গ্রামের মতোই প্রকৃতি এখানে রুক্ষ। সবুজের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। চোখ শুধুই ধু ধু রুক্ষতার সাক্ষী। মনোরম সবুজের সামান্য আচঁও এখানে নেই, তা সত্ত্বেও প্রবল শক্তিমান কিছু ঘাস ইতিউতি মাথা তুলেছে। সূর্যস্নাত মিশর দেশের এই শুষ্ক-ধূসর প্রান্তরের গুরুত্ব কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে সমগ্র মানব সভ্যতার কাছে অমূল্য। কারণ এখানেই যে রয়েছে ভুবনবিদিত আবু সিম্বেল মন্দির। আসওয়ান হাই ড্যাম রিজারভয়ারের উপর দৈত্যাকার মন্দিরদু’টি অবস্থিত। পাথরের গায়ে খোদাই করে করে তৈরি করা হয়েছে বিশাল আকৃতির সব মূর্তি। ফারাও দ্বিতীয় রামসেসের সময়কালে এই অপূর্ব স্থাপত্যটি নির্মাণ করা হয় বলে ঐতিহাসিকদের অভিমত।

1813 সালের দিকের কথা। তখনও মিশরে মরুর বালির নীচে লুকিয়ে অজানা সব রহস্য। তিন ভাগের এক ভাগও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি মাটির নীচের রহস্যময় সব সম্পদের। বালি খুড়লেই যেন বেরিয়ে পড়বে স্তরে স্তরে সাজানো মূল্যবান পুরাতাত্ত্বিক ভগ্নাবশেষ।

এমনই এক ভগ্নাবশেষের একাংশ হঠাৎই চোখে পড়ে সুইস অনুসন্ধানী লুই বুরখার্ডটের। দক্ষিণ মিশরের নুরিয়া অঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন তিনি। হঠাৎ প্রচন্ড হাওয়ায় বালি উড়তে শুরু করলো। অনেকটা বালি উড়ে যাওয়ার পর লুই দেখলেন, বালির তলা থেকে কী একটা উঁকি মারছে। ফলে রহস্যের গন্ধ পেতে খুব একটা সময় নেননি অনুসন্ধানকারী লুই। সামনে গিয়ে বুঝলেন, ওটা একটা স্থাপত্যের ছাদ। কিন্তু বালি খুঁড়ে নীচে কী আছে দেখা হয়ে ওঠেনি। মিশর থেকে এই আবিষ্কারের কথা বলছিলেন তার এক বন্ধু জিওভানি বেলজোনিকে। এই ভদ্রলোক ছিলেন অনুসন্ধিৎসু এক মানুষ। তিনি কৌতুহল চাপতে না পেরে সোজা মিশরে রওনা দিলেন। প্রথমবার বালি খুঁড়ে নীচের রহস্যের সমাধান করতে পারলেন না বটে, কিন্তু হাল ছাড়লেন না।

1817 সালে ফিরে এলেন দলবল সহ। বালি খুঁড়ে একটি মন্দিরে ঢোকার প্রবেশদ্বার আবিষ্কার করলেন। অনুসন্ধানী হলেও, স্থাপত্যটির ঐতিহাসিক মূল্য নিয়ে তার বিশেষ মাথাব্যথা ছিল না। মন্দিরের ভিতরে ঢুকে যাবতীয় মূল্যবান জিনিস নিয়ে তিনি পালিয়ে যান। আর এভাবেই আবিষ্কৃত হয় প্রাচীন স্থাপত্যের এক অনন্য বিস্ময় ‘আবু সিম্বেল মন্দির’।


মানচিত্রে আবু সিম্বেল মন্দিরের অবস্থান;
কীভাবে নামকরণ হলো এই স্থাপত্যের


ধারণা করা হয়, ‘আবু সিম্বেল’ নামটি এক বালকের, যে সেই সময় অভিযাত্রীদের বালিতে অর্ধেক চাপা পড়া এই মন্দির দেখাতো। সেই থেকেই এই ছেলেটির নামেই মন্দিরের নাম হয়ে যায় ‘আবু সিম্বেল’। খ্রিস্টপূর্ব ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ফারাও দ্বিতীয় রামসেসের শাসনকালে নীল নদের তীরে পাথর কেটে এই মন্দির তৈরি করা হয়। মন্দিরটির দুটি অংশ; একটি ছোট, অন্যটি বড়। ঐতিহাসিকদের মতে, বড় মন্দিরটি রামসেস নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন এবং ছোটটি তার প্রিয় রানী নেফারতিতিকে। 33 মিটার লম্বা এবং 38 মিটার চওড়া এই মন্দিরটি পর্যটকদের কাছে খুবই আকষর্ণীয়।

প্রচলিত ধারণা হচ্ছে রামসেস নিজের মহত্ত্ব এবং অসাধারণত্ব প্রমাণ করার জন্যই মন্দিরটি তৈরি করেছিলেন। প্রজা ও পাশের রাজ্যগুলোর কাছে সম্মান বজায় রেখে মিশরীয় ধর্মের প্রতিপত্তি বাড়ানোই ছিল রামসেসের উদ্দেশ্য। বলা হয়, কাদেশ-এর যুদ্ধকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে প্রবল পরাক্রমশালী এই শাসক নিজের ও প্রিয়তমা রানী নেফারতারির মূর্তি খোদিত মন্দির দুটি নির্মাণ করেন। আনুমানিক 1264 খ্রিস্টপূর্বাব্দে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। এই মন্দিরের নির্মাণ শেষ হতে সময় লেগেছিল প্রায় বিশ বছর।

দ্বিতীয় রামসেস তার সাহস ও যুদ্ধকৌশলে খুব কম সময়ের মধ্যে দক্ষিণে নুবিয়া পর্যন্ত রাজ্যের সীমানা বিস্তার করেন, ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন মিশরের একচ্ছত্র অধিপতি। শুধু রাজ্যবিস্তারেই নয়; স্থাপত্য, ভাস্কর্য, চিত্রশিল্প, কারিগরী প্রায় সবক্ষেত্রেই তার সময়কালে সব দিকেই উন্নতির ছোঁয়া লেগেছিল, যা পরবর্তীতে হয়ে ওঠে মানব সভ্যতার গর্ব, মিশরীয় সভ্যতা।

এহেন বীরপুরুষ রামসেসের কিন্তু পত্নীর সংখ্যাও ছিল শতাধিক। তাদের মধ্যে ফারাওয়ের প্রিয়তমা ছিলেন সুন্দরী ও অশেষ গুণের অধিকারিণী রানী নেফারতিতি। নেফারতিতিকেই রামসেসের বহু মূর্তির পাশে দেখা যায়; যেমন- আবু সিম্বেলের মন্দিরে। তবে, এ মন্দির স্ত্রীর প্রতি রামসেসের ভালবাসার প্রকাশ নয়, এ হলো বিশালত্বের মধ্যে দিয়ে প্রজা ও প্রতিবেশী রাজ্যের কাছে ফারাওয়ের আত্মাভিমান ও অহং প্রদর্শন।
মন্দিরের বৈশিষ্ট্য


দু’টি মন্দিরে সমন্বয়ে গঠিত আবু সিম্বেল মন্দিরটি। বড় মন্দির, যেটা রামসেসের নিজের নামে। মস্ত পাথরের বেদিতে পরপর চারটি মূর্তি রয়েছে। তিনটি মূর্তি রামসেসের পূজিত দেবতার। চতুর্থটি দেবপদে উন্নীত স্বয়ং রামসেস। মন্দিরটি এমনই কারিগরী উৎকর্ষতায় পরিপূর্ণ যে, সূর্যোদয়ের সঙ্গে-সঙ্গে সূর্যের প্রথম রশ্মি প্রতিটি দ্বার দিয়ে প্রবেশ করে দেবতাদের মুখমন্ডল আলোকিত করে।

দু’টি মন্দিরের বড়টি ফারাও দিবতীয় রামসেসের নামে পরিচিত;

সেই সময়ের অন্য ফারাওদের মতোই রামসেস নিজেকে ঈশ্বরের চেয়ে কম মনে করতেন না। বাইরের দেওয়ালে 20 মিটার উঁচু রামসেসের নানা রূপের চারটে প্রকান্ড মূর্তি। এই চারটি মূর্তির পায়ের কাছে আছে আরো মূর্তি, সম্ভবত তা রামসেসের সন্তান ও তাদের মায়ের।

মন্দিরের গর্ভগৃহে তিন মিশরীয় দেবতা আমুন, রা-হারাখতি এবং প্তাহ (ptah), চতুর্থটি নিজেকে দেবতা বলে স্বীকৃতি দেয়া রামসেসের মূর্তি;

প্রবেশদ্বারের ঠিক উপরে রা-হারাখতির একটি মূর্তি, যাকে দু’পাশ থেকে পূজো করছেন রামসেস। দেওয়ালের উপর সার দিয়ে বেবুনের মূর্তি দু’হাত তুলে সূর্যের আরাধনা করছে। মিশরীয় স্থাপত্যের এক অদ্ভুত ব্যাপার হলো এর ত্রিকোণ আকৃতি। আবু সিম্বেলেও এর অন্যথা হয়নি। তাই বাইরের ঘরগুলোর তুলনায় ভিতরের ঘরগুলো ছোট।

মন্দিরের অভ্যন্তরে রামসেস, রানি নেফারতিতি ও তার সন্তানদের মূর্তি;

প্রবেশদ্বার দিয়ে ঢুকেই যে বিশাল হলঘরটি (হাইপোস্টাইল হল) তার স্তম্ভ হিসেবে রয়েছে আটটি রামসেসের মূর্তি, যেখানে তাকে মিশরীয় দেবতা ওসাইরিস রূপে দেখানো হয়েছে। দেওয়াল ভর্তি রামসেসের যুদ্ধের ছবি। রয়েছে লিবিয়া, সিরিয়া, নুরিয়ার বিজয় এবং অবশ্যই বিখ্যাত কাদেশ যুদ্ধজয়ের প্রতিকৃতি। দ্বিতীয় হলের দেওয়ালে রামসেস, নেফারতারি ও দেবতাদের ছবিতে ভর্তি।

মন্দিরের দেওয়ালে খচিত নানা চিত্রশিল্প;

দ্বিতীয় এবং ছোট মন্দিরটি রানি নেফারতারি ও সৌন্দর্য, ভালবাসার দেবী হাথোরকে উৎসর্গ করা। এর সামনের দেওয়ালে রয়েছে ছ’টি মূর্তি। চারটে রামসেসের এবং দু’টি নেফারতারির। সব মূর্তির উচ্চতা এক। সমান উচ্চতার ব্যাপারটি উল্লেখযোগ্য এই কারণেই যে , মিশরে রানীদের উচ্চতা ফারওদের মূর্তির হাঁটুর চেয়ে বেশি হতো না। তবু নেফারতারি ও রামসেসের মূর্তির উচ্চতা এক হওয়ার একটাই মানে হতে পারে, ফারাও রানীকে যোগ্যতায় ও সম্মানে নিজের সমান মনে করতেন।

দ্বিতীয় মন্দিরটি রানি নেফারতারির মন্দির ;

এই মন্দিরে প্রবেশ পথের দু’ধারে খোপের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে ছয়টি পঁয়ত্রিশ ফুট উঁচু মূর্তি। এখানে দুটি রামসেসের মূর্তির মাঝখানে রানীর মূর্তি খোদিত। মন্দিরের গর্ভগৃহেও রয়েছে রানীর একটি মূর্তি। প্রাণহীন এই প্রস্তর অবয়বে লাবণ্য, কমনীয়তা ও বীরত্বের মতো মানব অনুভূতির যে অপূর্ব প্রকাশ রয়েছে, তার শিল্পকুশলতা সকলকে বিস্মিত করে।
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে আক্রান্ত আবু সিম্বেল মন্দির


সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার, মন্দিরটি আবিষ্কারের পর ফের হারিয়ে যেতে বসেছিল। আসওয়ান হাই ড্যাম নামে পরিচিত বিশাল বাঁধের কারণে চারশো মাইল বিস্তৃত বিশাল হ্রদের সৃষ্টি হয়েছিল। কৃত্রিম হ্রদ ‘নাসের’-এর পানির স্তর বাড়তে থাকায় নদীর তীরে অবস্থিত মন্দিরটি ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়। হ্রদের পানি ক্রমশই বেড়ে আবু সিম্বেলকে গ্রাস করবে, এই আশঙ্কায় সমগ্র পৃথিবীর পর্যটকেরা একসময় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল।

                                                                  <---©-আদ্যনাথ--->
===========================================

       <---©-আদ্যনাথ---> 
     【--anrc-14/04/2019--】
     【=রাত্রি:02:08:02=】
【=বেলঘড়িয়া=কোলকাতা -56=】
===========================






27>|| পিরামিড কি--||--গিজার পিরামিড:khufu/cheops--গল্প =ইতিহাস



  27 >  || পিরামিড কি-||গিজার পিরামিড----Khufu / Cheops গল্প=ইতিহাস
                             <---©-আদ্যনাথ--->



পৃথিবী অসংখ্য রহস্যের আজও উদঘাটন হয়নি । তবে এগুলো নিয়ে গবেষণা চলছে।  রহস্যময় পৃথিবীতে প্রাকৃতিক বা অ-প্রাকৃতিক রহস্যের সীমা নেই। এরমধ্যে আবার কিছু স্থান বা বিষয় রয়েছে যা অতি-প্রাকৃতিক। এ কারণে এগুলো যুগ যুগ ধরে মানুষের কাছে হাজারো রহস্যে ঘেরা। আধুনিক বিজ্ঞানের উৎকর্ষতাও এ রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি।
যে1eমন মিশরের পিরামিড কেন তৈরী করা হয়েছিল?h
এবং কিভাবে তৈরি করা হয়ে ছিল।

পিরামিড কাকে বলে,-----

পিরামিড (Pyramid) হলো এক প্রকার জ্যামিতিক আকৃতি বা গঠন যার বাইরের তলগুলো ত্রিভূজাকার (Triangular) এবং যারা শীর্ষে একটি বিন্দুতে মিলিত হয়। পিরামিড একটি বহুভূজাকৃতি ভূমির উপর অবস্থিত।
বহুভূজের উপর অবস্থিত যে ঘনবস্তুর একটি শীর্ষবিন্দু থাকে এবং যার পার্শ্বতলগুলো প্রত্যেকটি ত্রিভুজাকার, তাকে পিরামিড বলে।
পিরামিডের ভূমি যেকোনো আকারের বহুভূজ (Polygon) হতে পারে এবং এর পার্শ্বতলগুলো যেকোনো আকারের ত্রিভূজ (Triangle) হতে পারে।
একটি পিরামিডের কমপক্ষে তিনটি ত্রিভূজাকার পার্শ্বতল (Triangular outer surfaces) থাকে, অর্থাৎ পিরামিডের ভূমিসহ কমপক্ষে চারটি তল থাকে।
বর্গাকার পিরামিড (Square Pyramid) হলো এমন একটি পিরামিড যা একটি বর্গাকার ভূমির উপর অবস্থিত এবং যার চারটি ত্রিভুজাকার পার্শ্বতল আছে। এই ধরণের পিরামিডের বহুল ব্যবহার আছে।

পিরামিডের ডিজাইন এমনভাবে করা হয় যেব এর বেশি ওজন ভূমির নিকটে থাকে, ফলে এর আয়তনকেন্দ্র (Centre of volume) শীর্ষ হতে লম্ব দূরত্বের এক-চতুর্থাংশে অবস্থিত।

পিরামিড পৃথিবীর প্রাচীন সপ্তম আশ্চর্যেরএকটি।
প্রাচীন মিশর শাসন করতেন ফিরাউনরা
(প্রাচীন মিশরীয় শাসক বা রাজাদের ফিরাউন (Pharaoh) বলা হতো)। তাদেরকে কবর বা সমাধী দেয়ার জন্যই পিরামিড নির্মান করা হতো।

মিসরে ছোটবড় ৭৫টি পিরামিড আছে। সবচেয়ে বড় এবং আকর্ষনীয় হচ্ছে গিজা'র পিরামিড যা খুফু'র পিরামিড হিসেবেও পরিচিত। এটি তৈরি হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৫০০০ বছর আগে। এর উচ্চতা প্রায় ৪৮১ ফুট। এটি ৭৫৫ বর্গফুট জমির উপর স্থাপিত। এটি তৈরি করতে সময় লেগেছিল প্রায় ২০ বছর এবং শ্রমিক খেটেছিল আনুমানিক ১ লাখ। পিরামিডটি তৈরি করা হয়েছিল বিশাল বিশাল পাথর খন্ড দিয়ে। পাথর খন্ডের এক একটির ওজন ছিল প্রায় ৬০ টন, আর দৈর্ঘ্য ছিল ৩০ থেকে ৪০ ফুটের মত। এগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল দূর দুরান্তের পাহাড় থেকে। পাথরের সাথে পাথর জোড়া দিয়ে পিরামিড তৈরি করা হত।

চার হাজারের বছরের পুরানো এক সমাধিতে অঙ্কিত এক চিত্রে দেখা যায় এক বিশাল স্তম্ভকে স্লেজে করে সরানো হচ্ছে; অনেক মানুষ রশি দিয়ে সেই স্লেজ টেনে নিচ্ছে। আর তাদের মধ্যে একজন পাত্র থেকে জল ঢালছে বালির উপরে। এতে ঘর্ষণ প্রায় অর্ধেক হয়ে যায়। এভাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল আড়াই টন ওজনের এক একটা ব্লক।

কীভাবে এত বড় বড় বেলে পাথর উত্তোলন করে ওই বিশাল আয়তনের পিরামিড তৈরি করা হয়েছিল তার সঠিক মত পাওয়া যায় না।

 তবে ওই সব রহস্যময় পিরামিড় ও মমি নিয়ে সবচেয়ে বেশি সময় গবেষণা করেছেন জার্মানি প্রত্নতত্ত্ববিদ এডিস ভনভনির নাম উল্লেখ্যযোগ্য। তিনি সারাবিশ্বের অনেক পিরামিড নিয়েই খনন কাজ ও গবেষণা করেছেন। ফলে অনেক রহস্য, নতুন নতুন তথ্য আবিষ্কার করেছেন।

 পিরামিড মূলত প্রাচীন মানুষের সুরক্ষিত করব।
 তবে সবচেয়ে বড় আশ্চর্যের বিষয় হলো  প্রতিটি পিরামিড গ্রহ-নক্ষত্রের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি করা হয়েছে।
মিশরে গিয়ে  অবাক হয়ে বিস্ময়ের সঙ্গে ভাবতে হয় যে কীভাবে প্রায় একজন মানুষের সমান বর্গাকৃতির সিমেন্টর মতো তৈরি খন্ড-গুলো এত উপরে তুলে ওই পিরামিডগুলো তৈরি করা হয়েছে? কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে?

  বিশাল বিশাল পিরামিডগুলোর প্রাচীর নির্মাণ করতে ব্যবহার হয়েছিল প্রায় ১০০ টন ওজনের বেলে পাথরে খন্ড। সেগুলো নিখুঁত জ্যামিতিক মাপে তৈরি।

এখন প্রশ্ন হলো কেন এই পিরামিডগুলো তৈরি করা হতো? কেন মৃত মানব দেহকে মামি করে পিরামিডের মধ্যে রাখা হতো? এটা কি মুসলমানদের মতো পরকাল বা আখিরাতের ওপর বিশ্বাস করে? নাকি অন্য কোনো রহস্য রয়েছে। অতি হিমায়িত করে কোষগুলোকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখার চিন্তা ভাবনা, এই সে দিন মানুষের মাথায় এলো। অধ্যাপক এটিনজার, যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন ভবিষ্যতে মানুষের মৃতদেহকে নির্দয় ও অমানবিকভাবে পুড়িয়ে ফেলা হবে না। কবরে পচিয়েও ফেলা হবে না। রেখে দেয়া হবে হিমায়িত করে। তার পর চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে একদিন সেই মৃতদেহকে জীবিত করে তোলা হবে। তাহলে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০০ বছর আগেকার লোক কি জানতো এই প্রক্রিয়া? যা আজ ও আবিষ্কার হয়নি। মমি রহস্যের পেছনে এমন একটা চিন্তা ধারা থাকলে থাকতেও পারে। হয়ত তখনকার লোক জানতে পেরেছিল যে শরীরকে হিমায়িত করে রাখা যায়। তারা এও জানতো যে সুদূর ভবিষতের মানুষ একদিন এই মৃতদেহকে জীবিত করে তুলতে পারবে।
এহেন কারনেই আজ পর্যন্ত ইতিহাসের সবথেকে বড় রহস্যগুলির মধ্যে একটি মিশরের পিরামিড ।
আজ থেকে মোটামুটি সাড়ে চার হাজার বছর আগে যখন মানুষের কাছে হাতিয়ার আর টেকনোলজীর নামে কেবলমাত্র ছেনি আর পাথরের হাতুড়ি ছিল । তখন পঁচিশ লক্ষ বিশাল বিশাল পাথরকে কিভাবে সাজানো হয়েছে । তাছাড়া প্রত্যেক পাথরের ওজন আড়াইশো টনের থেকেও বেশি এবং কিছু কিছু পাথরের ওজনতো ৩০০ টনের থেকেও বেশি ।

তাই প্রশ্ন এটাই ওঠে যে মানবসভ্যতা যখন এতটাও বিকশিত ছিলনা তখন ৪৮০ ফুট উঁচু গিজার পিরামিড তৈরি করার জন্য এইসব পাথরগুলোকে এতো উঁচুতে কিভাবে তোলা হয়েছিল । তখন মিশরে কি এমন কিছু টেকনোলজি ছিল যেটা আজকের দিনের থেকে অনেক আগে ছিল যেটা সময়ের সাথে সাথে আজ বিলুপ্ত হয়ে গেছে নাকি এর পেছনে এলিয়েন সভ্যতা যুক্ত ছিল ?

ইজিপ্ট ছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় পিরামিডের অস্তিত্ব আছে । যেগুলি সবই এক একটি সমাধি কিন্তু এইসব সমাধির মধ্যে সবথেকে বিশাল আর অদ্ভূত গিজার বিশালকায় পিরামিড । একটি থিওরি অনুসারে পিরামিড তৈরি করার জন্য বড় বড় পাথরগুলিকে অন্য কোন জায়গা থেকে আনা হয়েছিল । কিন্তু তখন চাকার আবিষ্কার হয়নি যার জন্য প্রাচীন মিশরবাসিরা এই বড়ো বড়ো পাথরের ব্লককে টানার জন্য একটি টেকনিক অবলম্বন করেছিল ।

কিন্তু কিছু বিজ্ঞানী পিরামিড তৈরির পেছনে কোন উন্নত এলিয়ান সভ্যতার সাহায্যের কথা মনে করেন । যারা মিসরবাসীকে Advanced Mathematics,Geometric আর Advanced Technical Instrumentation-এর শিক্ষা দিয়েছিলেন । যার কারণে পিরামিডের বাইরে এত বড় বড় পাথরের ব্লগকে এত সুন্দর কুশলতার সাথে সাজানো সম্ভব হয়েছে আর এমনভাবে ফিট করা হয়েছে যে দুটি পাথরের জেন্টসের মধ্যে একটি ব্লেট পর্যন্ত গোজা যাবেনা । কিন্তু এখানে এলিয়েনের উপস্থিতির কোন সঠিক প্রমান আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি । কিন্তু মানুষের বিভিন্ন জিনিস এবং অবশিষ্টাংশ এখানে পাওয়া গেছে আর এজন্যই অনেক বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে পিরামিড মানুষরাই তৈরি করেছিল ।

এ সম্পর্কে French Material Scientist যোসেব ডেবিট নিজের করা গবেষণার মাধ্যমে বলেন । পিরামিডের নির্মানে যেসব পাথর ব্যবহার করা হয়েছিল । সেগুলি আসলে অন্য কোন জায়গা থেকে আনা হয়নি বরং ওই পাথরগুলি ওই যায়গাতেই তৈরি করা হয়েছিল । এইসব পাথরগুলি তৈরি করার জন্য তারা Geopolymer কংক্রিট ব্যবহার করেছিলেন । এই কংক্রিট তৈরি করতে লাইমস্টোন,মাটি, পাথর, চুন আর জলের ব্যবহার করা হয়েছিল । এই মিশ্রনকে কাঠের তৈরি বাক্সর মধ্যে দিয়ে শুকানোর জন্য ছেড়ে দেওয়া হতো আর এভাবেই তৈরি করা হতো বিশালকায় পাথরের ব্লকসকে ।

যোসেব ডেবিট নিজের গবেষণাতে এটিও বলেন । এইসব পিরামিডের পাথর Natural লাইমস্টোন ছিলনা । মানে ডেভিডের গবেষণা অনুযায়ী এইসব পাথরের Atoms Naturally Aligned নয় কিন্তু এবারও যেসবের এই গবেষণার প্রতি বহু বিজ্ঞানীরা বিরোধ করেছেন ।

 কিন্তু পরে আরো একটি Material Scientist Professor Michelle আর তার কিছু Graduate Students মিলে জোসেফের দেওয়া এই থিওরির উপর আবার একবার গবেষণা করার সিদ্ধান্ত নেয় । তারা পিরামিডের পাথরের উপর ৫ বছর গবেষনা করেন এবং তারপর তাদের রিসার্চের মাধ্যমে বলেন যে যোসব ডেভিডের দেওয়া থিওরি একদম সঠিক ছিল কিন্তু তিনি এটিও বলেন যে কেবলমাত্র ওইসব পাথরগুলি এইসব কাঠের ছাঁচে তৈরি করা হয়েছিল ।

যেগুলি পিরামিডের Out of Surface এবং পিরামিডের উপরের অংশে লাগানো হয়েছে । যাতে পিরামিড আরো সঠিক এবং আকর্ষণীয় হতে পারে । কিন্তু এই থিওরি থেকে আবার কিছু প্রশ্ন উঠে আসে যে যদি কেবলমাত্র out of surface এরিয়াতে এইসব আর্টিফিসিয়াল পাথর লাগানো হয়েছিল তাহলে ভিতর পাথর কোথা থেকে এবং কিভাবে আনা হয়েছিল আর পাথরগুলোকে এত সুন্দরভাবে কিভাবে কাটা হয়েছিল আর যদি এই পাথর গুলিকে কাটা হয়ে থাকে তাহলে পড়ে থাকা পাথরের টুকরোগুলি কোথায় গেল কেননা পিরামিডের থেকে দূর দূর পর্যন্ত এরকম পাথরের টুকরো আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি এগুলি এমন কিছু প্রশ্ন যার উত্তর হয়তো আমরা ভবিষ্যতে পেয়ে যেতে পারি সাড়ে চার হাজার বছর পুরানো এই শিলা কেবলমাত্র আমাদের অতীত সম্পর্কে নয় বরং ভবিষ্যতের সম্পর্কেও দিক নির্দেশ দেয় ।
                              ===============================

F>. গিজার পিরামিড:
    Dt--05/04/3019
মিশরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান হচ্ছে গিজার পিরামিড
মিশর ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থেকে যাবে যদি গিজার পিরামিড না দেখেন।
প্রাচীন বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের একটি এই পিরামিড।
মিশরের রাজাদের  সমাধিস্থল হচ্ছে এই পিরামিড।
মিশরের ফারাও অর্থাৎ রাজাদের মৃতদেহ মমি করে রাখা আছে এই পিরামিডের মধ্যে।
কায়রো শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে মরুভূমির মধ্যে নীলনদ বরাবর
গিজার পিরামিড অবস্থিত।
গির্জাতে আছে ৩টি পিরামিড- খুফু, খাফ্রে ও মেংকাউরে পিরামিড।
এই বৃহৎ পিরামিডের সামনে স্ফিংস নামক সেই  বিখ্যাত মূর্তি আছে
যার দেহটি সিংহ এর ও মাথাটি মানুষের।
এটি এক অনন্য নিদর্শন।

=============================

                       

Khufu / Cheops,

Cheops

গিজার তিনটি পিরামিডের  খুফু, খাফ্রে ও মেংকাউরে পিরামিড।
এই বৃহৎ পিরামিডের সামনে স্ফিংস নামক সেই  বিখ্যাত মূর্তি আছে
যার দেহটি সিংহ এর ও মাথাটি মানুষের।
এটি এক অনন্য নিদর্শন।

সবথেকে বর পিরামিড টি খুফুর পিরামিড।
খুফু একজন ফেরাও,  প্রাচীন মিসরের অর্ধক রাজত্য এই খুফুর ছিল।(26th century BC)
এবং তিনি তৈরি করেছিলেন এই বিশাল পিরামিড টি। যেটি প্রাচীন ইতিহাসের বিশ্বের সপ্তম আসচর্যের  মধ্যে একটি।
খুফুর পুরো নাম Khnum Khufu
গ্রীক ভাষায় বলা হত Cheops,
খুফু ছিলেন চতুর্থ রাজবংশের
 দ্বিতীয় ফেরাও। প্রাচীন রাজত্বের
26th century BC র প্রথমার্ধে ছিল
খুফু অনুসৃত।
তার পিতা সেনফিরু ছিলেন রাজা।
খুফু র জন্ম কবে সেটি জানা যায়নি কিন্তু
মৃত্যু হয়েছে 2566 BC তে।

                                  <---©-আদ্যনাথ--->

              ======================================

26> || BALLOON RIDES ||-==মিশর




M > || BALLOON RIDES ||-- মিশর
                                  <---©-ADYANATH--->



LUXOR SUNRISE HOT
AIR BALLOON RIDES-|| -( 2/2 )
                 <---©-adyanath--->
( দ্বিতীয় পর্বের দ্বিতীয় অংশ )
( Second onshoo of second part )

It was 5th day of our tour
dt 4th April 2019

Early morning we were picked up from our cruise ship to the west bank of the Nile River at Luxor.

We met with the expert pilot and ground crew of the Balloon.

They guided us about the safety briefing and we 26 heads stepped inside the balloon’s sturdy basket with our pilot.

There were four Ovens and two gas cylinders to fly the bright colored balloon into the blue sky for 50 minutes.

It was a thrilling experience with bird’s-eye view as the sunlight illuminates the temples and mountains below, gazed down over Karnak, Queen Hatshepsut’s Temple and other monuments, and golden peaceful dawn.
We witnessed the first light illuminating the surrounding mountains and buildings of Luxor and captured those unforgettable scenes on camera.

Looked to the East to see the pillars of Karnak Temple greet the morning sun.
Then we  turn West to admire Queen Hatshepsut’s Temple cast in the glow of dawn .
Our cameras were clicking constantly during the Balloon Ride over Historic town of LUXOR to capture the unique angles of arial views of the RIVER NILE from 530 fit above.

Then, wind  float our balloon  over the Ramesseum, the impressive funerary temple of Pharaoh Ramses II, and gaze down at its pylons, statues and courtyards.
As we fly, a ground support van and crew  followed our balloon, and they were there when we landed. After a safe touchdown the helped us to come out of the basket and put our steps back to the land.There were also some armed force ready to ensure our security in that remote village area.
Really we felt good to see such protection and security by the local Police and Management Of Balloon' organization.

We  received our personal flight certificate .
Finally, drove back to our ship in time for breakfast.

          <---©-adyanath--->
     【--anrc--11/04/2019--】
           【=10:08:22 pm=】
  【=Teghoriya=kolkata -59=】

============================