Thursday, April 11, 2019

25>|| ফিন্যাক্স ও মমির দেশে আট দিন ||( 1st & 2nd part )+B+C+D+E+M+I+Q


               *** A1> ||( 1st & 2nd part )+B+C+D+E+M+I+Q  ||

***A1>।। ফিন্যাক্স ও মমির দেশে আট  দিন ।। ( প্রথম ভাগ  )
                <----©-আদ্যনাথ--->

মমি  দেখেছিলাম কোলকাতার মিউজিয়ামে।
চাকুরী করা থেকে কোম্পানির সহায়তায় বিদেশের নানান স্থানে ও ভারতের অনেক
শহর,গ্রাম, পাহাড়, পর্বত,জঙ্গল,ঘুরতে হয়েছে।
তাই আমি জীবনে অনেক ঘুরেছি, দেখেছি। তথাপি মনের আশ মেটেনা।
যতই দেখি আরো দেখবার ইচ্ছাগুলি মনকে তারা করে চলে।
তবে মনের মতন জায়গাতে যেতে পারলে মনে ভীষণ আনন্দ হয়।

সেদিন রাত্রে হঠাৎ সাম্য আমায় বললো ,বাবা 
জাবেনাকি মিশরে ?
প্রথমে মনে করলাম বুঝি ভুল শুনলাম তাই জিজ্ঞাসা করলাম কি বলছো?
কোথায় যাবে?
সাম্য বললো উত্তর আফ্রিকা মিশর সেই মমি ও পিরামিড দেখতে।
আমি মহা উৎসাহে বলেদিলাম হ্যাঁ হ্যাঁ যাবো ,
কবে যাবে ?
সাম্য বললো দাড়াও আগে ভিসা এবং অফিসের ছুটি এমন সকল ব্যবস্থা গুলো করি।
আমি রিটায়ার্ড মানুষ এখন বয়সও হয়েগেল 69 বৎসর আর তাই আমার তো আর অফিসের ছুটির চিন্তা নাই  আমি তখন থেকেই এক ভীষণ  আনন্দ অনুভব করতে লাগলাম ,আর দিন গুনতে থাকলাম কবে আমার সেই ছোটবেলার স্বপ্ন পূর্ণ হবে।
একদিন সত্যই সেইদিন আসলো।
আমার স্বপ্ন পুরনের দিন আসলো।
দিনটি ছিল 31/03/2019 রবিবার আমরা বেরিয়ে পড়লাম।

 মমির দেশে সাতরাত্রি ও আটদিন,
সে এক রোমাঞ্চকর অনুভূতির দিন।
আমারদের পোগ্রাম ছিল ------
কায়রো,--আসওয়ান---ইডফু--লক্সোর---কায়রো,-- আলেকজান্দ্রিয়া।

আট দিন মমিদের সাথে যা থাকলাম ,
যে সকল স্থানে গিয়েছিলাম
প্রথমে সেই জায়গা গুলির নাম
এক লাইনে জানিয়ে দিলাম।

কলকাতা কায়রো ভায়া আবুধাবি।
আবার কায়রো থেকে আসোয়ান মিসর।
এই তিনবার, তিনবার ছয় বার,
করেছিলাম  এরোপ্লেনে যাত্রা,
বাকি সময়ে  নীল নদের ক্র্রুজে।

দুই রাত্রি মিসরের হোটেলে প্রথম
ও সপ্তম রাত্রিতে ।
দুইরাত্রি প্লেনে আকাশ পথে।
চার রাত্রি নীল নদের ক্র্রুজে।
ক্র্রুজে টি ফাইভে ষ্টার হোটেলেকেও 
হার মানায়।
কি নাই তাতে সুইমিং পুল ,
বিশাল ডেক।
ড্যান্স বার ,বিশাল ডাইনিং।
বেশ বড়ো বড়ো রুম।
সম্পূর্ণ জাহাজটিই এসি।

জাহাজের মৃদু দোলায় স্বেত শুভ্র
বিছানায় পারফিউমের সুবাসে
লেপ মুড়িদিয়ে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে
স্বপ্ন দেখার অভিজ্ঞতা ভোলাবার নয়।

এবারে সম্পূর্ণ যাত্রার কিছু বিবরণ।
সম্পূর্ণ বিবরণ দেবার ক্ষমতা আমার নাই।
আমাদের যাত্রা হলো শুরু -----

আমরা আছি মিশরে,
বেরিয়ে পড়েছি  ভ্রমণে।
আছি সকলে মিলে
নীল নদের তীরে।
বিশাল এক হোটেলে,
24 তালা হোটেলে।
এখন রাত্রি 11:30 বাজে
সকলে 6 টায় উঠতে হবে।
ঠাণ্ডায় লেপ মুড়ি দিয়ে
শুয়ে পরি এবারে।
আবার আগামিকাল কথা হবে।
আজ 01/04/2019 April FOOL
আমরা বেড়ানোর আনন্দে ছিলাম Cool .

 বেরিয়ে পরলাম সকাল সকাল।
দুপুরের flight এতে যাব মিসর  আসওয়ান।

প্রথমে  সালাদিনের মসজিদ
অপূর্ব মুক্ত  হাওয়ায় কাটালাম দিন '
তারপরে খাবার খেয়ে।
চললাম CAIRO TO ASWAN by flight
ফ্লাইট থেকে নেমে প্রথমে ক্রজে
দুপুরের খাবার খেয়ে,
গেলাম নীল নদের মাঝে এক দ্বীপে।
স্পীড বোটে আইসিসির টেম্পলে,
দুই ঘণ্টার লাইট অ্যান্ড সাউন্ড পোগ্রাম,
সকলে একসাথে মিলে।
তারপরে একেএকে দেখলাম
সমগ্র মিসর।
কত টেম্পেল, মমি. আর পিরামিড
বালুময় মরু দেশে উঠে চড়া।
পিরামিড গুলি হাতে ছোঁয়া ,
ইয়া তাগড়াই ঘোরার এক্কা গাড়ি চড়া।
এসকল কিআর যায় ভোলা।
মরুভূমির দেশে বালুর নিচে
কত প্রাচীন সভ্যতা লুকিয়ে আছে। 

এবারে যাই একটু বিস্তারে -----

সবার আগে একটু জেনেনি মিশরকে।
মিশর  Egypt-----
উত্তর আফ্রিকার আরব দেশ টির নাম  মিশর।

এটি আরব প্রজাতন্ত্রের এক দেশ,  উত্তর আফ্রিকারএকটি প্রাচীন রাষ্ট্র।
দেশটির বেশির ভাগ অংশ আফ্রিকাতে অবস্থিত,
কিন্তু এর সবচেয়ে পূর্বের অংশটি,হোল সিনাই উপদ্বীপ।
সিনাই উপদ্বীপ আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে স্থলসেতুর মত কাজ করে।
মিশরের অধিকাংশ এলাকা মরুময়।
নীল নদ দ্বারা  দেশটি দুইটি অসমান ভাগে বিভ্ক্ত।
নীল নদের উপত্যকা ও ব-দ্বীপ অঞ্চলেই মিশরের বেশির ভাগ মানুষ বাস করেন।
কায়রো দেশের বৃহত্তম শহর ও রাজধানী।
এখানকার মুদ্রা :--মিশরীয় পাউন্ড বা ( ই জি পি )

রাজধানী এবং বৃহত্তম নগরী কায়রো.
  30 2' উত্তর  31 13' পূর্ব.
এখন কার ভাষা - আরবি।
সরকার অর্ধ-রাষ্ট্রপতি প্রজাতন্ত্র।


প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার বিশেষ বিখ্যাত গিজার পিরামিড।
উত্তর আফ্রিকার পূর্বাঞ্চলের একটি প্রাচীন সভ্যতা এই প্রাচীন মিশর।
নীল নদের নিম্নভূমি অঞ্চলে এই সভ্যতা গড়ে ওঠে।
এই অঞ্চলটি বর্তমানে মিশর রাষ্ট্রের অন্তর্গত।
থম ফারাওয়ের অধীনে খ্রিষ্টপূর্ব  3150 অব্দ নাগাদ উচ্চ ও নিম্ন মিশরের রাজনৈতিক
একীকরণের মাধ্যমে এই সভ্যতা এক সুসংহত রূপ লাভ করে।
এরপর চলে প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার বিকাশপর্ব তিন সহস্রাব্দ কাল ধরে।
প্রাচীন মিশরের ইতিহাসের শেষর দিকে একাধিক বৈদেশিক শক্তি মিশর অধিকার
করে নেয়।
খ্রিষ্টপূর্ব  31 অব্দে আদি রোমান সাম্রাজ্য মিশর অধিকার করে এই দেশকে একটি
রোমান প্রদেশে পরিণত করে ফলে ফারাওদের শাসন  সমাপ্ত হয়।
নীল নদের বন্যা ও উর্বর উপত্যকার নিয়ন্ত্রিত সেচব্যবস্থার ফলস্বরূপ প্রচুর ফসল
উৎপন্ন হতো এবং উদ্বৃত্ত ফসল থেকে এই অঞ্চলের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশ
ত্বরান্বিত হয়। এই সম্পদের সাহায্যেই প্রশাসনের সহায়তায় উপত্যকা ও পার্শ্ববর্তী
মরু অঞ্চলে খনিজ পদার্থের উত্তোলন শুরু হয়,
একটি স্বাধীন লিখন পদ্ধতির বিকাশ হয়,
স্থাপত্য ও কৃষিজ পণ্যের ব্যবহার শুরু হয়,
পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়,
এবং  সামরিক বাহিনীগঠন ও বহিঃশত্রুদের পরাজিত করে মিশরীয় প্রাধান্য স্থাপন করে।
ফারাওদের অধীনস্থ প্রশাসক সমষ্ঠি, লিপিকার,ও ধর্মনেতা গনের আমলাতন্ত্রের নিদর্শনে,
এই সকল কার্য সমন্ন হোত।
প্রাচীন মিশরীয়দের নানান কৃতিত্বগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য
খনি থেকে গৃহ নির্মাণের জন্য পাথর খনন,
সমীক্ষণ ও নির্মাণ কৌশলের দক্ষতা।
এহেন কার্যের ফলস্রুতি ই ঐতিহাসিক মিশরীয় পিরামিডসমূহ, মন্দির, ওবেলিস্ক
সকল।
এবং মিশরীয় গণিত ব্যবস্থা, চিকিৎসা ব্যবস্থা, সেচ ও উৎপাদন কৌশল .
প্রথম জাহাজ নির্মাণ,মিশরীয় চীনামাটি ও কাঁচশিল্প।
কিছু নতুন ধারার সাহিত্য এবং বিশ্বের ইতিহাসের
প্রাচীনতম শান্তিচুক্তি ( হিট্টাইটদের সাথে)।
এখানকার পুরাকীর্তিগুলি বিশ্বের দূরতম প্রান্তে বয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

শতাব্দীর পর শতাব্দী প্রাচীন মিশরের পুরাকীর্তিগুলির ধ্বংসাবশেষ
পর্যটক ও লেখকদের কল্পনাশক্তিকে অনুপ্রাণীত করেছে।
আধুনিক যুগের প্রথম ভাগে পুরাকীর্তি ও খননকার্যের প্রতি নতুন করে
মানুষের আগ্রহ জেগে উঠলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মিশরের সভ্যতা সম্পর্কে
অনুসন্ধান শুরু হয়।
এর ফলে মিশরীয় সভ্যতার সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারগুলি মিশর ও বিশ্ববাসীর
সম্মুখে নতুন রূপে উপস্থাপিত হয়।

মিশরের পর্যটন আকর্ষণ

A>=কায়রো, মিশর
B>=আসওয়ান, মিশর
C>=সূদানেমিশরের আলেকজান্দ্রিয়া,
        স্ট্যানলি সেতু
D>=কর্ণাক মন্দির,
E>=নীল নদে জাহাজ ভ্রমণ
F>গিজার পিরামিড
G>ভ্যালি অফ দা কিং
H>=মিশরে আবু সিম্বেল-এর মন্দির
I>সূয়েজ মিশর

         --------X----------

আমার দেখা মিশরের মন্দির গুলি।
যেটুকু বুঝেছি সেই টুকুই লিখছি।

প্রাচীন মিশরের  টেম্পেল গুলি বিশেষ গুরুত্ব পূর্ণ । টেম্পেল গুলিতে প্রাচীন মিশরের
গড ও গডেস গন বাস করতেন।
প্রত্যেক গড ও গডেস আলাদা আলাদা টেম্পল যেখানে তারা পূজিত হতেন টেম্পেলের
পৃষ্ট ও ফেরাও দের দ্বারা।
টেম্পল গুলিতে সকল মানুষের পূজার অনুমতি ছিলনা।
কেবল মাত্র রাজা ও পৃষ্ট গনই পূজা করতে পারতেন কঠোর শুদ্ধি করণের মাধ্যমে।
সাধারন মানুষ কেবল মাত্র কোন উৎ সবের দিনে, যখন মনে করা হতো যে দেবতারা
বাইরে বেরিয়ে আসতেন তখনই সাধারন মানুষ টেম্পেলে প্রবেশ করার অধিকার পেতেন।

প্রাচীন মিশরীয় টেম্পল গুলির মহত্ব  দেশের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য অতিশয় মূল্যবান ও
নিষেধ  ভাবে জড়িত।
টেম্পল গুলির অধীনে প্রচুর জমি বা অঞ্চল থাকত।এবং প্রচুর শ্রমিক মানুষ চাকুরী রত
থাকত । এবং মনে করা হত এখানে ফেরাও গন ও রাজা সরাসরি দেবতাদের সাথে
যোগাযোগ করতেন।
দেশেরব মানুষ মন্দিরের নানান কাজে যুক্ত থাকতো। তারজন্য তারা অর্থ পেতো।
আর মন্দিরের অধীনে সমস্ত জমিতে কৃষি কাজ ,খনি থেকে পাথর উত্তোলন প্রভৃতি
কাজ হতো। উদ্বৃত্ব ফসল ও নানান সামগ্রী নিকট বর্তী অঞ্চলে রপ্তানি করে প্রচুর
অর্থ উপার্জন হতো।
সেই অর্থে দেশের উন্নয়ন ও ফারাওদের নিজের নিজের কৃতী স্থাপনের কাজ হতো।

প্রাচীন মিশরীয় টেম্পল গুলির প্রধানত দুই ভাগে বিভ্ক্তো ছিলো।

প্রথমটি ছিল যেটি বিশেষ কোন গড  বা গডেজের জন্য উৎসর্গকৃত।
যেমন ইডফুর হোরাসের টেম্পেল। আসোয়ানের আইসিসির টেম্পেল।

দ্বিতীয় ধরার টেম্পেল গুলি সমাধিসংক্রান্ত যেগুলি ফেরাও দের মৃত্যুর পরে তাদের জন্য
নিবেদিত হত। যেখানে ফেরাও রা দেবতা রূপে পূজিত হতেন।
যেমন থীবজ নগরীর রামেসেজ 2  টেম্পল।
দেখে যেটূকু  বুঝেছি টেম্পল গুলি এমন স্যান্ড স্টোন  দিয়ে তৈরি  যা বেশি দিন টিকে
থাকতে সক্ষম।
ঘরের মেঝে কোআটজ ( Courts) নামক পাথরের, এবং হলগুলির পিলার গুলি প্যাপিরাস
গাছের ( যে গাছের ছাল থেকে পুরাকালে মানুষ কাগজ প্রস্তুত করতো) সেই গাছ, পালম গাছ,
ও পদ্ম ফুলের আকারে তৈরি করতো।
গৃহের ছাদ গুলি সাজানো হত তারা, নক্ষত্র, ইত্যাদি অঙ্কন করে। এবং আশ্রয়স্থল
নির্দেশ করতো ঢিবির মতন সু উচ্ছ স্থানে।
টেম্পেল গুলি পূর্ব পশ্চিম নির্দেশিত হত কারন মনে করা হত সূর্য পিলার গুলির উপরে
উদিত হয়ে সামনের গেট দিয়ে প্রবেশ করে মন্দিরে উপরে অস্ত যেতো।
 মন্দিরের ভেতরে ফেরাও দের নানা কার্যের নিদর্শন,দেবতা পূজা অনুষ্ঠান, আর
নানা যুদ্ধের চিত্র,অঙ্কন করে সাজানো হত।
আর বাহিরের দেওয়ালে ফেরাও গন দেখাতেন সকল  বিরক্তিকর বিশৃঙ্খলার
ছবি।
প্রাচীন মিশরে প্রথম পৌরাণিক মন্দির তৈরি হয়েছিল আনুমানিক চার মিলিনিয়াম বি,সি,
তে। নল খাগড়ার কুরে ঘরের মতন।
সর্বশেষ মিসরীয় টেম্পল যেগুলি ফিলাটে তৈরী হয়ে ছিল 6th সেঞ্চুরি AD তে সেইগুলি
ব্যবহারের অযোগ্য বলে  চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে পরবর্তীতে নানান রকমারি টেম্পেল
তৈরী হয়েছে দীর্ঘ দিন ধরে।
                                                                                         <----©-আদ্যনাথ--->
                                                                                dt ::--17/04/2019::
                                                                                         রাত্রি 02:22:11am
                                                                                          kolkata 700059
======================================================
======================================================



।।  ফিন্যাক্স ও মমির দেশে আট  দিন ।। ( দ্বিতীয়  ভাগ  )
                <----©-আদ্যনাথ--->

এবারে আমাদের ভ্রমণের প্রতি দিনের কিছু বিবরণ।
যদিও সম্পূর্ণ বিবরণ দেওয়া আমার পক্ষে অসম্ভব।
কারণ আমি নিজে ইতিহাসের স্টুডেন্ট নোই।
এবং ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞানও অতি সামান্য।
তাই যতটুকু গাইডদের মুখে শুনেছি তার কিছু সামান্য অংশই
মনে রাখতে পেরেছি।
যেটুকু মনে রাখতে পেরেছি এখানে সেইটুকুই লেখার চেষ্টা করছি।

প্রথম দিন-------1st day ::31/04/2019::রবিবার

আমাদের যাত্রার প্রথম দিন শুরু হলো দম দম এয়ার পোর্ট থেকে। 
30/03/2019 শনিবার রাত্রি  11:30 মিনিট এআরপর্টের জন্য রওনা দিলাম ।
কারন আমাদের ফ্লাইট ভোর 04:20 am অর্থাৎ 31/03/2019--04:20 am রবিবার।

আমাদের যাত্রা হোল শুরু ।
কলকাতা থেকে আবু ধাবি ফ্লাইট EY 255
কোলকাতা নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস ইন্টারন্যাশনাল এআর পোর্ট থেকে
প্লেন ঠিক সময় মতোই 5 ঘণ্টায় আমাদের আবু ধাবিতে পৌঁছে দিলো।
সেখান থেকে  সংযোগ কারি প্লেন EY 653 আবু ধাবি থেকে  3 ঘণ্টায়
কায়রো ইন্টার ন্যাশনাল  এআরপোর্টে পৌঁছলাম 11:45 এতে।
সেখান থেকে A/C বাসে করে পৌঁছে গেলাম
হোটেলে ( CAIRO HOTEL "GRAND NILE TOWER" )
হোটেল রুম বুক করাই ছিলো।
সেখানে দুপুরের খাবার খেয়ে একটু বিশ্রাম করে সন্ধায় গিজার
ঐতিহাসিক লাইট ও সাউন্ড পোগ্রাম দেখতে গেলাম।
( LIGHT & SOUND SHOW AT THE GREAT PYRAMID OF GIZA )  এক ঘণ্টার
অবিশ্বাস্য লাইট ও সাউন্ড এর পোগ্রাম উপভোগ করলাম।
সন্ধায় এখানে প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে সকলেই কম্বল ভাড়া করে ,গায়ে জড়িয়ে নিয়ে বসে
দেখলাম এক ঘণ্টার অবিশ্বাস্য পোগ্রাম গোধূলি লগনে।
দেখলাম সেই ঐতিহাসিক .GREAT SPHINX
( মিশরের অতিকায় মূর্তি যার দেহ সিংহের মতন ও মাথা স্ত্রীলোকের মতন। )
মনে হলো এই এক ঘন্টা যেন ওই  SPHINX ই
যেন দর্শকের দিকে মুখ করে অনর্গল নাটকীয় ভাবে বিস্তারিত মিশরের
পৌরাণিক ইতিহাসকে লাইট ও সাউন্ড এর মাধ্যমে দর্শক দের বুঝিয়ে দিচ্ছিল।
সম্পূর্ণ মিশরের ঐতিহাসিক ঘটনা।
কেন কীভাবে এখানে তৈরি হয়েছিল এই পিরামিড সকল ।
সেই সকল ঘটনাকে চাক্ষুষ দেখিয়ে দিচ্ছে লাইট ও সাউন্ড এর মোহিত করা
নাটকীয় শুরু ও ছন্দ।
পিরামিডের অনেক অজানা তথ্য এমন সুন্দর করে বর্ণনা করছিলো যেন
মনে হলো মমি গুলি জেগে উঠে কাজে লেগে পড়েছে।
পরিশ্রমী মানুষেরা বড়ো বড়ো পাথর কি সুন্দর ভাবে বয়ে নিয়ে একে একে
সাজিয়ে তৈরী করছে পিরামিড।
কিছু মানুষ পিরামিডের ভেতরে এক একটি প্রকোষ্ঠ তৈরীকরতে ব্যস্ত।
পিরামিড গুলি যেন এক একটি প্রাচীন ঐতিহাসিক মহা মূল্যবান  খনি গর্ভ।
বিশ্ব ঐতিহ্যের নানা নিদর্শন ও স্থাপনা ছড়িয়ে রয়েছে সমগ্র মিশর জুড়ে। 

এহেন শো দেখে মনে এক অদ্ভুত অনুভূতির শিহরণ নিয়ে ফিরলাম কায়রোর
“Grand Nile Tower”হোটেলে ।
রাত্রেও এলাহী খাবার ব্যবস্থা।
তারপরে ঘুম।
                                                               <---©-আদ্যনাথ--->

----------------

দ্বিতীয় দিন---------2nd day ::01/04/2019::সোমবার

<---©-আদ্যনাথ--->

মিশর =( 2nd day )
 দ্বিতীয় দিন।
01/04/2019::--সোম বার

সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে  7 am এতে জলখাবারের ভুরি ভোজ,
এলাহী ব্যবস্থা জল খাবারের। যে যেমন পারো তেমন যত ইচ্ছা খাও।
খাবারের মেনুতে শুধু ভাত ছাড়া সবই আছে। কত খাবার অতোগুলো
খাবারের নাম বলেও মুশকিল কি নাই সেটাই বললাম। শুধু ভাত টাই নাই।
অঢেল ফল বিশেষ করে খেঁজুর  বরো বরো খেজুর এই প্রথম দেখলাম।
কি অপুর্ব স্বাদ ,আঙ্গুর ,কলা ,কলা মানে এমন সুন্দর সুস্বাদু কলা ,যা বলে
বোঝানো সম্ভব নয় ,সরবতী লেবু এক একটি লেবু আধা কিলো ,কি অপূর্ব
যেমন মিষ্টি তেমনি সুস্বাদু। আমরা খাবার পরেও প্রত্যেকে ওই খেঁজুর ও
সরবতী লেবু সাথে নিয়ে নিলাম রাস্তায় খাবার জন্য।
যাইহোক জল খাবারের ভুরি ভোজ  সেরে লাগেজ গুটিয়ে এ সি গাড়িতে করে
বেরিয়ে পড়লাম সালাদিন চিটাডেল ( SALADIN CITADEL )যেটি তৈরী করেছিলেন
সালা আল-দিন, মকিউটাম পাহাড়ে in the year 1183 AD as a defense 
against Crusader armies.
এখন থেকে কায়রোর সুদূর প্রসারিত ছবি দেখে মন ভরেগেল কি অপূর্ব দৃশ্য
এবং বিশুদ্ধহওয়া। যার জন্য এই স্থান বিশেষ উল্লেখ যোগ্য।সত্যই কিসুন্দর 
হাওয়াদার জায়গা।এখান থেকে সম্পূর্ণ কায়রো শহরটি অপূর্ব দেখাছিলো।
কায়রো যে সত্যই অট্টালিকার শহর সেটা এখান থেকে না দেখলে বোঝাই যায় না।

এখানে আছে  ঐতিহাসিক মসজিদ ও সংগ্রহ সালা,
এবং মুহাম্মদ আলী পাশার মসজিদও এই স্থানে।মসজিদ গুলি দেখার মতন।
মসজিদের ভেতরের কারু কার্য কি অপূর্ব। ভারতে অনেক মসজিদ দেখেছি
তবে এই মসজিদ গুলি র কারু কার্য ও শিল্প কলা দেখবার মতন। রং বেরঙের
কাঁচের শ্রেণী বিন্যাস দেখার মতন।

তারপর আমাদের কায়রো এয়ার পোর্টে নিয়ে গেল
আসোয়ান মিসর  যাবার জন্য।
কায়রো টাইম অনুসারে 3:45 এতে আমাদের ফ্লাইট।
আমরা আসোয়ান  এতে পৌঁছে গেলে আমাদের নিয়ে গেল নীল নদের ক্র্রুজে
ক্র্রুজে  টির নাম "M S NILE Ruby".ক্র্রুজটির বর্ণনা আগেই দিয়েছি (প্রথম ভাগে )
সন্ধ্যায় আমরা টেম্পল ফিলে তে লাইট ও সাউন্ড শো দেখলাম।
এখানকার এই লাইট এন্ড সাউন্ড পোগ্রাম গুলি বড়োই সুন্দর।
এখানেও  ওই  লাইট এন্ড সাউন্ড শো দিয়ে পুরো ঐতিহাসিক ব্যাপার তা ভালো করে বুঝিয়ে
দেয়।
এখানে লাইট এবং সাউন্ড এর পোগ্রামে  গডেস আইসিস ও ওসিরিস এর জীবন বৃত্যন্ত
সুন্দর করে বুঝিয়ে দিলো। তারপরে আমরা সম্পূর্ণ টেম্পেল টি ঘুরে দেখলাম।
অপূর্ব কারুকার্য চিত্র কলা এবং সকল কিছুতেই গডেস আইসিস ও ওসিরিসের
জীবন গাঁথা।
গডেজ আইসিসের জীবনের যেটুকু শুনেছি সেটা এখানে লিখতে গেলে ভ্রমণ কাহিনী
অনেক দীর্ঘ হয়েযাবে তাই এখানে সেই কাহিনীর বিস্তার উল্যেখ না করে আলাদা ভাবে
এই কাহিনীর বিস্তার লিখলাম।

এর পরে আবার আমরা ক্র্রুজে ফিরলাম।
ফিরে ডিনার খেয়ে দ্বিতীয় দিনের সকল চিন্তা নিয়ে শুয়ে পড়লাম।

সত্যই মিসর  একটি মন্দিরের শহর যা2000 বছরেরও বেশি আগে নির্মিত হয়েছে।
এই ঐতিহাসিক মিশরে বসবাসকারী মানুষদের কাছে নীল নদ এক রক্ষাকর্তা স্বরূপ।
এইনীল নদে জাহাজ ভ্রমণ ও আসওয়ান মিশর মিশরের সৌন্দর্য কে বহু গুনে
বাড়িয়ে দিয়েছে।

আমার মনেহোল নীল নদে জাহাজ ভ্রমণ  অবকাশ যাপনের এক শান্তি পূর্ন
অতি উত্তম পন্থা।
এই নীল নদে জাহাজ ভ্রমণের সহায়তার , ইতিহাসের মিশরীয় মন্দিরগুলি
পরিদর্শনের উৎকৃষ্ট অবলম্বন।
এই জাহাজ গুলিতে অত্যাধুনিক  অনেক সুবিধা রয়েছে।
এগুলি পাঁচ তারা হোটেলের থেকে কোন অংশে কম নয়।
সুইমিং পুল ,বার রেস্টুরেন্ট ,বিশাল ডেক।
এই জাহাজে ভ্রমণের মাধ্যমে জীবনে একবার হলেও এমন এক অনন্য ভ্রমণ
অভিজ্ঞতা উপলব্ধি করা সত্যই বিস্ময় কর অভিজ্ঞতা।
এই জাহাজে ভ্রমণের মাধ্যমে  চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য ও বালিয়াড়ি দেখার
যে অপূর্ব সুযোগ যা সত্যি বিস্ময় কর অভিজ্ঞতা,  যা এই জাহাজভ্রমণ ছাড়া বোধ হয়
সম্পূর্ণ রূপে  সম্ভব নয়।


B>আসওয়ান, মিশর

আসওয়ান হল মিশরের সবচেয়ে রৌদ্রজ্জ্বল দক্ষিণী শহর
স্বতন্ত্র আফ্রিকান বাতাবরণের সঙ্গে আসওয়ান হল মিশরের সবচেয়ে রৌদ্রোজ্জ্বল
দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর। নীল নদের  উপত্যকায় অবস্থিত শহরটি অসাধারণ।
সৌক বা স্থানীয় বাজারগুলি মশলা এবং পারফিউমের গন্ধ ও বর্ণে পরিপূর্ণ,
রান্নার যে কত প্রকার মশলা পোয়া যায় সেটা না দেখলে বিশ্বাস করাই মুশকিল।
তবে হ্যা সকল মশলায় সম্পূর্ণ অর্গানিক কোনপ্রকার রং বা এসেন্স বর্জিত
বিশুদ্ধ মশলা।
এর সঙ্গে রয়েছে সুন্দর আফ্রিকান হস্তশিল্প, নুবিয়ান হস্তনির্মিত দ্রব্য,
এইসকল দেখতে দেখতেই দ্বিতীয় দিন কেটে গেল।
=============================

B>=আসওয়ান, মিশর
         dt---01/04/2019
আসওয়ান হল মিশরের সবচেয়ে রৌদ্রজ্জ্বল দক্ষিণী শহর স্বতন্ত্র আফ্রিকান বাতাবরণের সঙ্গে আসওয়ান হল মিশরের সবচেয়ে রৌদ্রোজ্জ্বল দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর।
নীল উপত্যকায় অবস্থিত শহরটিকে অসাধারণ দেখায়।
আসওয়ান, পায়ে হেঁটে অন্বেষণ করার জন্য যথেষ্ট ছোট;
জীবনের গতি ধীর এবং শিথিল।
সৌক বা স্থানীয় বাজারগুলি মশলা এবং পারফিউমের গন্ধ ও বর্ণে পরিপূর্ণ,
এর সঙ্গে রয়েছে সুন্দর আফ্রিকান হস্তশিল্প নুবিয়ান হস্তনির্মিত দ্রব্য,
--------------------------------------------------------
B>|| আসওয়ান হাই ড্যাম; ||--গল্প=ইতিহাস
                                   <---©-আদ্যনাথ--->

।। আসওয়ান হাই ড্যাম;।।
নীল নদের প্রভাব থেকে মন্দির উদ্ধার করার কার্যক্রম


মানুষের এই অবিস্মরণীয় পুরাকীর্তিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে ইউনেস্কো এগিয়ে আসে। ১৯৬৪ সালে ইউনেস্কো ও মিশর সরকারের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয় উদ্ধার কার্য। বিভিন্ন দেশের ইঞ্জিনিয়ারদের পাঠানো মন্দির সংরক্ষণের নকশার মধ্যে সুইডিশ প্রস্তাব সর্বজনগ্রাহ্য হয়, যা বাস্তবে রূপ পায় ১৯৬৮ সালে। শুরু হলো এ কালের স্থপতিদের কেরামতি। মন্দিরটি নতুনভাবে নির্মাণ করা হয় আসওয়ান হাই ড্যাম রিজার্ভারের উপর। পরিকল্পনা অনুসারে, মন্দির দু’টিকে টুকরো-টুকরো করে কেটে হাজারের বেশি অংশে ভাগ করা হয়। প্রত্যেকটি টুকরোকে নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করে, কাছের একটি পাহাড়ের উপর তোলা হয়।

ইউনেস্কো ও মিশর সরকারের যৌথ উদ্যোগে আবু সিম্বেল মন্দির সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়;

একেকটা অংশের ওজন প্রায় ত্রিশ টন। প্রত্যেকটি অংশকে তুলে তীরের চেয়ে ৬৫ মিটার উঁচুতে হুবহু মূল মন্দিরের অনুকরণে সাজিয়ে তাদের বসানো হয়। মূল মন্দির ও পাহাড়ের চূড়ার মাঝখানে যে হাজার-হাজার টনের পাথর ছিল, নতুন স্থাপিত মন্দিরে সেই পাথরের পরিবর্তে তৈরি করা হয় কংক্রিটের বিশাল ডোম। উল্টানো হাঁড়ির মতো দেখতে এই ডোমের ছাদের উপর লক্ষ-লক্ষ টন বালি ফেলে, তাকে পাহাড়ের আকৃতি দেওয়া হয়। হিসেব কষে সূর্যের কক্ষপথের সঙ্গে মন্দিরের অবস্থানকে আগের মতোই মিলিয়ে দেওয়া হলো। কাজটায় সময় লেগেছিল প্রায় চার বছর।এ কালের স্থপতিদের তত্ত্বাবধানে মন্দিরটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করা হয়;


বর্তমানে মন্দিরটির ‘নতুন’ কলেবরে তৈরি, কিন্তু অবিকল পুরানো চেহারার মতো। তফাৎ শুধু একটাই যে, আধুনিক যুগে যন্ত্রের সাহায্যে যে কাজ করা হয়েছে, বহু যুগ আগে লক্ষ-লক্ষ টন ওজনের পাথর কাটা ও বসানোর মতো অতিমানবীয় কাজ সেসময়কার মানুষ তাদের আপন হাতে ও বুদ্ধিমত্তার জোরে সম্পন্ন করেছিল যা সত্যিই অবিশ্বাস্য।


এভাবে এ যুগের নামকরা স্থাপত্যদের সার্বিক প্রচেষ্ঠায় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হলো প্রাচীনকালের স্থপতিদের কলা-কৌশলে তৈরি পৃথিবীর এক বিস্ময়কর পাথুরে স্থাপত্য ‘আবু সিম্বেল মন্দির’।

                         =======================


                                                                  <---©-আদ্যনাথ--->
===========================================

তৃতীয় দিন----------3rd day ::02/04/2019::মঙ্গলবার

<---©-আদ্যনাথ--->


02/04/2019:::-মঙ্গল বার

সকালের ব্রেকফাস্ট সেরে। বেরিয়ে পড়লাম পৃথিবী বিখ্যাত হাই ড্যাম দেখতে
এবং সেই ফিলক টেম্পল এর অসমাপ্ত অসাধারণ পিলার গুলি এবং তাদের বিপর্যয়, যা কিনা
দুইজন গডেজের নাম উৎসর্গ গডেজ আইসিস ও হাথোর।
তারপরে দুপুরের খাবার খেতে ক্র্রুজে  ফিরলাম।
আমরা যখন লাঞ্চ করছি তখন জাহাজ রওনা দিলো কোম -ওম্ব টেম্পেলের দিগে।
এই  কোম -ওম্ব টেম্পেল দুইজন দেবতার নামে সোবেক ও হেইরোরিস।
জাহাজ আবার এগিয়ে চললো ইডফু দিকে।
রাত  ভর জাহাজ চলছিলো। আমরা রাতের খাবার খেয়ে জাহাজের ডেকে বসে
অনেক রাত পর্যন্ত নীল নদের উভয় পারের দৃশ্য ও নীলনদে চলমান আরও
কতগুলি ক্র্রুজ  দেখতে  দেখতে উত্তর আফ্রিকার রাত্রি কে প্রাণ ভোরে উপভোগ
করছিলাম।
দিনের বেলা জাহাজ যখন ড্যামটি পারকরে এক শুরু লক গেট দিয়ে
তখন জাহাজটি ডাইনে বায়ে বার বার ধাক্কা লাগছিলো।
যতগুলি জাহাজ ছিলো সব একের পরে এক এভাবেই পার করলো ড্যাম।
  আমরা পৌঁছে গেলাম ইডফুতে।  

 চতুর্থ দিন-----4th day::03/04/2019::--বুধবার

<---©-আদ্যনাথ--->

03/04/2019::--বুধবার

আমাদের জাহাজ রাত্রেই পৌঁছে গেছে ইডফু তে।
ভোর বেলাই চা /কফি খেয়ে নিয়ে রওনা দিলাম ইডফুর  টেম্পল দেখতে ঘোড়ার গাড়ি করে ।
মিসরে ঘোড়ার গাড়ি চড়া সেও এক মজাদার যাত্রা।
এখানকার ঘোড়া গুলি বেশ বড়ো সরো এবং বেশ তাগড়াই তাই এমন এক্কাতে চড়ে বেশ
আনন্দ উপভোগ করা গেল।
আমাদের গাইডের কথা হোল মিসরে এসেছেন এখানকার সব কিছুই উপভোগ করুন।
ভারতে তো কতো গাড়ি চড়েছেন , এখানকার মরুভূমির উট আর শহরের ঘোড়া।
এমন তাগড়াই ঘোড়া কোথায় পাবেন  স্যার।

ফিরে এসে দুপুরের লাঞ্চ সার ছিলাম ততক্ষনে ক্রুজ রওনা দিয়েছে লাক্সর যাবার জন্য
ভায়া এসনা।
তারপরেই গাইড আমাদের নিয়ে গেল নীলনদের পূর্ব তীরে কর্ণক ও লাক্সর টেম্পল দর্শনের
জন্য।
3000 হাজার বৎসরের পুরোনো লাক্সর টেম্পল
নীলনদের পূর্ব পারে।
কর্নক ও লাক্সর টেম্পল অতি সুন্দর এই টেম্পল।
বিশাল বিশাল দম্বুজ গুলি, হাইপোস্টাইল হল।

D>কর্ণাক টেম্পল-------

কর্ণাক মন্দির, মিশর  বা  কারনাক ট্যাম্পেল:
    
এই মন্দিরের শহরটি 2000 বছরেরও বেশি সময় আগে নির্মিত হয়েছিল।
কর্ণাকের মন্দির হল স্থাপত্য-কাঠামো ও সুন্দর কারু কার্য সমন্বিত  নির্মিত
একটি সুবিশাল ইমারত ভবন।

এই অঞ্চলটি এখনো আধুনিক বিশ্বের বেশ কিছু  বিস্ময়করের  সঙ্গে তুলনা
করা চলে।
কর্ণাক টেম্পল  প্রায় 200 একর এলাকায় বিস্তারিত  এবং এখান থেকেই  সমস্ত ধর্মীয়
ভবনগুলির তৈরী করা হয়েছিল । এই মন্দিরটি 4,000 বছরেরও বেশী সময় ধরে মিসরবাসীরতীর্থ স্থান।
মিশরের অনেক আকর্ষণীয় মন্দির গুলোর মধ্যে কারনাক মন্দির সবচেয়ে প্রাচীন।
কারনাক মন্দিরটি প্রাচীন বৃহত্তম ধর্মীয় স্থাপনা।
এটি মূলত একটি মন্দিরের শহর যা 2000 বছরেরও বেশি আগে নির্মিত হয়েছে।
এটি বিশ্বের  সবচেয়ে জনপ্রিয় বিস্ময়গুলোর মধ্যে একটি।
এখন এটি  একটি অনন্য পর্যটনস্থল।

এখানকার  বিশাল হলগুলি হাইপোস্টাইল হল.

( হাইপোস্টাইল হল হলো বিশাল আকৃতির হল যেখানে বিশাল বিশাল পিলার ,
বেশির ভাগ হল গুলি অন্ধকার কিন্তু মাঝখানের হলে ছাদ কেটে জানালার
আকারে করা হয়। 
এই হলটিকে প্রাচীন মিসরের  মঙ্গলের প্রতিভূ। এখানকার পিলার গুলি
PAPYRUS PLANTSএর আকারে তৈরী ( যে গাছ থেকে কাগজ তৈরি হয় )
সেই গাছের আকারে পিলার গুলি। অন্ধকারে পিলার গুলি দেখতে ঠিক পাপেরাস
গছের মাথায় যেন পদ্মের কুড়ি।
মাঝখানটা যেখানে সূর্যের আলো প্রবেশ করে সেখানে মনে হয় পাপেরাস গাছের মাথায়
যেন উজ্জ্বল সূর্য ঝল মল করছে।
ভিতরের দেওয়াল গুলি ধর্মীয় নানান ছবি খোদাই করা।
হলের এই মাঝের হলে কেবল মাত্র বিশেষ  প্রিস্ট ও ফেরাও গণই  প্রবেশের অধিকার পেতেন।
এবং এই হলে ধার্মিক ক্রিয়া অনুষ্ঠান সম্পাদিত হতো। )

3000 হাজার বৎসরের পুরোনো লাক্সর টেম্পল,কর্ণক মন্দির ,ফিন্যাক্স এর মূর্তি এবং
লাক্সররের টেম্পেল  অপূর্ব পিয়ার গুলি ও টেম্পল যে গুলি তৈরী করেছিলেন
তুতেনখামেন ,এবং আলেক্সজেন্ডার দি গ্রেট। এই সকল কারু কার্যের নিদর্শনেই  গভীর
অনুভূতি র সাথে বিভিন্ন ফেরাও গনের মূর্তি ও ছবি ,যেগুলি মনের গভীরে গেথে রইলো।
এইরকম এক অদ্ভুত অনুভূতি মনকে যেন আছন্ন করে রইলো।
এমন অবস্থায় ক্রজে ফিরে রাত্রের ডিনার শেষ করে ক্রজের সৌন্দর্য মন্ডিত রুমে
মহা আরামে চতুর্থ দিনের  চিন্তা গুলি মাথায় নিয়ে  শুয়ে পড়লাম।




পঞ্চম দিন-------------5 th day ::04/04/2019::বৃস্পতিবার

<---©-আদ্যনাথ--->

Day 5: 4 th April – Thursday

M>LUXOR SUNRISE HOT AIR BALLOON RIDES-
           
It was 5th day of our tour
dt 4th April 2019

Early morning we were picked up
from our cruise ship to the
west bank of the Nile River
at Luxor.

We met with the expert pilot and ground crew of the Balloon.

They guided us about the safety briefing and we 26 heads stepped inside
the balloon’s sturdy basket with our pilot.

There were four Ovens and two gas cylinders, with a colourfull
big Balloon.
Then,we feel thrilling as the bright colored balloon rises into the blue
sky for 50 minutes flight.

It was a thrilling experience with
bird’s-eye view as the sunlight illuminates the temples and
mountains below, Gtazed down
over Karnak, Queen Hatshepsut’s Temple and other monuments,
and golden peaceful dawn.

We witnessed the first light illuminating the surrounding mountains and
buildings of Luxor.

We captured those unforgettable scenes on camera.

Look to the east to see the pillars of Karnak Temple greet the morning sun.
Then we  turn west to admire Queen Hatshepsut’s Temple cast in the
glow of dawn .
Our camera was clicking constantly during
Balloon Ride over Historic town of LUXOR to capture the unique angles
of arial views of the RIVER NILE
from 530 fit above.

Then, wind  float our balloon  over
the Ramesseum, the impressive funerary temple of Pharaoh
Ramses II, and gaze down at its pylons, statues and courtyards.

As we fly, a ground support van and crew  follow our balloon, and they
were there when we land.
After a safe touchdown, step back to land.There We saw some armed force was
Ready to protect us.
Really we fill happy for such protectionOf security by the local
Polish and Management Of Balloon' organization.

We  receive our personal flight certificate .

Hot air balloon it was  most interesting activity of Luxor is an early morning sunrise flight on a
hot air balloon. The ride is approximately  50 minutes. The journey over the unique over view of Luxor and it is monuments such as Ramseum temple, Hatshepsut temple, Valley of the Kings, habu temple, nobles tombs, valley of the queens, valley of workers and colossi of Memnon. A panoramic and marvellous view will greet us as we drift above the valleys and between mountains, fields and River Nile.

Finally, drive back to our ship in time for breakfast.

ক্র্রুজে ফিরে এসে সকলের ব্রেকফাস্ট খেয়ে নিয়ে লাগেজ প্যাক করে রাখলাম।
আমরা আবার বেরিয়ে পড়লাম নীল নদের পশ্চিম পাড়ের দিকে 62 জন ফেরাওদের
কবর খানা দেখতে যেটি  
G>ভ্যালি অফ দা কিং:  নামে  খ্যাত।
          
প্রাচীন মিশরের সবচেয়ে জনপ্রিয় শহর
লুক্সর এর তীর ঘেঁষে বয়ে চলা নীল নদের পশ্চিম পাশে পাহাড় দিয়ে ঘেরা এলাকার
নামই হলো ‘’ভ্যালী অব কিংস‌”।
এটি একটি উপত্যকা যা মিশরের রাজা ও রাজার পরিষদবর্গের জন্য নির্মাণ করা হয়।
প্রায় ৫০০ বছর পূর্বে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
এই উপত্যকায় ৬৩ টি সমাধি ও ১২০ টি প্রকোষ্ঠ আছে ।
রাজকীয় সমাধিটি চমৎকার মিশরীয় পুরাণের কাহিনীর দৃশ্য দিয়ে সাজানো হয়েছে যা দেখে প্রাচীন যুগের বিশ্বাস ও ধর্মানুষ্ঠান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
এই জায়গা চারিদিকে পাহাড় দিয়ে ঘেরা যার পেছনে নীল নদ ও সামনে মরুভূমি

তারপরে দেখলাম রানী  আহাৎশেপ্সুতর সমাধি টেম্পল আনুমানিক 15th century BC
যার নিদর্শন আছে EI-Deir EI-Bahari তে এবং The  Colossi of Memnon.
দুটি স্ট্যাচু বসেআছে যাদের হাত গুলি হাঠুর উপরে আছে।
পূর্ব দিকে মুখ করে অর্থাৎ নদীর দিকি মুখ করে বসে আছে।
পৃথক দুটি বিশাল  কোয়ার্জ  পাথরের মূর্তি। উচ্চতা 18মি ( 60 ফুট )
তৈরী হয়েছিল 1350 BC
এর পরে আমরা দিনের খাবার খেয়ে বেনানা দ্বীপে গেলাম কলা বাগান দেখতে।
সেখানেও  দুটি কুমির রাখা আছে। কুমির এদের বড়ো প্রিয় আদরের।
এর পরে আমরা চলে গেলাম লাক্সর এয়ারপোর্টে
কায়রো যাবার ফ্লাইট রাত্রি 9 টায়।
কায়রোতে পৌঁছে আমাদের হোটেল “Mercure Cairo Le Sphinx”.
রাত হোটেলেই কাটলো।

                                 <---©-আদ্যনাথ--->


ষষ্ঠ দিন এ----::6th day:: 05/04/2019: শুক্রবার 

<---©-আদ্যনাথ--->

Day 6: 5 th April – Friday


কারোর হোটেলে সকালের ব্রেকফাস্ট করে গাইড আমাদের নিয়েগেল
 গিজার পিরামিড দেখাতে।
    
মিশরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান হচ্ছে গিজার পিরামিড
মিশর ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থেকে যাবে যদি গিজার পিরামিড না দেখা হয় ।
প্রাচীন বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের একটি এই পিরামিড।
মিশরের রাজাদের  সমাধিস্থল হচ্ছে এই পিরামিড।
মিশরের ফারাও অর্থাৎ রাজাদের মৃতদেহ মমি করে রাখা আছে
এই পিরামিডের মধ্যে।
কায়রো শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে মরুভূমির মধ্যে নীলনদ বরাবর
গিজার পিরামিড অবস্থিত।
গিজাতে  আছে তিন ( 3 )টি পিরামিড- খুফু, খাফ্রে ও মেংকাউরে পিরামিড।
বড়ো  পিরামিডের সামনে স্ফিংস নামক সেই  বিখ্যাত মূর্তিটি  আছে,
যার দেহটি সিংহ এর আকৃতি ও মাথাটি মানুষের মতন।
এটি একটি  অনন্য নিদর্শন।
বড়ো পিরামিড টির ভিতরে গিয়ে দুই জায়গাতে হামাগুড়ি দিতে হোল।
আমার পক্ষে এই টুকুই সম্ভব হোল ,বাকি যাদের  একটু কম বয়েস
তারা পুরোটাই এঞ্জয় করতে পেরেছে।
এখানথেকে বেরিয়ে আরও কয়েকটি পিরামিডের ভেতরে গিয়ে দেখলাম।
তারপরে রাজা টুটানখামুনের সমাধি।
এই সমাধি দেখার জন্য আলাদা করে বেশি মূল্যের টিকিট নিতে হয়েছিল।

( টুটানখামুনের সমাধি এক বিস্ময়কর সমাধি যার বিবরণ একটু আলাদা করে
লিখলাম। )


এর পরে গেলাম  মিশরের মিউজিয়াম দেখতে যে খানে আছে
টুটানখামুনের সমাধিতে রাণী নেফারতিতির গোপন কুঠুরি

মিশরের প্রত্নতত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন,রাজা টুটানখামুনের সমাধিতে তারা এমন একটি গোপন কুঠুরি থাকার প্রমাণ পাচ্ছেন যেখানে হয়তো রাণী নেফারতিতির কবর ছিল।

সকলের ধারণা যদি সত্যি সত্যি এরকম এক গোপন কুঠুরি খুজে পাওয়া যায় সেটা হবে শতাব্দীর সবচেয়ে বড় আবিস্কার।
লাক্সারের এই অত্যন্ত প্রাচীন স্থানটিতে এখনো খোজ চলছে ।
 তার পরে দেখলাম মমিদের মিউজিয়াম।
যেখানে সারি সারি লাইন দিয়ে কাঁচের বক্সএ রাখা আছে সকল মমি।
এখানেও অনেক নামনাজানা মমি আছে।
বিশাল বিশাল সোনার মুখোশ। সোনার নির্মিত কফিন। সোনার অলংকার ,নানান
মূল্যবান পাথরে সু স্বজ্জিত।

রাতে হোটেলে ফিরলাম।
   হোটেল টির  নাম ::-
 MERCURE CAIRO LE SPHINX  HOTEL

                                                                <---©-আদ্যনাথ--->

সপ্তম দিন-----7 th day;:06/04/2019::শনিবার

<---©-আদ্যনাথ--->

Day 7: 6 th April – Saturday
WAKE UP=05:00am

সকালে 6 টায় ব্রেকফাস্ট সেরে 7 টায় বেরিয়ে
পরলাম আলেক্সান্দ্রিয়া র উদ্যেশ্যে।
কায়রো থেকে আলেক্সান্দ্রিয়া প্রায় 3ঘণ্টায়
বাসে পৌঁছলাম।

C>আলেক্সান্দ্রিয়া
( যেটুকু সংগ্রহ করতে পারছি, কিছুটা
গাইডের কথায় কিছুপ্রাচীন  ইতিহাস থেকে )

১>আলেক্সান্দ্রিয়ার বিখ্যাত গ্রন্থাগার "বিবলিওথেকাই"
২>সুন্দর স্টেনলি সেতু,
৩>মন্টাজা প্রাসাদ,
৪>কর্নিশ,
৫>এল-মুরসি আবুল আব্বাস মসজিদ
৬>আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর
৭>আলেক্সান্দ্রিয়া র পুরানো বাজার।
৮>কম এল শোকাফার ধ্বংসাবশেষ:
৯>বিখ্যাত পম্পি পিলার
১০>রোমান থিয়েটার--( আলাদা করে লিখলাম )

আলেক্সান্দ্রিয়া কপ্টিক: Rakotə, আরবি:  হল মিশরের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং এই শহরেই মিশরের বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর অবস্থিত। আলেক্সান্দ্রিয়া উত্তর-পশ্চিম মিশরে ভূমধ্যসাগরের উপরে এবং নিচে প্রায় 32 কিলোমিটার (20 মাইল) পর্যন্ত বিস্তৃত। এই শহরের মিশরের বিখ্যাত গ্রন্থাগার বিবলিওথেকা আলেক্সান্দ্রিয়া অবস্থিত। এটি শিল্প ও বাণিজ্য কেন্দ্র, কারণ এর সাথে সুয়েজহয়ে আসা প্রাকৃতিক গ্যাস এবং তেলেরপাইপলাইন রয়েছে। এই শহরটি গভর্ণর শাসিত এবং এ ধরনের শহরকে মিশরে মুহাফাজা বলা হয়।
এছাড়াও এখানে আছে অতি সুন্দর স্টেনলি সেতু,
মন্টাজা প্রাসাদ, কর্নিশ,  এল-মুরসি আবুল আব্বাস মসজিদ, কাইটবে সাইটাডেল
মন্তাজা প্রাসাদ

প্রাচীনকালে এই শহরটি বাতিঘর (প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি) এবং গ্রন্থাগারের(প্রাচীন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গ্রন্থাগার) জন্য বিখ্যাত ছিল।

সম্প্রতি আলেক্সান্দ্রিয়ার সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় সামুদ্রিক নৃবিজ্ঞান এর উপর ভিত্তি করে পরিচালিত গবেষণায় (যা 1994 সালে শুরু হয়েছিল) আলেক্সান্ডারের আগমনের পূর্বে যখন এই শহরের নাম ছিল রাকোটিস সেই সময় এবং টলেমীয় রাজত্বেরসময়ের আলেক্সিন্দ্রিয়া সম্বন্ধে নতুন অনেক তথ্যই আছে। যা প্রাচীন ও আধুনিক স্থাপনার নিদর্শন।

আলেক্সান্দ্রিয়ার নামকরণ করা হয়েছে এর প্রতিষ্ঠাতা আলেক্সান্ডার দি গ্রেটের নামানুসারে। আলেক্সান্ডারের মৃত্যুর পর তার অন্যতম সেনাপতি টলেমী আলেক্সান্ডারের সাম্রাজ্যের এই অংশের অধিকারী হন। এটি ছিল মিশরের টলেমীয় শাসকদের রাজধানী এবং হেলেনীয়পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম শহর যা আয়তন এবং সম্পদে একমাত্র রোমের থেকে পিছনে ছিল। মিশরের মধ্যযুগীয় মুসলিম শাসকগণ যখন কায়রো শহরের গোড়াপত্তন ঘটান তখনই আলেক্সান্দ্রিয়ার পতনের শুরু  হয় এবং উসমানীয় রাজত্বের সময় এটি নিছক একটি ছোট জেলেপাড়া হিসেবে পরিগণিত হয়।

আলেক্সান্ডার দি গ্রেট আলেক্সান্দ্রিয়া নগরী প্রতিষ্ঠা করেন আনুমানিক 334 খৃস্টপূর্বাব্দের দিকে।
 সঠিক তারিখ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। প্রতিষ্ঠার সময় এর প্রকৃত নাম ছিল Aleksándreia; ।
এই নগরী তৈরিতে আলেক্সান্ডারের প্রধান স্থপতি হিসেবে কাজ করেছেন
রোড্‌সের ডাইনোক্রেট্‌স।

**১>আলেকজান্দ্রিয়ার প্রাচীন গ্রন্থাগার

প্রাচীন বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাগার দ্য গ্রেট লাইব্রেরি অফ আলেকজান্দ্রিয়া, ও.
ফন করফেন, ঊনবিংশ শতাব্দী।

আলেকজান্দ্রিয়ার প্রাচীন গ্রন্থাগার বা আলেকজান্দ্রিয়ার রাজ-গ্রন্থাগার ছিল প্রাচীন বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাগারগুলির একটি।

 এটি মিশরেরআলেকজান্দ্রিয়া শহরে অবস্থিত ছিল। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে মিশরের টলেমিক রাজবংশের পৃষ্ঠপোষকতায় একটি প্রধান শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে এই গ্রন্থাগারটি গড়ে উঠেছিল।
30 খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোমানদের মিশর আক্রমণের সময় পর্যন্ত এই গ্রন্থাগার কার্যকরী ছিল। গ্রন্থ সংগ্রহের পাশাপাশি এই গ্রন্থাগারে বক্তৃতাকক্ষ, সভাকক্ষ ও বাগানও ছিল। এই গ্রন্থাগার প্রকৃতপক্ষে ছিল মিউজিয়াম নামে এক বৃহত্তর গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অংশ। এখানে প্রাচীন বিশ্বের বহু বিশিষ্ট দার্শনিক পড়াশোনা করেছিলেন।

সম্ভবত টলেমি প্রথম সোটারের (323-283 খ্রিস্টপূর্বাব্দ) অথবা তাঁর পুত্র টলেমি দ্বিতীয় ফিলাডেলফাসের (283-246 খ্রিস্টপূর্বাব্দ) রাজত্বকালে এই গ্রন্থাগার পরিকল্পিত ও স্থাপিত হয়েছিল। এই গ্রন্থাগার ছিল মিশরের ঐশ্বর্য ও ক্ষমতার প্রতীক। সারা পৃথিবী থেকে বই ধার করে তার অনুলিপি তৈরি করা ও সেই বই গ্রন্থাগারে নিয়ে আসার জন্য এই গ্রন্থাগারে কর্মচারী নিয়োগ করা হত। অধিকাংশ বইই রাখা হয় প্যাপিরাস স্ক্রোলের আকারে। তবে ঠিক কতগুলি স্ক্রোল এই গ্রন্থাগারে রক্ষিত ছিল তা জানা যায় না।

এই গ্রন্থাগার পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল। যার ফলে বহু স্ক্রোল ও বই চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়। আলেকজান্দ্রিয়ার প্রাচীন গ্রন্থাগারের অগ্নিকাণ্ড তাই সাংস্কৃতিক জ্ঞান ধ্বংসের প্রতীক। প্রাচীন গ্রন্থগুলিতে এই অগ্নিকাণ্ডের সময় নিয়ে বিতর্ক দেখা যায়। কে এই অগ্নিসংযোগ ঘটিয়েছিলেন তা নিয়েও মতান্তর রয়েছে। এই ধ্বংস নিয়ে একটি জনশ্রুতি হল, বহু বছর ধরে জ্বলতে থাকা আগুনে এই গ্রন্থাগার বিনষ্ট হয়। সম্ভবত 48 খ্রিস্টপূর্বাব্দে জুলিয়াস সিজারের মিশর আক্রমণের সময়,
 270খ্রিস্টাব্দে আরেলিয়ান আক্রমণের সময়, 391 খ্রিস্টাব্দে কপটিক পোপ থেওফিলাসের নির্দেশে এবং 642 খ্রিস্টাব্দে মিশরে মুসলমান আক্রমণের সময় সংঘটিত পৃথক পৃথক অগ্নিকাণ্ডে আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগার সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয় ।
তবে পরবর্তীতে জানাজায় যে
 সেরাপিয়াম এর পূর্বেই তৃতীয় শতাব্দীতে রোমান সম্রাট অরেলিয়ান এর আক্রমণে এই লাইব্রেরী টি আংশিক ভস্মীভূত হয় এবং 391 খৃস্টাব্দে এর ধ্বংস সম্পন্ন হয়।

মূল গ্রন্থাগারটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ার পর, গবেষকরা আলেকজান্দ্রিয়া শহরেরই অন্য প্রান্তে সেরাপিয়াম নামে এক মন্দিরে একটি ছোটো গ্রন্থাগার ব্যবহার করতেন। কনস্ট্যান্টিনোপলের সক্রেটিসের মতে কপটিক পোপ থেওপিলাস 391 খ্রিস্টাব্দে এই মন্দিরটিও ধ্বংস করে দেন।

আলেকজান্দ্রিয়ার প্রাচীন গ্রন্থাগারের আকার কেমন ছিল, তা সঠিক না জানা গেলেও প্রাচীন গ্রন্থগুলির বর্ণনা অনুসারে, এই গ্রন্থাগারে স্ক্রোলের বিশাল সংগ্রহ, আঁকাবাঁকা পায়ে চলার পথ, একত্র ভোজনের কক্ষ, পড়ার ঘর, সভাকক্ষ, বাগান ও বক্তৃতাকক্ষ ছিল। আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলির শিক্ষাপ্রাঙ্গণে এই ধরনের নকশা দেখা যায়। গ্রন্থাগারের একটি অধিগ্রহণ বিভাগ
এবং একটি ক্যাটালগিং বিভাগ ছিল। একটি বড়ো ঘরে তাকে প্যাপিরারের সংগ্রহ রাখা হত। এগুলিকে বলা হত "বিবলিওথেকাই" । জনশ্রুতি, এই তাকগুলির উপর একটি ফলকে লেখা থাকত: "আত্মার চিকিৎসার স্থান"।

গ্রন্থাগারটি ছিল আলেকজান্দ্রিয়ার মিউজিয়ামের একটি অংশ। এটি ছিল একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। গ্রন্থাগার ছাড়াও মিউজিয়ামে ছিল জ্যোতির্বিদ্যা ও শরীরস্থান পঠনপাঠনের কক্ষ এবং দুষ্প্রাপ্য প্রাণীদের একটি চিড়িয়াখানা। যেসব বিশিষ্ট চিন্তাবিদ এই গ্রন্থাগারে পড়াশোনা ও গবেষণা করেছেন তাঁদের মধ্যে গণিত, প্রযুক্তিবিদ্যা, শারীরবিদ্যা, ভূগোল ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিশিষ্ট প্রথীতযশা মণীষীরা আছেন। এঁরা হলেন ইউক্রিড, আর্কিমিডিস, এরাটোস্থেনিস, হেরোফিলাস, এরাসিস্ট্রাটাস, হিপ্পারাকাস, এডেসিয়া, পাপ্পাস, থেওন, হাইপেশিয়া, আরিস্টারকাস অফ সামোস ও সেন্ট ক্যাথারিন।

এই গ্রন্থাগারে কোন যুগের ঠিক কতগুলি বই ছিল, তার অনুমান করা আর সম্ভব নয়। গ্রন্থ সংগৃহীত হত প্যাপিরাসের আকারে। 300 খ্রিস্টপূর্বাব্দের পর থেকে অবশ্য কোডেক্সও ব্যবহৃত হয়েছে। আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগারের গ্রন্থসংগ্রহকে কখনও পার্চমেন্ট কাগজে ধরে রাখা হয়নি।

কথিত আছে, রাজা টলেমি দ্বিতীয় ফিলাডেলফাসের রাজত্বকালে (309-246 খ্রিস্টপূর্বাব্দ) গ্রন্থাগারে 500,000-এরও বেশি স্ক্রোল ছিল।কথিত আছে, বিবাহের যৌতুক হিসেবে পারগামাম গ্রন্থাগারের 200,000 স্ক্রোল মার্ক অ্যান্টনিক্লিওপেট্রাকে উপহার দিয়েছিলেন।

গ্রন্থ সংগ্রহের পর প্রধান অনুলিপিগুলি তৈরি করা হত সারা পৃথিবীর বিদ্বান, রাজপরিবার ও ধনী গ্রন্থ সংগ্রাহকদের জন্য। তা থেকে গ্রন্থের প্রচুর আয়ও হত।

রোমের টাইবেরিয়াস ক্লডিয়াস ব্যালবিলাসের লাতিন শিলালিপিতে "ALEXANDRINA BYBLIOTHECE" (অষ্টম পঙ্ক্তি) শব্দটি আলেকজান্দ্রিয়ার প্রাচীন গ্রন্থাগারের নামবাচক।

প্রায় সব প্রাচীন গ্রন্থেই আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগারকে প্রাচীন বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাগারগুলির একটি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই গ্রন্থাগারের বিবরণ ইতিহাস ও কিংবদন্তির মিশ্রণই রয়ে গিয়েছে।

ছদ্ম-পত্রসাহিত্য লেটার্স অফ এরিস্টেয়াস(180-145 খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে রচিত) এই গ্রন্থাগার সম্পর্কে সবচেয়ে পুরনো তথ্যসূত্র।

আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগারের দায়িত্ব ছিল সারা বিশ্বের জ্ঞান সংগ্রহ করা। গ্রন্থাগারের অধিকাংশ কর্মচারী প্যাপিরাসে বই অনুবাদের কাজে ব্যস্ত থাকতেন।  রোডস ও এথেন্সেরবইমেলায় ঘুরে রাজার অর্থে প্রচুর বই সংগ্রহ করে এই কাজ চলত।

গালেনের মতে, বন্দরের কোনো জাহাজে কোনো বই পাওয়া গেলেই তা গ্রন্থাগারে নিয়ে আসা হত।
এই বইগুলি "জাহাজের বই" নামে তালিকাভুক্ত করা হত।তারপর সরকারি লিপিকার সেই বইয়ের অনুলিপি করতেন। মূল বইটি গ্রন্থাগারে রেখে, অনুলিপিটি মালিককে ফেরত দেওয়া হত।অতীতকালের গ্রন্থ সংগ্রহের পাশাপাশি এই গ্রন্থাগারে একদল আন্তর্জাতিক গবেষক সপরিবারে বাস করতেন। তাঁরা রাজার কাছ থেকে বৃত্তি পেতেন।

আলেকজান্দ্রিয়া ছিল মিশরের মূল ভূখণ্ড ও ফারোজ দ্বীপের মধ্যে যোগাযোগরক্ষাকারী বন্দর। এখানে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের বণিকরা আসতেন। ধীরে ধীরে এটি একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হয় এবং পরে প্যাপিরাসের অন্যতম প্রধান উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত হয়। যা এখানে গ্রন্থ উৎপাদনেও সহায়ক হয়।

এই গ্রন্থাগারের সম্পাদকেরা হোমারের গ্রন্থ সম্পাদনার জন্য বিশেষভাবে খ্যাত ছিলেন। অধিকতর বিখ্যাত সম্পাদকেরা সাধারণত "প্রধান গ্রন্থাগারিক" উপাধি পেতেন। এঁদের মধ্যে জেনোডোটাস, রোডসের অ্যাপোলোনিয়াস, এরাটোস্থেনিস, বাইজান্টিয়ামের অ্যারিস্টোফেনস ও সামোথ্রেসের অ্যারিস্টারকাসের নাম উল্লেখযোগ্য।প্রথম গ্রন্থপঞ্জিকার ও পিনাকেস-এর রচয়িতা ক্যালিমাকাস এই গ্রন্থাগারের প্রথম ক্যাটালগ তৈরি করেছিলেন। তবে তিনি এই গ্রন্থাগারের প্রধান গ্রন্থাগারিক ছিলেন না।খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে গবেষকরা নিরাপদতর স্থানে বড়ো রাজার পৃষ্ঠপোষকতা লাভের আশায় এই গ্রন্থাগার ছেড়ে যেতে শুরু করেন। 145 খ্রিস্টপূর্বাব্দে অষ্টম টলেমি আলেকজান্দ্রিয়া থেকে সকল বিদেশি গবেষককে বিতাড়িত করেন।

খ্রিষ্টপূর্ব 48 অব্দে জুলিয়াস সিজার এবং মিশরের রাজা টলেমি ত্রয়োদশ (Ptolemy XIII) -এর মধ্যে যুদ্ধের সময়, সিজারের সৈন্যরা জাহাজে আগুন লাগিয়ে দেয়। এই সময় জাহাজ সংলগ্ন এই গ্রন্থাগারে আগুন ধরে যায়। এই গ্রন্থাগারটি পুড়ে যাবার পর, বিশেষজ্ঞরা মূল গ্রন্থাগারের উপগ্রন্থাগার হিসাবে একটি ছোটো গ্রন্থাগার ব্যবহার করতেন। মূলত এই ছোটো গ্রন্থাগারটি ছিল অন্য শহরে। এর নাম ছিলSerapeum। এই সময় প্রায় 40,000 গ্রন্থ পুড়ে যায় এবং প্রায় সম পরিমাণ বই সম্পূর্ণ পুড়ে না গেলেও পাঠের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল।
                                        ================
 C>=সূদানেমিশরের আলেকজান্দ্রি
           স্ট্যানলি সেতু
      dt---06/04/2019
মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ায় অবস্থিত স্ট্যানলী সেতু 331 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে মহান আলেকজান্ডার দ্বারা প্রবর্তিত আলেকজান্দ্রিয়া, গ্রেইকো-রোমান মিশরের রাজধানী হয়ে উঠেছিল।
আজকের দিনে, আলেকজান্দ্রিয়া “ভূমধ্য সাগরের মুক্তো” বা
“দ্য পার্ল অফ মেডিটারেনিয়ান” নামে সুপরিচিত রয়েছে এবং
এটি হল মিশরের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর।
একটি বাতাবরণের সঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যের তুলনায় ভূমধ্যসাগরীয় হয়ে উঠেছে।
এখানকার সাংস্কৃতিক বহু আকর্ষণ ও ধ্বংসাবশেষের প্রাচুর্য্যতা এই শহরটির
পরিদর্শনকে সুন্দর করে তুলেছে যা তার মহিমান্বিত অতীতের প্রসঙ্গে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
এটি এমন একটি শহর, যা অবসর সময়ে
----------------------------------------------------



২>সুন্দর স্টেনলি সেতু,


৩>মন্টাজা প্রাসাদ,


৪>কর্নিশ,


৫>এল-মুরসি আবুল আব্বাস মসজিদ


**৬>আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর

সমুদ্রবন্দর থেকে বন্দরে প্রবেশ বা নির্গমণের ক্ষেত্রে দিক নির্দেশনা প্রদায়ী একটি বাতি ঘর।  এ বাতিঘরটিকে প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের একটি হিসাবে বিবেচনা করা হয়। খ্রিষ্টপূর্ব ৩য় শতাব্দীতে মিশরের সম্রাট প্রথম টলেমি ফ্যারোসে দ্বীপে এই বাতিঘর তৈরি করিয়েছিলেন। এই বাতিঘরটিই আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর নামে খ্যাত। উল্লেখ্য প্রাচীন যুগে সমুদ্রপথে জাহাজ ঘনকুয়াশা কিংবা রাতের অন্ধকারে নাবিকরা পথ হারিয়ে বন্দরে পোঁছুতে পারতো না। এই অসুবিধার জন্য নাবিক এবং ব্যবসায়ীরা আতঙ্কগ্রস্ত থাকতো। এই অসুবিধা দূর করার জন্য 270 খ্রিষ্টাব্দে ভূমধ্যসাগর উপকূলে আলেকজান্দ্রিয়া নামক স্থানে এই বাতিঘর স্থাপন করা হয়।

এই বাতিঘরটির মূল ভিত্তিভূমির আয়তন ছিল 110 বর্গফুট। এর বাইরে ছিল দেওয়াল উচ্চতা ছিল
450 ফুট। মূল স্তম্ভটিকে ঘিরে পেঁচানো সিঁড়ি ছিল। কোনো কোনো মতে, এই সিঁড়ির বাইরে দেয়াল ছিল। এ সিঁড়ি বেয়েই উপরে ওঠে 450 ফুট উঁচুতে রক্ষিত একটি বেদিতে বিশাল অগ্নিকুণ্ড জ্বালিয়ে দেওয়া হতো। রাত্রিবেলায় খোলা সমুদ্র প্রায় 50 মাইল দূর থেকে এই অগ্নিকুণ্ড দেখা যেতো।

1200 শতকে এক প্রচণ্ড ভূমিকম্পে বাতিঘরটি ভেঙে যায়। এখন এই বাতিঘর সম্পর্কে কিছু পুরানো লেখকদের রচনা থেকে জানা যায়।
( সংগ্রহ যেহেতু সাল তারিখ আমার মনে থাকে না
সেই কারনে ওয়েব সাইডের সাহাজ্য নিতে হয়েছে )
                                          ============================


**৭>এর পরে গেলাম আলেক্সান্দ্রিয়া র পুরানো বাজার।


এরপরে গেলাম " কম এল শোউকাফা -এর ক্যাটাকম্বস " বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের একটি 
(one of the 7 wonders of the Middle Ages) ইজিপ্ট,গ্রীক ও রোমান ,তিন সভ্যতার সংমিশ্রণ
ঘটেছে এখানে।
এখানকার চিত্রাঙ্কন গুলি প্রাচীন ইতিহাসের  স্বাক্ষী বহণ করে চলেছে। আন্ডার গ্রাউন্ড 
 ফানেলাকৃতি বিশাল হল , সমাধি কক্ষ,যেগুলি কঠিন পাথর কেটে গভীর করে তিন তালা
পর্যন্ত নিচে সু রক্ষিত ভাবে সুন্দর করে প্রকোষ্ঠ গুলি তৈরী।
প্রত্যেক তলায় অজশ্র ছোট ছোট প্রকোষ্ঠ বিশেষ ভাবে সুরক্ষিত।
এই প্রকোষ্ঠ গুলি এক এক বংশের চিতাভস্ম  সুরক্ষিত রাখার জন্য সুন্দর ব্যবস্থা ।
প্রত্যেক বংশের বিশেষ পুরুষদের জন্য বিশেষ কবর স্থান।
আত্মাদের বিশ্রমের স্থান।
এতো গভীরেও জল নিকাশের অপূর্ব ব্যবস্থা।
প্রকৃতিতে বাইরে কতোই গরম কিংবা ঠান্ডা হোক না কেন এই সমাধি কক্ষ সর্বদা নির্দিষ্ঠ
তাপ বজায় থাকে।
বিষ্ময়কর এমন ব্যবস্থা  প্রাচীন কালের মানুষেরা অনায়াসে পাথর কেটে তৈরী করতো
যা আজ আধুনিক বিজ্ঞানে এসি মেশিন লাগিয়েও অমন সুন্দর ভাবে কার্যকর করতে
চিন্তা করতে হবে।

                                     ==========================


P>কম এল শোকাফার ধ্বংসাবশেষ:
P>Catacombs of Kom el Shoqafa

কম এল শোকাফার ধ্বংসাবশেষ:

ক্যাটাকম্ব- মানেই এক লাশের জাদুঘর!

কোম এল সোকোয়াফারের সমাধি হোল
আলেকজান্দ্রিয়ার সবচেয়ে অত্যাশ্চর্য স্মৃতিস্তম্ভ।
মধ্য যুগের সাতটি আশ্চর্যের মধ্যে একটি।
এটি একটি ভূগর্ভের নিচে বিশাল সবাধার।

কোম এল সোকোয়াফারের সমাধি হোল
আলেকজান্দ্রিয়ার সবচেয়ে অত্যাশ্চর্য স্মৃতিস্তম্ভ।
মধ্য যুগের সাতটি আশ্চর্যের মধ্যে একটি।
এটি একটি ভূগর্ভের নিচে বিশাল সবাধার।

এবং এটি  মিশরের  সেরা সংরক্ষিত ধ্বংসাবশেষ।
এই সমাধি শহরের পূর্বপাড়ে অতীত
মিশরের প্রথম শতাব্দীর AD এর নিদর্শন।

এই সবাধার টি আবিষ্কারের পৌরাণিক
অনেক গল্প কথা আছে।
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে একটি গাধা পাথর বোঝাই  একটি টাঙা গাড়ি টেনে নিয়ে যাচ্ছিল, হটাৎ গাধাটি একটি গর্তে পরে যায়।সেই গর্ত টি একটি মাটির ভূগর্ভে কবরের সুরঙ্গ।
আরও একটি প্রচলিত কাহিনি আছে,
মসিউর এস-সাঈদ আলী গিবিয়া নামে এক মানুষ যিনি এক দিন এলাকার মিউজিয়ামের    অধিকারীকে  জানায়  যে সে মাটির নিচে একটি কবরের সন্ধান পেয়েছেন এটি একটি ভূগর্ভস্থ কবর।
প্রথমে মিউজিয়ামের অধিকারী গণ এহেন খবরকে উপেক্ষা করেন এবং সন্দেহজনক বলে মনে করেন। কিন্তু অচিরেই তাদের  নির্বুদ্ধিতার জন্য নিজেরাই দুঃখ প্রকাশ করেন।
 প্রকৃতপক্ষে একটি তাদের জীবনকালের আবিষ্কার ছিল।

এখন কথা হল এই আবিষ্কারের সুনাম কে পাবে ওই গাধা নাকি মসিউর এস-সাঈদ আলী গিবিয়া?
সে যেই এই আবিষ্কারের সুনাম পাক,
আমাদের উদ্দেশ্য কেবল এই কম এল শোকাফা দেখা ও এর সমন্ধে কিছু
অজানা তথ্য জানা।
কম এল শোকাফার ক্যাটাকোমব এক বৃহত্তম সমাধি যেটি গ্রীক-রোমান যুগের অনুরূপ যেটি আবিষ্কৃত হোয়েছে। প্রাচীনকালের একটি বিশেষ আকর্ষণীয় শহর আলেকজান্দ্রিয়াতে।
এটি ভূগর্ভে লুকোনো  শতাব্দীর জন্য কবর টানেল ছিলো। এইটি বিভিন্ন প্রাচীন শিল্প ও
সংস্কৃতির একটি মিশ্রন।
কবরটির প্রবেশ দ্বার গড (God) দ্বারা সুরক্ষিত থাকতো।

( Alexander the Great. 331 খ্রিস্টপূর্বাব্দে প্রতিষ্ঠিত,করেছিলেন আলেকজান্দ্রিয়া
সম্ভবত সবচেয়ে বিখ্যাত ঐতিহাসিক যুদ্ধের পরে আলেকজান্দ্রিয়া তার নাম বাছাই করেছিল ইতিহাস যার সাক্ষী হয়েছে,
  আলেকজান্দ্রিয়া শহর হিসাবে একটি বিশিষ্ট
 শক্তি, সংস্কৃতি, এবং জ্ঞান কেন্দ্র হয়ে ওঠে )


কম এল শোকাফার ক্যাটাকোমব কার্য্য কর ছিলো দ্বিতীয় শতাব্দীর কাছাকাছি সময়ে।
এমন অক্ষত  সাক্ষী থাকার নির্দশন খুব বেশি নেই যা  তৎ কালীন মিসরীয়,গ্রিক,রোমান  এই তিন সভ্যতার মিশ্রণের নিদর্শন।
এই কবরটি সম্পুর্ন রূপে একটি আদর্শ কবর। আলেকজান্দ্রিয়া এহেন স্থাপত্যের
জন্য নিজেদের গর্ভ প্রকাশ করতেই পারে।

কম এল শোকাফার নামটি প্রাচীন গ্রিক থেকে উদ্ভূত হয়,অনুবাদক "শাডোদের ঢাল"
এলাকাটি ছিন্নভিন্ন মৃৎশিল্পের পাইলস ধারণ করতে ব্যবহৃত হয়েছিল বা সাধারণত এখানে যারা সমাধি পরিদর্শন করতেন তাদের  দ্বারা আনা ওয়াইন পান বা খাবার খাবার জন্য ব্যবহৃত হত।
এটি, মিশরীয়  রোমান এবং গ্রিক সংস্কৃতির শৈলীতে নির্মিত।
কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ করে যে এটি বোধ হয় একটি পরিবারের কবরের জন্য ব্যবহৃত হত।
কিন্তু পরে একটি বড় কবরস্থান হিসাবে বর্ধিত করা হয়েছিল, কারণ গুলি অজানা।
অবশ্যই, শুধু যে আলেকজান্দ্রিয়া তে ই এহেন কবর নির্মিত হয়েছিল তাকিন্তু নয়।

তাই যে কম এল শোকাফা একমাত্র ধ্বংসাবশেষ নয়।
অনেক বেশি কবরস্থান নেকোপোলিসের অংশ ছিল,তথাকথিত যাকে বলা হয় মৃতের শহর,
সেগুলি ছিলো শহরের পশ্চিম  দিকে।তবে ওই কবর স্থান আর কম এল শোকাফার মধ্যে
অনেক পার্থক্য।

কম এল শোকাফার একটি ফানেলের আকৃতি বিশিষ্ঠ 18ফুট বিস্তারিত  ভূগর্ভের নিচে
সবাধর।
শবদেহ উপর থেকে নিচে রোপ ও কপিকলের ( পুলি) র সাহায্যে নামানো হত বা ওঠানো হত।
এইটি বিভিন্ন বয়সের আকর্ষণীয় মিশ্রণ  উৎসর্গের অঙ্গীকার ,মিসরীয় ও রোমানিয় মৃতদের সাথে।

 ভাস্কর্যশিল্পঅলংকৃত শিলালিপিসমন্বিত প্রস্তর শবাধার।  এর উপরের অংশে বিশেষ কিছু নাই।কিন্তু এখান দিয়েই ভিতরে প্রবেশের পথ।
মাঝের অংশটি গ্রিক টেম্পেলের অনুরূপ এবং এখানে কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়।
যেখান দিয়ে ভুগর্ভস্থ সমাধিক্ষেত্রের শেষ প্রান্তে পৌঁছবার ধাব গুলি এবং প্রতি দুটি পিলারের মাঝে সমাধির "প্রোনাস " আছে।

 20 শতকের শুরুতে মাটি খুঁড়ে তোলা "প্রোনাসের"মাঝে র প্রকোষ্ঠের মনো মুগ্ধকর কারু শিল্প একই সময়ে সঙ্ঘটন
স্ত্রী ও পুরুষের জটিল মূর্তির চিত্র অঙ্কন প্রকট আসল ভাড়াটেদের সমাধি চিহ্নিত করে।
যদিও শরীর গুলির চিত্রায়ন ও বক্রতা  ঠিক যেন মিশরীয়দের অনুরূপ, পুরুষ মানুষ গুলির মাথা গ্রিকের  অনুরূপ ।
ঠিক তেমনি ভাবে স্ত্রী লোকের মাথা নিচে করা রোমানদের মতন।

আর একটি জটিল সমাধান এই মাঝের অংশে দুটি সাপ যার কল্পনানুসারে গ্রীকের
নির্দেশ করে।যাকে বলা হয় "Agathodaimon'" অথবা শুভ আত্মা।
সে যাই হোক এগুলো খুবই হৃদয় আনন্দ দায়ক। যে সর্প যুগল সুশোভিত  ঠিক যেমটা দেখাযায় রোমান ও মিশরীয় সংস্কৃতিতে।
আর একটি বিস্ময়কর স্তম্ভিত করার মতন চিত্রাঙ্কন তা হোল এই সাপেদের মাথার অপরে
অঙ্কিত জেলি - মাছ ( Medusa ). যেটির নির্দেশ করে গ্রীক পুরাণের এক কুখ্যাত
নিদর্শন , যার দ্বারা বুজতে পারাজয় যে ওই "Medusa" শবাধারকে  রক্ষ্যা করে চলেছে
অনধিকার প্রবেশকারী ও বহিরাগত যে কোন
 অনুপ্রবেশকারীদের থেকে।
শুরুতে মাঝের অংশই কেবলমাত্র একটি
" U"- এর আকারে দালান।কিন্তু এইস্থানে অধিক মৃত ব্যক্তির সমাধি হবার কারনে,
কিছু জটিল ব্যবস্থার মাধ্যমে রুপান্তরিত করে স্থানান্তরিত করা হয় আরো কক্ষ এবং
আরো হল গঠিত করে।
মাঝের অংশের স্তরের তলদেশে ক্যাপসুল সংযোজন করা হয়ে ছিলো।
প্রাচীন বিশ্বের যেগুলি হারিয়ে গেছে।

দুর্ভাগ্য বসত এই অংশটি জলে ডুবে গিয়েছে,
ফলে দর্শকেরা জানতেও পারেনা যে এখানে কি ছিল।

ঐতিহাসিক গণ মনে করেন যে এগুলি
বিত্তবান মানুষ তাদের বংশের সমাধি হিসাবে ব্যবহার করতো।
মনে করা হয় যে এই ফেমিলি গুলি প্রাচীনhhhhhhh পৌত্তলিক ধর্মালম্বি।
 অতি শিগ্রই  এই সমাধি গুলি একটি বরো সমাধি সাইট হয়ে ওঠে।
এই  কম এল শোকাফার ধ্বংসাবশেষ
প্রাচীন মিশরের পৈত্তলিক ধর্মীয় বিশ্বাসের
শেষ প্রধান কাঠামোর একটি
উপরুন্ত এগুলি, সরাসরি প্রভাব লক্ষিত হয়
এখানে উপস্থিত অন্যান্য অনেক সংস্কৃতি অসাধারণ স্থাপত্যে ।
এগুলোকে সমাধি বলার এক মাত্র কারণ
একই প্রকার সমাধি ছিলো খ্রীষ্ট ধর্মালোম্বি
রোমানদের।
সেখানে  তিন স্তর বিশিষ্ঠ কবর ছিল। মিশরীয়,গ্রিক,এবং রোমান স্থাপত্যে সহ  বিভিন্ন প্রকার স্থাপত্য ছিল।
স্তর গুলি শিলা মধ্যে উত্কীর্ণ এবং
একটি সিঁড়ি এবং একটি রোটুন্ডা।
এখানে আছে একটি পার্শ্বকক্ষ,
একটি কবর কক্ষ,একটি চাঁদনি।
কবর কক্ষ্যের মধ্যে তিনটি ভাস্কর্যশিল্পঅলংকৃত শিলালিপিসমন্বিত
প্রস্তর শবাধার।
সমাধি কক্ষ্য গুলি খুব ভাল সংরক্ষিত এবং

অনুরূপ ভাবেই থাকত যেভাবে তারা অনেক শতাব্দী আগে করে রেখে ছিল।
কিন্তু নিচের স্তর গুলি এখনো উপসাগরীয় জলের মধ্যে ডুবে আছে।
সেখানে 99 ধাপ সহ একটি সর্পিল সিঁড়ি আছে যেটি একটি খাদের  মধ্যে গেছে।
এই খাদ ব্যাবহার হোত মৃত দেহ উপর
থেকে নিচে রোপের সাহায্যে অখ্যাত ভাবে নামানোর জন্য,কোন প্রকার ক্ষয় ক্ষতি ছাড়া।
সিঁড়ির পরেই আছে চাঁদনি।
এই জায়গাটি দর্শক দের উপর থেকে নিচে সিঁড়ি দিয়ে আসার পরে বিশ্রামের  জন্য।

রোটুন্ডা টি দ্বিতীয় তলে একটি গোলাকার বিশালাকার হল বিস্তৃত দেওয়াল উপরের
ডোম পর্যন্ত।
এই ডোম টি পিলার দিয়ে সাপোর্ট দেওয়া।
এই খাদটি প্রথম তালা থেকেই দেখাযায়।
পাঁচটি পাথরের হাত পাওয়া গেছে রোটুন্ডার
নিচে, যেগুলো জাদুঘরে রাখা আছে।
ইউ ( U )আকৃতির ট্রীক্লিনিয়াম অথবা
ভোজ ঘরে তিনটি বেঞ্চ আছে যেগুলি
পিলার দিয়ে সাপোর্ট দেওয়া।
মোজাইক করা ফ্লোর সিলিং টি শেলের
মতন অলঙ্কৃত।
এই স্থান টি অতিথিদের বিশ্রাম ও খাবার
খাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট।

তথাপি এমনটার কোন সন্দেহ নাই যে Kom el Shoqafa একটি বিশেষ সংরক্ষণ কেন্দ্র,
প্রাচীন মিশরের ধ্বংসাবশেষ নিদর্শনের,
 সমৃদ্ধ মিশ্রণ ছিলো যা সমৃদ্ধ করেছে তৎ কালের সংস্কৃতির।
তাই এটি একটি প্রাচীন সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধর উপযুক্ত নিদর্শন।
এটি অতি অতীতের এক নিদর্শন যা সত্যই
একটি মধ্য যুগের সাতটি বিস্ময়কর নিদর্শনের একটি।

              =================

Q>বিখ্যাত পম্পি পিলার


এখানে আছে সেই বিখ্যাত পম্পি পিলার যা তৈরী হয়েছিল সেই রাজাদের সম্মানে।
সম্পূর্ণ পিলারটি 28মিটার লম্বা 3rd century A.D. তে তৈরী করেছিলো আসোয়ানের লাল
গ্রানাইড দিয়ে।
                 ================

**১০>রোমান থিয়েটার---( আলাদা করে লিখলাম )

তারপরে এখানে আছে রোমান থিয়েটার সেই 4yh centuty র
Then visit the Odeum (Roman Theater) dating back to 4th century.

( রোমান থিয়েটারের সম্পূর্ণ বিবরণ যেটুকু শুনেছি দেখেছি
তার যতটা সম্ভব বিবরণ দিলাম আলাদা করে )

          ====================================

এর পরে দুপুরের খাবার খেলাম সি ফুড খাবার
এই খাবারে সমুদ্রে অনেক প্রাণী খেলাম। ঝিনুক ,শামুক, অক্টপাস , সামুদ্রিক মাছ

এই খবর খেয়ে তার পরেই গিয়েছিলাম লাইব্রেরি দেখতে ( লাব্রেরির বিবরণ
আগেই লিখেছি )


 রাতে হোটেলে ফিরলাম।
   হোটেল টির  নাম ::-
 MERCURE CAIRO LE SPHINX  HOTEL 

                                                          <---©-আদ্যনাথ--->

অষ্টম দিন-------8 the day ::07/04/2019::রবিবার

<---©-আদ্যনাথ--->

Day 8: 7th April - Sunday
Breakfast=07:00am
Check out Time =09:00am
pack our baggage and start you return journey to the sweet home.
We will be transferred to Cairo international airport.
At =09:30am.
Take the flight from Cairo to Abu Dhabi (EY 654) and landed at 05:13
connecting flight to Kolkata (EY 256).
(Meals: B)
The historical tour of Enchanting Egypt comes to an end with beautiful memory of the land of
Pharaohs…


জীবনে অনেক ঘুরেছি তবুও যাকিছু ভালো
সবই যেন খুব তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায়।

আজকালকার অতি ব্যস্ত জীবনে সময়ের মাঝে পরিবারের সঙ্গে একটু ঘুরে বেড়ানো
একটু অবকাশ খুব সহজে মেলেনা, আর তাই সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে হয় |
সুযোগ আসার পর চলতে থাকে তার প্রস্তুতি। নির্দিষ্ট দিনের অপেক্ষা এবং তার
 প্রতীক্ষার উত্তেজনা সত্যি সুখের, কেননা দেখতে দেখতে সাত দিনের বেড়ানো শেষ |
কাল থেকেই আবার দৈনন্দিন জীবনের ঘনি টানা হবে শুরু।

লেখা লেখির অভ্যেস আমার আছে
কিন্তু কোন কাহিনী বা ভ্রমণ কাহিনী
তেমন করে খুব একটা লিখি নাই।
যেটুকু লিখি সে কেবল নিজের মনের চাহিদা পূরণ করতে লিখি ।
কাউকে দেখবার মতন করে লিখতে পারি না।
লিখতে ভালো বাসি তাই ডাইরি ভর্তি করে লিখে রাখি।
কোনদিন কাউকে দেখাইও না।
কারন আামার লেখায় অনেক বানান ভুল হয়।তাই কাউকে দেখাতে চাই না।
তবে লিখি ডাইরিতে ও ব্লগ এতে লিখি।
ফেস বুকে ও হোয়াটস আপে লিখেলে
কেউ কেউ প্রসংশা করে।
তাই লিখবার ইচ্ছা ক্রমেই বেড়ে চলেছে।
এবং সেই কারনেই আজও লিখলাম ভ্রমণ কাহিনী ।
আমি চাই যারা এতদূর বিদেশে এমন সুন্দর প্রাচীন মিসর দেখতে যেতে পারছেন না
তারাও একটু জানুক।
তাদের চাক্ষুষ না হোক মানস ভ্রমণ হতেই পারে।
সকলকে আমার আন্তরিক ভালোবাসা জানিয়ে আজ এখানেই শেষ করছি।

       <----©-আদ্যনাথ--->
     【--anrc-25/04/2019--】
     【=রাত্রি:01:08:22=】
【=বেলঘড়িয়া=কোলকাতা -56=】

============================

( এই লেখার সাথে আলাদা করে কিছু লেখা আছে সে গুলো না পড়লে
মিশরকে জানাযাবেনা )

আলাদা করে  লেখা গুলি

J>|| রোমান থিয়েটার আলেক্সান্দ্রিয়া ||
K>|| টুটানখামুনের সমাধি ||
L>|| মিশরের মন্দির গুলি ||-------গল্প=ইতিহাস
F>|| গিজার পিরামিড --||----গল্প=ইতিহাস
M> || BALLOON RIDES ||--সত্য --গল্প
H>||মিশরের আবু সিম্বেল: || + | | আসওয়ান হাই ড্যাম; ||--গল্প=ইতিহাস
O>||জাদুমুগ্ধকারি মিশর ভ্রমণ :-||--++  ।।হট বেলুনে ভ্রমনে-।।==কবিতা
N>||মমির দেশে ভ্রমণ ||-----( 1 )==কবিতা +হিন্দি
A>||কায়রো  মিশর ভ্রমন;:-ANRC ||
P>কম এল শোকাফার ধ্বংসাবশেষ
                                                                 <---©-আদ্যনাথ--->

====================xXXXx====================

I>=সূয়েজ মিশর
মিশরের সূয়েজ খাল বা ক্যানেল
কখনও কখনও ভারতের মহাসড়ক হিসাবেও অভিহিত সূয়েজ খাল হল ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার সংযোগ সূ্ত্র, যা ভূমধ্য সাগর এবং লোহিত সাগরকে সংযুক্ত করেছে।
একটি মনুষ্য-সৃষ্ট জলপথ, এই খাল বা ক্যানেলটি হল একটি চিত্তাকর্ষক প্রাকৌশলিক বা ইঞ্জিনিয়ারিং কার্যকলাপ,
যা 1869 সালে তার সূচনার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পথকে সুগম করেছে।
এই খালটির নির্মাণকার্যে প্রায় $ 100 মিলিয়ন অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল।
এই একক-নির্দেশিত পথের খালটি দু’টি অতিবাহিত এলাকায় বৈশিষ্ট্য
                                                   <---©-আদ্যনাথ--->

============XXX============
           

24>||মিশর:।হট বেলুনে ভ্রমনে-।। ==কবিতা

O>||জাদুমুগ্ধকারি মিশর ভ্রমণ :-||--++  ।।হট বেলুনে ভ্রমনে-।।==কবিতা
                   <---©-আদ্যনাথ--->
 
 

( we Start our  journey to explore the land of Pharaoh.
Board the flight from Kolkata to Abu Dhabi (EY 255)
from NSCBI Airport. Take the connecting flight from
Abu Dhabi to Cairo (EY 653).)

অনেক ভেবে অবশেষে
চললাম আমরা মমির দেশে।
আমরা সবাই মিলেমিশে
আনন্দেতে মিশর দেশে।

আমরা ছিলাম 27 জন
শিশু, যুবক,বয়স্ক কজন।
পরিবার ছিল 5টি মাত্র
স্ত্রী পুরুষ সকলেই অতি ভদ্র।

দি বোহেমিয়ানস এর ব্যবস্থাপনা,
সকলে ছিলাম একান্ত আপনা।
অতি সুন্দর এদের তদারকি,
মিটিয়েছে সকল দরকারি।
বোহেমিয়ানস ছিলো বলে,
মুগ্ধ হয়েছি আমরা সকলে।

জাদুমুগ্ধকারি মিশর দেশ
কত বলি কত লিখি হবেনা শেষ।
সাত রাত্রি আর আটটি দিন
আমাদের চির স্বরণীয় কদিন।

পিরামিড দর্শন
          টেম্পল দর্শন
এগুলোর ছিলো একান্ত আকর্ষন ।
সকল আকর্ষণ কে ছাপিয়ে
লক্সোরের হট বেলুন চড়া অদ্ভুত শিহরণ।

বেলুনে চড়ে 530 উচুতে উঠে
সূর্য উদয় দর্শন
অবর্ণনীয় সেই অভিজ্ঞতার ক্ষণ।
মেঘমুক্ত নিল আকাশে
সূর্যের রক্তিম আভার বিচ্ছুরণ।

এহেন সূর্যোদয় দর্শনের শংসা
লক্সোরের হট বেলুন চড়ার প্রশংসা।
মরু দেশ অদ্ভুত সেই শংসিত,
মনোমুগ্ধ কর দর্শনীয় ষড়ৈশ্বর্য ।

বিশাল বেলুনে বাঁধা এক ঝুড়ি
তাতেই চড়ে বসলাম আমরা জনা কুড়ি।
পাইলট ছিলেন একজন
গ্যাস সিলিন্ডার সহ চারটি ওভেন।

চারটি ওভেনে জ্বালিয়ে আগুন
ফুলে বিশাল হল সেই বেলুন।
এবারে বেলুন উড়লো আকাশে
আমরা ভেসে চললাম বাতাসে।

530 ফুট ওপর থেকে মিশর দর্শণ,
সকলের হৃদয়ে নুতন এক শিহরণ।
চলছিলাম আমরা হওয়ার বেগে,
নীলনদ কে দেখছিলাম প্রাণ ভরে।

উঁচু থেকে দেখলাম সকল টেম্পল
পিরামিড বালুকা ময় বিস্তীর্ন অঞ্চল।
মাঝে মাঝে ওভেনের আগুনের হালকা
সে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা।

তখম সময় হয়েছিল পাঁচটা চল্লিশ
উর্ধো আকাশে ছিল শীতের আবেশ।
এমন মজাদার খোলা আকাশে ভ্রমণ
হট বেলুনে ভ্রমণ সত্যই অসাধারণ।
                       <---©-আদ্যনাথ--->

 【--anrc--10/04/2019 --】
     【=রাত্রি:02:08:12=】
【=বেলঘড়িয়া=কোলকাতা -56-】
===========================
হট বেলুনে ভ্রমনে
কিছু হয় মনে রাখতে।
*এই রাইড 45,--60মিনিটের রাইড
*সাথে থাকা উচিত উপযুক্ত গাইড/পাইলট
যে ইংরেজি বলতে পারে ভাল।
*কিছু আছে নিয়ম কানুন যা জেনে নিতে
হয় আগে।
*Ride টি FULL PASSANGER INSURANCE
*HAVE A SKILLED PILOT
*প্রশাসন অতিশয় সচেতন।
*সম্পূর্ণ যাত্রা পথ সি সি টিভির আওতায়
থাকে।
তথাপি নিজেদের ও সতর্ক থাকতে হয়।
বিশেষ করে বেলুনে চড়তে, নামতে,
বা উপরে হওয়ার বেগ বেড়ে গেলে।
তবে দেখলাম ওখানকার প্রশাসন
ভীষণ ভাবে সতর্ক।

**আমাদের বেলুন হওয়ার বেগের কারনে
বেশ একটু দুরে চলে গিয়ে ছিলো।
কিন্তু অবতরণের সময় দেখলাম
সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মুহূর্তে পৌঁছে গিয়ে ছিলো
অবতরণের স্থানে।
প্রশাসনের এহেন সতর্কতা দেখে ভীষণ ভালো লাগলো।

এই লেখাটি সম্পূর্ণ আমার নিজে উপলব্ধি।
নিজের উপলব্ধি থেকে যেটুকু বুঝেছি সেই টুকুই লিখলাম।
ভুল ভ্রান্তি হলেও হতে পারে
তার জন্য আগেথেকেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
                         <---©-আদ্যনাথ--->
===========================

23>|| মিশর ভ্রমণ ||-=কবিতা +হিন্দি

 
N>|| মিশর ভ্রমণ ||-----( 1 )==কবিতা +হিন্দি
                 <---©-আদ্যনাথ--->
    ( প্রথম পর্ব )

ভ্রমন তো
মনের অতৃপ্ত বাসনার মাঝে,
একটু তৃপ্তি খুঁজে পাওয়া।
একটু আনন্দ উপভোগ করা,
একটু খোলা হওয়ায়,
জিরিয়ে নেওয়া।
আগামী দিনগুলো
সুন্দর করে চলতে
বুকে একটু হওয়া ভরে নেওয়া।

ভ্রমন তো
নিজেকে পূর্ণ উপভোগ করা।
অজানাকে কাছে থেকে জানা।
নিজে প্রকৃতির সাথে মিশে থাকা।
কিছু সময় নিরালায় থাকা।
কিছু নুতন বন্ধু জুটিয়ে নেওয়া।
মনের আবেগ ভাগকরে নেওয়া।
কিছু ভালো লাগা।
কিছু মানিয়ে নেওয়া।
কিছু নুতন কথা বলা।
কিছু নুতন ভাবনা ভাবা।
কিছু স্বপ্ন দেখা।
কিছু সময় হারিয়ে যাওয়া।
কিছু পাওয়া না পাওয়ার
ভাবনায় দোল খাওয়া।
যেটুকু যায় পাওয়া,
সেইটুকু ই স্মৃতি হয়ে থাকা।

আমাদের এমারের ভ্রমন ছিল
খেজুর গাছের ছায়ায় ঘেরা,
নীল নদের শীতল জলে
একটু আদ্র হওয়া।
আসলে নুতন করে
নিজেকে খুঁজে পাওয়া।

রাত ভর জার্নি করে,
ফিরলাম  হয়ে একটু কাহিল,
আট দিন কেটেছে বিরাম হীন।
শুধু মরা মানুষের অবয়ব,
আর স্মৃতি সৌধ দর্শন রাত দিন।

সে এক নুতন অভিজ্ঞতার দিন,
নুতন দেশে নুতন পরিবেশের দিন।
বালুকা ময় বিস্তীর্ণ অঞ্চল,
আবেগে মণ ছিল চঞ্চল।

নীল নদের ক্রজে ভ্রমন,
নুতন অভিজ্ঞতার শিহরণ।
খাবার জল কতটা দামী,
বুঝে নিতে থাকেনি বাকী।

দিনে সূর্যের প্রচণ্ড তাপ,
রাতে শীতের প্রভাব।
বুঝিয়ে দিয়েছে
মরু দেশে বালির প্রভাব।

খেজুর,কলা, মোসম্বীর স্বাদ,
দুর হয়ে যায় সকল অবসাদ।
এতো কষ্টেও মেটে না আশা
চোখ ও মনে জাগে নুতন আশা।

আলেক জেন্দ্রিয়ার পুস্তক ভান্ডার,
তিন ঘণ্টা দেখেও মনে হাঁ হাঁ কার।
দেখলাম রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর,
বিবেকানন্দের সমাদর।
বাদ যায়নি আমাদের রামায়ন,
মহাভারতের সমাদর।

কি বিশাল পুস্তক ভান্ডার।
চোখে না দেখলে
বিশ্বাস করাই যে ভার।
বিশাল পরিসর,
সমগ্র বিশ্বের বইয়ের পাহাড়।

ই-বুকের সংগ্রহ
যেন মনেহয় ই-বুকের সমুদ্র।
চোখে দেখেও বিশ্বাস যেন
মনকে যায় ছড়িয়ে হারায়ে সমুদ্রে।

ভূমধ্য সাগরের ঢেউ অনবরত
করিছে ধৌত,
আলেকজেন্দারের স্মৃতি সৌধ।
এই স্থানেই ছিল পৃথিবীর
সর্ব প্রথম লাইট হাউস টি।
যার স্মৃতি স্মরণেই
নব নির্মিত এই
আলেকজেন্দারের স্মৃতি সৌধ।
নির্মাণ শিল্পের নিখুঁত কারু কার্য,
এও যেন পৃথিবীর এক অত্যাশ্চর্য।

আর সেই ঝুলন্ত বিশাল গির্জা।
ভবতেও অবাক লাগে,
প্রাচীন সেই চারু কলা।
প্রাচীন সেই  ইঞ্জিনিয়ারিং
যা আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিংকেও
হার মানায়।
তাইতো উত্তর আফ্রিকার স্মৃতি,
একবার নাদেখলে চোখে
মনে রয়ে যাবে বাসনা অতৃপ্তি।

ভ্রমণের স্মৃতি
অবসর জীবন যাপনের,
উঠকৃষ্ট ঔষধি ও মনের শক্তি।
নিরালায় বসে আনন্দ স্মৃতি
নিজে উপভোগ করা।
অবসর জীবনের
প্রকৃত আনন্দ নিজে খুঁজে নেওয়া।

        <---©-আদ্যনাথ--->         
     【--anrc--07/04/2019 --】
     【=দুপুর:11:40:22=】
【=কায়রো, মিশর=উত্তর আফ্রিকা=】
                (রায় চৌধুরী)
===========================
         




========================

|| चलनेका तमन्ना ||
                 <--©--आद्यनाथ--->

आपना बोलकर हैं केयां
सारे विश्व ई आपना।
घर छोड़ेथे था बहुत भाबना।
सारे दुनियां हि आपना।
लोग बोलते हैं पागोल
किन्तु पाया नहीं कुछ।
स्वप्ना देखे हैं बहुत
हैं कुछ भावना।
सोमुद्र की लहोर था
था गहराई कि चिंता।
था तो बोहूती भावना।
देखे हैं बहुत स्वप्ना।
नदी बहती हैं आपना पथ चुनके
तमन्ना रखते हैं सागर में मिलने।
हर नदी नहीं पूछते आपना मोंजिल
बिचमे ही बिलिन होजाते हैं धर्तीमे।
वहीं पौंछते है जिसके धारा हैं तेज,
समर्थ पथमे मिला लेति
छोटा बड़ा सारे धारा को साथ अपने में।
पानिका नहीं हैं रंग नहीं आकर,
हैं तो स्रिफ भार अउर प्रमाण।
मनुष्य के स्वभाव भी पानिके समान,
सफलता उनकी हैं जिसका हैं
द्रीढ चेष्टा अउर एकता बल से बलियान।
में तो सामान्य हूं,
हूं मनसे बिर्जेवान।
आगे बरनेका राहो मैं,
सबको करते हैं सम्मान।
विश्व भ्रोमन तमन्ना मनमे
शिखा हैं बहुत शिख आपने।
पूरा करना है अपना स्वप्ना,
कीऊकि सारे दुनियां हि आपना।
चलना ही तो जीबन,
मनमे हैं बहुत भावना,
चलना ही चलना।
      <--©--आद्यनाथ--->
     【--anrc-07/04/2019--】
     【=दुपहर:11:40:22=】
    【= कायरो, मिशर, उत्तर आफ़्रीका=】
           ( राय चौधूरी)
==========================


প্রথম পর্বের পরে একটু হিন্দিতে লিখলাম
এবারে দ্বিতীয় পর্ব লেখার চিন্তা চলছে।
মণ ও মাথাটা এখনো মিশরের পিরামিডে পিরামিডে গুহায় গুহায় খুঁজে চলছে।
মমি গুলো দেখে চলছে।
তাই মণ ও মাথাকে ছেড়ে দিয়েছি,
দেখুক কদিন আরো ভালো করে,
তার পরেই না হয় লিখবো দ্বিতীয় পর্ব।
                                    <---©-আদ্যনাথ--->