ভ্রমণ =দুই বৎসর পরে আবার নাগপুর থেকে----রত্নগিরি-হরিহরেশ্বর--কোলাবা ফোর্ট।
1979 এর 11মার্চ থেকে 22 মার্চ মোট 12 দিনের টুর পোগ্রাম ----
আমি দুদিন হলো বিলাস পুর থেকে ট্রান্সফার হয়ে আসলাম বেল পাহাড়িতে। খড়্গপুর থেকে 88 কিমি বেলপাহাড়িতে অনেক পূরণ কেম্প। একটা মেশিনে ফিশিং করতে হবে ভীষণ ইম্পর্টেন্ট বড় হোল 359 মিটারে ডায়মন্ড বিট সহ 20 ফুট ড্রিল রড ফেঁসে গেছে। ওনারা রিকভার করতে পারেন নি।জি এস ই ,এম সি এল ,সকলে চেষ্টা করেছে। তাই আমাকে এখানে আনাহয়েছে ফিশিং করতে।
এর আগেও আমি অনেক ফিশিং এ সাফল্য লাভ করেছিলম্ সেকারনে ফিশিং এ একটু সুনাম আছে।
বেলপাহাড়ির কেম্পের ইনচার্জ দাস সাহেব এমনিতেই আমাকে খুব ভালো বাসতেন।
দুদিন হলো এওর রিজার্ভেশন খানে এসেছি ,কিন্তু আমাকে তখন সাইটে নিয়ে যায়নি। সেই কারনে সেদিন সকাল বেলা আমি নিজেই বললাম স্যার চলুন সাইটের দেখে আসি। দাস সাহেব বললেন দেখো ওই মেশিনটা একটু প্রব্লেম করছে তাই সিনিয়র ফোরম্যান মি কুট্টি গেছেন মেশিন টা দেখতে। মেশিন ঠিক হলেই তোমাকে পাঠাবো। ততক্ষনে তোমার জাজা জোগাড় লাগবে সেগুলি তুমি দেখে নেও।
আমি বললাম সাইট নাদেখে লগবুক নাদেখে কিকরে কি করতে পারি বলুন তার পরে যেদিন ওই রড ফেসেক্যিল সেইদিন মেশিন চালাচ্ছিল কে ,তার সাথেও কথা বলতে হবে।
দাস সাহেব জানালেন সেদিন বচ্চন মেশিন চালাচ্ছিল। আমি বললাম কে সেই জাসেদপুরের লম্বু বচ্চন ? হ্যা সেই বচ্চন ,ওআবার কালথেকে ছুটি নিয়েছে বাড়ি যাবে। আমি তৎক্ষনাত বললাম না না ওকে এক্ষুনি ছুটি দেবেন না ,ওকে আমার দরকার হবে সেইদিনের পুরো ডিটেলস হিস্ট্রি জানতে।
দাসাহেব তখনি বচ্চনকে ডেকে জানিয়ে দিলো যে কালকে ওর যাওয়া হবেনা।
সে এক ভীষণ ঝামেলা ওর ট্রেনে রিজার্ভেশন কনফার্ম। আমি বললাম দেখো ভাই তুমি একটু সাহায্য নাকরলে আমি যে কিছুই করতে পারবোনা। তা অনেক বুঝিয়ে তবে ওকে আটকানো গেল।
আমি দাসাহেব কে বললাম চলুন সার আমি গিয়ে কুট্টি সাহেব কে একটু সাহায্য করি ,তাতে আশাকরি কুট্টি সাহেব খুশিই হবেন।
আমার কথা মেনে দাস সাহেব আমি আর বচ্চন তৈরী হলাম সাইটে যাবার জন্য। কিন্তু ড্রাইভার কোথায় দাস সাহেবের ড্রাইভার হক দুইদিন যাবৎ জ্বরে পরে আছে। অগত্যা আমাকেই চালাতে হল জিপি।
এই সাইট টা অনেক দূরে আমদের প্রায় এক ঘন্টা সময় লাগলো সাইটে পৌঁছতে।
মি কুট্টি আমাকে দেখে মজা করে বললো কি রায়চৌধুরী ফিশিং মাস্টার তুমিও হাজি হলে।
আমি বললাম আমি আসাতে কোন অসুবিধা হিল কি ?
উনি বললেন নানা আমি একটু মজা করছিলাম। আসলে এই মেশিনটার ক্লাচ ঠিক কাজ করছে না
গত পনেরদিন ধরে হেমারিং করতে করতে ক্লাচটার বারোটা বেজে গেছে।
মনেহয় মেশিনটার গিয়ার বক্স পাল্টাতে হবে। আমি কুট্টি স্যার কে বললাম যদি কিছু মনে না করেন তবে আমি একটু চেষ্টা করে দেখতে পারি। মি কুট্টির আবার বেঙউক্তি সেকি তুমি আবার মেকানিক হলে কবে। আমি বললাম না না আমি কেকানিকের কিছুঁই জানিনা ,তবে মেশিংএ ফিশিং করতে করতে অনেক কিছুই শিখতে হয়েছে। কুট্টি বললেন দেখো কিছু করতে পার কিনা ,আমিতো তিনদিন ধরে চেষ্টা করেও কিছু করতে পারলাম না। আমি গিয়ার বক্স খুলতেই নজরে পড়লো মেই গিয়ারের তিনটি কি লক এর একটি স্লিপ করে গেছে। যেটা বাইরে থেকে বোঝা যাচ্ছিলো না।
আমি মি কুট্টিকে দেখলাম ব্যাপার টা। মি কুট্টি দেখেই বললেন সাবাস রায় চৌধুরী তুমিতো মেকানিকের বাপ্ ,এই সামান্য ত্রূটি তো আমি খেয়াল ই করিনি। তিন চার বার গিয়ার বক্স নামিয়ে
দেখেছি ,এই সামান্য ব্যাপার টা আমাদের কারুর নজরে পড়েনি।
যাইহোক সেদিন পুরো মেশিন ফিট করেত করতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। তাই সেদিন আর কোন কাজ হলোনা। আমার নজরে পড়লো যে বচ্চনের মুখ ভার। আমি বললাম দেখো ভাই বচ্চন আমার আন্দাজ যদি ঠিক হয় তবে কালকেই আমরা সফল হবো আর তুমিও ছুটি পেয়েযাবে।
সত্য ই আমার আন্দাজি সঠিক ছিল যে মেশিনের ক্লাচ স্লিপ করার কারনে কোন হেমারিং ই ঠিক ঠাক হয়নি। সকালে গিয়ে ফিশিং টুল সহ পুরো রড লোয়ার করে ঠিক মতন একটু চেষ্টা করতেই রড নিচের রডে টাইট হয়ে আটকে গেছে ,আর সামান্য কিছু হেমারিং করতেই পুর রড ও বিট উঠে এলো।
অর্থাৎ একদিনেই ফিশিং সাকসেজ।
কেম্পের সকলে ভীষণ খুশি। হেড কোয়ার্টারে খবর গেলো। আমার ভাগ্যেও কিছু ভালো খাবার জুটলো। সাথে মদের ফোয়ারা চললো।
দুইদিন পরে হেডকোয়াটার থেকে বড়ো বড়ো সাহেবরা আসলেন এবং তিন চার দিন চললো খানা পিনা। গন্ডায় গন্ডায় মুরগী আর পেটিকে পেটি রাম আর হুইস্কির ফোয়ারা।
হঠাৎ পান্ডে সাহেব আমাকে একটি খাম দিয়ে বললেন কোরবা ক্লিয়ারির জি এম তোমার নাম এই খাম পাঠিয়েছেন। তুমি ওদের ওই সামারসেবেল উদ্ধার করে অনেক উপকার করেছো তাই তোমাকে এই খাম পাঠিয়ে ছেন। আমি বললাম কেন ওনারা তো আমাদের পুরো টিমকে চারদিন অটো আদর যত্ন করলেন সবাইকে মালা পরিয়ে করো সন্মান জানালেন তা আবার আমাকে একলা কেন কিছু দিলেন।
পান্ডে সাহেব বললেন আগে খাম খুলে দেখো ওতে কি আছে ,কোন চার্জশিট লেটার না কোন কমপ্লেন না অন্য কিছু। আমি তাড়াতাড়ি খাম খুললাম তাতে দেখি একটি চিঠি ও একটি দশ হাজার টাকার চেক।
চিঠিটা পরে জানতে পারলাম জি এম সাহেব সেদিন আমাদের কাজে খুশি হয়ে আমাদের দলের চার জনকে পাঁচ হাজার করে টাকার চেক দিয়েছেন আর টিম লিডার হিসাবে আমাকে এই দশ হাজার।
পান্ডে সাহেব এবং দাস সাহেব একসাথে যাতে চাইলেন যে এই টাকা দিয়ে আমি কি করবো।
আমি বললাম যদি আপনারা আমার কাজে খুশি হয়ে থাকেন তবে আমাকে পনেরোদিনের ছুটি দেন তাহলে আমি আবার একটু এদিক সেদিক ঘুরে আসি।
দাস সাহেব বললেন ছুটির জন্য কোন চিন্তা করতে হবেনা। তুমি আমার যে উপকার করেছো তাতে আমরা সকলেই খুশি। তুমি আমাদের ও কোম্পানির ম্যান সন্মান ও বিরাট বিপদ থেকে রক্ষা করেছো। পান্ডে সাহেব বললেন আমি তোমাকে পনের দিনের স্পেশাল ছুটি এস এ গিফ্ট মনজুর করলাম আর আমার তরফ থেকে তোমাকে পাঁচটি জনিওয়াকার দেব। কারণ পনের দিন আর বাইরে থেকে কোন ওয়াইন কিনতে হবে না।
দাস সাহেব বললেন ছুটির জন্য কোন চিন্তা করতে হবেনা। তুমি আমার যে উপকার করেছো তাতে আমরা সকলেই খুশি। তুমি আমাদের ও কোম্পানির ম্যান সন্মান ও বিরাট বিপদ থেকে রক্ষা করেছো। পান্ডে সাহেব বললেন আমি তোমাকে পনের দিনের স্পেশাল ছুটি এস এ গিফ্ট মনজুর করলাম আর আমার তরফ থেকে তোমাকে পাঁচটি জনিওয়াকার দেব। কারণ পনের দিন আর বাইরে থেকে কোন ওয়াইন কিনতে হবে না।
দাস সাহেব বললেন ওনার ভাই ও তার এক বন্ধু এসেছেন ওরা নাগপুর গিয়ে কোথাও যাবার প্ল্যান করছে ,
তুমি যদি তোমার সাথে ওদের নিয়ে যাও তবে আমিও নিশ্চিন্তে ওদের যেতে দিতে পারি। পরেরদিন
আমি সকালেই দাসাহেবের কোয়াটারে গিয়ে ওনার ভাইও তার বন্ধুর সাথে কথা বলে আমারা তিনজনে বেরিয়ে পড়লাম আমার দুই বৎসর আগে ঘুরে আসা জায়গা গুলি আবার একবার ঘুরে বেড়াতে।
কারন সেবার এক টুর পার্টির সাথে গিয়ে তেমন মজা করতে পারিনি। কিন্তু ওই দর্শনীয় স্থান গুলি এতো সুন্দর যে বার বার গেলেও মন ভরবে না।
সেই কারনে আমরা তিনজনে 15 দিনের জন্য বেরিয়ে পড়লাম। প্ল্যান ছিল 15 দিনের ,কিন্তু আমাদের 12 দিনেই ফিরতে ফল। কারন হঠাৎ করে পা স্লিপ করে দাস সাহেবের ভাইয়ের পায়ে চোট লেগেছিল।
ডাক্তার দেখিয়ে ক্রেপ বেন্ডেজ লাগিয়ে ,আমাদের পোগ্রাম তিনদিন আগেই শেষ করে ফিরতে হয়েছিল।
কারন সেবার এক টুর পার্টির সাথে গিয়ে তেমন মজা করতে পারিনি। কিন্তু ওই দর্শনীয় স্থান গুলি এতো সুন্দর যে বার বার গেলেও মন ভরবে না।
সেই কারনে আমরা তিনজনে 15 দিনের জন্য বেরিয়ে পড়লাম। প্ল্যান ছিল 15 দিনের ,কিন্তু আমাদের 12 দিনেই ফিরতে ফল। কারন হঠাৎ করে পা স্লিপ করে দাস সাহেবের ভাইয়ের পায়ে চোট লেগেছিল।
ডাক্তার দেখিয়ে ক্রেপ বেন্ডেজ লাগিয়ে ,আমাদের পোগ্রাম তিনদিন আগেই শেষ করে ফিরতে হয়েছিল।
আগে সংক্ষেপে লিখলাম আমাদের 12দিনের দর্শনীয় স্থান গুলি।
নাগপুর ----পুনে----পেশোয়া উদ্যান-------দিনকর কেলকর মিউজিয়া-----আগা খাঁ এর প্রাসাদ--------
নাগপুর ----পুনে----পেশোয়া উদ্যান-------দিনকর কেলকর মিউজিয়া-----আগা খাঁ এর প্রাসাদ--------
শনিবার ওয়াড়া ফোর্ট----শিবাজির লাল মহল-----পাতালেশ্বর মন্দির----আট (8) শতকের গুহামন্দির-----সরসবাগ গণপতি মন্দির------মহালক্ষ্মী মন্দির----- দাগদুশেঠ হালোয়াই গণপতি মন্দির------খড়াকভাসলা লেক,-----সিংহগড়,----শিবাজির দুর্গ-----শৈবতীর্থ ভীমাশংকর---------- পাথাল লেক -----মহাবালেশ্বর-------কৃষ্ণাবাঈ
পঞ্চগঙ্গা মন্দির-----অন্তত 30 টি ভিউ পয়েন্ট রয়েছে মহাবালেশ্বরে----প্রতাপগড়---
----পঞ্চগনি----পথে আরো আছে দর্শনীয় ------ গণপতিপুলে সৈকত----গণপতি মন্দির --
------ রত্নগিরি----পান্দ্রে বিচ----ভাটে বিচ--------ভগবতী মন্দির----রত্নগিরি দুর্গ-লোকমান্য তিলকের বাড়িতে স্মারক সংগ্রহশালা---------জয়গড় ফোর্ট ও লাইটহাউস----কেশবসুত স্মারক------হরিহরেশ্বর-সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত রমণীয় হরিহরেশ্বরে-----কালভৈরব মন্দির
------- সাবিত্রী নদী আর সমুদ্রের মোহনায় শুক্লতীর্থ---- পাশেই গায়ত্রীতীর্থ-----ব্যাঙ্কট ফোর্ট--- বাগমণ্ডলা সৈকত----মুরুড সৈকত,
----শ্রীবর্ধন (সৈকত ও লক্ষ্মী-নারায়ণ মন্দির সহ এক গুচ্ছ মন্দির)-দিবেগর (সৈকত ও সোনার গণেশ মন্দির)----মুরুড থেকে ফেরিতে সাগরের মাঝে-----জঞ্জিরা ফোর্ট----নবাব প্যালেস বা আহমেদগঞ্জ-- -----দত্তাত্রেয় মন্দির-----গরম্বি ফলস্-------কাশিদ সৈকত-----নন্দগাঁও সৈকত-কাশিদ সৈকত---কোরলাই ফোর্ট---রেভডান্ডা ফোর্ট-----আলিবাগ সৈকত,সেখান থেকে ভাটার সময় দেখে ঘোড়ার গাড়ি চড়ে--কোলাবা ফোর্ট।
=============
পঞ্চগঙ্গা মন্দির-----অন্তত 30 টি ভিউ পয়েন্ট রয়েছে মহাবালেশ্বরে----প্রতাপগড়---
----পঞ্চগনি----পথে আরো আছে দর্শনীয় ------ গণপতিপুলে সৈকত----গণপতি মন্দির --
------ রত্নগিরি----পান্দ্রে বিচ----ভাটে বিচ--------ভগবতী মন্দির----রত্নগিরি দুর্গ-লোকমান্য তিলকের বাড়িতে স্মারক সংগ্রহশালা---------জয়গড় ফোর্ট ও লাইটহাউস----কেশবসুত স্মারক------হরিহরেশ্বর-সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত রমণীয় হরিহরেশ্বরে-----কালভৈরব মন্দির
------- সাবিত্রী নদী আর সমুদ্রের মোহনায় শুক্লতীর্থ---- পাশেই গায়ত্রীতীর্থ-----ব্যাঙ্কট ফোর্ট--- বাগমণ্ডলা সৈকত----মুরুড সৈকত,
----শ্রীবর্ধন (সৈকত ও লক্ষ্মী-নারায়ণ মন্দির সহ এক গুচ্ছ মন্দির)-দিবেগর (সৈকত ও সোনার গণেশ মন্দির)----মুরুড থেকে ফেরিতে সাগরের মাঝে-----জঞ্জিরা ফোর্ট----নবাব প্যালেস বা আহমেদগঞ্জ-- -----দত্তাত্রেয় মন্দির-----গরম্বি ফলস্-------কাশিদ সৈকত-----নন্দগাঁও সৈকত-কাশিদ সৈকত---কোরলাই ফোর্ট---রেভডান্ডা ফোর্ট-----আলিবাগ সৈকত,সেখান থেকে ভাটার সময় দেখে ঘোড়ার গাড়ি চড়ে--কোলাবা ফোর্ট।
=============
11ই মার্চ -- সকালেই নাগপুর থেকে রওনা দিলাম পুনে।
এখানের বাস সার্ভিস বেশ ভালো এসি বাস আরাম দায়ক সিট্ টিপ্ টপ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন।
তার উপরে রাস্তা খুবই সুন্দর। বাস প্রচন্ড স্পিডে চলে কিন্তু জানারারপর্দা টেনে দিলে কিছুই বুজতে পরাজয় না তাই আরামে ঘুমানো যায়। আমি অবশ্য পর্দা একটু ফাক করে পথ ঘাট দেখতে দেখতে চললাম। সত্যি এখন কার বাস জার্নি খুবই আরাম দায়ক। আর এই সকল কারণেই ট্রেনে না গিয়ে বাসেই গিয়েছিলাম।বাসে 730 km পথ।
পুনে পৌঁছেই একটি হোটেল খুঁজে সেখানে ব্যাগ গুলি রেখে বিকেলে ঘোরাঘুরি করে নিলাম পুনেতে।
পুনে তে পৌঁছেই একটা গাড়ির খোঁজ করলাম যে গাড়ি আমাদের দশ বারো দিন পুরো
ঘুরিয়ে দেখাবে। অনেক চেষ্টা করেও তেমন গাড়ি পেলাম না।
তখন আমরা পুনের এক টুরিস্ট সেন্টারে গেলাম।
তারা বললো এভাবে এতো ডিস্টেন্সের ও এতো দিনের জন্য কোন গাড়ি পাওয়া যাবেনা।
তাছাড়া যেহেতু আমরা চার জন ছিলাম তাই বললো চার জনের জন্য গাড়ি ভাড়াও বেশি পরবে।
কমসে কম ছয় জন হলে একটা ব্যবস্থা হতে পারে।
আমরা চারজন আর দুইজন কোথায় পাবো। এই নিয়ে মহারাষ্ট্রের টুরিস্ট মেনেজারের সাথে কথা চলছিল।
এমন সময় হঠাৎ তিনজন বয়স্ক লোক এসে ঠিক আমাদের মতন গাড়ির খোঁজ করছিলো।
পাশে বসা কাউন্টারে।
সেই মেনেজার আমাদের ভীষণ সাহায্য করলেন।আমাদের ওই তিনজনের সাথে মিলিয়ে দিলেন।
আমরা এবং ওই তিনজন মিলে মোট সাতজন হলাম।
একটি জোঙা জিপ এর ড্রাইভারের সাথে কথা বলে আমাদের জানালেন যে এই জিপ টি আমরা
পেতে পারি ও আমাদের পুরো পুনে শহর ঘুরিয়ে মহাবালেশ্বর পর্যন্ত নিয়ে যাবে।
এই চার দিন ও আমাদের সাথে থাকবে। আর মহাবালেশ্বর গিয়ে ও জানাশুনা কোন গাড়ির
ব্যবস্থা করে দেবে।
ড্রাইভার বললো আপনাদের কোন চিন্তা নাই। মহাবালেশ্বর রে ওর কোন জানা শুনা গাড়ি
আছে, সেই গাড়ি ব্যবস্থা করে দেবে। এবং এতে আমাদের ভাড়াও অনেক কম লাগবে।
1979 সালে আমাদের গাড়ি বাবদ খরচা লেগে ছিল জন পিছু 600 টাকা করে।
এই ভাবে আমাদের তিনবার গাড়ি পাল্টাতে হয়ে ছিল।
পরে অবশ্য জেনেছিলাম এগুলি মহারাষ্ট্রের ট্রাভেল এজেন্সির গাড়ি।
এই জিপি গুলি এই ভাবেই ভাড়া খাটে।
যাইহোক গাড়ির ব্যবস্থা হবার পরে ,হোটেলে গিয়ে খাওয়া সেরে শুয়ে পড়লাম।
তার উপরে রাস্তা খুবই সুন্দর। বাস প্রচন্ড স্পিডে চলে কিন্তু জানারারপর্দা টেনে দিলে কিছুই বুজতে পরাজয় না তাই আরামে ঘুমানো যায়। আমি অবশ্য পর্দা একটু ফাক করে পথ ঘাট দেখতে দেখতে চললাম। সত্যি এখন কার বাস জার্নি খুবই আরাম দায়ক। আর এই সকল কারণেই ট্রেনে না গিয়ে বাসেই গিয়েছিলাম।বাসে 730 km পথ।
পুনে পৌঁছেই একটি হোটেল খুঁজে সেখানে ব্যাগ গুলি রেখে বিকেলে ঘোরাঘুরি করে নিলাম পুনেতে।
পুনে তে পৌঁছেই একটা গাড়ির খোঁজ করলাম যে গাড়ি আমাদের দশ বারো দিন পুরো
ঘুরিয়ে দেখাবে। অনেক চেষ্টা করেও তেমন গাড়ি পেলাম না।
তখন আমরা পুনের এক টুরিস্ট সেন্টারে গেলাম।
তারা বললো এভাবে এতো ডিস্টেন্সের ও এতো দিনের জন্য কোন গাড়ি পাওয়া যাবেনা।
তাছাড়া যেহেতু আমরা চার জন ছিলাম তাই বললো চার জনের জন্য গাড়ি ভাড়াও বেশি পরবে।
কমসে কম ছয় জন হলে একটা ব্যবস্থা হতে পারে।
আমরা চারজন আর দুইজন কোথায় পাবো। এই নিয়ে মহারাষ্ট্রের টুরিস্ট মেনেজারের সাথে কথা চলছিল।
এমন সময় হঠাৎ তিনজন বয়স্ক লোক এসে ঠিক আমাদের মতন গাড়ির খোঁজ করছিলো।
পাশে বসা কাউন্টারে।
সেই মেনেজার আমাদের ভীষণ সাহায্য করলেন।আমাদের ওই তিনজনের সাথে মিলিয়ে দিলেন।
আমরা এবং ওই তিনজন মিলে মোট সাতজন হলাম।
একটি জোঙা জিপ এর ড্রাইভারের সাথে কথা বলে আমাদের জানালেন যে এই জিপ টি আমরা
পেতে পারি ও আমাদের পুরো পুনে শহর ঘুরিয়ে মহাবালেশ্বর পর্যন্ত নিয়ে যাবে।
এই চার দিন ও আমাদের সাথে থাকবে। আর মহাবালেশ্বর গিয়ে ও জানাশুনা কোন গাড়ির
ব্যবস্থা করে দেবে।
ড্রাইভার বললো আপনাদের কোন চিন্তা নাই। মহাবালেশ্বর রে ওর কোন জানা শুনা গাড়ি
আছে, সেই গাড়ি ব্যবস্থা করে দেবে। এবং এতে আমাদের ভাড়াও অনেক কম লাগবে।
1979 সালে আমাদের গাড়ি বাবদ খরচা লেগে ছিল জন পিছু 600 টাকা করে।
এই ভাবে আমাদের তিনবার গাড়ি পাল্টাতে হয়ে ছিল।
পরে অবশ্য জেনেছিলাম এগুলি মহারাষ্ট্রের ট্রাভেল এজেন্সির গাড়ি।
এই জিপি গুলি এই ভাবেই ভাড়া খাটে।
যাইহোক গাড়ির ব্যবস্থা হবার পরে ,হোটেলে গিয়ে খাওয়া সেরে শুয়ে পড়লাম।
N==রাত্রিবাস পুনেতে।
চার রাত্রি ছিলাম পুনেতে।
পুনে তে গাড়ি ভাড়া করেই ঘোড়া ভালো
পুনে তে গাড়ি ভাড়া করেই ঘোড়া ভালো
1st,2nd and 3rd day – তিন দিন পুনেতে। কারণ এখানে অনেক কিছু দেখার আছে।
যেটুকু দেখেছি সেই কথাই লেখার চেষ্টা করছি।
যেটুকু দেখেছি সেই কথাই লেখার চেষ্টা করছি।
(1) মারাঠা শৈলীতে নানাসাহেবের তৈরি পার্বতী মন্দির।
(2) পার্বতী মন্দিরের পাদদেশে বেশ বড় জায়গা জুড়ে পেশোয়া উদ্যান।
একটু কাছেই বাঙলার সাহিত্যিক শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুঠি।
একটু কাছেই বাঙলার সাহিত্যিক শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুঠি।
(3) পেটে রাজা দিনকর কেলকর মিউজিয়া.
(রাজা দিনকর কেলকর মিউজিয়াম প্রতি দিন সকাল 8টা থেকে বিকেল সাড়ে 5টা পর্যন্ত, )
(4) শহর থেকে একটু দূরে তালেগাঁও রোডে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক নীরব সাক্ষী আগা খাঁ এর প্রাসাদ।
(রাজা দিনকর কেলকর মিউজিয়াম প্রতি দিন সকাল 8টা থেকে বিকেল সাড়ে 5টা পর্যন্ত, )
(4) শহর থেকে একটু দূরে তালেগাঁও রোডে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক নীরব সাক্ষী আগা খাঁ এর প্রাসাদ।
1942-এর আন্দোলনে এখানেই বন্দিবাস করেন মহাত্মা গান্ধী, কস্তুরবা গান্ধী, মহাত্মার সেক্রেটারি মহাদেবভাই দেশাই, সরোজিনী নাইডু প্রমুখ।
এখানেই বন্দিবাসে প্রয়াত হন কস্তুরবা, মহাদেবভাই।
পাশেই গান্ধী জাতীয় মিউজিয়াম।
( গান্ধী জাতীয় মিউজিয়াম সকাল 9টা খোলে দুপুর সাড়ে 12টা ও দুপুর দেড়টা থেকে সন্ধে 6টা পর্যন্ত, )
এখানেই বন্দিবাসে প্রয়াত হন কস্তুরবা, মহাদেবভাই।
পাশেই গান্ধী জাতীয় মিউজিয়াম।
( গান্ধী জাতীয় মিউজিয়াম সকাল 9টা খোলে দুপুর সাড়ে 12টা ও দুপুর দেড়টা থেকে সন্ধে 6টা পর্যন্ত, )
এই সকল দেখতে দেখতে সন্ধ্যা হয়েগেল।
N==রাত্রিবাস পুনে।
N==রাত্রিবাস পুনে।
4th day======14th March
চতুর্থ দিন আমাদের ড্রাইভার তথা গাইড নিয়েগেল সকালে পেটে পেশোয়া বাজিরাও এক -এর কাঠের তৈরি 7 তলা দুর্গাকার প্রাসাদ বা শনিবার ওয়াড়া ফোর্ট । এর অন্দরেই ঘটেছিল বাজিরাও ও রূপসী নর্তকী মস্তানির প্রেম।
(শনিবার ওয়াড়া সকাল 9টা থেকে বিকেল সাড়ে 5টা পর্যন্ত খোলা।)
(শনিবার ওয়াড়া সকাল 9টা থেকে বিকেল সাড়ে 5টা পর্যন্ত খোলা।)
(শনিবার ওয়াড়া ফোর্টের গল্প মানেই বিশ্বাসঘাতকের কাহিনী...
ইতিহাসে বিশ্বাসঘাতকের কাহিনীর শেষ নাই,
বিশ্বাসঘাতকের কাহিনী নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেছেন সময়ে সময়ে।
সবথেকে বরো কথা —ষড়যন্ত্র আর বিশ্বাসঘাতকতা যে রাজবংশে নেই, সে রাজবংশ, সত্যি কারের রাজবংশই নয়।
আর বিশ্বাসঘাতক বলতে আমাদের প্রথমেই মীরজাফরের কথা মনে পড়ে, রামায়নে ঘরশত্রু বিভীষণের কথা মনে হয়—এছাড়াও আরো কতো বিশ্বাসঘাতকতার কাহিনী আছে আমদের ইতিহাসে। আবার এমনটাই দেখাযায় যে যুগে যুগে এই বিশ্বাসঘাতকেরাই রাজা হয়ে
সিংহাসনে বসেছেন। রাজ্য শাসন করেছেন।এমনই এক শনিবার দিনের ঘটনাযা ইতিহাসে আজও
নিষ্ঠূরতম গুপ্তহত্যা ( CRUELEST ASSASSINATION ) .ঘটনাটি এমন কিছু বিশ্বাসঘাতক ষড়যন্ত্র করে তরুণ পেশোয়া নারায়ণ রাওকে হত্যা করে টুকরো টুকরো করে কেটে ছিলো এই
ওয়াড়া ফোর্টে।
যে কারণে শনিবার ওয়াড়া ফোর্ট আজও অভিশপ্ত হয়ে আছে। আজও নাকি নারায়ণ রাওয়ের অন্তিম মর্মান্তিক আর্তচিৎকার ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হয় দূর্গের প্রতিটি দেওয়ালে দেওয়ালে ! হতভাগ্য তরুণ পেশোয়া শেষ নিঃশ্বাস ফেলার আগেও বিশ্বাস করেছিল তার ‘কাকা’ অর্থাৎ রঘুনাথ রাও এসে তাঁকে বাঁচাবেন! কিন্তু কে জানত যে সেই বিশ্বাসী কাকাই তাঁর মৃত্যুর ষড়যন্ত্র করেছিলেন! তরুণ পেশোয়া নারায়ণ রাও ক্ষত-বিক্ষত হয়ে শুধু মরিয়া ও অসহায় জীবনের শেষ শ্বাস পর্যন্ত চিৎকার করে গিয়েছিলেন—‘কাকা মালা ভাচভা!’ —‘কাকা মালা ভাচভা (কাকা, আমায় বাঁচাও)। কিন্তু কেউ আসেনি!তাকে বাঁচাতে । তরুণ পেশোয়া নারায়ণ রাও কে।আজও এই হত্যাকে বলা হয় ( CRUELEST ASSASSINATION ) নিষ্ঠূরতম গুপ্তহত্যা।
কাছেই রাস্তার ও-পারে শিবাজির লাল মহল, ছবিতে শিবাজির জীবনচরিত
ইতিহাসে বিশ্বাসঘাতকের কাহিনীর শেষ নাই,
বিশ্বাসঘাতকের কাহিনী নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেছেন সময়ে সময়ে।
সবথেকে বরো কথা —ষড়যন্ত্র আর বিশ্বাসঘাতকতা যে রাজবংশে নেই, সে রাজবংশ, সত্যি কারের রাজবংশই নয়।
আর বিশ্বাসঘাতক বলতে আমাদের প্রথমেই মীরজাফরের কথা মনে পড়ে, রামায়নে ঘরশত্রু বিভীষণের কথা মনে হয়—এছাড়াও আরো কতো বিশ্বাসঘাতকতার কাহিনী আছে আমদের ইতিহাসে। আবার এমনটাই দেখাযায় যে যুগে যুগে এই বিশ্বাসঘাতকেরাই রাজা হয়ে
সিংহাসনে বসেছেন। রাজ্য শাসন করেছেন।এমনই এক শনিবার দিনের ঘটনাযা ইতিহাসে আজও
নিষ্ঠূরতম গুপ্তহত্যা ( CRUELEST ASSASSINATION ) .ঘটনাটি এমন কিছু বিশ্বাসঘাতক ষড়যন্ত্র করে তরুণ পেশোয়া নারায়ণ রাওকে হত্যা করে টুকরো টুকরো করে কেটে ছিলো এই
ওয়াড়া ফোর্টে।
যে কারণে শনিবার ওয়াড়া ফোর্ট আজও অভিশপ্ত হয়ে আছে। আজও নাকি নারায়ণ রাওয়ের অন্তিম মর্মান্তিক আর্তচিৎকার ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হয় দূর্গের প্রতিটি দেওয়ালে দেওয়ালে ! হতভাগ্য তরুণ পেশোয়া শেষ নিঃশ্বাস ফেলার আগেও বিশ্বাস করেছিল তার ‘কাকা’ অর্থাৎ রঘুনাথ রাও এসে তাঁকে বাঁচাবেন! কিন্তু কে জানত যে সেই বিশ্বাসী কাকাই তাঁর মৃত্যুর ষড়যন্ত্র করেছিলেন! তরুণ পেশোয়া নারায়ণ রাও ক্ষত-বিক্ষত হয়ে শুধু মরিয়া ও অসহায় জীবনের শেষ শ্বাস পর্যন্ত চিৎকার করে গিয়েছিলেন—‘কাকা মালা ভাচভা!’ —‘কাকা মালা ভাচভা (কাকা, আমায় বাঁচাও)। কিন্তু কেউ আসেনি!তাকে বাঁচাতে । তরুণ পেশোয়া নারায়ণ রাও কে।আজও এই হত্যাকে বলা হয় ( CRUELEST ASSASSINATION ) নিষ্ঠূরতম গুপ্তহত্যা।
কাছেই রাস্তার ও-পারে শিবাজির লাল মহল, ছবিতে শিবাজির জীবনচরিত
সুন্দর করে বর্ণনা আছে।
তারপরে দেখলাম পাতালেশ্বর মন্দির – শহরের পশ্চিমে শিবাজিনগরে রাষ্ট্রকূটদের কালে
আটশতকের গুহামন্দির। ধাপে ধাপে সিঁড়ি বেয়ে পৌছোতে হয়। তারপরে
আটশতকের গুহামন্দির। ধাপে ধাপে সিঁড়ি বেয়ে পৌছোতে হয়। তারপরে
সরসবাগ গণপতি মন্দির, শ্রী মহালক্ষ্মী মন্দির, দাগদুশেঠ হালোয়াই গণপতি মন্দির।
গাড়ি ভাড়া করে ঘুরলে একটা সুবিধা যে গাড়ির ড্রাইভার নিজেই গাইডের কাজ করে।
এইসকল দেখতে দেখতে কখন সন্ধ্যা হয়ে গেল বুঝতেই পারিনি। যাইহোক আজ পুনেতে রাত কাটালাম।
গাড়ি ভাড়া করে ঘুরলে একটা সুবিধা যে গাড়ির ড্রাইভার নিজেই গাইডের কাজ করে।
এইসকল দেখতে দেখতে কখন সন্ধ্যা হয়ে গেল বুঝতেই পারিনি। যাইহোক আজ পুনেতে রাত কাটালাম।
N==রাত্রি বাস পুনেতে।
5th day-15 th March – ভোরেই বেরিয়ে পড়েছিলাম। প্রথমে গিয়ে ছিলাম শহর থেকে 24 কিমি দূরে সিংহগড়,
ভুলেশ্বর পর্বতমালায় 4320 ফুট উচ্চতায় শিবাজির দুর্গ।
তারপরে গেলাম খড়াকভাসলা লেক, পাথাল লেক ইত্যাদি।
এই সকল দেখতে দেখতে পৌঁছে গিয়েছিলাম পুনে থেকে 95 কি,মি দূরে
শৈবতীর্থ ভীমাশংকর, দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম। সহ্যাদ্রি পাহাড়ে 3392 ফুট উচ্চতায় মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে ভীমাশংকর।
ভুলেশ্বর পর্বতমালায় 4320 ফুট উচ্চতায় শিবাজির দুর্গ।
তারপরে গেলাম খড়াকভাসলা লেক, পাথাল লেক ইত্যাদি।
এই সকল দেখতে দেখতে পৌঁছে গিয়েছিলাম পুনে থেকে 95 কি,মি দূরে
শৈবতীর্থ ভীমাশংকর, দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম। সহ্যাদ্রি পাহাড়ে 3392 ফুট উচ্চতায় মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে ভীমাশংকর।
N==রাত্রিবাস পুনে।
6 th day-16th March –পুনে থেকে---মহাবালেশ্বর,
সকালেই বেরিয়ে পড়েছিলাম পুনে থেকে 120 কিমি দূরে, মহাবালেশ্বর। তারপরে কৃষ্ণাবাঈ তথা পঞ্চগঙ্গা মন্দির (কৃষ্ণা, ভেন্না, কোয়না, সাবিত্রী আর গায়ত্রী নদীর জল 5টি ধারায় আসছে),
তারপরে দেখলাম অতিবালেশ্বর ও মহাবালেশ্বর মন্দির। এ ছাড়াও অন্তত 30 টি ভিউ পয়েন্ট রয়েছে মহাবালেশ্বরে। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য
আর্থার সিট, //হান্টিং পয়েন্ট, // ইকো পয়েন্ট,// ম্যালকম পয়েন্ট, // টাইগার স্প্রিং, // উইলসন পয়েন্ট (বাজার থেকে একটু দূরে, মহাবালেশ্বরের উচ্চতম পয়েন্ট,
নিডল হোল পয়েন্ট, মাংকিস পয়েন্ট, লোডউইক পয়েন্ট, এলফিনস্টোন পয়েন্ট, বেবিংটন পয়েন্ট, //কেটিস পয়েন্ট, ভেন্না লেক, মুম্বাই পয়েন্ট(সূর্যাস্তের নয়নাভিরাম দৃশ্য) ইত্যাদি দেখে ফায়ার গেলাম মহাবালেশ্বরে।
সত্যি আমাদের কোন অসুবিধাই হয়নি কারণ আমাদের ড্রাইভার নিজেই আমাদের ভীষণ ভাবে
তারপরে দেখলাম অতিবালেশ্বর ও মহাবালেশ্বর মন্দির। এ ছাড়াও অন্তত 30 টি ভিউ পয়েন্ট রয়েছে মহাবালেশ্বরে। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য
আর্থার সিট, //হান্টিং পয়েন্ট, // ইকো পয়েন্ট,// ম্যালকম পয়েন্ট, // টাইগার স্প্রিং, // উইলসন পয়েন্ট (বাজার থেকে একটু দূরে, মহাবালেশ্বরের উচ্চতম পয়েন্ট,
নিডল হোল পয়েন্ট, মাংকিস পয়েন্ট, লোডউইক পয়েন্ট, এলফিনস্টোন পয়েন্ট, বেবিংটন পয়েন্ট, //কেটিস পয়েন্ট, ভেন্না লেক, মুম্বাই পয়েন্ট(সূর্যাস্তের নয়নাভিরাম দৃশ্য) ইত্যাদি দেখে ফায়ার গেলাম মহাবালেশ্বরে।
সত্যি আমাদের কোন অসুবিধাই হয়নি কারণ আমাদের ড্রাইভার নিজেই আমাদের ভীষণ ভাবে
সাহায্য করেছিল। রাত্রে একটা হোটেলে উঠলাম।
N==রাত্রিবাস মহাবালেশ্বর।
7th day –17 th March
সকালেই গেলাম প্রতাপগড়,
1656-তে শিবাজির হাতে তৈরি দুর্গ, যদিও বিধ্বস্ত, তবে আকর্ষণ কম নয়। 450 সিঁড়ি উঠে 1030 মিটার উচ্চতায় দুর্গ। এখানেই বিজাপুরের সুলতান আদিলশাহের দূত আফজল খাঁকে বাঘনখ দিয়ে বধ করেন শিবাজি।
1656-তে শিবাজির হাতে তৈরি দুর্গ, যদিও বিধ্বস্ত, তবে আকর্ষণ কম নয়। 450 সিঁড়ি উঠে 1030 মিটার উচ্চতায় দুর্গ। এখানেই বিজাপুরের সুলতান আদিলশাহের দূত আফজল খাঁকে বাঘনখ দিয়ে বধ করেন শিবাজি।
মহাবালেশ্বর ফিরে যাবার পথে 20 km দুরে পঞ্চগনি (4242 ফুট, )।
পঞ্চগণি আর মহাবালেশ্বর।
মুম্বাইয়ের দক্ষিণ পশ্চিম পার্বত্য অঞ্চল পঞ্চগনি।এই পার্বত্য অঞ্চল টি মহারাষ্ট্রের
টেবিল অঞ্চল নাম পরিচিত। এটি একটি বিশাল আগ্নেয়গিরি প্লেট।
সহ্যাদ্রী পাহাড়ের কোলে মহারাষ্ট্রের দুই যমজ শৈল শহর পঞ্চগণি আর মহাবালেশ্বর।
আমরা এলাম ওয়াই পয়েন্ট ।এখান থেকেই পঞ্চগণি আর মহাবালেশ্বরের রাস্তা শুরু।
এই ওয়াই শহর এখানথেকেই আশেপাশের সকল দর্শনীয় সকল স্থান গুলি যাবার রাস্তা
বিভিন্ন দিকে চলে গেছে।কৃষ্ণা নদীর দু-পাড়ে প্রায় শ’খানেক মন্দির রয়েছে এই শহরে, যার মধ্যে অন্যতম গণপতি বা মহাগণপতি মন্দির। স্থানীয়দের কাছে ওয়াই পরিচিত ‘দক্ষিণের কাশী’ হিসেবে। কিছুক্ষণ এই ওয়াইয়ে কাটিয়ে ফের পথ চলা শুরু। রাস্তা এ বার ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী।
পথ চলেছে এঁকে বেকে পৌঁছলাম পঞ্চগনির টেবলল্যান্ডে। অর্থাৎ পঞ্চগনি পৌঁছলাম । ওয়াই থেকে 14 কিমি সমুদ্রতল থেকে উচ্চতা 4300 ফুট।
পঞ্চগনি শহরের কেন্দ্রস্থল শিবাজি চক। এখান থেকে বাঁ দিকের রাস্তা উঠে গিয়েছে টেবিল ল্যান্ডের দিকে। প্রায় দেড় কিলোমিটার খাড়াই পথ অতিক্রম করে তবে টেবলল্যান্ড ।
‘পঞ্চগনি’ মানে পাঁচ পাহাড়।
পাঁচ পাহাড়ে ঘেরা এই শহর। তাদের চূড়াগুলো সব এক হয়ে সমতল জমিতে পরিণত হয়েছে।
তৈরি হয়েছে এই টেবলল্যান্ড। টিবেটান মালভূমির পরে এশিয়ার দ্বিতীয় উচ্চতম সমতলভূমি এই টেবিল ল্যান্ড। প্রায় ছ’কিমি দীর্ঘ। এখান থেকে পঞ্চগনি শহর এমনকি ওয়াই শহরও সুন্দর দেখায়। একটু এগোলে দেখা যায় মহাবালেশ্বর থেকে নেমে আসা কৃষ্ণা নদীকেও।
কাছেই সেই বিখ্যাত পার্সি পয়েন্টের ।
আমরা এগিয়ে গেলাম পার্সি পয়েন্টের দিকে। শিবাজি চক থেকে মহাবালেশ্বরের দিকে
কিছু দূরে এই পয়েন্ট।
এই জায়গাটির মাহাত্ম্য কৃষ্ণা নদীর দর্শনের জন্য।
মহাবালেশ্বর থেকে উৎপত্তি হওয়ার পর এখানেই প্রথম দেখাযায় কৃষ্ণা নদী। তবে
এমনিতে দেখলে নদী নয়, লেক মনে হয়। আসলে নীচে রয়েছে একটি জলাধার যার
ফলে কৃষ্ণানদীকে এখানে দেখতে প্রশস্থ লেকের মতন মনে হয় ।
পঞ্চগনির আরও কিছু দর্শনীয় স্থান, আছে যেমন রাজাপুরী গুহা।
অদ্ভুত এই গুহা।
এগিয়ে গেলাম মহাবালেশ্বরের দিকে,
মহাবালেশ্বর। মহারাষ্ট্রের উচ্চতম শৈল শহর। উচ্চতা 4700 ফুট।
শহরের প্রাণকেন্দ্রের কিছুটা আগেই বিনা লেক। অপূর্ব সুন্দর হ্রদ।
টলটলে জলের ধারে কিছুক্ষণ সময় কাটালাম। এমন সুন্দর লেক এখানে না বসেলে মন ভরবে না
বোটিং-এর জন্য সুন্দর ব্যবস্থা আছে।
এনেকে মানুষ স্ত্রী পুরুষ নির্বিশেষে বোটিং করছে ।
মহাবালেশ্বরের দর্শনীয় স্থান অনেক।
তবে বিশেষ আকর্ষণীয় পঞ্চগঙ্গা মন্দির। মহাবালেশ্বর মধ্য স্থল থেকে সাত কিমি দূরে অবস্থিত প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর পুরনো এই মন্দির। দক্ষিণে ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নদী কৃষ্ণার উৎপত্তি এই মন্দির থেকেই। কৃষ্ণার সঙ্গে আরও চারটি নদীর উৎপত্তি এই মন্দিরের মধ্যে থেকে–কয়না, গায়ত্রী, সাবিত্রী আর ভেনা।
পথে যেতে যেতে দেখলাম লিঙ্গমালা ফলস্। পঞ্চগনিতে, পার্সি পয়েন্ট (নিচুতে কৃষ্ণা ভ্যালি),
শহরের শিরে টেবল ল্যান্ড, রাজপুরী পয়েন্ট তথা কার্তিকেয় মন্দির,
14 কিমি দূরে ওয়াইতে কৃষ্ণা নদীর ধারে প্রাচীন আরো কিছু মন্দির আছে।
পঞ্চগণি আর মহাবালেশ্বর।
মুম্বাইয়ের দক্ষিণ পশ্চিম পার্বত্য অঞ্চল পঞ্চগনি।এই পার্বত্য অঞ্চল টি মহারাষ্ট্রের
টেবিল অঞ্চল নাম পরিচিত। এটি একটি বিশাল আগ্নেয়গিরি প্লেট।
সহ্যাদ্রী পাহাড়ের কোলে মহারাষ্ট্রের দুই যমজ শৈল শহর পঞ্চগণি আর মহাবালেশ্বর।
আমরা এলাম ওয়াই পয়েন্ট ।এখান থেকেই পঞ্চগণি আর মহাবালেশ্বরের রাস্তা শুরু।
এই ওয়াই শহর এখানথেকেই আশেপাশের সকল দর্শনীয় সকল স্থান গুলি যাবার রাস্তা
বিভিন্ন দিকে চলে গেছে।কৃষ্ণা নদীর দু-পাড়ে প্রায় শ’খানেক মন্দির রয়েছে এই শহরে, যার মধ্যে অন্যতম গণপতি বা মহাগণপতি মন্দির। স্থানীয়দের কাছে ওয়াই পরিচিত ‘দক্ষিণের কাশী’ হিসেবে। কিছুক্ষণ এই ওয়াইয়ে কাটিয়ে ফের পথ চলা শুরু। রাস্তা এ বার ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী।
পথ চলেছে এঁকে বেকে পৌঁছলাম পঞ্চগনির টেবলল্যান্ডে। অর্থাৎ পঞ্চগনি পৌঁছলাম । ওয়াই থেকে 14 কিমি সমুদ্রতল থেকে উচ্চতা 4300 ফুট।
পঞ্চগনি শহরের কেন্দ্রস্থল শিবাজি চক। এখান থেকে বাঁ দিকের রাস্তা উঠে গিয়েছে টেবিল ল্যান্ডের দিকে। প্রায় দেড় কিলোমিটার খাড়াই পথ অতিক্রম করে তবে টেবলল্যান্ড ।
‘পঞ্চগনি’ মানে পাঁচ পাহাড়।
পাঁচ পাহাড়ে ঘেরা এই শহর। তাদের চূড়াগুলো সব এক হয়ে সমতল জমিতে পরিণত হয়েছে।
তৈরি হয়েছে এই টেবলল্যান্ড। টিবেটান মালভূমির পরে এশিয়ার দ্বিতীয় উচ্চতম সমতলভূমি এই টেবিল ল্যান্ড। প্রায় ছ’কিমি দীর্ঘ। এখান থেকে পঞ্চগনি শহর এমনকি ওয়াই শহরও সুন্দর দেখায়। একটু এগোলে দেখা যায় মহাবালেশ্বর থেকে নেমে আসা কৃষ্ণা নদীকেও।
কাছেই সেই বিখ্যাত পার্সি পয়েন্টের ।
আমরা এগিয়ে গেলাম পার্সি পয়েন্টের দিকে। শিবাজি চক থেকে মহাবালেশ্বরের দিকে
কিছু দূরে এই পয়েন্ট।
এই জায়গাটির মাহাত্ম্য কৃষ্ণা নদীর দর্শনের জন্য।
মহাবালেশ্বর থেকে উৎপত্তি হওয়ার পর এখানেই প্রথম দেখাযায় কৃষ্ণা নদী। তবে
এমনিতে দেখলে নদী নয়, লেক মনে হয়। আসলে নীচে রয়েছে একটি জলাধার যার
ফলে কৃষ্ণানদীকে এখানে দেখতে প্রশস্থ লেকের মতন মনে হয় ।
পঞ্চগনির আরও কিছু দর্শনীয় স্থান, আছে যেমন রাজাপুরী গুহা।
অদ্ভুত এই গুহা।
এগিয়ে গেলাম মহাবালেশ্বরের দিকে,
মহাবালেশ্বর। মহারাষ্ট্রের উচ্চতম শৈল শহর। উচ্চতা 4700 ফুট।
শহরের প্রাণকেন্দ্রের কিছুটা আগেই বিনা লেক। অপূর্ব সুন্দর হ্রদ।
টলটলে জলের ধারে কিছুক্ষণ সময় কাটালাম। এমন সুন্দর লেক এখানে না বসেলে মন ভরবে না
বোটিং-এর জন্য সুন্দর ব্যবস্থা আছে।
এনেকে মানুষ স্ত্রী পুরুষ নির্বিশেষে বোটিং করছে ।
মহাবালেশ্বরের দর্শনীয় স্থান অনেক।
তবে বিশেষ আকর্ষণীয় পঞ্চগঙ্গা মন্দির। মহাবালেশ্বর মধ্য স্থল থেকে সাত কিমি দূরে অবস্থিত প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর পুরনো এই মন্দির। দক্ষিণে ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নদী কৃষ্ণার উৎপত্তি এই মন্দির থেকেই। কৃষ্ণার সঙ্গে আরও চারটি নদীর উৎপত্তি এই মন্দিরের মধ্যে থেকে–কয়না, গায়ত্রী, সাবিত্রী আর ভেনা।
পথে যেতে যেতে দেখলাম লিঙ্গমালা ফলস্। পঞ্চগনিতে, পার্সি পয়েন্ট (নিচুতে কৃষ্ণা ভ্যালি),
শহরের শিরে টেবল ল্যান্ড, রাজপুরী পয়েন্ট তথা কার্তিকেয় মন্দির,
14 কিমি দূরে ওয়াইতে কৃষ্ণা নদীর ধারে প্রাচীন আরো কিছু মন্দির আছে।
N==রাত্রিবাস মহাবালেশ্বর।
8th day –18 th March
গণপতিপুলে সাগরতট সৈকত।
আমাদের আজকের সফরযাত্রা মহারাষ্ট্রের কোঙ্কন উপকুলের গণপতিপুলে।
সবুজে ছাওয়া সাগরবেলা। পাহাড়ি অধিত্যকা, 100 মিটার উঁচুতে
গণপতি মন্দির। 1600 খ্রিস্টাব্দে তৈরি মরাঠি শৈলীর মন্দির। পাহাড়ি পথে মন্দির প্রদক্ষিণ রোমাঞ্চ জাগায়। অপরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশ, সাগরতীরে আম, কাঁঠাল, নারকেল আর কলার সবুজ বনানী।
আমাদের আজকের সফরযাত্রা মহারাষ্ট্রের কোঙ্কন উপকুলের গণপতিপুলে।
সবুজে ছাওয়া সাগরবেলা। পাহাড়ি অধিত্যকা, 100 মিটার উঁচুতে
গণপতি মন্দির। 1600 খ্রিস্টাব্দে তৈরি মরাঠি শৈলীর মন্দির। পাহাড়ি পথে মন্দির প্রদক্ষিণ রোমাঞ্চ জাগায়। অপরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশ, সাগরতীরে আম, কাঁঠাল, নারকেল আর কলার সবুজ বনানী।
সারি সারি নারকেল গাছ আর ঝাউবনের সবুজে-রঙা পাতাগুলো যেখানে গাছগুলোর ডালে ডালে দিনভর পাখিদের নিরন্তর কোলাহল , ওড়াউড়ি। মনভরে উপভগ করার মতন দিগন্ত বিস্তারিত এই নীল নির্জন সাগরে চঞ্চল এলোমেলো ঢেউয়ের গান গাওয়া সকালে ঘুরে ঘুরে দেখলাম সাগর সৈকত । দুপুর গড়িয়ে সৈকতের মাধুর্যের যাবতীয় আঁচ নিয়ে আরও কিছু পর বিকেল নামবে। আমারও ভেসে যাচ্ছি তাই প্রকৃতির সাথে সমুদ্রের নোনা হাওয়ায় । মাঝে মাঝে পায়ের পাতায় ছোঁয়া দিয়ে যাচ্ছে ঢেউগুলো।
প্রকৃতির সাথে মিশে কিছু সময় প্রকৃতির গা ঘেঁষে বসে, আরামে মনের আনন্দে গা এলিয়ে দিয়ে
জাগতিক সকল কিছু ভুলে সমুদ্রের গান শুনব বলেই তো এই গণপতিপুলে সাগরবেলায় আসা। যেখানে নোনা বাতাস ও নোনা ঢেউয়ের বিরামহীন চঞ্চলতা পর্যটকদের ডেকে বেড়ায় বালুকাময় সুনীলসাগর বেলায়। তাইতো আমরাও বোরিয়ে পড়ি কোঙ্কন উপকুল আনন্দযাত্রায়।
আজ গণপতিপুলের আকাশে সুন্দর চাঁদ। গণপতিপুলের মনোরম সৈকত। নারকেল গাছের সারি সযত্নে ঘিরে রেখেছে এখানকার বেলাভূমিকে। কোঙ্কন উপকুলে এমনই এক চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশে ছোট্ট এই গ্রামখানি। প্রায় শ’খানেক বাড়িঘর নিয়ে সবুজে ছাওয়া গণপতিপুলে গ্রাম।
জাগতিক সকল কিছু ভুলে সমুদ্রের গান শুনব বলেই তো এই গণপতিপুলে সাগরবেলায় আসা। যেখানে নোনা বাতাস ও নোনা ঢেউয়ের বিরামহীন চঞ্চলতা পর্যটকদের ডেকে বেড়ায় বালুকাময় সুনীলসাগর বেলায়। তাইতো আমরাও বোরিয়ে পড়ি কোঙ্কন উপকুল আনন্দযাত্রায়।
আজ গণপতিপুলের আকাশে সুন্দর চাঁদ। গণপতিপুলের মনোরম সৈকত। নারকেল গাছের সারি সযত্নে ঘিরে রেখেছে এখানকার বেলাভূমিকে। কোঙ্কন উপকুলে এমনই এক চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশে ছোট্ট এই গ্রামখানি। প্রায় শ’খানেক বাড়িঘর নিয়ে সবুজে ছাওয়া গণপতিপুলে গ্রাম।
গণপতিপুলে সাগরজলে সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য মনের গভীরে আজও রয়ে গেছে।
গণপতিপুলে এই নাম টি চারশো বছরেরও বেশি প্রাচীন ‘স্বয়ম্ভু’ দেবতা গণেশ বা গণপতি থেকে এসেছে। গণপতি মন্দিরে ভক্তদের ভিড়ে সব সময়ই ব্যস্ত মন্দির প্রাঙ্গণ। মূল ফটক থেকে পায়ে হেঁটে পৌঁছতে হয় মন্দির চত্বরে।
মন্দিরের গর্ভগৃহে বিরামন গণপতি বাপ্পা । মন্দির চত্বরে বিক্রি হচ্ছে লাল জবাফুলের মালা, নারকেল, সিঁদূর, লাড্ডুর পূজার ডালি । তবে পুজো দেওয়ার জন্য কোনও জোরজার, পিড়াপিড়ি নেই এইস্থানে । মূল মন্দিরে ঢুকতেই একটি বিশালাকায় পিতলের ইঁদুরমূর্তি। ভক্তরা গণেশ বাহনকে পুজো দিচ্ছেন। প্রণাম করছেন। আরও ভিতরে মন্দির ট্রাস্টির কার্যালয়। লাড্ডু প্রসাদও বিভিন্ন দামে প্যাকেটজাত হয়ে বিক্রি হচ্ছে। ভেতরে কমলা সাদা রং করা হয়েছে গণপতি মন্দির। মন্দিরের ভিতর লাল সিঁদূর লেপা স্বয়ম্ভু গণেশের মূর্তি। আরও কিছু দেবতার মূর্তিও রয়েছে অন্য দিকে।
মরাঠা ও কোঙ্কনবাসীদের কাছে খুবই পবিত্র এই মন্দিরধাম। অনেকখানি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত মন্দির প্রাঙ্গণের প্রধান ফটক ছাড়াও সাগরপাড়ে অন্য আরও একটি গেট আছে।
লক্ষ্যণীয় ভারতীয় হিন্দু সমস্ত মন্দিরই সাধারণত পুবমুখী বা উত্তর মুখী হয় , কিন্তু গণপতিপুলে মন্দিরে বক্রতুন্ত গণেশ দেবতার অধিষ্ঠান পশ্চিমমুখী। পুজোর প্রথামত ভক্তরা সমগ্র মন্দির প্রাঙ্গণ প্রদিক্ষণ করেন। মাঘ চতুর্থীতে গৌরী গণপতি উৎসব পালিত হয়। আর হয় অঙ্গার কি অঙ্গার চতুর্থী উৎসব।
মন্দিরের গর্ভগৃহে বিরামন গণপতি বাপ্পা । মন্দির চত্বরে বিক্রি হচ্ছে লাল জবাফুলের মালা, নারকেল, সিঁদূর, লাড্ডুর পূজার ডালি । তবে পুজো দেওয়ার জন্য কোনও জোরজার, পিড়াপিড়ি নেই এইস্থানে । মূল মন্দিরে ঢুকতেই একটি বিশালাকায় পিতলের ইঁদুরমূর্তি। ভক্তরা গণেশ বাহনকে পুজো দিচ্ছেন। প্রণাম করছেন। আরও ভিতরে মন্দির ট্রাস্টির কার্যালয়। লাড্ডু প্রসাদও বিভিন্ন দামে প্যাকেটজাত হয়ে বিক্রি হচ্ছে। ভেতরে কমলা সাদা রং করা হয়েছে গণপতি মন্দির। মন্দিরের ভিতর লাল সিঁদূর লেপা স্বয়ম্ভু গণেশের মূর্তি। আরও কিছু দেবতার মূর্তিও রয়েছে অন্য দিকে।
মরাঠা ও কোঙ্কনবাসীদের কাছে খুবই পবিত্র এই মন্দিরধাম। অনেকখানি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত মন্দির প্রাঙ্গণের প্রধান ফটক ছাড়াও সাগরপাড়ে অন্য আরও একটি গেট আছে।
লক্ষ্যণীয় ভারতীয় হিন্দু সমস্ত মন্দিরই সাধারণত পুবমুখী বা উত্তর মুখী হয় , কিন্তু গণপতিপুলে মন্দিরে বক্রতুন্ত গণেশ দেবতার অধিষ্ঠান পশ্চিমমুখী। পুজোর প্রথামত ভক্তরা সমগ্র মন্দির প্রাঙ্গণ প্রদিক্ষণ করেন। মাঘ চতুর্থীতে গৌরী গণপতি উৎসব পালিত হয়। আর হয় অঙ্গার কি অঙ্গার চতুর্থী উৎসব।
মন্দিরের কোল ঘেঁষে সাগর সৈকত। সৈকতর কয়েক ধাপ উপরে সার দিয়ে কিছু দোকানপাট। সেখানে নানান ধাতুর গণেশ মূর্তি। প্যাকেটজাত ড্রাইফ্রুট প্রসাদ। আর আছে হরেক রকমের দোকান টুপি, ছাতা, কানের দুল, রোদচশমা, গলার মালা। চুড়ি আমস্বত্ব ও কোকম সরবতের অঢেল পসরা সাজানো। এখানকার সৈকতে পর্যটকদের ভিড় বেশি। রয়েছে ঝলমলে চাঁদোয়ায় সাজানো উট, ঘোড়ায় টানা এক্কাগাড়ি, এবং সমুদ্রে হরেকরকম রাইডের ব্যবস্থা।
কাছের অনক অঞ্চলে ঘুরে আসা যায়।
N==রাত্রিবাস গণপতিপুলে।
কাছের অনক অঞ্চলে ঘুরে আসা যায়।
N==রাত্রিবাস গণপতিপুলে।
9the day –19 th March সকালে পৌঁছলাম 25কিমি দূরে রত্নগিরিতে। নানা সৈকতের সমাহার রত্নগিরিতে
পান্দ্রে বিচ, ভাটে বিচ, মান্ডভি বিচ ইত্যাদি। এ ছাড়াও দেখলাম থিবো প্যালেস (বার্মারাজ থিবোকে বন্দি করে রাখার জন্য ব্রিটিশদের গড়া প্রাসাদ), ভগবতী মন্দির, রত্নগিরি দুর্গ, লোকমান্য তিলকের বাড়িতে তিলক স্মারক সংগ্রহশালা ইত্যাদি।
পান্দ্রে বিচ, ভাটে বিচ, মান্ডভি বিচ ইত্যাদি। এ ছাড়াও দেখলাম থিবো প্যালেস (বার্মারাজ থিবোকে বন্দি করে রাখার জন্য ব্রিটিশদের গড়া প্রাসাদ), ভগবতী মন্দির, রত্নগিরি দুর্গ, লোকমান্য তিলকের বাড়িতে তিলক স্মারক সংগ্রহশালা ইত্যাদি।
গণপতিপুলে ফিরে দুপুরের খাওয়া সেরে গেলাম 17 শতকের জয়গড় ফোর্ট ও লাইটহাউস।
গণপতিপুলে-পাওয়স প্রাচীন কোঙ্কন, অ্যাকোরিয়াম, ভগবতী দুর্গ ও মন্দির, পাওয়স মন্দির, কেশবসুত বাসগৃহ, ভাটে, ব্ল্যাক সি, পতিতপাবন মন্দির, থিবা রাজপ্রাসাদ, লোকমান্য তিলক মূর্তি।
মারলেশ্বর-দেরয়ান মারলেশ্বর শিবমন্দির, গুহা, জলপ্রপাত, শিবশ্রুতি। জয়গড়-হেদাভি ভেলেনশ্বর জয়গড় দুর্গ, বাতিঘর, জয় বিনায়ক মন্দির, কাহ্নেশ্বর মন্দির, ভেলনেশ্বর কালভৈরব মন্দির, ভেলনেশ্বর সৈকত, হেদাভি দশভুজ গণেশ মন্দির। জয়গড় দুর্গ, জয়গড় জেটি, জয়গড় দুর্গ বাতিঘর, জয় বিনায়ক মন্দির, নির্মল নগরী সৈকত, কোলিসরে লক্ষ্মীকেশব মন্দির, পাণ্ডব মন্দির, কাহ্নেশ্বর মন্দির। প্রাচীন কোঙ্কন মিউজিয়াম যেখানে প্রাচীন কোঙ্কনী জীবনযাত্রার ঝলক পাওয়া যাবে। গণপতিপুলে থেকে মাত্র তিন কিমি দূরেই মালগুন্দ নামের ছোট্ট গ্রামটিতে মরাঠা কবি কেশবসুতের জন্মভিটে। আছে কবির মূর্তি। অপূর্ব সুন্দর গ্রাম্য পরিবেশে এই মরাঠা কবির বাসগৃহ। রয়েছে সংগ্রহশালা।
মরাঠি সংস্কৃতির অন্যতম পীঠস্থান হিসেবেও খ্যাত গণপতিপুলে। প্রায় 20 কিমি দূরেই পাহাড়টিলার ওপর শিবাজি মহারাজের তৈরি জয়গড় দুর্গ। 17 শতকে স্থাপিত এই দূর্গ থেকে সঙ্গমেশ্বর নদীর আরব সাগরের বুকে আছড়ে পড়ার দৃশ্যটি চমৎকার। এলাকাটি মূলত মৎস্যজীবী মানুষজনের বসবাস। অদূরেই 1932 সালে নির্মিত বাতিঘর। বিকেল চারটে থেকে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত অনুমতিসাপেক্ষে বাতিঘরের ভিতর যাওয়া যায় । সঙ্গমেশ্বর-জয়গড় খাঁড়ি ধরে নৌবিহারের আনন্দ উপভোগ করার আনন্দ বলে বা লিখে বোঝান সম্ভব নয় । এখন থেকে 84কিমি দূরে মারলেশ্বর শিবমন্দির ও সুন্দর জল প্রপাত অপূর্ব সুন্দর । এই পথে মালগুন্দ গায়ওয়ারির নির্জন সৈকতটিও মনোরম।
N== রাত্রিবাস গণপতিপুলে।
গণপতিপুলে-পাওয়স প্রাচীন কোঙ্কন, অ্যাকোরিয়াম, ভগবতী দুর্গ ও মন্দির, পাওয়স মন্দির, কেশবসুত বাসগৃহ, ভাটে, ব্ল্যাক সি, পতিতপাবন মন্দির, থিবা রাজপ্রাসাদ, লোকমান্য তিলক মূর্তি।
মারলেশ্বর-দেরয়ান মারলেশ্বর শিবমন্দির, গুহা, জলপ্রপাত, শিবশ্রুতি। জয়গড়-হেদাভি ভেলেনশ্বর জয়গড় দুর্গ, বাতিঘর, জয় বিনায়ক মন্দির, কাহ্নেশ্বর মন্দির, ভেলনেশ্বর কালভৈরব মন্দির, ভেলনেশ্বর সৈকত, হেদাভি দশভুজ গণেশ মন্দির। জয়গড় দুর্গ, জয়গড় জেটি, জয়গড় দুর্গ বাতিঘর, জয় বিনায়ক মন্দির, নির্মল নগরী সৈকত, কোলিসরে লক্ষ্মীকেশব মন্দির, পাণ্ডব মন্দির, কাহ্নেশ্বর মন্দির। প্রাচীন কোঙ্কন মিউজিয়াম যেখানে প্রাচীন কোঙ্কনী জীবনযাত্রার ঝলক পাওয়া যাবে। গণপতিপুলে থেকে মাত্র তিন কিমি দূরেই মালগুন্দ নামের ছোট্ট গ্রামটিতে মরাঠা কবি কেশবসুতের জন্মভিটে। আছে কবির মূর্তি। অপূর্ব সুন্দর গ্রাম্য পরিবেশে এই মরাঠা কবির বাসগৃহ। রয়েছে সংগ্রহশালা।
মরাঠি সংস্কৃতির অন্যতম পীঠস্থান হিসেবেও খ্যাত গণপতিপুলে। প্রায় 20 কিমি দূরেই পাহাড়টিলার ওপর শিবাজি মহারাজের তৈরি জয়গড় দুর্গ। 17 শতকে স্থাপিত এই দূর্গ থেকে সঙ্গমেশ্বর নদীর আরব সাগরের বুকে আছড়ে পড়ার দৃশ্যটি চমৎকার। এলাকাটি মূলত মৎস্যজীবী মানুষজনের বসবাস। অদূরেই 1932 সালে নির্মিত বাতিঘর। বিকেল চারটে থেকে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত অনুমতিসাপেক্ষে বাতিঘরের ভিতর যাওয়া যায় । সঙ্গমেশ্বর-জয়গড় খাঁড়ি ধরে নৌবিহারের আনন্দ উপভোগ করার আনন্দ বলে বা লিখে বোঝান সম্ভব নয় । এখন থেকে 84কিমি দূরে মারলেশ্বর শিবমন্দির ও সুন্দর জল প্রপাত অপূর্ব সুন্দর । এই পথে মালগুন্দ গায়ওয়ারির নির্জন সৈকতটিও মনোরম।
N== রাত্রিবাস গণপতিপুলে।
10 th day –20 th March
সকালেই গেলাম হরিহরেশ্বর। যদিও এই হরিহরেশ্বর বেশ দূরে । পশ্চিমঘাট পাহাড়ের কোলে রমণীয় সাগরবেলা, সাগরতীরে টিলা। সেখান থেকে কালভৈরব মন্দির। মন্দিরের পিছন দিক থেকে নেমে গিয়েছে গণেশ গলি, দু’টি পাথরের মাঝখান দিয়ে তিন ফুট চওড়া পথ, 150 ফুট দীর্ঘ পথ নেমে গিয়েছে সমুদ্রতীরে। সাবিত্রী নদী আর সমুদ্রের মোহনায় দেখলাম শুক্লতীর্থ। পাশেই গায়ত্রীতীর্থ। সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত রমণীয় হরিহরেশ্বরে।
সকালেই গেলাম হরিহরেশ্বর। যদিও এই হরিহরেশ্বর বেশ দূরে । পশ্চিমঘাট পাহাড়ের কোলে রমণীয় সাগরবেলা, সাগরতীরে টিলা। সেখান থেকে কালভৈরব মন্দির। মন্দিরের পিছন দিক থেকে নেমে গিয়েছে গণেশ গলি, দু’টি পাথরের মাঝখান দিয়ে তিন ফুট চওড়া পথ, 150 ফুট দীর্ঘ পথ নেমে গিয়েছে সমুদ্রতীরে। সাবিত্রী নদী আর সমুদ্রের মোহনায় দেখলাম শুক্লতীর্থ। পাশেই গায়ত্রীতীর্থ। সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত রমণীয় হরিহরেশ্বরে।
N==রাত্রিবাস হরিহরেশ্বর।
11 the day –21 st March
সকালে গেলাম ফেরি পেরিয়ে ব্যাঙ্কট ফোর্ট, বাগমণ্ডলা সৈকত।
ফিরে এসে কিছু খাবার খেয়ে গেলাম মুরুড সৈকত, পথে শ্রীবর্ধন (সৈকত ও লক্ষ্মী-নারায়ণ মন্দির সহ এক গুচ্ছ মন্দির),
কোঙ্কণ উপকূলের শ্রীবর্ধন সৈকতে
শ্রীবর্ধন সৈকতে বেড়াতে আসার সেরা সময় জানুয়ারি থেকে মার্চ।
তার পর প্রখর গ্রীষ্ম ও বর্ষা পারকরে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর।
শ্রীবর্ধন সৈকত জেলা: রায়গড়, মহারাষ্ট্র।
হরিহরেশ্বর থেকে মাত্র 18 কিমি দূরে শ্রীবর্ধন। হরিহরেশ্বর ও শ্রীবর্ধনকে ‘টুইন সিটি’ও বলা হয়ে থাকে। আরব সাগরের ঢেউ ও লোনা বাতাসের খেলা চলে সমগ্র দিন রাত জুড়ে।আর তাইতো শ্রীবর্ধন সাগরপাড়ের এক নিজস্ব অহঙ্কার বেলা ভূমিকে ঘিরে মায়ামুগদ্ধ করে রাখে। সুদূর প্রসারিত দৃষ্টির সামনে অবিরাম ঢেউ এর ছলকানো সাদা বালিয়াড়িতে দাঁড়িয়ে কিছু সময়। লোনা হাওয়ার যেন শুড়শুড়ি দিয়েযায় নাকে মুখে আর কানে লাগে এক উৎচ্ছাসের আবেশ সু মধুর তানে একটু উষ্ণতার পরশ লাগে প্রাণে। সকল পর্যটক নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে শুধু অনুভব করে সেই সুরের তান প্রাণ মন ভরে। আর দুচোখ দিয়ে উপভোগ করে কোঙ্কণ উপকূলের কোল ঘেঁষে শ্রীবর্ধন সৈকত।প্রকৃতি তার প্রবল আগ্রহে গড়া মায়া ময় অপূর্ব সৈকত। এক ধারে সারি সারি নারকেল, সুপুরি, আমগাছের ভিড় নিয়ে ঐতিহাসিক তালুক। অন্য দিকে বহু দূর পর্যন্ত চলে গেছে সূর্যের আলো মাখা সাদা বালুতট ও সাগরের চমকপ্রদ নিসর্গ বালু বেলা ।
প্রাকৃতিক ভাবে মহারাষ্ট্রের হরিহরেশ্বর শ্রীবর্ধন দিবেগড় কোনডিভালি সৈকত রায়গড় জেলাকে যেন এক অপরূপ সৈকতমালার বিশিষ্টতা দিয়ে সাজিয়ে রেখেছে নিজের মতন করে । এদের মধ্যে কোনডিভালি আদপে একটি মৎস্যবন্দর। ছোটখাটো ছুটিতে বা উইক এন্ডে এই সৈকতগুলিতে কাটিয়ে দেওয়া যায় এক দুই দিন। মায়াবী নোনা জলে ভিজে থাকা সৈকত যেখানে ভ্রমণের আনন্দ বহুদিন ধরে রাখা যায় মনের গভীরে। এখানকার লবনাক্ত সন্ধ্যা মধু যামিনীর এক অন্তরের মিলন মেলা। ডাহিনে বামে দেখলেই অনুভব হয় প্রেম যেন নিজেই একে অপরকে কাছে টেনে নেয়।
হরিহরেশ্বরের পরে বেরিয়ে পড়েছি কাছেপিঠে অন্যান্য কয়েকটি সৈকতকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে কোঙ্কণ উপকূলের সৌন্দযকে একটু মনের ক্যানভাসে ভাবনার রং তুলি দিয়ে সাজিয়ে নিতে । দূরত্ব তেমন কিছু নয়, হরিহরেশ্বর পেরিয়ে কাঁকিজে নামের এক ছোট্ট জনপদ। এর পর রাজ্য সড়ক-১০০ ধরে যশলভি নিগডি হরিহরেশ্বর মন্দির রোড প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার পথ পেরিয়ে এ বার মায়েগাঁওয়ের কাছে রাজ্য সড়কের একটু পথে পেরোতেই শ্রীবর্ধন তালুক। নারকেল-সুপুরির খ্যাতির জন্য ‘শ্রীবর্ধন রোঠা’ বলা হয় এই সবুজে ছাওয়া প্রাচীন জনপদকে।
সকালবেলায়ই সৈকতে ঢেউখেলায় মত্ত পর্যটক।
শ্রীবর্ধনের ইতিহাস যেটুকু জেনেছিলাম তা হল ----
ইতিহাস প্রসিদ্ব ‘শ্রীবর্ধন’ অতীতে 16 টি দুর্গ দ্বারা সুরক্ষিত এক বাণিজ্যশহর হিসাবে খ্যাত শ্রীবর্ধন।
এমন গল্পও শোনাজায় যে মহাভারতের তৃতীয় পাণ্ডব অর্জুন তীর্থযাত্রাকালে এই স্থানে এসেছিলেন।
1600 ও 1700 শতকে প্রথমে আহমেদনগরের অধীনে ও পরে বীজাপুরের অধীনে একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী বন্দর ছিল শ্রীবর্ধন।
এক সময় পেশোয়াদের রাজ্যপাট ছিল শ্রীবর্ধন। পেশোয়াদের আদি পদবি ছিল ভট। শ্রীবর্ধন অঞ্চলের পুরোধা ছিলেন ‘দেশমুখ’ উপাধিপ্রাপ্ত ভটবংশীয়রাই।
প্রথম পেশোয়া বালাজী বিশ্বনাথ ভট ছিলেন সমাজের প্রথম দেশমুখ। তিনি নিজের স্বকীয়তা ও কঠোর পরিশ্রমে পুণের সুবেদার নির্বাচিত হন। শিবাজি-পৌত্র শাহুজি তাঁকে প্রথম মরাঠা পেশোয়া রূপে মনোনীত করেন।
পুণে ছিল তৎকালীন পেশোয়া সাম্রাজ্যের রাজধানী। সেখানে প্রথম পেশোয়া হন বালাজি বিশ্বনাথ এবং তার পর টানা 100 বছর এ পেশোয়া রাজ কায়েম ছিল।
পরবর্তী কালে তৃতীয় পেশোয়া হন বালাজি বাজিরাও। 1750 সালে শ্রীবর্ধন শহরে তিনি এক বৃহৎ অট্টালিকা নির্মাণ করেন।
স্বীয় অতীত গৌরবে আজও আবদ্ধ শ্রীবর্ধন।
শ্রীবর্ধনে কিছু প্রাচীন মন্দিরও আছে। এখানকার শ্রীলক্ষ্মী-নারায়ণ মন্দিরটি ছিল পেশোয়াদের মূল উপাসনাস্থল।
এখানে রয়েছে কুসুমদেবী মন্দির, সোমজাই মন্দির, জীবনেশ্বর মন্দির ও ভৈরবনাথ মন্দির।
দিবেগর (সৈকত ও সোনার গণেশ মন্দির)। মুরুড পৌঁছে ফেরিতে সাগরের মাঝে জঞ্জিরা ফোর্ট।
তারপরে গেলাম নবাব প্যালেস বা আহমেদগঞ্জ প্রাসাদ, দত্তাত্রেয় মন্দির, গরম্বি ফলস্।
এই ফ্লসে একটু অসাবধানের কারনে দাস সাহেবের ভাইয়ের বাঁ পায়ে চোট লাগলো ,
ওনাকে ডাক্তার দেখিয়ে পায়ে ক্রেপ বেন্ডেজ করে হোটেলে ফিরলাম।
ফিরে এসে কিছু খাবার খেয়ে গেলাম মুরুড সৈকত, পথে শ্রীবর্ধন (সৈকত ও লক্ষ্মী-নারায়ণ মন্দির সহ এক গুচ্ছ মন্দির),
কোঙ্কণ উপকূলের শ্রীবর্ধন সৈকতে
শ্রীবর্ধন সৈকতে বেড়াতে আসার সেরা সময় জানুয়ারি থেকে মার্চ।
তার পর প্রখর গ্রীষ্ম ও বর্ষা পারকরে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর।
শ্রীবর্ধন সৈকত জেলা: রায়গড়, মহারাষ্ট্র।
হরিহরেশ্বর থেকে মাত্র 18 কিমি দূরে শ্রীবর্ধন। হরিহরেশ্বর ও শ্রীবর্ধনকে ‘টুইন সিটি’ও বলা হয়ে থাকে। আরব সাগরের ঢেউ ও লোনা বাতাসের খেলা চলে সমগ্র দিন রাত জুড়ে।আর তাইতো শ্রীবর্ধন সাগরপাড়ের এক নিজস্ব অহঙ্কার বেলা ভূমিকে ঘিরে মায়ামুগদ্ধ করে রাখে। সুদূর প্রসারিত দৃষ্টির সামনে অবিরাম ঢেউ এর ছলকানো সাদা বালিয়াড়িতে দাঁড়িয়ে কিছু সময়। লোনা হাওয়ার যেন শুড়শুড়ি দিয়েযায় নাকে মুখে আর কানে লাগে এক উৎচ্ছাসের আবেশ সু মধুর তানে একটু উষ্ণতার পরশ লাগে প্রাণে। সকল পর্যটক নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে শুধু অনুভব করে সেই সুরের তান প্রাণ মন ভরে। আর দুচোখ দিয়ে উপভোগ করে কোঙ্কণ উপকূলের কোল ঘেঁষে শ্রীবর্ধন সৈকত।প্রকৃতি তার প্রবল আগ্রহে গড়া মায়া ময় অপূর্ব সৈকত। এক ধারে সারি সারি নারকেল, সুপুরি, আমগাছের ভিড় নিয়ে ঐতিহাসিক তালুক। অন্য দিকে বহু দূর পর্যন্ত চলে গেছে সূর্যের আলো মাখা সাদা বালুতট ও সাগরের চমকপ্রদ নিসর্গ বালু বেলা ।
প্রাকৃতিক ভাবে মহারাষ্ট্রের হরিহরেশ্বর শ্রীবর্ধন দিবেগড় কোনডিভালি সৈকত রায়গড় জেলাকে যেন এক অপরূপ সৈকতমালার বিশিষ্টতা দিয়ে সাজিয়ে রেখেছে নিজের মতন করে । এদের মধ্যে কোনডিভালি আদপে একটি মৎস্যবন্দর। ছোটখাটো ছুটিতে বা উইক এন্ডে এই সৈকতগুলিতে কাটিয়ে দেওয়া যায় এক দুই দিন। মায়াবী নোনা জলে ভিজে থাকা সৈকত যেখানে ভ্রমণের আনন্দ বহুদিন ধরে রাখা যায় মনের গভীরে। এখানকার লবনাক্ত সন্ধ্যা মধু যামিনীর এক অন্তরের মিলন মেলা। ডাহিনে বামে দেখলেই অনুভব হয় প্রেম যেন নিজেই একে অপরকে কাছে টেনে নেয়।
হরিহরেশ্বরের পরে বেরিয়ে পড়েছি কাছেপিঠে অন্যান্য কয়েকটি সৈকতকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে কোঙ্কণ উপকূলের সৌন্দযকে একটু মনের ক্যানভাসে ভাবনার রং তুলি দিয়ে সাজিয়ে নিতে । দূরত্ব তেমন কিছু নয়, হরিহরেশ্বর পেরিয়ে কাঁকিজে নামের এক ছোট্ট জনপদ। এর পর রাজ্য সড়ক-১০০ ধরে যশলভি নিগডি হরিহরেশ্বর মন্দির রোড প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার পথ পেরিয়ে এ বার মায়েগাঁওয়ের কাছে রাজ্য সড়কের একটু পথে পেরোতেই শ্রীবর্ধন তালুক। নারকেল-সুপুরির খ্যাতির জন্য ‘শ্রীবর্ধন রোঠা’ বলা হয় এই সবুজে ছাওয়া প্রাচীন জনপদকে।
সকালবেলায়ই সৈকতে ঢেউখেলায় মত্ত পর্যটক।
শ্রীবর্ধনের ইতিহাস যেটুকু জেনেছিলাম তা হল ----
ইতিহাস প্রসিদ্ব ‘শ্রীবর্ধন’ অতীতে 16 টি দুর্গ দ্বারা সুরক্ষিত এক বাণিজ্যশহর হিসাবে খ্যাত শ্রীবর্ধন।
এমন গল্পও শোনাজায় যে মহাভারতের তৃতীয় পাণ্ডব অর্জুন তীর্থযাত্রাকালে এই স্থানে এসেছিলেন।
1600 ও 1700 শতকে প্রথমে আহমেদনগরের অধীনে ও পরে বীজাপুরের অধীনে একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী বন্দর ছিল শ্রীবর্ধন।
এক সময় পেশোয়াদের রাজ্যপাট ছিল শ্রীবর্ধন। পেশোয়াদের আদি পদবি ছিল ভট। শ্রীবর্ধন অঞ্চলের পুরোধা ছিলেন ‘দেশমুখ’ উপাধিপ্রাপ্ত ভটবংশীয়রাই।
প্রথম পেশোয়া বালাজী বিশ্বনাথ ভট ছিলেন সমাজের প্রথম দেশমুখ। তিনি নিজের স্বকীয়তা ও কঠোর পরিশ্রমে পুণের সুবেদার নির্বাচিত হন। শিবাজি-পৌত্র শাহুজি তাঁকে প্রথম মরাঠা পেশোয়া রূপে মনোনীত করেন।
পুণে ছিল তৎকালীন পেশোয়া সাম্রাজ্যের রাজধানী। সেখানে প্রথম পেশোয়া হন বালাজি বিশ্বনাথ এবং তার পর টানা 100 বছর এ পেশোয়া রাজ কায়েম ছিল।
পরবর্তী কালে তৃতীয় পেশোয়া হন বালাজি বাজিরাও। 1750 সালে শ্রীবর্ধন শহরে তিনি এক বৃহৎ অট্টালিকা নির্মাণ করেন।
স্বীয় অতীত গৌরবে আজও আবদ্ধ শ্রীবর্ধন।
শ্রীবর্ধনে কিছু প্রাচীন মন্দিরও আছে। এখানকার শ্রীলক্ষ্মী-নারায়ণ মন্দিরটি ছিল পেশোয়াদের মূল উপাসনাস্থল।
এখানে রয়েছে কুসুমদেবী মন্দির, সোমজাই মন্দির, জীবনেশ্বর মন্দির ও ভৈরবনাথ মন্দির।
দিবেগর (সৈকত ও সোনার গণেশ মন্দির)। মুরুড পৌঁছে ফেরিতে সাগরের মাঝে জঞ্জিরা ফোর্ট।
তারপরে গেলাম নবাব প্যালেস বা আহমেদগঞ্জ প্রাসাদ, দত্তাত্রেয় মন্দির, গরম্বি ফলস্।
এই ফ্লসে একটু অসাবধানের কারনে দাস সাহেবের ভাইয়ের বাঁ পায়ে চোট লাগলো ,
ওনাকে ডাক্তার দেখিয়ে পায়ে ক্রেপ বেন্ডেজ করে হোটেলে ফিরলাম।
N==রাত্রিবাস মুরুড।
সকালে অমিতের পায়ের অবস্থা তেমন ভালো মনে হলোনা। উনি ব্যাথায় বেশ কষ্ট পাচ্ছিলো
সেই কারনে আমরা আমাদের টুর এখানেই শেষ করে ফিরে আসলাম।
সকালে অমিতের পায়ের অবস্থা তেমন ভালো মনে হলোনা। উনি ব্যাথায় বেশ কষ্ট পাচ্ছিলো
সেই কারনে আমরা আমাদের টুর এখানেই শেষ করে ফিরে আসলাম।
12 the day –22 nd March
এবার ফেরার পালা
এবার ফেরার পালা
মুরুড থেকে গাড়ি পথে পুনে 197 km,
পুনে থেকে ট্রেনে খড়্গপুর পৌঁছলাম 23 মার্চ বিকেল পাঁচটায় । খড়গ পুর থেকে গাড়ি ভাড়া করে বেলপারি কেম্পে পৌঁছলাম।
======================================================
পুনে থেকে ট্রেনে খড়্গপুর পৌঁছলাম 23 মার্চ বিকেল পাঁচটায় । খড়গ পুর থেকে গাড়ি ভাড়া করে বেলপারি কেম্পে পৌঁছলাম।
======================================================
No comments:
Post a Comment