Sunday, June 26, 2022

77/2>|| পঞ্চকেদার::ট্রেকিং/ দর্শন=16Days ||----(2)

 77/2>|| পঞ্চকেদার::ট্রেকিং/ দর্শন=16Days ||--(2)

                            <---আদ্যনাথ--->

  16 দিনের ভ্রমণ---part=(2)

       দ্বিতীয় পর্ব-----

আমি মনের দুঃখ ঘোচাতে বেরিয়ে পড়েছিলাম হিমালয়ে পঞ্চকেদার দর্শনে। শুনেছি পঞ্চকেদার দর্শনে পাওয়া যায় মনের শান্তি, আর দূর হয় মনের সকল গ্লানি। তাইতো বেড়িয়ের পড়লাম পঞ্চকেদার দর্শনে। চারজন সাথী জোগাড় করে।

(কমল ঘোষ, মানিক ভট্টাচার্য্য,শম্ভু নাথ,পরেশ দেবনাথ ও আমি।)

আমাদের যাত্রা পথ----

হরিদ্বার-- হৃষীকেশ---রুদ্রপ্রয়াগ ও শোনপ্রয়াগ--- গৌরীকুণ্ড--ভীমবলী--লিনচোলী- হয়ে কেদারনাথ--- -উখীমঠ-মদমহেশ্বর-- যোগাসু-ওনিওনা-রাঁশি---গৌণ্ডার----বানতোলি--খাডোরা---চোপতা--তুঙ্গনাথ----চন্দ্রশীলা----মণ্ডল---অনুসূয়া---------------অত্রিমুনির আশ্রম-নওলা পাস----রুদ্রনাথ--পানার-টোলি-দুমক----কালগোট ----উর্বশী পাস---দেবগ্রাম------কল্পেশ্বর---সালনা---হেলাং---চামোলী হয়ে হরিদ্বার ।

====================

20 অক্টোবর1972  শুক্রুবার----- থেকে  4 নভেম্বর 1972 শনিবার পর্যন্ত ।=16 দিন।

20/10/1972

হাওড়া থেকে ট্রেনে হরিদ্বার ,দুইদিনের পথ । পৌঁছে গেলাম হরিদ্বার।

1st and 2nd day

সম্পুর্ন ★হরিদ্বার আগেই ঘুরে দেখেছি। তথাপি হর-কি-পৌরি তে গঙ্গার আরতি দেখবার ইচ্ছা আছে। ভাবছি ফেরার পথে একবার দেখব। সেই কারণে সময় নষ্ট না করে একটা গাড়ি ভাড়া করে বেরিয়ে পড়लम।

3rd day--

তৃতীয় দিনে একটা গাড়ি ভাড়া করে  রুদ্রপ্রয়াগ, শোনপ্রয়াগ হয়ে ★গৌরীকুণ্ডে পৌছেছিলাম।গৌরীকুণ্ডে হোটেলে রাত কাটিয়ে সকালে আরার বেরিয়ে পড়েছিলাম।

(হরিদ্বার থেকে গৌরীকুণ্ড 232.4 কিলোমিটার কার বা জিপে আট ঘন্টার মতন সময় লাগে।)


4th day---

চতুর্থ দিন আমরা চলেছি গৌরীকুণ্ড  থেকে লিনচোলীর পথে--13 কিলোমিটার।

(গৌরীকুণ্ড থেকে আমরা 12 দিনের জন্য একজন গাইড তথা পথ- প্রদর্শক সঙ্গে নিয়েই সম্পূর্ন ভ্রমন করেছিলাম)।

গৌরীকুণ্ড থেকে হাটা শুরু করলাম। জঙ্গল চটি ছাড়িয়ে গিয়ে ★রামওয়ারার যাওয়ার পথে ,★মন্দাকিনী নদীর পাশ দিয়ে, রামওয়ার এক কিলোমিটার আগেই ★ভীমবলী থেকে নেমে  মন্দাকিনী পেরিয়েই ভীষণ চড়াইপথে নদীর তটবরাবর চড়াই পথে  এগিয়ে চললাম । একটানা জঙ্গলের চড়াই পথে চলে পার হলাম  একটা নালা। আরও একটু উঠে গিয়ে পেলাম অপূর্ব সুন্দর  ঘাসে ঢাকা পাহাড়ের ঢাল। এভাবেই পৌঁছে গেলাম ★লিনচোলীর সরকারি হাউজে। এক পরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকা-খাওয়ার সব ব্যবস্থাই আছে। রাতটা ভালোই কাটলো এখানে। 

সকালে উঠে আবার চলা শুরু।

5th day---

পঞ্চম দিনে লিনচোলী-কেদারনাথ ---4কিলোমিটার পথ।

লিনচোলী থেকে দেখতেপেলাম কেদারনাথ শৃঙ্গ-সহ তুষারাবৃত পর্বতমালা। একটু এগিয়ে যেতেই দূরে  দেখলাম কেদারনাথ মন্দির । মন্দির থেকে দু’কিলোমিটার আগেই কেদারনাথ বেসক্যাম্পে বা  সরকারি থাকা খাওয়ার জায়গা। ওখানে থাকার ব্যবস্থা করে  মালপত্র রেখে সরস্বতী নালা পেরিয়ে  পৌঁছে গেলাম ●●(1)কেদারনাথ মন্দিরে। মন্দিরদর্শন করে পূজাদিয়ে  চারপাশটা একটু ঘুরে ফিরে দেখে পৌঁছে গেলাম  কেদারনাথের সরকারি গেস্ট হাউজে ।

[[(1)=কেদারনাথ মন্দির=11755 ft Hight

(গত এক বৎসর আগে অর্থাৎ 1970 সালে কেদার নাথ - বদ্রিনাথ দর্শন করেছি সেই কারণে কেদারনাথ মন্দির নিয়ে অনেক কিছু ওখানেই লিখেছি সেই কারণে এখানে আর লিখলাম না।)

হিন্দুদের অন্যতম প্রধান ও জনপ্রিয় তীর্থস্থান। উত্তরাখণ্ড রাজ্যের গাড়োয়াল হিমালয় পর্বতশ্রেণীতে অবস্থিত কেদারনাথ শহরে মন্দাকিনী নদীর তীরে স্থাপিত একটি শিব মন্দির। এই অঞ্চলের প্রাচীন নাম ছিল কেদারখণ্ড। তাই এখানে শিবকে কেদারনাথ অর্থাৎ কেদারখণ্ডের অধিপতি নামে পূজা করা হয়। ]]

6th day----

ষষ্ঠ দিন--

সকালে বেরিয়ে একই ফিরতি পথে অনেকটা রাস্তা পেরিয়ে গৌরীকুণ্ডে নেমে আসালাম। তারপরে গৌরীকুণ্ড থেকে ভাড়া করা গাড়ি করে গুপ্তকাশী হয়ে উখীমঠ পৌঁছে গেলাম। উখীমঠের  মন্দির দর্শন করে পূজা দিলাম। শীতকালে এই মন্দিরেই ●●(2)মদমহেশ্বরের বিগ্রহ পূজিত হয়।

   [[ 2)=মদমহেশ্বর=11450ft Hight

চারিদিকে সবুজের  সমারহ মাঝে পাহাড়ের কোলে মধ্যমহেশ্বর বা মদমহেশ্বর মন্দিরের। সে এক অপূর্ব দৃশ, এমন দৃশ্য দেখে মনে এক অনাবিল শান্তি অনুভব করলাম।  সকালে খুব ভোরে উঠে কিছুটা চড়াই ভেঙে পৌঁছে গেলাম বুড়ো মদমহেশ্বেরের মন্দিরে। এখানেও ঘাসে ঢাকা প্রান্তরের মাঝে ছোট্ট এক পাথুরে মন্দির। এখান থেকে চারপাশের দৃশ্য অপূর্ব।  এখান থেকে দেখা যায় চৌখাম্বা ও মান্দানি শৃঙ্গমালাকে। এখানে একটি ছোট জলাশয়ও আছে।    ]]

7th day===

সপ্তম দিন::--- উখীমঠ-যোগাসু-ওনিওনা-রাঁশি গ্রাম --গাড়িপথে----১০কিমি পথ।

উখীমঠ থেকে গাড়ি চেপে মনশুনা, ★যোগাসু ও ★ওনিওনা ছাড়িয়ে ★রাঁশি গ্রাম হয়ে পৌঁছে গেলাম ★গৌণ্ডা হয়ে ★বানতোলি খাডোরা -নানু হয়ে-★মদমহেশ্বর ।

গৌণ্ডার থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে বানতোলি হয়ে  মার্কণ্ডেও গঙ্গা ও মদমহেশ্বর গঙ্গার সঙ্গমস্থল এখান থেকে শুরু কঠিন চড়াইপথ । বড় বড় গাছপালার মধ্য দিয়ে সুন্দর প্রশস্ত পথ।

এইভাবেই পৌঁছে গেলাম  গৌণ্ডার ও রাঁশি গ্রাম।  ঘাসে  ঢাকা পাহাড়ের ঢাল ধরে পাকদণ্ডী চড়াইপথে নানু।  পথের দূরত্ব খুব একটা বেশি নয় তবে সম্পূর্ণ পথই  চড়াইপথ।  মাত্র নয় ( 9 ) কিলোমিটার পথে উঠেই হবে  চার হাজার ফুট, এতটা চড়াই পথ বেশ কষ্ট সাধ্য।তথাপি মনে এক আনন্দ বিরাজ করছে, আর এই ভাবেই আমরা পৌঁছে গেলাম মদমহেশ্বরের মন্দির । অসাধারণ সুন্দর এই মন্দির এলাকা।

এই মদমহেশ্বরেই এক হোটেলে রাত কাটালাম।  

8th day===

অষ্টম দিন মদমহেশ্বর-গৌণ্ডার-রাঁশি-১৭কিমি

খুব ভোরে উঠে পৌঁছে গেলাম  বুড়ো মদমহেশ্বেরের মন্দিরে।  ছোট্ট  এক পাথরের মন্দির। এখান থেকে চারপাশের দৃশ্য অপূর্ব। চৌখাম্বা ও মান্দানি শৃঙ্গমালাকে দেখলম। এখানেও আছে এক ছোট্ট জলাশয়। এবারে একই পথে নেমে আসলম। ফিরে এসে রাতটা মদমহেশ্বরেই  থাকলাম। 

9 th day==

নবম  দিন--চোপতা -তুঙ্গনাথ----হাঁটাপথ

সকালেই গাড়ি ভাড়া করে রওনা দিলাম। খুব ভোরে বেরিয়ে ওনিওনা হয়ে জিপে ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যে চলে আসলাম  ★উখীমঠ। উখীমঠ থেকে আবার একটা গাড়ি ভাড়া করে  ঘণ্টা তিনেকের পথ  ★চোপতায়  পৌঁছে গেলাম ।  এই চোপতা থেকে তুঙ্গনাথ পায়ে হেটে মাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার চড়াই পাথুরে পথ তাই সাবধানে চলতে হয় খানিকটা ওঠার পর ঘাসে ঢাকা পাহাড়ের ঢাল । এই ভাবেই  ঘণ্টা দুয়েক পথ চলে পৌঁছে গেলাম  ●●তুঙ্গনাথ।এই তুঙ্গনাথ মন্দিরে মহিষরূপী শিবের বাহু অংশটি আছে পাথরের আকারে। এখানে পুজো হয় মহাদেবের হৃদয়ের!

মন্দিরের কাছেই পেয়েগেলাম গেস্ট হাউস, সেখানেই থাকার ব্যবস্থা করলাম 

 [[ (3)=তুঙ্গনাথ=12073 ft Hight

তুঙ্গনাথ উত্তরাখণ্ড রাজ্যের রুদ্রপ্রয়াগ জেলায় অবস্থিত পৃথিবীর সর্বোচ্চ শিব মন্দির আর পঞ্চ কেদারের অন্যতম তৃতীয় কেদার। এখানকার মন্দিরে মহিষরূপী শিবের বাহু অংশটি আছে পাথরের আকারে।   চোপতা থেকে সাড়ে চার কিলোমিটারের হাঁটা পথ তুঙ্গনাথ। প্রায়  8800 ফুট উচ্চতার চোপতাকে অনেকে উত্তরাখণ্ডের মিনি সুইতজারল্যান্ড বলেন। কারণ, সবুজ বুগিয়াল; “বুগিয়াল” অর্থাৎ মাঠ।পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে যাওয়া বিস্তীর্ণ এক সবুজ তৃণভূমি। আসে পাশের  বাসিন্দাদের কাছে তুঙ্গনাথ পূন্যভূমি।

আমরা এবার আবার ট্ৰেকিং করে তুঙ্গনাথেরও উপরে   13123 ফুট উচ্চতায় এই পাহাড়ের চুড়োয় পৌঁছলাম যেখানে  আছে চন্দ্রশিলা। এই চন্দ্রশিলার চুড়োয় একটা ছোট্ট মন্দির রয়েছে, গঙ্গাদেবীর উদ্দেশে নিবেদিত। এখন  থেকে  দেখলাম হিমালয়ের  চার পাশের অপূর্ব তুষারধবল শৃঙ্গ গুলি। সেগুকি হল চৌখাম্বা, নন্দাদেবী, নন্দাঘুন্টি, কামিট, পালকি, নীলকন্ঠ, সুদর্শন, মেরু-সুমেরু, শিবলিঙ্গ।  

সমুদ্রতল থেকে এই তুঙ্গনাথ মন্দির 3680 মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। এই এলাকায় অবস্থিত মক্কমাথ গ্রামের এক স্থানীয় ব্রাহ্মণ তুঙ্গনাথ মন্দিরে পুজোর জন্য দায়বদ্ধ। বলা হয়ে থাকে যে স্থানীয় মৈথানি ব্রাহ্মণরাই বরাবর তুঙ্গনাথ মন্দিরে পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করে এসেছেন। মহাদেবের আরাধনা মানেই হয় তাঁর মূর্তির পুজো বা শিবলিঙ্গের পুজো করা হয়ে থাকে। কিন্তু তুঙ্গনাথ মন্দিরে মহাদেবের হৃদয় ও হাতের পুজো করা হয়। শুধু তাই নয়, এটিই বিশ্বের উচ্চতম মন্দির বলে প্রচলিত। মনে করা হয় পৃথিবীতে এর থেকে উঁচুতে আর কোনও মন্দির অবস্থিত নেই। 

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পরে পঞ্চপাণ্ডবের পাপ খলনের বা পাপ মুক্তির নিমিত্তে যে গল্প গাঁথা আছে তার পরেও আরও কিছু গল্প কথা এখানে প্রচলিত আছে।

★একথা বলাহয় যে  দেবী পার্বতী শিবকে স্বামী হিসেবে লাভ করতে এই মন্দিরে পুজো করেছিলেন।

★এ ছাড়া বলা হয়ে থাকে যে লঙ্কেশ্বর রাবণ মহাদেবকে তুষ্ট করলে তুঙ্গনাথ মন্দিরে তপস্যা করেন। আবার রাবণ বধের পরে ব্রাহ্মণকে হত্যা করার অভিশাপ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে রামও নাকি এই স্থানে বসে তপস্যা করেছিলেন। এই এলাকার আরও একটি নাম হল চন্দ্রশীলা।★

★মে থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে তুঙ্গনাথ মন্দিরে যেতে পারেন পূণ্যার্থীরা। অন্য সময় এই স্থান বরফে ঢাকা থাকে। 

তুঙ্গনাথে পৌঁছবার জন্য অনেক রাস্থা আছে যেমন::---ঋষিকেশ থেকে গোপেশ্বর হয়ে চোপটা যেতে হবে। এরপর স্থানীয় যান বাহনে করে পৌঁছে যাওয়া যায় তু্ঙ্গনাথ। 

★এছাড়া ঋষিকেশ থেকে উখিমঠ হয়েও তুঙ্গনাথে যাওয়া যায়। উখিমঠ থেকে চোপটা হয়ে তুঙ্গনাথে যাওয়ার পথ রয়েছে।★]]

   

10 th day====

দশম দিন তুঙ্গনাথ-চন্দ্রশীলা, চোপতা---৫কিমি-হাঁটাপথ। চোপতা-মণ্ডল-২৭ কিমি- গাড়িপথ।

ভোররাতে বেরিয়ে পড়েছিলাম চন্দ্রশীলার উদ্দেশে। পাথরের উপর হালকা বরফের আস্তরণ ছিলো সেই কারণে একটু সাবধানে উঠেতে পৌঁছতে হয়ে ছিলচন্দ্রশীলার উপরে। 

এখান থেকে  দেখলাম গাড়োয়াল ও কুমায়ুঁনের মাঝে বহু শৃঙ্গমালা । দেখলাম দূরে নন্দাদেবী, চৌখাম্বা, কেদারনাথ, ত্রিশূল-সহ বহু পর্বতচূড়া।  এবার নেমে আসলাম তুঙ্গনাথ মন্দিরে। মন্দির দর্শন করে একই পথে নেমে আসলাম চোপতা। 

চোপতা থেকে একটা গাড়ি করে মণ্ডল পৌঁছে গেলাম মাত্র ২৭কিমি পথ। 

মণ্ডল থেকে  পায়ে হেঁটে পৌঁছে গেলাম অনুসূয়া গ্রামে। এখানে অনুসূয়া মায়ের মন্দিরকে ঘিরে এটি একটি ছোট্ট গ্রাম। 

অনুসুয়াতে রাত কাটিয়ের সকালে বেড়িয়ে পড়লাম।

11th day----

একাদশ দিন অনুসূয়া-অত্রিমুনির আশ্রম-নওলা পাস -রুদ্রনাথ-১৬কিমি

একদিনে অনেকটা চড়াইপথে চলতে হবে।সেই কারণে দিনের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে পড়েছিলাম। অল্প অল্প চড়াইপথে পৌঁছে গেলাম ★অত্রিমুনির আশ্রমে। তারপরে ফেরার পথে সামান্য এগিয়ে ★বালখিল্য গঙ্গা পেরিয়ে ঘনবনের মাঝে শুরু  একটানা চড়াই পথ। হাটা পথে একসময় গাছপালা অনেক কমে

শুরু হল চারণভূমি। এরই মধ্যে দিয়ে চড়াই  পথে উঠে  পৌঁছে গেলাম★ রুদ্রনাথওয়ালা গিরিশিরার উপরে অবস্থিত নওলা পাসে। এখান থেকে নন্দাদেবী সমেত বহু শৃঙ্গমালা দেখা যায়। উত্তর-পূর্বদিকে গিরিশিরাটির গায়ে গায়ে পৌঁছে গেলাম ●●রুদ্রনাথ মন্দিরে। নির্জন পরিবেশে মন্দির। মহিষরূপী শিবের মস্তক অংশটি এখানে পূজিত হয়।

  [[ (4)=রুদ্রনাথ=7500 ft Hight5

পাঁচটি কেদারের মধ্যে সবচেয়ে দুর্গম রুদ্রনাথ। নিস্তব্ধ, নির্জন পরিবেশে এ জায়গাটির আকর্ষণই আলাদা। সন্ধ্যার আরতি দর্শন সে এক অপূর্ব রোমাঞ্চকর দর্শন যা সারাজীবন মনে থাকবে। ষাঁড়রূপী শিবের মস্তক অংশটি এখানে পূজিত হয়।  ]]

রাতটা বেশ আরামেই কাটলো।

12 the day---

দ্বাদশ দিন রুদ্রনাথ-পানার-টোলি-দুমক-২০কিমি

এদিনও অনেকটা পথ চলতে হবে। তাই ভোর ভোর হাঁটা শুরু করে পাহাড়ের ঢাল ধরে একইপথে উঠে গেলাম ★পিতুর ধার। এরপর উৎরাই পথে বুগিয়ালের মধ্য দিয়ে নেমে আসলাম★ পানার বুগিয়ালে। এখানে খাওয়া ও থাকার সামান্য ব্যবস্থা খুব সুন্দর। এখান থেকে দু’টি পথ। মূলপথটি নেমে যায় সাগরের দিকে। আমরা বাঁদিকে, অর্থাৎ উত্তরমুখী পথে নামতে শুরু করে অনেকটা পথ পেরিয়ে সরাসরি নেমে আসালা ★কালাপানি নালার ধারে। নালাটি পেরিয়ে আরও খানিকটা  পথ চলার পর পৌঁছে গেলাম ★দুমক গ্রামে।

দুমকে রাত কাটিয়ে  ভোরেই বেরিয়ে পড়লাম।

13 th day----

ত্রয়োদশ দিন দুমক -কালগোট -উর্বশী পাস -দেবগ্রাম ---------20 কিমি।

এই পথে ওঠানামা পথ ধরে হাঁটা। পরের গ্রাম ★কালগোট থেকে একটা পথ চলে যায় বংশীনারায়ণ অভিমুখে। আমরা  চললাম পূর্বমুখী পথে★ উর্গম উপত্যকা দিকে। সারাদিনে অনেকটা ওঠানামা পথ পেরিয়ে উর্গমের মাঝে ★দেবগ্রাম পৌঁছে গেলাম।

দেবগ্রামে রাত্রি বাস।---

14 th day---

চতুর্দশ দিন দেবগ্রাম-কল্পেশ্বর-সালনা-হেলাং-11 কিমি

দেবগ্রাম থেকে সহজপথে থেকে এক কিলোমিটার দূরে কল্পগঙ্গার উপর পুল পেরিয়ে উঠে এগিয়ে গেলাম------●●● কল্পেশ্বর মন্দিরে। নদীর বামতটে একটা পাথরের নীচে অন্ধকারে এই মন্দির। মহাদেবের জটা অংশটি রয়েছে এখানে। দর্শনের পর একই পথে ফিরে গেলাম দেবগ্রামে। বাঁদিকে নদীর বামতটে দেখতে পেলাম এক সুন্দর ঝর্না। পৌঁছে গেলাম ★সালানা এই সালনা থেকে হেলাং গাড়িপথ। এই হেলাং-এ পৌঁছে শেষ হলো আমাদের পঞ্চকেদার পদযাত্রা।

(চামোলী-যোশীমঠ বাসরাস্তার উপর অবস্থিত হেলাং)

  [[ (5)=কল্পেশ্বর=7200 ft Hight

 কল্পগঙ্গা নদীর তীরে কল্পেশ্বর মন্দির। পাঁচটি কেদারের মধ্যে সবচেয়ে সহজ পথে পৌঁছানো যায়। নদীর বামতটে একটা  পাথরের নীচে অন্ধকারের মাঝে এই মন্দির। ষাঁড়রূপী মহাদেবের জটা অংশটি রয়েছে এখানে। ]]

হেলাং থেকে গাড়িপথে চামোলী হয়ে হরিদ্বার ফিরে আসলাম।

হরিদ্বার থেকে বাড়ি ফেরার ট্রেন ধরে ফিরলাম।----------4 নভেম্বর 1972 শনিবার।

              <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

==============================

এই ভ্রমণে আমরা একজন  পথপ্রদর্শক নিয়েই সম্পুর্ন ভ্রমণ করেছি। সেই কারণে একটু বেশি অর্থ খরচ হয়েছে বটে কিন্তু পথে কোন প্রকার অসুবিধা হয়নি, এবং সকল স্থান সমন্ধে খুব ভালো করে বুঝতে ও চিনতে পেরেছিলাম। 

যেমন আমরা খুব সহজেই তুঙ্গনাথ থেকে সরাসরি হাঁটাপথে মণ্ডলে নেমে আসতে পারেছিলাম। 

আমাদের গাইডএর নাম ওসি তামাং খুব ভালো বাংলা ও হিন্দি বলতে পারতো। এই ভ্রমণে পরে জানতে পেরেছিলাম যে আমাদের সাথে ভ্রমণের পরেই ও সরকারি চাকুরী পেয়ে গেছে।ও আইয়ে পাশ  দেখে ছিলাম ওর ভূগোলে জ্ঞান ভীষণ ভালো। স্বভাব ও খুব ভালো ছিলো। আমাদের ভ্রমণের কয়েকদিন পরেই তামাং আমার বাড়ির ল্যান্ড লাইনে ফোন করে আমাকে জানিয়ে ছিলো ওর চাকুরীতে যোগ দেবার সংবাদ।

            <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

====================================================

বিঃ দ্রঃ ------------জেনে রাখা ভালো =HIGHT  OF  THE  PLACES OF INTEREST  =====

হরিদ্বার-- হৃষীকেশ---রুদ্রপ্রয়াগ ও শোনপ্রয়াগ--- গৌরীকুণ্ড(উচ্চতা-1982মিটার),------------------------------ভীমবলী(উচ্চতা 2660 মিটার),-------------------লিনচোলী(উচ্চতা 3148মিটার),-----------------------------------কেদারনাথ(11755 ft Hight),-রাঁশি (1980মি)-----গৌণ্ডার (2070মি),খাডোরা (2020 মি)--------------------------নানু (2330মি)---মদমহেশ্বর (3490মি)--------------চোপতা (2500মি)-তুঙ্গনাথ  3549মি)----------------------চন্দ্রশীলা (3680মি)--চোপতা-মণ্ডল  (1568 মি)---অনুসূয়া (2195মি)---নওলা পাস ( 4200মি)------------------রুদ্রনাথ---------( 3557মি)----পানার (2286মি)----------- ---দুমক (2134 মি)-কালগোট (2073মি)-----------------উর্বশী পাস (3048মি)-দেবগ্রাম (2100মি)--------------কল্পেশ্বর=7200 ft Hight

            <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

=================================

 





77/1>|| পঞ্চকেদার::ট্রেকিং/ দর্শন=16Days ||--(1)

   

 77/1>|| পঞ্চকেদার::ট্রেকিং/ দর্শন=16Days ||---(1)

                               <---আদ্যনাথ--->

  16 দিনের ভ্রমণ---part=(1)

       প্রথম পর্ব-----

1972এ  ভীষণ ভালোলাগার 16 দিন।

4 দিন ট্রেনে, 3 দিন টেক্সি বা জিপে 9 দিন ট্রেকিং বা পায় হেটে। 

October  20 to 04 November 1972

20 অক্টোবর শুক্রুবার থেকে 4 নভেম্বর শনিবার  1972

এই শ্রেষ্ঠ ধার্মিক ট্রেক রুট গাড়োয়াল হিমালয়ের সবরকম প্রাকৃতিক বৈচিত্র মন্ডিত স্থান এবং এটি গাড়োয়াল হিমালয়ের সর্বপরিচিত এক ট্রেক রুট। 

এই পঞ্চ কেদার অর্থাৎ

1>কেদারনাথ-

2>মদমহেশ্বর-

3>তুঙ্গনাথ-

4>রুদ্রনাথ-

5>কল্পেশ্বর

এই পঞ্চকেদার তীর্থস্থানগুলি সবই পায়ে হাঁটা পথে যেতে হয়। বছরভর প্রচণ্ড শীত থাকার জন্য নির্ধারিত 6 মাস নভেম্বর থেকে এপ্রিল মাসের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মন্দিরগুলি বন্ধ থাকে।আবার নির্ধারিত 6 মাস এপ্রিল মাসের শেষভাগ থেকে নভেম্বর মাসের প্রথম ভাগ পর্যন্ত এই মন্দিরটি খোলা থাকে।

হিমালয়ের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে আমাদের প্রকৃতি, ধার্মিক, পুরাণ আর ইতিহাসের বহু মূল্যবান চির-স্বরনীয় নানা কাহিনী। আর সেই কারণেই হিমালিকে বলা হয় দেবভূমি  হিমালয়।

আমি মনে করি হিমালয় সমগ্র পৃথিবীর দেবভূমি।

এই হিমালয়ে আসলেই মনের শান্তি, হৃদয়ে নুতন ফুর্তি ও উৎসহ জাগে। নিজেকে নুতন করে খুঁজে পেতে হিমালয়ের অবদান অনস্বীকার্য। আমি বার বার বহুবার পৌঁছেছি হিমালয়ের এক  অমোঘ আকর্ষণে আর প্রকৃতির টানে। 

আজ চলেছি পঞ্চকেদার দর্শনে ,পথে যেতেযেতে কোথাও ট্রেকিংএর আনন্দ ও উপভোগ করবো এমনটাই চিন্তা আছে মনে।

পঞ্চকেদার কে ঘিরেই মহাভারতের এক  বিশেষ সুন্দর গল্প আছে । 

গল্পটি এইরকম---

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে জয়লাভ করার জন্য পঞ্চপাণ্ডবকে  হত্যা করতে হয়েছিল কৌরবদের। আসলে কিন্তু নানান সময়ে অনেক অন্যায় যুদ্ধেও ভাতৃ  হত্যা ও ব্রাহ্মণ হত্যার মত গুরুতর পাপে বিদ্ধ হয়েছিল পঞ্চপাণ্ডব।

 স্বজন হারানোর শোকে পাণ্ডব ভাইয়েরা নিজেদের মনের শান্তি হারিয়ে ফেললেন চিরতরে। রাজ্য পরিচালনার দায়িত্ব অন্যদের হাতে ছেড়ে পাঁচ ভাই বেড়িয়ে পড়লেন দেবাদিদেব মহাদেব-এর খোঁজে। উদ্দেশ্য তাঁর আশীর্বাদ নিয়ে কিছুটা হলেও মনের শান্তি ফিরে পাওয়া ও কিছুটা হলেও পাপের হাত থেকে একটু মুক্তি পাওয়া যাবে। এমন চিন্তায় তাঁরা পাঁচভাই প্রথমেই  গেলেন শিবধাম কাশীতে। কারণ সেখানেই রয়েছে অসংখ্য শিব মন্দির। 

সম্ভবত মহাদেব স্বয়ং সেই স্থানেই বাস করছেন।

কিন্তু এমন ভয়ঙ্কর পাপবিদ্ধ পঞ্চপাণ্ডবদের আশীর্বাদ তো দূরে থাক, দর্শন দিতেই গররাজী মহেশ্বর। কাশীতে শিবের দেখা না পেয়ে বিমর্ষ পঞ্চপাণ্ডব গেলেন গাড়োয়াল হিমালয়ে। সেখানে গুপ্তকাশীর কাছা কাছি তাঁরা দেখলেন প্রকাণ্ড এক ষাঁড় ঘুরে বেড়াচ্ছে। পঞ্চপাণ্ডবদের অন্যতম ভীম দর্শনমাত্র চিনে ফেললেন যে এই ষাঁড়ের ছদ্মবেশে লুকিয়ে আছেন স্বয়ং মহাদেব ! তড়িৎবেগে ছুটে গিয়ে ভীম ষাঁড়ের লেজ ও পেছনের পা জড়িয়ে ধরলেন। শিব তৎক্ষণাৎ অদৃশ্য হয়ে গেলেন। এমনি করে মহাদেব ষাঁড়ের ছদ্মবেশে নানা স্থানে পঞ্চপাণ্ডবদের দেখা দেন। পঞ্চপাণ্ডব এক এক স্থানে ষাঁড়ের এক এক অংশ ধরে আটকাবার চেষ্টা করে, কিন্তু মহাদেব কিছুতেই তাঁদের ধরা দেননি। এমনি করে পাঁচটি স্থানে ষাঁড়ের ছদ্মবেশে পঞ্চপাণ্ডবদের দেখা দিয়ে আবার অদৃশ্য হয়ে গিয়ে ছিলেন মহেশ্বর । কিন্তু প্রতিটি স্থানেই পঞ্চপাণ্ডব ষাঁড় রুপি মহাদেবকে বিভিন্ন অংশ ধরে রাখতে চেষ্টা করে ছিলেন। আর যে  স্থানে যে অংশ ধরে ছিলেন সেই স্থানে সেই অংশ প্রতীক রূপে মহাদেব পূজিত হলেন।

প্রতিটি মন্দির ষাঁড় বা শিবের দেহের একটি অংশ দিয়ে চিহ্নিত হয়; তুঙ্গনাথকে সেই জায়গা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে যেখানে বাহু (হাত) দেখা গেছে;

হাম্প দেখা গেল কেদারনাথে ,মাথা হাজির রুদ্রনাথে, তার নাভি ও পেট ভেসে উঠল মধ্যমেশ্বর; এবং তার জটা (চুল বা লক)  কল্পেশ্বরে। 

পঞ্চপাণ্ডব যে যে স্থানে ষাঁড়ের যে যে অংশ ধরে ছিলেন সেই সেই স্থানে সেই সেই অংশ রূপে মহাদব পূজিত হলেন। অর্থাৎ খণ্ডবিখণ্ড অবস্থায় ছদ্মবেশে বিভিন্ন জায়গায় শিব পঞ্চপাণ্ডবদের দর্শন দেন ষাঁড়ের খন্ড খন্ড রূপে। 

কেদারনাথে- ষাঁড়ের কুঁজ আবির্ভুত হয়। 

তুঙ্গনাথে-- বাহুদ্বয়, 

রুদ্রনাথে--- মস্তক, 

মদমহেশ্বরে--নাভি ও পেট আবির্ভূত হয়। 

মদমহেশ্বরে কল্পেশরে--চুল ও জটা।

এই ভাবেই খণ্ডিতহয়ে মহাদেব রুপি ষাঁড়ের বিভিন্ন অংশ  ছড়িয়ে পড়েছিল এই  পাঁচটি  জায়গায়। এরপর পাণ্ডব ভাইয়েরা সেই পাঁচ জায়গাতেই শিবের মন্দির স্থাপন ও পুজা করে ছিলেন। যা এখন পঞ্চ কেদার নামে তীর্থস্থান হিসেবে সুপরিচিত। বহু যুগ যুগ ধরে এই সব মন্দির দর্শনের উদ্দেশ্যে মানুষের ভিড় দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। 

    <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী-->

=========================


 

Saturday, June 25, 2022

76>|| ভ্রমনের স্বাদ--++ পাহাড়ে ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ( 1--2):,---- ||

 

76/1> || ভ্রমনের স্বাদ  ||

76/2>পাহাড়ে ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য :,----  



==========================

76/1> || ভ্রমনের স্বাদ  ||

                 <--আদ্যনাথ--> 

  ভ্রমণ শিক্ষার অঙ্গ। 

ভ্রমণের লাভ মনের আনন্দ। 

মানুষ মাত্রেই  "অমৃতের সন্তান"

সদা আনন্দের উপাসক। 

সময়ে  সংসারের জটিলতা থেকে  

মন চায় মুক্তির স্বাদ পেতে।


মুক্তির স্বাদের লালসায়,

মন বেড়িয়ে পড়তে চায়।

স্বপ্ন বিহ্বল মন মুক্তির আনন্দে 

বেরিয়ে পড়ে ভ্রমনের উদ্দেশ্যে।

সে চায় মুক্ত মনের বিক্ষণে

প্রকৃতিকে হৃদয়দিয়ে উপলব্ধি করতে।

মুক্তির আনন্দে মুক্ত হাওয়ার গন্ধে,

ভ্রমণে উৎসাহী মন বেরিয়ে পড়ে পাহাড় জঙ্গলে, 

একটু নিরালায় বা সমুদ্রের বুকে মুক্তির স্বাদ খুঁজে নিতে ।

একথাও সত্যি 

ভ্রমণে দূর হয় মনের অস্থিরতা, ক্লান্তি, 

লাভ হয় মানসিক শান্তি,  

আর হৃদয়ের পুষ্টি ও মনের তুষ্টি। 

তাইতো প্রকৃতির অমোঘ টানে, 

সুন্দরের পূজারী মানুষের মনে,  

ভ্রমণের লিপ্সা ক্রমে বেড়েই চলে,

শ্রান্ত মন চায় নিজের মতন প্রকৃতিকে বুঝেনিতে। 


হিমালয় অতি শান্ত- বীর- ধীর- স্থির- 

আবার কখনো নির্মম- ভয়ঙ্কর।

হিমালয়ের ভয়ঙ্কর রূপও সুন্দর। 

সদা ঈশ্বরের মতন।

হিমালয় তাঁর  রাজ্যে সেই শ্রেষ্ঠ,

সেই একমাত্র পুরুষ-পুরুষোত্তম , 

এক প্রাণবন্ত প্রকৃতি- পৌরুষত্বের 

পরিপূর্ণ  প্রতিকৃতি অতি উত্তম। 


সমুদ্র, রত্নগর্ভা সদাই অশান্ত ,

চির  উদার সদা আনন্দ।

কিছুই রাখেনা অন্তরে। 

ফিরায়ে দেয় ঢেউয়ের সাথে। 

      <--আদ্যনাথ রায় চৌধুরী-->


====================================

76/2>পাহাড়ে ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য :,----  

কিছু জেনেরখা ভালো, 


 কিছু ঔষধ অতি অবশ্যই সঙ্গে রাখতে হয়।

একটু কর্পূর সঙ্গে রাখলে খুব ভালো কারণ উচ্চতার কারনে শ্বাসকষ্ট হলে এটি কাজে আসতে পারে। হেঁটে ওঠার সময়ে 

বা ট্রেকিং করার সময়ে একটু কর্পূর রুমালে করে হাতে বেঁধে রাখলে ভালো, শ্বাসকষ্ট হলে এর গন্ধ শুঁকলে আরাম হবে। এছাড়া 

Homeopathy ওষুধ coca 30 ,আর সর্দি, জ্বর, বমি, মাথাব্যাথা, পেন কিলার, আ্যন্টিসেপ্টিক, ব্যান্ড এড, পেট খারাপ এর ওষুধ, ORS, জিওলিন সঙ্গে রাখা ভালো। মনে রাখবেন পাহাড়ি রাস্তায় বাস জার্নিতে মাথা ঘোরা বা বমি হতে পারে। 

পাহাড়ে হাটবার সময় 

 লজেন্স্, শুকনো খেজুর, কিসমিস বিশেষ উপকারী। পথে সকল সময়  পর্যাপ্ত খাবার জল সাথে রাখা উচিত। 

পাহাড়ে ওঠার সময় অবশ্যই একটা লাঠি কিনে নিতে হবে। পথে ওই লাঠিই সাহারা হবে।

নিজের পরিচয় পত্র সঙ্গে রাখতে হবে।

(আজ কাল তো সব সময়  অরিজিনাল আধার কার্ড ও তার বেশ কয়েকটি জেরক্স কপি সঙ্গে রাখতে হয়।)

 <--আদ্যনাথ রায় চৌধুরী-->

=======================

Wednesday, June 22, 2022

75>পরেশনাথ পাহাড় ও ছোটনাগপুর::---

 75>পরেশনাথ পাহাড়::-ও ছোটনাগপুর::----

1>পরেশনাথ পাহাড়::---

2>তোপ চাচীর ড্যাম:;---

3>পরেশনাথ যাত্রা::--

4>ছোটনাগপুর মালভূমি::--

=====================

1>পরেশনাথ পাহাড়::---

ধানবাদে থাকার সময় 1980 থেকে 1985 পর্যন্ত বহুবার গিয়েছি পরেশনাথ পাহাড়, তোপ চাচীর ড্যাম বা জলাধার (এই জলাধার থেকে কোন প্রকার পাম্প ছাড়াই সম্পুর্ন ধানবাদ টাউনে ও আসে পাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে জল সাপ্লাই হতো। কিন্তু বর্তমানে সেইভাবে জল আসে কিনা জানা নাই।

ধানবাদে থাকার সময় কারণে অকারণে  বহুবার গিয়েছি পরেশনাথ পাহাড়, কোন ধার্মিক চিন্তায় নয় শুধু ভালোলাগার কারণে, জায়গাটি সত্যি খুব সুন্দর। পাহাড় জঙ্গল সুন্দর পরিষ্কার পরিছন্ন রাস্থা। সত্যি এক সুন্দর মনোরম জায়গা। আমি বেশ কয়েকবার রাস্থা ধরে পাহাড়ে নাউঠে যেখানে রাস্থা নাই তেমন জায়গা দিয়ে পাহাড়ে উঠে ওপরের মন্দিরের উল্টো দিকে চূড়ার কাছে জঙ্গল পূর্ন জায়গায় গাছের নীচে  বসে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কাটিয়েছি । ওখানে বসে নীচের শহর- ইসরি ,তোপচাঁচির দৃশ্য মন প্রাণ ভোরে উপভোগ করতে খুব ভাল লাগত। 

2> তোপচাঁচির ড্যাম:;---

তোপচাঁচি লেক (যা ওয়াটার পাম্প নামে লোক বেশি চেনে) সুন্দর, চারিদিকে পাহাড়ে ঘেরা লেক বা বিশাল জলাশয় নির্জন গাছগাছালি ভরা মনোরম পরিবেশে এই লেক। নিকটতম  রেল স্টেশন গোমো যা নেতাজি সুভাষ চন্দ্র  স্টেশন নাম  দেওয়া হয়েছে । স্টেশন থেকে তোপচাঁচি ড্যাম ৬ কিলোমিটার।

বার বার দেখেছি গিরিডি ও ইসরীর জল-প্রপাত, এদের সৌন্দর্য্যের কারণে। 

 তোপচাঁচি লেকের সৌন্দর্য ভুলবার নয় । এখানকার নির্জন গাছগাছালি ভরা মনোরম পরিবেশে এই লেক। চারিদিকে পাহাড়ে ঘেরা সুন্দর, বিশাল জলাধার বা লেক। লেকটির মাঝখানে একটি ছোট দ্বীপের মতন খুব সুন্দর মনোরম স্থান। ঝাড়খণ্ডের ছোটনাগপুর মালভূমি, এই মালভূমি দাক্ষিণাত্য মালভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন একটি মালভূমি। এটি পূর্ব ভারতের পাঁচটি রাজ্য জুড়ে বিস্তৃত। এই রাজ্যগুলি হলো ঝাড়খণ্ড, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও ছত্তীসগঢ়। তবে এই মালভূমির বেশির ভাগ অংশ ঝাড়খণ্ড রাজ্যে অবস্থিত। ছোটনাগপুর মালভূমিকে ভারতের ‘খনিজ ভাণ্ডার’ বলা হয়। কারণ ভারতে উৎপাদিত বেশির ভাগ খনিজ এই মালভূমি অঞ্চল থেকে আহরণ করা হয়। এই মালভূমির সব থেকে উঁচু স্থানের নাম পরেশনাথ পাহাড়। এর উচ্চতা ১ হাজার ৩৫০ মিটার। যেটি পরেশ নাথ মন্দির আর জৈনদের বিশেষ ধার্মিক স্থান। এখানকার জৈন মন্দির গুলির সৌন্দর্য দেখবার মতন শ্বেতপাথরের কারুকার্য পরিপূর্ন মন্দির, কোলাহল মুক্ত শান্ত স্নিগ্ধ পরিবেশ। মনের, চোখের ও হৃদয়ের শান্তির ঠিকানা। মনকে একাগ্র করবার অপূর্ব স্থান। 

গিরিডি-ডুমরি, পথে  গিরিডি থেকে ২৬ কিমি, গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডের ডুমরি থেকে ১৬ কিমি দূরে বাঁ হাতে আরও ৪ কিমি গেলে মধুবন। এই মধুবন থেকে ৯ কিমি পাহাড়ি পথ পেরিয়ে ১৩৬৬ মি উঁচুতে জৈনতীর্থ ঝাড়খণ্ডের উচ্চতম পরেশনাথ পাহাড়। গহন বনের মাঝ দিয়ে পথ, চড়াই-এর আধিক্য, শেষ ৩ কিমিতে পেরোতে দুরূহ চড়াই।

ধানবাদ রেলওয়ে স্টেশনের  পরেই গোমো রেলওয়ে স্টেশন, এই গোম স্টেশন থেকে মাত্র ৬ কিমি পরেশনাথ।  

এখানে অনেক  ধর্মশালা আছে । মধুবনে শ্রীসম্মেত শিখর দিগম্বর জৈন ধর্মশালাকে ভর করে ১ কিমি জুড়ে দোকানপাট, ব্যাঙ্ক, ধর্মশালা। দিগম্বর ও শেতাম্বর জৈনদের ডজনখানেক ধর্মশালায় হাজার দেড়েক ঘরে যাত্রীবাসের সুন্দর ব্যবস্থা। 

23 তম জৈন তীর্থঙ্কর পার্শ্বনাথ স্বামী 100 বছর বয়সে শ্রাবণ মাসের শুক্লা অষ্টমীতে এই পাহাড়ে এসে দেহ রাখেন। সেই থেকে তারই নামে নাম হয়েছে পরেশনাথ । এই পাহাড়ে চব্বিশজন তীর্থঙ্করের মধ্যে বিশজন সমাধির মাধ্যমে মোক্ষলাভ করেছিলেন বলে জৈন মতে বিশ্বাস করা হয়। এছাড়া তেইশতম তীর্থঙ্কর পার্শ্বনাথ এই পাহাড়ে মোক্ষলাভ করেছিলেন বলে এই পাহাড়কে পার্শ্বনাথ বা পরেশনাথ পাহাড় নামে নামকরণ করা হয়। তবে, জৈন পুঁথিতে সম্মেত শিখর নামে সমধিক খ্যাত। তেমনই ২৪ জৈন তীর্থঙ্করের ২৩ জন মোক্ষলাভের তপস্যা করেন এই পরেশনাথে। পাহাড়ের অন্যতম আকর্ষণ পার্শ্বনাথ স্বামীর মন্দির। মন্দিরে পাথরের বুকে পায়ের ছাপ, দেবতার প্রতিভূ হয়ে পূজিত হচ্ছেন আজও। ৩০০ একর জায়গা জুড়ে হাজারিবাগ রেঞ্জের ২৪টি চূড়োয় মন্দির হয়েছে । প্রতিটিতেই পায়ের ছাপ তীর্থঙ্করদের। তবে জল মন্দিরে মূর্তিও রয়েছে তীর্থঙ্করদের। আর আছে পাহাড়ের প্রবেশ দ্বারে গৌতম স্বামীর সমাধি মন্দির জৈন তীর্থ পরেশনাথে। এই পার্শ্বনাথ থেকে বিকল্প পথ নেমেছে সীতানালায়। জনশ্রুতি এমনটাই যে বনবাসের পথে রামচন্দ্র সহ সীতাদেবী বিশ্রাম নেন এখানে। তীর্থযাত্রী আর ভ্রমণার্থী দুইয়ের কাছেই অতি পবিত্র ও মনোরম এই পরেশনাথ।

এই  ছোট নাগপুর মালভূমির উপর দিয়ে তিনটি প্রধান নদী বরাক নদী, দামোদর নদ, সুবর্ণরেখা নদী বয়ে গেছে। বরাক নদী হচ্ছে দক্ষিণ আসামের একটি প্রধান নদী এবং সুরমা-মেঘনা নদীর অংশ। এই নদী উৎপত্তি হয়েছে মণিপুর রাজ্যের পাহাড়ে। বদরপুরের কাছে এসে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে দুটি শাখায় বিভক্ত হয় এবং বাংলাদেশের সিলেটের সমভূমিতে এসে দুটি শাখা আবার মিলিত হয়েছে। এই মিলিত ধারা সাধারণভাবে বরাক নদী হলেও স্থানভেদে এটি কালনী, ভেড়ামোহনা, বলেশ্বর ও মেঘনা নামে পরিচিত।

__________________________________________


3>পরেশনাথ যাত্রা::---

পরেশনাথ পাহাড় ভ্রমন ও তীর্থ উভয়ের জন্যই বিশেষ প্রসিদ্ধ। 

শ্রাবণ মাসেই তীর্থযাত্রীর সংখ্যা সব চেয়ে বেশি হয় পরেশনাথে। কিন্তু ফাল্গুনে শীত শেষের নরম রোদ আর বসন্তের সৌন্দর্য আগুন লাগা পলাশ বনের সৌন্দর্য  একসঙ্গে উপভোগ করাতে করতে পাহাড়ে চরার মজাই আলাদা। মনে অনুভব হবে স্বর্গ সুখের আকাশ ছোঁয়ার আনন্দ। ফাল্গুনের আদর মাখা রোদের সাথে হিমেল হাওয়ার পরশ। ভোর রাতে একটু ঠান্ডা-ঠান্ডা আমেজ। অপূর্ব এক মোহ ময় মসৃন পাহাড়ি পথে শিশির মাখা হৈমন্তির স্নিগদ্ধ আঁচলে নিজেকে জড়িয়ে এগিয়ে চলা নীল আকাশের নীচে চড়াই পথ বেয়ে। আমাদের মনে প্রাণে বসন্ত মানেই বনে বনে নতুনের আগমন। বসন্ত মানেই নানান রঙের বাহার। বসন্ত মানেই মনের কথার সাথে রূপ কথা মিলিয়ে প্রাণ খুলে কিছু বলা এবং একাগ্র চিত্যে মন দিয়ে শোনা। 

পরেশনাথের পথে বার বার আমি একলাই চলেছি । এবার কিন্তু আমরা আটজন চলেছি পরেশ নাথের পথে। আমরা ধানবাদ থেকে গাড়ি ভাড়া করে তোপচাচী হয়ে পৌঁছে ছিলাম মধুবনে। এমনিতে পরেশ নাথ স্টেশন থেকে মধুবন মাত্র (25) পঁচিশ কিলো মিটার।  মধুবনই পরেশনাথ পাহাড়ে ওঠার শুরু স্থান। সেবার আমরা দলে আট জন  ছিলাম এক  ধর্মশালায়। এখানেই রাত টুকু কাটিয়ে ভোর থেকে শুরু  পাহাড়ে চড়া। মধুবনের বাজার বেশ জমজমাট। অনেকটা অঞ্চল জুড়ে ছড়ানো মার্কেটের মধ্যেই দোকানপাট, ব্যাংক, ধর্মশালা। এখানে দিগম্বর আর শ্বেতাম্বর ধর্মশালা মিলিয়ে অনেক ধর্মশালা আছে।  প্রত্যেক ধর্মশালার ভিতরে একটি করে জৈন মন্দির। জানা গেল শ্রাবণ মাসেই তীর্থযাত্রীর সংখ্যা সব চেয়ে বেশি হয় এখানে। 23তম জৈন তীর্থঙ্কর পার্শ্বনাথ। তিনি 100 বছর বয়সে শ্রাবণ মাসের শুক্লাষ্টমীতে এই পাহাড়েই এসে দেহ রাখেন। তাঁর নামানুসারে এই পাহাড়ের নাম হয় পরেশনাথ পাহাড়।তাছাড়া 24 জন তীর্থঙ্করের মধ্যে মহাবীর ছাড়া সকলেই তপস্যাস্থল হিসাবে এই পাহাড়কেই বেছে নেন। সেই জন্যই জৈনদের কাছে এই স্থানের মাহাত্ম্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে হ্যাঁ মনে রাখতে হবে যে রাতে সূর্যাস্তের পর কোন ধর্মশালাতেই কোন খাবার পাওয়া যায় না , কারণ জৈন ধর্মাবলম্বীরা সূর্যাস্তের পর আর আহার গ্রহন করেন না। ধর্মশালার বাইরে অবশ্য  খাবার পাওয়া যায় । তবে কোথাও কোন প্রকার আমিষ খাবার পাওয়া যায়না।

আমরা রাত টুকু বিশ্রাম করে ভোর চারটের সময় রওনা দিলাম, প্রত্যেকেই সঙ্গে করে একটু ছাতু মুড়ি ও পথ চলার সুবিধার জন্য একটি করে লাঠি নিয়েছিলাম সাথে। কারণ পাহাড়ি পথে চড়াই চড়তে ও নামতে এই লাঠি বেশ সহায়ক।আর পথে খিদে পেলে একটু ছাতু মুড়ি খাবারের ব্যবস্থা। ঠিক  কাশ্মীরের বৈষ্ণোদেবী দর্শনে যাবার মতন,  সকলের একটি করে লাঠি সঙ্গে রাখতে হয় চড়াই  থেকে উৎরাইএর পথে এই লাঠি বিশেষ সহায়ক হয়।

আমাদের যাত্রা হোল শুরু--

তখনো রাত্রির হালকা অন্ধকার,চারিদিক যেন কুয়াশায় ঢাকা আধো অন্ধকার। দুই একটি পাখি সবে ডাকতে শুরু করেছে, এমন মুহূর্তে আমরাও যাত্রীনিবাসের রুম ছেড়ে সোয়েটার মাফলার জড়িয়ে, কেউ কেউ নাক মুখ ঢাকা মাঙ্কি টুপি পরে বেরিয়ে পড়লাম পরেশ নাথ পাহাড়ের শীর্ষে পৌঁছবার মনবাসনা নিয়ে। সকলেই উথসাহে টগবগ করে ফুটছে। কুয়াশা ঘেরা ভোরের আধো অন্ধকারে চারিদিক এক রোমাঞ্চকর মোহময় পরিবেশ, ছিম ছাম এমন সুন্দর পরিবেশে সকলেই প্রায় আনন্দে লাফিয়ে উঠছে। আমরা ছাড়া আরও কিছু যাত্রীদল চলেছেন । ওনাদের দেখে মনেহল ওনারা সকলে  তীর্থযাত্রয় চলেছেন। সেই অন্ধকার পাহাড়ি পথে সঙ্গী হলাম আমরাও। ধীরে ধীরে  লোকালয় থেকে দূরে চলে যাচ্ছি নির্জন পাহাড়ি পথে জঙ্গলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে। সুন্দর সিমেন্ট বাঁধানো  চওড়া ঝক ঝকে পথ। পথ ক্রমশ চড়াই হচ্ছে। আকাশে জ্বল জ্বল করছে উজ্জ্বল শুকতারাটা এমন বড় দেখাচ্ছে যে মনে হচ্ছে আকাশের গায়ে কেউ ঝুলিয়ে দিয়েছে  তারা টিকে । বাতাসে শীতল আমেজ। রাস্তার দু’ধারে পাতাঝরা অসংখ্য গাছ। তাদের নিবিড় উপস্থিতি আধো-অন্ধকারে সব কিছুই  স্পষ্ট অনুভূত হচ্ছে। অসংখ্য পাখিদের কোলা হল যেন ক্রমশই বেড়ে চলেছে। ঠান্ডা আমেজে চড়াই ভাঙতে গায়ে ঘাম জমছে । বোঝাই যাচ্ছে কঠিন চড়াই পথ। এভাবেই আমরা পৌঁছে গেলামকা লিকুণ্ড মন্দিরের কাছে। এবার একটু বিশ্রাম নিতে বসলাম পথের ধারে সিমেন্টের বাঁধানো উচু জায়গাতে।কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে  আবার চলা। 1366 মিটার উচ্চতায় ঝাড়খণ্ডের সর্বোচ্চ পাহাড় এই পরেশনাথ। যার সর্বোচ্চ শৃঙ্গে পৌঁছোতে চলতে হয় 9 কিলোমিটার পথ।আর তীর্থঙ্করদের সমস্ত মন্দিরগুলি স্পর্শ করতে আরও বাড়তি প্রায় 9 কিমি পথ চলতে হয়। অতএব সর্বমোট 27 কিমি পাহাড়ি পথ পরিক্রমণ। ঘন্টার হিসাবে প্রায় দশ-বারো ঘন্টার পথ । সেই কারণেই   এই ভোররাতে পথ চলা শুরু। কারণ আবার ফিতেও হবে ওই পথে। আমরা চড়াই পথেই দেখেছিলাম সূর্যোদয়। চারি দিকে রং ছড়িয়ে অপূর্ব সেই সূর্যদয়। সূর্যের কিরণের স্পর্শে  অন্ধকার জঙ্গলে ফিরে এলো  হরিৎবর্ণ। সবুজ জড়ানো পাহাড়শ্রেণি দেখা যাচ্ছিল। জঙ্গল  চিরে  আঁকাবাঁকা পথ। কখনও বা চড়াই উতরাই-এর পথ। চোখের সামনে পাহাড়ের চড়াই পথ । আরও দূরে সুন্দর রঙিন  নীল আকাশ। যেন মনে হচ্ছে মহাপ্রস্থানের পথে চলেছি। চড়াই পথে বেশ খানিকটা চলার পর দেখা মিলল  পরেশনাথ মন্দিরের। দূর থেকে মনে হচ্ছে নীল আকাশের গায়ে সাদা রঙের  ছবি আঁকা একটা মন্দির এঁকে দিয়েছে কেউ। অপূর্ব লাগছিল সে দৃশ্য দেখতে। চলার পথে মাঝে মাঝেই দেখা যাচ্ছিল দিগম্বর সাধু, কেউ আমাদের মতন চড়াই চড়ে চলেছেন, কেউ আবার ঢালু পথে বেয়ে নীচে নামছেন।তবে ওনাদের চলা এতো দ্রুত ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ যে এই দেখলাম আমাদের পেছনে আসছেন কিন্তু প্রচন্ড দ্রুত গতিতে আমাদের পার করে এগিয়ে চলে যাচ্ছেন। মনে হয় ওনারা যেন সমতলেই হেটে চলেছেন। চড়াই বা উৎরাই কোন পথই ওনাদের চলার গতি শ্লথ হয় না। আর ডাইনে বাঁয়ে কোন দিকেই ওনাদের নজর নাই। পথে মহিলারা কেউ দৌড়ে গিয়ে প্রণাম করতে চাইলে ঠিক পাশ কাটিয়ে চলে যান, যেন কিছুই দেখলেন না। পায়ে চলা কংক্রিটের পথটা কিন্তু যথেষ্ট চওড়া। দেখলাম কেউ কেউ ডুলিতে চড়েও যাচ্ছেন। অশক্ত, অসমর্থ মানুষের ডুলিযাত্রির দলও কম নাই। এখানে ডুলি আবার দু’ধরনের। অপেক্ষাকৃত হালকা যাত্রীদের দু’জনের ডুলি। আর ভারী মানুষদের জন্য চারজনের ডুলি। কেদার বা যমুনোত্রীর মতো এখানেও মাঝপথে ডুলিওয়ালারা পীড়াপীড়ি করছেন যাত্রীদের। তবে এখানে ঘোড়া বা খচ্চরের ব্যাবসা নাই বললেই চলে আর সেই কারনে রাস্তাঘাটও অপরিচ্ছন্ন নয়।জঙ্গলের পথ অজানা পাখির দেখা মিলছে  পথে। পথে নানা রঙের অজস্র প্রজাপতি । পথের পাশে ডাইনে বাঁয়ে অজস্র  কাঞ্চন, শিমুল ও পলাশ ফুলের যে কী রূপ সে কথা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। অরণ্যপ্রকৃতির রূপে আমরা তখন পাগল। এই রূপের পরশ পেতেই চলার পথে থামতে হচ্ছিল বার বার। পথে জায়গায় জায়গায়  হনুমান দেখা যাচ্ছিল। ওরা কাছে আসছে কিছু খাবার পবার লোভে। অনেকেই দেখলাম বাদাম ছোলা দিচ্ছে হনুমান দের। ওরা বেশ আদর করে খাচ্ছে।  হঠাৎ দেখলাম কেউ কিছু ফল দিল ওদের, ফল দেখেই সব হনুমান যেন দৌড়ে এসে যে ফল দিচ্ছিলো তাকে ঘিরে ধরলো। কিছু হনুমান অন্য মানুষদেরও জমা প্যান্ট শাড়ি ধরে টানা টানি শুরু করে দিলো। সে এক বিষণ হুলুস্থুল ব্যাপার, হনুমান গুলি কাউকেই ছাড়ছে না কাউকে এগোতেও দিচ্ছেনা। কোথাথেকে যুটেগেল প্রচুর হনুমান। তখন যারকাছে যা ছিলো খাবার সবাই সব দিয়ে দিলো । ওদের দিকে লাঠি নিয়ে এগিয়ে গেলে ওরা ভয় তো পাইনা উল্টে আরো তেরে মুখে ভেংচে বিকট ভাবে দাঁত বের করে এগিয়ে আসে তারা করে। একটি হনুমান তো একটি ছেলেকে মারলো এক থাপ্পর । দেখলাম ছেলেটির গেলে ভীষণ ভাবে আঙুলের দাগ বসে গেছে। আমরা একটু দূরে দাঁড়িয়ে ওই আশায় মানুষগুলির অসহায়তা এবং হনুমান গুলির অকথ্য আচরন দেখলাম । আমাদের কিছুই করার ছিলনা,আমরাও একরকম নিরুপায়। এমনি করে আধাঘন্টা পার হবার পরে হঠাৎ একজন দিগম্বর সাধু এসে হাজির হলেন , আর অদ্ভুত ঘটনা ঘটে গেল। সাধু জী আসতেই সব হনুমান মুহূর্তের মধ্যে কোথায় যে অদৃশ্য হয়ে গেল , মনেহল কোন ভোজবাজির খেলা দেখলাম। সাধুজী যে কোনদিক থেকে এসেছিলেন সেটা আমরা কেউই লক্ষ্য করতে পারিনি। এছাড়াও সাধু জী আসলেন এবং চলে গেলেন , উনি কিন্তু কোন কথা না ইশারা বা কিছুই করেন নি ,তথাপি হনুমান গুলি যেন ওনাকে দেখেই সব একসাথে পালিয়ে গেল। আর সাধুজী নিজের মতন চলে গেলেন,যেন কোথাও কিছুই ঘটেনি। আমরাও সকলে এমন ঘটনা ও হনুমানের এমন আচরণে হতবাক হয়ে কিছুসম়য় স্তম্ভিত হয়ে একে অন্যের দিকে তাকিয়ে ঘটনার বিশ্লেষণ ও অনুভব করতে চেষ্টা করছিলাম। এমনি ভাবে কিছুসম়য় কেটেজাবার পরে। আবার আমরা হাঁটতে শুরু করলাম। রাস্তায় একজন ভিখারী দেখলাম কম্বল গায়ে দিয়ে বসে ছিল, সেই ভিখারিটি বললো হনুমানের খাবার দিতে গেলে ওরা ওদের পেট না ভরা পর্যন্ত অমনি করে ওরা জোরকরে খাবার ছিনিয়ে নেয়। কিন্তু কোন সাধুদের সামনে ওরা কোন প্রকার কোন উৎপাত করেনা। ওরা সাধুদের ভীষণ সম্মান ও ভক্তি করে। আমি বোললাম এই ফাঁকা জায়গায় একলা বসে ভিক্ষা করছো তা হনুমান তোমাদের কিছু বলেনা, ভিক্ষুক টি যা বললো সেকথা শুনে নিজের কানে শোনা কথা বিশ্বাস করতে মন চাইছেনা। ভিক্ষুক টি বললেন "যে হনুমানেরা ওনাদের কোন ক্ষতি তো করেই না বরঞ্চ কখনো কখনো ভীষণ উপকার করে। যেমন যদি কোনদিন ভিক্ষা করে কিছু না পাই বা কোন দর্শনার্থী এদিকে না এলে বা আমরা যে দিন কোন দিন কিছু খাবারও জোটাতে না পারি ,সেটা কিন্তু ওরা ঠিক বুঝতে পারে এবং তেমন সময় কখনো কখনো কলা, আপেল বা কোন ফল ওরা আমাকে দিয়ে যায় ।"

পথে বেশ কয়েকটি জায়গাতে চায়ের দোকান ছিল । আমরা চা খাওয়া ও একটু জিরিয়ে নেবার জন্য ওদের খাটিয়াতে বসে  জিরিয়ে নিয়ে আবার চলা শুরু করছিলাম। এভাবে চলতে চলতে বেলা দশটা নাগাদ আমরা চোপতাকুণ্ড নদীর সন্নিকটে উপস্থিত হলাম। এখানে আমরা সামান্য ছাতু মুড়ি খেয়ে একটু বিশ্রাম করে আবার চলতে শুরু করে ছিলাম। এখানকার জল খুব  মিষ্টি আমরা সকলেই পেটভরে জল খেয়েছিলাম। তীর্থযাত্রীদের অনেকেই পরিশ্রান্ত হয়ে এখানে বিশ্রাম নিচ্ছেন। বিশ্রামের পর, আবার পথ চলা। চলতে চলতে এবার পৌঁছলাম একটা বড়ো পাহাড়ি ঝুল বারান্দার মতন জায়গায় ।  আবার এখান থেকে একাধিক তীর্থঙ্করদের মন্দির যাওয়ার জংশন পথ এটি । এখানে অনেকটা জায়গা জুড়ে ছোটো বড়ো মিলিয়ে বেশ কয়েকটা মন্দির। এখান থেকে সিঁড়ি বেয়ে  একটু নীচেই জলমন্দির।  একাধিক তীর্থঙ্কর মুর্তি নিয়েই জলমন্দির। এখানে উল্লেখ্য, পরেশনাথ পাহাড়ে অন্যান্য ২৪টি মন্দিরই বিগ্রহহীন। সকল মন্দিরে পাথরখোদিত তীর্থঙ্করদের পদচিহ্নই আছে শুরু । আরও দুই তীর্থঙ্করের নামাঙ্কিত মন্দির দেখতে বেশ খানিকটা করে চড়াই চড়তে হয়েছিল। রাস্তায় দেখলাম, বেশ কিছু  সেচ্ছাশেবি পথে  প্লাস্টিকও নোংরা আবর্জনা কুড়োনোর  কাজে ব্যস্ত। তার পরে আবার চড়াই চড়ে এবার সর্বোচ্চ চুড়াতেই পরেশনাথের মেন মন্দির। এই পথ কিছুটা  পাথুরে পথ, বাকিটুকু সুন্দর মসৃণ পথ। চলতি পথে গাছপালার ফাঁক  দিয়ে দেখা যাচ্ছিল শীর্ষ মন্দির। মন্দিরের কাছে পৌঁছতেই দেখলাম বিশাল  ও সুন্দর মন্দির । নীল আকাশের বুকে শ্বেতশুভ্র মন্দির। যেন মেঘের মতো ভাসছে। এই দৃশ্য দেখে আমরা অভিভূত। আনন্দে কথাই সরছে না মুখ দিয়ে। তারপরে আবার উৎরাই পথে শেষপর্যন্ত চলতে চলতে সন্ধ্যায় এসে পৌঁছেছি  পরেশনাথ পাহাড়ের পাদদেশে মধুবনে।  সিঁড়ির দুদিকে বহু দোকানপাট। বিকিকিনির তালিকায় পুজোর ডালা থেকে খাদ্যসামগ্রী– বাদ নেই কিছুই। দোকানের সারি শেষ হয়েছে খাড়াই সিঁড়ির সামনে। সাজানো কংক্রিটের ধাপ শেষে 23 তম তীর্থঙ্করের মন্দির। না আর কোনও কষ্ট নেই। সিঁড়ি ভাঙছি আর ভাবছি এইসব দু’চোখ ভরে দেখতেই তো এত কষ্ট করে আসা।

মন্দির চত্বর থেকে দু’চোখ ভরে দেখলাম পাহাড়ি প্রকৃতি। শেষে প্রবেশ করলাম মন্দিরে। মন্দির অভ্যন্তরে ফুল ও ধূপের সৌরভ মনে এনে দিল এক পরম শান্তি। এ মন্দিরও বিগ্রহহীন। বদলে পাথরের বেদিতে বিরাজমান কষ্টি পাথরে খোদিত পরেশনাথ স্বামীর চরণচিহ্ন। মোমবাতির ক্ষীণ আলোয় এক অতি সুন্দর শান্ত পরিবেশে আমরা বসে রইলাম কিছু সময়। 

এবার আমাদের ফেরার পালা । ফেরার পথে পরেশনাথ স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে ধনবাদে ফিরলাম।

========================

4>ছোটনাগপুর মালভূমির বৈশিষ্ট্য

দাক্ষিণাত্য মালভূমির উত্তর পূর্বে অবস্থিত ছোটনাগপুর মালভূমি ভারতীয় উপদ্বীপীয় মালভূমির অন্তর্গত। প্রায় সমগ্র ঝাড়খন্ড রাজ্য এবং পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলার অংশবিশেষ নিয়ে এই মালভূমি গঠিত। কর্কটক্রান্তি রেখা ছোটনাগপুর মালভূমির প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে বিস্তৃত হয়েছে। এই ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চলে ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু, নদনদী, কৃষিকাজ, খনিজ সম্পদ প্রভৃতি বিভিন্ন দিক দিয়ে নানা রূপ বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। নিম্নে ছোটনাগপুর মালভূমির বৈশিষ্ট্য গুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো -

1) বহু বছর ধরে বিভিন্ন নদী দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত হয় ছোটনাগপুর মালভূমি বর্তমানে ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি অঞ্চলে পরিণত হয়েছে অর্থাৎ এটি একটি ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি।

2) উপদ্বীপীয় মালভূমির অংশ।  ছোটনাগপুর মালভূমি মূলত আর্কিয়ান যুগের গ্রানাইট ও নিস শিলা দ্বারা গঠিত।

3) ভূ-প্রাকৃতিক তারতম্য অনুসারে ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চলকে রাঁচি মালভূমি, হাজারীবাগ মালভূমি, কোডার্মা মালভূমি,  বাগমুন্ডি উচ্চভূমি, রাজমহল পাহাড় প্রভৃতি অঞ্চলে ভাগ করা হয়।

4) হাজারীবাগ মালভূমিতে অবস্থিত পরেশনাথ পাহাড় ছোটনাগপুর মালভূমির সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।

5) সমগ্র অঞ্চলটি পশ্চিম থেকে পূর্ব ও দক্ষিণ পূর্বে ঢালু।

6) ছোটনাগপুর অঞ্চলের প্রধান নদী হল দামোদর, সুবর্ণরেখা। এছাড়া এ অঞ্চলে প্রবাহিত নদীগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো অজয়, ময়ূরাক্ষী, বরাকর প্রভৃতি।

7) ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চলের মাটি তেমন একটা উর্বর নয়। এখানকার অধিকাংশ অঞ্চলে ল্যাটেরাইট ও লোহিত মাটির প্রাধান্য দেখা যায়।

8) এখানে মৌসুমী পর্ণমোচী উদ্ভিদের প্রাধান্য দেখা যায়। যেমন - শাল, শিমুল, পলাশ, মহুয়া, সেগুন প্রভৃতি।

9) প্রায় সব ধরনের ধাতব খনিজ সম্পদ যেমন কয়লা, আকরিক লোহা, তামা, বক্সাইট, চুনাপাথর, ইউরেনিয়াম প্রভৃতি অঞ্চলে পাওয়া যায় বলে, ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চল কে ভারতের খনিজ ভান্ডার বলা হয়।

10) খনিজ সম্পদের প্রাচুর্য এই অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের ভারী শিল্পের বিকাশে সহায়তা করেছে।

----------============≠=============================

74>শহর দেরাদুন;; ও হরিদ্বার || ---

 74>|| শহর দেরাদুন;;---ও++হরিদ্বার ||

দেরাদুন (হিন্দি ভাষায় देहरादून) ভারতের উত্তরভাগে অবস্থিত উত্তরাখণ্ড রাজ্যের রাজধানী শহর। 

স্থানাঙ্ক: ৩০.৩১৮° উত্তর ৭৮.০২৯° পূর্ব

দেরাদুন শহরটি একটি পাহাড়ি অবকাশযাপন কেন্দ্র। ভারতের সড়ক ও রেলব্যবস্থাগুলির সবচেয়ে উত্তর প্রান্তে অবস্থিত শহরগুলির একটি হল দেরাদুন। চা প্রক্রিয়াজাতকরণ এ শহরের প্রধান শিল্প। এছাড়া বিভিন্ন প্রযুক্তি ও সামরিক অস্ত্রশস্ত্রও প্রস্তুতের কারখানাও এখানে রয়েছে। দেরাদুনে ভারতীয় জরিপ সংস্থা ও বন বিভাগের প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। এছাড়া এখানে বন গবেষণা ইন্সটিটিউট, প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ পরীক্ষাগার, ভারতীয় সামরিক একাডেমি, রাষ্ট্রীয় ভারতীয় সামরিক মহাবিদ্যালয়, হিমালয় ভূবিজ্ঞান বিষয়ক ওয়াদিয়া ইন্সটিটিউট এবং আরও বেশ কিছু শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান অবস্থিত।

শহরটি রাজ্যের উত্তর-পশ্চিম অংশে গাড়োয়াল বিভাগে হিমালয় পর্বতমালার পাদদেশে সমুদ্রসমতল থেকে প্রায় ৬৭০ মিটার উচ্চতায়, ভারতের রাজধানী শহর নয়াদিল্লি থেকে ২৩৬ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। দেরাদুন শহর ঘন বসতি পূর্ন শহর। এখানে  মৌসুমী বায়ুর কারণে বর্ষাকালে প্রচুর  বৃষ্টিপাত হয়। গ্রীষ্মকালে কদাচিৎ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায় । স্থানীয় লোকেরা মূলত গাড়োয়ালি হিন্দি ভাষাতে কথা বলে।

শহরটিতে  বার বার নানান  বহিরাগত গোষ্ঠী আক্রমণ চালায়। এদের মধ্যে সর্বশেষ গোষ্ঠীটি ছিল নেপালি গুর্খা সৈন্যের দল। তবে সর্ব শেষে  অঞ্চলটি ব্রিটিশদের করায়ত্ত হয়। ব্রিটিশ রাজের শাসনামলে এর নাম ছিল দেরা। ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতা লাভের পর শহরটি উত্তর প্রদেশ নামক নবগঠিত রাজ্যের অঙ্গীভূত হয়। ২০০০ সালে উত্তর প্রদেশের উত্তর অংশটিকে বিচ্ছিন্ন করে উত্তরাখণ্ড রাজ্যটি প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং সেসময়ই দেরাদুনকে নতুন রাজ্যটির রাজধানীর মর্যাদা দেওয়া হয়।

 এখানে দর্শনীয় স্থান গুলি ----

আসান নদীর তীরে অবস্থিত তপকেশ্বর শিবমন্দির ও এর পবিত্র গুহা, স্নান করার প্রাকৃতিক পুকুরসমৃদ্ধ ডাকাতের গুহা বা গুছুপানি এবং সহস্রধারা জলপ্রপাত (গন্ধকযুক্ত পানি) কিছু আকর্ষণীয় স্থান। গুছুপানি গুহার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত মালসি হরিণ উদ্যানে সাধারণ হরিণ ও ভারতীয় অ্যান্টিলোপ হরিণ চরে বেড়ায়, এলাকাটি বনভোজনের জন্য জনপ্রিয়। শহরের কেন্দ্রে ছয়পার্শ্ববিশিষ্ট একটি ঘড়ির মিনার আছে, যার নাম ঘণ্টাঘর। শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমভাগে আছে ব্যস্ত পল্টন বাজার। পূর্বে আছে গুরুদুয়ারা নানাকসার নামের শিখ মন্দির, যার সাদা ও সোনালি গম্বুজগুলি অত্যন্ত কারুকার্যময়। দক্ষিণ-পশ্চিমে ক্লেমেন্ট টাউন এলাকাতে মিন্ডরোলিং মঠ নামের একটি তিব্বতি বৌদ্ধ ধর্মীয় কেন্দ্র আছে যার মহাস্তুপের মধ্যে অর্চনাস্থল ও ১০৩ ফুট উঁচু বুদ্ধের মূর্তি আছে। বন গবেষণা ইন্সটিটিউটে একটি বড় জাদুঘর আছে, যেখানে বনরোগ ও কাঠের উপর বিভিন্ন প্রদর্শনী আছে। ব্রিটিশ জরিপ পরিচালক ও ভূগোলবিদ জর্জ এভারেস্টের বাসভবন ও গবেষণাগারটিও পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়; জর্জ এভারেস্টের নামেই বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতটির নাম রাখা হয়েছে। আরও আছে রাজা জি বাঘ অভয়ারণ্য। শহরের কাছে উত্তর দিকে মাসুরি নামের আরেকটি পাহাড়ি লোকালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থকেন্দ্র। নিকটবর্তী ঔলি শহরে পাহাড়ি পদযাত্রা ও স্কি করার ব্যবস্থা আছে। এছাড়া হিন্দুদের তীর্থকেন্দ্র হরিদ্বার ও ঋষিকেশও দেরাদুনের কাছেই দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত। শহরটি থেকে উত্তরে হিন্দুদের পবিত্র ধর্মীয় কিছু লোকালয়ে যাওয়া যায়, যাদেরকে একত্রে "ছোটা চার ধাম" নামে ডাকা হয়। দেরাদুনে ব্রিটিশরা অনেক আফগান রাজাকে নির্বাসিত করেছিল বলে শহরটির সাথে আফগান রাজপরিবারের সম্পর্ক আছে।

             <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

==========================================================================


      || হরিদ্বার ||

                   <--আদ্যনাথ-->

হাওড়া থেকে দেরাদুন।

দেরাদুন থেকে ট্রেনে হরিদ্বার পৌঁছে গেলাম ভোর ভোরই। স্টেশন থেকে রিক্সা নিয়ে সোজা পৌঁছে গেলাম গেস্ট হাউজ।

চৌহান জি আগেই আমাদের জন্য বুক করে রেখে ছিলো গেস্ট হাউজ।

হরিদ্বার--

হরি শব্দের অর্থ "ভগবান বিষ্ণু"। 

সুতরাং, হরিদ্বার বলতে বোঝায় "ভগবান বিষ্ণুর কাছে প্রবেশের দ্বার"। 

অর্থাৎ ভগবান বিষ্ণুর কাছে পৌঁছবার দ্বার-  সেই কারণে এই স্থান হরিদ্বার। আবার এই হোল হরদ্বার অর্থাৎ ভগবান  "হর" অর্থাৎ শিব বা মহাদেবের দুয়ারে প্রবেশের দ্বার। অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ তীর্থযাত্রীর যাত্রা শুরু করার জন্য বিশিষ্ট জায়গা। এর থেকে, নাম হরিদ্বার বা হরদ্বার।

স্থানাঙ্ক: ২৯.৯৪৫° উত্তর ৭৮.১৬৩° পূর্ব

হরিদ্বার বা হরদ্বারকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে সপ্তপুরী নামে পরিচিত সাতটি পবিত্রতম স্থানের একটি হিসাবে বিবেচনা করা হয়। সমুদ্রমন্থনের অমৃতের বিন্দু, এই হরিদ্বারেও পড়েছিল, যেমন পড়েছিল,  উজ্জয়িনী, নাশিক এবং প্রয়াগরাজ (এলাহাবাদ)এতে। 

মহাজাগতিক পাখি গরুড় অমৃতের কলস বহন করার সময় দুর্ঘটনাক্রমে অমৃত ছড়িয়ে পড়েছিল। এটি কুম্ভমেলায় অভিব্যক্ত হয়েছে, যা প্রতি ১২ বছরে একবার হরিদ্বারে পালিত হয়। হরিদ্বার কুম্ভ মেলা চলাকালীন, লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রী, ভক্ত এবং পর্যটকরা মোক্ষ অর্জনের জন্য এবং তাদের স্খালন করার জন্য গঙ্গা নদীর তীরে ধর্মীয় স্নান করতে হরিদ্বারে জমায়েত হয়। 

ব্রহ্ম কুণ্ড হচ্ছে সেই জায়গা, যেখানে অমৃত পড়েছিল। এটি হর কি পৌরিতে অবস্থিত যার আক্ষরিক অর্থে, "প্রভুর পদবিন্যাস" এবং এই "হর কি পৌরি" হরিদ্বারের সবচেয়ে পবিত্র ঘাট হিসাবে বিবেচিত হয়। এটি কাঁওয়ার তীর্থযাত্রার প্রাথমিক কেন্দ্রও, যেখান থেকে লক্ষ লক্ষ অংশগ্রহণকারী গঙ্গা থেকে পবিত্র জল সংগ্রহ করে এবং শত শত মাইল বয়ে নিয়ে গিয়ে, শিব মন্দিরগুলিতে নৈবেদ্য হিসাবে দেয়।

ভারতের উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বার জেলার একটি প্রাচীন শহর এবং পৌরসভা। কিংবদন্তি অনুযায়ী, এখানেই দেবী গঙ্গা ভগবান শিবের জটা  থেকে মুক্তি পেয়ে পৃথিবীতে নেমেছিলেন। গঙ্গোত্রী হিমবাহের প্রান্তে গোমুখ থেকে উৎপন্ন হয়ে, উৎস থেকে 253 কিলোমিটার বা (157 মাইল)বয়ে চলে, হরিদ্বারে প্রথমবারের জন্য সিন্ধু-গাঙ্গেয় সমভূমিতে প্রবেশ করে। যা থেকে এই শহরটির প্রাচীন নাম হয়েছে গঙ্গাদ্বার। একেই আবার কপিল স্থান, গঙ্গাদ্বার এবং মায়াপুরী নামে বলা হয়েছে। 

এ ছাড়াও এই অঞ্চলটি চারধাম (উত্তরাখণ্ড ভ্রমনের চারটি মূল স্থান যেমন, বদ্রীনাথ, কেদারনাথ, গঙ্গোত্রী এবং যমুনোত্রি) ভ্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত।

এই স্থানটিকে যথাক্রমে হরদ্বার এবং হরিদ্বার বলে পৃথকভাবে ডাকে, কারণ হর হলেন শিব এবং হরি হলেন বিষ্ণু। মূল গঙ্গা নদী, যা এখানে 'নীল ধর' (বাম দিকে) এবং গঙ্গা খাল (ডানদিকে) নামে পরিচিত, হরিদ্বারের মধ্য দিয়ে বয়ে যাচ্ছে।

চারধামের মধ্যে একটি বদ্রীনাথ ধামে পৌঁছানোর জন্য, যেখানে ভগবান বিষ্ণুর মন্দির আছে, হরিদ্বার তীর্থযাত্রীর যাত্রা শুরু করার জন্য বিশিষ্ট জায়গা। এর থেকেই, নাম হরিদ্বার।

হরিদ্বার ভ্রমণ মানেই গঙ্গার ঘাটের সন্ধ্যারতি। দেশ বিদেশ থেকে মানুষ হরিদ্ধার আসে খরস্রোতা কনকনে ঠান্ডা গঙ্গায় ডুব দিতে। তাতে নাকি সব পাপ ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায়। 

এখান কার সন্ধ্যারতি,সন্ধে নামলেই শয়ে শয়ে প্রদীপ জলে ওঠে। গঙ্গোত্রীর গোমুখ  থেকে সদ্য সমতলে  নেমেছে গঙ্গা। এখানে সমতল  মানেই হরিদ্বারে নেমেছে গঙ্গা।

তাই যেমন স্বচ্ছ্ব জল তেমনই ঠান্ডা। গঙ্গার পাড় ধরে বাঁধা রয়েছে লোহার শিকল। স্নান করতে হলে সেই শিকলের সাহায্য নিতেই হবে। না হলে স্রোত যে কোনও সময় ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে। কখন যে জল বেড়ে স্রোত দ্বিগুণ হবে কেউ জানে না। তাই নিরাপত্তার কথা ভেবে এই শিকলের ব্যবস্থা। তবে স্নান করতে না চাইলে ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে খরস্রোতা গঙ্গাকে মন ভরে দেখা যায় সারাক্ষণ। সন্ধে নামলে শুরু হয় গঙ্গারতি। গঙ্গাপূজো। হর কি পাউরি ঘাটে তখন নেমে আসে এক টুকরো স্বর্গ।

হরিদ্বারে  অনেক মন্দির । তথাপি সকল জায়গাতেই বেশ  ভিড়। এখানে বিকেল হলেই গোটা হরিদ্বার হাজির হয় গঙ্গার ঘাটে। হালকা অন্ধকারেই শুরু হত আরতি। বিশাল বিশাল প্রদীপ নিয়ে কাসর-ঘণ্টা বাজিয়ে চলে সেই আরতি। যে দৃশ্য মুগ্ধ হয়ে দেখার মতো। এই আরতি সকলে প্রিয় মনে হয় প্রদীপের আলো অন্য এক জগতে নিয়ে যায়।

পরের দিন সকালেই কঠিন সিঁড়ি ভেঙে পৌঁছে গেলাম মনসাদেবী ও চন্ডিদেবীর মন্দিরে। পাহাড়ের মাথায় এই মন্দিরে থেকে  অনেকটা নিচে হরিদ্বার শহরকে দেখতে বেশ সুন্দর লাগে।

পরের দিন পৌঁছে গেলাম  ঋষিকেশ  খুব সকাল সকাল বেরিয়ে  সন্ধ্যায় ফিরে আসলাম।

 ঋষিকেশ বেশ ফাঁকা ও লোক জনও অনেক কম । পাহাড়ের গা বেয়ে বয়ে চলেছে খরস্রোতা গঙ্গা। এখানে নিয়মিত র‍্যাফটিং হয়। আর এখানের সব থেকে আকর্ষনীয় বস্তু হল লক্ষ্মণঝুলা। গঙ্গার উপর এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ের মাঝে 450  ফুট লম্বা ঝুলন্ত এই ব্রিজ। নদী থেকে 70 ফুট উঁচুতে।

1929 সালে এই ব্রিজ খুলে দেওয়া হয়েছিল সাধারণের জন্য। কথিত আছে, রাম ও লক্ষ্মণ এই পথেই গঙ্গা পাড় করেছিলেন এখন যেখানে এই ব্রিজ রয়েছে। পাশেই রয়েছে রামঝুলাও। মন্দিরপ্রেমীদের জন্য এখানেও রয়েছে প্রচুর বিকল্প। রাতে আলোয় যখন সেজে ওঠে লক্ষ্মণঝুলা তখন অপূর্ব এক স্বর্গীয় রূপ দেখা যায়। এখানেও গঙ্গারতি দেখা যেতে পারে। সেই দৃশ্যও মন ছুঁয়ে যায়। 

পরের দিন আমরা ফিরে আসলাম কোলকাতায়।

    <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

=========================




Friday, June 10, 2022

73>গাড়োয়াল ভ্রমণ::-5খণ্ডে::-- ( 1--5 )=08/07/1985 to 23/07/1985 ★★

 

 73>গাড়োয়াল ভ্রমণ::-5খণ্ডে::---  ( 1--5 )★★  

(((বিঃ দ্রঃ :::---শহর দেরাদুন :::----

দেরাদুন (হিন্দি ভাষায় देहरादून) ভারতের উত্তরভাগে অবস্থিত উত্তরাখণ্ড রাজ্যের রাজধানী শহর। শহরটি রাজ্যের উত্তর-পশ্চিম অংশে গাড়োয়াল বিভাগে হিমালয় পর্বতমালার পাদদেশে সমুদ্রসমতল থেকে প্রায় ৬৭০ মিটার উচ্চতায়, ভারতের রাজধানী শহর নয়াদিল্লি থেকে ২৩৬ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। মূল দেরাদুন শহরে প্রায় ৫ লক্ষ ৭৮ হাজার লোক এবং বৃহত্তর মহানগর এলাকাতে প্রায় ৭ লক্ষ ১৪ হাজার লোকের বাস। 

জলবায়ু আর্দ্র ক্রান্তীয় ধরনের। মৌসুমী বায়ুর কারণে এখানে বর্ষাকালে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়। গ্রীষ্মকালে কদাচিৎ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে। স্থানীয় লোকেরা মূলত গাড়োয়ালি হিন্দি ভাষাতে কথা বলে।

স্থানাঙ্ক: ৩০.৩১৮° উত্তর ৭৮.০২৯° পূর্ব

ধর্মদ্রোহী শিখ গুরু রাম রায়কে পাঞ্জাব থেকে বহিস্কার করার পর তিনি উত্তরাখণ্ডে এসে একটি মন্দির স্থাপন করেন এবং ফলে দেরাদুন লোকালয়টি ১৬৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮শ শতকে অঞ্চলটিতে একের পর এক বহিরাগত গোষ্ঠী আক্রমণ চালায়। এদের মধ্যে সর্বশেষ গোষ্ঠীটি ছিল নেপালি গুর্খা সৈন্যের দল। ১৮১৬ সালে গুর্খা যুদ্ধের অবসান ঘটলে অঞ্চলটি ব্রিটিশদের করায়ত্ত হয়। ব্রিটিশ রাজের শাসনামলে এর নাম ছিল দেরা। ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতা লাভের পর শহরটি উত্তর প্রদেশ নামক নবগঠিত রাজ্যের অঙ্গীভূত হয়। ২০০০ সালে উত্তর প্রদেশের উত্তর অংশটিকে বিচ্ছিন্ন করে উত্তরাখণ্ড রাজ্যটি প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং সেসময়ই দেরাদুনকে নতুন রাজ্যটির রাজধানীর মর্যাদা দেওয়া হয়। দেরাদুনের রাজধানী মর্যাদাটি ভবিষ্যতে রদ করে দেওয়ার পরিকল্পনা আছে। বর্তমানে গাড়োয়াল ও কুমায়ুন বিভাগের মধ্যবর্তী স্থানে রাজ্যের কেন্দ্রভাগে অবস্থিত গৈরসৈন নামের আরেকটি শহরকে উত্তরাখণ্ড রাজ্যের স্থায়ী রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।

মেঘাচ্ছন্ন দিনে দেরাদুনের দৃশ্য

দেরাদুন শহরটি একটি পাহাড়ি অবকাশযাপন কেন্দ্র। ভারতের সড়ক ও রেলব্যবস্থাগুলির সবচেয়ে উত্তর প্রান্তে অবস্থিত শহরগুলির একটি হল দেরাদুন। চা প্রক্রিয়াজাতকরণ এ শহরের প্রধান শিল্প। এছাড়া বিভিন্ন প্রযুক্তি ও সামরিক অস্ত্রশস্ত্রও প্রস্তুতের কারখানাও এখানে রয়েছে। দেরাদুনে ভারতীয় জরিপ সংস্থা ও বন বিভাগের প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। এছাড়া এখানে বন গবেষণা ইন্সটিটিউট, প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ পরীক্ষাগার, ভারতীয় সামরিক একাডেমি, রাষ্ট্রীয় ভারতীয় সামরিক মহাবিদ্যালয়, হিমালয় ভূবিজ্ঞান বিষয়ক ওয়াদিয়া ইন্সটিটিউট এবং আরও বেশ কিছু শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান অবস্থিত।

পর্যটকদের জন্য উদ্ভিদ উদ্যান, 

আসান নদীর তীরে অবস্থিত তপকেশ্বর শিবমন্দির ও এর পবিত্র গুহা, স্নান করার প্রাকৃতিক পুকুরসমৃদ্ধ ডাকাতের গুহা বা গুছুপানি এবং সহস্রধারা জলপ্রপাত (গন্ধকযুক্ত পানি) কিছু আকর্ষণীয় স্থান। গুছুপানি গুহার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত মালসি হরিণ উদ্যানে সাধারণ হরিণ ও ভারতীয় অ্যান্টিলোপ হরিণ চরে বেড়ায়, এলাকাটি বনভোজনের জন্য জনপ্রিয়। শহরের কেন্দ্রে ছয়পার্শ্ববিশিষ্ট একটি ঘড়ির মিনার আছে, যার নাম ঘণ্টাঘর। শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমভাগে আছে ব্যস্ত পল্টন বাজার। পূর্বে আছে গুরুদুয়ারা নানাকসার নামের শিখ মন্দির, যার সাদা ও সোনালি গম্বুজগুলি অত্যন্ত কারুকার্যময়। দক্ষিণ-পশ্চিমে ক্লেমেন্ট টাউন এলাকাতে মিন্ডরোলিং মঠ নামের একটি তিব্বতি বৌদ্ধ ধর্মীয় কেন্দ্র আছে যার মহাস্তুপের মধ্যে অর্চনাস্থল ও ১০৩ ফুট উঁচু বুদ্ধের মূর্তি আছে। বন গবেষণা ইন্সটিটিউটে একটি বড় জাদুঘর আছে, যেখানে বনরোগ ও কাঠের উপর বিভিন্ন প্রদর্শনী আছে। ব্রিটিশ জরিপ পরিচালক ও ভূগোলবিদ জর্জ এভারেস্টের বাসভবন ও গবেষণাগারটিও পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়; জর্জ এভারেস্টের নামেই বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতটির নাম রাখা হয়েছে। আরও আছে রাজা জি বাঘ অভয়ারণ্য। শহরের কাছে উত্তর দিকে মাসুরি নামের আরেকটি পাহাড়ি লোকালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থকেন্দ্র। নিকটবর্তী ঔলি শহরে পাহাড়ি পদযাত্রা ও স্কি করার ব্যবস্থা আছে। এছাড়া হিন্দুদের তীর্থকেন্দ্র হরিদ্বার ও ঋষিকেশও দেরাদুনের কাছেই দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত। শহরটি থেকে উত্তরে হিন্দুদের পবিত্র ধর্মীয় কিছু লোকালয়ে যাওয়া যায়, যাদেরকে একত্রে "ছোটা চার ধাম" নামে ডাকা হয়। দেরাদুনে ব্রিটিশরা অনেক আফগান রাজাকে নির্বাসিত করেছিল বলে শহরটির সাথে আফগান রাজপরিবারের সম্পর্ক আছে।

দেরাদুনের আশেপাশের এলাকাতে পর্বতশৃঙ্গগুলি প্রায় ২৫০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত উঠে গেছে। দুন নামের অঞ্চলটি আসলে একটি উপত্যকা যার উত্তরে হিমালয় এবং দক্ষিণে সিওয়ালিক পর্বতশ্রেণী। শহরটির পূর্বে গঙ্গা ও পশ্চিমে যমুনা নদী। দেরাদুনে বাসমতি চাল (আফগানিস্তান থেকে প্রাপ্ত একটি প্রজাতি), যব, চা, লিচু ও অন্যান্য খাদ্যশস্যের আবাদ হয় এবং মূল্যবান কাঠও আহরণ করা হয়।

নগর নিগম দেরাদুন নামের পৌরসভাটি দেরাদুন শহরটি পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত। বর্তমানে দেরাদুনকে দিল্লি জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের একটি "প্রতিচুম্বক" (কাউন্টার ম্যাগনেট) শহর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা আছে, যাতে রাজধানী অঞ্চলে মানুষের অভিবাসনের কারণে জনসংখ্যা বিস্ফোরণের ঝুঁকি কমানো যায়।

======================



73/1>গাড়োয়াল ভ্রমণ::-5খণ্ডে::---NO--( 1 )=TOURE PROGRAM FOR ---16-DAYS

TOURE NO==(1)=TOURE PROGRAM FOR ---16-DAYS=JULY 1985

NO--(1)==08/07/1985  to 23/07/1985

 16 DAYS PROGRAMS:-----

(1stday ধানবাদ---দেরাদুন----ডাকপাথার---তপকেশ্বর মহাদেব-----সহস্র ধরা--- রর্বাসকেভ--------------------2nd day হিমাচলের পাওনটা সার্থ হেব----গুরু গোবিন্দ সিং এর স্থান--------নাহান ------শিবলিকের কোলে সুন্দর পাহাড়ি শহর-------রেনুকাজী ------হিমাচলের বৃহত্তম লেক-----পরশুরাম লেক --মন্দির ------আসন ব্যারেজ ----------------------------------------------------------------------------------------------------------3rd day==--চক্রাতা ---কালসী----সম্রাট অশোকের লিপি------সেনা শহর---------------------------------------4th day==--চিন্তাহরণ মহাদেবের মন্দির----খারাম্বা চূড়া-----চিলমিরি সানসেট পয়েন্ট----থানা ডান্ডা ------5th day==--কানাসার---দেওবন-----রামতল গার্ডেন-----চানি চুড়ানি---------------------------------------------6th day==--বারকোট---টাইগার ফলস----লাখা মন্ডল--------------------------------------------------------------7th day==--উত্তর কাশী----বিশ্বনাথ মন্দির-----কেদার ঘাট--------------------------------------------------------8th day==--নচিকেতা তাল----চৌরঙ্গী খাল---নাগ দেবতার মন্দির-----------------------------------------------9th day==--হরসিল ----গাংনানির উষ্ণ প্রস্রবণ----মুখরা গ্রাম----সুদর্শণ শিবলিঙ্গ----সাততলা---------------10th day==--গঙ্গোত্রী---------------------------------------------------------------------------------------------------11th day==--হরিদ্বার----------------------------------------------------------------------------------------------------12th day==-- বাড়িফেরা . 12th day + up & down 4 days==16 days.--------------------------------------------=========================================================================

  ভ্রমণ 08th July 1985 সোমবার দিন 

আমরা পাঁচ জন বেরিয়ে পরেছিলাম গাড়োয়ালের উদ্দেশ্যে 16 দিনের টুরে।

 তেওয়ারী জি, শম্ভু নাথ , কিশোরী জি,

শংকর ডুবে ও আমি।

1985 এ আমরা 8th July সোমবার ধানবাদ থেকে রওনা দিলাম।

এবারের আমাদের যাত্রাপথ  

NO--(1)==16 দিনের ভ্রমণ::----08/07/1985  to 23/07/1985 ==16 DYS   PROGRAMS

(ধানবাদ-- দেহরাদুন---ডাকপাথার---চক্রাতা---বারকোট-উত্তরকাশী-হরসিল-গঙ্গোত্রী।)


11th July 1985

আমরা দেরাদুন পৌঁছলাম 


1st day দেহরাদুন:;--11/07/1985

প্রথম দিন – দেহরাদুন থেকে 40 km ডাকপাথার, 

দেহরাদুনে আছে, টনস্‌ নদীর তীরে তপকেশ্বর মহাদেব (স্টেশন থেকে সাড়ে 5 কিমি 5 1/2 km), 

সহস্রধারা (13 km ) ও টনস্‌ নদীর কাছে রবার্স কেভ (8 km  আট কিমি)। রাত্রিবাস যমুনার ধারে ডাকপাথারে।


2nd day::---12/07/1985

দ্বিতীয় দিন – ডাকপাথার থেকে প্রথমে 25 KM পথ   হিমাচলের পাওনটা সাহেব — গুরু গোবিন্দ সিং-এর স্মৃতিবিজড়িত স্থান, 

এর পর আরও 6 km গিয়ে নাহান – শিবালিকের কোলে সুন্দর পাহাড়ি শহর। সব শেষে আরও ৪৫ কিমি দূরে গিয়ে রেণুকাজি, হিমাচলের বৃহত্তম লেক, পাহাড়ে ঘেরা। পরশুরামের মায়ের নামে লেক, রয়েছে পরশুরাম লেকও। তার পাড়ে পরশুরাম মন্দির। আরও কতগুলি  মন্দির আছে এখানে। 

এবারে  গিরি নদীর পাড় ধরে পাওনটা হয়ে  ফিরি  আসলাম ৭২ কি মি পথে ডাকপাথর ।

সেখানে ডাকপাথরের ১২কি মি আগে  যমুনার ওপর আসান ব্যারেজ। 

***রাত্রিবাস ডাকপাথার।

 3rd day:--13/07/1985

তৃতীয় দিন – সকালেই বেড়িয়ে পড়লম্  51km দূরে  শৈলশহর চক্রাতা ( উচ্চতা  2153 Miter )। 

ডাকপাথার থেকে 7 km গেলেই পড়বে কালসি। এখানে আছে 1860 সালে আবিষ্কৃত সম্রাট অশোকের শিলালিপি। এখান থেকেই চড়াই পথে গাড়ি উঠতে শুরু করে পাহাড়ে, পৌঁছে যায় সেনাশহর চক্রাতায়। এখান থেকে দেখা যায় তুষারাবৃত বন্দরপুঞ্ছ শৃঙ্গ । 

***Night halt at Chakrata

রাত্রিবাস চক্রাতা।


4th day::---and 5th day=

  14/07 & 15/07/1985

চতুর্থ দিন – এখানে এই  চক্রাতায়  দুই দিন থেকে অনেক দেখার আছে।


★চক্রাতায় প্রথম দিন----14/07

//এখানে দেখা যাবে  – চিন্তাহরণ মহাদেব। চক্রাতা বাজার থেকে কিছুটা নেমে দেখা পাওয়া যাবে চিন্তাহরণ মহাদেবের মন্দির।

//তারপরে 3km দূরে খারাম্বা চুড়ো ( 3084 M), 

//এখান থেকে 5km দূরে চিলমিরি সানসেট পয়েন্ট।

//সানসেট পয়েন্ট থেকে 1km চড়াই পথে উঠে দেখা যাবে থানাডাণ্ডা।


5th day---15/07

★চক্রাতায় দ্বিতীয় দিন---

//26km দূরে  আছে কানাসার ( অর্থাৎ বিশাল বিশাল কাণ্ডওয়ালা বহু প্রাচীন দেবদারুর জঙ্গল ও কানাসার দেবতার মন্দির )। 

//আর 10 km দূরে দেওবন  (তুষারমৌলী হিমালয়ের দৃশ্য  এখানে 2km হাঁটটে হয় )।

কানাসার ও দেওবন দেখে ফিরে যেতে হবে চক্রাতায়। চক্রাতায় ফিরে দুপুরের খাবার খেয়ে  আবার বেরিয়ে পড়তে হবে রামতাল গার্ডেন ও চানি চুরানি

//8km দূরে রামতাল গার্ডেন।

//18km দূরে চানি চুরানির মন ভোলানো  সুন্দর নৈসর্গিক দৃশ্য। 

6th day:---16/07/1985

ষষ্ঠ দিন – সকালেই বেরিয়ে পরলাম  85km দূরে,  বারকোট,

 পথে দেখা  টাইগার ফলস্‌ (চক্রাতা থেকে 19km ), 

লাখামণ্ডল (চক্রাতা থেকে 66km. নানা দেবতার মন্দিররাজি। পাহাড়ের গায়ে বিশাল কিছু গহ্বর। জনশ্রুতি, পঞ্চপাণ্ডবদের পুড়িয়ে মারার জন্য এখানেই তৈরি হয়েছিল লাক্ষার জতুগৃহ। নীচ দিয়ে বয়ে চলেছে বার্নি নদী)। 

যমুনার ধারে বারকোটেই আজকের বিশ্রাম। এখান থেকে দেখা যায় তুষারাবৃত বন্দরপুঞ্ছ শৃঙ্গ।


7th day--17/07/1985

সপ্তম দিন – আজ সকালেই বেরিয়ে পড়তে হবে 80km দূরে উত্তরকাশীর জন্য

1180 Miter উচ্চতা।

  এখানে আছে  বিশ্বনাথ মন্দির ও অন্যান্য মন্দির এবং ভাগীরথীর ধারে কেদারঘাট। 


**৮রাত্রিবাস উত্তরকাশী।

***Night halt---

8th day---18/07/1985

অষ্টম দিন – আজ  পৌঁছে গেলাম 32 km দূরে  নচিকেতা তাল ( 2453 Miter )। 

এখানে চৌরঙ্গি খাল পর্যন্ত গাড়িতে গিয়ে 3km পথ ট্রেক করে বা হেটে জঙ্গলের মধ্য দিয়ে। উদ্দালক মুনির ছেলে নচিকেতার নামে এই লেক। কাছেই নাগ দেবতা মন্দির। রাত্রিবাস উত্তরকাশী।


***Night Halt---

রাত্রিবাস উত্তরকাশীতে:---


9th day---19/07/1985

নবম দিন – ভোরেই বেরিয়ে পড়া 75km দূরের হরসিলের উদ্দেশ্যে(2620 Miter hight)

পথে দেখলাম  গাংনানির উষ্ণ প্রস্রবণ। 


রাত্রিবাস হরসিল।

***Night Halt----

10th day--20/07/1985

দশম দিন – ভাগীরথী উপত্যকায় পাইন ও দেওদারে ছাওয়া অনুপম সৌন্দর্যের পাহাড়ি জনপদ হরসিল। 

এখান থেকে  ৩ কিমি দূরে ধারালি। ভাগীরথী পেরিয়ে ১ কিমি চড়াই ভেঙে মুখবা গ্রাম, গঙ্গোত্রী মন্দিরের বিগ্রহ মা গঙ্গার শীতকালীন আবাস। মুখবা গ্রাম থেকে দেখুন সুদর্শন, শিবলিঙ্গ, ভাগীরথী-সহ হিমালয়ের বিভিন্ন তুষারশৃঙ্গ। ধারালি থেকে ৩ কিমি চড়াই ভেঙে উঠতে পারেন সাততাল (কুমায়ুনের সাততালের সঙ্গে গোলাবেন না), বিভিন্ন উচ্চতায় সাতটি লেক, যার অনেকগুলিই আজ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তবে যা আছে, সেটাই উপভোগ করার মতো।

দশম দিন – আজও থাকলাম  হরসিলে। সকালেই চলুন গঙ্গোত্রী (৩০৪২ মি), ২৫ কিমি। উপভোগ করুন গঙ্গোত্রীর নিসর্গ। মন্দির বন্ধ হলে ফিরে আসুন হরসিলে।

11th day---21/07/1985

একাদশ দিন – হরসিল থেকে ভোর বেলায় রওনা হয়ে ফিরে আসুন হরিদ্বার। রাত্রিবাস হরিদ্বার।


12th day-------22/07/1985

দ্বাদশ দিন – বাড়িরte। 23/07/1985

16 দিনের টুর শেষ করে

24/07/1985 ডিউটি তে জয়েন করলাম।

==========================================================

======================================================

দেরাদুন থেকে ডাকপাথর=38KM

ডাকপাথর থেকে চক্রতা =50KM

দেরাদুন থেকে চক্রাতা- 88 KM

*******************************************************************

73/2>গাড়োয়াল ভ্রমণ::-5খণ্ডে::---NO--( 2 )=TOURE PROGRAM FOR ---14-DAYS

=====No ( 2)★★★★★★★

73/2>গাড়োয়াল ভ্রমণ::-5খণ্ডে::---NO--( 2 )=TOURE PROGRAM FOR ---14-DAYS

TOURE NO==(2)=TOURE PROGRAM FOR ---14-DAYS=DT--????

NO--(2)==dt---?????

 14 DAYS PROGRAMS:-----(দেহরাদুন-ডাকপাথার-চক্রাতা-মুসোরি-ধনোলটি)

এবারের ভ্রমন পথ::--

        14 দিনের ভ্রমন:--

 (দেহরাদুন-ডাকপাথার-চক্রাতা-মুসোরি-ধনোলটি)

(1stday ধানবাদ---দেরাদুন---আসন নদীর তীরে ----তপকেশ্বর মহাদেব-----সহস্র ধরা--- ডাকাত গুহা -----ডাকপাথার -----------------------------------------------------------------------------------------------------------2nd day হিমাচলের পাওনটা সাহেব ----গুরু গোবিন্দ সিং এর স্থান--------নাহান ------শিবলিকের কোলে সুন্দর পাহাড়ি শহর-------রেনুকাজী ------হিমাচলের বৃহত্তম লেক-----পরশুরাম লেক --মন্দির ------আসন ব্যারেজ --------------------------------------------------------------------------------------------------------


1st day দেহরাদুন:;--dt ???

প্রথম দিন – দেহরাদুন থেকে 40 km ডাকপাথার, 

দেহরাদুনে আছে, টনস্‌ নদীর তীরে তপকেশ্বর মহাদেব (স্টেশন থেকে সাড়ে 5 কিমি 5 1/2 km), 

সহস্রধারা (13 km ) , ডাকাত গুহা  (8 km  আট কিমি)। রাত্রিবাস যমুনার ধারে ডাকপাথারে।

2nd day::---dt ???

দ্বিতীয় দিন – ডাকপাথার থেকে প্রথমে  হিমাচলের পাওনটা সাহেব — গুরু গোবিন্দ সিং-এর স্মৃতিবিজড়িত স্থান, 

ডাকপাথার থেকে 25 km। 

এর পর আরও 6 km গিয়ে নাহান – শিবালিকের কোলে সুন্দর পাহাড়ি শহর। সব শেষে আরও ৪৫ কিমি দূরে গিয়ে রেণুকাজি, হিমাচলের বৃহত্তম লেক, পাহাড়ে ঘেরা। পরশুরামের মায়ের নামে লেক, রয়েছে পরশুরাম লেকও। তার পাড়ে পরশুরাম মন্দির। আরও কতগুলি  মন্দির আছে এখানে। 

এবারে  গিরি নদীর পাড় ধরে পাওনটা হয়ে ডাকপাথারে, ৭২ কিমি যেতে হবে।

পথে পড়বে যমুনার ওপর আসান ব্যারেজ, ডাকপাথারের 12 km আগে। রাত্রিবাস ডাকপাথার।

***৩d day:--dt ???

তৃতীয় দিন – সকালেই বেড়িয়ে পড়তে হবে 51km দূরে  শৈলশহর চক্রাতা ( 2153 Miter )। 

ডাকপাথার থেকে 7 km গেলেই পড়বে কালসি। এখানে আছে 1860 সালে আবিষ্কৃত সম্রাট অশোকের শিলালিপি। এখান থেকেই চড়াই পথে গাড়ি উঠতে শুরু করে পাহাড়ে, পৌঁছে যায় সেনাশহর চক্রাতায়। এখান থেকে দেখা যায় তুষারাবৃত বন্দরপুঞ্ছ শৃঙ্গ । 

***Night halt at Chakrata

রাত্রিবাস চক্রাতা।

4th day::---and 5th day=ft  ????

  চতুর্থ দিন – এখানে এই  চক্রাতায় 

দুই দিন থেকে অনেক দেখার আছে।

★চক্রাতায় প্রথম দিন----14/07

//এখানে দেখা যাবে  – চিন্তাহরণ মহাদেব। চক্রাতা বাজার থেকে কিছুটা নেমে দেখা পাওয়া যাবে চিন্তাহরণ মহাদেবের মন্দির।

//তারপরে 3km দূরে খারাম্বা চুড়ো ( 3084 M), 

//এখান থেকে 5km দূরে চিলমিরি সানসেট পয়েন্ট।

//সানসেট পয়েন্ট থেকে 1km চড়াই পথে উঠে দেখা যাবে থানাডাণ্ডা।

5th day---15/07

★চক্রাতায় দ্বিতীয় দিন---

//26km দূরে  আছে কানাসার ( অর্থাৎ বিশাল বিশাল কাণ্ডওয়ালা বহু প্রাচীন দেবদারুর জঙ্গল ও কানাসার দেবতার মন্দির )। 

//আর 10 km দূরে দেওবন  (তুষারমৌলী হিমালয়ের দৃশ্য  এখানে 2km হাঁটটে হয় )।

কানাসার ও দেওবন দেখে ফিরে যেতে হবে চক্রাতায়। চক্রাতায় ফিরে দুপুরের খাবার খেয়ে আবার বেরিয়ে পড়তে হবে রামতাল গার্ডেন ও চানি চুরানি

//8km দূরে রামতাল গার্ডেন।

//18km দূরে চানি চুরানির মন ভোলানো  সুন্দর নৈসর্গিক দৃশ্য। 

6th Day----

ষষ্ঠদিন – আজও থাকুন চক্রাতায়। ঘুরে আসুন টাইগার ফলস্‌ (চক্রাতা থেকে ১৯ কিমি), লাখামণ্ডল (চক্রাতা থেকে ৬৬ কিমি, নানা দেবতার মন্দিররাজি। পাহাড়ের গায়ে বিশাল কিছু গহ্বর। জনশ্রুতি, পঞ্চপাণ্ডবদের পুড়িয়ে মারার জন্য এখানেই তৈরি হয়েছিল লাক্ষার জতুগৃহ। নীচ দিয়ে বয়ে চলেছে বার্নি নদী)।

7th day----

সপ্তমদিন – চলুন মুসোরি, ৮০ কিমি। পথে দেখে নিন কেম্পটি ফলস। রাত্রিবাস মুসোরি।

 8th day-----

mall road, mussorie

মল রোড, মুসোরি।

অষ্টমদিন – আজও থাকুন মুসোরিতে। হাঁটাহাঁটি করুন ম্যালে। দেখে নিন ক্যামেলস ব্যাক রোডে দুর্গা মন্দির, ভাট্টা ফলস, নাগ দেবতা মন্দির, গান হিল পয়েন্ট, মোসি ফলস, ফ্লাগ হিল, লাল টিব্বা (২৬১০ মি), মালসি ডিয়ার পার্ক। গান হিল বেড়িয়ে নিন রোপওয়ে চেপে। রাত্রিবাস মুসৌরি।

9th day----

নবমদিন – মুসোরি থেকে ধনোলটি (২২৮৬ মি)। দূরত্ব ৩২ কিমি। মুসোরি থেকে এলে ধনোলটিতে রাস্তার বাঁ দিক বরাবর গাড়োয়াল হিমালয়ের বিশাল রেঞ্জ চোখে পড়ে। সকাল সকাল চলে আসুন, যাতে সারা দিন ধরে ধনোলটির সৌন্দর্য উপভোগ করুন। বিকেল হওয়ার আগে চলুন ধনোলটি ভিউ পয়েন্ট। দেড় কিমি ট্রেক। উপরে উঠে বিস্তীর্ণ বুগিয়াল। নয়নাভিরাম সূর্যাস্ত। রাত্রিবাস ধনোলটি।

10th day----

দশমদিন – ভোরেই চলুন ৩০৪৯ মিটার উচ্চতায় সুরখণ্ডাদেবীর (দুর্গা) মন্দির। চাম্বার পথে ৫ কিমি গিয়ে ২ কিমি চড়াই ভাঙা। হিমালয়ের দৃশ্য ভোলার নয়। দুপুরের আগে ধনোলটি ফিরে চলুন হরিদ্বার, ১১২ কিমি। রাত্রিবাস ধনোলটি।

11th day-----

একাদশদিন – বাড়ির পথে।

হারিদ্বার থেকে হাওড়া ট্রেনে

১১দিন + যাতায়াতে তিন দিন ==মোট ১৪দিন 

===============================================================

==============================================================

73/3 >গাড়োয়াল ভ্রমণ::-5খণ্ডে::---NO--( 3 )=TOURE PROGRAM FOR ---12-DAYS

=======No ( 3 )★★★★★★★

12 দিনের ভ্রমনের পথ ::----


এবারের ভ্রমণ পথ::--- 

এবার -12- দিনের ভ্রমণ

দেহরাদুন-মুসোরি-ধনোলটি-শ্রীনগর-খিরসু-পৌড়ী-ল্যান্সডাউন


1st day-----

প্রথম দিন– দেহরাদুন থেকে চলুন মুসোরি (২০০৬ মিটার), দূরত্ব ৪০ কিমি। তার আগে দেহরাদুন দেখে নিন টনস্‌ নদীর তীরে তপকেশ্বর মহাদেব (স্টেশন থেকে সাড়ে ৫ কিমি), সহস্রধারা (১৩ কিমি) ও টনস্‌ নদীর কাছে রবার্স কেভ (৮ কিমি)। পথে দেখে নিন মালসি ডিয়ার পার্ক। রাত্রিবাস মুসোরি।

2nd day-----

দ্বিতীয় দিন – আজও থাকুন মুসোরিতে। হাঁটাহাঁটি করুন ম্যালে। দেখে নিন ক্যামেলস ব্যাক রোডে দুর্গা মন্দির, ভাট্টা ফলস, নাগ দেবতা মন্দির, গান হিল পয়েন্ট, মোসি ফলস, ফ্লাগ হিল, লাল টিব্বা (২৬১০ মি)। গান হিল বেড়িয়ে নিন রোপওয়ে চেপে। ঘুরে আসুন কেম্পটি ফলস্‌ (১৫ কিমি)।

3rd  & 4th day------

a view from dhanaulti

ধনোলটি থেকে।

তৃতীয় ও চতুর্থ দিন – এই দু’ দিন থাকুন ধনোলটিতে। দেখুন ভ্রমণ ছক ২-এর অষ্টম ও নবম দিন।


5th day-------

পঞ্চম দিন – চলুন অলকানন্দা তীরে শ্রীনগর (৫৬০ মি, কাশ্মীরের নয়), ১২৪ কিমি। এখানে দেখে নিন কমলেশ্বর মহাদেব মন্দির (জনশ্রুতি, এই মন্দিরেই রাম হাজার পদ্মের অর্ঘ্য দেন দেবতা শিবকে। এখানেই নাকি একটা চোখ কম পড়াতে রাম নিজের চোখ উৎসর্গ করতে চান। সেই থেকে রামকে বলা হয় কমল নয়ন)), আদি শংকরাচার্য প্রতিষ্ঠিত কিকিলেশ্বর মহাদেব মন্দির, কেশোরাই মঠ, ৩ কিমি দূরে বাবা গোরখনাথ গুহার উলটো দিকে শংকর মঠ, ১৭ কিমি দূরে পৌড়ী-গাড়োয়াল রাজ্যের রাজধানী দেবলগড় (এখানে গাড়োয়ালি স্থাপত্যের নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে গৌরী দেবী মন্দির, মা রাজেশ্বরী মন্দির ইত্যাদি।

6th day------

ষষ্ঠ দিন – শ্রীনগর থেকে চলুন খিরসু, ৩৫ কিমি। হিমালয়ের দিগন্তবিস্তৃত শিখররাজির (তিনশোরও বেশি) জন্য খ্যাতি খিরসুর (১৭০০ মি)। রাত্রিবাস খিরসু।

7th day----

সপ্তম দিন – খিরসু থেকে চলুন পৌড়ী (১৯ কিমি, ১৮১৪ মি)। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তে ত্রিশূল, হাতি পর্বত, নীলকণ্ঠ, কেদারনাথ, চৌখাম্বা, ভৃগুপন্থ, গঙ্গোত্রী গ্রুপ, বন্দরপুঞ্ছ ছাড়াও তুষারে মোড়া হিমালয়ের শিখররাজির শোভা দেখুন। দেখুন বাসস্ট্যান্ডে লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির, ২ কিমি দূরে ঘন জঙ্গলে কান্ডোলিয়া শিবমন্দির, ৩ কিমি পাহাড় চড়ে ৮ শতকের কঙ্কালেশ্বর শিব মন্দির। রাত্রিবাস পৌড়ী।

8th day-------

lansdowne  ল্যান্সডাউন।

অষ্টম দিন – চলুন ল্যান্সডাউন (১৭১৬ মি), ৮৬ কিমি। রাত্রিবাস ল্যান্সডাউন।

9th day-----

নবম দিন – আজও থাকুন ল্যান্সডাউনে। টিপ-এন-টপ পয়েন্ট থেকে দেখুন অসংখ্য গিরিশিরা। রমণীয় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত। আরও দেখুন দরওয়ান সিং মিউজিয়াম, ভুল্লা তাল, সেন্ট মেরি চার্চ, সেন্ট জন চার্চ, কালেশ্বর শিব মন্দির, শাকম্ভরী মন্দির, সেনাবাহিনীর দুর্গা মন্দির, ভীম পকোড়া, হাওয়া ঘর ইত্যাদি।

10th day--------

দশম দিন – ল্যান্সডাউন থেকে নাজিবাবাদ (৬৩ কিমি) বা হরিদ্বার (১০৬ কিমি) এসে সেখান থেকে ফেরার ট্রেন ধরতে পারেন। পথে সম্ভব হলে দেখে নিন কোটদ্বার থেকে ১৪ কিমি দূরে কণ্বাশ্রম, শকুন্তলার বড়ো হওয়ার জায়গা কণ্ব মুনির আশ্রম।

হারিদ্বার থেকে হাওড়া ট্রেনে

=========================================================

=====================================================

73/4>গাড়োয়াল ভ্রমণ::-5খণ্ডে::---NO--( 4 )=TOURE PROGRAM FOR ---15-DAYS

73/4>গাড়োয়াল ভ্রমণ::-5খণ্ডে::---  ( 4 )

NO--(3)=TOURE PROGRAM FOR ---15----DAYS

==÷÷÷÷÷÷( 4 )★★★★★★★★


এবারের ভ্রমণ পথ::---


আমাদের -15 দিনের ভ্রমণ।

 ( গঙ্গোত্রী-বদরীনাথ)


1st day----

প্রথম দিন – হরিদ্বার থেকে চলুন উত্তরকাশী। দূরত্ব ১৮৫ কিমি। রাত্রিবাস উত্তরকাশী (১১৫৮ মি)।

2nd day------

দ্বিতীয় দিন – সকালে উত্তরকাশীর বিশ্বনাথ ও অন্যান্য মন্দির দেখে এবং ভাগীরথীর ধারে কেদারঘাট ঘুরে চলুন ভাগীরথী উপত্যকায় পাইন ও দেওদারে ছাওয়া অনুপম সৌন্দর্যের পাহাড়ি জনপদ হরসিল (২৬২০ মি), দূরত্ব ৭৫ কিমি। পথে দেখে নিন গাংনানির উষ্ণপ্রস্রবণ। রাত্রিবাস হরসিল।

3rd day-------gangotri 

গঙ্গোত্রী।

তৃতীয় দিন – ঘুরে আসুন গঙ্গোত্রী (৩০৪২ মি), ২৫ কিমি। উপভোগ করুন গঙ্গোত্রীর নিসর্গ। মন্দির বন্ধ হলে ফিরে আসুন হরসিলে। রাত্রিবাস হরসিল।

4th day------

চতুর্থ দিন – হরসিল থেকে চলুন অলকানন্দা তীরে শ্রীনগর (৫৭৯ মি), ২২১ কিমি। রাত্রিবাস শ্রীনগর।

5th day------

পঞ্চম দিন – শ্রীনগর থেকে চলুন জোশীমঠ (১৮৭৫ মি), ১২৩ কিমি। দেখে নিন বাসস্ট্যান্ডের ১ কিমি নীচে নৃসিংহ মন্দির, বাসস্ট্যান্ডের উপরে শংকরাচার্য প্রতিষ্ঠিত জ্যোতির্মঠ। রাত্রিবাস জোশীমঠ।

6th day--------

ষষ্ঠ দিন – ভোরেই চলুন বদরীনাথ (৩১৫৫ মি), দূরত্ব ৪৬ কিমি। পথে পড়বে বিষ্ণুপ্রয়াগ, অলকানন্দা ও ধৌলিগঙ্গার সঙ্গম। শ্বেতশুভ্র নীলকণ্ঠ (৬৫৯৬ মি) মুকুট হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বদরীনাথের শিরে। রাত্রিবাস বদরীনাথ।

badrinath ==বদরীনাথ।

বদরীনাথে কিছু সময় - 

নীলকণ্ঠে সূর্যোদয়, দোকানপাটের মধ্যে দিয়ে নেমে ঝোলাপুলে অলকানন্দা পেরিয়ে বদরীনাথের মন্দির, সন্ধ্যায় দেখুন আরতি, চলুন মানা গ্রাম (তিব্বতের পথে শেষ বসতি, ৩ কিমি)। দেখে নিন ব্যাস গুহা, অলকানন্দা ও সরস্বতীর সঙ্গম কেশবপ্রয়াগ, সরস্বতীর ওপরে পাথরের ভীম পুল (এখান থেকে ৫ কিমি হেঁটে বসুধারা ফলস্‌, ১২২ মিটার উঁচু), চরণপাদুকা (জিএমভিএন ট্যুরিস্ট লজ থেকে ৩ কিমি হাঁটা, খুব চড়াই নয়। জনশ্রুতি, পাথরে বিষ্ণুর পায়ের চিহ্ন)।

7th day--------

সপ্তম দিন – বদরীনাথ থেকে আউলি (২৫১৯ মি), দূরত্ব ৫৬ কিমি। পুরোটা গাড়িতে যেতে পারেন, আবার জোশীমঠ থেকে কেবল কারেও ঘুরে আসতে পারেন। আউলিতে দেখুন দিগন্তবিস্তৃত হিমালয়ের শৃঙ্গরাজি। শৃঙ্গরাজির মাথায় সূর্যাস্ত অতুলনীয়।

(কেবল কারেই চলুন। প্রথমে চলুন ১০ নম্বর টাওয়ার স্টেশনে, কেবল কার এতটাই আসে। এখানে নেমে গড়সন বুগিয়াল দেখে ফেরার পথে ৮ নম্বর টাওয়ার স্টেশনে নেমে সেখান থেকে চেয়ার কারে আউলি চলে আসুন। জোশীমঠে কেবল কার স্টেশনে টিকিট কাটার সময় আপনার প্ল্যান জানিয়ে দিলে সেইমতো ব্যবস্থা হয়ে যাবে। টিকিটে যাতায়াতের ভাড়া ধরা। ফেরার দিন জানিয়ে দেবেন। সঙ্গে গাড়ি থাকলে জোশীমঠে এক দিন রেখে দেবেন।)

8th day-------

on chair car, auli==চেয়ার কারে আউলি।

অষ্টম দিন – আজও থাকুন আউলিতে, উপভোগ করুন এর সৌন্দর্য, বিশ্রাম নিন।

9th day---------

নবম দিন – আউলি থেকে চলুন রুদ্রপ্রয়াগ (৬১০মি), অলকানন্দা-মন্দাকিনী সঙ্গম, ১২৪ কিমি। পথে দেখুন নন্দপ্রয়াগ (অলকানন্দা ও নন্দাকিনীর সঙ্গম) এবং কর্ণপ্রয়াগ (অলকানন্দা ও পিন্ডারগঙ্গার সঙ্গম)। বিকেলে ঘুরে নিন সঙ্গমের কাছে রুদ্রনাথ শিবমন্দির, জগদম্বা মন্দির, অন্নপূর্ণা মন্দির। রাত্রিবাস রুদ্রপ্রয়াগ।

10th day---------

দশম দিন– রুদ্রপ্রয়াগ থেকে হরিদ্বার, ১৬৪ কিমি। পথে দেখে নিন দেবপ্রয়াগ, অলকানন্দা ও ভাগীরথীর সঙ্গম। এখানেই অলকানন্দার যাত্রা শেষ। গঙ্গার পথ চলা শুরু। রাত্রিবাস হরিদ্বার।

11th day----------

একাদশ দিন – আজও থাকুন হরিদ্বারে। হরিদ্বারে দেখে নিন গঙ্গারতি, মনসা পাহাড়, চণ্ডী পাহাড়, কনখল ইত্যাদি। মনসা পাহাড়, চণ্ডী পাহাড় যাওয়ার জন্য রোপওয়ে-ও আছে।

12th day--------

দ্বাদশ দিন – বাড়ির পথে।

হারিদ্বার থেকে হাওড়া ট্রেনে

===========================================================

========================================================

73/5>গাড়োয়াল ভ্রমণ::-5খণ্ডে::---NO--( 5 )=TOURE PROGRAM FOR ---15-DAYS

73/5>গাড়োয়াল ভ্রমণ::-5খণ্ডে::---  ( 5 )

NO--(5)=TOURE PROGRAM FOR ---15----DAYS

=======( 5 )★★★★★★




আনাদের 15 দিনের ভ্রমণ--yamunotri


ভ্রমণ পথ::----

(হরিদ্বার-----জানকীচটি----যমুনোত্রী---

---গঙ্গোত্রী----উত্তরকাশী----গুপ্তকাশী--

----শোনপ্রয়াগ------ভীমবলী-----লিনচোলিতে------কেদারনাথ-----শোনপ্রয়াগ--  ---উখিমঠ-----জোশীমঠ----বদরীনাথ---

---হরিদ্বার।)


1st day------

প্রথম দিন – হরিদ্বার থেকে জানকীচটি, ২২১ কিমি। রাত্রিবাস জানকীচটি।



2nd day------

দ্বিতীয় দিন – যমুনোত্রী (৩২৯১ মি) ঘুরে আসা। যাতায়াতে ১০ কিমি মতো হাঁটা। রাত্রিবাস জানকীচটি।



3rd day--------

তৃতীয় দিন – সক্কালে যাত্রা করুন গঙ্গোত্রীর উদ্দেশে, ২২০ কিমি। রাত্রিবাস গঙ্গোত্রী।



4th day--------

চতুর্থ দিন – আজও থাকুন গঙ্গোত্রীতে (৩০৪২ মি)। উপভোগ করুন ভাগীরথী ও কেদারগঙ্গার সঙ্গমে গঙ্গোত্রীর সৌন্দর্য।



5th day--------

পঞ্চম দিন – গঙ্গোত্রী থেকে উত্তরকাশী, ৯৫ কিমি। ঘোরাঘুরি। রাত্রিবাস উত্তরকাশী। (দেখুন ভ্রমণ-ছক ১, ষষ্ঠ দিন)

■■■■■■


6th day-------

ষষ্ঠ দিন – চলুন গুপ্তকাশী, ১৯৪ কিমি। দেখে নিন বাসপথের কিছুটা উপরে কেদারের মন্দিরের আদলে তৈরি শিবমন্দির। রাত্রিবাস গুপ্তকাশী।



7th day---------

সপ্তম দিন – ভোরে বেরিয়ে গুপ্তকাশী থেকে শোনপ্রয়াগ (৩০ কিমি) পৌঁছে হাঁটা শুরু। ১০ কিমি হেঁটে রাত্রিবাস ভীমবলী (৮৭৩০ ফুট)। অথবা আরও ৬ কিমি এগিয়ে লিনচোলিতেও (১০৩৩০ ফুট) থাকতে পারেন।



8th day---------

kedarnath 

কেদারনাথ।

অষ্টম দিন – ভীমবলী হলে ১০ কিমি হেঁটে অথবা লিনচোলি হলে ৪ কিমি হেঁটে কেদারনাথ (১১৭৫৫ ফুট)। রাত্রিবাস কেদারনাথ।



9th day--------

নবম দিন – কেদার থেকে হেঁটে শোনপ্রয়াগ আসুন (২০ কিমি), চলুন উখিমঠ (১৩১১ মি), ৪৪ কিমি। মন্দির দর্শন। রাত্রিবাস উখিমঠ।



10th day--------

দশম দিন – উখিমঠ থেকে চলুন জোশীমঠ, ১২৯ কিমি। রাত্রিবাস জোশীমঠ। 

★★★(দেখুন ভ্রমণ-ছক ৪, পঞ্চম দিন)।

■■■■■■


11th day---------

একাদশ দিন – চলুন বদরীনাথ। 

★★★(দেখুন ভ্রমণ-ছক ৪, ষষ্ঠ দিন)।

■■■■■■■


12th day--------

দ্বাদশ দিন – বদরীনাথ থেকে পৌঁছে যান হরিদ্বার, ৩১৬ কিমি। রাত্রিবাস হরিদ্বার।



13th day--------

ত্রয়োদশ দিন – ঘরে ফেরা।

হারিদ্বার থেকে হাওড়া ট্রেনে



=========================

××××××××××××××××××××××××

=========================


 (যমুনোত্রী


যমুনোত্রী হচ্ছে যমুনা নদীর উৎস এবং হিন্দু ধর্মে যমুনা দেবীর আসন। এটি ৩,২৯৩ মিটার (১০,৮০৪ ফু) উচ্চতায় অবস্থিত। গড়ওয়াল হিমালয়ের পাদদেশে এবং প্রায় ৩০ কিলোমিটার (১৯ মা)-এ অবস্থিত উত্তরকাশি উত্তর, ভারতের উত্তরাখণ্ডের গড়ওয়াল বিভাগে উত্তরকাশি জেলার সদর দফতর। এটি ভারতের ছোট চর ধাম তীর্থস্থানের চারটি সাইটের মধ্যে একটি। যমুনোত্রির পবিত্র মন্দির, যমুনা নদীর উৎস, গড়ওয়াল হিমালয়ের পশ্চিমতম মন্দির, এটি বান্দর পুঞ্চ পার্বতের এক প্রান্তে অবস্থিত। যমুনোত্রির প্রধান আকর্ষণ হ'ল যমুনা দেবীকে উৎসর্গ করা মন্দির এবং জাঙ্কি চত্তির পবিত্র তাপ স্প্রিংস (7   কিমি দূরে)।

এখানের হ্রদের প্রকৃত উৎস সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪,৪২২ মিটার উচ্চতায় কালিন্দ পর্বতে অবস্থিত বরফ এবং হিমবাহের থেকে (চম্পাসার হিমবাহ নামক একটি গ্লেশিয়ার থেকে) এবং আরও কিলোমিটার অবধি, অ্যাক্সেসযোগ্য না হওয়ায় সাধারণত এটি প্রায়শই ঘন ঘন হয় না; তাই মাজারটি পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। এই পদ্ধতিটি অত্যন্ত কঠিন এবং তাই তীর্থযাত্রীরা মন্দিরে নিজেই পূজা অর্পণ করেন।

যমুনার বাম তীরে যমুনার মন্দিরটি তেহরী গড়ওয়ালের মহারাজা প্রতাপ শাহ নির্মাণ করেছিলেন। দেবতাটি কালো মার্বেল দিয়ে তৈরি। গঙ্গার মতো যমুনাও হিন্দুদের কাছে ঐশ্বরিক মায়ের মর্যাদায় উন্নীত হয়েছে এবং ভারতীয় সভ্যতার লালন ও বিকাশের জন্য তাকে দায়ী করা হয়েছে।

মন্দিরের কাছে পাহাড়ের গহ্বর থেকে গরম জলের ফোয়ারা। সূর্য কুন্ড সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কুন্ড । সূর্যকুন্ডের কাছে দিব্য শিলা নামে একটি শিলা রয়েছে, যা দেবদেবীর পূজা দেওয়ার আগে পূজা করা হয়। ভক্তরা ভাত এবং আলু, মসলিনের কাপড়ে বেঁধে এই গরম জলের ফোয়ারাগুলিতে ডুবিয়ে মাজারে নৈবেদ্য দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করেন। ভাত রান্না করা হয় প্রসাদাম হিসাবে আর বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। যমুনোত্রির এর পূজারিরা জানকী চাট্টির কাছাকাছি খারসালি গ্রামে থেকে আসা। তারা পবিত্র স্থানের প্রশাসক এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিচালনা করে। তারা শাস্ত্রে সুপরিচিত।

প্রাচীন কিংবদন্তি অনুসারে অসিত মুনির আশ্রম এখানে ছিল। সারা জীবন তিনি প্রতিদিন গঙ্গা ও যমুনায় স্নান করতেন। বার্ধক্যকালে গঙ্গোত্রিতে যেতে না পেরে গঙ্গার একটি ধারা তাঁর কাছে যমুনোত্রির বিপরীতে উপস্থিত হয়েছিল।

অক্ষয় তৃতীয়ার শুভ দিনে মন্দির এবং স্থানটি প্রতি বছর খোলা হয়, যা সাধারণত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে বা মে মাসের প্রথম সপ্তাহে পড়ে। মন্দিরটি সর্বদা অক্টোবরের মাঝামাঝি - নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে একটি সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দীপাবলির পবিত্র দিনে বন্ধ হয়। মন্দিরের কর্মীরা তাদের গ্রামগুলিতে ফিরে আসে এবং বাকি সময় উপত্যকাটি লোকের নীরবতায় চেপে ধরে এবং তুষারের সাদা চাদরে ঢাকা থাকে। পরের গ্রীষ্মে তুষার গলে যাওয়ার সাথে সাথে মন্দিরটি আবার খোলে।

সাঙ্গ্যা বান্দরপাঞ্চ পাহাড়ের ঠিক নীচে চম্পাসার হিমবাহে (৪,৪২১ মি) যমুনার জন্মস্থান। নদীর উৎস সংলগ্ন এই পর্বতটি তাঁর পিতার জন্য উৎসর্গীকৃত, এবং কলিন্দ পার্বত নামে অভিহিত (কালিন্দ সূর্য দেবতার অপর নাম)। যমুনা তার অপ্রচলতার জন্য পরিচিত, এটি এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা তিনি বিকাশ করেছিলেন কারণ একটি সাধারণ কাহিনী অনুসারে, যমুনার মা তার চকচকে স্বামীর সাথে চোখের যোগাযোগ করতে পারেননি।

যমুনোত্রী অবস্থিত ৩১.০১° উত্তর ৭৮.৪৫° পূর্ব  এর গড় উচ্চতা হল ৩,৯৫৪ মিটার (১২,৯৭২ ফু) ।


যমুনা নদী

যমুনা নদীর আসল উৎস ৬,৩৮৭ মিটার (২০,৯৫৫ ফু) উচ্চতায় যমুনোত্রী হিমবাহে ৬,৩৮৭ মিটার (২০,৯৫৫ ফু), নিম্ন হিমালয়ের বন্দরপঞ্চের চূড়াগুলির নিকটে এবং যমুনা দেবীকে উৎসর্গীকৃত। এটা উত্তরাখন্ড, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, হিমাচল প্রদেশ এবং পরে দিল্লি অতিক্রম করে সাথে মিলে যায় গঙ্গায় প্রায়াগরাজের ত্রিবেনী সঙ্গমে।


যমুনোত্রী মন্দির


যমুনোত্রী মন্দিরটি গড়ওয়াল হিমালয়ের পশ্চিমাঞ্চলে ৩,২৩৫ মিটার (১০,৬১৪ ফু) উচ্চতায় অবস্থিত নদীর উৎস কাছাকাছি। মূল মন্দিরটি উনিশ শতকে জয়পুরের মহারাণী গুলেরিয়া নির্মিত করেছিলেন। পূর্ববর্তী নির্মাণগুলি আবহাওয়া এবং উপাদানগুলির দ্বারা ধ্বংস হয়ে গেছে বলে বর্তমান মন্দিরটি সাম্প্রতিক উৎস। কে যমুনোত্রির মন্দির তৈরি করেছিল তা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা যায়। তবে সূত্রের মতে, মন্দিরটি মূলত তেহারি গড়ওয়ালের মহারাজা প্রতাপ শাহ নির্মাণ করেছিলেন ।


খোলার সময়: সকাল 6 টা - 8 টা; মে মাসের প্রথম সপ্তাহ - দিওয়ালি অবধি )



==================



কী ভাবে যাবেন ও ফিরবেন

হাওড়া থেকে দেহরাদুন যাওয়ার জন্য সব থেকে ভালো ট্রেন উপাসনা এক্সপ্রেস। প্রতি মঙ্গল এবং শুক্রবার দুপুর ১টায় হাওড়া ছেড়ে দেহরাদুন পৌঁছোয় পরের দিন সন্ধ্যা ৬.১০-এ। রয়েছে দুন এক্সপ্রেস, প্রতিদিন রাত ৮.২৫ মিনিটে হাওড়া থেকে ছেড়ে দেহরাদুন পৌঁছোয় তৃতীয় দিন সকাল ৭.৩৫-এ।


দিল্লি থেকে দেহরাদুন আসার ট্রেন আছে পাঁচটা। এ ছাড়াও দেশের সব বড়ো শহরের সঙ্গেই ট্রেন যোগাযোগ আছে দেহরাদুনের। ট্রেনের অভাবে দিল্লি হয়ে দেহরাদুন আসাই ভালো।


বিমানেও দিল্লি এসে দেহরাদুন আসতে পারেন বিমানে। ট্রেনে, বাসে বা গাড়িতে। সড়ক পথে দিল্লি থেকে দেহরাদুন ২৫১ কিমি।


haridwar

হরিদ্বার।

হাওড়া থেকে হরিদ্বার যাওয়ার জন্য রয়েছে উপাসনা এক্সপ্রেস। প্রতি মঙ্গল এবং শুক্রবার দুপুর একটায় ছেড়ে হরিদ্বার পৌঁছোয় পরের দিন বিকেল ৩:৫০-এ। রয়েছে কুম্ভ এক্সপ্রেস, মঙ্গল এবং শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহে পাঁচ দিন দুপুর একটায় হাওড়া থেকে ছেড়ে হরিদ্বার পৌঁছোয় পরের দিন বিকেল ৪:৪০। রয়েছে দুন এক্সপ্রেসও। হাওড়া থেকে রাত ৮.২৫-এ ছেড়ে হরিদ্বার তৃতীয় দিন ভোর পৌনে ৫টায়।

দিল্লি হয়েও আসতে পারেন। হাওড়া থেকে রাজধানী বা দুরন্ত ধরে বা শিয়ালদহ থেকে রাজধানী বা দুরন্ত ধরে দ্বিতীয় দিন দিল্লি আসুন। দিল্লি থেকে হরিদ্বার ১৮০ কিমি। গাড়িতে আসতে পারেন, মুহুর্মুহু বাসও পাবেন।)

নাজিবাবাদ থেকে হাওড়া ফেরার জন্য রয়েছে দুন এক্সপ্রেস। রাত ১১:৪৫-এ ছেড়ে হাওড়া পৌঁছোয় তৃতীয় দিন সকাল ৬:৫৫-এ। রয়েছে অমৃতসর-হাওড়া মেল, রোজ রাত ২.৪৯-এ, হাওড়া পৌঁছোয় তৃতীয় দিন সকাল ৭.২০-তে। রয়েছে অকাল তখৎ এক্সপ্রেস। প্রতি মঙ্গল এবং শুক্রবার দুপুর ১:০৭-এ ছেড়ে কলকাতা স্টেশন পৌঁছোয় পরের দিন বিকেল ৩:১৫-এ। এ ছাড়া আছে ডাউন জম্মু তাওয়াই এক্সপ্রেস। প্রতিদিন সকাল ৮.০৩-এ ছেড়ে কলকাতা স্টেশন পৌঁছোয় পরের দিন বিকেল ৩:৫৫-এ। অমৃতসর-হাওড়া এক্সপ্রেস প্রতিদিন রাত ২.৩৩-এ ছেড়ে হাওড়া পৌঁছোয় তৃতীয় দিন বিকেল পৌনে ৪টেয়।

হরিদ্বার থেকে ফেরার ট্রেন। উপাসনা এক্সপ্রেস প্রতি বুধ এবং শনিবার রাত ১১:৫০-এ ছেড়ে, হাওড়া পৌঁছোয় তৃতীয় দিন ভোর ৩:১৫-এ। বাকি পাঁচদিন একই সময় রয়েছে কুম্ভ এক্সপ্রেস। দুন এক্সপ্রেস রোজ রাত্রি ১০.১০-এ ছেড়ে তৃতীয় দিন সকাল ৬.৫৫-য় হাওড়া। এ ছাড়াও দিল্লি হয়ে ফিরতে পারেন।

সারা দিনে হরিদ্বার থেকে দিল্লি আসার অনেক ট্রেন আছে। ট্রেনের মান অনুযায়ী সময় লাগে সাড়ে চার ঘণ্টা থেকে বারো ঘণ্টা। দেশের অন্য শহরের সঙ্গে হরিদ্বারের ট্রেন যোগাযোগ থাকলেও তা খুব সীমিত। তাই সে ক্ষেত্রে দিল্লি হয়ে যাতায়াত করাই ভালো।

tiger fall, chakrata

টাইগার ফল, চক্রাতা।


একটু আরামে ঘুরতে গাড়ি ভাড়া করে নেওয়াই ভালো। সে ক্ষেত্রে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ার জন্য গাড়ি ভাড়া করে সেখানে পৌঁছে স্থানীয় যান বা হেঁটে ঘোরা যেতে পারে। ভ্রমণ-ছক ২ ও ৩-এর ক্ষেত্রে এটা করা যেতেই পারে। আর বাকি তিনটি ছকের ক্ষেত্রে দেহরাদুন বা হরিদ্বার থেকে গাড়ি ভাড়া করে নেওয়া ভালো। হরিদ্বারে স্টেশনের কাছেই ট্যাক্সি ইউনিয়নের স্ট্যান্ড।

=======================


Thursday, June 9, 2022

72>উত্তরাখণ্ড ++কুমায়ন=NO ( 1--5 ) ===TOURE POGRAMS----

 72>উত্তরাখণ্ড ++কুমায়ন=NO ( 1 )  ===TOURE POGRAMS----

উত্তর ভারত:;--

 উত্তরাখণ্ড রাজ্য থেকে সাজিয়ে দিয়েছে পাঁচটি ভ্রমণ-ছক, 

গাড়োয়াল থেকে তিনটি এবং  কুমায়ন থেকে দু’টি। 

========================================

উত্তরাখণ্ড--(1 )---FOR  15 DAYS POGRAMS

(দেহরাদুন --রেণুকাজি, হিমাচল---ডাকপাথার----নাহান – শিবালিক---চক্রাতা---- বন্দরপুঞ্ছ----কানাসার------খারাম্বা চুড়ো ----চিরিমিরি লেক-----থানাডাণ্ডা----রামতাল গার্ডেন----চিন্তাহরণ মহাদেব ----- চুরানি –-----টাইগার ফলস্‌-----লাখামণ্ডল-----কেম্পটি ফলস্‌------মুসৌরি-----ধনৌলটি থেকে গঙ্গোত্রী রেঞ্জ------------খিরসু,-----চৌখাম্বা------ল্যান্সডাউন------কালেশ্বর শিব মন্দির, শাকম্ভরী মন্দির, সেনাবাহিনীর দুর্গা মন্দির----নাজিবাবাদ----)



প্রথম দিন –  হাওড়া থেকে উপাসনা এক্সপ্রেসে দেহরাদুন 

(প্রতি মঙ্গল এবং শুক্রবার দুপুর ১টায় হাওড়া ছেড়ে দেহরাদুন পৌঁছোয় পরের দিন সন্ধ্যা ছ’টায়।) 


দ্বিতীয় দিন – উপাসনা এক্সপ্রেসে এলে রাত্রিবাস দেহরাদুন।

Night halt--at Deradun   OR

তৃতীয় দিন – দুনে এক্সপ্রেসে এলে সকালে পৌঁছন দেহরাদুন। টনস্‌ নদীর তীরে তপকেশ্বর মহাদেব (স্টেশন থেকে সাড়ে ৫ কিমি), সহস্রধারা (১৩ কিমি) ও টনস্‌ নদীর কাছে রবার্স কেভ (৮ কিমি) দেখে যাত্রা করুন ডাকপাথারের উদ্দেশে। দূরত্ব ৪০ কিমি। রাত্রিবাস যমুনার ধারে ডাকপাথারে।

Night halt--ar Dakpathar

4TH DAY----

রেণুকাজি, হিমাচল।

চতুর্থ দিন – ডাকপাথার থেকে প্রথমে চলুন25 কিমি দূরে হিমাচলের *পাওনটা সাহেব* — *গুরু গোবিন্দ সিং-এর স্মৃতিবিজড়িত স্থানে*।

এর পর আরও 6 কিমি গিয়ে *নাহান – শিবালিকের* কোলে সুন্দর পাহাড়ি শহর। 

এখন থেকে 45 কি মি দূরে 

*রেণুকাজি*, হিমাচলের বৃহত্তম লেক, পাহাড়ে ঘেরা। 

পরশুরামের মায়ের নামে লেক, রয়েছে পরশুরাম লেকও। তার পাড়ে *পরশুরাম মন্দির।* আরও নানা মন্দির। 

ফিরে গেলাম 72 কিমি পথ পর করে  গিরি নদীর পাড় ধরে পাওনটা হয়ে আবার সেই ডাকপাথারে, 

রাস্থায় পড়বে যমুনার ওপর আসান ব্যারেজ, ডাকপাথারের ১১ কিমি আগে। 

এবার রাত্রিবাস ডাকপাথার।

Night halt--ar Dakpathar

5TH DAY-----

চক্রাতা থেকে বন্দরপুঞ্ছ।

পঞ্চম দিন – ডাকপাথার থেকে গেলাম

51কিমি দূরে  শৈলশহর চক্রাতা (২১৫৩ মিটার)। 

7 কিমি দূরে পথেই পড়বে কালসি। এখানে আছে ১৮৬০ সালে আবিষ্কৃত সম্রাট অশোকের শিলালিপি। এখান থেকেই গাড়ি উপরে উঠতে শুরু করে পাহাড়ে, পৌঁছে যায় সেনাশহর চক্রাতায়। বন্দরপুঞ্ছ দৃশ্যমান। রাত্রিবাস চক্রাতা।

Night Halt at Chkrata.

6TH  DAY----& 7 TH DAY

কানাসার।

ষষ্ঠ দিন ও সপ্তম দিন – অন্তত এই দু’টো দিনও থাকতে হবে চক্রাতায়।

চক্রাতায় দ্রষ্টব্য –

     প্রথম দিনে-----

(1) 3KM দূরে খারাম্বা চুড়ো 

      ( 3084 Miter hight) – 

(2) 2KM দূরে চিরিমিরি লেক।

(3) 1KM দূরে  চড়াই পথে থানাডাণ্ডা — চিরিমিরি লেক থেকে চড়াই পথে।

(4) 8KM দূরে রামতাল গার্ডেন ।

(5) চিন্তাহরণ মহাদেব – চক্রাতা বাজার থেকে কিছুটা নেমে।

=চক্রাতায় দ্বিতীয় দিন---

(6) 26 KM দূরে কানাসার – বিশাল বিশাল কাণ্ডওয়ালা দেবদারুর জঙ্গল ও কানাসার দেবতার মন্দির ।

(7) দেওবন – তুষারমৌলী হিমালয়ের দৃশ্য। 

এখানে 10 KM পথ,তবে শেষ 2 কিমি হাঁটা পথ।

(৮) চুরানি – ১৮ কিমি, সুন্দর নৈসর্গিক দৃশ্য।

(9) 5KM দূরে  টাইগার ফলস্‌ ।

(10) লাখামণ্ডল –এখানে আছে নানা দেবতার  অনেক মন্দির। আর আছে পাহাড়ের গায়ে বিশাল কিছু গহ্বর। জনশ্রুতি, পঞ্চপাণ্ডবদের পুড়িয়ে মারার জন্য এখানেই তৈরি হয়েছিল লাক্ষার জতুগৃহ। নীচ দিয়ে বয়ে চলেছে বার্নি নদী।

8TH DAY----

কেম্পটি ফলস্‌।

অষ্টম দিন – চলুন মুসৌরি, ৮০ কিমি। পথে দেখে নিন কেম্পটি ফলস। রাত্রিবাস মুসৌরি।

9 TH DAY---------

নবম দিন – আজও থাকুন মুসৌরিতে। হাঁটাহাঁটি করুন ম্যালে। দেখে নিন ক্যামেলস ব্যাক রোডে দুর্গা মন্দির, ভাট্টা ফলস, নাগ দেবতা মন্দির, গান হিল পয়েন্ট, মোসি ফলস, ফ্লাগ হিল, লাল টিব্বা (২৬১০ মি)। গান হিল বেড়িয়ে নিন রোপওয়ে চেপে। রাত্রিবাস মুসৌরি।

10 TH DAY-----

ধনৌলটি থেকে গঙ্গোত্রী রেঞ্জ।

দশম দিন – মুসৌরি থেকে ধনৌলটি (২২৮৬ মি)। দূরত্ব ৩২ কিমি। মুসৌরি থেকে এলে ধনৌলটিতে রাস্তার বাঁ দিক বরাবর গাড়োয়াল হিমালয়ের বিশাল রেঞ্জ চোখে পড়ে। সকাল সকাল চলে আসুন, যাতে সারা দিন হাঁটাহাঁটি করে কাটাতে পারেন। ইচ্ছে হলে চলুন ৩০৪৯ মিটার উচ্চতায় সুরখণ্ডাদেবীর (দুর্গা) মন্দির। চাম্বার পথে ৫ কিমি গিয়ে ২ কিমি চড়াই ভাঙা। হিমালয়ের দৃশ্য ভোলার নয়। বিকেল হওয়ার আগে চলুন ধনৌলটি ভিউ পয়েন্ট। দেড় কিমি ট্রেক। উপরে উঠে বিস্তীর্ণ বুগিয়াল। নয়নাভিরাম সূর্যাস্ত। রাত্রিবাস ধনৌলটি।

11 TH DAY-----

একাদশ দিন – ধনৌলটি থেকে চলুন খিরসু, ১৪৬ কিমি। পথ চাম্বা-নিউ টিহরি-শ্রীনগর (কাশ্মীরের নয়) হয়ে। হিমালয়ের দিগন্তবিস্তৃত শিখররাজির জন্য খ্যাতি খিরসুর (১৭০০ মি)। রাত্রিবাস খিরসু।

খিরসু থেকে। একেবারে ডান দিকে 

12 TH DAY-----

চৌখাম্বা।

দ্বাদশ দিন – খিরসু থেকে চলুন পৌড়ি (১৯ কিমি, ১৮১৪ মি)। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তে ত্রিশূল, হাতি পর্বত, নীলকণ্ঠ, কেদারনাথ, চৌখাম্বা, ভৃগুপন্থ, গঙ্গোত্রী গ্রুপ, বন্দরপুঞ্ছ ছাড়াও তুষারে মোড়া হিমালয়ের শিখররাজির শোভা দেখুন। দেখুন বাসস্ট্যান্ডে লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির, ২ কিমি দূরে ঘন জঙ্গলে কান্ডোলিয়া শিবমন্দির। রাত্রিবাস পৌড়ি।

13 TH DAY-----

ত্রয়োদশ দিন – চলুন ল্যান্সডাউন (১৭১৬ মি), ৮৬ কিমি। রাত্রিবাস ল্যান্সডাউন।

14 TH DAY-----

চতুর্দশ দিন – আজও থাকুন ল্যান্সডাউনে। টিপ-এন-টপ পয়েন্ট থেকে দেখুন অসংখ্য গিরিশিরা। রমণীয় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত। আরও দেখুন দরওয়ান সিং মিউজিয়াম, ভুল্লা তাল, সেন্ট মেরি চার্চ, সেন্ট জন চার্চ, কালেশ্বর শিব মন্দির, শাকম্ভরী মন্দির, সেনাবাহিনীর দুর্গা মন্দির।

15 TH DAY----

ভুল্লা তাল, ল্যান্সডাউন।

পঞ্চদশ দিন – ল্যান্সডাউন থেকে নাজিবাবাদ এসে সেখান থেকে ফেরার ট্রেন ধরতে পারেন। দূরত্ব ৬৩ কিমি। পথে সম্ভব হলে দেখে নিন কোটদ্বার থেকে ১৪ কিমি দূরে কণ্বাশ্রম, শকুন্তলার বড়ো হওয়ার জায়গা কণ্ব মুনির আশ্রম।

(পঞ্চদশ দিন ল্যান্সডাউন থেকে হরিদ্বার চলে আসতে পারেন। দূরত্ব ১০৬ কিমি। হরিদ্বার থেকে হাওড়া ফেরা — ভ্রমণ-ছক ২-এর চতুর্দশ দিন দেখুন।)

———————————————————————-

===========================================================

=========================================================


 =উত্তরাখণ্ড=NO (2 )----FOR--15 DAYS POGRAMS



  (গঙ্গোত্রী-বদরীনাথ)

( হরিদ্বারের----উত্তরকাশী---হরসিল-----গঙ্গোত্রী মন্দির-----অলকানন্দা তীরে শ্রীনগর-----জোশীমঠ-------বদরীনাথ----নীলকণ্ঠে সূর্যোদয়---ব্যাস গুহা-----অলকানন্দা ও সরস্বতীর সঙ্গম কেশবপ্রয়াগ,-------- ------সরস্বতীর ওপরে পাথরের ভীম পুল---- বসুধারা ফলস্‌,------চরণপাদুকা------কেবল্‌ কারে আউলির পথে-----বদরীনাথ থেকে আউলি----- রুদ্রপ্রয়াগ------দেবপ্রয়াগ-----হরিদ্বারে )


প্রথম দিন – হরিদ্বারের উদ্দেশে ট্রেন। হাওড়া থেকে হরিদ্বার যাওয়ার জন্য রয়েছে উপাসনা এক্সপ্রেস। আমরা শুক্রবার দুপুরে  একটায় উপাসনা এক্সপ্রেস ধরে  হরিদ্বার পৌঁছোলাম  পরের দিন বিকেল ৩:৫০-এ। জগদীশ রিজার্ভেশন ব্যবস্থা করতে না পেরে দিল্লি হয়ে পৌঁছলো হরিদ্বারে। হরিদ্বারে আমরা ৪ জন  একসাথে হলাম 

   (হাওড়া থেকে রাজধানী বা দুরন্ত ধরে বা শিয়ালদহ থেকে রাজধানী বা দুরন্ত ধরে দ্বিতীয় দিন দিল্লি আসা যায় । দিল্লি থেকে হরিদ্বার ১৮০ কিমি। গাড়িতে  খুব ভালো ভাবে আসা যায়। এখানে মুহুর্মুহু বাসও পাওয়া যায় ।)

দ্বিতীয় দিন ::---------

**হরিদ্বারেই নাইট হল্ট 

 তৃতীয় দিন – হরিদ্বার থেকে উত্তরকাশী। দূরত্ব ১৮৫ কিমি। রাত্রিবাস উত্তরকাশী ( উচ্চতা ১১৫৮ মি)।উত্তরকাশী।

চতুর্থ দিন – সকালে উত্তরকাশীর বিশ্বনাথ ও অন্যান্য মন্দির দেখে এবং ভাগীরথীর ধারে কেদারঘাট ঘুরে  ৭৫ কি মি  রের পথ পাড়িদিয়ে  পৌঁছে গেলাম ভাগীরথী উপত্যকায় পাইন ও দেবদারুর ছাওয়া অপূর্ব  সৌন্দর্যের পাহাড়ি জনপদ হরসিল ( উচ্চতা ২৬২০ মি)। পথে দেখলাম  গাংনানির উষ্ণপ্রস্রবণ। 

***রাত্রিবাস হরসিল।

গঙ্গোত্রী মন্দির।

পঞ্চম দিন –২৫ কি মি দূরে  পৌঁছে গেলাম গঙ্গোত্রী (উচ্চতা ৩০৪২ মি),। 

***রাত্রিবাস হরসিল।

ষষ্ঠ দিন – হরসিল থেকে চলুন অলকানন্দা তীরে শ্রীনগর (৫৭৯ মি), ২২১ কিমি। রাত্রিবাস শ্রীনগর।


সপ্তম দিন – শ্রীনগর থেকে চলুন জোশীমঠ (১৮৭৫ মি), ১২৩ কিমি। দেখে নিন বাসস্ট্যান্ডের ১ কিমি নীচে নৃসিংহ মন্দির, বাসস্ট্যান্ডের উপরে শংকরাচার্য প্রতিষ্ঠিত জ্যোতির্মঠ। রাত্রিবাস জোশীমঠ।


অষ্টম দিন – চলুন বদরীনাথ। দূরত্ব ৪৬ কিমি। পথে পড়বে বিষ্ণুপ্রয়াগ, অলকানন্দা ও ধৌলিগঙ্গার সঙ্গম। রাত্রিবাস বদরীনাথ।

নীলকণ্ঠে সূর্যোদয়, বদরীনাথ থেকে।

নবম দিন – আজও থাকুন বদরীনাথে। ৩১৫৫ মিটার উচ্চতায় বদরীনাথ। শ্বেতশুভ্র নীলকণ্ঠ (৬৫৯৬ মি) মুকুট হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বদরীনাথের শিরে।

বদরীনাথে দেখে নিন —

(১) নীলকণ্ঠে সূর্যোদয়।

(২) দোকানপাটের মধ্যে দিয়ে নেমে ঝোলাপুলে অলকানন্দা পেরিয়ে বদরীনাথের মন্দির।

(৩) সন্ধায় দেখুন আরতি।

(৪) চলুন মানা গ্রাম, তিব্বতের পথে শেষ বসতি, ৩ কিমি। দেখে নিন ব্যাস গুহা, অলকানন্দা ও সরস্বতীর সঙ্গম কেশবপ্রয়াগ, সরস্বতীর ওপরে পাথরের ভীম পুল। এখান থেকে ৫ কিমি হেঁটে বসুধারা ফলস্‌, ১২২ মিটার উঁচু।

(৫) চরণপাদুকা – জিএমভিএন ট্যুরিস্ট লজ থেকে ৩ কিমি হাঁটা, খুব চড়াই নয়। জনশ্রুতি, পাথরে বিষ্ণুর পায়ের চিহ্ন।

কেবল্‌ কারে আউলির পথে।

দশম দিন – বদরীনাথ থেকে আউলি (২৫১৯-৩০৪৯ মি), দূরত্ব ৫৬ কিমি। পুরোটা গাড়িতে যেতে পারেন, আবার জোশীমঠ থেকে কেবল কারেও ঘুরে আসতে পারেন। আউলিতে দেখুন দিগন্তবিস্তৃত হিমালয়ের শৃঙ্গরাজি। শৃঙ্গরাজির মাথায় সূর্যাস্ত অতুলনীয়।

(কেবল কারেই চলুন। প্রথমে চলুন ১০ নম্বর টাওয়ার স্টেশনে, কেবল কার এতটাই আসে। এখানে নেমে গড়সন বুগিয়াল দেখে ফেরার পথে ৮ নম্বর টাওয়ার স্টেশনে নেমে সেখান থেকে চেয়ার কারে আউলি চলে আসুন। জোশীমঠে কেবল কার স্টেশনে টিকিট কাটার সময় আপনার প্ল্যান জানিয়ে দিলে সেইমতো ব্যবস্থা হয়ে যাবে। টিকিটে যাতায়াতের ভাড়া ধরা। ফেরার দিন জানিয়ে দেবেন। সঙ্গে গাড়ি থাকলে জোশীমঠে এক দিন রেখে দেবেন।)

একাদশ দিন – আউলি থেকে চলুন রুদ্রপ্রয়াগ (৬১০মি), অলকানন্দা-মন্দাকিনী সঙ্গম, ১২৪ কিমি। পথে দেখুন নন্দপ্রয়াগ, অলকানন্দা ও নন্দাকিনীর সঙ্গম এবং কর্ণপ্রয়াগ, অলকানন্দা ও পিন্ডারগঙ্গার সঙ্গম। বিকেলে ঘুরে নিন সঙ্গমের কাছে রুদ্রনাথ শিবমন্দির, জগদম্বা মন্দির, অন্নপূর্ণা মন্দির। রাত্রিবাস রুদ্রপ্রয়াগ।

দেবপ্রয়াগ।

দ্বাদশ দিন– রুদ্রপ্রয়াগ থেকে হরিদ্বার, ১৬৪ কিমি। পথে দেখে নিন দেবপ্রয়াগ, অলকানন্দা ও ভাগীরথীর সঙ্গম। এখানেই অলকানন্দার যাত্রা শেষ। গঙ্গার পথ চলা শুরু। রাত্রিবাস হরিদ্বার।

ত্রয়োদশ দিন – আজও থাকুন হরিদ্বারে। হরিদ্বারে দেখে নিন গঙ্গারতি, মনসা পাহাড়, চণ্ডী পাহাড়, কনখল ইত্যাদি। মনসা পাহাড়, চণ্ডী পাহাড় যাওয়ার জন্য রোপওয়ে-ও আছে।

চতুর্দশ দিন – হরিদ্বার থেকে ফেরার ট্রেন। উপাসনা এক্সপ্রেস প্রতি বুধ এবং শনিবার রাত ১১:৫৫-এ ছেড়ে, হাওড়া পৌঁছোয় তৃতীয় দিন ভোর ৩:১৫-এ। বাকি পাঁচদিন একই সময় রয়েছে কুম্ভ এক্সপ্রেস। দুন এক্সপ্রেস রোজ রাত্রি সওয়া ১০টায় ছেড়ে তৃতীয় দিন সকাল ৬.৫৫-য় হাওড়া। এ ছাড়াও দিল্লি হয়ে ফিরতে পারেন।

==================================================================

########################################################################

--===========================================================


 উত্তরাখণ্ড==NO (3 )----FOR---17 DAYS POGRAMS

CHAR DHAM YATRA------

( হরিদ্বার---জানকীচটি---যমুনোত্রী----গঙ্গোত্রীর---ভাগীরথী ও কেদারগঙ্গার সঙ্গম----উত্তরকাশী------------------গুপ্তকাশী------ শোনপ্রয়াগ------ভীমবলী-----ভীমবলী ১০ কিমি হেঁটে অথবা লিনচোলি হলে ৪ কিমি হেঁটে কেদারনাথ ----কেদার থেকে হেঁটে শোনপ্রয়াগ------উখিমঠ----জোশীমঠ-----সীমান্ত গ্রাম মানা-----বদরীনাথ----অলকানন্দা ও ধৌলিগঙ্গার সঙ্গম----চরণপাদুকা----বদরীনাথ থেকে পৌঁছে যান হরিদ্বার,--)


প্রথম দিন – হরিদ্বারের উদ্দেশে ট্রেন। হাওড়া থেকে হরিদ্বার যাওয়ার জন্য রয়েছে উপাসনা এক্সপ্রেস। আমরা শুক্রবার দুপুরে  একটায় উপাসনা এক্সপ্রেস ধরে  হরিদ্বার পৌঁছোলাম  পরের দিন বিকেল ৩:৫০-এ। জগদীশ রিজার্ভেশন ব্যবস্থা করতে না পেরে দিল্লি হয়ে পৌঁছলো হরিদ্বারে। হরিদ্বারে আমরা ৪ জন  একসাথে হলাম 

   (হাওড়া থেকে রাজধানী বা দুরন্ত ধরে বা শিয়ালদহ থেকে রাজধানী বা দুরন্ত ধরে দ্বিতীয় দিন দিল্লি আসা যায় । দিল্লি থেকে হরিদ্বার ১৮০ কিমি। গাড়িতে  খুব ভালো ভাবে আসা যায়। এখানে মুহুর্মুহু বাসও পাওয়া যায় ।)

দ্বিতীয় দিন ::---------

**হরিদ্বারেই নাইট হল্ট 

তৃতীয় দিন – হরিদ্বার থেকে জানকীচটি, ২২১ কিমি। রাত্রিবাস জানকীচটি।

যমুনোত্রীর পথে।

চতুর্থ দিন – যমুনোত্রী (৩২৯১ মি) ঘুরে আসা। যাতায়াতে ১০ কিমি মতো হাঁটা। রাত্রিবাস জানকীচটি।

পঞ্চম দিন – সক্কালে যাত্রা করুন গঙ্গোত্রীর উদ্দেশে, ২২০ কিমি। রাত্রিবাস গঙ্গোত্রী।

ষষ্ঠ দিন – আজও থাকুন গঙ্গোত্রীতে (৩০৪২ মি)। উপভোগ করুন ভাগীরথী ও কেদারগঙ্গার সঙ্গমে গঙ্গোত্রীর সৌন্দর্য।

সপ্তম দিন – গঙ্গোত্রী থেকে উত্তরকাশী, ৯৫ কিমি। ঘোরাঘুরি। রাত্রিবাস উত্তরকাশী। (দেখুন ভ্রমণ-ছক ২)

অষ্টম দিন – চলুন গুপ্তকাশী, ১৯৪ কিমি। দেখে নিন বাসপথের কিছুটা উপরে কেদারের মন্দিরের আদলে তৈরি শিব মন্দির। রাত্রিবাস গুপ্তকাশী।

নবম দিন – ভোরে বেরিয়ে গুপ্তকাশী থেকে শোনপ্রয়াগ (৩০ কিমি) পৌঁছে হাঁটা শুরু। ১০ কিমি হেঁটে রাত্রিবাস ভীমবলী (৮৭৩০ ফুট)। অথবা আরও ৬ কিমি এগিয়ে লিনচোলিতেও (১০৩৩০ ফুট) থাকতে পারেন।

কেদারের নতুন পথ।

দশম দিন – ভীমবলী হলে ১০ কিমি হেঁটে অথবা লিনচোলি হলে ৪ কিমি হেঁটে কেদারনাথ (১১৭৫৫ ফুট)। রাত্রিবাস কেদারনাথ।

একাদশ দিন – কেদার থেকে হেঁটে শোনপ্রয়াগ আসুন (২০ কিমি), চলুন উখিমঠ (১৩১১ মি), ৪৪ কিমি। মন্দির দর্শন। রাত্রিবাস উখিমঠ।

দ্বাদশ দিন – উখিমঠ থেকে চলুন জোশীমঠ, ১২৯ কিমি। রাত্রিবাস জোশীমঠ। (দেখুন ভ্রমণ-ছক ২)।

সীমান্ত গ্রাম মানা।

ত্রয়োদশ দিন – চলুন বদরীনাথ। দূরত্ব ৪৬ কিমি। পথে পড়বে বিষ্ণুপ্রয়াগ, অলকানন্দা ও ধৌলিগঙ্গার সঙ্গম। 

রাত্রিবাস বদরীনাথ।

নীলকণ্ঠে সূর্যোদয়, বদরীনাথ থেকে।

চতুর্দশ দিন – আজও থাকুন বদরীনাথে। ৩১৫৫ মিটার উচ্চতায় বদরীনাথ। শ্বেতশুভ্র নীলকণ্ঠ (৬৫৯৬ মি) মুকুট হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বদরীনাথের শিরে।

বদরীনাথে দেখে নিন —

(১) নীলকণ্ঠে সূর্যোদয়।

(২) দোকানপাটের মধ্যে দিয়ে নেমে ঝোলাপুলে অলকানন্দা পেরিয়ে বদরীনাথের মন্দির।

(৩) সন্ধায় দেখুন আরতি।

(৪) চলুন মানা গ্রাম, তিব্বতের পথে শেষ বসতি, ৩ কিমি। দেখে নিন ব্যাস গুহা, অলকানন্দা ও সরস্বতীর সঙ্গম কেশবপ্রয়াগ, সরস্বতীর ওপরে পাথরের ভীম পুল। এখান থেকে ৫ কিমি হেঁটে বসুধারা ফলস্‌, ১২২ মিটার উঁচু।

(৫) চরণপাদুকা – জিএমভিএন ট্যুরিস্ট লজ থেকে ৩ কিমি হাঁটা, খুব চড়াই নয়। জনশ্রুতি, পাথরে বিষ্ণুর পায়ের চিহ্ন।

পঞ্চদশ দিন– বদরীনাথ থেকে পৌঁছে যান হরিদ্বার, ৩১৬ কিমি। রাত্রিবাস হরিদ্বার।

ষোড়শ দিন – হরিদ্বার ঘুরুন (দেখুন ভ্রমণ-ছক ২)। রাত্রিবাস হরিদ্বার।

সপ্তদশ দিন – হরিদ্বার থেকে ঘরপানে। (দেখুন ভ্রমণ-ছক ২)।

==========================================================

====================================================



(১) চক্রাতায় অনেক জায়গা আছে, যেখানে জিপই ভরসা।


(২) গাড়ি যদি পুরো ভ্রমণটার জন্য ভাড়া করা থাকে, তা হলে আউলির ক্ষেত্রে জোশীমঠে ১ দিন এবং কেদারের ক্ষেত্রে শোনপ্রয়াগে ২ দিন গাড়ি রেখে দিন।


(৩) কেদারযাত্রীদের শোনপ্রয়াগ থেকে কেদার যাত্রার ছাড়পত্র সংগ্রহ করতে হবে।

=======================================================

 

 =উত্তরাখণ্ড==No (4)----FOR--14 DAYS POGRAMS==কুমায়ুন

( হাওড়া----বরেলি----লোহাঘাটের----শ্যামলাতাল----চম্পাবতের মন্দিরগুচ্ছ,----মানেশ্বর মহাদেব--------------মায়াবতী আশ্রম-----পিথোরাগড়-----কামাখ্যা মন্দির-----রাইগুম্ফা----সোমেশ্বর মহাদেব--- চন্দক পাহাড়-----মোস্তামানুর শিবমন্দির-----উল্কাদেবীর মন্দির-----চন্দকের পথে----পশুপতিনাথ মন্দির-----------পঞ্চচুল্লি---মুন্সিয়ারি------বুগিয়ালের মাঝে নন্দামাঈয়ের মন্দির----গৌরীগঙ্গা-----চৌকরি----পাতাল ভুবনেশ্বর (গুহা ভাস্কর্যের জন্য বিখ্যাত) এবং গঙ্গোলিহাট (মহাকালী মন্দির)----বিনসর----বিনসর অভয়ারণ্যের-----কাসারদেবী মন্দির----চিতাই গুলু দেবতা মন্দির--জাগেশ্বরের মন্দিরগুচ্ছ--আলমোড়া রামকৃষ্ণ আশ্রম--আলমোড়া শহর-----শীতলাখেত----মুক্তেশ্বর----আইভিআরআই-এর চত্বর থেকে হিমালয়ের তুষারশৃঙ্গের সারি-----চৌথি কি জালি – সানসেট পয়েন্ট----ঐতিহাসিক পূর্ত বাংলো – করবেট-----নৈনিতাল ঘুরে চলুন নৌকুচিয়াতাল--- কাঠগোদাম---দিল্লি---হাওড়া. )



((((কুমায়ুন বলতেই বাঙালির কাছে নৈনিতাল-রানিখেত-আলমোড়া-কৌশানি। তবে বেশ কয়েক বছর হল বাঙালিদের কাছে ক্রমে জায়গা করে নিচ্ছে , চৌকরির মতো আরও কিছু জায়গা। কুমায়ুন ভ্রমণের প্রথম ছকে সেই সব জায়গার সন্ধান।))))

প্রথম দিন – ট্রেনে চলুন বরেলি। চেষ্টা করুন এমন ট্রেন ধরতে যেটা সক্কালে বরেলি পৌঁছোয়। এ ক্ষেত্রে সব থেকে ভালো ট্রেন অকাল তখৎ এক্সপ্রেস। ট্রেনটি প্রতি বুধ এবং রবিবার সকাল ৭:৪০-এ হাওড়া থেকে ছেড়ে বরেলি পৌঁছোয় পরের দিন সকাল সওয়া ছ’টায়। কলকাতা-নাঙ্গাল ড্যাম এক্সপ্রেস, প্রতি বৃহস্পতিবার ছাড়ে। সময় অকাল তখতের মতোই। হাওড়া-লালকুয়াঁ এক্সপ্রেস প্রতি শুক্রবার ৮:১৫-য় হাওড়া ছেড়ে বরেলি পৌঁছোয় পরের দিন ভোর ৪:৫৫-এ। হাওড়া-জয়সলমীর এক্সপ্রেস ছাড়ে প্রতি সোমবার। সময় লালকুয়াঁ এক্সপ্রেসের মতোই।

শ্যামলাতাল।

দ্বিতীয় দিন – বরেলি পৌঁছে যাত্রা করুন লোহাঘাটের উদ্দেশে, দূরত্ব ১৯৯ কিমি। পথে দেখুন শ্যামলাতাল (১৫২৫ মি), চম্পাবতের মন্দিরগুচ্ছ, লোহাঘাটের ৯ কিমি আগে পাহাড়ের মাথায় মানেশ্বর মহাদেব। রাত্রিবাস লোহাঘাট।

তৃতীয় দিন – সক্কালে বেরিয়ে পড়ুন। প্রথমে চলুন ৯ কিমি দূরে স্বামী বিবেকানন্দ স্মৃতি বিজড়িত মায়াবতী আশ্রম (২০৭৩ মি)। লোহাঘাট ফিরে যাত্রা করুন পিথোরাগড়ের উদ্দেশে। পথে দেখুন ওক ও পাইনে ছাওয়া অ্যাবট মাউন্ট (২০১৮ মি, লোহাঘাট থেকে ৯-১০ কিমি), গুরনামাতা মন্দির (পিথোরাগড় থেকে ১৩ কিমি আগে, পথের ধারেই)। অ্যাবট মাউন্ট ঘুরে এলে লোহাঘাট থেকে পিথোরাগড় ৭৫ কিমি মতো। রাত্রিবাস পিথোরাগড় (১৬৪৫ মি)।

পিথোরাগড়ে দেখে নিন –

(১) কামাখ্যা মন্দির – ৭ কিমি।

(২) রাইগুম্ফা – ৩০টি সিঁড়ি নেমে সোমেশ্বর মহাদেব।

(৩) চন্দক পাহাড় – ৬ কিমি, যাওয়ার প্রশস্ত সময় সূর্যাস্ত, হিমালয়ের নানা শৃঙ্গ দৃশ্যমান।

(৪) মোস্তামানুর শিবমন্দির – চন্দক পাহাড় থেকে ২ কিমি।

(৫) উল্কাদেবীর মন্দির – চন্দকের পথে।

(৬) পশুপতিনাথ মন্দির – মোস্তামানুরের পথে।

সূর্যাস্তে পঞ্চচুল্লি, মুন্সিয়ারি।

চতুর্থ দিন – চলুন মুন্সিয়ারি (২২৯০ মি), ১২৫ কিমি। পথে দেখে নিন বিরথি জলপ্রপাত, কালামুনিতে (৮৮৫৬ ফুট) কালিকাদেবী মন্দির, পঞ্চচুল্লি দর্শন। রাত্রিবাস মুন্সিয়ারি।

পঞ্চম দিন – আজও থাকুন মুন্সিয়ারিতে। যেন হাত বাড়ালেই পঞ্চচুল্লি। কোথাও না গিয়ে সারা দিন উপভোগ করুন। সূর্যোদয় দেখুন, সূর্যাস্তেও রঙের খেলা চলে পঞ্চচুল্লিতে। ইচ্ছে হলে ঘুরে আসুন সবুজ বুগিয়ালের মাঝে নন্দামাঈয়ের মন্দির, ড. এস এস পাংথির মিউজিয়াম, ১০ কিমি দূরে ধারকোট গ্রাম (১৫০ বছরের পুরোনো ঘরবাড়ি, একটু নেমে গেলেই গৌরীগঙ্গা)।

চৌকরি।

ষষ্ঠ দিন – মুন্সিয়ারি থেকে চৌকোরি (২০১০ মি), ৯৬ কিমি। প্রকৃতির তৈরি এক অসাধারণ ব্যালকনি। চৌখাম্বা থেকে পঞ্চচুল্লি, হিমালয়ের প্যানোরামিক ভিউ। রাত্রিবাস চকৌরি।

সপ্তম দিন – চকৌরি থেকে ঘুরে আসুন পাতাল ভুবনেশ্বর (গুহা ভাস্কর্যের জন্য বিখ্যাত) এবং গঙ্গোলিহাট (মহাকালী মন্দির)। মোট দূরত্ব ৮০ কিমি। রাত্রিবাস চকৌরি।

অষ্টম দিন – চৌকোরি থেকে বিনসর (২৪১২ মি), দূরত্ব ১০৬ কিমি। ৩৫০ কিমি বিস্তৃত তুষারশৃঙ্গ দৃশ্যমান। রাত্রিবাস বিনসর।


বিনসর।

নবম দিন – কেএমভিএন লজ থেকে সূর্যোদয় দেখে সকালে বিনসর অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে হেঁটে আসুন জিরো পয়েন্ট, যাতায়াতে ৪ কিমি। নজরমিনার থেকে দেখুন হিমালয়ের শৃঙ্গরাজি। ঘুরে আসুন কাসারদেবী মন্দির, চিতাই গুলু দেবতা মন্দির, জাগেশ্বরের মন্দিরগুচ্ছ, আলমোড়া রামকৃষ্ণ আশ্রম এবং আলমোড়া শহর। যাতায়াতে ৮০ কিমি মতো। রাত্রিবাস বিনসর।

দশম দিন – বিনসর থেকে চলুন শীতলাখেত (১৮২৮ মি), ৬০ কিমি। পথে দেখে নিন কাতারমল সূর্য মন্দির। রাত্রিবাস শীতলাখেত।

একাদশ দিন – চলুন মুক্তেশ্বর (২২৮৬ মি), দূরত্ব ৫৯ কিমি। রাত্রিবাস মুক্তেশ্বর।

মুক্তেশ্বর।

দ্বাদশ দিন – আজও থাকুন মুক্তেশ্বরে। দেখে নিন –

(১) আইভিআরআই-এর চত্বর থেকে হিমালয়ের তুষারশৃঙ্গের সারি।

(২)  চৌথি কি জালি – সানসেট পয়েন্ট।

(৩) মুক্তেশ্বর শিবমন্দির – মন্দির থেকে কিছুটা হাঁটার পর মুক্তেশ্বর পাহাড়ের পশ্চিমমুখী অংশ হঠাৎ শেষ, ৩০০০ ফুট নেমে গিয়েছে, বিস্তৃত উপত্যকা।

(৪) ঐতিহাসিক পূর্ত বাংলো – করবেট যেখানে থাকতেন।

ত্রয়োদশ দিন – নৈনিতাল ঘুরে চলুন নৌকুচিয়াতাল। দূরত্ব ৭২ কিমি।

চতুর্দশ দিন – ঘরে ফেরা। ট্রেন ধরতে পারেন কাঠগোদাম থেকে। দুরত্ব ২৫ কিমি। তবে দিল্লি হয়ে ফেরার চেষ্টা করুন। কারণ কাঠগোদাম থেকে হাওড়ার একমাত্র ট্রেন অর্থাৎ বাঘ এক্সপ্রেস সময় অনেক বেশি সময় নেয়। কাঠগোদাম থেকে দিল্লি ফেরার জন্য রয়েছে, উত্তর সম্পর্ক ক্রান্তি এক্সপ্রেস। প্রতিদিন সকাল ৮:৫০-এ কাঠগোদাম থেকে ছেড়ে নয়াদিল্লি পৌঁছোয় বিকেল ৩:২৫-এ। কাঠগোদাম-নয়াদিল্লি শতাব্দী এক্সপ্রেস প্রতিদিন বিকেল ৩:৩৫-এ ছেড়ে নয়াদিল্লি পৌঁছোয় রাত ৯:০৫-এ। রানিখেত এক্সপ্রেস, প্রতিদিন রাত ৮:৪০-এ ছেড়ে পুরনো দিল্লি পৌঁছোয় ভোর ৩:৫৫-এ। দিল্লি থেকে হাওড়া ফেরুন।

==========================

——————————————————————


 উত্তরাখণ্ড==- NO ( 5 )=---FOR--16 DAYS POGRAMS=

ভ্রমণ-ছক ৫: নৈনিতাল, রানিখেত, আলমোড়া, কৌশানী


( হাওড়া--নয়াদিল্লি---কাঠগোদাম----3rd day নৈনিতাল---নৈনি লেক, নয়নাদেবীর মন্দির----স্নো ভিউ পয়েন্ট----অবজারভেটরি, নয়না পিক, লরিয়াকান্তা, টিফিন টপ, ল্যান্ডস এন্ড-----সাততাল, ভীম তাল, নৌকুচিয়াতাল--- রানিখেত---চৌবাটিয়া--গলফ কোর্স--কালিকা মন্দির--উপতা--ঝুলা দেবী--কৌশানি-----------অনাশক্তি আশ্রম থেকে সূর্যোদয়---বৈজনাথে গোমতীর তীরে ১১ শতকের মন্দিরগুচ্ছ, গোমতী ও সরযূর সঙ্গমে পুণ্য শৈবতীর্থ বাগেশ্বর----চৌকরি----পাতাল ভুবনেশ্বর এবং গঙ্গোলিহাট-----আলমোড়া-------কাসারদেবী মন্দির, চিতাই গুলু দেবতা মন্দির, জাগেশ্বরের মন্দিরগুচ্ছ, আলমোড়া রামকৃষ্ণ আশ্রম---- --কাঠগোদাম----দিল্লি---হাওড়া. )


(((((এখনও অনেক পর্যটক রয়েছেন যাঁদের কুমায়ুনের ট্র্যাডিশনাল অর্থাৎ নৈনিতাল, রানিখেত, আলমোড়া, কৌশানী না দেখলে মন ভরে না। তাঁদের জন্য এই সূচি।))))

প্রথম দিন – নৈনিতালের উদ্দেশে রওনা। কলকাতা থেকে নৈনিতাল পৌঁছনোর জন্য বাঘ এক্সপ্রেস আছে কিন্তু ট্রেনটি সময় অনেক বেশি নেয়। লেটও করে। তাই অন্য অপশন চেষ্টা করুন। যাত্রার দিন যদি শুক্রবার হয় তা হলে হাওড়া-লালকুয়াঁ এক্সপ্রেস ধরুন। ট্রেনটি সকাল ৮:১৫-য় হাওড়া ছেড়ে লালকুয়াঁ পৌঁছোয় পরের দিন সকাল ৮:৩৫-এ। লালকুয়াঁ থেকে নৈনিতালের দূরত্ব ৪৯ কিমি। এ ছাড়াও দিল্লি হয়ে আসতে পারেন। সে ক্ষেত্রে দ্বিতীয় দিন দিল্লি পৌঁছন। ওই দিন দিল্লিতে থেকে পরের দিন সকাল ছ’টায় নয়াদিল্লি-কাঠগোদাম শতাব্দী এক্সপ্রেসে বেলা ১১:৪০-এ কাঠগোদাম পৌঁছন। অথবা হাওড়া থেকে অমৃতসর মেলে রওনা হয়ে (সন্ধে ৭.১০) দ্বিতীয় দিন বিকেল ৩.১০-এ লখনউ পৌঁছে রাত ৯.৫৫-য় কাঠগোদাম এক্সপ্রেস ধরুন। তৃতীয় দিন সকাল ৮টায় কাঠগোদাম। কাঠগোদাম থেকে নৈনিতাল ২৩ কিমি। (তৃতীয় দিন নৈনিতাল পৌঁছনোর হিসেব করেই এই ভ্রমণসূচি দেওয়া হল।)

নৈনিতাল।

তৃতীয় দিন – নৈনিতাল পৌঁছন। দেখে নিন নৈনি লেক, নয়নাদেবীর মন্দির। কেবল কারে চলুন স্নো ভিউ পয়েন্ট। দেখে নিতে পারেন অবজারভেটরি, নয়না পিক, লরিয়াকান্তা, টিফিন টপ, ল্যান্ডস এন্ড। রাত্রিবাস নৈনিতাল (১৯৩৮ মি)।

চতুর্থ দিন – আজও থাকুন নৈনিতালে। ঘুরে আসুন সাততাল, ভীম তাল, নৌকুচিয়াতাল।

পঞ্চম দিন – চলুন রানিখেত (১৮১৯ মি), ৫৫ কিমি। দেখে নিন চৌবাটিয়া, গলফ কোর্স, কালিকা মন্দির, উপতা, ঝুলা দেবী। রাত্রিবাস রানিখেত।

কৌশানি।

ষষ্ঠ দিন – চলুন কৌশানি (১৮৯০ মি), দূরত্ব ৫৮ কিমি। কৌশানির খ্যাতি তুষারাচ্ছাদিত হিমালয়ের শোভার জন্য। সূর্যাস্ত দেখুন গান্ধীর স্মৃতি বিজড়িত অনাশক্তি আশ্রম প্রাঙ্গণ থেকে। রাত্রিবাস কৌশানি।

সপ্তম দিন – পারলে অনাশক্তি আশ্রম থেকে সূর্যোদয় দেখুন। চলুন চৌকরি, ৮৫ কিমি। পথে দেখে নিন বৈজনাথে গোমতীর তীরে ১১ শতকের মন্দিরগুচ্ছ, গোমতী ও সরযূর সঙ্গমে পুণ্য শৈবতীর্থ বাগেশ্বর।

 রাত্রিবাস চৌকরি।

অষ্টম দিন – ঘুরে আসুন পাতাল ভুবনেশ্বর এবং গঙ্গোলিহাট। যাতায়াত ৮০ কিমি। রাত্রিবাস চৌকরি।

নবম দিন – চৌকরি থেকে আলমোড়া, ১০৬ কিমি। রাত্রিবাস আলমোড়া (১৬৪৬ মি)।

আলমোড়া।

দশম দিন – ঘুরে নিন কাসারদেবী মন্দির, চিতাই গুলু দেবতা মন্দির, জাগেশ্বরের মন্দিরগুচ্ছ, আলমোড়া রামকৃষ্ণ আশ্রম। রাত্রিবাস আলমোড়া।

একাদশ দিন – ফেরার দিন। আলমোড়া থেকে কাঠগোদাম ৮২ কিমি। বাকি নির্দেশ আগের ভ্রমণের চতুর্দশ দিনের মতো।

==================