Saturday, November 6, 2021

68>আমার তমলুক ভ্রমন:--- অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ,সুহ্ম, এবং পুণ্ড্র।=মাতঙ্গিনী হাজরা.

68 >আমার তমলুক ভ্রমন:---=মাতঙ্গিনী হাজরার .

ইচ্ছা ছিল পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক শহর ও আশেপাশের বিশেষ দ্রষ্টব্য স্থান গুলি যেমন  "কপালমোচন"তীর্থ, প্রাচীন বর্গভীমা মন্দির,রাজ বাড়ি, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর সভা স্থল, মাতঙ্গিনী হাজরার পৈতৃক ভিটা,  তমলুকের প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর,   ইত্যাদি ঘুরে দেখব।

আমার বিশেষ পরিচিত পরমেশ্বর মাইতি জানালো ওনার মামা বাড়ি তমলুকের  বর্গভীমা মায়ের মন্দিরের কাছে। এমন সংবাদ পেয়ে আমিও আর দেরি না করে  পরমেশ্বরের সাথে গিয়েছিলাম  তমলুকে।

তমলুক ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার একটি সদর শহর ও পৌরসভা এলাকা । শহরটি রূপনারায়ণ নদীর তিরে অবস্থিত ।

প্রাচীন নগর তাম্রলিপ্ত বর্তমানে তমলুক। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার  ইতিহাস প্রসিদ্ধ স্থান এই শহর। 

সহরের প্রাচীনত্ব সম্বন্ধে খোঁজ করতে গিয়ে জানলাম  ব্রহ্মপুরাণ, মার্কণ্ডেয় পুরাণ, পদ্ম পুরাণ এবং মৎস্য পুরাণে তাম্রলিপ্ত বা তমলুকের নাম উল্লেখ রয়েছে। 

পন্ডিত বলরাম শাস্ত্রীর মুখে শুনলাম

ব্রহ্মপুরাণের কথা, জানলাম  – মহাদেব দক্ষযজ্ঞে ব্রহ্মার পুত্র প্রজাপতি দক্ষ কে নিহত করার পরে, ব্রহ্মহত্যার পাপে দক্ষের ছিন্ন মস্তক মহাদেবের হাতেই যুক্ত হয়ে থাকে। কিছুতেই তিনি এই মস্তক হস্তচ্যুত করতে না পেরে বিষ্ণুর শরণাপন্ন হয়ে ছিলেন।

তখন বিষ্ণু মহাদেবকে  নির্দেশ দিয়েছিলেন কপালমোচন’ তীর্থে গমন ও স্নান করতে কারন সেখানে গিয়ে স্নান করলে সমস্ত পাপ মুক্ত হওয়া যায়।

  সেই ‘কপালমোচন’ তীর্থ এখন আর নেই, সেই জায়গাটি রূপনারায়ণ নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বহু পূর্বে। 

কিন্তু আজও প্রতিবছর পৌষ সংক্রান্তির দিনে তমলুকের পূর্বদিকে শঙ্করআড়া খালে এবং নিকটস্থ ‘কপালমোচন’ তীর্থরূপে চিহ্নিত বাঁধানো পুকুরে স্নান করে ভক্তরা পুণ্যার্জন করেন।

কথিত আছে মৃত লখিন্দরকে নিয়ে সমুদ্র ও নদী পথে ভাসতে ভাসতে বেহুলা তমলুকে এসে উপস্থিত হয়েছিলেন। তমলুক তখন ছিল তাম্রলিপ্ত বন্দর।

তমলুক পুরাকালে বহু নামে অভিহিত হয়েছে; যথা – তমোলিপ্তী, তমোলিপ্ত, তাম্রলিপ্ত, তাম্রলিপ্তী, তামলিপ্তং, তমালিকা, দামোলিপ্তং, তমালিনী ইত্যাদি।

সেকালে ভারতবর্ষের পূর্বাঞ্চল পাঁচটি ভাগে বিভক্ত ছিল – 1>অঙ্গ, 2>বঙ্গ, 3>কলিঙ্গ,4>সুহ্ম, এবং 5>পুণ্ড্র।


অঙ্গ= অর্থাৎ ভাগলপুর অঞ্চল, বিহার; 

বঙ্গ= যা ছিল দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা ও পদ্মা মেঘনার অববাহিকা; 

কলিঙ্গ=যা বর্তমান কটক-উড়িষ্যা অঞ্চল; 

সুহ্ম= অর্থাৎ ভাগীরথীর পশ্চিম দিকের রাঢ় দেশ, বর্তমান মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, বাঁকুড়া, বর্ধমান, হুগলী প্রভৃতি অঞ্চল 

এবং পুণ্ড্র=বর্তমান উত্তরবঙ্গ, বগুড়া, মালদহ, রাজশাহী প্রভৃতি। 


এই সুহ্ম রাজ্যের রাজধানী ছিল তাম্রলিপ্ত নগরী। কিছু  কবি গণের রচনা থেকে জানা যায় এই সুহ্ম রাজ্যের নাম । দামোলিপ্ত বা তাম্রলিপ্ত তখনও সুহ্ম রাজ্যের রাজাধানী ছিল এবং সেখানে দেশী ও বিদেশী জাহাজ আসত বলে বর্ণনা রয়েছে। 

অনেকে মনে করেন ইতিহাসে তমলুকের কথা প্রথম লিপিবদ্ধ হয় চৈনিক পরিব্রাজক ‘ফা-হিয়েনে’র ভারত ভ্রমণের কালে। ফা-হিয়েন তমলুকে  দু’বছর ছিলেন। এই সময়ে তিনি বহু বৌদ্ধপুঁথির প্রতিলিপি প্রস্তুত করেছেন ও মূর্তির ছবি এঁকেছেন। তার বর্ণনায় তিনি তমলুককে বৌদ্ধদের সামুদ্রিক বন্দর বলে উল্লেখ করেছেন। এর প্রায় আড়াইশ বছর পরে চীনদেশীয় তীর্থঙ্কর হিউয়েন-সাঙ  বৌদ্ধ ধর্ম সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ করতে ৬২৯ খ্রিষ্টাব্দে ভারতে আসেন।

তার ভারত ভ্রমণকালে তমলুককে বৌদ্ধদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যবন্দর হিসাবে লিবিবদ্ধ করেছেন। 

৬৩৫ খ্রিষ্টাব্দে হিউয়েন-সাঙ সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাসে তমলুককে প্লাবিত হতে দেখেছেন। উপকূলবর্তী তমলুক তখন মাঝে মাঝেই জলপ্লাবনে ক্ষতি গ্রস্থ হত। 


 সে সময় বহুসংখ্যক সম্পন্ন বণিক তমলুককে কেন্দ্র করে চিন, সিংহল, জাভা, মালয় প্রভৃতি স্থানে সমুদ্রপথে ব্যবসা করতেন।

বৌদ্ধদের মত তমলুকে জৈনদেরও ধর্মকেন্দ্র গড়ে উঠেছিল।

জানাজায় যে ১৫০৭ খ্রীষ্টাব্দে শ্রীচৈতন্যদেব পুরী যাবার পথে তমলুকে গিয়ে ছিলেন। 

পরে আবার ‘তমলুক’-এর নাম পরিবর্তন করে আবার পুরাণো ‘তাম্রলিপ্ত’ করার চেষ্টা বহু লোকের আপত্তিতে কার্যকর করা যায় নি।



তমলুকের প্রাচীন বর্গভীমা মন্দির।


৫১- শক্তি পীঠের অন্যতম মন্দির,,

পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক শহরেই বিরাজিতা মা বর্গভীমা।

মাকে প্রতিনিয়ত ভক্তিভরে স্মরণ করা হয় এখানে। পুরাণে কথিত আছে, বিষ্ণুর সুদর্শনচক্রে খণ্ডিত সতীদেহের বাম গোড়ালি পড়ে এখানে। 

দেবী এখানে নানা রূপে পূজিতা। 

করালবদনাং মুক্তকেশী, মুণ্ডমালা বিভূষিতাম।

এখানে দেবীর ভৈরব হলেন সর্বানন্দ।


তন্ত্রচূড়ামণি' অনুসারে দেবী হলেন কপালিনী। আবার 'শিবচরিত' অনুসারে দেবী হলেন ভীমরূপা। 'পীঠমালাতন্ত্র' অনুসারে কপালিনী ভীমরূপা।


তমলুক শহরের সমস্ত পুজো মণ্ডপেই বর্গভীমা মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর পুজো শুরু হয়। বাড়ি কিংবা ক্লাবের কালীমূর্তির পুজোর অনুমতি বর্গভীমা মন্দিরে পুজো দেওয়ার পরই পাওয়া যায়।

তমলুক শহরে আজও কোনও মণ্ডপে দুর্গাপুজার ঘটস্থাপনের আগে দেবী বর্গভীমা মন্দিরে পুজো দেওয়া হয়।

৩০ ফুট বেদির ওপর ৬০ ফুট উচ্চতার বৌদ্ধ স্থাপত্য ধাঁচে নির্মিত মন্দিরটি। 


দেবী বর্গভীমা চতুর্ভুজা। নীচে রয়েছে শায়িত শিবের মূর্তি। মায়ের ডানহাতের উপরটিতে রয়েছে খড়্গ আর নীচেরটিতে ত্রিশূল। উপরের বাম হাতে খর্পর আর নীচের হাতে মুণ্ড। বর্গভীমার দু'পাশে শোভা পাচ্ছ দশভূজা মহিষমর্দিনী এবং দ্বিভূজা মহিষমর্দিনী মূর্তি।


এই বর্গভীমা মন্দিরের নানান গল্প কথা শোনা যায়।

কথিত আছে যে, মহাভারতের সময়কালে ময়ূরবংশীয় রাজা তাম্রধ্বজের রাজত্বকালে রাজার নির্দেশ অনুযায়ী এক জেলেনী রাজার নির্দেশে রোজ জ্যান্ত শোল মাছ নিয়ে যেতেন রাজবাড়িতে।

একদিন রাজপ্রাসাদে যাওয়ার সময় তিনি লক্ষ করেন সবকটি মাছ মরে গিয়েছে ৷  পাশেই ছিল একটা জলাশয়, সেই জলাশয়ের জল মাছের উপর ছিটিয়ে দিতেই মাছগুলো আবার বেঁচে উঠেছিল। এই অতিলৌকিক ঘটনার কথা রাজা জানতে পারেন। এরপর রাজা সেই জলাশয়ের পাশে বেদীর উপর একটি বিগ্রহ দেখতে পেয়েছিলেন। রাজা বুঝতে পারেন এই দেবী জাগ্রত এবং এই জলাশয়ের জলের দৈবগুণ আছে। তখন রাজা তাম্রধ্বজ এই পবিত্র জলাশয়ের পাশে দেবীর মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা আজও মা বর্গভীমার মন্দির নামেই পরিচিত। আজও এই মন্দিরে প্রত্যেক দিন এবং কালীপূজোর দিন শোল মাছ দিয়ে ভোগ দেওয়া হয়। 

এই মন্দির স্থাপন নিয়ে আরও কএকটি কাহিনি শোনা যায়।

এক ধনপতি সওদাগর নাকি এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই মন্দির প্রতিষ্ঠার কাহিনি থেকেই আন্দাজ করা হয় এই মন্দিরের প্রাচীনত্ব। মা বর্গভীমা তমলুকের এই মাতৃমন্দিরে এক হাজার বছরের বেশি সময় ধরে বিরাজ করছেন বলে সেবায়েতরা জানিয়েছেন।

ভক্তি আর ভয় মিলে মিশে অনেক কিংবদন্তি আছে তমলুকের দেবী বর্গভীম মন্দির নিয়ে। 

কথিত আছে, দেবী বর্গভীমার মন্দিরটি নির্মাণ করেন স্বয়ং বিশ্বকর্মা। তবে, তমলুকের মানুষের বিশ্বাস, ময়ূরবংশীয় রাজাই তৈরি করেন এই মন্দির।

সত্য কিংবা জনশ্রুতি যাই হোক, মা বর্গভীমা তাম্রলিপ্ত বন্দর নগরীর অধিষ্ঠাত্রী কালিকাদেবী। প্রাণভরে মায়ের কাছে কিছু চাইলে মা নাকি ফেরান না।

মঙ্গলকাব্য অনুসারে, এক সওদাগর সিংহল যাওয়ার পথে তমলুক বন্দরে নোঙর করেন। সেই সময় এক ব্যক্তিকে স্বর্ণকলস নিয়ে যেতে দেখেন তিনি। সওদাগর ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করতে তিনি জানান, এখানেই জঙ্গলের ভেতর একটি কুয়ো রয়েছে যার জলে পিতলের কলস ডোবালেই তা সোনার হয়ে যায়। এই কথা শুনে তিনি অনেক পিতলের কলসি কিনে তা ওই জলে ডুবিয়ে সোনা বানিয়ে তা বিক্রি করে বিপুল লাভবান হয়েছিলেন সওদাগর। তাই ফেরার পথে তিনি কুয়োর পাশেই বর্গভীমা মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন।

এমম আরও প্রচলিত কাহিনী আছে।  যেমন– প্রাচীন ময়ূরবংশের রাজা গরুড়ধ্বজের সময়ে একজন জেলেকে শোলমাছ ধরতে পাঠান হয়। একদিন মাছ ধরতে না পারায় ক্রুদ্ধ হয়ে রাজা জেলেকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। গরীব জেলে কোন রকমে জঙ্গলে পালিয়ে যায় এবং সেখানে ভীমাদেবীর সাক্ষাৎ লাভ করে। 

দেবী তাকে শোলমাছ ধরে শুষ্ক করে রাখতে বলেন এবং একটি বিশেষ কূপের জল ছিটিয়ে প্রয়োজন মত মাছগুলি বাঁচিয়ে তুলবেন বলে আশ্বাস দেন। রাজা সারা বছর মাছ পাচ্ছেন দেখে কৌতুহলী হয়ে জেলেকে এর রহস্য জিজ্ঞাসা করেন। জেলে সব কিছু খুলে বলায় কূপের সেই অমৃতবারির কথা প্রকাশ হয়ে পরে। এতে দেবী কুপিত হয়ে পাথরের মূর্তির রূপ ধরেন এবং কূপের মুখে উপবিষ্ট হয়ে মুখটি রুদ্ধ করে দেন যাতে কেউ সেই জল ব্যবহার করতে না পারে। রাজা তাম্রধ্বজ কূপের খোঁজ না পেয়ে পাথরের মূর্তির উপরেই মন্দির নির্মান করে দেন। এবং পূজার প্রচলন করেন এবং পরে কোন রাজা মন্দিরটির সংস্কার সাধন করেন। 

বর্গভীমা মন্দিরটি একান্ন পীঠের অন্তর্ভুক্ত কিনা এ নিয়ে মতভেদ আছে। তথাপি দেবী ভক্তদের মোক্ষদান করেন তাই দেবী বর্গভীমা নামেই পরিচিত। 

নাটমন্দির, যজ্ঞ মন্দির, জগমোহন ও মূল মন্দির রয়েছে এখানে। মূল মন্দিরের গর্ভগৃহে কষ্টিপাথরে নির্মিত দেবীর মূর্তি। কালীপুজোর দিন পূর্ব মেদিনীপুর-সহ পাশের জেলা থেকেও দর্শনার্থীরা আসেন তমলুকের বর্গভীমা মন্দিরে। কালীপুজোর দিন সকাল থেকে   প্রতি বছরই ভক্ত সমাগম ঘটে। সারাদিন চলে বিশেষ পুজোপাঠ। রাতে মাকে রাজরাজেশ্বরী বেশে সাজিয়ে চলে পূজার্চনা হোম যজ্ঞ। পুজো শেষ হয় ভোর রাতে। মাকে ষোড়শ উপাচারে পুজো করা হয়। মায়ের ভোগে শোল মাছ নৈবেদ্য হিসেবে দেওয়া হয়। 

"মা"এর মন্দির সারা বছর প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে। সেই সময় মায়ের কাছে পুজো দেওয়া হয়। রাতে  দেবীর নিদ্রার ব্যবস্থা করা হয়। 

  মা এখানে ভিন্ন ভিন্ন রূপে পূজিতা হন। কখনও দুর্গা, কখনও কালী, কখনও জগদ্ধাত্রী। তবে, যেহেতু মন্দিরের মা কালিকারূপী, তাই শ্যামাপুজোয় বিশেষ পূজার ব্যবস্থা থাকে এবং সেই পূজা ও ভক্তির ভক্তিরস আলাদা মাত্রা পায়।

অনেকে বলেন, ধীবর সম্প্রদায়ের আরাধ্যা 'ভীমা' দেবীই 'বর্গভীমা'।

দেবী বর্গভীমা তমলুক তথা পূর্ব মেদিনীপুর ও বাংলার মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি তীর্থস্থান। লোকশ্রুতি আছে, দেবীর মন্দিরের পাশে থাকা পুষ্করিণীতে ডুব দিয়ে পাওয়া যে কোনও বস্তু লাল সুতো দিয়ে মন্দিরের পার্শ্ববর্তী গাছে বাঁধলে মনস্কামনা পূর্ণ হয়।

বর্গভীমা দেবীর মন্দির শুধু তমলুকে নয় পার্শ্ববর্তী বহুদূর বিস্তৃত অঞ্চলের মানুষের কাছে অত্যন্ত জাগ্রত দেবী হিসাবে স্বীকৃত ও পূজিত।

অনেকে মনে করেন ময়ূরবংশীয় রাজারাই এর প্রতিষ্ঠাতা। ময়ূরবংশের শেষ রাজা নিঃশাঙ্ক নারায়ণ নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যান এবং পরাক্রমশালী ধীবর বংশীয় কালু ভুইঞা সিংহাসনে আরোহণ করেন। কালু ভুইঞাই ছিলেন কৈবর্ত বংশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম নৃপতি। অনেকের মতে কৈবর্ত রাজারাই বর্গভীমা মন্দিরটি নির্মান করেছেন। ষোড়শ শতাব্দীতে ‘চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে’র রচয়িতা মুকুন্দরাম চক্রবর্তী বর্গভীমা মন্দিরের উল্লেখ করেছেন –

তমলুক রাজবাড়ি ও মাতঙ্গিনী হাজরা::--

 শোনা যায়, তমলুকের রাজবাড়ি খ্রিষ্টপূর্ব ৫ম শতাব্দীতে ময়ূরবংশীয় রাজাদের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল এবং সেই রাজা না কি দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সে সকল কথা ও রাজ বাড়ি ইতিহাসের গল্প কথা হয়েই রয়ে গেছে।

যাই হোক, যে রাজবাড়ীর ধংসাবশেষ এখন দেখা যায় সেটি একটি অসমাপ্ত দোতলা বাড়ি। রাজা লক্ষ্মীনারায়ণ (১৮২১-১৮৫৭ খ্রিঃ) বাড়িটি তৈরি করতে শুরু করে পারিবারিক অন্তর্দ্বন্দের কারণে জীবদ্দশায় শেষ করে যেতে পারেন নি। এটি এখন পর্যটকদের একটি দর্শনীয় স্থান হিসাবে চিহ্নিত। 

হান্টার সাহেব রাজবাড়ীটি নদীর তীরে অবস্থিত বলে লিখেছেন, হয় ত তখন তাই ছিল; এখন নদী বহুদূরে।

পরিত্যক্ত এই রাজবাড়ীর এক সময়ে স্বাধীনতা আন্দোলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৩০ সালে লবণ সত্যাগ্রহ আন্দোলনের সময়ে এই বাড়িটিতেই সত্যাগ্রহীদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল। ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সুভাষচন্দ্র বোস জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। সেই বছরেই ১১ই এপ্রিল তমলুকে তার একটি সভার আয়োজন করে। 

কিন্তু অসুবিধা দেখা দেয়, সভার স্থান নিয়ে। ইংরেজ সরকার চান না সুভাষচন্দ্র বক্তৃতা দিয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করুন। সরকারের শাসানিতে অনেকেই তাদের জায়গায় সভা অনুষ্ঠিত হতে দিতে চান নি। এই অবস্থায় এগিয়ে আসেন ময়ূরবংশের 

৬১তম পুরুষ দেশপ্রেমিক রাজা সুরেন্দ্রনারায়ণ ও তার দুই ছেলে। ইংরেজদের চাপের কাছে নতিস্বীকার না করে রাজবাড়ির সংলগ্ন আমবাগান পরিষ্কার করে সেই মাঠে সভার অনুমতি দেওয়া হয়। বেলা ১১টার সময় মহিলারা শঙ্খধ্বণির মাধ্যমে সুভাষচন্দ্রকে বরণ করেন। বিশাল সংখ্যক মানুষ সেদিন সুভাষ চন্দের  উদাত্ত বক্তৃতায় অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। দেশপ্রেমের প্রতি স্বীকৃতি  ও শ্রদ্ধা নিবেদন করে রাজবাড়ির পাশেই সুভাষচন্দ্র বসু ও স্বাধীনতা সংগ্রামী রাজা সুরেন্দ্রনারায়ণ রায়ের মর্মর মূর্তি স্থাপিত হয়েছে।

মাতঙ্গিনী হাজরা  তথা গান্ধী বুড়ি--

বুলেটে বিধ্বস্ত অবস্থাতেও তিনি বলে যান, "ব্রিটিশের গোলামি ছেড়ে গুলি ছোঁড়া বন্ধ করো- তোমরা সব আমাদের মতো স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে হাত মেলাও।" তার পরেও তাঁর দিকে ধেয়ে আসে তৃতীয় বুলেট। কপালবিদ্ধ সেই বুলেটের আঘাতে তার দেহ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে তবু তিনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, জাতীয় পতাকাটি তখনও তাঁর হাতের মুঠোয় ধরা।

তিনিই সেই গান্ধী বুড়ি যার প্রকৃত নাম 

মাতঙ্গিনী হাজরা:

তমলুকের বেনেপুকুর পাড়ে ইংরেজদের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। 

স্বাধীনতার ৭৫ বছর কেটে যাওয়ার পরেও অবহেলিত ভারতের প্রথম মহিলা শহিদ স্বাধীনতা সংগ্রামী তথা তমলুকের আলীনান গ্রামের  মাতঙ্গিনী হাজরা। অবহেলায় পড়ে রয়েছে তাঁর বাস্তুভিটে। হয়নি সংস্কার। এগিয়ে আসেনি কোনও সরকারের প্রতিনিধি। এমন অভিযোগ, শহিদ পরিবারের।

মাতঙ্গিনী হাজরার জন্ম 19 অক্টোবর

1870 সালে মেদিনীপুরের  তমলুক থেকে একটু দূরে হোগলা নামে একটি ছোট গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে তার জন্ম হয়। অতি অল্প বয়সেই তার বিয়ে হয়ে যায়, তিনি মাত্র 18 বছর বয়সে 

নিঃসন্তান অবস্থায় বিধবা হয়েছিলেন।

1905 সালে প্রত্যক্ষভাবে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। মাতঙ্গিনী হাজরা মতাদর্শগত ভাবে তিনি ছিলেন একজন গান্ধীবাদী। তাইতো গান্ধী বুড়ি নামে ডাকা হয়। 

1932 সালে মাতঙ্গিনী আইন অমান্য আন্দোলনে যোগদান করে গ্রেফতার বরণ করেছিলেন।

ভারতছাড়ো আন্দোলনের সময় কংগ্রেস সদস্যরা মেদিনীপুর জেলার সকল থানা ও অন্যান্য সরকারি কার্যালয় দখল করে নেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য ছিল জেলা থেকে ব্রিটিশ শাসন উচ্ছেদ করে এখানে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। প্রথম মহিলা স্বেচ্ছাসেবক ছয় হাজার সমর্থক তমলুক থানা দখলের উদ্দেশ্যে একটি মিছিল বের করেন। এই মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন 73 বছর বয়সী মাতঙ্গিনী হাজরা। 

মিছিলে বারংবার তার গায়ে গুলি লাগে, তার কপালে ও দুই হাতে। তবু তিনি এগিয়ে যেতে থাকেন। এরপর তার ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়।

কংগ্রেসের পতাকা মুঠোর মধ্যে শক্ত করে ধরে বন্দেমাতরম ধ্বনি উচ্চারণ করতে করতেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

2002 সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলন ও তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার গঠনের 60 বছর পূর্তি উপলক্ষে ভারতের ডাক বিভাগ মাতঙ্গিনী হাজরার ছবি দেওয়া 5 টাকার পোস্টাল চালু করা হয়ে ছিল।

১৯৭৩ সালে ভারতবাসীর মনেপ্রাণে স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখার জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তমলুকের আলীনান গ্রামে এসে মাতঙ্গিনী হাজরার শহিদ স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করেছিলেন । মাতঙ্গিনী হাজরা যেই বাড়িতে সংগ্রামী ক্রিয়াকর্ম চালাতেন সেই  বসতভিটেও সংরক্ষণ করার কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রাইমমিনিস্টার ইন্দিরা গান্ধী। তারপর কেটে গিয়েছে বহু বছর। পরিবর্তন হয়েছে একাধিক সরকারের কিন্তু বদল আসেনি বিপ্লবীর দালানবাড়ির ।

মাতঙ্গিনীর পরিবারের বর্তমান সদস্য়দের অভিযোগ,  বাড়ির অবস্থা এখন ভগ্নপ্রায়। মাতঙ্গিনীর ব্যবহার্য জিনিসপত্র রাখার জন্য ছোট্ট একটি সংগ্রহশালা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে বটে ওই বাড়িতেই, কিন্তু সংরক্ষণের অভাবে তার আয়ুও বেশিদিন নেই। মাতঙ্গিনীর স্মৃতি বিজড়িত সেই দালানবাড়ি অক্ষত রাখতে তত্‍পর শাসক ও বিরোধী শিবির এমনটাই খবর সূত্রের। 

আমার তমলুক ভ্রমনের সামান্য লেখা এখানেই থামালাম কারন এর বেশি লিখতে গেলে যে বিশেষ জ্ঞানের প্রয়োজন সেই রূপ জ্ঞান আমার নাই।

তাই আজ এখানেই ইতি টানছি।

     <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

==============400=========

 

Tuesday, November 2, 2021

67> বাঁকুড়ার সোনামুখী ভ্রমন ||হটনগর মা কালীর ===05/11/1999

 

67>|| বাঁকুড়ার সোনামুখী  ভ্রমন ||05/11/1999

         || হটনগর মাকালী ||==


আমার বাঁকুড়া ভ্রমনের কিছু কথা।

আমার এক বন্ধু শম্ভু কুন্ডু বাড়িতে গিয়ে ছিলাম 1999 সালের 5 নভেম্বর

বাঁকুড়ার সোনামুখী অঞ্চলে।

শম্ভুর মুখেই অনেক বার শুনেছিলাম হটনগর মাকালীর গল্প কথা।

সেই কারণে কালি পূজার ঠিক দুইদিন  আগে গিয়েছিলাম শম্ভুর বাড়িতে 

সোনামুখীতে।

কালি পূজা ছিল 7নভেম্বর।

গ্রাম বাসীদের মুখে শোনা গল্প কথা,

 সোনামুখীর সেই গল্প কথা ই আজ লিখলাম।

শুনে ছিলাম হটনগর মাকালী কথা।

প্রায় ৪০০ বছরের প্রাচীন জাগ্রতা  "মা" হটনগর কালী।

 বাঁকুড়ায় বেশ কয়েকটি কালী পুজো হয়, কিন্তু তার মধ্যে সবথেকে প্রাচীন কালীপুজো এই সোনামুখীর  হটনগরের মাকালীর পুজো।

   প্রায় চারশো বছর আগের কথা। তখন বিনিময় প্রাথা চালু ছিলো। অর্থাৎ কিছু দ্রব্য ক্রয় বিক্রয়ের মাধ্যম ছিল ধান।

কিছু বিক্রি করলে পরিবর্তে  টাকা নয় ধান পাওয়া যেত।  

বাঁকুড়ার এই সোনামুখীতে থাকতেন এক দরিদ্র সূত্রধর পরিবারের এক বিধবা,নাম তারিনী সূত্রধর। 

তিনি নিজের সংসার চালাতে রোজ চিঁড়ে মুড়ি বিক্রি করতে যেতেন পায়ে হেঁটে গ্রামে গ্রামে। প্রতি দিন সন্ধ্যায় নিরিশায় চিঁড়ে বিক্রি করে বিনিময়ে পাওয়া ধান ঝুড়িতে করে নিয়ে বড়োজোড়ার নিরিশা গ্রামের হাটা পথে  খাল পেরিয়ে সোনামুখী ফিরতেন।

হাটা পথে পরিশ্রান্ত হয়ে সেই খালের পাশে বসে সঙ্গে সাথে থাকা মুড়ি খেয়ে একটু বিশ্রাম করতেন, আর ঠিক সেই সময় কোন কোন দিন একটি শ্যামাঙ্গী ও লালপেড়ে শাড়ি পড়া একটি ছোট্ট মেয়ে  আসতো বৃদ্ধার কাছে এবং সে বায়না ধরতো তাকেও নিয়ে যেতে হবে তাঁর সাথে সোনামুখীতে। কিন্তু বৃদ্ধা নানান ভাবে, যেনো তেনো প্রকারে তাকে ভুলিয়ে রাখতো। কিন্তু একদিন সেই মেয়েটি নাছোড়বান্দা হয়ে বায়না ধরে বসলো। সেদিন তারিনী বৃদ্ধা  কিছুতেই আর না করতে পারেন না। কিন্তু তার হাতে বস্থা ও মাথায় ধানের ঝুড়ি থাকায় তিনি কি করে ছোট্ট মেয়েটিকে এতোটা পথ নিয়ে যাবেন সেই ভাবনায় অস্থির হলেন।

তখন মেয়েটি তাঁকে তাঁর মাথার ঝুড়ি তে চাপিয়ে নিয়ে যেতে বলেন। বৃদ্ধা তারিনী অবশেষে সেই সর্তেই রাজি হন এবং সেই ছোট্ট শ্যামাঙ্গী মেয়েটিকে মাথার ঝুড়িতে বসিয়ে ধীর পায়ে চলতে শুরু করেন। কিন্তু বৃদ্ধা অদ্ভুদ ব্যাপার অনুভব করলেন যে মেয়েটির ভার যেন কম হয়ে গেল  ধীরে ধীরে। এরপর বাড়ি ফিরে যখন বৃদ্ধা মাথার ঝুড়িটি নামালেন তখন বিস্ময়ে হতবাক হয়ে দেখলেন।"একি মেয়েটি গেলো কোথায়!"

মেয়েটি নেই,তার জায়গায় ঝুড়িতে দেখেলেন দুটি কালো রঙ্গের পাথর খন্ড। 

বৃদ্ধা অবাক বিস্ময়ে পাথর দুটি তুলসী তলায় রেখে দিলেন।

সেদিন রাত্রিতে বৃদ্ধা তারিনী সূত্রধরের স্বপ্নে আসেন মা কালী। মা স্বপ্নে বৃদ্ধা তারিনীকে বলেন,"আমি মা কালী । মেয়ে সেজে আমিই তোর মাথায় ঝুড়িতে করে এসেছি। তোর যাতে ভারবোধ না হয়,তাই তো পাথর হয়ে এলাম। তুই আমায় তোর বাড়ির সামনে আঁকড় গাছের তলায়,

প্রতিষ্ঠা করে,পুজার ব্যাবস্থা কর।"


(আঁকড় গাছ বা আঁকড়কাঁটা গাছ অথবা Alangium salviifolium (L.f.) Wangerin.কেউ আবার আকরকাঁটা,বাঘ-আকর, ধলা আকর, আকর, আঙ্কুরা গাছও বলে থাকে)


বৃদ্ধা, "মা"য়ের আদেশ মতো তাঁর বাড়ির সামনের আঁকড় গাছের তলায় সেই শিলাখন্ডকে রেখে । মায়ের স্বপ্নাদেশের কথা ও সেই পাথর খন্ডের কথা তিনি সোনামুখীর লালবাজার বাসীদের সকলকে জানান। নিমেষের মধ্যেই মায়ের পুজার তোড়ঝোড় শুরু হয়ে যায়। কিন্তু বাধ সাধে পুরোহিত। তখনকার দিনে জাত পাত বা বর্ন প্রথা ছিলো অতি কঠোর। সেই কারণে কোন পুরোহিত রাজি হলেন না,

এক সূত্রধরের হয়ে পুজা করতে।

কিন্তু সেদিন রাতেই এক পুরোহিত দারুন ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লেন। 

দেবী স্বপ্নাদেশে সেই পুরোহিত কেই তাঁর বাড়ি থেকে পুজা নিয়ে যেতে বললেন ও পুজা করার নির্দেশ দিলেন। সুস্থ হয়ে সেই পুরোহিত পরদিন সকালেই নিজের বাড়ি থেকে পুজা নিয়ে গেলেন ও ক্ষমা প্রার্থনা করে পুজা শুরু করলেন। সেই থেকে আঁকরগাছের তলায় প্রতিষ্ঠিতা হলেন মা কালী সেই কালো পাথর খন্ডের মাধ্যমে।

    পরে তারিনী সূত্রধরের কাছে মায়ের মহিমার কখা জানতে পান,তৎকালীন সোনামুখীর জমিদার গিন্নি কাদম্বিনি দেবী। 

কাদম্বিনি দেবী মায়ের মহিমা শুনে মন্দির নির্মানের জন্য জমি ও অর্থ উৎসর্গ করলেন ও সেখানে মন্দির নির্মানের সম্পূর্ন অর্থ প্রদান করলেন। অচিরেই গড়ে উঠলো মায়ের ভব্য মন্দির। নিত্য সেবার কাজ চললো সুষ্ঠুভাবে।


এই কালী হটনগর কালী নাম হওয়ার পিছনেও এক জনশ্রুতি রয়েছে। বহুকাল পুর্বে একজন হটযোগী সাধু এখানে মাতৃসাধনা করেছিলেন। তিনি মা কালীর আরাধনা করতেন। সেই হটযোগী সাধুর থেকেই এখানকার "মাকালীর" নাম ছড়িয়ে পড়ে হটনগর কালী নামে।

    মায়ের পুরাতন মন্দির টি ভগ্নপ্রায় হয়ে গেলে নতুন মন্দির নির্মান করা হয়।  বর্তমানের নুতন  মন্দিরটি নির্মান করে দেন বর্ধমানের  সমাজ সেবক অজিত সিংহ নামে এক ব্যাক্তি।

      তারিনী সূত্রধরের আনা সেই শিলাখন্ড রুপি মা কালী আজোও পূজা হয় এখানে সেই  আঁকড় গাছের তলায় বেদিতে। 

আর তার পাশেই গড়ে উঠেছে মৃন্ময়ি প্রতিমার পুজার মন্দিরটি।


আজো পুরানো প্রথা মেনেই এখানে কালীপুজোর ঘট প্রতিষ্ঠা হয় সূত্রধর দের বংশধরদের হাতেই।

এই হট নগর মা কালীর থানে নিত্য পুজা এবং অম্যাবস্যাগুলিতে হয় বিশেষ পুজা।

শনি মঙ্গল বারে মায়ের থানে ভিড় করে ভক্তরা। কিন্তু কার্তিক অম্যাবস্যার কালীপুজোতে এই হটনগর মা কালীর পুজোকে ঘিরে মানুষের ভিড়ে সোনামুখীর বাসিন্দাদের বেশ উৎসাহ উদ্দীপনা দেখলাম।   

বাঁকুড়ার আসে পাশের অঞ্চলের বহু মানুষের ভিড় ছিল দেখার মতন।

জয়  সোনামুখীর হটনগর মা কালীর  জয়।।

    আদ্যনাথ রায় চৌধুরী।

===========================



Thursday, September 30, 2021

66> || ভ্রমণ:: মরুতীর্থ হিংলাজ::---||====TOURE STORY

     

  66> || ভ্রমণ:: মরুতীর্থ হিংলাজ::---||====TOURE STORY  

   নিজের মানস ভ্রমনের উদ্যেশ্যে লেখা।

আমি তখন মধ্য প্রদেশের স্যডোল শহরে পোস্টিং।12/06/1978 সেদিন ফিল্ড থেকে ফিরে অফিসে বসে কোর সেম্পল গুলি ট্যাগিং করছিলাম।

চক্রবর্তী সাহেব ,পাল সাহেব, কে সি মুখার্জি ও দত্ত বাবু মিলে প্লান করছিলেন হিংলাজ তীর্থ ভ্রমনের।

ওরা আমাকেও বলে ছিলো ওদের সাথে যাবার জন্য।আমারও যাবার ইচ্ছা ছিল কিন্তু দুর্গা পুজোর সময়  যেতে আমি অনিচ্ছা প্রকাশ করলাম। তাছাড়া তখন আমার বাবার শরীর ভালো ছিলোনা।যেকোন সময়ে আমাকে বাড়ি যেতে হতে পারে। সেই কারণে আমি রাজি হইনি।

যাইহোক ওনারা চারজনে গিয়ে ছিলেনসম্ভবত 1978 এর সেপ্টেম্বরের 24 তারিখে।ওনাদের মুখে শোনা কথাই এখানে লিখলাম ।অর্থাৎ দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাবার চেষ্টা করলাম।

ওনাদের যাত্রা পথ কিছুটা জিপে কিছুটা উটের পিঠে কুছুটা হেঁটে। সে এক দারুন কষ্টের ভ্রমন। ওনাদের বর্ণনায় বুঝলাম সতীপীঠ দর্শনের উৎসাহে শারীরিক কষ্ট অনেকটা কম অনুভব হয়েছিল।

ওদের নানান অভিজ্ঞতার কথা, মরু ঝড়ের কারনে অসুস্থতা, তপ্ত বালির উপড়দিয়ে পায়ে হাঁটার অভিজ্ঞতা। এমন অনেক কথা বাদ দিয়ে শুধু হিংলাজ মাতার দর্শনের কথাই লিখলাম।

আজকাল কিন্তু তেমন কষ্ট হয়না কারন এখন মরুভূমির উপরে তৈরি হয়েগেছে সুন্দর ঝক ঝকে বাঁধন সড়ক । যে সড়ক দিয়ে এয়ার কন্ডিশন গাড়ি নিয়ে 60 কিংবা 80 কিলোমিটার বেগে সাড়ে ছয় (6.30)ঘন্টায় 328 কিমি পৌঁছে যাওয়া যায় আরামে।

সতীর ৫১ পীঠের মধ্যে অন্যতম হল সতীপীঠ হিংলাজ, পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশের লাসবেলা জেলায় মাকরান উপকূলে অবস্থিত হিংলাজ শহরে অবস্থিত এই  হিন্দু মন্দির।

পাকিস্তানে হিন্দুদের সংগঠন রয়েছে, নাম---"পাকিস্তান হিন্দু কাউন্সিল।" সংগঠনের সদর দপ্তর করাচিতে।

আগে অনেক হিন্দু মন্দির ছিল,

কিন্তু নর্তমানে যে গুলি আছে 

তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১) মরুতীর্থ হিংলাজ,বেলুচিস্তানে,

৫১সতীপীঠের অন্যতম,

স্থানীয় বালুচ মুসলমানদের কাছে এটি "নানী কী হজ" নামে পরিচিত। 

২) করাচির শ্রীস্বামী নারায়ণ মন্দির। হিন্দুদের বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয় এই মন্দিরে।

৩) বেলুচিস্তানের কালাট কালী মন্দির। মন্দিরে বিরাজিতা রণচণ্ডী কালী। খ্রিস্টিয় ৭৪ অব্দ থেকেই দেবী এখানে পূজিতা হয়ে আসছেন। বালুচ মুসলমানরা এই দেবীর পুজোয় সাহায্য করে থাকেন।

৪) পাকিস্তানে গোরক্ষনাথ মন্দির।

৫) বরুণ দেবের মন্দির।

৬) মূলতানের সূর্য মন্দির।

৭) কাটাসরাজ মন্দির ‌‌।

৮) পঞ্চমুখী হনুমান মন্দির এবং

৯) শক্তিপীঠ শিবহরকরা।

পাকিস্তানে হিন্দু কালচার টিকে আছে এখানকার বালুচ বা বালোচ সম্প্রদায়ের মুসলমানদের  প্রচেষ্টায়।

হিংগোল নদীর তীরে একটি পার্বত্য গুহায় দেবী দুর্গার বিশেষ রূপ হিংলাজ মাতার পূজাবেদিটি অবস্থিত। করাচি থেকে 338 কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে বালুচিস্তান প্রদেশের মাকরান মরুভূমির উপর অবস্থিত স্থান টি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান।পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, এখানে সতীর মস্তকের ব্রহ্মরন্ধ পড়েছিল।

হিন্দুশাস্ত্রে, বিশেষত সংস্কৃত সাহিত্যে, এই তীর্থটি হিঙ্গুলা, হিঙ্গলাজা ও হিঙ্গুলতা নামে পরিচিত। পীঠাধিষ্ঠাত্রী দেবীও হিংলাজ মাতা, হিংলাজ দেবী ও হিঙ্গুলা দেবী (রক্তবর্ণা দেবী বা হিঙ্গুলার দেবী) ও কোট্টারি বা কোটাবী নামে পরিচিতা।

সিঁদুরের আর এক নাম হিঙ্গুল। এই হিঙ্গুল থেকেই মা হিংলাজ নাম। এখান কার নদীটির নাম হিঙ্গুল নদী, যেটি গঙ্গার মতোই পবিত্র। স্নান করলে সর্বপাপ মুক্ত হওয়া যায় এমন বিশ্বাস। হিংলাজ মন্দির বেলুচিস্তানের হিঙ্গুল নদীর কাছে এই তীর্থ স্থান।

বাংলা, হিন্দী, অসমীয়া ও সিন্ধি ভাষায় দেবীর নাম হিংলাজ হলেও মূল সংস্কৃত শব্দটি হল "হিঙ্গুলা"৷ এটিকে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বিষের ঔষধ বা অ্যান্টিভেনাম হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 মরুতীর্থ হিংলাজের পুরো অঞ্চলটি ঘোষিত জাতীয় উদ্যান। হিঙ্গুল ন্যাশনাল পার্ক উৎসাহী ভ্রমণার্থীদের জন্য এক আদর্শ স্থান। যাত্রা পথে দেখা যাবে দেহাতি যাযাবর পরিবার।

হিংলাজ যাত্রার জন্য ভিসার একটু সমস্যা হয়, তবে সেটা চেষ্টা করলেই মেটানো যায়।আর সেই সমস্যা মিটলে করাচীর স্বামীনারায়ণ মন্দিরে অথবা করাচীর কয়েকটি  ভ্রমণ সংস্থা আছে যাদের সাথে যোগাযোগ করলে ওরাই নিজেদের ব্যবস্থায় টুরিস্টদের হিংলাজ দর্শন করান।সেই কারণে  তাদের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

আজকাল নবরাত্রি উৎসব উপলক্ষে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে কলকাতা থেকেও কখনও গ্রুপ ট্যুরের ব্যবস্থা করা হয়।

যে ভাবেই হোক প্যাকেজ টুরে যাওয়া ই ভালো।প্রত্যেক এপ্রিল মাসেও তিন চার দিনের টুরের ব্যবস্থা হয়।এই তীর্থ স্থান টি হিংগোল জাতীয় উদ্যানের গিরিখাতে অবস্থিত। এখানকার মাকরান মরু অঞ্চলে কিরথার পর্বতমালার একটি প্রসারিত অংশের শেষ প্রান্তে হিংগোল নদীর পশ্চিম তীরে হিংলাজ মাতার গুহামন্দিরটি অবস্থিত।

আরব সাগরের সৈকত থেকে 19 কিমি দূরে এবং সিন্ধু নদের মোহনা থেকে

130 কিমি পশ্চিমে বালোচিস্তানের লিয়ারি তহসিলের এক প্রত্যন্ত পার্বত্য এলাকার একটি সংকীর্ণ গিরিখাতে  হিংলাজ মাতা শক্তিপীঠের অবস্থান। 

মন্দিরটি হিংলাজ দেবীর মন্দির, হিঙ্গুলা দেবী অথবা নানি মন্দির নামেও পরিচিত।

এই স্থানটির জনপ্রিয়তা ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মন্দিরটি পাকিস্তানের বিভিন্ন হিন্দু সম্প্রদায়ের একতার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

হিংলাজ যাত্রা হল পাকিস্তানের সর্ববৃহৎ হিন্দু তীর্থযাত্রা। বসন্তকালের আয়োজিত এই যাত্রায় বহু হিন্দু সাধু সন্ত, সাধারণ মানুষ এমন কি বহু ভ্রমন পিপাসু মানুষও অংশগ্রহণ করেন।

করাচি থেকে চার দিনের তীর্থযাত্রা।

হিংলাজ মাতার মৃত্তিকানির্মিত নিচু পূজাবেদিটি একটি ক্ষুদ্র প্রাকৃতিক গুহার মধ্যে অবস্থিত। এই বেদিতে দেবীর কোনও মনুষ্যনির্মিত মূর্তি নেই। একটি ক্ষুদ্র অনিয়তাকার পাথরকে হিংলাজ মাতা হিসেবে পূজা করা হয়। পাথরটি সিঁদুর দ্বারা পরিলিপ্ত। তা থেকেই সম্ভবত এই অঞ্চলের সংস্কৃত নাম হিঙ্গুলার উৎপত্তি এবং এই হিঙ্গুলা শব্দটি থেকেই বর্তমান নাম হিংলাজের উদ্ভব ঘটে।

এই মন্দিরে আছেন হিংলাজ মন্দিরে মা হিংলাজ এবং ভৈরব শিলা।

করাচীর স্বামীনারায়ণ মন্দির থেকে বছরে দু’বার তীর্থযাত্রার ব্যবস্থা করা হয়। 

ভারত থেকে প্লেনেই বেশি সুবিধা তাই প্লেনে করাচীতে পৌঁছতে হবে।

করাচিতে আরও কিছু মন্দির আছে।যেমন করাচির ক্লিফটন বিচে রত্নেশ্বর মহাদেব মন্দিরে। ইংরেজ আমলে গুহার ভিতর সুপ্রাচীন এই মন্দিরটি।

প্রবাদ আছে দীর্ঘ গুহাটি নাকি সমুদ্রের তলা দিয়ে চলে গেছে হিংলাজ মন্দির পর্যন্ত। মহাদেব এই পথেই হিংলাজদেবীর সাথে মিলিত হয়ে থাকেন।

রত্নেশ্বর মহাদেব মন্দির দর্শনের পর যাওয়া যেতে পারা যায় করাচীর এমপ্রেস মার্কেটে। স্থানীয় মানুষের কাছে ‘বড়ি বাজার’। বেশ ঘিঞ্জি এলাকা। 

বাজারের ভিতর মানুষের ভিড় আর চিৎকার চ্যাঁচামেচিতে সরগরম। হিংলাজমাতার পুজোর জন্য প্রয়োজনীয় শুকনো ফল, মায়ের চুড়ি, কাপড়, ওড়না, সিঁদুর, নারকেল, লাল ধুতি, নিয়ে নেওয়া যায় এখান থেকে।

ইচ্ছা থাকলে ভ্রমণ সংস্থার  সাথে প্যাকেজ টুরে বোটে করাচী বন্দরের সমুদ্রে  প্রমোদভ্রমণও করা যায়। হিংলাজ যাত্রা এক সময়ে সবচেয়ে দুর্গম খুবই কষ্টসাধ্য মরুতীর্থ যাত্রা ছিল। তবে আজ অনেক সহজ হয়ে গেছে ।এখন সম্পুর্ন যাত্রা পথ সুন্দর নতুন পাকা সড়ক তৈরি হয়েগেছে, মসৃণ গতিতে ছুটতে পারে এসি গাড়ি সেই পথ দিয়ে। 

আগেকার দিনে হিংলাজ মাতার দর্শন ছিল খুবই কষ্টকর। তেমন রাস্তা ছিল না। প্রায় পুরোটাই মরুভূমি। মূলত রাজপুত জাতির পুণ্যার্থী মানুষ এই পথে তীর্থযাত্রায় আসতেন। পায়ে হেঁটেই। বড়জোর সঙ্গে থাকত কিছু গো-শকট আর উট। চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় কয়েক সপ্তাহের যাত্রাপথ। কী ভয়ানক কষ্ট করে মানুষগুলো হিংলাজ তীর্থে পৌঁছতেন, ভাবাও যায় না। তার উপর পথে লুঠেরা ডাকাতের উপদ্রব। আর আজকের

 তীর্থযাত্রা ঝকঝকে পথে এসি গাড়িতে। ঘণ্টায় ৮০ - ১০০ কিমি বেগে যাওয়া যায় ,মাত্র 6 ঘন্টার পথ।

পথের অদূরে  ছোট ছোট  গ্রাম।

করাচীর সীমানা অতিক্রম করার আগে গাড়ি গুলি অতিরিক্ত তেল সংগে নিয়ে নেয়। কারন ঝকঝকে ফাঁকা রাস্তা হলেও গাড়ি তেমন নেই। তাই পেট্রোল পাম্পও নেই। 

করাচী জেলার সীমানা ছাড়াবার পর থেকেই প্রায় জনমানুষ হীন পথ,

 রুক্ষ, প্রায় মরুভূমি অঞ্চল। কদাচিৎ  ভবঘুরে যাযাবর মানুষের এক আধটি দলের দেখা মিলতে পারে। 

পথের ধারে দেখা যাবে তাদের দু’একটা ঝুপড়ি। কয়েকটি দেহাতি ঘরবাড়ি। এগুলিই ছোট ছোট  গ্রাম। সব মিলিয়ে বিশ–তিরিশজন মানুষের বাস হবে হয়তো, এক একটা গ্রামে । এছাড়া দু’দিকে যতদূর চোখ যাবে রুক্ষ জনশূন্য প্রান্তর। শুধু ক্বচিৎ হয়তো দেখা যাবে এক আধটা মালবোঝাই ট্রাক। 

পথে পাকিস্তান এয়ারফোর্সের ঘাঁটি পারকরে এগিয়ে যেতে হয়। 

  পথে সর্বদা  নিরাপত্তার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হয়। হিংলাজ যাত্রার এই পথ যতই ঝকমকে হোক, সাধারণ যাত্রীদের কাছে মোটেই নিরাপদ নয়। ডাকাতি, লুঠতরাজ নিত্য–নৈমিত্তিক ব্যাপার এখানে।

পথে ঝুপড়ি চায়ের দোকান পাওয়া যাবে।

তাছাড়া পথের ধারে ধু–ধু প্রান্তরের মাঝে গোটাকয়েক বাবলাজাতীয় গাছের তলায় দড়ির খাটিয়া পাতা ধাবাগোছের এক আধ টা চায়ের ঠেক।  চড়া দুপুরে প্রায় শান্তির নীড়। চায়ের গ্লাসে চুমুক দিয়ে

শরীর ও মন উভয়ই চাঙ্গা করে নেওয়া যায়।

পথ চলতে চলতেই চোখে পড়বে দূরে পথের বাঁদিকে টিলা আকারের ছোটো ছোট  পাহাড়। ওই পাহাড় দেখতে পাবার অর্থ হিংলাজ মন্দিরের অনেকটাই কাছে পৌঁছে যাওয়া।

একটু ভালো করে খেয়াল করলেই চোখে পড়বে মনোমুগ্ধকর আরব সাগরের বেলাভূমির দৃশ্য। 

এরপর পথের দু’দিকেই  পাহাড়ের সারি। একদিকের পাহাড় আর পাঁচটা পাহাড়ের মতো হলেও অন্যদিকের পাহাড় বালি আর মাটির। 

জোরালো বাতাসে সেই মাটির পাহাড়ের গায়ে রকমারি খাঁজ আর খোঁদলের মনোমুগ্ধকর নক্সা।

বেলুচিস্তানের এই বিস্তীর্ণ অঞ্চল বর্তমানে ঘোষিত জাতীয় উদ্যান। ছয় হাজার বর্গ কিমি আয়তনের হিঙ্গুল ন্যাশনাল পার্ক। তাই ভ্রমণার্থীদের জন্য রয়েছে কিছু বাধ্যবাধকতা। রযেছে রেঞ্জ অফিস। ঢোকার আগে এখানে নাম লেখাতে হয়। মেনে চলতে হয় কিছু নিয়মকানুন।

অল্প পরেই পার হতে হবে হিঙ্গুল নদী। 

 বর্ষায় এই হিঙ্গুল নদীর জল কখনও বেড়ে ওঠে ৫০–৬০ ফুট পর্যন্ত। ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ প্রায় প্রতিবছরই মেরামত করতে হয়। নদী পার হয়ে গাড়ি ডানদিকে বাঁক নিতেই চোখে পড়বে পথের পাশে প্রমাণ সাইজের এক বোর্ডঃ নানী মন্দির।

এখানে পথে প্রচুর ধুলো,পথের ধুলোয় প্রায় অন্ধকার রাস্থা।

স্থানীয় বালুচ বা বালোচ সম্প্রদায়ের মুসলমানদের কাছে হিংলাজ মন্দির ‘নানী মন্দির’ নামেই পরিচিত। মা হিংলাজ তাদের কাছে ‘নানী বিবি’।

মন্দিরের কাছে মূল সড়কের পর  শুধু ধুলো আর ধুলো। 

ধুলোয় ভরা প্রায় ১০ কিমি দীর্ঘ সেই পথ শেষ করে পৌঁছতে হয় কাঙ্ক্ষিত হিংলাজ মায়ের মন্দির।

এই অঞ্চলটি অঘোরী নামেও পরিচিত। ‘অঘোরী’ তান্ত্রিক সম্প্রদায়ের এক নাম। সম্ভবত একসময় এখানে অঘোরী দের সাধনক্ষেত্র ছিল। হিংলাজ মন্দির সতীপীঠ হওয়ার কারণে এমন সম্ভাবনা যথেষ্টই। বর্তমানে এখানে ছোটো এক গ্রামে কিছু বালুচ উপজাতির বাস। হিংলাজ মায়ের মন্দির তারাই সারাবছর দেখাশুনা করেন। হিংলাজ মা তাদের কাছে ‘নানী বিবি’।

পাকা সড়ক আর স্থানটি জাতীয় উদ্যান ঘোষিত হবার কারণে বর্তমানে হিংলাজ মন্দির দর্শন অনেক সহজ হয়ে গেছে। 

বছরে দু’বার উৎসবের সময় কয়েক হাজার পুণ্যার্থীর সমাগম হয়। ভারত থেকেও কিছু পুণ্যার্থী আসেন তখন।

পুজো দেবার জন্য পূজারীও পাওয়া

যায়।

এখানে পাহাড়ের উপরে গুজরাটি সম্প্রদায়ের ‘মেলদীমাতা’, তারপর কালীমায়ের মন্দির আছে।

এখানে  জামাপ্যান্ট ছেড়ে লাল ধুতি পরে কালীমন্দিরের কাছের পুকুরে ডুব দিয়ে স্নান সেরে নিয়ে, হিংলাজ মন্দিরে পুজো দিতে হয়।

 মন্দিরের সামনেও ছোটো একটি পুকুর আছে। 

এখানেও স্নান করা চলে। তারপর মূল মন্দিরে প্রবেশ।

 ভেতর ঢুকতে চাইলে সেলাইবিহীন একটি কাপড় ছাড়া পুণ্যার্থীর সঙ্গে অন্যকিছুই রাখা যায় না। 

হিংলাজ মায়ের মন্দির পাহাড়ে বড়ো আকারের একটি উন্মুক্ত গুহার ভেতর।  গুহার মেঝে ঝকঝকে সেরামিক টাইল দিয়ে বাঁধানো । দরজার উপরে বড়ো একটি ঘণ্টা ঝুলছে। পূজারী শঙ্খ এবং ঘণ্টাধ্বনির মাধ্যমে পুজো শুরু করেন।

মন্দিরের ভেতর তিনধাপ সিঁড়ি দিয়ে উঠে বাঁধানো উঁচু চাতালের উপর মা হিংলাজ এবং ভৈরব অর্থাৎ মহাদেবের সিঁদুর মাখানো স্বয়ম্ভূ শালগ্রাম শিলা। চাতালের নীচে সিঁড়ির দুইপাশে কাঠের দরজা লাগানো দু’টি চৌকো ফোকর। ফোকরদু’টি চাতালের নীচে পাহাড়ের ভেতর ২০–৩০ ফুট দীর্ঘ একটি অর্ধবৃত্তাকার  গুহার দুই মুখ। হিংলাজমায়ের পুজো দেবার আগে পুণ্যার্থীকে ওই গুহার বাঁদিক দিয়ে ভিতরের ঢুকে ডান দিকেরটি বেরিয়ে আসতে হয়।

বিশ্বাস, তাতে গত সাতজন্মের পাপমুক্ত হওয়া যায়।

ঠিক যেন মাতৃজঠর থেকে পুনর্জন্ম হয়। 

এখানে পুজোর প্রসাদির সাথে থাকে

 তুলসীমালার মতো মালা স্থানীয় গাছের কাঠ থেকে তৈরি এই মালা হিংলাজে পুজো দিতে এসে স্বয়ং রামচন্দ্রও নাকি 

এই মেলা ধারণ করেছিলেন। 

চাইলে এখানে যজ্ঞও করা যায়।

ফেরার পথে এখানকার সবচেয়ে বড়ো জীবন্ত মাড ভলকানো, যার নাম 

'চন্দ্রগুপ’ দেখে নেওয়া যায়।এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো জীবন্ত মাড ভলকানো।

 পাকিস্তানের হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে এটি ‘বাবা চন্দ্রকূপ’ অর্থাৎ চন্দ্রবাবার কুণ্ড নামেও পরিচিত।

 প্রতিবছর নবরাত্রি উৎসবের সময় পাকিস্তানের হাজার হাজার হিন্দু তীর্থযাত্রী হিংলাজমাতার পুজো দিতে আসেন। ভারত থেকে কিছু তীর্থযাত্রীও আসেন ওই সময়। 

অনেকেই হিংলাজমায়ের পুজো দেবার আগে  আসেন এই চন্দ্রবাবার কুণ্ডে। প্রায় হাজার ফুট উঁচু মাড ভলকানোর উপর নারী–পুরুষ নির্বিশেষে পায়ে হেঁটে উঠতে হয়। এজন্য কখনো কখনো উপর থেকে মোটা দড়ি পাহাড়ের গা বেয়ে নামিয়ে দেওয়া হয়। তীর্থযাত্রীরা প্রয়োজনে সেই দড়ির সাহায্যও নিয়ে থাকেন। 

এই কুণ্ডে নারকেল, ফুল, মিষ্টি প্রভৃতি নিবেদন করা হয়।

চন্দ্রগুপের পরে দ্বিতীয় মাড ভলকানো ‘রানি’। দু’টি মাড ভলকানোই এখনও জীবন্ত। উদ্গিরণ করে চলেছে শীতল কাদা। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে সেই কাদা জমে তৈরি হয়েছে জমাট কাদার পাহাড়। ‘চন্দ্রগুপ’ বেশি উঁচু। খাড়াইও বেশি। তুলনায় ‘রানি’ অনেক ছোটো।

সেই কারণে অনেকেই এই 'রানি' মাড ভলকানো তে ওঠে।

চন্দ্রগুপে ওঠার সাহস পায় না।

এগুলি টিলার শীর্ষে বড়ো এক কুণ্ড। তরল কাদা টগবগ করে ফুটছে। আসলে তরল কাদা ফুঁড়ে ভূ–গর্ভের ভীতর থেকে অনবরত বুদবুদ আকারে বের হয়ে আসছে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস। প্রবাদ আছে এই কুণ্ডে কোনও পুণ্যবান নারকেল দান করলে সেটি ভেসে থাকবে। অন্যথায় যাবে ডুবে।

জীবনে যে যত অন্যায়, পাপ করেছে সেই পাপের কথা স্বীকার করে জোরে

জোরে বলে নারকেল উৎসর্গ করলে যদি নারকেল ভেসে থাকে তবে তার সকল পাপ দূর হয়ে সে পাপমুক্ত হয়।

কথিত আছে, হিংলাজ মাতা অত্যন্ত শক্তিশালী এক দেবী এবং তিনি তাঁর সকল ভক্তের কল্যাণ সাধন করেন। তাঁর প্রধান মন্দিরটি হিংলাজে হলেও প্রতিবেশী ভারতের গুজরাত ও রাজস্থান রাজ্যে হিংলাজ মাতার কিছু মন্দির রয়েছে।

Distনance between Karachi and Hinglaj Mata Mandir. It takes 6 hours, 33 minutes to travel from Karachi to Hinglaj Mata Mandir. Approximate driving distance between Karachi and Hinglaj Mata Mandir is 328 kms or 203.8 miles or 177.1 nautical miles .

===========================


Tuesday, May 18, 2021

65>|| ভ্রমন তামিলনাড়ু || 1979

   65>|| ভ্রমন তামিলনাড়ু ||===at 1979  

                          <--আদ্যনাথ-->

 গ্রানাইট পাথরের নটরাজ মন্দির।

তামিলনাড়ুর তাঞ্জাভুরের বৃহদেশ্বর মন্দির

এমন স্থানে ভ্রমনের সময় স্থানীয় মানুষের মুখের কথা ও পরে ইন্টানেট ঘেঁটে কিছু তথ্য জোগাড় করে সত্যকে যাচাই করতে পারলাম।

1979 নাগ পুরে থাকার সময় ভি,সি,আর,মান্নি (আমরা মানি বলেই ডাকতাম ) এর সাথে গিয়েছিলাম তামিলনাড়ু  ভ্রমণে।

ভারতের ইতিহাস, 

 ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এই মন্দির শুধু ধর্মীয় গাম্ভীর্য নয়, স্থাপত্য শৈলি এবং দৃষ্টিনান্দনিকতার দিক থেকেও এহেন মন্দির গুলি এক একটি দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে। এমনই একটি মন্দির, তামিলনাড়ুর তাঞ্জাভুরের বৃহদেশ্বর মন্দির। 

হাজার বছরের পুরনো এই নটরাজ মন্দির। 

যদিও আগে এই মন্দিরটি

রাজরাজেশ্বরম মন্দির নামে পরিচিত ছিল। 

মন্দিরের ভেতর আছে ৫ মিটার লম্বা নৃত্যরত শিবের মূর্তি। মন্দিরের কারুকাজে ফুটে উঠেছে সে সময়ের সমৃদ্ধি ও জীবনবোধ। বৃহদেশ্বর মন্দিরের প্রধান দেবতা শিব হলেও পাশাপাশি মন্দিরের দেওয়াল জুড়ে চন্দ্র, সূর্য, দক্ষিণ মূর্তির বিশালাকার নানা চিত্র আঁকা রয়েছে। এখানে আট মিটার লম্বা ‘অষ্ট-দিকপালক’-র-( ইন্দ্র, অগ্নি, যম, বরুণ, নৈঋত, বায়ু, ঈশান, কুবের) মূর্তি রয়েছে। এছাড়া মন্দিরের ছাদে রয়েছে রঙিন তৈলচিত্র। প্রাচীন তৈলচিত্র গুলিতে ব্যবহার করা হয়েছিল প্রাকৃতিক রং। মন্দিরে রয়েছে শিবের বাহন নন্দীর একটি মূর্তি (দৈর্ঘ্য ১৬ ফুট এবং উচ্চতা ১৩ ফুট) যা একটি মাত্র পাথর কেটে বানানো।


জানা গেছে একাদশ শতাব্দিতে ১০০৩ থেকে ১০১০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তামিল  রাজা চোল প্রথম এই মন্দিরটি দ্রাবিড় স্থাপত্য রীতির অনুকরণে  নির্মাণ করেছিলেন।


এটি গোটা বিশ্বের মধ্যে গ্রানাইট পাথরে তৈরি প্রথম মন্দির। 

কাবেরী নদীর তীরে অবস্থিত, মহাদেবকে সমর্পিত এই মন্দির পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু স্থাপত্য শিল্প গুলির মধ্যে অন্যতম। দ্রাবিড় স্থাপত্য রীতির অনুকরণে প্রস্তুত এই বিশাল ঐতিহ্যবাহী মন্দিরের পরতে পরতে মিশে আছে ভারতের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি। ইতোমধ্যেই এটিকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট-এর তকমা দিয়েছে ।

তাদের খাতায় এটি 'গ্রেট লিভিং চোলা টেম্পলস' হিসেবে চিহ্নিত।

এই মন্দির নিয়ে আরও কিছু শোনা গল্প কথা।

 জানলাম মন্দিরের নাম পরিবর্তনের কথা,

চোল শাসনে এই মন্দিরটি রাজরাজেশ্বরম মন্দির নামে পরিচিত ছিল। 

সমস্ত উৎসব ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই মন্দির। পরে নায়াকা এবং মারাঠারা ওঅ এলাকা দখল করে। সে সময় ওই মন্দিরে কিছু পরিবর্তন আসে। একই ভাবে মন্দিরের নাম বদলে হয় বৃহদেশ্বর মন্দির।

বিশাল বিশাল সব গ্রানাইট পাথর কেটে গোটা মন্দির তৈরি করা হয়েছে। বস্তুত এটি বিশ্বের প্রথম মন্দির যেটি সম্পূর্ণভাবে গ্রানাইট পাথরে তৈরি। এই মন্দির নির্মাণে ১,৩,০০০ টন গ্রানাইট ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অনুমান।


বৃহদেশ্বর মন্দিরের চূড়ার উচ্চতা ২১৬ ফুট। যার মাথায় রয়েছে প্রায় ৮০ টন ওজনের একটি গম্বুজ। 

মন্দিরের কারুকাজে ফুটে উঠেছে সে সময়ের সমৃদ্ধি ও জীবনবোধ।

১৯৫৪ সালে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক ১০০০ টাকার নোট প্রকাশ করে। এই নোটের একদিকে ছিল বৃহদেশ্বর মন্দিরের প্রতিরূপ।


ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিকেরা আজও ভেবে পাননি মন্দিরটি ঠিক কীভাবে নির্মিত হয়েছিল। কাছাকাছি কোথাও খুঁজে পাওয়ার মতো কোনও গ্রানাইট নেই....কমপক্ষে ৫০ মাইলের মধ্যে তো নয়। তবুও মন্দিরটি ১৩০,০০০ টন কঠিন গ্রানাইট পাথর দ্বারা গঠিত। এই বিশাল বিশাল দৈত্যাকার পাথরের টুকর যা কোনও মানুষের পক্ষে বয়ে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব। চুন-সুরকি-সিমেন্ট ছাড়া কিভাবে এই কঠিন পাথরগুলোকে একটার সাথে আরেকটা হাজারবছর ধরে জুড়ে রাখা হয়েছিল, এত ঝড় বৃষ্টি, বন্যা-ভূমিকম্প সহ্য করেও কিভাবে স্বস্থানে, স্বমহিমায় এই অপূর্ব সুন্দর মন্দির অটল থাকতে পারল....এটা সত্যিই এক বিস্ময়। 


গ্রানাইটের মত শক্ত শিলাতে এরকম অপরূপ কারুকাজ অসাধারণ দক্ষ শিল্পী ছাড়া সম্ভব না। কি ধরনের যন্ত্রপাতি তারা ব্যবহার করেছিল এটাও একটা রহস্য! ভাবলে সত্যি অবাক হতে হয় যে সে যুগে আজকের মত ক্রেন বা হেভি লিফটিং কোন মেশিনারি ছিলনা। তবুও কিভাবে ২১৬ ফুট লম্বা ( পৃথিবীর উচ্চতম মন্দির) মন্দিরের চূড়ায় ৮০ টন ওজনের 'কলস' স্থাপন করা হয়েছিল?


১.৩ লাখ গ্রানাইট পাথর থেকে ইন্টারলক বা পাজল পদ্ধতিতে তৈরি হয়েছিল এই মন্দির অর্থাৎ দুটি পাথরকে একসাথে ধরে রাখার জন্য ব্যবহৃত হয়নি প্লাস্টার বা সিমেন্ট। পাথরকে ধাপে ধাপে সাজিয়েই আজ থেকে ১০০০ বছর আগে তৈরি হয়েছিল এই মন্দির যা তখন রাজরাজেশ্বর মন্দির নামেও পরিচিত ছিল। 


তাঞ্জাভুরের ৬০ কিলোমিটারের মধ্যে নেই কোন পাহাড়। শোনা যায় তাই ৩০০০ হাতি নিয়োগ করা হয়েছিল বহু দূর থেকে পাথর বয়ে আনার জন্য। মন্দিরের মুখ্য মিনার যা গোপুরম নামে পরিচিত তাঁর উচ্চতা ২১৬ ফুট। মন্দিরের মাথায় রয়েছে ৮১ টন ওজনের একটি পাথর যার নাম কুম্বম। এই বিশাল ওজনের পাথরটিকে কি করে মন্দিরের চূড়ায় তোলা হল আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্র ছাড়া তা এক বিস্ময় বটে। শোনা যায় মন্দিরের নীচ থেকে চূড়া অবধি একটি ৬ কিলোমিটার লম্বা ঢালু স্তর বসানো হয়। বহু শ্রমিক, হাতি, ঘোড়ার সাহায্যে এটিকে যথাস্থানে বসাতেই লেগেছিল ৬ বছর! মন্দিরের নিচে রয়েছে ১০০ ও বেশি ভূগর্ভস্থ পথ যা চোল প্রাসাদ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সাথে যুক্ত। পূজা অর্চনার বিশেষ দিনে রাজপরিবারের মানুষরা এই পথ ব্যবহার করতেন। মন্দিরের স্থাপত্যের আরেক আশ্চর্যের দিক হল গোপুরম এমন ভাবে তৈরি যাতে দিনের বেলা এর ছায়া কোনো সময় মাটিতে পড়ে না!


আমাদের গর্বের বিষয় যে এই অপূর্ব অতূলনীয় স্থাপত্য ৬ টি ভূমিকম্প উপেক্ষা করেও আজও তার ঐতিহ্য নিয়ে সগৌরবে বিদ্যমান।

<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

 =========================