Friday, December 25, 2020

64>ভ্রমণ =পুরুলিয়ার --(1 To 8)


64/1>|| পুরুলিয়ার পলাশ ||

64/2>সমগ্র পুরুলিয়া পর্যটন স্থান::--

64/3>  ভ্রমণ =পুরুলিয়ার 4টি দর্শনীয় স্থান

64/4>গড় পঞ্চকোট----

64/5>পাঞ্চেত ড্যাম

64/6>দেউলঘাটা, 

64/7>পাকবিড়ায়া

64/8> || পুরুলিয়ার মুরগুমা ড্যাম ||==( কবিতা )

=============================

 64/1>|| পুরুলিয়ার পলাশ ||

     <------আদ্যনাথ----->

আজ স্মৃতির দুয়ার খুলে মনে পড়ে,

মন ছুটেযায় পুরুলিয়ার পলাশের  বনে।

বার্ধক্যে কত স্মৃতিই গেছে মুছে,

কিন্তু পুরুলিয়ার পলাশকে ঠিক মনে আছে।

ভ্রমরের গুন গুন ও মৌমাছর গুঞ্জন

দিনভর মেতে ওঠে পলাশের বন।

আজ স্মৃতির দুয়ার খুলে মনে পড়ে,

পুরুলিয়ার সেই পলাশের গভীর বন।

বনের পশুরাও পলাশমধুর গন্ধে ছুটে আসে,পলাশের কাছে।


পুরুলিয়া মানেই পলাশের দুনিয়া,

পুরুলিয়া দেখা মানে পলাশের আগুণের শোভা দেখা।

যে দিকে মন চায় দুচোখ ভরে পলাশের রঙ দেখা।

পলাশে লাগে আগুন মাঝ ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ফাগের ফাল্গুন।

পলাশের শোভা, তার আগুন ঝরানো রূপে,

নানান রঙের পলাশ ফোটে পুরুলিয়ার জঙ্গলে জঙ্গলে।

পলাশের সুমিষ্টমধু চিরদিন থাকে মনে,

পলাশ ফুলের রঙিন আবির যাকে ফাগ বলা হয়, 

কারন ফাল্গুন মাসেই রঙিন দোল উৎসব হয়।

পলাশ ফুলের রঙে রাঙিয়ে মন ভরে যায়,

ফাল্গুনের  দোল বা হোলির রঙ বা ফাগ

পলাশের রঙে রঙিন হয়।

পলাশ লতা ও বৃক্ষ দুই ভাবেই হয়।

নানান রঙের পলাশে কীবাহার কীবাহার,

লাল,কমলা,হলুদ,স্বর্ণ রঙিন,

আর দেখেছি নীল ও সাদার বাহার।

তাইতো ফাল্গুনের পলাশের রূপে 

বার বার পুরুলিয়ায় মন টানে।

   <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

==========================

 বিঃদ্রঃ::--(পলাশের রঙ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন ও সংশয় থাকতে পারে,

কিন্তু আমি যেটুকু দেখেছি নিজে,

পুরুলিয়ার গভীর জঙ্গলে, 

সেই টুকুই বলছি নিজের কলমে। )

=========================

64/2>সমগ্র পুরুলিয়া পর্যটন স্থান::--

1●জয়চন্ডী পাহাড়,

2● অযোধ্যা পাহাড়,

3●গাজাবুরু পাহাড়

4●পাখি পাহাড়,+ পারদি ড্যাম,

5●জীবর পাহাড়, কংসাবতী নদীর উৎস।

6●সাহেব বাঁধ,

7●মুরুগমা বাঁধ,

8●মুরারী  হ্রদ,

9●ব্রামনি জলপ্রপাত,

10●সুরুলিয়া,

11●দুয়ার সিনি,

12●মাইথন + পাঞ্চেত

13●মুবাডি,

14●দ্যাম,

15●পর্পঞ্চকোট,

16●কাশিপুর রাজবাড়ি ( এখন ভিতরে প্রবেশ নিষেধ)

17●দেউল ঘাটা, নদীর কোলে শান্ত নিরিবিলি পরিবেশ।

       ++পাকবিড়ায়া

18●ডিমডিহা,

19●বেলামু,

20●পাট ঝালদা, কপিল মুনির জন্ম স্থান।

21●ফুটিয়ারী ড্যাম,

22●গড় পঞ্চকোট,

23●বান্দার দেউল + তেলকুপি (সুন্দর জায়গা)



°==============================

64/3>  ভ্রমণ =পুরুলিয়ার 4টি দর্শনীয় স্থান।---dt--???

1>গড় পঞ্চকোট, 2>পাঞ্চেত ড্যাম 3 >দেউলঘাটা, 

4 >পাকবিড়া,

<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

ধানবাদে থাকার সময় পুরুলিয়ার নানান স্থানে ঘুরে বেড়িয়েছি।

 আজ লিখতে বসলাম,পুরুলিয়ার 4টি দর্শনীয় স্থান দেখার ও  ভালোলাগার সভিজ্ঞতা।

1>গড় পঞ্চকোট, 2>পাঞ্চেত ড্যাম

 3 >দেউলঘাটা, 4 >পাকবিড়া,



=======

ভ্রমণ পুরুলিয়া ( 1 )

64/4>গড় পঞ্চকোট----

এখানকার কাছের রেল স্টেশন হল বরাকর।

বরাকর থেকে অনেক গাড়ি যায় ওইদিকে,আমরা আসানসোল থেকে গাড়ি ভাড়া করে বরাকর পারকরে, বরাকরের বেগুনিয়া মোড়ের বাম দিকে দিয়ে ডিশের গড় রোড ধরে সোজা পৌঁছে ছিলাম গড় পঞ্চকোট। জায়গাটি কিন্তু পুরুলিয়ার মধ্যে। 

646 মিটার উঁচু, 18 বর্গ কিলোমিটার ব্যাস জঙ্গলাকীর্ন গড় পঞ্চকোট পাহাড়, এখানেই ছিল গড়। তার চিহ্ন এখনো আছে এখানে।এই গড় পঞ্চকোট পুরুলিয়া জেলায় পঞ্চকোট পাহাড়ের কোলে অবস্থিত একটি প্রত্নস্থল। এই স্থানটি শিখর রাজবংশের রাজধানী ছিল।

তবে বর্তমানে এই গড় পঞ্চকোট ভগ্নপ্রায়। ভগ্নপ্রায় পঞ্চরত্ন মন্দির।

জানলাম গড় পঞ্চকোট প্রায় পাঁচ মাইল বিস্তৃত একটি দুর্গ ছিল। এই গড়ের চারিপাশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বারো বর্গমাইল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ছিল এবং এটি পরিখা দিয়ে ঘেরা ছিল। মূল দুর্গ পাথরের দেওয়াল দিয়ে ঘেরা ছিল।এখানকার অধিকাংশ স্থাপত্য বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত বা অবলুপ্তির পথে। এই স্থানে বেশ কয়েকটি মন্দির রয়েছে, যেগুলি উপযুক্ত সংরক্ষণের অভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

এখানকার  সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য একটি মন্দির হল পঞ্চরত্ন টেরাকোটা নির্মিত দক্ষিণ ও পূর্বদুয়ারী রাস মন্দির। মন্দিরের গায়ে ফুল ও আলপনার নকশা ছাড়াও খোল, করতাল বাদনরত ও নৃত্যরত মানব-মানবীর মূর্তি আছে।ষাট ফুট উচু কেন্দ্রীয় চূড়া বিশিষ্ট ভগ্নপ্রায় এই মন্দিরে কোন বিগ্রহ নেই। উত্তরপশ্চিম দিকে অপর একটি পঞ্চরত্ন টেরাকোটা মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে, বর্তমানে যার চারটি চূড়া নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে ও মধ্যের ৪০ ফুট উচ্চ চূড়াটি অবশিষ্ট রয়েছে।

গড়ের পশ্চিমদিকে প্রস্তর নির্মিত কঙ্কালী মাতার ভগ্নপ্রায় মন্দিরের অস্তিত্ব বর্তমান। মন্দিরের সামনের অংশ অক্ষত হলেও পেছনের অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত। কঙ্কালী মাতা পঞ্চকোট রাজ্যের কুলদেবী হলেও বর্তমানে এই মন্দিরে কোন বিগ্রহ নেই। গড়ের বাম দিকে প্রস্তর নির্মিত কল্যাণীশ্বরী দেবী মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ বর্তমান। এছাড়াও দুইটি প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত জোড়বাংলা মন্দিরের কিছু অংশ আছে।  এছাড়া পঞ্চকোট পাহাড়ের পাদদেশে রাজপ্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ ও কর্মচারীদের বাসস্থান আছে।

<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

============================================


 64/5>পাঞ্চেত ড্যাম


 পাঞ্চেত বাঁধ হল দমদর ভ্যালি কর্পোরেশনের দ্বারা নির্মিত ঝাড়খণ্ড রাজ্যের ধানবাদ জেলার পাঞ্চেতে  দামোদর নদী জুড়ে নির্মিত হয়েছিল এবং ১৯৫৯ সালে বাঁধটি চালু করা হয়েছিল।

(১৯৫৭ সালে মাইথনে বরকার নদীতে তৃতীয় বাঁধ উদ্বোধন করা হয় এবং ১৯৫৯ সালে পাঞ্চেতে দামোদর নদে চতুর্থ বাঁধ উদ্বোধন করা হয়।)

পাঞ্চেত বাঁধটি করাকর নদীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রেখে, দামোদর নদে নদীটি যে স্থানে মিলিত হয় তার থেকে সামান্য উজানে নির্মিত হয়েছে। পাঞ্জেত বাঁধ ও জলাধারের উত্তরাঞ্চলীয় ধনবাদ জেলা এবং দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের পুরুলিয়া জেলা রয়েছে। 

এই পাঞ্চেত বাঁধটি  জি টি  রোডের চিরকুন্ডা থেকে ৯ কিলোমিটার। এবং আসানসোল থেকে ২০ কিলোমিটার  দূরে। নিকটতম রেলওয়ে স্টেশন কুমারধুবি থেকে 10 কিলো মিটার।

                         <--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

====================================================


64/6>দেউলঘাটা, 

দেখলাম  পুরুলিয়া শহরের আড়ষা ব্লকে কংসাবতীর দুই পাড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরনো দুর্মূল্য কিছু প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন। আশপাশে পড়ে থাকা পাথরের স্তূপ দেখে বোঝা যায় এককালে এখানে অনেকগুলি দেউল ছিল। তবে এখন দাঁড়িয়ে আছে মাত্র দুটি। কয়েক বছর আগেও দেউল ছিল তিনটি। সবচেয়ে বড় দেউলটি নাকি ভেঙে পড়ে 2002 সালের 30শে সেপ্টেম্বর ভোর চারটের সময়, সেই সময় পুরাতত্ত্ব বিভাগ এই মন্দির সংস্কার করছিল।  জানলাম দেউল থেকেই এলাকার নাম হয় দেউলঘাটা। পুরুলিয়ার এই দেউলঘাটা এলাকা জঙ্গলে ভরা পলাশ-শিমুলের গাছ তারই ভেতর দিয়ে   আঁকাবাঁকা লাল মাটির রাস্তা। জঙ্গলের কোথাও কোথাও ছোটো বড়ো পাহাড় আর টিলা তার মাঝে দেখলাম ঝরনা। 

কংসাবতী নদীকে বলা যেতে পারে পুরুলিয়ার প্রাণ। সেই কাঁসাই-এর তীরে জয়পুর থানা এলাকায় দেউলঘাটা। ভারতের সবথেকে পুরোনো যে ক’টি পোড়ামাটির মন্দির এখনও কালের গর্ভে টিকে আছে তার মধ্যে এগুলি অন্যতম। দেউল আকৃতির এই মন্দির দুটির পুরাতাত্ত্বিক গুরুত্ব অপরিসীম। মন্দিরের ভিতরে বিগ্রহ পাথরে খোদিত দশভুজা দুর্গার মূর্তি, নিচে রয়েছেন মহিষাসুর। সিংহ এবং মহিষ। তবে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশের কোনো মূর্তি নেই। এই মূর্তিতে দেবীর এক পা মহিষের ওপর  রাখা। আর এক পা সিংহের ওপর রয়েছে। কালো পাথরে নির্মিত অপরূপ এই মূর্তি। 

এখানে খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের কেন্দ্র গড়ে উঠেছিল । তখন সম্ভবত এই দুর্গামূর্তির পুজো শুরু হয়েছিল। লোকমুখে শোনা যায়, অনেক যুগ আগে তাম্রলিপ্তের বণিকরা ঝাড়িখণ্ডে যেতেন বাণিজ্য করতে। তখন কংসাবতী নদীতে  নৌকো করে এসে  তাঁরা এই মন্দিরে পুজো দিতেন। এখনও মায়ের নিত্যপুজো হয় এখানে। প্রতিদিন ভক্তদের সমাগম ঘটে। দুর্গাপুজোর চার দিন এখানে থাকে উৎসবের মেজাজ। দেউলঘাটায় অনেক ঘর রাজপুতদের বাস। তারাই পুজোর উদ্যোক্তা। এখানে সপ্তমী থেকে নবমী নিয়ম করে পাঁঠাবলি হয়। চার দিন সব ভক্তদের জন্য প্রসাদের ব্যবস্থা থাকে। এখানে সকলেই ভোগ প্রসাদ পায়।

<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

=========================================================

 

64/7>পাকবিড়ায়া

আমাদের সাথে কাজ করে সন্তোষ মাহাতোর মুখে শুনলাম  পুরুলিয়ার পাকবিড়ার গল্প। সন্তোষের মামা বাড়ি পাকবিড়াতে। পাকবিড়ার কথা শুনে ওখানে যাবার ও দেখবার জন্য মন ব্যাকুল হয়ে পড়লো , সেইকারণে একদিন সন্তোষকে নিয়ে চলেগেলাম পাকবিড়া ঘুরে দেখতে।   

পুরুলিয়ার পুঞ্চা থানার অন্তর্ভুক্ত এই পাকবিড়া গ্রাম । গ্রামের পথের দুইধারে   ধানখেত, তাল, খেজুরের সারি। চতুর্দিকে যেন এক অসীম শান্ত, নির্জনতা বিরাজ করছিল। আমরা পাকবিড়াতে পৌঁছে তিনটি দেউল দেখলাম । দেউলের  বাইরে গাছের নীচে একটি  আট ফুট দীর্ঘ কষ্টি পাথরের মূর্তি দেখলাম। সেখানে আমরা কথা বললাম নিমাই মাহাতোর সাথে, যিনি ওখানকার সংগ্রহশালার দেখাশুনা করেন।মাহাতো জি বললেন আগে এখানে আরো 19 টি দেউল ছিল, যেগুলি ধংস হয়ে গেছে রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে। অর্থাৎ এখানে 21টি দেউল ছিল, বর্তমানে স্রেফ তিনটিই টিকে আছে। আমরা আরো জানতে পারলাম যে ওই কষ্টি পাথরের মূর্তিটি ভৈরবের মূর্তি। আনুমানিক ষষ্ঠতম তীর্থঙ্কর পদ্মপ্রভ-র। পদ্মের উপরেই মূর্তিটি দণ্ডায়মান। তবে ঝড়-বৃষ্টিতে মূর্তিরটি কিছুটা ক্ষয়প্রাপ্ত। তবে দেউল তিনটির কারুকাজ অপূর্ব। এই অঞ্চলে আনুমানিক একাদশ শতাব্দীতে জৈন ধর্মের বিকাশ ঘটে। সে সময়ে কলিঙ্গরাজ অনন্ত বর্মণ, পূর্বে ভাগীরথী পর্যন্ত তাঁর সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিলেন । তিনি ছিলেন জৈন ধর্মের পৃষ্ঠপোষক। পরবর্তী সময়ে জৈন ধর্মের প্রভাব কমতে থাকে। ১৮৬১ সাল থেকেই এখানকার ঐতিহাসিক নিদর্শন সংগ্রহের কাজ শুরু হয়। 

নিমাই মাহাতো, আমাদের জন্য সংগ্রহশালার তালা খুলে দিলেন। ভিতরে প্রবেশ করে অবাক হয়ে দেখলাম , জৈন তীর্থঙ্করদের মূর্তি , মহাবীর, পার্শ্বনাথ, আদিনাথ, সম্ভবনাথ, অজিতনাথ, সিদ্ধায়িকা, ত্রিশলা- সিদ্ধার্থ, ঋষভনাথ এবং  আরও বেশ কিছু মূর্তি। কিন্তু কিছু মূর্তি প্রায় ধ্বংসের পথে। এমন গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক একটি স্থান এখনও অন্ধকারে রয়েছে স্রেফ প্রচারের এভাবে।

সারাদিন ঘুড়েবেরিয়ে দেখে সন্ধ্যাতে সন্তোষের মামাবাড়িতে উঠলাম।  আমার ইচ্ছা ছিল ধানবাদে ফায়ার যাবার। কিন্তু সন্তোষ কিছুতেই ছাড়লনা। ওর কথা হল এভাবে চলে গেলে ওর দাদু নাকি ভীষণ অসন্তুষ্ট হবেন।  সেইকারণে বাধ্য হয়ে সন্তোষের মামাবাড়িতে উঠতে হল। 

সত্যি গ্রামের মানুষের আথিতিয়তা ,আদর আপ্যায়ন ভোলাবার নয়। কিন্তু প্রথমেই ঘটলো এক বিভ্রাট কারণ সন্তোষের দাদু যখনি জানতে পারলেন যে আমি ব্রাহ্মণ, তখনি উনি আমায় বললেন "বাবা তোমাকে একটু কষ্ট করে রান্না করে নিতে হবে " আমি এমন কথা শুনে বেশ মুস্কিলে পরে গেলাম, এবং জানতে চাইলাম কেন কিকারনে  আমাকে নিজের রান্না নিজে করেনিতে হবে। ওনাদের কথায় জানলাম যেহেতু আমি ব্রাহ্মণ আর ওনারা মাহাতো সেই কারনে  ওনাদের রান্না করা আমি খেলে নাকি ওনাদের মহা পাপ লাগবে, তাই এই পাপের ভাগই ওনারা হতে চাননা। অগত্যা আমি নানা ভাবে ওনাদের বুঝিয়ে রাজি করলাম যে আমি কোন জাত মানিনা এবং ওনাদের হাতের রান্না খেতে আমার কোন আপত্তি নাই। শেষে ওনারা রাজি হলেন বটে ,তবে আমি পরে জানতে পারলাম যে ওনার ছোট ছেলের বউ রাত্রে আবার স্নান করে শুদ্ধ অবস্থায় আমার জন্য রান্না করেছিলেন। ব্যাপার টা জেনে আমি ভীষণ দুঃখ পেয়েছিলাম ,এবং সেই কথা আমি সন্তোষের দাদু ও মামাদের জানিয়ে ছিলাম ,যে এমন করলে আমি আর কোনদিন এখানে আসবোনা।  আমার কথা শুনে ওনারা দুঃখ পেয়ে বলেছিলেন " নানা বাবা এমন করে বলবেন না,আমরা কি করব বলো ,গ্রামের আচার নিয়মই এমন, আচার নিয়ম না মানলে গ্রামে অশান্তি হবে, তবে পরে কোনদিন আবার আসলে একটু আগে জানিয়ে দেবেন , আমরা সেই মতন ব্যবস্থা আগেথেকে করে রাখবো।" আমি জানতে চাইলাম আগে জানালে আপনারা কি ব্যবস্থা করে রাখবেন শুনি। আমার সেই প্রশ্নের উত্তরে ওনারা জানিয়ে ছিলেন যে ওনারা আমার রান্না করার  জন্য একজন ব্রাহ্মণ রাধুনী জোগাড় করে রাখবেন। সে যাইহোক সেদিন ওখানে যা খেয়েছিলাম  সেই মোটা লাল চাউলের ভাত ,কি অপূর্ব তার স্বাদ। তার সাথে টাটকা সাগ সবজি। আজও  চিন্তা কইলেই মনেহয় মুখে সেই স্বাদ লেগে আছে। তবে গ্রামের জাত পাতের ব্যাপার টা চিন্তা করলে ভীষণ মনঃ কষ্ট পাই।                                                                                        <------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী------>

===================================


   

64/8> || পুরুলিয়ার মুরগুমা ড্যাম ||==( কবিতা )

                     <----আদ্যনাথ-->


এখনও রাত্রির একটু বাকি,

চলেছি পাহাড়ের ঢালে ধীরে সন্তর্পনে,

ঝরাপাতার খস খস শব্দপায়ের নিচে,

সকলেই ভীত অচেনা ডাক শুনে কাছে।

লাঠি দিয়ে সামনের পাতা সরিয়ে,

চলেছি সকলে অজানা পথে।

তবুও যেতে হবে ওই ড্যামের ওপরে

টর্চের আলো তে ছোট কিছু পালায় ছুটে,

পাখিদের কলতান শুরু হল সেই ক্ষণে,

চারিদিকে ছড়িয়ে রঙিন আবির গগনে।


মুরগুমা ড্যামের ওপারে পাহাড়ের চূড়ায়,

হঠাৎ যেন হল নুতন সূর্য্য উদয়,

আগুন যেন লাগলো পাহাড়ের মাথায়,

সবুজ পাহাড় গুলিও লালে রাঙিয়ে দিল,

ড্যামের জলে কে যেন রং ঢেলে দিল।

এইনির্জনে শেয়ালের ডাকও ভয়ঙ্করলাগে

তবুও মনে শান্তনা ওই পাখিদের দেখে,

পাখিরা কত সুন্দর সাবলীল ড্যামের জলে

ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিরা খাবারের খোঁজে,

ভোরের ঠান্ডা হাওয়ায় মুরগুমার শোভা খোলে।


অযোধ্যা পাহাড়ের মুরগুমা ড্যাম

প্রকৃতির সকল সৌন্দর্য আছে লুকিয়ে। 

প্রকৃতি যেন দিয়েছে উজাড় করে,

আমরাও ক্লান্ত এতটা  চড়াই চড়ে।

তবুও মনের আনন্দ মুরগুমাকে দেখে,

চেয়েছিলাম যেটুকু মনে

মুরগুমা দিয়েছে তার থেকে বহু গুনে।

আজথেকে সেই 36 বৎসর আগে,

পাহাড় জঙ্গল আর আদিবাসীদের ঘরে,

আদর দিয়ে ছিল ওরা  হৃদয় উজাড় করে।

 ======<--©➽--আদ্যনাথ-->======

===========================


Friday, December 18, 2020

63>|| পূর্বস্থলী একদিনের ভ্রমন ।-----????

 


   63>|| এক দিনের ভ্রমণ পূর্বস্থলী ।---dt----?

               <----©➽-আদ্যনাথ--->


পূর্বস্থলী পূর্ব বর্ধমানের কালনা সাবডিভিশনে অবস্থিত।

কোলকাতা থেকে মাত্র 120 km.পথ।

এবং Nabadwip থেকে মাত্র 8 km দূরে।


হাওড়া----to Purbasthali by train of 

               Katoya station,

      স্টেশন থেকে রিক্সায় চুপির চর।

        অথবা-------

শিয়ালদা-----to krishna nagar atn.

       

        স্টেশন থেকে Ato তে ভাগীরথী পার

        করতে হবে চৈতন্য সেতু দিয়ে।

        সেই রাস্তাই চলে গেছে পূর্বস্থলী  

         বাজার হয়ে স্টেশন,

        স্টেশন পার করেই হ্রদ।


পূর্বস্থলী তে দুই থেকে তিন কিলোমিটার লম্বা অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ। 

সেই হ্রদেই পরিযায়ী পাখিদের ভিড় ।

নৌকাভাড়া করে যেতে হয় পাখি দেখতে

চুপির চরে। 


গঙ্গার পথ পরিবর্তনের ফলে তৈরি হয়েছে এই অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ। গঙ্গার প্রধান স্রোতের সঙ্গে এটি যুক্ত। নৌকাযাত্রা শুরু হয় গঙ্গা থেকে, তার পর হ্রদে প্রবেশ। শীতে দেখা যাবে বিচিত্র রকমের ঝাঁক ঝাঁক পরিযায়ী পাখি। 

এই হ্রদে নৌকাভ্রমণই এক সুন্দর অভিজ্ঞতা, অন্য রকম অভিজ্ঞতা। মাঝিদের সঙ্গে একটু দরাদরি করতে হবে। মনোরম এবং শান্ত পরিবেশে এসে সকলেরই মন জুড়িয়ে যায়। তবে


থাকা খাওয়ার একটু অসুবিধা হতেই পারে

কারন এখানে বিশেষ তেমন ব্যবস্থা নেই। তবে দিনের আলো থাকতে-থাকতে 

 বেড়িয়ে আসরার  খুব ভালো জায়গা এই

 পূর্বস্থলী।

 এখানে শীতকালটাই উপযুক্ত সময় শহরের কোলাহল এড়িয়ে পূর্বস্থলীতে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য।

<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

========================


Tuesday, December 15, 2020

62>|| প্রয়াগ -কুম্ভ || (1 to 7 )

  62>কুম্ভমেলা,-শ্রী আদিশঙ্করাচার্য। ||

          ( 1 to 7 )

62/1>|| ত্রিবেণী সঙ্গম::||

62/2>|| কুম্ভমেলা ||(কবিতায় )

62/3> || কুম্ভে নাগা সন্নাসীর রণহুংকার || (ভ্রমন)>>>>>>(আমার ভ্রমণ)

62/4>শ্রীশঙ্করাচার্যের 'দশনামী সন্ন্যাসী' 

62/5>আদি শঙ্করাচার্যের  দশনামী আখড়া।

62/6>|| প্রয়াগ কুম্ভ মেলা ||(কবিতা)

62/7>প্রয়াগ কুম্ভ;;---প্রয়াগ অর্থ::--


==========================

62>কুম্ভমেলা,---:-শ্রী আদিশঙ্করাচার্য।

মহাসমাধি:-শ্রী আদিশঙ্করাচার্য

 ৮২০ খ্রিস্টাব্দ মাত্র ৩২ বছর বয়সে

কেদারনাথ , মতান্তরে রামেশ্বরমে।

দৈবিক যোজনাতে সমাধিস্থ হন।

★★★★★★★★★★★★

কুম্ভ কখন কোথায় হয়::----

হরিদ্বারে একবার কুম্ভ হয়ে গেলে তার ছয় বছরের মধ্যেই বাকি তিনটি তীর্থে কুম্ভ সম্পন্ন হয়।

হরিদ্বার ও প্রয়াগে অর্ধকুম্ভ ও হয়।

এই যোগ অর্ধপরিমান ফলদায়ী।


হরিদ্বার,প্রয়াগ,নাসিক ও উজ্জ্বয়িনী,

এই চারটিস্থানেই কুম্ভমেলা হয় জানি। 

সূর্য,চন্দ্র ও বৃহস্পতির রাশিগত অবস্থানের  

কালের বিচারে,

মেলার স্থান,কাল,সময় নির্ধারিত হয় এই প্রকারে---


বৃহস্পতি ও সূর্য সিংহে অবস্থান কালে,

নাসিকের ত্র্যম্বকেশ্বরে; 

সূর্য মেষে অবস্থান কালে হরিদ্বারে; 

বৃহস্পতি বৃষে ও সূর্য কুম্ভে  অবস্থান কালে প্রয়াগে; 

সূর্য বৃশ্চিকে অবস্থান কালে উজ্জয়িনীতে। 


এমন ভাবেই হয় মেলা আয়োজন---

প্রতি চার বছর অন্তর কুম্ভ,

প্রতি ছয় বছর অন্তর অর্ধকুম্ভ,

প্রতি বারো বছর অন্তর পূর্ণকুম্ভ,

আর বারোটি পূর্ণমুম্ভে(144 বৎসরে) হয় মহাকুম্ভ ।

<-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

=====================

■★★★★★★★★★★★★★■

 62/1>|| ত্রিবেণী সঙ্গম::||

       <------আদ্যনাথ----->


ত্রিবেণী সঙ্গম, তিন নদীর সঙ্গম।

গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতী নদীর সঙ্গম।

সত্য,আনন্দ, জ্ঞান, তিন প্রবাহের সঙ্গম।

তাইতো প্রয়াগ শব্দ উচ্চারণ মাত্রেই 

মুক্ত হওয়া যায়,অহং ত্যাগ হয়,

সমস্ত কষ্ট  লাঘব হয়।

সেইহেতু কুম্ভ অর্থাৎ শুভ গ্রহ ও নক্ষত্র যোগে,পবিত্র স্নানের তরে ত্রিবেণী সঙ্গম।

গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতী তিন নদী প্রবাহ সঙ্গম,

তিন নদীর মিলন, তিন প্রবাহের মিলন,

সত্য, আনন্দ ও জ্ঞানের মিলন।

ইড়া, পিঙ্গলা, এবং সুষুম্নার মিলন,

সহস্রারেই ত্রিবেণী সঙ্গম।

এ-হেন শ্রেষ্ঠ পবিত্র সঙ্গমে দিলে ডুব,

মনের গ্লানি ও সকল পাপ হবে দূর।

তাই ডুব দিতে হয় সঙ্গমে,

করতে হবে মন্থন,

যেমন হয়েছিল সমুদ্র মন্থন, 

আমাদের এই অন্নময় শরীরই সমুদ্র, 

সেই সমুদ্রকে করতে হয় মন্থন।

এই অন্নময় শরীরকে মন্থন করলেই 

লাভ হয় সত্য ,আনন্দ,জ্ঞান রূপী অমৃত।

তখন ইড়া, পিঙ্গলা প্রবাহ সুষুম্না কে ঘিরে,

ষড় চক্র সজাগ হয়ে মিলিত সহস্রারে গিয়ে।

ত্রিবেণী সঙ্গমেই প্রাপ্তি হয় সত্য, আনন্দ ও জ্ঞান রূপ অমৃতের সন্ধান।

স্নান করা মানেই জলে ডুব দেওয়া,

সচ্চিদানন্দ রূপ জলে ডুব দেওয়া।

শরীর রুপি সমুদ্রে সচ্চিদানন্দ রূপ জলে

ডুব দিতে হয় শুদ্ধ মনে।

যে-মন যত পবিত্র শুদ্ধ সেই মন ততোই অমৃতের অধিকারী হন।

স্ত্রী শক্তির সত্য মাতৃরূপ তিন নদী

শিবশক্তি, নারায়ণ,ও ব্রহ্মা,তিন শক্তির মিলন,

গঙ্গা, সরস্বতী, যমুনা-র মিলন,

শরীর মধ্যে ইড়া, পিঙ্গলা, আন্তঃসলীলা সুষুম্নার মিলন।

সহস্রারে মিলন,প্রয়াগরাজে মিলন।

শরীরেই ত্রিবেণী সঙ্গম।


সৃষ্টি কর্তা ব্রহ্মার স্ত্রী সরস্বতী,   

সৃষ্টির রক্ষা কর্তা নারায়নের স্ত্রী লক্ষ্মী,

সৃষ্টির ধ্বংসের কর্তা শিবের স্ত্রী দুর্গা।

শিব শংকরের জটা থেকে জন্ম গঙ্গার।

আবার শিবই ধ্বংসের কর্তা।

এ-হেন ত্রি শক্তির মিলন ত্রিবেণীতে,

তাইতো ত্রিবেণীর পুত পবিত্র জল জীবের কল্যাণের তরে।


এইতিন মাতৃ শক্তির মিলন,

এইতো সৃষ্টির অমোঘ কারণ,

স্বয়ং পৃথিবী তাঁরে করছে ধারণ,

শরীর পৃথিবীর সৃষ্টি, প্রকৃতির কারণ,

পৃথিবীতেই লয়, প্রকৃতির কারণ।

যা-আছে পৃথিবী তথা ব্রহ্মাণ্ডে,

তা-সকলই আছে এই শরীর খণ্ডে।


সৃষ্টির বীজ প্রকৃতি করে ধারণ,

মনুষ্য শরীর প্রকৃতির লীলার কারণ।

ইড়া পিঙ্গলা, সুপ্ত সুষুম্নাকে বেণীর মতন বেষ্ঠন করে প্রবাহিত মনুষ্য শক্তির 

জীবনী শক্তির সুপ্ত কারণ।

তাইতো সদাসর্বদা শরীরমধ্যেই চলছে 

মহাকুম্ভের মেলা,

এ যেন প্রকৃতির এক অদ্ভুত লীলাখেলা।

সৃষ্টি, স্থিতি, লয়, প্রবাহ প্রলয়,

সকলি প্রকৃতির লীলা ময়,

গঙ্গা যমুনা প্রবাহ সুপ্ত সরস্বতীকে ঘিরে,

ইড়া পিঙ্গলা বহিছে সুপ্ত সুষুম্নাকে ঘিরে।

প্রকৃতির সৃষ্টি প্রকৃতির খেলা

সৃষ্টি ও প্রলয় চলে দুই বেলা।

কুম্ভ গ্রহ নক্ষত্রের যোগের খেলা,

মনুষ্য জন্মও সৃষ্টি প্রবাহের খেলা।


ভারতীয় দর্শন বলে যাহা শীর্ণ হয়, তা-হা-ইতো শরীর।

জন্মিলে মরিতে হবে , অমর কে কোথা কবে, 

"চিরস্থির কবে নীর, হায় রে জীবন -নদে?"

তাই-তো কুম্ভস্নান অমৃত লাভের লোভে।

        16/02/2025::03:20 pm

     <-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

==========================

■★★★★★★★★★★★★★■



        62/2>|| কুম্ভমেলা ||(কবিতায় )

               <----আদ্যনাথ--->

গিয়েছিলাম প্রয়াগে ত্রিবেণী সঙ্গমে,

2001 সালের জানুয়ারিতে পূর্নকুম্ভে,

গঙ্গা, যমুনা, সরস্বতীর ত্রিবেণীসঙ্গমে,

শ্রেষ্ঠ তীর্থ মেলা প্রয়াগকুম্ভ সঙ্গমে।


প্রয়াগকুম্ভে ছিল অজস্র মানুষের ভীড়,

লক্ষ,লক্ষ, মানুষ যেন সকলেই অস্থির।

প্রশাসন ছিল অতিশয় শক্ত নিয়মনিষ্ঠ,

 সকল ব্যবস্থাই ছিল সুন্দর ও সুষ্ঠ।


সকলের মনে ছিল নিষ্ঠা ও ধার্মিক যুক্তি,

কুম্ভস্নানে  সমস্ত পাপের হবে মুক্তি।

সকলের ভাবনা চিন্তা পেতেচায় মুক্তি,

পার্থিব জীবন-মৃত্যুর চক্র হতে মুক্তি।


তাইতো সার্থক করতে এই জীবনকে,

স্নান জরুরি প্রয়াগের ত্রিবেণী সঙ্গমে,

ভোর4তেই লাইন দিয়ে স্নানের ভিড়ে,

অজস্র মানুষের লাইন চলছিল ধীরে।


তুলসিদাসী রামায়ণের একটু আছে মনে। 

"মাঘ মকরগত রবি জব হই,

তীরথপতিহি আব সব কোই,

দেবদনুজ কিন্নর নরশ্রেণী,

সাদর মজ্জহি সকল ত্রিবেণী।"


এই জানুয়ারি মকর সংক্রান্তিতে,   

লক্ষ-লক্ষ মানুষ ব্যাকুল তীর্থস্নানেতে,

নাগা-সাধু,গৃহি-মানুষ সকলেই মহা-উদ্যমে 

প্রয়াগরাজ-কুম্ভ-ত্রিবেণী-সঙ্গমে। 


দেখলাম কুম্ভযেন অজস্র সাধুর মেলা, 

নানান দেশ বাসি দেখেন সাধুর মেলা,

নানান সাধু আর মানুষের সহবাস,

গাঁজার ধোঁয়া আর অমৃত পাবার আশ্বাস।


গাঁজার আড্ডা গুলিতেই ভিড়ছিলবেশ,

গাঁজার গন্ধে ভরপুর মেলার পরিবেশ।

মনেহয় গঞ্জিকার মাহত্যই অধিক শ্রেষ্ঠ,

বাতাস যেন গঞ্জিকার ধোঁয়ায় কৃষ্ট।


সাধুসন্তদের 'গঞ্জিকা, সেবনের কেরামত,

'প্রেমতক্তি'তে 'রতনকাটারি'র কসরত।

কল্কেতে 'টিকলি' লাগিয়ে গাঁজা ভরে,

ভেজা ‘সাফি’ জড়িয়ে,কল্কেতে আগুন দিয়ে ধরে।


বম-বম বলে চার আঙুল দিয়ে ধরে,

বাম হাতের আঙ্গুল দিয়ে জড়িয়ে ধরে।

কেউ টানে কেউ চায় কেউ করে আশা,

কুম্ভমেলা যেন গঞ্জিকা সেবকেই ঠসা।


সেই গঞ্জিকার ধোঁয়া আর কুয়াশায় মিলে,

চারিদিকে যেন অন্ধকার ঘনিয়ে আসে।

নূতনেরা বুঝি  খক্ক খক্ক কাশে,

তবুও চলে বম-বম বোলে মৌতাতের বলে।


কুম্ভে গাঁজার টানে সাধু-সন্ন্যাসীগণ,

'তুরীয় আনন্দে ' মন বুঁদ হয় তখন।

কৌপীনধারী বাবারা দিনের পর দিন,  

গাঁজার মৌতাতেই থাকেন সারাদিন।


বাউলরাও গঞ্জিলকাকে দেন বড়ই আদর-সন্মান,

বৈষ্ণবদের বড় কল্কেতে হয় না মৌজ , 

ওনাদের প্রেমের ছোট কল্কে, 

যাকে ওরা বাঁশি বলে ডাকে।


সেই বাঁশির মৌতাতে ওরা ঝুমতে থাকে,

কল্কের মাহাত্যে কৃষ্ণ প্রেমের জোয়ার ডাকে,

কৃষ্ণ প্রেম হয় কি গঞ্জিকা বিহনে,

বৈষ্ণবীগণও মাতোয়ারানকৃষ্ণ প্রেমে।


নৃত্যের তালে তালে গঞ্জিকার ফোয়ারা,

সেই মৌতাতেই  কৃষ্ণনামে মাতোয়ারা,

মহিমা অপার অনন্ত কৃষ্ণের নাম ধরি,

যেই নাম সেই কৃষ্ণ ভজ নিষ্ঠা করি।


কল্কের অন্তরে আছেন প্রেমের শ্রীহরি,

বৈষ্ণবীর মুখে শোন  নাম সংকীর্তনের বুলি,

নৃত্যের তালে অলৌকিক গঞ্জিকা সেবন,

নিশ্চিত-বিশ্বাস হয় সর্ব পাপ বিমোচন।


কৃষ্ণ নাম হরি নাম বড়ই মধুর,

যে কল্কের গুনেতে কৃষ্ণ ভজে সে বড়ই চতুর।

মৌতাতে বিভোর হয়ে বলো হরি বোল,

নাম মাহত্য গুনে বাজাও নিত্যানন্দের খোল।


হরে কৃষ্ণ, হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ বোল,

হরে রাম, হরে রাম, রাম রাম বোল।

কল্কের ইতিহাস জানাই আদর করে,

গাঁজা কাটার ছুরি টি ‘রতনকাটারি’বটে,

যে কাষ্ঠে গাঁজা কাটে তাকে ‘প্রেম তক্তি’ বলে।


আর কল্কের তলায় জড়ানো কাপড়েকে,

'সাফি’নামে জানেন গঞ্জিকাপ্রেমী সকলে।

কল্কের ভিতরে নিচের ত্রিকোণ পাথরটি,  

'টিকলি'র মাহত্য অনেক খানি খাটি।


কুম্ভ তো দেবাসুরের সংগ্রামের কথা

অমৃতের উপচে পড়ার গল্পকথা, 

আর মর্তে বল্লম তরবারি হাতে সাধুনাগা, সকল সাধুদের শাহি স্নানের দৃশ্য দেখা।


প্রয়াগকুম্ভে স্নান সেরে বহু মানুষ যান

আকবরের দুর্গে,

আদরে পুজো দেন সেখানে অক্ষয়বটে, 

যাকে ঘিরেই প্রয়াগের দুর্গ আজও  আছে বটে,

সেই দুর্গ ও অক্ষয়বট আছে সেনাবাহিনীর অধীনে।


কুম্ভতেই দুর্গের দুয়ার থাকে খোলা, 

কুম্ভ,মাসাধিক কালব্যাপী অস্থায়ী মেলা,

যেখানে শৈব দশনামী নাগা ও বৈষ্ণব বৈষ্ণবী, 

আর কাপালিক,তান্ত্রিক,ফকির, শিখ সন্ন্যাসী, কবীরপন্থী।


সন্ত রুইদাসপন্থী চারিদিকে তাঁবুর মেলা,

নানা জাতী, নানা মত,নানা পথ, সঙ্গমে,

এক সাথে মেলা।

এ-হেন সর্বধর্ম মলিনই কুম্ভমেলা।



মতভেদ থাকলেও পাশাপাশি করেন স্নান

একই  মাহেন্দ্রক্ষণে,

ত্রিশূলধারী,ভস্মাচ্ছাদিত নাগাসন্ন্যাসীদের  শৃঙ্খলার কারণে।

কুম্ভমেলা এক চলমান সংস্কৃতির ধর্মীয় অনুষ্ঠান 

যেখানে পূর্ব নির্ধারিত ক্ষণেইহয় শাহি স্নান।


কুম্ভতে দেখি আধুনিকতার ছোঁয়ার ছক,

নাগাসন্ন্যাসীরাও আজ মোবাইল, বাইক ধারক,

কারুর জিপ গাড়ি, কারুর চলেনা বহু মূল্য কার ছাড়া।

তাঁরা দেখান নানান কসরত বাজির খেলা।


কোন আখড়া  রাখেন উট হাতি, ঘোড়া,

বসেন বহু মূল্য রত্নের সম্ভার সাজিয়ে, 

পুরাকালে আসতেন রাজা-মহারাজারা,

আজ রাজা নাই,আছেন সাধু মহারাজেরা 

 

কুম্ভেআজও আছে লক্ষ লক্ষ ধার্মিক মানুষের ভিড়,

গৃহী-সাধুদের আদানপ্রদানের ভিড়,

প্রয়াগকুম্ভ কেবল ধার্মিক তীর্থ মেলাই নয়,

এখানে আখড়ার সাধুদের পদোন্নতিওহয়।


গঞ্জিকার ধূম্রজালে আচ্ছন্ন সেই পরিসরে,

নির্বাচিত হন ‘শ্রীপঞ্চায়েতি আখড়া’র

কর্মাধ্যক্ষ গণে।

সাধুদের এ এক গণতান্ত্রিক চেতনা,

সমাজে হিন্দুধর্মকে রক্ষার শুভ ভাবনা।


অধম আমি সামান্য জ্ঞানে করি জতন,

ধৃষ্টতা-বলে, মহাকুম্ভের করিলাম বর্ণন,

ভুল ত্রুটি জন্য করজোড়ে ক্ষমা প্রার্থনা

চাহিলাম প্রথম,

নহি লেখক, নহি পন্ডিত,সামান্য জ্ঞানে 

চাক্ষুস করেছি যাহা, করিলাম বর্ণন।

<-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

------16/02/2002::07:30:am----

===========================

■★★★★★★★★★★★★★■

62/3> || কুম্ভে নাগা সন্নাসীর রণহুংকার ||


2001সালে এলাহাবাদের প্রয়াগের ত্রিবেণী সঙ্গমে কুম্ভ মহামেলা দেখার পরে আমার মনে একটাই অনুভব হয়েছিল যে এ-হেন মহা মেলা এ শুধু মেলা নয় এ হল ভারতবর্ষের হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ সাধুদের মিলন ক্ষেত্র ও ভারতবর্ষের আধ্যান্তিক চেতনার এক বিশাল জাগরণ ক্ষেত্র।

এ-হেন মহা মিলনক্ষেত্রই বোধহয়  ভারতের সর্ব ধর্ম সন্যয়ের শক্তির উৎস স্থল। 


   || প্রয়াগ কুম্ভ ||

 

প্রতিটি সাধু নিজ শক্তিতে বলীয়ান,

দেখলাম সকলেই ধর্মে মহান।

নাগা সাধুরাই কুম্ভের মূল আকর্ষণ,

সাধারণ মানুষের চাহিদা পুণ্য আহরণ।

তাইতো স্নানের এমন মাহাত্ম্য,

সকলের চাহিদা পাপমুক্ত শুদ্ধ আত্মা।

জীবনের যত পাপ ও অন্যায়,

ত্রিবেণীর জলে ধুয়ে নিতে চায়।

============


2001 সালে জানুয়ারী মাসের 9 তারিখে 

মঙ্গলবার আমরা চারজন ধানবাদ থেকে

চম্বল এক্সপ্রেসে  পৌঁছে ছিলাম এলাহাবাদে আজ যা প্রয়াগরাজ বলে জানা যায়।

আমাদের কোন প্রকার পুণ্য অর্জনের কোন লোভ বা ইচ্ছা ছিল না। শুধু

কুম্ভস্নান দর্শনের ইচ্ছা নিয়েই পৌঁছে ছিলাম এই সঙ্গম স্থানে।

জানলাম এবার কুম্ভ স্নান চলবে 21সে ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত। আমরা ছুটি কম পাবার কারণে মাত্র সাতদিন ছিলাম।


★ প্রয়াগরাজ  বা এলাহাবাদ শহরটি যার তিন দিক গঙ্গানদী এবং যমুনা নদী দ্বারা বেষ্টিত , শুধুমাত্র একটি দিক মূল ভূখণ্ড দোয়াব অঞ্চলের সাথে সংযুক্ত। 

হিন্দু ধর্মগ্রন্থ  অনুসারে এই স্থানটি

বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি পবিত্র  তিনটি নদীর সঙ্গম ত্রিবেণী নামে পরিচিত।

যদিও ঋগ্বেদ অনুসারে, সরস্বতী নদী

অন্তঃসলিলা  (subterranean river)

কিন্তু গঙ্গা নদীর তলদেশে প্রবাহিত  হয়ে চলেছে বলে বিশ্বাস করা হয়।

এই সঙ্গম টি একটি গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু তীর্থস্থান কুম্ভমেলার চারটি স্থানের মধ্যে একটি ।

2001 সালের কুম্ভমেলাটিও শুভ ছিল কারণ এটি জ্যোতিষশাস্ত্রীয় গ্রহ-বিন্যাসে

অতি শুভ ছিল।

এই পবিত্র মেলাটি 6000 একর এলাকা জুড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল; 

হিন্দু পুরাণে 12 বছরে একবার অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য এটির বিশেষ তাৎপর্য ছিল কারণ বিশ্বাস করা হয় যে দেবতা এবং অসুরদের মধ্যে অমৃতের জন্য যুদ্ধ 12 বছর ধরে চলেছিল।

জেনে ছিলাম আগামী 24 তারিখ বুধবার মৌনী অমাবস্যাতে শাহি স্নান হবে। 


আমরা যখন পৌঁছে ছিলাম তখন বেশ ভিড় ছিল। সাধুসন্তেরাও অনেক পৌঁছে

গিয়েছিল। তবে অনুভব করলাম যে 10 তারিখ থেকে ক্রমশই ভিড় বাড়ছে।

যেমন সাধারণ মানুষ আসছেন, তেমনি সাধু সন্তেরাও আসছেন, বিশাল বিশাল প্রসেসন নিয়ে। কেউ হাতির পিঠে,কেউ উটের পিঠে, কেউ ঘোড়সওয়ার হয়ে।

 অশ্বারূঢ়ও সাধুগণ তরোয়াল, ত্রিশূল নিয়ে সেকি আস্ফালন, নানান কেরামতি,

কত রকমের বাদ্য যন্ত্র, সিঙ্গা, শঙ্খ,কোনকিছুই বাদ নেই।

সেই দৃশ্য মনে পড়লে আজও শিহরিত হতে হয়। ওনারা প্রকৃত সাধু নাকি বিশেষ যোদ্ধা সেটাই বোঝা মুস্কিল।

শুনেছি ওনারা এক সময় হিন্দু ধর্ম রক্ষার জন্য অনেক যুদ্ধও করেছেন।


এদিকে আমাদের অবস্থা ওই ভিড়ের চাপে ওষ্ঠাগত প্রাণ,

শেষে পালিয়ে বাঁচলাম।

সাত দিনের মধ্যে বোধহয় তিনদিন  একবার করে ডুব দিয়ে ছিলাম সঙ্গমের পবিত্র জলে।

স্নান করেছিলাম কয়েকটি ঘটে।

ব্যবস্থা ছিল সুন্দর কিন্তু লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষের ভিড়, 

সামলে চলাই মুস্কিল।

যা দেখেছি, শুনেছি, কিছু অনুভব করেছি,

জিজ্ঞাসু মন নিয়ে সাত দিন ঘুরে বেড়িয়েছি প্রয়াগের বালু চড়ে।

খাওয়া যেমন তেমন করে চলতো,

কখনো কোন লঙ্গরখানায়, কখনো কোন দোকানে সামান্য কিছু খেয়ে, কখনো ফলাহারে তাতে কোনপ্রকার কিছু অসুবিধা অনুভব করিনি। কারণ এমন মানুষের সমুদ্র নাদেখলে বিশ্বাসই করা যায় না।

সাধারণ মানুষ থেকে সাধু সন্ত সকলের এক ধ্যান-জ্ঞান, পবিত্র স্নান ও পুণ্য অর্জন।


কিন্তু মুশকিল হতো শৌচ কর্মের জন্যই দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হতো। 

কখনো কাউকে লড়াই করতেও দেখেছি।

সে যাইহোক, রাত্রে শীতের জন্য কম্বলেও যেন শীত মিটতোনা। বেশ ঠান্ডা ছিল।

সকাল হলেই গরম বাড়তো। 

বেলা বাড়ার সাথে গরম আর রাত্রে ঠান্ডা।


দেখলাম, হৃদয় দিয়ে অনুভব করলাম--

"অনন্ত মত ও অনন্ত পথ"

ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ দেব বলেছেন

   "যত মত ততো পথ"

সাথে রাজবেশে গৈরিক স্নান।

একমাত্র কুম্ভেই সম্ভব, এমন অলৌকিক দর্শন এর সাথে কুম্ভের প্রধান আকর্ষণ 

নাগা সন্নাসীর দর্শন।

সর্বত্যাগী নিরহঙ্কার ভোলানাথ জেন,

সর্বাঙ্গে বিভূতি, ধীর-গম্ভীর চলন।

সেদিন ধর্ম ও সাধুজনের রক্ষা ও

দুষ্কৃতের দমনে আখড়া গুলি ছিল বলীয়ান।

বর্তমানে 16 টি আখড়া আছে সচল।

তিনটি প্রধান, আর আছে শাখা ও সংস্থান।

★জুনা, ★নির্বানী ও ★নিরঞ্জনী,

শাহী স্নানের মান্যতা তিনটি।

এক একদিন এক-একটি আখড়ার 

স্নানের অগ্রাধিকার থাকে।

আর আছে বড় ও ছোট আখড়া,

সাথে আছে শৈব, বৈষ্ণব, উদাসী সম্প্রদায়।

এরাও ওই প্রধান তিন আখড়ার সাথে বিভিন্ন পর্যায়ে স্নানে যায়।

কুম্ভে নুতন ত্যাগব্রতীদের সন্ন্যাস দেওয়া হয়।

অতিকায় এই স্নান-যাত্রার বাহিনীতে হাতি-ঘোড়া, উট, পাল্কির বীরোচিত বাহিনীর রণহুংকার ও বিরাট বিরাট পতাকার গৈরিক আন্দোলন আত্মবল, মনোবল, সকল দুর্বলতার সীমা লঙ্ঘন করে দেহবলকে জয়কারের গর্বে জাগ্রত করে জগদ্ধিতে আত্মোৎসর্গ করতে সকলকে সর্বভাবে উজ্জীবিত করে তোলে।

সন্ন্যাসীদের  শাহী স্নান পর্বের শেষে , সেই পুত পবিত্র জলে সাংসারিক মানুষ নিজেদের সকল পাপ ধুয়ে নিতে বার বার পাঁচবার জলে ডুব দিয়ে পুণ্য সঞ্চয় করে নেয়। ইহ জন্মের সকল পাপ থেকে মুক্তির জন্য সকল মানুষ যার যেমন সামর্থ ও সাধ্য সাধুদের দান দেন। কেউ একুশ বা কেউ এগারোটি  ঘৃতপূর্ন কুম্ভ কেউ নানা ন ফল মূল। দান করেন জন্ম মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি পাবার মন কামনায়।


শুদ্ধ মনে বহু লোকের সমাবেশ যেখানে ঈশ্বর নিজে উপস্থিত হন সেখানে এবং অতি প্রসন্ন ও সহজে তুষ্ট হন ইষ্টদেবতা।

তাইতো কুম্ভে মনের সন্তুষ্টি মেলে সহজে।

হোকনা কঠিন পদযাত্রা মন সন্তুষ্ট হয় পূর্ণতা।


পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের কোটি কোটি মানুষের সমাবেশ, নানা ভাষা, নানা ধর্ম,

নানান সংস্কৃতি, কুম্ভে মেলে মিসে

 একাকার। 


★জুনা আখড়া::---

গুজরাটি ভাষায় জুনা অর্থ "পুরাতন" অথবা "প্রাচীন বৃত্ত"।

জুনা আখড়া এক সন্ন্যাসী দের  বিশাল আখড়া। এই আখড়া 4,00,000-এরও বেশি সন্ন্যাসী সদস্য নিয়ে সংগঠিত ।

জুনা আখড়া হল ভারতের সবচেয়ে বড় সাধু সম্প্রদায়, আজ তাদের অধিকাংশই নাগা বাবা। 

তাদের সনাতন ধর্মের রক্ষক বলা হয়। এই ক্ষেত্রে, নাগা শব্দটি সংস্কৃত শব্দ " নাগনা " থেকে এসেছে , যার অর্থ "নগ্ন"।

এবং প্রকৃতপক্ষে নাগা বাবারা কুম্ভমেলায় রঙিন পবিত্র স্নানের সময় নগ্ন, ছাই দিয়ে ঢেকে পদযাত্রা করার জন্য পরিচিত।


জুনা আখড়ার প্রধান হলেন আচার্য মহামণ্ডলেশ্বর যার  উপাধি গিরি জী।


ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ দার্শনিক এবং পবিত্র গ্রন্থের ভাষ্যকার, আদি শঙ্কর, সাধু, যোগী এবং শমনদের ব্রাহ্মণ্য বংশকে ভারতের প্রথম সন্ন্যাস ব্যবস্থা, দশনামের সন্ন্যাসী সম্প্রদায় (দশনামী সন্ন্যাসী সম্প্রদায়) -এ সংগঠিত করেছিলেন যা আজও বিদ্যমান। 

জুনা আখড়ার বংশবৃক্ষ  বা মারহি বৃক্ষ

এক মহা বিশাল বৃক্ষ।

গাছের ডালের মতো ছড়িয়ে থাকা সমস্ত বংশধারা দশটি নামের একটির সাথে তাদের মূলে সংযুক্ত।



খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে, সন্ন্যাসী সম্প্রদায়ের ৫২টি বংশ তাদের প্রাচীন সংগঠনকে একটি অভিজাত ভ্রাতৃত্ববোধে রূপান্তরিত করে। সেই সমাজ, প্রকৃত পক্ষে যা  দত্তাত্রেয় আখড়া, পরে ভৈরন আখড়া নামে পরিচিত ছিল এবং অন্যান্য নতুন আখড়া তৈরি হওয়ার পর, এটি কেবল জুনা আখড়া নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।

জুনা আখড়া একটি ঐতিহ্যবাহী সমাজ যেখানে ৫২ বংশের সাধু পরিবারের প্রতিনিধিত্ব তাদের স্বীকৃত প্রবীণরা আখড়ার একটি মহাপরিষদে করেন, যার প্রতিনিধিত্ব করেন নির্বাচিত সচিব এবং একজন সভাপতি (সভাপতি)। যেকোনো পদে নির্বাচিত হওয়ার পর, এই নিয়োগ আজীবনের জন্য স্থায়ী হয়।

সঙ্ঘের সমস্ত বিষয় দুটি প্রধান বিভাগে বিভক্ত, " সমাজ ", যা সমগ্র সমাজের সাথে সম্পর্কিত, এবং "ঘর" , যা একটি সাধু পরিবারের সাথে সম্পর্কিত। এই পরিষদের সদস্যরা সকলেই নাগা বাবা।


কুম্ভমেলার সময় নির্বাচন এবং দীক্ষাগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়, যা নাগা সাধুদের কাছে এই অনুষ্ঠানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।

 -------------------------------

★নির্বানী আখড়া:----

মহানির্বাণী আখড়া বা শ্রী পঞ্চায়েতি আখড়া  মহানির্বাণী হল একটি শৈব শাস্ত্রধারী (আধ্যাত্মিক লিপি ধারক) আখড়া। এটি হিন্দু ঐতিহ্যের তিনটি প্রধান (মোট সাতটির মধ্যে) শাস্ত্রধারী আখাড়গুলোর একটি।


যদিও ঐতিহ্য অনুসারে মহানির্বাণী আখড়ার ঐতিহ্য দশ হাজার বছরের পুরানো, এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ৭৪৮ খ্রিস্টাব্দে সংগঠিত হয়েছিল।


৭৪৮ খ্রিস্টাব্দে, অটল আখড়ার সাতজন সাধুর দল  গঙ্গাসাগর নামক স্থানে তপস পরিবেশন করেছিলেন। তারা সাধক কপিল মহামুনির দর্শন দ্বারা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হয়েছিল। তাঁর আশীর্বাদে, তারা হরিদ্বারের নীল ধারার কাছে দাপ্তরিক নাম "মহানির্বাণী আখাদ" দিয়ে নাগা ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করেছিল। আখড়াটির প্রধান উপাস্য দেবতা কিংবদন্তি সাধক কপিল মহামুনি।


আখড়াটি আনুষ্ঠানিকভাবে আদি শঙ্করাচার্য তাঁর জীবদ্দশায় সংগঠিত করেছিলেন।



----------------------------------



★নিরঞ্জনী আখড়া ::-----


নিরঞ্জনী আখড়া একটি বিশিষ্ট প্রতিষ্ঠান যা কুম্ভমেলার প্রাণবন্ত পরিবেশে এক অনন্য আধ্যাত্মিক স্বাদ নিয়ে আসে। যোগব্যায়াম, ধ্যান এবং আধ্যাত্মিক জ্ঞান অর্জনের উপর জোর দেওয়ার জন্য বিখ্যাত, নিরঞ্জনী আখড়া এই পবিত্র সমাবেশে অংশগ্রহণকারী উল্লেখযোগ্য আখড়াগুলির মধ্যে একটি।


নিরঞ্জনী আখড়ার  সুশৃঙ্খল যোগব্যায়াম এবং ধ্যানের মাধ্যমে আত্ম-উপলব্ধি অর্জনকে কেন্দ্র করে। "নিরঞ্জনী সন্ন্যাসী" নামে পরিচিত অনুসারীরা বস্তুজগতের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করার লক্ষ্যে অনুশীলনে নিযুক্ত হয়।


নিরঞ্জনী আখড়ার সর্বাগ্রে রয়েছেন মহন্ত, একজন শ্রদ্ধেয় আধ্যাত্মিক নেতা যিনি অনুসারীদের আধ্যাত্মিক যাত্রায় নির্দেশনা

প্রদান করেন।

মহন্ত কেবল প্রশাসনিকভাবে আখড়া পরিচালনা করেন না বরং কুম্ভমেলার সময় আধ্যাত্মিক আচার-অনুষ্ঠান এবং অনুষ্ঠান পরিচালনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

নিরঞ্জনী আখড়া কুম্ভমেলার পবিত্র কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।

মহন্ত এবং নিরঞ্জনী সন্ন্যাসীদের নেতৃত্বে একটি বিশাল ধর্মীয় স্নান, শাহী স্নান একটি উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠান যা তীর্থযাত্রী এবং দর্শকদের আকৃষ্ট করে ।

শাহী স্নানের সময় সম্পাদিত আচার-অনুষ্ঠানগুলি একটি প্রতীকী তাৎপর্য বহন করে, যা পবিত্র নদীতে শরীর, মন এবং আত্মার শুদ্ধিকরণকে নির্দেশ করে।


নিরঞ্জনী আখড়ার অনুসারীরা আধ্যাত্মিক অনুশীলনের একটি সামগ্রিক পরিসরের সাথে জড়িত। এই অনুশীলনগুলির মধ্যে রয়েছে যোগাসন, ধ্যান এবং আধ্যাত্মিক সত্য সম্পর্কে তাদের বোধগম্যতা আরও গভীর করার লক্ষ্যে শাস্ত্র অধ্যয়ন। 

=========================

■★★★★★★★★★★★★★■

62/4>শ্রীশঙ্করাচার্যের 'দশনামী সন্ন্যাসী' 


শ্রী আদিশঙ্করাচার্য হিন্দুধর্মের ভিত্তি স্থাপনের নিমিত্তে  ভারতের চার প্রান্তে চারটি মঠ প্রতিষ্ঠা করেন:- এই মঠের উদ্দেশ্য হিন্দুধর্মে পঞ্চ দেবতা ও পঞ্চ যজ্ঞের পালন ও সমাজে বেদান্ত প্রতিষ্ঠা।


●উত্তরে- জ্যোতির্মঠ (বদ্রীকাশ্রমের কাছে)- অর্থববেদ- তোটকাচার্য

●পূর্বে- গোবর্ধন মঠ(পুরী,উড়িষ্যা)- ঋগ্বেদ - আচার্য পদ্মপাদ

●পশ্চিমে- দ্বারকা মঠ( দ্বারকা, গুজরাট)- সামবেদ- হস্তামলকাচার্য

●দক্ষিণে- শৃঙ্গেরী মঠ(কর্ণাটক)- যজুর্বেদ- সুরেশ্বরাচার্য।


 এই চারটি মঠের  এর নীচে আছে দশনামী সম্প্রদায় যার প্রতিষ্ঠাতা স্বয়ং আচার্য শঙ্কর।


নিবৃত্তি:---

"ধর্মীয় আচরণ দ্বারা মােক্ষলাভ হয়, সেই ধর্মীয় আচরণকে ধর্মের নিবৃত্তি লক্ষণ বলে।"

নিবৃত্তির পন্থা অবলম্বনকারী সন্ন্যাসী

কোন ভাবেই এক রাত্রির অধিক কাল এক গ্রামে  বা এক স্থানে বাস করা চলবে না, সকল জীবের প্রতি দয়া প্রকাশ ও আশারূপ পাশ হতে মুক্তিলাভ করাই সন্ন্যাসীর একান্ত কর্তব্য।


নিবৃত্তির পন্থা অবলম্বনকারী সন্ন্যাসী কমণ্ডলু, উদক, বিলাসী পরিধেয় বস্ত্র, আসন, ত্রিদণ্ড, শয্যা, অগ্নি এবং সন্ন্যাসী হয়েও গৃহের সাথে পারিবারিক সম্পর্ক বজায় রাখা কখনও কর্তব্য নয়। সন্ন্যাসী বীতস্পৃহ, স্নেহাদিবন্ধনবিমুক্ত এবং সংযতচিত্ত হয়ে সৰ্বদা বৃক্ষমূল, শূন্যগৃহ অথবা নদীর তীর কোন প্রভৃতি নির্জন স্থানে অবস্থান পূর্বক সর্বদা পরমাত্মতত্ত্ব চিন্তা করবে। 


সন্ন্যাস ধর্ম অবলম্বন পূর্বক নিরাকার ও স্থাণুস্বরূপ হয়ে আত্মচিন্তা করলে দ্রুতই মােক্ষলাভ হয়।

মােক্ষার্থী সাধু ব্যক্তিদিগের পক্ষে এই বেদোক্ত ধৰ্ম অত্যন্ত সৎপথস্বরূপ। যে ব্যক্তি এই পথে অগ্রসর হন তিনি কখনই সংসারসাগরে পতিত হন না। 


বৈরাগ্যের তারতম্য অনুসারে মােক্ষপথ অবলম্বনকারী সন্ন্যাসীদের চারপ্রকার সন্ন্যাসের বিধান দিয়েছেন যেমন---

●কুটীচক, ●বহুদক, 

●হংস ও ●পরমহংস --এদের মধ্যে কুটীচক অপেক্ষা বহূদক, বহূদক অপেক্ষা হংস ও হংস অপেক্ষা পরমহংস শ্রেষ্ঠ। এ নিবৃত্তিধৰ্ম অপেক্ষা সুখ, দুঃখ, জরা ও মৃত্যু নিবারণের সর্বশ্রেষ্ঠ উপায় আর কিছুই নেই।


যে তীব্র বৈরাগ্যবান সন্ন্যাসীর শরীর তীর্থযাত্রাদি করতে অসর্মথ। তিনি তখন নিজ কুটিরে বাস করে সাধন ভজন করেন, তাঁকে 'কুটীচক-সন্ন্যাসী' বলে। 


ঐরূপ বৈরাগ্যবান্ পুরুষ যাঁর তীর্থপর্যটনাদির সামর্থ্য আছে, তাঁকে 'বহুদক-সন্ন্যাসী' বলে। 


তীব্রতর বৈরাগ্যবান্ পুরুষকে 'হংস-সন্ন্যাসী' বলে। 


প্রত্যগাত্মজ্ঞান লাভ করতে অর্থাৎ

পরমেশ্বর ,ব্রহ্মচৈতন্যের জ্ঞান লাভ করতে, উপরক্ত তিনগুণের পরিণামরূপ ইহলৌকিক ও পরলৌকিক সর্ববিষয়ে যিনি তৃষ্ণারহিত্যরূপ পরবৈরাগ্য লাভ 

(পর বৈরাগ্য হল সুখ এবং আত্মতৃপ্তির প্রকৃত উপায়ের উপলব্ধি)

করেছেন তাঁকে 'পরমহংস-সন্ন্যাসী' বলে।


এ চতুর্বিধ সন্ন্যাসীদের পক্ষে দশটি সাধারণ ব্রত আবশ্য পালনীয়। 

যথা- ●অহিংসা, ●সত্য, ●অস্তেয়, ●ব্রহ্মচর্য, ●অপরিগ্রহ, ●অক্রোধ,

●গুরুশুশ্রুষা, ●শৌচ, ●নিষিদ্ধ আহার পরিত্যাগ এবং ●কায়মনোবাক্যদ্বারা প্রমাদবর্জন। 


মহাভারতে বর্ণিত  চারপ্রকার সন্ন্যাসীদের ভিত্তিকে অবলম্বন করে বৈদিক ধর্ম প্রচারের সুবিধার্থে শ্রীশঙ্করাচার্য দশপ্রকার সন্ন্যাসী সঙ্ঘ গড়ে তোলেন।


শ্রীশঙ্করাচার্য প্রতিষ্ঠিত ●সরস্বতী, ●ভারতী, ●পুরী, ●বন, ●অরণ্য, ●তীর্থ, ●আশ্রম,●গিরি, ●পর্বত এবং ●সাগর -এ দশপ্রকার সন্নাসীদের 'দশনামী-সন্ন্যাসী' নামে অবিহিত করা হয়। আলস্য ত্যাগ করে এ দশনামী-সন্ন্যাসীদের সদা সক্রিয় থাকার আদেশ দিয়েছেন শ্রীশঙ্করাচার্য তাঁর  মঠানুশাসনে। ধর্মরক্ষার্থে তাঁর সকল সাঙ্গঠনিক রূপরেখা পাওয়া যায় মঠানুশাসনের শ্লোকগুলাতে।


"হে আমার সন্ন্যাসীবৃন্দ ( দশনামী), এই সময়ে ধর্মের মহতী হানি হয়েছে, তাই এই সময়ে সন্ন্যাসীদের ধর্মপ্রচারে মন্থরতা অবশ্য পরিত্যাজ্য। ধর্মপ্রচারে সর্বদা দক্ষতার আশ্রয় করবে অর্থাৎ আলস্য ত্যাগ করে ধর্মপ্রচারে সদা তৎপর হবে।


হে সন্ন্যাসীবৃন্দ তোমাদের বলছি, ধর্মপ্রচারে বিঘ্ন যতই অধিক হোক, উপযুক্ত অধিকারী, যথোক্ত গুণসম্পন্ন আচার্য থাকলে, কেউ কখনও আমার মঠ উচ্ছেদ করতে পারবে না। যেহেতু আমাদের ধর্মই সনাতন। অর্থাৎ উপযুক্ত উপদেশকেই সনাতন ধর্মের রক্ষক এবং ধর্মের প্রচারে উপযুক্ত উপদেশকের অভাব হইলে সেই মঠ অকর্মণ্য।"


শ্রীশঙ্করাচার্য চিন্তা করেছেন, এক প্রকারের সন্ন্যাসী দিয়ে সকল শ্রেণির মানবের কাছে বৈদিক ধর্মের প্রচার অসম্ভব। 


শ্রীশঙ্করাচার্য অধ্যাত্ম পথের পথিক এবং সাধারণ গৃহীদের মাঝে ধর্মীয় শিক্ষা দানের জন্য চার মঠের অন্তর্ভূক্ত একদল সন্ন্যাসী সম্প্রদায়ের প্রবর্তন করেন। ফলে ভারতবর্ষে তৈরি হয় শক্তিশালী এক সন্ন্যাসী সম্প্রদায়। ভারতবর্ষের অধিকাংশ ধর্মীয় মত, পথের সংগঠন এ চারমঠ এবং দশনামী সন্ন্যাসী সম্প্রদায়ের সাথে কোন না কোনভাবে যুক্ত।


সন্ন্যাসীর আত্মপরিচয় এই পর্যায়ে স্বামী বিবেকানন্দের বিবরণ থেকে জানা যায় ‘শ্রীরামকৃষ্ণ মঠ’ শ্রীপাদ শঙ্করাচার্যের শৃঙ্গেরী মঠের অধিভূক্ত একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান।গৌড়ীয় বৈষ্ণব মতের প্রাণপুরুষ শ্রীগৌরাঙ্গদেব দুজন গুরুর কাছে মন্ত্রদীক্ষা এবং সন্ন্যাস নিয়েছিলেন; তাঁরা হলেন শ্রীঈশ্বরপুরী এবং শ্রীকেশব ভারতী। তাঁরা দুজনেই শৃঙ্গেরী মঠভূক্ত সন্ন্যাসী। এমনকি যে নামে শ্রীগৌরাঙ্গদেব আমাদের মাঝে খ্যাত ‘শ্রীচৈতন্য’; এই ‘চৈতন্য’ নামটি শৃঙ্গেরীমঠভূক্ত ব্রহ্মচারীদের উপাধি। অর্থাৎ শ্রীচৈতন্যও শ্রীশঙ্করাচার্যের দশনামী সন্ন্যাসী সম্প্রদায়ের পরম্পরাগত সন্ন্যাসী। বঙ্গের স্বামী প্রণবানন্দ মহারাজের 'ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ', নিগমানন্দ পরমহংসদেবের 'আসাম বঙ্গীয় সারস্বত মঠ' এর সন্ন্যাসীরাও শ্রীশঙ্করাচার্যের দশনামী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। 


 বিভিন্ন প্রকারের সন্ন্যাসী স্থান-কাল-পাত্র ভেদে শাশ্বত ধর্মের প্রচার করবে।


1>★.গিরি:

বাসো গিরিবনে নিত্যং গীতাধ্যয়নতৎপরঃ ।

গম্ভীরাচলবুদ্ধিশ্চ গিরিনামা স উচ্যতে॥(জ্যোতির্মঠান্নায়:৬)

"যিনি পার্বত্য গিরিকাননে বাস করে সর্বদা গীতা অধ্যয়ন করেন; গম্ভীর ও স্থিরবুদ্ধি, তাঁকেই 'গিরি' নামে অবিহিত করা হয়।"

যিনি 'গিরি-সন্ন্যাসী' তিনি পার্বত্য গিরিগুহায় বাস করে গম্ভীর ও স্থিরবুদ্ধি হয়ে সর্বদা গীতার চর্চা করবেন। 


2>★পর্বত:

বসন্ পর্বতমূলেষু প্রৌঢ়ং জ্ঞানং বিভর্তি যঃ ।

সারাসারং বিজানাতি পর্বতঃ পরিকীর্ত্যতে ॥(জ্যোতির্মঠান্নায়:৭)

"যিনি পর্বতমূলে বাস করে দৃঢ়জ্ঞান ধারণ করেন, যিনি সার (নিত্য) ও অসার (অনিত্য) বিষয় সম্যক জানেন, তাঁকেই 'পর্বত' বলে অভিহিত করা হয়।"


যিনি 'পর্বত-সন্ন্যাসী' তিনি পর্বতমূলে বসবাস করে দৃঢ়জ্ঞান ধারণ করে নিত্য ও অনিত্য বিষয় অবগত হবেন। 


3>★সাগর:

তত্ত্বসাগরগম্ভীরো জ্ঞানরত্নপরিগ্রহঃ।

মর্যাদাং নৈব লঙ্ঘ্যেত সাগরঃ পরিকীর্ত্যতে ॥ (জ্যোতির্মঠান্নায়: ৮) 

"যিনি তত্ত্ববিষয়ে সাগরবৎ গম্ভীর, যিনি জ্ঞানরূপ রত্নের ধারণ করেন এবং বৈদিক শাস্ত্রমর্যাদা লঙ্ঘন করেন না; তাঁকেই 'সাগর' বলে অভিহিত করা হয়।" 


তত্ত্ববিষয়ে সাগরের মত যিনি গম্ভীর, জ্ঞানরূপ রত্নকে যিনি ধারণ করেন এবং বৈদিক শাস্ত্রকে যিনি লঙ্ঘন করেন না, তাঁকে 'সাগর-সন্ন্যাসী' বলে।


4>★সরস্বতী:

স্বরজ্ঞানরতো নিত্যং স্বরবাদী কবীশ্বরঃ।

সংসারসাগরাসারহন্তাসৌ হি সরস্বতী॥

(শৃঙ্গেরীমঠান্নায়:৬)

"যিনি সর্বদা বেদের স্বরজ্ঞানে রত, স্বরোচ্চারণে দক্ষ ও কবিশ্রেষ্ঠ এবং অসার সংসার সাগরের হন্তা; তাঁকেই 'সরস্বতী' বলে।"

যিনি সর্বদা বেদের স্বরজ্ঞানে রত, স্বরোচ্চারণে দক্ষ, কবিশ্রেষ্ঠ এবং অসার সংসার সাগরের হন্তা তাঁকেই 'সরস্বতী-সন্ন্যাসী' বলে।


 5>★.ভারতী:

বিদ্যাভরেণ সম্পূর্ণঃ সর্বং ভারং পরিত্যজন্ ।

দুঃখভারং ন জানাতি ভারতী পরিকীর্ত্যতে ॥(শৃঙ্গেরীমঠান্নায়:৭)

"যিনি সকল ভার পরিত্যাগ করে বিদ্যাভারের দ্বারা পরিপূর্ণ; এজন্য দুঃখভারকে জানেন না, তাঁকেই 'ভারতী' বলে।"

যিনি সকল ভার পরিত্যাগ করে বিদ্যাভারের দ্বারা পরিপূর্ণ; কোন প্রকার দুঃখভার যাঁকে স্পর্শ করতে পারে না তাঁকে 'ভারতী-সন্ন্যাসী' বলে। 


6>★পুরী:

জ্ঞানতত্ত্বেন সম্পূর্ণঃ পূর্ণতত্ত্বপদে স্থিতঃ ।

পরব্রহ্মরতো নিত্যং পুরীনামা স উচ্যতে॥(শৃঙ্গেরীমঠান্নায়: ৮)

যিনি জ্ঞানতত্ত্বের দ্বারা পরিপূর্ণ, পূর্ণব্রহ্মপদে অবস্থিত এবং নিত্য পরব্রহ্মে নিমগ্ন ; তাঁকেই 'পুরী' বলে।

অখণ্ড জ্ঞানতত্ত্বে পরিপূর্ণ হয়ে সর্বদা পরব্রহ্মেপদে যিনি অবস্থিত, তাঁকেই 'পুরী-সন্ন্যাসী' বলে। 


7>★.তীর্থ:

ত্রিবেণীসঙ্গমে তীর্থে তত্ত্বমস্যাদিলক্ষণে ।

স্নায়াত্তত্ত্বার্থভাবেন তীর্থনাম্না স উচ্যতে ॥(শারদামঠান্নায়: ৬)

"যিনি তত্ত্বমস্যাদিরূপ (তৎ, ত্বং,অসি) ত্রিবেণীসঙ্গমতীর্থে তত্ত্বার্থভাবে স্নান করেন অর্থাৎ তত্ত্বমস্যাদিপ্রতিপাদ্য বস্তু অবগত ; তাঁকেই 'তীর্থ' বলে।"

যিনি তৎ, ত্বং এবং অসি এ ত্রিপদরূপ ত্রিবেণীসঙ্গম তীর্থে স্নান করেন, তাঁকে 'তীর্থ-সন্ন্যাসী' বলে।


8>★.আশ্রম:

আশ্রমগ্রহণে প্রৌঢ় আশা-পাশ-বিবর্জিতঃ।

যাতায়াতবিনির্মুক্ত এষ আশ্রম উচ্যতে ॥ (শারদামঠান্নায়:৭)

"যিনি সন্ন্যাসাশ্রম গ্রহণে সামর্থ্যযুক্ত, যিনি আশারূপ বন্ধনশূন্য ও সংসারের গতাগতি বিরহিত; তাঁকেই 'আশ্রম' বলে।"


যিনি সন্ন্যাসাশ্রম গ্রহণে সামর্থ্যবান আশারূপ পাশ বিবর্জিত ও সংসারের গতাগতি বিরহিত, তাঁকে 'আশ্রম-সন্ন্যাসী ' বলে। 


9>★. বন:

সুরম্যে নির্জনে স্থানে বনে বাসং করোতি যঃ।

আশাবন্ধবিনির্মুক্তো বননামা স উচ্যতে॥ (গোবর্দ্ধনমঠান্নায়:৬)

"যিনি অতি রমণীয় নির্জনস্থানরূপ বনে বাস করে সমস্ত আশাবন্ধন হইতে নির্মুক্ত ; তাঁকেই 'বন' বলে অভিহিত করা হয়।

রমণীয় নির্জনস্থানরূপ বনে বাস করে যিনি সমস্ত আশাবন্ধন হইতে নির্ম্মুক্ত হন, তাঁকেই 'বন-সন্ন্যাসী ' বলা হয়। 


10>★. অরণ্য:

অরণ্যে সংস্থিতো নিত্যমানন্দে নন্দনে 

বনে।

ত্যক্ত্বা সর্বমিদং বিশ্বমরণ্যং পরিকীর্ত্যতে ॥(গোবর্দ্ধনমঠান্নায়:৭)

"সমগ্র বিশ্ব পরিত্যাগ করে যিনি সর্বদা আনন্দময় নন্দনবন সদৃশ অরণ্যে বাস করেন; তিনিই 'অরণ্য' নামে কীর্তিত।"

এ সমুদায় বিশ্ব পরিত্যাগ করে আনন্দময় নন্দনবন সদৃশ অরণ্যে যিনি সর্বদা বাস করেন, তাঁকে 'অরণ্য-সন্ন্যাসী' বলে।


প্রাচীনকালের  সঙ্ঘের ধারণা যা ছিল,  বিচ্ছিন্ন, অপূর্ণাঙ্গ এবং প্রয়োগহীন। তাকে 

শ্রীশঙ্করাচার্য প্রবর্তিত সঙ্ঘ ধর্ম রক্ষায় একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন এবং সনাতন ধর্ম রক্ষায় সঙ্ঘের পূর্ণাঙ্গ ধারণা দেন। 


‘শঙ্কর মঠ’ কোন একক কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার ভারতবর্ষের চারপ্রান্ত থেকে চারটি মঠের দ্বারা পরিচালিত হতে থাকে। 

(যা প্রবন্ধের প্রথমেই বর্ণনা করা হয়েছে।)


এই চারটি মঠ  সনাতন ধর্ম রক্ষায় চারটি দুর্গের ন্যায়। 

●সিন্ধু, সৌবীর, মহারাষ্ট্র এবং পশ্চিমাঞ্চলের জন্য শারদা মঠ; 

●অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ, মগধ, উৎকল, গৌড়, সুক্ষ্ম, পৌণ্ড্র, ব্রহ্মপুত্র তীরবাসীসহ সমগ্র পূর্বাঞ্চলের জন্য গোবর্দ্ধন মঠ; 

●কুরুক্ষেত্র, কাশ্মীর, কম্বোজসহ সমগ্র উত্তরাঞ্চলের জন্য জ্যোতি মঠ এবং 

●অন্ধ্র, দ্রাবিড়, কর্ণাট, কেরল প্রভৃতি দক্ষিণাঞ্চলের জন্য শৃঙ্গেরী মঠ। 


★"অহং ব্রহ্মাস্মি", 

★"প্রজ্ঞানং ব্রহ্ম", 

★"তত্ত্বমসি" এবং 

★"অয়মাত্মা ব্রহ্ম" 

বেদের এ চারটি মহাবাক্যকে অবলম্বন করে সংস্থাপিত হয় চারটি মঠ। শ্রীশঙ্করাচার্য এ চার মঠের আচার্য হিসেবে নিযুক্ত করেন, সুরেশ্বর, পদ্মপাদ, তোটক এবং হস্তামলক শ্রেষ্ঠ চার শিষ্যকে। এ চার শিষ্য চার মঠের  প্রধান হয়ে, চার বেদের পূর্ণাঙ্গ বৈদিক জীবন বিধানের শিক্ষা দিতে থাকেন দিকে দিকে। ফলে সনাতন সমাজ একটি সুদৃঢ় সাংগঠনিক রূপ পায়।


ভারতবর্ষের অধিকাংশ সন্ন্যাসী সম্প্রদায়ই 

শ্রীশঙ্করাচার্যের  দশপ্রকার সন্নাসী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।


         (সংগৃহীত)

===========================

■★★★★★★★★★★★★★■


  62/5>আদি শঙ্করাচার্যের  দশনামী আখড়া ::---


দশনামী আখড়া নাম করণের সার্থকতা এই কারণে যে এই আখড়া দশটি 

 শৈব সম্প্রদায়ের অন্তর্গত আখড়া, যা দশ নামের ঐতিহ্যে ভিত্তি করে গঠিত। এটি একটি হিন্দু সন্ন্যাসী ঐতিহ্য। দশনামী আখড়ার অন্তর্গত রয়েছে ●জুনা আখড়া, ●নিরঞ্জনী আখড়া, ●আনন্দ আখড়া, ●অটল আখড়া, ●আবাহন আখড়া, ●অগ্নি আখড়া ইত্যাদি। 

দশনামী সম্প্রদায়ের বৈশিষ্ট্য: 

দশনামী সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসীদের একদণ্ডী সন্ন্যাসী বলা হয়।

এই সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসীরা শৈব ত্রিশূলধারী এবং বৈষ্ণব ত্রিদণ্ডী সন্ন্যাসীদের থেকে আলাদা।

ভারতীয় দার্শনিক আদি শঙ্করাচার্য এই সম্প্রদায়ের পুনঃসংগঠন করেছিলেন।

দশনামী সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসীরা সাধারণত অহিংসার মধ্যে থাকেন।

কিছু দশনামী সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসীরা ভারতীয় কুস্তি খেলার অনুশীলন করেন।

দশনামী সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসীরা ব্রহ্মচর্য এবং বস্তুগত সম্পদ ত্যাগ করেন।

দশনামী সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসীরা ধর্ম রক্ষার জন্য অস্ত্র ব্যবহারে দক্ষ।


দশনামী সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসীরা যে মঠে বাস করেন, সেগুলিকে দশনামী আখড়া বলা হয়। 

আখড়া বলতে অনুশীলনের জায়গা, ধর্মীয় ত্যাগীদের জন্য সম্প্রদায় মঠ. 


দশনামী সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসীদের দশটি নামে পরিচিতি থাকে। 

ভারতীয় দার্শনিক আদি শঙ্করাচার্য এই সম্প্রদায়টি পুনঃসংগঠিত করেছিলেন।


দশটি নাম যারা একদণ্ডী ঐতিহ্যে সন্ন্যাসে প্রবেশ করে তারা এই সম্প্রদায়ের সাথে যুক্ত দশটি নামের একটি গ্রহণ করে: 

●গিরি, ●পুরী, ●ভারতী, ●বন/বান, ●অরণ্য, ●সাগর, ●আশ্রম,●সরস্বতী, ●তীর্থ ও●পর্বত। অদ্বৈত বেদান্ত ও দ্বৈত বেদান্তের সন্ন্যাসীরা একদণ্ডী ঐতিহ্যের অন্তর্গত।

এই নামগুলির ভিত্তিতেই এই সম্প্রদায়ের নামকরণ করা হয়। 


 দশনামী সম্প্রদায় অদ্বৈত বেদান্ত ঐতিহ্যের সাথে যুক্ত একদণ্ডী সন্ন্যাসীরা অনুশীলনে 'শৈব ত্রিশূলধারী' এবং 'বৈষ্ণব ত্রিদণ্ডী' সন্ন্যাসীদের থেকে আলাদা।


মহাকুম্ভে তথা ...সারা দেশে মোট ১৩টি আখড়া রয়েছে, যেগুলো তিনটি ভাগে বিভক্ত। এই আখড়াগুলি হিন্দু ধর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত আচার-অনুষ্ঠান এবং উৎসবগুলি আয়োজন করে।


বর্তমানে আখড়ার গুলি হল দশনামী নাগের---

 1>জুনা আখড়া , 2>নিরঞ্জনী আখড়া , 3>আনন্দ আখড়া , 4>অটল আখড়া , 5>আবাহন আখড়া , 6>অগ্নি আখড়া এবং 7>প্রয়াগরাজের নির্মল পঞ্চায়েতি আখড়া ।  প্রতিটি আখড়ার আছে উপ-শাখা ও ঐতিহ্যে বিভক্ত। 

যেমন  জুনা নাগা স্থাপনার নগ্ন সাধুদের দত্তাত্রেয় আখড়া (উজ্জয়ন)। 


নাগ সাধুরা সাধারণত অহিংসার পরিধিতে থাকেন, যদিও কিছু অংশ ভারতীয় কুস্তি খেলা অনুশীলন করার জন্যও পরিচিত । দশনামী সন্ন্যাসীরা অহিংসা , সত্য , অস্তেয় (চুরি না করা), অপরীগ্রহ (লোভ না করা) এবং ব্রহ্মচার্য (ব্রহ্মচর্য / সংযম) এর বৈদিক এবং যোগিক যম নীতি অনুশীলন করেন।


==========================

মহাসমাধি:-শ্রী আদিশঙ্করাচার্য

 ৮২০ খ্রিস্টাব্দ মাত্র ৩২ বছর বয়সে

কেদারনাথ , মতান্তরে রামেশ্বরমে।

দৈবিক যোজনাতে সমাধিস্থ হন।

★★★★★★★★★★★★

কুম্ভ কখন কোথায় হয়::----

হরিদ্বারে একবার কুম্ভ হয়ে গেলে তার ছয় বছরের মধ্যেই বাকি তিনটি তীর্থে কুম্ভ সম্পন্ন হয়।

হরিদ্বার ও প্রয়াগে অর্ধকুম্ভ ও হয়।

এই যোগ অর্ধপরিমান ফলদায়ী।

=====================

62/6>|| প্রয়াগ কুম্ভ মেলা ||
       <------আদ্যনাথ----->
দেখলাম প্রয়াগ কুম্ভে, 
দুইচোখ মেলে ত্রিবেণী সঙ্গমে,
সর্বত্যাগীসাধু আর গৃহী মানুষে,
এক সাথে পাশাপাশি এক বালুচরে।

সকল সাধুসঙ্ঘ ব্যস্ত নিজ পতাকা তলে,
সদা ব্যস্ত সনাতন হিন্দু ধর্ম রক্ষার বলে।
প্রতিটি সাধু বলীয়ান নিজ শক্তি বলে,
সকলেই ব্যস্ত নিজের চাহিদা পূরণে।

নাগাসাধুরাই কুম্ভের মূল আকর্ষণ,
সাধারণ মানুষের চাহিদা পুণ্য আহরণ।
শুদ্ধ মনে,স্নানেই মাহাত্ম্য প্রয়াগ কুম্ভে,
সকলেই পাপ মুক্ত হতে চায় কুম্ভে।

জীবনের যত পাপ ও অন্যায়,
ত্রিবেণীর জলে সকল ধুয়ে নিতে চায়।
তাইতো কুম্ভে একবার ডুব দিতে চায়,
প্রয়াগকুম্ভে জীবন উদ্ধারের কামনায়।

সাধুদের উদ্যেশ্য  ধর্মরক্ষা ও ধর্মেরপ্রচার,
দেখলাম কত ভেলকী,কসরত সাধুদের,
ধর্মরক্ষা ও প্রচার উচিত সততার কারন,
এতো ভেলকী, কসরতের কি প্রয়োজন।

বেদান্তের মতে পুণ্য হল অদৃশ্য সম্পদ, 
মানুষের কাঙ্খিত চারটি সম্পদের প্রথম সম্পদ,
অন্য তিনটি সম্পদ অর্থ, কাম ও মোক্ষ,
মানুষ মাত্রেই একান্ত চাহিদা ও লক্ষ্য।

মনেহয় কুম্ভ সনাতনহিন্দু ধর্মকে ঘিরে,
সাধুদের কেরামত আচার ও প্রচারের তরে
শ্রী আদি শঙ্করাচার্যের 'দশনামী সন্ন্যাসী', 
আর বৈষ্ণব,বৈষ্ণবী ও আখড়া উদাসী।

এ যেন আখড়া আর সন্যাসীদের মেলা,
দেখলাম গঞ্জিকা সেবনের নানা খেলা।
গঞ্জিকাসেবন বুঝি সাধু সন্তের নানা ছল,
ভাষণ ও উপদেশ নিজের প্রচারের বল।
    <------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী----->
          17/02/2025:: 09:20 am
===========================

62/7>প্রয়াগ কুম্ভ;;---প্রয়াগ অর্থ::--

প্রয়াগ শব্দের আক্ষরিক অর্থ,=
"প্ৰ" + "যাগ" = প্রকৃষ্ট যজ্ঞ।
প্রয়াগ স্বয়ং প্রজাপতি ব্রহ্মার ক্ষেত্র বা 
যজ্ঞ স্থান বা যজ্ঞ বেদী।
ঋগ্বেদে গঙ্গা-জমুনার সঙ্গম, 'পদ্মপুরাণ',
'মৎস্য পুরাণ' সহ নানা পুরাণ, 'রামায়ন,
'মহাভারত', সকল স্থানেই এই স্থানটির মাহাত্ম উল্লেখ আছে। প্রয়াগ সঙ্গম তীর্থরাজ, কারণ এই ত্রিলোকে যত তীর্থ আছে, তা মাঘ মাসে বেণীমাধবের সন্তোষের জন্য মিলিত হয়।
বেণীমাধব অর্থাৎ স্বয়ং বিষ্ণু হলেন সকল তীর্থের রাজা।
প্রয়াগের "নগর দেবতা" বেণীমাধব সূত্রে 12 টি মাধব- মূর্তির নাম পাওয়া যায়।
তার মধ্যে আদি বেণীমাধব জলব্রহ্ম স্বরূপে সঙ্গমে এবং অনন্তমাধব অক্ষয় বটের কাছে অবস্থাসন করেছেন।
এখানেই উপস্থিত হয়ে মহর্ষি ভরদ্বাজের আশ্রম রামচন্দ্র লক্ষণকে দেখাচ্ছেন, এমন বর্ননা রয়েছে বাল্মীকি "রামায়ন"-এ,
তুলসীদাসী "রামচরিতমানস"-এও।
এ ছাড়াও প্রাচীন কাল থেকে অনেক ইতিহাসেও পরিব্রাজকে গণের  লেখনিতেও উল্লেখ আছে এই প্রয়াগ তীর্থের অক্ষয় বটের কথা।
আরও চমৎকারী কিছু কিছু কারণে অনেকের মতেই এহেন বিস্ময়কর ঐতিহ্যের কারনেই প্রয়াগকে " ঈশ্বরের শহর" রূপে ঘোষণা করেছেন।
এমন স্থান-মাহাত্ম্যের জন্যই এখানে বার বার বহু মহামানবের পদধূলি পড়েছে।

মহামহোপাধ্যায় উমেশ মিশ্র মহাশয় প্রমাণ করেছেন , "পূরণে কুম্ভ যোগের কোনও চর্চা নেই" ।
শাস্ত্রে মাঘমেলায়  যে "কুম্ভ যোগ", তার রূপকার আদি শঙ্করাচার্য।

সম্ভবত জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র, ভৌগোলিক অবস্থান, সামরিক কারণ এবং আধ্যাত্মিক ‘অধিকার’-এর জন্য প্রয়াগের আকর্ষণ এড়াননি শাসকেরাও। হিউয়েন সাংয়ের বিবরণ থেকে তর্কসাপেক্ষ ভাবে জানা যাচ্ছে, সম্রাট হর্ষবর্ধন প্রতি পাঁচ বছর অন্তর গঙ্গা-যমুনার সঙ্গমস্থলে ধন-রত্ন বিতরণ করতেন। হর্ষবর্ধনের পূর্বপুরুষেরা শৈব, বাবা সৌর, বড় ভাই ও বোন বৌদ্ধ উপাসক। হর্ষ শেষ বয়সে বৌদ্ধধর্মের প্রতি বিশেষ অনুরক্ত হয়েছিলেন।

পরে মরাঠা থেকে মোগল শাসকদেরও আগ্রহের অন্যতম জায়গা সঙ্গম। সেখানে ইলাহাবাদ দুর্গের নির্মাণ করেছিলেন খোদ আকবর। তিনিই প্রয়াগের নাম রেখেছিলেন ইলাহাবাস, অর্থাৎ সর্বশক্তিমানের আবাস। শব্দটির অর্ধেক আরবি, অর্ধেক সংস্কৃত। আকবর এই কেল্লা তৈরির দায়িত্ব দিয়েছিলেন ঝুসির হিন্দু রাজাকে। কেল্লাটি সঙ্গমের অক্ষয়বটকে ঘিরে ছিল, পরে যার অবস্থান কিঞ্চিৎ বদলেছে। কিন্তু বদলায়নি জনশ্রুতি, যার কোনও ঐতিহাসিক ভিত্তি না থাকলেও, বহুত্বের বিচারে গুরুত্বপূর্ণ। এখনও গাইডদের মুখে শোনা যায় জনশ্রুতিটি— তপস্বী মুকুন্দ ব্রহ্মচারী অক্ষয়বটের কাছে বাস করতেন। এক দিন দুধ পান করতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃত ভাবে গরুর একটি লোম গিলে ফেলেন তিনি। প্রায়শ্চিত্তের জন্য তিনি অক্ষয়বট থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন এবং শেষ মুহূর্তে ‘শ্রেষ্ঠ যবন’ হিসেবে পুনর্জন্মের প্রার্থনা করেন। মুকুন্দের এক শিষ্যও গুরুর সহগমন করেন। বিশ্বাস, মুকুন্দই পরজন্মে আকবর, আর মুকুন্দের ওই শিষ্য বীরবল! প্রসঙ্গত, ঔরঙ্গজেবকে নিয়েও একটি জনশ্রুতি প্রচলিত। জনশ্রুতি, কুম্ভে বাঘাম্বরী মঠের জন্য জমি দান করেছিলেন ঔরঙ্গজেব।

সঙ্গমে আত্মাহুতির প্রচলন ছিল। কালিদাসের ‘রঘুবংশম্’-এও বলা হচ্ছে, ‘সমুদ্রপত্নী গঙ্গা ও যমুনার সঙ্গমস্থলে অবগাহনপূর্বক দেহত্যাগ করেন যাঁরা, তাঁরা তত্ত্বজ্ঞান ছাড়াই পুনর্জন্ম থেকে নিবৃত্তি পান।’ এই আত্মাহুতিকে কিছুটা তরল ভাবে দেখে চৈতন্য-প্রভাবিত বাংলায় জন্ম নিয়েছে প্রবাদ, ‘প্রয়াগে মুড়াইয়া মাথা।/ মরগে পাপী যথা তথা।’

এমন তীর্থরাজে নানা ধারার সাধক-সম্প্রদায়, দেশ-বিদেশের তীর্থযাত্রীদের সঙ্গে থাকেন শিখরাও। স্বয়ং গুরু নানকের পুত্র শ্রীচাঁদের প্রবর্তিত উদাসী সম্প্রদায়, শিখদের দশম গুরু গোবিন্দ সিংহের প্রবর্তিত শিখ সম্প্রদায়ের বহু মানুষ কুম্ভমেলায় যোগ দেন। বহুত্বের এমন স্বর প্রয়াগের প্রায় ৮০০টি তীর্থ-পুরোহিত পরিবারের মধ্যেও আছে। মহারাষ্ট্র, পঞ্জাব, গুজরাত, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ, কাশ্মীর ইত্যাদি অঞ্চলের প্রতিটি পরিবারের স্বতন্ত্র প্রতীক আছে তীর্থ-পুরোহিত হিসেবে।

কুম্ভ-কথার এমন বিচিত্রচারী বহুত্বের জন্যই হয়তো তাই সরস্বতী-কুণ্ডের দিকে তাকিয়ে দেবীর কাছে কোনও সন্ন্যাসী নিয়ত প্রার্থনা করে চলেন—
 ‘...অপ্রশস্তা ইব স্মসি প্রশস্তিম্ অম্ব নস্ কৃধি।’ (ঋগ্বেদ, ২.৪১.১৬) 
অর্থাৎ হে দেবী, আমরা বড়ই অপ্রশস্ত, আমাদের প্রশস্তি দিন। 
এই প্রশস্তি-প্রার্থনাই কুম্ভমেলার বহুত্বের আধার
( সংগৃহীত --
আনন্দ বাজার পত্রিকা- 13/03/2025
"বহু ধরা মেলে প্রয়াগসঙ্গমে")
=======================





Saturday, December 5, 2020

61>ভ্রমন=(কবিতায় )-------( 1 to 7 )



61>ভ্রমন=(কবিতায় )

1 .||মায়াপুর ভ্রমনের পরে।-||-17/05/2017--
2 .||-দারজিলিং ভ্রমন---|| 03/06/2017 to 07/06/2017::---
3 .||-অমরনাথ যাত্রা 1972-||::--11/07/2017::-
4>ঘুরে আসলাম তারাপীঠ-||:::--19 to 21/08/2017
5>||-সুন্দরবন-||
6>( N E )-আসাম ভ্রমণ:::--/
7>|| সুখের সন্ধানে ভ্রমণ ||
          <----আদ্যনাথ---->

    ==================




1>||মায়াপুর ভ্রমনের পরে।-||-17/05/2017--



এমন সুন্দর ইস্কন পরিবেশ //
শান্ত,পরিছন্ন,নির্মল আবেশ। //
এমন স্নিগ্ধ পরিবেশের কোলে //
ঝটিকা ভ্রমণে কি মনভরে? //
মনের ব্যাকুলতা বাড়ে। //
প্রাণ মাতানো বিশুদ্ধ হওয়া, //
অফুরন্ত অক্সিজেনে পূর্ন //
প্রকৃতির শোভা। //
মনেহয় নিজেকে উজারকরে //
দেবার মত প্রকৃতির লীলা অপার। //
উম্মুক্ত আকাশের নীচে সবুজঘাসে, //
এক দিনে পাবো কতটুকু আর। //
বাগানে নানান ফুলের সুবাশে //
নামকৃতীনের উন্মাদনার তানে //
কৃষ্ণ লীলার শুমধুর লহরির তালে //
মন যেন উদাস হয়েযায় আপনমনে। //

মনকি মানে //
কেবল একদিনে? //
ওদিকে কৃষ্ণ লীলা //
প্রেমের জয়জয় কার //
সুমধুর তাঁর লহরী //
অশান্ত মনকেও //
টেনে নেয় প্রেমের দুয়ারে। //
অফুরন্ত সময় কৃষ্ণ নামে হয়ে বিভোর, //
আমিও হয়েছিলাম প্রেমে বিভোর। //
হৃদয় ভরে নিতে প্রেমের ছোঁয়া //
এতটুকু সময় যে বড়ই কৃপণতা। //
কিআছে উপায় সীমিত যে সময়, //
এমন পরিবেশের পূর্ণ উপভোগ, //
প্রয়োজন নিতান্ত কয়েক দিনের প্রবাশ। //
মনচাইলেও পরিস্থিতির চাপে, //
মুক্ত করতে পার্বকি মনকে, //

এই সংসারের বেড়াজাল থেকে। //
||©➽-ANRC----17/05/2017---||
||====================||
=============================================

2> .|| দারজিলিং ভ্রমন---|| 03/06/2017 to 07/06/2017::-----



[03/06, 10:48]
আমরা বাগডোগড়া এয়ারপোর্ট এতে পৌঁছে গেছি//



[03/06, 11:36 AM]




৷৷--"ষন্ড মুন্ড"---৷৷

03/06/2017



ষন্ড গুরুর চেলা মোরা //
অন্ড রাখি কাঁখে, //
টাটা করি লেজ নাড়িয়ে //
গোময় পারফিউম মেখে। //
ষন্ড গুলোর অন্ড দেখো //
কেমন চর্ম ঝোলার মতো, //
মেজাজ দেখায় মাথা গুঁজে //
শিং উঁচিয়ে ফোঁস ফাঁস কতো। //
গরু গুলো মাতা হোল //
ষন্ড গুলো দাতা, //
গরু দেখলেই //
লাফিয়ে ওঠে //
যেন বিধাতার //
জন্মদাতা। //



এই টুকু লিখেই টাটার উত্তর //
বাইবাই করলাম।//
ভালো না লাগলে গালি দেবেন না, //
কারন ষন্ড মুন্ডের কারবার। //
দেখা হলেই বলবো বিস্তার । //
03/06/2017: just before //
going to Air port. //
SN BOSE AIR PORT TO //
BAGDOGRA AIR PORT //
ষন্ড গুলো নয় ভন্ড //
শুভ্র চেহারা //
শুভ্র দাড়ি , //
চেলা বেশিষ্ট //
অনেক বিশিষ্ট। //
ওরাই শ্রেষ্ঠ //
আর সকলে নিকৃষ্ট, //
উৎকৃষ্ট নিকৃষ্ট //
ষন্ড দের অন্ড দেখেই চিনি। //
ষন্ড দের কান্ড //
নাই মাথা মুন্ড। //
নাই কারো শুন্ড, //
আছে বড় অন্ড, //
হল কি কিছু পন্ড? //
হলেও পন্ড //
রাগ কিন্তু প্রচন্ড। //
খায় শুধু মন্ড। //
আসলে নয় মন্দ। //
হলেও হতেপারে আনন্দ। //
মিলাতে ষন্ড র ছন্দ, //
অনেক হোল যে কান্ড। //
করুন একটু আনন্দ। //
৷৷---ANRC----03/06/2017--৷৷
------দার্জিলিং।---৷৷
৷৷============৷৷



[03/06, 12:48 PM]




Karsiyang এর weather //
খুব আনন্দদায়ক। //



পাহাড়ি রাস্থায় চড়াই রোড //
রোদ ঝলমল দিগন্ত, //
নিচে মেঘ গুলো ভাসমান //
পেজা তুলোর মতো। //
হঠাৎ এল রিমঝিমিয়ে //
এক পশলা বৃষ্টি //
প্রকৃতির কি অপরুপ সৃষ্টি, //
এখন দেখি নীচে অন্ধকার, //
যেন আকশটাই //
নেমে গেছে অনেক অনেক নিচে। //
মেঘ গুলো দলবেঁধে //
বার বার ভিজিয়ে দিচ্ছে //
আমাদের সমু। //
কি অপূর্ব আমাদের //
যাত্রার শুরু। //
যদিও বুক করছে দুরু দুরু //
তবুও অপূর্ব অপূর্ব শুরু। //



03/06/2017
৷৷-বউ নিয়ে কথা হোলে--৷৷
কার না হ্রীদয় কাঁপে, //
মনে জাগে আনন্দ লহোর। //
বউ হোল অমূল্য ধন //
তার কথা হোল জখোন, //
বলতে হবে তো কিছু //
ভাল বা মন্দ কিছু । //
জীবনটা তো কাটাতে হবে //
ওরই পিছু পিছু //
তাইতো বলবার //
আছে অনেক কিছু। //
বলবো নয় তো গোপনে //
মনের কথা জতনে। //



গাড়ি তে বসে লেখা যা চড়াই //
ও বাঁক তাঁতেকি লেখা যায়। //
তবুও লিখেছি। //
৷৷===============৷৷
চলতে চলতে বেশ ঠান্ডা //
অনুভব করছি। //
চারিপাশের প্রকৃতিও বেশ //
মনোরম সুন্দর। //
হোটেলে নিশ্চয় //
থাকবে রুম হিটার //
তাই ঘুম হবে ভালো। //
পরে জানতে পারলাম

হোটেলের রুমে //
নাই রুম হিটার, //
আছে Ded Hiter. //
মানে এখানে বিছানার চাদরের নীচে //
হিটার বেডসীট আছে , //
বিছানা গরম করতে। //
সেটা চালু করে দিলে //
বিছানা গরম হবে, //
তবেতো ঘুমাবে। //



[03/06, 8:46 PM]



তাইতো রুমে ঢুকতেই //
চালু করে দিল গিজার //
ও Bed Hiter. //
গরম জল পেতে গিজার //
ও বিছানা গরম করতে //
বেড হিটার। //
ব্যবস্থা একটু অন্যরকম //
হলেও বেশ ভালো। //
ইলেক্ট্রিকের সাশ্রয়। //
কিন্তু ব্যবস্থা ভালো। //
৷৷=====================৷৷
রাজ ভবনের একটু পাশেই //
আমাদের হোটেল। Hotel Nirvan. //
রাজ ভবন , আর ভানু ভবন //
এর পাশ দিয়ে ম্যালে //
যাবার রাস্তায়। //
কাঞ্চনজঙ্ঘা ভিউ পয়েন্ট এতে //
হোটেল থেকে ম্যাল খুব কাছে।//
হোটেল থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা //
খুব ভাল দেখা যায়। //
৷৷====================৷৷
৷৷-দারজলিং দেখলাম আবার-৷৷
03/06/2017
ছত্রিশ বৎসর পরে এলাম //
পুনরায় দারজলিং ভ্রমণে। //
আমূল পরিবর্তন দেখলাম //
পাহাড়ি বাতায়নে। //
সেদিন ছিল গোনা গুনতি //
বেশ কিছু কাঠের বাড়ি, //
আজ চারিদিকে শুধু //
উঁচু উঁচু অট্টালিকায় ঘেরা। //
এতটুকু জায়গা নেই কোথাও, //
অসম্ভব মানুষের ভিড়, //
সকলেই অস্থির। //
টয়ট্রেন সে আজ হেরিটেজ //
সেদিন টয়ট্রেনে থাকতো কতো ভিড়। //
আজও আছে টয় ট্রেন //
দুই প্রকার ডিজেল চালিত //
ও কয়লা চালিত। //
কিন্তু সেদিনের মতো নয়। //
এই আধুনিকতায় //
আগের মজা কোথায়? //
আজ দেখলাম দাঁড়িয়ে আছে //
পুরোনো দিনের ইতিহাস হয়ে, //
সেই পুরোনো টয় ট্রেন, //
বর্তমানে হেরিটেজ। //
পাহাড়ের ঢালে ঢালে ছিলো //
কতো কাঠের বাড়ি। //
কিসুন্দর সব চা বাগানের //
অপূর্ব দৃশ্য, //
সে কি ভোলা যায়, //
আজো আছে চা বাগান //
কিন্তু সেদিনের সে বাগান //
আর আজকের বাগান, //
বাগান ঠিকই কিন্তু সেদিনের মত //
নাই যে প্রাণ । //
আজও আছে ওদের মুখে //
সেই সরল হাসি,আর প্রাণ, //
কিন্তু সমাজের আধুনিকতার //
প্রবল চাপে মনে হয় ওরা //
দ্রুত হারাচ্ছে সেই নির্মল হাসি ও //
নাই কোন প্রাণ। //
আলাপ হোল বৃদ্ধা এক //
শ্রমিকের সাথে। //
জানলাম ফারাক সেদিনের //
আর আজকের সাথে। //
হয়েছ অনেক অনেক দোকান //
কিন্তু ওদের মধ্যে নাই সে প্রান। //
তখোন হোটেল ছিল কটা? //
প্রতিটি বাড়িতেই ছিল //
অতিথি (টুরিস্ট ) রাখবার সুব্যবস্থা। //
কি সুন্দর ছিল //
ওদের সাথে মিলনের //
এক আত্মা হবার সুযোগ ব্যবস্থা। //
এখনো আছে ওদের হৃদয় বোধহয় //
আগের মত। //
কিন্তু আধুনিকতা যেন ওদের //
দূরে করে দিয়েছে কত অসহায়। //
আজ ঝলমল করছে মেল //
কিসুন্দর অজস্র মানুষের ভিড়, //
আমি খুঁজে চলেছি //
সেই পুরান দিনের //
সেই জীবন্ত প্রানোজ্জ্বল মেল। //
রাজনীতি ও আধুনিকতার দৌড়ে //
পাহাড়ি সরল মানুষ গুলো আজ //
মনেহয় হাঁপাচ্ছে। //
নিত্য দিনের কঠোর পরিশ্রম //
ওদের শান্ত নির্মল মনে //
হানছে কতনা আঘাত। //
দেখলাম আজও মুটিয়া //
বয়ে নিয়ে চলেছে পিঠে //
বিশাল বোঝা পাহাড়ি চড়াই পথে। //
জানিনা কেন মনেহয় //
পর্যটন শ্রেষ্ঠ দার্জিলিং //
দিন দিন হারাচ্ছে প্রাণ, //
পরিবেশ প্রকৃতিও যেন //
আজ কলুষিত বিপণন, //
পর্যটনের ভিড়ে। //
পর্যটকদের সুচিন্তার অভাবে। //
ক্রমর্ধমান হোটেল ও দোকানের তাগিদে //
প্রতিদিন হচ্ছে বৃক্ষ, বনাঞ্চল ধ্বংস //
ভয়ঙ্কর রূপে পাল্টাচ্ছে প্রকৃতি এদের প্রভাবে। //
৷৷----ANRC----03/06/2017----৷৷
৷৷=====================৷৷



[04/06, 9:19 AM]
||--আজ এখন kreakfast এতে ব্যাস্ত।--||



এখানে বেশ ঠান্ডা হাওয়া বইছে তাই //
জ্যাকেট গায়ে দিতে হোল। //
জ্যাকেট গায়ে দিয়ে ভাবছি //
দুই দিনের ঠান্ডা তার পরেই তো আবার //
সেই কোলকাতা //
আবার সেই প্যাচ প্যাচে গরম। //
চিন্তা করেই //
খারাব হয় মনটা । //
[04/06, 5:04 PM]

||-( fb এতে কিছু মন্তব্য পেলাম।
সেই মন্তব্যর পরিপেক্ষিতে লিখতে হোল)--||



হাঁ বুঝলাম //
ভাবে একটু পার্থক্য হলেও //
হতে পারে। //
কিন্তু ভাবনার কোন পার্থক্য //
যে নাই তা বোঝা সহজ। //
দার্শনিক চিন্তার প্রেক্ষাপটে //
হয়তো আছে অনেক বিতর্ক । //
কিন্তু দর্শনের ভাবধারায় মিলন অনেক। //
যদিও তার্কিক বিষয় গুলি //
এরকমই হয়। //
তবুও মানুষে মানুষে পার্থক্য //
করতে এই বিষয় গুলিই //
আলোচনার মণিকোঠায় রয়। //
যদিও এর পরেও থাকে //
সময়ের ব্যবধানের //
আলচ্য বিষয়। //
এসকলি চিন্তা প্রসূতির //
দৃষ্টির নিলয়। //
তবুও চিন্তা ও চিন্তাধারার //
মধ্যেও পার্থক্য অনেক হয়। //



[04/06, 5:14 PM]

||-চিন্তা,ভাবনা,দৃষ্টি--||
এগুলি তার্কিক আলোচনার //
সুক্ষ বিষয়। //
যদিও সকলি সময়ের নিরিখে //
থেকে মাতৃ জঠরে শিশুর মত //
সুরক্ষিত ( প্লাজমা বেষ্ঠিত)৷ //
তবুও ভাবনার মিলনেই //
অনেক আনন্দ প্রাপ্তি হয়। //



[04/06, 10:49 PM]



এই মাত্র হোটেলে ফিরলাম //
এখনো জামাপ্যান্ট পাল্টায়নি। //
আর আমার ঘুম তাতো রাত্রি 3 to 7am //
||================||
[05/06, 9:55 AM]

||-What'sApp এতে উত্তর দিতে------||
এক মাত্র উপায় //
নেতা হয়ে যান //
নেতাদের কোন চিন্তা নেই //
সব নেতারাই বারবার আসে //
দার্জিলিং।বড় মাপের নেতারা তো

15 দিন অন্তর বোধ হয় । //
এলাকার উন্নতির চিন্তা করতে,ভাবতে //
এলাকাতে তো আসতেই হবে। //
ওই যে একটা গান //
"এবার মলে (মড়লে)শুতো হবো" //
আমি ভাবছি আবার যদি মানুষ //
হয়ে জন্মাই তবে //
নিশ্চিত রূপে নেতাই হবো। //
কারন নেতা না হলে কারুর //
কোন উন্নতি হয় না। //
নিজের তো হয়ই না। //
তাই নেতা হয়ে আগে নিজের উন্নতি, //
তারপরে, নিজের কাছের লোক //
এবং নিজের আত্মীয় স্বজনের উন্নতি। //
তার পরে যদি আবার চান্স আসে //
তবে দেশের জন্য ভাবা যেতে পারে। //
নেতাদের কোলকাতার গরমে //
নিবাস হবে দার্জিলিং। //
আর কোলকাতার শীতে //
নিবাস হয় দীঘা কিংবা পুরী। //



[05/06, 6:49 PM]
এবার দার্জিলিং এ কিছু চা পান করলাম। //
চা তো নয় যেন অমৃত সমান লিকার । //
আহঃ কি অপূর্ব গন্ধে স্বাদে //
যা অতুলনীয়। //
আজ 05/06/2017 বিকেল //
সন্ধ্যা 6টায় চা খেতে এলাম //
Nathmulls এতে। //
প্রথমে খেলাম চা যার এক পট //
মানে 4 কাপের দাম ₹450/-+ tax //
খুবই ভাল লাগলো। //
তাই আধা ঘন্টা পরে অর্ডার দিলাম //

চা যার দাম ₹400/- টাকা এক কাপ। //
এই চায়ের এক কেজির দাম //
₹25000/-& above /

দিলাম অর্ডার অন্তত এক দিন //
পান করে দেখি //
₹25000/- টাকা দামের চা এর লিকার। //
আধা ঘন্টা পরে আসলো সেই //
অপূর্ব লিকার ,//
ওরা চা এর ট্রে দিয়েই //
লিকারের গন্ধ শোকাল অভূতপূর্ব গন্ধ। //
তারপরে দিলাম লিকারে চুমুক। //
সত্যি কি অপূর্ব তার স্বাদ।মেজাজ। //
বলে বোঝান যাবেনা। //
লিকারের যে এমন স্বাদ হয় //
তা জানাছিলনা //
মন প্রাণ ভরে গেল। //
এক অপূর্ব আমেজে মন আপ্লুত। //
এবারে আমরা হোটেলে গেলাম //
রাত্রের খাবার খেতে। //
ওখানে গিয়ে আবার সবাই একসাথে হলাম //
কারন ঝুমা, অনামিকা, রাজা মার্কেটিং এতে //
গিয়ে ছিল।//
ওরা ফিরলে আমার ও সাম্যর মুখে //
ওই বিশেষ চা এর কথা শুনে //
ঝুমা সাম্যকে পাঠিয়ে //
ওই Nathmulls থেকে //
ওই বিশেষ চা কিনে আনতে বললো। //
সাম্য 100গ্রাম চা কিনে আনলো । //
100grm--₹3000/-টাকায় //
কারন ওদের বক্তব্য এই চা খুবই কম চলে। //
কেউ অর্ডার দিলেই প্যাকেট খোলাহয়। //
1কিলো নিলে ₹25000/- (পঁচিশ হাজার টাকা) //
কিন্তু লুজ নিলে ₹30000/-(ত্রিশ হাজার টাকা দরে) //
যাইহোক এমন চা খাওয়া হোল //
এবং চা পাতা কেনাও হোল। //
=============================
05/06/2017
আজ সকালে পেলাম দেখা //
অপূর্ব সেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্য। //



বার্ধক্য ও ভ্রমন---//
--------দার্জিলিং ভ্রমণ কালে-------//
||----05/06/2017-------||



সময়ের সাথে বয়স বাড়ে, //
শরীরে ঘটে কতো পরিবর্তন।//
জীবন চক্রে চলতে থাকে এহেন //
সময় ও শরীর আবর্তন। //
সময় তো চলে নিজের মতন। //
তার একান্ত নিজেস্ব গতিতে। //
শরীর তাল হারিয়ে পিছিয়ে //
অতীত কে খোঁজে জখোন, //
তখনই শরীরে বার্ধ্যকের রেখা টানে। //
মন চাইলেও তখন //
শরীর দেয়না সারা সর্বক্ষণ। //
দিন প্রতিদিন মন নিজের মতন //
খুঁজে চলে কতো নিত্য নুতন। //
হয়তো শরীর ক্ষনিকের তরে //
করতে চায় উপভোগ তারে। //
সেই বৃদ্ধ মন চাইলেও তখন //
বয়সের ভারে শরীর অপারগ। //
এটাইতো প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম। //
হয়তো বা কেউ যোগ ব্যামের বলে //
ধরে রাখতে চায় চির যৌবন। //
সেতো ক্ষনিকের ব্যতিক্রম। //
জীবন,সংসার,নিত্য দিনের //
হরেক কর্তব্যের মাঝেও কখনো //
মন চায় একটু হালকা হতে, //
নিরালায় একটু ঘুরে বেড়াতে, //
প্রকৃতির সাথে একটু মিলে যেতে। //
তখনই মানুষ বেরিয়ে পড়ে //
নিজের সাধ্যানুসারে কাছে কিংবা দূরে, //
ধার্মিক স্থানে,পাহাড়ে,সমুদ্রের ধারে। //
যেখানে মন হবে একটু হালকা। //
তাইতো ভ্রমন আনন্দদায়ক,সুন্দর, //
স্বাস্থ্যকর,মন হয় উদার,শরীর হালকা, //
কিছু সময়ের জন্য মনকে ভুলিয়ে রাখা। //
বর্তমানের সংসার জীবন সেতো //
অফুরন্ত গতি ও নিত্য নুতন চাহিদা। //
কিছুক্ষনের জন্য তাকে ভুলে থাকা //
ভ্রমনেই সম্ভব এমন নিরালায় থাকা। //
--------ANRC-------05/06/2017----//
--------দার্জিলিং ভ্রমণ কালে-------//
==========================
[07/06, 7:46 AM]

অপেক্ষায় রইলাম। //
আসার আশায় রইলাম বসে //
আপনাদের পথ চেয়ে। //
কবেহবে আবার দেখা। //
সামনেই বলবেন জখোন //
প্রাণ ভোরে শুনবো তখোন। //
শুনে জেনে ভরবে প্রাণ //
কাছে আসার পাবো ঘ্রাণ। //
আনন্দেতে নাচবে মন //
অনেক কথাই হবে তখন। //
সেই আনন্দের পূর্বাভাসে //
এখনই মন আনন্দে ভাসে। //



[07/06, 2:58 PM]
এইমাত্র হাওড়ায় নামলাম। //
দাজিলিং এর ঠান্ডা থাকে বেড়িয়ে //
শতাব্দিদ ঠান্ডা উপভোগ করে //
কলকাতার আগুনের //
হলকাতে ঢুকলাম। //



[07/06, 7:50 PM]




আগুনের হালকা হওয়া //
ওতেই তো কেটেছে 30 বছর। //
এখন ক্ষনিকের A/C র হওয়া //
মনেহয় বলির পূর্বে পাঠার //
স্নানে স্নিগ্ধ শুদ্ধি করণ। //
আবার ঝেলতে হবে আগের মতন । //
এটাইতো আমার জীবন। //
চিন্তা নেই আছি থাকবো //
জতো দিন বাকি কর্মফল। //
প্রকৃতি নেবে সমান সমান //
যেমন দিয়েছি তার প্রতিদান। //
চলতেহবে টানতেহবে চিন্তাকি //
সময়কে ফাঁকি দেওয়া জাবেকি ? //
ভাগ্য লিখন ও ভবিতব্য //
খণ্ডাতে চায় সে যে অজ্ঞ। //
আমিতো জ্ঞান পাপী অতী //
জানা আছে আমার গতি। //
এ নয় সুপ্ত হৃদয়ের করুন বেদনা, //
এ আমার একান্ত চিন্তা ভাবনা। //
=========+==============
||--বাঙালি উদম পাগল--||



বাঙালি উদম পাগল //
ভ্ৰমনে ও মার্কেটিং কতটা //
বোঝাযায় ভ্ৰমনে বেরিয়ে পড়লে //
গরমের ছুটিতে পাহাড়ে ঠান্ডায় গেলে। //
খাবারের কথা নাই বললাম আজ। //
ভোজন রসিক বাঙালি //
বদনাম চির কাল। //
ধারে কাছে দার্জিলিং //
একটু দূরে কাশ্মীর বেশ। //
আরো কতো শত //
জায়গা আছে কি তার শেষ। //
মন ও পকেটের জোর থাকলে //
ভ্রমনের আসল আনন্দ মেলে। //
বাঙালি এতো করেনা চিন্তা //
মন হলেই বেরিয়ে পড়ে //
জখোন যেদিকে চায় মনটা। //
বাঙালির কাছে ভ্রমনটাই আসল //
বিলাসিতা ও শখের ভ্রমণ //
সেতো সকলের জন্য নয়। //
বাঙালির ভ্রমন মানে বেরিয়ে পরা //
একটু সস্তায় খাওয়া থাকা দর্শন, //
মনের মতন সস্তার মার্কেট পেলে //
বউ এরআবদারে কিছু কেনা কাটা। //
গরমের ছুটিতে যেখাই যাও বাঙালি //
------
।।সাথে দার্জিলিং টি।।
রোধ ও বৃষ্টির মিলনে //
সন্ধ্যায় মেঘলা আকাশে //
ভালোই কাটলো //
আজকের দিন টি। //
সাথে দার্জিলিং টি //
জমল ভালোই //
নাইবা হল ফাটাফাটি। //
ইয়াম্মি ইয়াম্মি ই ঠিক। //
৷৷----ANRC---- 07/06/2017--৷৷
৷৷===================
====================================================================

3 .||-অমরনাথ যাত্রা 1972-||::--11/07/2017::-


অমরনাথ যাত্রা কঠিন ও দুর্গম হলেও
প্রতি বৎসর অগণিত মামুষ পৌঁছন অমরনাথ এর
গুহায়।13 বৎসরের নীচে ও 75 বৎসরের বেশি
বয়স্ক এই যাত্রাতে অনুমতি পায় না।
আমার অমরনাথ দর্শন আজথেকে অনেক বৎসর আগে।তখন আজকের মত এত সুযোগে সুবিধা
ছিলনা।যাত্রার জন্য খচ্চর গুলি ও জোগাড় করতে হিয়ে ছিল অনেক কষ্ট করে।তখকন কার সময়ে বাবা অমরনাথ এর নামই জানতো কজনে।যাত্রা তো দূরের কথা।আমি রক ক্লাইম্বিং ইনস্টিটিউট এর অধীনে বাঁকুড়ার আহুশুনিয়ায় রক ক্লাইম্বিং ট্রেনিং
করে সেন্ট্রাল পিক লায়ন পিক ক্লাইমব করেছি।
সে এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা।
আমরা যাদের সকলেরই অল্প বিস্তর
ক্লাইম্বিংএর অভিজ্ঞতা আছে,এমন 12 জন বন্ধু
মিলে ঠিক বেরিয়ে পড়েছিলাম অমরনাথের উদ্দেশ্যে ।দিন তারিখ মনেনাই তবে সাল টা ছিল
1972।
আমি তখোন কলকাতাতে taxi চলাই।
এবং চাকুরীর জন্য বিভিন্ন জায়গাতে দরখাস্ত করেই চলেছি একের পর এক।
টাকা পয়সার ভীষণ অভাব ছিল ।তবুও
যেহেতু ট্যাক্সি চালাই তাই ভাগ্য ক্রমে দুজন বিদেশির সুনজরে পরে বেশ খানিকটা আয়ের সুযোগ হয়ে ছিল।
আমাদের মধ্যে সুবল বাদে সকলেরই আর্থিক
সংগতি সামান্যই।
আসলে সুবল আমাদের সকলের আর্থিক অবস্থা
জানত। ও নিজে বেশ সচ্ছল,ওর প্রচেস্টা তেই আমরা একজোট হয়েছিলাম।
সেজাই হোক আমরা একজোট হয়ে রওনা দিয়েছিলাম বাবা অমরনাথ দর্শনে।

আজ তো পথও হয়েছে অনেক সুগম।
সদাসর্বদ অতন্দ্র পাহাড়া।
জায়গায় জায়গায় বিশ্রামের সুব্যবস্থা।
কত সহজেই মিলেজায় মোট বইবার
খচ্চর এবং সরকারের কত সহায়তা।
এখন কতো সেনা মোতায়েন থাকে রাস্থাতে।
আমাদের সময় সেনা বা কোন সহায়তা
কিছুই ছিলনা ।
বিপদে পড়লে দেখবার ও কেউ ছিলনা
সঙ্গে সেরফা নিতে হত টাকা দিয়ে ভাড়া করে।
ওরাই সহায়ক ও পথ পরিদর্শক।
তখন অনেক জায়গাতে নিজেরা রাস্থার পাথর সরিয়ে রাস্থা বানিয়ে নিতে হয়ে ছিল আমাদের।
আজকাল তো তৈরি রাস্থা পাওয়া যায়।
বিশ্রামের জায়গায় থাকে।
আমাদের ছিল আকাশ ছাদ বা নিজের তবুই নিজেদের বিশ্রাম স্থান।
আজ আর এত বর্ননা করতে পারবোনা কারন
তখনকার অনেক স্মৃতিই এখন আবছা হয়ে গেছে
বা লুপ্ত হয়ে গেছে স্মৃতি থেকে।
তবুও যেটুকু মনে আছে সেই টুকুই লিখছি।

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে পরিগণিত না হলেও তুষারলিঙ্গ অমরনাথের মহিমা একেবারেই স্বতন্ত্র।

//অমরনাথ গুহার বয়স আনুমানিক ৫০০০ বছর।
//প্রতি বছর অগণিত মানুষ অমরনাথ যাত্রা করেন।
শ্রাবণে এই যাত্রা শুরু হয়।
//দু’টি পথে অমরনাথ যাত্রা সম্পন্ন হয়— পহলগাম
রুট এবং এবং বালতাল রুট।
অমরনাথ গুহা। —
//শৈবতীর্থ হিসেবে অমরনাথকে এক বিশেষ গুরত্ব
প্রদান করে হিন্দু ঐতিহ্য।
//পুরাণ অনুসারে, শিব পার্বতীকে অমরত্ব শিক্ষা
প্রদানের উদ্দেশ্যে অমরনাথ গুহাকে
বেছেছিলেন।
//পহলগাম, যেখান থেকে অমরনাথ যাত্রা শুরু হয়,
সেই স্থানেশিব তাঁর ষাঁড় নন্দীকে রেখে
গিয়েছিলেন।
//চন্দনওয়াড়িতে তিনি তাঁর শিরস্থ চন্দ্রকে রেখে
যান এবং
//শেষনাগে তিনি তাঁর দেহে বিচরণরত সর্পকুলকে
রাখেন।
//গণেশকে রাখেন মহাগণেশ পর্বতে।
//তার পরে বায়ু, অগ্নি, জল, মৃত্তিকাকে রাখেন
পঞ্জতরণী নামক স্থানে।
//প্রায় সব নির্মোক ত্যাগ করেই তিনি পার্বতীকে
নিয়ে অমরনাথের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
//যখন শিব পার্বতীকে অমরত্ব সম্পর্কে জ্ঞানদান
করছিলেন, তখন সেখানে কোনও জীবিত প্রাণী ছিল না। কেবল একটি পায়রার ডিম সেখানে থেকে গিয়েছিল। কথিত আছে এই ডিম থেকে একজোড়া পায়রা জন্মায়। এবং তারা অবধারিতভাবে অমরত্ব লাভ করে। এদের নাকি আজও গুহার ভিতরে দেখা যায়।

//অমরনাথ গুহাটি আবিষ্কার করেন বুটা মালিক নামে এক মুসলমান মেষপালক। তিনি এখানে এক সন্ন্যাসীর দেখা পান। সন্ন্যাসী তাঁকে একটা থলিতে কিছু কয়লা দান করেন। পরে সেই কয়লা সোনায় পরিণত হয়। বুটা সেই স্থানে ফিরে যান। কিন্তু সেই সন্ন্যাসীকে আর দেখতে পাননি। বদলে তিনি অমরনাথ লিঙ্গ দেখাতে পান।

// অমরনাথ তুষারলিঙ্গের বৃদ্ধি চন্দ্রকলার উপরে নির্ভরশীল। শিবলিঙ্গ ছাড়াও আরও দু’টি লিঙ্গ এই গুহায় রয়েছে। এদের পার্বতী ও গণেশ মনে করা হয়।
অপূর্ব এই বাবা অমরনাথ,
লেখা বা বর্ণনার অতীত।
প্রকৃতির হাজার বাঁধা পারকরে।
প্রকৃতির দ্বারা সৃষ্ট অপূর্ব প্রকৃতির নিদর্শন,
প্রকৃতিরে করিতেছে প্রদর্শন,
এখানে প্রকৃতি নিজেই গড়িতেছে,
নিজের অপূর্ব নিদর্শন।
সেদিন দেখে মনের আনন্দে বলেছিলাম
আহা কি দেখিলাম ,জন্মজন্মান্তরেও
ভুলিবনা ।
আজো মনেহয় বাবা নিজে
হাতছানি দিয়ে ডাকে বারম্বার।
||-ANRC-11/07/2017--------||
||======================||

============================================================

4>ঘুরে আসলাম তারাপীঠ--
19 to 21/08/2017

দুই দিন করলাম হোম, যজ্ঞ ,মায়ের মন্দিরে ও শ্মশানে।
করলাম " তাঁরা মায়ের " পূজা ও আরাধনা।
19/08/2017 রাত্রি থাকে 21/08/2017 সকাল পর্যন্ত। চতুর্দশী, অমাবস্যা, ও সন্ধি ক্ষনে।
মায়ের মন্দিরে ও শ্মশানে।
ওই রাত্রে লাশ জ্বলে ছিল তিনটি।
খুব ভালই হল হোম শ্মশানে।
তারাপীঠ আসলে একটি ‘সিদ্ধপীঠ’।
তাঁরা পিঠ কে অনেকেই শক্তি পিঠ বলে মনে করে।
আসলে একটি ‘সিদ্ধপীঠ’।
একান্ন শক্তি পিঠের মধ্যে এটি গণ্য নয়।
তবে বাহান্ন পিঠের এক পিঠ রূপে গণ্য।


আমাদের শাস্ত্রের বিশ্বাস
কৌশিকী অমাবস্যায় খুলে যায় স্বর্গ-নরকের দ্বার।
অতশত জানিনা তবে এই বিশেষ দিনে হোম,যজ্ঞ
ও পূজার্চনা করে বিশেষ আনন্দ পাই।ভালো লাগে
তাই করি।
আসমার সাথে ছিল পাঁচ জন।
পাঁচ জনই ধানবাদের।

তারাপীঠ পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার রামপুরহাট শহরের কাছে অবস্থিত একটি ক্ষুদ্র মন্দির নগরী। এই শহর তান্ত্রিক দেবী তারার মন্দির ও মন্দির-সংলগ্ন শ্মশানক্ষেত্রের জন্য বিখ্যাত। হিন্দুদের বিশ্বাসে, এই মন্দির ও শ্মশান একটি পবিত্র তীর্থক্ষেত্র। এই মন্দির শাক্তধর্মের পবিত্র বাহান্ন পিঠের এক পিঠ । সতীপীঠের অন্যতম। এই স্থানটির নামও সেখানকার ঐতিহ্যবাহী তারা আরাধনার সঙ্গে যুক্ত।
অন্য সব অমাবস্যা থেকে কৌশিকী অমাবশ্যা একটু আলাদা। তন্ত্র ও শাস্ত্র মতে ভাদ্র মাসের এই তিথিতে অনেক কঠিন ও গোপন সাধনা করলে আশাতীত ফল মেলে। সাধক কুন্ডলিনী চক্রকে জয় করে, বৌদ্ধ ও হিন্দু তন্ত্রে এই দিনের এক বিশেষ `মহাত্ব আছে। তন্ত্র মতে এই রাতকে তারারাত্রি বলা হয়। এ রাতের এক বিশেষ মুহূর্তে স্বর্গ ও নরকের দুয়ার মুহূর্তের জন্য উম্মুক্ত হয়। সে সময় কোনো সাধক নিজের ইচ্ছে মতো ধনাত্মক অথবা ঋণাত্মক শক্তি নিজের সাধনার মধ্যে আত্মস্থ ও সিদ্ধি লাভ করতে পারে।
এই কৌশিকী অমাবশ্যায় তারাপীঠের মন্দিরে চলে নানা ধরনের পূজা ও সাধনা।
তারাপীঠ সেখানকার ‘পাগলা সন্ন্যাসী’ বামাক্ষ্যাপার জন্যও প্রসিদ্ধ। বামাক্ষ্যাপা এই মন্দিরে পূজা করতেন এবং মন্দির-সংলগ্ন শ্মশানক্ষেত্রে কৈলাসপতি বাবা নামে এক তান্ত্রিকের কাছে তন্ত্রসাধনা করতেন। বামাক্ষ্যাপা তারা দেবীর পূজাতেই জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। মন্দিরের অদূরেই তার আশ্রম অবস্থিত।
||=-©➽=ANRC=21/08/2017===||
||===≠=====================||

5>||-সুন্দরবন-||

দেখেছি প্রাণ খুলে সুন্দর বনের
বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ ফরেস্ট।
আর সেই টাইগার ফরেস্ট।
একদিগে ভগতপুর,লোথিয়ান দ্বীপ,
অন্যদিগে সজনেখালি,ডাবরি সীমান্ত।

ক্যানিং থেকে সর্বজয়া লঞ্চে,
লঞ্চ নয় যেন পাঁচ তারা
ভাসমান হোটেল ।
আর সেই সজনেখালির মধু।


সুন্দরবন বেড়ানোকে দু’ভাগে ভাগ করা যায় – এক দিকে সুন্দরবন বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের ভগবতপুর, লোথিয়ান দ্বীপ, বনি ক্যাম্প, কলস ক্যাম্প,

অন্য দিকে সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের সজনেখালি, সুধন্যখালি, দোবাঁকি থেকে একেবারে বুড়ির ডাবরি পর্যন্ত। বিশ্বের বৃহত্তম ব-দ্বীপ ও বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য ।

সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার ক্যানিংয়ের দূরত্ব কলকাতা থেকে মাত্র ৪০ কিমি। ১৯৮৯ সালে বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ ও ১৯৯৭ সালে ওয়ার্ল্ড ন্যাচারাল হেরিটেজ সাইটের তকমা পায় সুন্দরবন। সুন্দরবন বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভকে গ্লোবাল বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। সুন্দরবনের খ্যাতি বাংলার বাঘ- রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের জন্য। তবে বাঘ ছাড়াও চিতল হরিণ, নানা প্রজাতির সাপ আর নানান পাখির মেলা সুন্দরবনে। জলে কুমির, কামট, কচ্ছপ।

নামখানা থেকে ২০ কিমি দূরে লোথিয়ান দ্বীপের ভগবতপুরে কুমির প্রকল্প গড়ে উঠেছে। ভগবতপুর থেকে ৩০ কিমি অরণ্যের গভীরে সুন্দরীকাটি ইকো ট্যুরিজম সেন্টার। ঠাকুরান নদী ধরে বঙ্গোপসাগরের কোলের কাছে শেষদ্বীপ চুলকাটি বা কলস দ্বীপ। কলস থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টার জলপথে বনি ইকো-ক্যাম্প।

ক্যানিং থেকে অথবা বাসন্তি-সোনাখালি হয়ে লঞ্চে পৌঁছনো যায় সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের সজনেখালিতে। সজনেখালি থেকে ট্যুরিস্ট পারমিশন আর গাইড নিয়ে লঞ্চে ভেসে পড়তে হবে টাইগার রিজার্ভের অন্য জায়গাগুলি ঘুরে দেখার জন্য। সজনেখালিতে ম্যানগ্রোভ ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টার, ওয়াচ টাওয়ার, পাখিরালয়, কুমির পুকুর, কচ্ছপ পুকুর, কামট পুকুর, বনবিবির মন্দির প্রভৃতি দর্শনীয়।

যাওয়া – সুন্দরবনের সব চেয়ে কাছের বড় শহর কলকাতা। নিকটতম রেলস্টেশন নামখানা । শিয়ালদহ স্টেশন থেকে কাকদ্বীপ ও নামখানার লোকাল ট্রেন ছাড়ে। কলকাতা থেকে ট্রেন বা বাসে কাকদ্বীপ হয়ে নামখানা। সেখান থেকে লঞ্চে বা নৌকায় সুন্দরবন বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের দিকটা বেড়িয়ে নেওয়া যায়। সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের দিকে যেতে হলে শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে ক্যানিং পৌঁছে বা কলকাতার বাবুঘাট থেকে বাসে বাসন্তী-সোনাখালি পৌঁছে, সেখান থেকে লঞ্চে উঠতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন ও বিভিন্ন বেসরকারি পর্যটন সংস্থা প্যাকেজ ট্যুরে সুন্দরবন বেড়াতে নিয়ে যায়। বড় দলে গেলে ক্যানিং বা সোনাখালি থেকে নিজেরা লঞ্চ ভাড়া করেও ঘোরা যায়।

পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের চিত্ররেখা ও সর্বজয়া লঞ্চে সুন্দরবন প্যাকেজের ব্যবস্থা রয়েছে।

সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভ বেড়ানোর সব চেয়ে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা লঞ্চে রাত্রিবাস। তবে সজনেখালিতে থাকার নানান ব্যাবস্থাও আছে। জেটি ঘাটের কাছেই পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনের সজনেখালি ট্যুরিস্ট লজ। গোসাবাতে হোটেলেও থাকা যায়। এ ছাড়া গোসাবা দ্বীপের পাখিরালয় গ্রামে জেলা পরিষদের ট্যুরিস্ট লজ আছে। পি ডব্লু ডি ও সেচ দফতরের বাংলোও আছে গোসাবায়। পাখিরালয়ের কাছেই টেগোর সোসাইটি ফর রুরাল ডেভেলপমেন্টের গেস্টহাউস। পাখিরালয়েও বেশ কিছু হোটেল আছে। নামখানায় থেকে লঞ্চে বেড়িয়ে নেওয়া যায় সুন্দরবন বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের দিকটা। ভগবতপুরে থাকার তেমন ভালো ব্যবস্থা নেই। তবে কাকদ্বীপ সেচ দফতর থেকে সীতারামপুর বাংলো বুক করে রাতে থাকা উচিত হবে। বনি ও কলস ক্যাম্পেও থাকা যায়।

সুন্দরবনে প্রবেশে অনুমতি প্রয়োজন – চিফ কনসারভেটর অব ফরেস্ট, গভর্নমেন্ট অব ওয়েস্ট বেঙ্গল, থার্ড ফ্লোর, পি-১৬ ইন্ডিয়া এক্সচেঞ্জ প্লেস, কলকাতা-৭০০০০১ বা ফিল্ড ডিরেকটর, সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভ, ক্যানিং, সাউথ ২৪ পরগনা। বিদেশিদের অনুমতি মিলবে সেক্রেটারি, ডিপার্টমেন্ট অব ফরেস্ট অ্যান্ড ট্যুরিজম, গভর্নমেন্ট অব ওয়েস্ট বেঙ্গল, রাইটার্স বিল্ডিং, কলকাতা-৭০০০০১।

সুন্দরবনের মধু বিখ্যাত। সজনেখালির বিট অফিস থেকে কেনা যায়। অক্টোবর থেকে মার্চ বেড়ানোর সেরা সময়।

==+++=++++=======================

6>( N E )-আসাম ভ্রমণ:::--/
Toure to Assam ,GUAHATI, KAMAKHYA, KAJIRANGA ,dt 03/02/2017 to 10/02/2027

=03/02/2018 to 10/02/18=
KAMAKHYA= SILONG, GUAHATI, KAGIRANGA,
Journey conduct by BANIK SPECIAL
Mob:-8902407104::/9830284862::/
9748909119,
E- mail::--banik.special@gmail.com
Address::--
Block-A, As-1, (Arjunpur) kolkata-59
Ph No-7980668153
Total pakage ₹ 12,800/=per head
Advance দিয়েছি =₹4000/-হিসাব পরে হবে।

আজ 27/01/2018 তে বণিক বাবু হিসাব করে বললেন
₹12800/=(--)₹1000/=train fair( up500+down500)=₹11800/=
(--)4000/= Advance paid=₹7800/=To be paid per head i.e. Rest Amount to be paid
₹7800/=×2=₹15600/=

অতয়েবTrain ফেয়ার বাদ দিয়ে বণিক দাকে Rest Amount আরো দিতে হবে ₹15600/= By cheque::--
Pay to BANIK SPECIAL এই নামে চেক দিতে হবে।

=================
AIR TICKET:- E-TICKETS
UP =dt 03/02/2018
IndiGo 6E 207. RF class Air craft:-320
CCU:-10:40AM - GAU:-11:55AM
TICKET NO:-BBB 34J
PNR: -BBB 34J ₹1882×4=₹ 7528/-
=================
Return:------E-TICKETS
Dt :--10/02/2018
IndiGo 6E 596--RF class. Air craft 320
GAU:-02:25 PM---CCU:03:40 PM
TICKET No:-N7U8QY
PNR No:: 6E-N7U8QY ₹1744×4=₹6976/-
==================
Mr Adyanath Roy Choudhury
Mrs Sabita Roy Choudhury
Mr Gouri Shankar Barman
Mrs Tanima Barman
===================
Air Tickets by
"The Bohemians"
> admin@ the Bohemians.in>
Anirvid Sarkar:-09830044581
P-255, Lake Town,Block-B,
Kolkata-700089
Dt of purchase 21st Sept 2017:
at 3:39:38 PM ist
---------------------
ভ্রমন প্ৰগ্রাম::--
গৌহাটি--শিলং ও কাজিরাঙ্গা
03/02/2018: প্লেনে গৌহাটি পৌঁছন।
Lokpriya Gopinath Bordoloi International Airport,
হোটেলে।12.15 noon Airport to J.Neheru Stadium 19km and Night halt.
Hotel prince B. DrB.Baruah Road.
Opposite Negeri Stadium.
Guwahati-781007.Assam.

04/02/18::--কামাখ্যা দর্শনat 12 noon: পরে শিলং এর উদ্দেশ্যে রওনা,at 3pm reach SILONG at 6.30pm 99.2km 3hr
Police Bazar CHAUCK এর MAR BA HUB এর পরে ঢালু রাস্থায় নেমে ROYAY GLOBAL UNIVERCITY র পরে আরও ঢালুতে নেমে
HOTEL MEGHA STAY IN
Quinton Road, Police Bazar,
SILONG -793 001,
Meghalaya(INDIA)
Mob:-98631 07860
Land::-0364 2505221
Name of maneger
(Samsul)
Tomorrow site sin+ after break fast to cherapunji 53km 2hr
শিলং এতে রাত্রি বাস 3 রাত্রি (4,5,6=3Nights )
সাইট সিন,চেরাপুঞ্জি।
Entry fee দিতেহল @₹70/-per head

07/02/18::-কাজিরাঙ্গা র উদ্দেশ্যে রওনা ও রাত্রি বাস 2রাত্রি,( 7 ও 8=2Nights )। জিপ সাফারি @₹700/-per head ( নিজেদের দিতে হবে)
SILONG to KAJIRANGA 253km 6h aprox

07/02/2018 সকাল 9টা 40 মিনিটে রওনা দিলাম
এখন 4.50pm এই মাত্র কাজিরাঙ্গা হোটেলে পৌঁছ লাম HOTEL
SANTI LODGE
Mr Rithon Saha
M::-9435154298//
9678964123
N.H.37. KOHORA-1
P.O.:-KAZIRANGA NATIONAL PARK
DIST::-GOLAGHAT (ASSAM)::-785609
E- mail: customercare@
kazirantilodge.com
Website::-www.kazirangasantilodge.com
Hotel টা বেশ ভাল মানে পরিষ্কার পরিছন্ন।
রাস্থায় আসতে আসতে দেখলাম গন্ডার, হরিন, হাতি, বোন মোশ।
কালকে central point view
after tea @₹ 570/- per head-at evening local dance ₹100/-per head

বাঘ ও ভাল্লুকের পায়ের ছাপ পেলাম তাজা।
কিন্তু ওদের পেলাম না দেখা।
দেখলাম বিশাল দাঁতল হাতি ।
আসলো আমাদের দিকে।
ভয়ে পিছু হাটলাম ।
ড্রাইভারের বুদ্ধিতে ফের এগিয়ে গেলাম।
দেখলাম বিশাল কিং কোবরা সবিতাই প্রথমে দেখলো। ড্রাইভারকে বোলতেই জিপ পিছিয়ে নিল।
দেখলাম সকলে।দেখলাম গন্ডার 5ফিট কাছে থেকে। হরিন, শূকর,বুনো মহিষ,
কতরকমের পাখি।বাঁদর।কচ্ছপ, উদবীরালি।
ভালই হল আমাদের জীপ সাফারি।
আজ জীপ সাফারি র পরে দেখলাম অর্কিড পার্ক।
-KAZIRANGA NATIONAL ORCHID AND BIODIVERSITY PARK.
DURGAPUR -KAZIRANGA# 785609
আসামের ইতিহাস ।
আসামের নানান নাচের প্রোগ্রাম।
আজকে সন্ধ্যায় আঞ্চলিক নাচের প্রোগ্রাম ।
কাজিরাঙ্গা সন্ধ্যা::-

আগামী কাল সকাল 6টায় রওনা দেব পৌহাটির উদ্দেশ্যে।
কাজিরাঙ্গা থেকে গৌহাটি 239কি মি।
09/02/18:-সকাল 6.23মি এতে গৌহাটির জন্য রওনা দিলাম। (239km )
পাহাড় ঘেরা ঢালু রাস্তা প্রচন্ড বাক।
একবার বাঁয়ে একবার ডাইনে দোলা খেতে খেতে
ক্রমে নিচে নামছি।NH ROADতাই গাড়ির গতি
70 - 80 এখন সকাল 10.30 তাই যানজট কম।
গোয়ালপাড়ায় ছিল একটু ভিড়।
আজ গৌহাটি তে ( 1Night) রাত্রি বাস।

ব্রহ্মপুত্র নৌকা ভ্রমন করলাম।
নদীর মাঝে উমানন্দ টেম্পেল লেখলাম।
বালাজি টেম্পল দেখলাম।
একটু বাজার দেখবো তাই ফিরে আসলাম।
চা পকরা খেয়ে বাজার গেলাম।
ঘুরলাম ফ্যান্সি মার্কেট।
কেনার ছিলনা কিছুই।
দেখে আসলাম মার্কেট।
আসাম ভ্ৰমনে এক ভীষণ অভিজ্ঞতা হল।
গৌহাটি থেকে শিলং, সেখান থেকে কাজিরাঙ্গা হয়ে
আবার গৌহাটি এসে ঘুরে দেখলাম গৌহাটি।
অবাক হলাম কারন যে এতো রাস্থা ভ্রমন করলাম মাত্র এক বা দুই জায়গাতে ছাড়া আর কোথাও দেখলাম না রোড সিনাল।আর ট্রাফিক পুলিশ
মাত্র দুই এক জায়গাতে দেখলাম।
আইনে আছে, রোডে লেখাও আছে ওয়ানওয়ে
কিন্তু কেহই তা মানেনা।অদ্ভুত শহর।
মাঝে মাঝে পুলিশের জীপ কত কি বলতে বলতে চলেজায়।আর ওই জিপের পাশ দিয়েই রংসাইড
দিয়ে গাড়ি গুলি অনায়াসে চলে যাচ্ছে।

10/02/2018::-- দুপহরের খাবার খেয়ে এয়ার পোর্টের জন্য রওনা দিলাম 11টা 10 মি।19km 40minuts Airport পৌঁছ লাম 11টা 50মি।
Security check করে বসে রইলাম।
সন্ধ্যায় 4pm দমদম এয়ার পোর্ট।
Total program 3+2+1=6Nights & days+
2 Days up & down.
===========================





N:B::-সঙ্গে নিতে হবে::--
1>আঁধার কার্ড।
2>নিজের ঔষধ::::---
3>জলের বোতল।
4>তালা চাবি।
5>শীত বস্ত্র।(একটু ভারী)
6>টর্চ লাইট।
7>ছাতা, রেইন কোর্ট।
8>সেভিংরেজার,ও কীট, টুথ পেস্ট ব্রাশ,
===++=================
আমার হিসাব::--
12800/-per head (--)train fare up500+down500=1000/-
12800-1000=11800/-per head to be pay.
11800×2=23600/- to be pay for 2heads

On dt 03/02/2018 paid ₹4000/-As Advance
So Net Due ₹23600 (-- )4000/=₹19600/-

Final rest Amount to be pay ₹9800×2=19600/-
===============================

       7>|| সুখের সন্ধানে ভ্রমণ ||
          <----আদ্যনাথ---->
প্রকৃত সুখ তো মনের ভাবনাতেই সম্ভব হবে,
সমাজে বাঁচতে হলে সুখ তো পেতেই হবে,
ক্ষনিকের সুখ হয়তো দিতে পারে কোন গানের সুর,
এক দিনের সুখ দিতে পারে মনোরম স্থানে  পিকনিকের সুখ,
7/10 দিনের সুখ দিতে পারে  ভ্রমণের সুখ,
দুইচার মাসের সুখ সম্ভব নুতন বিবাহ বন্ধনে,
জীবন ভরের  সুখ দেবে সৎপথে প্রচুর অর্থ উপার্জনে এবং
উপার্জিত অর্থের সঠিক ব্যয়ে।
   <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী----->
          27/10/2025 রাত্রি 12:06 
    ===================

60>|| অযোধ্যা পাহাড় ||12/11/1984 to 15/11/1984=4 days

     


60>|| অযোধ্যা পাহাড় || 12/11/1984 to 15/11/1984=4 days 

                  <--©➽--আদ্যনাথ-->


এবার আমাদের ভ্রমন  পুরুলিয়ার 

অযোধ্যা পাহাড় ।

আমার সমগ্র চাকুরী জীবন পশ্চিমবঙ্গের বাইরে।সুদূর মারাঠা থেকে ঝাড়খন্ড পর্যন্ত।

আর নিজের মতন ঘুড়ে বেড়িয়েছি, বনে জঙ্গলে, পাহাড়ে। এমনি চাকুরী করতে করতে 1984 তখন আমি ধানবাদে কোলইন্ডিয়ার, বি সি সি এল, এর আন্ডারে এরিয়া থ্রী তে কাজ করি।

এমনসময় একদিন বলরামের সাথে আলাপ হল । বলরাম আমাদের এখানে ডাম্পার অপারেটর ।একদিন আমরা একই বাসে যাত্রা করছিলাম।আমি যাব টাটা মানগোতে আর বলরাম যাবে ওর বাড়ি ঝালদা তে।

বলরাম বলছিল যে ওর বাড়ি অযোধ্যা পাহাড়ের কাছে। আর সেই কারণেই 

আমি ঠিক করলাম কজন মিলে  অযোধ্যা পাহাড় বেড়াতে যাব। 


অযোধ্যা পাহাড় দলমা পাহাড়ের একটি অংশ এবং পূর্বঘাট পর্বতমালার একটি সম্প্রসারিত অংশ। এই পাহাড়ের উচ্চতম শৃঙ্গ হল গোরগাবুরু। অন্য আরেকটি শৃঙ্গ হল মায়ুরি। আসলে এটি ছোট নাগপুর অঞ্চলের একটি অংশ, অযোধ্যা পাহাড় তার সবচেয়ে নীচু ধাপ। এর সবচেয়ে কাছের শহর হল বাঘমুন্ডি। বাঘমুন্ডি সহ অযোধ্যা পাহাড় সংলগ্ন সমস্ত অঞ্চল হল মালভূমির অংশবিশেষ। এই পাহাড় ট্রেকিং শেখার জন্য আদর্শ জায়গা, যারা নবিশ ট্রেকার- তারা এই পাহাড়ে প্রায়শই অনুশীলনের জন্য আসেন।


অযোধ্যা পাহাড়ের নামকরণের ইতিহাস এইরকম-----

হিন্দু পুরান রামায়ন অনুযায়ী, রাম ও সীতা বনবাসের সময়ে এই পাহাড়ে এসেছিলেন। এক দিন সীতা তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়লে রাম তীর দিয়ে মাটির ভিতর থেকে জল বের করে আনেন। এই কারণেই এই পাহাড়টির নাম হয় অযোধ্যা পাহাড়। যেই কুণ্ডটি এর ফলে সৃষ্ট হয়, তার নামকরণ করা হয়েছে সীতাকুণ্ড।


আজ অযোধ্যা পাহাড়ের পরিচিতি অনেক, পাহাড় জঙ্গলের উন্নতিও হয়েছে অনেক।

কিন্তু সেই 1984 সালের অযোধ্যা পাহাড় 

আর আজকের অযোধ্যা পাহাড়ের মধ্যে পার্থক্য অনেক।

সেদিনের জঙ্গলের মানুষ দারুন দারিদ্রতার মধ্যে বাস করত, কিন্তু তাদের প্রাণ ছিল উদার । তারা প্রকৃতির সাথে মিলে মিশে এক হয়ে থাকতো।সেদিনের মানুষ নিজেকে প্রকৃতি থেকে আলাদা করে ভাবতো না। আজও তাঁরা আছে ।

আজকের মানুষ শুধু প্রকৃতি থেকে নিতে জানে। প্রতিদানে প্রকৃতিকে ধ্বংস করে।

নিজেদের স্বর্থ নিয়েই চলে।

তাই সেদিন যে পাহাড় ছিল জঙ্গলে পূর্ন, আজ যেই স্থানে সুন্দর রাস্তা, দোকান পাট,কত হোটেল, লজ,রিসোর্ট,কতকি।

এখন জঙ্গল মহল অনেক সুন্দর হয়েছে।

কিন্তু সেই প্রাণ হারিয়েছে।


সে যাইহোক আমি সেই 1984 সালের  অযোধ্যা পাহাড়ের সামান্য একটু লিখতে বসেছি।

বলরাম বললো অযোধ্যা পাহাড়ের ঝর্ণা গুলো দেখবার উপযুক্ত সময় নভেম্বর মাস। তবে তখন কিন্তু রাত্রে বেশ ঠান্ডা লাগবে।

আমরা ভেবে ছিলাম ধানবাদে থেকে গাড়ি ভাড়া করে নিয়ে যাব। বলরাম বললো ওর মামার   দুটো জিপ গাড়ি আছে।

দুটো জিপই ওরা টুরিস্ট গাড়ি হিসাবে চালায়। বলরাম আর ওর এক ভাই বুধন দুজনেই আমাদের সাথে থাকবে, আর থাকা খাওয়ার কোন চিন্তা করতে হবেনা ।

আমরা রোজ ওদের বাড়ি থেকেই পাহাড় দেখতে যাব। কারন তখন দু একটি হোটেল ছিল কিন্তু সেখানকার খাওয়া দাওয়া তেমন ভালো নয়। সেই কারণে

ওরাই সকল ব্যবস্থা করবে।প্রয়োজনে ওদের জানাশোনা হোটেল আছে, সব জায়গাতে।

      1=প্রথম দিন::-------


আমরা চার জন আর বলরাম ও তার ভাই এই মোট 6 জন-

( -আমি নিজে, -শম্ভু সিং,

শংকর তিওয়ারী, রাজনাথ হালদার।

 বলরাম মাহাতো আর ওর তার ভাই বুধন মুর্মু )


নভেম্বরের মাঝা মাঝি আমরা চার জন ও বলরাম ,এই পাঁচ জন চাষ বোকারো থেকে বাস ধরে পুরুলিয়ার বলরাম পুরে পৌঁছলাম।

বলরাম পুরে পৌঁছেই বুঝতে পারলাম  বলরাম এবং ওর ভাই বুধনের বিশাল পরিচিতির বহর।

আমরা যখন বাস স্টান্ডে পৌঁছলাম তার আগেই ওদের গাড়ি স্টান্ডে হাজির ছিল।

সত্যি দেখলাম একদম নুতন সুন্দর জিপ গাড়ি।

আমাকে তো এইরুটে এনেক বার যাতায়াত করতে হতো । কারন আমি চাকুরী করতাম ধানবাদের কাত্রাস এলাকায়। আর আমার শ্বশুরবাড়ি টাটা মানগোতে । কাত্রাস থেকে  কাছেই বোকার স্টিল প্লান্ট।

তারপরে পুরুলিয়া। পুরুলিয়ার পরে বলরাম পুর। ঝালদা, চান্ড্রিল, তারপরেই টাটা।আর এই রুটে বেশ কটি বাস চলে নিয়মিত ভাবে।

সেইকারনে আমাকে প্রায়ই এই রুটে যাতায়াত করতে হতো। যাইহোক সেদিন আমরা বলরাম পুরে পৌঁছলাম সকাল নটায়। সেখান থেকে বলরাম আমাদের

নিয়ে গেল ওদের বাড়িতে ঝালদায়।

ওদের  বাড়ি বেশ বর ও কিসুন্দর । মাটির বাড়ি কিন্তু এত সুন্দর সাজানো গোছানো।

ওদের বাড়ি থেকেই দেখা হচ্ছে পাহাড়।

সবুজে সবুজে পরিপূর্ন।

আমরা পৌঁছতেই ওর বাড়ির সম্পুর্ন পরিবার বেরিয়ে এসে আমাদের আপ্যায়ন 

করলো।

বলরাম বললো আজ দুপরের খাবার খেয়ে তারপরে সাইট সিন দেখতে বের হবে।

দিনের বেলা খাবারের এলাহী ব্যাপার 

 ওদের নিজের পুকুরের মাছ। নিজেদের 

পোষা মুরগি ও তার ডিম। 

দিনের বেলা বিশাল ভুঁড়ি ভোজের পরে আরকি বেড়াতে মন চায়। তাই প্রথম দিন ওদের গ্রাম টা ঘুড়ে দেখলাম।

প্রত্যেক বাড়িতেই দেখলাম ইয়া তাগড়া তাগড়া মোরগ।বিশাল তার সাইজ।

জানলাম প্রতি রবিবার ওদের হাটে এই সকল মোরগের লড়াই হয়।

তাতে আবার বাজি ধরে খেলা চলে।

ওদের বিখ্যাত খেলা মোরগ লড়াই।

এবার আমরা গেলাম ঝালদা বাজারে,

ও ঝালদার প্রত্যন্ত গ্রামে।যেখানে জঙ্গলের মাজে মাজে একটি কি দুটি করে বাড়ি। তবুও প্রতিটি বাড়ি দেখবার মতন সুন্দর।

আর  দেখি অনেক বাড়িতেই কারখানা পেতল কাঁসার বাসন তৈরি হচ্ছে।

এখান থেকেই নাকি বহু জায়গাতে পেতল কাঁসার বাসন যায়। এখানে দামটাও একটু কম।

ঘরে ঘরে মেয়েরাও কাজে হাত লাগায়।

বেশ কিছু বাড়ির মেয়েদের দেখলাম 

বিড়ি বানাচ্ছে। কেন্দু পাতার মধ্যে বিড়ির মসলা পুড়ে শুতো দিয়ে বেধে দিচ্ছে।

কি নিপুন হাতের কাজ দেখে চোখ ফেরান যায় না।

আজ ইন্টারনেট ঘেঁটে জানলাম আজকের পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের টুরিস্ট স্পটগুলি এইরকম।  লহরিয়া, আপার ও লোয়ার ড্যাম, পাখি পাহাড়, ময়ূর পাহাড়, মার্বেল লেক, বামনী ফলস, তুরগা ড্যাম, খয়েরবেরা ড্যাম, মুরগুমা ড্যাম এবং দেউলঘাটা,

চরিদা মুখোশ গ্রাম,

এগুলি  এছাড়াও আরও অনেক দেখার মতন স্পট আছে ।

সেদিন সেই 1984 সালেও এই জায়গা গুলি ছিল। তবে সব জায়গাতে যাবার মতন রাস্তা ছিল না। কারন তখনও এত স্পটতৈরি হয়নি। সেই কারণে সেদিন অনেক স্থানই দুর্গম ছিল।

=========================

   2=দ্বিতীয় দিন::-------

আমরা পরের দিন সকলে উঠেই রওনা দিলাম পাহাড়ের দিকে।

বুধন ও বলরাম ওদের সাথে করে তির ধনুক, টাঙি, ও কাটারী নীল।

আমি বললাম এগুলি কি হব?

বুধন বললো এখানে আমরা ঘর থেকে বাইরে বের হলেই সাথে এগুলি রাখতে হয়। কে জানে কখন কোন কাজে লাগে।

তার ওপরে আজ আপনার আছেন যদি 

কোন বিপদ আসে পথে তবে।

আমি বললাম বিপদ মনে কি আশা করছো?

বুধন বললো দুদিন আগেও ঠাকুর নেমেছিল । আমি বললাম ঠাকুর মনে কি?

বুধন বুঝিয়ে বললো যে ওরা হাতিকে ঠাকুর বলে। তাই ঠাকুর নেমেছিল মনে একদল হাতি পাহাড় থেকে নেমে এসেছিল।

তাছাড়া এখানে প্রাই হয়না ও চিতা বাঘের উপদ্রব হয়। সেই কারণে নিজেদের বাঁচাতে কিছু অস্ত্র সাথে রাখতেই হয়।

আমাদের গাড়ি এগিয়ে যেতে যেতে

প্রথমে দেখি খানিকটা নেরা পাহাড়ের মতন দাঁড়িয়ে আছে ছোট ছোট এক বা দুইটি পাহাড় আর পুরো এলাকা নানান 

রঙের পাখির কিচির মিচির।

অপূর্ব সব পাখি।

 অনেকেরই পাখিরই নাম জানিনা।

 এবার গেলাম  ছোটোখাটো একটা গ্রামে। গ্রামটির নাম চড়িদা গ্রাম।

লাম অযোধ্যা পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে কোথাও কোথাও পাহাড়ের পর্যটন ক্ষেত্রগুলির পথ নির্দেশক বোর্ড রয়েছে। কিন্তু এই চড়িদা গ্রামের বিষয়ে জানতে এখানকার মানুষের কাছে বার বার জিজ্ঞাসা করে পৌঁছতে হয়েছে এই চরিদা

গ্রামে।

ছৌ-নাচের দলগুলি ঝাড়খণ্ড, ওডিশা থেকে এসে চড়িদার মুখোশ কিনে নিয়ে যায়।

এখানেই জানলাম অযোধ্যা পাহাড়ের প্রাচীন নাম ছিল অঝোইদা। ‘অঝোই’ শব্দের অর্থ অঝোর, দা শব্দের অর্থ ‘দহ’ বা ‘হ্রদ’। পাহাড়ের প্রচুর ঝরনা, মাটির নীচে জলের অফুরন্ত উৎস দেখে অনেকে বলেন, অঝোর জল দেখে অঝোইদা নাম দেওয়া হয়েছিল। তেমনইএই চড়িদা গ্রামেও দা বা দহ শব্দটি আছে। এই গ্রামে প্রচুর জল রয়েছে ভূগর্ভে। তাই এখানকার মানুষ আগে পুরোপুরি কৃষিনির্ভর ছিলেন। সূত্রধর পরিবারগুলি কাঠের কাজ করতেন। কেউ কেউ মৃৎশিল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ছৌ-নাচের হাত ধরে এখানে মৃৎশিল্পের বিকাশ ঘটে। এই কাজে 

গম্ভীর সিং মুড়ার অবদান অস্বীকার করেন না শিল্পীরা।

(গম্ভীর সিং মুড়া,১৯৩০- ৯ নভেম্বর ২০০২ একজন ভারতীয় ছৌ নাচ শিল্পী ছিলেন যিনি তার নৃত্যকুশলতার জন্য ভারত সরকার দ্বারা পদ্মশ্রী উপাধিতে ভূষিত হন।)

এখানে বেশ কটি দোকানও আছে আর প্রত্যেক দোকানে সাজানো নানারঙের নানান বেশের মুখোশ। কোনওটা দু্র্গা তো কোনওটা অসুর, এমন কত কি আবার কোনটা দেখলাম  গণেশ তার পাশে সাঁওতাল বর-বউয়ের মুখোশ। 

কিছু শিল্পী মানুষ  বসে কাগজের মণ্ড আর আঠা দিয়ে রংবেরঙের মুখোশ বানাচ্ছেন। প্রায় ২০০ বছর আগে নাকি বাঘমুন্ডি রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় ছৌ-নাচের উৎপত্তি। পুরাণে বর্ণিত নানা দেবদেবীর গল্প বলে ছৌ-নাচ। আর তা ওই মুখোশ আর শিল্পীদের অসাধারণ দক্ষতায় গুনেই এটি আরও সুন্দর হয়ে ওঠেছে।

আজতো ছৌ-নাচ পৃথিবী বিখ্যাত নাচ। 

এর পরে রাস্তা পাহাড়ের পথে একে বেঁকে

এগিয়ে চলেছে।

খাড়াই পথ ধরে ছুটছে গাড়ি। 


এক জায়গায় সংকীর্ণ এবং পাশেই পাথরের খাদ তাই গাড়ি সাবধানে চলছিল। 

 নীচে দেখি পরিষ্কার নীল জল। ছবির মতোই সুন্দর নীচের গ্রামগুলো। জানলাম  এটা লোয়ার ড্যাম। বামনিঝোরাকে বাঁধ দিয়েই তৈরি হয়েছে এই ড্যাম। আরও একটু উপরে উঠে পৌঁছলাম আপার ড্যামে। প্রায় দেড় কিলোমিটারেরবেশি দৈর্ঘ্যের এই ড্যামের জলের রংও উজ্জ্বল নীল। এখানে  প্রচন্ড হাওয়ার বেগ যেন উড়িয়ে নিয়ে যাবে। তার মধ্য দিয়ে পৌঁছলাম একটু খালি পরিষ্কার জায়গাতে গাছের নিচে ।

সকালে বের হবার সময় ওরা সাথেকোরে কিছু খাবার পরোটা সবজি আর আমের আচার।আর খাবার জন্য জলও নিয়ে এসেছিল।

আমরা সবাই মিলে গাছের নিচে বসে খাবার খেলাম।

খাবার খাবার পরে বুধন গাড়ি নিয়ে একটু

এগিয়ে গিয়ে এক ফ্লাক্স গরম চা নিয়ে এলো এক দোকান থেকে।

আমরা চা খেয়ে এখানে বসে  বস্থা পেতে ঠান্ডা হাওয়ায় একটূ গা এলিয়ে দিলাম।

প্রায় তিন ঘন্টা বিশ্রাম করে আবার রওনা দিলাম ।

আধা ঘন্টা যাবার পরে আর রাস্তা নাই তাই কিছুটা হেটে যেতে হবে সীতাকুণ্ডে যাবার জন্য। দেখলাম পাহাড়ের  ভিতর ছোট্ট একটা প্রস্রবণ। কথিত আছে, রামচন্দ্র বনবাসের সময় এখানে কিছু দিন আত্মগোপন করেছিলেন। সে সময় একদিন সীতা দেবীর জল তৃষ্ণা পেলে রামচন্দ্র নিজে তির মেরে ভূমি ভেদ করে জল বের করে সীতার তৃষ্ণা মিটিয়েছিলেন 

স্থানীয় আদিবাসী দের কাছে ভারী পবিত্র এই জায়গা, সীতাকুন্ড। বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে স্থানীয় আদিবাসীরা এখানে বন্য পশু শিকার উৎসবে যোগ দেয়।

আশেপাশের সকল আদিবাসীরাই এই বৈশাখী পূর্ণিমার দিন এখানে এসে  শিকার করে ও পুজো দেয়।


এরপরে আরো একটু উৎরাইয়ে নেবে আবার চোরাইতে চড়ে হেটে পৌঁছলাম

ময়ূর পাহাড়, অযোধ্যা পাহাড়ের সবচেয়ে উঁচু টিলা এটি। ব্যাপারটা বলা সহজ হল কিন্তু এক পরের চূড়া থেকে আরেক পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছতে আমাদের অবস্থা খাস্তা। তবুও বিকেলের মায়াবী আলোয় সূর্য ডোবে এখানে। আর খানিকটা উঠলেই একটা ছোট ভাঙা চূড়া মন্দির  হনুমানজী র মন্দির। 

মন্দিরের পাশে থেকে সূর্যাস্ত দেখা।

সে এক অপূর্ব অভিজ্ঞতা। সেই সৌন্দর্য 

লিখে বর্ণনা করার মতন ক্ষমতা আমার নাই।

তবে বলতে সেদিন যা দেখেছিলাম

আজও সেই ছবি মনের ভিতরে গেঁথে

আছে।

সন্ধ্যা হতেই আমরা নিচে নেমে আসলাম।

বুধন বললো অন্ধকার হয়ে গেলে শ্বাপদ সঙ্কুল জঙ্গলের পথে চলা অসুবিধা হতে পারে, তাই আমরা আর দেরি না করে খুব 

তাড়াতাড়ি নেমে এলাম।

আসতে আসতে রাস্তায় দেখলাম এক জায়গাতে হেজাক ও কার্বাইটের লাইট জ্বলছে।বুধন বললো ওগুলি আদিবাসী বাজার বা হাট।

দেখতে পারেন ,আমরা এগিয়ে গিয়ে দেখলাম আদিবাসী হাট ।

বহুদিন পরে এখানে খেলাম গুড়ের কটকটি, বাদাম চিনি।

এরপরে ফিরলাম বুধনদের বাড়িতে।

==========================


     3=তৃতীয় দিন::------

পর দিন সকালে

 

 রাঙামাটির রাস্তা ধরে বেরিয়ে  পরে দেখলাম মার্বেল খাদান যার বর্তমান নাম মার্বেল লেক। 

এখান থেকেই প্রয়োজন মতো পাথর কেটে নিয়ে গিয়ে তৈরি হয়েছে আসে পাশের বাঁধগুলি। আর লেকের  সামান্যই দূরে বামনি ফলস। গাড়ি থেকে নেমে বেশ খানিকটা জঙ্গল ও  অনেকটা পাথুরে পথ হেটে জল প্রপাত। এমনি চড়াই-উতরাই বেয়ে বেশ কিছুক্ষণ চলার পর দেখা মিলল বামনি ফলসের। উপরের দিকে খাঁড়া পাথরের খাঁজ বেয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে অশান্ত বামনি নদী।


আমরা আরও  একটু এগোলাম মূল ঝরনার  দিকে। সেখানে প্রায় তিন ধাপে অনেকটা উপর থেকে পাহাড়ের শরীর কেটে নেমে আসছে ঝরনার জল। 

ঝর্ণার উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে কত পাখি,

গাছে গাছে প্রচুর কাঠ বেড়ালী,

পথ পার হতে দেখলাম খয়েরী রঙের বড় বড় খরগোশ।

এই বামনি ফলস থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরেই টুর্গা ফলস।আমাদের

মধ্যে দুজন রাজনাথ ও শম্ভু আর এগোতে রাজি না হওয়ায় আমরা চার জন, আরো খানিকটা এগিয়ে গেলাম।

হঠাৎ দেখি কয়েকটা হরিণ দৌড়ে পালালো।

বামনির মতো বড় না হলেও দিব্যি সুন্দরী টুর্গা। তার জলকে বেঁধেই তৈরি হয়েছে টুর্গা ড্যাম। অনেকটা খাড়াই পথ ওঠানামার পরিশ্রমে ক্লান্ত লাগছে। 

আর বুঝলাম সকাল বেলায় যা খেয়েছিলাম তা সবটাই হজম হয় এখন আবার ভীষণ খিদে পেয়েছে। তাই ফিরতে হল গাড়ির কাছে।

আজকের খাবার মাংস ভাত ও ভেন্ডি ভাজা।

আমরা দিনের খাবার খেয়ে ,

গাড়ির পাশে গাছের ছায়াতে আরাম কিরছিলাম।

হঠাৎ বুধন একটা লাঠি নিয়ে উঠে দাঁড়ালো।আমরাও দেখলাম চারটে নেকড়ে দৌড়ে পালালো।

বিকেলে আমরা গেলাম মুরগুমা লেক। 

গাড়িতে একটু যাবার পর আর রাস্তা নাই সামনে বড় বড় পাথর তাই আমরা হেটেই রওনা দিলাম লেকের দিকে।

বেশ গোলকধাঁধার মতো রাস্তা,

শেষে পৌঁছে গেলাম নির্জন পাহাড়ের ঢালে। চারদিকে অদ্ভুত নিস্তব্ধতা, শুধু চলার পথে শুকনো পাতা পাড়ানোর শব্দ

দূরে দেখা যাচ্ছে মুরগুমা লেক।

আমরা আজ আর ওদিকে নাগিয়ে

জঙ্গলে ধীর পায়ে হেটে হেটে কিছু বন্য জন্তুর উপস্থিতি টের পেতে চাইলাম।

দেখলাম ঝাঁজে ঝাঁকে মউর আর নানান জাতীয় পাখি।

এখন থেকে আমরা সন্ধ্যার আগেই ফিরে এলাম।

==========================


       4=চতুর্থ দিন::---


জেনেছিলাম মুরগুমা ড্যামের সূর্যদয় নাকি অপূর্ব। দেখার মতন।

আমরা সেই মতই শেষ রাত্রেই রওনা দিলাম। আমরা জখন রওনা দিলাম    তখন চারিদিক অন্ধকার।

শুধু জিপের আলো সেই গভীর নিকষ অন্ধকারকে খান খান করে ভেঙে নিজের পথ ধরে আমাদের নিয়ে এগিয়ে চলেছে।

আমরা শীতে কম্বল মুড়ে বসেও যেন কাঁপছি। তবুও দেখতেই হবে সূর্যোদয়।

আমরা পৌঁছে গেলাম মুরগুমা গ্রাম ।

এত সকালেও দেখি মেয়েরা ঘর উঠোন লেপাই পোতাই তে ব্যস্ত।

 আদিবাসীদের সুন্দর সাজানো নিকোনো বাড়ি উঠোন পার করে আমরা ছুটে চললাম মুরগুমা ড্যামের দিকে। 

দেখলাম কিছু শেয়াল জাতীয় কিছু 

রাস্তা পার করছে।

বুধন সঙ্গে করে চার ব্যাটারির তিনটি টর্চ সঙ্গে এসে ছিল।আর তির ধনুকতো ওদের সর্বক্ষণের সাথী।  টর্চের আলো ফেলতেই শেয়াল গুলি একসাথে অদৃশ্য হয়ে গেল।এত ভোরেও পাখিদের কলতানে মুখর চারিদিক।

হঠাৎ দেখি কিছু হনুমান গাছ থেকে নেমে আসছে নিচের দিকে। এখন থেকেই নিচের গাছগুলিতে ওদের দাপাদাপি শুরু।

সামনে আর যাওয়া যাবেনা কারন কিছু বড় বড় বোল্ডার পথে পরে আছে ওগুলো

সরানো এখন সম্ম্ভব নয়। তাই আগের রাস্থা টুকু আমাদের হেটেই যেতে হবে।

চারিদিকে ঝড়া পাতা, সেই ঝড়া পাতার 

উপড়দিয়ে হেটে চলেছি। পাতার খস খস আওয়াজ। হাতের কাঠি দিয়ে আগে পাতা সরিয়ে তারপরে পা ফেলতে হচ্ছে কারন সাপ বিছা থাকতে পারে পাতার নীচে।

একমাত্র বুধন ছাড়া আমরা কেহই গামবুট

পরে নাই।তাই খুব সাবধানে পাতা সরিয়ে টর্চের আলোতে ভালোকরে দেখে দেখে পা ফেলতে হচ্ছিল।

পাতার মধ্যে লুকিয়ে থাকা ইঁদুর ও খরগোশ আমাদের দেখেই ভয়ে পালাচ্ছিল। যদিও ওদের দেখে  আমাদেরও ভয় লাগছিল।ওদিকে বানরের উৎপাত বেড়েই চলেছিল। হাতের লাঠি দেখে একটু দূরে দূরেই থাকছিলো। এমনি ভাবে চলতে চলতে অন্ধকারে আমরা কোথায় কতদূর পৌঁছেছি সেটাও বুঝতে পারছিলাম না।

চারিদিকে সুদু বিশাল বিশাল গাছ।

শাল সেগুনে  বহেরার জঙ্গল। একসময়

বুধন  আমাদের নিয়ে গিয়ে বাঁধের এক ধারে এক জায়গাতে  দারকরিয়ে দিলো।

এবং দিক নির্দেশ করে এখান থেকেই ওই দিকে তাকিয়ে থাকতে বলল।

বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পরে হঠাৎ দেখি সামনের পাহাড়ের মাথার উপরে কেযেন পড়তে পড়তে লাল রঙ ছড়িয়ে দিয়ে গেল। একটু পরেই লাল হলুদের মেলা। মনেহচ্ছিল কোন আর্টিস্ট তুলি দিয়ে নিজের মনের মতন করে আকাশ পাহাড় জঙ্গল ড্যামের জল সবকিছুকে 

রাঙিয়ে দিচ্ছে।

আর সেই রক্তিম আকাশের প্রতিচ্ছবি

সামনের বিশাল শান্ত জল রাশিতে পড়ছে। কি অপূর্ব ছবি।

হঠাৎ যেন একঝাঁক পাখিদের ঘুম ভেঙে গেল, তারা কিচির মিচির করে চারিদিক মুখুর করে তুলল।


কি অপূর্ব সেই শোভা। আজ সার্থক  আমাদের অযোধ্যা পাহাড় ভ্রমণ।

ওখানে বেশ কিছু সময় কাটিয়ে আমরা 

ফেরার জন্য ব্যস্ত হলাম।কারন প্রচন্ড ঠান্ডা হওয়া।যেন হাড় কাঁপিয়ে দিচ্ছে।

এত সকালে একেবারেই নিরিবিলি। কখনও কদাচিৎ এক আধটা গ্রাম্য মানুষজন চোখে পড়ছে। সকালের আলোয় বড়ই মোহময়ী দেখাচ্ছে মুরগুমাকে। বিশুদ্ধ প্রকৃতির মাঝে ড্যাম ও জলাধারের অপূর্ব সুন্দর দৃশ্য প্রাণ ভরে উপভোগ করতে লাগলাম সকালের নরম আলোয়। লেকের জলে অনেক পাখির সম্ভার। এখানকার বাতাসে কোন দুষণ নেই, আছে এক বুনো গন্ধ, যা আমার মত কোলিয়ারির মানুষকেও তাজা করে দেয়। ক্লান্ত জীবনে একটু টাটকা হওয়া । 

দেখলাম ড্যামের কাছেই ‘সিআরপিএফ ক্যাম্প’। 

তারপরে আমরা ফিরলাম।

ফেরার পথে এক জায়গাতে আমাদের

দারকরিয়ে বুধন কিছু কাঠ ও আগুনের ব্যবস্থা করে সেখানে আমাদের বসিয়ে দিল ।

কয়েকটি মেয়ে এসে আমাদের সকলকে একটি করে ছোট তুলের মতন বা পোয়ালের মোড়া দিয়ে গেল বসবার জন্য।

তার পরেই ওরা নিয়ে এল গরম গরম চা।

আমাদের চা খাওয়া শেষ হতে না হতেই 

ওরা নিয়ে এল বাঁধা কপির চপ।

এই ঠান্ডায় এত সকালে চপ আর চা বেশ ভালোই লাগছিল।

এবার রওনা দেবার পালা আমি বুধন কে বললাম ওদের চায়ের জন্য কত দেব।

বুধন হেসে বললো এটা ওর মাসির বাড়ি তাই কেউকি পয়সা নেবে!

বরঞ্চ যদি আমরা এখানে চা খেতে না থামতাম তবে মাসি ভীষণ দুঃখ পেত।

অগত্যা আমাকে চুপ থাকতে হল।

বেড়াতে এসে বার বার এই সরল আদিবাসীদের একান্ত আপ্যায়নে আমরা

মুগ্ধ।

এখানকার যেখানেই গেছি সকলেই এক কথা "আর দুটু দিন থাকুন।"

"আমাদের পড়বে আসুন।"

এরপরে আবার বুধনের বাড়িতে ফিরেই আগে গরমাগরম চা।

একটু পরেই এলো কিছু ভাজা ভুজি।

তারপরে সকালের টিফিন  লুচি মাংস  খেয়েই আমরা ফেরার জন্য তৈরি হলাম।

বুধন আমাদের বলরামপুর পর্যন্ত এগিয়ে দিল যাতে আমরা 9টার ধানবাদের বাসটা

ধরতে পারি।

আমরা বললাম বুধন বাসে তো ভিড় হবে 

জায়গা পাবনা।

বুধনের এক কথা আপনারা আমার বাড়িতে এসেছেন তা আপবাদের এত চিন্তা কিসের। বাস পাঁচটি সিট খালি নিয়েই আসবে।

যখন বাস আসলো দেখলাম আমাদের পাঁচটি সিট ঠিক খালি আছে।

তাই আমরা আরামে পৌঁছে গেলাম মহুদা 

মোড়ে । মহুদা থেকে ট্রেকারে করে 

পৌঁছে গেলাম কাত্রাস।

       <--©➽--আদ্যনাথ-->

==========================

  || পুরুলিয়ার মুরগুমা ড্যাম ||

                     <--©➽--আদ্যনাথ-->


এখনও রাত্রির একটু বাকি,

চলেছি পাহাড়ের ঢালে ধীরে সন্তর্পনে,

ঝরাপাতার খস খস শব্দপায়ের নিচে,

সকলেই ভীত অচেনা ডাক শুনে কাছে।

লাঠি দিয়ে সামনের পাতা সরিয়ে,

চলেছি সকলে অজানা পথে।

তবুও যেতে হবে ওই ড্যামের ওপরে

টর্চের আলো তে ছোট কিছু পালায় ছুটে,

পাখিদের কলতান শুরু হল সেই ক্ষণে,

চারিদিকে ছড়িয়ে রঙিন আবির গগনে।


মুরগুমা ড্যামের ওপারে পাহাড়ের চূড়ায়,

হঠাৎ যেন হল নুতন সূর্য্য উদয়,

আগুন যেন লাগলো পাহাড়ের মাথায়,

সবুজ পাহাড় গুলিও লালে রাঙিয়ে দিল,

ড্যামের জলে কে যেন রং ঢেলে দিল।

এইনির্জনে শেয়ালের ডাকও ভয়ঙ্করলাগে

তবুও মনে শান্তনা ওই পাখিদের দেখে,

পাখিরা কত সুন্দর সাবলীল ড্যামের জলে

ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিরা খাবারের খোঁজে,

ভোরের ঠান্ডা হাওয়ায় মুরগুমার শোভা খোলে।


অযোধ্যা পাহাড়ের মুরগুমা ড্যাম

প্রকৃতির সকল সৌন্দর্য আছে লুকিয়ে। 

প্রকৃতি যেন দিয়েছে উজাড় করে,

আমরাও ক্লান্ত এতটা  চড়াই চড়ে।

তবুও মনের আনন্দ মুরগুমাকে দেখে,

চেয়েছিলাম যেটুকু মনে

মুরগুমা দিয়েছে তার থেকে বহু গুনে।

আজথেকে সেই 36 বৎসর আগে,

পাহাড় জঙ্গল আর আদিবাসীদের ঘরে,

আদর দিয়ে ছিল ওরা  হৃদয় উজাড় করে।

 ======<--©➽--আদ্যনাথ-->======

===========================


মার্বেল লেক। ok


এখানে  নানান রঙের সব মার্বেল পাথর,সাদা-কালো আরো নানান রঙের। 

অযোধ্যা থেকে বামনি ঝরনা যাওয়ার পথে কিছুটা এগিয়েই এই পাহাড় ঘেরা  জলাশয়ের । যার নাম মার্বেল লেক, কিন্তু স্থানীয় কিছু ডাকনামও আছে।  অনেকে একে পাতাল ড্যাম বলে। তার কারণ গাড়ি যেখানে থামবে, সেখান থেকে হ্রদে যেতে অনেকটা নিচে নামতে হবে। আবার কেউ কেউ নীল স্বচ্ছ জলের জন্য নীল ড্যাম বলেও বলেন। প্রকৃত সত্য বোধহয় এটাই যে এখানে একটি বৃহৎ জলবিদ্যুৎতের 

প্রোজেক্টের কাজের জন্য বিস্ফোরণ করে পাথর ভাঙতে গিয়ে সেই পাথরের খাঁজে তৈরি হয় মার্বেল লেক। 

এমন অপরূপ হ্রদের দৃশ্য প্রাণ জুড়োয়, চোখ জুড়োয়। আক্ষরিক অর্থেই মার্বেল লেক প্রকৃতির দান।

পুরুলিয়াকে রুক্ষ শুষ্ক মাটির দেশ বলা হয়। এই রুক্ষ লাল মাটি ভেদ করে এমন স্বচ্ছ জল জন্ম নেওয়ার ইতিহাসটিও তাই চমৎকার। সেখানকার মানুষদের মতে এটি প্রকৃতির দান। 

_____________________

         END OF 4th day

XxxxxXXXXXXXXXXXXXXXXX

XXXXXXXXXXXXXXXXXXXXX