Friday, March 24, 2023

97>ভ্রমন চেন্নাই মহাবলীপুরম ও পন্ডিচেরী।

 

97>ভ্রমন চেন্নাই মহাবলীপুরম ও পন্ডিচেরী।

প্রথম দিন গন্তব্য স্থান মহাবলীপুরম।

      || মহাবলীপুরম ||
2007 জানুয়ারী অন্তরার চাকুরিতে পোস্টিং হল চেন্নাই শহরে।
সেই সুযোগে আমি ও সবিতা কিছুদিন ঘুরে দেখলাম চেন্নাই শহর ও আসে পাশের কিছু দর্শনীয় স্থান।

আমরা থাকতাম চিপক স্টেডিয়ামের কাছে। যাতায়াতের জন্য চিপক স্টেশনও ছিল খুব কাছে। 

( চিপক দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের চেন্নাই জেলার একটি অঞ্চল চিপক বা চেপবক্কম (M.A. Chidambaram International Cricket Stadium, also known as the Chepauk) মাদ্রাজ ক্রিকেট ক্লাব মাঠের‌ ঠিকানা বলতেই মূলত এই লোকালয়ের পরিচিতি। পূর্বে এ স্টেডিয়ামটি চিপক স্টেডিয়াম নামেও পরিচিত ছিল। চেপবক্কমের উত্তর দিকে ফোর্ট সেন্ট জর্জ, উত্তর-পূর্ব দিকে চেন্নাই বন্দর, পূর্ব দিকে মেরিনা সমুদ্র সৈকত, দক্ষিণ দিকে তিরুবল্লীকেণি, দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে রায়পেট্টা, পশ্চিম দিকে চিন্তাদ্রিপেট ও উত্তর-পশ্চিম দিকে দ্য আইল্যান্ড অবস্থিত৷)

আজ মহাবলীপুরম দর্শনের গল্প লিখতে শুরু করছি। আগামী কাল যাবো পন্ডিচেরী।

প্রথম দিন চেন্নাই শহর থেকে আমরা রওনা দিলাম মহাবলীপুরম।দুই দিন আগেই দুইদিনের জন্য বাসের টিকিট কেটে সিটি রিজার্ভ করে রেখেছিলাম।
এখানে বাস জার্নি খুবই আরাম দায়ক,
রাস্থাও খুব সুন্দর মসৃণ।
প্রথম দিন মহাবলীপুরম::--

চেন্নাই--মহাবলীপুরম::-----

(1984) উনিশশো চুরাশি সালে মহাবলীপুরমকে ইউনেস্কো

" ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট" হিসেবে  স্বীকৃতি দিয়েছে। 

মহাবলীপুরমের শিল্পনিদর্শন, শিল্প কীর্তি, এবং স্থাপত্য শিল্প রসিকদের বিশেষ দর্শনীয় স্থান।

মহাবলীপুরমের নির্মাণ শৈলী 

মামাল্লাশৈলীর কীর্তি।

এই মামাল্লা শৈলী হল খোলা আকাশের নিচে পাথরের গায়ে খোদাই করা  পৌরাণিক দৃশ্য। এই শিল্প কীর্তি ও স্থ্যাপত্য প্রায় বারো--তেরোশো বছরের পুরনো।

 

চেন্নাই  শহর থেকে প্রায় 60কি মি দক্ষিণে

বঙ্গোপসাগরের কূলে অবস্থিত মহাবলীপুরম।

Chennai,Tamil nadu----->to  Ponducherry 155 km.

Chennai to Mahabolipurm,--->60km

Mahabolipurm to pondicherry-->95km

চেন্নাই  শহর বঙ্গোপসাগরের কূলে অবস্থিত প্রাচীন শহর।

চেন্নাই অর্থাৎ পূর্বতন মাদ্রাজ/মাদ্রাস ভারতের তামিলনাড়ুর রাজধানী এবং দেশটির চতুর্থ বৃহত্তম মহানগরী শহর। এটি বঙ্গোপসাগরের করমণ্ডল উপকূলে অবস্থিত।

চেন্নাই  শহর থেকে প্রায় 60কি মি দক্ষিণে

বঙ্গোপসাগরের কূলে অবস্থিত মহাবলীপুরম বা মামাল্লাপুরম।

এখানকার রক-কাট বা পাথর কুঁদে তৈরি শিল্প কীর্তি বা রক- কাট আর্কিটেকচার,

যা শিল্পের বিচারে অজ্ঞতা, ইলোরা ও উদয়গিরি, খন্দগিরি গুহাগুলির থেকে গুরুত্বে কোন অংশেই কম নয়।

এখনো হয়তো কতো শিল্প কীর্তি চাপা পড়ে আছে এই মহাবলীপুরমের পাথরের অন্তরে। আজো আছে উদ্‌ঘাটনের অপেক্ষায়।

মহাবলীপুরম  করমন্ডল উপকূল বরাবর চেন্নাই থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
এবং চেন্নাই শহর থেকে ৫৬ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত৷

মহাবলীপুরম, বা স্থানীয় উচ্চারণে মামল্লপুরম, দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে অবস্থিত চেঙ্গলপট্টু জেলার একটি  নগর। খ্রিস্টীয় সপ্তম এবং অষ্টম শতাব্দীতে নির্মিত হিন্দু মন্দির "মহাবলীপুরম স্মারকের" জন্য এটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকাভুক্ত। ভারতের অন্যতম পর্যটন স্থান গুলির মধ্যে এটি একটি।

মহাবলীপুরম তামিলনাড়ু-এ অবস্থিত মহাবলীপুরম
স্থানাঙ্ক: ১২°৩৬′৫৯″ উত্তর ৮০°১১′৫৮″
জেলা--চেঙ্গলপট্টু
পিন-৬০৩১০৪

পল্লব সাম্রাজ্যের সময়কালীন রাজ্যের দুটি বড় বন্দর শহরের মধ্যে একটি ছিল মহাবলীপুরম। তৎকালীন পল্লব রাজা প্রথম নরসিংহবর্মণের আরেক নাম ছিল মহাবলী তার নাম অনুসারেই শহরটির নাম রাখা হয়েছিল। অর্থনৈতিক উন্নতির সাথে সাথে শহরটি বহু রাজপ্রাসাদ ও রাজকীর্তির নিদর্শন পাওয়া যায়।
এখানে রয়েছে ওই সময়কালে পাথর কেটে তৈরি করা বহু নিদর্শন।

খ্রিস্টীয় সপ্তম অষ্টম শতাব্দীতে নির্মিত কিছু কীর্তি হলো: রথের আকৃতিতে নির্মিত মন্দির , গুহার মতন আকৃতি উপাসনা হল , বৃহৎ আকৃতির গুহাচিত্র ও পাহাড়ের গায়ে নানান চিত্র, গঙ্গার অবতরণ চিত্র, এবং শিবের নামে উৎসর্গীকৃত মহাবলীপুরম তটমন্দির৷ তবে আধুনিক নগর পরিকল্পনা ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দের আশেপাশে ব্রিটিশদের দ্বারা তৈরি৷

মহাবলীপুরম অন্যান্য আরো অনেক নামে পরিচিত যেমন মামল্লপুরম ও মামল্লপাটনা৷ "মহাবলীপুরম" শব্দের আক্ষরিক অর্থ 'অধিক বলশালী ব্যক্তির বাসস্থল'৷ বিদেশি নাবিকদের কাছে মহাবলীপুরমের আরেকটি পরিচিত নাম ছিল, মার্কো পোলোর সময় কালে এটি "সেভেন প্যাগোডা" বা সপ্তমন্দির নামে তরিচিত ছিলো৷ এই সপ্তমন্দির প্রাঙ্গণের মধ্যে অক্ষত করেছে একমাত্র তটমন্দিরটি৷

মহাবলীপুরম তটমন্দির::--
মহাবলীপুরমের অবস্থিত মন্দির, পাথরের বহিরাবরণ এবং গুহাগুলিতে সুন্দর শিল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মহাভারত ও বিভিন্ন হিন্দু ধারার গল্পগুলিকে। পল্লব রাজা নরসিংহবর্মণ এবং তার উত্তরাধিকারী রাজসিংহবর্মণের সময়কালে এই কারুশিল্প গুলির সিংহভাগ তৈরি করা হয়েছিল। শিলাখণ্ড এবং মাপে মাপে আটকে দেওয়ার পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছিল। প্রথম নরসিংহবর্মণ খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে মহাবলীপুরম নগরীর পত্তন করেন। রথ আকৃতির ও মন্ডপ আকৃতির মন্দির গুলি গ্রানাইট পাথরের  তৈরি। আবার তট মন্দিরটি আরো ৫০ বছর পর অতিরিক্ত পাথরের টুকরো দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল। তট মন্দিরটির মধ্যে রয়েছে ১০০ ফুট লম্বা ৪৫ ফুট উঁচু গ্রানাইট পাথরের কারুকার্য।

এমটিসি এবং টিএনএসটিসি-এর ভিল্লুপুরম বিভাগ মহাবলুপুরমের সাথে অন্যান্য শহরগুলির বাস পরিবহন পর্যালোচনার দায়িত্বে রয়েছে৷ এমটিসি বাস পরিষেবার ক্ষেত্রে চেন্নাইয়ের বিভিন্ন স্থান থেকে বাতানুকুল বাসের ব্যবস্থা রয়েছে৷
মহাবলীপুরম থেকে সরাসরি নানান স্থানের সাথে বাস পরিষেবা আছে।
মহাবলীপুরম স্তম্ভসমূহের মধ্যে হাতির কারূশিল্প বিশেষ ভাবে লক্ষ করা যায়।

মহাবলীপুরমে উপস্থিত কৃষ্ণের মাখন নাড়ু
মূল নিবন্ধ: মহাবলীপুরম স্মারকসমূহ
শহরে অবস্থিত সপ্তম ও অষ্টম শতাব্দীতে নির্মিত স্মারক গুলি বর্তমানে ইউনেস্কো অনুমোদিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তকমা পেয়েছে।

এখানে রয়েছে চল্লিশটি প্রাচীন স্মারক এবং হিন্দু মন্দির। এরমধ্যে অর্জুনের প্রায়শ্চিত্তে গঙ্গাবতরণ বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তর অনাবৃত শিলা কারুকার্যগুলির একটি।  এই স্থানে রয়েছে বিভিন্ন শ্রেণীর স্মারক যথা: ৬৩০ থেকে ৬৬৮ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে নির্মিত রথ মন্দির, ৬৯৫ থেকে ৭২২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে নির্মিত মহাভারতের গল্প, শাক্তধর্ম, বৈষ্ণবধর্ম, শৈবধর্ম প্রভৃতির ওপর বর্ণিত বিভিন্ন কারুকার্য সংবলিত মন্ডপ মন্দির। এছাড়াও রয়েছে ষষ্ঠ শতাব্দীর ও তারও প্রাচীন গুহালেখের নিদর্শন। গুহা মন্দির এবং একশিলা মন্দিরগুলি পল্লব রাজাদের সময়কালে নির্মিত। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ বিভাগ এই ঐতিহাসিক বস্তুসমষ্টির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হল:

অর্জুনের গঙ্গাবতরণ বা অর্জুনের আক্ষেপ – এটি হলো বৃহত্তর অনাবৃত শিলা কারুকার্য
পঞ্চরথ – পাঁচটি একশিলায় নির্মিত পিরামিড আকৃতির মন্দির, যা পঞ্চপাণ্ডব ও তাদের স্ত্রী দ্রৌপদীর নামে নামাঙ্কিত।
গুহা মন্দির – এখানে অবস্থিত আটটি পাথর কেটে তৈরি করা মন্দির খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে নির্মিত। এগুলি হল বরাহ, আদিবরাহ, কৃষ্ণ, মহিষাসুরমর্দিনী, রামানুজ, ধর্মরাজ, কোনেরী, কোটিকল, পঞ্চপান্ডব মন্দির এবং অন্যান্য।
মহাবলীপুরম তটমন্দির – সমুদ্র তীরে অবস্থিত শিবের নামে উৎসর্গীকৃত একটি মন্দির।
অন্যান্য মন্দিরের মধ্যে রয়েছে ওলক্কনেশ্বর মন্দির, লাইট হাউজ, আরো কিছু শিলা নির্মিত কারুকার্য, দ্রৌপদীর স্নানঘর প্রভৃতি।
স্থলশয়ন পেরুমাল মন্দির বা তিরুকডলমাল্লাই বিষ্ণুকে উদ্দেশ্য করে নির্মিত মন্দির।

বারো-তেরোশো বছর আগে পহ্লব রাজাদের সময় আজকের চেন্নাই শহর থেকে মাত্র ষাট কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের তীরের পাথুরে এলাকায় যে আশ্চর্য শিল্পকীর্তি সৃষ্টি হয়েছিল, আজ তা ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় স্থান পেয়েছে। মহাবলীপুরমের পাথর-খোদাই শিল্পনিদর্শন ভারতের পশ্চিম কূলের গুহামন্দিরগুলির থেকে কোনও অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে সাহেবদের নজর পড়ে এখানে, আর ১৭৮৮ থেকেই পঞ্চপাণ্ডবের রথ নামে লোককথায় পরিচিত শিল্পকীর্তির আলোচনা চোখে পড়ে।
মহাবলীপুরমের পাথর-খোদাই শিল্পনিদর্শন ভারতের পশ্চিম কূলের গুহামন্দিরগুলির থেকে কোনও অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
=======================

দ্বিতীয় দিন গন্তব্য পন্ডিচেরী বা পুদুচ্চেরি।

       || পন্ডিচেরি ||
দ্বিতীয় দিনে আমাদের গন্তব্য পুদুচ্চেরি বা পন্ডিচেরী। যেখানে আছে
" মিররা আলফাসা বা মাদার ও ঋষি অরবিন্দের" সমাধি ।

শ্রীঅরবিন্দ ও শ্রীমা (মীরা আলফাসা)
  গুরু ও শিষ্যার একই সমাধি বেদী।

শ্রীঅরবিন্দ (জন্মগত নাম: অরবিন্দ ঘোষ; ১৫ অগস্ট, ১৮৭২ – ৫ ডিসেম্বর, ১৯৫০)
১৯৫০ এর ৫ ডিসেম্বর মধ্যরাতে হঠাৎ
ইহ লোক ছেড়ে মহাপ্রয়ানের পথে পাড়ি দিলেন শ্রী অরবিন্দ। চলে গেলেন যোগী অরবিন্দ। পাঁঁচ দিন পর তার দেহ সমাধিস্থ করা হয় পণ্ডিচেরী আশ্রমের এক গাছতলায়। যে গাছের ফুল আজও ঝরে পড়ে তার সমাধির ওপর।

শ্রীমা মীরা আলফাসা( ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৮৪৮ - ১৭ নভেম্বর, ১৯৭৩ ) ছিলেন ফরাসি, আধ্যাত্মিক গুরু এবং শ্রী অরবিন্দের শিষ্যা ও সহযোগী।
ফরাসি বংশোদ্ভূত পূর্বাশ্রমের নাম ছিল মীরা রিচার্ড বা মীরা আলফাসা।
তিনি ভারতীয় গুরুকূলের পরিবেশ পছন্দ করতেন। তিনি ও তার স্বামী পল রিচার্ড ১৯১৪ সালের ২৯ শে মার্চ পণ্ডিচেরি আশ্রমে শ্রী অরবিন্দের কাছে দীক্ষা নিয়ে সেখানেই বসবাস করতে থাকেন।  প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তাঁদের পন্ডিচেরি ছেড়ে জাপানে যেতে হয়েছিল। সেখানে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে সাক্ষাৎ হয় এবং হিন্দু ধর্মের মর্মার্থ অনুধাবন করেন। ১৯২৬ সালের ২৪ নভেম্বর, মীরা আলাফাসা পণ্ডিচেরি ফিরে আসেন এবং স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থেকেন।
পরে তিনি শ্রী মা রূপে পরিচিতি লাভ করেন।
শ্রীমা 17 নভেম্বর 1973 ইহ লোক ছেড়ে মহাপ্রয়ানের পথে পাড়ি দিলেন।
20 নভেম্বর 1973 তাঁর দেহ সমাধিস্থ করা হয় পণ্ডিচেরী আশ্রমের তাঁর গুরু শ্রী আরবিন্দের সমাধির উপরি ভাগে।
একই সমাধি কক্ষের নীচের কক্ষে সাইত গুরু আর উপরে কক্ষে তাঁর  প্রধান শিষ্যা।
সেই ফুল গাছের নিচে ।
প্রকৃতি নিজেই রোজ সাজিয়ে দেয় তার ফুলদিয়ে সেই মহান সমাধি বেদী।

১৬৭৩ খ্রীষ্টাব্দে ফরাসিদের আগমনের সাথে সাথে আধুনিক  পন্ডিচেরী  তথা পুদুচ্চেরির ইতিহাসের সূচনা হয়। এটি ১৯৫৪ সালে ভারতীয় ইউনিয়নের একটি অংশ হয়ে ওঠে।
ক্ষুদ্র কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পন্ডিচেরী বা পুদুচ্চেরি ভারতীয় উপদ্বীপের পূর্বদিকে অবস্থিত।

কথিত আছে পন্ডিচেরী প্রাচীণ ঋষি অগস্ত্যের আবাসস্থল ছিল। পৌরাণিক কাহিনী ছাড়াও, এক প্রাচীন দূর্গের ভগ্নাবশেষ ও চোল মূদ্রার আবিষ্কার এটির গৌরবময় অতীতের প্রমাণ দেয়।
পন্ডিচেরী একটি সমু্দ্রতীরবর্তী সৈকত হওয়া সত্ত্বেও এটি সাধারণত সৈকত রিসর্টগুলি থেকে ভিন্ন। এখান কার প্রাকৃতিক ভূ-প্রকৃতির নগর ও মনোরম গির্জাগুলির মধ্যে ফরাসি আধিপত্য আজও বেশ পষ্ট রয়েছে।
পন্ডিচেরি ভারতের একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং স্থাপত্য সৌন্দর্যের জন্য এই বিচিত্র স্থানটি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন স্থান।
পন্ডিচেরিতে শ্রী অরবিন্দের আধ্যাত্মিক আবিষ্কারগুলিও এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আগ্রহের জায়গা করে তুলেছে।

পন্ডিচেরী বা পুদুচ্চেরির অবস্থান উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণদিকে তামিলনাড়ু দ্বারা বেষ্টিত, ভারতের দক্ষিণ অংশে বঙ্গোপসাগরের করমন্ডল উপকূলের উপর অবস্থিত।
অক্ষাংশ 11° 46" মিনিট থেকে 12° 30" মিনিট উত্তরের মধ্যে।
দ্রাঘিমাংশ 79° 36" মিনিট থেকে 79° 52" মিনিট পূর্বের মধ্যে।
এখানকার ভাষা তামিল, ইংরাজী, ফরাসি, তেলেগু ও মালায়লম। ধর্ম -হিন্দু, খ্রীষ্টান, মুসলিম এবং কিছূসংখ্যক জৈন, শিখ ও বৌদ্ধ, এখানে পরিদর্শনের সেরা সময় অক্টোবর -- থেকে  মার্চ।

পুদুচ্চেরির একটি সমৃদ্ধ অতীত রয়েছে। তবে, আজকের পুদুচ্চেরি ঋষি অরবিন্দের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত অরভিল্লে আশ্রমের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছে। বঙ্গোপসাগরের উৎকলিত জলোচ্ছাস ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশ্রিত আধ্যাত্মিক আকর্ষণ, পুদুচ্চেরিকে  আকর্ষণীয়  করে তুলেছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থা
রেল , সড়ক ও আকাশ সব রকম ভাবেই পৌঁছন যায় পুদুচ্চেরির বা পন্ডিচেরি তে।
পুদুচ্চেরির নিজস্ব রেলওয়ে স্টেশন রয়েছে; যা প্রতিবেশী শহর ও রাজ্যগুলির সঙ্গে সংযুক্ত করে।

সড়ক মাধ্যমে
পুদুচ্চেরিতে একটি ভালো সড়ক সংযোগ ব্যবস্থা এবং চমৎকার পরিকাঠমোগত সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

পন্ডিচেরী ফরাসিদের দ্বারা নির্মিত বিস্ময়কর ইমারতগুলি আধুনিক ফরাসি স্থাপত্যের গৌরবময় নিদর্শন রূপে চমৎকারভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই শোভনীয় শহরটির মধ্যে ফরাসি ও ভারতীয় সংস্কৃতির মিশ্রণ, একটি গ্রহণযোগ্য সামাজিক পরিকাঠামোকে তুলে ধরেছে।

পন্ডিচেরী ভ্রমণের সময় আমি এখান কার 21টি স্থান দেখেছি ::--

★1>শ্রী অরবিন্দ আশ্রম
★2>অরোভিল
★3>অরোভিল সৈকত
★4>প্রমনেড সৈকত
★5>আরুলমিগু মানাকুলা বিনয়গর মন্দির
★6>দ্য সেক্রেড হার্ট ব্যাসিলিকা
★7>রক বিচ
★8>নির্ভেজাল ধারণা ক্যাথেড্রাল
★9>শ্রী বরদরাজ পেরুমল মন্দির
★10>ফরাসি উপনিবেশ
★11>পন্ডি মেরিনা
★12>প্যারাডাইস বিচ
★13>আওয়ার লেডি অফ এঞ্জেলস গির্জাটিকে
★14>সমুদ্রতীরবর্তী প্রমোনাডে সাইকেল চালানো
★15>ফ্রেঞ্চ ফোর্ট ল্যূইস।*
★16>আয়ি মন্ডপম।*
★17>ব্যাক ওয়্যাটার লেক ও গার্ডেন।*
★18>ঊনবিংশ শতাব্দীর লাইট হাউস।*
★19>গভর্নমেন্ট পার্ক।*
★20>স্ট্যাচু অফ ডুপলেক্স।*
★21>ফ্রেঞ্চ ওয়্যার মেমোরিয়্যাল।*

প্রতিটি স্থানের সংক্ষিপ্ত বিবরণ::--

★1>শ্রী অরবিন্দ আশ্রম

পন্ডিচেরির শ্রী অরবিন্দ আশ্রম একটি আধ্যাত্মিক স্থান এবং পন্ডিচেরির শীর্ষ পর্যটন স্থানগুলির মধ্যে একটি।
শ্রী অরবিন্দ ও মায়ের আবাসটি তাঁদের পুদুচ্চেরিতে সাময়িক নিবৃত্তির সময়, ১৯২৬ সালে নির্মিত হয়েছিল।
সারা বিশ্ব থেকে অনুগামীরা মা এবং শ্রী অরবিন্দের আশীর্বাদ পেতে আশ্রমে আসেন। জায়গাটি আধ্যাত্মিকতার কেন্দ্রস্থল, এবং নিয়মিত ভাবে প্রতিদিন ধ্যানের সেশনগুলি পরিচালিত হয় যেখানে লোকেরা যোগদান করতে পারে।

এখানকার ক্যান্টিন অত্যন্ত সস্তায় দিনে তিনবার খুব সুন্দর নিরামিষ খাবার অফার করে এবং আপনি একদিন আগে থেকে কুপন বুকিং করে সেগুলি পেতে পারেন৷ আশ্রমের চারপাশের শান্তি ও নির্মলতা আপনাকে মুগ্ধ করবে এবং আপনাকে শ্রী অরবিন্দের জীবন সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে।

মহান দেশপ্রেমিক, জাতীয়তাবাদী, আধ্যাত্মিক নেতা ও গুরু – শ্রী অরবিন্দ ঘোষ তাঁর জীবনের আধ্যাত্মিক জাগরণের দিনগুলি পুদুচ্চেরিতে কাটিয়েছিলেন। এই মহান ভাবুক ব্যাক্তি বিশ্বের এই অংশে এতটাই জনপ্রিয় ছিলেন যে, আজও পর্যন্ত তিনি একই উৎসাহের সঙ্গে আরাধিত ও সম্মানিত হন। পুদুচ্চেরির অরবিন্দ আশ্রম,
যেটি ঋষি অরবিন্দ নিজেই তৈরি করেছিলেন, যেখানে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ
মানুষ ও ভক্ত গণ এই আশ্রম পরিদর্শনে আসেন। আশ্রমটি একটি তীর্থকেন্দ্রের মর্যাদা অর্জন করেছে এবং পুদুচ্চেরির এক অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
অরবিন্দ আশ্রম নিবন্ধিত ট্র্যাস্ট দ্বারা পরিচালিত হয়। আশ্রমের বিস্তীর্ন এলাকা  দেড় হাজার সদস্যের বাসভবন। সারা দেশ থেকে এবং বিশ্বের সমস্ত প্রান্ত থেকে আগত মানুষজন শ্রী অরবিন্দ সোসাইটি-তে সদস্যপদ গ্রহণ করেছেন।

আশ্রমের প্রধান ভবনটি ঘন সবুজ বৃক্ষ দ্বারা পরিবেষ্টিত, প্রাঙ্গনের পাশেই আচ্ছাদিত রয়েছে। স্থানটি সুন্দর ফুলের বাগান দ্বারা বিভূষিত, যার কেন্দ্র স্থলে
'মিররা আলফাসা বা মাদার ও ঋষি অরবিন্দের' সমাধি আছে।
একই সমাধিতে নিচে "মা" (মিররা আলফাসা বা মাদার) ও তার উপরে ঋষি অরবিন্দের' সমাধি আছে।
পুদুচ্চেরির নির্মল অরবিন্দ আশ্রম, উৎসবের সময় জেগে ওঠে। হাজার হাজার পর্যটক, অনুগামীবৃন্দ ও ভ্রমণার্থীরা এই স্থান পরিদর্শনে আসেন। বিপূল জমায়েত হওয়া সত্ত্বেও, সদস্যরা ভবনের অভ্যন্তরে নিয়মশৃঙ্খলা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে বজায় রাখতে সক্ষম হন।

★2>অরোভিল::--

পন্ডিচেরির কয়েক শত কিলোমিটার এলাকা জুড়ে, অরোভিল পন্ডিচেরির কেন্দ্রস্থলে একটি পরীক্ষামূলক জনপদ হিসাবে শুরু হয়েছিল। 1968 সালে
মিররা আলফাসা বা মাদার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত, শহরটি পন্ডিচেরির শীর্ষ পর্যটন স্থানগুলির মধ্যে একটি হয়ে উঠেছে। শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত সুন্দর মাতৃমন্দিরটি রজার অ্যাঙ্গার দ্বারা ডিজাইন করা হয়েছিল এবং এটি আধুনিক স্থাপত্যের একটি সত্যিকারের বিস্ময়।
পূর্ব অনুমতি নিয়ে মাতৃমন্দির পরিদর্শন করা যায়। চেম্বারগুলি ঘুরে দেখতে পারেন মানুষকে তাদের অভ্যন্তরের সাথে সংযুক্ত করার জন্য নিবেদিত। এছাড়াও আপনি অরোভিল সোসাইটির কাজ এবং এর দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে প্রচুর তথ্য পাবেন।

★3>অরোভিল সৈকত

পন্ডিচেরির শীর্ষ 15টি পর্যটন স্থান 3 উত্স: Pinterest অরোভিল সমুদ্র সৈকত বা অরো সৈকত অরোভিলের কাছাকাছি অবস্থিত। এই সৈকতে কম ভিড় এবং যারা ভিড় অপছন্দ করেন তাদের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ গেটওয়ে অফার করে। আপনি তীরে একটি সুন্দর পিকনিক করতে পারেন এবং আপনার পরিবারের সাথে কিছু মানসম্পন্ন সময় কাটাতে পারেন। আশেপাশে কেউ না থাকায় সমুদ্র সৈকতের দিকটি প্রকৃতির ফটোগ্রাফির জন্যও উপযুক্ত। পন্ডিচেরিতে অটো সার্ভিসের মাধ্যমে এই জায়গায় সহজেই পৌঁছানো যায়। আপনি এই সৈকতে স্নানও করতে পারেন, রক সৈকতের বিপরীতে যা মানুষকে পানিতে যেতে দেয় না। সামগ্রিকভাবে, অরো সৈকত হল একটি আদর্শ জায়গা যা আপনার লোকদের সাথে ছুটির দিনে আড্ডা দিতে এবং ভারতীয় সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য।

★4>প্রমনেড সৈকত::--
পন্ডিচেরির এটি একটি সমুদ্রতীরবর্তী হাঁটা যা কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। পাকা তীর এবং সুন্দর সৈকত বঙ্গোপসাগরের অত্যাশ্চর্য দৃশ্য দেখায়। পথটি ওয়ার মেমোরিয়াল থেকে প্রসারিত হয়েছে এবং ডুপ্লেক্স পার্কে শেষ হয়েছে। আপনি বিচরণক্ষেত্রে নৈমিত্তিকভাবে হাঁটাহাঁটি করতে পারেন এবং সৈকতের সৌন্দর্যে বিস্মিত হওয়ার সাথে সাথে কাছাকাছি দোকান ও রেস্তোরাঁগুলো ঘুরে দেখতে পারেন। সৈকতটি সাঁতারের জন্য অনুপযুক্ত, তবে আপনি বসতে পারেন বা তীরে শুয়ে পড়ুন এবং সুন্দর আবহাওয়া উপভোগ করুন।প্রোমেনেড সৈকতে সন্ধ্যাগুলি শান্ত এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কোনও যানজট মুক্ত।

★5>আরুলমিগু মানাকুলা বিনয়গর মন্দির::--

পন্ডিচেরির বিখ্যাত ধর্মীয় মন্দিরগুলির মধ্যে একটি। এই হিন্দু মন্দির পন্ডিচেরির সেরা পর্যটন স্থানগুলির মধ্যে একটি এবং ভারতীয় উপমহাদেশের আশেপাশের পর্যটকদের দ্বারা ঘন ঘন আসে। মন্দিরটি হিন্দু দেবতা গণেশকে উত্সর্গীকৃত, এবং ভক্তরা তাদের শ্রদ্ধা জানাতে এবং পূজা করতে ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে আসেন। সুন্দর মন্দির স্থাপত্যটি দক্ষিণ ভারতীয় মন্দিরগুলিতে জনপ্রিয়ভাবে পাওয়া ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় মোটিফগুলির স্মরণ করিয়ে দেবে। আপনি এই পুরানো মন্দির পরিদর্শন করতে পারেন এবং পন্ডিচেরিতে শত শত লোকের দ্বারা পূজা করা দেবতার এক ঝলক দেখতে পারেন।

★6>দ্য সেক্রেড হার্ট ব্যাসিলিকা

পন্ডিচেরির অনেকগুলি খ্রিস্টান ধর্মীয় স্থানের মধ্যে দ্য সেক্রেড হার্ট ব্যাসিলিকা একটি। গির্জার সমৃদ্ধ গোলাপী বাহ্যিক এবং ফরাসি নকশা এটিকে পন্ডিচেরির সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন স্থানগুলির মধ্যে একটি করে তুলেছে। ভারত এবং বিদেশের খ্রিস্টানরা এখানে প্রার্থনা করতে এবং এই সৌন্দর্য দেখতে আসেন। উচ্চ সিলিং এবং সমৃদ্ধ কাচের চিত্রগুলি একটি খুব প্রশান্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করে যেখানে আপনি নির্জনে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে বা কেবল স্থাপত্য দেখে অবাক হয়ে ঘন্টা কাটাতে পারেন। গির্জাটি নির্মিত হয়েছিল 1900 এবং ইউরোপে গথিক পুনরুজ্জীবন স্থাপত্য আন্দোলন দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিল। আপনি গির্জা অন্বেষণ করতে পারেন এবং এর ইতিহাস এবং নির্মাণ সম্পর্কে কিছু আশ্চর্যজনক তথ্য খুঁজে পেতে পারেন।

★7>রক বিচ::---

রক সৈকত প্রমোনেড সৈকতের একটি অংশ, যা যানবাহনের দ্বারা দুর্গম। সমুদ্র সৈকতের এই অংশটি বিশাল পাথর দ্বারা উপকূল থেকে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ। এই এলোমেলোভাবে স্থাপন করা পাথরগুলো অতিক্রম করে সমুদ্রে পৌঁছাতে হয়। সমুদ্রের গভীরতার অনিশ্চয়তার কারণে এখানে সাঁতার কাটা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তবে, আপনি অবশ্যই পাথরের পাশে বসে দূর থেকে সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। এছাড়াও আপনি স্থানীয় দোকান থেকে সুস্বাদু রাস্তার খাবারের স্বাদ নিতে পারেন এবং সমুদ্রের গর্জনকারী ঢেউ শুনতে পারেন। রক সৈকতে সূর্যাস্ত নিজেই একটি অনন্য রত্ন।

★8>নির্ভেজাল ধারণা ক্যাথেড্রাল::--

পন্ডিচেরির একটি রোমান ক্যাথলিক ক্যাথেড্রাল। এই ক্যাথেড্রালের একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং একটি সুন্দর কাঠামো রয়েছে। সাদা এবং সোনার ক্যাথেড্রালটি শক্তিশালী পর্তুগিজ এবং ফরাসি প্রভাবের সাথে নির্মিত, যা পন্ডিচেরির ভবনগুলির জন্য সাধারণ। ক্যাথেড্রালটি এখনও খুব সক্রিয় এবং প্রতি রবিবার ভর করে। আপনি 17 শতকের এই ক্যাথেড্রালটি দেখতে পারেন এবং এর সমৃদ্ধ সৌন্দর্যে ভিজতে পারেন। আপনি বিল্ডিংয়ের বাইরে ক্যাথেড্রালের বিশদ ইতিহাসও খুঁজে পেতে পারেন এবং পিতার কাছ থেকে কিছু তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। এই ক্যাথেড্রালটি আপনার ভ্রমণপথে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য পন্ডিচেরির সেরা পর্যটন স্পটগুলির মধ্যে একটি হবে।

★9>শ্রী বরদরাজ পেরুমল মন্দির::---

শ্রী বরদরাজা পেরুমল মন্দির পন্ডিচেরির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু মন্দির। এই মন্দিরটি শত শত ভক্তদেরও গ্রহণ করে যারা বিশেষভাবে পন্ডিচেরিতে আসেন এই স্থানে আসতে। মন্দিরটি ৩ য় শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছিল এবং হিন্দি দেবতা বিষ্ণুকে উৎসর্গ করা হয়েছিল। এই অতি প্রাচীন মন্দিরটি বৈষ্ণবদের উপাসনার জন্য একটি জনপ্রিয় স্থান। মন্দিরটি শুভ দিনগুলিতে নিয়মিত পূজা এবং বিশেষ পূজার আয়োজন করে। মন্দিরের স্থাপত্য আপনাকে সময়ের মধ্যে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে এবং আপনাকে 3 য় শতাব্দীর এবং অতীতে আরও দূরে কিছু আশ্চর্যজনক ভাস্কর্য দেখাবে। আপনি এখানে আপনার পূজা দিতে পারেন বা বাইরে থেকে মন্দিরের স্থাপত্য উপভোগ করতে পারেন।

★10>ফরাসি উপনিবেশ::---

পন্ডিচেরির ফরাসি উপনিবেশ হল যা সমস্ত পর্যটকরা যখন তারা সামাজিক মিডিয়া ওয়েবসাইটগুলি অনুসন্ধান করে তখন তারা দেখতে পায়৷ ভারতের সবচেয়ে মনোরম স্থানগুলির মধ্যে একটি, পন্ডিচেরির ফরাসি উপনিবেশ একটি জনপ্রিয় পর্যটক আকর্ষণ৷ অনেক ভ্রমণ উত্সাহী ফরাসিতে আসেন৷ উপনিবেশ তার নান্দনিক সৌন্দর্যের প্রশংসা করার জন্য। এখানকার ভবনগুলি বেশিরভাগই ফরাসি শৈলীতে এবং ঔপনিবেশিক আমলে ফরাসি বসতি স্থাপনকারীদের পুরানো বাসস্থান হিসাবে ব্যবহৃত হত। তাই, এই এলাকার আশেপাশের রাস্তা এবং ভবনগুলি আপনাকে অবশ্যই ফরাসি শহর এবং গ্রামের কথা মনে করিয়ে দেবে। এই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি দোকান এবং ক্যাফে রয়েছে, যেগুলি কিছু খাঁটি ফরাসি খাবারের জন্যও অন্বেষণ করা যেতে পারে৷ ফটোগ্রাফাররা এই এলাকার কিছু আশ্চর্যজনক প্রতিকৃতিতে ক্লিক করে বিস্ফোরণ ঘটাবেন৷

★11>পন্ডি মেরিনা:::---

উত্স: Pinterest পন্ডি মারিনা পন্ডিচেরির একটি নতুন বিকাশমান সমুদ্র সৈকত। আকৃষ্ট করতে এই সৈকতকে সাজিয়েছে সরকার পন্ডিচেরিতে আসা পর্যটকরা। পাকা পথ, আরামদায়ক হোটেল এবং পর্যাপ্ত বসার জায়গা এই সৈকতটিকে পরিবারের সাথে মানসম্পন্ন সময় কাটানোর জন্য উপযুক্ত করে তোলে। সৈকতটি প্রধান শহর এলাকা থেকে দূরে অবস্থিত এবং বেশিরভাগই ভিড়-মুক্ত থাকে। আপনি এই সৈকত পরিদর্শন করতে পারেন এবং ভ্রমণ থেকে পুনরুদ্ধার করার সময় নির্মলতা উপভোগ করতে পারেন। এলাকার স্ট্রিট ফুড হাব একটি বিশেষ আকর্ষণ এবং যতক্ষণ আপনি পন্ডি মেরিনায় থাকবেন ততক্ষণ আপনার স্বাদকে ব্যস্ত রাখবে।

★12>প্যারাডাইস বিচ::---

উত্স: পন্ডিচেরির পিন্টারেস্ট প্যারাডাইস বিচ হল আরও একটি নির্মল সৈকত যেখানে অল্প লোক রয়েছে। এই সৈকতটি সাঁতারের জন্যও উপযুক্ত কারণ উপকূলটি বেশ অ্যাক্সেসযোগ্য। বিস্তীর্ণ তীরে মানুষ নেই, এটি ভলিবলের মতো সৈকত গেমের জন্য সেরা জায়গা করে তোলে। আপনি সমুদ্রে শীতল সাঁতার কাটাতে পারেন বা স্থানীয় খাবারের সাথে দ্রুত পিকনিক করতে পারেন। শিশুরা বালির দুর্গ তৈরি করা এবং সমুদ্র সৈকতে সিশেল খুঁজে পাওয়া উপভোগ করবে। ফটোগ্রাফাররা এই প্রায় ফাঁকা সৈকত থেকে সূর্যাস্তের কিছু শ্বাসরুদ্ধকর ছবি তুলতে উপভোগ করবেন।

★13>আওয়ার লেডি অফ এঞ্জেলস গির্জাটিকে পন্ডিচেরির প্রাচীনতম গির্জাগুলির মধ্যে একটি বলা হয়৷ 19 শতকের গির্জাটি এখন এখানে একটি জনপ্রিয় পর্যটক আকর্ষণ। ভবনটি সংরক্ষিত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে যাতে লোকেরা এখানে এসে শান্তিতে প্রার্থনা করতে পারে। গির্জাটি ত্রিভাষিক এবং ফরাসি, তামিল এবং ইংরেজিতে প্রার্থনা করে। আপনি গির্জা অন্বেষণ করতে আসতে পারেন এবং Eglise de Notre Dame des Anges গির্জার গ্রিকো-রোমান সৌন্দর্যে বিস্মিত হতে পারেন।

★14>সমুদ্রতীরবর্তী প্রমোনাডে সাইকেল চালানো::------
পন্ডিচেরির মানুষ এবং পর্যটকরা শহরের চারপাশে সাইকেল চালাতে বা সাইকেল চালাতে পছন্দ করে৷ আপনি সমুদ্রতীরবর্তী প্রমনেড বরাবর একটি সাইকেল রাইড নিতে পারেন শীতল সমুদ্রের হাওয়া উপভোগ করতে এবং সন্ধ্যার সূর্যালোকে সেঁকে নিতে পারেন। পন্ডিচেরির চারপাশে একটি দ্রুত যাত্রা আপনাকে কিছু লুকানো রত্ন এবং ব্যক্তিগত আবাসিক স্থানগুলির সাথে উপস্থাপন করবে যা সরাসরি ফরাসি চলচ্চিত্র থেকে আসে। অদ্ভুত শহরটি আপনার প্রিয়জন এবং পরিবারের সাথে ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত। আমরা সন্ধ্যায় এবং সূর্যোদয়ের ঠিক পরে বাইক চালানোর পরামর্শ দিই। এছাড়াও আপনি সৈকতে সাইকেল চালিয়ে অন্য কারো আগে আশ্চর্যজনক সূর্যোদয় দেখতে পারেন।

★15>ফ্রেঞ্চ ফোর্ট ল্যূইস::--
পুদুচ্চেরির এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিস্তম্ভ এবং পুদুচ্চেরির বিভিন্ন আকর্ষণের মধ্যে এক অনবদ্য, পুদুচ্চেরির ফরাসি ফোর্ট ল্যূই, শহরের পর্যটক ও ঐতিহাসিক খামখেয়ালিদের মধ্যে খুবই প্রিয়। পুদুচ্চেরির ফরাসি ফোর্ট ল্যূই, পুদুচ্চেরিতে ফরাসিদের পূর্ব প্রতিষ্ঠান ছিল।

ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, পুদুচ্চেরিতে ফরাসি ফোর্ট ল্যূই ১৭০৯ সাল নাগাদ নির্মিত হয়েছিল। এটি একটি ফরসি দূর্গের শৈলীতে নির্মিত হয়েছিল, যা তথাকথিত বেলজিয়ামে ফরাসির তৌরনাই-তে ভৌবন দ্বারা প্রতিষ্টিত হয়েছিল। চমৎকারভাবে নির্মিত ফরাসি ফোর্ট ল্যূই হল একটি পঞ্চকোণ আকৃতির। এখানে পাঁচটি দূর্গ ও কয়েকটি দ্বার রয়েছে। পুদুচ্চেরির ফরাসি ফোর্ট ল্যূই-য়ের আকর্ষণীয় অংশ হল ভূ-গর্ভস্থ কক্ষ। এই কক্ষগুলি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য পণ্যের ভান্ডারের জন্য তৈরি হয়েছিল।

পুদুচ্চেরির ফরাসি ফোর্ট ল্যূই একটি পরিখা দ্বারা সীমান্তবর্তী রয়েছে। পুদুচ্চেরির ফরাসি ফোর্ট ল্যূই পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে শহরের সিটাডেল বা দূর্গ হিসাবে পরিবেশিত হয় এবং অনেক আক্রমণ ও দুর্যোগের প্রতিরোধ করেছে।

★16>আয়ি মন্ডপম।

পুদুচ্চেরির সর্বকালের সেরা প্রিয় সরকারি উদ্যান হল এই শহরের সবচেয়ে এক অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ। এই বিস্ময়কর উদ্যানটির কেন্দ্রে আয়ি মন্ডপম দাঁড়িয়ে রয়েছে। পুদুচ্চেরির আয়ি মন্ডপম হল শহরের এক অন্যতম বিস্ময়কর স্মৃতিস্তম্ভ এবং পুদুচ্চেরির এক অনবদ্য আকর্ষণ।

ঐতিহাসিকদের তথ্য অনুসারে, এটি ষোড়শ শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছিল। আয়ি নামক এক বারাঙ্গনার নামানুসারে এটির নামকরণ করা হয়। তিনি শহরে জল সরবরাহের তাগিদে এক জলাশয় নির্মাণের জন্য তাঁর নিজস্ব বাড়িটি বিনষ্ট করে ফেলেন। সেইসময় তৃতীয় নেপোলিয়ান ফ্রান্সের শাসক ছিলেন। পরবর্তীকালে, ফরাসি কর্তৃপক্ষ এই শহরের প্রতি তাঁর অবদানের কথা স্মরণে রেখে তাঁর নাম অনুযায়ী এটির নামকরণ করেন।

পুদুচ্চেরির চমকপ্রদ আয়ি মন্ডপম হল গভর্নমেন্ট পার্ক বা ভারতী পার্কের জনপ্রিয়তার পিছনে এক অন্যতম কারণ। স্তম্ভটি উদ্যানের কেন্দ্রে রাজকীয়ভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে, এটি দেখতেও চমৎকার। আয়ি মন্ডপম স্মৃতিস্তম্ভটি গ্রেকো-রোম স্থাপত্য শৈলীর সামঞ্জস্যতায় নির্মিত হয়েছিল। উদ্যানের ভিতর ভ্রমণার্থীরা এই বিস্ময়কর স্থাপত্য প্রতিভার উপস্থিতিতে বশীভূত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে সন্ধ্যার সময়, দীপ্তিময় আলোকসজ্জার সাহায্যে সুন্দর দেখায়।

গভর্নমেন্ট পার্কে অবস্থিত, শহরের রাতের আকাশে এক বিশিষ্ট ল্যান্ডমার্ক রূপে দাঁড়িয়ে থাকা উদ্ভাসিত আয়ি মন্ডপম, তার গৌরবময় উপস্থিতিকে সদম্ভে ঘোষিত করে।

আনন্দ রঙ্গ পিল্লাই মিউজিয়াম
পুদুচ্চেরির সুন্দর উপকূলীয় স্বর্গোদ্যান তার সামগ্রিক দৃশ্যের মহাকাব্যজনিত প্রেক্ষাপটের জন্য উল্লেখযোগ্য। সূ্র্য-চুম্বিত শ্বেত বালুকাময়ের বিরুদ্ধে পান্না সমন্বিত সবুজাভ সামুদ্রিক জলের কশাঘাত ছাড়াও পুদুচ্চেরি ইতিহাসের এক ফরাসি উপনিবেশের আবরণ। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটির ভূ-প্রকৃতিতে স্থিত উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক ইমারতগুলির মধ্যে, পুদুচ্চেরির আনন্দ রঙ্গ পিল্লাই মিউজিয়ামটি একটি বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে রয়েছে।

আনন্দ রঙ্গ পিল্লাই মিউজিয়ামের ভারতীয় উপমহাদেশে ফরাসি উপনিবেশের প্রাক্তন গভর্নর জেনারেল বা রাজ্যপাল ফ্র্যাঙ্কোয়িস ডুপ্লেক্স-এর প্রসিদ্ধ খেতাব অর্জনকারী হয়ে ওঠার দাবি রাখে। প্রাক্তন রাজ্যপালের মহিমান্বিত দিনগুলিতে, পুদুচ্চেরির পশ্চিম প্রান্তস্থিত এই প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভটি জনপ্রিয়ভাবে “নেটিভ কোয়ার্টারস” বা “স্থানীয় আবাসন” নাম দেওয়া হয়। সমসাময়িক ফরাসি ও ভারতীয় শিরোভূষণের এক চমকপ্রদ মিশ্রণ দ্বারা বর্ণিত এক অত্যাশ্চর্য্য স্থাপত্য, যা সেই যুগের রেওয়াজকে আজও পর্যন্ত পর্যটকদের আকর্ষিত করে।

পুদুচ্চেরিতে অবস্থিত এটি পুদুচ্চেরির রাজ্যপাল বা গভর্নর ডুপ্লেক্স-এর প্রসিদ্ধ শিরোভূষণ ছিল, এইসময় এটি ফরাসি মহিমায় বিস্তার লাভ করে। এছাড়াও “নেটিভ কোয়ার্টারস” নামে পরিচিত, এটি এক অন্যতম প্রাচীণ ইমারত যা পশ্চিম দিকে বিদ্যমান ছিল। সুবৃহৎ অট্টালিকাটিতে ডায়েরী বা দিনলিপির এক সুন্দর সংগ্রহের বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যেটি অষ্টাদশ শতাব্দীর ফরাসি ভারতের তথ্য ভান্ডার হিসাবে পরিবেশিত। আনন্দ রঙ্গ পিল্লাই অট্টালিকাটির স্থাপত্য ফরাসি ও ভারতীয় শৈলীর এক অনন্য মিশ্রণ।

আনন্দ রঙ্গ পিল্লাই মিউজিয়াম পুদুচ্চেরির রাজ্যপাল ডুপ্লেক্সের শিরোভূষণকে পালিত করেছিল, এইসময় এটি ফরাসি মহিমায় প্রস্ফূটিত হয়ে উঠেছিল। পিল্লাই-য়ের ডায়েরী বা দিনলিপিগুলির সম্পূর্ণতা অষ্টাদশ শতাব্দীর ফরাসি ভারতের তথ্য ভান্ডার হিসাবে উপস্থাপিত হয়।

তাঁর অট্টালিকাটি, ১৭৩৮ সালের কোনও এক সময় সম্পন্ন হয়, এটি পশ্চিম দিকের এক অন্যতম প্রাচীন ইমারত, পরবর্তীকালে এটি “নেটিভ কোয়ার্টারস” নামে পরিচিতি পায়। এটির স্থাপত্য ফরাসি ও ভারতীয় শৈলীর এক অদ্ভূত মিশ্রণের প্রতিনিধিত্ব করে।

★17>ব্যাক ওয়্যাটার লেক ও গার্ডেন।

পুদুচ্চেরির পর্যটন প্রসঙ্গে কথা উঠলে, এখানে সৌন্দর্য্যময় পর্যটন স্থলের কোনও ঘাটতি নেই। শান্তিপূ্র্ণ তবুও উদ্দীপক সমুদ্র সৈকত, অতীতের ঔপনিবেশিক স্মৃতিবেদনা জড়িত স্মৃতিস্তম্ভ ও পুদুচ্চেরির ব্যাক ওয়্যাটার লেক এবং গার্ডেন হল পুদুচ্চেরির প্রধান আকর্ষণ।

পুদুচ্চেরির ব্যাক ওয়্যাটার লেক এবং গার্ডেন সম্পর্কে কথা উঠলে, নির্দিষ্ট কয়েকটি জায়গার নাম উল্লেখ করা প্রয়োজন; সেগুলি হল –

●বোটানিক্যাল গার্ডেন।
দ্য গভর্নমেন্ট পার্ক বা ভারতী উদ্যান।
চুনাম্বর ব্যাকওয়্যাটার।
কেজহুর।
নিউ বাস স্ট্যান্ডের দক্ষিণদিকে অবস্থিত, বোটানিক্যাল গার্ডেন হল প্রকৃতিপ্রেমী ও সবুজায়নের সক্রিয় কর্মীদের জন্য ভীষণ আকর্ষণীয়। তাছাড়াও এটি তার বর্ণময় পুষ্প শয্যা, পাথর ও নুড়িপাথর সমন্বিত সারিবদ্ধ পথ ও অভুতপূর্ব বৃক্ষের সাথে সাধারণ পর্যটকদেরও আকর্ষিত করে। সুরেলা ঝর্ণাগুলি শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের একইভাবে পরিতৃ্প্ত করে তোলে। ভারতী পার্ক তার সবুজাভ তৃণভূমির দীর্ঘ প্রসারণ সহ পুদুচ্চেরি শহরের ফুসফুস রূপে পরিবেশিত হয়। এই সু-পরিচর্যিত উদ্যানটি কৃত্রিম পর্বতমালা, বিভিন্ন ধরনের গাছপালা, পুকুর ও গ্রানাইট পাথরে নির্মিত বেঞ্চের সঙ্গে সুশোভিত হয়ে উঠেছে। এটি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় পিকনিক স্থল।

চারশত বছরের পুরনো বট বৃক্ষের উপস্থিতির জন্য কেজহুর নামক গ্রামটি পরিচিত। পুদুচ্চেরির কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সবচেয়ে এক অন্যতম জনপ্রিয় এলাকা চুনাম্বর ব্যাকওয়্যাটার, প্রধান শহরের খুব সান্নিধ্যেই অবস্থিত। চুনাম্বর ব্যাকওয়্যাটার এলাকা বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম; যেমন – ইয়্যাচটিং, বোটিং, সান্ বাথিং ইত্যাদির জন্য একটি আগ্রহদীপ্ত স্থল। ক্রীড়া প্রেমীরা, খেলার সংস্থানের সঙ্গে এখানে বীচ্ ভলি, সমু্দ্র সৈকতে হর্স রাইডিং (ঘোড়ায় চড়া) এবং আরোও অনেক কিছুতে উৎসবমুখর হয়ে উঠবে। অনেকে প্রীতিকর ডলফিনদের দর্শক মনোরঞ্জনকারী কেরামতির দৃশ্যও দেখতে পারেন। এককথায়, যারা আনন্দ করতে ভালোবসেন তাদের এই স্থানটি পরিদর্শন করা আবশ্যক।

★18>ঊনবিংশ শতাব্দীর লাইট হাউস।

শহরের সবচেয়ে পরিদর্শীত পর্যটন স্থান, পুদুচ্চেরির ঊনবিংশ শতাব্দীর লাইট হাউস, গোরিমেদূতে অবস্থিত রেড হিলস-এর ওপর চমৎকারভাবে দন্ডায়মান। শহরের পশ্চিমী সীমান্ত থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পুদুচ্চেরির ঊনবিংশ শতাব্দীর লাইট হাউস, পুদুচ্চেরির আকর্ষণগুলির মধ্যে অন্যতম।

আরিয়াঁকূপ্পম আর্কিওলোজিক্যাল সাইট
পুদুচ্চেরির ক্রান্তীয় স্বর্গোদ্যান, জ্ঞানী পন্ডিতদের তাদের আধ্যাত্মিক ক্ষুধা মেটানোর প্রবণতার জন্য এক স্বপ্ন পূরণকারী গন্তব্যস্থল। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটি, পূর্বকালীন ফরাসি ঔপনিবেশের যুগবাহিত ইতিহসের মধ্যে অবগুন্ঠন হয়ে উঠেছে। আরিয়াঁকূপ্পম প্রত্নতাত্ত্বিক স্হানটি হল একটি ঐতিহাসিক সম্ভ্রান্ত স্থান যেটি পুদুচ্চেরির ইতিহাসে একটি বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে রয়েছে। একজন কিংবদন্তী জ্যোর্তিবিজ্ঞানী গুইল্যিউম ল্যে জেন্টিল সময়ের ঘূর্ণাবর্তে ১৭৬৮-১৭৭১ সালের মধ্যে কোনও এক সময়, পুদুচ্চেরির এই ক্ষুদ্র উপকূলীয় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটির পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। পরিদর্শনের সময়, কিছু জীর্ণ দেওয়াল, ইঁটের ঢিপি এবং আরিয়াঁকূপ্পম নামে অভিহিত একটি উদ্ভট নগরের মধ্যে কিছু আদিম কূয়োঁর জীর্ণ ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে তাঁর হঠাতই সাক্ষাৎ হয়, এই আরিয়াঁকূপ্পম নগরটি পুদুচ্চেরি থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে একটি ঢিঁল ছোড়া দূরত্বে অবস্থিত। এটি জ্যোর্তিবিজ্ঞানীর দূরকল্পী মস্তিষ্কের অনুসন্ধিৎসাকে জাগিয়ে তুলেছিল। তার সন্দেহ সঠিক প্রমাণ করে এবং প্রত্নতাত্ত্বিক খননকে দ্রুত সুনিশ্চিত করে, যা এক প্রাচীন গ্রামের ভগ্নাবশেষ।

আরিয়াঁকূপ্পম প্রত্নতাত্ত্বিক স্হানে বহুকাল আগেই ১৯৪০ সালে খনন করা হয়েছিল। প্রত্নতাত্ত্বিক স্হানের উত্তর সীমান্তের এক পুঙ্খানুপুঙ্খ অন্বেষণে ইঁট গুদামের ধ্বংসাবশেষ বেফাঁস হয়ে যায়, অন্যদিকে দক্ষিণের অঞ্চল বেশ কিছু জলাধার ও জল নিষ্কাশন নালী (ড্রেন) সহ বেশ কিছু প্রাচীন প্রাঙ্গনের উন্মোচন করে। মৃৎশিল্পের ধ্বংসাবশেষের এবং অন্যান্য ভারতীয় তথা ভূমধ্যীয় কিছু হস্তনির্মিত দ্রব্যের কয়েকটি টুকরো পুনরাবৃত্ত খননের দ্বারা উন্মোচিত হয়। অর্ধ মূল্যবান পাথর, পুঁতি এবং প্রাচীন রোমান হস্তনির্মিত দ্রব্য যেমন ওয়াইন (মাদক) ও সশের বয়াম ও বহু সংখ্যক জিনিসের সৌন্দর্য্য একটি গুপ্ত সংকেতকে উন্মোচন করে।

★19>গভর্নমেন্ট পার্ক।

পুদুচ্চেরি এক প্রাচীন ফরাসি উপনিবেশ হওয়ায়, ফরাসি আস্বাদনের সারাংশ অপরিবর্তিত রয়েছে, যেখানে ফরাসি-শৈলীর ঔপনিবেশিক স্থাপত্য স্পষ্টরূপে পরিলক্ষিত হয়; যা এই দর্শনীয় ভারতীয় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটিকে পরিবেষ্টিত ও বিভূষিত করে রেখেছে। পুদুচ্চেরির গভর্নমেন্ট পার্ক, এই অপরিহার্য ফরাসি স্থাপত্য প্রতিভার এক সক্রিয় বাহক।

পুদুচ্চেরি, বেশ কিছু অতীব সৌন্দর্য্যমূলক উদ্যান ও বাগিচার সাথে সজ্জিত একটি অত্যন্ত সু-পরিকল্পিত ও সু-পরিচর্যিত শহর, যেখানে আপনি যে কোনও সময় যেতে পারেন। পুদুচ্চেরির গভর্নমেন্ট পার্ক একটি অত্যাশ্চর্য্য ও শিল্পরুচিসম্মত বিনোদনমূলক উদ্যানের একটি অত্যাধুনিক উদাহরণকে তুলে ধরে, এটি তার বিহ্বল নির্মলতা দ্বারা এখানে ভ্রমণে আসা ব্যস্ততাহীন পর্যটক ও ভ্রমণার্থীদের মুগ্ধ করে।

পুদুচ্চেরির গভর্নমেন্ট পার্ক যথাযোগ্যভাবে প্রাচীন ঔপনিবেশিক শহরের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে অবস্থিত। এই অনন্য উদ্যানটির উৎপত্তির তাৎপর্য্যমূলক ঘটনা হল যে এটি বেশ কিছু সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ সরকারি ভবন; যেমন লেফটেনেন্ট গভর্নরের প্রাসাদ, বিধানসভা ক্ষেত্র, সরকারি হাসপাতাল, আশ্রম ভোজনশালা, সার্কেল ডি পুদুচ্চেরি প্রাইভেট ক্লাব ও প্রাচীন হোটেল কোয়্যালাইট দ্বারা পরিবেষ্টিত রয়েছে।

পুদুচ্চেরির এই সরকারি উদ্যানটি কেবলমাত্র ঘন সবুজাভ তৃণভূমি ও একটি অসাধারণ বাগানের পূষ্পশোভিত চিত্র অনুপম সৌন্দর্য্যই প্রদান করে না, বরং এখানকার নিবেদিত পুনুরুজ্জীবিত ও প্রাণবন্ততায় প্রমত্ত বাতাবরণ এটিকে শান্তিময়তার জন্য এক আদর্শ জায়গা হিসাবে গড়ে তুলেছে। সস্নেহে পুদুচ্চেরির ভারতী উদ্যান নামেও সুপরিচিত এই গভর্নমেন্ট পার্ক আপনার কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটিতে থাকাকালীন এক অতি আবশ্যক পরিদর্শনীয় স্থান।

★20>স্ট্যাচু অফ ডুপলেক্স::--

পুদুচ্চেরির স্ট্যাচু অফ ডুপ্লেক্স, অপরিহার্য ফরাসি সংযোগের যথাযোগ্যভাবে বর্ণনারূপে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
মহান ফ্রাঙ্কোয়েস ডুপ্লেক্স- এর খ্যাতির অনেক দাবী রয়েছে। ডুপ্লেক্স একজন দক্ষ প্রশাসক ছিলেন । মূ্তির্টি গর্বিতভাবে
২.৮৮ মিটার উঁচু  সুসজ্জিত স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে।

আরও একটি মূর্তি স্ট্যাচু অফ জোয়ান্ অফ আর্ক,কেন্দ্রশসিত অঞ্চলের রাজধানী পুদুচ্চেরি শহরে বিখ্যাত ফরাসি মহিলা জিয়ান্নেদ আর্ক-এর শ্রেষ্ঠ জয়োল্লাসের প্রতিকৃতি হিসাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি ইংরেজদের খপ্পর থেকে তাঁর দেশকে উদ্ধারে, খুবই তৎপরতার সাথে প্রতিক্রিয়া জানান। জোয়ান্ অফ আর্কের সাহস ও আত্মবিশ্বাস অপরাজিতভাবে রয়ে গেছে; এমনকি তিনি যখন যুদ্ধক্ষেত্রে গুরুতরভাবে আহত হন, তখনও তিনি তার পরাক্রমশীলতার পরিচয় দেন।

★21>ফ্রেঞ্চ ওয়্যার মেমোরিয়্যাল।

পুদুচ্চেরির কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য ফরাসি স্মৃতিরক্ষাকারী ইমারতের দ্বারা সন্দেহাতীতভাবে প্রদর্শিত হওয়ায় এখানে একটি শক্তিশালী ফরাসি সংযোগ বিদ্যমান রয়েছে, পুদুচ্চেরিতে তারই একটি জ্বলন্ত উদাহরণ হল ফরাসি ওয়্যার মেমোরিয়্যাল। বিভিন্ন ধরনের স্মৃতিস্তম্ভ, স্মারক ও অন্যান্য ঐতিহাসিক ইমারতগুলি উপকূলীয় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সামগ্রিক দৃশ্যের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিতে একটি গুরুত্বপূ্র্ণ ভূমিকা পালন করে। এগুলির মধ্যে, আড়ম্বরপূর্ণ ও ঐশ্বর্যশালী ফরাসি ওয়্যার মেমোরিয়ালটি পুদুচ্চেরির এক অন্যতম স্থাপত্য বিস্ময় রূপে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। গৌবার্ট এভ্যিনিউ নামে অভিহিত একটি সুন্দর বিহারে অবস্থিত, ফরাসি ওয়্যার মেমোরিয়ালটি সাহসী সংগ্রামীদের সম্মানে নির্মিত হয়েছিল, যাঁরা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁদের জীবন বলিদান দিয়েছিলেন।

ফরাসি ওয়্যার মেমোরিয়াল ও পুদুচ্চেরি পর্যটনের একটি লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হল ১৪-ই জুলাই অনুষ্ঠিত ব্যাস্টিল দিবস উৎসব, এইসময় স্মৃতিস্তম্ভটি তার শ্রেষ্ঠ ভঙ্গিতে সুসজ্জিত ও আলোকিত হয়ে ওঠে। উৎসবের সমারোহ ও জাঁকজমকতা আকুল ভাবপ্রবণতা ও স্মৃতিবেদনার সাথে রঞ্জিত হয়ে পড়ে, যা পর্যটকদের মনে স্বদেশপ্রেমের উদ্রেক করে।

পুদুচ্চেরি বর্তমানে ভারতের এক অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিলাষী পর্যটন গন্তব্যস্থল। সমুদ্রতীরের অদ্ভূত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটি প্রাচীন ইতিহাসের আবরণে লুকিয়ে রয়েছে এবং ফরাসি সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের ছাপ এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।

শৌর্য্যপূর্ণ যোদ্ধাদের এক যথার্থ সমর্থনে, পুদুচ্চেরির ফরাসি ওয়্যার মেমোরিয়াল, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ঐতিহ্যের অন্য আরেকটি আলোচ্য বিষয়বস্তু।
==========================

         || ভ্রমন চেন্নাই ||

চেন্নাইতে আমাদের ঠিকানা ছিল চিপক, দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের চেন্নাই জেলার একটি অঞ্চল

চিপক বা চেপবক্কম (Near M.A. Chidambaram International Cricket Stadium, also known as the Chepauk)

মাদ্রাজ ক্রিকেট ক্লাব মাঠের‌ ঠিকানা বলতেই মূলত এই লোকালয়ের পরিচিতি। পূর্বে এ স্টেডিয়ামটি চিপক স্টেডিয়াম নামেও পরিচিত ছিল। 

চেপবক্কমের উত্তর দিকে ফোর্ট সেন্ট জর্জ, উত্তর-পূর্ব দিকে চেন্নাই বন্দর, পূর্ব দিকে মেরিনা সমুদ্র সৈকত, দক্ষিণ দিকে তিরুবল্লীকেণি, দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে রায়পেট্টা, পশ্চিম দিকে চিন্তাদ্রিপেট ও উত্তর-পশ্চিম দিকে দ্য আইল্যান্ড অবস্থিত৷

চেন্নাইতে থাকা কালে ঘুরে বেড়িয়েছি 

আসে পাশের নানা স্থানে।

সেদিনের সেই ভ্রমনের করছি স্বরণ

ভ্রমন চেন্নাইয়ের কিছু দর্শনীয় স্থান ::--


1. আদ্যার

2. আনা নগর

3. বেসন্ত নগর

5. মাইলাপুর

8. তিরুবনমিউর

চেন্নাই ভারতের বৃহত্তম কর্মসংস্থান হাব হিসাবে পরিচিত। এটি দুর্দান্ত স্বাস্থ্যসেবা, উচ্চ-সম্পন্ন শিক্ষাবিদ, প্রচুর সবুজ এবং দুর্দান্ত খাবারের মতো একটি দুর্দান্ত শহুরে জীবনধারা সরবরাহ করে। 

1. আদ্যার::---

এই অঞ্চলের মধ্যদিয়ের বয়ে গেছে 

আদ্যার নদী, সেই কারণেই এই অঞ্চলের নাম আদ্যার এবং এই নদীর কারনেই এই এলাকা সবুজ শ্যামল।

এই অঞ্চলটি আদিয়ার দক্ষিণ চেন্নাইতে অবস্থিত এবং এটি চেন্নাইয়ের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে বিশিষ্ট এলাকাগুলির মধ্যে একটি, সবচেয়ে ব্যয়বহুল জেলাগুলির মধ্যে একটি । এখানে রয়েছে গান্ধী নগর, কস্তুরিবাই নগর, নেহেরু নগর, ইন্দিরা নগর, ভেঙ্কটারথনম নগর এবং শাস্ত্রী নগর। 

যাতায়াতের জন্য  সুবিধা জনক স্টেশন 

 কস্তুরবা নগর স্টেশন, ইন্দিরা নগর স্টেশন এবং তিরুবনমিউর স্টেশন।

আদিয়ার প্রসিধ্ব গান্ধীনগর শপিং সেন্টার 

এখানে বেশ কিছু নামি দামি স্কুল

 কলেজ, হাসপাতাল, ব্যাঙ্ক এবং শপিং সেন্টারের আছে। আইআইটি মাদ্রাজ এবং বিখ্যাত আন্না বিশ্ববিদ্যালয়ও এখানে অবস্থিত। 

2. আনা নগর::--

আন্না নগর চেন্নাইয়ের সবচেয়ে বিলাসবহুল, প্রিমিয়াম এবং সুপরিকল্পিত আবাসিক নগর।

আন্না নগর তার বাংলো, অ্যাপার্টমেন্ট এবং পৃথক আবাসিক ভবনগুলির জন্য বিখ্যাত। 

এখানে যাতায়াতের জন্য আন্না নগর টাওয়ার, আন্না নগর ইস্ট, থিরুমঙ্গলম এবং শেনয় নগর মেট্রো স্টেশন।

এখানকার বিখ্যাত মল

Vivah Mall, 10 Square Mall এবং VR চেন্নাই মল। 

3. বেসন্ত নগর::---

বেসন্ত নগর হল বঙ্গোপসাগরের ধারে এলিয়ট বিচের উপকূলে চেন্নাই নদীর দক্ষিণ পরিধির একটি শীর্ষ ও সুন্দর আবাসিক এলাকা। এখানকার কাছের স্টেশন নন্দনম মেট্রো স্টেশন, টেইনামপেট মেট্রো স্টেশন, সায়দাবাদ মেট্রো এবং লিটল মাউন্ট মেট্রো স্টেশন।

5. শহর মাইলাপুর::--

ময়লাপুর হল মধ্য চেন্নাইয়ের প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে উন্নত অঞ্চলগুলির মধ্যে একটি, এর বিশিষ্ট এলাকা যেমন টি নগর, নুঙ্গামবাক্কাম, আলওয়ারপেট, কোডাম্বাক্কাম এবং টেইনামপেট এলাকার সীমান্তবর্তী। এই শহরটি কপালেশ্বর মন্দির এবং রামকৃষ্ণ মঠ ময়লাপুরের জন্য পরিচিত। এই অঞ্চল চেন্নাইয়ের অতীত এবং ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন স্বাক্ষী।

8. তিরুবনমিউর

তিরুভানমিউর হল দক্ষিণ চেন্নাই এর উন্নত আবাসিক এলাকা। তিরুভানমিউর সমুদ্র সৈকত হল এলাকার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। আশেপাশের অঞ্চলগুলি হল গুইন্ডি, ভেলাচেরি, তারামনি, মাদিপাক্কাম এবং পেরুংগুড়ি। এটি পৃথক মেঝে মধ্য-উত্থান কমপ্লেক্স দ্বারা প্রভাবিত হয়। চেন্নাইয়ের প্রথম ডেডিকেটেড অফিস সেন্টার, টাইডেল ইনফরমেশন টেকনোলজি পার্ক এই এলাকায় রয়েছে। তিরুভানমিউর, ইন্দিরা নগর, পেরুংগুড়ি এবং তারামণির রেলওয়ে স্টেশন খুঁজুন। কাছাকাছি কৃষ্ণ শপিং মল এবং আরও দূরে ফিনিক্স মার্কেটসিটি কেনাকাটা একটি দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা করে তোলে।

যদিও সম্পত্তির মূল্য তুলনামূলকভাবে গড় স্পট থেকে অনেক বেশি, তিরুভানমিউরের কিছু বিখ্যাত নামের প্রকল্পগুলিও লোকেদের তাদের ঠিকানা ব্যবহার করার বিকল্প দেয়। এলাকার কিছু প্রধান প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে জিভিএসপিএল মহামেরু, মায়ান্স লাক্সারি ভিলা, দ্য অ্যাট্রিয়াম, দ্য গ্র্যান্ড এবং হারমোনিস এমারল্ড।


==========================

■■■■■■■■■■■■■■■■■

    চেন্নাই:::--

দক্ষিণ ভারতের অন্যতম শহর চেন্নাই। এটি তামিলনাড়ু অঙ্গরাজ্যের রাজধানী। ব্রিটিশ ভারতে অঞ্চলটি মাদ্রাজ নামে পরিচিত ছিল। এখানে রয়েছে অনেক দর্শনীয় স্থান। আজ আপনাদের জানাবো চেন্নাইয়ে অবস্থিত ১০টি দর্শনীয় স্থান::-- 

১. মেরিনা সমুদ্রসৈকত ::--

চেন্নাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান হচ্ছে মেরিনা সমুদ্রসৈকত। পর্যটকরা প্রতি বছর এখানে আসেন। সমুদ্রমন্থনে সব বয়সের মানুষকে দেখা যায়। বিশেষ করে মধুচন্দ্রিমাযাপনরত দম্পতিকে এখানে বেশি দেখা যায়। সুন্দর সময় কাটানোর জন্য আপনিও ঘুরে আসতে পারেন চোখ জুড়ানো এই সমুদ্রসৈকত থেকে। 

২. এলিয়টের সমুদ্রসৈকত ::-

মেরিনা সমুদ্রসৈকতের পরেই রয়েছে এলিয়টের সমুদ্রসৈকত। এই সমুদ্রসৈকতে বন্ধু কিংবা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে প্রতি বছর হাজারো পর্যটক আসেন। এছাড়া অনেক দম্পতিকেও এখানে দেখা যায়। এই সমুদ্রসৈকতের আরেক নাম বেসান্ত সমুদ্রসৈকত। 

৩. আস্থালক্ষ্মী মন্দির::---

চেন্নাইতে বিদ্যা ও অর্থের দেবী আস্থালক্ষ্মীর মন্দিরটি বেশ প্রাচীন। বেসান্ত সমুদ্রসৈকত থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত খুব সুন্দর মন্দিরটি দেখলে মন ভরেজায় আনন্দে। অতি সুন্দর মন্দিরটি

বিশেষ দর্শনীয় স্থান।

৪. সরকারি মিউজিয়াম:;--

চেন্নাইয়ে অবস্থিত সরকারি মিউজিয়ামে রয়েছে প্রাচীন যুগের নিদর্শন। পর্যটকদের কাছে জায়গাটি খুব পছন্দের। প্রাচীন যুগের নিদর্শন দেখার জন্য বহু পর্যটক জায়গাটি ভ্রমণের জন্য বেছে নেন। ইতিহাস সম্পর্কে যদি আপনিও আগ্রহী হন তাহলে ঘুরে আসতে পারেন চেন্নাইয়ের সরকারি মিউজিয়াম থেকে। 

৫. গুইন্ডি ন্যাশনাল পার্ক::--

এটি একটি চিড়িয়াখানা। এখানে রয়েছে ৩০০ প্রজাতির বৃক্ষ ও চারাগাছ, ১৫০ প্রজাতির পাখি এবং ১৫ প্রজাতির প্রাণী। পর্যটকদের কাছে এটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় জায়গা। প্রকৃতিকে ভালো বাসলে আসবেই হবে এই গুইন্ডি ন্যাশনাল পার্কে। 

৬. শ্রীপার্থসারথী মন্দির::---

এখানে এই মন্দিরটি ভগবান শ্রীবিষ্ণুর মন্দির। 

এখানকার মসনুষ  শ্রীবিষ্ণুকে পার্থসারথী হিসেবে ভক্তি করেন। এই শ্রীপার্থসারথী মন্দির অষ্টম শতকে নির্মিত হয়েছিলো। মন্দিরটি পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। 

৭. কাপালিশ্বরের মন্দির;;--

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপাস্য শিবের মন্দির এটি। মন্দিরটি প্রতিষ্ঠার পর  পর্তুগিজদের দ্বারা লুণ্ঠিত হয় এবং পরবর্তীতে বিজয়নাগরা সাম্রাজ্য কর্তৃক তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়। মন্দিরটির পুরাকীর্তি দ্রাবিড় যুগ ও বিজয়নাগরা সাম্রাজ্যের সমন্বয়ে তৈরি। পর্যটকদের কাছে এটি জনপ্রিয় জায়গা। 

৮. কননেমারা পাবলিক লাইব্রেরি:--- 

বইপ্রেমীদের কাছে একটি পছন্দের জায়গা হলো কননেমারা পাবলিক লাইব্রেরি। লাইব্রেরিটিতে রয়েছে ভারত থেকে প্রকাশিত সব ধরনের গবেষণাভিত্তিক বই। ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব, চারুকলা থেকে শুরু করে সমসাময়িক গবেষণা জার্নাল পর্যন্ত সব বই এখানে পড়া যাবে। 

৯. মুরুন্ডেশ্বরের মন্দির::--

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপাস্য শিবের মন্দির এটি, একাদশ শতাব্দিতে প্রতিষ্ঠা করা হয়। মুরুন্ডেশ্বরের মন্দির দ্রাবিড় যুগের স্থাপত্যে নির্মিত হয়। 


১০. স্বামী বিবেকানন্দের বাসভবন::--

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে মহতী ব্যক্তিত্ব স্বামী বিবেকানন্দ ১৯০০ সালের দিকে এই বাসভবনে বসবাস করেছেন। বাসভবনটি দোতলাবিশিষ্ট। এখানে দেশি-বিদেশি সব বয়সের পর্যটক বেড়াতে আসেন।



=====================

চেন্নাই হল তামিলনাড়ুর রাজধানী শহর এবং একটি বিশিষ্ট ব্যবসায়িক কেন্দ্র, যা সুবিধামত সমুদ্রের কাছে অবস্থিত। এটি ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন গন্তব্য এবং ভ্রমণকারী এবং অ্যাডভেঞ্চার উত্সাহীদের জন্য প্রচুর সংখ্যক পর্যটন স্পট রয়েছে।

 চেন্নাইয়ে দেখার মতো জায়গার অভাব নাই। 

1>মেরিনা বিচ

2>চেন্নাই যাদুঘর:--

3>ব্রীজি বিচ

4>আরিগনার আনা জুলজিক্যাল পার্ক

5> ভাল্লুভার কোট্টম

6>- শ্রী অষ্টলক্ষ্মী মন্দির

7>এলিয়টস সৈকত

8> ভিজিপি গোল্ডেন বিচ

9>সেন্ট থমাস ক্যাথিড্রাল ব্যাসিলিকা

10>: হাজার আলোর মসজিদ

11> কপালেশ্বর মন্দির

12> আরুলমিগু মারুন্ডিশ্বর মন্দির

13> কোলি পাহাড়

14>- চেন্নাইতে কেনাকাটা


চেন্নাইয়ের সেরা পর্যটন স্থান মেরিনা বিচ;:--💐

চেন্নাইতে দেখার জন্য সেরা জায়গা এবং করণীয় মেরিনা বিচ চেন্নাইয়ের সবচেয়ে বিখ্যাত স্থানগুলির মধ্যে একটি এবং পর্যটকদের জন্য অবশ্যই একটি দর্শনীয় স্থান। ফোর্ট সেন্ট জর্জ থেকে ফোরশোর এস্টেট পর্যন্ত প্রসারিত, উপকূলটি পার্ক এবং দোকানে আচ্ছাদিত। আপনি সৈকত অন্বেষণ করতে পারেন এবং এটি অফার করে এমন আশ্চর্যজনক সূর্যাস্ত দেখতে পারেন। অতিরিক্তভাবে, সৈকতে প্রচুর স্ন্যাক স্টল রয়েছে যেখানে দর্শনার্থীদের জন্য ভাজা এবং পানি পুরি বিক্রি হয়। শিশুরাও সৈকতে উপলব্ধ বিভিন্ন রাইড উপভোগ করতে পারে।

চেন্নাই পর্যটন স্থান #2: চেন্নাই যাদুঘর

চেন্নাইতে দেখার জন্য সেরা জায়গা এবং করণীয় এগমোরে চেন্নাই সেন্ট্রাল মিউজিয়াম হল একটি বিখ্যাত যাদুঘর যা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত। যাদুঘরটি 1851 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটি ভারতের দ্বিতীয় প্রাচীনতম যাদুঘর। জাদুঘরটি রোমান প্রত্নবস্তু এবং প্রাচীন ব্রোঞ্জ মূর্তি সংগ্রহের জন্য বিখ্যাত। পুরানো ভাস্কর্যগুলির প্রদর্শনগুলি 1000 খ্রিস্টপূর্বাব্দে এবং আরও পরে। আপনি প্রাঙ্গণ এবং গ্যালারীগুলি ঘুরে দেখতে পারেন কারণ এটি চেন্নাইতে প্রত্নবস্তু, পেইন্টিং, ভাস্কর্য এবং প্রাচীন জিনিসগুলি অন্বেষণ করার জন্য সেরা জায়গাগুলির মধ্যে একটি যা এর দেয়ালগুলিকে শোভিত করে৷ এছাড়াও প্রাঙ্গনে একটি স্যুভেনিরের দোকান রয়েছে যা উপহার এবং হস্তশিল্পের সামগ্রী বিক্রি করে। আপনি এখানে কেনাকাটা করতে পারেন এবং আপনার পরিবার এবং বন্ধুদের জন্য তামিলনাড়ু থেকে একটি টোকেন ফেরত নিতে পারেন।

চেন্নাই দেখার জায়গা #3: ব্রীজি বিচ

 বাল্মিকি নগরের ব্রীজি বিচ চেন্নাইতে দেখার সেরা জায়গাগুলির মধ্যে একটি। এই নির্মল সৈকতটি চেন্নাইয়ের শীর্ষ পর্যটন স্থানগুলির মধ্যে একটি। এটি ফটোগ্রাফারদের কেন্দ্রস্থল যারা প্রাকৃতিক ছবি তুলতে আসে সমুদ্র এবং তার তীরে। তুলনামূলকভাবে ভিড়হীন, আপনি এখানে সূর্যোদয় দেখতে বা দীর্ঘ দিন পর বিশ্রাম নিতে আসতে পারেন। আপনি কাছাকাছি হোটেল এবং রিসর্ট প্রচুর পাবেন. এমনকি যদি আপনি দূরে থাকেন, আপনি সর্বদা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর জন্য গণপরিবহন ব্যবহার করতে পারেন। নিশ্চিত করুন যে আপনি পর্যটন স্পটে কিছু আশ্চর্যজনক শট নিয়েছেন নিজের জন্য কিছু স্যুভেনির নিয়ে যেতে।

চেন্নাই #4-এ দেখার জায়গা: আরিগনার আনা জুলজিক্যাল পার্ক

 আরিগনার আন্না জুলজিক্যাল পার্ক (সংক্ষেপে AAZP) বা ভান্দালুর চিড়িয়াখানা, চেন্নাইয়ের ভান্দালুরে অবস্থিত। এটি মূল শহর থেকে একটি ছোট ড্রাইভ এবং চেন্নাই সেন্ট্রাল থেকে মাত্র 31 কিলোমিটার দূরে। চিড়িয়াখানাটি 1855 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটি ছিল ভারতের প্রথম পাবলিক চিড়িয়াখানা। 1,490 একর জুড়ে বিস্তৃত চিড়িয়াখানাটি প্রচুর সংখ্যক উদ্ভিদ এবং প্রাণীর আবাসস্থল। পার্কে আপনি বিভিন্ন ধরনের স্তন্যপায়ী প্রাণী, সরীসৃপ, মাছ এবং পাখি দেখতে পাবেন। এন্ট্রি ফি নামমাত্র। এটি চেন্নাইয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতীয় উদ্যানও। চেন্নাইতে দেখার জন্য এই সেরা জায়গাটি শিশুদের সাথে পরিবারের জন্য আদর্শ যারা চিড়িয়াখানার সমস্ত প্রাণী দেখতে এবং শিখতে উপভোগ করবে।

চেন্নাই #5 এর বিখ্যাত স্থান: ভাল্লুভার কোট্টম

চেন্নাই #6-এর পর্যটন স্থান: শ্রী অষ্টলক্ষ্মী মন্দির।

চেন্নাইয়ের শ্রী অষ্টলক্ষ্মী মন্দির বেসন্ত নগরে অবস্থিত। মন্দিরটি সম্পদ ও প্রাচুর্যের দেবী লক্ষ্মীকে উৎসর্গ করা হয়েছে। মন্দিরটি তুলনামূলকভাবে নতুন এবং এটি 20 শতকের শেষের দিকে নির্মিত হয়েছিল। মন্দিরটি পর্যটক এবং ভক্তদের জন্য উন্মুক্ত যারা ইচ্ছা করলে এখানে পূজা করতে পারেন। আপনি উপাসনা করতে মন্দির পরিদর্শন করতে পারেন, বা এর স্থাপত্যে বিস্ময়কর সময় কাটাতে পারেন। এলিয়টস বিচ কাছাকাছি অবস্থিত এবং বেশ সহজে ভ্রমণ করা যেতে পারে। আপনি এটিকে একটি ছোট ভ্রমণে পরিণত করতে পারেন এবং বেসন্ত নগরের শান্ত পরিবেশ উপভোগ করতে পারেন।

চেন্নাই  # 7: এলিয়টস সৈকত

 বেসান্ত নগরের এলিয়টস বিচ, মূল শহর থেকে সামান্য দূরে একটি অদ্ভুত সৈকত। এই সৈকতটি মেরিনা বিচ থেকে বেশ আলাদা কারণ এতে ভিড় এবং কোলাহল নেই। ছোট নির্মল সৈকত এমন লোকদের জন্য উপযুক্ত যারা ভিড় এড়াতে চান এবং পছন্দ করেন না জলে পৌঁছানোর জন্য বালির মধ্য দিয়ে দীর্ঘ পথ ভ্রমণ করুন। আপনি একটি সর্বনিম্ন মূল্যের জন্য ব্যক্তিগত এবং পাবলিক ট্রান্সপোর্ট দ্বারা সৈকত পৌঁছতে পারেন. আপনি সমুদ্র সৈকতের পাশে একটি ছোট পিকনিক করতে পারেন এবং সন্ধ্যা এবং সূর্যাস্তের সময়গুলি শান্তি ও প্রশান্তিতে কাটাতে পারেন। আপনি যদি হোটেলগুলির একটিতে কাছাকাছি থাকেন তবে আপনি সূর্যোদয় পর্যবেক্ষণ করতে এবং সকালে তাজা সমুদ্রের হাওয়া অনুভব করতে সমুদ্র সৈকতে একটু হাঁটাও করতে পারেন।

চেন্নাই #8 এর কাছাকাছি পর্যটন স্থান: ভিজিপি গোল্ডেন বিচ

চেন্নাই #9 এ দেখার জায়গা: সেন্ট থমাস ক্যাথিড্রাল ব্যাসিলিকা

 চেন্নাইয়ের সেন্ট থমাস ক্যাথেড্রাল ব্যাসিলিকা বা স্যানথোম ক্যাথেড্রাল খ্রিস্টানদের একটি প্রধান তীর্থস্থান। ব্যাসিলিকাকে সেন্ট থমাসের বিশ্রামের স্থান বলা হয় এবং এটি 72 খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয়েছিল। ব্যাসিলিকার বর্তমান কাঠামোটি পর্তুগিজ এবং ব্রিটিশদের দ্বারা নিও-গথিক শৈলীতে তৈরি করা হয়েছে, যারা মূল চার্চকে পরিবর্তন করেছে এবং এর প্রাঙ্গণকে প্রসারিত করেছে। ব্যাসিলিকা শত শত পর্যটকদের গ্রহণ করে যারা তাদের শ্রদ্ধা জানাতে মন্দিরে ভিড় করে। ঝাড়বাতি এবং দাগযুক্ত কাচের জানালা সহ ব্যাসিলিকার একটি চিত্তাকর্ষক নকশা রয়েছে। আপনি সেন্ট থমাস যাদুঘর পরিদর্শন করতে পারেন সেন্টের ধ্বংসাবশেষ অন্বেষণ করতে এবং ভিতরে অবস্থিত ভূগর্ভস্থ চ্যাপেলে প্রার্থনা করতে পারেন।

চেন্নাই  #10: হাজার আলোর মসজিদ

উত্স: Pinterest চেন্নাইয়ের থাউজেন্ড লাইট মসজিদটি 19 শতকে উমদাত উল-উমারা দ্বারা নির্মিত হয়েছিল। আন্না সালাইতে অবস্থিত, মসজিদটি মুসলমানদের জন্য একটি আধ্যাত্মিক স্থান এবং এটি ভারতের মুঘল স্থাপত্য শৈলীকে প্রতিফলিত করে। আপনি মসজিদ পরিদর্শন করতে পারেন এবং এর ঐতিহাসিক তাত্পর্য সম্পর্কে আরও জানতে এর সৌন্দর্যে বিস্মিত হতে পারেন। এটি সুবিধাজনকভাবে শহরের মধ্যে অবস্থিত এবং রাস্তা দ্বারা সহজেই অ্যাক্সেসযোগ্য। আপনি একটি ব্যক্তিগত গাড়ি বেছে নিতে পারেন বা একটি স্থানীয় অটো নিতে পারেন এবং চেন্নাইয়ের যে কোনও জায়গা থেকে সহজেই পৌঁছে যেতে পারেন৷

চেন্নাই #11-এ দেখার জায়গা: কপালেশ্বর মন্দির

 মাইলাপুরের কপালেশ্বর মন্দির চেন্নাইতে দেখার জন্য একটি শীর্ষ স্থান। কপালেশ্বর মন্দিরটি ভগবান শিব এবং দেবী পার্বতীকে উত্সর্গীকৃত। মন্দিরটি হিন্দু তীর্থযাত্রীদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য উপাসনালয় শৈব ধর্মের ভক্ত। 7ম শতাব্দীর কাছাকাছি নির্মিত, মন্দিরটির একটি উজ্জ্বল দ্রাবিড় শৈলী রয়েছে, যা দেবতা এবং দানবদের ভাস্কর্য দিয়ে সম্পূর্ণ। চেন্নাইয়ের একটি প্রধান আধ্যাত্মিক স্থান, মন্দিরটি নিয়মিত পূজা পরিচালনা করে, যেখানে ভক্তরা যোগ দিতে পারেন। আপনি চেন্নাই শহরের ভ্রমণপথের অংশ হিসাবে মন্দিরটি দেখতে পারেন এবং এর শান্তিপূর্ণ প্রাঙ্গনে কিছু সময় কাটাতে পারেন।

চেন্নাই #12: আরুলমিগু মারুন্ডিশ্বর মন্দির

 চেন্নাইয়ের আরুলমিগু মারুন্ডিশ্বর মন্দির আরেকটি হিন্দু আধ্যাত্মিক স্থান। এই মন্দিরটি শৈবদের মধ্যে বিখ্যাত যারা হিন্দু দেবতা শিবের উপাসনা করে। মন্দিরটির একটি সুন্দর বাহ্যিক অংশ রয়েছে এবং প্রাঙ্গণটি পরিষ্কার এবং আদিম অবস্থায় রাখা হয়েছে। মন্দিরটি 6 ষ্ঠ শতাব্দীর গ্রন্থে প্রাসঙ্গিকতা খুঁজে পায়। মন্দির চত্বরের মধ্যে ঋষি বাল্মীকির একটি মন্দিরও রয়েছে, যিনি মহাকাব্য রামায়ণ লিখেছেন। আপনি মন্দিরের পুরানো স্থাপত্যটি অন্বেষণ করতে পারেন যা প্রধানত চোল সাম্রাজ্যের ঐতিহ্যকে অনুসরণ করে যার সময় প্রাঙ্গণটি সংস্কার করা হয়েছিল।

চেন্নাই নম্বর 13 এর কাছাকাছি পর্যটন স্থান: কোলি পাহাড়

চেন্নাই #14-এ করণীয়: চেন্নাইতে কেনাকাটা

 আমরা আপনাকে চেন্নাইতে শপিং অভিযান এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিই। চেন্নাইতে কিছু আশ্চর্যজনক মল এবং বাজার রয়েছে যেখানে বিভিন্ন দোকানে ব্র্যান্ডেড এবং হস্তনির্মিত স্থানীয় পণ্য বিক্রি হয়। আপনি এক্সপ্রেস অ্যাভিনিউ মল, ফোরাম মল, ফিনিক্স মার্কেটসিটি, ইত্যাদির মতো জায়গাগুলিতে যেতে পারেন, শীর্ষস্থানীয় দক্ষিণ ভারতীয় এবং পশ্চিমী ব্র্যান্ডগুলি থেকে কেনাকাটা করতে। স্থানীয় কিছু ঐতিহ্যবাহী দক্ষিণ ভারতীয় পণ্য যেমন পাট্টু শাড়ি, কাঞ্জিভরম, কেম্প জুয়েলারি, সোনার গয়না, বাড়ির সাজসজ্জা ইত্যাদির জন্য বাজার পরিদর্শন করা যেতে পারে। আপনি কিছু খাঁটি হস্তশিল্পের সামগ্রী এবং গয়না কিনতে কপালেশ্বর মন্দিরের পাশের বাজারটিও ঘুরে দেখতে পারেন।







,

Thursday, March 16, 2023

96>|| ভ্রমণ জয়রামবাটী ও কামারপুকুর |

 


96>|| ভ্রমণ জয়রামবাটী ও কামারপুকুর ||
                   <---আদ্যনাথ--->

বাংলার দর্শনীয় অতি পবিত্র স্থান দুটি, কামারপুকুর ও জয়রামবাটি ।

কামারপুকুর গ্রামটি হুগলী জেলার আরামবাগ সাব ডিভিশনের গোঘাটের ২নং ব্লকে অবস্থিত। ঠাকুর শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণদেবের জণ্মস্থান হিসাবে বিখ্যাত।  

এবং জয়রামবাটী হল পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার অন্তর্গত বিষ্ণুপুর মহকুমার কোতুলপুর থানার একটি গ্রাম।জয়রামবাটি স্থানটি বিশেষ ঐতিহ্যমণ্ডিত, কারণ এটি শ্রীশ্রী মা সারদা দেবীর জন্মস্থান।

জয়রামবাটী ও কামারপুকুর দুই জায়গাতেই খুব সহজেই পৌঁছনো যায়:;--
কলকাতা থেকে সরক পথে প্রথমে পড়ে কামারপুকুর  দূরত্ব একশ' কিলোমিটারের মতো । পৌছোঁতে দুই কি আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে। জয়রামবাটি বা কামারপুকুরে কোনও রেলওয়ে স্টেশন নেই। তারকেশ্বর রেলওয়ে স্টেশনই এর নিকটবর্তী রেলওয়ে স্টেশন। তারকেশ্বর স্টেশন থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার কামার পুকুর। আর কামার পুকুর থেকে জয়রামবাটির দূরত্ব ৭.৩ কিলোমিটার।

তারকেশ্বর থেকে বাস অথবা ট্যাক্সি করে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় জয়রামবাটি ও কামারপুকুর। এছাড়াও, বাস পরিষেবা রয়েছে। ধর্মতলা থেকে  কামারপুকুরের বাস পাওয়া যায়।
জয়রামবাটী ও কামারপুকুর দু’টি স্থানের মধ্যে দূরত্ব থাকলেও, এই দু’টি জায়গাই রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠের অন্তর্গত।

Dunlop Express way SBSTC counter এতে টিকিট পাওয়া যায় Bishnupur, joyrambati, kamarpukur যাবার বাস পাওয়া যায়। বাসের টাইম সকাল 7.30 মিনিট । 

গুমটির ফোন নম্বর 7044093183 আমর দা।      SBSTC counter .




      ||  জয়রামবাটি মাতৃ মন্দির  ||
                   <----আদ্যনাথ--->

গ্রাম-তীর্থ-জয়রামবাটী,
পবিত্রতায় সোনার থেকেও খাঁটি।
আমরা আজ সকাল 10.30 মিনিটে পৌঁছে গেছি পুণ্যভূমি জয়রামবাটিতে।
মঠের ভেতরে অফিসে গিয়ে মহারাজকে আমাদের পরিচয় দিয়ে আগে থেকে গেস্ট হাউজ বুক করার মেল ও মেসেজ দেখাতেই মহারাজ আমাদের জন্য এলট করা ঘরটি দেখিতে দিয়ে ঘরের চাবি আমাকে দিলেন।

শ্রীশ্রী মা সারদা দেবী ১৮৫৩ সালের ২২ ডিসেম্বর (বাংলা ১২৬০ সনের ৮ পৌষ, হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, অগ্রহায়ণ কৃষ্ণা সপ্তমী তিথি ) পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর মহকুমার কোতলপুর থানার অধীনে  প্রত্যন্ত এক গ্রাম জয়রামবাটীর এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে সারদা দেবীর জন্ম হয়।
পিতা রামচন্দ্র মুখোপাধ্যায় (১৮১০ - ১৮৭৪) ও মাতা শ্যামাসুন্দরী দেবী।   
পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্রে জয়রামবাটীর অবস্থান স্থানাঙ্ক: ২২.৯২৩° উত্তর ৮৭.৬১° পূর্ব।

সারদা দেবীর পিতৃকূল পুরুষানুক্রমে রামের উপাসক ছিলেন।
সারদা দেবী ছিলেন তাদের জ্যেষ্ঠা কন্যা তথা প্রথম সন্তান। জন্মের পর প্রথমে সারদা দেবীর নাম রাখা হয়েছিল "ক্ষেমঙ্করী"। রাশি অনুসারে নাম রাখা হয়েছিল "ঠাকুরমণি"। পরে "ক্ষেমঙ্করী" নামটি পালটে "সারদামণি" রাখা হয়। শ্রীশ্রী মা সারদা দেবী ছিলেন উনিশ শতকের বিশিষ্ট বাঙালি হিন্দু ধর্মগুরু শ্রীশ্রী ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের পত্নী ও সাধনসঙ্গিনী এবং রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সংঘজননী। ভক্তগণ তাকে শ্রীশ্রীমা নামে অভিহিত করে থাকেন। রামকৃষ্ণ আন্দোলনের বিকাশ ও প্রসারে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য।

শ্রীশ্রী ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের অনুগামীদের কাছে জয়রামবাটি গ্রামটি  একটি তীর্থস্থানের মর্যাদা পায়। জয়রামবাটি বাঙালির কাছে এক অতি পরিচিত পবিত্র দর্শনীয় স্থান। গ্রামটি রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের  জন্মস্থান কামারপুকুর গ্রাম থেকে ৭.৩ কিলোমিটার পশ্চিমে। বিষ্ণুপুর থেকে ২৭ মাইল ও আরামবাগ শহর থেকে  ১২ মাইল দূরে অবস্থিত। এবং এই গ্রাম থেকে আধ মাইল দূরে অবস্থিত আমোদর নদ। জয়রামবাটী  সম্পুর্ন রূপে কৃষিভিত্তিক একটি গ্রাম। এই পবিত্র স্থানটি আমাদের ধর্ম, কর্ম এবং মোক্ষের পথ দেখায়। ভগবান শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের  আধ্যাত্মিক সঙ্গী শ্রীশ্রী সারদা দেবী আন্তরিক, বাহ্যিক, তথা সর্ব প্রকারে আধুনিক যুগের একজন সত্যিকারের গুরুমাতা। শ্রীশ্রীঠাকুর ৩৪ বছর বেঁচে ছিলেন পবিত্র মায়ের সংস্পর্শে। শ্রীশ্রীঠাকুরের সমস্ত শিষ্যের মা ও গুরুর জন্মস্থান এবং চিরন্তন শান্তি ও আত্মশুদ্ধি অর্জনের জন্য মানুষের কাছে পবিত্র তীর্থস্থান হয়ে উঠেছে এই জয়রামবাটির মাতৃমন্দির।

জয়রামবাটি  মঠের খোলা ও বন্ধের সময় নিম্নরূপ -
এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর ঃ---
ভোর ৫:৩০ থেকে বেলা ১১:৩০ পর্যন্ত্য------বিকেল ৪ টে থেকে রাত ৮:৩০ পর্যন্ত্য ।

অক্টোবর থেকে মার্চ ঃ---
সকাল ৬ টা থেকে বেলা ১১:৩০ পর্যন্ত্য -------বিকেল ৩:৩০ থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত্য ।

মন্দিরের পূজা ও ভোগ প্রসাদ পাবার  সময় সূচি:---
মঙ্গল আরতি= ভোর ৪ টা.
টিফিন= সকাল ৬:৩০ মিনিট.
প্রসাদ= দুপুর ১১:৩০ মিনিট.
চা-------=বিকেল ৩:৩০ মিনিট.  
সন্ধাআরতি--------   -------
প্রসাদ= রাত্রি ৮:৩০ মিনিট.

** বিঃ দ্রঃ ---মঠের ভিতরে ফোটো তোলা সম্পুর্ন রূপে নিষেধ, সেটা বিভিন্ন জায়গায় সাইবোর্ডে লেখা আছে আর সেই সঙ্গে মন্দিরের নিরাপত্তারক্ষীরা সেই বিষয়ে কড়া নজর রাখে ।

স্বামী বিবেকানন্দের চোখে মা সারদা ছিলেন ‘জ্যান্ত দুর্গা। ১৯২০ সালে ২০ জুলাই জগজ্জননী মা সারদার মহাপ্রয়াণের পর ১৯২৩ সালে বেলুড় রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ স্বামী সারদানন্দজীর উদ্যোগে সারদা দেবীর দুটি বাড়িকেই অক্ষত রেখে জয়রামবাটিতে প্রতিষ্ঠা করা হয় মিশন
'মাতৃ মন্দির'  সেই  ‘মাতৃমন্দিরে’র উদ্যোগেই ১৯২৫ সালে প্রথম ঘট পেতে দুর্গা পুজা শুরু হয় জয়রামবাটিতে। পরে ১৯৩২ সালে প্রতিমা তৈরী করে পুজো শুরু হয়। তখন থেকে সেই প্রথা আজও চলে আসছে।
জয়রামবাটীতে আগে দুর্গাপুজা হত না। জগদ্ধাত্রী পুজো হতো বহু কাল আগে থেকে। জানা গিয়েছে, মা সারদা দেবীর মা শ্যামা সুন্দরী দেবী শুরু করেছিলেন জগদ্ধাত্রী পুজো। সেই থেকে ধুমধাম করে আজও মহাসমারোহে জগদ্ধাত্রী পুজো পালিত হয়।
জয়রামবাটি ‘মাতৃ মন্দিরে’র দুর্গা পূজার মূল আকর্ষণ মহাষ্টমীর দিন কুমারী পূজা। মা সারদার পবিত্র জন্মভূমিতে বছরভর দেশ বিদেশের পূণ্যার্থীদের ভীড় লেগেই থাকে। তবে পুজোর দিনগুলোতে সেই সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। জয়রামবাটি মাতৃমন্দির সূত্রে জানানো হয়েছে, এখানে বিশুদ্ধ পঞ্জিকা মতে মন্ত্র, বিধি ও তিথি মেনে দুর্গা পূজা হয়। অষ্টমীর দিন কুমারী পুজো দেখতে হাজার হাজার দর্শক মাতৃমন্দিরে আসেন। আড়ম্বর নয় মা সারদার জন্ম ভিটের দুর্গা পুজোর মূল বিষয়বস্তু ভাব, ভক্তি, শ্রদ্ধা আর পরম নিষ্ঠা। এই সব কিছুকে বজায় রেখে বছরের পর বছর ধরে দুর্গা পুজো হয়ে আসছে এই মাতৃ মন্দিরে।
তাইতো বলি জয়রামবাটির মাটি,
চির পবিত্র অমৃতসমান খাঁটি।

১৮৭৩ খ্রীষ্টাব্দে ফলহারিনী কালীপূজার রাতে সারদামণিকে কালীজ্ঞানে শ্রীশ্রী ঠাকুর  পূজো করেছিলেন । আর এখানেই শ্রীসারদামায়ের জীবনে চরম ও পরম সার্থকতা ।  সারদা দেবী ও দিব্য মাতৃকাকে অভিন্ন জ্ঞান করে শ্রীরামকৃষ্ণ ষোড়শী পূজার আয়োজন করেন। কালীর আসনে বসিয়ে পুষ্প ও উপাচার দিয়ে শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণদেব  পূজা করেন তাঁকে। অন্য সকল নারীর মতো সারদা দেবীকেও তিনি দেবীর অবতার বলে মনে করতেন। এই কারণে তাদের বৈবাহিক জীবনও ছিল এক শুদ্ধ আধ্যাত্মিক সঙ্গত।
স্বামী সারদানন্দের মতে, তাদের বিবাহ হয়েছিল বিশ্বে আদর্শ দাম্পত্য সম্পর্কের এক নজির স্থাপনের উদ্দেশ্যেই।
গেস্টরুমের চাবি নিয়ে আমি আর সবিতা রুমে গিয়ে হাতমুখ ধুয়ে জামাকাপড় চেঞ্জ করে একটু বিশ্রাম করে খাবার ঘরে দিকে এগিয়ে গেলাম।
দুপুরের ভোগ প্রসাদ পাবার জন্য

ভোগ প্রসাদ:--

জয়রামবাটি এবং কামারপুকুর— উভয় জায়গাতেই সকালে, দুপুরে ও রাতে ঠাকুরের ভোগ প্রসাদ পাওয়া যায়। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সকল পূর্ণার্থীর উদ্দেশ্যেই এই  ভোগ বিতরণ করা হয়। তবে যারা মঠের বাইরে থেকে শুদু ভোগ প্রসাদ পাওয়ার জন্য আসেন তাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভোগের কুপন কাটতে হয়।
(ভোগের কুপন নেওয়ার জন্য
ঠাকুর সেবার নিমিত্তে সামান্য কিছু আর্থিক সহযোগিতা অবশ্যই উচিত।)
মিশনের গেস্টহাউজে থাকলে কোন কুপন কাটতে হয়না। তবে কিছু দান তো করা উচিত। অন্তত নিত্য পূজার নিমিত্বে কিছু দান তো দেওয়া একান্ত উচিত।
তবে সেই আর্থিক সহায়তা দিতে হয়  গেস্টহাউজ ছেড়ে যাবার দিন।
চেকে বা ক্যাশে। আর তার পরিবর্তে পাওয়াজায়  ইনকামটাস্ক ফ্রির রশিদ।

ঘড়িতে তখন 11.30 মিনিট। আমরা প্রসাদ নেওয়ার জন্য খাবার ঘরে এসে পৌঁছলাম।   খাবার ঘরটিতে ঢুকে আমি অবাক হয়ে গেলাম কি বিশাল ঘর আর
খাবার জন্য বসার ব্যবস্থা সম্পুর্ন পালটে গেছে।
আগে দুই একবার এসে ছিলাম তখন এই ঘরেই মাটিতে আসন বিছিয়ে বসতে হতো।
কিন্তু আজ দেখলাম খাবারের জায়গা সম্পূর্ন পাল্টে গেছে। সারি সারি স্টিলের বেঞ্চ ও স্টিলের টেবিল।
আজকাল আর শাল পাতায় খাবার খাওয়া নয়, এখন স্টিলের থালা স্টিলের গ্লাস।
খাবার পরিবেশন করার জন্যও নুতন ব্যবস্থা। বড় বড় ড্যাগ গুলি চাকাওয়ালা ঠেলা গাড়িতে বসিয়ে সুন্দর ভাবে পরিবেশনের ব্যবস্থা।
মনে হল হাজার খানিক লোক একসাথে বসে এখানে প্রসাদ গ্রহণ করতে  পারবে।
           
যাইহোক, আমরা হাত-মুখ ধুয়ে একটা বেঞ্চে এসে বসলাম প্রসাদ পাবার জন্য। প্রথমেই গরম গরম ভাত, তার সাথে একে একে পাঁচ-মিশালী তরকারি, আলু সয়াবিনের তরকারি,ডাল, চাটনি, মিষ্টি ,এবং সবশেষে পায়েস পরিবেশন করা হল।  সবকটা রান্নাই স্বাদে অতুলনীয়।  খিদের মুখে এরকম গরম গরম সুন্দর খাবার পেয়ে আমরাও পেট ভরে খেয়ে নিলাম।
খাওযার পরে একটু বিশ্রাম নেবার জন্য আমরা আমাদের রুমে গেলাম। সেখানে আমরা তিনটে পর্যন্ত বিশ্রাম  নিলাম। বিশ্রামের পর আমরা মঠের ভেতরে একটু ঘোড়া ঘুড়ি করে একটু আনন্দ উপভোগ করলাম।
এর পরে বিকেলে চা বিস্কুট খেয়ে আশেপাশে একটু ঘোড়া ঘুরিকরে দেখলাম।
সন্ধ্যায় সন্ধ্যা আরতিতে যোগদিয়ে এক ঐশ্বরিক আনন্দ উপভোগ করলাম।
এরপরে বেশ কিছুক্ষণ মন্দিরে বসে ঠাকুরের গান শুনে ও একটু নিরালায় চুপ করে বসে কায়িয়ে দিলাম বেশ কিছু সময়
তারপরে রাত্রি 8.30 মিনিটে রাত্রের প্রসাদের লাইন।
প্রসাদ খেয়ে রুমে গিয়ে বিশ্রাম।
পরের দিন সকালে উঠে  সকালের জল খাবার মুড়ি ও আলুর তরকারি  খেয়ে বেরিয়ে পড়লাম পুণ্যভূমি জয়রামবাটির আসে পাশের মন্দিরগুলো দেখার জন্য।

১৮৫৯ সালের মে মাসে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের  সাথে শ্রীশ্রী মা সারদা দেবীর  বিবাহ হয়।
শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ভক্তদের কাছে তাই এই গ্রামটিও একটি অতি পবিত্র তীর্থক্ষেত্ররূপে পরিগণিত হয়েছে।  শ্রীশ্রী সারদাদেবীর বাসভনটি (বর্তমানে মাতৃ মন্দির) রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠের অধীনে ও রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠের দ্বারাই
পরিচালিত।
★জয়রামবাটির দ্রষ্টব্য স্থান :::--

★1>শ্রী শ্রী মাতৃমন্দির :::-
★2>মায়ের পুরোনো বাড়ি  ::---:
★3>মায়ের নতুন বাড়ি ::: : --
★4>পুন্যিপুকুর ::::----
★5>ধর্মঠাকুরের মন্দির :::---
★6>সিংহবাহিনী মন্দির ::::---
★7>. আমোদার ঘাট:::------
★8> শিহড়:::---

★1>শ্রী শ্রী মাতৃমন্দির:--

মাতৃ মন্দির এখানকার একটি জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান। এখানেও প্রতিবছর বহু ভক্ত সমাগম হয়। এটি জয়রামবাটি মঠ নামেও পরিচিত।
স্বামী সরদানন্দ ১৯ এপ্রিল, ১৯৩৩-এর অক্ষয়া-তৃতীয়ার পবিত্র দিনে পবিত্র মাকে এই মন্দির উত্সর্গ করেছিলেন এবং মন্দিরটি তাঁর ঠিক জন্মস্থানে নির্মিত হয়েছিল এই মন্দিরটি মঠের কেন্দ্রস্থলে তৈরী করা হয়েছে।  মন্দিরটিতে ১৯৫৪ সালে  সারদা মায়ের একটি শ্বেতপাথরের মূর্তি বসানো হয়েছে তাঁর জন্মশতবর্ষপূর্তির সময়। তার আগে একটা তৈলচিত্র ছিল। এই তৈলচিত্রকেই তখন পূজা করা হত। বর্তমানে ওই তৈলচিত্রটি বেলুড় মঠে  রামকৃষ্ণ সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত করা আছে। বর্তমানের শ্বেত পাথরের মূর্তিটির তলায় শ্রীশ্রীমার দেহাবশেষ রাখা আছে। মন্দিরটির সামনে একটা বিরাট প্রার্থনা কক্ষ আছে। যেখানে বসে সবাই প্রার্থনা বা ধ্যান করতে পারে। মন্দিরটির ওপরে অর্থাৎ চূঁড়ায় "মা"  শব্দটি  রয়েছে ও  একটা পতাকা সবসময় উড়ছে ।

. শ্রী শ্রী মাতৃ মন্দির
‘ধ্যান মুদ্রা’ পবিত্র মায়ের এক সজীব মার্বেল ভাস্কর্যটি এই সুন্দর মন্দিরে অবস্থিত।
শ্রীশ্রী মা এর পিতা, শ্রী রামচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের এখানে তাঁর আসল বাড়ি ছিল এবং এই স্থানে শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব এবং শ্রী শ্রী মা এর মধ্যে ঐশ্বরিক বিবাহের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পবিত্র ‘মা’-কে যথাযথ ‘ভোগ’ ও আচার-অনুষ্ঠান দিয়ে প্রতিদিন উপাসনা করা হয়।

★2>মায়ের পুরোনো বাড়ি  ::---:

মঠের প্রবেশদ্বারের বাঁদিকে এই বাড়িটি রয়েছে। ১৯১৫ সাল পর্যন্ত মা  সারদা দেবী এই  বাড়িতেই বসবাস করতেন।  এই বাড়িতে তিনি তাঁর ভক্তদের দীক্ষা দিতেন।

২. পুরাতন-বাড়ি  এবং নূতন-বাড়ি
মা সারদা ১৮৬৩ থেকে ১৯১৫ সাল পর্যন্ত পুরাতন বাড়ীতে  বাস করতেন। পবিত্র মায়ের কাছ থেকে বহু আকাঙ্ক্ষী এই বাসস্থানটিতে ব্রহ্মচার্য, দীক্ষা ও সন্ন্যাস লাভ করেছিলেন। মা এখানে জগদ্ধাত্রীর দেবী পূজা শুরু করেছিলেন। স্বামী সরদানন্দ ‘পুণ্য পুকুর’ এর পশ্চিম দিকে একটি জমি বেছে নিয়েছিলেন, ‘পুণ্য পুকুর’, মা সারদার নিয়মিত ব্যবহারের করতেন। নূতন-বাড়ি নামে পরিচিত একটি পৃথক বাড়ি ১৯১৫-১৬ সালে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক ভক্ত এবং পবিত্র মাকে আরও ভাল ভাবে থাকার ব্যবস্থা করার জন্য নির্মিত হয়েছিল।

পুরনো বাড়ি - মাতৃমন্দিরের মূল ফটক থেকে বেরিয়ে বাঁদিকে পড়ে সারদা মায়ের পুরনো বাড়ি । এখানে ১৯১৫ সালের আগে পর্যন্ত্য তিনি থাকতেন । নতুন বাড়ির মতো এখানেও খড়ের চাল দিয়ে ঢাকা কয়েকটা মাটির বাড়ি রয়েছে ।

★3>মায়ের নতুন বাড়ি ::: : --

এই নতুন বাড়ীটিও মঠের মধ্যে অবস্থিত। প্রবেশদ্বারের পাশে একটা ছোট গেট দিয়ে এই বাড়ীতে প্রবেশ করতে হয়।  এই বাড়ীতেই  সারদাদেবী  ১৯১৫ সাল থেকে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত বসবাস করতেন। এই বাড়ীতেও  তিনি অনেক ভক্তদের দীক্ষা দিয়েছিলেন।

নতুন বাড়ি - মাতৃমন্দিরের বাঁদিক দিয়ে কিছুটা হেঁটে গেলে একটা পাঁচিল ঘেরা জায়গার ভিতরে সারদা মায়ের নতুন বাড়ি । ১৯১৫ সাল থেকে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত্য তিনি এখানে থাকতেন । রামকৃষ্ণের বাড়ির মতো এখানেও কয়েকটা খড়ের চাল দিয়ে ঢাকা মাটির কুঁড়েঘর আর একটা উঠোন রয়েছে ।

★4>পুন্যিপুকুর ::::----

মাতৃমন্দিরের ঠিক উল্টোদিকে এই পুকুরটি আছে। সারদাদেবী এই পুকুরটি ব্যবহার করতেন।  তাই ভক্তদের কাছে পুকুরটি খুবই পবিত্র।

পুন্যিপুকুর - মাতৃমন্দিরের ঠিক সামনেই পুন্যিপুকুর । সারদা মা এই পুকুর ব্যবহার করতেন । পুকুরটা বিশাল বড়, এবং চারদিক রেলিং দিয়ে ঘেরা ।

★5>ধর্মঠাকুরের মন্দির :::---

পুন্যিপুকুরের পাশেই এই মন্দিরটি আছে। মন্দিরটি সারদা মায়ের পরিবারের গৃহদেবতা  সূর্যনারায়ণ ধর্মঠাকুরের মন্দির। এখানে নিয়মিত তাঁর পুজো করা হয়।  

★6>সিংহবাহিনী মন্দির ::::---

মঠের কাছেই এই মন্দিরটি অবস্থিত।  সিংহবাহিনী হল মা দুর্গার একটি রূপ এবং এটি  জয়রামবাটি গ্রামের দেবতা। মন্দিরটিতে সিংহবাহিনী, মহামায়া, চন্ডী  ও মনসার ধাতব মুখ রয়েছে, তবে কোনো সম্পূর্ণ মূর্তি নেই। সারদা দেবী বহুবার এই মন্দিরে পুজো দিয়েছিলেন। এখানকার লোকেরা এই মন্দিরের মাটিকে খুব পবিত্র হিসেবে ধরে এবং তারা এই মাটিকে ঔষধ হিসাবেও ব্যবহার করে থাকে।
শ্রী শ্রী সিংহবাহিনী মন্দির
পবিত্র মা, মা সিংহবাহিনীর পূজা করেছিলেন।শ্রী শ্রী মায়ের মতে দেবী এবং তাঁর দুই সঙ্গী, শ্রী মহামায়া এবং চন্ডী ভীষণ জাগ্রত। এই মন্দিরে আধ্যাত্মিক সংবেদন ও  ঐতিহাসিক তরঙ্গ অনুভব করতে পারেন।

★7>. আমোদার ঘাট ::---

আমোদার ঘাট এবং মায়ের ঘাট
আমোদর, পবিত্র প্রশাখা নদী। এই নদীতেই পবিত্র মা, গোলাপ মা, যোগিন মা এবং অন্যান্য মহিলা ভক্তদের সাথে স্নানের জন্য আসতেন। মা, পবিত্র আমোদরকে গঙ্গা বলে সম্বোধন করেছিলেন এবং চন্ডী পাঠ , গীতা পাঠ ও ধ্যানের ক্ষেত্রেও তীরে বেশিরভাগ সময় ব্যয় করতেন। বর্তমানে শ্রী শ্রী মা স্নান করতেন এমন এক জায়গায় স্নানঘাট নির্মাণ করা হয়েছে। মায়ের ঘাট হল মন্দিরের কাছে একটি বাস স্টপ এবং এটি ‘মায়ের দিঘির’ তীরে অবস্থিত যেখানে মা তার বাল্যকালে ঘাস কাটতে আসতেন।

★8> শিহড়:::---

জয়রামবাটি থেকে শিহড় গ্রাম তিন কিলোমিটার দূরে। শ্রী শ্রী ঠাকুরের প্রিয় ভাতিজা শ্রী হৃদয়রাম মুখোপাধ্যায় এখানে থাকতেন এবং শ্রী রামকৃষ্ণ রচিত শ্রী চন্ডীর একটি পাণ্ডুলিপি এখনও অবধি এখানে সংরক্ষিত আছে।

★9>কোয়ালপাড়া:::--

জয়রামবাটীর যেদিকে কামারপুকুর তার বিপরীত দিকে আরও ৭.৫ কিলোমিটার গেলে পড়ে কোয়ালপাড়া আশ্রম । জয়রামবাটী থেকে আমরা রওনা দিলাম এই আশ্রমের উদ্দেশ্যে
কলকাতা যাতায়াতের সময়ে এখানে সারদা দেবী বিশ্রাম করতেন । পরবর্তীকালে স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়ে এই আশ্রম উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করে । এখানে একটা সাইনবোর্ড থেকে জানতে পারলাম যে স্বদেশী আন্দোলনের সময়ে এই আশ্রম বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে । এই আশ্রমে সারদা মায়ের উদ্যোগ চরকা কেটে কাপড় বোনার কাজ শুরু হয় ।

আশ্রম থেকে বেরোনোর সময়ে দেখলাম এখানে একটা আমগাছ আছে, যেটা সারদা মায়ের আম খেয়ে ফেলে দেওয়া আঁটি থেকে তৈরি হয়েছে ।

শ্রীশ্রী মা সারদা-মা  সকলের 'মা' –
   একটু সত্য কথা গল্পে বলি---
     ___________________
একবার শ্যামাসুন্দরীদেবী তাঁর বড় কন্যা সারদার সাথে দক্ষিণেশ্বরে  এবং কামারপুকুরে গেছিলেন। কারণ ঠাকুরের অস্বাভাবিক অবস্থা কথা শুনে 'ক্ষ্যাপা জামাইয়ের' জন্য মনে কষ্ট পেতেন।
সেই কারনে  'ক্ষ্যাপা জামাইকে' চাক্ষুষ
দেখার ইচ্ছায় গিয়ে ছিলেন ।
তিনি তাঁর 'ক্ষ্যাপা জামাইয়ের' জন্য মনে মনে কষ্ট পেতেন, আর মা সরদার দুঃখময় জীবনের কথা চিন্তা করে প্রায়ই ক্ষোভ প্রকাশ করতেন। জামাই গদাধর একদিন জয়রামবাটীর শ্বশুরালয়ে অবস্থান কালে বাড়ির উঠানের একপাশে সজনে গাছের তলায় বসে আপনমনে গান গাইছিলেন,শ্যামাসুন্দরীদেবী 'ক্ষ্যাপা জামাইর' গান শুনছিলেন---
'ক্ষ্যাপা জামাই' গাইছিলেন―---
       'যার নাকেতে নাক ফুল,
           দু হাত মাপা চুল
তার সঙ্গে পাতাব আমি সজনাফুল।
           বড় সাধ আছে মনে,
সজনা ফুল পাতাব শাউড়ী তোর সনে'।।
গান শুনে শ্যামাসুন্দরীদেবী ভাবছিলেন
"এমন পাগল জামাইয়ের হাতে সারদাকে সঁপে দিলুম যে, ঘর-সংসার সুখভোগ তার কোন দিনও হোলোনি। কাকে নিয়ে হবে ? সে পাগল তো দিনরাত নিজের ভাবেতেই মত্ত হয়ে আছে। আমার মেয়ের সুখশান্তির কথা ভাববার অবসার কোথায় ? এত দুঃখও ছিল মেয়েটির কপালে!"

বিয়ের পর কন্যার সন্তানাদি না হওয়ায় শ্যামাসুন্দরীদেবী দুঃখ করতেন। ঠাকুর একদিন সেই কথা শুনে বললেন, তাঁর কন্যার এত সন্তানাদি হবে যে 'মা'-ডাক শুনতে শুনতে অস্থির হয়ে পড়বে। পরে কিন্তু জগজ্জননীরূপে সারদা-মা ভক্ত সন্তানদের 'মা' 'মা' ডাক শুনে বিহ্বল হয়ে পড়তেন।

ঠাকুরের সাথে মা-সারদার যেদিন বিয়ে হল, সেদিন রাতে বাসর-ঘরে সকলের অনুরোধে ঠাকুর গান গাইলেন, কিন্তু সেই গান ছিল 'শ্যামাসঙ্গীত'। তাঁর সুমধুর কণ্ঠের গান শুনে শাশুড়ি-মা আর স্থির থাকতে পারেননি। রান্নাঘরের সব কাজ ফেলে জামাইয়ের গান শুনতে বাসর-ঘরে উপস্থিত হয়েছিলেন।

দুঃখ করে মাঝে মাঝে শ্যামাসুন্দরীদেবী বলতেন– মানুষ 'মেয়ে-জামাই' নিয়ে কত আমোদ-আহ্লাদ করে, ভাল ভাল খেতে পরতে দেয়। "আমার ভাগ্যে তা আর হোলোনি।"

মা-জননীর মুখে এসব কথা বার বার শুনে সারদা-মা একদিন উগ্রমূর্তি ধরে তাঁকে বললেন– "দ্যাখো, বার-বার আমার কাছে তুমি 'পাগল' 'পাগল' কোরোনি বলে দিচ্ছি। 'একবার পতিনিন্দায় দেহ ছেড়েছি... আবার কি তুমি তাই দেখতে চাও" ? সারদা-মায়ের এই উত্তরে শ্যামাসুন্দরীদেবী অবাক হয়ে গেলেন। এরপর থেকে তিনি আর কোনদিনও তাঁর কন্যার সামনে জামাইয়ের নিন্দা করেননি।
       ( গল্পটি সংগৃহিত )
===========================
    <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->
==========●●●●=============
■■■■■■■■■■■■■■■■■■■

   || কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ ||
                 <----আদ্যনাথ--->
জয়রামবাটিতে তিন রাত্রি তিন দিন থেকে     মনে এক অদ্ভুর শান্তি ও আনন্দ উপভোগ করে চতুর্থ দিন আরও কিছু পাবার লোভে একটি টো টো ভাড়া করে কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।

শ্রীরামকৃষ্ণ মঠ ::-- মঠের মেইন গেট দিয়ে ঢুকে ভিতরে ঢোকার সময়ে একটা আমগাছ দেখা যায়, যেটা  ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণদেবের লাগানো । সেই কারণে সকল ভক্তমানুষের কাছে এই গাছটি একটি ধর্মীয় জিনিস, সেই কারণে সকলেই চায় গাছে একটু হাত দিয়ে ছুঁয়ে প্রণাম করতে।
মঠ কর্তৃপক্ষ তাই গাছের চারি পাশে একটা লোহার জাল লাগিয়ে দিয়েছে যাতে করে কেউ গাছে হাত দিতে না পারে।

মঠের ভিতরে দ্বিতীয় দ্রষ্টব্য হল শ্রী শ্রী ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের মন্দির বা মঠ । এই মঠটির উচ্চতা প্রায় ৪৫ ফুট। এর ভিতরেই ঠাকুর শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরম হংস দেবের একটি মূর্তি রয়েছে, এই মূর্তিটির পরিকল্পনা করে ছিলেন নন্দলাল বসু। এই জায়গাতেই শ্রীশ্রী ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব জন্মেগ্রহণ করেছিলেন।
কামারপুকুরের খ্যাতি শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্ম ভূমি ও বাসভূমি হিসাবে।
সারা বছরই এই স্থান দর্শনের জন্য দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ পূর্ণার্থী আসেন। শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের পূর্বাশ্রমের নাম গদাধর চট্টোপাধ্যায় জন্ম
হুগলি জেলার কামারপুর গ্রামে,
১৮ই ফেব্রুয়ারি,১৮৩৬, পিতা ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায়, মা চন্দ্রমণি দেবী, ভাই রামকুমার, স্ত্রী শ্রী শ্রী সারদামনি,
ঠাকুর ১৬ আগস্ট, ১৮৮৬ ইলোক ত্যাগ করে পরলোক গমন করেন। কাশীপুর উদ্যান বাটিতে। ঠাকুর ৫০ বৎসর বয়সে মহাসমাধি লাভ করেন।

কামার পুকুরের এই মন্দিরের সঙ্গে লাগোয়া শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ প্ৰমহংসদেবের বাড়ি । আগেকার দিনে গ্রামবাংলায় যেরকম বাড়ি দেখা যেত, একেবারে সেই রকমের বাড়ি । খড়ের চাল দিয়ে ঢাকা মাটির কুঁড়েঘর । এইরকম কয়েকটা কুঁড়েঘর আর মাঝখানে উঠোন নিয়ে ছিল রামকৃষ্ণদেবের পিতা ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি । এখানে রামকৃষ্ণের ঘর আর ওনার দাদার ঘর ছাড়াও দেখা যায় ওনাদের গৃহদেবতা রঘুবীরের
মন্দির।
শ্রীরামকৃষ্ণদেবের ঘরটাকে বর্তমানে বইপত্র রাখার কাজে হিসাবে ব্যবহার করা হয় আর ভিতরে সাধারণ দর্শনার্থীদের
প্রবেশ নিষেধ।
এ ছাড়া মঠের ভিতরে আছে অফিস ঘর
বা মঠকার্যালয়।
আর আছে যুগি শিবের মন্দির । যুগিবংশীয় রামানন্দ যুগি এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন । এর বৈশিষ্ট্য হল শ্রীরামকৃষ্ণ জন্মানোর আগে নাকি ওনার মা চন্দ্রামণি দেবী এই শিবের থেকে স্বপ্ন পেয়ে ছিলেন।

কামারপুকুর  মঠের খোলাবন্ধের সময় নিম্নরূপ -
এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর ঃ--
ভোর ৫:৩০ থেকে বেলা ১১:৩০ পর্যন্ত্য ও বিকেল ৪ টে থেকে রাত ৮:৩০ পর্যন্ত্য ।
অক্টোবর থেকে মার্চ ঃ---
সকাল ৬ টা থেকে বেলা ১১:৩০ পর্যন্ত্য ও বিকেল ৩:৩০ থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত্য ।
এখানে ভিতরে ফোটো তোলা বারণ, সেটা বিভিন্ন জায়গায় লেখা আছে আর সেইসঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীরা সেই বিষয়ে কড়া নজর রাখে ।

আমরা সকাল ৯টায় কামারপুকুর  মঠে পৌঁছে প্রথমেই গেলাম মঠের অফিসে।
মহারাজকে অনুরোধ করে এক রাত্রি থাকার জন্য অতিথি শালায় একটি ঘর পেলাম।
ঘরে ব্যাগ রেখে মন্দির ও মঠ ঘুরেদেখে
ঠাকুরের মন্দিরে একটু বসে একটু ধ্যান জপ করে মনে এক অসীম আনন্দ উপভোগ করলাম।
তার পরে প্রসাদ পাবার জন্য ১১:৩০ মিনিটের লাইনে দাঁড়ালাম।
এখানেও সেই এক রকমের ব্যবস্থা।
সারি সারি স্টিলের বেঞ্চ ও স্টিলের টেবিল। স্টিলের থালা স্টিলের গ্লাস।
খাবার পরিবেশন করার জন্যও একই রকমের ব্যবস্থা বড় বড় ড্যাগ গুলি চাকাওয়ালা ঠেলা গাড়িতে বসিয়ে সুন্দর ভাবে পরিবেশনের ব্যবস্থা।
মনে হল হাজার খানিক লোক একসাথে বসে এখানে প্রসাদ গ্রহণ করতে  পারবে।
           
যাইহোক, আমরা হাত-মুখ ধুয়ে একটা বেঞ্চে এসে বসলাম প্রসাদ পাবার জন্য। প্রথমেই গরম গরম ভাত, শুক্তো,ডাল, দুই রকমের তরকারি,  চাটনি, মিষ্টি ,এবং সবশেষে পায়েস পরিবেশন করা হল।  সবকটা রান্নাই স্বাদে অতুলনীয়। 
এর পরে আমরা একটা টোটো ভাড়া করে
বেরিয়ে পড়লাম আসে পাশের দর্শনীয় স্থান গুলি দেখতে।

১৯৫১ সালে রামকৃষ্ণ মঠের সন্ন্যাসীরা এবং রামকৃষ্ণ মিশনের সদস্যরা একত্রিত হয়ে কমার পুকুরে ‘রামকৃষ্ণ মঠ’ প্রতিষ্ঠা করেন। এই রামকৃষ্ণ মঠ পরিদর্শনে সারা পৃথিবী থেকে প্রায় হাজার হাজার মানুষ এখানে আসেন।

উনিশ শতক ভারতবর্ষের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায়। এই সময় কালই আমাদের পরাধীনতার  নাগপাশ থেকে মুক্তি দিয়েছিল।  এই সময়ে বাংলার ধর্ম, সাহিত্য এবং শিল্পকলায় যথেষ্ট প্রভাবিত
হয়েছিল।
এহেন মহা স্বরনীয় সময় অর্থাৎ ১৮৩৬ সালের ১৮ই ফ্রেব্রুয়ারী হুগলী  জেলার আরামবাগ মহকুমার গোঘাট থানার অন্তর্গত ছোট্ট  গ্রাম সুখলালগঞ্জে
(সুখলালগঞ্জই বর্তমানের  কামারপুকুর)
ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায়ের এবং  চন্দ্রমণি দেবীর চতুর্থ ও শেষ  সন্তান , বালক সন্তান জন্মগ্রহণ করেন, তার নামকরণ করাহয়েছিল গদাধর।
কামারপুকুর একটি ছোট্ট  গ্রাম হলেও
প্রাচীন গ্রন্থে কামারপুকুর নামে কোন গ্রামের কোনো নাম পাওয়া যায় না।

হুগলী  জেলার উত্তর পশ্চিমাংশে যেখানে বাঁকুড়া ও মেদিনীপুর জেলা মিশেছে, ঠিক সেই জায়গাতেই কামারপুকুর গ্রামটি অবস্থিত। শ্রী রামকৃষ্ণের স্মৃতি শ্রীপুর, মুকুন্দপুর ও কামারপুকুর পাশাপাশি অবস্থিত এই তিনটি গ্রামেই বিস্তৃত আছে। এই তিনটি গ্রামই ঠাকুরের বাল্য লীলাক্ষেত্র ছিল।  এই  গ্রাম তিনটিকে একত্রে বৃহৎ কামারপুকুর হিসেবে বর্তমানে ধরা হয়।

এইসব গ্রামের অধিবাসীরা বরাবরই খুব ধার্মিক প্রকৃতির । সেই প্রাচীনকাল থেকেই  প্রায় প্রতিটি ঘরেই নানান দেব-দেবীর পূজার্চনা করার রীতি রেওয়াজ ছিল আজও আছে। শ্রী রামকৃষ্ণদেবের পিতা শ্রী ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় তাঁদের পৈতৃক ভিটা থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর এই কামারপুকুরে এসে বসবাস শুরু করেন। ক্ষুদিরামের পরিবার বরাবরই শ্রী রামচন্দ্রের উপাসক ছিলেন। এই গ্রামটি ঠাকুর শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণের জন্মস্থান বলে তাঁর অনুরাগীদের কাছে খুবই পবিত্র স্থান। আজ সারা পৃথিবীর মানুষই এই গ্রামটির সাথে পরিচিত।

শ্রী শ্রী সারদা মায়ের জীবদ্দশাতেই কামারপুকুরে শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণের মৃত্যুর পর তাঁর জন্মভিটায় একটা স্মৃতি মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ শুরু হয়েছিল। রামকৃষ্ণ মিশনের তৈরী করা এই মন্দিরটি ১৯৫১ সালে উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া কামারপুকুরে ও তার আশপাশে আরো বহু মন্দির রয়েছে,

কামারপুকুরের দর্শনীয় স্থান গুলি::---
★1>রামকৃষ্ণ মঠ :::--
  ★2>ঠাকুরের বাসভবন:; :--
★3>রঘুবীরের মন্দির ::---
★4>আম্রবৃক্ষ :::--
★5>যুগিদের শিবমন্দির :::---
★6>হালদার পুকুর:::---
★7>লক্ষ্মীজলা :;;--
★8>ঠাকুরের পাঠশালা::---
★9>লাহাদের চণ্ডীমণ্ডপ :::---
★10>লাহাদের বাড়ি ::----
★11>পার্বতীনাথ মন্দির ::::---
★12>দামোদর বা বিষ্ণুমন্দির ::::----
★13>পাইনবাড়ি : :::---
★14>চিনু শাখারীর ভিটা :::;----
★15>শান্তিনাথ শিবমন্দির :::----
★16>গোপীশ্বরের মন্দির :::---
★17>ধনীমাতার মন্দির ::::----
★18>ভূতির খালের শ্বশান :::;--
★19>কামারপুকুর'::--
★20>আনুড়ের বিশালাক্ষী মন্দির::--
★21>মানিক রাজার প্রাসাদের ভগ্নাবশেষ:::---

কামারপুকুরের বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান পায়ে হেঁটেই দেখতে হয়।
তার কারণ এক একটি জায়গা এমনই সরু গলির মধ্যে যে সেখানে গাড়ি ঢুকবে না । তবে সকল জায়গা গুলি খুবই কাছে কাছে।
কোনও জায়গাই বিশাল কিছু দূর নয় যে হেঁটে ঘোরা অসম্ভব, তবে সঙ্গে বাচ্চা বা বয়স্ক লোক থাকলে একটু মুস্কিল হলেও হতে পারে।

তবে মঠের গেটের সামনে টোটো পাওয়া যায় যারা এই সবক'টা জায়গা ঘুরিয়ে দেখিয়ে দেয় । ভাড়া ১০০ টাকার মতন । একটু দরদাম করতে হয়।

★1>রামকৃষ্ণ মঠ :::--

ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণদেব বসতবাড়ির ঢেঁকিশালে ভূমিষ্ঠ হয়েছিলেন।  ঠিক সেই জায়গাতেই অর্থাৎ ঢেঁকিশালের  জায়গাতেই বর্তমান  মন্দিরটি নির্মিত হয়েছে।  মন্দিরটির ভিতরে একটা বেদী  রয়েছে।  বেদীটির ওপরেই প্রায় আড়াই ফুট উচ্চতায় ঠাকুরের সমাধিমগ্ন মর্মর মূর্তিটি প্রতিষ্ঠিত। মন্দিরটির সামনে একটা নাটমন্দিরও আছে।  রামকৃষ্ণ মিশন ঠাকুরদের এই  পৈতৃক জায়গা ছাড়াও পরবর্তীকালে আরো প্রায় ৮৪ বিঘা জমি কিনেছে। ১৯৪৯ সালের ১লা মার্চ বিখ্যাত শিল্পী শ্রী নন্দলাল বসু পরিকল্পিত স্মৃতি মন্দিরটির নির্মাণ শুরু হয়েছিল।

★2>ঠাকুরের বাসভবন:; :--

  দুটি কুটির নিয়ে তৈরী ঠাকুরের বাসভবন।  একটিতে ঠাকুর থাকতেন, আর একটি কুটিরে ঠাকুরের মধ্যমভ্রাতা রামেশ্বর তার পুত্র কন্যা নিয়ে বাস করতেন। এই কুঠিটি দ্বিতল। বর্তমানে এই দ্বিতল কুঠিটি মন্দিরের ভাড়ারঘর হিসেবে ব্যৱহৃত হয়।  ঠাকুরের বাসগৃহটি যথাযথ ভাবে একইরকম রেখে সুরক্ষা করা হয়েছে।  এই গৃহে ঠাকুরের একটা প্রতিকৃতিও  রাখা আছে।

★3>রঘুবীরের মন্দির ::---

ঠাকুরের বাসগৃহের সামনে এই মন্দিরটি অবস্থিত। মন্দিরে রঘুবীর শিলা, শীতলাদেবীর ঘট, রামেশ্বর শিব পূজিত হয়।  এছাড়া ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্রী লক্ষ্মীদেবীর গোপাল ও নারায়নশীলার পুজোর  ব্যবস্থা রয়েছে।  ঠাকুরের উপনয়নের পর ঠাকুর এখানে রঘুবীরের পুজো করেছিলেন। বর্তমানে এই মন্দিরটি রামেশ্বরের বংশধরগণের তত্ত্বাবধানে আছে।  তারাই এখানকার পূজার্চ্চনা করে থাকে। মঠ থেকে পূজা ও ভোগের সব সামগ্রি দেওয়া হয়।

★4>আম্রবৃক্ষ :::--

ঠাকুরের বাস্তুভিটার সদর ঘরের পূর্বদিকে এই আম্রবৃক্ষটি  আছে।  ঠাকুর স্বহস্তে গাছটি রোপন করেছিলেন।

★5>যুগিদের শিবমন্দির :::---
ঠাকুরের বাসভবনের উত্তরদিকে রাস্তার পাশে এই মন্দিরটি আছে। যুগিবংশের রামানন্দ যুগি মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পূর্বমুখী আটচালা-বিশিষ্ট মন্দিরটি ছোটর ওপর বেশ সুন্দর। মন্দিরটির গায়ে পোড়া মাটির কাজ করা কিছু শিল্পকলাও আছে। এই মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত শিবের নাম শান্তিনাথ।.বর্তমানে মন্দিরটি রামকৃষ্ণ মঠের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এখানকার এক  মহিলার কাছে শুনলাম এই মন্দিরেই ঠাকুরের মাতৃদেবী চন্দ্রমণি দেবী  প্রার্থনা করেছিলেন। মন্দিরটির  থেকেই এক দিব্যজ্যোতি চন্দ্রমণি দেবীর  দেহে প্রবেশ করেছিল। এই ঘটনার পরেই ঠাকুরের আবির্ভাব হয়েছিল।

★6>হালদার পুকুর:::---

মঠের গেটের ঠিক উল্টোদিকে একটা পুকুর আছে, সেটার নাম হালদারপুকুর ।
যুগিদের শিবমন্দিরের উত্তরদিকে রাস্তার ধারে এই বিশাল পুকুরটি রয়েছে। পুকুরটিকে হালদার পরিবারের ছোট ছেলে খনন করেছিলেন। ঠাকুরের পিত-মাতা ও ঠাকুর স্বয়ং পুকুরটি ব্যবহার করতেন। এই পুকুরে রামকৃষ্ণদেব স্নান করতেন ।
পরবর্তীকালে মা সারদাদেবীও পুকুরটি ব্যবহার করেছেন। পুকুরটি রামকৃষ্ণ মঠ  কিনে নিয়েছেন এবং তারাই পুকুরটির  রক্ষনাবেক্ষন করেন।
পুকুরটার একটা বৈশিষ্ট্য হল এর আকৃতি চৌকো,

★7>লক্ষ্মীজলা :;;--

এই  জমিটিকে ভিত্তি করেই কামারপুকুর গ্রামে ক্ষুদিরামের বসবাসের সূচনা হয়েছিল।  হালদারপুকুরের পশ্চিমদিকে জমিটির অবস্থান। ক্ষুদিরাম এই জমিতেই চাষবাস আরম্ভ করেছিলেন। বর্তমানে মঠের কৃষিবিভাগ এই জমিতেই চাষ করে। এখানকার ধানেই আজও রঘুবীরের সেবা হয়ে থাকে।

★8>ভূতির খালের শ্বশান :::;--

শ্রী রামকৃষ্ণ মন্দিরের পশ্চিমপারে এই শ্বশানটি ছিল। এই শ্বশানের বটবৃক্ষের তলায় ঠাকুর বহুবার ধ্যানে বিভোর হয়েছিলেন। এখানে ঠাকুর স্বহস্তে একটা বেলগাছ রোপন করেছিলেন, কিন্তু তা আজ আর নেই। বর্তমানে  শ্বশানের মাঠটি খেলার মাঠে পরিণত হয়েছে।  এই মাঠটির পশ্চিমদিকে শিশু উদ্দ্যান আর দক্ষিণদিকে যাত্রীনিবাস তৈরী করা হয়েছে। ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত এই শ্বশানে প্রতিবছর শ্রী রামকৃষ্ণ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। শুনলাম এখানেই ১৯৩৬ সালে বেলুড় মঠ  শ্রী রামকৃষ্ণের জন্মশতবর্ষের  সূচনা করেছিলেন।


★9>ঠাকুরের পাঠশালা::---

রামকৃষ্ণ পাঠশালা : রামকৃষ্ণ মন্দিরটির পূর্বদিকে লাহাবাবুদের চন্ডীমণ্ডপটি রয়েছে। এই চণ্ডীমণ্ডপের ঠিক সামনে অবস্থিত আটচালাটিই ঠাকুরের পাঠশালা। এই পাঠশালাতেই বালক গদাধর পাঁচ বছর বয়সে ভর্তি হন। সেই আমলে আটচালাটি খড়ের ছাউনি দেওয়া ছিল।  পরে টিন দিয়ে ছাউনি দেওয়া হয়।  ছাপান্নটি কাঠের খুঁটি দিয়ে তৈরী সাবেক আটচালার কাঠামোটি। এখনও আটচালাটি অক্ষুন্ন আছে। এই পাঠশালাতেই গদাধরকে পড়িয়েছিলেন যদুনাথ সকার, রাজেন্দ্রনাথ সরকার এবং তাঁর  সহপাঠী ছিলেন গঙ্গাবিষ্ণু ও হারাধন। শিশু কালে রামকৃষ্ণ দেব অর্থাৎ গদাধর  - লাহাবাবুদের বিষ্ণুমন্দিরের লাগোয়া এই পাঠশালায়  পড়তে যেতেন ।
গদাধর নাকি পাঠশালায় পড়তে না গিয়ে এই মন্দিরে এসে মা-কালীর মূর্তি আঁকতেন আর ধ্যান করতেন।
মন্দিরের লাগোয়া পাঠশালাটা বেশ সুন্দর। পাঠশালার ঠিক পাশে একটা রাসমন্দির আছে যেখানে রাধাকৃষ্ণের মূর্তি রয়েছে ।

★10>গোপীশ্বরের মন্দির :::---

ঠাকুরের পাঠশালার পূর্বদিকে এই প্রাচীন মন্দিরটি অবস্থিত। ঠাকুরের পিতা  ক্ষুদিরামের আশ্রয়দাতা সুখলাল গোস্বামীর পূর্বসূরি গোপিলাল গোস্বামীর নামানুসারেই মন্দিরটি পরিচিত। মন্দিরটিতে শিবের অধিষ্ঠান আছে। শুনলাম এই মন্দিরের সাথে পূর্বে একটা নাটমন্দির ছিল, যা এখন আর নেই।
গোপেশ্বর শিবমন্দির::--

এরপর পথে দেখলাম গোপেশ্বর শিবমন্দির । এখানে রামকৃষ্ণ দেবের (গদাধরের) মা চন্দ্রামণি দেবী আসতেন । তারপরে আরও খানিকটা এগিয়ে আমরা পৌঁছলাম ভবতারিণী মন্দির ।

★11>লাহাদের চণ্ডীমণ্ডপ :::---

এই চন্ডীদালান বা দুর্গামন্দিরটি পূর্বমুখী। ১২৫৭ বঙ্গাব্দে ধর্মদাস লাহা মন্দিরটি পাকা করেন।  বহু প্রাচীনকাল থেকেই এই মন্দিরে দুর্গাপুজো হয়ে আসছে।
লাহাবাবুদের বিষ্ণুমন্দির - এরপর লাহাবাবুদের বিষ্ণুমন্দির । ধর্মদাস লাহা ছিলেন এই বাড়ির মালিক । এনার সঙ্গে ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায়ের বিশেষ বন্ধুত্ব ছিল । এই মন্দিরটা দোতলা । এর নিচে বিষ্ণুর মন্দির আর উপরে দুর্গার মন্দির ।

★12>লাহাদের বাড়ি ::----

ধর্মদাস লাহা ছিলেন একজন ধনী ব্যক্তি।  তিনি ঠাকুরের পিতা  ক্ষুদিরামের পরম বন্ধু ছিলেন।  লাহা ও চট্ট্যোপাধ্যায় পরিবারের মধ্যেও একটা সুন্দর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। ঠাকুরের  বাসভবনের দক্ষিণদিকে লাহাদের প্রাসাদোপম অট্টালিকাটি রয়েছে।  ওই আমলে এই প্রাসাদের এক কোনে  একটা পান্থনিবাস ছিল। সেখানে সাধুরা এসে বিশ্রাম নিতেন। এই পান্থনিবাসেই ঠাকুর সাধুদের সেবা করতেন। শুনলাম পাঠশালায়ওর উত্তরদিকে লাহাদের একটা রাসমঞ্চ ছিল, যা  ধ্বংস হয়ে গেছে।

★13>ধনীমাতার মন্দির ::::----

লাহাবাবুদের চণ্ডীমণ্ডপের দক্ষিণদিকে এই মন্দিরটির অবস্থান। মন্দিরের বেদীতে একটা রঙিন পট এবং এই পটটির  পিছনদিকে ঠাকুরের একটা তৈলচিত্র রয়েছে। কলকাতার  বৌবাজারের রাধারমণ দাস মন্দিরটির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
ভবতারিণী মন্দির;::--

রামকৃষ্ণদেবের জন্মদাত্রী ধাইমা ধোনী কামারনির মন্দির যিনি তৈরি করেন, সেই রাধাচরণ দাসের ঠাকুরবাড়ি হল এই ভবতারিণীর মন্দির ।

ধোনী কামারনির মন্দির::--

ধোনী কামারনির মন্দির ও বাড়ি - এরপর ধোনী কামারনির মন্দির এবং তাঁর বাড়ি । আগেই বলেছি ধোনী কামারনি ছিলেন গদাধরের  ধাইমা । সেইসঙ্গে উপনয়ন (পৈতে)-এর সময়ে তিনি গদাধরের
ভিক্ষামা-ও ছিলেন । ধোনী কামারনি ছিলেন অব্রাহ্মণ আর সেইযুগে অব্রাহ্মণদের ভিক্ষামা হওয়া ছিল রীতিবিরুদ্ধ। কিন্তু গদাধর চেয়েছিলেন তাঁর জন্মদাত্রী ধাইমা-ই তাঁর ভিক্ষামা হবেন । গদাধরের দাদা রামকুমার এর তীব্র বিরোধিতা করলেও শেষপর্যন্ত্য গদাধরই জয় হয় । অব্রাহ্মণ ধোনী কামারনি হয়ে যান গদাধরের ভিক্ষামা ।


★14>পার্বতীনাথ মন্দির ::::---

এই আটচালা শৈলীর মন্দিরটি পাঠশালার উত্তর-পূর্ব কোনে অবস্থিত। ধর্মদাস লাহার কন্যা প্রসন্নময়ী দেবী মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন।  মন্দিরটির বিগ্রহ  বাবা মহাদেব।

★15>দামোদর বা বিষ্ণুমন্দির ::::----

জগন্নাথ লাহা মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন।  তিন খিলানযুক্ত  বারান্দাসহ মন্দিরটি ঠাকুরের মন্দিরের পূর্ব-দক্ষিণ কোনে অবস্থিত। মন্দিরটির গর্ভগৃহের  সিংহাসনে দামোদরশিলা  আসীন আছেন।

★16>পাইনবাড়ি : :::---

লক্ষ্মণ পাইনের বাড়ি::--
লক্ষ্মণ পাইনের বাড়ির লাগোয়া মন্দির
লক্ষ্মণ পাইনের বাড়ি - এই বাড়িতে শ্রীরামকৃষ্ণ( গদাধর) ছোটবেলায় যেতেন । এখানে রামায়ণ - মহাভারত ইত্যাদি পাঠ হত আর সেখানে গদাধর ভাবাবেশে উপস্থিত হতেন (এটা এই বাড়ির গায়ে লেখা আছে) । এই বাড়ির লাগোয়া একটা মন্দির  আছে, পাঠ সেখানেই হত ।
ঠাকুরের মন্দিরের  সতীনাথ পাইন ও দুর্গাদাস পাইনের বসতবাড়ীটি অবস্থিত।  এই বাড়ীতে গদাধরের অবাধ যাতায়াত ছিল। এই গৃহেই ঠাকুর তাঁতিবউ সেজে অন্দরমহলে প্রবেশ করে দুর্গাদাস পাইনের দর্পচূর্ণ করেছিলেন। এই বাড়ীরই সন্তান লক্ষণ পাইন যখনই কলকাতা থেকে দেশের বাড়ি ফিরতেন তখনই তিনি দক্ষিনেশ্বর মন্দিরে গিয়ে ঠাকুরের সাথে দেখা করে তবে ফিরতেন। এই বাড়িটির মধ্যেই পাইনদের একটা বিষ্ণুমন্দির ছিল। এই মন্দিরটির সামনেই কিশোর বয়সে ঠাকুর যাত্রায় শিবের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। ঠাকুরের স্মৃতিমাখা সেই বিষ্ণুমন্দিরটি আজ ধ্বংসপ্রাপ্ত।

দুর্গাদাস পাইনের বাড়ি ::--

- লক্ষ্মণ পাইনের বাড়ি থেকে ফেরার পথে   দুর্গাদাস পাইনের বাড়ি । কামারপুকুরে এসে রামকৃষ্ণের পিতা ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় প্রথম কিছুদিন এই লক্ষ্মণ পাইনের বাড়িতেই বাস করেন । এই বাড়িতে এখন দুর্গাদাস পাইনের বংশধররা থাকেন বলে এই বাড়ির ভিতরে ঢুকে দেখা যায় না ।

★17>চিনু শাখারীর ভিটা :::;----

ঠাকুরের বাসভবনের পূর্বদিকে সামান্য দূরে চিনু ওরফে শ্রীনিবাস শাঁখারির বসতবাড়ীটি রয়েছে। এই চিনু শাঁখারিই সর্বপ্রথম বালক গদাধরকে দেখে অবতাররূপে চিহ্নিত করেছিলেন।  ঠাকুরের সাথে তাঁর "চিনুদাদা"-র  খুব সুনিবিড় সম্পর্ক ছিল।  চিনুর বাস্তুভিটায় ঠাকুরের যাতায়াত ছিল।  বর্তমানে চিনুদের এই বাস্তুভিটাটিও  রামকৃষ্ণ মঠ  ও মিশনের অন্তর্ভুক্ত।

চিনু শাঁখারির-এই ব্যক্তিই নাকি গদাধরকে প্রথমবার ঈশ্বররূপে দেখতে পান । গদাধর এনাকে বলেছিলেন
ব্যাপারটা গোপন রাখতে কিন্তু সে কথা চিনু শাঁখারি চতুর্দিকে  রাষ্ট্র করে বেড়ায় ।
চিনু শাঁখারির বাড়ি আজ আর নেই, বাড়ির এলাকাটা মঠের সম্পত্তি আর তারা এটা পাঁচিল দিয়ে ঘিরে রেখেছে।

★18>শান্তিনাথ শিবমন্দির :::----

চিনু শাঁখারির বাড়ির পূর্বদিকে ঘোষপাড়ায় এই প্রাচীন  শিবমন্দিরটি রয়েছে। ভরত  ঘোষ ও তার পুত্র অর্জুন ঘোষ এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। টেরাকোটার কাজ করা মন্দিটির উচ্চতা ২৫ ফুট আর প্রস্থ ১৫ ফুট।  মন্দিরটিতে এখনও নিত্য পূজা ও শিবরাত্রির দিন বিশেষ পূজা করা হয়ে থাকে।

আজকে আমাদের কামারপুকুর দেখা শেষ । টোটো আমাদের মঠের সামনে নামিয়ে দিল । আমরা সন্ধ্যেয় মঠে পৌঁছে ঠাকুরের সন্ধ্যা আরতিতে যোগ দিলাম।
রাতের রুটি দুই রকম তরকারি মিষ্টি সুজির পায়েস।

পরেরদিন সকালে  চা মুড়ি তরকারি খেয়ে
স্নান করে মঠের অফিসে গিয়ে রুমের ছবি জমা দিয়ে, নগদ টাকায় ঠাকুরের পুজোর  জন্য কিছু জমা দিয়ে দিলাম।
ব্যাগ অফিসে রেখে দিয়ে আবার একটু ঘুরতে বেরিয়ে পড়লাম ।
আজ প্রথমে দেখলাম কামার পুকুর,
আনুড়ের বিশালাক্ষী মন্দির এবং মানিক রাজার প্রাসাদের ভগ্নাবশেষ।

★19>কামারপুকুর'::--
- এরপর আমরা গেলাম 'কামারপুকুর' দেখতে । এটা একটা পুকুর আর এই পুকুরের নামেই গ্রামের নাম । পুকুরটার কোনও আলাদা বৈশিষ্ট্য নেই, এখনও এর জল স্বাভাবিক জনজীবনে ব্যবহার হয় ।

★20>আনুড়ের বিশালাক্ষী মন্দির::--

কামারপুকুরের খুব কাছে আনুড় বিশালাক্ষী মন্দির আছে । রামকৃষ্ণদেব ছোটবেলায় এখানে যাতায়াত করতেন ।
কামারপুকুর-জয়রামবাটী রোড থেকে ২.৮ কিলোমিটার ভিতরে গেলে পড়ে আনুড় বিশালাক্ষী মন্দির । এই মন্দিরে রামকৃষ্ণ আসতেন । মন্দিরটা খুব একটা বড় নয় তবে চারপাশটা খুব সুন্দর । আমরা এখানে কিছুক্ষণ থেকে আবার ফেরার পথ ধরলাম ।

★21>মানিক রাজার প্রাসাদের ভগ্নাবশেষ;;--

মানিক রাজার প্রাসাদ - কামারপুকুর থেকে আমাদের গন্তব্য জয়রামবাটী । কামারপুকুর থেকে জয়রামবাটীর দূরত্ব ৭.৬ কিলোমিটার  তবে পথে আরেকটা দেখার মতো জায়গা আছে । সেটা হল মানিক রাজার প্রাসাদ । কামারপুকুর থেকে কামারপুকুর-জয়রামবাটী রোড ধরে ১.৫ কিলোমিটার মতো গিয়ে একজায়গায় মেইন রোড ছেড়ে একটা মাটির রাস্তা ধরে ৭০০ মিটার মতো গিয়ে একজায়গায় আমরা গাড়ি রাখলাম । এই মাটির রাস্তাটা একেক জায়গায় বেশ সরু আর বর্ষার সময়ে কাদা হয়।

তাই বর্ষায় এ'পথে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা না করাই ভালো । গাড়ি একজায়গায় রেখে আমরা বাকি পথটা হেঁটে গেলাম মানিক রাজার প্রাসাদ দেখতে ।

মানিক রাজা ছিলেন এই অঞ্চলের জমিদার এবং একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি । এনার বাড়িতে রামকৃষ্ণের যাতায়াত ছিল । বাড়ি বলতে এখন আর কিছুই নেই, একটা বড় বাড়ির ভগ্নাবশেষ । তবে মাঠের মাঝখানে রাজবাড়ির মূলফটকটা আজও দাঁড়িয়ে আছে । জায়গাটা কোনওভাবে সংরক্ষণও করা হয় না, সেই কারণে  এর রাজ বাড়ির ইতিহাস সম্পর্কে  কিছুই জানতে পারলাম না ।

এই মন্দিরগুলো ছাড়াও কামারপুকুর আরো কয়েকটা মন্দির রয়েছে।
সেগুলি পরে দেখার চিন্তা করে মন্দিরে ফিরে গেলাম। এখন বেলা ১১:30 বাজে
সেই কারণে দুপুরের ভোগ প্রসাদ গ্রহণ করার জন্য মঠে ফিরে আসলাম।
প্রসাদ গ্রহণ করে  বাড়ির দিকে রওনা দিলাম। বাসে করে তারকেশ্বর স্টেশন পৌঁছে লোকাল ট্রেন ধরে হাওড়া স্টেশন পৌঁছে গেলাম।
     <-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->
=========================

Monday, March 13, 2023

95>|| মিশরকে একটু জানার চেষ্টা।

95> মিশরকে একটু জানার চেষ্টা।

1> মিশরকে একটু জেনেনি।

2>মিশরের পিরামিড নিয়ে দুচার কথা।

3>আমার দেখা মিশরের মন্দির গুলি।             যেটুকু বুঝেছি সেই টুকুই লিখছি।

4>কর্ণাক টেম্পল:

5>ভ্যালি অফ দা কিং।-
6>আবু সিম্বেল মন্দির’।
7>আবু আল-আব্বাস আল-মুরসি মসজিদ।
8>তুতানখামেন::
9>আলেক্সান্দ্রিয়া কপ্টিক।

 10>আলেকজান্দ্রিয়ার প্রাচীন গ্রন্থাগার  

11>আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর:।       

12>স্ট্যানলি সেতু।      
13>কম এল শোকাফার ধ্বংসাবশেষ।   

14>বিখ্যাত পম্পি পিলার।      
15>|| রোমান থিয়েটার আলেক্সান্দ্রিয়া |

===========================

★1>মিশরকে একটু জেনেনি।
মিশর  Egypt-----উত্তর আফ্রিকার আরব দেশ টির নাম  মিশর।
এটি আরব প্রজাতন্ত্রের এক দেশ,  উত্তর আফ্রিকার একটি প্রাচীন রাষ্ট্র। দেশটির বেশির ভাগ অংশ আফ্রিকাতে অবস্থিত, কিন্তু এর সবচেয়ে পূর্বের অংশটি,হোল সিনাই উপদ্বীপ। সিনাই উপদ্বীপ আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে স্থলসেতুর মত কাজ করে। মিশরের অধিকাংশ এলাকা মরুময়। নীলনদ দ্বারা  দেশটি দুইটি অসমান ভাগে বিভ্ক্ত। নীলনদের উপত্যকা ও ব-দ্বীপ অঞ্চলেই মিশরের বেশির ভাগ মানুষ বাস করেন। কায়রো দেশের বৃহত্তম শহর ও রাজধানী। এখানকার মুদ্রা :--মিশরীয় পাউন্ড বা ( ই জি পি ) রাজধানী এবং বৃহত্তম নগরী কায়রো. 30 2' উত্তর  31 13' পূর্ব. এখন কার ভাষা - আরবি।
সরকার অর্ধ-রাষ্ট্রপতি প্রজাতন্ত্র। প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার বিশেষ বিখ্যাত গিজার পিরামিড।
উত্তর আফ্রিকার পূর্বাঞ্চলের একটি প্রাচীন সভ্যতা এই প্রাচীন মিশর।
নীলনদের নিম্নভূমি অঞ্চলে এই সভ্যতা গড়ে ওঠে। এই অঞ্চলটি বর্তমানে মিশর রাষ্ট্রের অন্তর্গত। মিশরীয় গণিত ব্যবস্থা, চিকিৎসা ব্যবস্থা, সেচ ও উৎপাদন কৌশল . প্রথম জাহাজ নির্মাণ,মিশরীয় চীনামাটি ও কাঁচশিল্প উল্লেখ যোগ্যম।
এখানকার পুরাকীর্তিগুলি বিশ্বের দরবারে
সমাদৃত। শতাব্দীর পর শতাব্দী প্রাচীন মিশরের পুরাকীর্তিগুলির ধ্বংসাবশেষ পর্যটক ও লেখকদের কল্পনাশক্তিকে অনুপ্রাণীত করেছে। আধুনিক যুগের প্রথম ভাগে পুরাকীর্তি ও খননকার্যের প্রতি নতুন করে মানুষের আগ্রহ জেগে উঠলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মিশরের সভ্যতা সম্পর্কে অনুসন্ধান শুরু হয়।
এর ফলে মিশরীয় সভ্যতার সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারগুলি মিশর ও বিশ্ববাসীর সম্মুখে নতুন রূপে উপস্থাপিত হয়।
         ( সংকলিত)

=============================

★2>মিশরের পিরামিড নিয়ে দুচার কথা।


মিশরের পিরামিডের ইতিহাস যতই পড়ি ততই অবাক হতে হয়।

আজ মিশরের " বুক অফ দ্যা ডেড"

সমন্ধে একটু জানবার চেষ্টাতে কিছু খোঁজ করলাম এবং জানলাম।

আর সেই কারণে কিছু লিখলাম।


মিশরের গিজা পিরামিড এক ঐতিহাসিক অসাধারন সুন্দর পিরামিড।

যেটি সমবাহু, সুবিশাল,সুচারু রূপে নির্মিত এক শ্রেষ্ঠ ও অত্যাশ্চর্য  নির্মাণ।

যে নির্মাণকে ভাবতে গেলে মনে হয় এ কোন ভিনগ্রহের প্রাণীদের দ্বারাই সৃষ্টি।

মিশরীয় সভ্যতায় পিরামিড এক বিস্ময়কর সৃষ্টি।

আমরা যে পিরামিডের সামনে দাঁড়িয়ে আছি সেটি গিজার সেই সুবৃহৎ পিরামিড।

জানতে পারলাম এই গিজার পিরামিডের মতন সুউচ্চ পিরামিডগুলি ছিল আসলে স্বর্গের  দেবতাদের কাছাকাছি পৌঁছনোর মাধ্যম।

কায়রো থেকে ঘণ্টা দেড়েকের পথে নীলনদের পশ্চিম দিকের কিছু পিরামিড আজও দাঁড়িয়ে আছে। মনে করা হয় এই পিরামিড গুলি

পিরামিড তৈরির প্রথম ও প্রারম্ভিক চিন্তা ও কর্মকান্ডের নিদর্শন।

ঐতিহাসিক সাক্কারায় রাজা জোসারের তৈরি ছয় ধাপবিশিষ্ট স্টেপ পিরামিড তার মধ্যে একটি।

কিছু পিরামিড  ভিতরে কিছু কিছু  পার্থক্য আছে, যেমন একটি পিরামিডে রাজকুমারী ইদুতের সমাধি।সেখানে  

সারা দেওয়ালে খোদাই করা আছে অজস্র চিত্র। অতি আশ্চর্যের বিষয়  যে সেকালের রং এখনো টিকে আছে। ছবির বিষয় বস্তুতে শ্রমজীবী মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম, ষাঁড় বলিদানের দৃশ্য এবং কিছু নৌকার ছবিও আছে।

অবশ্য নৌকা নীলনদের জীবন জীবিকার অঙ্গ, আবার প্রাচীন মিশরে নৌকা ছিল ইহলোকের সঙ্গে পরলোকের যোগাযোগের মাধ্যমও।

অবশ্য প্রত্যেকটি মন্দির , সমাধিতে এই নৌকার ছবি দেখাযায়।

আর অন্য আরেকটি সমাধি গৃহ যেটি আরও পুরানো। জানতে পারলাম

সেই পুরানো পিরামিড দেখতে বা রাজা উনাসের  ভাঙা পিরামিডের বিষয় জানতে ওই ভাঙা পিরামিডের ভেতরে যেতে হবে।

মিশরের পরবর্তী কালের সমাধিগৃহ গুলোতে দেব-দেবীর ছবি,স্বর্গ যাত্রার ছবি ,মর্তের দৈনন্দিন জীবন যাত্রার ছবি,প্রভৃতি অনেক কিছুই থাকত,

আবার কোন কোন পিরামিডে সে সকল কিছুই থাকেনা, পরিবর্তে সারা দেওয়াল জুড়ে লেখা, হায়রোগ্লিফিক লিপিতে।

জানতে পারলাম যে এই লেখাগুলোকে  বলা হয় পিরামিডের লিপি।

এগুলি আসলে কিছু মন্ত্র । 

যে মন্ত্র বলে রাজা যাতে সুস্থ ভাবে সমস্ত বাধা পেরিয়ে স্বর্গে পৌঁছতে পারেন, এবং সেখানে পুনর্জীবন লাভ করতে পারেন, দিব্য শরীর ধারণ করতে পারেন ও স্বর্গের দেবতাদের সঙ্গে মিলিত হতে পারেন এবং সেখানে যেন শান্তিতে আনন্দ পূর্ন হৃদয়ে বাস করতে পারেন তার জন্যই এই মন্ত্র লিপি বদ্ধ করা থাকে।

কথিত আছে যে এই লিপি অনুসন্ধানের

আগে পুরহিতরা রাজার সমাধিতে এসে নিয়মিত মন্ত্রপাঠ করতেন। উনাসের সময় থেকে সেই মন্ত্রগুলি দেওয়ালে  গ্ৰস্থিত কড়াশুরু হয়। যাতে করে পুরোহিতদের অনুপস্থিতিতেও রাজার আত্মা নিজেই মন্ত্রগুলো পড়ে নিতে পারেন।

এই মন্ত্রগুলি কায়রোর গ্র্যান্ড 

ইজিপশিয়ান  মিউজিয়মেও আছে।

 কফিনের ভেতরের দেওয়ালে লিপি গুলি লেখা আছে। আর সমস্ত ঘর জুড়ে পিরামিড লিপি ।

এই পিরামিড লিপি গুলি ছোট আকারে কফিনে লেখা হতো।

পরে অবশ্য প্যাপিরাসের পুঁথিতে লেখা মন্ত্র কফিনে রাখা হত বই এর মতন করে এই বইকে বলা হয় ----

 "দি বুক অফ দ্যা ডেড"।

স্বর্গের দেবতা আনুবিশেই শেষ বিচার করতেন।

হৃৎপিণ্ডের ওজন মেপে দেখতেন পাপের বোঝায় ভারী কি না এবং সেই হিসাবে বিচার করতেন।

দেবতা আনুবিশের কাছে পৌঁছনোর আগে মৃত ব্যক্তির আত্মাকে নানান প্রশ্নের উত্তর দিতে হত।

তার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও নানান মন্ত্র লেখা থাকত ওই 'বুক অফ দা ডেড' 'এতে।

মিশরের পিরামিড, কফিন, মমি এসকল দেখে মনে হয় প্রাচীন মিশর 

ইহ জীবন থেকে পরলোকের জন্য অধিক চিন্তিত ছিল।

আসলে তা নয় মিশর পরলোকে গভীর ভাবে বিশ্বাসী ছিলেন। আর সেই কারণে

মিশরের রাজা , রানী, ফেরাও  এবং বিত্ত বান মানুষেরা নিজেদের পরলোকের সুখের ব্যবস্থা নিজেরাই করে যেতেন।

বিশেষ ভাবে জানতে পারলাম "মিশরের

প্রথম পিরামিড অর্থাৎ জোসারের স্টেপ পিরামিড যিনি নির্মাণ করেন, 

রাজস্থপতি ও সভাপন্ডিত ইমহোটেপ-- তাঁকে দেবতার স্তরে উন্নীত করা হয়।

ইমহোটেপ একাধারে চিকিৎসাবিদ, স্থপতি ও জ্যোতির্বিদ ছিলেন।

আসওয়ানে কোন-অম্বু মন্দিরে একটি অর্ঘ্যবেদি, যেখানে চিকিৎসার যন্ত্রপাতি ইমহোটেপের উদ্দেশ্যে অর্পিত, আর ফিলে আইল্যান্ডে তাঁর মন্দিরও আছে।

জানলাম এগুলি জোসারের মৃত্যুর দুই হাজার বছর পর নির্মিত।

সেই কারণে এই সকল স্থপতি দেখে বোঝা যায় যে এগুলি শুধু পরলোক বাদ নয় বা পরলোকের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নয় এগুলি আদিম সভ্যতার  নানা প্রযুক্তির বিকাশের নিদর্শনও বটে।

=========================

★3>আমার দেখা মিশরের মন্দির গুলি।
যেটুকু বুঝেছি সেই টুকুই লিখছি।
প্রাচীন মিশরের  টেম্পেল গুলি বিশেষ গুরুত্ব পূর্ণ । টেম্পেল গুলিতে প্রাচীন মিশরের গড ও গডেস গন বাস করতেন।
প্রত্যেক গড ও গডেস আলাদা আলাদা টেম্পল যেখানে তারা পূজিত হতেন টেম্পেলের পৃষ্ট ও ফেরাও দের দ্বারা।
টেম্পল গুলিতে সকল মানুষের পূজার অনুমতি ছিলনা।
কেবল মাত্র রাজা ও পৃষ্ট গনই পূজা করতে পারতেন কঠোর শুদ্ধি করণের মাধ্যমে। সাধারন মানুষ কেবল মাত্র কোন উৎ সবের দিনে, যখন মনে করা হতো যে দেবতারা বাইরে বেরিয়ে আসতেন তখনই সাধারন মানুষ টেম্পেলে প্রবেশ করার অধিকার পেতেন।
প্রাচীন মিশরীয় টেম্পল গুলির মহত্ব  দেশের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য অতিশয় মূল্যবান ও বিষেশ  ভাবে জড়িত।
টেম্পল গুলির অধীনে প্রচুর জমি বা অঞ্চল থাকত।এবং প্রচুর শ্রমিক মানুষ চাকুরী রত থাকত । এবং মনে করা হত এখানে ফেরাও গন ও রাজা সরাসরি দেবতাদের সাথে যোগাযোগ করতেন।
দেশেরব মানুষ মন্দিরের নানান কাজে যুক্ত থাকতো। তারজন্য তারা অর্থ পেতো।
আর মন্দিরের অধীনে সমস্ত জমিতে কৃষি কাজ ,খনি থেকে পাথর উত্তোলন প্রভৃতি
কাজ হতো। উদ্বৃত্ব ফসল ও নানান সামগ্রী নিকট বর্তী অঞ্চলে রপ্তানি করে প্রচুর
অর্থ উপার্জন হতো। সেই অর্থে দেশের উন্নয়ন ও ফারাওদের নিজের নিজের কৃতী স্থাপনের কাজ হতো।
প্রাচীন মিশরীয় টেম্পল গুলির প্রধানত দুই ভাগে বিভ্ক্তো ছিলো।
প্রথমটি ছিল যেটি বিশেষ কোন গড  বা গডেজের জন্য উৎসর্গকৃত।
যেমন ইডফুর হোরাসের টেম্পেল। আসোয়ানের আইসিসির টেম্পেল।
দ্বিতীয় ধরার টেম্পেল গুলি সমাধিসংক্রান্ত যেগুলি ফেরাও দের মৃত্যুর পরে তাদের জন্য নিবেদিত হত। যেখানে ফেরাও রা দেবতা রূপে পূজিত হতেন।
যেমন  থীবজ নগরীর রামেসেজ 2  টেম্পল।
দেখে যেটূকু  বুঝেছি টেম্পল গুলি এমন স্যান্ড স্টোন  দিয়ে তৈরি  যা বেশি দিন টিকে থাকতে সক্ষম।
ঘরের মেঝে কোআটজ ( Courts) নামক পাথরের, এবং হলগুলির পিলার গুলি প্যাপিরাস গাছের ( যে গাছের ছাল থেকে পুরাকালে মানুষ কাগজ প্রস্তুত করতো) সেই গাছ, পালম গাছ, ও পদ্ম ফুলের আকারে তৈরি করতো। গৃহের ছাদ গুলি সাজানো হত তারা, নক্ষত্র, ইত্যাদি অঙ্কন করে। এবং আশ্রয়স্থল নির্দেশ করতো ঢিবির মতন সু উচ্ছ স্থানে। টেম্পেল গুলি পূর্ব পশ্চিম নির্দেশিত হত কারন মনে করা হত সূর্য পিলার গুলির উপরে উদিত হয়ে সামনের গেট দিয়ে প্রবেশ করে মন্দিরে উপরে অস্ত যেতো। মন্দিরের ভেতরে ফেরাও দের নানা কার্যের নিদর্শন,দেবতা পূজা অনুষ্ঠান, আর নানা যুদ্ধের চিত্র,
অঙ্কন করে সাজানো হত। আর বাহিরের দেওয়ালে ফেরাও গন দেখাতেন সকল  বিরক্তিকর বিশৃঙ্খলার ছবি।
প্রাচীন মিশরে প্রথম পৌরাণিক মন্দির তৈরি হয়েছিল আনুমানিক চার মিলিনিয়াম বি,সি, তে। নল খাগড়ার কুরে ঘরের মতন। সর্বশেষ মিসরীয় টেম্পল যেগুলি ফিলাটে তৈরী হয়ে ছিল 6th সেঞ্চুরি AD তে সেইগুলি ব্যবহারের অযোগ্য বলে  চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে পরবর্তীতে নানান রকমারি টেম্পেল তৈরী হয়েছে দীর্ঘ দিন ধরে।
            ( সংকলিত)
   
====================  

★4>কর্ণাক টেম্পল::-------

কর্ণাক মন্দির, মিশর  বা  কারনাক ট্যাম্পেল:
 
এই মন্দিরের শহরটি 2000 বছরেরও বেশি সময় আগে নির্মিত হয়েছিল। কর্ণাকের মন্দির হল স্থাপত্য-কাঠামো ও সুন্দর কারু কার্য সমন্বিত  নির্মিত একটি সুবিশাল ইমারত ভবন। এই অঞ্চলটি এখনো আধুনিক বিশ্বের বেশ কিছু  বিস্ময়করের  সঙ্গে তুলনা করা চলে। কর্ণাক টেম্পল  প্রায় 200 একর এলাকায় বিস্তারিত  এবং এখান থেকেই  সমস্ত ধর্মীয় ভবনগুলির তৈরী করা হয়েছিল । এই মন্দিরটি 4,000 বছরেরও বেশী সময় ধরে মিসরবাসীর তীর্থ স্থান।
মিশরের অনেক আকর্ষণীয় মন্দির গুলোর মধ্যে কার্নাক মন্দির সবচেয়ে প্রাচীন। কার্নাক মন্দিরটি প্রাচীন বৃহত্তম ধর্মীয় স্থাপনা। এটি মূলত একটি মন্দিরের শহর যা 2000 বছরেরও বেশি আগে নির্মিত হয়েছে। এটি বিশ্বের  সবচেয়ে জনপ্রিয় বিস্ময়গুলোর মধ্যে একটি। এখন এটি  একটি অনন্য পর্যটনস্থল।এখানকার  বিশাল হলগুলি হাইপোস্টাইল হল. ( হাইপোস্টাইল হল হলো বিশাল আকৃতির হল যেখানে বিশাল বিশাল পিলার , বেশির ভাগ হল গুলি অন্ধকার কিন্তু মাঝখানের হলে ছাদ কেটে জানালার আকারে করা হয়। এই হলটিকে প্রাচীন মিসরের  মঙ্গলের প্রতিভূ।
এখানকার পিলার গুলি PAPYRUS PLANTSএর আকারে তৈরী ( যে গাছ থেকে কাগজ তৈরি হয় ) সেই গাছের আকারে পিলার গুলি। অন্ধকারে পিলার গুলি দেখতে ঠিক পাপেরাস গছের মাথায় যেন পদ্মের কুড়ি। মাঝখানটা যেখানে সূর্যের আলো প্রবেশ করে সেখানে মনে হয় পাপেরাস গাছের মাথায় যেন উজ্জ্বল সূর্য ঝল মল করছে। ভিতরের দেওয়াল গুলি ধর্মীয় নানান ছবি খোদাই করা। হলের এই মাঝের হলে কেবল মাত্র বিশেষ  প্রিস্ট ও ফেরাও গণই  প্রবেশের অধিকার পেতেন। এবং এই হলে ধার্মিক ক্রিয়া অনুষ্ঠান সম্পাদিত হতো।
3000 হাজার বৎসরের পুরোনো লাক্সর টেম্পল,কর্ণক মন্দির ,ফিন্যাক্স এর মূর্তি এবং লাক্সররের টেম্পেল  অপূর্ব পিয়ার গুলি ও টেম্পল যে গুলি তৈরী করেছিলেন
তুতেনখামেন ,এবং আলেক্সজেন্ডার দি গ্রেট। এই সকল কারু কার্যের নিদর্শনেই  গভীর অনুভূতি র সাথে বিভিন্ন ফেরাও গনের মূর্তি ও ছবি ,যেগুলি মনের গভীরে গেথে রইলো।
এইরকম এক অদ্ভুত অনুভূতি মনকে যেন আছন্ন করে রইলো।
এমন অবস্থায় ক্রজে ফিরে রাত্রের ডিনার শেষ করে ক্রজের সৌন্দর্য মন্ডিত রুমে
মহা আরামে চতুর্থ দিনের সমস্ত  চিন্তা গুলি মাথায় নিয়ে  শুয়ে পড়লাম।
              ( সংকলিত)
      
==========================

★5>ভ্যালি অফ দা কিং::---

প্রাচীন মিশরের সবচেয়ে জনপ্রিয় শহর
লুক্সর বা লক্সোরের  তীর ঘেঁষে বয়ে চলা নীলনদের পশ্চিম পাশে পাহাড় দিয়ে ঘেরা এলাকার নামই হলো ‘’ভ্যালী অব কিংস‌”। এটি একটি উপত্যকা যা মিশরের রাজা ও রাজার পরিষদবর্গের জন্য নির্মাণ করা হয়। প্রায় ৫০০ বছর পূর্বে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এই উপত্যকায় ৬৩ টি সমাধি ও ১২০ টি প্রকোষ্ঠ আছে ।
রাজকীয় সমাধিটি চমৎকার মিশরীয় পুরাণের কাহিনীর দৃশ্য দিয়ে সাজানো হয়েছে যা দেখে প্রাচীন যুগের বিশ্বাস ও ধর্মানুষ্ঠান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
এই জায়গা চারিদিকে পাহাড় দিয়ে ঘেরা যার পেছনে নীল নদ ও সামনে মরুভূমি।
        
  
========================

★6>আবু সিম্বেল মন্দির’।

আবু ও সিম্বেল এই দুটি মন্দিরকে নীলনদের প্রভাব থেকে উদ্ধার করার কার্যক্রম। মানুষের এই অবিস্মরণীয় পুরাকীর্তিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে ইউনেস্কো এগিয়ে আসে। ১৯৬৪ সালে ইউনেস্কো ও মিশর সরকারের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয় উদ্ধার কার্য। ইঞ্জিনিয়ার ও স্থপতিদের ঐকান্তিক চেষ্টায়, মন্দিরটি নতুনভাবে নির্মাণ করা হয় আসওয়ান হাই ড্যাম রিজার্ভারের উপর। পরিকল্পনা অনুসারে, প্রথমে  মন্দির দু’টিকে টুকরো-টুকরো করে কেটে হাজার হাজার   ভাগে  করে । প্রত্যেকটি ভাগকে নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করে, কাছের একটি পাহাড়ের উপর তোলা হয়। একেকটা অংশের ওজন প্রায় ত্রিশ টন। প্রত্যেকটি অংশকে তুলে তীরের চেয়ে ৬৫ মিটার উঁচুতে হুবহু মূল মন্দিরের অনুকরণে সাজিয়ে তাদের বসানো হয়। মূল মন্দির ও পাহাড়ের চূড়ার মাঝখানে যে হাজার-হাজার টনের পাথর ছিল। কিন্তু নতুন স্থাপিত মন্দিরে সেই পাথরের পরিবর্তে তৈরি করা হয় কংক্রিটের বিশাল ডোম। ঠিক যেন উল্টানো হাঁড়ির মতো দেখতে এই ডোমের ছাদের উপর লক্ষ-লক্ষ টন বালি ফেলে, তাকে পাহাড়ের আকৃতি দেওয়া হয়। অনেক হিসেব কষে সূর্যের কক্ষপথের সঙ্গে মন্দিরের অবস্থানকে আগের মতোই মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে । সম্পূর্ণ কাজটি করতে সময় লেগেছিল প্রায় চার বছর। আর এভাবেই বর্তমান কালের স্থপতিদের তত্ত্বাবধানে মন্দিরটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করা হয়।

বর্তমানে মন্দিরটির ‘নতুন’ কলেবরে তৈরি, কিন্তু অবিকল পুরানো চেহারার মতো। তফাৎ শুধু একটাই যে, আধুনিক যুগে যন্ত্রের সাহায্যে যে কাজ করা হয়েছে, বহু যুগ আগে লক্ষ-লক্ষ টন ওজনের পাথর কাটা ও বসানোর মতো অতিমানবীয় কাজ সে সময়কার মানুষ তাদের আপন হাতে ও বুদ্ধিমত্তার জোরে সম্পন্ন করেছিল যা সত্যিই অবিশ্বাস্য। এভাবে এ যুগের নামকরা স্থাপত্যদের সার্বিক প্রচেষ্ঠায় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হলো প্রাচীনকালের স্থপতিদের কলা-কৌশলে তৈরি পৃথিবীর এক বিস্ময়কর পাথুরে স্থাপত্য ‘আবু সিম্বেল মন্দির’।
              ( সংকলিত)
       
=====================

★7>আবু আল-আব্বাস আল-মুরসি মসজিদ::--
আলেকজান্দ্রিয়া মিশর শহরের মসজিদ। এটি ত্রয়োদশ শতাব্দীর মার্সিয়ান আন্দালুসি সুফি সাধক আবুল আব্বাস আল-মুরসির উদ্দেশ্যে উত্সর্গীকৃত করে তৈরি করেন, এবং সমাধিতে রয়েছে এখানে।
মসজিদটি বর্তমান ডিজাইন করছেন ইউজিনিও ভালজানিয়া এবং মারিও রসি ১৯২৯/৪৫ সালে নতুনভাবে ডিজাইন করেছিলেন এবং এটি মিশরের পুরানো কায়রো ভবন মত করা হয়েছে।
            ( সংকলিত)
  
=========================

★8>তুতানখামেনের সমাধি:----

সমাধি আর অভিশাপেই বিখ্যাত তুতানখামেন।
তুতানখামেন মিশরের ফারাও ছিলেন না
তিনি ছিলেন পুরোহিততন্ত্রের হাতের পুতুল। কিন্তু তাঁর মমির সঙ্গে পাওয়া গিয়েছে রাজকীয় ঐশ্বর্য, এবং জানাগেছে
মৃতের প্রতিশোধ নেওয়ার অলৌকিক কিংবদন্তি।
তুতানখামেন ছিলেন ফারাও চতুর্থ আমেনহোটেপ বা আখেনাতেনের জামাই। আখেনাতেন-এর স্ত্রী ছিলেন সুন্দরী নেফারতিতি। এঁদের পুত্রসন্তান ছিল না, ছিল সাতটি কন্যা। এঁদেরই এক জামাই তুতানখামেন। তিনি মিশরের ১৮তম রাজবংশের সবচেয়ে কম দিনের বালক রাজা। তাঁর জন্ম সম্ভবত আমরানাতে, খ্রিস্টপূর্ব ১৩৪১ অব্দে, এবং রাজত্বকাল খ্রিস্টপূর্ব ১৩৩২-১৩২৩
তুতানখামেনের আসল নাম ছিল শ্বশুরের পূজিত সূর্যদেব বা আটন-এর নামে, তুত আনখ আটন। প্রথমেই পুরোহিতদের আদেশে তিনি তাদের পছন্দের দেবতা আমনের নামে নাম বদল করে নতুন নাম নেন, তুত আনখ আমন, বা তুতানখামেন। মিশরের মন্দিরে মহাসমারোহে আমন দেব আবার পুজো পেতে লাগলেন। সারা দেশ থেকে দেবতা আটন এবংআখেনাতেন- এর নাম মুছে ফেলা শুরু হল।
পুরোহিতদের হাতের পুতুল, শ্বশুরের নাম ও পূজিত দেবতাকে নির্বাসনে পাঠিয়েছেন, তবুও প্রচারের সব আলো
তুতানখামেনের এত প্রচার মাত্র একটি কারণে। তাঁর সমাধি থেকে উদ্ধারকৃত অতুল ঐশ্বর্যের জন্য। মিশরের ইতিহাসে সবচেয়ে ছোট এই সমাধির মধ্য থেকে পাওয়া গেছে ৫,৩৯৮টি অপরূপ সামগ্রী। সোনার মুকুট, সোনার শবাধার, তুতানখামেনের মমি একটির ভিতর আর একটি, এভাবে তিনটি সোনার আধারের মধ্যে রাখা ছিল। বহুমূল্য রত্নরাজি ছাড়াও পাওয়া গিয়েছে উল্কাপিণ্ডের লোহা দিয়ে নির্মিত সুদৃশ্য ছোরা, হাতির দাঁতের হাতলের সঙ্গে উটপাখির পালকের হাতপাখা ইত্যাদি। এ ছাড়াও পাওয়া গিয়েছে অপূর্ব সুন্দর কারুকাজ করা কাঠের মূর্তি। আর একটি অদ্ভুত কাঠের জানোয়ারের মূর্তি উদ্ধার হয়েছে যার শরীর ও পা বেড়ালের, মুখটা ঘোড়ার, মুখে গজদন্ত দ্বারা নির্মিত বিড়ালের মতো তীক্ষ্ণ শ্বদন্ত। এই সমাধি থেকে পাওয়া রাজকীয় ঐশ্বর্যের পুরোটাই প্রায় তাঁর শ্বশুর ও দাদাশ্বশুরের সম্পত্তি। তুতানখামেনের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে মিশরের ইতিহাসের ১৮তম রাজবংশের পরিসমাপ্তি ঘটে।
তুতানখামেনের সমাধি আবিষ্কার হওয়ার
পর একদিকে  যেমন সমাধি থেকে প্রাপ্ত অতুল ঐশ্বর্যের চর্চা শুরু হয়, তেমনি আবার দু’টি মুখরোচক গল্পের চর্চারও
ছড়িয়ে পড়ে।
প্রথমটি হচ্ছে, তুতানখামেনের হত্যারহস্য। বলা হয়, অত্যন্ত দুর্বল স্বাস্থ্যের এই ফারাওয়ের কোনও বংশধর না থাকায়, ক্ষমতা দখলের লোভে তার স্ত্রী আঁখেসেনামুন নাকি তাঁদের ঘোড়ার গাড়ির কোচোয়ানকে দিয়ে তাঁকে হত্যা করান।
কিন্তু পরে প্রমাণিত যে, সেই সময়ে ফারাওদের নিজের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেই বিয়ে হত। সম্ভবত সেই কারণেই তুতানখামেনের অসংখ্য জিনগত রোগ ছিল। পায়ের সমস্যায় ঠিকমতো হাঁটতে পারতেন না, বেতের ছড়িতে ভর দিয়ে চলতেন। তাঁর ব্যবহৃত ছড়িগুলি সমাধির মধ্যেই পাওয়া গেছে। এছাড়াও গন্নাকাটা বা ক্লেফ্ট প্যালেট সমস্যার জন্য নাকি সুরে কথা বলতেন। বিজ্ঞানীদের মত, এত কম বয়সে মৃত্যুর কারণ সম্ভবত মিশরের কুখ্যাত প্লাসমোডিয়াম ফ্যালসিপেরাম মশার কামড়।
দ্বিতীয় মুখরোচক গল্প হল, তুতানখামেনের অভিশাপ। এ প্রসঙ্গে অবশ্যই আসবে বিশিষ্ট মিশর-বিশেষজ্ঞ হাওয়ার্ড কার্টারের নাম। ধনকুবের লর্ড কার্নারভনের সহযোগিতায় শুরু হয় ইতিহাসে বিস্মৃত তুতানখামেনের সমাধি খুঁজে বের করার প্রয়াস। কারণ ততদিনে ইতিহাসবিখ্যাত ফারাওদের পিরামিড এবং কিংস ভ্যালির সমাধিগুলি তন্নতন্ন করে খুঁজেও তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। ১৯২২ সালের ২৬ নভেম্বর তুতানখামেনের মূল সমাধিগৃহে প্রবেশ করা হয়। সমাধিটি মাত্র ১১০ বর্গফুট আয়তনের।
এই অসাধারণ আবিষ্কার সারা পৃথিবীতে আলোড়ন ফেলে।
সেযুগের গণমাধ্যমও কাগজের কাটতি বাড়াতে তুতানখামেনের মমির অভিশাপ নাম দিয়ে অলৌকিক সব খবর ছাপতে থাকে। কেউ লেখেন, সমাধির উপরে উল্লেখ করা আছে, বাইরের কেউ সমাধিতে প্রবেশ করলে মৃত্যু অনিবার্য। কেউ কেউ সমাধির মধ্যে রক্ষিত শেয়ালদেবতা অনুবিস ও মমি নিয়ে নানা মনগড়া স্টোরি ছাপেন।
এঁরা কেউ হিয়েরোগ্লিফিক লিপি না বুঝেই লিপির বক্তব্য বুঝে ফেলতেন!
অভিশাপের নামে যেসব গালগপ্পো বহুল প্রচারিত ছিল, তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিল,
১) ফারাওদের রাজমুকুটে উদ্যতফণা গোখরো সাপের মূর্তি থাকত। সমাধি উন্মুক্ত করার দিন ঘরে ফিরে কার্টার সাহেব দেখেন যে, একটি মিশরীয় গোখরো তাঁর পোষা হলুদ ক্যানারি পাখিটিকে গিলে খাচ্ছে।
২) দাড়ি কাটতে গিয়ে খুরে গাল কেটে যাওয়া কিছু আশ্চর্য নয়। কিন্তু প্রজেক্টের পৃষ্ঠপোষক লর্ড কার্নারভনের ক্ষেত্রে তা হয়ে দাঁড়ায় সেপ্টিসেমিয়া। তখন ওষুধপত্র তত উন্নত ছিল না, তাই ১৯২৩ সালের ৫ এপ্রিল কায়রোতে ওঁর মৃত্যু ঘটে। আবার কাকতালীয় ভাবে ওই দিন সকালেই নাকি লন্ডনে তাঁর পোষা কুকুরটিও মারা যায়। দুয়ে দুয়ে চার করে ভয়ঙ্কর সব গল্প ছড়িয়ে পড়ে।
৩) এর পর এই উৎখনন কাজের সঙ্গে যুক্ত লোকেদের পরিবারের কারও কিছু হলেই, মমির অভিশাপের গল্প জুড়ে দেওয়া হত। লর্ড কার্নারভনের এক সৎভাই অন্ধ হয়ে যান, কার্টারের এক সহযোগী আর্সেনিকের বিষক্রিয়ায় মারা যান— সবই নাকি মমির অভিশাপের ফল।
আর হাজার হাজার বছর ধরে চোরের দল, কবরে ঢুকে সব কিছু লুটেপুটে নিয়ে গেছে, গিজার বড় বড় পিরামিডের মধ্যে আর একটিও মমি অবশিষ্ট নেই, তাদের উপরে কোনও অভিশাপ বর্ষণ হয়নি। গত শতকেও কায়রোর রাস্তায় প্রকাশ্যে সারি সারি মমি বিক্রি হত, সেসব নিয়ে কোনও গল্প নেই। স্বয়ং হাওয়ার্ড কার্টার সুস্থ শরীরে ৬৪ বছর অবধি বেঁচে ছিলেন।
সেই ঘটনার প্রায় একশো বছর হতে চলল। কিন্তু মমির অভিশাপ নিয়ে লাগাতার টিভি শো, সিনেমা-র বিরাম নেই। কারণ মানুষ গল্প শুনতে চায়, আর কে না জানে, গল্পের বাজারে ভূত প্রেত বা অলৌকিক কাহিনির কোনও মার নেই।
        
            ( সংকলিত)
      

========================

★9>আলেক্সান্দ্রিয়া কপ্টিক:-------

Rakotə,  হল মিশরের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং এই শহরেই মিশরের বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর অবস্থিত। আলেক্সান্দ্রিয়া উত্তর-পশ্চিম মিশরে ভূমধ্যসাগরের উপরে এবং নিচে প্রায় 32 কিলোমিটার (20 মাইল) পর্যন্ত বিস্তৃত। এই শহরের মিশরের বিখ্যাত গ্রন্থাগার বিবলিওথেকা আলেক্সান্দ্রিয়া অবস্থিত। এটি শিল্প ও বাণিজ্য কেন্দ্র, কারণ এর সাথে সুয়েজহয়ে আসা প্রাকৃতিক গ্যাস এবং তেলেরপাইপলাইন রয়েছে। এই শহরটি গভর্ণর শাসিত এবং এ ধরনের শহরকে মিশরে মুহাফাজা বলা হয়।
প্রাচীনকালে এই শহরটি বাতিঘর (প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি) এবং গ্রন্থাগারের(প্রাচীন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গ্রন্থাগার) জন্য বিখ্যাত ছিল।
সম্প্রতি আলেক্সান্দ্রিয়ার সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় সামুদ্রিক নৃবিজ্ঞান এর উপর ভিত্তি করে পরিচালিত গবেষণায় (যা 1994 সালে শুরু হয়েছিল) আলেক্সান্ডারের আগমনের পূর্বে যখন এই শহরের নাম ছিল রাকোটিস সেই সময় এবং টলেমীয় রাজত্বেরসময়ের আলেক্সিন্দ্রিয়া সম্বন্ধে নতুন অনেক তথ্যই আছে। যা প্রাচীন ও আধুনিক স্থাপনার নিদর্শন।
আলেক্সান্দ্রিয়ার নামকরণ করা হয়েছে এর প্রতিষ্ঠাতা আলেক্সান্ডার দি গ্রেটের নামানুসারে। আলেক্সান্ডারের মৃত্যুর পর তার অন্যতম সেনাপতি টলেমী আলেক্সান্ডারের সাম্রাজ্যের এই অংশের অধিকারী হন। এটি ছিল মিশরের টলেমীয় শাসকদের রাজধানী এবং হেলেনীয়পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম শহর যা আয়তন এবং সম্পদে একমাত্র রোমের থেকে পিছনে ছিল। মিশরের মধ্যযুগীয় মুসলিম শাসকগণ যখন কায়রো শহরের গোড়াপত্তন ঘটান তখনই আলেক্সান্দ্রিয়ার পতনের শুরু  হয় এবং উসমানীয় রাজত্বের সময় এটি নিছক একটি ছোট জেলেপাড়া হিসেবে পরিগণিত হয়।
আলেক্সান্ডার দি গ্রেট আলেক্সান্দ্রিয়া নগরী প্রতিষ্ঠা করেন আনুমানিক 334 খৃস্টপূর্বাব্দের দিকে।
সঠিক তারিখ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। প্রতিষ্ঠার সময় এর প্রকৃত নাম ছিল Aleksándreia; ।
এই নগরী তৈরিতে আলেক্সান্ডারের প্রধান স্থপতি হিসেবে কাজ করেছেন রোড্‌সের ডাইনোক্রেট্‌স।
                  ( সংকলিত)
             
=========================

★10>আলেকজান্দ্রিয়ার নুতন এবং   
               প্রাচীন গ্রন্থাগার।::----
প্রাচীন বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাগার দ্য গ্রেট লাইব্রেরি অফ আলেকজান্দ্রিয়া।
ইতিহাসের কথা পরে লিখছি,
আগে আমি নিজে যেমন দেখেছি  আলেক্সান্দ্রিয়ার  গ্রন্থাগারটি, সেই কথাই  আগে লিখছি।

এতো বিশাল গ্রন্থাগার ভাবনার অধিক।
এতো বড় যে একটি গ্রন্থাগার হতে পারে সেটা ভেবেই কোন কুল-কিনারা পাচ্ছিনা।
দেখেই মনে হচ্চে সেই প্রাচীন গৌরব পুনরুদ্ধারে এটি এখন বিশ্বঐতিহ্য ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে।
আমরা কাঁচের নির্মিত রাস্তা দিয়ে ভবনে প্রবেশ করলাম। সম্পুর্ন কাঁচের সিঁড়ি।
বাইরের দেওয়াল টি বাঁকানো এবং বৃহৎ আকারের যেটি  আসওয়ানের গ্রানাইট থেকে তৈরি। ভেতরে শক্ত কাঠের লাইন হল। এ ছাড়া মেঝে ওক গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি।১১ তলা লাইব্রেরি টি
এর ভেতরে আছে  জাদুঘর, একটি সম্মেলন কেন্দ্র, প্ল্যানেটেরিয়াম এবং একটি পাঠকক্ষ। পাঠকক্ষ ১১টি স্তরে দুই হাজার জন এক সময়ের পড়াশোনা করতে পারে।
প্রতিটি পড়ার টেবিলে আছে অত্যাধুনিক লেপটপ। যে কোন ছাত্র ছাত্রী টেবিলে বসেই লেপটপে ইচ্ছা অনুসারে পড়াশুনা করতে পারে।
বর্তমানে ৮০টি ভাষায় ১৫ লক্ষ বই এখানে আছে, তবে সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ৮০ লক্ষ গ্রন্থ। রয়েছে ৫০ হাজার ম্যাপ, ১০ হাজার পাণ্ডুলিপি, ৫০ হাজার দুর্লভ গ্রন্থ এবং ১০ হাজার আধুনিক বিশ্বের কপি ও ৫০ হাজার ভিজ্যুয়াল অডিও ফাইল।
প্রতিটি বইয়ের তাকে ডিজিটাল সংক্রিয় ব্যবস্থায় বই খুঁজে নেবার ব্যবস্থা।
তাও আবার ৮০ টি ভাষায়।
ওই বিশাল বইয়ের সমুদ্রে আমি খুঁজে পেয়েছিলাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলি সহ বেশকিছু বই। পেয়েছিলাম
স্বামী বিবেকানন্দের কিছু বই।
বাংলা ও ইংরেজিতে। পেয়েছিলাম আমাদের রামায়ণ মহাভারতের মতন বেশ কিছু গ্রন্থ।
গ্রন্থাগারের বেজমেন্টে ডিজিটাল ল্যাবের দেখলাম। যেখানে পুরাতন বইকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাল করার প্রোগ্রাম আছে। জানলাম বর্তমানে প্রতিবছর গ্রন্থাগারে ৮০ লক্ষ ভিজিটর আসা-যাওয়া করেন।
এসত্যি আমার ভাবনার তথা কল্পনার বাইরে।
আলেকজেন্দ্রিয়ার পুস্তক ভান্ডার,
তিন ঘণ্টা দেখেও মনে হাঁ হাঁ কার নিয়েই ফিরে আসলাম।
এমন বিশাল পুস্তক ভান্ডার।
চোখে না দেখলে বিশ্বাস করাই যে ভার।
বিশাল পরিসর,সমগ্র বিশ্বের বইয়ের পাহাড়।
ই-বুকের সংগ্রহ,যেন মনেহয় ই-বুকের সমুদ্র।
আহা কি দেখিলাম, চোখে দেখেও বিশ্বাস হারালাম।
এবারে বলি প্রাচীন গ্রন্থাগারের ইতিহাস::---সেটি নাকি আরও বড় ছিল।
আলেকজান্দ্রিয়ার প্রাচীন গ্রন্থাগার বা আলেকজান্দ্রিয়ার রাজ-গ্রন্থাগার ছিল প্রাচীন বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাগারগুলির একটি।
এটি মিশরেরআলেকজান্দ্রিয়া শহরে অবস্থিত ছিল। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে মিশরের টলেমিক রাজবংশের পৃষ্ঠপোষকতায় একটি প্রধান শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে এই গ্রন্থাগারটি গড়ে উঠেছিল।
৩০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোমানদের মিশর আক্রমণের সময় পর্যন্ত এই গ্রন্থাগার কার্যকরী ছিল। গ্রন্থ সংগ্রহের পাশাপাশি এই গ্রন্থাগারে বক্তৃতাকক্ষ, সভাকক্ষ ও বাগানও ছিল। এই গ্রন্থাগার প্রকৃতপক্ষে ছিল মিউজিয়াম নামে এক বৃহত্তর গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অংশ। এখানে প্রাচীন বিশ্বের বহু বিশিষ্ট দার্শনিক পড়াশোনা করেছিলেন।
এই গ্রন্থাগার ছিল মিশরের ঐশ্বর্য ও ক্ষমতার প্রতীক। সারা পৃথিবী থেকে বই ধার করে তার অনুলিপি তৈরি করা ও সেই বই গ্রন্থাগারে নিয়ে আসার জন্য এই গ্রন্থাগারে কর্মচারী নিয়োগ করা হত। অধিকাংশ বইই রাখা হয় প্যাপিরাস স্ক্রোলের আকারে। তবে ঠিক কতগুলি স্ক্রোল এই গ্রন্থাগারে রক্ষিত ছিল তা জানা যায় না।
এই গ্রন্থাগার পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল। যার ফলে বহু স্ক্রোল ও বই চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়। আলেকজান্দ্রিয়ার প্রাচীন গ্রন্থাগারের অগ্নিকাণ্ড তাই সাংস্কৃতিক জ্ঞান ধ্বংসের প্রতীক। প্রাচীন গ্রন্থগুলিতে এই অগ্নিকাণ্ডের সময় নিয়ে বিতর্ক দেখা যায়। কে এই অগ্নিসংযোগ ঘটিয়েছিলেন তা নিয়েও মতান্তর রয়েছ।
আলেকজান্দ্রিয়ার প্রাচীন গ্রন্থাগারের আকার কেমন ছিল, তা সঠিক না জানা যায়নি।
তবে নানান লেখকের লেখা থেকে পাওয়া গেছে কিছু তথ্য প্রাচীন গ্রন্থগুলির বর্ণনা অনুসারে, "এই গ্রন্থাগারে স্ক্রোলের বিশাল সংগ্রহ, আঁকাবাঁকা পায়ে চলার পথ, একত্র ভোজনের কক্ষ, পড়ার ঘর, সভাকক্ষ, বাগান ও বক্তৃতাকক্ষ ছিল। আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলির শিক্ষাপ্রাঙ্গণে এই ধরনের নকশা দেখা যায়। গ্রন্থাগারের একটি অধিগ্রহণ বিভাগ এবং একটি ক্যাটালগিং বিভাগ ছিল। একটি বড়ো ঘরে তাকে প্যাপিরারের সংগ্রহ রাখা হত। এগুলিকে বলা হত "বিবলিওথেকাই" । জনশ্রুতি, এই তাকগুলির উপর একটি ফলকে লেখা থাকত: "আত্মার চিকিৎসার স্থান"।
গ্রন্থাগারটি ছিল আলেকজান্দ্রিয়ার মিউজিয়ামের একটি অংশ। এটি ছিল একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান।গ্রন্থাগার ছাড়াও মিউজিয়ামে ছিল জ্যোতির্বিদ্যা ও শরীরস্থান পঠনপাঠনের কক্ষ এবং দুষ্প্রাপ্য প্রাণীদের একটি চিড়িয়াখানা। যেসব বিশিষ্ট চিন্তাবিদ এই গ্রন্থাগারে পড়াশোনা ও গবেষণা করেছেন তাঁদের মধ্যে গণিত, প্রযুক্তিবিদ্যা, শারীরবিদ্যা, ভূগোল ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিশিষ্ট প্রথীতযশা মণীষীরা আছেন। এঁরা হলেন ইউক্রিড, আর্কিমিডিস, এরাটোস্থেনিস, হেরোফিলাস, এরাসিস্ট্রাটাস, হিপ্পারাকাস, এডেসিয়া, পাপ্পাস, থেওন, হাইপেশিয়া, আরিস্টারকাস অফ সামোস ও সেন্ট ক্যাথারিন।"
"কথিত আছে, রাজা টলেমি দ্বিতীয় ফিলাডেলফাসের রাজত্বকালে (309-246 খ্রিস্টপূর্বাব্দ) গ্রন্থাগারে 500,000-এরও বেশি স্ক্রোল ছিল।কথিত আছে, বিবাহের যৌতুক হিসেবে পারগামাম গ্রন্থাগারের 200,000 স্ক্রোল মার্ক অ্যান্টনি ক্লিওপেট্রাকে উপহার দিয়েছিলেন।"
"গ্রন্থ সংগ্রহের পর প্রধান অনুলিপিগুলি তৈরি করা হত সারা পৃথিবীর বিদ্বান, রাজপরিবার ও ধনী গ্রন্থ সংগ্রাহকদের জন্য। তা থেকে গ্রন্থের প্রচুর আয়ও হত।"
"এই গ্রন্থাগারের বিবরণ ইতিহাস ও কিংবদন্তির মিশ্রণই রয়ে গিয়েছে।
আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগারের দায়িত্ব ছিল সারা বিশ্বের জ্ঞান সংগ্রহ করা। গ্রন্থাগারের অধিকাংশ কর্মচারী প্যাপিরাসে বই অনুবাদের কাজে ব্যস্ত থাকতেন।  রোডস ও এথেন্সেরবইমেলায় ঘুরে রাজার অর্থে প্রচুর বই সংগ্রহ করে এই কাজ চলত।"

"এই গ্রন্থাগারের সম্পাদকেরা হোমারের গ্রন্থ সম্পাদনার জন্য বিশেষভাবে খ্যাত ছিলেন। অধিকতর বিখ্যাত সম্পাদকেরা সাধারণত "প্রধান গ্রন্থাগারিক" উপাধি পেতেন। এঁদের মধ্যে জেনোডোটাস, রোডসের অ্যাপোলোনিয়াস, এরাটোস্থেনিস, বাইজান্টিয়ামের অ্যারিস্টোফেনস ও সামোথ্রেসের অ্যারিস্টারকাসের নাম উল্লেখযোগ্য।প্রথম গ্রন্থপঞ্জিকার ও পিনাকেস-এর রচয়িতা ক্যালিমাকাস এই গ্রন্থাগারের প্রথম ক্যাটালগ তৈরি করেছিলেন। তবে তিনি এই গ্রন্থাগারের প্রধান গ্রন্থাগারিক ছিলেন না।খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে গবেষকরা নিরাপদতর স্থানে বড়ো রাজার পৃষ্ঠপোষকতা লাভের আশায় এই গ্রন্থাগার ছেড়ে যেতে শুরু করেন।
145 খ্রিস্টপূর্বাব্দে অষ্টম টলেমি আলেকজান্দ্রিয়া থেকে সকল বিদেশি গবেষককে বিতাড়িত করেন।"

খ্রিষ্টপূর্ব 48 অব্দে জুলিয়াস সিজার এবং মিশরের রাজা টলেমি ত্রয়োদশ (Ptolemy XIII) -এর মধ্যে যুদ্ধের সময়, সিজারের সৈন্যরা জাহাজে আগুন লাগিয়ে দেয়। এই সময় জাহাজ সংলগ্ন এই গ্রন্থাগারে আগুন ধরে যায়। এই গ্রন্থাগারটি পুড়ে যাবার পর, বিশেষজ্ঞরা মূল গ্রন্থাগারের উপগ্রন্থাগার হিসাবে একটি ছোটো গ্রন্থাগার ব্যবহার করতেন। মূলত এই ছোটো গ্রন্থাগারটি ছিল অন্য শহরে। এর নাম ছিলSerapeum। এই সময় প্রায় 40,000 গ্রন্থ পুড়ে যায় এবং প্রায় সম পরিমাণ বই সম্পূর্ণ পুড়ে না গেলেও পাঠের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল।"

Bulaq Press/Amiri Press
বলাক প্রেস / আমিরী প্রেস
অতি সাধারণ কাঠের লেটার যেগুলি
ব্যবহার হতো বলাক প্রেসে 1820তে।
আমিরী প্রেস/আমিরীয়া প্রেস কেই
বলাক প্রেস বলা হত।
যেহেতু এই প্রেস টি বলাক নামক স্থানে ছিলো তাই এমন নাম।
এটি কায়রোর বিশেষ প্রভাব শালী,জরুরি
এবং মূল্যবান তুর্কি ভাষার প্রেস।
            ( সংকলিত)
=========================

11>আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর::--

সমুদ্রবন্দর থেকে বন্দরে প্রবেশ বা নির্গমণের ক্ষেত্রে দিক নির্দেশনা প্রদায়ী একটি বাতি ঘর।  এ বাতিঘরটিকে প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের একটি হিসাবে বিবেচনা করা হয়। খ্রিষ্টপূর্ব ৩য় শতাব্দীতে মিশরের সম্রাট প্রথম টলেমি ফ্যারোসে দ্বীপে এই বাতিঘর তৈরি করিয়েছিলেন। এই বাতিঘরটিই আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর নামে খ্যাত। উল্লেখ্য প্রাচীন যুগে সমুদ্রপথে জাহাজ ঘনকুয়াশা কিংবা রাতের অন্ধকারে নাবিকরা পথ হারিয়ে বন্দরে পোঁছুতে পারতো না। এই অসুবিধার জন্য নাবিক এবং ব্যবসায়ীরা আতঙ্কগ্রস্ত থাকতো। এই অসুবিধা দূর করার জন্য 270 খ্রিষ্টাব্দে ভূমধ্যসাগর উপকূলে আলেকজান্দ্রিয়া নামক স্থানে এই বাতিঘর স্থাপন করা হয়।

এই বাতিঘরটির মূল ভিত্তিভূমির আয়তন ছিল 110 বর্গফুট। এর বাইরে ছিল দেওয়াল উচ্চতা ছিল
450 ফুট। মূল স্তম্ভটিকে ঘিরে পেঁচানো সিঁড়ি ছিল। কোনো কোনো মতে, এই সিঁড়ির বাইরে দেয়াল ছিল। এ সিঁড়ি বেয়েই উপরে ওঠে 450 ফুট উঁচুতে রক্ষিত একটি বেদিতে বিশাল অগ্নিকুণ্ড জ্বালিয়ে দেওয়া হতো। রাত্রিবেলায় খোলা সমুদ্র প্রায় 50 মাইল দূর থেকে এই অগ্নিকুণ্ড দেখা যেতো।     
          ( সংকলিত)
    
=============================                                
            12>স্ট্যানলি সেতু
    
মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ায় অবস্থিত স্ট্যানলী সেতু 331 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে মহান আলেকজান্ডার দ্বারা প্রবর্তিত আলেকজান্দ্রিয়া, গ্রেইকো-রোমান মিশরের রাজধানী হয়ে উঠেছিল।
আজকের দিনে, আলেকজান্দ্রিয়া “ভূমধ্য সাগরের মুক্তো” বা
“দ্য পার্ল অফ মেডিটারেনিয়ান” নামে সুপরিচিত রয়েছে এবং
এটি হল মিশরের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর।
একটি বাতাবরণের সঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যের তুলনায় ভূমধ্যসাগরীয় হয়ে উঠেছে।
এখানকার সাংস্কৃতিক বহু আকর্ষণ ও ধ্বংসাবশেষের প্রাচুর্য্যতা এই শহরটির
পরিদর্শনকে সুন্দর করে তুলেছে যা তার মহিমান্বিত অতীতের প্রসঙ্গে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
          ( সংকলিত)
    
===========================
13>কম এল শোকাফার ধ্বংসাবশেষ:

কোম এল সোকোয়াফারের সমাধি হোল আলেকজান্দ্রিয়ার সবচেয়ে অত্যাশ্চর্য স্মৃতিস্তম্ভ।মধ্য যুগের সাতটি আশ্চর্যের মধ্যে একটি। এটি একটি ভূগর্ভের নিচে বিশাল সবাধার। এবং এটি  মিশরের  সেরা সংরক্ষিত ধ্বংসাবশেষ। এই সমাধি শহরের পূর্বপাড়ে অতীত মিশরের প্রথম শতাব্দীর AD এর নিদর্শন।

এই সবাধার টি আবিষ্কারের পৌরাণিক অনেক গল্প কথা আছে।

পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে একটি গাধা পাথর বোঝাই  একটি টাঙা গাড়ি টেনে নিয়ে যাচ্ছিল, হটাৎ গাধাটি একটি গর্তে পরে যায়।সেই গর্ত টি একটি মাটির গর্ভে কবরের সুরঙ্গ।

আরও একটি প্রচলিত কাহিনি আছে,

মসিউর এস-সাঈদ আলী গিবিয়া নামে এক মানুষ যিনি এক দিন এলাকার মিউজিয়ামের     অধিকারীকে  জানায়  যে সে মাটির নিচে একটি কবরের সন্ধান পেয়েছেন এটি একটি ভূগর্ভস্থ কবর।

প্রথমে মিউজিয়ামের অধিকারী গণ এহেন খবরকে উপেক্ষা করেন এবং সন্দেহজনক বলে মনে করেন। কিন্তু অচিরেই তাদের ভুল বুঝতে পেরে নিজেরাই দুঃখ প্রকাশ করেন। প্রকৃতপক্ষে একটি সেই কালের শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার ছিল।

কম এল শোকাফার ক্যাটাকোমব এক বৃহত্তম সমাধি যেটি গ্রীক-রোমান যুগের অনুরূপ যেটি আবিষ্কৃত হোয়েছে।

এটি ভূগর্ভে লুকন শতাব্দীর জন্য কবর টানেল ছিলো। এইটি বিভিন্ন প্রাচীন শিল্প ও সংস্কৃতির একটি মিশ্রন। কবরটির প্রবেশ দ্বার গড (God) দ্বারা সুরক্ষিত থাকতো।কম এল শোকাফার ক্যাটাকোমব কার্য্য কর ছিলো দ্বিতীয় শতাব্দীর কাছাকাছি সময়ে। এমন অক্ষত  সাক্ষী থাকার নির্দশন খুব বেশি নেই যা  তৎ কালীন মিসরীয়,গ্রিক,রোমান  এই তিন সভ্যতার মিশ্রণের নিদর্শন।

এই কবরটি সম্পুর্ন রূপে একটি আদর্শ কবর।  কম এল শোকাফার নামটি প্রাচীন গ্রিক থেকে উদ্ভূত হয়।
এলাকাটি  মৃৎশিল্পের পাইলস ধারণ করতে ব্যবহৃত হয়েছিল বা সাধারণত এখানে যারা সমাধি পরিদর্শন করতেন তাদের  দ্বারা আনা ওয়াইন পান বা খাবার খাবার জন্য ব্যবহৃত হত। এটি, মিশরীয়  রোমান এবং গ্রিক সংস্কৃতির শৈলীতে নির্মিত।
এটিকে বড় কবরস্থান হিসাবে বর্ধিত করা হয়েছিল, কারণ গুলি অজানা। অবশ্যই, শুধু যে আলেকজান্দ্রিয়া তেই এহেন কবর নির্মিত হয়েছিল তাকিন্তু নয়। তাই যে কম এল শোকাফা একমাত্র ধ্বংসাবশেষ নয়।অনেক বেশি কবরস্থান নেকোপোলিসের অংশ ছিল,তথাকথিত যাকে বলা হয় মৃতের শহর, সেগুলি ছিলো শহরের পশ্চিম  দিকে।
কম এল শোকাফার একটি ফানেলের আকৃতি বিশিষ্ঠ 18ফুট বিস্তারিত  ভূগর্ভের নিচে সবাধর। শবদেহ উপর থেকে নিচে রোপ ও কপিকলের ( পুলি) র সাহায্যে নামানো হত বা ওঠানো হত। এইটি বিভিন্ন বয়সের আকর্ষণীয় মিশ্রণ  উৎসর্গের অঙ্গীকার ,মিসরীয় ও রোমানিয় মৃতদের সাথে।
ভাস্কর্যশিল্পঅলংকৃত শিলালিপিসমন্বিত প্রস্তর শবাধার।  এর উপরের অংশে বিশেষ কিছু নাই।কিন্তু এখান দিয়েই ভিতরে প্রবেশের পথ। মাঝের অংশটি গ্রিক টেম্পেলের অনুরূপ এবং এখানে কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়।
যেখান দিয়ে ভুগর্ভস্থ সমাধিক্ষে ত্রের শেষ প্রান্তে পৌঁছবার ধাব গুলি এবং প্রতি দুটি পিলারের মাঝে সমাধির "প্রোনাস " আছে। 20 শতকের শুরুতে মাটি খুঁড়ে তোলা "প্রোনাসের"মাঝে র প্রকোষ্ঠের মনো মুগ্ধকর কারু শিল্প একই সময়ে সঙ্ঘটন স্ত্রী ও পুরুষের জটিল মূর্তির চিত্র অঙ্কন প্রকট আসল ভাড়াটেদের সমাধি চিহ্নিত করে।

যদিও শরীর গুলির চিত্রায়ন ও বক্রতা  ঠিক যেন মিশরীয়দের অনুরূপ, পুরুষ মানুষ গুলির মাথা গ্রিকের  অনুরূপ । ঠিক তেমনি ভাবে স্ত্রী লোকের মাথা নিচে করা রোমানদের মতন।

আর একটি জটিল সমাধান এই মাঝের অংশে দুটি সাপ যার কল্পনানুসারে গ্রীকের নির্দেশ করে। যাকে বলা হয় "Agathodaimon'" অথবা শুভ আত্মা।

সে যাই হোক এগুলো খুবই হৃদয় আনন্দ দায়ক। যে সর্প যুগল সুশোভিত  ঠিক যেমটা দেখাযায় রোমান ও মিশরীয় সংস্কৃতিতে।

আর একটি বিস্ময়কর স্তম্ভিত করার মতন

চিত্রাঙ্কন তা হোল এই সাপেদের মাথার উপরে অঙ্কিত জেলি - মাছ ( Medusa ). যেটির নির্দেশ করে গ্রীক পুরাণের এক কুখ্যাত নিদর্শন , যার দ্বারা বুজতে পারাজয় যে ওই "Medusa" শবাধারকে  রক্ষ্যা করে চলেছে অনধিকার প্রবেশকারী ও বহিরাগত যে কোন অনুপ্রবেশকারীদের থেকে।

শুরুতে মাঝের অংশই কেবলমাত্র একটি " U"- এর আকারে দালান।কিন্তু এইস্থানে অধিক মৃত ব্যক্তির সমাধি হবার কারনে, কিছু জটিল ব্যবস্থার মাধ্যমে রুপান্তরিত করে স্থানান্তরিত করা হয় আরো কক্ষ এবং আরো হল গঠিত করে।

মাঝের অংশের স্তরের তলদেশে ক্যাপসুল সংযোজন করা হয়ে ছিলো। প্রাচীন বিশ্বের যেগুলি হারিয়ে গেছে।

দুর্ভাগ্য বসত এই অংশটি জলে ডুবে গিয়েছে, ফলে দর্শকেরা জানতেও পারেনা যে এখানে কি ছিল।ঐতিহাসিক গণ মনে করেন যে এগুলি বিত্তবান মানুষ তাদের বংশের সমাধি হিসাবে ব্যবহার করতো। মনে করা হয় যে এই ফেমিলি গুলি প্রাচীন পৌত্তলিক ধর্মালম্বি।অতি শিগ্রই  এই সমাধি গুলি একটি বরো সমাধি সাইট হয়ে ওঠে।

এই  কম এল শোকাফার ধ্বংসাবশেষ প্রাচীন মিশরের পৈত্তলিক ধর্মীয় বিশ্বাসের শেষ প্রধান কাঠামোর একটি উপরুন্ত এগুলি, সরাসরি প্রভাব লক্ষিত হয় এখানে উপস্থিত অন্যান্য অনেক সংস্কৃতি অসাধারণ স্থাপত্যে ।

এগুলোকে সমাধি বলার এক মাত্র কারণ একই প্রকার সমাধি ছিলো খ্রীষ্ট ধর্মালোম্বি রোমানদের। সেখানে  তিন স্তর বিশিষ্ঠ কবর ছিল। মিশরীয়,গ্রিক,এবং রোমান স্থাপত্যে সহ  বিভিন্ন প্রকার স্থাপত্য ছিল। স্তর গুলি শিলা মধ্যে উত্কীর্ণ এবং একটি সিঁড়ি এবং একটি রোটুন্ডা।এখানে আছে একটি পার্শ্বকক্ষ, একটি কবর কক্ষ,একটি চাঁদনি। কবর কক্ষ্যের মধ্যে তিনটি ভাস্কর্যশিল্পঅলংকৃত শিলালিপিসমন্বিত প্রস্তর শবাধার। সমাধি কক্ষ্য গুলি খুব ভাল সংরক্ষিত এবং অনুরূপ ভাবেই থাকত যেভাবে তারা অনেক শতাব্দী আগে করে রেখে ছিল।

কিন্তু নিচের স্তর গুলি এখনো উপসাগরীয় জলের মধ্যে ডুবে আছে। সেখানে 99 ধাপ সহ একটি সর্পিল সিঁড়ি আছে যেটি একটি খাদের  মধ্যে গেছে। এই খাদ ব্যাবহার হোত মৃত দেহ উপর থেকে নিচে রোপের সাহায্যে অখ্যাত ভাবে নামানোর জন্য,কোন প্রকার ক্ষয় ক্ষতি ছাড়া।

সিঁড়ির পরেই আছে চাঁদনি। এই জায়গাটি দর্শক দের উপর থেকে নিচে সিঁড়ি দিয়ে আসার পরে বিশ্রামের  জন্য।

রোটুন্ডা টি দ্বিতীয় তলে একটি গোলাকার বিশালাকার হল বিস্তৃত দেওয়াল উপরের ডোম পর্যন্ত। এই ডোম টি পিলার দিয়ে সাপোর্ট দেওয়া। এই খাদটি প্রথম তালা থেকেই দেখাযায়। পাঁচটি পাথরের হাত পাওয়া গেছে রোটুন্ডার নিচে, যেগুলো জাদুঘরে রাখা আছে।

ইউ ( U )আকৃতির ট্রীক্লিনিয়াম অথবা ভোজ ঘরে তিনটি বেঞ্চ আছে যেগুলি পিলার দিয়ে সাপোর্ট দেওয়া।মোজাইক করা ফ্লোর সিলিং টি শেলের মতন অলঙ্কৃত।

এই স্থান টি অতিথিদের বিশ্রাম ও খাবার খাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট। তথাপি এমনটার কোন সন্দেহ নাই যে Kom el Shoqafa একটি বিশেষ সংরক্ষণ কেন্দ্র,

প্রাচীন মিশরের ধ্বংসাবশেষ নিদর্শনের, সমৃদ্ধ মিশ্রণ ছিলো যা সমৃদ্ধ করেছে তৎ কালের সংস্কৃতির। তাই এটি একটি প্রাচীন সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধর উপযুক্ত নিদর্শন।

এটি অতি অতীতের এক নিদর্শন যা সত্যই একটি মধ্য যুগের সাতটি বিস্ময়কর নিদর্শনের একটি।        
             ( সংকলিত)
       
============================

14>বিখ্যাত পম্পি পিলার

এখানে আছে সেই বিখ্যাত পম্পি পিলার যা তৈরী হয়েছিল সেই রাজাদের সম্মানে।
সম্পূর্ণ পিলারটি 28মিটার লম্বা 3rd century A.D. তে তৈরী করেছিলো আসোয়ানের লাল গ্রানাইড দিয়ে।
           ( সংকলিত)
   =========================

15>|| রোমান থিয়েটার আলেক্সান্দ্রিয়া |

"The Roman Amphitheatre Alexandria রোমান অ্যামি্পথিয়েটার আলেক্জান্দ্রি়া
(Alexandria in Kom El Dekka) (কম এল ডেক্কা।)
আলেক্জান্দ্রি়ার রোমান অ্যামি্পথিয়েটার একটি বিশেষ জনপ্রিয় স্মৃতিসৌধ। এহেন অ্যামি্পথিয়েটার  বিভিন্ন দেশেই আছে 

যেমন গ্রিসে,ইতালিতে, তুর্কি তে,তৈরি হয়েছিল রোমানদের শাসন কালে।

রোমান টিয়েটারের অস্তিত্ব একনও আছে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে ।

কিন্তু আলেক্জান্দ্রি়ার রোমান অ্যামি্পথিয়েটার এক বিশেষ শৈলীতে গঠন একমাত্র মিশরে।

The Meaning of the Word Kom EL Dekka কম এল ডেক্কার অর্থ।
এটি আরবীয় ভাষায় যাকে বলাহয় পাথরকুঁচি র পাহাড়। বা বেঞ্চ পাহাড়।এই নামকরণ করেছেন বিখ্যাত ঐতিহাসিক এল নিওয়ারি 20 শতকের শুরুতে।

19 শতকের শেষের দিকে এল নিওয়ারি যখন মামুদিয়া কেনেল টি খনন করছিলেন তখন তিনি আবিষ্কার করেন এই পাথর কুঁচির পাহাড়।
1960 সালে শুধু মাত্র নিছক কাকতালীয় ভাবে আবিষ্কৃত হয়েছিলো এই থিয়েটার । কম এল ডেক্কা অঞ্চলে গভর্মেন্ট এর কিছু কনস্ট্রাশনের কাজের জন্য কাজের লোকরা কিছু জায়গার ধুলোর গাদা ও বালু পরিষ্কার করতে গিয়ে তারা কিছু শক্ত পিলারের মতন মাটির নিচে প্রোথিত আছে বলে মনে করেন।তারপরেই  সেই স্থানে খনন কার্য্য শুরু হয়, কম এল ডেক্কাতে। এই খনন কার্য টি করে রোমান মিউজিয়াম ও স্থানীয় পুলিশ ।
খনন কার্যের তত্ত্বাবধান করে ইউনিভার্সিটি অফ ওয়ার্সও। অতি শীঘ্রই প্রকাশিত হয় মিশরের 20 শতকের বিশেষ গুরুত্ব পূর্ণ আবিষ্কার আলেক্জান্দ্রি়ার রোমান অ্যামি্পথিয়েটার ।
এই থিয়েটার সপ্তম শতাব্দী পর্যন্ত সচল ছিলো। নানান অনুষ্ঠান, ড্রামা,মিজিক, প্রভিতি অনুষ্ঠিত হতো। এবং এই থিয়েটার রোমান, বাইজেন্টাইন,ও প্রাথমিক ইসলামী যুগে সচল থাকার বিভিন্ন প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই দীর্ঘ কাল যাবৎ এই থিয়েটার  বিভিন্ন প্রকারের অনুষ্ঠান গুলি সু সম্পন্ন করে চলে ছিলো।
এটি একটি odeum হিসাবে ব্যবহৃত হতো যেখানে বাদ্যযন্ত্র শো পরিবেশিত হত রোমানদের সময়ে।এই থিয়েটারে সকল উপাদান ছিল তার নিখুঁত কর্মক্ষমতা নিমন্ত্রণকর্তা গম্বুজ যা একনো দাঁড়িয়ে আছে
অন্য দিকে বাইজেন্টাইন কালে এটি ব্যবহৃত  হতো বিভিন্ন  সম্মেলন কেন্দ্র হিসাবে। যেমন জরুরি কোন  সভা যেমন জন সাধারনের সমাহারগুলি এবং গভর্মেন্ট এর শীর্ষ-বৈঠক গুলি এখানেই অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু ইসলামিক সময়ে এটি অবহেলিত হোয়ে পরে। ফলে ধীরে ধীরে এটি ভূগর্ভে বলি মাটি চাপা পড়ে মানুষের চোখের আড়ালে চলে যায় ।
এই রোমান অ্যামি্পথিয়েটার 20 শতকের আলেকজান্দ্রিয়া শহরের ঐতিহাসিক স্থানগুলির মধ্যে একটি।"
Amphitheater এর কিছু বর্ণনা::-
আমরা যেমন দেখেছি সেই টুকুই লিখবার চেষ্টা করছি।

আমরা  স্টেডিয়ামে দাড়িয়ে ভীষণ এক আনন্দের অনুভব করলাম, সাথে এটা ভাবতে অবাক হচ্ছিলাম যে এই  অপূর্ব থিয়েটার টি চতুর্থ শতাব্দীতে নির্মিত হয়ছিল। গ্রিক রোমান কালে যার  একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিল।    Amphitheaters বিশেষ ছাদ থিয়েটার ছিল।

সেখানে মিশরিয় রোমানদের রাজত্ব কালে, নিয়মিত নিমন্ত্রিত ও অনুষ্ঠিত হত সঙ্গীত অনুষ্ঠান, নানান  প্রতিযোগিতা, প্রভীতি নানান অনুষ্ঠান।

এই থিয়েটারের বৈশিষ্ট্য ছিল এখানে একটি মার্বেলের দর্শক আসন ছিলো। যেটি সম্পূর্ণ  উইংএর সমান।এখানে  ৬০০ জন  দর্শকের আসন আছে । এবং দর্শক আসন ৩৩ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত অর্ধ গোলাকারে ১৩ টি সারি আসন ছিলো। সম্পুর্ন আসন গুলি ইউরোপিয়ান সদা মার্বেলের । সকলের উপরের সারিতে সবার উপরে একটি বারান্দা যেটি গ্রানাইট পাথর দিয়ে তৈরি এবং কএকটি পিলার যে পাথর গুলি আসোয়ান মিশর থেকে আনা হয়ে ছিলো। সেই পিলার গুলির কিছু এখনো অক্ষত অবস্থায় আছে।

আমরা দেখলাম যে সুন্দর ভাবে ১৩ টি সারিতেই রোমান হরপে নম্বর অঙ্কিত করা আছে। দর্শক আসনে আরও পাঁচটি ভাগ বা চেম্বার আছে সেকানে বিশেষ গণ্য মান্য অথিদের জন্য সংরক্ষিত। এই বিশেষ চেম্বারের ছাদ টি গ্রানাইড পাথর দিয়ে  এমন ভাবে তৈরী যাতে দর্শকদের রোদ বা বৃষ্টি না লাগে। এছাড়াও এই আসন গুলিতে সাউন্ড বক্স আলাদা করে ছিল যাতে করে দর্শক রা সকলে ভালো করে শুনতে পারে।

বর্তমানে  এই ছাদ গুলি ভেঙ্গে গেছে ভূমি পাম্পের কারণে। যে ভূমি কম্পটি হয়েছিলো আলেক্সজান্ড্রিয়াতে ষষ্ঠ শতাব্দী AD তে। ফলে তখনকার দিনের অনেক কিছুই ধ্বংস হয়ে গেছে। তখনকার বিখ্যাত আলেক্সজান্ড্রিয়ার লাইট হাউস টি ও ধ্বংস হয়ে গেছে। এতো ক্ষয় ক্ষতির মধ্যেও থিয়েটার টির দেওয়ালের কোন ক্ষতি হয় নি। কারণ এই দেওয়াল গুলি লাইম স্টোনের হলেও একটি দেওয়ালে পেছনে আর একটি দেয়াল সাপোর্টে আছে। এমনটাই দ্বিতীয় ও চুতুর্থ শতাব্দীর গঠন কার্যের  বিশেষত্ত্ব।

সম্পূর্ণ স্টেজ টি ইংরেজি " C " অক্ষরের ন্যায় তৈরী ,যাতে করে সকল দর্শক ঠিক  ভাবে বসতে, দেখতে, ও শুনতে পারে। পুরো থিয়েটার টির ঠিক মাঝখানে থাকতো অর্কেস্ট্রা যেখান সম্পূর্ণ মিউজিক পরিবেশিত হতো। এই অংশ টি দুটি বিশাল মার্বেল পাথরের স্তম্ভ দিয়ে সুরক্ষিত।

থিয়েটারের   সম্পূর্ণ মেঝেটি মোজাইক পাথর দিয়ে পালিশ করা সুন্দর ভাবে। মোটের উপরে সম্পূর্ণ থিয়েটার টি অতি মনোরম ভাবে সু সজ্জিত। প্রাচীন আলেক্সজান্ড্রিয়ার এক গর্ভকরার মতন শহর ও দর্শনীয় স্থান।

বর্তমানে আমেরিকান গবেষণা কেন্দ্র এই থিয়েটারের উত্তর দিগে যেকানে প্রচুর পরিমানে ইটের টুকরো জমানো ছিল ঠিক সেই স্থানে একটি স্নানাগার খুঁজে পায়। এবং একটি বাড়ির ধ্বংসাবশেষ পায় যেটি নাম দিয়েছে " পাখির ভিলা " , কারণ এই বাড়িটির মেঝে এমন সুন্দর মোজাইক করা যে দেখে মনে হয় বিভিন্ন আকারের নানান পাখি উড়ে চলেছে। প্রতিটি পাখি আলাদা আলাদা জ্যামেতিক আকারে সজ্জিত। সেই কারণে গবেষ গণ মনেকরেন বর্তমানের আবিষ্কারের মধ্যে এটি একটি শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার।   
               ( সংকলিত)
                                                                        =========================







★★||মিশর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা।।

           SV2 ম্যাগাজিন
             <-----আদ্যনাথ--->
মমি  দেখেছিলাম কোলকাতার মিউজিয়ামে।
জীবনে ঘুরেছি অনেক দেশ বিদেশের নানান স্থানে, শহর,গ্রাম,পাহাড়,পর্বত,জঙ্গল,ঘুরতে হয়েছে কাজে ও ঘুরে বেড়াবার আনন্দে। তথাপি মনের আশ মেটেনি । যতই দেখি আরো দেখবার ইচ্ছাগুলি মনকে তারা করে চলে। মনের মতন জায়গাতে যেতে পারলে মনে ভীষণ আনন্দ লাগে।
সেদিন রাত্রে হঠাৎ সাম্য আমায় বললো,
বাবা, জাবেনাকি মিশরে ?
প্রথমে মনে করলাম বুঝি ভুল শুনলাম, তাই জিজ্ঞাসা করলাম কি বলছো?
কোথায় যাবে?
সাম্য বললো উত্তর আফ্রিকা মিশর সেই মমি ও পিরামিড দেখতে।
আমি মহা উৎসাহে বলেছিলাম হ্যাঁ হ্যাঁ যাবো ,
কবে যাবে ?
সাম্য বললো দাড়াও আগে ভিসা এবং অফিসের ছুটি এমন সকল ব্যবস্থা গুলো করি।
আমি নিজে  রিটায়ার্ড মানুষ এখন বয়সও হয়েগেল 69 বৎসর আর তাই আমার তো আর অফিসের ছুটির চিন্তা নাই  আমি তখন থেকেই এক ভীষণ  আনন্দ অনুভব করতে লাগলাম ,আর দিন গুনতে থাকলাম কবে আমার সেই ছোটবেলার স্বপ্ন পূর্ণ হবে।
কবে মমির দেশ ঘুরতে যাব।

একদিন সত্যই সেইদিন আসলো।
আমার স্বপ্ন পুরনের দিন আসলো।
দিনটি ছিল ৩১ মার্চ ২০১৯ রবিবার আমরা বেরিয়ে পড়লাম।

মমির দেশে সাতরাত্রি ও আটদিন,
সে এক রোমাঞ্চকর অনুভূতির দিন।
আমারদের পোগ্রাম ছিল ------
কায়রো,--আসওয়ান---ইডফু--লক্সোর---কায়রো,-- আলেকজান্দ্রিয়া।
কায়রো  মিশরের পর্যটন আকর্ষণ যেগুলি আমারা দেখেছিলাম -কায়রো, মিশর,আসওয়ান, মিশর,সূদানেমিশরের আলেকজান্দ্রিয়া,স্ট্যানলি সেতু, কর্ণাক মন্দির,নীল নদে জাহাজ ভ্রমণ, গিজার পিরামিড,ভ্যালি অফ দা কিং,মিশরে আবু সিম্বেল-এর মন্দির।                                                                 

এবারে আমাদের ভ্রমণের প্রতি দিনের কিছু বিবরণ। যদিও সম্পূর্ণ বিবরণ দেওয়া আমার পক্ষে অসম্ভব।
কারণ আমি নিজে ইতিহাসের স্টুডেন্ট নোই। এবং ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞানও অতি সামান্য।
তাই যতটুকু গাইডদের মুখে শুনেছি তার কিছু সামান্য অংশই মনে রাখতে পেরেছি। যেটুকু মনে রাখতে পেরেছি তারই সামান্য কিছু এখানে  লেখার চেষ্টা করছি ।
কারণ সম্পুর্ন লিখতে গেলে সে বিশাল হয়ে যাবে । তাইতো সামান্য অংশই লিখছি এখানে।

আমাদের যাত্রা হোল শুরুর::---

★★প্রথম দিন, ৩১ মার্চ ২০১৯ রবিবার।

আমাদের যাত্রার প্রথম দিন শুরু হলো দম দম এয়ার পোর্ট থেকে।
৩০ মার্চ ২০১৯ শনিবার রাত্রি  ১১:৩০ মিনিট এআরপর্টের জন্য রওনা দিলাম ।
কারন আমাদের ফ্লাইট ভোর ০৪:২০ মিনিট  অর্থাৎ 31/03/2019--04:20 am রবিবার।
কলকাতা থেকে আবু ধাবি ফ্লাইট (EY 255) কোলকাতা নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস ইন্টারন্যাশনাল এআরপোর্ট থেকে প্লেন ঠিক সময় মতোই ৫ ঘণ্টায় আমাদের আবুধাবিতে পৌঁছে দিলো।
সেখান থেকে  সংযোগ কারি প্লেন ( EY 653) আবুধাবি থেকে  ৩ ঘণ্টায় কায়রো ইন্টার ন্যাশনাল  এআরপোর্টে পৌঁছলাম  ১১:৪৫এতে।
সেখান থেকে A/C বাসে করে পৌঁছে গেলাম হোটেলে ( CAIRO HOTEL "GRAND NILE TOWER" )
হোটেল রুম বুক করাই ছিলো। সেখানে দুপুরের খাবার খেয়ে একটু বিশ্রাম করে সন্ধায় গিজার
ঐতিহাসিক লাইট এন্ড  সাউন্ড পোগ্রাম দেখতে গেলাম।
( LIGHT & SOUND SHOW AT THE GREAT PYRAMID OF GIZA )  এক ঘণ্টার অবিশ্বাস্য লাইট ও সাউন্ড এর পোগ্রাম উপভোগ করলাম।
সন্ধায় এখানে প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে সকলেই কম্বল ভাড়া করে ,গায়ে জড়িয়ে নিয়ে বসে দেখলাম এক ঘণ্টার অবিশ্বাস্য পোগ্রাম গোধূলি লগ্নে । (ওখানেই কাউন্টারের পাশে কম্বল ভাড়া পাওয়া যায়, আমরা সকলেই ওখান থেকে কম্বল ভাড়ানিয়ে ছিলাম )
দেখলাম সেই ঐতিহাসিক .GREAT SPHINX
( মিশরের অতিকায় মূর্তি যার দেহ সিংহের মতন ও মাথা স্ত্রীলোকের মতন। )
মনে হলো এই এক ঘন্টা  ওই  SPHINX ই যেন দর্শকের দিকে মুখ করে অনর্গল নাটকীয় ভাবে বিস্তারিত মিশরের পৌরাণিক ইতিহাসকে লাইট এন্ড  সাউন্ড এর মাধ্যমে আমাদের  বুঝিয়ে দিচ্ছিল।
সম্পূর্ণ মিশরের ঐতিহাসিক ঘটনা। কেন, কীভাবে, এখানে তৈরি হয়েছিল এই পিরামিড সকল ।
সেই সকল ঘটনাকে চাক্ষুষ দেখিয়ে দিচ্ছে লাইট এন্ড  সাউন্ড এর মোহিত করা নাটকীয় শুর ও ছন্দ।
পিরামিডের অনেক অজানা তথ্য এমন সুন্দর করে বর্ণনা করছিলো যেন মনে হলো মমি গুলি জেগে উঠে কাজে লেগে পড়েছে। পরিশ্রমী মানুষেরা বড়ো বড়ো পাথর কি সুন্দর ভাবে বয়ে নিয়ে একে একে
সাজিয়ে তৈরী করছে পিরামিড। কিছু মানুষ পিরামিডের ভেতরে এক একটি প্রকোষ্ঠ তৈরীকরতে ব্যস্ত।
পিরামিড গুলি যেন এক একটি প্রাচীন ঐতিহাসিক মহা মূল্যবান  খনি গর্ভ।
বিশ্ব ঐতিহ্যের নানা নিদর্শন ও স্থাপনা ছড়িয়ে রয়েছে সমগ্র মিশর জুড়ে।
এহেন শো দেখে মনে এক অদ্ভুত অনুভূতির শিহরণ নিয়ে ফিরলাম কায়রোর “Grand Nile Tower”-হোটেলে
রাত্রে এলাহী খাবার ব্যবস্থা।
তারপরে ঘুম।
ঘুম থেকে উঠেই দ্বিতীয় দিনের পোগ্রামের  জন্য তৈরী হলাম।                                                         

------------------------------------------
★★দ্বিতীয় দিন,১এপ্রিল২০১৯,সোমবার।

সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে  সকাল ৭ টায়  জলখাবারের ভুরি ভোজ, এলাহী ব্যবস্থা জল খাবারের।
যে যেমন পারো তেমন যত ইচ্ছা খাও। খাবারের মেনুতে শুধু ভাত ছাড়া সবই আছে। কত খাবার অতোগুলো খাবারের নাম বলাও  মুশকিল আমিষ,নিরামিষ কি নাই সেটাই বললাম। শুধু ভাত টাই নাই। অঢেল ফল বিশেষ করে খেঁজুর এতো  বরো বরো খেজুর এই প্রথম দেখলাম। কি অপুর্ব স্বাদ ,আঙ্গুর ,কলা ,কলা মানে এমন সুন্দর সুস্বাদু কলা ,যা বলে বোঝানো সম্ভব নয় ,সরবতী লেবু এক একটি লেবু আধা কিলো ,কি অপূর্ব যেমন মিষ্টি তেমনি সুস্বাদু।  যাইহোক জল খাবারের ভুরি ভোজ  সেরে লাগেজ গুটিয়ে এ সি বাসে   করে বেরিয়ে পড়লাম সালাদিন চিটাডেল ( SALADIN CITADEL ) দেখতে যেটি তৈরী করেছিলেন সালা আল-দিন, মকিউটাম পাহাড়ে in the year 1183 AD as a defense against Crusader armies.

সালাদিন চিটাডেলের  প্রসস্থ লন থেকে কায়রোর সুদূর প্রসারিত শহরটি  দেখে মন ভরেগেল কি অপূর্ব মনরম দৃশ্য এবং বিশুদ্ধহওয়া, সত্যি অপূর্ব  যার জন্য এই স্থান বিশেষ উল্লেখ যোগ্য। সত্যই কিসুন্দর হাওয়াদার জায়গা। এখান থেকে সম্পূর্ণ কায়রো শহরটি ছবির মতন  অপূর্ব দেখাছিলো।
কায়রো যে সত্যই অট্টালিকার শহর সেটা এখান থেকে না দেখলে বোঝাই যেতনা ।
এখানে আছে  ঐতিহাসিক মসজিদ ও সংগ্রহ সালা, এবং মুহাম্মদ আলী পাশার মসজিদ। মসজিদ গুলি দেখার মতন। মসজিদের ভেতরের কারু কার্য কি অপূর্ব। ভারতে অনেক মসজিদ দেখেছি তবে এই মসজিদ গুলি র কারু কার্য ও শিল্প কলা দেখবার মতন। রং বেরঙের কাঁচের শ্রেণী বিন্যাস দেখার মতন।
তারপর আমরা পৌঁছে গেলাম  কায়রো এয়ার পোর্টে, আসোয়ান মিশর  যাবার জন্য। কায়রো টাইম অনুসারে ৩ তে :৪৫ মিনিটে   আমাদের ফ্লাইট। আমরা আসোয়ান  এতে পৌঁছে গেলে আমাদের নিয়ে গেল নীলনদের ক্র্রুজে, এই  ক্র্রুজ  টির নাম "M S NILE  RUBY ".
ক্র্রুজ টি ফাইভ ষ্টার হোটেলেকেও হার মানায়। কি নাই তাতে সুইমিং পুল , বিশাল ডেক। ড্যান্স বার ,বিশাল ডাইনিং। ওয়াইন সপ, মল,কেনা কাটার সুন্দর বাজার। বেশ বড়ো বড়ো রুম। সম্পূর্ণ জাহাজটিই এসি। জাহাজের মৃদু দোলায় স্বেত শুভ্র বিছানায় পারফিউমের সুবাসে লেপ মুড়িদিয়ে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখার অভিজ্ঞতা ভোলাবার নয়। সন্ধ্যায় আমরা টেম্পল ফিলেতে লাইট এন্ড  সাউন্ড শো দেখলাম।  এখানকার এই লাইট এন্ড সাউন্ড পোগ্রাম গুলি বড়োই সুন্দর। এখানেও  ওই  লাইট এন্ড সাউন্ড শো দিয়ে পুরো ঐতিহাসিক ব্যাপার টা  ভালো করে বুঝিয়ে দেয়। এখানে লাইট এবং সাউন্ড এর পোগ্রামে  গডেস আইসিস ও ওসিরিস এর জীবন বৃত্যন্ত সুন্দর করে বুঝিয়ে দিলো। তারপরে আমরা সম্পূর্ণ টেম্পেল টি ঘুরে দেখলাম। অপূর্ব কারুকার্য চিত্র কলা এবং সকল কিছুতেই গডেস আইসিস ও ওসিরিসের জীবন গাঁথা। গডেজ আইসিসের জীবনের যেটুকু শুনেছি সেটা এখানে লিখতে গেলে ভ্রমণ কাহিনী অনেক দীর্ঘ হয়েযাবে তাই এখানে সেই কাহিনীর বিস্তার উল্যেখ না করে সুযোগ পেলে পরে  আলাদা ভাবে এই কাহিনীর বিস্তার লিখব।
সত্যই মিশর  একটি মন্দিরের শহর যা2000 বছরেরও বেশি আগে নির্মিত হয়েছে। এই ঐতিহাসিক মিশরে বসবাসকারী মানুষদের কাছে নীলনদ এক রক্ষাকর্তা স্বরূপ। এই নীলনদে জাহাজে ভ্রমণ ও আসওয়ান মিশর মিশরের সৌন্দর্য কে বহু গুনে বাড়িয়ে দিয়েছে।
আমার মনেহোল নীল নদে জাহাজ ভ্রমণ,  অবকাশ যাপনের এক শান্তি পূর্ন অতি উত্তম পন্থা। এই নীল নদে জাহাজ ভ্রমণের সহায়তার , ইতিহাসের মিশরীয় মন্দিরগুলি পরিদর্শনের উৎকৃষ্ট অবলম্বন।
এই জাহাজ গুলিতে অত্যাধুনিক  অনেক সুবিধা রয়েছে। এই জাহাজে ভ্রমণের মাধ্যমে জীবনে একবার হলেও এমন এক অনন্য ভ্রমণ অভিজ্ঞতা উপলব্ধি করা সত্যই বিস্ময় কর অভিজ্ঞতা। এই জাহাজে ভ্রমণের মাধ্যমে  চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য ও বালিয়াড়ি দেখার যে অপূর্ব সুযোগ যা সত্যি বিস্ময় কর অভিজ্ঞতা,  যা এই জাহাজভ্রমণ ছাড়া বোধ হয় সম্পূর্ণ রূপে  সম্ভব নয়।
মিশরের মানুষ নদী পথেই তাদের ব্যবসা বাণিজ্য চালায় আর সড়ক পথে উট আর ঘোড়ার গাড়ি সেইকারনে এখানের বাতাসে পলিউশন খুবই কম। তাইতো দিনরাত মুক্ত বাতাসে বুক ভরে স্বাস নিতে কোন বাধা নাই। আর তাই বুঝি এখানকার মানুষ দীর্ঘ দেহি ও বেশ বল শালী।

★★আসওয়ান, মিশর::---

আসওয়ান হল মিশরের সবচেয়ে রৌদ্রজ্জ্বল দক্ষিণী শহর, নীল নদের  উপত্যকায় অবস্থিত শহরটি অসাধারণ। সৌক বা স্থানীয় বাজারগুলি মশলা এবং পারফিউমের গন্ধ ও বর্ণে পরিপূর্ণ, রান্নার যে কত প্রকার মশলা পাওয়া যায় সেটা না দেখলে বিশ্বাস করাই মুশকিল।

তবে হ্যা সকল মশলায় সম্পূর্ণ অর্গানিক কোনপ্রকার রং বা এসেন্স বর্জিত বিশুদ্ধ মশলা।
এর সঙ্গে রয়েছে সুন্দর আফ্রিকান হস্তশিল্প, নুবিয়ান হস্তনির্মিত দ্রব্য,
এইসকল দেখতে দেখতেই দ্বিতীয় দিন কেটে গেল।
এর পরে আবার আমরা ক্র্রুজে ফিরলাম।
ফিরে ডিনার খেয়ে দ্বিতীয় দিনের সকল চিন্তা নিয়ে শুয়ে পড়লাম।
=============================
★★তৃতীয় দিন,২এপ্রিল২০১৯,মঙ্গলবার।

সকালের ব্রেকফাস্ট সেরে। বেরিয়ে পড়লাম পৃথিবী বিখ্যাত হাই ড্যাম দেখতে এবং সেই ফিলক টেম্পল এর অসমাপ্ত অসাধারণ পিলার গুলি এবং তাদের বিপর্যয়, যা কিনা দুইজন গডেজের নাম উৎসর্গ গডেজ আইসিস ও হাথোর।
তারপরে দুপুরের খাবার খেতে ক্র্রুজে  ফিরলাম।
আমরা যখন লাঞ্চ করছি তখন জাহাজ রওনা দিলো কোম -ওম্ব টেম্পেলের দিগে। আমরা দেখলাম ও জানলাম  কোম -ওম্ব টেম্পেল দুইজন দেবতার নামে সোবেক ও হেইরোরিস। জাহাজ আবার এগিয়ে চললো ইডফু দিকে। রাত  ভর জাহাজ চলছিলো। আমরা রাতের খাবার খেয়ে জাহাজের ডেকে বসে অনেক রাত পর্যন্ত নীল নদের উভয় পারের দৃশ্য ও নীলনদে চলমান আরও কতগুলি ক্র্রুজ  দেখতে  দেখতে উত্তর আফ্রিকার রাত্রি কে প্রাণ ভোরে উপভোগ করছিলাম।                        
দিনের বেলা জাহাজটি যখন হাই ড্যামটি পারকরে এক শুরু লক গেট দিয়ে তখন জাহাজটি ডাইনে বায়ে বার বার ধাক্কা লাগছিলো সেই সময় নীল নদে যতগুলি জাহাজ ছিলো সব একের পরে এক এভাবেই পার করলো ড্যাম। এবার আমরা পৌঁছে গেলাম ইডফুতে। এই হাই ড্যামের উপরেই নুতন করে স্থাপনা করা হয়েছেআবু সিম্বেল মন্দির দুটি। সে কথা পরে বলছি।
----------------------------------------------------
★★চতুর্থ দিন,৩ এপ্রিল ২০১৯ বুধবার।
        
আমাদের জাহাজ রাত্রেই পৌঁছে গেছে ইডফু তে। ভোর বেলাই চা /কফি খেয়ে নিয়ে রওনা দিলাম ইডফুর  টেম্পল দেখতে ঘোড়ার গাড়ি করে । মিশরে ঘোড়ার গাড়ি চড়া সেও এক মজাদার যাত্রা। এখানকার ঘোড়া গুলি বেশ বড়ো সরো এবং বেশ তাগড়াই তাই এমন এক্কাতে চড়ে বেশ আনন্দ উপভোগ করা গেল। আমাদের গাইডের কথা হোল "মিসরে এসেছেন এখানকার সব কিছুই উপভোগ করুন। ভারতে তো কতো গাড়ি চড়েছেন , এখানকার মরুভূমির উট আর শহরের ঘোড়া।এমন তাগড়াই ঘোড়া কোথায় পাবেন  স্যার।"
ফিরে এসে দুপুরের লাঞ্চ সারছিলাম ততক্ষনে ক্র্রুজ  রওনা দিয়েছে লাক্সর যাবার জন্য ভায়া এসনা।তারপরেই
মাঝ পথে গাইড আমাদের নিয়ে গেল নীলনদের পূর্ব তীরে কর্ণক ও লাক্সর টেম্পল দর্শনের জন্য। 3000 হাজার বৎসরের পুরোনো লাক্সর টেম্পল নীলনদের পূর্ব পারে। কর্নক ও লাক্সর টেম্পল অতি সুন্দর এই টেম্পল। বিশাল বিশাল দম্বুজ গুলি, হাইপোস্টাইল হল।
(আরও সম্পুর্ন বিবরণ আলাদা করে লিখলাম ★৩>কর্ণাক )
--------------------------------------------------------
★★পঞ্চম দিন, ৪এপ্রিল২০১৯,বৃস্পতিবার।

**LUXOR SUNRISE HOT AIR BALLOON RIDES-
মিশরে পিরামিড দর্শন টেম্পল দর্শন
এগুলোর ছিলো একান্ত আকর্ষণীয় ।
সকল আকর্ষণ কে ছাপিয়ে লক্সোরের হট বেলুন চড়া অদ্ভুত এক শিহরণ।
বেলুনে চড়ে 530 উচুতে উঠে সূর্য উদয় দর্শন।
অবর্ণনীয় সেই অভিজ্ঞতার ক্ষণ।
মেঘমুক্ত নিল আকাশে,সূর্যের রক্তিম আভার বিচ্ছুরণ।
এহেন সূর্যোদয় দর্শনের শংসা
লক্সোরের হট বেলুন চড়ার প্রশংসা।
মরু দেশ অদ্ভুত সেই শংসিত,
মনোমুগ্ধ কর দর্শনীয় ষড়ৈশ্বর্য ।

বিশাল বেলুনে বাঁধা এক ঝুড়ি
তাতেই চড়ে বসলাম আমরা জনা কুড়ি।
পাইলট ছিলেন একজন।
গ্যাস সিলিন্ডার সহ চারটি ওভেন।
চারটি ওভেনে জ্বালিয়ে আগুন
উৎপন্ন করে হাইড্রোজেন গ্যাস, তাতেই ফুলেওঠে বিশাল সেই বেলুন।
এবারে বেলুন উড়লো আকাশে,
আমরা ভেসে চললাম বাতাসে।
530 ফুট ওপর থেকে মিশর দর্শণ,
আমাদের হৃদয়ে নুতন এক শিহরণ।
চলছিলাম আমরা হওয়ার বেগে,
নীলনদকে দেখছিলাম প্রাণ ভরে।
উঁচু থেকে দেখলাম সকল টেম্পল,
পিরামিড বালুকা ময় বিস্তীর্ন অঞ্চল।
মাঝে মাঝে ওভেনের আগুনের হালকা,
সে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা।
তখম সময় হয়েছিল ভোর পাঁচটা চল্লিশ,
উর্ধো আকাশে ছিল শীতের আবেশ।
এমন মজাদার খোলা আকাশে ভ্রমণ,
হট বেলুনে ভ্রমণ সত্যই অসাধারণ।
  লক্সোরের হট বেলুনের ভ্রমনে,
কিছু নিয়ম কানুন হয় মনে রাখতে।
এই রাইড 45,--60মিনিটের রাইড,
সাথে থাকে উপযুক্ত গাইড/পাইলট
যে ইংরেজি বলতে পারে ভাল।
*Ride টি FULL PASSANGER INSURANCE,
*HAVE A SKILLED PILOT,
*প্রশাসন অতিশয় সচেতন।
*সম্পূর্ণ যাত্রা পথ সি সি টিভির আওতায়
থাকে তখন। তথাপি নিজেদের ও সতর্ক থাকতে হয়। বিশেষ করে বেলুনে চড়তে, নামতে, বা উপরে হওয়ার বেগ বেড়ে গেলে। তবে দেখলাম ওখানকার প্রশাসন ভীষণ ভাবে সতর্ক।
আমাদের বেলুন হওয়ার বেগের কারনে
বেশ একটু দুরে চলে গিয়ে ছিলো।
কিন্তু অবতরণের সময় দেখলাম
সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মুহূর্তে পৌঁছে গিয়ে ছিলো অবতরণের স্থানে।
প্রশাসনের এহেন সতর্কতা দেখে ভীষণ ভালো লাগলো।
আমাদের সকলকে একটি করে পার্সোনাল ফ্লাইট সার্টিফিকেট দিলো।
ক্র্রুজে ফিরে এসে সকালের ব্রেকফাস্ট খেয়ে নিয়ে লাগেজ প্যাক করে রাখলাম। আমরা আবার বেরিয়ে পড়লাম নীল নদের পশ্চিম পাড়ের দিকে 62 জন ফেরাওদের কবর খানা দেখতে যেটি ---ভ্যালি অফ দা কিং:  নামে  খ্যাত।
তারপরে দেখলাম রানী  আহাৎশেপ্সুতর সমাধি টেম্পল আনুমানিক 15th century BC যার নিদর্শন আছে EI-Deir EI-Bahari তে এবং The  Colossi of Memnon.
দুটি স্ট্যাচু বসেআছে যাদের হাত গুলি হাঠুর উপরে আছে। পূর্ব দিকে মুখ করে অর্থাৎ নদীর দিকি মুখ করে বসে আছে।
পৃথক দুটি বিশাল  কোয়ার্জ  পাথরের মূর্তি। উচ্চতা 18মি ( 60 ফুট ) তৈরী হয়েছিল 1350 BC এর পরে আমরা দিনের খাবার খেয়ে বেনানা দ্বীপে গেলাম কলা বাগান দেখতে। সেখানেও দোকানে দুটি কুমির রাখা আছে। কুমির এদের বড়ো প্রিয় আদরের। এর পরে আমরা চলে গেলাম লাক্সর এয়ারপোর্টে কায়রো যাবার ফ্লাইট রাত্রি 9 টায়। কায়রোতে পৌঁছে আমাদের হোটেল “Mercure Cairo Le Sphinx”. রাত হোটেলেই কাটলো।
-----------------------------------------------------
★★ষষ্ঠদিন,৫ এপ্রিল ২০১৯ শুক্রুবার।

কারোর হোটেলে সকালের ব্রেকফাস্ট করে গাইড আমাদের নিয়েগেল গিজার পিরামিড দেখাতে। মিশরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান হচ্ছে গিজার পিরামিড মিশর ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থেকে যাবে যদি গিজার পিরামিড না দেখা হয় । প্রাচীন বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের একটি এই পিরামিড। মিশরের রাজাদের  সমাধিস্থল হচ্ছে এই পিরামিড। মিশরের ফারাও অর্থাৎ রাজাদের মৃতদেহ মমি করে রাখা আছে এই পিরামিডের মধ্যে। কায়রো শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে মরুভূমির মধ্যে নীলনদ বরাবর গিজার পিরামিড অবস্থিত। গিজাতে  আছে তিন ( 3 )টি পিরামিড- খুফু, খাফ্রে ও মেংকাউরে পিরামিড।
এখানে উটের পিঠে চড়ার ব্যবস্থা ছিলো।
বাচ্ছা বুড়ো সকলেই উটের পিঠে চড়ে বালিয়াড়ি পর করে পিরামিডের কাছে গিয়ে দেখে আসলো।
যেখান থেকে উঠে চড়ার জন্য সকল উট গুলি ছিলো। আমি দেখলাম একজন মহিলা তার একটি উটের দুধ দোয়াচ্ছেন।
সকলে যখন উঠে চড়ার আনন্দে মাতোয়ারা তখন আমি সুযোগ বুঝে ওই উটের মালিক মহিলাকে 20 আরবীয় পাউন্ড দিয়ে একটু উটের দুধ চেয়ে নিয়ে খেলাম।
( CENTRAL BANK OF EGYFT এর
10 POUNDS মূল্যের দুটি নোট দিয়ে ছিলাম )
এমন তাজা উটের দুধ পেয়ে সত্যি খুব আনন্দ অনুভব করেছিলাম।
ওই দুধের কি দাম তাতো আমার জানা ছিলোনা। তবে দুটি দশ টাকার পাউন্ড দেখাতেই এক কথায় এক গ্লাস দুধ দিয়েছিলেন।আন্দাজ করি 200মিলি
দুধ ছিলো।
বড়ো  পিরামিডের সামনে স্ফিংস নামক সেই  বিখ্যাত মূর্তিটি  আছে, যার দেহটি সিংহ এর আকৃতি ও মাথাটি মানুষের মতন। এটি একটি  অনন্য নিদর্শন। বড়ো পিরামিড টির ভিতরে গিয়ে দুই জায়গাতে হামাগুড়ি দিতে হোল। আমার পক্ষে এই টুকুই সম্ভব হোল ,বাকি যাদের  একটু কম বয়েস তারা পুরোটাই এঞ্জয় করতে পেরেছে। এখানথেকে বেরিয়ে আরও কয়েকটি পিরামিডের ভেতরে গিয়ে দেখলাম। তারপরে রাজা টুটানখামুনের সমাধি। এই সমাধি দেখার জন্য আলাদা করে বেশি মূল্যের টিকিট নিতে হয়েছিল।
( টুটানখামুনের সমাধি এক বিস্ময়কর সমাধি যার বিবরণ একটু আলাদা করে
লিখলাম। )
এর পরে গেলাম  মিশরের মিউজিয়াম দেখতে যে খানে আছে টুটানখামুনের সমাধিতে রাণী নেফারতিতির গোপন কুঠুরি মিশরের প্রত্নতত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন,রাজা টুটানখামুনের সমাধিতে তারা এমন একটি গোপন কুঠুরি থাকার প্রমাণ পাচ্ছেন যেখানে হয়তো রাণী নেফারতিতির কবর ছিল। সকলের ধারণা যদি সত্যি সত্যি এরকম এক গোপন কুঠুরি খুজে পাওয়া যায় সেটা হবে শতাব্দীর সবচেয়ে বড় আবিস্কার। লাক্সারের এই অত্যন্ত প্রাচীন স্থানটিতে এখনো খোজ চলছে । তার পরে দেখলাম মমিদের মিউজিয়াম। যেখানে সারি সারি লাইন দিয়ে কাঁচের বক্সএ রাখা আছে সকল মমি। এখানেও অনেক নামনাজানা মমি আছে। বিশাল বিশাল সোনার মুখোশ। সোনার নির্মিত কফিন। সোনার অলংকার ,নানান মূল্যবান পাথরে সু স্বজ্জিত।
রাতে হোটেলে ফিরলাম। হোটেল টির  নাম ::-
MERCURE CAIRO LE SPHINX  HOTEL        
-----------------------------------------------------                                           
★★>সপ্তম দিন-----(7 th day )
*****------6 এপ্রিল ২০১৯-----*****
""""""""""""""""""""শনিবার""""""""""""""""

সকালে 6 টায় ব্রেকফাস্ট সেরে 7 টায় বেরিয়ে পরলাম আলেক্সান্দ্রিয়ার উদ্যেশ্যে। কায়রো থেকে আলেক্সান্দ্রিয়া প্রায় 3ঘণ্টার রাস্তা।
আলেকজান্দ্রিয়া কায়রো::---
6th April 2019::--
সকালে গেলাম আলেকজান্দ্রিয়া কায়রো থেকে 230 কিমি দূরে, ভূমধ্যসাগরের দক্ষিণ উপকূলে।
এটি মিশরের পুরোনো একটি শহর।
খুব সুন্দর শহরটি সাজানো গোছানো।
গ্রীকরাজ আলেকজান্ডার 301 খ্রিস্টপূর্বে তৈরি করেছিলেন শহরটি।
এখানে আছে রোমানদের সমাধিভূমি
ক্যাটাকম্ব কোম ( মাটির তলায় তিন তলার চার্চ)। চার্চের সামনেই
সারকেফেগাস- কম-এল-সোকাফা
( Sarcofagaes-Kom-El-Shouqafa)
যেটি চতুর্থ শতকে নির্মিত।

পম্পেই পিলার (Pompei Pillar)
কম-এল-ডেক্কা সাইট ( Kom-El-Dekka site) দেখলাম।
ভূমধ্যসাগরের উপমূলে নানান রকমের দোকান । দোকানের রংবাহারি সাজ দেখতে দেখতে চা খেলাম।
সমুদ্র প্রান্তে ক্যাটবে সিটাবেল দুর্গ দেখা  যাচ্ছিলো।
তারপরে দিনের খাবার খেতে গেলাম হোটেলে । সেখানে নানান প্রকার সী-ফুড
খেলাম। শামুক, ঝিনুক, অক্টোপাস, আরও নানান খাবার সামগ্রি সব গুলোর নামও জানানাই।
তারপরে গেলাম পৃথিবী বিখ্যাত বিবলিওথিকা লাইব্রেরীতে
( আলেকজান্দ্রিয়া)।
এখানে আনুমানিক দশ লক্ষ বই আছে।
এক বা দুই দিনে সমগ্র লাইব্রেরী ঘুরে দেখা সম্ভম নয়।
এতো কিছু দেখার পরে যে দেখা গুলি না দেখেও গাইডের মুখে শুনেই স্তম্ভিত রোমাঞ্চিত হয়ে ছিলাম সেই গুলির একটু কথা লিখছি আলাদা করে।
তবে নানান সময় সংঘটিত পৃথক পৃথক অগ্নিকাণ্ডে আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগার সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয় ।"
বর্তমানে সম্পুর্ন নুতন করে আবার তৈরি হয়েছে গ্রন্থাগার।

**আলেক্সান্দ্রিয়া
( যেটুকু সংগ্রহ করতে পারছি, কিছুটা
নিজের চোখে দেখে,কিছুটা গাইডের কথায় কিছুপ্রাচীন  ইতিহাস থেকে)

আজকে জাজা দেখেছি সেগুলির নাম লিখলাম:---
১>আলেক্সান্দ্রিয়ার বিখ্যাত গ্রন্থাগার "বিবলিওথেকাই"
২>সুন্দর স্টেনলি সেতু,
৩>এল-মুরসি আবুল আব্বাস মসজিদ
৪>আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর
৫>আলেক্সান্দ্রিয়া র পুরানো বাজার।
৬>কম এল শোকাফার ধ্বংসাবশেষ:
৭>বিখ্যাত পম্পি পিলার
৮>রোমান থিয়েটার--( আলাদা করে লিখলাম )
( এই ১ থেকে ৮ প্রতিটি আলাদা করে লিখলাম)
অনেক দেখেও সম্পূর্ণ না দেখতে পারার এক বিশাল বেদনা নিয়ে রাতে হোটেলে ফিরলাম। হোটেল টির  নাম ::-
MERCURE CAIRO LE SPHINX  HOTEL
-----------------------------------------------------                                                                                             
★★>অষ্টম দিন-----(8 the day ) ::
*****-----৭ এপ্রিল ২০১৯-----*****
"""""""""""""""""রবিবার""''"""""""'''''"'
আজ আমাদের বাড়ি ফেরার পালা।
সকালে ব্রেকফাস্ট সেরে হোটেল থেকে Check out Time করলাম সকাল ৯টায়। কায়রো ইন্টার নেশানাল এয়ারপোর্ট পৌছোলাম সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে। Take the flight from Cairo to Abu Dhabi (EY 654) and landed at 05:13 connecting flight to Kolkata (EY 256).
জীবনে অনেক ঘুরেছি তবুও যাকিছু ভালো সবই যেন খুব তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায়।
আবার বলি ভ্রমণ এক নেশা
চোখের নেশা, মনের নেশা
একান্ত হৃদয়ের নেশা।
প্রকৃতি যেন হাত ছানি দিয়ে ডাকে
মন কিছু খুঁজে বেড়ায় অজানা পথে।
কিছু খুঁজে পেতে চায় নুতন করে
কিছু পেতে চায় প্রকৃতিকে আপন করে।

আজ-কাল অতি ব্যস্ত জীবনে সময়ের মাঝে পরিবারের সঙ্গে একটু ঘুরে বেড়ানো একটু অবকাশ খুব সহজে মেলেনা, আর তাই সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে হয়।  সুযোগ আসার পর চলতে থাকে তার প্রস্তুতি। নির্দিষ্ট দিনের অপেক্ষা এবং তার প্রতীক্ষার উত্তেজনা সত্যি সুখের, আমাদেরও  এমন সুখের আটটি দিন
মনে হয় মুহূর্তেই যেন হয়ে গেল শেষ।
কাল থেকেই আবার সেই গতানুগতিক
জীবনের ঘনি টানা হবে শুরু।
আর এভাবেই হয় শেষ থেকে শুরু।

সকলকে আমার আন্তরিক ভালোবাসা জানিয়ে আজ এখানেই  করছি শেষ।
       <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---> 
         ৬/২ এ, শ্যামবিহার ফেজ ll
         আর ই ই-১৫ রঘুনাথপুর
             কোলকাতা-৭০০ ০৫৯                                                           ========================