41>||ঘুরে দেখা কোঙ্কন উপকূল=গোয়া।
1977 এর 12 ডিসেম্বর থেকে 23ডিসেম্বর।
নাগপুরে থাকার সময় এক টুর কোম্পানির পোগ্রাম টি দেখে এতো ভালো লেগেছিলো যে পোগ্রাম টি ভুলতে পারিনি।
এদের সাথে দশ দিন ঘুড়ে বেড়ালাম LLTC র ছুটি নিয়ে।
সেদিন সকালে সাইট ভিজিট করার পরে অফিসে বসে সেম্পলের বাক্স গুলী নাম্বারিং করছিলাম ,কারন 11 টার সময় স্যাম্পল কোর বক্স গুলি লেবোরেটটিতে পাঠাতে হবে। সেই কারণে একটু ব্যস্ত আছি। হঠাৎ যোশী সাহেব বললেন " রায় চৌধুরী আপনি দেখছি LLTC র জন্য ছুটির এপ্লাই করেছেন ,তা কোথায় যাবেন এবার " আমি টুরিস্ট কোম্পানির টুর পোগ্রামেরে একটা কপি ওনার হাতে দিয়ে বললাম ,এবার আমি একা নয় এই পার্টির সাথে কোঙ্কন উপকূল থেকে গোয়া 10 দিনের পোগ্রামে যাবার চিন্তা করছি। স্টেশনের কাছে ফল মান্ডির ওদিকে ওদের অফিসে গিয়ে জেনে এসেছি এখনো বেশ কটা সিট্ খালি আছে। তাই ভাবছিলাম এবারের LLTCর ছুটি ওদের সাথে ঘুড়ে দেখবো।
যোশী সাহেব নিজেও আমাদের সাথে যাবার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। পাশেই বসে ছিলেন ড্রিলার চৌধুরী সাহেব। উনিও যাবার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন।
যোশী সাহেব এবারে একটু চিন্তায় পড়েগেলেন। কারন চৌধুরী সাহেব আর যোশি সাহেব একসাথে ছুটি নিলে কেম্পের ইম্প্রেসট কে সামলাবে।
চৌধুরী সাহেব বললেন কেন ব্যানার্জি সাহেব ,পাল সাহেব, রতনলাল সাহেব এবং মিস্টার কুট্টি এরা যেকেউ সামলাতে পারবে।
যোশী সাহেব সকলকে ডেকে পাঠালেন অফিসে।
সকাল বেলা সকলে এমন আপৎ কালীন ডাকে বেশ চিন্তিত হয়ে হন্ত দন্ত হয়ে কি হল তা যাবার জন্য ব্যাকুল হয়ে অফিসে আসলেন। যোশী সাহেব একটু মজাকরে বললেন। বিশেষ কারনে আমাকে ও চৌধুরী সাহেব কে বোম্বে যেতে হবে , হাইকমান্ডের আদেশ।
সেই কারণে আমিচাই ব্যানার্জি সাহেব কেম্পের ইম্প্রেসটের চার্জ নিন।
আর রতনলাল সাহেব ড্রিলিংয়ের চার্জ নিক।
ব্যানার্জি সাহেব লাফিয়ে উঠে না না আমি পারবোনা ইম্পর্স্টের চার্জ নিতে।
যোশী সাহেব বললেন দেখুন মিঃ ব্যানার্জি আপনি সিনিয়ার মোস্ট অফিসার ,তাই আপনি রিফিউজ করতে পারেন না। আর যদি একান্ত সত্যি রিফিউজ করেন তবে আপনার ইনক্রিমেন্ট লস্ট হবে।
ব্যানার্জি সাহেব আকুতি মিনতি করতে লাগলেন এবং বললেন যে তার স্ত্রী অসুস্থ তাই তিনি ইম্প্রেসটের ভার নিতে পারবেন না। যোশী সাহেব মজা করে বললেন আরে ব্যানাজী আপনার তো মজাই হবে আপনাকে আর তাঁবুতে তালা লাগিয়ে সাইটে যেতে হবেনা। আপনি অফিসেই থাকবেন আর প্রতিক্ষণ নিজের বৌকে পাহাড়া দিতে পারবেন।
এখানে এক করুন সত্য জানাতেই হল ,কারন ব্যানার্জি সাহেবের সন্দেহ জনক মেনিয়া এতটাই যে উনি যখনই সাইট ভিজিটে বেরহন তখনি উনি নিজের বৌকে টেন্টের ভিতরে রেখে বাইরেথেকে তালা লাগিয়ে যান।
ওনার কোন সন্তান নাই বয়স পঞ্চানেয় র বেশি। সারাজীবন বৌকে সাথেই রেখেছেন।
কেম্পে একমাত্র আমি ছাড়া আর কেউ বৌদির সাথে কথা বলা তো দূরের কথা ,ওনার টেন্টের ধরে কাছেও কেউ যেতে পারেনা। রাত্রে কেন দিনের বেলায়ও যদি কেউ এমন কি ওয়াচ ম্যানও যদি ভুলকরে ওনার টেন্টের কাছে যায় তবেও তাকে হাজার প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। নয়তো ওয়ার্নিং লেটার নিতে হবে। (কেম্পে এক মাত্র আমি ছাড়া এমন কেউ নাই যে বেনার্জি সাহেবের ওয়ার্নিং না পেয়েছে )
কেন জানিনা আমাকে ভদ্র লোক ভীষণ ভালো বাসতেন। একটা কারন আমি জানি সেটা হল উনি যখন বৌকে নিয়ে কোথাও যেতে চাইতেন তখন ওনার জিপের সারথী একমাত্র আমি।
ওনার স্ত্রী কিন্তু সত্যি ভীষণ সুন্দর স্বভাব খুব ভালো। অতি শান্ত ভদ্র মহিলা। কোনদিন স্বামীর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করেননি। শুধু দুঃখ করে বলতেন যে ব্যানার্জি সাহেব এতটাই সন্দেহ জনক
মনভাবাপণ্য যে বিয়ের পরথেকে কোনদিন বৌদিকে তার বাপের বাড়িতে এক রাত থাকতে দেননি। কারন বৌদির ভাইদেরও উনি সন্দেহ করতেন।
আর এনিয়ে কেম্পে নানান মুখরোচক গল্প চালু ছিল।
আমাদের এই বিশাল কোম্পানিতে ব্যানার্জি সাহেবকে সকলেই চিনত ,একমাত্র এই সন্দেহ জনক স্বভাবের কারনে ব্যানার্জি সাহেব বিখ্যাত ছিলেন।
একবারের এক করুন ও ভয়ানক ঘটনার কথা মনে পড়েগেল।
তখন আমাদের ক্যাম্প ভদ্রকে উড়িষ্যার নয় বিলাস পুবের ভদ্রক।
সেখান কার ক্যাম্প তাঁবুর নয় ছিল টেম্পোরারি ইটের দেওয়াল তার ওপরে জি আই সিটের চলা বা ছাদ।
একদিন ঠিক দুপুর বেলা হঠাৎ ভীষণ ঝড় ,ঘূর্ণি ঝরে সব লন্ড ভন্ড। আমাদের সকল টিনের চলা ভেঙে উপরে নিয়ে দূরে নিয়ে ফেলেছে।
আমাদের কিছু লোক তো মেশিনে দডিউটি করছে আসে পাশে। ব্যানার্জি সাহেব বেড়িয়েছেন তার মেশিনের পরিদর্শনে।
এদিগে সকল ক্যাম্পের অবস্থা ভীষণ খারাপ সব কটি চলা উড়ে গেছে। জামাকাপড় বইপত্র এমন কি অফিসের কাগজ পত্র ভিজে লন্ড ভন্ড। সে এক ভীষণ অবস্থা। যারা যারা ক্যাম্পে ছিলাম তারা সকলেই পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যস্ত। সকলেই ঘরের বাইরে বেরিয়ে এক জায়গাতে জড়ো হয়ে ঝড় থামবার অপেক্ষা করছিলাম। হঠাৎ পাল সাহেবের স্ত্রী বললেন আরে ব্যানাজী সাহেবের স্ত্রী বোধহয়
ঘরেই আটকে আসেন। আমরা ওনার ক্যাম্পের দিকে ছুটলাম ,গিয়ে দেখি দরজায় তালা ঝুলছে , টিনের ছাউনি উড়ে গেছে। আন্দাজ করলাম বৌদি বেচারা বাইরেও বারহতে পারছেন না ,কারন দরজায় তালা।
সকলে ই জড়ো হয়েছে জানবার জন্য যে মিসেজে ব্যানার্জি ঠিক আছেন তো ?
কিন্তু যাবার কোন উপায় নাই ,কেউ ওনার দরজার কাছেও যেতে চাইছে না ভয়ে ,যদি ব্যানার্জি সাহেব জানতে পারে তবে হয়তো তাকে আবার ওয়ার্নিং লেটার নিতে হবে।
এমত অবস্থায় সকলের দৃষ্টি আমার দিকে।
অগত্যা আমি সকলের আদেশ মেনে ব্যানার্জি সাহেবের কোয়াটারের তালা ভাঙলাম এবং মিসেজ
ব্যানার্জিকে উদ্ধার করে সকলে যেখানে আশ্রয় নিয়েছেন সেইস্থানে নিয়ে গেলাম।
যোশীসাহেব তৎকালে ওয়ার্লেস মেসেজ পাঠালেন হেডকোয়ার্টারে। হেডকোয়াটার থেকেই প্যারা মিলিটাটিতে সংবাদ পৌঁছতেই তারা এক ঘণ্টার মধ্যে চার খানা ট্রাক নিয়ে হাজির।
আমাদের অবস্থা দেখে আপদ কালীন ব্যবস্থা করতে শুরুকরলো। একঘন্টার মধ্যে ওই ঝড় জলে ওরা 15 টি টেন্ট খাটিয়ে আমাদের তৎকালে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে ছিল।
সেদিনের সেই ঘটনার এখানেই শেষ হয়নি কারন ব্যানার্জি সাহেবের সন্দেহ কেকে তার বউকে কেমনকরে উদ্ধার করেছিল সেটা নিয়ে উনি বার বার আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন।
ওনাকে যতই সত্য কথা টি বলেছি যে একমাত্র আমি ছাড়া আর কেউ ওনার ঘরে ঢোকেননি তা উনি কোন মতেই সম্পূর্ণ মনথেকে মেনেনিতে পারেননি ,ওনার রিটায়ারের দিন পর্যন্ত।
তার পরের মানে রিটায়ারের পরে ওনারা কেমন ছিল সে কথা আর আমি জানিনা। যদিও উনি বারবার আমাকে ওনার বাড়িতে সেই টালিগঞ্জের রানীকুঠিতে যেবার জন্য অনুরোধ করেছিলেন ,আমি কিন্তু আর কোনদিন সেখানে যায়নি। কারন ওনার এহেন সন্দেহ বাতিকের কারনে ওঁর থেকে একটু দূরেই থাকতাম।
কেম্পের জীবনে ব্যানার্জি সাহেব একলাই সাইট ভ্রমণ করতেন। ছত্তিশ গড়ের জঙ্গলে সকলেই ওনাকে এভাবে একলা যেতে বারণ করতেন।কারন জন্তু জানোয়ারের উৎপাত বিশেষ করে ভাল্লুক আর হায়নার উৎপাত। কিন্তু উনি কারুর কোথায় শুনতেননা। সব সময়ে নিজে একলা জিপি নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন। একবার তো ভীষণ ভাবে বেঁচে গিয়েছেন।
সেবার হয়েছিল মারাত্বক এক ঘটনা।
সেদিন সন্ধ্যায় বেনার্জি সাহেব বেড়িয়েছেন সাইট ভিজিটে। চার খানা মেশিন চলছে ,তবুও সন্ধ্যার পরেই ফায়ার আসার কথা।
আমরা সকলে মাইল সন্ধ্যার পার্টিতে জমে আছি ,ব্যানার্জি সাহেব আবার নিরামিষ মানুষ মদ তো দূরের কথা মাছ মাংস পর্যন্ত খায়না।
আমরা সকলে শীতের রাত্রে আয়েস করে শরীর গরম করছি। মাছ ভাজা ও হুইস্কী দিয়ে।
তখন রাত্রি সাড়েনটা হবে চৌকিদার এসে খবর দিলো যে জিপ নম্বর 901এখনো ফেরেনি।
901 জিপি নিয়ে ব্যানার্জি সাহেব সাইট ভিজিটে গেছেন । এমন কথা শুনেই আমাদের সকলের সব নেশা মুহূর্তে উবে গেল। পাল সাহেব বললেন গেরেজের লগ বুক দেখতো উনি জিপ নিয়ে মার্কেটে জাননিতো ? বললাম নানা উনি কোনদিন একলা মার্কেটে জিপি নিয়ে জাননা। একলা জিপি নিয়ে সাইট ভিজিট করেন। শহরে উনি জিপি চালাতে ভয় পান।
আমরা সকলেই দুটো জিপি ও একটি ট্রাক নিয়ে জঙ্গলের রাস্তায় ছুটলাম একে একে সব সাইট গিয়ে খোঁজ করলাম ,কিন্তু কোন হদিশ নাপেয়ে ব্রেক ডাউন ওল্ড সাইটের দিকে খোঁজ করতে করতে দেখলাম দূরে রাস্তার ধরে 901জিপি দাঁড়িয়ে। আমরা দৌড়ে ঐদিকে গিয়ে দেখি ব্যানার্জি সাহেব কে করা যেন উলঙ্গ করে গাছের সাথে বেঁধে রেখেছে। ওনার পুরুষ অঙ্গ থেকে অনেক রক্ত ঝরে কালো হয়ে গেছে। ব্যানার্জি সাহেব অচৈতন্য অবস্থায় ওনার মাথা বাঁদিকে হেলে আছে। হাত পা কোমর দুটি শাড়ি দিয়ে বাঁধা। ব্যানার্জি সাহেব অচৈতন্য।
আমরা তাড়াতাড়ি বাঁধন খুলে ওনাকে নিয়ে সদর হাসপাতালে গেলাম। ডাকতার বাবু রুগীকে দেখেই বললেন খুব ভালো সময় ওনাকে আনা হয়েছে ,এমন অবস্থায় আর আধা ঘন্টা থাকলেই ওনাকে আর বাঁচানো যেত না। যাইহোক সেযাত্রায় ব্যানার্জি সাহেব বেঁচে গিয়ে ছিলেন।
আমরা অবশ্য ওই শাড়ি দুটো দেখে চিনতে পেরেছিলাম কোন মেয়েরা এমন কাজ করেছিল।
তাই ওনার কথা আর না বাড়িয়ে এবারে আসল কোথায় ফিরেযাই।
আমাকে জোশি সাহেব ও চৌধুরী সাহেব দুজনেই বললেন যে ওনারাও যাবেন আমাদের সাথে।
কলকাতায় চৌধুরী সাহেবের বাড়ি ও আমার বাড়ি পাছাকাছি। চৌধুরী সাহেব বেশির ভাগ সময় একলাই থাকতেন। আর আমি তো তখন বেচেলর।
আমি সেইদিনই টুর পম্পানীতে গিয়ে চারটি টিকিট বুক করলাম।
জোশি সাহেব ও ওনার স্ত্রী চৌধুরী সাহেব ও আমি।
আমাদের পোগ্রাম ছিলো 12 ডিসেম্বর থেকে 23ডিসেম্বর।
কোঙ্কন উপকূল থেকে গোয়া 10 day
1977 এর 12 ডিসেম্বর থেকে 23ডিসেম্বর।
নাগপুরে থাকার সময় এক টুর কোম্পানির পোগ্রাম টি দেখে এতো ভালো লেগেছিলো যে পোগ্রাম টি ভুলতে পারিনি।
এদের সাথে দশ দিন ঘুড়ে বেড়ালাম LLTC র ছুটি নিয়ে।
সেদিন সকালে সাইট ভিজিট করার পরে অফিসে বসে সেম্পলের বাক্স গুলী নাম্বারিং করছিলাম ,কারন 11 টার সময় স্যাম্পল কোর বক্স গুলি লেবোরেটটিতে পাঠাতে হবে। সেই কারণে একটু ব্যস্ত আছি। হঠাৎ যোশী সাহেব বললেন " রায় চৌধুরী আপনি দেখছি LLTC র জন্য ছুটির এপ্লাই করেছেন ,তা কোথায় যাবেন এবার " আমি টুরিস্ট কোম্পানির টুর পোগ্রামেরে একটা কপি ওনার হাতে দিয়ে বললাম ,এবার আমি একা নয় এই পার্টির সাথে কোঙ্কন উপকূল থেকে গোয়া 10 দিনের পোগ্রামে যাবার চিন্তা করছি। স্টেশনের কাছে ফল মান্ডির ওদিকে ওদের অফিসে গিয়ে জেনে এসেছি এখনো বেশ কটা সিট্ খালি আছে। তাই ভাবছিলাম এবারের LLTCর ছুটি ওদের সাথে ঘুড়ে দেখবো।
যোশী সাহেব নিজেও আমাদের সাথে যাবার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। পাশেই বসে ছিলেন ড্রিলার চৌধুরী সাহেব। উনিও যাবার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন।
যোশী সাহেব এবারে একটু চিন্তায় পড়েগেলেন। কারন চৌধুরী সাহেব আর যোশি সাহেব একসাথে ছুটি নিলে কেম্পের ইম্প্রেসট কে সামলাবে।
চৌধুরী সাহেব বললেন কেন ব্যানার্জি সাহেব ,পাল সাহেব, রতনলাল সাহেব এবং মিস্টার কুট্টি এরা যেকেউ সামলাতে পারবে।
যোশী সাহেব সকলকে ডেকে পাঠালেন অফিসে।
সকাল বেলা সকলে এমন আপৎ কালীন ডাকে বেশ চিন্তিত হয়ে হন্ত দন্ত হয়ে কি হল তা যাবার জন্য ব্যাকুল হয়ে অফিসে আসলেন। যোশী সাহেব একটু মজাকরে বললেন। বিশেষ কারনে আমাকে ও চৌধুরী সাহেব কে বোম্বে যেতে হবে , হাইকমান্ডের আদেশ।
সেই কারণে আমিচাই ব্যানার্জি সাহেব কেম্পের ইম্প্রেসটের চার্জ নিন।
আর রতনলাল সাহেব ড্রিলিংয়ের চার্জ নিক।
ব্যানার্জি সাহেব লাফিয়ে উঠে না না আমি পারবোনা ইম্পর্স্টের চার্জ নিতে।
যোশী সাহেব বললেন দেখুন মিঃ ব্যানার্জি আপনি সিনিয়ার মোস্ট অফিসার ,তাই আপনি রিফিউজ করতে পারেন না। আর যদি একান্ত সত্যি রিফিউজ করেন তবে আপনার ইনক্রিমেন্ট লস্ট হবে।
ব্যানার্জি সাহেব আকুতি মিনতি করতে লাগলেন এবং বললেন যে তার স্ত্রী অসুস্থ তাই তিনি ইম্প্রেসটের ভার নিতে পারবেন না। যোশী সাহেব মজা করে বললেন আরে ব্যানাজী আপনার তো মজাই হবে আপনাকে আর তাঁবুতে তালা লাগিয়ে সাইটে যেতে হবেনা। আপনি অফিসেই থাকবেন আর প্রতিক্ষণ নিজের বৌকে পাহাড়া দিতে পারবেন।
এখানে এক করুন সত্য জানাতেই হল ,কারন ব্যানার্জি সাহেবের সন্দেহ জনক মেনিয়া এতটাই যে উনি যখনই সাইট ভিজিটে বেরহন তখনি উনি নিজের বৌকে টেন্টের ভিতরে রেখে বাইরেথেকে তালা লাগিয়ে যান।
ওনার কোন সন্তান নাই বয়স পঞ্চানেয় র বেশি। সারাজীবন বৌকে সাথেই রেখেছেন।
কেম্পে একমাত্র আমি ছাড়া আর কেউ বৌদির সাথে কথা বলা তো দূরের কথা ,ওনার টেন্টের ধরে কাছেও কেউ যেতে পারেনা। রাত্রে কেন দিনের বেলায়ও যদি কেউ এমন কি ওয়াচ ম্যানও যদি ভুলকরে ওনার টেন্টের কাছে যায় তবেও তাকে হাজার প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। নয়তো ওয়ার্নিং লেটার নিতে হবে। (কেম্পে এক মাত্র আমি ছাড়া এমন কেউ নাই যে বেনার্জি সাহেবের ওয়ার্নিং না পেয়েছে )
কেন জানিনা আমাকে ভদ্র লোক ভীষণ ভালো বাসতেন। একটা কারন আমি জানি সেটা হল উনি যখন বৌকে নিয়ে কোথাও যেতে চাইতেন তখন ওনার জিপের সারথী একমাত্র আমি।
ওনার স্ত্রী কিন্তু সত্যি ভীষণ সুন্দর স্বভাব খুব ভালো। অতি শান্ত ভদ্র মহিলা। কোনদিন স্বামীর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করেননি। শুধু দুঃখ করে বলতেন যে ব্যানার্জি সাহেব এতটাই সন্দেহ জনক
মনভাবাপণ্য যে বিয়ের পরথেকে কোনদিন বৌদিকে তার বাপের বাড়িতে এক রাত থাকতে দেননি। কারন বৌদির ভাইদেরও উনি সন্দেহ করতেন।
আর এনিয়ে কেম্পে নানান মুখরোচক গল্প চালু ছিল।
আমাদের এই বিশাল কোম্পানিতে ব্যানার্জি সাহেবকে সকলেই চিনত ,একমাত্র এই সন্দেহ জনক স্বভাবের কারনে ব্যানার্জি সাহেব বিখ্যাত ছিলেন।
একবারের এক করুন ও ভয়ানক ঘটনার কথা মনে পড়েগেল।
তখন আমাদের ক্যাম্প ভদ্রকে উড়িষ্যার নয় বিলাস পুবের ভদ্রক।
সেখান কার ক্যাম্প তাঁবুর নয় ছিল টেম্পোরারি ইটের দেওয়াল তার ওপরে জি আই সিটের চলা বা ছাদ।
একদিন ঠিক দুপুর বেলা হঠাৎ ভীষণ ঝড় ,ঘূর্ণি ঝরে সব লন্ড ভন্ড। আমাদের সকল টিনের চলা ভেঙে উপরে নিয়ে দূরে নিয়ে ফেলেছে।
আমাদের কিছু লোক তো মেশিনে দডিউটি করছে আসে পাশে। ব্যানার্জি সাহেব বেড়িয়েছেন তার মেশিনের পরিদর্শনে।
এদিগে সকল ক্যাম্পের অবস্থা ভীষণ খারাপ সব কটি চলা উড়ে গেছে। জামাকাপড় বইপত্র এমন কি অফিসের কাগজ পত্র ভিজে লন্ড ভন্ড। সে এক ভীষণ অবস্থা। যারা যারা ক্যাম্পে ছিলাম তারা সকলেই পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যস্ত। সকলেই ঘরের বাইরে বেরিয়ে এক জায়গাতে জড়ো হয়ে ঝড় থামবার অপেক্ষা করছিলাম। হঠাৎ পাল সাহেবের স্ত্রী বললেন আরে ব্যানাজী সাহেবের স্ত্রী বোধহয়
ঘরেই আটকে আসেন। আমরা ওনার ক্যাম্পের দিকে ছুটলাম ,গিয়ে দেখি দরজায় তালা ঝুলছে , টিনের ছাউনি উড়ে গেছে। আন্দাজ করলাম বৌদি বেচারা বাইরেও বারহতে পারছেন না ,কারন দরজায় তালা।
সকলে ই জড়ো হয়েছে জানবার জন্য যে মিসেজে ব্যানার্জি ঠিক আছেন তো ?
কিন্তু যাবার কোন উপায় নাই ,কেউ ওনার দরজার কাছেও যেতে চাইছে না ভয়ে ,যদি ব্যানার্জি সাহেব জানতে পারে তবে হয়তো তাকে আবার ওয়ার্নিং লেটার নিতে হবে।
এমত অবস্থায় সকলের দৃষ্টি আমার দিকে।
অগত্যা আমি সকলের আদেশ মেনে ব্যানার্জি সাহেবের কোয়াটারের তালা ভাঙলাম এবং মিসেজ
ব্যানার্জিকে উদ্ধার করে সকলে যেখানে আশ্রয় নিয়েছেন সেইস্থানে নিয়ে গেলাম।
যোশীসাহেব তৎকালে ওয়ার্লেস মেসেজ পাঠালেন হেডকোয়ার্টারে। হেডকোয়াটার থেকেই প্যারা মিলিটাটিতে সংবাদ পৌঁছতেই তারা এক ঘণ্টার মধ্যে চার খানা ট্রাক নিয়ে হাজির।
আমাদের অবস্থা দেখে আপদ কালীন ব্যবস্থা করতে শুরুকরলো। একঘন্টার মধ্যে ওই ঝড় জলে ওরা 15 টি টেন্ট খাটিয়ে আমাদের তৎকালে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে ছিল।
সেদিনের সেই ঘটনার এখানেই শেষ হয়নি কারন ব্যানার্জি সাহেবের সন্দেহ কেকে তার বউকে কেমনকরে উদ্ধার করেছিল সেটা নিয়ে উনি বার বার আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন।
ওনাকে যতই সত্য কথা টি বলেছি যে একমাত্র আমি ছাড়া আর কেউ ওনার ঘরে ঢোকেননি তা উনি কোন মতেই সম্পূর্ণ মনথেকে মেনেনিতে পারেননি ,ওনার রিটায়ারের দিন পর্যন্ত।
তার পরের মানে রিটায়ারের পরে ওনারা কেমন ছিল সে কথা আর আমি জানিনা। যদিও উনি বারবার আমাকে ওনার বাড়িতে সেই টালিগঞ্জের রানীকুঠিতে যেবার জন্য অনুরোধ করেছিলেন ,আমি কিন্তু আর কোনদিন সেখানে যায়নি। কারন ওনার এহেন সন্দেহ বাতিকের কারনে ওঁর থেকে একটু দূরেই থাকতাম।
কেম্পের জীবনে ব্যানার্জি সাহেব একলাই সাইট ভ্রমণ করতেন। ছত্তিশ গড়ের জঙ্গলে সকলেই ওনাকে এভাবে একলা যেতে বারণ করতেন।কারন জন্তু জানোয়ারের উৎপাত বিশেষ করে ভাল্লুক আর হায়নার উৎপাত। কিন্তু উনি কারুর কোথায় শুনতেননা। সব সময়ে নিজে একলা জিপি নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন। একবার তো ভীষণ ভাবে বেঁচে গিয়েছেন।
সেবার হয়েছিল মারাত্বক এক ঘটনা।
সেদিন সন্ধ্যায় বেনার্জি সাহেব বেড়িয়েছেন সাইট ভিজিটে। চার খানা মেশিন চলছে ,তবুও সন্ধ্যার পরেই ফায়ার আসার কথা।
আমরা সকলে মাইল সন্ধ্যার পার্টিতে জমে আছি ,ব্যানার্জি সাহেব আবার নিরামিষ মানুষ মদ তো দূরের কথা মাছ মাংস পর্যন্ত খায়না।
আমরা সকলে শীতের রাত্রে আয়েস করে শরীর গরম করছি। মাছ ভাজা ও হুইস্কী দিয়ে।
তখন রাত্রি সাড়েনটা হবে চৌকিদার এসে খবর দিলো যে জিপ নম্বর 901এখনো ফেরেনি।
901 জিপি নিয়ে ব্যানার্জি সাহেব সাইট ভিজিটে গেছেন । এমন কথা শুনেই আমাদের সকলের সব নেশা মুহূর্তে উবে গেল। পাল সাহেব বললেন গেরেজের লগ বুক দেখতো উনি জিপ নিয়ে মার্কেটে জাননিতো ? বললাম নানা উনি কোনদিন একলা মার্কেটে জিপি নিয়ে জাননা। একলা জিপি নিয়ে সাইট ভিজিট করেন। শহরে উনি জিপি চালাতে ভয় পান।
আমরা সকলেই দুটো জিপি ও একটি ট্রাক নিয়ে জঙ্গলের রাস্তায় ছুটলাম একে একে সব সাইট গিয়ে খোঁজ করলাম ,কিন্তু কোন হদিশ নাপেয়ে ব্রেক ডাউন ওল্ড সাইটের দিকে খোঁজ করতে করতে দেখলাম দূরে রাস্তার ধরে 901জিপি দাঁড়িয়ে। আমরা দৌড়ে ঐদিকে গিয়ে দেখি ব্যানার্জি সাহেব কে করা যেন উলঙ্গ করে গাছের সাথে বেঁধে রেখেছে। ওনার পুরুষ অঙ্গ থেকে অনেক রক্ত ঝরে কালো হয়ে গেছে। ব্যানার্জি সাহেব অচৈতন্য অবস্থায় ওনার মাথা বাঁদিকে হেলে আছে। হাত পা কোমর দুটি শাড়ি দিয়ে বাঁধা। ব্যানার্জি সাহেব অচৈতন্য।
আমরা তাড়াতাড়ি বাঁধন খুলে ওনাকে নিয়ে সদর হাসপাতালে গেলাম। ডাকতার বাবু রুগীকে দেখেই বললেন খুব ভালো সময় ওনাকে আনা হয়েছে ,এমন অবস্থায় আর আধা ঘন্টা থাকলেই ওনাকে আর বাঁচানো যেত না। যাইহোক সেযাত্রায় ব্যানার্জি সাহেব বেঁচে গিয়ে ছিলেন।
আমরা অবশ্য ওই শাড়ি দুটো দেখে চিনতে পেরেছিলাম কোন মেয়েরা এমন কাজ করেছিল।
তাই ওনার কথা আর না বাড়িয়ে এবারে আসল কোথায় ফিরেযাই।
আমাকে জোশি সাহেব ও চৌধুরী সাহেব দুজনেই বললেন যে ওনারাও যাবেন আমাদের সাথে।
কলকাতায় চৌধুরী সাহেবের বাড়ি ও আমার বাড়ি পাছাকাছি। চৌধুরী সাহেব বেশির ভাগ সময় একলাই থাকতেন। আর আমি তো তখন বেচেলর।
আমি সেইদিনই টুর পম্পানীতে গিয়ে চারটি টিকিট বুক করলাম।
জোশি সাহেব ও ওনার স্ত্রী চৌধুরী সাহেব ও আমি।
আমাদের পোগ্রাম ছিলো 12 ডিসেম্বর থেকে 23ডিসেম্বর।
কোঙ্কন উপকূল থেকে গোয়া 10 day
নাগপুর ---মুম্বাই----আলিবাগ---মুরুড----হরিহরেশ্বর -
----রায়গড় ফোর্ট-----জগদীশ্বর মন্দির-----
--শ্রীবর্ধন-----গণপতিপুলে----কুঙ্কেশ্বর-----
রত্নগিরিতে –----বিজয়দুর্গ----দেবগড়,----
----তারকার্লি,-----ফোর্ট অগাস্টাস----গোয়া।
--------কোলভা------মুম্বাই----নাগপুর।
----রায়গড় ফোর্ট-----জগদীশ্বর মন্দির-----
--শ্রীবর্ধন-----গণপতিপুলে----কুঙ্কেশ্বর-----
রত্নগিরিতে –----বিজয়দুর্গ----দেবগড়,----
----তারকার্লি,-----ফোর্ট অগাস্টাস----গোয়া।
--------কোলভা------মুম্বাই----নাগপুর।
প্রথম দিন – মুম্বই থেকে মুরুড,145 কিমি।
পথে দেখেলাম আলিবাগ সৈকত, সেখান থেকে ভাটার সময় দেখে ঘোড়ার গাড়ি চড়ে
কোলাবা ফোর্ট, তার পর রেভডান্ডা ফোর্ট, কোরলাই ফোর্ট, কাশিদ সৈকত, নন্দগাঁও সৈকত।
পথে দেখেলাম আলিবাগ সৈকত, সেখান থেকে ভাটার সময় দেখে ঘোড়ার গাড়ি চড়ে
কোলাবা ফোর্ট, তার পর রেভডান্ডা ফোর্ট, কোরলাই ফোর্ট, কাশিদ সৈকত, নন্দগাঁও সৈকত।
N==ফিরে এসে রাতকাটালাম মুরুডে র হোটেলে ।
বেশ ভালো আভিজাত্য পূর্ন হোটেল।
বেশ ভালো আভিজাত্য পূর্ন হোটেল।
দ্বিতীয় দিন – দ্বিতীয় দিনেও মুরুডেই রাত্রি বাস করেছি ।
দিনের বেলা দেখলাম এখানকার নবাব প্যালেস বা আহমেদগঞ্জ প্রাসাদ, //গরম্বি ফলস্,
//টিলার টঙে দত্তাত্রেয় মন্দির //কাসা ফোর্ট //রাজপুরী জেটি থেকে //জঞ্জিরা ফোর্ট।
দিনের বেলা দেখলাম এখানকার নবাব প্যালেস বা আহমেদগঞ্জ প্রাসাদ, //গরম্বি ফলস্,
//টিলার টঙে দত্তাত্রেয় মন্দির //কাসা ফোর্ট //রাজপুরী জেটি থেকে //জঞ্জিরা ফোর্ট।
তৃতীয় দিন – আজকের গন্তব্য হরিহরেশ্বর।
ভোরেই বেরিয়ে পড়ে //রায়গড় ফোর্ট, //উপকূল ছেড়ে অন্দরে, 90 কিমি পথ।
//বাইরি পাহাড়ে শিবাজির বাবা শাহজির গড়া দুর্গের শিরে নতুন দুর্গ গড়েন শিবাজি। আজ সেখানে রয়েছে তার ধ্বংসাবশেষ। শিবাজির মৃত্যুও ঘটে এই রাইগড়ে।//তাকমাক ক্লিফ,//লিঙ্গমালা রক ফেস,
//কুইনস্ প্যালেস,//রাজভবন,//জিজামাতা ভবন,//তাকমাক টক তথা পানিশমেন্ট পয়েন্ট,//গঙ্গাসাগর লেক,//জগদীশ্বর মন্দির ছাড়াও//পাহাড় থেকে চার দিকের দৃশ্যও সুন্দর দৃশ্যমান।
//রায়গড় দেখে ফিরে আস্তে হয় //হরিহরেশ্বর, 85 কিমি।
পথে //শ্রীবর্ধন (সৈকত ও লক্ষ্মী-নারায়ণ মন্দির সহ এক গুচ্ছ মন্দির)
কোঙ্কণ উপকূলের শ্রীবর্ধন সৈকত---
শ্রীবর্ধন সৈকতে বেড়াতে আসার সেরা সময় জানুয়ারি থেকে মার্চ।
তার পর প্রখর গ্রীষ্ম ও বর্ষা পারকরে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর।
শ্রীবর্ধন সৈকত জেলা: রায়গড়, মহারাষ্ট্র।
হরিহরেশ্বর থেকে মাত্র 18 কিমি দূরে শ্রীবর্ধন। হরিহরেশ্বর ও শ্রীবর্ধনকে ‘টুইন সিটি’ও বলা হয়ে থাকে। আরব সাগরের ঢেউ ও লোনা বাতাসের খেলা চলে সমগ্র দিন রাত জুড়ে।আর তাইতো শ্রীবর্ধন সাগরপাড়ের এক নিজস্ব অহঙ্কার বেলা ভূমিকে ঘিরে মায়ামুগদ্ধ করে রাখে। সুদূর প্রসারিত দৃষ্টির সামনে অবিরাম ঢেউ এর ছলকানো সাদা বালিয়াড়িতে দাঁড়িয়ে কিছু সময়। লোনা হাওয়ার যেন শুড়শুড়ি দিয়েযায় নাকে মুখে আর কানে লাগে এক উৎচ্ছাসের আবেশ সু মধুর তানে একটু উষ্ণতার পরশ লাগে প্রাণে। সকল পর্যটক নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে শুধু অনুভব করে সেই সুরের তান প্রাণ মন ভরে। আর দুচোখ দিয়ে উপভোগ করে কোঙ্কণ উপকূলের কোল ঘেঁষে শ্রীবর্ধন সৈকত।প্রকৃতি তার প্রবল আগ্রহে গড়া মায়া ময় অপূর্ব সৈকত। এক ধারে সারি সারি নারকেল, সুপুরি, আমগাছের ভিড় নিয়ে ঐতিহাসিক তালুক। অন্য দিকে বহু দূর পর্যন্ত চলে গেছে সূর্যের আলো মাখা সাদা বালুতট ও সাগরের চমকপ্রদ নিসর্গ বালু বেলা ।
প্রাকৃতিক ভাবে মহারাষ্ট্রের হরিহরেশ্বর শ্রীবর্ধন দিবেগড় কোনডিভালি সৈকত রায়গড় জেলাকে যেন এক অপরূপ সৈকতমালার বিশিষ্টতা দিয়ে সাজিয়ে রেখেছে নিজের মতন করে । এদের মধ্যে কোনডিভালি আদপে একটি মৎস্যবন্দর। ছোটখাটো ছুটিতে বা উইক এন্ডে এই সৈকতগুলিতে কাটিয়ে দেওয়া যায় এক দুই দিন। মায়াবী নোনা জলে ভিজে থাকা সৈকত যেখানে ভ্রমণের আনন্দ বহুদিন ধরে রাখা যায় মনের গভীরে। এখানকার লবনাক্ত সন্ধ্যা মধু যামিনীর এক অন্তরের মিলন মেলা। ডাহিনে বামে দেখলেই অনুভব হয় প্রেম যেন নিজেই একে অপরকে কাছে টেনে নেয়।
হরিহরেশ্বরের পরে বেরিয়ে পড়েছি কাছেপিঠে অন্যান্য কয়েকটি সৈকতকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে কোঙ্কণ উপকূলের সৌন্দযকে একটু মনের ক্যানভাসে ভাবনার রং তুলি দিয়ে সাজিয়ে নিতে । দূরত্ব তেমন কিছু নয়, হরিহরেশ্বর পেরিয়ে কাঁকিজে নামের এক ছোট্ট জনপদ। এর পর রাজ্য সড়ক-১০০ ধরে যশলভি নিগডি হরিহরেশ্বর মন্দির রোড প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার পথ পেরিয়ে এ বার মায়েগাঁওয়ের কাছে রাজ্য সড়কের একটু পথে পেরোতেই শ্রীবর্ধন তালুক। নারকেল-সুপুরির খ্যাতির জন্য ‘শ্রীবর্ধন রোঠা’ বলা হয় এই সবুজে ছাওয়া প্রাচীন জনপদকে।
সকালবেলায়ই সৈকতে ঢেউখেলায় মত্ত পর্যটক।
শ্রীবর্ধনের ইতিহাস যেটুকু জেনেছিলাম তা হল ----
ইতিহাস প্রসিদ্ব ‘শ্রীবর্ধন’ অতীতে 16 টি দুর্গ দ্বারা সুরক্ষিত এক বাণিজ্যশহর হিসাবে খ্যাত শ্রীবর্ধন।
এমন গল্পও শোনাজায় যে মহাভারতের তৃতীয় পাণ্ডব অর্জুন তীর্থযাত্রাকালে এই স্থানে এসেছিলেন।
1600 ও 1700 শতকে প্রথমে আহমেদনগরের অধীনে ও পরে বীজাপুরের অধীনে একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী বন্দর ছিল শ্রীবর্ধন।
এক সময় পেশোয়াদের রাজ্যপাট ছিল শ্রীবর্ধন। পেশোয়াদের আদি পদবি ছিল ভট। শ্রীবর্ধন অঞ্চলের পুরোধা ছিলেন ‘দেশমুখ’ উপাধিপ্রাপ্ত ভটবংশীয়রাই।
প্রথম পেশোয়া বালাজী বিশ্বনাথ ভট ছিলেন সমাজের প্রথম দেশমুখ। তিনি নিজের স্বকীয়তা ও কঠোর পরিশ্রমে পুণের সুবেদার নির্বাচিত হন। শিবাজি-পৌত্র শাহুজি তাঁকে প্রথম মরাঠা পেশোয়া রূপে মনোনীত করেন।
পুণে ছিল তৎকালীন পেশোয়া সাম্রাজ্যের রাজধানী। সেখানে প্রথম পেশোয়া হন বালাজি বিশ্বনাথ এবং তার পর টানা 100 বছর এ পেশোয়া রাজ কায়েম ছিল।
পরবর্তী কালে তৃতীয় পেশোয়া হন বালাজি বাজিরাও। 1750 সালে শ্রীবর্ধন শহরে তিনি এক বৃহৎ অট্টালিকা নির্মাণ করেন।
স্বীয় অতীত গৌরবে আজও আবদ্ধ শ্রীবর্ধন।
শ্রীবর্ধনে কিছু প্রাচীন মন্দিরও আছে। এখানকার শ্রীলক্ষ্মী-নারায়ণ মন্দিরটি ছিল পেশোয়াদের মূল উপাসনাস্থল।
এখানে রয়েছে কুসুমদেবী মন্দির, সোমজাই মন্দির, জীবনেশ্বর মন্দির ও ভৈরবনাথ মন্দির।
N==রাত্রিবাস হরিহরেশ্বর।
ভোরেই বেরিয়ে পড়ে //রায়গড় ফোর্ট, //উপকূল ছেড়ে অন্দরে, 90 কিমি পথ।
//বাইরি পাহাড়ে শিবাজির বাবা শাহজির গড়া দুর্গের শিরে নতুন দুর্গ গড়েন শিবাজি। আজ সেখানে রয়েছে তার ধ্বংসাবশেষ। শিবাজির মৃত্যুও ঘটে এই রাইগড়ে।//তাকমাক ক্লিফ,//লিঙ্গমালা রক ফেস,
//কুইনস্ প্যালেস,//রাজভবন,//জিজামাতা ভবন,//তাকমাক টক তথা পানিশমেন্ট পয়েন্ট,//গঙ্গাসাগর লেক,//জগদীশ্বর মন্দির ছাড়াও//পাহাড় থেকে চার দিকের দৃশ্যও সুন্দর দৃশ্যমান।
//রায়গড় দেখে ফিরে আস্তে হয় //হরিহরেশ্বর, 85 কিমি।
পথে //শ্রীবর্ধন (সৈকত ও লক্ষ্মী-নারায়ণ মন্দির সহ এক গুচ্ছ মন্দির)
কোঙ্কণ উপকূলের শ্রীবর্ধন সৈকত---
শ্রীবর্ধন সৈকতে বেড়াতে আসার সেরা সময় জানুয়ারি থেকে মার্চ।
তার পর প্রখর গ্রীষ্ম ও বর্ষা পারকরে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর।
শ্রীবর্ধন সৈকত জেলা: রায়গড়, মহারাষ্ট্র।
হরিহরেশ্বর থেকে মাত্র 18 কিমি দূরে শ্রীবর্ধন। হরিহরেশ্বর ও শ্রীবর্ধনকে ‘টুইন সিটি’ও বলা হয়ে থাকে। আরব সাগরের ঢেউ ও লোনা বাতাসের খেলা চলে সমগ্র দিন রাত জুড়ে।আর তাইতো শ্রীবর্ধন সাগরপাড়ের এক নিজস্ব অহঙ্কার বেলা ভূমিকে ঘিরে মায়ামুগদ্ধ করে রাখে। সুদূর প্রসারিত দৃষ্টির সামনে অবিরাম ঢেউ এর ছলকানো সাদা বালিয়াড়িতে দাঁড়িয়ে কিছু সময়। লোনা হাওয়ার যেন শুড়শুড়ি দিয়েযায় নাকে মুখে আর কানে লাগে এক উৎচ্ছাসের আবেশ সু মধুর তানে একটু উষ্ণতার পরশ লাগে প্রাণে। সকল পর্যটক নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে শুধু অনুভব করে সেই সুরের তান প্রাণ মন ভরে। আর দুচোখ দিয়ে উপভোগ করে কোঙ্কণ উপকূলের কোল ঘেঁষে শ্রীবর্ধন সৈকত।প্রকৃতি তার প্রবল আগ্রহে গড়া মায়া ময় অপূর্ব সৈকত। এক ধারে সারি সারি নারকেল, সুপুরি, আমগাছের ভিড় নিয়ে ঐতিহাসিক তালুক। অন্য দিকে বহু দূর পর্যন্ত চলে গেছে সূর্যের আলো মাখা সাদা বালুতট ও সাগরের চমকপ্রদ নিসর্গ বালু বেলা ।
প্রাকৃতিক ভাবে মহারাষ্ট্রের হরিহরেশ্বর শ্রীবর্ধন দিবেগড় কোনডিভালি সৈকত রায়গড় জেলাকে যেন এক অপরূপ সৈকতমালার বিশিষ্টতা দিয়ে সাজিয়ে রেখেছে নিজের মতন করে । এদের মধ্যে কোনডিভালি আদপে একটি মৎস্যবন্দর। ছোটখাটো ছুটিতে বা উইক এন্ডে এই সৈকতগুলিতে কাটিয়ে দেওয়া যায় এক দুই দিন। মায়াবী নোনা জলে ভিজে থাকা সৈকত যেখানে ভ্রমণের আনন্দ বহুদিন ধরে রাখা যায় মনের গভীরে। এখানকার লবনাক্ত সন্ধ্যা মধু যামিনীর এক অন্তরের মিলন মেলা। ডাহিনে বামে দেখলেই অনুভব হয় প্রেম যেন নিজেই একে অপরকে কাছে টেনে নেয়।
হরিহরেশ্বরের পরে বেরিয়ে পড়েছি কাছেপিঠে অন্যান্য কয়েকটি সৈকতকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে কোঙ্কণ উপকূলের সৌন্দযকে একটু মনের ক্যানভাসে ভাবনার রং তুলি দিয়ে সাজিয়ে নিতে । দূরত্ব তেমন কিছু নয়, হরিহরেশ্বর পেরিয়ে কাঁকিজে নামের এক ছোট্ট জনপদ। এর পর রাজ্য সড়ক-১০০ ধরে যশলভি নিগডি হরিহরেশ্বর মন্দির রোড প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার পথ পেরিয়ে এ বার মায়েগাঁওয়ের কাছে রাজ্য সড়কের একটু পথে পেরোতেই শ্রীবর্ধন তালুক। নারকেল-সুপুরির খ্যাতির জন্য ‘শ্রীবর্ধন রোঠা’ বলা হয় এই সবুজে ছাওয়া প্রাচীন জনপদকে।
সকালবেলায়ই সৈকতে ঢেউখেলায় মত্ত পর্যটক।
শ্রীবর্ধনের ইতিহাস যেটুকু জেনেছিলাম তা হল ----
ইতিহাস প্রসিদ্ব ‘শ্রীবর্ধন’ অতীতে 16 টি দুর্গ দ্বারা সুরক্ষিত এক বাণিজ্যশহর হিসাবে খ্যাত শ্রীবর্ধন।
এমন গল্পও শোনাজায় যে মহাভারতের তৃতীয় পাণ্ডব অর্জুন তীর্থযাত্রাকালে এই স্থানে এসেছিলেন।
1600 ও 1700 শতকে প্রথমে আহমেদনগরের অধীনে ও পরে বীজাপুরের অধীনে একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী বন্দর ছিল শ্রীবর্ধন।
এক সময় পেশোয়াদের রাজ্যপাট ছিল শ্রীবর্ধন। পেশোয়াদের আদি পদবি ছিল ভট। শ্রীবর্ধন অঞ্চলের পুরোধা ছিলেন ‘দেশমুখ’ উপাধিপ্রাপ্ত ভটবংশীয়রাই।
প্রথম পেশোয়া বালাজী বিশ্বনাথ ভট ছিলেন সমাজের প্রথম দেশমুখ। তিনি নিজের স্বকীয়তা ও কঠোর পরিশ্রমে পুণের সুবেদার নির্বাচিত হন। শিবাজি-পৌত্র শাহুজি তাঁকে প্রথম মরাঠা পেশোয়া রূপে মনোনীত করেন।
পুণে ছিল তৎকালীন পেশোয়া সাম্রাজ্যের রাজধানী। সেখানে প্রথম পেশোয়া হন বালাজি বিশ্বনাথ এবং তার পর টানা 100 বছর এ পেশোয়া রাজ কায়েম ছিল।
পরবর্তী কালে তৃতীয় পেশোয়া হন বালাজি বাজিরাও। 1750 সালে শ্রীবর্ধন শহরে তিনি এক বৃহৎ অট্টালিকা নির্মাণ করেন।
স্বীয় অতীত গৌরবে আজও আবদ্ধ শ্রীবর্ধন।
শ্রীবর্ধনে কিছু প্রাচীন মন্দিরও আছে। এখানকার শ্রীলক্ষ্মী-নারায়ণ মন্দিরটি ছিল পেশোয়াদের মূল উপাসনাস্থল।
এখানে রয়েছে কুসুমদেবী মন্দির, সোমজাই মন্দির, জীবনেশ্বর মন্দির ও ভৈরবনাথ মন্দির।
N==রাত্রিবাস হরিহরেশ্বর।
চতুর্থ দিন – হরিহরেশ্বরে থেকে । পশ্চিমঘাট পাহাড়ের কোলে রমণীয় সাগরবেলা হরিহরেশ্বর, সাগরতীরে টিলার টঙে //কালভৈরব মন্দির। মন্দিরের পিছন দিক থেকে নেমে গিয়েছে গণেশ গলি, দু’টি পাথরের মাঝখান দিয়ে তিন ফুট চওড়া পথ,150 ফুট দীর্ঘ পথ নেমে গিয়েছে সমুদ্রতীরে।
সাবিত্রী নদী আর সমুদ্রের মোহনায় //শুক্লতীর্থ।//পাশেই গায়ত্রীতীর্থ।//সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তরমণীয় হরিহরেশ্বরে।
সাবিত্রী নদী আর সমুদ্রের মোহনায় //শুক্লতীর্থ।//পাশেই গায়ত্রীতীর্থ।//সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তরমণীয় হরিহরেশ্বরে।
সূর্য ডোবার পালা,//গণপতিপুলে।
পঞ্চম দিন –গণপতিপুলে, 206 কিমি।
সবুজে সবুজে ঢাকা সাগরবেলা। পাহাড়ি উপত্যকা, 100 মিটার উঁচুতে গণপতি মন্দির।
বহু পুরাণ মরাঠি শৈলীর মন্দির। পাহাড়ি পথে মন্দির প্রদক্ষিণ রোমাঞ্চ জাগায়। অপরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশ, সাগরতীরে আম, কাঁঠাল, নারকেল আর কলার সবুজ ক্ষেত ।
N==রাত্রিবাস গণপতিপুলে।
সবুজে সবুজে ঢাকা সাগরবেলা। পাহাড়ি উপত্যকা, 100 মিটার উঁচুতে গণপতি মন্দির।
বহু পুরাণ মরাঠি শৈলীর মন্দির। পাহাড়ি পথে মন্দির প্রদক্ষিণ রোমাঞ্চ জাগায়। অপরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশ, সাগরতীরে আম, কাঁঠাল, নারকেল আর কলার সবুজ ক্ষেত ।
N==রাত্রিবাস গণপতিপুলে।
ষষ্ঠ দিন – জয়গড় ফোর্ট ও লাইটহাউস যেগুলি 17 শতকে তৈরী । পথে গণপতিপুলের সৈকত।
মালগুন্দে মরাঠি কবি কেশবসুতের বাসভবনে কেশবসুত স্মারক।
মালগুন্দে মরাঠি কবি কেশবসুতের বাসভবনে কেশবসুত স্মারক।
N==রাত্রিবাস গণপতিপুলে।
সপ্তম দিন – সকালে বেরিয়ে পড়ুন, আজকের গন্তব্য কুঙ্কেশ্বর।
প্রথমে রত্নগিরি, ২৫ কিমি। নানা সৈকতের সমাহার রত্নগিরিযেতে –যেমন পান্দ্রে বিচ, ভাটে বিচ,
মান্ডভি বিচ ইত্যাদি। এ ছাড়াও এখানে দেখলাম থিবো প্যালেস(বার্মারাজ থিবোকে বন্দি করে রাখার জন্য ব্রিটিশদের গড়া প্রাসাদ), ভগবতী মন্দির, রত্নগিরি দুর্গ।
লোকমান্য তিলকের বাড়িতে তিলক স্মারক সংগ্রহশালা ইত্যাদি।
প্রথমে রত্নগিরি, ২৫ কিমি। নানা সৈকতের সমাহার রত্নগিরিযেতে –যেমন পান্দ্রে বিচ, ভাটে বিচ,
মান্ডভি বিচ ইত্যাদি। এ ছাড়াও এখানে দেখলাম থিবো প্যালেস(বার্মারাজ থিবোকে বন্দি করে রাখার জন্য ব্রিটিশদের গড়া প্রাসাদ), ভগবতী মন্দির, রত্নগিরি দুর্গ।
লোকমান্য তিলকের বাড়িতে তিলক স্মারক সংগ্রহশালা ইত্যাদি।
আবার এগিয়ে চলা বিজয়দুর্গ,96 কিমি। পথে দেখে দেখলাম পুরানগড় ফোর্ট(পাহাড়ি পথে অল্প চড়াই ভাঙতে হয়) ও পাওয়াসে স্বামী স্বরূপানন্দের আশ্রম। বাঘোতন নদীর মোহনায় বিজয়দুর্গ সৈকত সংলগ্ন বিজয়দুর্গ ফোর্ট।সিলাহরাদের তৈরি করা এই ফোর্ট বার বার হাত বদল হয়েছে – প্রথমে আদিলশাহ, তার পর মরাঠা, তার পর ব্রিটিশ এবং শেষে ধুলুপদের হাতে। বিজয়দুর্গ ফোর্টের বাইরে
ধুলুপ ম্যানসন।
ধুলুপ ম্যানসন।
এরপরে আমাদের নিয়ে গেল কুঙ্কেশ্বর,35 কিমি। পথে দেখলাম রামেশ্বর মন্দির, এখানে রয়েছেকানহোজি আংরের উত্তরপুরুষ তুলাজি আংরের সমাধি।
N==রাত্রিবাস কুঙ্কেশ্বর।
অষ্টম দিন – আজও রইলাম কুঙ্কেশ্বরে ।
কোঙ্কন উপকূলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৈকত কুঙ্কেশ্বর। বিচ আর শিব মন্দির, এই নিয়ে কুঙ্কেশ্বর। নিশ্চিন্ত বিশ্রামের ঠিকানা। তাপরে গেলাম দেবগড় । মহারাষ্ট্রের বিখ্যাত আম হাপুসের রাজধানী,
সৈকত, ফোর্ট আর মন্দির।
কোঙ্কন উপকূলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৈকত কুঙ্কেশ্বর। বিচ আর শিব মন্দির, এই নিয়ে কুঙ্কেশ্বর। নিশ্চিন্ত বিশ্রামের ঠিকানা। তাপরে গেলাম দেবগড় । মহারাষ্ট্রের বিখ্যাত আম হাপুসের রাজধানী,
সৈকত, ফোর্ট আর মন্দির।
নবম দিন – গেলাম তারকার্লি, । তারকার্লির ৫ কিমি আগে মালভান সৈকত। এখান থেকে গেলাম
সিন্ধুদুর্গ, বেলাভূমি থেকে আধ কিমি দূরে কুটে দ্বীপে। মালভান জেটি থেকে বটে সিন্ধুদুর্গ । শিবাজির গড়া সামুদ্রিক ফোর্ট, মরাঠা শক্তির নৌবাহিনীর মূল কেন্দ্র, 12 ফুট উঁচু 30 ফুট চওড়া প্রাচীরে ঘেরা। ব্রিটিশ এর নাম বদলে দিয়েছিল ফোর্ট অগাস্টাস। শিবাজির ছেলে রাজারামের গড়া শিবাজির কালো মর্মর মূর্তিটিদেখার মতো।
সিন্ধুদুর্গ, বেলাভূমি থেকে আধ কিমি দূরে কুটে দ্বীপে। মালভান জেটি থেকে বটে সিন্ধুদুর্গ । শিবাজির গড়া সামুদ্রিক ফোর্ট, মরাঠা শক্তির নৌবাহিনীর মূল কেন্দ্র, 12 ফুট উঁচু 30 ফুট চওড়া প্রাচীরে ঘেরা। ব্রিটিশ এর নাম বদলে দিয়েছিল ফোর্ট অগাস্টাস। শিবাজির ছেলে রাজারামের গড়া শিবাজির কালো মর্মর মূর্তিটিদেখার মতো।
মহারাষ্ট্রের একটি সুন্দর বিচ তারকার্লি, সুরু ও নারকেল গাছে ছাওয়া। মিহি বালুকাবেলা, স্ফটিক স্বচ্ছ জল নিয়ে মনোরম বিচ তারকার্লি।
আজ বিশ্রাম ও রাত্রি বাস এখানেই।
দশম দিন – চলে গেলাম গোয়া।
এখানেই আমাদের ভ্রমণ শেষ করে গোয়া এয়ারপোর্ট ডাবলিম থেকে বিমানে ফিরে আসলাম নাগপুরে।
====================================================
এখানেই আমাদের ভ্রমণ শেষ করে গোয়া এয়ারপোর্ট ডাবলিম থেকে বিমানে ফিরে আসলাম নাগপুরে।
====================================================
No comments:
Post a Comment