70>ট্রেকিং করে গঙ্গোত্রী থেকে গোমুখ।=====07/10/2009 to 22/10/2009
07th October 2009 Wednesday
7 অক্টবর --বুধবার দিন আমরা চারজন ( সমর , অশোক জি, তিওয়ারি জি ,ও আমি)চলেছি গঙ্গোত্রী--চিরবাসা-- ভোজবাসা --গোমুখ-- তপোবন ট্রেকিংয়ে।
গঙ্গোত্রীর ট্রেকিং এর কথা লিখতে গিয়ে প্রথমে জানিয়ে দিচ্ছি গঙ্গোত্রীর কিছু জরুরি বিবরণ।গঙ্গোত্রী ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের উত্তরকাশী জেলার একটি শহর ও নগর পঞ্চায়েত। এটি ভাগীরথী নদীর তীরে অবস্থিত একটি হিন্দু তীর্থ শহর। গঙ্গোত্রী হিমাদ্রি হিমালয় পর্বতশ্রেণীতে 3,415 মিটার উচ্চতায় অবস্থিত।
স্থানাঙ্ক: 30.98°উত্তর 78.93° পূর্ব
দেশ::ভারত
রাজ্য::উত্তরাখণ্ড
জেলা::উত্তরকাশী জেলা
উচ্চতা::3,415 মিটার (11,204ফুট)
জনসংখ্যা ( 2001)::• মোট 606
ভাষা::• সরকারি হিন্দি
সময় অঞ্চল::ভারতীয় প্রমাণ সময় (ইউটিসি+ 5:30)
গঙ্গোত্রী হোল গঙ্গা নদীর উৎসস্থল। তাই এখানে দেবী গঙ্গার একটি মন্দির আছে। গঙ্গোত্রী ছোট চার ধাম তীর্থ-চতুষ্টয়ের একটি। এখানে গঙ্গা নদীর নাম ভাগীরথী নদী। গঙ্গোত্রী থেকে দেবপ্রয়াগ পর্যন্ত গঙ্গা ভাগীরথী নামে প্রবাহিত। তারপর অলকানন্দা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে গঙ্গা নাম ধারণ করেছে। গঙ্গোত্রীর নিকট গোমুখে গঙ্গার উৎস। এটি গঙ্গোত্রী অঞ্চল থেকে 19 কিলোমিটার দূরে গঙ্গোত্রী হিমবাহের উপর অবস্থিত।পুরাণ অনুসারে, রাজা ভগীরথের পূর্বপুরুষের পাপস্খালনের জন্য দেবী গঙ্গা এইখানে নদীরূপে অবতীর্ণ হন। তার অবতরণের আগে ভগীরথ এখানে অনেকদিন তপস্যা করেছিলেন।
গোমুখ স্থানটি 13,200 ফুট (4,023 মিটার) উচ্চতায় অবস্থিত উত্তরকাশি জেলা রাজ্যে উত্তরাখণ্ড, ভারত। এটি হিমালয়ের বৃহত্তম হিমবাহ একটি যার আনুমানিক আয়তন 27 কিউবিক কিলোমিটার। এটি পাশাপাশি একটি পবিত্র হিন্দু তীর্থস্থান গঙ্গোত্রী পৌঁছতে ট্রেকিং করেই পৌঁছতে হয় গন্তব্যে।=============
07 October 2009 Wednesday
আমরা চারজন রওনা দিলাম
গঙ্গোত্রী--চিরবাসা-- ভোজবাসা --গোমুখ-- তপোবন ট্রেকিংয়ের উদ্যেশ্যে
ট্রেনে দিল্লি হয়ে পৌঁছে গেলাম দেরাদুন।
10 October 2009 শনিবার রাত্রে। আগে থেকে বুক করা ছিলো তাই রাতে দেরাদুন পৌঁছে গাড়োয়াল মণ্ডল বিকাশ নিগমের গেস্টহাউসে উঠলাম। রাতটা এই দেরাদুনেই কাটলো।
11 October 2009 Sunday
পরের দিন রবিবার 11অক্টোবর সকাল সকাল আমাদের যাত্রা শুরু হল গঙ্গোত্রীর উদ্দেশে।গাড়ির ব্যবস্থা করা ছিল আগেই। দেরাদুন থেকে গঙ্গোত্রী, পাড়ি পথে 242 কি মি।
এই পথে বাসও চলে।
আমারা জিপে পৌঁছালাম তেহরি। তেহরি ড্যাম ও বিশাল জলাধার খুব সুন্দর। এরপর চিন্যালীসৌর, ধারাসু, উত্তরকাশী ও হরশিল হয়ে সন্ধ্যায় গঙ্গোত্রী পৌঁছালাম। চিন্যালীসৌর থেকে গঙ্গোত্রীর দূরত্ব 131 কিলোমিটার। এখান থেকে সাথে সাথে গোটা রাস্তার সমান্তরাল ভাবর বয়ে চলেছে ভাগীরথী। এখানকার নদীর বাঁকগুলি দেখার মতন, সাথে নদীখাতের নানান আকার, কোন কোন জায়গার নদীখাতের গভীরতা দেখে বুক কেঁপে যায়। তবে জল দেখে ভীষণ আনন্দ অনুভব হয় এমন সবুজ স্ফটিক রঙের প্রাণদায়ী জলধারা। এখানে হরশিল নামক জায়গায় দেখলাম বিশাল বিশাল আপেল বাগিচা। দেরাদুন থেকে গঙ্গোত্রী পৌঁছাতে 12 ঘন্টা সময় লাগল। এরমধ্যে অবশ্য বার দুয়েক গাড়ি থামাতে হয়েছিল খাওয়াদাওয়াও একটু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার জন্য।
চিন্যালীসৌর থেকে ভাগীরথীর প্রবাহ। গঙ্গোত্রীতেও জিএমভিএন-এর গেস্টহাউসে ঘর বুক করা ছিল। একেই 11200 ফুট উচ্চতা, তার উপর অক্টোবর মাস। প্রচন্ড ঠান্ডায় শরীরে সূচ বিঁধছিল।এতটা পথ চলে এই ঠান্ডায় আর শরীর চলতে চাইছিলো না সেই কারনে তাড়াতাড়ি রাতের খাওয়া সেরে ঢুকে পড়লাম লেপের নীচে।
12 Oct Monday:--
12 অক্টোবর সোমবার::--
সকালে উঠে ভাগীরথীর হিমশীতল জলে স্নান করলাম ( একটু গরম জল মিশিয়ে)।
পুজো দিলাম গঙ্গোত্রী মন্দিরে। আর কয়েকদিন পরেই, দশেরার দিন মন্দির বন্ধ হয়ে যাবে। আবার খুলবে সেই এপ্রিলে, অক্ষয় তৃতীয়ার দিন।
এখানে একটা দিন থেকে খানিকটা আশেপাশের সৌন্দর্য দেখলাম মন প্রাণ ভরে। সাথে দেখলাম সূর্যকুণ্ড, জলমগ্ন শিবলিঙ্গ । আর চোখ ও মন প্রাণ ভরে উপভোগ করলাম গঙ্গোত্রী উপত্যকার বিশাল শান্ত সৌন্দর্য। এই সৌন্দর্য না দেখলে লিখে বা কথায় বলে বোঝানো অসম্ভব। এখানে বলতে ইচ্ছা করে "আহা কি দেখিলাম জন্মজন্মান্ত্ররেও ভুলিব না"
এবার এই গঙ্গোত্রী থেকে আমাদের ট্রেকিং শুরু হল 13 তারিখ মঙ্গল বার।
আগে থেকে ব্যবস্থা মতন আমাদের গাইড়, পোর্টাররা পৌঁছে গিয়েছিল রাত্রেই। এরা সকলেই বেশ ভালো হিন্দি বোঝে।
(এই ডাইড ও পোর্টাররা প্রত্যেক সিজেনে গাড়োয়ালে চলে আসে। আবার অক্টোবরের শেষে, নভেম্বরে ফিরে যায় যে যার বাসস্থানে। )
আমরা প্রায় দুই কিলোমিটার হাঁটার পরে পৌঁছে গেলাম এখানকার বন বিভাগের চেকপোস্টে । গঙ্গোত্রী ন্যাশনাল পার্কের প্রবেশদ্বারে এই চেকপোস্ট। আমাদের সকলের সঙ্গে থাকা মালপত্র তল্লাসী করা হল। তল্লাসী শেষ হল ভালো ভাবে।
এবার আবার শুরু হল পথ চলা । জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে পথ। হালকা জঙ্গল ক্রমে ক্রমে ঘন হতে শুরু কিরলো। এই পথে চিরবাসায় যাওয়ার পথে কয়েকটি হিমালয়ান থরের দেখতে পেয়ে ছিলাম। (হিমালয়ান থর এক প্রকার ছাগল আকৃতির বড়সড় স্তন্যপায়ী জন্তু। উত্তর হিমালয়ের বিভিন্ন পাহাড়ের ঢালে এদের দেখা যায়।)
থর দেখতে পেয়ে আমরা বেশ আনন্দ উপভোগ করলাম।ওরা ক্রমে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে উপরের দিকে উঠছিল। আমাদের গাইড বলল, দলে আরও কয়েকটি থর ছিল, তারা আরও আগে উপরে উঠে গেছে। তাই এরাও তাড়াতাড়ি ওঠার চেষ্টা করছে।
যাইহোক আমরা চেকপোস্ট থেকে 9km ট্রেক করে পৌঁছালাম চিরবাসায়। (পাইন গাছকে আঞ্চলিক ভাষায় চির বলে।) চিরবাসার আসাধারণ সৌন্দর্য, সবুজ উপত্যকা, ভাগীরথীর বয়ে চলার শব্দ; সব মিলিয়ে যেন এক অপরূপ স্বর্গীয় সৌন্দর্য ছড়িয়ে রেখেছে চতুর্দিকে।
চিরবাসায় দেখলাম অনেক প্রকারের গাছ বা বৃক্ষ। যেমন পাইন, ফার, জুনিপার, স্প্রুস প্রভৃতির। আর এই বৃক্ষরাজির জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে চলার পরে প্রকৃতি ক্রমশ পাল্টে যেতে লাগল। এবার বড় বড় সব গাছের পরিবর্তে লতা-গুল্মের ঝোপ-ঝাড় বেশি করে চোখে পড়তে থাকল। পথে সব জায়গাতেই বড় বড় পাথরখণ্ড এড়িয়ে পথ করে নিতে হচ্ছে। এবার আগের থেকে অনেক বেশি চড়াই পথে হাঁটছি। হাটতে বেশ কষ্ট হচ্ছে হাঁপ ধরে যাচ্ছে। এমনি করেই আমরা সকলে পৌঁছালাম ভোজবাসা বা ভূজবাসায়। এখানে দেখলাম ভোজ বা ভূজ বৃক্ষ। প্রাচীণকালে এই গাছের পাতা (ভূর্জপত্র) লেখার জন্য ব্যবহৃত হত। একদিনে সবমিলিয়ে 28 কিলোমিটার পথ হাটলাম।
ভূজবাসার উচ্চতা 12400 ফুট। ঠাণ্ডা আরও তীব্র যেন সুঁচ ফুটিয়ে দিচ্ছে। আজ এই ভূজবাসাতেই টেন্টে রাত্রিবাস। এখানে শোবার জন্য রাত্রের খাবার খেয়ে ঢুকে পড়লাম স্লিপিং ব্যাগের মধ্যে।
14 oct 2009 Wednesday::--
14 অক্টোবর বুধবার::--
সকালে উঠে দেখি চারিদিক যেন হালকা বরফের সাদা চাদরে ঢাকা পড়েছে। আমরা সকালের চা খেতে খেতেই উপভোগ করছি সকাল বেলার সৌন্দর্য। গাইড তারা তারি তৈরি হবার জন্য তারা দিতে লাগলো । আমরাও তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে রওনা দিলাম।
একটু এগিয়েই পেলাম ভাগীরথী নদী। এখানে ভাগীরথীর ভয়ঙ্কর স্রোত। এই নদী পথ পার হলাম হাতে টানা রোপওয়েতে চড়ে। সে এক ভীষণ ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা, সত্যি বলছি এই ভাবে নদী পারা হবার প্রধান অবলম্বন মনের জোর। ভূজবাসা থেকে প্রায় 4 কিলোমিটার হেঁটে আমরা গোমুখ হিমবাহের প্রান্তে এসে পৌঁছালাম।
এই হিমবাহ প্রায় 30 কিলোমিটার লম্বা এবং 2 থেকে 4 কিলোমিটার চওড়া । বিশাল এই হিমবাহই গঙ্গার জল সরবরাহের মূল উৎস। হিমবাহের সমান্তরালে হাঁটছি আমরা। বেশ কষ্টকর চড়াই পথ। কোথাও কোথাও 60 থেকে 75 ডিগ্রি চড়াই পথ বেয়ে উঠতে হচ্ছে। মনে হচ্ছে প্রাণশক্তির সঙ্গে ইচ্ছেশক্তিরও পরীক্ষা নিচ্ছে এই কঠিন পথ।
এভাবে পাঁচ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে এলাম। সব কষ্টের শেষেই বোধ হয় ভালো কিছু অপেক্ষা করে থাকে। সেই কারণে এখানে ও আমাদের জন্য সুন্দর কিছু অপেক্ষা করছিল।
আমরা দেখলাম গাড়োয়াল হিমালয়ের অপরূপ শিবলিং পর্বত। আহাঃ কি সুন্দর চোখ ফেরানো যায় না সেই সৌন্দর্য থেকে। মাউন্ট শিবলিং ছাড়াও পথে চোখে পড়লো সুদর্শন পর্বত, কেদার ডোম, মাউন্ট মেরু ও সুমেরু এবং মাউন্ট বাসুকী।
15 th Oct Thursday::--
আজ 15 অক্টোবর বৃহস্পতিবার।
আমরা তপোবন পৌঁছোলাম। শিবলিং পর্বতের পাদদেশে আমরা টেন্ট খাটালাম। সম্পুর্ন স্থানটি পাথরে ভর্তি কোথাও কোথাও অল্পসল্প ঘাসের দেখা পেলাম। প্রবল ঠান্ডা। জায়গাটার উচ্চতা 14300 ফুট। গাইড বললো রাতে অনেক সময়েই তাপমাত্রা নেমে যায় শূণ্য ডিগ্রির নীচে। রাতে যথারীতি তাড়াতাড়ি খেয়েদেয়ে স্লিপিং ব্যাগে ঢুকে পড়েছিলাম।
সকালে উঠে বেশ পরিষ্কার আকাশ, ক্যাম্পের চারপাশে বরফের স্তূপ। আর তখনই দেখলাম রং ধরল শিবলিং শৃঙ্গে। ধীরে ধীরে সোনালী রোদ্দুরে ছেয়ে গেল চারপাশ। এক কথায় চমৎকার আবহাওয়া।
16 অক্টোবর শুক্রুবার গাইডের নির্দেশে দিনটি আমরা তপোবনেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। বিশ্রাম এবং একটু ঘুরেফিরে দেখার জন্য। কারন এতো সুন্দর আবহাওয়া সচরাচর পাওয়া যায়না।
এবার আমাদের ফেরার পালা।
17th Oct 2009::--
17 অক্টোবর শনিবার :;--
তপোবন থেকে আমরা চলে এলাম চিরবাসায়। রাত্রিবাস হল চিরবাসাতেই, ক্যাম্পে। 18 অক্টোবর চিরবাসা থেকে 9 কিলোমিটার হেঁটে চলে গিয়েছিলাম গঙ্গোত্রী। ওইদিনই আমরা নেমে এলাম হরশিলে। উত্তরাখণ্ড-হিমাচল সীমান্তে হরশিলের অবস্থান। মাঝে রয়েছে একটা পাহাড়।19 তারিখে পৌঁছে গেলাম উত্তরকাশী। এখানে রাস্তার ধারে ভাগীরথীর প্রবাহ দেখে দিনটি খুব সুন্দর উপভোগ করলাম। আর ঠাণ্ডায় কাঁপতে কাঁপতে উত্তরকাশীর পথে পথে ঘুরে বেড়ালাম।
20 তারিখ চলে এলাম দেরাদুন।
দেরদুন থেকে ট্রেন ধরে হাওড়া। 22/10/2009
=========================
আরও কিছু কথা -----
উত্তরাখণ্ডের দেবভূমি গাড়োয়াল হিমালয়ের কোলে অবস্থিত গঙ্গার উৎসমুখ গোমুখ, গঙ্গোত্রী থেকে প্রায় 19 কি.মি.( 11.2 মাইল) দূরে এবং ভাগীরথীর পাদদেশ থেকে 4255 মিটার উচ্চতায় অবস্থিতগোমুখ ট্রাকিং করবার জন্য অতি অবশ্যই সঙ্গে একজন গাইড থাকতে হবে এবং এমন কোনও দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত হওয়া উচিত যা প্রাণঘাতীও হতে পারে।
এই প্রায় 19 কিমি পথ ন্যাশনাল পার্কের মধ্যে দিয়ে পাহাড়ি পথে পায়ে হেঁটে অর্থাৎ ট্রেকিং করেই পৌঁছতে হয় এই গোমুখে। তবে এই যাত্রার জন্য লাগে বিশেষ পারমিশন বা পরচি, এই পরচি নিতে মাথা পিছু ₹ 150/- টাকা লাগে।( সময় অনুসারে এই টাকার পরিমাণ বাড়তে বা কমতে পারে) এই পরচি মনে দুই রাত ও তিন দিনের অনুমতি পত্র।
এখান থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার ভূজবাসা, একমাত্র রাত্রিকালীন ভবন।
মূল ট্রেকিংয়ের পথ হলো প্রথম দিন ভোজবাসায় থেকে রওনা দিয়ে দ্বিতীয় দিনে চিরবাসা হয়ে গোমুখ পৌঁছে ফের চিরবাসায় ফিরে রাত কাটিয়ে পরের দিন গঙ্গোত্রী ফিরে আসা।
(এখানে কোনও ঘোড়ার অনুমতি নেই, তাই পায়ে হেঁটে যাওয়ার জন্য অবশ্যই প্রস্তুতি নিতে হবে। এখান থেকেই তপোভান ও নন্দনভানের ট্রেক শুরু হয়।)
গঙ্গোত্রী হিমবাহের স্নাউট পয়েন্ট, গোমুখ 'ভোজবাসার' পরের রুটটি বেশ কঠিন।
গঙ্গোত্রীর ৯ কিলোমিটার দূরে চিরবাসা, চির গাছের আবাস। চিরবাসার তিন কিলোমিটার পরে বিপজ্জনক গিলা পাহার , এই জায়গাটি প্রতি বৎসর ভূমিধসের জন্য সুপরিচিত,
এখানে নদীর কাছে নিচের দিকের চূড়াগুলি ট্র্যাক করতে হয়।
গুমুখে পৌঁছতে বোল্ডার জোন পেরোতে হবে। তাপোভানে পৌঁছানোর শেষ চূড়ান্তটি খুব খাড়া, 2 কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় 1500 ফুট একটি আরোহণ এবং এটি বেশ চ্যালেঞ্জিং অভিজ্ঞতা।
আমরা দেখেছিলাম পরচি সংগ্রহ করতে লাইনে ভীষণ ভিড়। আমরা প্রথম দিকেই ছিলাম সেই কারণে পরচি পেয়েছিলাম। কিন্তু পরে বুঝতে পারলাম যে সেদিন খুব সামান্য কজনই অনুমতি পেয়েছিল। সেই সময়ে অবস্থা বুঝে খুব সামান্য যাত্রীকেই অনুমতি দিত । কারন আবহাওয়া ভালো থাকলে দিনে মাত্র 150 অভিযাত্রী প্রবেশের অনুমতি পায়,
গঙ্গোত্রী হিমবাহের মুখ যা গোমুখ নামে পরিচিত যেখান থেকে ভাগীরথী নদীর উৎপত্তি। এটাই গঙ্গা নদীর প্রাথমিক উৎসস্থলও। ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের উত্তরকাশী জেলায় 13,200 ফুট উচ্চতায় এর অবস্থান. এটি আয়তনে 27 ঘন kM একটি জনপ্রিয় তীর্থস্থান।
গঙ্গোত্রী মানেই ভীষণ সুন্দর একটি ট্রেকিং রূট।
পুরাণে গোমুখের উল্লেখ আছে। কথিত আছে একজন মেষপালক ছেলে তাঁর একটি হারানো মেষকে খুঁজতে খুঁজেতে গঙ্গোত্রী হিমবাহের কাছে পৌঁছে যায়। সেখানটা দেখতে অনেকটা গরুর মুখের মতো দেখতে তাই নাম হয় গোমুখ। বিভিন্ন জাতির মানুষের কাছে এটি একটি পবিত্র যাত্রা। বহু সন্ন্যাসী ও মানুষ আসেন এখানে পুজো দিতে।
(যাবার পথে জিএমভিএন বাংলো, অথবা লালবাবার আশ্রমে বা রাম বাবার আশ্রমে কেউ থাকতে পারেন; আশ্রম বা বাংলো উভয়ই স্থানেই একদিনের জন্য ৩৫০ টাকা করে চার্জ লাগে। যার মধ্যে থাকার ব্যবস্থা এবং খাবার রয়েছে। )
<---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->
========================
No comments:
Post a Comment