Sunday, June 26, 2022

77/2>|| পঞ্চকেদার::ট্রেকিং/ দর্শন=16Days ||----(2)

 77/2>|| পঞ্চকেদার::ট্রেকিং/ দর্শন=16Days ||--(2)

                            <---আদ্যনাথ--->

  16 দিনের ভ্রমণ---part=(2)

       দ্বিতীয় পর্ব-----

আমি মনের দুঃখ ঘোচাতে বেরিয়ে পড়েছিলাম হিমালয়ে পঞ্চকেদার দর্শনে। শুনেছি পঞ্চকেদার দর্শনে পাওয়া যায় মনের শান্তি, আর দূর হয় মনের সকল গ্লানি। তাইতো বেড়িয়ের পড়লাম পঞ্চকেদার দর্শনে। চারজন সাথী জোগাড় করে।

(কমল ঘোষ, মানিক ভট্টাচার্য্য,শম্ভু নাথ,পরেশ দেবনাথ ও আমি।)

আমাদের যাত্রা পথ----

হরিদ্বার-- হৃষীকেশ---রুদ্রপ্রয়াগ ও শোনপ্রয়াগ--- গৌরীকুণ্ড--ভীমবলী--লিনচোলী- হয়ে কেদারনাথ--- -উখীমঠ-মদমহেশ্বর-- যোগাসু-ওনিওনা-রাঁশি---গৌণ্ডার----বানতোলি--খাডোরা---চোপতা--তুঙ্গনাথ----চন্দ্রশীলা----মণ্ডল---অনুসূয়া---------------অত্রিমুনির আশ্রম-নওলা পাস----রুদ্রনাথ--পানার-টোলি-দুমক----কালগোট ----উর্বশী পাস---দেবগ্রাম------কল্পেশ্বর---সালনা---হেলাং---চামোলী হয়ে হরিদ্বার ।

====================

20 অক্টোবর1972  শুক্রুবার----- থেকে  4 নভেম্বর 1972 শনিবার পর্যন্ত ।=16 দিন।

20/10/1972

হাওড়া থেকে ট্রেনে হরিদ্বার ,দুইদিনের পথ । পৌঁছে গেলাম হরিদ্বার।

1st and 2nd day

সম্পুর্ন ★হরিদ্বার আগেই ঘুরে দেখেছি। তথাপি হর-কি-পৌরি তে গঙ্গার আরতি দেখবার ইচ্ছা আছে। ভাবছি ফেরার পথে একবার দেখব। সেই কারণে সময় নষ্ট না করে একটা গাড়ি ভাড়া করে বেরিয়ে পড়लम।

3rd day--

তৃতীয় দিনে একটা গাড়ি ভাড়া করে  রুদ্রপ্রয়াগ, শোনপ্রয়াগ হয়ে ★গৌরীকুণ্ডে পৌছেছিলাম।গৌরীকুণ্ডে হোটেলে রাত কাটিয়ে সকালে আরার বেরিয়ে পড়েছিলাম।

(হরিদ্বার থেকে গৌরীকুণ্ড 232.4 কিলোমিটার কার বা জিপে আট ঘন্টার মতন সময় লাগে।)


4th day---

চতুর্থ দিন আমরা চলেছি গৌরীকুণ্ড  থেকে লিনচোলীর পথে--13 কিলোমিটার।

(গৌরীকুণ্ড থেকে আমরা 12 দিনের জন্য একজন গাইড তথা পথ- প্রদর্শক সঙ্গে নিয়েই সম্পূর্ন ভ্রমন করেছিলাম)।

গৌরীকুণ্ড থেকে হাটা শুরু করলাম। জঙ্গল চটি ছাড়িয়ে গিয়ে ★রামওয়ারার যাওয়ার পথে ,★মন্দাকিনী নদীর পাশ দিয়ে, রামওয়ার এক কিলোমিটার আগেই ★ভীমবলী থেকে নেমে  মন্দাকিনী পেরিয়েই ভীষণ চড়াইপথে নদীর তটবরাবর চড়াই পথে  এগিয়ে চললাম । একটানা জঙ্গলের চড়াই পথে চলে পার হলাম  একটা নালা। আরও একটু উঠে গিয়ে পেলাম অপূর্ব সুন্দর  ঘাসে ঢাকা পাহাড়ের ঢাল। এভাবেই পৌঁছে গেলাম ★লিনচোলীর সরকারি হাউজে। এক পরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকা-খাওয়ার সব ব্যবস্থাই আছে। রাতটা ভালোই কাটলো এখানে। 

সকালে উঠে আবার চলা শুরু।

5th day---

পঞ্চম দিনে লিনচোলী-কেদারনাথ ---4কিলোমিটার পথ।

লিনচোলী থেকে দেখতেপেলাম কেদারনাথ শৃঙ্গ-সহ তুষারাবৃত পর্বতমালা। একটু এগিয়ে যেতেই দূরে  দেখলাম কেদারনাথ মন্দির । মন্দির থেকে দু’কিলোমিটার আগেই কেদারনাথ বেসক্যাম্পে বা  সরকারি থাকা খাওয়ার জায়গা। ওখানে থাকার ব্যবস্থা করে  মালপত্র রেখে সরস্বতী নালা পেরিয়ে  পৌঁছে গেলাম ●●(1)কেদারনাথ মন্দিরে। মন্দিরদর্শন করে পূজাদিয়ে  চারপাশটা একটু ঘুরে ফিরে দেখে পৌঁছে গেলাম  কেদারনাথের সরকারি গেস্ট হাউজে ।

[[(1)=কেদারনাথ মন্দির=11755 ft Hight

(গত এক বৎসর আগে অর্থাৎ 1970 সালে কেদার নাথ - বদ্রিনাথ দর্শন করেছি সেই কারণে কেদারনাথ মন্দির নিয়ে অনেক কিছু ওখানেই লিখেছি সেই কারণে এখানে আর লিখলাম না।)

হিন্দুদের অন্যতম প্রধান ও জনপ্রিয় তীর্থস্থান। উত্তরাখণ্ড রাজ্যের গাড়োয়াল হিমালয় পর্বতশ্রেণীতে অবস্থিত কেদারনাথ শহরে মন্দাকিনী নদীর তীরে স্থাপিত একটি শিব মন্দির। এই অঞ্চলের প্রাচীন নাম ছিল কেদারখণ্ড। তাই এখানে শিবকে কেদারনাথ অর্থাৎ কেদারখণ্ডের অধিপতি নামে পূজা করা হয়। ]]

6th day----

ষষ্ঠ দিন--

সকালে বেরিয়ে একই ফিরতি পথে অনেকটা রাস্তা পেরিয়ে গৌরীকুণ্ডে নেমে আসালাম। তারপরে গৌরীকুণ্ড থেকে ভাড়া করা গাড়ি করে গুপ্তকাশী হয়ে উখীমঠ পৌঁছে গেলাম। উখীমঠের  মন্দির দর্শন করে পূজা দিলাম। শীতকালে এই মন্দিরেই ●●(2)মদমহেশ্বরের বিগ্রহ পূজিত হয়।

   [[ 2)=মদমহেশ্বর=11450ft Hight

চারিদিকে সবুজের  সমারহ মাঝে পাহাড়ের কোলে মধ্যমহেশ্বর বা মদমহেশ্বর মন্দিরের। সে এক অপূর্ব দৃশ, এমন দৃশ্য দেখে মনে এক অনাবিল শান্তি অনুভব করলাম।  সকালে খুব ভোরে উঠে কিছুটা চড়াই ভেঙে পৌঁছে গেলাম বুড়ো মদমহেশ্বেরের মন্দিরে। এখানেও ঘাসে ঢাকা প্রান্তরের মাঝে ছোট্ট এক পাথুরে মন্দির। এখান থেকে চারপাশের দৃশ্য অপূর্ব।  এখান থেকে দেখা যায় চৌখাম্বা ও মান্দানি শৃঙ্গমালাকে। এখানে একটি ছোট জলাশয়ও আছে।    ]]

7th day===

সপ্তম দিন::--- উখীমঠ-যোগাসু-ওনিওনা-রাঁশি গ্রাম --গাড়িপথে----১০কিমি পথ।

উখীমঠ থেকে গাড়ি চেপে মনশুনা, ★যোগাসু ও ★ওনিওনা ছাড়িয়ে ★রাঁশি গ্রাম হয়ে পৌঁছে গেলাম ★গৌণ্ডা হয়ে ★বানতোলি খাডোরা -নানু হয়ে-★মদমহেশ্বর ।

গৌণ্ডার থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে বানতোলি হয়ে  মার্কণ্ডেও গঙ্গা ও মদমহেশ্বর গঙ্গার সঙ্গমস্থল এখান থেকে শুরু কঠিন চড়াইপথ । বড় বড় গাছপালার মধ্য দিয়ে সুন্দর প্রশস্ত পথ।

এইভাবেই পৌঁছে গেলাম  গৌণ্ডার ও রাঁশি গ্রাম।  ঘাসে  ঢাকা পাহাড়ের ঢাল ধরে পাকদণ্ডী চড়াইপথে নানু।  পথের দূরত্ব খুব একটা বেশি নয় তবে সম্পূর্ণ পথই  চড়াইপথ।  মাত্র নয় ( 9 ) কিলোমিটার পথে উঠেই হবে  চার হাজার ফুট, এতটা চড়াই পথ বেশ কষ্ট সাধ্য।তথাপি মনে এক আনন্দ বিরাজ করছে, আর এই ভাবেই আমরা পৌঁছে গেলাম মদমহেশ্বরের মন্দির । অসাধারণ সুন্দর এই মন্দির এলাকা।

এই মদমহেশ্বরেই এক হোটেলে রাত কাটালাম।  

8th day===

অষ্টম দিন মদমহেশ্বর-গৌণ্ডার-রাঁশি-১৭কিমি

খুব ভোরে উঠে পৌঁছে গেলাম  বুড়ো মদমহেশ্বেরের মন্দিরে।  ছোট্ট  এক পাথরের মন্দির। এখান থেকে চারপাশের দৃশ্য অপূর্ব। চৌখাম্বা ও মান্দানি শৃঙ্গমালাকে দেখলম। এখানেও আছে এক ছোট্ট জলাশয়। এবারে একই পথে নেমে আসলম। ফিরে এসে রাতটা মদমহেশ্বরেই  থাকলাম। 

9 th day==

নবম  দিন--চোপতা -তুঙ্গনাথ----হাঁটাপথ

সকালেই গাড়ি ভাড়া করে রওনা দিলাম। খুব ভোরে বেরিয়ে ওনিওনা হয়ে জিপে ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যে চলে আসলাম  ★উখীমঠ। উখীমঠ থেকে আবার একটা গাড়ি ভাড়া করে  ঘণ্টা তিনেকের পথ  ★চোপতায়  পৌঁছে গেলাম ।  এই চোপতা থেকে তুঙ্গনাথ পায়ে হেটে মাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার চড়াই পাথুরে পথ তাই সাবধানে চলতে হয় খানিকটা ওঠার পর ঘাসে ঢাকা পাহাড়ের ঢাল । এই ভাবেই  ঘণ্টা দুয়েক পথ চলে পৌঁছে গেলাম  ●●তুঙ্গনাথ।এই তুঙ্গনাথ মন্দিরে মহিষরূপী শিবের বাহু অংশটি আছে পাথরের আকারে। এখানে পুজো হয় মহাদেবের হৃদয়ের!

মন্দিরের কাছেই পেয়েগেলাম গেস্ট হাউস, সেখানেই থাকার ব্যবস্থা করলাম 

 [[ (3)=তুঙ্গনাথ=12073 ft Hight

তুঙ্গনাথ উত্তরাখণ্ড রাজ্যের রুদ্রপ্রয়াগ জেলায় অবস্থিত পৃথিবীর সর্বোচ্চ শিব মন্দির আর পঞ্চ কেদারের অন্যতম তৃতীয় কেদার। এখানকার মন্দিরে মহিষরূপী শিবের বাহু অংশটি আছে পাথরের আকারে।   চোপতা থেকে সাড়ে চার কিলোমিটারের হাঁটা পথ তুঙ্গনাথ। প্রায়  8800 ফুট উচ্চতার চোপতাকে অনেকে উত্তরাখণ্ডের মিনি সুইতজারল্যান্ড বলেন। কারণ, সবুজ বুগিয়াল; “বুগিয়াল” অর্থাৎ মাঠ।পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে যাওয়া বিস্তীর্ণ এক সবুজ তৃণভূমি। আসে পাশের  বাসিন্দাদের কাছে তুঙ্গনাথ পূন্যভূমি।

আমরা এবার আবার ট্ৰেকিং করে তুঙ্গনাথেরও উপরে   13123 ফুট উচ্চতায় এই পাহাড়ের চুড়োয় পৌঁছলাম যেখানে  আছে চন্দ্রশিলা। এই চন্দ্রশিলার চুড়োয় একটা ছোট্ট মন্দির রয়েছে, গঙ্গাদেবীর উদ্দেশে নিবেদিত। এখন  থেকে  দেখলাম হিমালয়ের  চার পাশের অপূর্ব তুষারধবল শৃঙ্গ গুলি। সেগুকি হল চৌখাম্বা, নন্দাদেবী, নন্দাঘুন্টি, কামিট, পালকি, নীলকন্ঠ, সুদর্শন, মেরু-সুমেরু, শিবলিঙ্গ।  

সমুদ্রতল থেকে এই তুঙ্গনাথ মন্দির 3680 মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। এই এলাকায় অবস্থিত মক্কমাথ গ্রামের এক স্থানীয় ব্রাহ্মণ তুঙ্গনাথ মন্দিরে পুজোর জন্য দায়বদ্ধ। বলা হয়ে থাকে যে স্থানীয় মৈথানি ব্রাহ্মণরাই বরাবর তুঙ্গনাথ মন্দিরে পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করে এসেছেন। মহাদেবের আরাধনা মানেই হয় তাঁর মূর্তির পুজো বা শিবলিঙ্গের পুজো করা হয়ে থাকে। কিন্তু তুঙ্গনাথ মন্দিরে মহাদেবের হৃদয় ও হাতের পুজো করা হয়। শুধু তাই নয়, এটিই বিশ্বের উচ্চতম মন্দির বলে প্রচলিত। মনে করা হয় পৃথিবীতে এর থেকে উঁচুতে আর কোনও মন্দির অবস্থিত নেই। 

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পরে পঞ্চপাণ্ডবের পাপ খলনের বা পাপ মুক্তির নিমিত্তে যে গল্প গাঁথা আছে তার পরেও আরও কিছু গল্প কথা এখানে প্রচলিত আছে।

★একথা বলাহয় যে  দেবী পার্বতী শিবকে স্বামী হিসেবে লাভ করতে এই মন্দিরে পুজো করেছিলেন।

★এ ছাড়া বলা হয়ে থাকে যে লঙ্কেশ্বর রাবণ মহাদেবকে তুষ্ট করলে তুঙ্গনাথ মন্দিরে তপস্যা করেন। আবার রাবণ বধের পরে ব্রাহ্মণকে হত্যা করার অভিশাপ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে রামও নাকি এই স্থানে বসে তপস্যা করেছিলেন। এই এলাকার আরও একটি নাম হল চন্দ্রশীলা।★

★মে থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে তুঙ্গনাথ মন্দিরে যেতে পারেন পূণ্যার্থীরা। অন্য সময় এই স্থান বরফে ঢাকা থাকে। 

তুঙ্গনাথে পৌঁছবার জন্য অনেক রাস্থা আছে যেমন::---ঋষিকেশ থেকে গোপেশ্বর হয়ে চোপটা যেতে হবে। এরপর স্থানীয় যান বাহনে করে পৌঁছে যাওয়া যায় তু্ঙ্গনাথ। 

★এছাড়া ঋষিকেশ থেকে উখিমঠ হয়েও তুঙ্গনাথে যাওয়া যায়। উখিমঠ থেকে চোপটা হয়ে তুঙ্গনাথে যাওয়ার পথ রয়েছে।★]]

   

10 th day====

দশম দিন তুঙ্গনাথ-চন্দ্রশীলা, চোপতা---৫কিমি-হাঁটাপথ। চোপতা-মণ্ডল-২৭ কিমি- গাড়িপথ।

ভোররাতে বেরিয়ে পড়েছিলাম চন্দ্রশীলার উদ্দেশে। পাথরের উপর হালকা বরফের আস্তরণ ছিলো সেই কারণে একটু সাবধানে উঠেতে পৌঁছতে হয়ে ছিলচন্দ্রশীলার উপরে। 

এখান থেকে  দেখলাম গাড়োয়াল ও কুমায়ুঁনের মাঝে বহু শৃঙ্গমালা । দেখলাম দূরে নন্দাদেবী, চৌখাম্বা, কেদারনাথ, ত্রিশূল-সহ বহু পর্বতচূড়া।  এবার নেমে আসলাম তুঙ্গনাথ মন্দিরে। মন্দির দর্শন করে একই পথে নেমে আসলাম চোপতা। 

চোপতা থেকে একটা গাড়ি করে মণ্ডল পৌঁছে গেলাম মাত্র ২৭কিমি পথ। 

মণ্ডল থেকে  পায়ে হেঁটে পৌঁছে গেলাম অনুসূয়া গ্রামে। এখানে অনুসূয়া মায়ের মন্দিরকে ঘিরে এটি একটি ছোট্ট গ্রাম। 

অনুসুয়াতে রাত কাটিয়ের সকালে বেড়িয়ে পড়লাম।

11th day----

একাদশ দিন অনুসূয়া-অত্রিমুনির আশ্রম-নওলা পাস -রুদ্রনাথ-১৬কিমি

একদিনে অনেকটা চড়াইপথে চলতে হবে।সেই কারণে দিনের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে পড়েছিলাম। অল্প অল্প চড়াইপথে পৌঁছে গেলাম ★অত্রিমুনির আশ্রমে। তারপরে ফেরার পথে সামান্য এগিয়ে ★বালখিল্য গঙ্গা পেরিয়ে ঘনবনের মাঝে শুরু  একটানা চড়াই পথ। হাটা পথে একসময় গাছপালা অনেক কমে

শুরু হল চারণভূমি। এরই মধ্যে দিয়ে চড়াই  পথে উঠে  পৌঁছে গেলাম★ রুদ্রনাথওয়ালা গিরিশিরার উপরে অবস্থিত নওলা পাসে। এখান থেকে নন্দাদেবী সমেত বহু শৃঙ্গমালা দেখা যায়। উত্তর-পূর্বদিকে গিরিশিরাটির গায়ে গায়ে পৌঁছে গেলাম ●●রুদ্রনাথ মন্দিরে। নির্জন পরিবেশে মন্দির। মহিষরূপী শিবের মস্তক অংশটি এখানে পূজিত হয়।

  [[ (4)=রুদ্রনাথ=7500 ft Hight5

পাঁচটি কেদারের মধ্যে সবচেয়ে দুর্গম রুদ্রনাথ। নিস্তব্ধ, নির্জন পরিবেশে এ জায়গাটির আকর্ষণই আলাদা। সন্ধ্যার আরতি দর্শন সে এক অপূর্ব রোমাঞ্চকর দর্শন যা সারাজীবন মনে থাকবে। ষাঁড়রূপী শিবের মস্তক অংশটি এখানে পূজিত হয়।  ]]

রাতটা বেশ আরামেই কাটলো।

12 the day---

দ্বাদশ দিন রুদ্রনাথ-পানার-টোলি-দুমক-২০কিমি

এদিনও অনেকটা পথ চলতে হবে। তাই ভোর ভোর হাঁটা শুরু করে পাহাড়ের ঢাল ধরে একইপথে উঠে গেলাম ★পিতুর ধার। এরপর উৎরাই পথে বুগিয়ালের মধ্য দিয়ে নেমে আসলাম★ পানার বুগিয়ালে। এখানে খাওয়া ও থাকার সামান্য ব্যবস্থা খুব সুন্দর। এখান থেকে দু’টি পথ। মূলপথটি নেমে যায় সাগরের দিকে। আমরা বাঁদিকে, অর্থাৎ উত্তরমুখী পথে নামতে শুরু করে অনেকটা পথ পেরিয়ে সরাসরি নেমে আসালা ★কালাপানি নালার ধারে। নালাটি পেরিয়ে আরও খানিকটা  পথ চলার পর পৌঁছে গেলাম ★দুমক গ্রামে।

দুমকে রাত কাটিয়ে  ভোরেই বেরিয়ে পড়লাম।

13 th day----

ত্রয়োদশ দিন দুমক -কালগোট -উর্বশী পাস -দেবগ্রাম ---------20 কিমি।

এই পথে ওঠানামা পথ ধরে হাঁটা। পরের গ্রাম ★কালগোট থেকে একটা পথ চলে যায় বংশীনারায়ণ অভিমুখে। আমরা  চললাম পূর্বমুখী পথে★ উর্গম উপত্যকা দিকে। সারাদিনে অনেকটা ওঠানামা পথ পেরিয়ে উর্গমের মাঝে ★দেবগ্রাম পৌঁছে গেলাম।

দেবগ্রামে রাত্রি বাস।---

14 th day---

চতুর্দশ দিন দেবগ্রাম-কল্পেশ্বর-সালনা-হেলাং-11 কিমি

দেবগ্রাম থেকে সহজপথে থেকে এক কিলোমিটার দূরে কল্পগঙ্গার উপর পুল পেরিয়ে উঠে এগিয়ে গেলাম------●●● কল্পেশ্বর মন্দিরে। নদীর বামতটে একটা পাথরের নীচে অন্ধকারে এই মন্দির। মহাদেবের জটা অংশটি রয়েছে এখানে। দর্শনের পর একই পথে ফিরে গেলাম দেবগ্রামে। বাঁদিকে নদীর বামতটে দেখতে পেলাম এক সুন্দর ঝর্না। পৌঁছে গেলাম ★সালানা এই সালনা থেকে হেলাং গাড়িপথ। এই হেলাং-এ পৌঁছে শেষ হলো আমাদের পঞ্চকেদার পদযাত্রা।

(চামোলী-যোশীমঠ বাসরাস্তার উপর অবস্থিত হেলাং)

  [[ (5)=কল্পেশ্বর=7200 ft Hight

 কল্পগঙ্গা নদীর তীরে কল্পেশ্বর মন্দির। পাঁচটি কেদারের মধ্যে সবচেয়ে সহজ পথে পৌঁছানো যায়। নদীর বামতটে একটা  পাথরের নীচে অন্ধকারের মাঝে এই মন্দির। ষাঁড়রূপী মহাদেবের জটা অংশটি রয়েছে এখানে। ]]

হেলাং থেকে গাড়িপথে চামোলী হয়ে হরিদ্বার ফিরে আসলাম।

হরিদ্বার থেকে বাড়ি ফেরার ট্রেন ধরে ফিরলাম।----------4 নভেম্বর 1972 শনিবার।

              <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

==============================

এই ভ্রমণে আমরা একজন  পথপ্রদর্শক নিয়েই সম্পুর্ন ভ্রমণ করেছি। সেই কারণে একটু বেশি অর্থ খরচ হয়েছে বটে কিন্তু পথে কোন প্রকার অসুবিধা হয়নি, এবং সকল স্থান সমন্ধে খুব ভালো করে বুঝতে ও চিনতে পেরেছিলাম। 

যেমন আমরা খুব সহজেই তুঙ্গনাথ থেকে সরাসরি হাঁটাপথে মণ্ডলে নেমে আসতে পারেছিলাম। 

আমাদের গাইডএর নাম ওসি তামাং খুব ভালো বাংলা ও হিন্দি বলতে পারতো। এই ভ্রমণে পরে জানতে পেরেছিলাম যে আমাদের সাথে ভ্রমণের পরেই ও সরকারি চাকুরী পেয়ে গেছে।ও আইয়ে পাশ  দেখে ছিলাম ওর ভূগোলে জ্ঞান ভীষণ ভালো। স্বভাব ও খুব ভালো ছিলো। আমাদের ভ্রমণের কয়েকদিন পরেই তামাং আমার বাড়ির ল্যান্ড লাইনে ফোন করে আমাকে জানিয়ে ছিলো ওর চাকুরীতে যোগ দেবার সংবাদ।

            <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

====================================================

বিঃ দ্রঃ ------------জেনে রাখা ভালো =HIGHT  OF  THE  PLACES OF INTEREST  =====

হরিদ্বার-- হৃষীকেশ---রুদ্রপ্রয়াগ ও শোনপ্রয়াগ--- গৌরীকুণ্ড(উচ্চতা-1982মিটার),------------------------------ভীমবলী(উচ্চতা 2660 মিটার),-------------------লিনচোলী(উচ্চতা 3148মিটার),-----------------------------------কেদারনাথ(11755 ft Hight),-রাঁশি (1980মি)-----গৌণ্ডার (2070মি),খাডোরা (2020 মি)--------------------------নানু (2330মি)---মদমহেশ্বর (3490মি)--------------চোপতা (2500মি)-তুঙ্গনাথ  3549মি)----------------------চন্দ্রশীলা (3680মি)--চোপতা-মণ্ডল  (1568 মি)---অনুসূয়া (2195মি)---নওলা পাস ( 4200মি)------------------রুদ্রনাথ---------( 3557মি)----পানার (2286মি)----------- ---দুমক (2134 মি)-কালগোট (2073মি)-----------------উর্বশী পাস (3048মি)-দেবগ্রাম (2100মি)--------------কল্পেশ্বর=7200 ft Hight

            <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

=================================

 





No comments:

Post a Comment