77/1>|| পঞ্চকেদার::ট্রেকিং/ দর্শন=16Days ||---(1)
<---আদ্যনাথ--->
16 দিনের ভ্রমণ---part=(1)
প্রথম পর্ব-----
1972এ ভীষণ ভালোলাগার 16 দিন।
4 দিন ট্রেনে, 3 দিন টেক্সি বা জিপে 9 দিন ট্রেকিং বা পায় হেটে।
October 20 to 04 November 1972
20 অক্টোবর শুক্রুবার থেকে 4 নভেম্বর শনিবার 1972
এই শ্রেষ্ঠ ধার্মিক ট্রেক রুট গাড়োয়াল হিমালয়ের সবরকম প্রাকৃতিক বৈচিত্র মন্ডিত স্থান এবং এটি গাড়োয়াল হিমালয়ের সর্বপরিচিত এক ট্রেক রুট।
এই পঞ্চ কেদার অর্থাৎ
1>কেদারনাথ-
2>মদমহেশ্বর-
3>তুঙ্গনাথ-
4>রুদ্রনাথ-
5>কল্পেশ্বর
এই পঞ্চকেদার তীর্থস্থানগুলি সবই পায়ে হাঁটা পথে যেতে হয়। বছরভর প্রচণ্ড শীত থাকার জন্য নির্ধারিত 6 মাস নভেম্বর থেকে এপ্রিল মাসের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মন্দিরগুলি বন্ধ থাকে।আবার নির্ধারিত 6 মাস এপ্রিল মাসের শেষভাগ থেকে নভেম্বর মাসের প্রথম ভাগ পর্যন্ত এই মন্দিরটি খোলা থাকে।
হিমালয়ের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে আমাদের প্রকৃতি, ধার্মিক, পুরাণ আর ইতিহাসের বহু মূল্যবান চির-স্বরনীয় নানা কাহিনী। আর সেই কারণেই হিমালিকে বলা হয় দেবভূমি হিমালয়।
আমি মনে করি হিমালয় সমগ্র পৃথিবীর দেবভূমি।
এই হিমালয়ে আসলেই মনের শান্তি, হৃদয়ে নুতন ফুর্তি ও উৎসহ জাগে। নিজেকে নুতন করে খুঁজে পেতে হিমালয়ের অবদান অনস্বীকার্য। আমি বার বার বহুবার পৌঁছেছি হিমালয়ের এক অমোঘ আকর্ষণে আর প্রকৃতির টানে।
আজ চলেছি পঞ্চকেদার দর্শনে ,পথে যেতেযেতে কোথাও ট্রেকিংএর আনন্দ ও উপভোগ করবো এমনটাই চিন্তা আছে মনে।
পঞ্চকেদার কে ঘিরেই মহাভারতের এক বিশেষ সুন্দর গল্প আছে ।
গল্পটি এইরকম---
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে জয়লাভ করার জন্য পঞ্চপাণ্ডবকে হত্যা করতে হয়েছিল কৌরবদের। আসলে কিন্তু নানান সময়ে অনেক অন্যায় যুদ্ধেও ভাতৃ হত্যা ও ব্রাহ্মণ হত্যার মত গুরুতর পাপে বিদ্ধ হয়েছিল পঞ্চপাণ্ডব।
স্বজন হারানোর শোকে পাণ্ডব ভাইয়েরা নিজেদের মনের শান্তি হারিয়ে ফেললেন চিরতরে। রাজ্য পরিচালনার দায়িত্ব অন্যদের হাতে ছেড়ে পাঁচ ভাই বেড়িয়ে পড়লেন দেবাদিদেব মহাদেব-এর খোঁজে। উদ্দেশ্য তাঁর আশীর্বাদ নিয়ে কিছুটা হলেও মনের শান্তি ফিরে পাওয়া ও কিছুটা হলেও পাপের হাত থেকে একটু মুক্তি পাওয়া যাবে। এমন চিন্তায় তাঁরা পাঁচভাই প্রথমেই গেলেন শিবধাম কাশীতে। কারণ সেখানেই রয়েছে অসংখ্য শিব মন্দির।
সম্ভবত মহাদেব স্বয়ং সেই স্থানেই বাস করছেন।
কিন্তু এমন ভয়ঙ্কর পাপবিদ্ধ পঞ্চপাণ্ডবদের আশীর্বাদ তো দূরে থাক, দর্শন দিতেই গররাজী মহেশ্বর। কাশীতে শিবের দেখা না পেয়ে বিমর্ষ পঞ্চপাণ্ডব গেলেন গাড়োয়াল হিমালয়ে। সেখানে গুপ্তকাশীর কাছা কাছি তাঁরা দেখলেন প্রকাণ্ড এক ষাঁড় ঘুরে বেড়াচ্ছে। পঞ্চপাণ্ডবদের অন্যতম ভীম দর্শনমাত্র চিনে ফেললেন যে এই ষাঁড়ের ছদ্মবেশে লুকিয়ে আছেন স্বয়ং মহাদেব ! তড়িৎবেগে ছুটে গিয়ে ভীম ষাঁড়ের লেজ ও পেছনের পা জড়িয়ে ধরলেন। শিব তৎক্ষণাৎ অদৃশ্য হয়ে গেলেন। এমনি করে মহাদেব ষাঁড়ের ছদ্মবেশে নানা স্থানে পঞ্চপাণ্ডবদের দেখা দেন। পঞ্চপাণ্ডব এক এক স্থানে ষাঁড়ের এক এক অংশ ধরে আটকাবার চেষ্টা করে, কিন্তু মহাদেব কিছুতেই তাঁদের ধরা দেননি। এমনি করে পাঁচটি স্থানে ষাঁড়ের ছদ্মবেশে পঞ্চপাণ্ডবদের দেখা দিয়ে আবার অদৃশ্য হয়ে গিয়ে ছিলেন মহেশ্বর । কিন্তু প্রতিটি স্থানেই পঞ্চপাণ্ডব ষাঁড় রুপি মহাদেবকে বিভিন্ন অংশ ধরে রাখতে চেষ্টা করে ছিলেন। আর যে স্থানে যে অংশ ধরে ছিলেন সেই স্থানে সেই অংশ প্রতীক রূপে মহাদেব পূজিত হলেন।
প্রতিটি মন্দির ষাঁড় বা শিবের দেহের একটি অংশ দিয়ে চিহ্নিত হয়; তুঙ্গনাথকে সেই জায়গা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে যেখানে বাহু (হাত) দেখা গেছে;
হাম্প দেখা গেল কেদারনাথে ,মাথা হাজির রুদ্রনাথে, তার নাভি ও পেট ভেসে উঠল মধ্যমেশ্বর; এবং তার জটা (চুল বা লক) কল্পেশ্বরে।
পঞ্চপাণ্ডব যে যে স্থানে ষাঁড়ের যে যে অংশ ধরে ছিলেন সেই সেই স্থানে সেই সেই অংশ রূপে মহাদব পূজিত হলেন। অর্থাৎ খণ্ডবিখণ্ড অবস্থায় ছদ্মবেশে বিভিন্ন জায়গায় শিব পঞ্চপাণ্ডবদের দর্শন দেন ষাঁড়ের খন্ড খন্ড রূপে।
কেদারনাথে- ষাঁড়ের কুঁজ আবির্ভুত হয়।
তুঙ্গনাথে-- বাহুদ্বয়,
রুদ্রনাথে--- মস্তক,
মদমহেশ্বরে--নাভি ও পেট আবির্ভূত হয়।
মদমহেশ্বরে কল্পেশরে--চুল ও জটা।
এই ভাবেই খণ্ডিতহয়ে মহাদেব রুপি ষাঁড়ের বিভিন্ন অংশ ছড়িয়ে পড়েছিল এই পাঁচটি জায়গায়। এরপর পাণ্ডব ভাইয়েরা সেই পাঁচ জায়গাতেই শিবের মন্দির স্থাপন ও পুজা করে ছিলেন। যা এখন পঞ্চ কেদার নামে তীর্থস্থান হিসেবে সুপরিচিত। বহু যুগ যুগ ধরে এই সব মন্দির দর্শনের উদ্দেশ্যে মানুষের ভিড় দিনকে দিন বেড়েই চলেছে।
<---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী-->
=========================
No comments:
Post a Comment