69>মিশর ভ্রমন;:সম্পূর্ণ--অল্পকথায়।
31March 2019 to 08 April 2019.
মিশর ভ্রমন অর্থাৎ আমার এক স্বপ্নের দেশ ভ্রমন।
কলকাতার জাদুঘরে দেখেছিলাম মমি,
আবার সেই মমির দেশ, আমার বহু কাঙ্খিত একটি দেশ,স্কুলে বই পড়েই
জেনেছিলাম অনেক কিছু।
আর সেই দেশে যে পৌঁছব সেটা ভাবতেই পারিনি। ভাবতে পারিনি সেই মমি পিরামিড সকল কিছু নিজের চোখে দেখবো।
আজ সেই ভূগোলের পড়ার বিষয় গুলি চাক্ষুস দেখে বার বার রোমাঞ্চি ও শিহরিত হচ্ছিলাম, আর সেই মমির দেশকে চাক্ষুস দেখে কিজে আনন্দ উপভোগ করলাম সেকথা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না।
মিশর দেশটি সম্পুর্ন মরুভূমির দেশ।
আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে অবস্থিত মিশরের সীমানা--
মিশরের পশ্চিমে লিবিয়া, উত্তর-পূর্বে গাজা উপত্যকা এবং দক্ষিণে সুদানের সঙ্গে সীমানা রয়ছে।
সরকারীভাবে মিশর আরব প্রজাতন্ত্র নামে পরিচিত।
মিশর আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিম কোণ থেকে বিস্তৃত এশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে।
এহেন ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে, মিশরকে একটি আন্তঃমহাদেশীয় দেশ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
মিশর 1963 সাল থেকে আফ্রিকান ইউনিয়নের সদস্য।
ইজিপিটি পৃথিবীর প্রথম দিকের দেশগুলির মধ্যে একটি।
মিশর ভূমধ্যসাগর দ্বারা ইউরোপ থেকে বিচ্ছিন্ন।
ভৌগলিক দিক থেকে মিশর আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে অবস্থিত। এর উত্তরে ভূমধ্যসাগর, পূর্বে ইজরাইল ও লোহিতসাগর,
দক্ষিণে সুদান, এবং পশ্চিমে লিবিয়া।
মিশরের গড়ে ওঠা মূলত নীলনদ কে কেন্দ্র করে।
লোকালয় গুলি গড়ে উঠেছে নীলনদের দুইকুলে। ভূগোলে পড়েছিলাম মিশরকে নীলনদের দান বলা হয়।
ক্রুজে করে নীলনদের ওপর দিয়ে ভ্রমণ করার সময় দেখেই বোঝা যায় যে দুই পারের লোকালয় গুলি নীলনদের পলিমাটিতেই সমৃদ্ধ।
এটা সহজেই বুঝতে পারলাম যে এই নীলনদ না থাকলে মিশরের অস্তিত্ত্বই কঠিন হতো,অথবা অস্তিত্ব হথাকতোইনা বোধহয়।
কারন এমন উষ্ণ শুষ্ক মরু অঞ্চলে কোন মানুষই বাস করতে পারতো না।
এই নীলনদের ওপরে কতগুলি বাঁধ
যেমন আসোয়ান, এয়াসিয়ুট প্রভৃতি বাঁধ দিয়ে সারা বৎসরের জল সঞ্চিত রেখে সমগ্র মিশরে সুন্দর ভাবে সেচের ব্যবস্থা করেছে, এবং সারা বৎসর প্রচুর কৃষি সম্পদ ফল মূল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।
এই মিশরের উত্তরের ভূমধ্য সাগর ও পূর্বের লোহিত সাগরের মধ্যে যোগসূত্র হল
সুয়েজ খাল। যে খাল ইউরোপ, আফ্রিকা, ও এশিয়া সংযোগ কারক।
=============
31March 2019
অনির্বিদের ব্যবস্থা পনায় আমরা 22জনের এক দল চলেছি মিশর ভ্রমণে।
আমাদের প্লেন কলকাতা নেতাজি আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে 31শে মার্চ 2019 এর ভোর রাত্রি 4.20 মিনিটে
রওনা দিলো, প্রথমে পৌঁছলাম আবুধাবি বিমান বন্দরে( সকাল 9টা 20 মিনিট)
তারপরে আবুধাবি থেকে পৌঁছলাম কায়রো বিমান বন্দরে(বেলা 11টা 55মিনিট) আমরা নামলাম।
সময় হিসাবে মিশর মিশর সাড়ে তিন ঘন্টা
পিছিয়ে ভারত থেকে।
ওখানে লোকাল অভিজ্ঞ গাইডের ব্যবস্থা করা ছিলো , সকল স্থান ও ঘটনা বিস্তারিত বুঝিয়ে দেবার জন্য।
===================
The important sights to see::--
Giza Necropolis, Valley of Kings,
Great Sphinx of Giza, The Egyption Museum, Karnak, Abu Simbel Temple, Luxor Temple, Philae,
Khanel- Khalili, etc.
========================
আমরা উঠলাম হোটেল গ্র্যান্ড নীল টাওয়ারে। নীলনদের পাড়ে।
সিঁড়ি দিয়ে নামে আসলাম নীলনদের জলের ধারে। প্রথমেই নীলনদের জল হাতে নিলাম।
নীলনদের জল ছোঁয়ার সাথে সাথে এক অদ্ভুত রোমান্টিক অনুভূতিতে মন ভরে গেল।
সমগ্র মিশর এই নীলনদের দান, আর সেই জলের প্রথম হাত ডোবালাম। এক অদ্ভুত অনুভূতি।
খাওয়া দাওয়া সেরে বিকেলে গেলাম গিজার পিরামিড দেখতে।
দেখলাম খুফু,খেফরেন ও মেনকাউরের প্রধান তিনটি পিরামিড।
দুটি বেশ বড়ো এবং একটি ছোট পিরামিড।
সন্ধে হতেই বেশ ঠান্ডা অনুভব হচ্ছিলো।
সন্ধ্যায় লাইট এন্ড সাউন্ড এর প্রদর্শনী দেখার জন্য টিকিট কাটার সময় পাশেই কম্বল ভাড়া পাওয়া যাচ্ছিলো।
আমরা সকলেই একেকটা কম্বল নিয়ে চেয়ারে বসলাম "লাইট এন্ড সাউন্ড" পোগ্রাম দেখার জন্য।
এই লাইট এন্ড সাউন্ড পোগ্রামে প্রাচীন যুগ থেকেই মিশরের ইতিহাস খুব সুন্দর ভাবে বর্ননা করেছে আলো প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে।
পুরো শোতে বক্তা ইংরেজিতেই ব্যাখ্যা করছিলেন। ব্যাপারটা বেশ ভালো লাগলো।
প্রথম দিনের পোগ্রাম এখানেই শেষ হলো, তারপরে ফিরে এলাম হোটেলে।
1st April 2019
সকালে এই হোটেল হোটেল গ্র্যান্ড নীল টাওয়ার ছেড়ে দিয়ের আমাদের নির্ধারিত টুরিস্ট বসে করে বেরিয়ে পড়লাম।
প্রথমে গেলাম "সালাহ-এল-দিন" মসজিদে, সেখান থেকে সিটাডেল
" মহম্মদ আলীর মসজিদ" ,
দেখলাম " সুলতান হাসান মসজিদ।"
তারপরে মধ্যান্ন ভোজন।
মধ্যান্ন ভোজনের পরে পৌঁছলাম কায়রো বিমান বন্দরে। এখন আমাদের গন্তব্য আসোয়ান। বিমানে দের ঘন্টার উড়ান।
আসোয়ান পৌঁছে নির্দিষ্ট টুরিস্ট বাসে করে গেলাম "ফিলাটের টেম্পেলে"
এখানেও " লাইট এন্ড সাউন্ড" পোগ্রাম দেখে আবার আমাদের পৌঁছে দিলো নীল নদের তীরে। সেখান থেকে ছোট ছোট মোটর বোটে করে নীল নদের মাঝে একটি দ্বীপে। এখনকার মন্দিরটি নাকি বহুদিন
সম্পূর্ন জলমগ্ন ছিল। পরে এই মন্দিরটিকে তুলে উঁচু জায়গাতে বসানো হয়েছে।
মৃত্যর দেবতা ওসিরিসের স্ত্রী আইসিস এবং তাঁদের ছেলে হোরাস এখানকার দেবতা। " লাইট এন্ড সাউন্ড" পোগ্রামে মন্দিরের ইতিহাস খুব ভালো ভাবে বর্ননা করেছে।
এরবপরে আমরা পৌঁছে গেলাম বিখ্যাত ও অনেক কাঙ্খিত নীলনদের ক্রুজে।
ক্রুজ টির নাম "Nile Ruby" ।
এই ক্রুজে আমাদের তিন দিনের ভ্রমন সাথী।
নীল নদ পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী(6650 km)
এহেন ক্রুজে বা চার তলা জাহাজে তিনদিন থাকা খাওযার সুন্দর ব্যবস্থা সাথে ছাদের ওপরে সুইমিং পুলের আনন্দই আলাদা অভিজ্ঞতা।
চার তলা জাহাজটির এক তলায় ডাইনিং হল। দোতলা ও তিনতলায় যাত্রীদের থাকার ব্যবস্থা সহ কিছু দোকানও আছে।
আর চার তলায় সুইমিং পুল, সাথে বসে আড্ডা মারার জায়গা , সাথে চা কফির ব্যবস্থা।
ছাদে বসে নদীর দুই কুলের সৌন্দর্য অপূর্ব উপভোগ করার মতন।
2nd April 2019::---
সকালের ব্রেকফাস্ট সেরে গেলাম "ফিলাটের টেম্পেলে"।
খ্রীষ্টপূর্ব ৪র্থ শতকের শেষ ফারাওরা এই টেম্পেল তৈরি শুরু করেছিলেন।
আজ দ্বিতীয় বার দেখলাম টেম্পেল টি
দিনের আলোয় ।
গত রাত্রে লাইটের আলোতে দেখা ও আজকের দিনের আলোতে দেখার মজাই আলাদা।
কারন আজ সকল স্ট্যাচু গুলি ও দেওয়ালের মূর্তি গুলি সুন্দর ভাবে দেখতে পেলাম।
এই ভাবে আমাদের ক্রুজ এগিয়ে গেল
হাই ড্যামে।
এই ড্যাম টি 1964 সালে তৈরি হয়েছে।
দুইমাইল দৈর্ঘ্যের ড্যামের ওপরে প্রশস্ত রাজপথ ।
এই বাঁধের উপর থেকে দেখলে দেখা যাবে নদীর একদিকে অবরুদ্ধ নদীর জল,অন্যদিকে লেক নাসের-এর জল মিশর অতিক্রম করে সুদানের মধ্যে চলে গেছে।
এবার আমরা কিছু সময়ের জন্য নামলাম জাহাজ থেকে । চললাম নুবিয়ান আদিবাসী দের আবাসস্থলে , সেখানে দেখলাম ওদের জজীবন যাত্রার প্রণালী।
এই নুবিয়ান দের উপজীবিকা মূলত ফালুকা চালক( এক বিশেষ ধরনের পালতোলা নৌকা) ।
আমাদের গাইড এক নুবিয়ানের বাড়িতে নিয়ে গেলেন ।
ওদের আচার ব্যবহার জীবন যাত্রা দেখবার উদ্যেশে।
নুবিয়ানদের তৈরি বিষয়ে স্পেশাল চা ও
কিছু খাবার দিলো আমাদের খেতে।
এখানে দেখলাম সকল বাড়িতেই কুমির পোষে।
কারন কুমির ওদের শুভ ও ওরা কুমিরের পুজো করে।
এবার আবার আমাদের জাহাজ এগিয়ে চললো পথে এক জায়গাতে জাহাজ টি কিছুক্ষনের জন্য থামলো। গাইড আমরাদের নিয়ে গেল " কম-অম্বো" মন্দিরে। এই মন্দিরটি একটি পাহাড়ের উপরে বেশ ভাঙা চোরা মন্দির।
এখাকার দেবতা বাজমুখো হারোরিস
(হোরাস মানে বালসূর্য) এবং কুমির রুপি দেবতা সাবেক (এঁকে সাক্ষাৎ ফারাও-এর ভাবমূর্তি বলা হতো)।
3rd April 2019::---
ভোর সাড়ে পাঁচটায় জাহাজ থামলো।
আমরা সকলে গেলাম "এডফুর হরাস টেম্পেলে ।
জাহাজ থেকে নেমে ঘোড়ার গাড়ী করে শহরের মধ্য দিয়ে বেশ খানিকটা যাবার পরে খানিকটা হাটা পথে পৌঁছলাম।
সরু গলি,দুইদিকে সারি সারি দোকান।
এত ভরেও দেখলাম দোকান গুলিতে বেশ ভালোই বিক্রি হচ্ছে।
দোকান গুলি পর করে একটু ফাঁকা জায়গা ,তার পরেই এডফু মন্দির।
পুরো মন্দির টাই নাকি বলি চাপা পড়েছিল।বলি সরিয়ে এই মন্দির পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
দেখানে দেবতা বাজপাখীর মতন।
মন্দির দেখে আবার ঘোড়া গাড়ী করে ফিরে গেলাম জাহাজে।
জাহাজ কিছু দূর যাবার পরে আবার দাঁড়িয়ে পড়লো। এসনা ড্যাম লক গেট।
এখানে দুটি গেট আছে , এই গেট দুটি খোলা ও বন্ধের মাধ্যমে জলতল
উপরে - নীচে করে জাহাজ গুলি পর করার ব্যবস্থ্যা করে।
একটু দূরেই দেখলাম এসনা বাঁধ।
এর পরে আমাদের জাহাজ চললো
লাকসারের দিকে।
লাকসারে পৌঁছে বসে করে গেলাম কার্নাক টেম্পেলে যে টেম্পেলটি মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয়েছে।
বিরাট এক মাঠের মধ্যদিয়ে আমরা মন্দিরে পৌঁছলাম। সামনে এক বিরাট তোরণ তার দুইদিকে সারি সারি ভেড়া মুখো স্ফীনসের মূর্তি।
দেখলাম তিনটি ওবেলিসক যে গুলি
চতুষ্কোণ স্তম্ভ উপরের দিকে ক্রমশঃ সরু ।
টেম্পেলে ছাদ ছিলো না, শুদু দেওয়াল স্তম্ভ আছে।
টেম্পেলে পিছনের পুকুরে সুন্দর জল।
কার্নাক টেম্পেল থেকে বেরিয়ে গেলাম লাকসার টেম্পেলে। এই লাকসারের টেম্পেলে আছেন দেবতা আমনরা-সঙ্গে তার স্ত্রী মাট এবং তাদের ছেলে খনসুর।
কার্নাক টেম্পেলে বিশেষতা এখানে ছিল নীলোমিটার।
যে মিটারের সাহায্যে নীল নদের জল বাড়া কমা নির্ভর করে চাষীদের খাজনা দিতে হতো।
4th April 2019::--
HOT BELUN---+
4th April ভোর বেলা 4.30 মি গাড়ি করে নিয়ে গেল লাকসারের "হট বেলুন রাইড"
এর স্থানে।
প্রায় 45 মিনিট বেলুনচড়ে লাকসার শহর
ও নীলনদের দুই তীর ঘুরে দেখলাম।
---//-----------
এর পরে গেলাম " ভ্যালি অফ দি কিংস"।
এখানে পাহাড়ের নীচে সুড়ঙ্গ পথে
ভু-গর্ভস্থ কক্ষে মমি রাখা আছে।
এখানে এখন পর্যন্ত চৌষট্টি টি সমাধি পাওয়া গেছে।
একমাত্র টুটেনখামেনের সমাধি ব্যতীত সকল সমাধির মৃতদেহ চুরি হয়ে গেছে।
টুটেনখামেনের মমি মিউজিয়ামে রাখা আছে।
আমরা ককেকটি সমাধি সুড়ঙ্গে নেমে দেখেছি। দেখেছি সম্পুর্ন দেওয়ালে ও ছাদে নানান রঙিন চিত্র ও মিশরীয় লিপিতে পরি পূর্ন। গাইড বললেন ওই চিত্রের সাথে নানান মন্ত্রও লেখা আছে মিশরীয় লিপিতে।
তারপরে গেলাম ভেলি অফ দি কিংসের পূর্ব দিকে একটু দূরে রানী হাটসেপসুটের
টেম্পেল।
এই টেম্পেলটি ও মাটির নিচে চাপা পড়েছিল। সারি সারি এক মাপের থামের উপরে বসানো ছাদ( কলোনাড)।
ডেইর-আল-বাহারি র টেম্পেল মিশরের
অন্যতম প্রধান বিস্ময়।
এখানে পথে দেখলাম নানান পাথরের তৈরি বিভিন্ন জিনিষের দোকান।
এর পরে আমরা গেলাম "বানানা আইসল্যান্ডে" সেই ফালুকা( নৌকার)য় চড়ে।
ফালুকা বড়বড় সুন্দর পাল লাগানো ( নৌকা) ।
সন্ধ্যায় জাহাজে ফিরে মালপত্র গুছিয়ে নিয়ে ক্রুজকে বিদায় জানিয়ে বসে করে লাকসার ভ্রমণ করে লাকসার বিমান বন্দরে পৌঁছলাম। লাকসার থেকে বিমানে কায়রো এক ঘন্টার উড়ান।
আমরা কায়রোতে পৌঁছে হোটেলে
" Mercury Cakri Le Sphinx" এতে উঠলাম।
5th April 2019::--
সকালে ব্রেকফাস্ট করে সারাদিন কায়রো শহর ঘুরে শহরের দ্রষ্টব্য স্থান গুলো দেখলাম।
পাথমে গেলাম গিজার পিরামিড,
দিনের বেলায় খুব ভালো করে দেখলাম পিরামিড। পিরামিডের ভিতরে যাবার সংকীর্ণ পথ , অনেকটা উপরে উঠে তারপরে সুড়ঙ্গে ঢুকতে হবে।
যা কিনা আমাদের বয়স্কদের দ্বারা অসম্ভব। তাই ছেলে মেয়েরা সবাই গেল ভিতরে দেখতে আমরা বাইরে র দৃশ্যে দেখেই সন্তুট থাকলাম।
অনেকেই উটের পিঠে চড়ে বালিয়াড়ি পর করে পিরামিডের কাছে থেকে দেখে আসলো।
দেখলাম বিখ্যাত স্ফীনসের সামনে থেকে।
তারপরে গেলাম ঝুলন্ত চার্চ
(Hanging Church) এটা মিশরের পুরোনো চার্চ গুলির একটি।
তারপরে "বেন-এজা-সিনাগগ"।
মিশরের মিউজিয়াম।
এখানে বিশেষ একটি ঘরে দেখলাম অনেক মমি রাখা আছে।
শুধু মানুষ নয় এ এক জীবজন্তুর ও
মমি করে রাখা আছে।
মিশরের বিখ্যাত প্যাপাইরাস-এর দোকান এবং নানা সুগন্ধির দোকান।
ফিরতি পথে " খান-এল-খলিল" বাজারে যাবার ইচ্ছা ছিলো, এই বাজার নাকি কেনাকাটার স্বর্গ রাজ্য। আমরা
দুরথেকেই দেখলাম বাজার।
কেনা কাটা করা হলো না। কারন ওখানে দেখলাম ভীষণ ভিড়।
ওই ভিড় ঠেলে বাজার দেখার ইচ্ছা হলোনা।
অতএব হোটেলেই ফিরলাম।
6th April 2019::--
সকালে গেলাম আলেকজান্দ্রিয়া কায়রো থেকে 230 কিমি দূরে, ভূমধ্যসাগরের দক্ষিণ উপকূলে।
এটি মিশরের পুরোনো একটি শহর।
খুব সুন্দর শহরটি সাজানো গোছানো।
গ্রীকরাজ আলেকজান্ডার 301 খ্রিস্টপূর্বে তৈরি করেছিলেন শহরটি।
দেখানে আছে রোমানদের সমাধিভূমি
ক্যাটাকম্ব কোম ( মাটির তলায় তিন তলার চার্চ)। চার্চের সামনেই
সারকেফেগাস- কম-এল-সোকাফা
( Sarcofagaes-Kom-El-Shouqafa)
যেটি চতুর্থ শতকে নির্মিত।
পম্পেই পিলার (Pompei Pillar)
কম-এল-ডেক্কা সাইট ( Kom-El-Dekka site) দেখলাম।
তারপরে হোটেলে নানান প্রমার সী-ফুড
খেলাম।( শামুক, ঝিনুক, অক্টোপাস, আরও নানান সব গুলোর নামও ভালোকরে জানানাই।
ভূমধ্যসাগরের উপমূলে নানান দোকান দেখতে দেখতে চা খেলাম।
সমুদ্র প্রান্তে ক্যাটবে সিটাবেল দুর্গ দেখলাম।
তারপরে গেলাম পৃথিবী বিখ্যাত
বিবলিওথিকা লাইব্রেরীতে
( আলেকজান্দ্রিয়া)।
এখানে আনুমানিক দশ লক্ষ বই আছে।
এক বা দুই দিনে সমগ্র লাইব্রেরী ঘুরে দেখা সম্ভম নয়।
7th April 2019:--সকালে আমাদের স্বপ্নের মিশরকে চাক্ষুস দেখা শেষ করে
বাড়ি ফেরার জন্য কায়রো এয়ার পোর্টে এসে পৌঁছলাম।
কায়রো থেমে বিমানে আবুধাবি বিমান বন্দর। আবুধাবি থেকে দমদম বিমান বন্দর।
========================
No comments:
Post a Comment