78>|| ভ্রমন ও ট্রেকিং----- ফ্লাওয়ার ভেলি ও হেমকুন্ড সাহিবা।(1970)
কলেজে পড়ার সময় কয়েকবার উত্তরাখণ্ডের গাড়োয়াল অঞ্চলের নানা স্থানে ঘুরে বেরিয়েছি। গাড়োয়াল অঞ্চলের মধ্যে জোশীমঠ,বদ্রিনাথ মঠ, ফ্লাওয়ার ভেলি ও হেমকুন্ড সাহিবা এইসকল জায়গার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য জীবনে ভুলবার নয়।
Valley of flowers | কিছু জানবার বিষয়।
ফ্লওয়ার ভেলির ট্রেকিং শুরু হয় গোবিন্দ ঘাট নামক ছোট্ট একটি গ্রাম থেকে।
এই গোবিন্দ ঘাট জোশী মঠ থেকে 22 কিমি বদ্রিনাথ ঋষিকেশ হাইওয়েতে।
কিন্তু প্রকৃত কক্ষে আসল ট্রেকিং শুরু হয়
পুলনা থেকে।যেটি গোবিন্দ ঘাট থেকে 4 কিমি, গাড়িতে 20 মিনিটের পথ।
আবার এই পুলনা থেকে পাকা পথে
( by paved trail ) 9 কিমি
ঘঙ্গারিয়ায় একটি ছোট বিশ্রামের জায়গা
এখানে কিছু দোকান ও আছে যেখানে প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই পাওয়া যায়।
★★ ট্রেকিং এর সময় সঙ্গে জল রাখতে হবে ঠিক মতন। নয়তো পথে জলের প্রচুর দাম। কখনো ₹ 70 টাকা লিটারেও পাওয়া মুশকিল হয়ে।
★★এই ঘঙ্গারিয়ায় থেকে দুটি রাস্থা দুই দিকে গেছে।
একটি রাস্থা ফ্লাওয়ার ভেলির দিকে গেছে,
আর একটি রাস্থা হেমকুন্ড সাহিবার দিকে।
ঘঙ্গারিয়ায় থেকে হেমকুন্ড সহিবা পথে ট্রেকিং করতে হয় 8 কিমি পথ।
এর মধ্যে কোন কোন জায়গাতে কিছু সিঁড়ি আছে বাকি পথ ট্রেকিং করেই যেতে
হয়।
ভারতের উত্তরাখণ্ডে গাড়োয়ালের কোলে ট্রেক রুটে জোশীমঠ থেকে ট্রেক করে নন্দাদেবী ন্যাশানাল পার্কে। অর্থাৎ যেটি "ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার" নামেই পরিচিত।
উত্তরাখণ্ডের 2600 মিটার উচ্চতায় অবস্থিত জনপ্রিয় হিল স্টেশন জোশীমঠ।
ধউলিগঙ্গা ও অলকানন্দার সঙ্গম স্থলে অবস্থিত জোশীমঠ। আগে জয়ত্রীমঠ নামে পরিচিত ছিল এই জোশীমঠ।
আদি গুরু শ্রী শংকরাচার্য এই অঞ্চলে চারটি মঠ খুঁজে পেয়েছিলেন। সেই থেকে এই জায়গার নাম হয় জয়ত্রীমঠ। আর আজ উত্তরাখণ্ডের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটক কেন্দ্র এই জয়ত্রীমঠ বা জোশীমঠ।
★বদ্রিনাথ মঠ থেকে জোশীমঠ মাত্র
46 কিলোমিটার । শীতে যখন বদ্রিনাথের মন্দিরের দ্বার বন্ধ হয়ে যায়, তখন বদ্রীবিনাথের বিগ্রহ পূজিত হন জোশীমঠের বাসুদেব মন্দিরে।
এই নন্দাদেবী ন্যাশানাল পার্ক ট্রেকিং রুটের তিনটি বেস ক্যাম্প
★প্রথম বেসক্যাম্প জোশীমঠ।
এখানে এই উপত্যকায় বসন্তে ফুলের
সমারোহ দেখার মতন। এই উপত্যকা ‘ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার’ নামেই বিশেষ পরিচিত।
আর সেই ফুলের সমারহ দেখতে মানুষ ছুটে আসে এখানে এই ট্রেকিং রুটে। এখানকার দয়রা বুগিয়াল, চেনাব লেক, তপোবন, বিষ্ণুপ্রয়াগ, বদ্রিনাথ ও হেমকুন্ডের রুটে ট্রেক করার মজাই আলাদা, আমরা জোশীমঠে একরাত কাটিয়ে শুরু করেছিলাম ট্রেকিং
উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার দক্ষিণে অবস্থিত এই নন্দাদেবী ন্যাশানাল পার্ক।
জোশীমঠ থেকে যাত্রা শুরু করে আমাদের এই ট্রেক শেষ করতে সময় লাগেছিল 5 দিন ।
(4 দিনেই ট্রেকিং শেষ করা যায়, কিন্তু আমরা ফ্লাওয়ার ভেলিতে এক রাত বেশি থাকার জন্য আমাদের 5দিন লেগেছিল )
প্রথম বেসক্যাম্প জোশীমঠ থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ★দ্বিতীয় বেসক্যাম্প ★গোবিন্দঘাট। গোবিন্দঘাট যাওয়ার জন্য জোশীমঠে ট্যাক্সিও পাওয়া যাবে। তবে গোবিন্দঘাট থেকে 14কিলোমিটার ট্রেক করে পৌছাতে হয় ★তৃতীয়ও শেষবেসক্যাম্প ★ঘাঙ্গারিয়া।
আবার এই ঘাঙ্গারিয়া হল ★হেমকুন্ড সাহিবের প্রথম বেসক্যাম্প। হেমকুন্ড সাহিবে ট্রেক করার জন্য এখান থেকে
এই ঘাঙ্গারিয়া থেকে যাত্রা শুরু করতে হয়। ঘঙ্গারিয়ায় একটা রাত কাটানোর পর আবার যাত্রা শুরু। এর পরবর্তী 8 (আট )থেকে 10 কিলোমিটার পথে হিমালয়ের নৈসর্গিক সুন্দর দৃশ্যের, যে সৌন্দর্য সারা জীবন স্মরণে থেকে।
যদি বসন্তে এই ফুলের উপত্যকায়
মখমলের মতন কচি সবুজ ঘাসের সমাহার। এখানে ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে বরফ গলতে শুরু করে। আর তার মাঝ থেকে মাথা চারা দিয়ে ওঠে নতুন সবুজ আর রাত সথে নানান ফুলের সৌন্দর্য
দেখে মনে হবে কেউ যেন সবুজ কার্পেট বিছিয়ে দিয়ে গেছে হিমালয়ের কোলে। এরই মাঝেই ধরা দেবে নাম না জানা বহু রঙ-বেরঙের ফুল। আর দূরে দেখা যায় গ্লেসিয়ার। এই ফুলের উপত্যকায় দেখতে পাওয়া যায় নানান পশু ও পাখি। আর সেই কারণেই এই উপত্যকা পক্ষীপ্রেমীদের জন্যও স্বর্গোদ্যান।
ফুলের উপত্যকায় আমরা টেন্টে
রাত কাটিয়ে পরের দিন ফিরে আসেছিলাম ঘাঙ্গারিয়ায়। তারপর পরের দিন নেমে আসেছিলাম জোশীমঠে।
জীবনে অনেক পাহাড়, পর্বত সমুদ্র ঘুরেছি। দেশ বিদেশে বহু জায়গা ঘুরেছি।
কিন্তু অবিস্মরণীয় সেই ট্রেকিং রুট
"ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার" এর ট্রেকিংকে
আজ 2022 অর্থাৎ 50/ 52 বৎসর আগের সেই ট্রেকিং কে আজও ভুলতে পারিনি।
<--আদ্যনাথ রায় চৌধুরী-->
========================
Hemkund Sahib Valley of flower
প্রাকৃতিক ঝর্ণায় ভরপুর সবুজ পাহাড় পার হওয়ার পর নানান বর্নময় ও অলঙ্কৃত বিশেষ সময়ের প্রাণিকুল ও ফুলের সমারহ। এমন পথে পাঁচ ঘণ্টা ট্রেকিং করে আমরা পৌঁছে ছিলাম হেমকুন্ড সাহেবায়।
এমন জায়গাতে পৌঁছে আমি অনুভব করলাম এমন আশ্চর্য কর স্থান
যা সত্যিই বিস্ময়কর এবং ঈশ্বরের অলৌকিক ঘটনাকে চিত্রিত করে।
এটা সেই বিস্ময়কর জায়গা যেখানে আকাশের সাথে মাটির মিলন মনে হয়, দুটোই এক মনে হয়।
ঘাঙ্গারিয়া থেকে হেমকুন্ড সাহিব 7km
হেমকুন্ড সাহিবাতে যাবার জন্য ঘাঙ্গারিয়া থেকেই যাত্রা শুরু করতে হয়।
এই ঘাঙ্গারিয়ায় সবরকম সুবিধা সহ অনেক হোটেল আছে।
হেমকুন্ড সাহিবা একটি প্রসিদ্ধ গুরুদ্বার
এখানে খাবার ও থাকবার ব্যবস্থা আছে।
তবে এই গুরুদ্বার বিকেল 2:00 PM
এতে বন্ধ হয়। বন্ধ হবার পরে আর কাউকে কোন ভাবেই প্রবেশ করতে দেয় না।
এই ট্রেকিং পথে খুব সাবধানের চলতে হয়
মোটা মুটি ঘন্টায় এক কিলোমিটার পথ চলতে পারা যায়। সিঁড়ি দিয়ে উঠবার সময় মনে হয় স্বর্গের সিঁড়ি বেয়ে চলেছি।
অনেক উচ্চতার কারনে স্বাস নিতে একটু কষ্ট হয়। সেই কারণে খুব ধীরে সুস্থ্যে চড়াই চড়তে হয়।
এই ট্রেকিং পথে সাহস ও মনের জোরই শ্রেষ্ঠ পাথেয়।
এখানে 60 বসরের বেশি বয়সের ও 10 বছরের নীচে কাউকে যাবার অনুমতি দেয়া না। উত্তরকাশী থেকেই অনুমতি পত্র গ্রহণ করতে হয়।
হেমকুন্ড সাহিবাতে পৌঁছে দেখলাম এক সুন্দর স্বচ্ছ জলের পুকুর।
প্রচন্ড ঠান্ডায় ও এখানে কিছু মানুষ এই পুকুরে স্নান করছে।
হেমকুন্ড সাহিব বিশেষ রূপে একই গুরুদ্বার। এটি একটি শিখ সম্প্রদায়ের
ধর্মীয় স্থান উত্তরা খণ্ডের চামলি জেলায়।
শিখগুরু গোবিন্দ সিং(1666–1708) এই স্থানে একটি গুরুদ্বার প্রতিষ্ঠা করেছেন।
গোবিন্দ সিং দশম শিখ গুরু।
এখানে আছে একটি হ্রদ যেটি সাতটি
পর্বতশৃঙ্গ দ্বারা বেষ্টিত।
এই হ্রদ টি একটি হিমবাহ দ্বারা সৃষ্টি হ্রদ ।
সাতটি পাহাড়ের চূড়াতেই গুরু গ্রন্থ সাহেবের একটি করে নিশানা আছে।
হেমকুন্ড অর্থাৎ "লেক অফ শ্নো"বরফের কুন্ড / বরফের লেক। বরফে আবৃত পাহাড়ের মাঝে ঝিল।পৃথির সবথেকে উঁচু তে অবস্থিত গুরুদ্বারা সমুদ্র তল থেকে 4633 মিটার উঁচুতে এই গুরুদ্বারা। হেমকুন্ড সাহিব গুরুদ্বারের নিকট আছে কিছু ঝর্ণা, হিমালয়ের মনোরম দৃশ্য, এবং ঘনজনহল । গুরু গোবিন্দ সিং এর জীবনীতেই জানাজায় সাত পাহাড়ের মাঝে এই ঝিলের পারে অবস্তিত গুরুদ্বার।
এখানে আছে কাগভূসন্ডি ঝিল।
এখানে ফুলের সমারহের সাথেএই রাষ্ট্রীয় উদ্যানটি 2005 সালে ইউনেস্কো দ্বারা বিশ্ব পর্যটনে সম্মিলিত হয়।
এই ফ্লাওয়ার অফ ভেলির আগে এটির নাম ছিল ভূইন্দ্র ঘাঁটি পরে ব্রিটিশ
পর্যটক ও পর্বতারোহী ফ্রাঙ্ক স্মাইথ 1931 সালে এই জায়গার "ফ্লাওয়ার অফ ভেলি" নামকরণ করেন।
এই হেমকুন্ড সাহিব গুরুদ্বারের নিকটে দর্শনীয় স্থান গুলি ডিভাইন আয়ুর্বেদিক স্পা এর তপবন।
শিবানন্দ আশ্রম তথা পরমার্থ নিকেতন যেটি রাম ঝুলার কাছে এক কিলোমিটার দূরে ।
এখানকার ভীম পুল প্রায় 14 কিলোমিটার দূরে মনগাঁও নামক স্থানে বদ্রিনারায়নের কআছে অবস্তিত।
হেমকুন্ড সাহিবার লঙ্গর খানা ও অতি প্রসিদ্ধ। এখানকার উল্লেখ যোগ্য ব্যঞ্জন গুলি যেমন:;---
ভাঙের চাটনি, গারোয়ালের ফন্না, ফানু, বড়ী, কন্ডলীর শাক, চুঁসু, কুমৌনি রায়তা, ঝংগোড়ার ক্ষির, গুলগুলা,অর্সা, সিংগোরি, আলুর ঝোল, ইত্যাদি।
হেমকুন্ড যাত্রার জন্য ভাল সময়
হল মে থেকে অক্টোবরের মধ্যে। তথাপি
মাঝে মাঝে বৃষ্টি হতেই পারে মনসুনের কারণে।
হেমকুন্ড সাহিবাতে পৌঁছবার জন্য অতি সুন্দর সড়ক পথ আছে।
জোশীমাঠের জন্য হারিদ্বার ও দেরাদুন দুই শহরেরই নিজেস্ব রাষ্ট্রীয় পরিবহন সুন্দর ব্যবস্থা আছে।
যেগুলি জোশীমাঠের উদ্যেশে সকালে খুব তাড়াতাড়ি রওনা দিয়ে 9--11ঘন্টা সময় নিয়ে পৌঁছে যায়।
জোশীমাঠ থেকে টেক্সিও পাওয়া যায় যেগুলি গোবিন্দ ঘাট পর্যন্ত যায়।
গুরুদ্বার হেমকুন্ড সাহিবা::--সমুদ্র তল থেকে উচ্চতা 4,632 মিটার বা 15,197 ফুট। গারোয়সল হিমেলের চামলি জেলায় অবস্থিত বিশ্বের সর্বোচ্চ স্থানে গুরুদ্বার। এখানকার ভেলি অফ ফ্লাওয়ারে দেখতে পাওয়া যায় নানান জাতির নানা বর্ণের খুব সুন্দর সব ফুল। ব্রহ্ম কমল, নীল পপি, কোবরা লিলি, অ্যানিমোন, জেরানিয়াম, মার্শ গাঁদা ফুল , নানান রঙের গোলাপ,Prinula গোলাপ, নানা প্রকারের ঔষধি গাছ,বেশ কিছু ঝর্ণা ও নানান প্রকারের হিংস্র জন্তু যেমন হিমালয়ের কালো ভাল্লুক, ব্রাউন বিয়ার,শ্নো লেপার্ড, লাল ফক্স, হিমালযান থর, মস্ক হরিণ, মোনাল, সুউচ্চ মাউন্টেন, প্রচন্ড বেগ বাহি নদী।
এই ফ্লায়ার ভেলি 87.5 স্কয়ার কিলোমিটার এবং মোটামুটি 8 কি মি লম্বা এবং 2 কি মি চওড়া।
সম্পুর্ন ভেলি নানা প্রকার জীব বৈচিত্র্য পূর্ন। এটি বৃহত্তর হিমালয় ও জানস্কার রেঞ্জের ট্রানজিসন জোনের মধ্যে অবস্থিত।এই ফ্লাওয়ার ভেলি র সৌন্দর্য উপভোগ করবার উপযুক্ত সময় জুলাই আগস্টে
এই সময়ে প্রায় 300 প্রজাতির বন্য ফুল দেখতে পাওয়া যায়।
প্রত্যেক জায়গার জন্য এন্ট্রিফি লাগে।
এছাড়া ঘোড়া, খচ্চর, ডান্ডি, খণ্ডির জন্য প্রত্যেক জায়গাতে আলাদা আলাদা রেট।
========================
78>||ভ্রমন ও ট্রেকিং-----
ফ্লাওয়ার ভেলি ও হেমকুন্ড সাহিবা।
<---|| আদ্যনাথ ||--->
"ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার" এতে ট্রেকিং। অবিস্মরণীয় সেই ট্রেকিং রুট।
12 th JULY SUNDAY TO 21st JULY 1970 TUESDAY.
এবার আমাদের ট্রাকিং রুট:-----
ফ্লাওয়ার ভেলি ও হেমকুন্ড সাহিবা। মোট 10 দিনের টুর পোগ্রাম।
হাওড়া থেকে হারিদ্বার আপ এবং ডাউন 2+ 2=4 চার দিন।
হারিদ্বার থেকে ফ্লাওয়ার ভেলি ও হেমকুন্ড
যাতায়াতে মোট 6 ছয় দিন। অতএব 4 + 6 = 10 দশ দিন।( 1970)
১২ জুলাই ১৯৭০ হাওড়া থেকে রওনা দিয়ে দুই রাত্রি ও এক দিনে পৌঁছে গিয়েছিলাম হারিদ্বার।
দুইরাত্রি ও একদিন ট্রেনেই কাটলো
(Day 3rd )---- তৃতীয় দিন,-----
ষ্টেশান থেকে একটা গাড়ি ভাড়া করে পৌঁছে গিয়েছিলাম হারিদ্বার থেকে গোবিন্দ ঘাট,
290 কিমি 12 ঘন্টার পথ।
আমদের গাড়ি শ্রীনগর, রুদ্রপ্রয়াগ,চামলি,এবং জোশীমঠ হয়ে গোবিন্দ ঘাট পৌঁছলো। এই পথটি পাহাড়ি নদী আলোকানন্দার ধার দিয়ে । যেটি পরে গঙ্গা নামে প্রবাহিত হয়েছে। আমাদের গাড়ি পঞ্চপ্রয়াগ সঙ্গম হয়েই চলেছিল। এই পঞ্চপ্রয়াগ সঙ্গম হল দেবপ্রয়াগ, রুদ্রপ্রয়াগ,কর্নপ্রয়াগ,নন্দ প্রয়াগ, এবং বিষ্ণু প্রয়াগ। এখানে দেবপ্রয়াগে শহরে ভাগীরথী ও আলোকানন্দার সঙ্গম স্থল । আমরা সন্ধ্যার পরেই পৌঁছেছিলাম গোবিন্দ ঘটে। এই গোবিন্দ ঘাটের একটা হোটেলে ব্যবস্থা করে রাট কাটালাম।
রাত্রি বাস গোবিন্দ ঘটে।
(Day 4th)==চতুর্থ দিন,-----
সকালেই আমরা বেরিয়ে পড়লাম ট্রেকিং করে পৌঁছলাম ★পুলনা তে।4 কিমি ট্রেকিং পথ। সকালে উঠে হাতমুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে একটি জিপ ভাড়া করে বেরিয়ে পড়লাম গোবন্দ ঘাট থেকে পুলনার উদ্দেশে।আমরা কিন্তু পুলনা পৌঁছে শুরু করেছিলাম ট্রেকিং ঘঙ্গারিয়া গ্রামের উদ্দেশ্যে। 9কিমি ট্রেকিং এর পথ।নদীর ধার বরাবর পথ, ভীষণ সুন্দর সম্পুর্ন পথ। পাহাড়, ঝর্ণা, 3010 মিটার উচ্চতায় এমন সুন্দর পরিবেশ ও সৌন্দর্য মনভরে আনন্দ উপভোগ করেও মন ভরেনা এমন সুন্দর পরিবেশ কল্পনার অতীত । মনে মনে যা ভাবনা নিয়ে এসেছিলাম তার থেকে অনেক অনেক বেশি পেলাম,এই পাওয়া সারা জীবন মনে থাকবে।
ঘঙ্গারিয়ায় রাত কাটালাম।
(Day 5th)==পঞ্চম দিন,----
আজ সম্পুর্ন ট্রেকিং করে পৌঁছলাম বহু দিনের স্বপ্ন পূরণের জায়গা " ভেলি অফ ফ্লাওয়ারে"
ঘঙ্গারিয়া থেকে যাওয়া ও ফিরে আসা মোট আট (8)কিলোমিটার পথ।
আমরা চড়াই পথে কিছু দূর পর্যন্ত গিয়েই পৌঁছে গেলাম সেই জংশনে যেখান থেকে দুটি রাস্থা ভাগ হয়ে গেছে। একটি গেছে ফ্লাওয়ার ভেলিতে আর অন্যটি চলে গেছে হেমকুন্ড সাহিবার দিকে।
আমরা প্রথমে ফ্লাওয়ার ভেলির পথে উঠে গেলাম। ফরেস্ট চেকপোস্ট পারহয়ে সরু পথ ধরে এগিয়ে চললাম। যতই এগোয় ততই ঘন জঙ্গল ও নানান ফুলের সৌন্দর্য মন ভুলিয়ে দেয়।
একটি নদীর ব্রিজ পর হয়ে এগিয়েই দেখলাম অপূর্ব এক ঝর্ণা। এভাবেই সম্পুর্ন ডেলি দেখে চোখ মন উভয়ই সার্থক করেছিলাম। সত্যি ফ্লাওয়ার ভ্যেলি না দেখলে ফুলরর সম্পূর্ণ সৌন্দর্য ই দেখা বাকি থেকে যায়। এমন অপূর্ব মনমোহিনী সৌন্দর্যের জন্যই ফ্লাওয়ার ভেলি ইউনেস্কো দ্বারা বিশ্বের দরবারে শ্রেষ্ঠ সন্মান লাভ করেছে। এখানথেকে ফিরেযেতে মন চায়না। তবুও ফিরতে তো হবেই সেকারণে এবার আমরা ভেলি থেকে ফিরে গেলাম ঘঙ্গারিয়ায়।
ঘঙ্গারিয়ায় রাত কাটিয়ে সকালে বেরিয়ে পড়লাম।
(Day 6th)==ষষ্ঠ দিন,----
আজ আমাদের ট্রেকিং রুট ঘঙ্গারিয়া থেকে হেমকুন্ড সাহিবা যাওয়া ও ফিরে আসা মাত্র আট +আট মোট (8 +8)=16 কিলোমিটার ট্রেকিং পথ। হেমকুন্ড সাহিবা বিশ্বের সর্বোচ্চ গুরু দ্বারা। সমুদ্র তল থেকে 4632 মিটার বা 15,200 ফুট উচ্চতা। প্রায় 4--5 ঘন্টার পথ। অপূর্ব সুন্দর বর্ণনাতীত সুন্দর এই হেমকুন্ড সাহিবা।
ধন্য শিখ গুরু এমন সুন্দর জায়গাটিতে গুরুদ্বারা স্থাপনা করার জন্য।
চতুরদিগে পাহাড়ে ঘেরা সুন্দর সচ্ছ জলের হ্রদ, গ্লেসিয়ারের জলে পুষ্ট । অপূর্ব তার শোভা।
এই হ্রদে স্নান করার ব্যবস্থা আছে। স্ত্রী পুরুষের আলাদা ঘাট।
স্ত্রী দের জন্য গুরুদ্বারের নীচের দিকে তৈরি করা আছে সুন্দর ঘাট।
আমরা লঙ্গর খানায় খেয়ে একটা রুম নিয়ে রাত্রে এখানেই থাকবার ব্যবস্থা করে মনপ্রাণ ভরে চারিদিকের শোভা দেখে চোখ স্বার্থক করলাম।
(Day 7th)==সপ্তম দিন,---
এবার আমাদের ফেরার পালা ।
হেমকুন্ড সাহিবার সকালের সানরাইজ ও তার মনভোলান প্রাকৃতিক দৃশ্য মনপ্রাণ ভরে উপভোগ করে সকালের খাবার খেয়ে রওনা দিলাম। এখানকার সৌন্দর্য ভাষার প্রকাশ করা অসম্ভব।
হেমকুন্ড সাহিবা থেকে ঘঙ্গারিয়া হয়ে গোবিন্দ ঘাটে ফিরে আসলাম ।
এখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে গিয়ে ছিলাম বদ্রিনাথ মন্দির দর্শন করাতে মানা গ্রামে।
এই মানা গ্রাম ভারত ও চীনের বর্ডারে।
সেখান থেকে ফিরে এসে গোবিন্দ ঘটে রাত্রি বাস।
(Day 8th)==অষ্টম দিন
গোবিন্দ ঘাট থেকে গাড়ি ভাড়া করে হারিদ্বার পৌঁছে গেলাম বিকেলের দিকে।
রাত্রে ট্রেন ধরলাম হাওড়ার জন্য।
<--আদ্যনাথ রায় চৌধুরী-->
======================================================
No comments:
Post a Comment