Wednesday, November 23, 2022

93>ভালো লাগার ঝাড়খন্ড ভ্রমন::--

 93>ভালো লাগার ঝাড়খন্ড ভ্রমণ  

ঝাড়খন্ড  মানেই ‘ল্যান্ড অব ফরেস্ট’ কিংবা ‘বনভূমির এলাকা’।


প্রাণ ভরে ঝারখন্ড দেখেছি বার বার

দেখেছি  বনজঙ্গলের শোভার বাহার।

ঝারখন্ড মানেই গভীর মনরম বনভূমি

ঝারখন্ড মানেই প্রাণ খোলা মানুষের ভূমি।


যদিও নানান স্থানে আছে বিশেষ বিশেষ খনি

তবুও নানান সমস্যায় জর্জরিত মানুষ গুলি।

যেখানেই গেছি সকলকেই  ভালোবেসেছি ,

যেখানেই গেছি দেখেছি মানুষের প্রাণখোলা হাসি।


এই ভালোলাগা ও ভালোবাসার তাগিদে

মনের ইচ্ছায় ঘুরে বেড়িয়েছি চারিদিকে।

ওদের দেখেছি যেন কতো আপন জন

অফুরন্ত ভালোবাসায় মজেছি তখন।



1>রাঁচি::--

2>নেতারহাট

3>হাজারিবাগ::-----

4>ঘাটশিলা:::----

5>ম্যাকলাস্কিগঞ্জ::--

6>বেতলা ন্যশনাল পার্ক:---

7>জামশেদপুর::--

8>রাজমহল পাহাড়::--

9>দেওঘর::---

====================


1>রাঁচি::--pran 

ঝাড়খণ্ডের সেরা জায়গা হল রাঁচি। রুক্ষ অথচ নির্মল সৌন্দর্য্যের অসাধারণ মেলবন্ধন এই ছোট্টো শহরটি। রাজ্যের যাবতীয় আধুনিক সুখ স্বাচ্ছন্দ্য রয়েছে এখানে। আবার সমতলভূমি, মালভূমি ও পার্বত্য ভূমির সমন্বয় এই শহর। রাঁচি পাহাড়ের চূড়া থেকে গোটা শহর দেখা একটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা। ★রাঁচির শিব মন্দিরটি ধর্ম বিশ্বাসীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র স্থান। শ্রাবণ মাসে এই মন্দিরে ভক্তদের সমাগম বাড়ে। শহরে রয়েছে একটি★ কৃত্রিম হ্রদ। এর নাম ★কাঁকে হ্রদ। এই হ্রদে নৌকাচালনার সুবিধে রয়েছে। এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যও অসাধারণ। এই জলাধারের পাশেই উঁচু পাথুরে টিলার উপর সাজানো রয়েছে

★ 'রক গার্ডেন'। ১৯০৮ সালে রাঁচিতে বেড়াতে এসেছিলেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর। শহরের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ★‘মোরাবাদী হিল’-এর উপর তিনি এক বাড়ি তৈরি করেছিলেন। তারপর থেকেই সেই পাহাড়ের নাম হয়ে যায়★ 'টেগোর হিল'।★ রয়েছে বিরসা মুণ্ডা চিড়িয়াখানা।

রাঁচি শহরের বাইরে আছে তিনটি জলপ্রপাত। ★দশম, ★হুড্রু এবং ★জোনহা জলপ্রপাত। 

রাঁচি শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে কাঞ্চি নদীকে ঘিরে রয়েছে ★দশম জলপ্রপাত। প্রায় ১৪৪ ফিট উঁচু থেকে কাঞ্চির জল দশটি ধারায় ঝাঁপিয়ে পড়ছে সুবর্ণরেখার বুকে। জলের বুকে দেখা যায় রামধনুর সাতটি রং। পাহাড় অরণ্য মিলিয়ে দশম জলপ্রপাত একটি অপূর্ব সুন্দর স্থান।


রাঁচি থেকে প্রায় ৪২ কিলোমিটার দূরে সুবর্ণরেখা নদীর প্রায় ৩২০ ফিট উপর থেকে ঝরনা হয়ে নেমে এসেছে বিখ্যাত ★হুড্রু জলপ্রপাত। ঘোরানো পাথরের সিঁড়ি দিয়ে নদীতে নামা যায়। এখানে যাওয়ার পথে পড়ে বেতলসুদ বাঁধ। বাঁধের ধারে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতাই আলাদা।


রাঁচি শহর থেকে প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার গদূরে অবস্থিত ★জোনহা জলপ্রপাত। যদিও এটি গৌতম ধারা নামে বেশি জনপ্রিয়। গৌতম বুদ্ধের নাম অনুসারেই এই জলপ্রপাতের নাম দেওয়া হয়েছে। পাথুরে সিঁড়ি ভেঙে জলের কাছে যাওয়া যায়। ছবি তোলার জন্যও এই জলপ্রপাতগুলি বেশ আদর্শ।

---------------


2>নেতারহাট::----

পালামৌর পাহাড়ি অঞ্চলের নেতারহাটকে বলা হয় ছোটোনাগপুরের রানি। এখানকার সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখার মতো। রাজধানী রাঁচি থেকে এর দূরত্ব (150 KM )প্রায় দেড়শো কিলোমিটার। ছুটির প্ল্যানের অন্তত একটা দিন নেতারহাটে না কাটালে মন ভরবে না। চাইলে দুই দিনও কাটানো যায়। 


★এখান দশ কিলোমিটার মতো নীচে নামলেই ম্যাগনোলিয়া পয়েন্ট। পাহাড়ের বাঁকে রয়েছে★ কোয়েল নদী, ★নেতারহাট বাঁধ। অদূরেই রয়েছে ★আপার ঘাঘরি জলপ্রপাত। ★নেতারহাট থেকে ট্রেক করে লোয়ার ঘাঘরিতে যাওয়া যায়। পাহাড়ি এই ঝরনাটি নেমে এসেছে প্রায় ৩২০ ফিট উঁচু থেকে। নেতারহাটের কাছেই অবস্থিত ★অঞ্জন গ্রাম। ধর্মীয় বিশ্বাস, এই গ্রামেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন রামায়ণের বীর হনুমান। নেতারহাট থেকে প্রায় ৬১ কিলোমিটার দূরের জঙ্গল রয়েছে প্রায় ৪৬৮ ফিট উঁচু ★য়লোধ জলপ্রপাত।

--------------------------

    

3>হাজারিবাগ::-----


হাজারিবাগের আক্ষরিক অর্থ হলো হাজার বাগানের শহর। 


ঝাড়খণ্ডের আরেকটি স্বাস্থ্যকর এবং অপূর্ব সুন্দর স্থান হাজারিবাগ। রাঁচি থেকে ট্রেনে এবং সড়কপথে হাজারিবাগ পৌঁছানো যায়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য, মনোরম জলবায়ু এবং নির্জনতাই এখানকার সম্পদ। ★হাজারিবাগ জাতীয় উদ্যানটি দেখার মতো স্থান। যদিও এটি শহরের বাইরে অবস্থিত। এখানে আছে বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ এবং প্রাণী। এখানে প্রায় দশটি অবজার্ভেশন টাওয়ার রয়েছে। আছে নেচার ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টার এবং তৃণভোজী প্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্র। নদী-বাঁধ দিয়ে তৈরি হয়েছে অপূর্ব সুন্দর জলাশয়। শহরের কাছেই অবস্থিত ★নজরমিনার। সেখান থেকে জাতীয় উদ্যান দেখার আনন্দই আলাদা। শহরের মধ্যে রয়েছে ★হাজারিবাগ হ্রদ। শান্ত এই স্থানে অনেকটা সময় কাটানো যায়। করা যায় নৌকাবিহারও। হ্রদের কাছে রযেছে ★স্বর্ণজয়ন্তী উদ্যান। হাজারিবাগের থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ★কানহেরি পাহাড় বা ক্যানারি হিল।


রাঁচি-হাজারিবাগ রোডের মাঝামাঝি রামগড় থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে রয়েছে ★রাজারাপ্পা জলপ্রপাত এবং ★ছিন্নমস্তার মন্দির। ফেলুদার গল্পের ভক্তরা এই স্থানের মর্ম ভালোই বুঝবেন। সতীর ৫১ পীঠের অন্যতম এই স্থানে ছিন্নমস্তা রূপে পূজিত হন দেবী। মন্দিরটি ভৈরবী নদী এবং দামোদরের সঙ্গমে একটি টিলার উপর অবস্থিত।

★হাজারিবাগ ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি, ★ইসকো ভিলেজ (রক আর্টের জন্য), ★কোনার বাঁধ (কোনার নদীর ওপর), ★হাজারিবাগ ঝিল (লেক), 

★সুরিয়াকুন্দ প্রভৃতি।



--------------------------------

4>ঘাটশিলা:::----

ঝাড়খণ্ডের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হল ঘাটশিলা। স্বাস্থ্য সচেতন বাঙালির প্রিয় জায়গা এটি। প্রাচীনকাল থেকে আধুনিক কাল ঘাটশিলার জনপ্রিয়তা এতটুকু কমেনি। ঘাটশিলা থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ★গালুডিও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের এক অনবদ্য উদাহরণ। এখানে সুবর্ণরেখা নদীর দুই রকম রূপ। ঘাটশিলা স্টেশন থেকে কাছেই রয়েছে ★সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি 'গৌরীকুঞ্জ'। ★অটো করেই সারা শহর ঘোরা যায়। স্টেশন থেকে অটোয় করে পৌঁছে যাওয়া যায় ★ফুলডুংরি টিলার এক্কেবারে মাথায়। অপূর্ব তার সৌন্দর্য্য। দেখার মতো স্থান ★বুরুডি। চারদিকে পাহাড়ের মাঝে অবস্থিত এক অপূর্ব সুন্দর জলাধার এটি। বুরুডি হ্রদ থেকে পাহাড়ি পথ ধরে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে যাওয়া যায় ★ধারাগিরি প্রপাতে। ঘাটশিলা থেকেই ঘুরে আসা যায় ★ধলভূমগড়,■ চাণ্ডিল বাঁধ এবং ★দলমা পাহাড়।

---------------------------

5>ম্যাকলাস্কিগঞ্জ::--

ঝাড়খণ্ডের নিরিবিলি ★অ্যাংলো-সাহেবি পাড়া ম্যাকলাস্কিগঞ্জ। বাংলা সাহিত্যে বিশেষ করে ★বুদ্ধদেব গুহর লেখায় বার বার এসেছে ম্যাকলাস্কিগঞ্জ। এখানে রয়েছে সাহেবদের পুরোনো বাংলো বাড়ি, সবুজমোড়া জঙ্গল আর ★নিরিবিলি। ম্যাকলাস্কিগঞ্জের পাশেই রয়েছে ★ চট্টি নদী। ★এখানকার আবহাওয়া অত্যন্ত মনোরম। এই অঞ্চল মূলত বসবাস করেন মুণ্ডা, ওঁরাও আদিবাসী মানুষরা। জঙ্গল ছাড়াও রযেছে★ ডেগাডেগি নদী এবং ★কুমারপাত্র নদী। কুমারপাত্র নদীর কাছে রয়েছে অপূর্ব ★কলোরাডো ভূমিরূপ। ★হেসালাং ওয়াচ টাওয়ার থেকে গোটা ম্যাকলাস্কিগঞ্জ দেখা যায়। ★গাড়ি ভাড়া করে এই গঞ্জ ভালোমতো ঘুরে আসা যায়। এখানকার ★দুল্লি গ্রামটি পায়ে হেঁটে ঘুরে আসা যায়। এখানকার ★নাট্টা পাহাড়ে যেতে হলে মায়াপুর জঙ্গল ভেদ করতে হয়। গোটা ঝাড়খণ্ড ঘুরতে না চাইলে শুধু ★ম্যাকলাস্কিগঞ্জেই গোটা ছুটি কাটিয়ে দেওয়া যায়। কঙ্কনা সেনশর্মা পরিচালিত 'আ ডেথ ইন দ্য গঞ্জ' ছবির প্রেক্ষাপট এই ম্যাকলাস্কিগঞ্জ।

___________________

    

6>বেতলা ন্যশনাল পার্ক:---


বেতলা ন্যাশনাল পার্ক হলো এমন একটি জায়গা যেটি বাঘ সংরক্ষণের দিক থেকে ভারতের প্রথম ন্যাশনাল পার্কগুলোর একটি। বেতলার আছে একটি সমৃদ্ধ বন্য জীবন যাকে হয়তো সেভাবে গোনায় ধরা হয় না। বেতলা ন্যশনাল পার্ক হলো বাঘ, লোপার্ড, চিতাল, ভালুক, বাইসন, ইঁদুর প্রজাতির হরিণ প্রভৃতির আবাসস্থল।


সত্যিকার অর্থে বেতলা হচ্ছে বাইসন, হাতি, বাঘ, লোপার্ড ও চিত্রা হরিণের এক ট্রেডমার্ক। বন্য জীবন দেখার পর যদি আপনার হাতে সময় থাকে তাহলে যেতে পারেন ★পালামু ফোর্টে। পুরোনো এই দুর্গটি নির্মাণ করেছিলেন রাকসেল রাজবংশের রাজা। বেতলা থেকে এর দুরত্ব মাত্র তিন কিলোমিটার।_

______________________


7>জামশেদপুর::--


‘দ্য স্টিল সিটি অব ইন্ডিয়া’ নামে সুপরিচিত জামশেদপুর। বিখ্যাত টাটা স্টিলের হোমটাউন হলো ঝাড়খন্ডের বৃহত্তম এই শহর। পুরোনো এ শহরের গোড়াপত্তন ঘটে ১৯১৯ সালে, যার পরিকল্পনা করেছিলেন জামসেটজি নুসেরওয়ানজি টাটা।


জামশেদপুরে বেড়াতে গেলে আপনি ঘুরে দেখতে পারেন জুবিলী পার্ক, ডালমা ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি, ডিমনা লেক, টাটা স্টিল জুওলজিক্যাল পার্ক, দ্য জামশেদপুর মেরিন ড্রাইভ প্রভৃত

___________________


8>রাজমহল পাহাড়::--


আপনি শুনে অবাক হবেন যে, রাজমহল পাহাড় জুরাসিক যুগের। যা কি না হিমালয়ের চেয়েও পুরোনো। যারা ট্রেকিং করতে পছন্দ করেন তাদের কাছে খুবই জনপ্রিয় রাজমহল পাহাড়। এ পাহাড়ে আছে অনেক উদ্ভিজ্জ ফসিল যেগুলো ৬৮-১৪৫ মিলিয়ন বছর আগের।

_______________________

9>দেওঘর::---


দেওঘর হচ্ছে ভারতের পুণ্যার্থীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যগুলোর একটি। ১২টি জিওতিরলিঙ্গা মন্দিরের একটি হচ্ছে বাইধিয়ানাথ ধাম যা দেওঘরে অবস্থিত। রুদ্রভিষেক উৎসবের জন্য প্রতিবছর হাজারো পুণ্যার্থী এই মন্দিরে ভিড় জমান। পুণ্যার্থীরা দিনভর হেঁটে বেড়ান ও ধর্মীয় প্রথা মেনে পবিত্র পানি বয়ে নিয়ে আসেন।


তারা কানওয়ারিয়াস নামে পরিচিত। দেওঘর থেকে দশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত★ ত্রিকুট পাহাড় ঝাড়খন্ড রাজ্যের জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্যগুলোর একটি। এখানে আছে ★রোপওয়েতে চড়ে চমৎকার পাহাড়ি দৃশ্য উপভোগ করার সুবিধা যা আপনার ভ্রমণকে পুরেপুরি সার্থক করবে।


ঝাড়খণ্ডের স্বাস্থ্যকর জায়গাগুলির মধ্যে অন্যতম দেওঘর। নামটা শুনলেই প্রথমে মনে আসে ●বৈদ্যনাথ ধাম বা বাবা ধাম ও ●সত্সঙ্গ আশ্রমের কথা।

জেলার সবচেয়ে দর্শনীয় স্থান হিসাবে এ দু’টি জায়গার নাম সর্বাগ্রে আসে। ●জসিডি জংশন থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে ‘বাবা ধাম’-এ বছরভর পুণ্যার্থীদের আনাগোনা। দেওঘর গেলে ঘুরে আসা যাবে ●ত্রিকূট পাহাড়, ●নন্দন পাহাড়, ●তপোবন।


======================


======================



ঝাড়খণ্ডে পূর্ণ ভ্রমণ::


■ রাঁচি

যখন ঝাড়খণ্ড রাজ্য তৈরি হয়নি তার অনেক আগে থেকেই রাঁচি বিহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর। রাঁচিকে কেন্দ্র করে অনেক কিছু দেখার আছে। মূল শহরের কেন্দ্রেই রাঁচি হিল। এই পাহাড়ের উপরে একটা ●শিব মন্দির আছে। শহরের প্রায় সব দিক থেকেই সে মন্দির চোখে পড়ে। এখান থেকে কিছুটা এগিয়ে গেলেই ●কাঁকে জলাধার। এখান থেকেই পুরো রাঁচি শহরে জল সরবরাহ করা হয়। এই জলাধারের পাশেই উঁচু পাথুরে টিলার উপর সাজানোগোছানো ●‘রক গার্ডেন’— বিনোদনের এক অসামান্য জায়গা। শহরের কোলাহলের বাইরে এমন নিভৃত জায়গায় প্রচুর মানুষ রোজই আসেন। ঠাকুর পরিবারের● জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯০৮ সালে রাঁচিতে বেড়াতে এসেছিলেন। শহরের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে নির্জন ‘মোরাবাদী হিল’-এর উপর তিনি এক বাড়ি বানিয়েছিলেন। জায়গাটার নাম তখন থেকেই হয়ে গিয়েছে● ‘টেগোর হিল’। কাঁকেতে রয়েছে ভারত বিখ্যাত● ‘সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অফ সাইকিয়াট্রি’। এ ছাড়া ●রাজভবন, ●বিধানসভা এমনকী ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ●মহেন্দ্র সিংহ ধোনির বাড়িও রাঁচির ‘এ গ্রেড’ দর্শনীয় স্থানের মধ্যে পড়ে। রাঁচিতে অন্যতম আকর্ষণীয় দ্রষ্টব্যস্থানের তালিকায় আছে ●বিরসা মুন্ডা চিড়িয়াখানাও।


এতো গেল শহরের ভিতরের কথা। রাঁচি গেলে ●তিনটে জলপ্রপাত আপনাকে দেখতেই হবে— সব ক’টিই শহরের বাইরে।

●• দশম জলপ্রপাত: শহর থেকে প্রায় পঞ্চাশ কিলোমিটার দূরে কাঞ্চি নদীকে ঘিরে এই জলপ্রপাত। ১৪৪ ফুট উঁচু থেকে কাঞ্চির জল দশ-ধারায় ঝাঁপিয়ে পড়ছে সুবর্ণরেখার বুকে। জঙ্গল-পাহাড় মিলিয়ে ‘দশম ফলস’ অনন্যসুন্দর। জলের বুকে সূর্যের ছটায় রামধনু দেখা যায়। দশমে যাতায়াতের গ্রামীণ পথও চমত্কার।

●• হুড্রু জলপ্রপাত: রাঁচি থেকে ৪২ কিলোমিটার দূরে। সুবর্ণরেখা নদী ৩২০ ফুট উপর থেকে ঝরনা হয়ে নেমে এসেছে নীচে। এখানেও সোজা-ঘোরানো প্রচুর সিঁড়ি দিয়ে নেমে যাওয়া যায় প্রপাতের কাছে। যাওয়ার পথে বেতলসুদ ড্যাম পড়ে। বাঁধের ধারে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতাই অন্য রকম।

●• জোনহা জলপ্রপাত: এর আরও এক নাম গৌতম ধারা— গৌতম বুদ্ধের নামানুসারে। রাঁচি থেকে দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। অনেক উপর থেকে পাহাড়গাত্রকে অবলম্বন করে নদী-জল এখানে ঝরনা ধারায় নেমে এসেছে। প্রায় ছ’শো সিঁড়ি ভেঙে পৌঁছে যাওয়া যায় জলের কাছে। জলধারার শব্দে নৈঃশব্দ্য ভেঙে খানখান, আর তার মাঝে অবিরাম এক জলপ্রপাত এই জোনহা।


■ ঘাটশিলা-গালুডি::--

জামশেদপুর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে ঘাটশিলা। এক কালে বাঙালি স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য এ সব জায়গায় আসত। ঘাটশিলা থেকে ১২ কিলোমিটার দূরের গালুডিও প্রাকৃতিক বৈচিত্রের কারণেই বিখ্যাত। সুবর্ণরেখা নদীকে দু’টি জায়গা থেকেই অসাধারণ দেখা যায়। ঘাটশিলা স্টেশন থেকে কাছেই সাহিত্যিক ●বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি— গৌরীকুঞ্জ। স্টেশন থেকে অটোয় করে চলে যাওয়া যায় ●ফুলডুংরি টিলার এক্কেবারে চুড়োয়। ফুলডুংরি ও ●সুবর্ণরেখার চর ছাড়া ঘাটশিলার প্রকৃতির সম্ভার উপচে পড়েছে আরও দশ কিলোমিটার দূরের ●বুরুডিতে। চার দিকে পাহাড়, আর তার মাঝে এক অপরূপ জলাধার। ১৯৮৪ সালে স্থানীয় গ্রামগুলির কৃষিকার্যের প্রয়োজনে বাঁধ গড়তে গিয়েই হ্রদটির জন্ম। জাতীয় সড়কের ধারে ●কাশিডা মোড় থেকে যে রাস্তাটা ডাইনে বেঁকে● হুল্লুম হয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের ●কাঁকড়াঝোড়ের দিকে চলে গিয়েছে, সেটা ধরেই সামান্য এগোতে হবে। পাহাড়ি পথে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে● ধারাগিরি প্রপাতে যাওয়ার আগেই ●বুরুডি হ্রদের দেখা মিলবে। বুরুডি হ্রদের টলটলে জলে হাত না-ছুঁইয়ে ফিরে আসা যায় না। ঘাটশিলা থেকেই ঘুরে আসা যায় ◆ধলভূমগড়, ◆চান্ডিল ড্যাম ও ◆দলমা পাহাড়।


■ নেতারহাট

পলামুর পাহাড়ি জনপদ নেতারহাটের খ্যাতি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার জন্য। পাহাড়ি এই বসতিকে ‘ছোটনাগপুরের রানি’ বলা হয়। নেতারহাট রাঁচি থেকে প্রায় দেড়শো কিলোমিটার দূরে। বেতলা থেকেও নেতারহাটে আসা যায়। তবে একটা রাত্তির না থাকলে নেতারহাটকে উপভোগ করা যাবে না। এখান থেকে দশ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে খানিকটা নীচে নামলেই ম্যাগনোলিয়া পয়েন্ট। সূর্যাস্তের সময় বিন্ধ্য পর্বতের শরীর থেকে ধীরে ধীরে সূর্য নেমে যায় উপত্যকায়। পাহাড়ের বাঁকে দেখা যায় ●কোয়েল নদীকে। আছে নেতারহাট ড্যামও। ছয় কিলোমিটার দূরে রয়েছে আপার● ঘাঘরি জলপ্রপাত। নেতারহাট থেকে ◆ট্রেক করে যাওয়া যায় ●লোয়ার ঘাঘরি। ৩২০ ফিট উঁচু থেকে নেমে এসেছে পাহাড়ি এই ঝরনা। সময় থাকলে ঘুরে নেওয়া যায়● হনুমানের জন্মস্থান অঞ্জন গ্রাম। নেতারহাট থেকে ৬১ কিলোমিটার দূরে দুর্ভেদ্য জঙ্গলের মধ্যে ৪৬৮ ফুট উঁচু ●লোধ জলপ্রপাতও যাওয়া যেতে পারে।


■ হাজারিবাগ

রাঁচি থেকে অথবা সরাসরি ট্রেনে ও সড়কপথে হাজারিবাগ পৌঁছানো যায়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, মনোরম জলবায়ু ও নির্জনতাই এখানকার সম্পদ। মূল দর্শনীয় জায়গা শহর থেকে প্রায় 

১৭ কিলোমিটার দূরের ●হাজারিবাগ জাতীয় উদ্যান। বিভিন্ন উদ্ভিদ-প্রাণীর সমাহারে সমৃদ্ধ এই উদ্যানে আছে গোটা দশেক ●অবজার্ভেশন টাওয়ার, নেচার ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টার ও তৃণভোজী প্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্র। নদী-বাঁধ দিয়ে তৈরি হয়েছে সুন্দর জলাশয়। ও পারে আদিম অরণ্য। কাছাকাছি রয়েছে নজরমিনার। তার উপর থেকে উদ্যানের অনেকটাই দৃশ্যমান হয়। শহরের মধ্যে আছে ●হাজারিবাগ লেক। তার শান্ত সুন্দর পাড় ধরে হাঁটতে খুবই ভাল লাগে। এখানে ●বোটিংয়ের ব্যবস্থাও আছে। উল্টো দিকেই ●স্বর্ণজয়ন্তী উদ্যান। ●কানহেরি হিল নামে একটি ছোট পাহাড় রয়েছে শহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে। হাজারিবাগকে কেন্দ্র করে ●কোনার ও তিলাইয়া ড্যাম দেখে নেওয়া যায়।


রাঁচি-হাজারিবাগ রোডের মাঝামাঝি রামগড় থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে ●রাজারাপ্পা জলপ্রপাত ও ●ছিন্নমস্তার মন্দির পর্যটকদের কাছে খুবই আকর্ষণীয়। সতীপীঠের অন্যতম এটি— দেবী এখানে ছিন্নমস্তা। ●ভৈরবী নদী ও দামোদরের সঙ্গমে টিলার উপর এই মন্দির।


■ জামশেদপুর

ভারতের অন্যতম শিল্প গোষ্ঠী টাটাদের ইস্পাত শিল্পের প্রাণকেন্দ্র এই জামশেদপুরে। এটাই গোটা শহরের আর্থ-সামাজিক অবস্তান সুনিশ্চিত করেছে। ★★★ভারতে একমাত্র জামশেদপুর শহরেই কোনও পৌরসভা নেই। নাগরিক সুবিধা দেয় এখানে টাটা গোষ্ঠীর— জুসকো (জামশেদপুর ইউটিলিটি সার্ভিসেস কোম্পানি)। 


জামশেদপুরের দ্রষ্টব্য স্থানগুলি হল ●দলমা পাহাড়, ●ডিমনা লেক ও ●জুবিলি উদ্যান। কাছাকাছির দলমা পাহাড় বিখ্যাত তার ‘দামাল’ হাতিদের জন্য। ডিমনা হ্রদ দলমা পাহাড়ের দক্ষিণপ্রান্তে তিনটি ছোট পাহাড়ের মধ্যে নির্মিত কৃত্রিম এক জলাধার। এখান থেকে পুরো শহরের জল সরবরাহ করা হয়। মূলত বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করা হয় ডিমনায়। এ ছাড়া সুবর্ণরেখা ও খড়কাই নদীর জলও খাল দিয়ে নিয়ে আসা হয় এখানে। লেকটি শহর থেকে একটু দূরে শহরের উত্তর-পশ্চিম কোণে। শহরের কেন্দ্রস্থলেই রয়েছে জুবিলি উদ্যান। এটি জামশেদজি টাটার জন্মশতবর্ষে বানানো হয়েছিল। রয়েছে চিড়িয়াখানাও।

======================



No comments:

Post a Comment