Sunday, November 13, 2022

89>|| মমির দেশে আমরা ( সংক্ষেপে) ||

 89>|| মমির দেশে আমরা ( সংক্ষেপে) ||

             <-----আদ্যনাথ---->

ভ্রমন এক নেশা---

যে নেশা দেখায় নুতন দিশা।

মনের অতৃপ্ত বাসনার মাঝে,

একটু তৃপ্তি খুঁজে পাওয়া।

একটু আনন্দ উপভোগ করা,

একটু খোলা হওয়ায়,

একটু একান্তে জিরিয়ে নেওয়া।

আগামী দিনগুলো-সুন্দর করে বাঁচতে

একটু মিঠে হওয়া, বুকে ভরে নিতে।


ভ্রমন এক নেশা--

নিজেকে পূর্ণ উপভোগ করা,

অজানাকে কাছে থেকে জানা।

নিজেকে প্রকৃতির সাথে মিশেয়ে নেওয়া,

কিছু সময় নিরালায় থাকা।

কিছু নুতন বন্ধু জুটিয়ে নেওয়া,

মনের আবেগ ভাগকরে নেওয়া।

কিছু ভালো লাগা, কিছু মানিয়ে নেওয়া।

কিছু মনের কথা বলা,

কিছু নুতন ভাবনা ভাবা।

কিছু স্বপ্ন দেখা,

কিছু সময় হারিয়ে যাওয়া।

কিছু পাওয়া না পাওয়া,

নুতন ভাবনায় দোল খাওয়া।

যেটুকু পাওয়া, সেইটুকুই স্মৃতি হয়ে থাকা।


আমাদের এমারের ভ্রমন ছিল,

খেজুর গাছের ছায়ায় ঘেরা,

নীলনদের শীতল জলে, ভেসে,

"M S NILE  RUBY ". ক্রুজে চড়ে,

মিশরকে দেখা।


কোলকাতা কায়রো ভায়া আবুধাবি।

আবার কায়রো থেকে আসোয়ান মিশর।

আর সেই বিখ্যাত  নীলনদের ক্র্রুজে।

দুই রাত্রি মিশরের হোটেলে প্রথম

ও সপ্তম রাত্রিতে ।

দুইরাত্রি প্লেনে আকাশ পথে।

চার রাত্রি নীলনদের ক্র্রুজে।


অনেক ভেবে অবশেষে

চললাম আমরা মমির দেশে।

আমরা সবাই মিলেমিশে

আনন্দেতে চলেছি মিশর দেশে।

আমরা ছিলাম ২৭ জন

শিশু, যুবক,বয়স্ক কজন।

পরিবার ছিল ৫টি মাত্র,

স্ত্রী পুরুষ সকলেই অতি ভদ্র।


দি বোহেমিয়ানস এর ব্যবস্থাপনা,

সকলে ছিলাম একান্ত আপনা।

অতি সুন্দর এদের তদারকি,

মিটিয়েছে সকল চাহিদা গুলি।

বোহেমিয়ানসের সাথে চলে,

মুগ্ধ হয়েছি আমরা সকলে।

জাদুমুগ্ধকারি মিশর দেশ,

কত বলি কত লিখি হবেনা শেষ।

সাত রাত্রি আর আটটি দিন,

আমাদের চির স্বরণীয় কটিদিন।


সে এক নুতন অভিজ্ঞতার কটি দিন,

নুতন দেশে নুতন পরিবেশে কটি দিন।

বালুকা ময় বিস্তীর্ণ অঞ্চল,

আবেগে মণ ছিল ভীষণ চঞ্চল।

নীলনদেরজলে ক্রজে ভ্রমন,

নুতন অভিজ্ঞতার শিহরণ।

খাবার জল কতটা দামী,

বুঝে নিতে থাকেনি বাকী।

দিনে সূর্যের প্রচণ্ড তাপ,

রাতে শীতের প্রভাব।

বুঝিয়ে দিয়েছে,

মরু দেশে বালির প্রভাব।


খেজুর,কলা, মোসম্বীর স্বাদ,

দুর হয়ে যায় সকল অবসাদ।

এতো পেয়েও মেটে না আশা,

চোখ ও মনে জাগে নুতন আশা।

আলেকজেন্দ্রিয়ার পুস্তক ভান্ডার,

তিন ঘণ্টা দেখেও মনে হাঁ হাঁ কার।

কি নাই সেখানে, ওদের বইয়ের তাকে,

দেখলাম রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের বই,

বিবেকানন্দের পুস্তক রেখেছে আদরে।

বাদ যায়নি আমাদের রামায়ন,

মহাভারতের সমাদর।


কি বিশাল পুস্তক ভান্ডার।

চোখে না দেখলে বিশ্বাস করাই যে ভার।

বিশাল পরিসর,সমগ্র বিশ্বের বইয়ের পাহাড়।

ই-বুকের সংগ্রহ,যেন মনেহয় ই-বুকের সমুদ্র।

আহা কি দেখিলাম, চোখে দেখেও বিশ্বাস হারালাম।


ভূমধ্য সাগরের ঢেউ অনবরত করিছে ধৌত,

আলেকজেন্দারের স্মৃতি সৌধ।

এই স্থানেই ছিল পৃথিবীর

সর্ব প্রথম লাইট হাউস টি।

যার স্মৃতি স্মরণেই

নব নির্মিত এই আলেকজেন্দারের স্মৃতি সৌধ।

নির্মাণ শিল্পের নিখুঁত কারু কার্য,

এও যেন পৃথিবীর এক অত্যাশ্চর্য।

আর সেই ঝুলন্ত বিশাল গির্জা।

ভাবতেও অবাক লাগে,

প্রাচীন সেই চারু কলা।

প্রাচীন সেই  ইঞ্জিনিয়ারিং,

যা আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিংকেও

হার মানায়।

তাইতো উত্তর আফ্রিকার স্মৃতি,

একবার নাদেখলে চোখে

মনে রয়ে যাবে বাসনা অতৃপ্তি।


ভ্রমণের স্মৃতি,অবসর জীবন যাপনের,

উঠকৃষ্ট ঔষধি ও মনের শক্তি।

নিরালায় বসে আনন্দ স্মৃতি

নিজে উপভোগ করা।

অবসর জীবনের প্রকৃত আনন্দ নিজে খুঁজে নেওয়া।  

প্রকৃতির মাঝে নিজেকে খুঁজে পাওয়া,

থাকেনা কোন অপূর্ন চাওয়া পাওয়া।


     <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী  --->

      ৬/২ এ,শ্যামবিহার ফেজ ll

         আর ই ই-১৫ রঘুনাথপুর ।

          কোলকাতা- ৫৯  

                 

  =====================     




No comments:

Post a Comment