91>দলমা পাহাড়
জামসেদপুরের চিন্তা করলেই দলমা, ডিমনা, জুবিলী পার্কের কথা মনে পড়ে।
পরে দেখেছি সবিতাদের বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়েই দলমা পাহাড় দেখা যেত।দেখা যেত পাহাড়ের উপরে সেই মন্দিরটি।
আজও পর্যটকদের ভিড়ের তেমন থাকেনা। সেই কারণেই বেশ শান্ত,স্নিগ্ধ পরিবেশ। আর তাই, যারা নির্জনতা পছন্দ করেন, নৈঃশব্দের মধ্যে প্রকৃতির শব্দ শোনার চেষ্টা করেন, তাঁদের জন্য আদর্শ হতেই পারে এই দলমা ।
দলমায় হাতিদের একটু উৎপাত লেগেই থাকে। এছাড়া বেশ শান্ত স্নিগদ্ধ পরিবেশ।
টাটানগর স্টেশনের বাইরেই পাওয়া যায় গাড়ি । টাটা চাইবাসা রোড ধরে পৌঁছতে হবে লাল মাটির রাস্তা দিয়ে সাঁওতাল গ্রাম কাসিডি হয়ে পাথরভাঙা গ্রামে দলমা রেঞ্জের নারোয়া পাহাড়ের পাদদেশে।
গাড়ি থেকে নেমে ঘুরে দেখতে পাওয়া যাবে সাঁওতাল গ্রামবাসীদের মাটির বাড়ি, সহজ-সরল জীবনযাত্রা। মাটির বাড়িগুলির সুন্দর অলঙ্করণ বেশ চোখ টানবে। পথের মোড়ে ইতিউতি দেখবেন কৌতূহলী গ্রামবাসী জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখে সোজা সরল মানুষ গুলি।
সব জায়গাতেই দেখা যাবে ভোলে ভালা নিষ্পাপ প্রাণখোলা শিশু গুলি ছুটে চলেছে খেলা করছে।
গ্রাম বাসীদের সাথে কথা বলতে শুরু করলেই খুব তাড়াতাড়ি ওরা খুব কাছের মানুষ হয়ে যাবে । পৌষসংক্রান্তিতে এখানে ‘টুসু’ পরব আর ফাল্গুন মাসে ‘বাহা’ পরবে মেতে ওঠে এই অঞ্চলের মানুষজন ছেলে মেয়ে বাচ্চা বুড়ো সকলে। সে সময়ে যদি উপস্থিত থাকতে পারেলে
সেই আনন্দের ভাগ নিতে পারলে সারাজীবন মনে থাকবে এই আনন্দের রেশ।
★কাসিডি গ্রাম থেকে বেরিয়ে ★দামুডি গ্রাম হয়ে এ বারে পৌঁছে যান অপূর্ব প্রকৃতির কোলে। দলমা রেঞ্জের ★নারোয়া পাহাড়ের পাদদেশে এই জায়গাটার নাম ★পাথরভাঙা।
সবুজ গাছপালায় মোড়া নারোয়া পাহাড় আর তার ঠিক নীচেই বড় বড় পাথরের সারিকে পাশ কাটিয়ে কুলুকুলু করে রবে বয়ে চলা এক সুন্দর★ নদী গড়া, নদীটির নাম গড়া। নারোয়া পাহাড় পেরিয়ে এই গড়া নদী গালুডির কাছে মিশে যাচ্ছে সুবর্ণরেখা নদীতে।
এখানকার প্রকৃতি এমন সুন্দর যে চারিদিকে নানা পাখিদের ডাক আর
নদীর জলের শব্দ মিলে মিশে এক অপার্থিব সৌন্দর্যের আকর্ষণ যেখানে
আমরা ছাড়া অন্য কোনও জনমানবও নেই ত্রিসীমানায়।
এই নারোয়া পাহাড়ে প্রচুর মাত্রায়
ভালো মানের ★ইউরেনিয়াম পাওয়া যায়।
আর সেই কারণে এখানে এই ইউরেনিয়াম উত্তোলনের জন্য খনিও তৈরি হয়েছে। তার পরেই গাড়ি নিয়েই পৌঁছগেলাম নারোয়া পাহাড়ের অন্য প্রান্তে। ★লোয়াডি, ★ধিরোল, ★বাংগো গ্রাম পেরিয়ে বিখ্যাত ★রংকিনীমাতার মন্দির দর্শন করে (রাস্তার ওপরেই) জাদুগোড়া মোড় থেকে বাঁ দিকের (ডান দিকের রাস্তা চলে গেছে ঘাটশিলা অভিমুখে) রাস্তা ধরে চলে যান ★গড়া নদীর ওপর নির্মিত সেতুতে। এখান থেকে গড়া নদীর সর্পিল গতিপথ বেশ অনেকটাই দেখা যায়। ইচ্ছে করলে কিছুটা আগের এক বাঁ হাতি কাঁচা সড়ক দিয়ে ঢুকে চলে যেতে পারেন নদীর একদম কাছে এক পিকনিক স্পটে। এ বার ফেরার পালা। নারোয়া ইউরেনিয়াম খনির গেট পেরিয়ে শর্টকাট রাস্তায় খুব তাড়াতাড়িই ফিরে যেতে পারবেন রিসর্টে।
পর দিনটাও যদি হাতে থাকে তবে ★শঙ্করদার স্নিগ্ধ ভোরের গন্ধ গায়ে মেখে। প্রাতঃরাশ সেরে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন জামশেদপুরের দিকে। ★ডিমনা লেক, ★জুবিলি পার্ক, ★চান্ডিল ড্যাম এই সব নিয়ে সারা দিনের এক আনন্দসফরের অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে আসুন রিসর্টের নিরাপদ আশ্রয়ে।
শেষ দিন দুপুরের জনশতাব্দী ধরেই আবার ফিরুন কলকাতায়। একশো বছর আগে এই গোটা অঞ্চলটাই ছিল জঙ্গলে ঘেরা। গ্রামগুলির কোনও অস্তিত্বই ছিল না। শঙ্কর নামে এক ব্যক্তি প্রথম জঙ্গল কেটে বসতি, চাষবাস ইত্যাদি শুরু করেন এখানে, এমনটাই শোনা যায়। সাঁওতালরা তাঁকে শঙ্করদা বলে ডাকত। তার নাম থেকেই পরবর্তী কালে এ জায়গার নাম হয়ে যায় ★শঙ্করদা।
কী ভাবে যাবেন
No comments:
Post a Comment