Friday, December 25, 2020

64>ভ্রমণ =পুরুলিয়ার --(1 To 8)


64/1>|| পুরুলিয়ার পলাশ ||

64/2>সমগ্র পুরুলিয়া পর্যটন স্থান::--

64/3>  ভ্রমণ =পুরুলিয়ার 4টি দর্শনীয় স্থান

64/4>গড় পঞ্চকোট----

64/5>পাঞ্চেত ড্যাম

64/6>দেউলঘাটা, 

64/7>পাকবিড়ায়া

64/8> || পুরুলিয়ার মুরগুমা ড্যাম ||==( কবিতা )

=============================

 64/1>|| পুরুলিয়ার পলাশ ||

     <------আদ্যনাথ----->

আজ স্মৃতির দুয়ার খুলে মনে পড়ে,

মন ছুটেযায় পুরুলিয়ার পলাশের  বনে।

বার্ধক্যে কত স্মৃতিই গেছে মুছে,

কিন্তু পুরুলিয়ার পলাশকে ঠিক মনে আছে।

ভ্রমরের গুন গুন ও মৌমাছর গুঞ্জন

দিনভর মেতে ওঠে পলাশের বন।

আজ স্মৃতির দুয়ার খুলে মনে পড়ে,

পুরুলিয়ার সেই পলাশের গভীর বন।

বনের পশুরাও পলাশমধুর গন্ধে ছুটে আসে,পলাশের কাছে।


পুরুলিয়া মানেই পলাশের দুনিয়া,

পুরুলিয়া দেখা মানে পলাশের আগুণের শোভা দেখা।

যে দিকে মন চায় দুচোখ ভরে পলাশের রঙ দেখা।

পলাশে লাগে আগুন মাঝ ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ফাগের ফাল্গুন।

পলাশের শোভা, তার আগুন ঝরানো রূপে,

নানান রঙের পলাশ ফোটে পুরুলিয়ার জঙ্গলে জঙ্গলে।

পলাশের সুমিষ্টমধু চিরদিন থাকে মনে,

পলাশ ফুলের রঙিন আবির যাকে ফাগ বলা হয়, 

কারন ফাল্গুন মাসেই রঙিন দোল উৎসব হয়।

পলাশ ফুলের রঙে রাঙিয়ে মন ভরে যায়,

ফাল্গুনের  দোল বা হোলির রঙ বা ফাগ

পলাশের রঙে রঙিন হয়।

পলাশ লতা ও বৃক্ষ দুই ভাবেই হয়।

নানান রঙের পলাশে কীবাহার কীবাহার,

লাল,কমলা,হলুদ,স্বর্ণ রঙিন,

আর দেখেছি নীল ও সাদার বাহার।

তাইতো ফাল্গুনের পলাশের রূপে 

বার বার পুরুলিয়ায় মন টানে।

   <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

==========================

 বিঃদ্রঃ::--(পলাশের রঙ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন ও সংশয় থাকতে পারে,

কিন্তু আমি যেটুকু দেখেছি নিজে,

পুরুলিয়ার গভীর জঙ্গলে, 

সেই টুকুই বলছি নিজের কলমে। )

=========================

64/2>সমগ্র পুরুলিয়া পর্যটন স্থান::--

1●জয়চন্ডী পাহাড়,

2● অযোধ্যা পাহাড়,

3●গাজাবুরু পাহাড়

4●পাখি পাহাড়,+ পারদি ড্যাম,

5●জীবর পাহাড়, কংসাবতী নদীর উৎস।

6●সাহেব বাঁধ,

7●মুরুগমা বাঁধ,

8●মুরারী  হ্রদ,

9●ব্রামনি জলপ্রপাত,

10●সুরুলিয়া,

11●দুয়ার সিনি,

12●মাইথন + পাঞ্চেত

13●মুবাডি,

14●দ্যাম,

15●পর্পঞ্চকোট,

16●কাশিপুর রাজবাড়ি ( এখন ভিতরে প্রবেশ নিষেধ)

17●দেউল ঘাটা, নদীর কোলে শান্ত নিরিবিলি পরিবেশ।

       ++পাকবিড়ায়া

18●ডিমডিহা,

19●বেলামু,

20●পাট ঝালদা, কপিল মুনির জন্ম স্থান।

21●ফুটিয়ারী ড্যাম,

22●গড় পঞ্চকোট,

23●বান্দার দেউল + তেলকুপি (সুন্দর জায়গা)



°==============================

64/3>  ভ্রমণ =পুরুলিয়ার 4টি দর্শনীয় স্থান।---dt--???

1>গড় পঞ্চকোট, 2>পাঞ্চেত ড্যাম 3 >দেউলঘাটা, 

4 >পাকবিড়া,

<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

ধানবাদে থাকার সময় পুরুলিয়ার নানান স্থানে ঘুরে বেড়িয়েছি।

 আজ লিখতে বসলাম,পুরুলিয়ার 4টি দর্শনীয় স্থান দেখার ও  ভালোলাগার সভিজ্ঞতা।

1>গড় পঞ্চকোট, 2>পাঞ্চেত ড্যাম

 3 >দেউলঘাটা, 4 >পাকবিড়া,



=======

ভ্রমণ পুরুলিয়া ( 1 )

64/4>গড় পঞ্চকোট----

এখানকার কাছের রেল স্টেশন হল বরাকর।

বরাকর থেকে অনেক গাড়ি যায় ওইদিকে,আমরা আসানসোল থেকে গাড়ি ভাড়া করে বরাকর পারকরে, বরাকরের বেগুনিয়া মোড়ের বাম দিকে দিয়ে ডিশের গড় রোড ধরে সোজা পৌঁছে ছিলাম গড় পঞ্চকোট। জায়গাটি কিন্তু পুরুলিয়ার মধ্যে। 

646 মিটার উঁচু, 18 বর্গ কিলোমিটার ব্যাস জঙ্গলাকীর্ন গড় পঞ্চকোট পাহাড়, এখানেই ছিল গড়। তার চিহ্ন এখনো আছে এখানে।এই গড় পঞ্চকোট পুরুলিয়া জেলায় পঞ্চকোট পাহাড়ের কোলে অবস্থিত একটি প্রত্নস্থল। এই স্থানটি শিখর রাজবংশের রাজধানী ছিল।

তবে বর্তমানে এই গড় পঞ্চকোট ভগ্নপ্রায়। ভগ্নপ্রায় পঞ্চরত্ন মন্দির।

জানলাম গড় পঞ্চকোট প্রায় পাঁচ মাইল বিস্তৃত একটি দুর্গ ছিল। এই গড়ের চারিপাশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বারো বর্গমাইল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ছিল এবং এটি পরিখা দিয়ে ঘেরা ছিল। মূল দুর্গ পাথরের দেওয়াল দিয়ে ঘেরা ছিল।এখানকার অধিকাংশ স্থাপত্য বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত বা অবলুপ্তির পথে। এই স্থানে বেশ কয়েকটি মন্দির রয়েছে, যেগুলি উপযুক্ত সংরক্ষণের অভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

এখানকার  সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য একটি মন্দির হল পঞ্চরত্ন টেরাকোটা নির্মিত দক্ষিণ ও পূর্বদুয়ারী রাস মন্দির। মন্দিরের গায়ে ফুল ও আলপনার নকশা ছাড়াও খোল, করতাল বাদনরত ও নৃত্যরত মানব-মানবীর মূর্তি আছে।ষাট ফুট উচু কেন্দ্রীয় চূড়া বিশিষ্ট ভগ্নপ্রায় এই মন্দিরে কোন বিগ্রহ নেই। উত্তরপশ্চিম দিকে অপর একটি পঞ্চরত্ন টেরাকোটা মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে, বর্তমানে যার চারটি চূড়া নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে ও মধ্যের ৪০ ফুট উচ্চ চূড়াটি অবশিষ্ট রয়েছে।

গড়ের পশ্চিমদিকে প্রস্তর নির্মিত কঙ্কালী মাতার ভগ্নপ্রায় মন্দিরের অস্তিত্ব বর্তমান। মন্দিরের সামনের অংশ অক্ষত হলেও পেছনের অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত। কঙ্কালী মাতা পঞ্চকোট রাজ্যের কুলদেবী হলেও বর্তমানে এই মন্দিরে কোন বিগ্রহ নেই। গড়ের বাম দিকে প্রস্তর নির্মিত কল্যাণীশ্বরী দেবী মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ বর্তমান। এছাড়াও দুইটি প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত জোড়বাংলা মন্দিরের কিছু অংশ আছে।  এছাড়া পঞ্চকোট পাহাড়ের পাদদেশে রাজপ্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ ও কর্মচারীদের বাসস্থান আছে।

<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

============================================


 64/5>পাঞ্চেত ড্যাম


 পাঞ্চেত বাঁধ হল দমদর ভ্যালি কর্পোরেশনের দ্বারা নির্মিত ঝাড়খণ্ড রাজ্যের ধানবাদ জেলার পাঞ্চেতে  দামোদর নদী জুড়ে নির্মিত হয়েছিল এবং ১৯৫৯ সালে বাঁধটি চালু করা হয়েছিল।

(১৯৫৭ সালে মাইথনে বরকার নদীতে তৃতীয় বাঁধ উদ্বোধন করা হয় এবং ১৯৫৯ সালে পাঞ্চেতে দামোদর নদে চতুর্থ বাঁধ উদ্বোধন করা হয়।)

পাঞ্চেত বাঁধটি করাকর নদীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রেখে, দামোদর নদে নদীটি যে স্থানে মিলিত হয় তার থেকে সামান্য উজানে নির্মিত হয়েছে। পাঞ্জেত বাঁধ ও জলাধারের উত্তরাঞ্চলীয় ধনবাদ জেলা এবং দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের পুরুলিয়া জেলা রয়েছে। 

এই পাঞ্চেত বাঁধটি  জি টি  রোডের চিরকুন্ডা থেকে ৯ কিলোমিটার। এবং আসানসোল থেকে ২০ কিলোমিটার  দূরে। নিকটতম রেলওয়ে স্টেশন কুমারধুবি থেকে 10 কিলো মিটার।

                         <--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

====================================================


64/6>দেউলঘাটা, 

দেখলাম  পুরুলিয়া শহরের আড়ষা ব্লকে কংসাবতীর দুই পাড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরনো দুর্মূল্য কিছু প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন। আশপাশে পড়ে থাকা পাথরের স্তূপ দেখে বোঝা যায় এককালে এখানে অনেকগুলি দেউল ছিল। তবে এখন দাঁড়িয়ে আছে মাত্র দুটি। কয়েক বছর আগেও দেউল ছিল তিনটি। সবচেয়ে বড় দেউলটি নাকি ভেঙে পড়ে 2002 সালের 30শে সেপ্টেম্বর ভোর চারটের সময়, সেই সময় পুরাতত্ত্ব বিভাগ এই মন্দির সংস্কার করছিল।  জানলাম দেউল থেকেই এলাকার নাম হয় দেউলঘাটা। পুরুলিয়ার এই দেউলঘাটা এলাকা জঙ্গলে ভরা পলাশ-শিমুলের গাছ তারই ভেতর দিয়ে   আঁকাবাঁকা লাল মাটির রাস্তা। জঙ্গলের কোথাও কোথাও ছোটো বড়ো পাহাড় আর টিলা তার মাঝে দেখলাম ঝরনা। 

কংসাবতী নদীকে বলা যেতে পারে পুরুলিয়ার প্রাণ। সেই কাঁসাই-এর তীরে জয়পুর থানা এলাকায় দেউলঘাটা। ভারতের সবথেকে পুরোনো যে ক’টি পোড়ামাটির মন্দির এখনও কালের গর্ভে টিকে আছে তার মধ্যে এগুলি অন্যতম। দেউল আকৃতির এই মন্দির দুটির পুরাতাত্ত্বিক গুরুত্ব অপরিসীম। মন্দিরের ভিতরে বিগ্রহ পাথরে খোদিত দশভুজা দুর্গার মূর্তি, নিচে রয়েছেন মহিষাসুর। সিংহ এবং মহিষ। তবে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশের কোনো মূর্তি নেই। এই মূর্তিতে দেবীর এক পা মহিষের ওপর  রাখা। আর এক পা সিংহের ওপর রয়েছে। কালো পাথরে নির্মিত অপরূপ এই মূর্তি। 

এখানে খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের কেন্দ্র গড়ে উঠেছিল । তখন সম্ভবত এই দুর্গামূর্তির পুজো শুরু হয়েছিল। লোকমুখে শোনা যায়, অনেক যুগ আগে তাম্রলিপ্তের বণিকরা ঝাড়িখণ্ডে যেতেন বাণিজ্য করতে। তখন কংসাবতী নদীতে  নৌকো করে এসে  তাঁরা এই মন্দিরে পুজো দিতেন। এখনও মায়ের নিত্যপুজো হয় এখানে। প্রতিদিন ভক্তদের সমাগম ঘটে। দুর্গাপুজোর চার দিন এখানে থাকে উৎসবের মেজাজ। দেউলঘাটায় অনেক ঘর রাজপুতদের বাস। তারাই পুজোর উদ্যোক্তা। এখানে সপ্তমী থেকে নবমী নিয়ম করে পাঁঠাবলি হয়। চার দিন সব ভক্তদের জন্য প্রসাদের ব্যবস্থা থাকে। এখানে সকলেই ভোগ প্রসাদ পায়।

<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

=========================================================

 

64/7>পাকবিড়ায়া

আমাদের সাথে কাজ করে সন্তোষ মাহাতোর মুখে শুনলাম  পুরুলিয়ার পাকবিড়ার গল্প। সন্তোষের মামা বাড়ি পাকবিড়াতে। পাকবিড়ার কথা শুনে ওখানে যাবার ও দেখবার জন্য মন ব্যাকুল হয়ে পড়লো , সেইকারণে একদিন সন্তোষকে নিয়ে চলেগেলাম পাকবিড়া ঘুরে দেখতে।   

পুরুলিয়ার পুঞ্চা থানার অন্তর্ভুক্ত এই পাকবিড়া গ্রাম । গ্রামের পথের দুইধারে   ধানখেত, তাল, খেজুরের সারি। চতুর্দিকে যেন এক অসীম শান্ত, নির্জনতা বিরাজ করছিল। আমরা পাকবিড়াতে পৌঁছে তিনটি দেউল দেখলাম । দেউলের  বাইরে গাছের নীচে একটি  আট ফুট দীর্ঘ কষ্টি পাথরের মূর্তি দেখলাম। সেখানে আমরা কথা বললাম নিমাই মাহাতোর সাথে, যিনি ওখানকার সংগ্রহশালার দেখাশুনা করেন।মাহাতো জি বললেন আগে এখানে আরো 19 টি দেউল ছিল, যেগুলি ধংস হয়ে গেছে রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে। অর্থাৎ এখানে 21টি দেউল ছিল, বর্তমানে স্রেফ তিনটিই টিকে আছে। আমরা আরো জানতে পারলাম যে ওই কষ্টি পাথরের মূর্তিটি ভৈরবের মূর্তি। আনুমানিক ষষ্ঠতম তীর্থঙ্কর পদ্মপ্রভ-র। পদ্মের উপরেই মূর্তিটি দণ্ডায়মান। তবে ঝড়-বৃষ্টিতে মূর্তিরটি কিছুটা ক্ষয়প্রাপ্ত। তবে দেউল তিনটির কারুকাজ অপূর্ব। এই অঞ্চলে আনুমানিক একাদশ শতাব্দীতে জৈন ধর্মের বিকাশ ঘটে। সে সময়ে কলিঙ্গরাজ অনন্ত বর্মণ, পূর্বে ভাগীরথী পর্যন্ত তাঁর সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিলেন । তিনি ছিলেন জৈন ধর্মের পৃষ্ঠপোষক। পরবর্তী সময়ে জৈন ধর্মের প্রভাব কমতে থাকে। ১৮৬১ সাল থেকেই এখানকার ঐতিহাসিক নিদর্শন সংগ্রহের কাজ শুরু হয়। 

নিমাই মাহাতো, আমাদের জন্য সংগ্রহশালার তালা খুলে দিলেন। ভিতরে প্রবেশ করে অবাক হয়ে দেখলাম , জৈন তীর্থঙ্করদের মূর্তি , মহাবীর, পার্শ্বনাথ, আদিনাথ, সম্ভবনাথ, অজিতনাথ, সিদ্ধায়িকা, ত্রিশলা- সিদ্ধার্থ, ঋষভনাথ এবং  আরও বেশ কিছু মূর্তি। কিন্তু কিছু মূর্তি প্রায় ধ্বংসের পথে। এমন গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক একটি স্থান এখনও অন্ধকারে রয়েছে স্রেফ প্রচারের এভাবে।

সারাদিন ঘুড়েবেরিয়ে দেখে সন্ধ্যাতে সন্তোষের মামাবাড়িতে উঠলাম।  আমার ইচ্ছা ছিল ধানবাদে ফায়ার যাবার। কিন্তু সন্তোষ কিছুতেই ছাড়লনা। ওর কথা হল এভাবে চলে গেলে ওর দাদু নাকি ভীষণ অসন্তুষ্ট হবেন।  সেইকারণে বাধ্য হয়ে সন্তোষের মামাবাড়িতে উঠতে হল। 

সত্যি গ্রামের মানুষের আথিতিয়তা ,আদর আপ্যায়ন ভোলাবার নয়। কিন্তু প্রথমেই ঘটলো এক বিভ্রাট কারণ সন্তোষের দাদু যখনি জানতে পারলেন যে আমি ব্রাহ্মণ, তখনি উনি আমায় বললেন "বাবা তোমাকে একটু কষ্ট করে রান্না করে নিতে হবে " আমি এমন কথা শুনে বেশ মুস্কিলে পরে গেলাম, এবং জানতে চাইলাম কেন কিকারনে  আমাকে নিজের রান্না নিজে করেনিতে হবে। ওনাদের কথায় জানলাম যেহেতু আমি ব্রাহ্মণ আর ওনারা মাহাতো সেই কারনে  ওনাদের রান্না করা আমি খেলে নাকি ওনাদের মহা পাপ লাগবে, তাই এই পাপের ভাগই ওনারা হতে চাননা। অগত্যা আমি নানা ভাবে ওনাদের বুঝিয়ে রাজি করলাম যে আমি কোন জাত মানিনা এবং ওনাদের হাতের রান্না খেতে আমার কোন আপত্তি নাই। শেষে ওনারা রাজি হলেন বটে ,তবে আমি পরে জানতে পারলাম যে ওনার ছোট ছেলের বউ রাত্রে আবার স্নান করে শুদ্ধ অবস্থায় আমার জন্য রান্না করেছিলেন। ব্যাপার টা জেনে আমি ভীষণ দুঃখ পেয়েছিলাম ,এবং সেই কথা আমি সন্তোষের দাদু ও মামাদের জানিয়ে ছিলাম ,যে এমন করলে আমি আর কোনদিন এখানে আসবোনা।  আমার কথা শুনে ওনারা দুঃখ পেয়ে বলেছিলেন " নানা বাবা এমন করে বলবেন না,আমরা কি করব বলো ,গ্রামের আচার নিয়মই এমন, আচার নিয়ম না মানলে গ্রামে অশান্তি হবে, তবে পরে কোনদিন আবার আসলে একটু আগে জানিয়ে দেবেন , আমরা সেই মতন ব্যবস্থা আগেথেকে করে রাখবো।" আমি জানতে চাইলাম আগে জানালে আপনারা কি ব্যবস্থা করে রাখবেন শুনি। আমার সেই প্রশ্নের উত্তরে ওনারা জানিয়ে ছিলেন যে ওনারা আমার রান্না করার  জন্য একজন ব্রাহ্মণ রাধুনী জোগাড় করে রাখবেন। সে যাইহোক সেদিন ওখানে যা খেয়েছিলাম  সেই মোটা লাল চাউলের ভাত ,কি অপূর্ব তার স্বাদ। তার সাথে টাটকা সাগ সবজি। আজও  চিন্তা কইলেই মনেহয় মুখে সেই স্বাদ লেগে আছে। তবে গ্রামের জাত পাতের ব্যাপার টা চিন্তা করলে ভীষণ মনঃ কষ্ট পাই।                                                                                        <------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী------>

===================================


   

64/8> || পুরুলিয়ার মুরগুমা ড্যাম ||==( কবিতা )

                     <----আদ্যনাথ-->


এখনও রাত্রির একটু বাকি,

চলেছি পাহাড়ের ঢালে ধীরে সন্তর্পনে,

ঝরাপাতার খস খস শব্দপায়ের নিচে,

সকলেই ভীত অচেনা ডাক শুনে কাছে।

লাঠি দিয়ে সামনের পাতা সরিয়ে,

চলেছি সকলে অজানা পথে।

তবুও যেতে হবে ওই ড্যামের ওপরে

টর্চের আলো তে ছোট কিছু পালায় ছুটে,

পাখিদের কলতান শুরু হল সেই ক্ষণে,

চারিদিকে ছড়িয়ে রঙিন আবির গগনে।


মুরগুমা ড্যামের ওপারে পাহাড়ের চূড়ায়,

হঠাৎ যেন হল নুতন সূর্য্য উদয়,

আগুন যেন লাগলো পাহাড়ের মাথায়,

সবুজ পাহাড় গুলিও লালে রাঙিয়ে দিল,

ড্যামের জলে কে যেন রং ঢেলে দিল।

এইনির্জনে শেয়ালের ডাকও ভয়ঙ্করলাগে

তবুও মনে শান্তনা ওই পাখিদের দেখে,

পাখিরা কত সুন্দর সাবলীল ড্যামের জলে

ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিরা খাবারের খোঁজে,

ভোরের ঠান্ডা হাওয়ায় মুরগুমার শোভা খোলে।


অযোধ্যা পাহাড়ের মুরগুমা ড্যাম

প্রকৃতির সকল সৌন্দর্য আছে লুকিয়ে। 

প্রকৃতি যেন দিয়েছে উজাড় করে,

আমরাও ক্লান্ত এতটা  চড়াই চড়ে।

তবুও মনের আনন্দ মুরগুমাকে দেখে,

চেয়েছিলাম যেটুকু মনে

মুরগুমা দিয়েছে তার থেকে বহু গুনে।

আজথেকে সেই 36 বৎসর আগে,

পাহাড় জঙ্গল আর আদিবাসীদের ঘরে,

আদর দিয়ে ছিল ওরা  হৃদয় উজাড় করে।

 ======<--©➽--আদ্যনাথ-->======

===========================


No comments:

Post a Comment