59> || শুশুনিয়ায় ট্রেকিং ||==19/11/2001 to 22/11/2001
59/1>শুশুনিয়া পাহাড় ও টুসু উৎসব::--===============================
59> || শুশুনিয়ায় ট্রেকিং ||==19/11/2001 to 22/11/2001
<--©➽--আদ্যনাথ-->
সেদিন 12 সেপ্টেম্বর2001
তখন আমি আমি ধানবাদে এরিয়া 4এর আন্ডারে কাজ করছি ।রাত্রে ডিউটি তাইদিনের বেলা একটু লেখা লেখি ও ছবি একেই সময় কাটাই। দিনের রান্না হয়েগেছে ।খেয়ে নিয়ে একটু ঘুমিয়ে নিতে হবে, নচেৎ কখন আবার জিপ এসে হাজির হয় । ডাক পড়লেই যেতে হবে। তাসে যে ডিউটি ই থাকনা কেন।হঠাৎ শর্মা জি জিজ্ঞাসা করলেন যে আজকের তাজা খবর দেখেছি কি না।আমি দৌড়ে গেলাম ওনার ঘরে টিভির খবর শুনতে।টিভির দারুন খবর(9/11) 11ই সেপ্টেম্বর এমেরিকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আতঙ্ক বাদীর হামলা তে বিরাট ক্ষয় ক্ষতি। The Twin Towers of World Trade Center at Manhattan New York U.S.টু-ইন টাওয়ার সম্পূর্ণ ধংস।Terrorist attacks by terrorist groupAgainst the united states on the morning of September 11,2001 .The attacks resulted in 2,977 Fatalities over 25,000 injuries .এমন ঘটনা জানার পরে সকলেই খবর শুনতে ব্যস্ত ছিলাম। হঠাৎ অসীম এসে জানালেন ওরা কয়েকজন মিলে ধারে কাছে কোথাও ট্রেকিং করতে বার হতে ইচ্ছা করছে। সেই কারণেই আমার মতামত জানতে চাইছে, আমি জানালাম যে আমি একপায়ে খাড়া। তবে বর্তমানে নিরাপদে ট্রেকিং করার মতন ধারে কাছে দুটি পাহাড় ই আছে একটি পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড় আর এক টি বাঁকুড়ার শুশুনিয়া পাহাড়।এই সময়ে অযোধ্যা পাহাড় ঠিক হবে না কারন ওখানে একটু গোলমালের খবর পাচ্ছি। তোপচাচি,বা পরেশনাথ পাহাড় ও বর্তমানে নিরাপদ নয়। রাচি এনেক দূর হয়ে যাবে । তাই বাঁকুড়ার শুশুনিয়াই ঠিক হবে। বাঁকুড়ার ছাতনার কাছেশুশুনিয়া পাহাড়, পুর্বপশ্চিমে দৈর্ঘ্যে,প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার এবং উচ্চতা ১৪৪২ ফুট । বাংলার প্রাচীনতম শিলালিপির খোঁজ পাওয়া গেছে শুশুনিয়া পাহাড়ের প্রায় চূড়ার কাছে।প্রাক-মৌর্য যুগে দামোদরের দক্ষিণ তীরে পখন্নার আর্থিক সমৃদ্ধির নিদর্শন পাওয়াজায় এখানে।আর সে গুলি দেখতেই বার বার বহু মানুষ এখানে আসে ট্রেকিং করতে।
আবার বাংলা বিহার ঝাড়খণ্ডের বিশেষ উৎসব টুসু গান ও উৎসবের প্রাণ কেদ্র শুশুনিয়া পাহাড় ও পার্শবর্তী অঞ্চল। (সে কথা পরে লিখছি)।
যদিও আমি এর আগে বেশ কয়েকবার এখানে এসেছিলাম। যেহেতু আমি নিজে একজন ক্লাইম্বার এবং হিমালয় মাউন্টেনারিং ইনস্টিটিউটের একজন মেম্বার। অনেক পাহাড়েই ক্লাইম্ব করেছি।এভারেস্টেও চড়েছি।কিছু কেকর্ড ও আছে। এভারেস্ট বিজয়ী নয়। তবে এভারেস্টে ক্লাইম্বিং করেছি।আর এই শুশুনিয়াতে অনেক বার গেছি।ট্রেকিং করতে, কখনো ক্লাইম্বিং ট্রেনিং দিতে । কখনো নিজের ছেলে মেয়েকে নিয়ে বেড়াতে।এমনি করে বহুবার শুশুনিয়াতে এসেছি।
আমরা সকলে মিলে ঠিক করলাম যে দীপাবলির পরে পরেই আমরা রওনা দেব। সেই মতন দিন ঠিক হল 19 সে নভেম্বর সোমবার সকালে আমরা পুরুলিয়া থেকে পুরুলিয়া দুর্গাপুর DSTCর বাস ধরে দুর্গা পুর পৌঁছলাম।( আমরা মাঝপথেও নামতে পারতাম, কিন্তু মাঝরাস্তায় নেমে এতোলোক ও হাড়ি করাই নিয়ে যাবার জন্য কোন গাড়ি যদি না পাই তবে, মুশকিলে পরতে হবে । তা ছাড়া পুরুলিয়া বাস ডিপোতে থেকে আমাদের ফেরার বাস ঠিক করতে হবে। সেই কারনে আমরা সোজা পুরুলিয়া বাস ডিপোতেই পৌছেছিলাম।19 NOVEMBER 2001 monday দুর্গাপুর থেকে মেটেডো ভাড়াকরে শুশুনিয়া ।মেটেডো টা ভাড়া করা হল এই ভাবে যে ও 19তারিখ আমাদের শুশুনিয়াতে নামিয়ে দিয়ে একদিন পরে অর্থাৎ 21 তারিখ সকালে এসে আমাদের নিয়ে যাবে কুশস্থল আশ্রমে। রান্নার ঠাকুর, চাকর 3 জন ও আমরা 12 জন মোট 15 জন ছিলাম। প্রথমে মেটেডো দুই দিনের জন্য ভাড়া করবার প্লান ছিল।আমি অনেক বলে কয়ে প্লান টা একটু পাল্টে দিলাম ।কারন আমার ইচ্ছা সকলের সাথে আমার বিশেষ পিরিচিত সাধু বাবার ( আত্মানন্দ ব্রহ্মচারী) র একবার দেখা করিয়ে দিতে। শুশুনিয়া থেকে কুশস্থল আশ্রম কাছেই।তাই ঠিক করলাম ট্রেকিং শেষে এক দিন আমরা সকলে সাধু বাবার ( আত্মানন্দ ব্রহ্মচারী )সাথে দেখা করে, আশ্রমে দিনের বেলা খাবার খেয়ে পরের দিন সকালে বাস ধরে ধানবাদে ফিরবো ।সেই মতোই DSTC র বাসের ব্যবস্থা করে নিয়ে ছিলাম দুর্গাপুরের DSTC র ডিপোতে।দুর্গাপুর হাজারীবাগ রুটের DSTC র বাস।রুটের বাস তাই ভাড়াটা একটু কম দিতে হল। কারন পথে সাধারণ পেসেঞ্জার তুলবে।আমাদের তাতে কোন আপত্তি ছিলেনা কারন 15 জেনে পুরো বাসের ভাড়া অনেক বিরাট অঙ্কের বাজেট হয়ে যেত।তাই অল্পের মধ্যে দিয়ে রুটের বাসে ইঠিক করেছিলাম। আমরা 19 তারিখ যখন শুশুনিয়াতেপৌছেছিলাম তখন বেলা গড়িয়ে বিকেল। আর কিছু পরেই সন্ধ্যা নামবে।আমরা পাহাড়ের কাছে একটা ঘর ভাড়া করে নিলাম। আমাদের রান্নার ঠাকুররা তাড়াতাড়ি ব্যস্ত হয়ে পড়লো কোনমতে সেদ্ধ ভাত ফুটিয়ে নিতে।আমরাও সকলে হাতে হাত লাগিয়ে ওদের কাজের একটু সাহায্য করে দিতে লাগলাম। তার পরে তো রাত্রের ঘুম। 20 তারিখ সকালে ঘুম থেকে উঠে চা খেয়েই বেরিয়ে পড়লাম ট্রেকিংয়ের উদ্দেশ্যে দিনভর ট্রেকিং করলাম। অনেক দিন পরে আবার শুশুনিয়া পাহাড় দেখলাম। ইচ্ছা হচ্ছিল একটু ক্লাইম্বিং প্র্যাকটিস করি কিন্তু ভাগ্য খারাপ তাই কোন পার্টি আজ আসেনি ক্লাইম্বিং করতে। আসলে এই সময়ে কোন পার্টিই আসেনা। যাইহোক তবুও সকলকে দেখালাম কোন স্থানে কি ভাবে ক্লাইম্বিং প্র্যাকটিস করানো হয় । ক্লাইম্বিং, ল্যান্ডিং। নানান কায়দা কানুন মুখেই বর্ণনা করে শুনলাম। ভেবে ছিলাম মাউনটেনিং ক্লাবথেকে কিছু রোপ নিয়ে কিছু প্র্যাকটিক্যাল করে দেখবো । কিন্তু দুঃখের বিষয় সেদিন ওদের কোন সদস্য মারা গেছেন ( যদিও বয়স্ক মানুষ) তাই আজ ক্লাব বন্দ।যাইহোক সারাদিন পাহাড়ে আনন্দ করে শুশুনিয়া অন্য তম আকর্ষণ পেট পুরে ঝর্ণার জল খেয়ে। ফেরার সময় অনেকেই অনেক পাথরের মূর্তি শিব লিং,আর নানান উপকরণ কিনলো।এই শুশুনিয়ার ঝনার জলের বিশেষ এক মাহাত্ম্য আছে।পেট পুরে খাবার খেয়ে এক গ্লাস ঝর্ণার জল খেলেই দশ মিনিটের মধ্যে সব হজম হয় যাবে এবং আবার খিদে পাবে।অপূর্ব মিষ্টি এই ঝর্ণার জল।দূর দূর গ্রাম থেকে ছেলে মেয়েরা কলসি করে এই জল নিয়ে যায় খাবার জন্য। কেউ কেউ আবার তেঁতুল কুড়োলো।যদিও প্রায় তেঁতুল গুলিই বানর অর্ধেক খেয়ে বাকি টা নীচে ফেলে।
এভাবেই দিনটি উপভোগ করে, 21 তারিখে সকালেই পৌঁছে গেলাম সাধু বাবার কুশস্থল আশ্রমে ।আমরা আশ্রমে পৌঁছনোর পরে সাধু বাবা সকালেই গাড়ি পাঠিয়ে একজন স্কুল মাস্টারকে ডেকে আনলেন ।জানলাম উনি এই শুশুনিয়া নিয়ে এনেক গবেষণা করেছেন । তাই সাধু বাবা বললেন দুপুরে খাওয়া দাওয়া করে যেন আমরা এই মাস্টার মশাইয়ের কথা শুনি। আমরা সকলে যেন হাতে চাঁদ পেলাম । সকলেই বিষণ উৎসাহে বেলা দেড়টার সময়ে বসলাম মাস্টার মশাইয়ের কথা শুনতে।
মাস্টার মশাই বলতে শুরু করলেন,----বাঁকুড়ার ছাতনার কাছেএই পাহাড় পূর্ব পশ্চিমে দৈর্ঘ্যে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার এবং উচ্চতা ১৪৪২ ফুট । বাংলার প্রাচীনতম শিলালিপির খোঁজ পাওয়া গেছে শুশুনিয়া পাহাড়ের প্রায় চূড়ার কাছে। ছাতনা স্টেশন থেকে শুশুনিয়া পাহাড় কে দেখলে মনেহয় যেন বিশাল আকারের এক শুশুখ শুয়ে আছে। কেউ কেউ বলেন একটি হাতি শুয়ে আছে বলে মনে হয়।সে যাই হোক এখানে দামোদরের দক্ষিণ তীরে প্রাক-মৌর্য যুগের পখন্নার আর্থিক সমৃদ্ধির নিদর্শন পাওয়াজায়।এক সময়ে বাংলার লোকমুখে প্রচলিত ছড়া-সংস্কৃতির মধ্যে সমসাময়িক আঞ্চলিক সমাজ জীবন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভাঙাগড়ার ছবি মিলত। সম্রাট সমুদ্রগুপ্ত-র প্রতিপক্ষ রাজা চন্দ্রবর্মা শুশুনিয়া পাহাড়ের গুহাকে বিষ্ণুর মন্দির হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। পাহাড়ের শীর্ষ দেশে অতি দুর্গম স্থানে এই গুহার অবস্থান। নিরাপত্তার বিষয়ে এক কথায় অতি উত্তম স্থান বলা যায়। পাহাড়ের প্রায় চূড়ায় রয়েছে বাংলার প্রাচীনতম শিলালিপি যা চতুর্থ শতকে শিলালিপি রূপে খোদিত করেছিলেন রাজা চন্দ্রবর্মণ। নিকটেই তাঁর রাজধানী ছিল পুষ্করণা। ঐতিহাসিক শ্রী রমেশচন্দ্র মজুমদারের মতে রাজা চন্দ্রবর্মণ-এর সাম্রাজ্য ছিল ঢাকা ও ফরিদপুর পর্যন্ত। পশ্চিমবঙ্গে প্রাপ্ত প্রস্তরযুগের প্রত্ন অঞ্চলগুলির মধ্যে শুশুনিয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। বিশুদ্ধ স্ফটিক, কর্ণিকার স্ফটিক, গোলাপী রঙের আকরিক সমৃদ্ধ পাথর এখানে পাওয়া যায়। সেজন্য পুরাতাত্ত্বিক ও ফসিলক্ষেত্র হিসেবে ছোটোনাগপুর মালভূমি অঞ্চলে শুশুনিয়া পাহাড় পরিচিত। এখানে সিংহ, জিরাফ, হায়না সহ অন্যান্য অনেক জীবজন্তুর ফসিল পাওয়া গেছে। প্রস্তরযুগের অনেক প্রত্নসামগ্রীও পাওয়া গেছে। এমন সব কথা থেকেই জানাজায় খ্রিস্টিয় চতুর্থ শতকে এই জনপদ গড়ে ওঠার কারন। জানাজায় যে চন্দ্রবর্মা তাঁর বঙ্গবিজয়ের স্মারকরূপে এখানে আর একটি পুষ্করণা নগরী তৈরি করেছিলেন। বাঁকুড়ার বড়জোড়া থানার পখন্না নিয়েও প্রচলিত এক ছড়ায় কৃষিপ্রধান অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বিষয়ে জানাজায়। এছাড়াও জানলাম অনেক অজানা তথ্য।
আমরা দেখলাম শুশুনিয়া পাহাড়ের উত্তর ঢালে পাথরের গায়ে খোদিত এক লিপিমালা। লিপিটি খ্রিস্টিয় চতুর্থ শতকে খোদিত। সমুদ্রগুপ্তের সভাকবি হরিসেন রচিত ‘এলাহাবাদ প্রশস্তি’-তে চন্দ্রবর্মার উল্লেখ দেখে ইতিহাসবিদদের একাংশ মনে করেন, সমুদ্রগুপ্ত যে ন’জন রাজাকে পরাস্ত করে তাঁদের রাজ্য অধিকার করেছিলেন, চন্দ্রবর্মা তাঁদের এক জন। চন্দ্রবর্মার রাজত্বকালের ইঙ্গিত পাওয়া যায়, মধ্যপ্রদেশের মন্দসৌর থেকে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আবিষ্কৃত একটি শিলালিপিতে। দিল্লির মেহরৌলি লিপিতে রাজা চন্দ্রবর্মার উল্লেখ মেলে। এই লিপি অনুসারে, রাজা চন্দ্রবর্মা বিষ্ণুপদগিরিতে বিষ্ণুর ধ্বজা স্থাপন করেছিলেন। ভারতে গয়াক্ষেত্রে ও রাজস্থানের পুষ্করে বিষ্ণুপদগিরি আছে। ইতিহাসবিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, ‘এই বিষ্ণুপদগিরি পুষ্করে হওয়াই অধিক সম্ভব’। চন্দ্রবর্মার লিপি থেকে জানাজায়চন্দ্রবর্মা পূর্বে বঙ্গদেশ ছাড়া, পশ্চিমে হিন্দুকুশ পর্বতের কাছে বহ্লিকদেশ জয় করেছিলেন। শুশুনিয়া লিপি রাজা চন্দ্রবর্মার বঙ্গবিজয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিলা লিপিক প্রমাণ। রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ‘‘সমুদ্রগুপ্তের প্রশস্তি ও শুশুনিয়া লিপির চন্দ্রবর্মা এবং দিল্লির স্তম্ভলিপির চন্দ্র যে অভিন্ন, সে নিয়ে কোনও সন্দেহ নাই।’’তবে এটি বেশ স্পষ্ট ভাবেই বোঝাযায় যেশুশুনিয়া লিপির দু’টি অংশ। উপরের অংশে থাকা বৃত্ত বা চক্র থেকে কতগুলি রেখা বেরিয়ে এসেছে। এই রেখাগুলিও একটি বড় বৃত্ত বা চক্র দিয়ে ঘেরা। এই বৃত্তের সমান্তরালে থাকা আর একটি বৃত্ত থেকে চোদ্দোটি অগ্নিশিখা বেরিয়েছে। প্রতি অগ্নিশিখার পরে দু’টি অর্ধবৃত্ত খোদিত। অনেকের মতে এই লিপি বিবর্তনের প্রেক্ষিতে বলা যায়, শুশুনিয়ার লিপিটি ভাবলিপি। এমন লিপিতে কোনও বস্তু বা ভাবকে বোঝাতে পুরো ছবি না এঁকে সামান্য কিছু রেখা বা ‘মোটিফ’ ব্যবহার করা হত। পণ্ডিতেরা উক্ত ভাবলিপিকে ‘বিষ্ণুচক্র’ বলেছেন। এই বিষ্ণুচক্রের নীচে ও পাশে তিনটি ছত্রে খোদিত লিপি রয়েছে। এটি শুশুনিয়া লিপির দ্বিতীয় অংশ। সংস্কৃতে উৎকীর্ণ লিপির অক্ষর ব্রাহ্মি। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে এটি "দ্য ওল্ডেস্ট ব্রাহ্মি ইনস্ক্রিপশন ইন বেঙ্গল।"এই প্রসঙ্গে তাঁর ছাত্র অধ্যাপক সুখময় চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, " লিপি ব্রাহ্ম, নামান্তর গুপ্তলিপি। প, ম, হ, র প্রভৃতি কয়েকটি অক্ষর প্রায় আধুনিক বাংলা অক্ষরের মতো।"শুশুনিয়া লিপির গুরুত্ব আরও দু’টি কারণে। প্রথমত, রাজা চন্দ্রবর্মা স্বয়ং বিষ্ণুভক্ত ছিলেন প্রজারাও তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বিষ্ণু উপাসকে পরিণত হন। খ্রিস্টিয় চতুর্থ শতকের শুরুতে রাঢ়মণ্ডলে এই বিষ্ণুভজনা রাঢ়দেশ তথা সমগ্র বঙ্গে ক্রমে ছড়িয়ে পড়ে। দ্বিতীয়ত, বিষ্ণুসেবার জন্য ভূ-দানের সাক্ষ্য পাওয়া যায় শুশুনিয়া শিলালিপি মাধ্যমে।
এ সকল ছাড়া শুশুনিয়ায় চন্দ্রবর্মা খোদিত বিষ্ণুচক্র-র একটু নীচে বাঁ দিকে শঙ্খ আকৃতির মতো আরও একটি লিপি রয়েছে। তন্ত্রশাস্ত্রে দেবদেবীর পুজোয় শঙ্খমুদ্রার ব্যবহার দেখা যায়। কেউ কেউ মনে করেন, ওই লিপি তান্ত্রিক-শঙ্খলিপি। এখনও এইলিপি গুলির পাঠোদ্ধার সম্ভব হয়নি। অনেকেই মনেকরেন চন্দ্রবর্মার আগে শুশুনিয়া পাহাড়ে বৌদ্ধ শ্রমণেরা থাকতেন। মহাযান বৌদ্ধমতের সঙ্গে তান্ত্রিক যোগ ছিল। তাই শঙ্খমুদ্রার আকারে লিখিত এই লিপিটি বৌদ্ধ শ্রমণদের সাধন-সঙ্কেতও হতে পারে।কিন্তু এতোসবের পরেও যেন প্রদীপের নিচে অন্ধকার৷ পাহাড়ে রাজা চন্দ্রবর্মার প্রাচীণ শিলালিপির সংরক্ষণের উদ্যোগ নেই৷ এই অভিযোগ এখন ক্রমশই জোরালো হচ্ছে ৷
গল্প শোনার মাঝে দুবার চা একবার আশ্রমের দিদিরা দিয়ে গেলেন মুড়ি, গরম গরম আলুর চপ, বেগুনি আর চা। আমাদের রান্নার ঠাকুর রাত্রের খাবার বানালো। আলুর বিরিয়ানি। আর নানান রকমের ভাজা ও চপ। আমাদের সেদিন আড্ডা শেষ হলো প্রায় রাত্রি আটটায়। জানলাম অনেক অজানা তথ্য।
সকালে উঠেই সাধু বাবাকে প্রণাম করে, আমরা বেরিয়ে পড়লাম। DSTCর বাস ঠিক আটটায় হাজির।আমরা পূর্ব নির্ধারিত সকল কর্মসূচি ঠিক মতন সম্পন্ন করে 22 তারিখ সকালে DSTC র বাসেকরে রওনা দিলাম ধানবাদে।
এই ছিল আমাদের সেদিনের শুশুনিয়া ট্রেকিংএর ছোট্ট গল্প।
=====<--আদ্যনাথ রায় চৌধুরী-->=====
==========================
59/1>শুশুনিয়া পাহাড় ও টুসু উৎসব::--
টুসু= তুষু গানের প্রাণ কেন্দ্র এই শুশুনিয়া পাহাড় ও অঞ্চল।
শুশুনিয়া,বাঁকুড়া জেলার পাহাড়::--
পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্তিত একটি পাহাড়। এই পাহাড় ও তার ঝর্ণার জল ও সম্পূর্ণ অঞ্চলের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য বিখ্যাত।
শুশুনিয়া পর্বতারোহণ Rock Climbing এর শিক্ষা কেন্দ্র।
দূর অতীতে, শুশুনিয়া পাহাড় ও চারপাশে
মানুষ বাস করত। তাদের প্রাচীনত্ব আমাদের জানা পৃথিবীর প্রাচীনতম জনগোষ্ঠীর সমসাময়িক অথবা তাদের থেকেও প্রাচীনত্বের সাক্ষী বহন করে।
এই অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে
লোকসংস্কৃতির অমূল্য সব নিদর্শন।
বাঁকুড়া শহর থেকে পুরুলিয়ার পথে,
আঁচুড়ি, শালবনি, গৌরীপুরের পরে ছাতনা গ্রাম বাজার থেকে 10 কিলোমিটার দূরে।
অবস্তিত এই পাহাড়।
ছাতনা শহরের ১০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এই পাহাড় অবস্থিত।
ছাতনা শহরটি আবার বাঁকুড়া শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে বাঁকুড়া-পুরুলিয়া রোডের ধারে অবস্থিত।
শুশুনিয়ার কাছে শালতোড়া থানার নেতকমলা গ্রাম এবং ছাতনা ছানার বিন্ধ্যজাম গ্রাম দুটি বিখ্যাত ডোকরা শিল্পকেন্দ্র।
ছাতনা বিখ্যাত কারণ এখানেই মধ্যযুগের বিশিষ্ট কবি বড়ু চন্ডীদাসের জন্ম স্থান।
"শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" রচইতা বড়ু চন্ডীদাস।
আজও সংস্কৃতিপ্রিয় বহু মানুষের হৃদয়ে
বাশুলিদেবীর মন্দির, বড়ু চণ্ডীদাসের ভিটে, রামী ধোবানীর ঘাট, শাঁখাপুকুরের স্মৃতির স্বরণ করে। প্রতি বৎসর
মহাসমারোহে এখানে পালিত হয় চন্ডীদাসের মেলা।
ছাতনা বাজার ছড়িয়ে ডানদিকে গেছে শুশুনিয়ার পথ।
গোয়ালডাঙ্গা, শিউলিবনা,বনশোল, পাহাড়বেদ্যা এইসকল গ্রাম নিয়েই শুশুনিয়া অঞ্চল।
এই প্রাগৈতিহাসিক মনোরম শুশুনিয়া পাহাড়টি মোটামোটি 1442 ফুট উঁচু।
এই পাহাড় সঞ্চলে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান চালিয়ে বিশেষ প্রকারের হাতির জীবাশ্ম পাওয়া বেছে যে হাতির বৈজ্ঞানিক নাম
"Palaioloxodon namadicus)
" পালাইয়োলোস্কোদন নমাডিকাস"।
এখন যেসকল অস্ত্রদি পাওয়া গেছে সেগুলির আকৃতি ও নির্মাণশৈলী বিশেষ গুরুত্বপূর্ন এবং সেগুলি মোটা-মুটি খ্রীস্টপূর্ব 50,000 থেকে খ্রীস্টপূর্ব 25,000 বছরের মধ্যের অনুমান করা হয়।
এখানকার আবিষ্কৃত জীবাশ্ম সকল আরও প্রাচীন সময়ের।
1965 সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ শুশুনিয়া অঞ্চলের অনুসন্ধান করেন,
এহেন বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের পরিচনায়
উল্লেখ যোগ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন পরেশচন্দ্র দাশগুপ্ত।
অনুসন্ধান সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে
"এক সুদূর অতীতে শুশুনিয়া পাহাড়ের চারপাশের বলয়ভূমিতে এবং গন্ধেশ্বরী,
ধনকোড়া, বাঁকাজোড়া, হাড়োকা,
আমাগোড়া ইত্যাদি স্রোতস্বতীর তীরে একদা বিরাজিত এই মানব- সংস্কৃতি প্রকৃতই এশিয়া ইউরোপ এবং আফ্রিকায় বিরাজিত প্লিস্টোসীন অথবা
কোয়াটেরনারী যুগের বিভিন্ন সুপরিচিত
প্ৰত্নাশ্মীয় জীবনধারার সঙ্গে তুলনীয়।
এবং একথাও বলা হয়েছে যে
প্রস্তরযুগের প্রথম দিগে এশিয়া, ইউরোপ, এবং আফ্রিকায় একদা -প্রচলিত হাত-কুঠারের এক প্রকার কেন্দ্রস্থল যে ছিল শুশুনিয়া শৈলাঞ্চল ও গন্ধেশ্বরী নদী --আজ তা সপ্ৰমানিত।
অন্যান্য আবিষ্কারের মধ্যে এখানকার সুচারু আকৃতিবিশিষ্ট আয়ুধগুলি আজ তুলনীয় সুদূর উত্তর আফ্রিকায় অবস্তিত সিদি জীন এবং গ্রীস দেশে প্রসারিত
পিনডোস পাহাড়ের নিম্ন উপত্যকায় অবস্তিত পালাইয়োকাস্ট্রোনের শৈল-সমাবেশে আবিষ্কৃত গুলির সঙ্গে
সু-সামঞ্জস্য আকৃতির এশিউলীয় হাতকুঠারের সঙ্গে ।
এই অঞ্চলের পরিচিতি তার পুরাতাত্ত্বিক ও জীবাশ্ম ক্ষেত্রর জন্য। এখানে সিংহ, জিরাফ, হায়না ও অন্যান্য অনেক জীবজন্তুর জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে প্রাপ্ত প্রাচীনতম শিলালিপিটি এই পাহাড়েই অবস্থিত।
শুশুনিয়া গ্রামের পাথর খোদাই শিল্প খুবই জনপ্রিয়। এখানে অনেক প্রস্তরযুগীয় প্রত্নসামগ্রীও পাওয়া গিয়েছে। মনে করা হয়, প্রাচীনকালে রাজা চন্দ্রবর্মণ এখানে একটি দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন। শুশুনিয়ায় প্রাপ্ত একটু খ্রিষ্টীয় চতুর্থ শতাব্দীর শিলালিপি থেকে জানা যায় যে চন্দ্রবর্মণের রাজধানী ছিল পুষ্করণা শহর, যেটি বর্তমানে পোখরনা নামে পরিচিত।
এই পাহাড়ে কতগুলি গুহা আছে।
ঢেরী গুহা সমুদ্র তল থেকে প্রায় 1000
(এক হাজার ) ফুট উঁচুতে।
ভাল্লুক গুহা এটি প্রায় 500 (পঞ্চাশ) ফুট ওপরে।
ভরতপুর গুহা 1000 (হাজার ) ফুট ওপরে। এই গুহাটি পাহাড়ের পশ্চিম দিকের খরাইএর দিকে খুবই সঙ্কীর্ণ গুহা।
বিশিষ্ট ঐতিহাসিক ডঃ অতুল সুর বলেন
::--" শুশুনিয়া পাহাড়ের এক সময় বঙ্কগিরি নামেই অভিহিত হতো এবং
এই বঙ্কগিরি পাহাড়েই
শিবিরাজ বেসান্তর একটি আশ্রম স্থাপন করে শিবিধর্ম প্রচারে ব্রতী হয়ে ছিলেন
সেই আশ্রম টি 'বেসান্তর আশ্রম' রূপে জানা যেত।" এই সম্বন্ধে অনেক গল্প কথা প্রচলিত ছিল।
শুশুনিয়া পাহাড়ের নাম "শুঙশুমার" অর্থাৎ শুশুকের মতনই দেখতে বলেই এই পাহাড়ের নাম শুশুনিয়া। তবে একথা সত্যি যে ছতনা রেল স্টেশন থেকে শুশুনিয়াপাহাড় কে দেখতে ঠিক শুশুকের মতনই বা দূর থেকে দেখলে মনে হয় একটি হাতি বসে আছে তার মাথাটা ও নিচু করে মাটির উপরে রেখে হাতিটি ঘুমোচ্ছে।
তবে শুশুনিয়া পাহাড়ের নিকট বর্তি মানুষের কাছে এই পাহাড়ের তীর্থ মাহাত্ম্য আজও আছে।
এখানে প্রতি বৎসর চৈত্র মাসে "বারুনী মেলা" অনুষ্ঠিত হয়। শুশুনিয়ার ঝর্ণার জলে স্নান ও ওই জলপান এই মেলা বা পুণ্যকর্মের অঙ্গ।
এই শুশুনিয়া পাহাড়ের গায়ে কিছু প্রাচীন শিলালিপি আছে।
এইশিলা লিপিতে পুষ্করণের অধিপতি সিংহবর্মা ও তাঁর পুত্র চন্দ্র বর্বাম উল্লেখ আছে।
জানাজায় সমুদ্রগুপ্ত যে সমস্ত রাজাকে পরাজিত করে আর্যবর্তে সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিলেন তাদের একজনের নাম
চন্দ্রবর্মন। মনেকরা হয় এই চদ্রবর্মাই পুষ্কর অধিপতি চন্দ্রবর্মা এবং এই চদ্রবর্মাকেই পরাজিত করে সমুদ্রগুপ্ত পশ্চিম ও দক্ষিন বাংলা অধিকার করেছিলেন।
চদ্রবর্মা বিষ্ণুর উপাসক ছিলেন।
তাঁর সেই বিষ্ণু পুনার নিদর্শন হিসাবে এখানে বিষ্ণু চক্র ও পাওয়া যায়।
পাহাড়ের উপরে আজও আছে সেই বিষ্ণু চক্র। কেউ কেউ এই বিষ্ণু চক্র কে অশোক চক্র বলে ভুল করেন।
এখানে গ্রামে বিষ্ণু-বাসুদেব মূর্তি ও পাওয়া গেছে।
প্রাচীন ভারতে আর্যভাবনা-নির্ভর কৃষিভিত্তিক সমাজে বিষ্ণু দেবের স্ত্রী বা শক্তি হলেন লক্ষ্মী। এই শ্রী লক্ষ্মী হলেন কৃষি-লক্ষ্মী।
গবেষকদের অভিমত যে এই লক্ষ্মীদেবীর উল্লেখ কিছু পূজাগ্রন্থেও পাওয়া যায়।
এবং এই পূজা গুপ্ত সাম্রাজ্যের সময় থেকেই প্রচলিত ছিলো।
বিষ্ণু দেবের শক্তি বা স্ত্রী রূপে হলেও শ্রী লক্ষ্মী প্রকৃত শস্য, সৌন্দর্য, সম্পদের অধিষ্ঠাত্রী দেবী রূপেই বেশি স্বতন্ত্র মহিমাযেই প্রতিষ্ঠিত ।
চন্দ্রবর্মার সময়ে বা তাঁর রাজত্বকালের আগেও কৃষি জীবী মানুষ কমলা রঙের পাকা ধান মাঠ থেকে ঘরে তোলার সময় শ্রী লক্ষ্মীদেবীর প্রতীক ★★টুসুগান গাইত।
মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে কৃষিলক্ষ্মী
টুসু-পূজার প্রাচীনত্বের প্রমান পাওয়া যায়।
এই টুসু অর্থাৎ শ্রী লক্ষ্মী তিনিই আবার রাই বা কৃষিজাত রবিশস্য ধান, সরিষা,গুঞ্জা, তিল, রমা কলাই এর দেবতা।
পৌষ মাসে খেতে সরিষা জন্মে -- সরিষার নাম রাই।
আবার লক্ষ্মীদেবীর অপর নাম রাই।
রমা কলাইও এই মাসের উৎকৃষ্ট ফসল।
পিঠে পার্বন মাত্রেই রমার পুর অপরিহার্য।
কলাইয়ের নাম রমা--শ্রী লক্ষ্মীরই নাম।
আর এই সকল ঘিরিয়া পুষ্য বা বিষ্ণুর পূজা। তাঁরই শক্তি রূপিনী লক্ষ্মী কে লইয়াই দক্ষিণরাঢ়ের টুসু বা তুষু পার্বন।
আজও শুশুনিয়া অঞ্চলের আসে পাশে এবং পাথুরিয়া বা পাথর-কাটা নামে পরিচিত খয়রা, বাগদি, বাউরি সম্প্রদায়ের মানুষ পাথর খোদাই বা কুঁদে তুষুর প্রতীক মূর্তি তৈরি করে।
শুশুনিয়া পাহাড়ের উৎকীর্ণ বিষ্ণুচক্র সূর্যের প্রতীক রূপেও গণ্য করা হয়।
নানান গবেষণায় পাওয়া যায় যে তুষুগানের দেশ হিসাবে বাঁকুড়া চিহ্নিত।
পরবর্তী কালে এই তুষু গান ও তুষু পূজা ক্রমে পার্শ্ববর্তী জেলা পুরুলিয়া ও পাশাপাশি অন্যান্য জেলাতেও ছড়িয়ে পড়ে মানভূম, সিংভূম,সাঁওতাল পরগনা ,
রাঁচি, ধানবাদ, জামসেদপুর, হাজারিবাগ
প্রভৃতি বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পৌষের শীতের হওয়ার সাথে সোনালী ধানের শীষ গৃহ লক্ষ্মী রূপে গৃহস্থের গৃহের শোভা বাড়িয়ে তোলে কারণ তুষু অর্থাৎ রাই = রাধিকা= রাহী= লক্ষ্মী।
এই পৌষমাসের শস্যের উৎসব বা
ফসল কাটা উৎসব (Harvest Festival)
টুসু= তুষু গান ও পূজার উৎসব ।
লাল মাটির এই সুরলহরী মনে হয় বাংলা গানের ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে নানা ভাবে নানান দিকে।
"মাঠে মাঠে যখন আনম্র আমন ধানের সোনালি রঙ, তখন ধান কাটা ও ফসল তোলার কাল।" কৃষিজীবী গ্রামীন পরিবারের বালিকা, কিশোরী থেকে নববধূ সকলেই তাই অঘ্রান মাসের সংক্রান্তিতে
শস্যদেবী টুসুকে উঠোনে/ অঙ্গনে/গৃহপ্রাঙ্গণ প্রতিষ্ঠা করে।
একেই 'টুসু-পাতা' বলে।
সম্পুর্ন পৌষ মাস সন্ধ্যা কালে বন্দনাগীতি
চলে।
<-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী----->
========================
No comments:
Post a Comment