Friday, March 24, 2023

97>ভ্রমন চেন্নাই মহাবলীপুরম ও পন্ডিচেরী।

 

97>ভ্রমন চেন্নাই মহাবলীপুরম ও পন্ডিচেরী।

প্রথম দিন গন্তব্য স্থান মহাবলীপুরম।

      || মহাবলীপুরম ||
2007 জানুয়ারী অন্তরার চাকুরিতে পোস্টিং হল চেন্নাই শহরে।
সেই সুযোগে আমি ও সবিতা কিছুদিন ঘুরে দেখলাম চেন্নাই শহর ও আসে পাশের কিছু দর্শনীয় স্থান।

আমরা থাকতাম চিপক স্টেডিয়ামের কাছে। যাতায়াতের জন্য চিপক স্টেশনও ছিল খুব কাছে। 

( চিপক দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের চেন্নাই জেলার একটি অঞ্চল চিপক বা চেপবক্কম (M.A. Chidambaram International Cricket Stadium, also known as the Chepauk) মাদ্রাজ ক্রিকেট ক্লাব মাঠের‌ ঠিকানা বলতেই মূলত এই লোকালয়ের পরিচিতি। পূর্বে এ স্টেডিয়ামটি চিপক স্টেডিয়াম নামেও পরিচিত ছিল। চেপবক্কমের উত্তর দিকে ফোর্ট সেন্ট জর্জ, উত্তর-পূর্ব দিকে চেন্নাই বন্দর, পূর্ব দিকে মেরিনা সমুদ্র সৈকত, দক্ষিণ দিকে তিরুবল্লীকেণি, দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে রায়পেট্টা, পশ্চিম দিকে চিন্তাদ্রিপেট ও উত্তর-পশ্চিম দিকে দ্য আইল্যান্ড অবস্থিত৷)

আজ মহাবলীপুরম দর্শনের গল্প লিখতে শুরু করছি। আগামী কাল যাবো পন্ডিচেরী।

প্রথম দিন চেন্নাই শহর থেকে আমরা রওনা দিলাম মহাবলীপুরম।দুই দিন আগেই দুইদিনের জন্য বাসের টিকিট কেটে সিটি রিজার্ভ করে রেখেছিলাম।
এখানে বাস জার্নি খুবই আরাম দায়ক,
রাস্থাও খুব সুন্দর মসৃণ।
প্রথম দিন মহাবলীপুরম::--

চেন্নাই--মহাবলীপুরম::-----

(1984) উনিশশো চুরাশি সালে মহাবলীপুরমকে ইউনেস্কো

" ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট" হিসেবে  স্বীকৃতি দিয়েছে। 

মহাবলীপুরমের শিল্পনিদর্শন, শিল্প কীর্তি, এবং স্থাপত্য শিল্প রসিকদের বিশেষ দর্শনীয় স্থান।

মহাবলীপুরমের নির্মাণ শৈলী 

মামাল্লাশৈলীর কীর্তি।

এই মামাল্লা শৈলী হল খোলা আকাশের নিচে পাথরের গায়ে খোদাই করা  পৌরাণিক দৃশ্য। এই শিল্প কীর্তি ও স্থ্যাপত্য প্রায় বারো--তেরোশো বছরের পুরনো।

 

চেন্নাই  শহর থেকে প্রায় 60কি মি দক্ষিণে

বঙ্গোপসাগরের কূলে অবস্থিত মহাবলীপুরম।

Chennai,Tamil nadu----->to  Ponducherry 155 km.

Chennai to Mahabolipurm,--->60km

Mahabolipurm to pondicherry-->95km

চেন্নাই  শহর বঙ্গোপসাগরের কূলে অবস্থিত প্রাচীন শহর।

চেন্নাই অর্থাৎ পূর্বতন মাদ্রাজ/মাদ্রাস ভারতের তামিলনাড়ুর রাজধানী এবং দেশটির চতুর্থ বৃহত্তম মহানগরী শহর। এটি বঙ্গোপসাগরের করমণ্ডল উপকূলে অবস্থিত।

চেন্নাই  শহর থেকে প্রায় 60কি মি দক্ষিণে

বঙ্গোপসাগরের কূলে অবস্থিত মহাবলীপুরম বা মামাল্লাপুরম।

এখানকার রক-কাট বা পাথর কুঁদে তৈরি শিল্প কীর্তি বা রক- কাট আর্কিটেকচার,

যা শিল্পের বিচারে অজ্ঞতা, ইলোরা ও উদয়গিরি, খন্দগিরি গুহাগুলির থেকে গুরুত্বে কোন অংশেই কম নয়।

এখনো হয়তো কতো শিল্প কীর্তি চাপা পড়ে আছে এই মহাবলীপুরমের পাথরের অন্তরে। আজো আছে উদ্‌ঘাটনের অপেক্ষায়।

মহাবলীপুরম  করমন্ডল উপকূল বরাবর চেন্নাই থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
এবং চেন্নাই শহর থেকে ৫৬ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত৷

মহাবলীপুরম, বা স্থানীয় উচ্চারণে মামল্লপুরম, দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে অবস্থিত চেঙ্গলপট্টু জেলার একটি  নগর। খ্রিস্টীয় সপ্তম এবং অষ্টম শতাব্দীতে নির্মিত হিন্দু মন্দির "মহাবলীপুরম স্মারকের" জন্য এটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকাভুক্ত। ভারতের অন্যতম পর্যটন স্থান গুলির মধ্যে এটি একটি।

মহাবলীপুরম তামিলনাড়ু-এ অবস্থিত মহাবলীপুরম
স্থানাঙ্ক: ১২°৩৬′৫৯″ উত্তর ৮০°১১′৫৮″
জেলা--চেঙ্গলপট্টু
পিন-৬০৩১০৪

পল্লব সাম্রাজ্যের সময়কালীন রাজ্যের দুটি বড় বন্দর শহরের মধ্যে একটি ছিল মহাবলীপুরম। তৎকালীন পল্লব রাজা প্রথম নরসিংহবর্মণের আরেক নাম ছিল মহাবলী তার নাম অনুসারেই শহরটির নাম রাখা হয়েছিল। অর্থনৈতিক উন্নতির সাথে সাথে শহরটি বহু রাজপ্রাসাদ ও রাজকীর্তির নিদর্শন পাওয়া যায়।
এখানে রয়েছে ওই সময়কালে পাথর কেটে তৈরি করা বহু নিদর্শন।

খ্রিস্টীয় সপ্তম অষ্টম শতাব্দীতে নির্মিত কিছু কীর্তি হলো: রথের আকৃতিতে নির্মিত মন্দির , গুহার মতন আকৃতি উপাসনা হল , বৃহৎ আকৃতির গুহাচিত্র ও পাহাড়ের গায়ে নানান চিত্র, গঙ্গার অবতরণ চিত্র, এবং শিবের নামে উৎসর্গীকৃত মহাবলীপুরম তটমন্দির৷ তবে আধুনিক নগর পরিকল্পনা ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দের আশেপাশে ব্রিটিশদের দ্বারা তৈরি৷

মহাবলীপুরম অন্যান্য আরো অনেক নামে পরিচিত যেমন মামল্লপুরম ও মামল্লপাটনা৷ "মহাবলীপুরম" শব্দের আক্ষরিক অর্থ 'অধিক বলশালী ব্যক্তির বাসস্থল'৷ বিদেশি নাবিকদের কাছে মহাবলীপুরমের আরেকটি পরিচিত নাম ছিল, মার্কো পোলোর সময় কালে এটি "সেভেন প্যাগোডা" বা সপ্তমন্দির নামে তরিচিত ছিলো৷ এই সপ্তমন্দির প্রাঙ্গণের মধ্যে অক্ষত করেছে একমাত্র তটমন্দিরটি৷

মহাবলীপুরম তটমন্দির::--
মহাবলীপুরমের অবস্থিত মন্দির, পাথরের বহিরাবরণ এবং গুহাগুলিতে সুন্দর শিল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মহাভারত ও বিভিন্ন হিন্দু ধারার গল্পগুলিকে। পল্লব রাজা নরসিংহবর্মণ এবং তার উত্তরাধিকারী রাজসিংহবর্মণের সময়কালে এই কারুশিল্প গুলির সিংহভাগ তৈরি করা হয়েছিল। শিলাখণ্ড এবং মাপে মাপে আটকে দেওয়ার পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছিল। প্রথম নরসিংহবর্মণ খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে মহাবলীপুরম নগরীর পত্তন করেন। রথ আকৃতির ও মন্ডপ আকৃতির মন্দির গুলি গ্রানাইট পাথরের  তৈরি। আবার তট মন্দিরটি আরো ৫০ বছর পর অতিরিক্ত পাথরের টুকরো দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল। তট মন্দিরটির মধ্যে রয়েছে ১০০ ফুট লম্বা ৪৫ ফুট উঁচু গ্রানাইট পাথরের কারুকার্য।

এমটিসি এবং টিএনএসটিসি-এর ভিল্লুপুরম বিভাগ মহাবলুপুরমের সাথে অন্যান্য শহরগুলির বাস পরিবহন পর্যালোচনার দায়িত্বে রয়েছে৷ এমটিসি বাস পরিষেবার ক্ষেত্রে চেন্নাইয়ের বিভিন্ন স্থান থেকে বাতানুকুল বাসের ব্যবস্থা রয়েছে৷
মহাবলীপুরম থেকে সরাসরি নানান স্থানের সাথে বাস পরিষেবা আছে।
মহাবলীপুরম স্তম্ভসমূহের মধ্যে হাতির কারূশিল্প বিশেষ ভাবে লক্ষ করা যায়।

মহাবলীপুরমে উপস্থিত কৃষ্ণের মাখন নাড়ু
মূল নিবন্ধ: মহাবলীপুরম স্মারকসমূহ
শহরে অবস্থিত সপ্তম ও অষ্টম শতাব্দীতে নির্মিত স্মারক গুলি বর্তমানে ইউনেস্কো অনুমোদিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তকমা পেয়েছে।

এখানে রয়েছে চল্লিশটি প্রাচীন স্মারক এবং হিন্দু মন্দির। এরমধ্যে অর্জুনের প্রায়শ্চিত্তে গঙ্গাবতরণ বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তর অনাবৃত শিলা কারুকার্যগুলির একটি।  এই স্থানে রয়েছে বিভিন্ন শ্রেণীর স্মারক যথা: ৬৩০ থেকে ৬৬৮ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে নির্মিত রথ মন্দির, ৬৯৫ থেকে ৭২২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে নির্মিত মহাভারতের গল্প, শাক্তধর্ম, বৈষ্ণবধর্ম, শৈবধর্ম প্রভৃতির ওপর বর্ণিত বিভিন্ন কারুকার্য সংবলিত মন্ডপ মন্দির। এছাড়াও রয়েছে ষষ্ঠ শতাব্দীর ও তারও প্রাচীন গুহালেখের নিদর্শন। গুহা মন্দির এবং একশিলা মন্দিরগুলি পল্লব রাজাদের সময়কালে নির্মিত। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ বিভাগ এই ঐতিহাসিক বস্তুসমষ্টির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হল:

অর্জুনের গঙ্গাবতরণ বা অর্জুনের আক্ষেপ – এটি হলো বৃহত্তর অনাবৃত শিলা কারুকার্য
পঞ্চরথ – পাঁচটি একশিলায় নির্মিত পিরামিড আকৃতির মন্দির, যা পঞ্চপাণ্ডব ও তাদের স্ত্রী দ্রৌপদীর নামে নামাঙ্কিত।
গুহা মন্দির – এখানে অবস্থিত আটটি পাথর কেটে তৈরি করা মন্দির খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে নির্মিত। এগুলি হল বরাহ, আদিবরাহ, কৃষ্ণ, মহিষাসুরমর্দিনী, রামানুজ, ধর্মরাজ, কোনেরী, কোটিকল, পঞ্চপান্ডব মন্দির এবং অন্যান্য।
মহাবলীপুরম তটমন্দির – সমুদ্র তীরে অবস্থিত শিবের নামে উৎসর্গীকৃত একটি মন্দির।
অন্যান্য মন্দিরের মধ্যে রয়েছে ওলক্কনেশ্বর মন্দির, লাইট হাউজ, আরো কিছু শিলা নির্মিত কারুকার্য, দ্রৌপদীর স্নানঘর প্রভৃতি।
স্থলশয়ন পেরুমাল মন্দির বা তিরুকডলমাল্লাই বিষ্ণুকে উদ্দেশ্য করে নির্মিত মন্দির।

বারো-তেরোশো বছর আগে পহ্লব রাজাদের সময় আজকের চেন্নাই শহর থেকে মাত্র ষাট কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের তীরের পাথুরে এলাকায় যে আশ্চর্য শিল্পকীর্তি সৃষ্টি হয়েছিল, আজ তা ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় স্থান পেয়েছে। মহাবলীপুরমের পাথর-খোদাই শিল্পনিদর্শন ভারতের পশ্চিম কূলের গুহামন্দিরগুলির থেকে কোনও অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে সাহেবদের নজর পড়ে এখানে, আর ১৭৮৮ থেকেই পঞ্চপাণ্ডবের রথ নামে লোককথায় পরিচিত শিল্পকীর্তির আলোচনা চোখে পড়ে।
মহাবলীপুরমের পাথর-খোদাই শিল্পনিদর্শন ভারতের পশ্চিম কূলের গুহামন্দিরগুলির থেকে কোনও অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
=======================

দ্বিতীয় দিন গন্তব্য পন্ডিচেরী বা পুদুচ্চেরি।

       || পন্ডিচেরি ||
দ্বিতীয় দিনে আমাদের গন্তব্য পুদুচ্চেরি বা পন্ডিচেরী। যেখানে আছে
" মিররা আলফাসা বা মাদার ও ঋষি অরবিন্দের" সমাধি ।

শ্রীঅরবিন্দ ও শ্রীমা (মীরা আলফাসা)
  গুরু ও শিষ্যার একই সমাধি বেদী।

শ্রীঅরবিন্দ (জন্মগত নাম: অরবিন্দ ঘোষ; ১৫ অগস্ট, ১৮৭২ – ৫ ডিসেম্বর, ১৯৫০)
১৯৫০ এর ৫ ডিসেম্বর মধ্যরাতে হঠাৎ
ইহ লোক ছেড়ে মহাপ্রয়ানের পথে পাড়ি দিলেন শ্রী অরবিন্দ। চলে গেলেন যোগী অরবিন্দ। পাঁঁচ দিন পর তার দেহ সমাধিস্থ করা হয় পণ্ডিচেরী আশ্রমের এক গাছতলায়। যে গাছের ফুল আজও ঝরে পড়ে তার সমাধির ওপর।

শ্রীমা মীরা আলফাসা( ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৮৪৮ - ১৭ নভেম্বর, ১৯৭৩ ) ছিলেন ফরাসি, আধ্যাত্মিক গুরু এবং শ্রী অরবিন্দের শিষ্যা ও সহযোগী।
ফরাসি বংশোদ্ভূত পূর্বাশ্রমের নাম ছিল মীরা রিচার্ড বা মীরা আলফাসা।
তিনি ভারতীয় গুরুকূলের পরিবেশ পছন্দ করতেন। তিনি ও তার স্বামী পল রিচার্ড ১৯১৪ সালের ২৯ শে মার্চ পণ্ডিচেরি আশ্রমে শ্রী অরবিন্দের কাছে দীক্ষা নিয়ে সেখানেই বসবাস করতে থাকেন।  প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তাঁদের পন্ডিচেরি ছেড়ে জাপানে যেতে হয়েছিল। সেখানে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে সাক্ষাৎ হয় এবং হিন্দু ধর্মের মর্মার্থ অনুধাবন করেন। ১৯২৬ সালের ২৪ নভেম্বর, মীরা আলাফাসা পণ্ডিচেরি ফিরে আসেন এবং স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থেকেন।
পরে তিনি শ্রী মা রূপে পরিচিতি লাভ করেন।
শ্রীমা 17 নভেম্বর 1973 ইহ লোক ছেড়ে মহাপ্রয়ানের পথে পাড়ি দিলেন।
20 নভেম্বর 1973 তাঁর দেহ সমাধিস্থ করা হয় পণ্ডিচেরী আশ্রমের তাঁর গুরু শ্রী আরবিন্দের সমাধির উপরি ভাগে।
একই সমাধি কক্ষের নীচের কক্ষে সাইত গুরু আর উপরে কক্ষে তাঁর  প্রধান শিষ্যা।
সেই ফুল গাছের নিচে ।
প্রকৃতি নিজেই রোজ সাজিয়ে দেয় তার ফুলদিয়ে সেই মহান সমাধি বেদী।

১৬৭৩ খ্রীষ্টাব্দে ফরাসিদের আগমনের সাথে সাথে আধুনিক  পন্ডিচেরী  তথা পুদুচ্চেরির ইতিহাসের সূচনা হয়। এটি ১৯৫৪ সালে ভারতীয় ইউনিয়নের একটি অংশ হয়ে ওঠে।
ক্ষুদ্র কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পন্ডিচেরী বা পুদুচ্চেরি ভারতীয় উপদ্বীপের পূর্বদিকে অবস্থিত।

কথিত আছে পন্ডিচেরী প্রাচীণ ঋষি অগস্ত্যের আবাসস্থল ছিল। পৌরাণিক কাহিনী ছাড়াও, এক প্রাচীন দূর্গের ভগ্নাবশেষ ও চোল মূদ্রার আবিষ্কার এটির গৌরবময় অতীতের প্রমাণ দেয়।
পন্ডিচেরী একটি সমু্দ্রতীরবর্তী সৈকত হওয়া সত্ত্বেও এটি সাধারণত সৈকত রিসর্টগুলি থেকে ভিন্ন। এখান কার প্রাকৃতিক ভূ-প্রকৃতির নগর ও মনোরম গির্জাগুলির মধ্যে ফরাসি আধিপত্য আজও বেশ পষ্ট রয়েছে।
পন্ডিচেরি ভারতের একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং স্থাপত্য সৌন্দর্যের জন্য এই বিচিত্র স্থানটি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন স্থান।
পন্ডিচেরিতে শ্রী অরবিন্দের আধ্যাত্মিক আবিষ্কারগুলিও এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আগ্রহের জায়গা করে তুলেছে।

পন্ডিচেরী বা পুদুচ্চেরির অবস্থান উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণদিকে তামিলনাড়ু দ্বারা বেষ্টিত, ভারতের দক্ষিণ অংশে বঙ্গোপসাগরের করমন্ডল উপকূলের উপর অবস্থিত।
অক্ষাংশ 11° 46" মিনিট থেকে 12° 30" মিনিট উত্তরের মধ্যে।
দ্রাঘিমাংশ 79° 36" মিনিট থেকে 79° 52" মিনিট পূর্বের মধ্যে।
এখানকার ভাষা তামিল, ইংরাজী, ফরাসি, তেলেগু ও মালায়লম। ধর্ম -হিন্দু, খ্রীষ্টান, মুসলিম এবং কিছূসংখ্যক জৈন, শিখ ও বৌদ্ধ, এখানে পরিদর্শনের সেরা সময় অক্টোবর -- থেকে  মার্চ।

পুদুচ্চেরির একটি সমৃদ্ধ অতীত রয়েছে। তবে, আজকের পুদুচ্চেরি ঋষি অরবিন্দের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত অরভিল্লে আশ্রমের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছে। বঙ্গোপসাগরের উৎকলিত জলোচ্ছাস ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশ্রিত আধ্যাত্মিক আকর্ষণ, পুদুচ্চেরিকে  আকর্ষণীয়  করে তুলেছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থা
রেল , সড়ক ও আকাশ সব রকম ভাবেই পৌঁছন যায় পুদুচ্চেরির বা পন্ডিচেরি তে।
পুদুচ্চেরির নিজস্ব রেলওয়ে স্টেশন রয়েছে; যা প্রতিবেশী শহর ও রাজ্যগুলির সঙ্গে সংযুক্ত করে।

সড়ক মাধ্যমে
পুদুচ্চেরিতে একটি ভালো সড়ক সংযোগ ব্যবস্থা এবং চমৎকার পরিকাঠমোগত সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

পন্ডিচেরী ফরাসিদের দ্বারা নির্মিত বিস্ময়কর ইমারতগুলি আধুনিক ফরাসি স্থাপত্যের গৌরবময় নিদর্শন রূপে চমৎকারভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই শোভনীয় শহরটির মধ্যে ফরাসি ও ভারতীয় সংস্কৃতির মিশ্রণ, একটি গ্রহণযোগ্য সামাজিক পরিকাঠামোকে তুলে ধরেছে।

পন্ডিচেরী ভ্রমণের সময় আমি এখান কার 21টি স্থান দেখেছি ::--

★1>শ্রী অরবিন্দ আশ্রম
★2>অরোভিল
★3>অরোভিল সৈকত
★4>প্রমনেড সৈকত
★5>আরুলমিগু মানাকুলা বিনয়গর মন্দির
★6>দ্য সেক্রেড হার্ট ব্যাসিলিকা
★7>রক বিচ
★8>নির্ভেজাল ধারণা ক্যাথেড্রাল
★9>শ্রী বরদরাজ পেরুমল মন্দির
★10>ফরাসি উপনিবেশ
★11>পন্ডি মেরিনা
★12>প্যারাডাইস বিচ
★13>আওয়ার লেডি অফ এঞ্জেলস গির্জাটিকে
★14>সমুদ্রতীরবর্তী প্রমোনাডে সাইকেল চালানো
★15>ফ্রেঞ্চ ফোর্ট ল্যূইস।*
★16>আয়ি মন্ডপম।*
★17>ব্যাক ওয়্যাটার লেক ও গার্ডেন।*
★18>ঊনবিংশ শতাব্দীর লাইট হাউস।*
★19>গভর্নমেন্ট পার্ক।*
★20>স্ট্যাচু অফ ডুপলেক্স।*
★21>ফ্রেঞ্চ ওয়্যার মেমোরিয়্যাল।*

প্রতিটি স্থানের সংক্ষিপ্ত বিবরণ::--

★1>শ্রী অরবিন্দ আশ্রম

পন্ডিচেরির শ্রী অরবিন্দ আশ্রম একটি আধ্যাত্মিক স্থান এবং পন্ডিচেরির শীর্ষ পর্যটন স্থানগুলির মধ্যে একটি।
শ্রী অরবিন্দ ও মায়ের আবাসটি তাঁদের পুদুচ্চেরিতে সাময়িক নিবৃত্তির সময়, ১৯২৬ সালে নির্মিত হয়েছিল।
সারা বিশ্ব থেকে অনুগামীরা মা এবং শ্রী অরবিন্দের আশীর্বাদ পেতে আশ্রমে আসেন। জায়গাটি আধ্যাত্মিকতার কেন্দ্রস্থল, এবং নিয়মিত ভাবে প্রতিদিন ধ্যানের সেশনগুলি পরিচালিত হয় যেখানে লোকেরা যোগদান করতে পারে।

এখানকার ক্যান্টিন অত্যন্ত সস্তায় দিনে তিনবার খুব সুন্দর নিরামিষ খাবার অফার করে এবং আপনি একদিন আগে থেকে কুপন বুকিং করে সেগুলি পেতে পারেন৷ আশ্রমের চারপাশের শান্তি ও নির্মলতা আপনাকে মুগ্ধ করবে এবং আপনাকে শ্রী অরবিন্দের জীবন সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে।

মহান দেশপ্রেমিক, জাতীয়তাবাদী, আধ্যাত্মিক নেতা ও গুরু – শ্রী অরবিন্দ ঘোষ তাঁর জীবনের আধ্যাত্মিক জাগরণের দিনগুলি পুদুচ্চেরিতে কাটিয়েছিলেন। এই মহান ভাবুক ব্যাক্তি বিশ্বের এই অংশে এতটাই জনপ্রিয় ছিলেন যে, আজও পর্যন্ত তিনি একই উৎসাহের সঙ্গে আরাধিত ও সম্মানিত হন। পুদুচ্চেরির অরবিন্দ আশ্রম,
যেটি ঋষি অরবিন্দ নিজেই তৈরি করেছিলেন, যেখানে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ
মানুষ ও ভক্ত গণ এই আশ্রম পরিদর্শনে আসেন। আশ্রমটি একটি তীর্থকেন্দ্রের মর্যাদা অর্জন করেছে এবং পুদুচ্চেরির এক অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
অরবিন্দ আশ্রম নিবন্ধিত ট্র্যাস্ট দ্বারা পরিচালিত হয়। আশ্রমের বিস্তীর্ন এলাকা  দেড় হাজার সদস্যের বাসভবন। সারা দেশ থেকে এবং বিশ্বের সমস্ত প্রান্ত থেকে আগত মানুষজন শ্রী অরবিন্দ সোসাইটি-তে সদস্যপদ গ্রহণ করেছেন।

আশ্রমের প্রধান ভবনটি ঘন সবুজ বৃক্ষ দ্বারা পরিবেষ্টিত, প্রাঙ্গনের পাশেই আচ্ছাদিত রয়েছে। স্থানটি সুন্দর ফুলের বাগান দ্বারা বিভূষিত, যার কেন্দ্র স্থলে
'মিররা আলফাসা বা মাদার ও ঋষি অরবিন্দের' সমাধি আছে।
একই সমাধিতে নিচে "মা" (মিররা আলফাসা বা মাদার) ও তার উপরে ঋষি অরবিন্দের' সমাধি আছে।
পুদুচ্চেরির নির্মল অরবিন্দ আশ্রম, উৎসবের সময় জেগে ওঠে। হাজার হাজার পর্যটক, অনুগামীবৃন্দ ও ভ্রমণার্থীরা এই স্থান পরিদর্শনে আসেন। বিপূল জমায়েত হওয়া সত্ত্বেও, সদস্যরা ভবনের অভ্যন্তরে নিয়মশৃঙ্খলা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে বজায় রাখতে সক্ষম হন।

★2>অরোভিল::--

পন্ডিচেরির কয়েক শত কিলোমিটার এলাকা জুড়ে, অরোভিল পন্ডিচেরির কেন্দ্রস্থলে একটি পরীক্ষামূলক জনপদ হিসাবে শুরু হয়েছিল। 1968 সালে
মিররা আলফাসা বা মাদার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত, শহরটি পন্ডিচেরির শীর্ষ পর্যটন স্থানগুলির মধ্যে একটি হয়ে উঠেছে। শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত সুন্দর মাতৃমন্দিরটি রজার অ্যাঙ্গার দ্বারা ডিজাইন করা হয়েছিল এবং এটি আধুনিক স্থাপত্যের একটি সত্যিকারের বিস্ময়।
পূর্ব অনুমতি নিয়ে মাতৃমন্দির পরিদর্শন করা যায়। চেম্বারগুলি ঘুরে দেখতে পারেন মানুষকে তাদের অভ্যন্তরের সাথে সংযুক্ত করার জন্য নিবেদিত। এছাড়াও আপনি অরোভিল সোসাইটির কাজ এবং এর দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে প্রচুর তথ্য পাবেন।

★3>অরোভিল সৈকত

পন্ডিচেরির শীর্ষ 15টি পর্যটন স্থান 3 উত্স: Pinterest অরোভিল সমুদ্র সৈকত বা অরো সৈকত অরোভিলের কাছাকাছি অবস্থিত। এই সৈকতে কম ভিড় এবং যারা ভিড় অপছন্দ করেন তাদের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ গেটওয়ে অফার করে। আপনি তীরে একটি সুন্দর পিকনিক করতে পারেন এবং আপনার পরিবারের সাথে কিছু মানসম্পন্ন সময় কাটাতে পারেন। আশেপাশে কেউ না থাকায় সমুদ্র সৈকতের দিকটি প্রকৃতির ফটোগ্রাফির জন্যও উপযুক্ত। পন্ডিচেরিতে অটো সার্ভিসের মাধ্যমে এই জায়গায় সহজেই পৌঁছানো যায়। আপনি এই সৈকতে স্নানও করতে পারেন, রক সৈকতের বিপরীতে যা মানুষকে পানিতে যেতে দেয় না। সামগ্রিকভাবে, অরো সৈকত হল একটি আদর্শ জায়গা যা আপনার লোকদের সাথে ছুটির দিনে আড্ডা দিতে এবং ভারতীয় সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য।

★4>প্রমনেড সৈকত::--
পন্ডিচেরির এটি একটি সমুদ্রতীরবর্তী হাঁটা যা কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। পাকা তীর এবং সুন্দর সৈকত বঙ্গোপসাগরের অত্যাশ্চর্য দৃশ্য দেখায়। পথটি ওয়ার মেমোরিয়াল থেকে প্রসারিত হয়েছে এবং ডুপ্লেক্স পার্কে শেষ হয়েছে। আপনি বিচরণক্ষেত্রে নৈমিত্তিকভাবে হাঁটাহাঁটি করতে পারেন এবং সৈকতের সৌন্দর্যে বিস্মিত হওয়ার সাথে সাথে কাছাকাছি দোকান ও রেস্তোরাঁগুলো ঘুরে দেখতে পারেন। সৈকতটি সাঁতারের জন্য অনুপযুক্ত, তবে আপনি বসতে পারেন বা তীরে শুয়ে পড়ুন এবং সুন্দর আবহাওয়া উপভোগ করুন।প্রোমেনেড সৈকতে সন্ধ্যাগুলি শান্ত এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কোনও যানজট মুক্ত।

★5>আরুলমিগু মানাকুলা বিনয়গর মন্দির::--

পন্ডিচেরির বিখ্যাত ধর্মীয় মন্দিরগুলির মধ্যে একটি। এই হিন্দু মন্দির পন্ডিচেরির সেরা পর্যটন স্থানগুলির মধ্যে একটি এবং ভারতীয় উপমহাদেশের আশেপাশের পর্যটকদের দ্বারা ঘন ঘন আসে। মন্দিরটি হিন্দু দেবতা গণেশকে উত্সর্গীকৃত, এবং ভক্তরা তাদের শ্রদ্ধা জানাতে এবং পূজা করতে ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে আসেন। সুন্দর মন্দির স্থাপত্যটি দক্ষিণ ভারতীয় মন্দিরগুলিতে জনপ্রিয়ভাবে পাওয়া ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় মোটিফগুলির স্মরণ করিয়ে দেবে। আপনি এই পুরানো মন্দির পরিদর্শন করতে পারেন এবং পন্ডিচেরিতে শত শত লোকের দ্বারা পূজা করা দেবতার এক ঝলক দেখতে পারেন।

★6>দ্য সেক্রেড হার্ট ব্যাসিলিকা

পন্ডিচেরির অনেকগুলি খ্রিস্টান ধর্মীয় স্থানের মধ্যে দ্য সেক্রেড হার্ট ব্যাসিলিকা একটি। গির্জার সমৃদ্ধ গোলাপী বাহ্যিক এবং ফরাসি নকশা এটিকে পন্ডিচেরির সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন স্থানগুলির মধ্যে একটি করে তুলেছে। ভারত এবং বিদেশের খ্রিস্টানরা এখানে প্রার্থনা করতে এবং এই সৌন্দর্য দেখতে আসেন। উচ্চ সিলিং এবং সমৃদ্ধ কাচের চিত্রগুলি একটি খুব প্রশান্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করে যেখানে আপনি নির্জনে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে বা কেবল স্থাপত্য দেখে অবাক হয়ে ঘন্টা কাটাতে পারেন। গির্জাটি নির্মিত হয়েছিল 1900 এবং ইউরোপে গথিক পুনরুজ্জীবন স্থাপত্য আন্দোলন দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিল। আপনি গির্জা অন্বেষণ করতে পারেন এবং এর ইতিহাস এবং নির্মাণ সম্পর্কে কিছু আশ্চর্যজনক তথ্য খুঁজে পেতে পারেন।

★7>রক বিচ::---

রক সৈকত প্রমোনেড সৈকতের একটি অংশ, যা যানবাহনের দ্বারা দুর্গম। সমুদ্র সৈকতের এই অংশটি বিশাল পাথর দ্বারা উপকূল থেকে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ। এই এলোমেলোভাবে স্থাপন করা পাথরগুলো অতিক্রম করে সমুদ্রে পৌঁছাতে হয়। সমুদ্রের গভীরতার অনিশ্চয়তার কারণে এখানে সাঁতার কাটা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তবে, আপনি অবশ্যই পাথরের পাশে বসে দূর থেকে সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। এছাড়াও আপনি স্থানীয় দোকান থেকে সুস্বাদু রাস্তার খাবারের স্বাদ নিতে পারেন এবং সমুদ্রের গর্জনকারী ঢেউ শুনতে পারেন। রক সৈকতে সূর্যাস্ত নিজেই একটি অনন্য রত্ন।

★8>নির্ভেজাল ধারণা ক্যাথেড্রাল::--

পন্ডিচেরির একটি রোমান ক্যাথলিক ক্যাথেড্রাল। এই ক্যাথেড্রালের একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং একটি সুন্দর কাঠামো রয়েছে। সাদা এবং সোনার ক্যাথেড্রালটি শক্তিশালী পর্তুগিজ এবং ফরাসি প্রভাবের সাথে নির্মিত, যা পন্ডিচেরির ভবনগুলির জন্য সাধারণ। ক্যাথেড্রালটি এখনও খুব সক্রিয় এবং প্রতি রবিবার ভর করে। আপনি 17 শতকের এই ক্যাথেড্রালটি দেখতে পারেন এবং এর সমৃদ্ধ সৌন্দর্যে ভিজতে পারেন। আপনি বিল্ডিংয়ের বাইরে ক্যাথেড্রালের বিশদ ইতিহাসও খুঁজে পেতে পারেন এবং পিতার কাছ থেকে কিছু তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। এই ক্যাথেড্রালটি আপনার ভ্রমণপথে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য পন্ডিচেরির সেরা পর্যটন স্পটগুলির মধ্যে একটি হবে।

★9>শ্রী বরদরাজ পেরুমল মন্দির::---

শ্রী বরদরাজা পেরুমল মন্দির পন্ডিচেরির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু মন্দির। এই মন্দিরটি শত শত ভক্তদেরও গ্রহণ করে যারা বিশেষভাবে পন্ডিচেরিতে আসেন এই স্থানে আসতে। মন্দিরটি ৩ য় শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছিল এবং হিন্দি দেবতা বিষ্ণুকে উৎসর্গ করা হয়েছিল। এই অতি প্রাচীন মন্দিরটি বৈষ্ণবদের উপাসনার জন্য একটি জনপ্রিয় স্থান। মন্দিরটি শুভ দিনগুলিতে নিয়মিত পূজা এবং বিশেষ পূজার আয়োজন করে। মন্দিরের স্থাপত্য আপনাকে সময়ের মধ্যে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে এবং আপনাকে 3 য় শতাব্দীর এবং অতীতে আরও দূরে কিছু আশ্চর্যজনক ভাস্কর্য দেখাবে। আপনি এখানে আপনার পূজা দিতে পারেন বা বাইরে থেকে মন্দিরের স্থাপত্য উপভোগ করতে পারেন।

★10>ফরাসি উপনিবেশ::---

পন্ডিচেরির ফরাসি উপনিবেশ হল যা সমস্ত পর্যটকরা যখন তারা সামাজিক মিডিয়া ওয়েবসাইটগুলি অনুসন্ধান করে তখন তারা দেখতে পায়৷ ভারতের সবচেয়ে মনোরম স্থানগুলির মধ্যে একটি, পন্ডিচেরির ফরাসি উপনিবেশ একটি জনপ্রিয় পর্যটক আকর্ষণ৷ অনেক ভ্রমণ উত্সাহী ফরাসিতে আসেন৷ উপনিবেশ তার নান্দনিক সৌন্দর্যের প্রশংসা করার জন্য। এখানকার ভবনগুলি বেশিরভাগই ফরাসি শৈলীতে এবং ঔপনিবেশিক আমলে ফরাসি বসতি স্থাপনকারীদের পুরানো বাসস্থান হিসাবে ব্যবহৃত হত। তাই, এই এলাকার আশেপাশের রাস্তা এবং ভবনগুলি আপনাকে অবশ্যই ফরাসি শহর এবং গ্রামের কথা মনে করিয়ে দেবে। এই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি দোকান এবং ক্যাফে রয়েছে, যেগুলি কিছু খাঁটি ফরাসি খাবারের জন্যও অন্বেষণ করা যেতে পারে৷ ফটোগ্রাফাররা এই এলাকার কিছু আশ্চর্যজনক প্রতিকৃতিতে ক্লিক করে বিস্ফোরণ ঘটাবেন৷

★11>পন্ডি মেরিনা:::---

উত্স: Pinterest পন্ডি মারিনা পন্ডিচেরির একটি নতুন বিকাশমান সমুদ্র সৈকত। আকৃষ্ট করতে এই সৈকতকে সাজিয়েছে সরকার পন্ডিচেরিতে আসা পর্যটকরা। পাকা পথ, আরামদায়ক হোটেল এবং পর্যাপ্ত বসার জায়গা এই সৈকতটিকে পরিবারের সাথে মানসম্পন্ন সময় কাটানোর জন্য উপযুক্ত করে তোলে। সৈকতটি প্রধান শহর এলাকা থেকে দূরে অবস্থিত এবং বেশিরভাগই ভিড়-মুক্ত থাকে। আপনি এই সৈকত পরিদর্শন করতে পারেন এবং ভ্রমণ থেকে পুনরুদ্ধার করার সময় নির্মলতা উপভোগ করতে পারেন। এলাকার স্ট্রিট ফুড হাব একটি বিশেষ আকর্ষণ এবং যতক্ষণ আপনি পন্ডি মেরিনায় থাকবেন ততক্ষণ আপনার স্বাদকে ব্যস্ত রাখবে।

★12>প্যারাডাইস বিচ::---

উত্স: পন্ডিচেরির পিন্টারেস্ট প্যারাডাইস বিচ হল আরও একটি নির্মল সৈকত যেখানে অল্প লোক রয়েছে। এই সৈকতটি সাঁতারের জন্যও উপযুক্ত কারণ উপকূলটি বেশ অ্যাক্সেসযোগ্য। বিস্তীর্ণ তীরে মানুষ নেই, এটি ভলিবলের মতো সৈকত গেমের জন্য সেরা জায়গা করে তোলে। আপনি সমুদ্রে শীতল সাঁতার কাটাতে পারেন বা স্থানীয় খাবারের সাথে দ্রুত পিকনিক করতে পারেন। শিশুরা বালির দুর্গ তৈরি করা এবং সমুদ্র সৈকতে সিশেল খুঁজে পাওয়া উপভোগ করবে। ফটোগ্রাফাররা এই প্রায় ফাঁকা সৈকত থেকে সূর্যাস্তের কিছু শ্বাসরুদ্ধকর ছবি তুলতে উপভোগ করবেন।

★13>আওয়ার লেডি অফ এঞ্জেলস গির্জাটিকে পন্ডিচেরির প্রাচীনতম গির্জাগুলির মধ্যে একটি বলা হয়৷ 19 শতকের গির্জাটি এখন এখানে একটি জনপ্রিয় পর্যটক আকর্ষণ। ভবনটি সংরক্ষিত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে যাতে লোকেরা এখানে এসে শান্তিতে প্রার্থনা করতে পারে। গির্জাটি ত্রিভাষিক এবং ফরাসি, তামিল এবং ইংরেজিতে প্রার্থনা করে। আপনি গির্জা অন্বেষণ করতে আসতে পারেন এবং Eglise de Notre Dame des Anges গির্জার গ্রিকো-রোমান সৌন্দর্যে বিস্মিত হতে পারেন।

★14>সমুদ্রতীরবর্তী প্রমোনাডে সাইকেল চালানো::------
পন্ডিচেরির মানুষ এবং পর্যটকরা শহরের চারপাশে সাইকেল চালাতে বা সাইকেল চালাতে পছন্দ করে৷ আপনি সমুদ্রতীরবর্তী প্রমনেড বরাবর একটি সাইকেল রাইড নিতে পারেন শীতল সমুদ্রের হাওয়া উপভোগ করতে এবং সন্ধ্যার সূর্যালোকে সেঁকে নিতে পারেন। পন্ডিচেরির চারপাশে একটি দ্রুত যাত্রা আপনাকে কিছু লুকানো রত্ন এবং ব্যক্তিগত আবাসিক স্থানগুলির সাথে উপস্থাপন করবে যা সরাসরি ফরাসি চলচ্চিত্র থেকে আসে। অদ্ভুত শহরটি আপনার প্রিয়জন এবং পরিবারের সাথে ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত। আমরা সন্ধ্যায় এবং সূর্যোদয়ের ঠিক পরে বাইক চালানোর পরামর্শ দিই। এছাড়াও আপনি সৈকতে সাইকেল চালিয়ে অন্য কারো আগে আশ্চর্যজনক সূর্যোদয় দেখতে পারেন।

★15>ফ্রেঞ্চ ফোর্ট ল্যূইস::--
পুদুচ্চেরির এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিস্তম্ভ এবং পুদুচ্চেরির বিভিন্ন আকর্ষণের মধ্যে এক অনবদ্য, পুদুচ্চেরির ফরাসি ফোর্ট ল্যূই, শহরের পর্যটক ও ঐতিহাসিক খামখেয়ালিদের মধ্যে খুবই প্রিয়। পুদুচ্চেরির ফরাসি ফোর্ট ল্যূই, পুদুচ্চেরিতে ফরাসিদের পূর্ব প্রতিষ্ঠান ছিল।

ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, পুদুচ্চেরিতে ফরাসি ফোর্ট ল্যূই ১৭০৯ সাল নাগাদ নির্মিত হয়েছিল। এটি একটি ফরসি দূর্গের শৈলীতে নির্মিত হয়েছিল, যা তথাকথিত বেলজিয়ামে ফরাসির তৌরনাই-তে ভৌবন দ্বারা প্রতিষ্টিত হয়েছিল। চমৎকারভাবে নির্মিত ফরাসি ফোর্ট ল্যূই হল একটি পঞ্চকোণ আকৃতির। এখানে পাঁচটি দূর্গ ও কয়েকটি দ্বার রয়েছে। পুদুচ্চেরির ফরাসি ফোর্ট ল্যূই-য়ের আকর্ষণীয় অংশ হল ভূ-গর্ভস্থ কক্ষ। এই কক্ষগুলি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য পণ্যের ভান্ডারের জন্য তৈরি হয়েছিল।

পুদুচ্চেরির ফরাসি ফোর্ট ল্যূই একটি পরিখা দ্বারা সীমান্তবর্তী রয়েছে। পুদুচ্চেরির ফরাসি ফোর্ট ল্যূই পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে শহরের সিটাডেল বা দূর্গ হিসাবে পরিবেশিত হয় এবং অনেক আক্রমণ ও দুর্যোগের প্রতিরোধ করেছে।

★16>আয়ি মন্ডপম।

পুদুচ্চেরির সর্বকালের সেরা প্রিয় সরকারি উদ্যান হল এই শহরের সবচেয়ে এক অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ। এই বিস্ময়কর উদ্যানটির কেন্দ্রে আয়ি মন্ডপম দাঁড়িয়ে রয়েছে। পুদুচ্চেরির আয়ি মন্ডপম হল শহরের এক অন্যতম বিস্ময়কর স্মৃতিস্তম্ভ এবং পুদুচ্চেরির এক অনবদ্য আকর্ষণ।

ঐতিহাসিকদের তথ্য অনুসারে, এটি ষোড়শ শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছিল। আয়ি নামক এক বারাঙ্গনার নামানুসারে এটির নামকরণ করা হয়। তিনি শহরে জল সরবরাহের তাগিদে এক জলাশয় নির্মাণের জন্য তাঁর নিজস্ব বাড়িটি বিনষ্ট করে ফেলেন। সেইসময় তৃতীয় নেপোলিয়ান ফ্রান্সের শাসক ছিলেন। পরবর্তীকালে, ফরাসি কর্তৃপক্ষ এই শহরের প্রতি তাঁর অবদানের কথা স্মরণে রেখে তাঁর নাম অনুযায়ী এটির নামকরণ করেন।

পুদুচ্চেরির চমকপ্রদ আয়ি মন্ডপম হল গভর্নমেন্ট পার্ক বা ভারতী পার্কের জনপ্রিয়তার পিছনে এক অন্যতম কারণ। স্তম্ভটি উদ্যানের কেন্দ্রে রাজকীয়ভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে, এটি দেখতেও চমৎকার। আয়ি মন্ডপম স্মৃতিস্তম্ভটি গ্রেকো-রোম স্থাপত্য শৈলীর সামঞ্জস্যতায় নির্মিত হয়েছিল। উদ্যানের ভিতর ভ্রমণার্থীরা এই বিস্ময়কর স্থাপত্য প্রতিভার উপস্থিতিতে বশীভূত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে সন্ধ্যার সময়, দীপ্তিময় আলোকসজ্জার সাহায্যে সুন্দর দেখায়।

গভর্নমেন্ট পার্কে অবস্থিত, শহরের রাতের আকাশে এক বিশিষ্ট ল্যান্ডমার্ক রূপে দাঁড়িয়ে থাকা উদ্ভাসিত আয়ি মন্ডপম, তার গৌরবময় উপস্থিতিকে সদম্ভে ঘোষিত করে।

আনন্দ রঙ্গ পিল্লাই মিউজিয়াম
পুদুচ্চেরির সুন্দর উপকূলীয় স্বর্গোদ্যান তার সামগ্রিক দৃশ্যের মহাকাব্যজনিত প্রেক্ষাপটের জন্য উল্লেখযোগ্য। সূ্র্য-চুম্বিত শ্বেত বালুকাময়ের বিরুদ্ধে পান্না সমন্বিত সবুজাভ সামুদ্রিক জলের কশাঘাত ছাড়াও পুদুচ্চেরি ইতিহাসের এক ফরাসি উপনিবেশের আবরণ। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটির ভূ-প্রকৃতিতে স্থিত উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক ইমারতগুলির মধ্যে, পুদুচ্চেরির আনন্দ রঙ্গ পিল্লাই মিউজিয়ামটি একটি বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে রয়েছে।

আনন্দ রঙ্গ পিল্লাই মিউজিয়ামের ভারতীয় উপমহাদেশে ফরাসি উপনিবেশের প্রাক্তন গভর্নর জেনারেল বা রাজ্যপাল ফ্র্যাঙ্কোয়িস ডুপ্লেক্স-এর প্রসিদ্ধ খেতাব অর্জনকারী হয়ে ওঠার দাবি রাখে। প্রাক্তন রাজ্যপালের মহিমান্বিত দিনগুলিতে, পুদুচ্চেরির পশ্চিম প্রান্তস্থিত এই প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভটি জনপ্রিয়ভাবে “নেটিভ কোয়ার্টারস” বা “স্থানীয় আবাসন” নাম দেওয়া হয়। সমসাময়িক ফরাসি ও ভারতীয় শিরোভূষণের এক চমকপ্রদ মিশ্রণ দ্বারা বর্ণিত এক অত্যাশ্চর্য্য স্থাপত্য, যা সেই যুগের রেওয়াজকে আজও পর্যন্ত পর্যটকদের আকর্ষিত করে।

পুদুচ্চেরিতে অবস্থিত এটি পুদুচ্চেরির রাজ্যপাল বা গভর্নর ডুপ্লেক্স-এর প্রসিদ্ধ শিরোভূষণ ছিল, এইসময় এটি ফরাসি মহিমায় বিস্তার লাভ করে। এছাড়াও “নেটিভ কোয়ার্টারস” নামে পরিচিত, এটি এক অন্যতম প্রাচীণ ইমারত যা পশ্চিম দিকে বিদ্যমান ছিল। সুবৃহৎ অট্টালিকাটিতে ডায়েরী বা দিনলিপির এক সুন্দর সংগ্রহের বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যেটি অষ্টাদশ শতাব্দীর ফরাসি ভারতের তথ্য ভান্ডার হিসাবে পরিবেশিত। আনন্দ রঙ্গ পিল্লাই অট্টালিকাটির স্থাপত্য ফরাসি ও ভারতীয় শৈলীর এক অনন্য মিশ্রণ।

আনন্দ রঙ্গ পিল্লাই মিউজিয়াম পুদুচ্চেরির রাজ্যপাল ডুপ্লেক্সের শিরোভূষণকে পালিত করেছিল, এইসময় এটি ফরাসি মহিমায় প্রস্ফূটিত হয়ে উঠেছিল। পিল্লাই-য়ের ডায়েরী বা দিনলিপিগুলির সম্পূর্ণতা অষ্টাদশ শতাব্দীর ফরাসি ভারতের তথ্য ভান্ডার হিসাবে উপস্থাপিত হয়।

তাঁর অট্টালিকাটি, ১৭৩৮ সালের কোনও এক সময় সম্পন্ন হয়, এটি পশ্চিম দিকের এক অন্যতম প্রাচীন ইমারত, পরবর্তীকালে এটি “নেটিভ কোয়ার্টারস” নামে পরিচিতি পায়। এটির স্থাপত্য ফরাসি ও ভারতীয় শৈলীর এক অদ্ভূত মিশ্রণের প্রতিনিধিত্ব করে।

★17>ব্যাক ওয়্যাটার লেক ও গার্ডেন।

পুদুচ্চেরির পর্যটন প্রসঙ্গে কথা উঠলে, এখানে সৌন্দর্য্যময় পর্যটন স্থলের কোনও ঘাটতি নেই। শান্তিপূ্র্ণ তবুও উদ্দীপক সমুদ্র সৈকত, অতীতের ঔপনিবেশিক স্মৃতিবেদনা জড়িত স্মৃতিস্তম্ভ ও পুদুচ্চেরির ব্যাক ওয়্যাটার লেক এবং গার্ডেন হল পুদুচ্চেরির প্রধান আকর্ষণ।

পুদুচ্চেরির ব্যাক ওয়্যাটার লেক এবং গার্ডেন সম্পর্কে কথা উঠলে, নির্দিষ্ট কয়েকটি জায়গার নাম উল্লেখ করা প্রয়োজন; সেগুলি হল –

●বোটানিক্যাল গার্ডেন।
দ্য গভর্নমেন্ট পার্ক বা ভারতী উদ্যান।
চুনাম্বর ব্যাকওয়্যাটার।
কেজহুর।
নিউ বাস স্ট্যান্ডের দক্ষিণদিকে অবস্থিত, বোটানিক্যাল গার্ডেন হল প্রকৃতিপ্রেমী ও সবুজায়নের সক্রিয় কর্মীদের জন্য ভীষণ আকর্ষণীয়। তাছাড়াও এটি তার বর্ণময় পুষ্প শয্যা, পাথর ও নুড়িপাথর সমন্বিত সারিবদ্ধ পথ ও অভুতপূর্ব বৃক্ষের সাথে সাধারণ পর্যটকদেরও আকর্ষিত করে। সুরেলা ঝর্ণাগুলি শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের একইভাবে পরিতৃ্প্ত করে তোলে। ভারতী পার্ক তার সবুজাভ তৃণভূমির দীর্ঘ প্রসারণ সহ পুদুচ্চেরি শহরের ফুসফুস রূপে পরিবেশিত হয়। এই সু-পরিচর্যিত উদ্যানটি কৃত্রিম পর্বতমালা, বিভিন্ন ধরনের গাছপালা, পুকুর ও গ্রানাইট পাথরে নির্মিত বেঞ্চের সঙ্গে সুশোভিত হয়ে উঠেছে। এটি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় পিকনিক স্থল।

চারশত বছরের পুরনো বট বৃক্ষের উপস্থিতির জন্য কেজহুর নামক গ্রামটি পরিচিত। পুদুচ্চেরির কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সবচেয়ে এক অন্যতম জনপ্রিয় এলাকা চুনাম্বর ব্যাকওয়্যাটার, প্রধান শহরের খুব সান্নিধ্যেই অবস্থিত। চুনাম্বর ব্যাকওয়্যাটার এলাকা বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম; যেমন – ইয়্যাচটিং, বোটিং, সান্ বাথিং ইত্যাদির জন্য একটি আগ্রহদীপ্ত স্থল। ক্রীড়া প্রেমীরা, খেলার সংস্থানের সঙ্গে এখানে বীচ্ ভলি, সমু্দ্র সৈকতে হর্স রাইডিং (ঘোড়ায় চড়া) এবং আরোও অনেক কিছুতে উৎসবমুখর হয়ে উঠবে। অনেকে প্রীতিকর ডলফিনদের দর্শক মনোরঞ্জনকারী কেরামতির দৃশ্যও দেখতে পারেন। এককথায়, যারা আনন্দ করতে ভালোবসেন তাদের এই স্থানটি পরিদর্শন করা আবশ্যক।

★18>ঊনবিংশ শতাব্দীর লাইট হাউস।

শহরের সবচেয়ে পরিদর্শীত পর্যটন স্থান, পুদুচ্চেরির ঊনবিংশ শতাব্দীর লাইট হাউস, গোরিমেদূতে অবস্থিত রেড হিলস-এর ওপর চমৎকারভাবে দন্ডায়মান। শহরের পশ্চিমী সীমান্ত থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পুদুচ্চেরির ঊনবিংশ শতাব্দীর লাইট হাউস, পুদুচ্চেরির আকর্ষণগুলির মধ্যে অন্যতম।

আরিয়াঁকূপ্পম আর্কিওলোজিক্যাল সাইট
পুদুচ্চেরির ক্রান্তীয় স্বর্গোদ্যান, জ্ঞানী পন্ডিতদের তাদের আধ্যাত্মিক ক্ষুধা মেটানোর প্রবণতার জন্য এক স্বপ্ন পূরণকারী গন্তব্যস্থল। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটি, পূর্বকালীন ফরাসি ঔপনিবেশের যুগবাহিত ইতিহসের মধ্যে অবগুন্ঠন হয়ে উঠেছে। আরিয়াঁকূপ্পম প্রত্নতাত্ত্বিক স্হানটি হল একটি ঐতিহাসিক সম্ভ্রান্ত স্থান যেটি পুদুচ্চেরির ইতিহাসে একটি বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে রয়েছে। একজন কিংবদন্তী জ্যোর্তিবিজ্ঞানী গুইল্যিউম ল্যে জেন্টিল সময়ের ঘূর্ণাবর্তে ১৭৬৮-১৭৭১ সালের মধ্যে কোনও এক সময়, পুদুচ্চেরির এই ক্ষুদ্র উপকূলীয় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটির পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। পরিদর্শনের সময়, কিছু জীর্ণ দেওয়াল, ইঁটের ঢিপি এবং আরিয়াঁকূপ্পম নামে অভিহিত একটি উদ্ভট নগরের মধ্যে কিছু আদিম কূয়োঁর জীর্ণ ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে তাঁর হঠাতই সাক্ষাৎ হয়, এই আরিয়াঁকূপ্পম নগরটি পুদুচ্চেরি থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে একটি ঢিঁল ছোড়া দূরত্বে অবস্থিত। এটি জ্যোর্তিবিজ্ঞানীর দূরকল্পী মস্তিষ্কের অনুসন্ধিৎসাকে জাগিয়ে তুলেছিল। তার সন্দেহ সঠিক প্রমাণ করে এবং প্রত্নতাত্ত্বিক খননকে দ্রুত সুনিশ্চিত করে, যা এক প্রাচীন গ্রামের ভগ্নাবশেষ।

আরিয়াঁকূপ্পম প্রত্নতাত্ত্বিক স্হানে বহুকাল আগেই ১৯৪০ সালে খনন করা হয়েছিল। প্রত্নতাত্ত্বিক স্হানের উত্তর সীমান্তের এক পুঙ্খানুপুঙ্খ অন্বেষণে ইঁট গুদামের ধ্বংসাবশেষ বেফাঁস হয়ে যায়, অন্যদিকে দক্ষিণের অঞ্চল বেশ কিছু জলাধার ও জল নিষ্কাশন নালী (ড্রেন) সহ বেশ কিছু প্রাচীন প্রাঙ্গনের উন্মোচন করে। মৃৎশিল্পের ধ্বংসাবশেষের এবং অন্যান্য ভারতীয় তথা ভূমধ্যীয় কিছু হস্তনির্মিত দ্রব্যের কয়েকটি টুকরো পুনরাবৃত্ত খননের দ্বারা উন্মোচিত হয়। অর্ধ মূল্যবান পাথর, পুঁতি এবং প্রাচীন রোমান হস্তনির্মিত দ্রব্য যেমন ওয়াইন (মাদক) ও সশের বয়াম ও বহু সংখ্যক জিনিসের সৌন্দর্য্য একটি গুপ্ত সংকেতকে উন্মোচন করে।

★19>গভর্নমেন্ট পার্ক।

পুদুচ্চেরি এক প্রাচীন ফরাসি উপনিবেশ হওয়ায়, ফরাসি আস্বাদনের সারাংশ অপরিবর্তিত রয়েছে, যেখানে ফরাসি-শৈলীর ঔপনিবেশিক স্থাপত্য স্পষ্টরূপে পরিলক্ষিত হয়; যা এই দর্শনীয় ভারতীয় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটিকে পরিবেষ্টিত ও বিভূষিত করে রেখেছে। পুদুচ্চেরির গভর্নমেন্ট পার্ক, এই অপরিহার্য ফরাসি স্থাপত্য প্রতিভার এক সক্রিয় বাহক।

পুদুচ্চেরি, বেশ কিছু অতীব সৌন্দর্য্যমূলক উদ্যান ও বাগিচার সাথে সজ্জিত একটি অত্যন্ত সু-পরিকল্পিত ও সু-পরিচর্যিত শহর, যেখানে আপনি যে কোনও সময় যেতে পারেন। পুদুচ্চেরির গভর্নমেন্ট পার্ক একটি অত্যাশ্চর্য্য ও শিল্পরুচিসম্মত বিনোদনমূলক উদ্যানের একটি অত্যাধুনিক উদাহরণকে তুলে ধরে, এটি তার বিহ্বল নির্মলতা দ্বারা এখানে ভ্রমণে আসা ব্যস্ততাহীন পর্যটক ও ভ্রমণার্থীদের মুগ্ধ করে।

পুদুচ্চেরির গভর্নমেন্ট পার্ক যথাযোগ্যভাবে প্রাচীন ঔপনিবেশিক শহরের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে অবস্থিত। এই অনন্য উদ্যানটির উৎপত্তির তাৎপর্য্যমূলক ঘটনা হল যে এটি বেশ কিছু সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ সরকারি ভবন; যেমন লেফটেনেন্ট গভর্নরের প্রাসাদ, বিধানসভা ক্ষেত্র, সরকারি হাসপাতাল, আশ্রম ভোজনশালা, সার্কেল ডি পুদুচ্চেরি প্রাইভেট ক্লাব ও প্রাচীন হোটেল কোয়্যালাইট দ্বারা পরিবেষ্টিত রয়েছে।

পুদুচ্চেরির এই সরকারি উদ্যানটি কেবলমাত্র ঘন সবুজাভ তৃণভূমি ও একটি অসাধারণ বাগানের পূষ্পশোভিত চিত্র অনুপম সৌন্দর্য্যই প্রদান করে না, বরং এখানকার নিবেদিত পুনুরুজ্জীবিত ও প্রাণবন্ততায় প্রমত্ত বাতাবরণ এটিকে শান্তিময়তার জন্য এক আদর্শ জায়গা হিসাবে গড়ে তুলেছে। সস্নেহে পুদুচ্চেরির ভারতী উদ্যান নামেও সুপরিচিত এই গভর্নমেন্ট পার্ক আপনার কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটিতে থাকাকালীন এক অতি আবশ্যক পরিদর্শনীয় স্থান।

★20>স্ট্যাচু অফ ডুপলেক্স::--

পুদুচ্চেরির স্ট্যাচু অফ ডুপ্লেক্স, অপরিহার্য ফরাসি সংযোগের যথাযোগ্যভাবে বর্ণনারূপে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
মহান ফ্রাঙ্কোয়েস ডুপ্লেক্স- এর খ্যাতির অনেক দাবী রয়েছে। ডুপ্লেক্স একজন দক্ষ প্রশাসক ছিলেন । মূ্তির্টি গর্বিতভাবে
২.৮৮ মিটার উঁচু  সুসজ্জিত স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে।

আরও একটি মূর্তি স্ট্যাচু অফ জোয়ান্ অফ আর্ক,কেন্দ্রশসিত অঞ্চলের রাজধানী পুদুচ্চেরি শহরে বিখ্যাত ফরাসি মহিলা জিয়ান্নেদ আর্ক-এর শ্রেষ্ঠ জয়োল্লাসের প্রতিকৃতি হিসাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি ইংরেজদের খপ্পর থেকে তাঁর দেশকে উদ্ধারে, খুবই তৎপরতার সাথে প্রতিক্রিয়া জানান। জোয়ান্ অফ আর্কের সাহস ও আত্মবিশ্বাস অপরাজিতভাবে রয়ে গেছে; এমনকি তিনি যখন যুদ্ধক্ষেত্রে গুরুতরভাবে আহত হন, তখনও তিনি তার পরাক্রমশীলতার পরিচয় দেন।

★21>ফ্রেঞ্চ ওয়্যার মেমোরিয়্যাল।

পুদুচ্চেরির কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য ফরাসি স্মৃতিরক্ষাকারী ইমারতের দ্বারা সন্দেহাতীতভাবে প্রদর্শিত হওয়ায় এখানে একটি শক্তিশালী ফরাসি সংযোগ বিদ্যমান রয়েছে, পুদুচ্চেরিতে তারই একটি জ্বলন্ত উদাহরণ হল ফরাসি ওয়্যার মেমোরিয়্যাল। বিভিন্ন ধরনের স্মৃতিস্তম্ভ, স্মারক ও অন্যান্য ঐতিহাসিক ইমারতগুলি উপকূলীয় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সামগ্রিক দৃশ্যের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিতে একটি গুরুত্বপূ্র্ণ ভূমিকা পালন করে। এগুলির মধ্যে, আড়ম্বরপূর্ণ ও ঐশ্বর্যশালী ফরাসি ওয়্যার মেমোরিয়ালটি পুদুচ্চেরির এক অন্যতম স্থাপত্য বিস্ময় রূপে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। গৌবার্ট এভ্যিনিউ নামে অভিহিত একটি সুন্দর বিহারে অবস্থিত, ফরাসি ওয়্যার মেমোরিয়ালটি সাহসী সংগ্রামীদের সম্মানে নির্মিত হয়েছিল, যাঁরা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁদের জীবন বলিদান দিয়েছিলেন।

ফরাসি ওয়্যার মেমোরিয়াল ও পুদুচ্চেরি পর্যটনের একটি লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হল ১৪-ই জুলাই অনুষ্ঠিত ব্যাস্টিল দিবস উৎসব, এইসময় স্মৃতিস্তম্ভটি তার শ্রেষ্ঠ ভঙ্গিতে সুসজ্জিত ও আলোকিত হয়ে ওঠে। উৎসবের সমারোহ ও জাঁকজমকতা আকুল ভাবপ্রবণতা ও স্মৃতিবেদনার সাথে রঞ্জিত হয়ে পড়ে, যা পর্যটকদের মনে স্বদেশপ্রেমের উদ্রেক করে।

পুদুচ্চেরি বর্তমানে ভারতের এক অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিলাষী পর্যটন গন্তব্যস্থল। সমুদ্রতীরের অদ্ভূত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটি প্রাচীন ইতিহাসের আবরণে লুকিয়ে রয়েছে এবং ফরাসি সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের ছাপ এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।

শৌর্য্যপূর্ণ যোদ্ধাদের এক যথার্থ সমর্থনে, পুদুচ্চেরির ফরাসি ওয়্যার মেমোরিয়াল, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ঐতিহ্যের অন্য আরেকটি আলোচ্য বিষয়বস্তু।
==========================

         || ভ্রমন চেন্নাই ||

চেন্নাইতে আমাদের ঠিকানা ছিল চিপক, দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের চেন্নাই জেলার একটি অঞ্চল

চিপক বা চেপবক্কম (Near M.A. Chidambaram International Cricket Stadium, also known as the Chepauk)

মাদ্রাজ ক্রিকেট ক্লাব মাঠের‌ ঠিকানা বলতেই মূলত এই লোকালয়ের পরিচিতি। পূর্বে এ স্টেডিয়ামটি চিপক স্টেডিয়াম নামেও পরিচিত ছিল। 

চেপবক্কমের উত্তর দিকে ফোর্ট সেন্ট জর্জ, উত্তর-পূর্ব দিকে চেন্নাই বন্দর, পূর্ব দিকে মেরিনা সমুদ্র সৈকত, দক্ষিণ দিকে তিরুবল্লীকেণি, দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে রায়পেট্টা, পশ্চিম দিকে চিন্তাদ্রিপেট ও উত্তর-পশ্চিম দিকে দ্য আইল্যান্ড অবস্থিত৷

চেন্নাইতে থাকা কালে ঘুরে বেড়িয়েছি 

আসে পাশের নানা স্থানে।

সেদিনের সেই ভ্রমনের করছি স্বরণ

ভ্রমন চেন্নাইয়ের কিছু দর্শনীয় স্থান ::--


1. আদ্যার

2. আনা নগর

3. বেসন্ত নগর

5. মাইলাপুর

8. তিরুবনমিউর

চেন্নাই ভারতের বৃহত্তম কর্মসংস্থান হাব হিসাবে পরিচিত। এটি দুর্দান্ত স্বাস্থ্যসেবা, উচ্চ-সম্পন্ন শিক্ষাবিদ, প্রচুর সবুজ এবং দুর্দান্ত খাবারের মতো একটি দুর্দান্ত শহুরে জীবনধারা সরবরাহ করে। 

1. আদ্যার::---

এই অঞ্চলের মধ্যদিয়ের বয়ে গেছে 

আদ্যার নদী, সেই কারণেই এই অঞ্চলের নাম আদ্যার এবং এই নদীর কারনেই এই এলাকা সবুজ শ্যামল।

এই অঞ্চলটি আদিয়ার দক্ষিণ চেন্নাইতে অবস্থিত এবং এটি চেন্নাইয়ের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে বিশিষ্ট এলাকাগুলির মধ্যে একটি, সবচেয়ে ব্যয়বহুল জেলাগুলির মধ্যে একটি । এখানে রয়েছে গান্ধী নগর, কস্তুরিবাই নগর, নেহেরু নগর, ইন্দিরা নগর, ভেঙ্কটারথনম নগর এবং শাস্ত্রী নগর। 

যাতায়াতের জন্য  সুবিধা জনক স্টেশন 

 কস্তুরবা নগর স্টেশন, ইন্দিরা নগর স্টেশন এবং তিরুবনমিউর স্টেশন।

আদিয়ার প্রসিধ্ব গান্ধীনগর শপিং সেন্টার 

এখানে বেশ কিছু নামি দামি স্কুল

 কলেজ, হাসপাতাল, ব্যাঙ্ক এবং শপিং সেন্টারের আছে। আইআইটি মাদ্রাজ এবং বিখ্যাত আন্না বিশ্ববিদ্যালয়ও এখানে অবস্থিত। 

2. আনা নগর::--

আন্না নগর চেন্নাইয়ের সবচেয়ে বিলাসবহুল, প্রিমিয়াম এবং সুপরিকল্পিত আবাসিক নগর।

আন্না নগর তার বাংলো, অ্যাপার্টমেন্ট এবং পৃথক আবাসিক ভবনগুলির জন্য বিখ্যাত। 

এখানে যাতায়াতের জন্য আন্না নগর টাওয়ার, আন্না নগর ইস্ট, থিরুমঙ্গলম এবং শেনয় নগর মেট্রো স্টেশন।

এখানকার বিখ্যাত মল

Vivah Mall, 10 Square Mall এবং VR চেন্নাই মল। 

3. বেসন্ত নগর::---

বেসন্ত নগর হল বঙ্গোপসাগরের ধারে এলিয়ট বিচের উপকূলে চেন্নাই নদীর দক্ষিণ পরিধির একটি শীর্ষ ও সুন্দর আবাসিক এলাকা। এখানকার কাছের স্টেশন নন্দনম মেট্রো স্টেশন, টেইনামপেট মেট্রো স্টেশন, সায়দাবাদ মেট্রো এবং লিটল মাউন্ট মেট্রো স্টেশন।

5. শহর মাইলাপুর::--

ময়লাপুর হল মধ্য চেন্নাইয়ের প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে উন্নত অঞ্চলগুলির মধ্যে একটি, এর বিশিষ্ট এলাকা যেমন টি নগর, নুঙ্গামবাক্কাম, আলওয়ারপেট, কোডাম্বাক্কাম এবং টেইনামপেট এলাকার সীমান্তবর্তী। এই শহরটি কপালেশ্বর মন্দির এবং রামকৃষ্ণ মঠ ময়লাপুরের জন্য পরিচিত। এই অঞ্চল চেন্নাইয়ের অতীত এবং ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন স্বাক্ষী।

8. তিরুবনমিউর

তিরুভানমিউর হল দক্ষিণ চেন্নাই এর উন্নত আবাসিক এলাকা। তিরুভানমিউর সমুদ্র সৈকত হল এলাকার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। আশেপাশের অঞ্চলগুলি হল গুইন্ডি, ভেলাচেরি, তারামনি, মাদিপাক্কাম এবং পেরুংগুড়ি। এটি পৃথক মেঝে মধ্য-উত্থান কমপ্লেক্স দ্বারা প্রভাবিত হয়। চেন্নাইয়ের প্রথম ডেডিকেটেড অফিস সেন্টার, টাইডেল ইনফরমেশন টেকনোলজি পার্ক এই এলাকায় রয়েছে। তিরুভানমিউর, ইন্দিরা নগর, পেরুংগুড়ি এবং তারামণির রেলওয়ে স্টেশন খুঁজুন। কাছাকাছি কৃষ্ণ শপিং মল এবং আরও দূরে ফিনিক্স মার্কেটসিটি কেনাকাটা একটি দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা করে তোলে।

যদিও সম্পত্তির মূল্য তুলনামূলকভাবে গড় স্পট থেকে অনেক বেশি, তিরুভানমিউরের কিছু বিখ্যাত নামের প্রকল্পগুলিও লোকেদের তাদের ঠিকানা ব্যবহার করার বিকল্প দেয়। এলাকার কিছু প্রধান প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে জিভিএসপিএল মহামেরু, মায়ান্স লাক্সারি ভিলা, দ্য অ্যাট্রিয়াম, দ্য গ্র্যান্ড এবং হারমোনিস এমারল্ড।


==========================

■■■■■■■■■■■■■■■■■

    চেন্নাই:::--

দক্ষিণ ভারতের অন্যতম শহর চেন্নাই। এটি তামিলনাড়ু অঙ্গরাজ্যের রাজধানী। ব্রিটিশ ভারতে অঞ্চলটি মাদ্রাজ নামে পরিচিত ছিল। এখানে রয়েছে অনেক দর্শনীয় স্থান। আজ আপনাদের জানাবো চেন্নাইয়ে অবস্থিত ১০টি দর্শনীয় স্থান::-- 

১. মেরিনা সমুদ্রসৈকত ::--

চেন্নাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান হচ্ছে মেরিনা সমুদ্রসৈকত। পর্যটকরা প্রতি বছর এখানে আসেন। সমুদ্রমন্থনে সব বয়সের মানুষকে দেখা যায়। বিশেষ করে মধুচন্দ্রিমাযাপনরত দম্পতিকে এখানে বেশি দেখা যায়। সুন্দর সময় কাটানোর জন্য আপনিও ঘুরে আসতে পারেন চোখ জুড়ানো এই সমুদ্রসৈকত থেকে। 

২. এলিয়টের সমুদ্রসৈকত ::-

মেরিনা সমুদ্রসৈকতের পরেই রয়েছে এলিয়টের সমুদ্রসৈকত। এই সমুদ্রসৈকতে বন্ধু কিংবা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে প্রতি বছর হাজারো পর্যটক আসেন। এছাড়া অনেক দম্পতিকেও এখানে দেখা যায়। এই সমুদ্রসৈকতের আরেক নাম বেসান্ত সমুদ্রসৈকত। 

৩. আস্থালক্ষ্মী মন্দির::---

চেন্নাইতে বিদ্যা ও অর্থের দেবী আস্থালক্ষ্মীর মন্দিরটি বেশ প্রাচীন। বেসান্ত সমুদ্রসৈকত থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত খুব সুন্দর মন্দিরটি দেখলে মন ভরেজায় আনন্দে। অতি সুন্দর মন্দিরটি

বিশেষ দর্শনীয় স্থান।

৪. সরকারি মিউজিয়াম:;--

চেন্নাইয়ে অবস্থিত সরকারি মিউজিয়ামে রয়েছে প্রাচীন যুগের নিদর্শন। পর্যটকদের কাছে জায়গাটি খুব পছন্দের। প্রাচীন যুগের নিদর্শন দেখার জন্য বহু পর্যটক জায়গাটি ভ্রমণের জন্য বেছে নেন। ইতিহাস সম্পর্কে যদি আপনিও আগ্রহী হন তাহলে ঘুরে আসতে পারেন চেন্নাইয়ের সরকারি মিউজিয়াম থেকে। 

৫. গুইন্ডি ন্যাশনাল পার্ক::--

এটি একটি চিড়িয়াখানা। এখানে রয়েছে ৩০০ প্রজাতির বৃক্ষ ও চারাগাছ, ১৫০ প্রজাতির পাখি এবং ১৫ প্রজাতির প্রাণী। পর্যটকদের কাছে এটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় জায়গা। প্রকৃতিকে ভালো বাসলে আসবেই হবে এই গুইন্ডি ন্যাশনাল পার্কে। 

৬. শ্রীপার্থসারথী মন্দির::---

এখানে এই মন্দিরটি ভগবান শ্রীবিষ্ণুর মন্দির। 

এখানকার মসনুষ  শ্রীবিষ্ণুকে পার্থসারথী হিসেবে ভক্তি করেন। এই শ্রীপার্থসারথী মন্দির অষ্টম শতকে নির্মিত হয়েছিলো। মন্দিরটি পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। 

৭. কাপালিশ্বরের মন্দির;;--

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপাস্য শিবের মন্দির এটি। মন্দিরটি প্রতিষ্ঠার পর  পর্তুগিজদের দ্বারা লুণ্ঠিত হয় এবং পরবর্তীতে বিজয়নাগরা সাম্রাজ্য কর্তৃক তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়। মন্দিরটির পুরাকীর্তি দ্রাবিড় যুগ ও বিজয়নাগরা সাম্রাজ্যের সমন্বয়ে তৈরি। পর্যটকদের কাছে এটি জনপ্রিয় জায়গা। 

৮. কননেমারা পাবলিক লাইব্রেরি:--- 

বইপ্রেমীদের কাছে একটি পছন্দের জায়গা হলো কননেমারা পাবলিক লাইব্রেরি। লাইব্রেরিটিতে রয়েছে ভারত থেকে প্রকাশিত সব ধরনের গবেষণাভিত্তিক বই। ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব, চারুকলা থেকে শুরু করে সমসাময়িক গবেষণা জার্নাল পর্যন্ত সব বই এখানে পড়া যাবে। 

৯. মুরুন্ডেশ্বরের মন্দির::--

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপাস্য শিবের মন্দির এটি, একাদশ শতাব্দিতে প্রতিষ্ঠা করা হয়। মুরুন্ডেশ্বরের মন্দির দ্রাবিড় যুগের স্থাপত্যে নির্মিত হয়। 


১০. স্বামী বিবেকানন্দের বাসভবন::--

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে মহতী ব্যক্তিত্ব স্বামী বিবেকানন্দ ১৯০০ সালের দিকে এই বাসভবনে বসবাস করেছেন। বাসভবনটি দোতলাবিশিষ্ট। এখানে দেশি-বিদেশি সব বয়সের পর্যটক বেড়াতে আসেন।



=====================

চেন্নাই হল তামিলনাড়ুর রাজধানী শহর এবং একটি বিশিষ্ট ব্যবসায়িক কেন্দ্র, যা সুবিধামত সমুদ্রের কাছে অবস্থিত। এটি ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন গন্তব্য এবং ভ্রমণকারী এবং অ্যাডভেঞ্চার উত্সাহীদের জন্য প্রচুর সংখ্যক পর্যটন স্পট রয়েছে।

 চেন্নাইয়ে দেখার মতো জায়গার অভাব নাই। 

1>মেরিনা বিচ

2>চেন্নাই যাদুঘর:--

3>ব্রীজি বিচ

4>আরিগনার আনা জুলজিক্যাল পার্ক

5> ভাল্লুভার কোট্টম

6>- শ্রী অষ্টলক্ষ্মী মন্দির

7>এলিয়টস সৈকত

8> ভিজিপি গোল্ডেন বিচ

9>সেন্ট থমাস ক্যাথিড্রাল ব্যাসিলিকা

10>: হাজার আলোর মসজিদ

11> কপালেশ্বর মন্দির

12> আরুলমিগু মারুন্ডিশ্বর মন্দির

13> কোলি পাহাড়

14>- চেন্নাইতে কেনাকাটা


চেন্নাইয়ের সেরা পর্যটন স্থান মেরিনা বিচ;:--💐

চেন্নাইতে দেখার জন্য সেরা জায়গা এবং করণীয় মেরিনা বিচ চেন্নাইয়ের সবচেয়ে বিখ্যাত স্থানগুলির মধ্যে একটি এবং পর্যটকদের জন্য অবশ্যই একটি দর্শনীয় স্থান। ফোর্ট সেন্ট জর্জ থেকে ফোরশোর এস্টেট পর্যন্ত প্রসারিত, উপকূলটি পার্ক এবং দোকানে আচ্ছাদিত। আপনি সৈকত অন্বেষণ করতে পারেন এবং এটি অফার করে এমন আশ্চর্যজনক সূর্যাস্ত দেখতে পারেন। অতিরিক্তভাবে, সৈকতে প্রচুর স্ন্যাক স্টল রয়েছে যেখানে দর্শনার্থীদের জন্য ভাজা এবং পানি পুরি বিক্রি হয়। শিশুরাও সৈকতে উপলব্ধ বিভিন্ন রাইড উপভোগ করতে পারে।

চেন্নাই পর্যটন স্থান #2: চেন্নাই যাদুঘর

চেন্নাইতে দেখার জন্য সেরা জায়গা এবং করণীয় এগমোরে চেন্নাই সেন্ট্রাল মিউজিয়াম হল একটি বিখ্যাত যাদুঘর যা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত। যাদুঘরটি 1851 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটি ভারতের দ্বিতীয় প্রাচীনতম যাদুঘর। জাদুঘরটি রোমান প্রত্নবস্তু এবং প্রাচীন ব্রোঞ্জ মূর্তি সংগ্রহের জন্য বিখ্যাত। পুরানো ভাস্কর্যগুলির প্রদর্শনগুলি 1000 খ্রিস্টপূর্বাব্দে এবং আরও পরে। আপনি প্রাঙ্গণ এবং গ্যালারীগুলি ঘুরে দেখতে পারেন কারণ এটি চেন্নাইতে প্রত্নবস্তু, পেইন্টিং, ভাস্কর্য এবং প্রাচীন জিনিসগুলি অন্বেষণ করার জন্য সেরা জায়গাগুলির মধ্যে একটি যা এর দেয়ালগুলিকে শোভিত করে৷ এছাড়াও প্রাঙ্গনে একটি স্যুভেনিরের দোকান রয়েছে যা উপহার এবং হস্তশিল্পের সামগ্রী বিক্রি করে। আপনি এখানে কেনাকাটা করতে পারেন এবং আপনার পরিবার এবং বন্ধুদের জন্য তামিলনাড়ু থেকে একটি টোকেন ফেরত নিতে পারেন।

চেন্নাই দেখার জায়গা #3: ব্রীজি বিচ

 বাল্মিকি নগরের ব্রীজি বিচ চেন্নাইতে দেখার সেরা জায়গাগুলির মধ্যে একটি। এই নির্মল সৈকতটি চেন্নাইয়ের শীর্ষ পর্যটন স্থানগুলির মধ্যে একটি। এটি ফটোগ্রাফারদের কেন্দ্রস্থল যারা প্রাকৃতিক ছবি তুলতে আসে সমুদ্র এবং তার তীরে। তুলনামূলকভাবে ভিড়হীন, আপনি এখানে সূর্যোদয় দেখতে বা দীর্ঘ দিন পর বিশ্রাম নিতে আসতে পারেন। আপনি কাছাকাছি হোটেল এবং রিসর্ট প্রচুর পাবেন. এমনকি যদি আপনি দূরে থাকেন, আপনি সর্বদা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর জন্য গণপরিবহন ব্যবহার করতে পারেন। নিশ্চিত করুন যে আপনি পর্যটন স্পটে কিছু আশ্চর্যজনক শট নিয়েছেন নিজের জন্য কিছু স্যুভেনির নিয়ে যেতে।

চেন্নাই #4-এ দেখার জায়গা: আরিগনার আনা জুলজিক্যাল পার্ক

 আরিগনার আন্না জুলজিক্যাল পার্ক (সংক্ষেপে AAZP) বা ভান্দালুর চিড়িয়াখানা, চেন্নাইয়ের ভান্দালুরে অবস্থিত। এটি মূল শহর থেকে একটি ছোট ড্রাইভ এবং চেন্নাই সেন্ট্রাল থেকে মাত্র 31 কিলোমিটার দূরে। চিড়িয়াখানাটি 1855 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটি ছিল ভারতের প্রথম পাবলিক চিড়িয়াখানা। 1,490 একর জুড়ে বিস্তৃত চিড়িয়াখানাটি প্রচুর সংখ্যক উদ্ভিদ এবং প্রাণীর আবাসস্থল। পার্কে আপনি বিভিন্ন ধরনের স্তন্যপায়ী প্রাণী, সরীসৃপ, মাছ এবং পাখি দেখতে পাবেন। এন্ট্রি ফি নামমাত্র। এটি চেন্নাইয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতীয় উদ্যানও। চেন্নাইতে দেখার জন্য এই সেরা জায়গাটি শিশুদের সাথে পরিবারের জন্য আদর্শ যারা চিড়িয়াখানার সমস্ত প্রাণী দেখতে এবং শিখতে উপভোগ করবে।

চেন্নাই #5 এর বিখ্যাত স্থান: ভাল্লুভার কোট্টম

চেন্নাই #6-এর পর্যটন স্থান: শ্রী অষ্টলক্ষ্মী মন্দির।

চেন্নাইয়ের শ্রী অষ্টলক্ষ্মী মন্দির বেসন্ত নগরে অবস্থিত। মন্দিরটি সম্পদ ও প্রাচুর্যের দেবী লক্ষ্মীকে উৎসর্গ করা হয়েছে। মন্দিরটি তুলনামূলকভাবে নতুন এবং এটি 20 শতকের শেষের দিকে নির্মিত হয়েছিল। মন্দিরটি পর্যটক এবং ভক্তদের জন্য উন্মুক্ত যারা ইচ্ছা করলে এখানে পূজা করতে পারেন। আপনি উপাসনা করতে মন্দির পরিদর্শন করতে পারেন, বা এর স্থাপত্যে বিস্ময়কর সময় কাটাতে পারেন। এলিয়টস বিচ কাছাকাছি অবস্থিত এবং বেশ সহজে ভ্রমণ করা যেতে পারে। আপনি এটিকে একটি ছোট ভ্রমণে পরিণত করতে পারেন এবং বেসন্ত নগরের শান্ত পরিবেশ উপভোগ করতে পারেন।

চেন্নাই  # 7: এলিয়টস সৈকত

 বেসান্ত নগরের এলিয়টস বিচ, মূল শহর থেকে সামান্য দূরে একটি অদ্ভুত সৈকত। এই সৈকতটি মেরিনা বিচ থেকে বেশ আলাদা কারণ এতে ভিড় এবং কোলাহল নেই। ছোট নির্মল সৈকত এমন লোকদের জন্য উপযুক্ত যারা ভিড় এড়াতে চান এবং পছন্দ করেন না জলে পৌঁছানোর জন্য বালির মধ্য দিয়ে দীর্ঘ পথ ভ্রমণ করুন। আপনি একটি সর্বনিম্ন মূল্যের জন্য ব্যক্তিগত এবং পাবলিক ট্রান্সপোর্ট দ্বারা সৈকত পৌঁছতে পারেন. আপনি সমুদ্র সৈকতের পাশে একটি ছোট পিকনিক করতে পারেন এবং সন্ধ্যা এবং সূর্যাস্তের সময়গুলি শান্তি ও প্রশান্তিতে কাটাতে পারেন। আপনি যদি হোটেলগুলির একটিতে কাছাকাছি থাকেন তবে আপনি সূর্যোদয় পর্যবেক্ষণ করতে এবং সকালে তাজা সমুদ্রের হাওয়া অনুভব করতে সমুদ্র সৈকতে একটু হাঁটাও করতে পারেন।

চেন্নাই #8 এর কাছাকাছি পর্যটন স্থান: ভিজিপি গোল্ডেন বিচ

চেন্নাই #9 এ দেখার জায়গা: সেন্ট থমাস ক্যাথিড্রাল ব্যাসিলিকা

 চেন্নাইয়ের সেন্ট থমাস ক্যাথেড্রাল ব্যাসিলিকা বা স্যানথোম ক্যাথেড্রাল খ্রিস্টানদের একটি প্রধান তীর্থস্থান। ব্যাসিলিকাকে সেন্ট থমাসের বিশ্রামের স্থান বলা হয় এবং এটি 72 খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয়েছিল। ব্যাসিলিকার বর্তমান কাঠামোটি পর্তুগিজ এবং ব্রিটিশদের দ্বারা নিও-গথিক শৈলীতে তৈরি করা হয়েছে, যারা মূল চার্চকে পরিবর্তন করেছে এবং এর প্রাঙ্গণকে প্রসারিত করেছে। ব্যাসিলিকা শত শত পর্যটকদের গ্রহণ করে যারা তাদের শ্রদ্ধা জানাতে মন্দিরে ভিড় করে। ঝাড়বাতি এবং দাগযুক্ত কাচের জানালা সহ ব্যাসিলিকার একটি চিত্তাকর্ষক নকশা রয়েছে। আপনি সেন্ট থমাস যাদুঘর পরিদর্শন করতে পারেন সেন্টের ধ্বংসাবশেষ অন্বেষণ করতে এবং ভিতরে অবস্থিত ভূগর্ভস্থ চ্যাপেলে প্রার্থনা করতে পারেন।

চেন্নাই  #10: হাজার আলোর মসজিদ

উত্স: Pinterest চেন্নাইয়ের থাউজেন্ড লাইট মসজিদটি 19 শতকে উমদাত উল-উমারা দ্বারা নির্মিত হয়েছিল। আন্না সালাইতে অবস্থিত, মসজিদটি মুসলমানদের জন্য একটি আধ্যাত্মিক স্থান এবং এটি ভারতের মুঘল স্থাপত্য শৈলীকে প্রতিফলিত করে। আপনি মসজিদ পরিদর্শন করতে পারেন এবং এর ঐতিহাসিক তাত্পর্য সম্পর্কে আরও জানতে এর সৌন্দর্যে বিস্মিত হতে পারেন। এটি সুবিধাজনকভাবে শহরের মধ্যে অবস্থিত এবং রাস্তা দ্বারা সহজেই অ্যাক্সেসযোগ্য। আপনি একটি ব্যক্তিগত গাড়ি বেছে নিতে পারেন বা একটি স্থানীয় অটো নিতে পারেন এবং চেন্নাইয়ের যে কোনও জায়গা থেকে সহজেই পৌঁছে যেতে পারেন৷

চেন্নাই #11-এ দেখার জায়গা: কপালেশ্বর মন্দির

 মাইলাপুরের কপালেশ্বর মন্দির চেন্নাইতে দেখার জন্য একটি শীর্ষ স্থান। কপালেশ্বর মন্দিরটি ভগবান শিব এবং দেবী পার্বতীকে উত্সর্গীকৃত। মন্দিরটি হিন্দু তীর্থযাত্রীদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য উপাসনালয় শৈব ধর্মের ভক্ত। 7ম শতাব্দীর কাছাকাছি নির্মিত, মন্দিরটির একটি উজ্জ্বল দ্রাবিড় শৈলী রয়েছে, যা দেবতা এবং দানবদের ভাস্কর্য দিয়ে সম্পূর্ণ। চেন্নাইয়ের একটি প্রধান আধ্যাত্মিক স্থান, মন্দিরটি নিয়মিত পূজা পরিচালনা করে, যেখানে ভক্তরা যোগ দিতে পারেন। আপনি চেন্নাই শহরের ভ্রমণপথের অংশ হিসাবে মন্দিরটি দেখতে পারেন এবং এর শান্তিপূর্ণ প্রাঙ্গনে কিছু সময় কাটাতে পারেন।

চেন্নাই #12: আরুলমিগু মারুন্ডিশ্বর মন্দির

 চেন্নাইয়ের আরুলমিগু মারুন্ডিশ্বর মন্দির আরেকটি হিন্দু আধ্যাত্মিক স্থান। এই মন্দিরটি শৈবদের মধ্যে বিখ্যাত যারা হিন্দু দেবতা শিবের উপাসনা করে। মন্দিরটির একটি সুন্দর বাহ্যিক অংশ রয়েছে এবং প্রাঙ্গণটি পরিষ্কার এবং আদিম অবস্থায় রাখা হয়েছে। মন্দিরটি 6 ষ্ঠ শতাব্দীর গ্রন্থে প্রাসঙ্গিকতা খুঁজে পায়। মন্দির চত্বরের মধ্যে ঋষি বাল্মীকির একটি মন্দিরও রয়েছে, যিনি মহাকাব্য রামায়ণ লিখেছেন। আপনি মন্দিরের পুরানো স্থাপত্যটি অন্বেষণ করতে পারেন যা প্রধানত চোল সাম্রাজ্যের ঐতিহ্যকে অনুসরণ করে যার সময় প্রাঙ্গণটি সংস্কার করা হয়েছিল।

চেন্নাই নম্বর 13 এর কাছাকাছি পর্যটন স্থান: কোলি পাহাড়

চেন্নাই #14-এ করণীয়: চেন্নাইতে কেনাকাটা

 আমরা আপনাকে চেন্নাইতে শপিং অভিযান এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিই। চেন্নাইতে কিছু আশ্চর্যজনক মল এবং বাজার রয়েছে যেখানে বিভিন্ন দোকানে ব্র্যান্ডেড এবং হস্তনির্মিত স্থানীয় পণ্য বিক্রি হয়। আপনি এক্সপ্রেস অ্যাভিনিউ মল, ফোরাম মল, ফিনিক্স মার্কেটসিটি, ইত্যাদির মতো জায়গাগুলিতে যেতে পারেন, শীর্ষস্থানীয় দক্ষিণ ভারতীয় এবং পশ্চিমী ব্র্যান্ডগুলি থেকে কেনাকাটা করতে। স্থানীয় কিছু ঐতিহ্যবাহী দক্ষিণ ভারতীয় পণ্য যেমন পাট্টু শাড়ি, কাঞ্জিভরম, কেম্প জুয়েলারি, সোনার গয়না, বাড়ির সাজসজ্জা ইত্যাদির জন্য বাজার পরিদর্শন করা যেতে পারে। আপনি কিছু খাঁটি হস্তশিল্পের সামগ্রী এবং গয়না কিনতে কপালেশ্বর মন্দিরের পাশের বাজারটিও ঘুরে দেখতে পারেন।







,

No comments:

Post a Comment