95>|| রামকৃষ্ণ মঠ আঁটপুর ||
<---আদ্যনাথ--->
Ramakrishna Math Antpur
আঁটপুর রামকৃষ্ণমিশন::--
অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল আঁটপুর রামকৃষ্ণ মিশন দেখবার। মনের সেই ইচ্ছাকে পুরন করতে পৌঁছে গেলাম আঁটপুর রামকৃষ্ণমিশন। এই মিশনের কাছের রেল স্টেশন -হরিপাল।
Train station::--Haripal stn.
Howrah to Tarkeshwar local -->HARIPAL stn
Or
HWH to Arambag local--->Haripal stn.
Haripal stn to Antpur Ramakrishna Math by road 12km
তারকেশ্বর লোকালে হরিপাল স্টেশনে পৌঁছে হরিপাল স্টেশম থেকে ট্রেকারে করে পৌঁছে গেলাম মিশনে।
ANTPUT RAMAKRISHNA MATH,
Dt:--Hooghly. West Bengal
Pin::-- 712424.
Phone::---03212-259250/259910
Email= antpur@rkmm.org.
https.//www.rkmantpur.org.
আঁটপুর = Antpur.
পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার একটি গ্রাম। এটি তারকেশ্বর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। জমিদার আঁটর খাঁর নামানুসারে গ্রামের নামকরণ হয় আঁটপুর। এখানকার অপূর্ব সুন্দর টেরাকোটা বিখ্যাত মন্দির দেখে সত্যই অভিভূত হলাম। অভাবনীয় সুন্দর এই টেরাকোটার মন্দির। দেখলাম এই মন্দিরটি রাধাগোবিন্দজিউ মন্দির। যেটি প্রায় ১০০ ফুট উঁচু ।
জানলাম বর্ধমান রাজের দেওয়ান কৃষ্ণরাম মিত্র এই মন্দিরটি গঠন করান। মন্দিরটি নির্মাণ সম্পূর্ণ হয় ১৭৮৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৭০৮ শকাব্দে)। মন্দিরটির গায়ে অসাধারণ টেরাকোটা বা পোড়ামাটির কারুকার্য আছে। মন্দিরের ভিতের ইঁটগুলি গঙ্গামাটি ও গঙ্গাজলে তৈরি। টেরাকোটার বিষয়গুলি নেওয়া হয়েছে ১৮টি পুরান, রামায়ণ, মহাভারত, ভারতের ইতিহাস এবং মন্দির গড়ার সমসাময়িক বিষয় থেকে। মন্দিরটির চণ্ডীমণ্ডপ এবং দোলমঞ্চে কাঠের কারুকার্য আছে। এই আঁটপুর রাধাগোবিন্দজিউ মন্দির যে সময়ে নির্মিত হয়েছিল সে সময়ে মুসলমান রাজত্ব শেষের দিকে এবং ইউরোপিয়ানদের শক্তি ক্রমবর্ধমান। অনেকেই মনেকরেন যে কৃষ্ণরাম মিত্র হিন্দুদের উৎসাহ বৃদ্ধির জন্য এই মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন। এর আগে একমাত্র বিষ্ণুপুরেই টেরাকোটা মন্দির ছিল। আঁটপুরের রাধাগোবিন্দজিউ মন্দিরটির গায়ের টেরাকোটাগুলিতে ভারতের ইতিহাস পুরান এবং সর্বধর্ম সমন্বয়কে সার্থকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে এখানে রাধাকৃষ্ণ, দুর্গা ও চণ্ডী, বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। এছাড়া যুদ্ধের বিভিন্ন দৃশ্যও স্থান পেয়েছে। যুদ্ধের টেরাকোটা ভাস্কর্যগুলিতে অশ্বারোহী, গজারোহী এবং উটারোহী সৈন্যদের দেখা যায়। এছাড়া কামান এবং বন্দুক নিয়ে সৈন্যদের টেরাকোটাও দেখা যায়। হিন্দু পুরান ও ঐতিহাসিক চরিত্রের পাশাপাশি বিভিন্ন মুসলমান বাদশা, এবং এই টেরাকোটায়ই উরোপিয়ানদেরও তুলে ধরা হয়েছে। ★★মন্দিরটি সিল্ক রুটের উপর অবস্থিত হওয়ায় বহু সংস্কৃতির ছাপ এর উপর পড়েছে। রাধাগোবিন্দজিউয়ের মন্দিরটি কালের প্রভাবে বর্তমানে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত। তবুও বেশিরভাগ টেরাকোটাই এখনো ভাল অবস্থায় আছে। নিরাপত্তার কারণে বর্তমানে মন্দিরের ভিতরে প্রবেশ বন্ধ রয়েছে। মন্দিরের পোড়ামাটির কারুকার্যে মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গা, রাধাগোবিন্দজিউয়ের মূল মন্দিরটি ছাড়াও এখানে রয়েছে আরো পাঁচটি শিবমন্দির। এগুলির নাম হল যথাক্রমে ★গঙ্গাধর, ★রামেশ্বর (বড়শিব), ★বাণেশ্বর, ★জলেশ্বর, ★ফুলেশ্বর, এছাড়া রয়েছে★ দোলমঞ্চ। প্রত্যেকটি শিবমন্দিরের গায়েই টেরাকোটার কারুকার্য রয়েছে।
খড়ের ছাউনির চণ্ডীমণ্ডপ::--
রাধাগোবিন্দজিউয়ের মূল মন্দিরের উত্তরদিকে রয়েছে খড়ের ছাউনির চণ্ডীমণ্ডপ। এটি অসাধারণ কাঠের কাজের অন্যতম নিদর্শন। এটি প্রায় তিনশো বছরের পুরোনো এবং এর গায়ে কাঁঠাল কাঠের অসাধারণ কারুকার্য আছে। জানাজায় যে কৃষ্ণরাম মিত্রের পিতামহ কন্দর্প মিত্র এই চণ্ডীমণ্ডপে তার গুরুদেবের সাথে মহামায়ার পূজা করেছিলেন। এই পূজাবেদীতে এখনও শারদীয় পূজা এবং শ্যামাপূজা হয়। এই মন্দিরটির ঠিক সামনেই প্রায় পাঁচশো বছরের পুরোনো একটি ★বকুল গাছ আছে। গাছটি বহু ইতিহাসের সাক্ষী।
বাবুরাম ঘোষে (যিনি পরবর্তীকালে স্বামী প্রেমানন্দ বলে পরিচিত হন) তাঁর গ্রামের বাড়ি ছিল এই আঁটপুরে। তিনি ছিলেনন রেন্দ্রনাথের বন্ধু । বাবুরাম ঘোষের মা মাতঙ্গিনী দেবীর ডাকেই স্বামীজী সে দিন সকালে আঁটপুরে এসেছিলেন। স্বামী বিবেকানন্দ এবং শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের আরো আটজন শিষ্য ১৮৮৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ ডিসেম্বর তারিখের রাত্রেই তাঁরা এক কালজয়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সন্ন্যাস গ্রহণের সংকল্প করেছিলেন। এই আঁটপুরে স্বামী প্রেমানন্দের জন্মস্থানের উপর রামকৃষ্ণ-প্রেমানন্দ আশ্রম গড়ে উঠেছে। বর্তমানে এই স্থানটি রামকৃষ্ণ মিশন দ্বারা সংরক্ষিত। এখানে বহু ভক্তের সমাগম হয়। আঁটপুর গ্রাম হলেও বর্তমানে এটিকে আধা শহর বলা চলে। আঁটপুরের নিকটবর্তী টাউন রাজবলহাট এখানে সোনার কাজ ও হ্যান্ডলুম শাড়ির জন্য বিখ্যাত।
আঁটপুরের রাধাকান্ত জিউয়ের মন্দিরটি আসলে বৈষ্ণব মন্দির। ১৭০৮ খ্রিষ্টাব্দে বর্ধমান রাজার দেওয়ান থাকাকালীন কৃষ্ণরাম মিত্র সেই সময়ে এক লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন। পুরো মন্দিরটি তৈরি হয়েছিল গঙ্গাজল ও গঙ্গামাটি দিয়ে। মন্দিরের বর্তমান সেবায়েত সুদীপ কুমার মিত্র জানালেন এই তথ্য। তিনি আরও বলেন, এই মন্দিরের ভিতরে রয়েছে একশো আটটি পদ্মফুলের কাজ। উপরে রয়েছে রামায়ণ আর মহাভারতের বিভিন্ন চিত্র। আর বাইরে রয়েছে বুলন্দ দরওয়াজা, রাজস্থানের মিনিয়েচার, মিশরের ফেরাও, জব চার্ণকদের ছবিও। এই টেরাকোটার কাজের অপরূপ শিল্প দেখতেই বিভিন্ন দেশ ও রাজ্য থেকে পর্যটকরা ছুটে আসেন আঁটপুরে। আরও বিস্ময় কর ব্যাপার এটাই যে এই মন্দিরটি ব্যবলনীয়, মিশরীয় ও সুমেরীয় সভ্যতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আর পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র আঁটপুরের এই বৈষ্ণব মন্দিরেই কেবলমাত্র দুর্গা কালীর পুজো হয়। আর যা কি না চলে আসছে ৩৩৮ বছর ধরে!
দেখলাম মন্দিরের কাছেই অতি প্রাচীন সেই বকুল গাছটি। মন্দিরের পাশাপাশি এই বকুল গাছটিও এক উজ্জ্বল ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে আছে। জানা যায় যে ১৮৫৪ সালে দক্ষিনেশ্বরের পুরোহিত গদাধর (অর্থাৎ রামকৃষ্ণ পরহমংসদেব হওয়ার আগে) তাঁর দাদা রাজকুমারের টোলে এসেছিলেন। আর মিত্রবাড়ির দুই জমিদার পুত্র কালীচরণ আর উমাচরণ মিত্রের সঙ্গেই তাঁকে দেখা যেত এই বকুল গাছের তলাতেই গল্পে মশগুল হয়ে থাকতে। শুধু রামকৃষ্ণ পরমহংস বা স্বামী বিবেকানন্দ নয়, আঁটপুরে এসে থেকে গিয়েছেন সারদা মা-ও।
রাধাকান্ত জিউয়ের মন্দির সংলগ্ন আরও বেশ কিছু মন্দির আছে। বহু কালজয়ী ঘটনার সাক্ষী এই ভগ্নপ্রায় মন্দিরগুলি। এবং পাশেই খড়ের চালের চণ্ডীমণ্ডপে অসাধারণ কাঠের কাজ দেখলে অবাক হতে হয়।
মঠে পৌঁছবার জন্য সহজ উপায়::-
হাওড়া থেকে তারকেশ্বর, গোঘাট অথবা আরামবাগ লোকালে চেপে এক ঘন্টার পথ হরিপাল স্টেশন । সেখান থেকে ভাড়া গাড়ি বা ট্রেকারে মাত্র 20 কিলোমিটার পথ। সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায়।
★★বিঃ দ্রঃ ::--সিল্ক রুট::---
(রেশম পথ বা সিল্ক রোড প্রায় ৪০০০ মাইল (৬৫০০ কি.মি.) দীর্ঘ এই পথের নামকরণ করা হয়েছে চীনা সিল্ক ব্যবসার নামে যা হান রাজত্বকালে আরম্ভ হয়েছিলো। যদিও সিল্কই ছিল প্রধান পণ্য, অন্যান্য নানা পণ্যও এই পথে আনা-নেওয়া করা হত। এই পথ দক্ষিণ ইউরোপ হতে সৌদি আরব, সোমালিয়া, মিশর, পারস্য, ভারত,বাংলাদেশ, জাভা এবং ভিয়েতনাম হয়ে চীন পর্যন্ত চলে গেছে।)
<----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->
==========================
No comments:
Post a Comment