Wednesday, May 1, 2019

27>|| পিরামিড কি--||--গিজার পিরামিড:khufu/cheops--গল্প =ইতিহাস



  27 >  || পিরামিড কি-||গিজার পিরামিড----Khufu / Cheops গল্প=ইতিহাস
                             <---©-আদ্যনাথ--->



পৃথিবী অসংখ্য রহস্যের আজও উদঘাটন হয়নি । তবে এগুলো নিয়ে গবেষণা চলছে।  রহস্যময় পৃথিবীতে প্রাকৃতিক বা অ-প্রাকৃতিক রহস্যের সীমা নেই। এরমধ্যে আবার কিছু স্থান বা বিষয় রয়েছে যা অতি-প্রাকৃতিক। এ কারণে এগুলো যুগ যুগ ধরে মানুষের কাছে হাজারো রহস্যে ঘেরা। আধুনিক বিজ্ঞানের উৎকর্ষতাও এ রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি।
যে1eমন মিশরের পিরামিড কেন তৈরী করা হয়েছিল?h
এবং কিভাবে তৈরি করা হয়ে ছিল।

পিরামিড কাকে বলে,-----

পিরামিড (Pyramid) হলো এক প্রকার জ্যামিতিক আকৃতি বা গঠন যার বাইরের তলগুলো ত্রিভূজাকার (Triangular) এবং যারা শীর্ষে একটি বিন্দুতে মিলিত হয়। পিরামিড একটি বহুভূজাকৃতি ভূমির উপর অবস্থিত।
বহুভূজের উপর অবস্থিত যে ঘনবস্তুর একটি শীর্ষবিন্দু থাকে এবং যার পার্শ্বতলগুলো প্রত্যেকটি ত্রিভুজাকার, তাকে পিরামিড বলে।
পিরামিডের ভূমি যেকোনো আকারের বহুভূজ (Polygon) হতে পারে এবং এর পার্শ্বতলগুলো যেকোনো আকারের ত্রিভূজ (Triangle) হতে পারে।
একটি পিরামিডের কমপক্ষে তিনটি ত্রিভূজাকার পার্শ্বতল (Triangular outer surfaces) থাকে, অর্থাৎ পিরামিডের ভূমিসহ কমপক্ষে চারটি তল থাকে।
বর্গাকার পিরামিড (Square Pyramid) হলো এমন একটি পিরামিড যা একটি বর্গাকার ভূমির উপর অবস্থিত এবং যার চারটি ত্রিভুজাকার পার্শ্বতল আছে। এই ধরণের পিরামিডের বহুল ব্যবহার আছে।

পিরামিডের ডিজাইন এমনভাবে করা হয় যেব এর বেশি ওজন ভূমির নিকটে থাকে, ফলে এর আয়তনকেন্দ্র (Centre of volume) শীর্ষ হতে লম্ব দূরত্বের এক-চতুর্থাংশে অবস্থিত।

পিরামিড পৃথিবীর প্রাচীন সপ্তম আশ্চর্যেরএকটি।
প্রাচীন মিশর শাসন করতেন ফিরাউনরা
(প্রাচীন মিশরীয় শাসক বা রাজাদের ফিরাউন (Pharaoh) বলা হতো)। তাদেরকে কবর বা সমাধী দেয়ার জন্যই পিরামিড নির্মান করা হতো।

মিসরে ছোটবড় ৭৫টি পিরামিড আছে। সবচেয়ে বড় এবং আকর্ষনীয় হচ্ছে গিজা'র পিরামিড যা খুফু'র পিরামিড হিসেবেও পরিচিত। এটি তৈরি হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৫০০০ বছর আগে। এর উচ্চতা প্রায় ৪৮১ ফুট। এটি ৭৫৫ বর্গফুট জমির উপর স্থাপিত। এটি তৈরি করতে সময় লেগেছিল প্রায় ২০ বছর এবং শ্রমিক খেটেছিল আনুমানিক ১ লাখ। পিরামিডটি তৈরি করা হয়েছিল বিশাল বিশাল পাথর খন্ড দিয়ে। পাথর খন্ডের এক একটির ওজন ছিল প্রায় ৬০ টন, আর দৈর্ঘ্য ছিল ৩০ থেকে ৪০ ফুটের মত। এগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল দূর দুরান্তের পাহাড় থেকে। পাথরের সাথে পাথর জোড়া দিয়ে পিরামিড তৈরি করা হত।

চার হাজারের বছরের পুরানো এক সমাধিতে অঙ্কিত এক চিত্রে দেখা যায় এক বিশাল স্তম্ভকে স্লেজে করে সরানো হচ্ছে; অনেক মানুষ রশি দিয়ে সেই স্লেজ টেনে নিচ্ছে। আর তাদের মধ্যে একজন পাত্র থেকে জল ঢালছে বালির উপরে। এতে ঘর্ষণ প্রায় অর্ধেক হয়ে যায়। এভাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল আড়াই টন ওজনের এক একটা ব্লক।

কীভাবে এত বড় বড় বেলে পাথর উত্তোলন করে ওই বিশাল আয়তনের পিরামিড তৈরি করা হয়েছিল তার সঠিক মত পাওয়া যায় না।

 তবে ওই সব রহস্যময় পিরামিড় ও মমি নিয়ে সবচেয়ে বেশি সময় গবেষণা করেছেন জার্মানি প্রত্নতত্ত্ববিদ এডিস ভনভনির নাম উল্লেখ্যযোগ্য। তিনি সারাবিশ্বের অনেক পিরামিড নিয়েই খনন কাজ ও গবেষণা করেছেন। ফলে অনেক রহস্য, নতুন নতুন তথ্য আবিষ্কার করেছেন।

 পিরামিড মূলত প্রাচীন মানুষের সুরক্ষিত করব।
 তবে সবচেয়ে বড় আশ্চর্যের বিষয় হলো  প্রতিটি পিরামিড গ্রহ-নক্ষত্রের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি করা হয়েছে।
মিশরে গিয়ে  অবাক হয়ে বিস্ময়ের সঙ্গে ভাবতে হয় যে কীভাবে প্রায় একজন মানুষের সমান বর্গাকৃতির সিমেন্টর মতো তৈরি খন্ড-গুলো এত উপরে তুলে ওই পিরামিডগুলো তৈরি করা হয়েছে? কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে?

  বিশাল বিশাল পিরামিডগুলোর প্রাচীর নির্মাণ করতে ব্যবহার হয়েছিল প্রায় ১০০ টন ওজনের বেলে পাথরে খন্ড। সেগুলো নিখুঁত জ্যামিতিক মাপে তৈরি।

এখন প্রশ্ন হলো কেন এই পিরামিডগুলো তৈরি করা হতো? কেন মৃত মানব দেহকে মামি করে পিরামিডের মধ্যে রাখা হতো? এটা কি মুসলমানদের মতো পরকাল বা আখিরাতের ওপর বিশ্বাস করে? নাকি অন্য কোনো রহস্য রয়েছে। অতি হিমায়িত করে কোষগুলোকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখার চিন্তা ভাবনা, এই সে দিন মানুষের মাথায় এলো। অধ্যাপক এটিনজার, যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন ভবিষ্যতে মানুষের মৃতদেহকে নির্দয় ও অমানবিকভাবে পুড়িয়ে ফেলা হবে না। কবরে পচিয়েও ফেলা হবে না। রেখে দেয়া হবে হিমায়িত করে। তার পর চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে একদিন সেই মৃতদেহকে জীবিত করে তোলা হবে। তাহলে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০০ বছর আগেকার লোক কি জানতো এই প্রক্রিয়া? যা আজ ও আবিষ্কার হয়নি। মমি রহস্যের পেছনে এমন একটা চিন্তা ধারা থাকলে থাকতেও পারে। হয়ত তখনকার লোক জানতে পেরেছিল যে শরীরকে হিমায়িত করে রাখা যায়। তারা এও জানতো যে সুদূর ভবিষতের মানুষ একদিন এই মৃতদেহকে জীবিত করে তুলতে পারবে।
এহেন কারনেই আজ পর্যন্ত ইতিহাসের সবথেকে বড় রহস্যগুলির মধ্যে একটি মিশরের পিরামিড ।
আজ থেকে মোটামুটি সাড়ে চার হাজার বছর আগে যখন মানুষের কাছে হাতিয়ার আর টেকনোলজীর নামে কেবলমাত্র ছেনি আর পাথরের হাতুড়ি ছিল । তখন পঁচিশ লক্ষ বিশাল বিশাল পাথরকে কিভাবে সাজানো হয়েছে । তাছাড়া প্রত্যেক পাথরের ওজন আড়াইশো টনের থেকেও বেশি এবং কিছু কিছু পাথরের ওজনতো ৩০০ টনের থেকেও বেশি ।

তাই প্রশ্ন এটাই ওঠে যে মানবসভ্যতা যখন এতটাও বিকশিত ছিলনা তখন ৪৮০ ফুট উঁচু গিজার পিরামিড তৈরি করার জন্য এইসব পাথরগুলোকে এতো উঁচুতে কিভাবে তোলা হয়েছিল । তখন মিশরে কি এমন কিছু টেকনোলজি ছিল যেটা আজকের দিনের থেকে অনেক আগে ছিল যেটা সময়ের সাথে সাথে আজ বিলুপ্ত হয়ে গেছে নাকি এর পেছনে এলিয়েন সভ্যতা যুক্ত ছিল ?

ইজিপ্ট ছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় পিরামিডের অস্তিত্ব আছে । যেগুলি সবই এক একটি সমাধি কিন্তু এইসব সমাধির মধ্যে সবথেকে বিশাল আর অদ্ভূত গিজার বিশালকায় পিরামিড । একটি থিওরি অনুসারে পিরামিড তৈরি করার জন্য বড় বড় পাথরগুলিকে অন্য কোন জায়গা থেকে আনা হয়েছিল । কিন্তু তখন চাকার আবিষ্কার হয়নি যার জন্য প্রাচীন মিশরবাসিরা এই বড়ো বড়ো পাথরের ব্লককে টানার জন্য একটি টেকনিক অবলম্বন করেছিল ।

কিন্তু কিছু বিজ্ঞানী পিরামিড তৈরির পেছনে কোন উন্নত এলিয়ান সভ্যতার সাহায্যের কথা মনে করেন । যারা মিসরবাসীকে Advanced Mathematics,Geometric আর Advanced Technical Instrumentation-এর শিক্ষা দিয়েছিলেন । যার কারণে পিরামিডের বাইরে এত বড় বড় পাথরের ব্লগকে এত সুন্দর কুশলতার সাথে সাজানো সম্ভব হয়েছে আর এমনভাবে ফিট করা হয়েছে যে দুটি পাথরের জেন্টসের মধ্যে একটি ব্লেট পর্যন্ত গোজা যাবেনা । কিন্তু এখানে এলিয়েনের উপস্থিতির কোন সঠিক প্রমান আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি । কিন্তু মানুষের বিভিন্ন জিনিস এবং অবশিষ্টাংশ এখানে পাওয়া গেছে আর এজন্যই অনেক বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে পিরামিড মানুষরাই তৈরি করেছিল ।

এ সম্পর্কে French Material Scientist যোসেব ডেবিট নিজের করা গবেষণার মাধ্যমে বলেন । পিরামিডের নির্মানে যেসব পাথর ব্যবহার করা হয়েছিল । সেগুলি আসলে অন্য কোন জায়গা থেকে আনা হয়নি বরং ওই পাথরগুলি ওই যায়গাতেই তৈরি করা হয়েছিল । এইসব পাথরগুলি তৈরি করার জন্য তারা Geopolymer কংক্রিট ব্যবহার করেছিলেন । এই কংক্রিট তৈরি করতে লাইমস্টোন,মাটি, পাথর, চুন আর জলের ব্যবহার করা হয়েছিল । এই মিশ্রনকে কাঠের তৈরি বাক্সর মধ্যে দিয়ে শুকানোর জন্য ছেড়ে দেওয়া হতো আর এভাবেই তৈরি করা হতো বিশালকায় পাথরের ব্লকসকে ।

যোসেব ডেবিট নিজের গবেষণাতে এটিও বলেন । এইসব পিরামিডের পাথর Natural লাইমস্টোন ছিলনা । মানে ডেভিডের গবেষণা অনুযায়ী এইসব পাথরের Atoms Naturally Aligned নয় কিন্তু এবারও যেসবের এই গবেষণার প্রতি বহু বিজ্ঞানীরা বিরোধ করেছেন ।

 কিন্তু পরে আরো একটি Material Scientist Professor Michelle আর তার কিছু Graduate Students মিলে জোসেফের দেওয়া এই থিওরির উপর আবার একবার গবেষণা করার সিদ্ধান্ত নেয় । তারা পিরামিডের পাথরের উপর ৫ বছর গবেষনা করেন এবং তারপর তাদের রিসার্চের মাধ্যমে বলেন যে যোসব ডেভিডের দেওয়া থিওরি একদম সঠিক ছিল কিন্তু তিনি এটিও বলেন যে কেবলমাত্র ওইসব পাথরগুলি এইসব কাঠের ছাঁচে তৈরি করা হয়েছিল ।

যেগুলি পিরামিডের Out of Surface এবং পিরামিডের উপরের অংশে লাগানো হয়েছে । যাতে পিরামিড আরো সঠিক এবং আকর্ষণীয় হতে পারে । কিন্তু এই থিওরি থেকে আবার কিছু প্রশ্ন উঠে আসে যে যদি কেবলমাত্র out of surface এরিয়াতে এইসব আর্টিফিসিয়াল পাথর লাগানো হয়েছিল তাহলে ভিতর পাথর কোথা থেকে এবং কিভাবে আনা হয়েছিল আর পাথরগুলোকে এত সুন্দরভাবে কিভাবে কাটা হয়েছিল আর যদি এই পাথর গুলিকে কাটা হয়ে থাকে তাহলে পড়ে থাকা পাথরের টুকরোগুলি কোথায় গেল কেননা পিরামিডের থেকে দূর দূর পর্যন্ত এরকম পাথরের টুকরো আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি এগুলি এমন কিছু প্রশ্ন যার উত্তর হয়তো আমরা ভবিষ্যতে পেয়ে যেতে পারি সাড়ে চার হাজার বছর পুরানো এই শিলা কেবলমাত্র আমাদের অতীত সম্পর্কে নয় বরং ভবিষ্যতের সম্পর্কেও দিক নির্দেশ দেয় ।
                              ===============================

F>. গিজার পিরামিড:
    Dt--05/04/3019
মিশরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান হচ্ছে গিজার পিরামিড
মিশর ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থেকে যাবে যদি গিজার পিরামিড না দেখেন।
প্রাচীন বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের একটি এই পিরামিড।
মিশরের রাজাদের  সমাধিস্থল হচ্ছে এই পিরামিড।
মিশরের ফারাও অর্থাৎ রাজাদের মৃতদেহ মমি করে রাখা আছে এই পিরামিডের মধ্যে।
কায়রো শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে মরুভূমির মধ্যে নীলনদ বরাবর
গিজার পিরামিড অবস্থিত।
গির্জাতে আছে ৩টি পিরামিড- খুফু, খাফ্রে ও মেংকাউরে পিরামিড।
এই বৃহৎ পিরামিডের সামনে স্ফিংস নামক সেই  বিখ্যাত মূর্তি আছে
যার দেহটি সিংহ এর ও মাথাটি মানুষের।
এটি এক অনন্য নিদর্শন।

=============================

                       

Khufu / Cheops,

Cheops

গিজার তিনটি পিরামিডের  খুফু, খাফ্রে ও মেংকাউরে পিরামিড।
এই বৃহৎ পিরামিডের সামনে স্ফিংস নামক সেই  বিখ্যাত মূর্তি আছে
যার দেহটি সিংহ এর ও মাথাটি মানুষের।
এটি এক অনন্য নিদর্শন।

সবথেকে বর পিরামিড টি খুফুর পিরামিড।
খুফু একজন ফেরাও,  প্রাচীন মিসরের অর্ধক রাজত্য এই খুফুর ছিল।(26th century BC)
এবং তিনি তৈরি করেছিলেন এই বিশাল পিরামিড টি। যেটি প্রাচীন ইতিহাসের বিশ্বের সপ্তম আসচর্যের  মধ্যে একটি।
খুফুর পুরো নাম Khnum Khufu
গ্রীক ভাষায় বলা হত Cheops,
খুফু ছিলেন চতুর্থ রাজবংশের
 দ্বিতীয় ফেরাও। প্রাচীন রাজত্বের
26th century BC র প্রথমার্ধে ছিল
খুফু অনুসৃত।
তার পিতা সেনফিরু ছিলেন রাজা।
খুফু র জন্ম কবে সেটি জানা যায়নি কিন্তু
মৃত্যু হয়েছে 2566 BC তে।

                                  <---©-আদ্যনাথ--->

              ======================================

No comments:

Post a Comment