Wednesday, May 1, 2019

28> || মিশরের মন্দির গুলি ||------গল্প =ইতিহাস +D+H

 


L> || মিশরের মন্দির গুলি ||-------গল্প=ইতিহাস

The Temples Of Egypt as I see.
                             <---©-আদ্যনাথ--->

আমার দেখা মিশরের মন্দির গুলি।
যেটুকু বুঝেছি সেই টুকুই লিখছি।

প্রাচীন মিশরের  টেম্পেল গুলি বিশেষ গুরুত্ব পূর্ণ । টেম্পেল গুলিতে প্রাচীন মিশরের গড় ও গডেস গন বাস করতেন।
প্রত্যেক গড় ও গডেস আলাদা আলাদা টেম্পল যেখানে তারা পূজিত হতেন টেম্পেলের পৃষ্ট ও ফেরাও দের দ্বারা।
টেম্পল গুলিতে সকল মানুষের পূজার
অনুমতি ছিলনা।
কেবল মাত্র রাজা ও পৃষ্ট গনই পূজা করতে পারতেন কঠোর শুদ্ধি করণের মাধ্যমে।
সাধারন মানুষ কেবল মাত্র কোন উৎ সবের দিনে, যখন মনে করা হতো যে দেবতারা বাইরে বেরিয়ে আসতেন তখনই সাধারন মানুষ টেম্পেলে প্রবেশ করার অধিকার পেতেন।

প্রাচীন মিশরীয় টেম্পল গুলির মহত্ব  দেশের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য অতিশয় মূল্যবান ও
আঙাকিক ভাবে জড়িত।
টেম্পল গুলির অধীনে প্রচুর জমি বা অঞ্চল থাকত।এবং প্রচুর শ্রমিক মানুষ চাকুরী রত
থাকত । এবং মনে করা হত এখানে ফেরাও গন ও রাজা সরাসরি দেবতাদের সাথে
যোগাযোগ করতেন।

প্রাচীন মিশরীয় টেম্পল গুলির প্রধানত
দুই ভাগে বিভ্ক্তো ছিলো।

প্রথমটি ছিল যেটি বিশেষ কোন গড় বা
গডেজের জন্য উৎসর্গকৃত।
যেমন ইডফুর হোরাসের টেম্পেল।
আসোয়ানের আইসিসির টেম্পেল।

দ্বিতীয় ধরার টেম্পেল গুলি সমাধিসংক্রান্ত
যেগুলি ফেরাও দের মৃত্যুর পরে তাদের জন্য
নিবেদিত হত। যেখানে ফেরাও রা দেবতা রূপে পূজিত হতেন।
যেমন থীবজ নগরীর রামেসেজ || টেম্পল।
 যেটুকু দেখে বুঝেছি টেম্পল গুলি এমন
সান্ড স্টোন  দিয়ে তৈরি  যা বেশি দিন টিকে থাকতে সক্ষম।
ঘরের মেঝে কোআটজ ( Courts) নামক পাথরের, এবং হল ও পিলার গুলি
প্যাপিরাস ( যে গাছের ছাল থেকে পুরাকালে
মানুষ কাগজ প্রস্তুত করতো)গাছ, পালম গাছ, ও পদ্ম ফুলের আকারে তৈরি করতো।
গৃহের ছাদ গুলি সাজানো হত তারা, নক্ষত্র,
 ইত্যাদি অঙ্কন করে। এবং আশ্রয়স্থল নির্দেশ করতো ঢিবির মতন সু উচ্ছ স্থানে।
টেম্পেল গুলি পূর্ব পশ্চিম নির্দেশিত হত
কারন মনে করা হত সূর্য পিলার গুলির উপরে উদিত হয়ে সামনের গেট দিয়ে প্রবেশ করে
মন্দিরে উপরে অস্ত যেতো।
 মন্দিরের ভেতরে ফেরাও দের নানা কার্যের
নিদর্শন,দেবতা পূজা অনুষ্ঠান, ফেরাও দের নানা যুদ্ধের চিত্র,অঙ্কন করে সাজানো হত।
আর বাহিরের দেওয়ালে ফেরাও গন দেখাতেন সকল  বিরক্তিকর বিশৃঙ্খলার
ছবি।
প্রাচীন মিশরে প্রথম পৌরাণিক মন্দির তৈরি হয়েছিল আনুমানিক চার মিলিনিয়াম বি,সি,
তে।
" 4th millennium B.C. and depicted the shape of reed huts.
The last of the Egyptian temples were built at Philae which was stopped using after the 6th century A.D., so the temples of ancient Egypt covered a large variety of different structures that evolved over a long period of time."

So When visiting Egypt don't forget to visit these temples .
As I hope you  definite must-see these
Temples.
           =====================
D>=কর্ণাক মন্দির, মিশর  বা  কারনাক ট্যাম্পেল:
     dt--03/04/2019
এই মন্দিরের শহরটি 2000 বছরেরও বেশি সময় আগে নির্মিত হয়েছিল।
কর্ণাকের মন্দির হল স্থাপত্য-কাঠামো ও সুন্দর কারু কার্য সমন্বিত  নির্মিত
একটি সুবিশাল ইমারত ভবন।

এই অঞ্চলটি এখনো আধুনিক বিশ্বের বেশ কিছু  বিস্ময়করের  সঙ্গে তুলনা
করা চলে।
কর্ণাক টেম্পল  প্রায় 200 একর এলাকায় আবৃত এবং এখান থেকেই  সমস্ত ধর্মীয় ভবনগুলির তৈরী করা হয়েছিল । এই মন্দিরটি 4,000 বছরেরও বেশী সময় ধরে মিসর বাসীর  তীর্থ স্থান।
মিশরের অনেক আকর্ষণীয় মন্দির গুলোর মধ্যে কারনাক মন্দির সবচেয়ে প্রাচীন।
কারনাক মন্দিরটি প্রাচীন বৃহত্তম ধর্মীয় স্থাপনা।
এটি মূলত একটি মন্দিরের শহর যা 2000 বছরেরও বেশি আগে নির্মিত হয়েছে।
এটি বিশ্বের  সবচেয়ে জনপ্রিয় বিস্ময়গুলোর মধ্যে একটি।
এখন এটি  একটি অনন্য পর্যটনস্থল।
      ===========================================

H>. আবু সিম্বেল মন্দির:
উই
মিশরীয় বিশ্ব ঐতিহ্যের অনন্য এক স্থাপনা
মিশরের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ আবু সিম্বেল
লেক নাসের এর পশ্চিম তীরে অবস্থিত।
এটি একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান।
এই মন্দির “নূবিয়ান মনুমেন্ট” নামেও  পরিচিত।

আবু সিম্বেল এক নিদর্শন মিশরের দক্ষিণ প্রান্তে নীল নদের তীরে অবস্থিত পাথরের তৈরি পুরাতাত্ত্বিক স্থাপনা ‘আবু সিম্বেল’। এই অনন্য স্থাপনাটি জাতিসংঘ কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি ‘নূবিয়ান মনুমেন্ট’ নামেও পরিচিত। এই মন্দিরের নির্মাণ কৌশল ও শিল্পবোধের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মিশরীয় সভ্যতার এক অজানা ইতিহাস।

 দুটি বিশাল আকৃতির পাথর কেটে এই মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে।
 ১৩’শ শতকে এই জোড়া মন্দিরটি ফারাও রাজা রামেসেসের দ্যা গ্রেট নিজের ও
তার স্ত্রী নেফারতারির সমাধির জন্য নির্মাণ করেছিলেন।
এটি ইউনেস্কো দ্বারা বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান রূপে ঘোষিত হয়েছে।
এই মন্দির দেখার জন্য প্রচুর পর্যটকদের সমাগম ঘটে এখানে।
মিশরের আবু সিম্বেলের মন্দির আবু সিম্বেল, মিশর
দক্ষিণ মিশরে অবস্থিত আবু সিম্বেল হল একটি গ্রাম, যা দু’টি আবু তাহের
মন্দিরের আবাসস্থল।
এগুলি প্রস্তর দ্বারা নির্মিত এবং লেক নাশেরের পশ্চিম তীরে অবস্থিত।
স্থানটি ইউনেস্কো দ্বারা বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান রূপে ঘোষিত হয়েছে এবং
এটি “নূবিয়ান মনুমেন্ট” নামে পরিচিত।
এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য্য এবং আসওয়ান উচ্চ বাঁধের নির্মাণকার্য থেকে
ক্রমবর্ধমান জলস্রোতের দ্বারা আসন্ন ভয়াবহতার দরুণ ইউনেস্কো তাদের
অপসারণ ও পুর্ননির্মাণের জন্য একটি কর্মসূচীর প্রস্তাব উত্থাপণ করেছে।

এই ক্রিয়াকলাপ 1964 ।

মন্দিরটি র সম্বন্ধে যত টুকু জেনেছি তা হল মিশরের আসওয়ান শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে নাসের লেকের তীরে আবু সিম্বেল নামক এক গ্রামের অবস্থান। মিশরের আর পাঁচটা মরু গ্রামের মতোই প্রকৃতি এখানে রুক্ষ। সবুজের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। চোখ শুধুই ধু ধু রুক্ষতার সাক্ষী।  সবুজ বলতে কিছু ঘাস ইতিউতি মাথা তুলেছে। সূর্যস্নাত মিশর দেশের এই শুষ্ক-ধূসর প্রান্তরের গুরুত্ব কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে সমগ্র মানব সভ্যতার কাছে অমূল্য। 
কারণ এখানেই যে রয়েছে ভুবনবিদিত আবু সিম্বেল মন্দির। 
আসওয়ান হাই ড্যাম রিজারভয়ারের উপর দৈত্যাকার মন্দিরদু’টি অবস্থিত। 
পাথরের গায়ে খোদাই করে করে তৈরি করা হয়েছে বিশাল আকৃতির সব মূর্তি।

খ্রিস্টপূর্ব ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ফারাও দ্বিতীয় রামসেসের শাসনকালে নীল নদের তীরে পাথর কেটে এই মন্দির তৈরি করা হয়। মন্দিরটির দুটি অংশ; একটি ছোট, অন্যটি বড়। ঐতিহাসিকদের মতে, বড় মন্দিরটি রামসেস নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন এবং ছোটটি তার প্রিয় রানী নেফারতিতিকে। ৩৩ মিটার লম্বা এবং ৩৮ মিটার চওড়া এই মন্দিরটি পর্যটকদের কাছে খুবই আকষর্ণীয়।


প্রচলিত ধারণা হচ্ছে রামসেস নিজের মহত্ত্ব এবং অসাধারণত্ব প্রমাণ করার জন্যই মন্দিরটি তৈরি করেছিলেন। প্রজা ও পাশের রাজ্যগুলোর কাছে সম্মান বজায় রেখে মিশরীয় ধর্মের প্রতিপত্তি বাড়ানোই ছিল রামসেসের উদ্দেশ্য। বলা হয়, কাদেশ-এর যুদ্ধকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে প্রবল পরাক্রমশালী এই শাসক নিজের ও প্রিয়তমা রানী নেফারতারির মূর্তি খোদিত মন্দির দুটি নির্মাণ করেন। আনুমানিক ১২৬৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। এই মন্দিরের নির্মাণ শেষ হতে সময় লেগেছিল প্রায় বিশ বছর।

দ্বিতীয় রামসেস তার সাহস ও যুদ্ধকৌশলে খুব কম সময়ের মধ্যে দক্ষিণে নুবিয়া পর্যন্ত রাজ্যের সীমানা বিস্তার করেন, ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন মিশরের একচ্ছত্র অধিপতি। শুধু রাজ্যবিস্তারেই নয়; স্থাপত্য, ভাস্কর্য, চিত্রশিল্প, কারিগরী প্রায় সবক্ষেত্রেই তার সময়কালে সব দিকেই উন্নতির ছোঁয়া লেগেছিল, যা পরবর্তীতে হয়ে ওঠে মানব সভ্যতার গর্ব, মিশরীয় সভ্যতা।

এহেন বীরপুরুষ রামসেসের কিন্তু পত্নীর সংখ্যাও ছিল শতাধিক। তাদের মধ্যে ফারাওয়ের প্রিয়তমা ছিলেন সুন্দরী ও অশেষ গুণের অধিকারিণী রানী নেফারতিতি। নেফারতিতিকেই রামসেসের বহু মূর্তির পাশে দেখা যায়; যেমন- আবু সিম্বেলের মন্দিরে। তবে, এ মন্দির স্ত্রীর প্রতি রামসেসের ভালবাসার প্রকাশ নয়, এ হলো বিশালত্বের মধ্যে দিয়ে প্রজা ও প্রতিবেশী রাজ্যের কাছে ফারাওয়ের আত্মাভিমান ও অহং প্রদর্শন

দু’টি মন্দিরে সমন্বয়ে গঠিত আবু সিম্বেল মন্দিরটি। বড় মন্দির, যেটা রামসেসের নিজের নামে। মস্ত পাথরের বেদিতে পরপর চারটি মূর্তি রয়েছে। তিনটি মূর্তি রামসেসের পূজিত দেবতার। চতুর্থটি দেবপদে উন্নীত স্বয়ং রামসেস। মন্দিরটি এমনই কারিগরী উৎকর্ষতায় পরিপূর্ণ যে, সূর্যোদয়ের সঙ্গে-সঙ্গে সূর্যের প্রথম রশ্মি প্রতিটি দ্বার দিয়ে প্রবেশ করে দেবতাদের মুখমন্ডল আলোকিত করে।
দু’টি মন্দিরের বড়টি ফারাও দ্বিতীয়  রামসেসের নামে পরিচিত;

সেই সময়ের অন্য ফারাওদের মতোই রামসেস নিজেকে ঈশ্বরের চেয়ে কম মনে করতেন না। বাইরের দেওয়ালে ২০ মিটার উঁচু রামসেসের নানা রূপের চারটে প্রকান্ড মূর্তি। এই চারটি মূর্তির পায়ের কাছে আছে আরো মূর্তি, সম্ভবত তা রামসেসের সন্তান ও তাদের মায়ের।

মন্দিরের গর্ভগৃহে তিন মিশরীয় দেবতা আমুন, রা-হারাখতি এবং প্তাহ (ptah), চতুর্থটি নিজেকে দেবতা বলে স্বীকৃতি দেয়া রামসেসের মূর্তি;

প্রবেশদ্বারের ঠিক উপরে রা-হারাখতির একটি মূর্তি, যাকে দু’পাশ থেকে পূজো করছেন রামসেস। দেওয়ালের উপর সার দিয়ে বেবুনের মূর্তি দু’হাত তুলে সূর্যের আরাধনা করছে। মিশরীয় স্থাপত্যের এক অদ্ভুত ব্যাপার হলো এর ত্রিকোণ আকৃতি। আবু সিম্বেলেও এর অন্যথা হয়নি। তাই বাইরের ঘরগুলোর তুলনায় ভিতরের ঘরগুলো ছোট।
মন্দিরের অভ্যন্তরে রামসেস, রানি নেফারতিতি ও তার সন্তানদের মূর্তি;

প্রবেশদ্বার দিয়ে ঢুকেই যে বিশাল হলঘরটি (হাইপোস্টাইল হল) তার স্তম্ভ হিসেবে রয়েছে আটটি রামসেসের মূর্তি, যেখানে তাকে মিশরীয় দেবতা ওসাইরিস রূপে দেখানো হয়েছে। দেওয়াল ভর্তি রামসেসের যুদ্ধের ছবি। রয়েছে লিবিয়া, সিরিয়া, নুরিয়ার বিজয় এবং অবশ্যই বিখ্যাত কাদেশ যুদ্ধজয়ের প্রতিকৃতি। দ্বিতীয় হলের দেওয়ালে রামসেস, নেফারতারি ও দেবতাদের ছবিতে ভর্তি।

মন্দিরের দেওয়ালে খচিত নানা চিত্রশিল্প;

দ্বিতীয় এবং ছোট মন্দিরটি রানি নেফারতারি ও সৌন্দর্য, ভালবাসার দেবী হাথোরকে উৎসর্গ করা। এর সামনের দেওয়ালে রয়েছে ছ’টি মূর্তি। চারটে রামসেসের এবং দু’টি নেফারতারির। সব মূর্তির উচ্চতা এক। সমান উচ্চতার ব্যাপারটি উল্লেখযোগ্য এই কারণেই যে , মিশরে রানীদের উচ্চতা ফারওদের মূর্তির হাঁটুর চেয়ে বেশি হতো না। তবু নেফারতারি ও রামসেসের মূর্তির উচ্চতা এক হওয়ার একটাই মানে হতে পারে, ফারাও রানীকে যোগ্যতায় ও সম্মানে নিজের সমান মনে করতেন।

এই মন্দিরে প্রবেশ পথের দু’ধারে খোপের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে ছয়টি পঁয়ত্রিশ ফুট উঁচু মূর্তি। এখানে দুটি রামসেসের মূর্তির মাঝখানে রানীর মূর্তি খোদিত। মন্দিরের গর্ভগৃহেও রয়েছে রানীর একটি মূর্তি। প্রাণহীন এই প্রস্তর অবয়বে লাবণ্য, কমনীয়তা ও বীরত্বের মতো মানব অনুভূতির যে অপূর্ব প্রকাশ রয়েছে, তার শিল্পকুশলতা সকলকে বিস্মিত করে।


কিন্তু প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে আক্রান্ত আবু সিম্বেল মন্দির
সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার, মন্দিরটি আবিষ্কারের পর ফের হারিয়ে যেতে বসেছিল। আসওয়ান হাই ড্যাম নামে পরিচিত বিশাল বাঁধের কারণে চারশো মাইল বিস্তৃত বিশাল হ্রদের সৃষ্টি হয়েছিল। কৃত্রিম হ্রদ ‘নাসের’-এর পানির স্তর বাড়তে থাকায় নদীর তীরে অবস্থিত মন্দিরটি ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়। হ্রদের জল ক্রমশই বেড়ে আবু সিম্বেলকে গ্রাস করবে, এই আশঙ্কায় সমগ্র পৃথিবীর পর্যটকেরা একসময় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল।

আর সেই কারণেই তৈরী হলো আসওয়ান হাই ড্যাম;
নীল নদের প্রভাব থেকে মন্দির উদ্ধার করার উদ্যেশ্যে ইউনেস্কো এগিয়ে আসে।

মানুষের এই অবিস্মরণীয় পুরাকীর্তিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে 
১৯৬৪ সালে ইউনেস্কো ও মিশর সরকারের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয় উদ্ধার কার্য। 
মন্দিরটি নতুনভাবে নির্মাণ করা হয় আসওয়ান হাই ড্যাম রিজার্ভারের উপর।  
মন্দির দু’টিকে টুকরো-টুকরো করে কেটে হাজারের বেশি অংশে ভাগ করা হয়। প্রত্যেকটি টুকরোকে নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করে, কাছের একটি পাহাড়ের উপর তোলা হয়।

ইউনেস্কো ও মিশর সরকারের যৌথ উদ্যোগে এই কাজ 
শুরু হয়;

একেকটা অংশের ওজন প্রায় ত্রিশ টন। প্রত্যেকটি অংশকে তুলে তীরের চেয়ে ৬৫ মিটার উঁচুতে হুবহু মূল মন্দিরের অনুকরণে সাজিয়ে তাদের বসানো হয়। মূল মন্দির ও পাহাড়ের চূড়ার মাঝখানে যে হাজার-হাজার টনের পাথর ছিল, নতুন স্থাপিত মন্দিরে সেই পাথরের পরিবর্তে তৈরি করা হয় কংক্রিটের বিশাল ডোম। উল্টানো হাঁড়ির মতো দেখতে এই ডোমের ছাদের উপর লক্ষ-লক্ষ টন বালি ফেলে, তাকে পাহাড়ের আকৃতি দেওয়া হয়। হিসেব কষে সূর্যের কক্ষপথের সঙ্গে মন্দিরের অবস্থানকে আগের মতোই মিলিয়ে দেওয়া হলো। কাজটায় সময় লেগেছিল প্রায় চার বছর।এ কালের স্থপতিদের তত্ত্বাবধানে মন্দিরটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করা হয়;
বর্তমানে মন্দিরটির ‘নতুন’ কলেবরে তৈরি, কিন্তু অবিকল পুরানো চেহারার মতো। 


শুধু ভাবনা একটাই যে  আধুনিক যুগে যন্ত্রের সাহায্যে যে কাজ করা হয়েছে, বহু যুগ আগে লক্ষ-লক্ষ টন ওজনের পাথর কাটা ও বসানোর মতো অতিমানবীয় কাজ সেসময়কার মানুষ তাদের আপন হাতে ও বুদ্ধিমত্তার জোরে সম্পন্ন করেছিল যা সত্যিই অবিশ্বাস্য।

====================================

H>আবু সিম্বেল: 



মিশরীয় বিশ্ব ঐতিহ্যের অনন্য এক স্থাপনা


বিশ্ব ঐতিহ্যের নানা নিদর্শন ও স্থাপনা ছড়িয়ে রয়েছে সমগ্র মিশর জুড়ে। তেমনি এক নিদর্শন মিশরের দক্ষিণ প্রান্তে নীল নদের তীরে অবস্থিত পাথরের তৈরি পুরাতাত্ত্বিক স্থাপনা ‘আবু সিম্বেল’। এই অনন্য স্থাপনাটি জাতিসংঘ কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি ‘নূবিয়ান মনুমেন্ট’ নামেও পরিচিত। এই মন্দিরের নির্মাণ কৌশল ও শিল্পবোধের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মিশরীয় সভ্যতার এক অজানা ইতিহাস।

মিশরের আসওয়ান শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে নাসের লেকের তীরে আবু সিম্বেল নামক এক গ্রামের অবস্থান। মিশরের আর পাঁচটা মরু গ্রামের মতোই প্রকৃতি এখানে রুক্ষ। সবুজের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। চোখ শুধুই ধু ধু রুক্ষতার সাক্ষী। মনোরম সবুজের সামান্য আচঁও এখানে নেই, তা সত্ত্বেও প্রবল শক্তিমান কিছু ঘাস ইতিউতি মাথা তুলেছে। সূর্যস্নাত মিশর দেশের এই শুষ্ক-ধূসর প্রান্তরের গুরুত্ব কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে সমগ্র মানব সভ্যতার কাছে অমূল্য। কারণ এখানেই যে রয়েছে ভুবনবিদিত আবু সিম্বেল মন্দির। আসওয়ান হাই ড্যাম রিজারভয়ারের উপর দৈত্যাকার মন্দিরদু’টি অবস্থিত। পাথরের গায়ে খোদাই করে করে তৈরি করা হয়েছে বিশাল আকৃতির সব মূর্তি। ফারাও দ্বিতীয় রামসেসের সময়কালে এই অপূর্ব স্থাপত্যটি নির্মাণ করা হয় বলে ঐতিহাসিকদের অভিমত।

1813 সালের দিকের কথা। তখনও মিশরে মরুর বালির নীচে লুকিয়ে অজানা সব রহস্য। তিন ভাগের এক ভাগও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি মাটির নীচের রহস্যময় সব সম্পদের। বালি খুড়লেই যেন বেরিয়ে পড়বে স্তরে স্তরে সাজানো মূল্যবান পুরাতাত্ত্বিক ভগ্নাবশেষ।

এমনই এক ভগ্নাবশেষের একাংশ হঠাৎই চোখে পড়ে সুইস অনুসন্ধানী লুই বুরখার্ডটের। দক্ষিণ মিশরের নুরিয়া অঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন তিনি। হঠাৎ প্রচন্ড হাওয়ায় বালি উড়তে শুরু করলো। অনেকটা বালি উড়ে যাওয়ার পর লুই দেখলেন, বালির তলা থেকে কী একটা উঁকি মারছে। ফলে রহস্যের গন্ধ পেতে খুব একটা সময় নেননি অনুসন্ধানকারী লুই। সামনে গিয়ে বুঝলেন, ওটা একটা স্থাপত্যের ছাদ। কিন্তু বালি খুঁড়ে নীচে কী আছে দেখা হয়ে ওঠেনি। মিশর থেকে এই আবিষ্কারের কথা বলছিলেন তার এক বন্ধু জিওভানি বেলজোনিকে। এই ভদ্রলোক ছিলেন অনুসন্ধিৎসু এক মানুষ। তিনি কৌতুহল চাপতে না পেরে সোজা মিশরে রওনা দিলেন। প্রথমবার বালি খুঁড়ে নীচের রহস্যের সমাধান করতে পারলেন না বটে, কিন্তু হাল ছাড়লেন না।

1817 সালে ফিরে এলেন দলবল সহ। বালি খুঁড়ে একটি মন্দিরে ঢোকার প্রবেশদ্বার আবিষ্কার করলেন। অনুসন্ধানী হলেও, স্থাপত্যটির ঐতিহাসিক মূল্য নিয়ে তার বিশেষ মাথাব্যথা ছিল না। মন্দিরের ভিতরে ঢুকে যাবতীয় মূল্যবান জিনিস নিয়ে তিনি পালিয়ে যান। আর এভাবেই আবিষ্কৃত হয় প্রাচীন স্থাপত্যের এক অনন্য বিস্ময় ‘আবু সিম্বেল মন্দির’।


মানচিত্রে আবু সিম্বেল মন্দিরের অবস্থান;
কীভাবে নামকরণ হলো এই স্থাপত্যের


ধারণা করা হয়, ‘আবু সিম্বেল’ নামটি এক বালকের, যে সেই সময় অভিযাত্রীদের বালিতে অর্ধেক চাপা পড়া এই মন্দির দেখাতো। সেই থেকেই এই ছেলেটির নামেই মন্দিরের নাম হয়ে যায় ‘আবু সিম্বেল’। খ্রিস্টপূর্ব ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ফারাও দ্বিতীয় রামসেসের শাসনকালে নীল নদের তীরে পাথর কেটে এই মন্দির তৈরি করা হয়। মন্দিরটির দুটি অংশ; একটি ছোট, অন্যটি বড়। ঐতিহাসিকদের মতে, বড় মন্দিরটি রামসেস নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন এবং ছোটটি তার প্রিয় রানী নেফারতিতিকে। 33 মিটার লম্বা এবং 38 মিটার চওড়া এই মন্দিরটি পর্যটকদের কাছে খুবই আকষর্ণীয়।

প্রচলিত ধারণা হচ্ছে রামসেস নিজের মহত্ত্ব এবং অসাধারণত্ব প্রমাণ করার জন্যই মন্দিরটি তৈরি করেছিলেন। প্রজা ও পাশের রাজ্যগুলোর কাছে সম্মান বজায় রেখে মিশরীয় ধর্মের প্রতিপত্তি বাড়ানোই ছিল রামসেসের উদ্দেশ্য। বলা হয়, কাদেশ-এর যুদ্ধকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে প্রবল পরাক্রমশালী এই শাসক নিজের ও প্রিয়তমা রানী নেফারতারির মূর্তি খোদিত মন্দির দুটি নির্মাণ করেন। আনুমানিক 1264 খ্রিস্টপূর্বাব্দে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। এই মন্দিরের নির্মাণ শেষ হতে সময় লেগেছিল প্রায় বিশ বছর।

দ্বিতীয় রামসেস তার সাহস ও যুদ্ধকৌশলে খুব কম সময়ের মধ্যে দক্ষিণে নুবিয়া পর্যন্ত রাজ্যের সীমানা বিস্তার করেন, ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন মিশরের একচ্ছত্র অধিপতি। শুধু রাজ্যবিস্তারেই নয়; স্থাপত্য, ভাস্কর্য, চিত্রশিল্প, কারিগরী প্রায় সবক্ষেত্রেই তার সময়কালে সব দিকেই উন্নতির ছোঁয়া লেগেছিল, যা পরবর্তীতে হয়ে ওঠে মানব সভ্যতার গর্ব, মিশরীয় সভ্যতা।

এহেন বীরপুরুষ রামসেসের কিন্তু পত্নীর সংখ্যাও ছিল শতাধিক। তাদের মধ্যে ফারাওয়ের প্রিয়তমা ছিলেন সুন্দরী ও অশেষ গুণের অধিকারিণী রানী নেফারতিতি। নেফারতিতিকেই রামসেসের বহু মূর্তির পাশে দেখা যায়; যেমন- আবু সিম্বেলের মন্দিরে। তবে, এ মন্দির স্ত্রীর প্রতি রামসেসের ভালবাসার প্রকাশ নয়, এ হলো বিশালত্বের মধ্যে দিয়ে প্রজা ও প্রতিবেশী রাজ্যের কাছে ফারাওয়ের আত্মাভিমান ও অহং প্রদর্শন।
মন্দিরের বৈশিষ্ট্য


দু’টি মন্দিরে সমন্বয়ে গঠিত আবু সিম্বেল মন্দিরটি। বড় মন্দির, যেটা রামসেসের নিজের নামে। মস্ত পাথরের বেদিতে পরপর চারটি মূর্তি রয়েছে। তিনটি মূর্তি রামসেসের পূজিত দেবতার। চতুর্থটি দেবপদে উন্নীত স্বয়ং রামসেস। মন্দিরটি এমনই কারিগরী উৎকর্ষতায় পরিপূর্ণ যে, সূর্যোদয়ের সঙ্গে-সঙ্গে সূর্যের প্রথম রশ্মি প্রতিটি দ্বার দিয়ে প্রবেশ করে দেবতাদের মুখমন্ডল আলোকিত করে।

দু’টি মন্দিরের বড়টি ফারাও দিবতীয় রামসেসের নামে পরিচিত;

সেই সময়ের অন্য ফারাওদের মতোই রামসেস নিজেকে ঈশ্বরের চেয়ে কম মনে করতেন না। বাইরের দেওয়ালে 20 মিটার উঁচু রামসেসের নানা রূপের চারটে প্রকান্ড মূর্তি। এই চারটি মূর্তির পায়ের কাছে আছে আরো মূর্তি, সম্ভবত তা রামসেসের সন্তান ও তাদের মায়ের।

মন্দিরের গর্ভগৃহে তিন মিশরীয় দেবতা আমুন, রা-হারাখতি এবং প্তাহ (ptah), চতুর্থটি নিজেকে দেবতা বলে স্বীকৃতি দেয়া রামসেসের মূর্তি;

প্রবেশদ্বারের ঠিক উপরে রা-হারাখতির একটি মূর্তি, যাকে দু’পাশ থেকে পূজো করছেন রামসেস। দেওয়ালের উপর সার দিয়ে বেবুনের মূর্তি দু’হাত তুলে সূর্যের আরাধনা করছে। মিশরীয় স্থাপত্যের এক অদ্ভুত ব্যাপার হলো এর ত্রিকোণ আকৃতি। আবু সিম্বেলেও এর অন্যথা হয়নি। তাই বাইরের ঘরগুলোর তুলনায় ভিতরের ঘরগুলো ছোট।

মন্দিরের অভ্যন্তরে রামসেস, রানি নেফারতিতি ও তার সন্তানদের মূর্তি;

প্রবেশদ্বার দিয়ে ঢুকেই যে বিশাল হলঘরটি (হাইপোস্টাইল হল) তার স্তম্ভ হিসেবে রয়েছে আটটি রামসেসের মূর্তি, যেখানে তাকে মিশরীয় দেবতা ওসাইরিস রূপে দেখানো হয়েছে। দেওয়াল ভর্তি রামসেসের যুদ্ধের ছবি। রয়েছে লিবিয়া, সিরিয়া, নুরিয়ার বিজয় এবং অবশ্যই বিখ্যাত কাদেশ যুদ্ধজয়ের প্রতিকৃতি। দ্বিতীয় হলের দেওয়ালে রামসেস, নেফারতারি ও দেবতাদের ছবিতে ভর্তি।

মন্দিরের দেওয়ালে খচিত নানা চিত্রশিল্প;

দ্বিতীয় এবং ছোট মন্দিরটি রানি নেফারতারি ও সৌন্দর্য, ভালবাসার দেবী হাথোরকে উৎসর্গ করা। এর সামনের দেওয়ালে রয়েছে ছ’টি মূর্তি। চারটে রামসেসের এবং দু’টি নেফারতারির। সব মূর্তির উচ্চতা এক। সমান উচ্চতার ব্যাপারটি উল্লেখযোগ্য এই কারণেই যে , মিশরে রানীদের উচ্চতা ফারওদের মূর্তির হাঁটুর চেয়ে বেশি হতো না। তবু নেফারতারি ও রামসেসের মূর্তির উচ্চতা এক হওয়ার একটাই মানে হতে পারে, ফারাও রানীকে যোগ্যতায় ও সম্মানে নিজের সমান মনে করতেন।

দ্বিতীয় মন্দিরটি রানি নেফারতারির মন্দির ;

এই মন্দিরে প্রবেশ পথের দু’ধারে খোপের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে ছয়টি পঁয়ত্রিশ ফুট উঁচু মূর্তি। এখানে দুটি রামসেসের মূর্তির মাঝখানে রানীর মূর্তি খোদিত। মন্দিরের গর্ভগৃহেও রয়েছে রানীর একটি মূর্তি। প্রাণহীন এই প্রস্তর অবয়বে লাবণ্য, কমনীয়তা ও বীরত্বের মতো মানব অনুভূতির যে অপূর্ব প্রকাশ রয়েছে, তার শিল্পকুশলতা সকলকে বিস্মিত করে।
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে আক্রান্ত আবু সিম্বেল মন্দির


সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার, মন্দিরটি আবিষ্কারের পর ফের হারিয়ে যেতে বসেছিল। আসওয়ান হাই ড্যাম নামে পরিচিত বিশাল বাঁধের কারণে চারশো মাইল বিস্তৃত বিশাল হ্রদের সৃষ্টি হয়েছিল। কৃত্রিম হ্রদ ‘নাসের’-এর পানির স্তর বাড়তে থাকায় নদীর তীরে অবস্থিত মন্দিরটি ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়। হ্রদের পানি ক্রমশই বেড়ে আবু সিম্বেলকে গ্রাস করবে, এই আশঙ্কায় সমগ্র পৃথিবীর পর্যটকেরা একসময় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল।

                                                                  <---©-আদ্যনাথ--->
===========================================

       <---©-আদ্যনাথ---> 
     【--anrc-14/04/2019--】
     【=রাত্রি:02:08:02=】
【=বেলঘড়িয়া=কোলকাতা -56=】
===========================






No comments:

Post a Comment