Saturday, June 22, 2019

33>|| উজ্জয়িনী- + মধ্যপ্রদেশ ভ্রমণ || -11/02 to 20/02/2010

13>|| উজ্জয়িনী- + মধ্যপ্রদেশ ভ্রমণ ||
                          <---©-আদ্যনাথ--->

মধ্যপ্রদেশ ভ্রমণঃ ইনদওর-উজ্জয়িনী-মান্ডু-মহেশ্বর-ওঙ্কারেশ্বর-হনুবন্তিয়া!
ইজ্জয়িনী :--
আমাদের দশ  দিনের পোগ্রাম ছিল।--11/02  to 20/02/2010

 ইনদওর-উজ্জয়িনী-মান্ডু-মহেশ্বর-ওঙ্কারেশ্বর-হনুবন্তিয়া!

(নিকটতম বিমানবন্দর ইন্দোর , উজ্জয়ন থেকে 55 কিমি দূরে। কলকাতা-সহ নানা শহর থেকে ট্রেনে  আসাজায়   উজ্জয়ীনিতে । রাজ্যের রাজধানী ভোপালের থেকে 183 km উজ্জয়ীনি বাসে যাওয়া যায় ।) 

আমরা ছয় জনে কৃশানু জি, তেওয়ারি জি,ওমপ্রকাশ, ওঝা জি,পবন,এবং আমি এই ছয় জনে বৃহস্পতি বার  11/02/2010 তে  ধনবাদ থেকে শিপ্রা এক্সপ্রেসে 22912 রাত্রি 10.30 মিনিটে রওনা দিলাম উজ্জয়ীনির উদ্দেশ্যে।
ট্রেনটি এলাহাবাদ, কাটনি, বিনা, ভূপাল হয়ে পরের দিন শুরুবার  উজ্জয়ীনিতে পৌঁছলো রাত্রি একটায়।

শুক্রবার  অর্থাৎ 12ই ফেবুয়ারী শিবরাত্রি।এবং 13 তারিখ কুম্ভ সংক্রান্তি।
আমাদের ইচ্ছা ছিল 11তারিখেই উজ্জয়িনী তে পৌঁছোবার কিন্তু ট্রেনে রিজার্ভেশন না পাওয়ার
কারণে আমাদের একদিন দেরি হয়ে গেলো।

উজ্জয়িনী স্টেশনথেকে মহাকালেশ্বর মন্দির বেশি দূরে নয় তথাপি আমরা একটি ট্যাক্সি নিয়ে রাত্রেই
পৌঁছে গেলাম মন্দিরে।  ( তাড়াহুড়া করার জন্য একটু ঠগতে হলো। যে দেড় দুই কিলোমিটার পথ
হেঁটেই যাওয়া যায় সেই পথ টুকুর জন্য আমাদের 300 টাকা দিতে হলো ট্যাক্সিকে।
আমরা ভেবে ছিলাম এতো রাতে কোথায় কি ভাবে যাবো ,তার থেকে একটু বেশি পয়সা দিয়ে মন্দিরেই
যাওয়া যাক। রাস্তায় আমরা নিজেদের ভুল বুঝতে পারলাম।
কারন কাতরে কাতারে মানুষ হেঁটেই যাচ্ছিলো।)
 যাই হোক আমরা 12তারিখ রাত্রেই   পৌঁছে গেলাম মহাকালেশ্বর মন্দিরে। ব্যাগ ও সঙ্গের সামগ্রী একটি  হোটেলে রেখে।
এখানের মন্দিরের  প্রধান পন্ডিতদের একজন আমাদের ওঝা জির কাকা। তাই তেমন অসুবিধা হয়নি।
শুধু শিব রাত্রির মহা পূজাটি দেখা হলো না। কিন্তু 13 তারিখের প্রথম ভষ্ম আরতি দেখার সুযোগ পেলাম।

তাই আমরা 12 তারিখেই পৌঁছে গিয়ে ছিলাম। মন্দিরে প্রচন্ড ভিড়। বহু মানুষের সমাগম হয়েছে শিব রাত্রের জন্য। বিশাল মেলা চত্বর ,হাজার হাজার মানুষের ভিড়। বিশাল লাইন মানুষের।
আমাদের তেমন কোন অসুবিধা হলনা কারণ ওঝা জির কাকা ওখানকার একজন বিশেষ পূজারী
তাই উনি আমাদের নিয়ে গেলেন মন্দিরের ভেতরে গর্ভ গৃহের মধ্যে।
আমরা  আরামে পূজা ও আরতি দেখলাম। ভোর চারটায় আধা ঘন্টার জন্য মন্দিরের গর্ভ গৃহ বন্ধ হলো। আবার আমরা পৌনে পাঁচটায় পৌঁছে গেলেন মন্দিরে। সকাল আটটা পর্যন্ত চলছিল পূজা পাঠ।
ভোর পাঁচটা থেকে ছয়টা পর্যন্ত ভষ্মআরতি র সেই ভব্য  আরতি দর্শন করলাম।


13/06/2010==তৃতীয় দিন আজ কুম্ভ সংক্রান্তি।
সকালে একটু চা খেয়ে আমরা একটি দোকানে অপেক্ষা করছিলাম।
নয়টা নাগাদ পন্ডিত জি আসলেন এবং ওনার বাড়িতে নিয়ে গেলেন।
ব্রহ্মচারী পন্ডিত। একলাই থাকেন। আমরাই উজ্জ্বগ করে কিছু খাবার আনলাম এবং সকলে মিলে খেলাম। আজ সমস্ত দিন মন্দিরেই কাটালাম। দিন রাত্রি মিলে পাঁচবার আরতি দেখার সুযোগ পেলাম।
এখানে বিশাল মেলা প্রাঙ্গন ,হাজার হাজার মানুষের ভিড়।
ফেরার সময় আমরা প্রণামী হিসাবে কিছু টাকা ওনাকে দিতে চাইলে উনি বললেন আমাদের যা দেবার ইচ্ছা তা যেন মন্দিরের বাক্সে অথবা অফিসে গিয়ে রশিদ কেটে দিয়ে দি।

উজ্জয়ীনি শহর টি  শিপ্রা নদীর তীরে প্রাচীনকালে নাম ছিল অবন্তিকা।
আমরা 14 তারিখ উজ্জয়িনী ঘুড়ে দেখলাম।
প্রতি 12 বছর অন্তর শিপ্রা নদীর রামঘাটে  হয় কুম্ভমেলা। এখানে শহর ও তার চারপাশ জুড়ে অনেক মন্দির।
জয়পুরের মহারাজা দ্বিতীয় জয় সিংহের যে  পাঁচটি যন্তরমন্তর তৈরি করেছিলেন তার একটি এই উজ্জয়নে আছে.।
এখানকার প্রসিদ্ধ দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম মন্দির মহাকালেশ্বরের মন্দির শিপ্রা নদীর পাড়ে ।  পাঁচ তলা মন্দিরটি 18 শতকে তৈরি করে ছিলেন  সিন্ধিয়া রাজবংশের রাজা।
প্রাচীন মন্দির টি ইলতুত্‍মিস  ধ্বংস করে দিয়েছেন 1235 সালে ।

মন্দিরের বাইরে পুজোর উপাচারের দোকান, খাবারের দোকান ইত্যাদি আছে।
প্রতিদিন ঊষালগ্নে অনুষ্ঠিত হয় ভস্ম আরতি।এই ভস্ম শ্মশান থেকেই আনা হয়।
সকাল-সন্ধ্যে আরতি দেখার জন্য লম্বা লাইন পড়ে মন্দিরে। মাটির নীচে গর্ভগৃহে স্বয়ম্ভু শিব, মহাকালেশ্বর।

   উজ্জৈন শহর :--14 th February 2010.

( উজ্জয়িনী (ইংরেজি: Ujjain) ভারতের
মধ্য প্রদেশ রাজ্যের উজ্জয়িনী জেলার
একটি শহর ও পৌর সংস্থার অধীন এলাকা।উজ্জয়িনী ভারতের প্রাচীন নগরী। এর অবস্থান বর্তমান মধ্যপ্রদেশ রাজ্যে শিপ্রা নদীর তীরে। পুরাতাত্ত্বিক উৎখননে এই নগরীর চারিদিকে আনুমানিক খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে নির্মিত একটি প্রাচীর আবিষ্কৃত হয়েছে। দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজধানীর রূপে অনুমিত এই নগরী শক ও গুপ্তযুগে জ্যোতিষ চর্চার প্রসিদ্ধ কেন্দ্র ছিল।
 উজ্জয়িনীর মহাকাল মন্দির অতি বিখ্যাত মন্দির।মহাকাল বা মহাকালেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির  হলবারোটি জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম।

এই মন্দিরটি ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের উজ্জয়িনী শহরে রুদ্রসাগর হ্রদের তীরে অবস্থিত।
এই মন্দিরের শিবলিঙ্গটিকে স্বয়ম্ভু বা শিবের সাক্ষাৎ-মূর্তি মনে করা হয়। )

কিছু প্রচলিত কিংবদন্তি---

( শিবপুরাণ অনুসারে, একবার সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা ও রক্ষাকর্তা বিষ্ণু তাঁদের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ তা নিয়ে বিবাদে রত হন।তাঁদের পরীক্ষা করার জন্য শিব ত্রিভুবনকে ভেদকরে চলিত জ্যোতির্লিঙ্গ নামে এক বিশাল অন্তহীন আলোকস্তম্ভ রূপে আবির্ভূত হন। বিষ্ণু ও ব্রহ্মা এই লিঙ্গের উৎস অনুসন্ধান করতে যান। ব্রহ্মা যান উপর দিকে এবং বিষ্ণু নামেন নিচের দিকে। কিন্তু তাঁরা কেউই এই লিঙ্গের উৎসটি খুঁজে পেলেন না । 
ব্রহ্মা মিথ্যা বলেন যে তিনি উৎসটি খুঁজে পেয়েছেন। কিন্তু বিষ্ণু তাঁর পরাজয় স্বীকার করে নেন। 
শিব তখন একটি দ্বিতীয় জ্যোতির্লিঙ্গ রূপে আবির্ভূত হয়ে মিথ্যা বলার জন্য ব্রহ্মাকে শাপ দেন যে কোন অনুষ্ঠানে তাঁর কোনো স্থান হবে না। অন্যদিকে সত্য কথা বলার জন্য তিনি বিষ্ণুকে আশীর্বাদ করে  বলেন যে সৃষ্টির অন্তিমকাল পর্যন্ত তিনি পূজিত হবেন। 

জ্যোতির্লিঙ্গ হল সেই অখণ্ড সর্বোচ্চ সত্যের প্রতীক, যার অংশ শিব নিজে। হিন্দু বিশ্বাস অনুসারে, জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দিরগুলিতে শিব স্বয়ং অগ্নিময় আলোকস্তম্ভ রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। শিবের ৬৪টি রূপভেদ রয়েছে। তবে এগুলির সঙ্গে জ্যোতির্লিঙ্গকে এক করা হয় না। প্রত্যেক জ্যোতির্লিঙ্গের নির্দিষ্ট নাম আছে – এগুলি শিবের এক এক রূপ।
প্রতিটি মন্দিরেই শিবলিঙ্গ শিবের অনন্ত প্রকৃতির প্রতীক এক আদি ও অন্তহীন স্তম্ভের প্রতিনিধিত্ব করে।)

বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির হল -----

* গুজরাতের সোমনাথ,
* গুজরাতের দ্বারকায় নাগেশ্বর,
* অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীশৈলমের মল্লিকার্জুন,
* মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর মহাকালেশ্বর,
* মধ্যপ্রদেশের ওঙ্কারেশ্বর,
* হিমালয়ের কেদারনাথ,
* মহারাষ্ট্রের ভীমশংকর,
* মহারাষ্ট্রের ত্র্যম্বকেশ্বর,
* মহারাষ্ট্রের আওরঙ্গাবাদের ঘৃষ্ণেরশ্বর।
* উত্তরপ্রদেশের বারাণসীর বিশ্বনাথ,
* ঝাড়খণ্ডের দেওঘরের বৈদ্যনাথ,
* তামিলনাড়ুর রামেশ্বরমের রামেশ্বর ।

পন্ডিত জি আমাদের একটি  গাড়ি ঠিক করে দিয়ে ছিলেন তাই খুম কম পয়সাতেই পেয়ে গেছিলাম
গাড়িটি । সাথের ড্রাইভার ঋতম সিং আমাদের গাইডের কাজও করেছিলেন। 

আমাদের ড্রাইভার  গাইডের মুখে শোনা কিছু কথা :--
পুরাণ অনুসারে, উজ্জয়িনী শহরটির নাম ছিল অবন্তিকা। এই শহরটি ছিল অত্যন্ত সুন্দর এবং ধর্মীয় চিন্তার কেন্দ্র। দূরদূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে আসত হিন্দুশাস্ত্র শিক্ষা করতে। কিংবদন্তি অনুসারে, উজ্জয়িনীতে চন্দ্রসেন নামে এক শাসক ছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত শিবভক্ত। একদিন শ্রীখর নামে এক কৃষক বালক প্রাসাদের পাশ দিয়ে যেতে যেতে শুনতে পায় রাজা শিবের নাম জপ করছেন। বালকটিও  মন্দিরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে প্রার্থনা শুরু করে দেয়। প্রহরীরা তাকে টেনে সেখান থেকে বের করে শহরের বাইরে শিপ্রা নদীর তীরে রেখে দিয়ে আসে। উজ্জয়িনীর পার্শ্ববর্তী দুই শত্রুরাজ্যের রাজা রিপুদমন ও সিংহাদিত্য সেই সময় উজ্জয়িনীর সম্পদের লোভে রাজ্য আক্রমণের কথা ভাবছলেন। এই কথা শুনে শ্রীখর প্রার্থনা শুরু করে। সেই খবর পৌঁছায় বৃধি নামে এক পুরোহিতের কাছে। তিনি এই কথা শুনে ভয় পেয়ে যান এবং ছেলেদের একান্ত অনুরোধে শিপ্রা নদীর তীরে গিয়ে শিবের কাছে প্রার্থনা শুরু করেন। ব্রহ্মারআশীর্বাদে দূষণ নামে এক দৈত্য অদৃশ্য হয়ে যাবার ক্ষমতা পেয়েছিল। শত্রুরাজারা দূষণের সাহায্যে উজ্জয়িনী আক্রমণ করেন। যুদ্ধে তাঁদেরই জয় হয় এবং তাঁরা সকল শিবভক্তের উপর অত্যাচার শুরু করে দেন।

অসহায় ভক্তদের প্রার্থনা শুনে শিব মহাকালের রূপে উজ্জয়িনীতে আবির্ভূত হয়ে চন্দ্রসেনের শত্রুদের ধ্বংস করেন। শ্রীখর ও বৃধির অনুরোধে শিব উজ্জয়িনীতে বাস করতে রাজি হন। তিনিই হন রাজ্যের প্রধান দেবতা এবং শিবভক্তদের রক্ষাকর্তা। সেই থেকে উজ্জয়িনীতে মহাকাল রূপে শিব তাঁর শক্তি পার্বতীকে নিয়ে বাস করছেন।

 এই মন্দিরের শিবলিঙ্গটিকে স্বয়ম্ভ‌ু বা শিবের সাক্ষাৎ মূর্তি মনে  করা হয়। মহাকালেশ্বরের মূর্তিটি দক্ষিণামূর্তি নামেও পরিচিত। ‘দক্ষিণামূর্তি’ শব্দের অর্থ ‘যাঁর মুখ দক্ষিণ দিকে’।

1234-35 সালে সুলতান শাসুদ্দিন ইলতুৎমিস উজ্জয়িনী লুণ্ঠনকালে মহাকালেশ্বর মন্দির চত্বর ধ্বংস করেছিলেন।  1736 সালে হিন্দু  পাদশাহির ছত্রপতি শাহু মহারাজ ও পেশোয়া বাজি রাওয়ের সেনাপতি রানোজিরাও সিন্ধে মহারাজ (সিন্ধিয়া) বর্তমান মন্দিরটি নির্মাণ করান। পরবর্তীকালে মহাদজি সিন্ধে মহারাজ (প্রথম মাধবরাও সিন্ধে,( 1730-1794) ও মহারানি বায়জাবাই রাজে সিন্ধে (1827-1863) এই মন্দিরের সংস্কার ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন।

 1886সাল পর্যন্ত রাজা জয়াজিরাও সাহেব সিন্ধে আলিজার শাসন পর্যন্ত তৎকালীন গোয়ালিয়র রিয়াসতের প্রধান অনুষ্ঠানগুলি এই মন্দিরে অনুষ্ঠিত হত। ভারতের স্বাধীনতার পর দেবস্থান ট্রাস্টের পরিবর্তে উজ্জয়িনী পৌরসংস্থা এই মন্দিরের ভার নেয়। বর্তমানে এটি একটি কালেক্টরয়েটের অধীনে রয়েছে।

তান্ত্রিক শিবনেত্র প্রথা দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে একমাত্র মহাকালেশ্বর মন্দিরেই দেখা যায়। ‘ওঙ্কারেশ্বর মহাদেবে’র মূর্তিটি মহাকাল মন্দিরের গর্ভগৃহের উপরে স্থাপিত। গর্ভগৃহের পশ্চিম, উত্তর ও পূর্ব দিকে যথাক্রমে গণেশ, পার্বতী ও কার্তিকের মূর্তি স্থাপিত। দক্ষিণ দিকে শিবের বাহন নন্দীর মূর্তি স্থাপিত। মন্দিরের তিনতলায় নাগচন্দ্রেশ্বরের মূর্তি আছে। এটি একমাত্র নাগপঞ্চমীর দিন দেখার জন্য খুলে দেওয়া হয়। মন্দিরটি পাঁচতলা। তার মধ্যে একটি ভূগর্ভে অবস্থিত।

মন্দিরের চূড়া একটি বস্ত্র দ্বারা আচ্ছাদিত থাকে। ভূগর্ভস্থ কক্ষটির পথটি পিতলের প্রদীপ দ্বারা আলোকিত করা হয়। এটি মন্দিরের একটি স্বতন্ত্র প্রথা। কারণ, এই রকম প্রথা অন্য কোনও মন্দিরে দেখা যায় না।
হিন্দু বিশ্বাস অনুসারে, এই মন্দিরের প্রধান উপাস্য দেবতা শিব অনন্তকাল ধরে উজ্জয়িনীর শাসক। এই শহরের অধিবাসীদের ধর্মবিশ্বাসে মহাকালেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গের প্রভাব অপরিসীম। শিবরাত্রির সময় মন্দিরের কাছে একটি মেলা বসে। এছাড়াও প্রতি 12 বছর অন্তর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় মেলা ‘কুম্ভ’ এখানে অনুষ্ঠিত হয়। লাখ লাখ ভক্ত এই সময় এখানে আসেন।
============================
উজ্জৈনের মহাকাল মন্দিরের কিছু কথা ,কতটা সত্যি মিথ্যা জানিনা।
তবে এই  কথা উজ্জৈনে প্রচলিত ---
  1>এই মন্দিরের স্থানে রাত্রে বাস করা অতি ভয়ঙ্কর ব্যাপার।
যেকোন নামী মানুষ হোক বা কোন স্ত্রী লোকই হোক না কেন এই স্থানে রাত্রি বাস মানা।
কারণ এখানে রাত্রি বাস করলে মৃত্যু অনিবার্য। কারন উজ্জৈনের রাজা মহাকাল সয়ং।
রাজা বিক্রমাদিত্য নিজেও কোন দিন এইস্থনে রাত্রি বাস করেন নি।

2>মহাকাল মন্দিরের কাছে কোন বরযাত্রী  আসতে মানা।
কারণ মহাকালের সামনে কেউ ঘোড়সাবারী করতে পারেনা।
3>এই মন্দিরের কেউ হামলা করার চেষ্টা করলেই তার মৃত্যু হয়।
4>শ্মশানের চিতা ভস্ম দিয়ে বাবার আরতি হয় রোজ সকালে।

-----------

উজ্জয়নের অন্যান্য মন্দিরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল হরসিদ্ধি মাতার মন্দির, বড় গণেশ মন্দির, চিন্তামণি গণেশ মন্দির, গোপাল মন্দির, গড়কালিকা মন্দির (কবি কালীদাসের আরাধ্য দেবী), মঙ্গলনাথ মন্দির। শহরের একটু দূরে একটি  আশ্রম  আছে । বলা হয়, সন্দীপন মুনির এই আশ্রমে থেকেই বিদ্যাচর্চা করতেন কৃষ্ণ-বলরাম ও কৃষ্ণ-সখা সুদামা। প্রাচীন ভেরুগড়ে কালভৈরব মন্দির উজ্জয়নের অন্যতম আকর্ষণ।
এখানকার বাটিক শিল্পীদের বেশ নাম ডাক আছে। আসে পাশের গ্রাম গুলিতে বাটিক শিল্পীদের
বাস।



আমরা 13এবং 14 দুদিন উজ্জয়নে ঘুড়ে বেরিয়ে রওনা দিলাম ইন্দোরের উদ্দেশে।

এরপরে আমরা উজ্জয়ন থেকে গেলাম  ইন্দোর।
উজ্জয়িনী থেকে ইন্দোর  55 কিলোমিটার।

15/06 2010-- INDORE 4th day

মধ্যপ্রদেশের অন্যতম বৃহত্‍ শহর এবং জমজমাট বাণিজ্যিক কেন্দ্র । প্রচুর গাড়ি ব্যস্ত শহর।
এখানকার এক গাইডের মুখে শোনা কিছু বিবরণ ----
মরাঠা পেশোয়া রাজপরিবারকে সাহায্য করার প্রয়োজনে ইন্দোরের পরিচালনার ভার হোলকার রাজ মলহার রাও নিয়ে নেন। শ্বশুরমশাই মলহার রাও হোলকার পুত্রবধূ অহল্যাবাইকে যে সতী হওয়া থেকে আটকেছিলেন তাই নয়, তাঁর হাতেই তুলে দিয়েছিলেন রাজ্য শাসনের ভার। যদিও তাঁর রাজধানী ছিল মহেশ্বরম কিন্ত ইন্দোর কেও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে গড়ে তোলেন মহিয়সী রানি অহল্যাবাঈ। পরবর্তীকালে রাজধানী উঠে আসে মহেশ্বরম থেকে ইন্দোরে । দেশ স্বাধীন হওয়ার সময় মধ্য ভারতের রাজধানী ছিল ইন্দোর।

শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা খাজুরি বাজার যা গড়ে উঠেছে রাজ-ওয়াড়া অর্থাত্‍ হোলকারদের পুরনো প্রাসাদ ঘিরে। মরাঠা, মোগল ও ফরাসি স্থাপত্যের মিলন ঘটেছে 1747 সালে তৈরি এই প্রাসাদে। সাত তলা প্রাসাদের নীচের তিন তলা পাথরের তৈরি, বাকিটা কাঠ। বেশ কয়েক বার বিধ্বংসী আগুন গ্রাস করেছে এই প্রাসাদকে, সর্বশেষ 1984 সালে আগুনে ভীষণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রাসাদের কিছুটা অবশ্য সারিয়ে তোলা হয়েছে।
কাছেই আছে গোপাল মন্দির এবং আর্ট গ্যালারি। আর আছে খান নদীর ধারে হোলকার রাজাদের সমাধি বা ছত্তিসবাগ। হোলকার বংশের স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে লালবাগ প্যালেস। তিন দশকের বেশি সময়
ধরে  তৈরী হয়েছিল এই প্রাসাদ । ইংল্যান্ডের বাকিংহাম প্রাসাদের অনুকরণে তৈরি প্রবেশ তোরণটি। প্রাসাদের অন্দরমহলে ইউরোপের বিভিন্ন স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন।
দেখলাম  তত্‍কালীন বৈভবের নমুনা, যেমন ইতালিয়ান মার্বেলের পিলার, ঝাড়বাতি, গ্রিক মুরাল ইত্যাদি। হোলকারদের আর এক মহলে বসেছে সেন্ট্রাল মিউজিয়াম। সোমবার বাদে প্রতি দিন সকাল 10টা থেকে বিকেল 5টা অব্দি খোলা।

বিঃ দ্রঃ ----((সেন্ট্রাল মিউজিয়াম সোমবার বন্ধ থাকে।))

এই মিউজিয়ামে রয়েছে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। শহরের অন্যান্য আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে কাচমন্দির, ইন্দো-গথিক শৈলীতে 1902 সালে তৈরি কিং এডওয়ার্ড হল, এখন যার নাম গাঁধী হল।

ইন্দোরের - কাপড় জামার দোকানের নাম ডাক  তো আছেই, বিশেষ করে ট্রাডিশনাল পোশাকের। এখানকার স্বর্ণব্যবসারও বেশ নাম। সোনা-রুপোর দোকানের জন্যে বিখ্যাত সারাফা বাজার।
এই বাজারের বিশেষ আকর্ষণ সন্ধ্যা বেলায়।

গয়না কিনুন আর নাই কিনুন, বহু মানুষ সন্ধ্যেবেলা অবশ্যই হাজির হন এখানে। রাত্রে  দোকান বন্ধ হলেই রাস্তার ধারে  স্টল সাজাতে শুরু করেন দোকানিরা, চালু হয়ে যায় 'খাও গলি' বা 'নাইট স্ট্রিট ফুড মার্কেট'- মোটামুটি সাড়ে আটটা নাগাদ জমে ওঠে খাও গলি, চলে গভীর রাত পর্যন্ত । নানা ধরনের চাট, ভুট্টার টিকিয়া, ছোলে বাটোরা,  মটর শুঁটির কচুরি, নানা ধরণের  মিষ্টি ।
ইন্দোরের   তৈরি খেলনাও বিখ্যাত।এখানে অনেক বেশ ভালো ভালো  হোটেলও  আছে।
আমরা একরি আট সিটের গাড়ি ভাড়া করে নিয়ে ছিলাম।  এই গাড়িতে করেই তিন দিন ঘুরলাম।
ওই পন্ডিত জি ই গাড়িটি ঠিক করে দিয়ে ছিলেন তাই খুম কম পয়সাতেই পেয়ে গেছিলাম।
আমাদের ড্রাইভার কম গাইড বেশ ভালো ছিল ,খুব ভালো হিন্দি বলতে পারতেন ,সেই কারনে আমাদের ওনার কথা বুঝতে কোন অসুবিধা হয়নি। 

16/02/2010--5th day
INDORE  TO MANDSAUR ----260 KM
ইন্দোর দেখার পরে গেলাম  মান্ডুর বা  মান্দুর।


জানলাম যে মান্দুরের রানি রূপমতী ও মালোয়ার রাজা রাজ বাহাদুরের প্রেমকাহিনি মিশে আছে মান্ডু-র আকাশে বাতাসে।
মোগল সম্রাট জাহাঙ্গিরের অতি প্রিয় মান্ডু, বিশেষ করে বর্ষাকালে।তাই মোগল সম্রাট এর  নাম দিয়েছিলেন তিনি সাদিয়াবাদ, অর্থাত্‍ সিটি অফ জয়। বলা হয় যে এখানে অবস্থিত হোসাং শাহের সমাধি নাকি ভারতের প্রথম শ্বেতপাথরে তৈরি সৌধ, যা দেখে সম্রাট শাহজাহান তাজমহল বানানোর অনুপ্রেরণা পান।

মান্দুরে  ছড়িয়ে আছে নানা সৌধ, প্রাসাদ, ইত্যাদি।
তাই খুব ভালো করে  মান্ডু দেখতে হলে সপ্তাহখানেক লেগেই যাবে। আমরা তিনদিন
16/02 to 18/02 মান্ডুর ঘুরে দেখলাম।----5 th to 7th day

আমাদের ড্রাইভার ঋতম সিং  নিজেই এখানে একটি গাড়ির  জোগাড় করে দিয়েছিলো । এবারেও আমাদের গাড়ির ড্রাইভারই আমাদের গাইড। ওর নাম ওমন সিং খুব ভালো হিন্দি বলে তাই আমাদের বুজতে কোন অসুবিধাই হয়নি। তথাপি ওমন বলছিলো আরও দিন দুই থাকলে
সব প্রাসাদ গুলির ভেতরে নিয়ে গিয়ে দেখাতে  পারতো। কারন কয়েকটি জায়গাতে ঢুকতে আগে থেকে পারমিশন নিতে হয়।
সে যাই হোক  আমাদের হাতে তো এত সময় ছিল না । তবুও আমরা বেশ খানিকটাই দেখলাম।   দেখলাম এখন কার  প্রধান আকর্ষণ, ভিলেজ বা সেন্ট্রাল গ্রুপ, রয়াল গ্রুপ এবং রেওয়াকুণ্ড গ্রুপ।

ভিলেজ বা সেন্ট্রাল গ্রুপ ::---

ভিলেজ বা সেন্ট্রাল গ্রুপে আছে  মান্ডুতে প্রবেশ করার তিন ফটক- আলমগির, দিল্লি ও ভাঙ্গি দরওয়াজা, আশরাফি মহল, রামমন্দির, দামাস্কাসের গ্রেট মস্কের অনুকরণে তৈরি জামি মসজিদ ও হোসাং শাহ-র সমাধি। মান্ডুর বাজার এলাকায় অবস্থিত শেষ দু'টি সৌধের জালির কাজ অপূর্ব নজর করার মতো।

রয়াল গ্রুপ::---

রয়াল গ্রুপের আছে  বিখ্যাত জাহাজ মহল। কাপুর তালাও আর মুঞ্জা তালাও-এর মাঝে অবস্থিত প্রায় 120 মিটার লম্বা এই প্রাসাদ। জলে পরিপূর্ণ ঝিল অপূর্ব তার শোভা । তারপরে দেখলাম  অন্দরমহল, তাবেলি ,  সেখানে ছবি তোলা মানা। আর আছে হিন্দোলা মহল। এমন সুন্দর তার গঠন শৈলী যে বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে এই বুঝি বাতাসের ছোঁয়ায় দুলে উঠল কোণাকুনি দেওয়াল সমেত মহল, কিন্তু ভেতরে গেলে দেখা যাবে দিব্বি সোজা দাঁড়িয়ে দেওয়াল। দেখলম রানি রূপমতীর মহল বা চম্পা বাওলি, নহর ঝরোকা এবং জলমহল।

রেওয়া কুণ্ড গ্রুপ ::--

মান্ডু-র দক্ষিণ দিকে  আছে  রেওয়া কুণ্ড গ্রুপের মধ্যে পড়ে বাজ বাহাদুরের প্রাসাদ ও রানি রূপমতীর প্যাভিলিয়ন। এখানে বেশ  খানিকটা  চড়াই-উত্‍রাই রাস্তা , তাই এখানে গাড়ি প্রবেশ নিষেধ , হেঁটেই ঘুরতে হয় ।

ওমন আমাদের বুঝিয়ে বললো ষোড়শ শতাব্দীতে তৈরি বাজ বাহাদুরের প্রাসাদ। বলা হয় যে আকবরের সঙ্গে যুদ্ধ হয় সঙ্গীতজ্ঞ বাজ বাহাদুরের। পরাজিত হন তিনি। তবে যুদ্ধের পর তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরাজয়ের খবর আসার পর রানি রূপমতী আর দেরি করেননি, আগুনে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তারপরে সেই  রানির প্রিয় জায়গায়, আজ যার নাম রূপমতীর প্যাভিলিয়ন। এখান থেকে রানি নীচের বিস্তৃত সমতল ও নর্মদা নদীর দৃশ্য দেখতে খুব ভালো বাসতেন ।

পথে এক জায়গাতে খেলাম  বাওবাব ফলের জুস।
বাওবাব গাছ ও বাওবা ফল নিয়ে অনেক গল্প কথা প্রচলিত আছে।
তবে সকল গল্প কথা বাদ দিয়ে কিছু বিবরণ দেই বাওবা গাছের।

গাছ টি দেখতে অদ্ভুত।দেখে মনে হয় গাছটি উল্টে আছে।
 গাছটি দেখে মনে হয় যেন  ডালপালা শুদ্ধ মাটির গভীরে উল্টো করে পুঁতে রাখা । আর শিকড়গুলো রয়ে গেলো মাটির উপরে।
গল্প গুলি  সত্য কি মিথ্যা তা কে জানে? তবে গাছটি কিন্তু সত্যি। বিশ্বাস না হলে যেতে হবে আফ্রিকার মরুভূমির বুকে।

( গাছটির আদি নিবাস আফ্রিকা, আরব এবং অস্ট্রেলিয়াতে; পাওয়া যায় মাদাগাস্কার এবং ভারতের কয়েকটি অঞ্চলেও। সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় মেসিনা নামক অঞ্চলে। তাই মেসিনাকে বলা হয় দ্য বাওবাব টাউন। মাদাগাস্কারে বাওবাব গাছকে ‘টি পট ট্রি’ বলে, কারণ কান্ডের সাথে চায়ের কাপের অদ্ভুত মিল। অস্ট্রেলিয়ায় একে বলে দ্য প্রিজন ট্রি, মানে জেলখানা গাছ! কেন?
এমন নাম হবার কারণ পরে বলছি।

বাওবাব গাছ Adansonia গণের উদ্ভিদ, জন্মে মরুভূমিতে। একহারা গড়নের গাছের কান্ডটি মাটি থেকে সোজা উর্ধ্বমুখী। ডালপালার বালাই নেই বললেই চলে। মাথায় ঝোপের মতো কয়েকটি ডাল ছাতার মতো সাজানো। দূর থেকে দেখলে কারো মনে হবে একটি গাছকে বুঝি কেউ উঠিয়ে শিকড় উপুড় করে পুঁতে দিয়েছে!

সবচেয়ে বড় গাছটি আছে দক্ষিণ আফ্রিকার লিনপোপো প্রদেশের একটি খামারে, উচ্চতা ৪৭ মিটার আর বেড় ২২ মিটার। এর নাম সানল্যান্ড বিগ বাওবাব।
কার্বন ডেটিং করে এই গাছটির বয়স নির্ধারিত হয়েছে  6000বছর।

শিমুল গোত্রীয় গাছটি পত্রমোচী ঘরানার। বছরের অধিকাংশ সময়ে কোনো পাতা থাকে না। তখন মৃত গাছ বলে ভ্রম হয়। গ্রীষ্ম শেষে নতুন পাতা গজায় বাওবাব গাছে। পাতা না থাকলেও এরা কান্ডের ভেতরে খাদ্য এবং জল সঞ্চয় করে রাখে। খাদ্য-জল সঞ্চিত হতে হতে কান্ডটি ব্যারেলের মতো মোটা হয়ে যায়। কোনো কোনো গাছ তার কান্ডে 120,000 লিটার জল ধরে রাখতে পারে। এত জল নিজের শরীরে ধরে রাখলেও জলাবদ্ধ জায়গায় এরা বাঁচতে পারে না। প্রাণীকূলের হাত থেকে যথেষ্ঠ সুরক্ষিত এরা,  সব গাছের আকার এক রকম হয় না। এদের আকার নির্ভর করে এলাকা ও প্রজাতির উপরে।

বাওবাবের কান্ড এত পুরু যে তা অগ্নি প্রতিরোধী। কান্ড থেকে একধরনের তন্তু পাওয়া যায়। সেগুলো থেকে তৈরি হয় দড়ি, বাদ্যযন্ত্রের তার, জলনিরোধী ব্যাগ, এমনকি ছাতাও। বাওবাব ফুল বেশ বড় এবং দেখতে সাদা রঙের। এদের ফল 18 সেন্টিমিটারের মতো লম্বা হয়। প্রমাণ সাইজের ফলগুলো থেকে পাওয়া যায় পর্যাপ্ত শাঁস, যা বেশ সুস্বাদু খাবার। টক-মিষ্টি স্বাদের বাওয়াব ফল দুগ্ধজাত খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
এই  ফল দিয়ে তৈরি করে দারুণ এক জুস। ভিটামিন সি তে পরিপূর্নএই ফল, সাথে আছে এন্টি অক্সিডেন্ট এবং পর্যাপ্ত আঁশ। শরীররে বুড়িয়ে যেতে বাধা দেয় এই এন্টি অক্সিডেন্ট আর আঁশ পাকস্থলীকে সুস্থ রাখতে দারুণ কার্যকরী। বীজ থেকে তৈরি হয় তেল, সৌন্দর্যচর্চায় যার দারুণ চাহিদা রয়েছে। ভেজে খেতেও মন্দ না বাওবাব বীজ।
আর ফলের খোসা! সেগুলো দিয়ে তৈরি হয় পাল্প এজেন্ট। এদের পাতাও ফেলনা নয়। দারুণ স্বাদের চাটনি তৈরি হয় এদের পাতা সিদ্ধ করে। মালাউই, জাম্বিয়া আর জিম্বাবুয়েতে দারুণ জনপ্রিয় এই চাটনি। টাটকা এবং শুকনো- দু’ভাবেই খাওয়া হয় এদের পাতার নির্যাস। উত্তর নাইজেরিয়াতে এদের আলাদা নাম পর্যন্ত আছে- কুকা। কুকা সুপের প্রধান উপাদান এটি।
 আর অস্ট্রেলিয়ার বাওবাবগুলো ব্যবহার হতো আরো বৈচিত্র্যময় কাজে। সেখানকার অধিবাসীরা কারাগার হিসেবে ব্যবহার করতো বাওবাবের প্রকান্ড খোঁড়ল। কোনো কোনো কোটরে নাকি 20--25 জন বন্দীও ধরে যেত! ভাবুন তাহলে কতবড় হয় বাওবাব গাছ। এজন্য এদের নাম বাওবাব প্রিজন ট্রি!
অস্ট্রেলিয়ার ইউন্ডহ্যাম অঞ্চলে দেখা মেলে এই বাওবাব প্রিজন ট্রির। এখন অবশ্য বন্দী রাখার বন্দোবস্ত নেই। বরং পর্যটকদের কাছে দারুণ আকর্ষণীয় এক জায়গা এটি! রীতিমত সারাবিশ্ব থেকে মানুষ আসে এই গাছগুলো দেখতে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের সাভানুর নামক জায়গায় এমন তিনটি গাছের দেখা মেলে। ধারণা করা হয়, ভারতীয় বুশম্যানরা এখানে আস্তানা গেড়েছিলো এককালে।)

মান্ডু বা মাণ্ডব এতে  আরও অনেক উল্লেখযোগ্য সৌধ আছে ,
যেমন 
//নীলকণ্ঠ প্রাসাদ ও মন্দির,
//আন্ধেরি ও উজালা বাউড়ি,
//দাই কে মহল,
//দাই কি ছোটি বহেন কে মহল,
//সাগর তালাও,
//এক খাম্বা মহল,
//দারিয়া খান মাকবারা,
//হাতি মহল ইত্যাদি।

আমরা এর পরে গেলাম রূপমতীর প্যাভিলিয়ন।
মান্ডু থেকে মহেশ্বর প্রায় 40 কিমি রাস্তা।  নর্মদা নদীর পাড়ে শহর। বলা হয় রামায়ণ-মহাভারতে উল্লিখিত মহিষ্মতী আজকের মহেশ্বর।

নর্মদা নদীর পাড় ধরে একের পর এক ঘাট। ঘাট থেকে ধাপে ধাপে উঠে গেছে দুর্গ তথা প্রাসাদ।
দুর্গের মধ্যে রানি অহল্যাবাঈয়ের রাজগদ্দি,রানীর মূর্তিও আছে এখানে  ।এছাড়া এখানে আছে  পারিবারিক মিউজিয়াম ও অন্যান্য মন্দির । দুর্গের উপর থেকে নদী ও সংলগ্ন ঘাটগুলি দেখতে  বেশ সুন্দর লাগে । দুর্গের শহর প্রান্তের তোরণ পেরিয়ে তাঁতিদের ঘর, বোনা হচ্ছে বিখ্যাত মহেশ্বরী শাড়ি। এহানে শাড়ি বিক্রিও হয়।

এই মহেশ্বর থেকে মাত্র  60 কিমি দূরে ওঙ্কারেশ্বর। নর্মদা ও কাবেরী নদীর মিলন ঘটেছে এখানে। তৈরি হয়েছে দ্বীপ, দ্বীপে শিবের মন্দির। শিবের নামেই দ্বীপের নাম, ওঙ্কারেশ্বর, দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম। আর পাঁচটা তীর্থক্ষেত্রের মতো মন্দিরকে নির্ভর করে গড়ে উঠেছে শহর। মূল ভূখণ্ডের সাথে শহরের যোগাযোগ সেতুর মাধ্যমে । 

(শহরের ঘাট থেকে নৌকো নর্মদা পার করেও  পৌঁছনো যায় দ্বীপে।
দরদাম করে নৌকো ভাড়া করতে হয়।  নৌকোওয়ালার সঙ্গে কথা বলার আগে ভাল করে জেনে 
নিতে হয় মন্দির খোলা-বন্ধের সময়. কারণ, আরতি হওয়ার সময় বা মন্দির বন্ধের সময় নৌকোওয়ালারা দর্শনার্থীদের ব্যতিব্যস্ত করে তোলে, ভাড়াও বেশি চায়। ঠিক সময় জানা থাকলে  অযথা হয়রান হতে হয়  না।)

এর  পরেই পাহাড়ের উপরে  হিন্দোলা মহল::--

সিঁড়ি বেয়ে পাহাড়ের গায়ে তৈরি মন্দিরে পৌঁছতে হয় । বেশ ভিড় হয়। এমনটাই বিশ্বাস যে , পৌরাণিক কালে মান্ধাতার হাতে তৈরি এই মন্দির। বিশাল মন্দির কমপ্লেক্স। অবশ্যই পান্ডাদের উত্‍পাত আছে। অপরিসর গর্ভগৃহে স্বয়ম্ভূ শিব বিরাজমান। তবে সাবধানে পা ফেলতে হয় , ধাক্কাধাক্কি তো আছেই, আর পাথুরে মাটিও বেশ পিচ্ছিল। ছোট-বড় আরও নানা মন্দির আছে। দ্বীপের অন্যান্য আকর্ষণের মধ্যে আছে শঙ্করাচার্যের সাধনস্থল, মহাকালী গুহামন্দির, কোটি তীর্থ ঘাট ইত্যাদি।
তা ছাড়া, নর্মদা নদীর বুকে নৌকোবিহার ভাল লাগে।

মহেশ্বরে লজে থাকার বেশ ভালো ব্যবস্থা। 

এবার আমরা পৌঁছলাম ওঙ্কারেশ্বর।
  

ওঙ্কারেশ্বর----20/02/2010-----9 th day

নদীর উপর ইন্দিরা সাগর ড্যামের বিশাল জলাধার। সেখানে হনুবন্তিয়া গ্রামের প্রান্তে গড়ে উঠেছে মধ্যপ্রদেশ পর্যটনের টুরিস্ট কমপ্লেক্স এবং বোট ক্লাব। সাজানো মাঠ পেরিয়ে নদীর পাড়ে গুটি কয়েক কটেজ। পাশেই ডাইনিং হল। সব জায়গা থেকেই দেখতে পাওয়াযায়  বিস্তৃত নর্মদা নদী । নদীর বুকে ছোট ছোট কয়েকটি দ্বীপেও যাওয়া যায়। আগাম ব্যবস্থা করে ট্রেকিংয়ে যেতে পরাজয়  বোরিয়ামল দ্বীপে। বোট ক্লাব থেকে পাওয়া যায়  স্পিড বোট চড়ার সুযোগ।

বেশ  কয়েক বৎসর ধরে এখানে নিয়মিত অইন্দোর নুষ্ঠিত হচ্ছে জল মহোত্‍সব। টুরিস্ট কমপ্লেক্সের পাশে বিশাল মাঠে তৈরি হয় টেন্ট কলোনি। সেখানে বিলাসবহুল থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা। টুরিস্ট কমপ্লেক্সের মাঠে, বোট ক্লাবের পরিচালনায় নদীর বুকে অনুষ্ঠিত হয় নানা অ্যাডভেঞ্চার মূলক খেলা, রক ক্লাইম্বিং, হট এয়ার বেলুনিং, প্যারাসেলিং, ইত্যাদি। সন্ধেবেলা হয় নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। থাকে শিল্পমেলা, খাদ্যমেলার আয়োজন।

এখন থেকে গেলাম হনুবন্তিয়া!
 তারপরেই আনাদের  ফেরার পালা। আমাদের ট্রেনের রিজার্ভেশন ছিলো উজ্জয়িনী থেকে।
তাই আমরা উজ্জয়িনীতে ফিরে আসলাম।
আসবার সময়ে আবার পন্ডিত জি মানে ওঝা জির সাথে দেখা করে মন্দিরে প্রণাম করে
স্টেশনে এসে ট্রেন ধরলাম 20/06/2010 আমাদের দশ দিনের ভ্রমণ শেষ করে
আমরা এগারো  দিনের দিন 21/02/2010 ধানবাদে ফিরে আসলাম ।

                                                           <---©-আদ্যনাথ--->
                                                         【--anrc---2010--】
                                                          【=রাত্রি:01:08:22=】
                                                 【=বেলঘড়িয়া=কোলকাতা -56=】

=============================================================



No comments:

Post a Comment