79>|| উত্তরাখন্ড –ঊখীমঠ ||
<---আদ্যনাথ--->
|| উত্তরাখণ্ডের পরিচ::----||
উত্তরাখন্ড ভ্রমনের আগে উত্তরাখন্ড সম্বন্ধে একটু জেনে নিতে হয়।আর সেই কারণে আমি সামান্য একটু পরিচয় করিয়ে দিতে চাই উত্তরাখণ্ডের।
হিমালয়ের প্রান্তে অবস্থিত উত্তরাখণ্ড, ভারতের বর্ষের উত্তরে অবস্থিত এই পাহাড়ী রাজ্য । এই রাজ্যের উত্তর পশ্চিমে হিমাচল প্রদেশ এবং তার দক্ষিণ দিকে উত্তর প্রদেশ অবস্থিত। পূর্বে এটি উত্তরাঞ্চল নামে পরিচিত ছিল। আর এই দূন উপত্যকায় অবস্থিত উত্তরাখণ্ডের রাজধানী দেরাদুন,যে তার নিজেস্ব সুন্দর পরিবেশের জন্য সুবিখ্যাত।
এই রাজ্যের মোট আয়তন---53,483 বর্গ কিলোমিটার এবং এই রাজ্যকে প্রধানত দুটি ভাগে বিভক্ত একটি গড়বাল এবং আর একটি কুমায়ুন। এই রাজ্য তার সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক সম্পদ, ঘন বনাঞ্চল, হিমবাহ এবং বরফ-আবৃত শৃঙ্গের জন্য বিখ্যাত।
উত্তরাখণ্ড পর্যটনের জন্য অতি উত্তম স্থান। উত্তরাখণ্ডকে বলা হয়,"দেব ভূমি" বা “দেবতাদের দেশ” ।
এখানে বহু পবিত্র মন্দির বা চার ধাম; যথা – বদ্রীনাথ, কেদারনাথ, গঙ্গোত্রী এবং যমুনোত্রী অবস্থিত। দেশের দুটি সবচেয়ে পবিত্র এবং বিখ্যাত নদী গঙ্গা ও যমুনা এই রাজ্য থেকে উৎপত্তি। এই উত্তরাখণ্ডের বন্য ফুলের 250-টি প্রজাতি নিয়ে, “ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স” ইউনেস্কোর একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে গণ্য।
উত্তরাখণ্ডে সমস্ত বিখ্যাত শৈল শহর যেমন নৈনিতাল, উত্তরকাশী, মুসৌরি, চোপতা, চামোলি, আলমোড়া, দেরাদুন, ল্যান্সডাউন্, ফুলের উপত্যকা এবং সাততাল এর জন্য সুপরিচিত। উত্তরাখণ্ডের ঘন জঙ্গলে ১২-টি জাতীয় উদ্যান এবং অভয়ারণ্য অবস্থিত
উত্তরাখন্ডকে জানতে হলে জানতে হবে চিনতে হবে হিমালয়কে, আবার হিমালয়কে জানত ও চিনতে আগে জানতে হবে উত্তরাখণ্ডের দেবভূমি গাড়োয়াল আর কুমায়ুন কে ।
কুমায়ুন ভ্রমণের কিছু স্থানের মধ্যে নৈনিতাল, রানীক্ষেত, আলমোড়া, মুন্সিয়ারি প্রভৃতি উল্যেখযোগ্য।
আর গাড়োয়াল মানেই বেবভূমি দেবতার স্থান।
গাড়োয়াল,::---
হিমালয় পর্বতমালায় অবস্থিত এই অঞ্চলটি উত্তর ভারতে অবস্থিত। এই অঞ্চল টির উত্তর দিকে রয়েছে তিব্বত, পূর্ব দিকে রয়েছে কুমায়ূন বিভাগ, দক্ষিণ দিকে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ রাজ্য এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে রয়েছে হিমাচল প্রদেশ রাজ্য। বিভাগটিতে যেই জেলাগুলি রয়েছে সেগুলি হল; চামোলি, দেরাদুন, হরিদ্বার, পৌড়ী গাড়োয়াল, রুদ্রপ্রয়াগ, তেহরি গাড়োয়াল এবং উত্তরকাশী। প্রতিটি জেলা বিভিন্ন তীর্থ স্থানের জন্য প্রসিদ্ধ। আর সেই কারণেই গারোয়াল মানেই দেবভূমি।
|| ঊখীমঠ – ||
ঊখীমঠ, মন্দাকিনী নদীর ধারের এক ছোট্ট গ্রাম। উচ্চতা 4300 ফুট। রুদ্রপ্রয়াগ জেলার অন্তর্গত। রুদ্রপ্রয়াগ শহর থেকে 45 কিলোমিটার দূরে। যার উল্টো দিকে গুপ্তকাশী। আর ঠিক পিছনেই কেদারডোম শৃঙ্গ, কেদারনাথ। তাছাড়াও দেখা যায় নীলকণ্ঠ, মেরু, সুমেরু, চৌখাম্বা, গঙ্গোত্রী-শ্রেণী। সবথেকে সুন্দর যা দেখে চোখ জুড়িয়ে যায় সেটি হল মন্দাকিনীর ওপারে গুপ্তকাশী সংলগ্ন দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ উপত্যকা।সবুজ উপত্যকার জন্যই এই অঞ্চল বিখ্যাত।--★হরিদ্বার থেকে বাসে ঊখীমঠ যাওয়া।------------------কিন্তু আমরা একটা জিপ ভাড়া করে পৌঁছে গিয়েছিলাম হরিদ্বার থেকে শোণিতপুরে বা ঊখীমঠে। এই উখীমাঠের অনেক গল্প আছে -- আমাদের গাইডের মুখে শোনা একটা গল্প----.
**ঊখীমঠের গল্প কথা::---
【【শোণিতপুরের শিব-ভক্ত রাজা দোর্দণ্ডপ্রতাপ বাণাসুর। তার নাকি হাজার হাত। একমাত্র শিব তার উপাস্য। অন্য দেবতাকে বানাসুর কোন মতেই পছন্দ করতোনা।
বিশেষ করে ভগবান বিষ্ণুর সাথে তার সম্পর্ক বড়ো খারাপ। এহেন শিবভক্ত ক্ষমতার দম্ভে একদিন শিবকেই অপমান করলেন। কিন্তু শিব বরাবরই ভক্তের প্রতি বড়ো দয়ালু। অপমান হজম করে হেসে শুধু মনেমনে বলেন, “সময় মতো সব প্রাপ্য পেয়ে যাবে বাছাধন”।
বাণাসুরের একমাত্র কন্যা ঊষা। খুবই আদুরে। স্বপ্নে সে অনিরুদ্ধ নামক এক যুবককে দেখে, তার প্রেমে পাগল। স্বপ্নের ঘোরে একদিন সে অনিরুদ্ধকে চিৎকার করে সম্বোধন করে ওঠে “প্রাণনাথ” বলে। ঊষার বাল্য তথা ছায়াসঙ্গিনী চিত্রলেখা (যে একাধারে চিত্রকর ও জাদুকরী) শেষে স্বপ্নে দেখা সেই রাজপুরুষ “অনিরুদ্ধ”-র ছবি একে দেন ঊষাকে। অনিরুদ্ধ হলো কৃষ্ণপুত্র প্রদ্যুম্ন ও রুকমাবতীর পুত্র; অর্থাৎ কৃষ্ণের নাতি। প্রাণাধিক প্রিয় নাতি।
(কৃষ্ণ-পৌত্র আর বাণাসুর-কন্যা। এ যে এক অঘটন সেটা বোঝাই যায়।)
ঊষার এক গো। অনিরুদ্ধকে তার চাইই-চাই।
ঊষার সহায় তার ছায়াসঙ্গিনী চিত্রলেখা, একদিন জাদুবলে অনিরুদ্ধকে এনে দিলেন ঊষার কাছে। দেখা গেল, অনিরুদ্ধও সুন্দরী ঊষাকে পেয়ে আত্মহারা। বাণাসুর থেকে ঘটনা গোপন রাখতে অনিরুদ্ধ নারীর ছদ্মবেশে থেকে গেলেন শোণিতপুরে, প্রেমিকা ঊষার কাছে। কিন্তু বাদ সাধলো প্রকৃতি। কিছু দিনেই অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ল ঊষা। এবার অনুপায় হয়ে ঊষা ও অনিরুদ্ধ ধরা পরে গেলেন বাণাসুরের কাছে ফলে অনিরুদ্ধ হলেন অবরুদ্ধ। এদিকে এতদিন নাতি নিরুদ্দেশ, কৃষ্ণ বসে থাকবার পাত্র নন। তাঁর কাছে সকল খবর পৌঁছলে , তিনি সুদূর দ্বারকা থেকে সৈন্য সামন্ত নিয়ে শোণিতপুর চলে এলেন। একদিকে শিবশক্তিতে বলীয়ান বাণাসুর, অপরদিকে স্বয়ং কৃষ্ণ (বিষ্ণু)। শুরু হলো মহাসংগ্রাম।
বাণাসুর যতই শক্তিশালী হোক না কেন, কৃষ্ণ/ বিষ্ণুর সাথে এঁটে উঠবেন কেন। সুদর্শন চক্র দ্বারা তার হাতগুলো একে একে কাটা পড়তে থাকে। শেষে শিবের অনুরোধে দুটো হাত শুধু অক্ষত রয়ে যায়। বাণাসুরের গর্ব হলো খর্ব। পরাজিত, অপমানিত বাণাসুর বাধ্য হলেন অনিরুদ্ধকে মুক্তি দিতে। সন্ধির শর্তানুযায়ী ভগ্নহৃদয় বাণাসুর, ঊষা ও অনিরুদ্ধর বিবাহ দেন ও নবদম্পতিকে কৃষ্ণের সাথে দ্বারকা যাওয়ার অনুমতি দেন। এই বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং শিব। ঊষার চলে যাওয়াতে শোকগ্রস্থ শোণিতপুরবাসী, রাজ্যের নাম পাল্টে রাখেন ঊষামঠ।
পরে কালক্রমে সেই ঊষামঠই লোক মুখে মুখে হয়েবযায় ঊখীমঠ। ঊখীমঠে শিব ও কৃষ্ণের (বিষ্ণু) সাক্ষাৎ স্থল হওয়ায়, এখানে শৈব ও বৈষ্ণব মিলনক্ষেত্রও বটে। 】】
**পৌরি জেলাশহর। (হর-কি- পৌরি)---------
পৌরি অর্থাৎ হর-কি-পৌরি বেশ সাজানো গোছানো পরিচ্ছন্ন শহর। উচ্চতা 5950 ফুট। আমাদের গাইডের বক্তব্য এই হর-কি-পৌরি থেকে নন্দাদেবী, ত্রিশূল, গঙ্গোত্রীশ্রেণী এখান থেকে স্পষ্ট দেখা যায়। কিন্তু আমাদের ভাগ্য ছিল বিরূপ তাই তো সেদিন হঠাৎ শুরু হলো বৃষ্টি সেই হেতু আমাদের দেখবার সৌভাগ্য হয় নি।
[[পৌরিতে এক-দুই রাত থেকে দেখার মতন কাছাকাছি প্রচুর দর্শনীয় স্থান আছে। এই হার-কি- পৌরি থেকে 85কিলোমিটার দূরে ল্যান্সডাউন। এটি আরকটি হট হিল-স্টেশন। ]]
আমরা হর-কি-পৌরি থেকে অলকানন্দা আর মন্দাকিনীর মিলিত স্রোতের ধার ঘেসে শ্রীনগর হয়ে পৌঁছে গেলাম ★রুদ্রপ্রয়াগ। এই রুদ্রপ্রয়াগেই মন্দাকিনী এসে মিশেছে অলকানন্দার সাথে। দুটোই পার্বত্য নদী; অথচ মন্দাকিনী সদাপ্রাণচঞ্চল, প্রচন্ড বেগে বয়ে চলেছে। আর অলকানন্দা অতি শান্ত ধীর গতি। মন্দাকিনীর জল একটু সবুজ আর অলকানন্দা ঈষৎ নীলচে সবুজ।
সঙ্গম বা প্রয়াগে উভয়ের জলের পার্থক্য স্পষ্ট বোঝা যায়। একইরকম পার্থক্য করা যায় দেবপ্রয়াগেও। যেখানে ভাগীরথী [[গোমুখ থেকে দেবপ্রয়াগ অবধি প্রবাহের নাম ভাগীরথী; দেবপ্রয়াগের পর থেকে ভাগীরথী, অলকানন্দা ও মন্দাকিনী, এই তিন প্রবাহের মিলিত নাম গঙ্গা]] মিলিত হয়েছে অলকানন্দার সাথে।
**এই রুদ্রপ্রয়াগ থেকেই রাস্তা ভাগ হয়েছে কেদারনাথ ও বদ্রীনাথ যাওয়ার জন্য। একটা রাস্থা অলকানন্দার গা ঘেসে চলে গেছে বদ্রীনাথ, অন্যটি মন্দাকিনীর ধার বরাবর এগিয়ে গেছে কেদারনাথ।
আমরা মন্দাকিনীর ধার বরাবর ধীরে ধীরে পৌঁছে গেলাম অগস্ত্যমুনি, কুণ্ডচটি হয়ে বাণাসুরের শোণিতপুরে, যেটি আজকের ঊখীমঠ ।
পৌরি থেকে রুদ্রপ্রয়াগের দূরত্ব সম্ভবত 65 কিলোমিটার
আর রুদ্রপ্রয়াগ থেকে ঊখীমঠ 45 কিলোমিটার।
★★হরিদ্বার বা হৃষিকেশ থেকে ঊখীমঠ যাওয়াই সহজতম পথ। সে ক্ষেত্রে দূরত্ব 210 কিলোমিটার (হৃষিকেশ থেকে 180 কি.মি.)। সাত থেকে সাড়ে সাত ঘন্টা সময় লাগবে । মদমহেশ্বর যাওয়ার আয়োজনের জন্য ঊখীমঠ থেকে উনিয়ানা যাওয়ার শেয়ার গাড়ি পাওয়া যায়, কিন্তু ভর্তি না হলে ছাড়ে না। সেই কারণে নিজের এগার নম্বর রিজার্ভ গাড়ি পা-গাড়ি ই ভাল। তাই আমরা হাটা শুরু করলাম। দর্শনীয় স্থানগুলির দূরত্ব খুব একটা বেশি নয় ।
**ওঙ্কারেশ্বর মন্দির এখানকার প্রধান দ্রষ্টব্য। ওঙ্কারেশ্বর মন্দির ভারতের অতি প্রাচীন মন্দির গুলির মধ্যে অন্যতম। পৌরাণিক মতে, রাজা মান্ধাতা দ্বাদশ বৎসর একপায়ে দাঁড়িয়ে তপস্যা করে “ওঁ” রূপে মহাদেবের দর্শন পান এবং এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন, তাই এই শিব-মন্দিরের নাম “ওঙ্কারেশ্বর”। প্রশস্ত মন্দিরের চাতাল, ওঙ্কারেশ্বর শিব ছাড়াও এখানে রয়েছে রাজা মান্ধাতার প্রস্তর মূর্তি। এই মন্দিরেই কালীপুজোর পর থেকে অক্ষয় তৃতীয়া অবধি ছয় মাস অবস্থান করেন এবং পুজো গ্রহণ করেন কেদারনাথ (প্রথম) ও মদমহেশ্বর (দ্বিতীয়) শিব।
**অক্ষয় তৃতীয়ার পর মে মাসে পঞ্চমুখী ডুলিতে করে কেদারনাথজী, কেদারযাত্রা করেন। আর এর প্রায় সপ্তাহখানেক পরে মদমহেশ্বর শিব, একরাত রাশি গ্রামের রাসেশ্বরী মন্দিরে রাত্রি যাপন করে যাত্রা করেন মদমহেশ্বরে। কথিত আছে যে ঊষা আর অনিরুদ্ধর বিবাহ সম্পন্ন হয় এই স্থানেই। সেই বিবাহ মণ্ডপ এই মন্দির প্রাঙ্গণেই। উল্লেখ্য, কেদারনাথ ও মদমহেশ্বর এর পুরোহিত বা রাউলরা এই ঊখীমঠেরই বাসিন্দা।
এছাড়াও এখানে রয়েছে অনেক মন্দির – ঊষা, অনিরুদ্ধ, শিব, পার্বতী প্রভৃতি দেব-দেবীগণের। তবে এই মন্দিরগুলির দর্শনে বিশেষ পর্যটক আসেনা। কারন এইসকল স্থানের অধিকাংশ স্থানে পৌঁছতে হয় ট্রাকিং করে। সেইকরনে এইসকল স্থানে ভীড় বিশেষ হয়না। ট্রেকারদের-ই ভিড় বেশি থাকে। আবার এখান থেকে তুঙ্গনাথ (তৃতীয় কেদার), মদমহেশ্বর, দেওরিয়া তাল প্রভৃতি ভ্রমণ সহজ। বেশির ভাগই পর্যটক শুধু রাতটুকু ঊখীমঠ-এ থেকে নিজ নিজ গন্তব্যে এগিয়ে যায়। তাছাড়া এই সব মন্দিরগুলো তেমন প্রচার নাই, কোথাও কোথাও ভীষণ খাড়া সিঁড়ি ভেঙে বেশ উঁচুতে উঠতে হয়। সর্বসাধারণের জন্য সে পথ নয়, বিশেষ করে বয়স্কদের পক্ষে বেশ কষ্ট সাধ্য পথ। তবে, ইচ্ছাশক্তিতে ভর করে বেরিয়ে পড়তে পারাজয় ওই সব জায়গায়।
মূল ঊখীমঠের একটু বাইরেই মন্দাকিনীর গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে ভারতসেবাশ্রম সংঘ। ঠিক পাশেই তাঁদের পরিচালিত স্কুল। এবার আমরা পেয়ে গেলাম শেয়ার জীপ সেইকরনে একটু আরামে ঘুরে নিলাম গুপ্তকাশী। কথিত আছে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পর এস্থানেই নাকি কাশী থেকে এসে আত্মগোপন করেছিলেন মহাদেব। তাই নাম গুপ্তকাশী। আমরা গুপ্তকাশী থেকে আবার শেয়ার গড়ি করেই পৌঁছে গেলাম কালীমঠে। এই কালিমঠ দিয়ে বয়ে চলেছে সবুজ স্বচ্ছ সরস্বতী নদী। কথিত, এই স্থানেই দেবী কালী বধ করেন রক্তবীজকে। এই মন্দিরও প্রাচীন এবং যথেষ্ট জনসমাগম হয় এই জায়গা তে ।
এবার আমরা ফিরেগেলাম উখীমঠে। আমাদের ফিরতে সন্ধে হয়ে গেলো। আমাদের প্লান কাল থেকে শুরু হবে ট্রেক। তাই খাওয়া-দাওয়া করে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লাম।
[[ ঊখীমঠে প্রায় সারা বছরই আসা যায়, তবে বর্ষাকাল বাদ দিয়ে আসাই বাঞ্ছনীয়। আর সেপ্টেম্বর-অক্টোবরই বেস্ট সিজন।]]
এবার ফেরার পালা কিন্তু এখানে থেকে ফিরতে মন চায় না। তবুও ফিরতেতো হবেই তাই ঊখীমঠ কে বিদায় জানিয়ে ফিরলম হরিদ্বার। মন্দাকিনী-অলকানন্দা-গঙ্গার ধার ঘেষে একে একে পার হয়ে আসলাম সকল স্থান।এখানকার সকল স্থানই বিষয়ে বৈচিত্রময়। সমস্ত জায়গাই তার নিজেস্ব সৌন্দর্যের ডালি নিয়ে আছে। তবে এখানে চলার পথে সর্বক্ষণ সঙ্গ দেয় নদী, আর সেই কারণেই এই পথ এক ভিন্ন মাত্রা পায়। গাড়োয়াল ভ্রমণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সঙ্গ দিচ্ছিল নদী। এভাবেই আমরা নেমে এসেছি ঋষিকেশ। এখন থেকেই দেখা যায় লক্ষণঝুলা, রামঝুলা।
পরের দিন সকাল সকালে হরকিপৌরি ঘাটে গঙ্গা স্নান করে একটু পুন্য অর্জন করে হরিদ্বারের মার্কেটে ঘোড়াঘুড়ি করে হোটেলে ফিরে, সন্ধ্যায় হার-কি-পৌরীর ঘাটে সন্ধ্যা আরতি দেখে, নিজের নিজের লাগেজ গুছিয়ে নিয়ে তৈরী হয়ে রাত্রের ট্রেন ধরলম হাওড়ায় ফেরার জন্য।
<---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী------->
===============================================================
No comments:
Post a Comment