Thursday, September 30, 2021

66> || ভ্রমণ:: মরুতীর্থ হিংলাজ::---||====TOURE STORY

     

  66> || ভ্রমণ:: মরুতীর্থ হিংলাজ::---||====TOURE STORY  

   নিজের মানস ভ্রমনের উদ্যেশ্যে লেখা।

আমি তখন মধ্য প্রদেশের স্যডোল শহরে পোস্টিং।12/06/1978 সেদিন ফিল্ড থেকে ফিরে অফিসে বসে কোর সেম্পল গুলি ট্যাগিং করছিলাম।

চক্রবর্তী সাহেব ,পাল সাহেব, কে সি মুখার্জি ও দত্ত বাবু মিলে প্লান করছিলেন হিংলাজ তীর্থ ভ্রমনের।

ওরা আমাকেও বলে ছিলো ওদের সাথে যাবার জন্য।আমারও যাবার ইচ্ছা ছিল কিন্তু দুর্গা পুজোর সময়  যেতে আমি অনিচ্ছা প্রকাশ করলাম। তাছাড়া তখন আমার বাবার শরীর ভালো ছিলোনা।যেকোন সময়ে আমাকে বাড়ি যেতে হতে পারে। সেই কারণে আমি রাজি হইনি।

যাইহোক ওনারা চারজনে গিয়ে ছিলেনসম্ভবত 1978 এর সেপ্টেম্বরের 24 তারিখে।ওনাদের মুখে শোনা কথাই এখানে লিখলাম ।অর্থাৎ দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাবার চেষ্টা করলাম।

ওনাদের যাত্রা পথ কিছুটা জিপে কিছুটা উটের পিঠে কুছুটা হেঁটে। সে এক দারুন কষ্টের ভ্রমন। ওনাদের বর্ণনায় বুঝলাম সতীপীঠ দর্শনের উৎসাহে শারীরিক কষ্ট অনেকটা কম অনুভব হয়েছিল।

ওদের নানান অভিজ্ঞতার কথা, মরু ঝড়ের কারনে অসুস্থতা, তপ্ত বালির উপড়দিয়ে পায়ে হাঁটার অভিজ্ঞতা। এমন অনেক কথা বাদ দিয়ে শুধু হিংলাজ মাতার দর্শনের কথাই লিখলাম।

আজকাল কিন্তু তেমন কষ্ট হয়না কারন এখন মরুভূমির উপরে তৈরি হয়েগেছে সুন্দর ঝক ঝকে বাঁধন সড়ক । যে সড়ক দিয়ে এয়ার কন্ডিশন গাড়ি নিয়ে 60 কিংবা 80 কিলোমিটার বেগে সাড়ে ছয় (6.30)ঘন্টায় 328 কিমি পৌঁছে যাওয়া যায় আরামে।

সতীর ৫১ পীঠের মধ্যে অন্যতম হল সতীপীঠ হিংলাজ, পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশের লাসবেলা জেলায় মাকরান উপকূলে অবস্থিত হিংলাজ শহরে অবস্থিত এই  হিন্দু মন্দির।

পাকিস্তানে হিন্দুদের সংগঠন রয়েছে, নাম---"পাকিস্তান হিন্দু কাউন্সিল।" সংগঠনের সদর দপ্তর করাচিতে।

আগে অনেক হিন্দু মন্দির ছিল,

কিন্তু নর্তমানে যে গুলি আছে 

তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১) মরুতীর্থ হিংলাজ,বেলুচিস্তানে,

৫১সতীপীঠের অন্যতম,

স্থানীয় বালুচ মুসলমানদের কাছে এটি "নানী কী হজ" নামে পরিচিত। 

২) করাচির শ্রীস্বামী নারায়ণ মন্দির। হিন্দুদের বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয় এই মন্দিরে।

৩) বেলুচিস্তানের কালাট কালী মন্দির। মন্দিরে বিরাজিতা রণচণ্ডী কালী। খ্রিস্টিয় ৭৪ অব্দ থেকেই দেবী এখানে পূজিতা হয়ে আসছেন। বালুচ মুসলমানরা এই দেবীর পুজোয় সাহায্য করে থাকেন।

৪) পাকিস্তানে গোরক্ষনাথ মন্দির।

৫) বরুণ দেবের মন্দির।

৬) মূলতানের সূর্য মন্দির।

৭) কাটাসরাজ মন্দির ‌‌।

৮) পঞ্চমুখী হনুমান মন্দির এবং

৯) শক্তিপীঠ শিবহরকরা।

পাকিস্তানে হিন্দু কালচার টিকে আছে এখানকার বালুচ বা বালোচ সম্প্রদায়ের মুসলমানদের  প্রচেষ্টায়।

হিংগোল নদীর তীরে একটি পার্বত্য গুহায় দেবী দুর্গার বিশেষ রূপ হিংলাজ মাতার পূজাবেদিটি অবস্থিত। করাচি থেকে 338 কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে বালুচিস্তান প্রদেশের মাকরান মরুভূমির উপর অবস্থিত স্থান টি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান।পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, এখানে সতীর মস্তকের ব্রহ্মরন্ধ পড়েছিল।

হিন্দুশাস্ত্রে, বিশেষত সংস্কৃত সাহিত্যে, এই তীর্থটি হিঙ্গুলা, হিঙ্গলাজা ও হিঙ্গুলতা নামে পরিচিত। পীঠাধিষ্ঠাত্রী দেবীও হিংলাজ মাতা, হিংলাজ দেবী ও হিঙ্গুলা দেবী (রক্তবর্ণা দেবী বা হিঙ্গুলার দেবী) ও কোট্টারি বা কোটাবী নামে পরিচিতা।

সিঁদুরের আর এক নাম হিঙ্গুল। এই হিঙ্গুল থেকেই মা হিংলাজ নাম। এখান কার নদীটির নাম হিঙ্গুল নদী, যেটি গঙ্গার মতোই পবিত্র। স্নান করলে সর্বপাপ মুক্ত হওয়া যায় এমন বিশ্বাস। হিংলাজ মন্দির বেলুচিস্তানের হিঙ্গুল নদীর কাছে এই তীর্থ স্থান।

বাংলা, হিন্দী, অসমীয়া ও সিন্ধি ভাষায় দেবীর নাম হিংলাজ হলেও মূল সংস্কৃত শব্দটি হল "হিঙ্গুলা"৷ এটিকে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বিষের ঔষধ বা অ্যান্টিভেনাম হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 মরুতীর্থ হিংলাজের পুরো অঞ্চলটি ঘোষিত জাতীয় উদ্যান। হিঙ্গুল ন্যাশনাল পার্ক উৎসাহী ভ্রমণার্থীদের জন্য এক আদর্শ স্থান। যাত্রা পথে দেখা যাবে দেহাতি যাযাবর পরিবার।

হিংলাজ যাত্রার জন্য ভিসার একটু সমস্যা হয়, তবে সেটা চেষ্টা করলেই মেটানো যায়।আর সেই সমস্যা মিটলে করাচীর স্বামীনারায়ণ মন্দিরে অথবা করাচীর কয়েকটি  ভ্রমণ সংস্থা আছে যাদের সাথে যোগাযোগ করলে ওরাই নিজেদের ব্যবস্থায় টুরিস্টদের হিংলাজ দর্শন করান।সেই কারণে  তাদের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

আজকাল নবরাত্রি উৎসব উপলক্ষে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে কলকাতা থেকেও কখনও গ্রুপ ট্যুরের ব্যবস্থা করা হয়।

যে ভাবেই হোক প্যাকেজ টুরে যাওয়া ই ভালো।প্রত্যেক এপ্রিল মাসেও তিন চার দিনের টুরের ব্যবস্থা হয়।এই তীর্থ স্থান টি হিংগোল জাতীয় উদ্যানের গিরিখাতে অবস্থিত। এখানকার মাকরান মরু অঞ্চলে কিরথার পর্বতমালার একটি প্রসারিত অংশের শেষ প্রান্তে হিংগোল নদীর পশ্চিম তীরে হিংলাজ মাতার গুহামন্দিরটি অবস্থিত।

আরব সাগরের সৈকত থেকে 19 কিমি দূরে এবং সিন্ধু নদের মোহনা থেকে

130 কিমি পশ্চিমে বালোচিস্তানের লিয়ারি তহসিলের এক প্রত্যন্ত পার্বত্য এলাকার একটি সংকীর্ণ গিরিখাতে  হিংলাজ মাতা শক্তিপীঠের অবস্থান। 

মন্দিরটি হিংলাজ দেবীর মন্দির, হিঙ্গুলা দেবী অথবা নানি মন্দির নামেও পরিচিত।

এই স্থানটির জনপ্রিয়তা ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মন্দিরটি পাকিস্তানের বিভিন্ন হিন্দু সম্প্রদায়ের একতার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

হিংলাজ যাত্রা হল পাকিস্তানের সর্ববৃহৎ হিন্দু তীর্থযাত্রা। বসন্তকালের আয়োজিত এই যাত্রায় বহু হিন্দু সাধু সন্ত, সাধারণ মানুষ এমন কি বহু ভ্রমন পিপাসু মানুষও অংশগ্রহণ করেন।

করাচি থেকে চার দিনের তীর্থযাত্রা।

হিংলাজ মাতার মৃত্তিকানির্মিত নিচু পূজাবেদিটি একটি ক্ষুদ্র প্রাকৃতিক গুহার মধ্যে অবস্থিত। এই বেদিতে দেবীর কোনও মনুষ্যনির্মিত মূর্তি নেই। একটি ক্ষুদ্র অনিয়তাকার পাথরকে হিংলাজ মাতা হিসেবে পূজা করা হয়। পাথরটি সিঁদুর দ্বারা পরিলিপ্ত। তা থেকেই সম্ভবত এই অঞ্চলের সংস্কৃত নাম হিঙ্গুলার উৎপত্তি এবং এই হিঙ্গুলা শব্দটি থেকেই বর্তমান নাম হিংলাজের উদ্ভব ঘটে।

এই মন্দিরে আছেন হিংলাজ মন্দিরে মা হিংলাজ এবং ভৈরব শিলা।

করাচীর স্বামীনারায়ণ মন্দির থেকে বছরে দু’বার তীর্থযাত্রার ব্যবস্থা করা হয়। 

ভারত থেকে প্লেনেই বেশি সুবিধা তাই প্লেনে করাচীতে পৌঁছতে হবে।

করাচিতে আরও কিছু মন্দির আছে।যেমন করাচির ক্লিফটন বিচে রত্নেশ্বর মহাদেব মন্দিরে। ইংরেজ আমলে গুহার ভিতর সুপ্রাচীন এই মন্দিরটি।

প্রবাদ আছে দীর্ঘ গুহাটি নাকি সমুদ্রের তলা দিয়ে চলে গেছে হিংলাজ মন্দির পর্যন্ত। মহাদেব এই পথেই হিংলাজদেবীর সাথে মিলিত হয়ে থাকেন।

রত্নেশ্বর মহাদেব মন্দির দর্শনের পর যাওয়া যেতে পারা যায় করাচীর এমপ্রেস মার্কেটে। স্থানীয় মানুষের কাছে ‘বড়ি বাজার’। বেশ ঘিঞ্জি এলাকা। 

বাজারের ভিতর মানুষের ভিড় আর চিৎকার চ্যাঁচামেচিতে সরগরম। হিংলাজমাতার পুজোর জন্য প্রয়োজনীয় শুকনো ফল, মায়ের চুড়ি, কাপড়, ওড়না, সিঁদুর, নারকেল, লাল ধুতি, নিয়ে নেওয়া যায় এখান থেকে।

ইচ্ছা থাকলে ভ্রমণ সংস্থার  সাথে প্যাকেজ টুরে বোটে করাচী বন্দরের সমুদ্রে  প্রমোদভ্রমণও করা যায়। হিংলাজ যাত্রা এক সময়ে সবচেয়ে দুর্গম খুবই কষ্টসাধ্য মরুতীর্থ যাত্রা ছিল। তবে আজ অনেক সহজ হয়ে গেছে ।এখন সম্পুর্ন যাত্রা পথ সুন্দর নতুন পাকা সড়ক তৈরি হয়েগেছে, মসৃণ গতিতে ছুটতে পারে এসি গাড়ি সেই পথ দিয়ে। 

আগেকার দিনে হিংলাজ মাতার দর্শন ছিল খুবই কষ্টকর। তেমন রাস্তা ছিল না। প্রায় পুরোটাই মরুভূমি। মূলত রাজপুত জাতির পুণ্যার্থী মানুষ এই পথে তীর্থযাত্রায় আসতেন। পায়ে হেঁটেই। বড়জোর সঙ্গে থাকত কিছু গো-শকট আর উট। চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় কয়েক সপ্তাহের যাত্রাপথ। কী ভয়ানক কষ্ট করে মানুষগুলো হিংলাজ তীর্থে পৌঁছতেন, ভাবাও যায় না। তার উপর পথে লুঠেরা ডাকাতের উপদ্রব। আর আজকের

 তীর্থযাত্রা ঝকঝকে পথে এসি গাড়িতে। ঘণ্টায় ৮০ - ১০০ কিমি বেগে যাওয়া যায় ,মাত্র 6 ঘন্টার পথ।

পথের অদূরে  ছোট ছোট  গ্রাম।

করাচীর সীমানা অতিক্রম করার আগে গাড়ি গুলি অতিরিক্ত তেল সংগে নিয়ে নেয়। কারন ঝকঝকে ফাঁকা রাস্তা হলেও গাড়ি তেমন নেই। তাই পেট্রোল পাম্পও নেই। 

করাচী জেলার সীমানা ছাড়াবার পর থেকেই প্রায় জনমানুষ হীন পথ,

 রুক্ষ, প্রায় মরুভূমি অঞ্চল। কদাচিৎ  ভবঘুরে যাযাবর মানুষের এক আধটি দলের দেখা মিলতে পারে। 

পথের ধারে দেখা যাবে তাদের দু’একটা ঝুপড়ি। কয়েকটি দেহাতি ঘরবাড়ি। এগুলিই ছোট ছোট  গ্রাম। সব মিলিয়ে বিশ–তিরিশজন মানুষের বাস হবে হয়তো, এক একটা গ্রামে । এছাড়া দু’দিকে যতদূর চোখ যাবে রুক্ষ জনশূন্য প্রান্তর। শুধু ক্বচিৎ হয়তো দেখা যাবে এক আধটা মালবোঝাই ট্রাক। 

পথে পাকিস্তান এয়ারফোর্সের ঘাঁটি পারকরে এগিয়ে যেতে হয়। 

  পথে সর্বদা  নিরাপত্তার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হয়। হিংলাজ যাত্রার এই পথ যতই ঝকমকে হোক, সাধারণ যাত্রীদের কাছে মোটেই নিরাপদ নয়। ডাকাতি, লুঠতরাজ নিত্য–নৈমিত্তিক ব্যাপার এখানে।

পথে ঝুপড়ি চায়ের দোকান পাওয়া যাবে।

তাছাড়া পথের ধারে ধু–ধু প্রান্তরের মাঝে গোটাকয়েক বাবলাজাতীয় গাছের তলায় দড়ির খাটিয়া পাতা ধাবাগোছের এক আধ টা চায়ের ঠেক।  চড়া দুপুরে প্রায় শান্তির নীড়। চায়ের গ্লাসে চুমুক দিয়ে

শরীর ও মন উভয়ই চাঙ্গা করে নেওয়া যায়।

পথ চলতে চলতেই চোখে পড়বে দূরে পথের বাঁদিকে টিলা আকারের ছোটো ছোট  পাহাড়। ওই পাহাড় দেখতে পাবার অর্থ হিংলাজ মন্দিরের অনেকটাই কাছে পৌঁছে যাওয়া।

একটু ভালো করে খেয়াল করলেই চোখে পড়বে মনোমুগ্ধকর আরব সাগরের বেলাভূমির দৃশ্য। 

এরপর পথের দু’দিকেই  পাহাড়ের সারি। একদিকের পাহাড় আর পাঁচটা পাহাড়ের মতো হলেও অন্যদিকের পাহাড় বালি আর মাটির। 

জোরালো বাতাসে সেই মাটির পাহাড়ের গায়ে রকমারি খাঁজ আর খোঁদলের মনোমুগ্ধকর নক্সা।

বেলুচিস্তানের এই বিস্তীর্ণ অঞ্চল বর্তমানে ঘোষিত জাতীয় উদ্যান। ছয় হাজার বর্গ কিমি আয়তনের হিঙ্গুল ন্যাশনাল পার্ক। তাই ভ্রমণার্থীদের জন্য রয়েছে কিছু বাধ্যবাধকতা। রযেছে রেঞ্জ অফিস। ঢোকার আগে এখানে নাম লেখাতে হয়। মেনে চলতে হয় কিছু নিয়মকানুন।

অল্প পরেই পার হতে হবে হিঙ্গুল নদী। 

 বর্ষায় এই হিঙ্গুল নদীর জল কখনও বেড়ে ওঠে ৫০–৬০ ফুট পর্যন্ত। ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ প্রায় প্রতিবছরই মেরামত করতে হয়। নদী পার হয়ে গাড়ি ডানদিকে বাঁক নিতেই চোখে পড়বে পথের পাশে প্রমাণ সাইজের এক বোর্ডঃ নানী মন্দির।

এখানে পথে প্রচুর ধুলো,পথের ধুলোয় প্রায় অন্ধকার রাস্থা।

স্থানীয় বালুচ বা বালোচ সম্প্রদায়ের মুসলমানদের কাছে হিংলাজ মন্দির ‘নানী মন্দির’ নামেই পরিচিত। মা হিংলাজ তাদের কাছে ‘নানী বিবি’।

মন্দিরের কাছে মূল সড়কের পর  শুধু ধুলো আর ধুলো। 

ধুলোয় ভরা প্রায় ১০ কিমি দীর্ঘ সেই পথ শেষ করে পৌঁছতে হয় কাঙ্ক্ষিত হিংলাজ মায়ের মন্দির।

এই অঞ্চলটি অঘোরী নামেও পরিচিত। ‘অঘোরী’ তান্ত্রিক সম্প্রদায়ের এক নাম। সম্ভবত একসময় এখানে অঘোরী দের সাধনক্ষেত্র ছিল। হিংলাজ মন্দির সতীপীঠ হওয়ার কারণে এমন সম্ভাবনা যথেষ্টই। বর্তমানে এখানে ছোটো এক গ্রামে কিছু বালুচ উপজাতির বাস। হিংলাজ মায়ের মন্দির তারাই সারাবছর দেখাশুনা করেন। হিংলাজ মা তাদের কাছে ‘নানী বিবি’।

পাকা সড়ক আর স্থানটি জাতীয় উদ্যান ঘোষিত হবার কারণে বর্তমানে হিংলাজ মন্দির দর্শন অনেক সহজ হয়ে গেছে। 

বছরে দু’বার উৎসবের সময় কয়েক হাজার পুণ্যার্থীর সমাগম হয়। ভারত থেকেও কিছু পুণ্যার্থী আসেন তখন।

পুজো দেবার জন্য পূজারীও পাওয়া

যায়।

এখানে পাহাড়ের উপরে গুজরাটি সম্প্রদায়ের ‘মেলদীমাতা’, তারপর কালীমায়ের মন্দির আছে।

এখানে  জামাপ্যান্ট ছেড়ে লাল ধুতি পরে কালীমন্দিরের কাছের পুকুরে ডুব দিয়ে স্নান সেরে নিয়ে, হিংলাজ মন্দিরে পুজো দিতে হয়।

 মন্দিরের সামনেও ছোটো একটি পুকুর আছে। 

এখানেও স্নান করা চলে। তারপর মূল মন্দিরে প্রবেশ।

 ভেতর ঢুকতে চাইলে সেলাইবিহীন একটি কাপড় ছাড়া পুণ্যার্থীর সঙ্গে অন্যকিছুই রাখা যায় না। 

হিংলাজ মায়ের মন্দির পাহাড়ে বড়ো আকারের একটি উন্মুক্ত গুহার ভেতর।  গুহার মেঝে ঝকঝকে সেরামিক টাইল দিয়ে বাঁধানো । দরজার উপরে বড়ো একটি ঘণ্টা ঝুলছে। পূজারী শঙ্খ এবং ঘণ্টাধ্বনির মাধ্যমে পুজো শুরু করেন।

মন্দিরের ভেতর তিনধাপ সিঁড়ি দিয়ে উঠে বাঁধানো উঁচু চাতালের উপর মা হিংলাজ এবং ভৈরব অর্থাৎ মহাদেবের সিঁদুর মাখানো স্বয়ম্ভূ শালগ্রাম শিলা। চাতালের নীচে সিঁড়ির দুইপাশে কাঠের দরজা লাগানো দু’টি চৌকো ফোকর। ফোকরদু’টি চাতালের নীচে পাহাড়ের ভেতর ২০–৩০ ফুট দীর্ঘ একটি অর্ধবৃত্তাকার  গুহার দুই মুখ। হিংলাজমায়ের পুজো দেবার আগে পুণ্যার্থীকে ওই গুহার বাঁদিক দিয়ে ভিতরের ঢুকে ডান দিকেরটি বেরিয়ে আসতে হয়।

বিশ্বাস, তাতে গত সাতজন্মের পাপমুক্ত হওয়া যায়।

ঠিক যেন মাতৃজঠর থেকে পুনর্জন্ম হয়। 

এখানে পুজোর প্রসাদির সাথে থাকে

 তুলসীমালার মতো মালা স্থানীয় গাছের কাঠ থেকে তৈরি এই মালা হিংলাজে পুজো দিতে এসে স্বয়ং রামচন্দ্রও নাকি 

এই মেলা ধারণ করেছিলেন। 

চাইলে এখানে যজ্ঞও করা যায়।

ফেরার পথে এখানকার সবচেয়ে বড়ো জীবন্ত মাড ভলকানো, যার নাম 

'চন্দ্রগুপ’ দেখে নেওয়া যায়।এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো জীবন্ত মাড ভলকানো।

 পাকিস্তানের হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে এটি ‘বাবা চন্দ্রকূপ’ অর্থাৎ চন্দ্রবাবার কুণ্ড নামেও পরিচিত।

 প্রতিবছর নবরাত্রি উৎসবের সময় পাকিস্তানের হাজার হাজার হিন্দু তীর্থযাত্রী হিংলাজমাতার পুজো দিতে আসেন। ভারত থেকে কিছু তীর্থযাত্রীও আসেন ওই সময়। 

অনেকেই হিংলাজমায়ের পুজো দেবার আগে  আসেন এই চন্দ্রবাবার কুণ্ডে। প্রায় হাজার ফুট উঁচু মাড ভলকানোর উপর নারী–পুরুষ নির্বিশেষে পায়ে হেঁটে উঠতে হয়। এজন্য কখনো কখনো উপর থেকে মোটা দড়ি পাহাড়ের গা বেয়ে নামিয়ে দেওয়া হয়। তীর্থযাত্রীরা প্রয়োজনে সেই দড়ির সাহায্যও নিয়ে থাকেন। 

এই কুণ্ডে নারকেল, ফুল, মিষ্টি প্রভৃতি নিবেদন করা হয়।

চন্দ্রগুপের পরে দ্বিতীয় মাড ভলকানো ‘রানি’। দু’টি মাড ভলকানোই এখনও জীবন্ত। উদ্গিরণ করে চলেছে শীতল কাদা। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে সেই কাদা জমে তৈরি হয়েছে জমাট কাদার পাহাড়। ‘চন্দ্রগুপ’ বেশি উঁচু। খাড়াইও বেশি। তুলনায় ‘রানি’ অনেক ছোটো।

সেই কারণে অনেকেই এই 'রানি' মাড ভলকানো তে ওঠে।

চন্দ্রগুপে ওঠার সাহস পায় না।

এগুলি টিলার শীর্ষে বড়ো এক কুণ্ড। তরল কাদা টগবগ করে ফুটছে। আসলে তরল কাদা ফুঁড়ে ভূ–গর্ভের ভীতর থেকে অনবরত বুদবুদ আকারে বের হয়ে আসছে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস। প্রবাদ আছে এই কুণ্ডে কোনও পুণ্যবান নারকেল দান করলে সেটি ভেসে থাকবে। অন্যথায় যাবে ডুবে।

জীবনে যে যত অন্যায়, পাপ করেছে সেই পাপের কথা স্বীকার করে জোরে

জোরে বলে নারকেল উৎসর্গ করলে যদি নারকেল ভেসে থাকে তবে তার সকল পাপ দূর হয়ে সে পাপমুক্ত হয়।

কথিত আছে, হিংলাজ মাতা অত্যন্ত শক্তিশালী এক দেবী এবং তিনি তাঁর সকল ভক্তের কল্যাণ সাধন করেন। তাঁর প্রধান মন্দিরটি হিংলাজে হলেও প্রতিবেশী ভারতের গুজরাত ও রাজস্থান রাজ্যে হিংলাজ মাতার কিছু মন্দির রয়েছে।

Distনance between Karachi and Hinglaj Mata Mandir. It takes 6 hours, 33 minutes to travel from Karachi to Hinglaj Mata Mandir. Approximate driving distance between Karachi and Hinglaj Mata Mandir is 328 kms or 203.8 miles or 177.1 nautical miles .

===========================


No comments:

Post a Comment