পুরীর মন্দিরের অলৌকিক রহস্য,
নবকলেবর, পুরীর মন্দির দর্শন। (৬ ষষ্ঠ পর্বে )
নবকলেবর, পুরীর মন্দির দর্শন। (৬ ষষ্ঠ পর্বে )
<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->
আমি বেশ কয়েকবার পুরীর মন্দির দর্শন করেছি।
পুরীতে আমার জানাশোনা একজন পান্ডা আছেন ,দামোদর মেকাপ ,ওনার সাথেও কয়েকবার দর্শন করেছি। মেকাপ জীর মুখথেকে আনেন কিছুই জেনেছি।
আমি জাজ দেখেছি ও শুনেছি সেগুলি পরপর ছয়টি অংশে লিখলাম।
পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে রয়েছে অলৌকিক কিছু রহস্য, যার এখনও কোনও সমাধান হয়নি----
১>প্রথম পর্ব অলৌকিক কিছু রহস্য-------
১>প্রথম পর্ব অলৌকিক কিছু রহস্য-------
1=পুরী মানেই উত্তাল সমুদ্র, নীলজল ৷ পুরী মানেই জিভে গজা ৷ পুরী মানেই ক্ষীর ৷ আর অবশ্যই পুরী মানে জগন্নাথ মন্দির, জগন্নাথ দেব দর্শন ৷ আমরা প্রায় সবাই পুরীতে গিয়েছি ৷ পুরীর জগন্নাথ মন্দিরও দর্শন করেছি ৷ তবে এই মন্দিরের নেপথ্যে রয়েছে অনেক ইতিহাস ৷ এই মন্দিরের রয়েছে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যও ৷
2-পুরীর জগন্নাথ মন্দির ১০৭৮ সালে তৈরি হয়। ১১৭৪ সালে তা মেরামতির পর আজকের জগন্নাথ মন্দিরর রূপ ধারণ করে। এই পুরী জগন্নাথ মন্দিরের কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট আছে। যা কিনা অবিশ্বাস্য ৷
3- বেশকিছু অলৌকিক ঘটনা যা ক্রমাগত পুরীর মন্দিরের প্রতি মানুষের টান বাড়িয়েছে। তারমধ্যে মন্দিরের চুড়োয় থাকা নীলচক্র বা সুদর্শন চক্র সেটি উচ্চতায় ২০ ফুট এবং ১ টন ওজন। এবং তার সঙ্গে বাঁধা পতাকা। সুদর্শন চক্র পুরীর যে কোনও জায়গা থেকে তাকালে মন্দিরের চুড়ার সুদর্শন চক্র আপনার সম্মুখীন থাকবে।
এক হাজার ৮০০ বছর ধরে ৪৫ তলা পায়ে উঠে নিয়মিত পরিবর্তন করা হয় এই পতাকা। তবে অদ্ভুতভাবে পুরীর মন্দিরের এই পতাকা মানে না হাওয়ার দিক নির্দেশ। বরাবর হাওয়ার বিপরীতে উড়ছে এই পতাকা। মনে করা হয়, মন্দিরের মাথায় এমন কোনও শক্তি রয়েছে যা পতাকার দিক পরিবর্তন ঘটায়। এমনকি মন্দিরের মাথায় কোনও দিন কোনও পাখি বসতে দেখা যায়নি।
পুরীর মন্দিরের মাথায়যে পতাকাটি ওড়ে সেটি
প্রতিদিন বিকালে এই পতাকা বদল করা হয় এবং ঠিক চোদ্দ বছর বয়সী এক বালককে এক বছরের জন্য প্রতিদিন এই কাজ করতে হয়। চোদ্দ বছর বয়সী এক বালকের তরতর করে বেয়ে ২০০ ফিটের বেশি ওঠা, পতাকা বদল এবং নেমে আসা প্রত্যক্ষ করা, সে সত্যিই এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।
ছেলেটি নীচে আসলেই সকল দর্শনার্থী তাকে ঘিরে ওই পতাকার একটু অংশ নিতে চায়।
কারন ওই পতাকার অংশ নাকি সৌভাগ্যের প্রতীক।
এক হাজার ৮০০ বছর ধরে ৪৫ তলা পায়ে উঠে নিয়মিত পরিবর্তন করা হয় এই পতাকা। তবে অদ্ভুতভাবে পুরীর মন্দিরের এই পতাকা মানে না হাওয়ার দিক নির্দেশ। বরাবর হাওয়ার বিপরীতে উড়ছে এই পতাকা। মনে করা হয়, মন্দিরের মাথায় এমন কোনও শক্তি রয়েছে যা পতাকার দিক পরিবর্তন ঘটায়। এমনকি মন্দিরের মাথায় কোনও দিন কোনও পাখি বসতে দেখা যায়নি।
পুরীর মন্দিরের মাথায়যে পতাকাটি ওড়ে সেটি
প্রতিদিন বিকালে এই পতাকা বদল করা হয় এবং ঠিক চোদ্দ বছর বয়সী এক বালককে এক বছরের জন্য প্রতিদিন এই কাজ করতে হয়। চোদ্দ বছর বয়সী এক বালকের তরতর করে বেয়ে ২০০ ফিটের বেশি ওঠা, পতাকা বদল এবং নেমে আসা প্রত্যক্ষ করা, সে সত্যিই এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।
ছেলেটি নীচে আসলেই সকল দর্শনার্থী তাকে ঘিরে ওই পতাকার একটু অংশ নিতে চায়।
কারন ওই পতাকার অংশ নাকি সৌভাগ্যের প্রতীক।
4-রয়েছে আরও একটি রহস্য গল্পকথা। পুরীর মন্দিরে চারটি দরজা। যার মধ্যে সিংহদ্বার প্রধান। এই সিংহদ্বার পেরিয়ে বছরে একবার রথে চড়েন জগন্নাথ দেব। প্রচলিত, দরজা পেরনোর পর শোনা যায় না সমুদ্রের গর্জন। সিংহদ্বারের সামনে পর্যন্ত সমুদ্রের আওয়াজ মিললেও দরজা পেরিয়ে গেলেই আর সেই আওয়াজ কানে আসবে না। কীভাবে তা সম্ভব, তার উত্তর খুঁজছেন অনেকেই।
5-হাওয়ার চলন সাধারণত দিনের বেলায় হাওয়া সমুদ্রের দিক থেকে সমুদ্রতটের দিকে আসে। আর সন্ধ্যের সময় সমুদ্রতটের দিক থেকে সমুদ্রের দিকে হাওয়া চলে। কিন্তু পুরীর ক্ষেত্রে তা ঠিক উল্টো। সকালে তটের দিক থেকে সমুদ্রের দিকে হাওয়া চলে, এবং সন্ধ্যায় সমুদ্রের দিকে থেকে তটের দিকে হাওয়া বয়।
6-মন্দিরের উপর কোনও পাখি বা বিমান পুরী মন্দিরের উপর দিয়ে উড়তে পারে না। মন্দিরের ছায়া মন্দিরের সবচেয়ে বড় প্রাসাদটির ছায়া দিনের যে কোনও সময় অদৃশ্য থাকে।
7-পুরী মন্দিরের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য বৈশিষ্ট হল প্রসাদ। সারা বছর ধরেই সমপরিমান প্রসাদ রান্না করা হয়। কিন্তু ওই একই পরিমান প্রসাদ দিয়ে কয়েক হাজার মানুষ হোক বা ২০ লক্ষ মানুষকে খাওয়ানো হোক, তবু প্রসাদ কখনও নষ্ট হয় না বা কখনও কম পড়ে না।
জগন্নাথ দেবেরএকটা হাঁড়ির ভোগই যথেষ্ঠ এক পরিবারের জন্য। সে পরিবার ছোট হোক বা বড় পরিবারই হোকনা কেন। যদি আপনারা সপরিবারে খান তবুও এইভোগ শেষ করতে পারবেন না সে যতই ছোট ভোগের হাঁড়ি হোক না কেন।
8- মন্দিরের হেঁশেলে একটি পাত্রের উপর আর একটি এমন করে মোট ৭টি পাত্র আগুনে বসানো হয় রান্নার জন্য। এই পদ্ধতিতে যে পাত্রটি সবচেয়ে উপরে বসানো থাকে তার রান্না সবার আগে হয়। তার নিচের তারপরে। এভাবে করতে করতে সবচেয়ে দেরিতে সবচেয়ে নিচের পাত্রের রান্না হয়।
জগন্নাথ দেবেরএকটা হাঁড়ির ভোগই যথেষ্ঠ এক পরিবারের জন্য। সে পরিবার ছোট হোক বা বড় পরিবারই হোকনা কেন। যদি আপনারা সপরিবারে খান তবুও এইভোগ শেষ করতে পারবেন না সে যতই ছোট ভোগের হাঁড়ি হোক না কেন।
8- মন্দিরের হেঁশেলে একটি পাত্রের উপর আর একটি এমন করে মোট ৭টি পাত্র আগুনে বসানো হয় রান্নার জন্য। এই পদ্ধতিতে যে পাত্রটি সবচেয়ে উপরে বসানো থাকে তার রান্না সবার আগে হয়। তার নিচের তারপরে। এভাবে করতে করতে সবচেয়ে দেরিতে সবচেয়ে নিচের পাত্রের রান্না হয়।
9-পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের ভিতরে সিংহদ্বারের মন্দিরে প্রবেশ করার পর প্রথম সিঁড়িতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্রের আওয়াজ আর শুনতে পাবেন না। কিন্তু ওই সিঁড়িটি টপকে গেলে আবার সমুদ্রের শব্দ শুনতে পাবেন। সন্ধেবেলায় এই বিষয়টি সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়।
10- এই মন্দিরেরকোনো ছায়া পড়ে না।
11-. মন্দিরের ওপর দিয়েকোনো বিমান, পাখি উড়ে যেতে পারে না।
12- মন্দিরের সিংহ দ্বারে সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ শোনা যায়।
13- মহাপ্রসাদ রান্না হয় পরপর সাতটি মাটির পাত্রে একসাথে(একটির উপরে আরেকটি বসানো হয়) কিন্তু রান্না হয় উপরের হাঁড়িতে সবার প্রথমে।
14>অক্ষয় তৃতীয়ার দিন থেকেই--ঠাকুরের আজ্ঞামালা নিয়ে রাজবাড়ীর সামনে রথ প্রস্তুতের জন্য বনযজ্ঞ সম্পাদন করে।
15> নবকলেবরের বৎসরে নুতন করে তৈরি হয় রথের ঘোড়া ,সারথি,ও পার্শ্ব দেবতাগণ।
16>স্নান পূর্ণিমায় স্নান বেদিতে শ্রী মূর্তি গণের স্নান সম্পন্ন হলে নবকলেবরের দারুকে স্নান করেন হয়।
তারপরথেকেই শুরু হয়েযায় নবকলেবরের দারুর বিশেষ পূজা যজ্ঞ।
17>জগন্নাথ,বলভদ্র,ও শুভদ্র ,এই তিন দেবতার প্রত্যেকের প্রতিনিধি বিগ্রহ বা চলন্তি বিগ্রহ আছে।
তিনটি পটে সাত মূর্তি আছেন।
জগন্নাথের চলন্তি বিগ্রহ হচ্ছে দুইজন ,দোল গোবিন্দ ও মদনমোহন।
বলভদ্রের চলন্তি বিগ্রহ তিন জন ,রাম ,কৃষ্ণ,ও নৃসিংহ।
সুভদ্রার চলন্তি বিগ্রহ দুইজন লক্ষ্মী আর সত্যভামা
সুদর্শনের কোন চলন্তি বিগ্রহ নাই।
আর এইসকল চলন্তি বিগ্রহ সকলেই অষ্ট ধাতুর তৈরি।
18>আর একটি বিশেষ গোপন কথা যে জগন্নাথ মোটামুটি দ্বাদশ যাত্রা ব্যতীত আরও অনেক যাত্রা করেন। তবে জগন্নাথ নিজে কেবল একবারই যাত্রা করেন সেটি হলো রথ যাত্রা।
বাকি সকল যাত্রাতে জগন্নাথের চলন্তি বা প্রতিনিধি বিগ্রহ যাত্রা করেন।
***********<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->***************
10- এই মন্দিরেরকোনো ছায়া পড়ে না।
11-. মন্দিরের ওপর দিয়েকোনো বিমান, পাখি উড়ে যেতে পারে না।
12- মন্দিরের সিংহ দ্বারে সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ শোনা যায়।
13- মহাপ্রসাদ রান্না হয় পরপর সাতটি মাটির পাত্রে একসাথে(একটির উপরে আরেকটি বসানো হয়) কিন্তু রান্না হয় উপরের হাঁড়িতে সবার প্রথমে।
14>অক্ষয় তৃতীয়ার দিন থেকেই--ঠাকুরের আজ্ঞামালা নিয়ে রাজবাড়ীর সামনে রথ প্রস্তুতের জন্য বনযজ্ঞ সম্পাদন করে।
15> নবকলেবরের বৎসরে নুতন করে তৈরি হয় রথের ঘোড়া ,সারথি,ও পার্শ্ব দেবতাগণ।
16>স্নান পূর্ণিমায় স্নান বেদিতে শ্রী মূর্তি গণের স্নান সম্পন্ন হলে নবকলেবরের দারুকে স্নান করেন হয়।
তারপরথেকেই শুরু হয়েযায় নবকলেবরের দারুর বিশেষ পূজা যজ্ঞ।
17>জগন্নাথ,বলভদ্র,ও শুভদ্র ,এই তিন দেবতার প্রত্যেকের প্রতিনিধি বিগ্রহ বা চলন্তি বিগ্রহ আছে।
তিনটি পটে সাত মূর্তি আছেন।
জগন্নাথের চলন্তি বিগ্রহ হচ্ছে দুইজন ,দোল গোবিন্দ ও মদনমোহন।
বলভদ্রের চলন্তি বিগ্রহ তিন জন ,রাম ,কৃষ্ণ,ও নৃসিংহ।
সুভদ্রার চলন্তি বিগ্রহ দুইজন লক্ষ্মী আর সত্যভামা
সুদর্শনের কোন চলন্তি বিগ্রহ নাই।
আর এইসকল চলন্তি বিগ্রহ সকলেই অষ্ট ধাতুর তৈরি।
18>আর একটি বিশেষ গোপন কথা যে জগন্নাথ মোটামুটি দ্বাদশ যাত্রা ব্যতীত আরও অনেক যাত্রা করেন। তবে জগন্নাথ নিজে কেবল একবারই যাত্রা করেন সেটি হলো রথ যাত্রা।
বাকি সকল যাত্রাতে জগন্নাথের চলন্তি বা প্রতিনিধি বিগ্রহ যাত্রা করেন।
***********<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->***************
**************************************************
===========================================
দ্বিতীয় পর্ব " জগন্নাথের নব-কলেবর"
" দারুব্রহ্ম"
পুরীর মন্দিরে জগন্নাথের 'আত্মা পরিবর্তন' বা ‘নব-কলেবর’ বা 'ঘট পরিবর্তন' নামের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবতার পুরোনো মূর্তি সরিয়ে নতুন মূর্তি বসানো হয়, আর পুরোনো মূর্তির 'আত্মা' নতুন মূর্তিতে সঞ্চারিত হয় - এটাই পূজারীদের বিশ্বাস।
পুরীর বিখ্যাত রথযাত্রা পরিচালনা করেন পুরোহিতদের যে বংশ, নতুন বিগ্রহ তৈরী তাদেরই দায়িত্ব।
জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলভদ্রের মূর্তি।
হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী এই 'দ্বৈতাপতি'দের আদিপুরুষ বিশ্ববসু প্রথম ‘নীলমাধব’ নামে জগন্নাথের পুজো করেছিলেন বহু শতাব্দী আগে।
পুরীর পুরোহিতদের এই বংশের বর্তমান প্রধান দ্বৈতাপতি।
===========================================
দ্বিতীয় পর্ব " জগন্নাথের নব-কলেবর"
" দারুব্রহ্ম"
পুরীর মন্দিরে জগন্নাথের 'আত্মা পরিবর্তন' বা ‘নব-কলেবর’ বা 'ঘট পরিবর্তন' নামের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবতার পুরোনো মূর্তি সরিয়ে নতুন মূর্তি বসানো হয়, আর পুরোনো মূর্তির 'আত্মা' নতুন মূর্তিতে সঞ্চারিত হয় - এটাই পূজারীদের বিশ্বাস।
পুরীর বিখ্যাত রথযাত্রা পরিচালনা করেন পুরোহিতদের যে বংশ, নতুন বিগ্রহ তৈরী তাদেরই দায়িত্ব।
জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলভদ্রের মূর্তি।
হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী এই 'দ্বৈতাপতি'দের আদিপুরুষ বিশ্ববসু প্রথম ‘নীলমাধব’ নামে জগন্নাথের পুজো করেছিলেন বহু শতাব্দী আগে।
পুরীর পুরোহিতদের এই বংশের বর্তমান প্রধান দ্বৈতাপতি।
সাধারণত কোনও মন্দিরে বিগ্রহ নয় পাথর নয় ধাতু দিয়ে তৈরি করা হয়। কিন্তু পুরীর মন্দিরে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা তিনজনের বিগ্রহই কাঠের তৈরি।
সাধারণ ভক্তের মনে নব কলেবর কেন হয় এবং এর বিশেষত্ব কি এই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। যে বছর জোড়া আষাঢ় পড়ে,
(যে বছরের আষাঢ় মাস ‘মলমাস’ অর্থাৎ একই মাসে দুবার অমাবস্যা পড়ে, )
বিগ্রহের প্রস্তুতির জন্য দারু অন্বেষণ যা কাকটপুরের মা মঙ্গলার স্বপ্নাদেশে বনযাগ যাত্রা নামে বলা হয়। এই যাত্রা থেকে নব কলেবরের প্রস্তুতি পর্ব আরম্ভ।
নব-কলেবর সম্বন্ধে কিছু তথ্য-(সংগ্রহ )
যে বছর জোড়া আষাঢ় পড়ে সেই বছরটি শ্রী জগন্নাথ, বলভদ্র ও দেবী সুভদ্রার নব কলেবর হয়। সাধারণত জোড়া আষাঢ় ৮, ১২ ,১৬ কিম্বা ১৯ বছর পর পড়ে। বিংশ শতাব্দীর নব কলেবর যাত্রা প্রথমে ১৯১২, ১৯৩১, ১৯৫০, ১৯৬৯, ১৯৭৭ এবং ১৯৯৬ সালে হয়েছিল। ২০১৫ সালে নব কলেবর যাত্রা ১৯ বছর বাদে হয়েছে।
এই নব-কলেবরের সূচনায় প্রথম অংশ, বনযাগ যাত্রা-
চৈত্র মাসের শুক্ল দশমী থেকে সুরু হয় বনযাগ যাত্রা ।
(অর্থাৎ ১৪২১ চৈত্র মাসের শুক্লা দশমী তে আরম্ভ হয়েছিল ১৪২২ এর নব-কলেবর যাত্রার জন্য।)
জগন্নাথ মন্দিরের সিংহ দ্বার থেকে বনযাগ যাত্রা সুরু হল। শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের তিন ঠাকুরের মধ্যাহ্ন ভোগের পর অপরাহ্ণ তিনটের সময় দারু-গৃহ অনুকূলের পর এই যাত্রা শুরু হয় ।
রাজগুরু যিনি জগন্নাথ মন্দিরের মুখ্য সেবায়ত, তিনি এই সংকল্প সুপারি দৈতাপতি(রথের সময় এরা তিন ঠাকুরের সেবায়ত)বা দলপতি কে প্রদান করেন ।
এই পরম্পরাকে শ্রী ক্ষেত্রে “গুয়া টেকা” বলে।
এখানে জানতে পারলাম যে পুরীর রাজাই হলেন জগন্নাথের মুখ্য সেবক।
আর বর্তমানে সরকারি নিয়মে,মন্দির কমিটির প্রেসিডেন্ট হন রাজা।
প্রথা অনুসারে শ্রী দারুব্রহ্মের শ্রীনবকলেবর প্রয়োজনে রাজা সকলকে নিয়ে সভার আহ্বান করেন।
সেই সভায় উপস্থিত থাকেন,পুরীর কালেক্টর,স্থানীয় বিধায়ক, প্রধান পান্ডা,সেবক ভক্তরাজ,
দয়িতাপতি সেবকগন, এবং আর কিছু গন্যমান্য জন। যারা রথযাত্রা ও নবকলেরের সঙ্গে যুক্ত।
রাজা আনুষ্ঠানিক ভাবে নবকলেবর উৎসবের কথা সর্বসমক্ষে নিবেদন করেন
এবং যার যার দায়িত্ব বুঝে নিয়ে কাজে লেগে পড়বার অনুমতি দেন।
এরপরে প্রাচীন ঐতিহ্য স্মরণ করে দৈতাপতিগনর মধ্যে থেকেই প্রতিনিধিস্বরূপ একজন বিদ্যাপতি, একজন বিশ্বাবসু, একজন বিশ্বকর্মা উপাধিতে ভূষিত হন।
এরপরে চার ঠাকুরের দারুর জন্য চারটি দল বা বাঢ় তৈরি হয়।
প্রতিটি দল থেকে একজন প্রতিনিধি নির্বসচিত হন। তাঁদের বাঢ়গ্রাহী বলে।
আবার সব দল মিলিয়ে একজন দলপতি নির্বাচিত হন।
রত্নবেদিতে উঠে শ্রীমুর্তির শ্রীঅঙ্গ থেকে মালা নিয়ে বিদ্যাপতি বা পতিমহাপাত্র বাঢ়গ্রাহীদের
আজ্ঞামালা অর্পণ করেন।
শুক্লা দশমীতে শ্রী মন্দিরের মধ্যাহ্নের পূজা ভোগ শেষ হবার পরে নির্দিষ্ট চার জন সেবক প্রভুর আজ্ঞামালা নেবার জন্য মন্দিরে হাজির হন।
চারজনকে চারটি মালা অর্পণ করাহয়।
একমাত্র সুদর্শনের আজ্ঞামালা পতিমহাপাত্র নিজের কাছে রাখেন।"শাড়ি বান্ধা"------
"শাড়ি বান্ধা"দেউলের এক নির্ধারিত রীতি। আসলে এটি একটি সেবা করবার জন্য স্বীকৃতি প্রদান।
যেটি অনুষ্ঠিত হয় অনসর পিঁড়িতে।
১২ হাতের শাড়ি গুলিকে বলাহয় "খন্দুয়া" শাড়ি।
সই মহাপাত্র এই শাড়ি
"শাড়ি বান্ধা" এই অনুষ্ঠানের এক বিশেষ রীতি। এটি আসলে সেবা করবার জন্য
স্বীকৃতি প্রদান।
এটি হয় অনসর পিন্ডিতে,
সঁই মহাপাত্র এই শাড়ি মাথায় বেঁধে দেন
পাগড়ির মতো করে।প্ৰধান চার জনকে।
শ্রী বিগ্রহগনের " অঙ্গলাগি" এই বিশেষ
বারো হাত লম্বা শাড়িগুলিকে
খন্ডয়া /খণ্ডয়া(KHNDUYA) শাড়ি বলা হয়।
ভিতর সঁই মহাপাত্র বাকিদের যেমন তিনজন করণ, লেংকা, বেহেরা ঘুঁটিয়া, বিশ্বকর্মা ইত্যাদি সকল কে সাধারণ চার পাঁচ হাত লম্বা শাড়ি দেন।আর এটি করেন জয়-বিজয় দ্বারে এসে।
এই যাত্রার সবার আগে আগে চক্র নিয়ে চলেন লেংকা।
এমনি করে আজ্ঞামালা নিয়ে সম্পুর্ন দল
মন্দির থেকে বেরহয়ে শঙ্খ, ঘন্টা, কাঁসর ইত্যাদি বাজনা বাজিয়ে সকলে পৌঁছে যায় রাজবাড়ির সামনে। এদিকে রাজ বাড়িতে চলতে থাকে রাজার অভিষেক।
আর এই অভিষেক করাচ্ছেন রাজ গুরু।
রাজা পূর্নাহুতি দিয়ে রুপোর থালায় করে আতপচাল, নারকেল, সুপারি, স্বর্নখন্ড,
ও নানান মাঙ্গলিক দ্রব্য তুলেদেন রাজগুরুর হাতে।
এবার আজ্ঞামালা নিয়ে দারু সন্ধানী দল
রাজবাড়ির সামনে এলে রাজগুরু রাজার দেওয়া সেই নির্মাল্য তুলেদেন বিশ্বাবসুর
হাতে।
এই ভাবে রাজা শুভযাত্রার সূচনা করিয়ে দেন এবং সন্ধে বেলায় সকলে পৌঁছে যান জগন্নাথ বল্লভে।
(-জগন্নাথ বল্লভ জগন্নাথের খুব প্রিয় বাগান। অনেক কালের পুরনো। এখন থেকে এখনও রোজ জগন্নাথকে দেবার জন্য তুলসী ,ফুলমালা বড় শৃঙ্গারের সময় যায় মন্দিরে। এই জগন্নাথ বল্লভে
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু শ্রী রায়রামানন্দের সঙ্গে মহাভাবে ভাবিত হয়ে নানা লীলা করতেন।)
আর এখানে সম্পুর্ন দল রাত কাটিয়ে পরের দিন সারাদিন কাটিয়ে মধ্য রাত্রে একটার সময়ে কাকটপুর মঙ্গলার উদ্যেশে বেরিয়ে পড়ে।
চলার সময় সকলে ঠাকুরের নাম কীর্তন ,ঠাকুরের ধ্যান, শুদ্ধাচারে থাকা,।
তার উপরে এই রোদ্দুরে সকলে চলেছেন খালি পায়ে।
এই যাত্রাতে বরিষ্ঠ দইতাপতির সঙ্গে দলপতি, ৯৬ জন দইতাপতি, ১৪ জন ব্রাহ্মণ, ১০ জন বিশ্বকর্মা(কাষ্ঠ শিল্পী), শ্রী মন্দিরের ২ জন পুরোহিত, ২ জন রাজগুরু, ১ জন পতি-মহাপাত্র, ১ জন লেঙ্কা, ১ জন দেউল করণ(কায়স্থ), ১ জন তঢ়উ করণ, সর্ব মোট ১৩০ জন, মন্দিরের পুলিশ, ডাক্তার এবং দারু পরিবহনের জন্য তিনটি বিশেষ ভাবে সজ্জিত গরুর গাড়ী ।
সকলে পদব্রজে এই যাত্রা পুরী থেকে কাকটপুর মঙ্গলা মন্দির অবধি পুরী- কোণার্ক মেরিন ড্রাইভের রাস্তায় যাত্রা করেন । প্রথম রাত্রি সকলে পুরীর জগন্নাথ বল্লভ মঠে রাত্রিযাপন ।
রাস্তায় বিভিন্ন যায়গায় বিশ্রাম এবং শ্রী মন্দির প্রশাসন থেকে খাদ্যের ব্যবস্থা আছে । সকলে মাটিতে শয়ন করবেন এবং সাত্ত্বিক মন্দিরের প্রসাদ সেবন করবেন । দিনের বেলায় ফল মূল ছাড়া অন্য কিছু আহার নিষিদ্ধ । রাত্রে বিশ্রাম এবং মহা-প্রসাদ সেবন।
এর পরদিন শ্রী জগন্নাথ বল্লভ মঠ থেকে বিলম্বিত রাত্রিতে বেরিয়ে পুরীর সন্নিকটে নুআনই, বালিঘাই হয়ে রামচন্ডী মন্দিরে রাত্রিযাপন এবং বিশ্রাম ।
পরের দিন পূর্বাহ্ণে যাত্রা শুরু এবং রাত্রে কুঢেই গ্রামের “শঙ্করেশ্বর মন্দিরে” রাত্রিযাপন ।
তার পরেরদিন কাকটপুর “মা মঙ্গলার মন্দিরে” পৌঁছে মা মঙ্গলার মন্দিরের “দেউলি মঠে” রাত্রিযাপন ।
তারপরের দিন থেকে মা মঙ্গলার পূজার্চনা শুরু হয় । এর পর মা মঙ্গলা প্রসন্ন হলে স্বপ্নাদেশ হবে দারুর অবস্থিতি সম্পর্কে সূচনা দেবেন । এসব প্রক্রিয়া সুসম্পন্ন হওয়ার পর দারুর সন্ধানে বনযাগ যাত্রীরা যাত্রা করবেন নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট দিকে ।
যে গাছের কাঠ দিয়ে নবকলেবর হবে সেই গাছের কিছু বিশেষত্ব থাকতে হবে।
1> গাছটি নিমগাছ হবে কিন্তু
2> তাতে চন্দনের গন্ধ থাকবে,
3>গাছটি তে হাতির শুঁড়ের মতন চিহ্ন থাকতে হবে.
4>গাছে শঙ্খ, চক্র, গদা, পদ্মর চিহ্ন থাকবে।
5>সেই গাছে যেন কোনওদিনেও কোনও পাখি না বসে, পশু না চড়ে। ,
6>মূলে বিষধর সাপের বাসা থাকতে হবে আর গাছটি সাপেরা ঘিরে রাখবে।
7>গাছটি তিন, পাঁচ বা সাতটি করে শাখা থাকতে হবে।
8>গাছ টির কাছেই বেল,তুলসী ,গাছ থাকবে।
9>গাছটির কাছেই উয়ের ঢিপি,নদী ,শ্মশান ,কিংবা পুকুর থাকা অনিবার্য।
10>গাছটির কোন অংশে কীট পতঙ্গ দ্বারা আক্রান্ত বা বজ্র পাতের চিহ্ন থাকবে না।
11>পূর্বে কোন ডাল কাটা থাকবে না।
12>বৃক্ষ টিতে কোন প্রকারের খুঁত থাকা চলবে না।
13>বৃক্ষ টি ১২ ফুট লম্বা সোজা ও মোটা হতে হবে।
উপরোক্ত লক্ষণ গুলি অনিবার্য।
তারপরে অন্বেষণকারী দল ঠিক করে পবিত্র দারু নির্বাচন করেন। জগন্নাথের বিগ্রহ হবে যে গাছের কাঠ থেকে তা হতেহবে কৃষ্ণবর্ণ।
বলরামের বিগ্রহ হবে যে গাছের কাঠ থেকে তা হবে শ্বেতবর্ণ।
সুভদ্রার বিগ্রহ হবে যে গাছের কাঠ থেকে তা হবে রক্তবর্ণ।
এরপর দারু নির্বাচন কার্য সুসম্পন্ন হয় ।দারু নির্বাচিত হবার পরে বিশ্বকর্মা মাপজোপ করেন । এরপর যথাবিধি যজ্ঞশালা, যজ্ঞকুণ্ড, অঙ্কুরারোপণ গৃহ নির্মিত হয়ে বনযাগ হোম আরম্ভ হয় । এরপর আচার্য অস্ত্র-পূজায় বসে সোনা, রুপো ও লৌহ কুড়ুলকে যথাক্রমে বিদ্যাপতি, বিশ্বাবসু ও বিশ্বকর্মা সেবকদের সহায়তায় বৃক্ষ ছেদন করা হয়
সেবায়ত ব্যতীত কোন জনসাধারণের স্পর্শ নিষেধ ।
নবকলেবর পরিচালনা করবেন জগন্নাথ দ্বৈতাপতি নিজেই।
সেই কাঠ কাঠেরই শকটে পুরীতে আনা হয়।
সেই শকট কোন গাছের কাঠ থেকে করা হবে, তা-ও নির্দিষ্ট রয়েছে।শকটের কোনঅংশ কোনকাঠে হবে সেও বিস্তারিত ভাবে লিপিব্ধ আছে।
স্নান পূর্ণিমা ,স্নান যাত্রা থেকে উল্টো রথ যাকে বলে 'বহুড়া' পর্যন্ত সব কিছুই দৈত পতিদের একচেটিয়া অধিকার। দৈতপতিরাই সর্বে সর্বা।
স্নানের পরে নানান আচার বিধির পরে হয় গনেশ বেশ।
এই গনেশ বেশের পরে মূর্তিদের আনাহয় অনবসর বা অনসর পিন্ডি তে।
এরপর দারু নির্বাচন কার্য সুসম্পন্ন হয় ।দারু নির্বাচিত হবার পরে বিশ্বকর্মা মাপজোপ করেন । এরপর যথাবিধি যজ্ঞশালা, যজ্ঞকুণ্ড, অঙ্কুরারোপণ গৃহ নির্মিত হয়ে বনযাগ হোম আরম্ভ হয় । এরপর আচার্য অস্ত্র-পূজায় বসে সোনা, রুপো ও লৌহ কুড়ুলকে যথাক্রমে বিদ্যাপতি, বিশ্বাবসু ও বিশ্বকর্মা সেবকদের সহায়তায় বৃক্ষ ছেদন করা হয়
সেবায়ত ব্যতীত কোন জনসাধারণের স্পর্শ নিষেধ ।
দারু উত্তর দ্বার পথে শ্রী মন্দিরে প্রবেশ হবে।
আর ঠিক এই সময় পুরীর রথের কাজ শুরু হয়ে যায়।
*****************<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->***************
**************************************************
=========================================
তৃতীয় পর্ব ------ দারু ব্রহ্মের ব্রহ্মবস্তু স্থাপন-----
=========================================
তৃতীয় পর্ব ------ দারু ব্রহ্মের ব্রহ্মবস্তু স্থাপন-----
নবকলেবরে জগন্নাথের ‘প্রাণ’ প্রতিষ্ঠা করেন দৈতাপতিরাই।
পুরুষোত্তম ক্ষেত্র পুরীতে জগন্নাথকে বলা হয় দারুব্রহ্ম। নিম কাঠের তৈরি বিখ্যাত এই বিগ্রহ কিছু বছর পরপর বদলে ফেলা হয়। নতুন নিম কাঠ দিয়ে তৈরি হয় নতুন কলেবর। ভারতে আর কোনও বিগ্রহের ক্ষেত্রে এমন রীতির কথা শোনা যায় না। কিন্তু পুরনো অবয়বটি থেকে ‘ব্রহ্মবস্তু’ নামে কোনও একটি পদার্থ নতুন কলেবরে প্রতিষ্ঠাও করতে হয়। মনে করা হয়, ওই বস্তুটিই নিম কাঠের তৈরি বিগ্রহের ‘প্রাণ’ বা ‘আত্মা’। পুরীর মন্দিরের প্রাচীন রীতি মতো তা করা উচিত কৃষ্ণা চতুর্দশীর মধ্য রাতে। সারা পুরীর সব আলো নিভিয়ে। নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে চার প্রবীণ দৈতাপতি পাণ্ডা চোখ বেঁধে পুরনো অবয়বটি থেকে নতুন কলেবরের মধ্যে ‘ব্রহ্মবস্তু’ রেখে দেন পরম ভক্তি ভরে। তাঁদের হাতে থাকে আবরণ। যাতে ত্বকের স্পর্শ এড়ানো যায়।
স্নানযাত্রার সময়ই বিগ্রহগুলিকে রত্নবেদি থেকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় স্নানবেদিতে। তা রপর নিয়ে আসা হয় মন্দিরের গর্ভগৃহের সামনে অনসর পিণ্ডিতে। ওখানেই সেবা-পুজো করা হয় জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রার। তার দায়িত্বে থাকেন দৈতাপতিরাই। মন্দিরের উত্তর দ্বার বা হস্তি দ্বারের কাছের ‘কৈলী বৈকুণ্ঠ’ চত্বর থেকে সেখানেই নিয়ে আসা হয় নতুন বিগ্রহগুলি। তারপরেই অনসর পিণ্ডিতেই নিকষ অন্ধকারের মধ্যে পুরনো বিগ্রহটি থেকে ‘ব্রহ্মবস্তু’ স্থানান্তরিত করা হয় নতুন বিগ্রহে।
জগন্নাথ বিগ্রহের এই নতুন রূপ পাওয়ার বিশেষ উৎসবটির নাম নবকলেবর। চান্দ্র ও সৌর বর্ষের মধ্যে সমতা আনতে প্রতি তিন বছরে একটি করে চান্দ্রমাস বাদ দেওয়া হয়। এই মাসটিকে বলা হয় অধিমাস। অধিমাস এমনিতে মল মাস অর্থাৎ এই মাসে বিয়ে, অন্নপ্রাশনের মতো শুভ কাজ হয় না। কিন্তু শাস্ত্রীয় আচারের ক্ষেত্রে এই মাসটি প্রকৃষ্ট বলে মনে করেন স্মার্ত পণ্ডিতেরা। যে বছর আষাঢ়ে অধিমাস পড়ে, সে বছর পুরুষোত্তম ক্ষেত্রে বিগ্রহের নবকলেবর হয়। এ বার সেই আষাঢ়।
শেষ বার পুরীর জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা ও সুদর্শনের নবকলেবর হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। সুদর্শন হল একটি কাঠের দণ্ড। যা বিষ্ণুর সুদর্শন চক্রের প্রতীক। ১৯ বছর পর এ বছর নবকলেবর নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল অনেক দিন থেকেই। আগ্রহ ছিল তুঙ্গে।
কিন্তু মধ্য রাতে ব্রহ্মবস্তু স্থাপনের নিয়মটি মানা হয়নি বলে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। চতুর্দশী ছিল ১৫ জুন। দৈতাপতিরা সে রাতে পুরনো বিগ্রহটি থেকে নতুন বিগ্রহে ‘ব্রহ্মবস্তু’ স্থাপন করতে পারেননি। ১৬ জুন বিকেল পর্যন্ত গড়িয়েছে সেই প্রক্রিয়া। তা নিয়ে উত্তাল ভক্তেরা। সুপ্রাচীন এই রীতি লঙ্ঘন হওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে ওড়িশার বাইরেও।
তবে মন্দির সূত্রে জানা গিয়েছে, তিথিগত ভাবে কোনও ভুল হয়নি। ব্রহ্মবস্তু স্থাপনের এই প্রক্রিয়া পূর্ণ করতে ১২ ঘণ্টা মতো লাগে। ১৯৭৭ সালে রাত ১২টা থেকে পরের দিন বেলা ১১টা পর্যন্ত সময় লেগেছিল। ১৯৯৬ সালে এই প্রক্রিয়া শুরু হয় ভোর ৩টের সময়, শেষ হয় বিকেল ৩টেয়। এ বার ভোর ৪টেয় শুরু হয়ে শেষ হয় বিকেল ৫টায়। কিন্তু পুরোটাই হয়েছে অমাবস্যা তিথির মধ্যেই।
পুরুষোত্তম ক্ষেত্র পুরীতে জগন্নাথকে বলা হয় দারুব্রহ্ম। নিম কাঠের তৈরি বিখ্যাত এই বিগ্রহ কিছু বছর পরপর বদলে ফেলা হয়। নতুন নিম কাঠ দিয়ে তৈরি হয় নতুন কলেবর। ভারতে আর কোনও বিগ্রহের ক্ষেত্রে এমন রীতির কথা শোনা যায় না। কিন্তু পুরনো অবয়বটি থেকে ‘ব্রহ্মবস্তু’ নামে কোনও একটি পদার্থ নতুন কলেবরে প্রতিষ্ঠাও করতে হয়। মনে করা হয়, ওই বস্তুটিই নিম কাঠের তৈরি বিগ্রহের ‘প্রাণ’ বা ‘আত্মা’। পুরীর মন্দিরের প্রাচীন রীতি মতো তা করা উচিত কৃষ্ণা চতুর্দশীর মধ্য রাতে। সারা পুরীর সব আলো নিভিয়ে। নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে চার প্রবীণ দৈতাপতি পাণ্ডা চোখ বেঁধে পুরনো অবয়বটি থেকে নতুন কলেবরের মধ্যে ‘ব্রহ্মবস্তু’ রেখে দেন পরম ভক্তি ভরে। তাঁদের হাতে থাকে আবরণ। যাতে ত্বকের স্পর্শ এড়ানো যায়।
স্নানযাত্রার সময়ই বিগ্রহগুলিকে রত্নবেদি থেকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় স্নানবেদিতে। তা রপর নিয়ে আসা হয় মন্দিরের গর্ভগৃহের সামনে অনসর পিণ্ডিতে। ওখানেই সেবা-পুজো করা হয় জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রার। তার দায়িত্বে থাকেন দৈতাপতিরাই। মন্দিরের উত্তর দ্বার বা হস্তি দ্বারের কাছের ‘কৈলী বৈকুণ্ঠ’ চত্বর থেকে সেখানেই নিয়ে আসা হয় নতুন বিগ্রহগুলি। তারপরেই অনসর পিণ্ডিতেই নিকষ অন্ধকারের মধ্যে পুরনো বিগ্রহটি থেকে ‘ব্রহ্মবস্তু’ স্থানান্তরিত করা হয় নতুন বিগ্রহে।
জগন্নাথ বিগ্রহের এই নতুন রূপ পাওয়ার বিশেষ উৎসবটির নাম নবকলেবর। চান্দ্র ও সৌর বর্ষের মধ্যে সমতা আনতে প্রতি তিন বছরে একটি করে চান্দ্রমাস বাদ দেওয়া হয়। এই মাসটিকে বলা হয় অধিমাস। অধিমাস এমনিতে মল মাস অর্থাৎ এই মাসে বিয়ে, অন্নপ্রাশনের মতো শুভ কাজ হয় না। কিন্তু শাস্ত্রীয় আচারের ক্ষেত্রে এই মাসটি প্রকৃষ্ট বলে মনে করেন স্মার্ত পণ্ডিতেরা। যে বছর আষাঢ়ে অধিমাস পড়ে, সে বছর পুরুষোত্তম ক্ষেত্রে বিগ্রহের নবকলেবর হয়। এ বার সেই আষাঢ়।
শেষ বার পুরীর জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা ও সুদর্শনের নবকলেবর হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। সুদর্শন হল একটি কাঠের দণ্ড। যা বিষ্ণুর সুদর্শন চক্রের প্রতীক। ১৯ বছর পর এ বছর নবকলেবর নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল অনেক দিন থেকেই। আগ্রহ ছিল তুঙ্গে।
কিন্তু মধ্য রাতে ব্রহ্মবস্তু স্থাপনের নিয়মটি মানা হয়নি বলে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। চতুর্দশী ছিল ১৫ জুন। দৈতাপতিরা সে রাতে পুরনো বিগ্রহটি থেকে নতুন বিগ্রহে ‘ব্রহ্মবস্তু’ স্থাপন করতে পারেননি। ১৬ জুন বিকেল পর্যন্ত গড়িয়েছে সেই প্রক্রিয়া। তা নিয়ে উত্তাল ভক্তেরা। সুপ্রাচীন এই রীতি লঙ্ঘন হওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে ওড়িশার বাইরেও।
তবে মন্দির সূত্রে জানা গিয়েছে, তিথিগত ভাবে কোনও ভুল হয়নি। ব্রহ্মবস্তু স্থাপনের এই প্রক্রিয়া পূর্ণ করতে ১২ ঘণ্টা মতো লাগে। ১৯৭৭ সালে রাত ১২টা থেকে পরের দিন বেলা ১১টা পর্যন্ত সময় লেগেছিল। ১৯৯৬ সালে এই প্রক্রিয়া শুরু হয় ভোর ৩টের সময়, শেষ হয় বিকেল ৩টেয়। এ বার ভোর ৪টেয় শুরু হয়ে শেষ হয় বিকেল ৫টায়। কিন্তু পুরোটাই হয়েছে অমাবস্যা তিথির মধ্যেই।
এরসাথে কিছু পৌরাণিক কাহিনী যোগ করলাম -----
জগন্নাথ বিগ্রহের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একাধিক পৌরাণিক কাহিনি। কাহ্নুচরণ মিশ্রের ‘দ্য কাল্ট অফ শ্রীজগন্নাথ’ গ্রন্থের ভূমিকা লিখেছিলেন সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়। সেই বই থেকে জানা যাচ্ছে, শবরেরাই নবকলেবরের সময় প্রধান ভূমিকা নেন। পুরাণ মতে, সূর্য বংশের রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন বিষ্ণুর দর্শন পেতে উদগ্রীব হলে এক সন্ন্যাসী তাঁকে নীলমাধব নামে এক দেবতার কথা বলেছিলেন। রাজার পুরোহিত বিদ্যাপতি শেষ পর্যন্ত বিশ্বাবসু নামে এক শবরের কাছে এসে সেই বিগ্রহের খবর পান। কিন্তু নীলমাধবকে দেখাতে বিশ্বাবসু রাজি ছিলেন না। তবে বিশ্বাবসুর কন্যা ললিতা বিদ্যাপতির প্রেমে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে বিয়ে করতে চাইলে বিশ্বাবসু রাজি হন। ললিতার অনুরোধেই শেষ পর্যন্ত বিদ্যাপতির চোখ বেঁধে তাঁকে তিনি একদিন জঙ্গলের মধ্যে নীলমাধবের সামনে নিয়ে যান। কিন্তু পুরা-কথা মতো, নীলমাধবের মূর্তি যিনি দর্শন করবেন, যম তাঁকে আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। তাই বিদ্যাপতির কাছ থেকে খবর পেয়ে অবন্তীরাজ ইন্দ্রদ্যুম্ন সৈন্য সামন্ত নিয়ে মূর্তি দর্শন করতে আসতে চাইলে বিগ্রহটি অন্তর্হিত হয়ে যায়।
ইন্দ্রদ্যুম্ন দুঃখে আত্মহত্যা করতে গেলে, পুরা-কথা মতো, আকাশবাণীতে তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়, বিষ্ণুর দারুব্রহ্ম মূর্তি প্রতিষ্ঠা করতে। বাঙ্কি মুহান নামে একটি জায়গায় সমুদ্রের উপরে স্বপ্নাদেশে সেই কাঠের সন্ধানও পান। অনেকে ব্যর্থ হওয়ার পরে মূর্তি তৈরি করতে আসেন অনন্ত মহারানা নামে এক বৃদ্ধ। ২১ দিন ধরে মন্দিরের দরজা বন্ধ রেখে জগন্নাথের কলেবর তৈরি করবেন বলে কথা দেন। বলেছিলেন, এর মধ্যে দরজা যেন খোলা না হয়। কিন্তু পনেরো দিন পরে রাজা দরজা খুলে দেখেন, বৃদ্ধ নেই। মূর্তিগুলিও অসম্পূর্ণ। পা প্রকট নয়। আঙুল দেখা যায় না। সেই রূপেই জগন্নাথ পতিতপাবন হয়ে এই মন্দিরে বিরাজ করেন।
বিশ্বাবসুর উত্তরসূরিরাই দৈতাপতি। মধ্য যুগের ওড়িশার ইতিহাস বিশেষজ্ঞ রোল্যাঁ হার্ডেনবার্গ মনে করেন, ‘দৈতা’ শব্দটি এসেছে দৈত্য থেকে। মোটামুটি ভাবে চৈত্রের শুক্লপক্ষের দশমীতে নবকলেবরের উৎসব শুরু। পুরী থেকে কিছু দূরে কাকটপুরে মঙ্গলাদেবীর মন্দিরের কাছ থেকে দৈতাপতিরা নতুন বিগ্রহগুলির কাঠের জন্য নতুন গাছের সন্ধানে বেরোন।
মন্দিরে স্নান পূর্ণিমার দিন পুরনো বিগ্রহগুলির স্নান উৎসবের পরে শুরু হয় নবকলেবরের যজ্ঞ। তারপরেই শুরু হয় নতুন মূর্তিগুলির নির্মাণকাজ। সূত সংহিতার নিয়ম মেনে একান্ত গোপনে কৈলী বৈকুণ্ঠে আস্তে আস্তে গড়ে ওঠেন নতুন জগন্নাথ। মূর্তি নির্মাণ শেষ হয় ত্রয়োদশীতে। তখন যজ্ঞেরও পূর্ণাহুতি দেওয়া হয়। এর পরের দিনই নিশীথে ‘ব্রহ্মবস্তু’ জগন্নাথের নতুন কলেবরে স্থাপন করা হয়। পুরনো বিগ্রহগুলি ‘নিষ্প্রাণ’ হয়ে পড়ে। তাদের সমাধি দেওয়া হয় কৈলী বৈকুণ্ঠেই।
‘ব্রহ্মবস্তু’ ঠিক কী, তা নিয়ে নানা মুনির নানা মত। যে দৈতাপতিরাও বলতে পারেন না এটি কী। কেউ বলেন, সেটি বুদ্ধের দাঁত। কেউ বলেন, কৃষ্ণের দেহাবশেষ। কৃষ্ণ মারা গিয়েছিলেন এক শবরের তিরে। দ্বারকায়। তাঁর দেহাবশেষ ভাসতে ভাসতে আসে পূর্ব ভারতের সমুদ্রতীরে। পুরাণ মতে, সেখান থেকেই জন্ম নীলমাধবের।
নবকলেবরে প্রধান ভূমিকা দৈতাপতিদেরই। তাঁরাই ‘ব্রহ্মবস্তু’ স্থাপন করেন। কিন্তু মূর্তি সম্পূর্ণ হয় চোখ আঁকার পরে। সেই কাজটি করেন ব্রাহ্মণেরা। বিশ্বাবসু ও বিদ্যাপতির সেই ঐতিহ্য যেন এখনও চলছে।
পুরনো বিগ্রহ জগন্নাথ মন্দিরের কাছেই কৈলি বৈকুন্ঠের মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়।
সেই সময় দৈতাপতিরা বাড়িতে অশৌচ পালন করেন যেমনি আমাদের পরিবারের নিকট কেউ স্বর্গ প্রাপ্তি হলে আমরা যেমন অশৌচ পালন করি। ঠিক লৌকিকের মতন ব্যবস্থা।
অশৌচান্তে নখ কেটে ক্ষৌর কর্ম করে তেল হলুদ লাগিয়ে সবাই মিলে গিয়ে মার্কন্ডেয় সরোবরে
স্নান করে অশৌচান্ত হয়।
কেউ কেউ মস্তক মুন্ডন করেন কেউ হয়তো করেন না।
এতো সকল জানার পরে একটু ইতিহাসের খোঁজ করে জানলাম::--
ইতিহাসের ::--
এখনকার জগন্নাথ মন্দিরটির সঙ্গে প্রথম তৈরি হওয়া পুরী মন্দিরের অনেক তফাৎ। শুধু মূল মন্দিরটা তৈরি করেছিলেন ইন্দ্রদুম্ন । কিন্তু পরে তৎকালীন সম্রাট ও শাসকদের নেতৃত্বে ক্রমে মেঘানন্দ পাচেরি, মুখশালা , নটমণ্ডপ প্রভৃতি আরও বহু সম্পদ যুক্ত করা হয়েছে।
বহু বছরের ঐতিহ্যময় উৎসব ঘিরে দেশ বিদেশ থেকে বহু ভক্ত সমাগম হয় পুরীতে। গোটা উৎসবের প্রাণকেন্দ্র অবশ্যই শ্রীমন্দির বা জগন্নাথ মন্দির। যেখানে জগন্নাথকে ঘিরে রয়েছে একের পর এক রহস্যময় কাহিনী। শুধু প্রচলিত কাহিনী নয়, স্থানীয় জনশ্রুতি, পুরীর জগন্নাথ দেবের সঙ্গে জড়িত তথ্য রীতিমতো হার মানায় বহু প্রচলিত ধারণাকেও।
বেশ কিছু রীতি রয়েছে যা নিয়মিত ভাবে পালন করা হয় জগন্নাথ মন্দিরে। তার মধ্যে একটি পাঁঠাবলি। যা অনেকেই হয়তো জানেন না। বৈষ্ণব ধর্মের মন্দিরে বলি কীভাবে সম্ভব? মন্দিরের প্রধান সেবায়েতদের কথায়, বছরে একবার বলি হয় শ্রীমন্দিরের অলিন্দে। তবে অবশ্যই অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে। জগন্নাথ দেবের মন্দিরের পিছনেই রয়েছে বিমলা দেবীর মন্দির। দীপান্বিতা অমাবস্যার গভীর রাতে বিশেষ পুজো হয় বিমলা দেবীর। ওই দিন জগন্নাথ দেবের শয়ন হওয়ার পর শুরু হয় বলির আয়োজন। আতপচাল দিয়ে বানানো হয় ঢিপি। তার উপরেই হয় বলি। এমনকি সূর্যোদয়ের আগেই চুনজল দিয়ে গোটা মন্দির চত্বর পরিষ্কার করা হয়। যাতে বলির কোনও চিহ্ন না থাকে।
বেশ কিছু রীতি রয়েছে যা নিয়মিত ভাবে পালন করা হয় জগন্নাথ মন্দিরে। তার মধ্যে একটি পাঁঠাবলি। যা অনেকেই হয়তো জানেন না। বৈষ্ণব ধর্মের মন্দিরে বলি কীভাবে সম্ভব? মন্দিরের প্রধান সেবায়েতদের কথায়, বছরে একবার বলি হয় শ্রীমন্দিরের অলিন্দে। তবে অবশ্যই অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে। জগন্নাথ দেবের মন্দিরের পিছনেই রয়েছে বিমলা দেবীর মন্দির। দীপান্বিতা অমাবস্যার গভীর রাতে বিশেষ পুজো হয় বিমলা দেবীর। ওই দিন জগন্নাথ দেবের শয়ন হওয়ার পর শুরু হয় বলির আয়োজন। আতপচাল দিয়ে বানানো হয় ঢিপি। তার উপরেই হয় বলি। এমনকি সূর্যোদয়ের আগেই চুনজল দিয়ে গোটা মন্দির চত্বর পরিষ্কার করা হয়। যাতে বলির কোনও চিহ্ন না থাকে।
====================<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->=======================
=====================================================
৪>চতুর্থ পর্ব -------বিমলা মন্দির-----
বিমলামন্দির হল ভারতের ওড়িশা
রাজ্যের পুরী শহরের জগন্নাথ মন্দির চত্বরে অবস্থিত একটি হিন্দু মন্দির। এটি দেবী বিমলার মন্দির। হিন্দুরা এই মন্দিরটিকে একটি শক্তিপীঠ (শাক্ত সম্প্রদায়ের কাছে পবিত্র প্রধান তীর্থগুলির অন্যতম) মনে করেন।
বিমলা মন্দির জগন্নাথ মন্দির চত্বরের ভিতরের অংশের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে এবং জগন্নাথের মিনারের পশ্চিম কোণে অবস্থিত। এই মন্দিরের পাশেই পবিত্র জলাধার রোহিণীকুণ্ড অবস্থিত। মন্দিরটি পূর্বমুখী এবং বেলেপাথর ও ল্যাটেরাইটে নির্মিত। এই মন্দির "দেউল" স্থাপত্যশৈলীর একটি নিদর্শন। মন্দিরের চারটি অংশ দেখা যায়: বিমান (গর্ভগৃহ-সম্বলিত অংশ), জগমোহন (সভাকক্ষ), নাট-মণ্ডপ (উৎসব কক্ষ) ও ভোগ-মণ্ডপ (ভোগ নিবেদনের কক্ষ)। ২০০৫ সালে মন্দিরটি সংস্কার হয়। বর্তমানে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার ভুবনেশ্বর শাখা এই মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে।
বিমলা মন্দিরটি জগন্নাথ মন্দির চত্বরের একটি ছোটো মন্দির হলেও শাক্ত ও তান্ত্রিকদের কাছে একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ তীর্থ। তারা মূল জগন্নাথ মন্দিরের চেয়েও এই মন্দিরটিকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তান্ত্রিক মতে, বিমলা জগন্নাথের শক্তি এবং মন্দির চত্বরের রক্ষয়িত্রী। ভক্তেরা মূল মন্দিরে জগন্নাথকে পূজা করার আগে বিমলাকে পূজা করেন। জগন্নাথের প্রসাদ বিমলাকে নিবেদন করার পরেই মহাপ্রসাদ হিসেবে গণ্য হয়। প্রতি বছর আশ্বিন মাসে (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর) উদযাপিত দুর্গাপূজা এই মন্দিরের প্রধান উৎসব।
ইতিহাস খুঁজে আরও জানলাম---
বিমলার আদিমূর্তিটি খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীতে নির্মিত। বর্তমান মন্দিরটি সম্ভবত খ্রিস্টীয় নবম শতাব্দীতে পূর্ব গঙ্গ রাজবংশের রাজত্বকালে আগের মন্দিরটির ধ্বংসাবশেষের উপর নির্মিত হয়েছে। জগন্নাথ মন্দির চত্বরের মুক্তিমণ্ডপের কাছে খ্রিস্টীয় নবম শতাব্দীতে নির্মিত যে নৃসিংহ মন্দিরটি আছে, তার সঙ্গে বিমলা মন্দিরের স্থাপত্যগত মিল দেখা যায়। মাদলা পাঁজি অনুসারে, দক্ষিণ কোশলের সোমবংশী রাজবংশের রাজা যযাতি কেশরী এই মন্দিরটি নির্মাণ করিয়েছিলেন। রাজা প্রথম যযাতি (খ্রিস্টীয় ৯২২–৯৫৫) ও দ্বিতীয় যযাতি (খ্রিস্টীয় ১০২৫–১০৪০)–উভয়েই "যযাতি কেশরী" নামে পরিচিত ছিলেন। মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী–বিশেষত পার্শ্বদেবতাদের মূর্তি ও মূল মূর্তিটির পিছনের প্রস্তরখণ্ডটি–সোমবংশী শৈলীর নিদর্শন বহন করে। এগুলি সম্ভবত সেই প্রথম মন্দিরের অংশ ছিল, যার ধ্বংসাবশেষের উপর বর্তমান মন্দিরটি গড়ে উঠেছে। এই মন্দিরটিকে মন্দির চত্বরের প্রধান মন্দির জগন্নাথ মন্দিরের চেয়েও পুরনো বলে মনে করা হয়।
মনে করা হয়, হিন্দু দার্শনিক ও সন্ত আদি শঙ্কর (খ্রিস্টীয় অষ্টম শতাব্দী) বিমলাকে প্রধান দেবী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে পুরীতে গোবর্ধন মঠ স্থাপন করেছিলেন। "দ্য জগন্নাথ টেম্পল অ্যাট পুরী" গ্রন্থের লেখক স্টারজার মতে, প্রাচীনকালে জগন্নাথ মন্দির ছিল ব্রহ্মা,
বিষ্ণু ও শিব–এই ত্রিমূর্তি পূজার কেন্দ্র। উক্ত তিন দেবতার শক্তিগণ তথা হিন্দু দেবমণ্ডলীর তিন প্রধান দেবী সরস্বতী, লক্ষ্মী ও পার্বতীও (বিমলার মূর্তিতে) এখানে পূজিত হতেন।
খ্রিস্টীয় সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত এখানে শাক্ত শ্রীবিদ্যা-উপাসকদের ভাল প্রভাব ছিল। পরবর্তীকালে বৈষ্ণবধর্ম এই মন্দির চত্বরে প্রাধান্য অর্জন করলে শ্রীবিদ্যা ও শৈব-তান্ত্রিক প্রভাব কমে যায়। তবে এই প্রভাব একেবারে লুপ্ত হয়নি। তান্ত্রিক "পঞ্চমকার" উপচারের পরিবর্তে মন্দিরে নিরামিষ ভোগ ও দেবদাসী নৃত্যের প্রথা চালু হয়। অবশ্য মাছ ভোগ দেবার প্রথাও প্রচলিত ছিল। রাজা নরসিংহদেব (শাসনকাল ১৬৩২–৪৭ খ্রিষ্টাব্দ) মন্দিরে মাছ ও মাংস ভোগের প্রথা বন্ধ করে দেন।যদিও পরবর্তীকালে এই প্রথা আংশিকভাবে চালু করা হয়েছিল। বর্তমানে, বিশেষ বিশেষ দিনে বিমলাকে মাছ ও মাংস ভোগ দেওয়া হয়।
বিষ্ণু ও শিব–এই ত্রিমূর্তি পূজার কেন্দ্র। উক্ত তিন দেবতার শক্তিগণ তথা হিন্দু দেবমণ্ডলীর তিন প্রধান দেবী সরস্বতী, লক্ষ্মী ও পার্বতীও (বিমলার মূর্তিতে) এখানে পূজিত হতেন।
খ্রিস্টীয় সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত এখানে শাক্ত শ্রীবিদ্যা-উপাসকদের ভাল প্রভাব ছিল। পরবর্তীকালে বৈষ্ণবধর্ম এই মন্দির চত্বরে প্রাধান্য অর্জন করলে শ্রীবিদ্যা ও শৈব-তান্ত্রিক প্রভাব কমে যায়। তবে এই প্রভাব একেবারে লুপ্ত হয়নি। তান্ত্রিক "পঞ্চমকার" উপচারের পরিবর্তে মন্দিরে নিরামিষ ভোগ ও দেবদাসী নৃত্যের প্রথা চালু হয়। অবশ্য মাছ ভোগ দেবার প্রথাও প্রচলিত ছিল। রাজা নরসিংহদেব (শাসনকাল ১৬৩২–৪৭ খ্রিষ্টাব্দ) মন্দিরে মাছ ও মাংস ভোগের প্রথা বন্ধ করে দেন।যদিও পরবর্তীকালে এই প্রথা আংশিকভাবে চালু করা হয়েছিল। বর্তমানে, বিশেষ বিশেষ দিনে বিমলাকে মাছ ও মাংস ভোগ দেওয়া হয়।
মন্দিরের চারটি অংশ
বিমান, জগমোহন, নাট-মণ্ডপ, ও ভোগ-মণ্ডপের বিবরণ:;---
বিমান, জগমোহন, নাট-মণ্ডপ, ও ভোগ-মণ্ডপের বিবরণ:;---
1>বিমান::--(গর্ভগৃহ-সম্বলিত অংশ)-----
বিমান হল একটি রেখ দেউল (শম্বুকাকার চিনির ডেলার মতো আকৃতিবিশিষ্ট একটি দীর্ঘাকার ভবন)। বিমলা মন্দিরের বিমানটির উচ্চতা ৬০ ফুট (১৮ মি)।
এটি ১৫ ফুট (৪.৬ মি) আয়তনের বর্গাকার আকৃতিবিশিষ্ট।
মন্দিরটি ২ ফুট (০.৬১ মি) উচ্চতার একটি বেদীর উপর দাঁড়িয়ে আছে।
বেদীটি পদ্ম ও অন্যান্য ফুল পাতা ও অন্যান্য ছবিতে চিত্রিত। বিমানের বাইরের দেওয়ালটি পাঁচটি ভাগে বিভক্ত (ভিত্তি থেকে শীর্ষভাগ পর্যন্ত): "পাভাগ", "তলজঙ্ঘা", "বন্ধন", "উপর জঙ্ঘা" ও "বারান্দা"। দেওয়ালের প্রথম অংশের কুলুঙ্গি ও সংযোগরক্ষাকারী জায়গাগুলিতে "খখর মুন্ডি" (এক ধরনের কুলুঙ্গি), পুথিচিত্র, ফুল-পাতার ছবি, সংগমরত যুগল ও নাগের
(সর্প-পুরুষ) ছবি অলংকৃত রয়েছে। দ্বিতীয় অংশের কুলুঙ্গি ও যোগাযোগরক্ষাকারী জায়গাগুলিতে "খখর মুন্ডি", "সিংহবিদল" (একটি সিংহমুখী জন্তু), "গজবিদল" (সিংহ-মর্দনকারী একটি হস্তিমুখী সিংহ), জালিচিত্র, পুথিচিত্র, "শিক্ষাদান" চিত্র (ঋষিগণের উপদেশ দানের দৃশ্য) ও "কীর্তিমুখ" (একটি দানব মুখ) এবং অষ্ট দিকপাল (দিকের দেবতা) ও কয়েকটি দেবীমূর্তি চিত্রিত আছে। বাইরের দেওয়ালের তৃতীয় অংশে দুটি আনুভূমিক তলে "অলসকন্যা" (সুন্দরী নারী), পুথিচিত্র এবং পদ্ম ও অন্যান্য ফুলের মোটিফ খোদাই করা আছে। চতুর্থ অংশের কুলুঙ্গি ও সংযোগরক্ষাকারী জায়গায় "পীঢ়া-মুন্ডি" (এক ধরনের কুলুঙ্গি), "সিংহবিদল", কামোদ্দীপক দৃশ্যাবলি, "অলসকন্যা", পুথিচিত্র, জালিচিত্র, ফুলের নকশা এবং দিকপালদের স্ত্রী, নাগ ও তাদের স্ত্রী নাগিনীগণ সহ অন্যান্য দেবীমূর্তি খোদিত আছে। দিকপাল ও তাদের স্ত্রীদের নিজ নিজ বাহন-সহ যাঁরা যে দিকের অধিপতি তাদের সেই দিকেই রাখা হয়েছে।
বিমান হল একটি রেখ দেউল (শম্বুকাকার চিনির ডেলার মতো আকৃতিবিশিষ্ট একটি দীর্ঘাকার ভবন)। বিমলা মন্দিরের বিমানটির উচ্চতা ৬০ ফুট (১৮ মি)।
এটি ১৫ ফুট (৪.৬ মি) আয়তনের বর্গাকার আকৃতিবিশিষ্ট।
মন্দিরটি ২ ফুট (০.৬১ মি) উচ্চতার একটি বেদীর উপর দাঁড়িয়ে আছে।
বেদীটি পদ্ম ও অন্যান্য ফুল পাতা ও অন্যান্য ছবিতে চিত্রিত। বিমানের বাইরের দেওয়ালটি পাঁচটি ভাগে বিভক্ত (ভিত্তি থেকে শীর্ষভাগ পর্যন্ত): "পাভাগ", "তলজঙ্ঘা", "বন্ধন", "উপর জঙ্ঘা" ও "বারান্দা"। দেওয়ালের প্রথম অংশের কুলুঙ্গি ও সংযোগরক্ষাকারী জায়গাগুলিতে "খখর মুন্ডি" (এক ধরনের কুলুঙ্গি), পুথিচিত্র, ফুল-পাতার ছবি, সংগমরত যুগল ও নাগের
(সর্প-পুরুষ) ছবি অলংকৃত রয়েছে। দ্বিতীয় অংশের কুলুঙ্গি ও যোগাযোগরক্ষাকারী জায়গাগুলিতে "খখর মুন্ডি", "সিংহবিদল" (একটি সিংহমুখী জন্তু), "গজবিদল" (সিংহ-মর্দনকারী একটি হস্তিমুখী সিংহ), জালিচিত্র, পুথিচিত্র, "শিক্ষাদান" চিত্র (ঋষিগণের উপদেশ দানের দৃশ্য) ও "কীর্তিমুখ" (একটি দানব মুখ) এবং অষ্ট দিকপাল (দিকের দেবতা) ও কয়েকটি দেবীমূর্তি চিত্রিত আছে। বাইরের দেওয়ালের তৃতীয় অংশে দুটি আনুভূমিক তলে "অলসকন্যা" (সুন্দরী নারী), পুথিচিত্র এবং পদ্ম ও অন্যান্য ফুলের মোটিফ খোদাই করা আছে। চতুর্থ অংশের কুলুঙ্গি ও সংযোগরক্ষাকারী জায়গায় "পীঢ়া-মুন্ডি" (এক ধরনের কুলুঙ্গি), "সিংহবিদল", কামোদ্দীপক দৃশ্যাবলি, "অলসকন্যা", পুথিচিত্র, জালিচিত্র, ফুলের নকশা এবং দিকপালদের স্ত্রী, নাগ ও তাদের স্ত্রী নাগিনীগণ সহ অন্যান্য দেবীমূর্তি খোদিত আছে। দিকপাল ও তাদের স্ত্রীদের নিজ নিজ বাহন-সহ যাঁরা যে দিকের অধিপতি তাদের সেই দিকেই রাখা হয়েছে।
পার্শ্বদেবতাদের মূর্তিগুলি তিন দিকের বাইরের দেওয়ালে ("বড়") কেন্দ্রীয় কুলুঙ্গিতে রাখা আছে: দক্ষিণে মহিষাসুর-বধকারিনী অষ্টভূজা দুর্গা ও পশ্চিমে শিবের উপর দণ্ডায়মান ষড়ভূজা চামুণ্ডা। উত্তরের কুলুঙ্গিটি খালি। সম্ভবত এখানে যে দেবীমূর্তিটি ছিল, সেটি চুরি হয়ে গিয়েছে। পার্শ্বদেবতাদের বেদীর আনুভূমিক পাটাতনে গজলক্ষ্মী মূর্তি দেখা যায়। কুলুঙ্গির চারদিক পুথিচিত্র ও "কীর্তিমুখ" মোটিফ এবং কুলুঙ্গি-প্রতি দু-জন সখির চিত্রে শোভিত। বাইরের দেওয়ালের সবচেয়ে উপরের অংশটিতে দশটি আনুভূমিক তলে পুথিচিত্র, কীর্তিমুখ এবং পদ্ম ও অন্যান্য ফুলের মোটিফ দেখা যায়। বিমানের মধ্যে "গর্ভগৃহ" অংশটি রয়েছে। এই অংশের উপরিভাগ "পঞ্চরথ" শৈলীতে নির্মিত। শীর্ষভাগ খাঁজবিশিষ্ট।
বিমলার মূর্তি রাখা আছে কেন্দ্রীয় গর্ভগৃহে। এটি খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতকে নির্মিত একটি কক্ষ। এখানকার দেওয়ালে কোনো ছবি দেখা যায় না। বিমলার কেন্দ্রীয় মূর্তিটির উপরের ডান হাতে একটি জপমালা এবং নিচের ডানহাতে
বরদামুদ্রা; অন্যদিকে নিচের বাঁ হাতে একটি কুম্ভ (সম্ভবত অমৃতকুম্ভ) আছে। উপরের বাঁ হাতের বস্তুটি নিয়ে তীব্র মতভেদ আছে। এছাড়া একটি নারীমূর্তি, একটি নাগিনী, একটি মৎস্যকন্যা, একটি নাগ-পাশ ও অন্যান্য কয়েকটি বস্তু রয়েছে। বিমলার হাতে এমন কোনো অস্ত্র নেই যেগুলি সচরাচর দুর্গার হাতে দেখা যায়। মূর্তিটি একটি সিংহাসনে রাখা থাকে। মূর্তির দুই পাশে বিমলার দুই সখি ছায়া ও মায়ার মূর্তি রয়েছে। মূর্তিটি লাক্ষা দিয়ে নির্মিত বলে শোনা যায়। এটির উচ্চতা ৪ ফুট (১.২ মি)-এর কিছু বেশি।
বরদামুদ্রা; অন্যদিকে নিচের বাঁ হাতে একটি কুম্ভ (সম্ভবত অমৃতকুম্ভ) আছে। উপরের বাঁ হাতের বস্তুটি নিয়ে তীব্র মতভেদ আছে। এছাড়া একটি নারীমূর্তি, একটি নাগিনী, একটি মৎস্যকন্যা, একটি নাগ-পাশ ও অন্যান্য কয়েকটি বস্তু রয়েছে। বিমলার হাতে এমন কোনো অস্ত্র নেই যেগুলি সচরাচর দুর্গার হাতে দেখা যায়। মূর্তিটি একটি সিংহাসনে রাখা থাকে। মূর্তির দুই পাশে বিমলার দুই সখি ছায়া ও মায়ার মূর্তি রয়েছে। মূর্তিটি লাক্ষা দিয়ে নির্মিত বলে শোনা যায়। এটির উচ্চতা ৪ ফুট (১.২ মি)-এর কিছু বেশি।
গর্ভগৃহের দরজাটি থেকে একটি সিঁড়ি উঠে যাচ্ছে জগমোহনে। এখানে বেদীর গায়ের ফ্রেমে অপ্সরা-পরিবেষ্টিত গজলক্ষ্মী-মূর্তি দেখা যায়। বেদীর উপরের ফ্রেমে নবগ্রহ অঙ্কিত আছে। দরজার দুপাশের পাটাতনে পুথিচিত্র, লতাপাতা, ফুল ও ক্রীড়ারত বালকের ছবি দেখা যায়। দরজার ধারে দুটি দ্বারপাল মূর্তি দেখা যায়।
2>জগমোহন:::---
জগমোহন বা মুখশালাটি হল একটি পীঢ় দেউল (পিরামিড-আকৃতির ছাদ-বিশিষ্ট একটি বর্গাকার ভবন)। জগমোহনটির ভিত্তি বর্গাকার। উচ্চতা ৩৫ ফুট (১১ মি)। জগমোহনটি দাঁড়িয়ে আছে একটি ২ ফুট (০.৬১ মি) উঁচু বেদীর উপর। বেদীটির গায়ে ফুলের নকশা ও পুথিচিত্র দেখা যায়। বাইরের দেওয়ালটি বিমান অংশটির মতোই পাঁচ ভাগে বিভক্ত। প্রথম অংশের কুলুঙ্গি ও সংযোগরক্ষাকারী জায়গাগুলিতে "খখর মুন্ডি" কুলুঙ্গি (কামোদ্দীপক দৃশ্য সম্বলিত), নাগ-ভাস্কর্য সংবলিত স্তম্ভ, পুথিচিত্র, জালিচিত্র ও ফুলের নকশা দেখা যায়। "তলজঙ্ঘা" অংশটিতে দেবী-মূর্তিগুলি বাদে বিমানের দ্বিতীয় অংশের মতো একই ধরনের মোটিফ দেখা যায়। দেওয়ালের তৃতীয় অংশে তিনটি আনুভূমিক তল দেখা যায়। চতুর্থ অংশের দেওয়ালটিও বিমানের চতুর্থ অংশের দেওয়ালেরই মতো; শুধু এখানে নাগ ও দেবীমূর্তিগুলি দেখা যায় না। দেওয়ালের সবার উপরের অংশটিতে সাতটি আনুভূমিক তল দেখা যায়। এর কেন্দ্রীয় অংশটি নর্তকী, সংগমরত নারীপুরুষ, হাতি ও হরিণের ভাস্কর্য, পুথিচিত্র ও জালিচিত্র দ্বারা শোভিত। উত্তর ও দক্ষিণ দিকের গবাক্ষ বা চিত্রিত খিলানগুলি রাজসভা ও শিক্ষাদান দৃশ্য দ্বারা চিত্রিত। এর দুই ধারে জানলা দেখা যায়। জানলার চৌকাঠে পুথিচিত্র, জালিচিত্র, নৃত্যরত বালকের মূর্তি, ফুলের নকসা, লতা-পাতার নকশা ও নর্তকীমূর্তি দেখা যায়। এই অংশের মাথায় একটি পিরামিড-আকৃতির শিখর রয়েছে। ভিতরের অংশে কোনো অলংকরণ নেই। জগমোহনে দুটি দরজা রয়েছে। একটি বিমানের গর্ভগৃহের দিকের দরজা ও অন্যটি নাটমণ্ডপের দিকের দরজা।
জগমোহন বা মুখশালাটি হল একটি পীঢ় দেউল (পিরামিড-আকৃতির ছাদ-বিশিষ্ট একটি বর্গাকার ভবন)। জগমোহনটির ভিত্তি বর্গাকার। উচ্চতা ৩৫ ফুট (১১ মি)। জগমোহনটি দাঁড়িয়ে আছে একটি ২ ফুট (০.৬১ মি) উঁচু বেদীর উপর। বেদীটির গায়ে ফুলের নকশা ও পুথিচিত্র দেখা যায়। বাইরের দেওয়ালটি বিমান অংশটির মতোই পাঁচ ভাগে বিভক্ত। প্রথম অংশের কুলুঙ্গি ও সংযোগরক্ষাকারী জায়গাগুলিতে "খখর মুন্ডি" কুলুঙ্গি (কামোদ্দীপক দৃশ্য সম্বলিত), নাগ-ভাস্কর্য সংবলিত স্তম্ভ, পুথিচিত্র, জালিচিত্র ও ফুলের নকশা দেখা যায়। "তলজঙ্ঘা" অংশটিতে দেবী-মূর্তিগুলি বাদে বিমানের দ্বিতীয় অংশের মতো একই ধরনের মোটিফ দেখা যায়। দেওয়ালের তৃতীয় অংশে তিনটি আনুভূমিক তল দেখা যায়। চতুর্থ অংশের দেওয়ালটিও বিমানের চতুর্থ অংশের দেওয়ালেরই মতো; শুধু এখানে নাগ ও দেবীমূর্তিগুলি দেখা যায় না। দেওয়ালের সবার উপরের অংশটিতে সাতটি আনুভূমিক তল দেখা যায়। এর কেন্দ্রীয় অংশটি নর্তকী, সংগমরত নারীপুরুষ, হাতি ও হরিণের ভাস্কর্য, পুথিচিত্র ও জালিচিত্র দ্বারা শোভিত। উত্তর ও দক্ষিণ দিকের গবাক্ষ বা চিত্রিত খিলানগুলি রাজসভা ও শিক্ষাদান দৃশ্য দ্বারা চিত্রিত। এর দুই ধারে জানলা দেখা যায়। জানলার চৌকাঠে পুথিচিত্র, জালিচিত্র, নৃত্যরত বালকের মূর্তি, ফুলের নকসা, লতা-পাতার নকশা ও নর্তকীমূর্তি দেখা যায়। এই অংশের মাথায় একটি পিরামিড-আকৃতির শিখর রয়েছে। ভিতরের অংশে কোনো অলংকরণ নেই। জগমোহনে দুটি দরজা রয়েছে। একটি বিমানের গর্ভগৃহের দিকের দরজা ও অন্যটি নাটমণ্ডপের দিকের দরজা।
3>নাটমণ্ডপ::----
নাটমণ্ডপটি হল একটি পীঢ়া দেউল। এটির উচ্চতা ২২ ফুট (৬.৭ মি)। মণ্ডপটি আয়তাকার। এটি দৈর্ঘ্যে ৩৫ ফুট (১১ মি) ও প্রস্থে ১৮ ফুট (৫.৫ মি)। সম্ভবত বিমান ও জগমোহন নিয়েই মূল মন্দিরটি তৈরি হয়েছিল। নাটমণ্ডপটি পরবর্তীকালে যুক্ত হয়। এটি ৩.৫ ফুট (১.১ মি) উচ্চতাবিশিষ্ট একটি বেদীর উপর দা&ড়িয়ে আছে। নাটমণ্ডপের বাইরের দেওয়ালে কোনো অলংকরণ দেখা যায় না। এটির উপরে একটি ছোটো পিরামিড-আকৃতির চূড়া দেখা যায়। নাটমন্দিরটির চারটি দরজা রয়েছে। দরজা চারটি দেওয়ালের চার দিকে অবস্থিত। নাটমণ্ডপের ভিতরের দেওয়ালে পট্টচিত্র শৈলীর ওড়িশি চিত্রকলা দেখা যায়। এখানে দশমহাবিদ্যা সহ মোট ষোলোজন হিন্দু দেবীর মূর্তি অঙ্কিত আছে।
4>ভোগমণ্ডপ::---
ভোগমণ্ডপটিও একটি পীঢ়া দেউল। এটির উচ্চতা ২০ ফুট (৬.১ মি)। এটি বর্গাকার। এর প্রতিটি দিক ১৫ ফুট (৪.৬ মি)। এই মণ্ডপটি একটি ৪ ফুট (১.২ মি) উঁচু বেদীর উপর দাঁড়িয়ে আছে। বাইরের দেওয়ালের পাঁচটি অংশই অলংকৃত। ভোগমণ্ডপের উপর একটি ছোটো শিখর দেখা যায়। ভিতরের দেওয়ালের পশ্চিম অংশের কুলুঙ্গিগুলিতে অষ্টভূজ গণেশ ও ষড়ানন কার্তিকের মূর্তি দেখা যায়। ভোগমণ্ডপেও চার দিকে চারটি দরজা দেখা যায়। প্রতি দরজায় দুইজন দ্বাররক্ষিণীর মূর্তি রয়েছে। পূর্ব দিকের দরজাটি মন্দিরের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ভোগমণ্ডপের প্রবেশপথের বাইরে একটি ৪ ফুট (১.২ মি) গজসিংহ (বিমলার বাহন) দেখা যায়। এই মূর্তিটি একটি হাতির মূর্তির উপর বিজয়ীর ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে। এটি অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভশক্তির জয়ের প্রতীক। এই অংশের উপরে একটি চ্যাপ্টা ছাঁদ রয়েছে।
জগন্নাথ মন্দির চত্বর---------
বিমলা মন্দিরটিকে একটি শক্তিপীঠ মনে করা হয়। এই মন্দিরটিকে ওড়িশার শাক্ত সম্প্রদায়ের প্রধান মন্দির মনে করা হয়।প্রত্যেকটি শক্তিপীঠে শিবকে ভৈরব রূপে পূজা করার নিয়ম প্রচলিত আছে। ভৈরব হলেন শক্তিপীঠের প্রধান দেবীর স্বামী।
শাক্তদের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিমলা হলেন পুরুষোত্তম (পুরী) শক্তিপীঠের প্রধান দেবী।বিষ্ণু বা কৃষ্ণের রূপ জগন্নাথকে বিমলার ভৈরব মনে করা হয়। ভৈরব সাধারণভাবে শিবের একটি রূপ হলেও, এক্ষেত্রে সেই নিয়মের ব্যতিক্রম দেখা যায়। তাই এই মন্দিরে বিষ্ণু ও শিবকে অভিন্ন মনে করা হয়, যা এক অর্থে একটি একেশ্বরবাদী ধারণা। একইভাবে শিবের পত্নী বিমলা ওবিষ্ণুর পত্নী লক্ষ্মীও এখানে এক। অন্যদিকে, তান্ত্রিক মতে, জগন্নাথকে বিষ্ণুর রূপ মনে করা হয় না। এই মতে তিনি শিব-ভৈরব।
জগন্নাথ মন্দিরের মূল গর্ভগৃহে জগন্নাথ, বলভদ্র (কৃষ্ণের দাদা, যাঁকে শিব মনে করা হয়) ও সুভদ্রার (কৃষ্ণ ও বলভদ্রের ছোটো বোন) মূর্তি আছে। জগন্নাথ-কেন্দ্রিক ধর্মবিশ্বাসে, লক্ষ্মী জগন্নাথের পত্নী। অন্যদিকে বিমলাকে জগন্নাথের তান্ত্রিকা পত্নী ও মন্দির চত্বরের রক্ষয়িত্রী মনে করা হয়।
বিমলাকে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে কাত্যায়নী,
দুর্গা, ভৈরবী, ভুবনেশ্বরী বা একানংশা
দেবী বলে উল্লেখক করা হয়েছে।
জগন্নাথ মন্দিরের দুর্গাপূজায় তাকে একাধারে শিব ও বিষ্ণুর শক্তি মনে করা হয়। নতুন দিল্লির জাতীয় সংগ্রহালয়ে রক্ষিত কোণার্ক সূর্যমন্দিরের একটি পাথরে (খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দী) বিমলাকে মহিষাসুরমর্দিনী বা বিজয়লক্ষ্মী রূপে অঙ্কণ করা হয়েছে।
দুর্গা, ভৈরবী, ভুবনেশ্বরী বা একানংশা
দেবী বলে উল্লেখক করা হয়েছে।
জগন্নাথ মন্দিরের দুর্গাপূজায় তাকে একাধারে শিব ও বিষ্ণুর শক্তি মনে করা হয়। নতুন দিল্লির জাতীয় সংগ্রহালয়ে রক্ষিত কোণার্ক সূর্যমন্দিরের একটি পাথরে (খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দী) বিমলাকে মহিষাসুরমর্দিনী বা বিজয়লক্ষ্মী রূপে অঙ্কণ করা হয়েছে।
শক্তিপীঠ
জগন্নাথ হলেন মন্দিরের প্রধান দেবতা এবং বিমলার ভৈরব।
জগন্নাথ হলেন মন্দিরের প্রধান দেবতা এবং বিমলার ভৈরব।
হিন্দু পুরাঅনুসারে, প্রজাপতি
দক্ষের কন্যা সতী পিতার আপত্তি সত্ত্বেও শিবকে বিবাহ করেছিলেন। পরে দক্ষ এক বিরাট যজ্ঞের আয়োজন করেন। সেই যজ্ঞে দক্ষ শিব ও সতীকে আমন্ত্রণ জানাননি। তবুও সতী যজ্ঞস্থলে উপস্থিত হয়েছিলেন। দক্ষ সতীকে উপেক্ষা করেন এবং শিবের নিন্দা করেন। স্বামীর অপমান সহ্য করতে না পেরে সতী যজ্ঞের আগুনে আত্মহত্যা করেন। শিব ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে সতীর অর্ধদগ্ধ দেহ কাঁধে নিয়ে তাণ্ডব নৃত্য শুরু করেন। শিবকে শান্ত করতে বিষ্ণু সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ ৫১ খণ্ড করেন। এই টুকরোগুলি পৃথিবীর এক এক স্থানে পড়ে এক একটি শক্তিপীঠের জন্ম দেয়।
দক্ষের কন্যা সতী পিতার আপত্তি সত্ত্বেও শিবকে বিবাহ করেছিলেন। পরে দক্ষ এক বিরাট যজ্ঞের আয়োজন করেন। সেই যজ্ঞে দক্ষ শিব ও সতীকে আমন্ত্রণ জানাননি। তবুও সতী যজ্ঞস্থলে উপস্থিত হয়েছিলেন। দক্ষ সতীকে উপেক্ষা করেন এবং শিবের নিন্দা করেন। স্বামীর অপমান সহ্য করতে না পেরে সতী যজ্ঞের আগুনে আত্মহত্যা করেন। শিব ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে সতীর অর্ধদগ্ধ দেহ কাঁধে নিয়ে তাণ্ডব নৃত্য শুরু করেন। শিবকে শান্ত করতে বিষ্ণু সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ ৫১ খণ্ড করেন। এই টুকরোগুলি পৃথিবীর এক এক স্থানে পড়ে এক একটি শক্তিপীঠের জন্ম দেয়।
শক্তিপীঠগুলির সংখ্যা নিয়ে ধর্মগ্রন্থগুলির মধ্যে মতভেদ আছে। কয়েকটি গ্রন্থে বিমলা মন্দিরকে শক্তিপীঠ বলা হয়েছে। আবার এই পীঠকে একাধিক নামেও চিহ্নিত করা হয়েছে। কালিকা পুরাণ গ্রন্থে তন্ত্র-সাধনার কেন্দ্র হিসেবে যে চারটি পীঠের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলি চার দিকে অবস্থিত। এর মধ্যে পশ্চিম দিকের পীঠটি হল ওড্ডীয়ন বা উড্ডীয়ন (বর্তমান ওড়িশা) অঞ্চলের কাত্যায়নী (বিমলা)। এই পীঠের ভৈরব হলেন জগন্নাথ। হেবজ্র তন্ত্র গ্রন্থে অনুরূপ একটি তালিকায় উড্র (ওড্র বা ওড়িশা) পীঠের ভৈরবী কাত্যায়নী ও ভৈরব জগন্নাথের উল্লেখ পাওয়া যায়।
তন্ত্রচূড়ামণি গ্রন্থের "পীঠনির্ণয়" বা "মহাপীঠনির্ণয়" অংশে উৎকলের (বর্তমান ওড়িশা) বিরজা ক্ষেত্রকে শক্তিপীঠ বলা হয়েছে। এই পীঠের প্রধান দেবী বিমলা ও ভৈরব জগন্নাথ। এই পীঠে সতীর নাভি পড়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বইটির অন্য একটি অংশে যদিও এই পীঠকে একটি উপপীঠ বা অপ্রধান পীঠ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে সতীর "উচ্ছিষ্ট" বা খাদ্যের অবশিষ্টাংশ পড়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মন্দিরটির অবস্থান হিসেবে নীলাচল নামটির উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, নীলাচল হল জগন্নাথ মন্দির চত্বরের প্রথাগত নাম।
শিবচরিত গ্রন্থে নীলাচল বা নীলপর্বতকে উপপীঠ এবং এই পীঠের দেবী বিমলা ও ভৈরব জগন্নাথ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিবচরিত গ্রন্থে নীলাচল বা নীলপর্বতকে উপপীঠ এবং এই পীঠের দেবী বিমলা ও ভৈরব জগন্নাথ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তন্ত্রগ্রন্থ কুব্জিকাতন্ত্র মতে, বিমলা ৪২টি সিদ্ধপীঠের একটি। এখানে সাধনা করলে সিদ্ধি নামে একধরনের অলৌকিক ক্ষমতা লাভ করা যায় বলে তান্ত্রিকরা বিশ্বাস করেন। দেবীভাগবত পুরাণ, প্রাণতোষিণী তন্ত্র ও বৃহন্নীলতন্ত্র
বিমলা মন্দিরকে ১০৮ পীঠের অন্যতম বলে উল্লেখ করেছে। মৎস্য পুরাণ গ্রন্থে পুরুষোত্তম ক্ষেত্রের বিমলাকে পীঠশক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বামন পুরাণ মতে, এটি একটি পবিত্র তীর্থ। মহাপীঠ নিরুপণ গ্রন্থেও বিমলা ও জগন্নাথকে পীঠদেবতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দেবীর ১০৮টি পৌরাণিক নামের তালিকা নামাষ্টোত্তরশত গ্রন্থেও পুরুষোত্তমের বিমলার নাম পাওয়া যায়। দেবী পুরাণ মতে, এই পীঠে সতীর পা পড়েছিল।
বিমলা মন্দিরকে ১০৮ পীঠের অন্যতম বলে উল্লেখ করেছে। মৎস্য পুরাণ গ্রন্থে পুরুষোত্তম ক্ষেত্রের বিমলাকে পীঠশক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বামন পুরাণ মতে, এটি একটি পবিত্র তীর্থ। মহাপীঠ নিরুপণ গ্রন্থেও বিমলা ও জগন্নাথকে পীঠদেবতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দেবীর ১০৮টি পৌরাণিক নামের তালিকা নামাষ্টোত্তরশত গ্রন্থেও পুরুষোত্তমের বিমলার নাম পাওয়া যায়। দেবী পুরাণ মতে, এই পীঠে সতীর পা পড়েছিল।
=========================
পুরীর মন্দিরের পূর্ব দিক অর্থাৎ সিংহদ্বার হল মন্দিরে প্রবেশের মূল দুয়ার । মূল দ্বারে প্রবেশের আগে আছে অরূণস্তম্ভ। যা প্রায় তিন তলার সমান । এই স্তম্ভের উচ্চতা যেখানে শেষ হয়েছে সেই উচ্চতায় মন্দিরের গর্ভগৃহে জগন্নাথ বসে আছেন ।
১২০০ শতকে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন ও রানি গুণ্ডিচার তত্বাবধানে এই মন্দির তৈরি হয় । মন্দিরের পশ্চিম ও উত্তর দিক দিয়ে প্রবেশ ও নিকাশ বন্ধ । দক্ষিণ দিক দিয়ে বাইরে বেরনোর পথ । আগেই লিখেছি পূর্ব দিক হল সিংহ দুয়ার । পশ্চিম দিক হল ব্যাঘ্রদুয়ার ।
উত্তর দিক হল হস্তিদুয়ার । দক্ষিণ দিক হল অশ্ব ঘোড়া দুয়ার। মন্দিরের নিয়ম ২০১৫ থেকে বেশ বদল হয়েছে। নবকলেবর হওয়ার পর বিগ্রহ পরিক্রমা বন্ধ । মন্দির খোলে ভোর চারটেয় । সকাল ৭টায় বন্ধ। আবার সকাল ৯টায় খোলে ।
এভাবেই দিনের বেশ কয়েক সময় বন্ধ থাকে।তবে তা নির্দিষ্ট নয়।সময় বদল হয়।বৃহস্পতি বার দুপুর দুটো থেকে চার ঘন্টা বন্ধ থাকে। এই সময় বিগ্রহের ফেশিয়াল করা হয় অর্থাৎ পরিষ্কার করে সাজ গোজ করানো হয়।মন্দির চত্বরের ভিতরে জগন্নাথ মন্দিরের আদলে একটি ছোট মডেল করা আছে । মন্দির চত্বরের ভিতর বিভিন্ন মন্দির আছে । এটা রাতের জগন্নাথ ধাম (বালিশাহি ,পুরী) আর মাসির বাড়ি।
মা একাদশীর মন্দির । এনাকে কোনো কারণ বশত তালা দিয়ে আটক করা বা বাঁধা আছে । এছাড়াও শিবের মন্দির আছে । মানসিক করার জন্য একটি গাছ আছে । যেখানে ৩৬৫টাকা+৩৫ টাকা। মোট ৪০০ টাকা দিয়ে মানত করতে হয় ।
একটি ফল ত্যাগ করতে হয় । পাণ্ডা নাম, গোত্র ধরে পুজো দেন । টানা ১ বছর এই পুজো চলে । পাণ্ডাদের খাতায় নাম গোত্র লেখা থাকে । এছাড়াও ৫৬০ টাকা কর সহ মোট ৬০০টাকা দিয়ে পুজো শুরু হয়। চলে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত ।
***********<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->***************
***********<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->***************
**************************************************
========================
========================
৫>পঞ্চম পর্ব ----পুরীর জগন্নাথের রথ যাত্রা::----ও পুরী ভ্রমণ।---------
প্রভু জগন্নাথ বেরিয়েছিলেন রথযাত্রায়,
12 দিন পড়ে আজ জগন্নাথ মন্দিরে প্রবেশ করবেন।
প্রভু নয় দিন কাটালেন ভ্রমনে,
আর শেষ তিন দিন প্রধান দুয়ারের সামনে
রথেই বসে ভক্তদের নানা রূপে দেখা দেন।
রথ যাত্রার শেষ তিন দিন জগন্নাথ দেব মন্দিরের বাইরেই থাকেন।
তখন ভক্ত গন প্রভুকে এক এক দিন এক এক রূপে মনভরে দর্শন করেন।
ভগবান ফিরে আসার পরের দিন
200কিলো সোনার আভূষণ দিয়ে সাজান হয় জগন্নাথ, সুভদ্রা, ও বলরাম কে,
একে সুনাবেসা বলা হয়।
এই স্বর্ণালংকার সকল মন্দিরেরই গচ্ছিত থাকে।বৎসরে একদিনই ভগবানকে এই অলংকার দিতে সাজান হয়।
এই সুনাবেসা দেখতে অজস্র মানুষ লালায়িত থাকে,এমন অপূর্ব সাজ দর্শনে।
12 দিন পড়ে আজ জগন্নাথ মন্দিরে প্রবেশ করবেন।
প্রভু নয় দিন কাটালেন ভ্রমনে,
আর শেষ তিন দিন প্রধান দুয়ারের সামনে
রথেই বসে ভক্তদের নানা রূপে দেখা দেন।
রথ যাত্রার শেষ তিন দিন জগন্নাথ দেব মন্দিরের বাইরেই থাকেন।
তখন ভক্ত গন প্রভুকে এক এক দিন এক এক রূপে মনভরে দর্শন করেন।
ভগবান ফিরে আসার পরের দিন
200কিলো সোনার আভূষণ দিয়ে সাজান হয় জগন্নাথ, সুভদ্রা, ও বলরাম কে,
একে সুনাবেসা বলা হয়।
এই স্বর্ণালংকার সকল মন্দিরেরই গচ্ছিত থাকে।বৎসরে একদিনই ভগবানকে এই অলংকার দিতে সাজান হয়।
এই সুনাবেসা দেখতে অজস্র মানুষ লালায়িত থাকে,এমন অপূর্ব সাজ দর্শনে।
ভিন্ন বেশে সাজানো হয় জগন্নাথ দেবকে। তারমধ্যে অন্যতম 'সুনাবেশ'। যা আদতে সোনায় মুড়ে দেওয়া হয় তিন দেব-দেবীর মূর্তিকে। মন্দিরের বর্তমান সেবায়েতরা জানাচ্ছেন, মন্দিরের বিশেষ কুঠুরিতে সারা বছর থাকে জগন্নাথ দেবের এই রাজবেশ বা সোনাবেশ। যেখানে অন্য সময় প্রবেশ নিষিদ্ধ। সোনাবেশের দিনই নির্দিষ্ট সেবায়েতরা সেই সোনার বেশ নিয়ে এসে মূর্তিকে সাজান। জনশ্রুতি, অন্যান্য সময়ে এই কুঠুরিতে প্রবেশ করতে গিয়ে ভয়ানক শব্দ পেয়েছেন মন্দিরের সেবায়েতরা। সাপের ফোঁস ফোঁস আওয়াজ পেলেও কিছু দেখতে পাননি তারা। যদিও রাজবেশ রাখার ট্রাঙ্ক খোলার সাহস দেখাননি মন্দিরের কেউই।
তিনদিন পরে ভগবান জগন্নাথ কে রথ থেকে নামিয়ে মন্দিরের ভিতরে রত্ন সিংহাসন পর্যন্ত আনা হয়, সেখানে
জগন্নাথ ও লক্ষীর বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।তার পরে জগন্নাথ দেব কে গর্ভগৃহে
স্থাপনা করা হয়।
রথ যাত্রার শুরুর আগে নানান উপাচার পালন করা হয়।
এই সকল উপচের একটি উপাচার অধরপনা।
অধরপনা------
এই উপাচারে ভগবান জগন্নার, বলরাম সুভদ্রা সকলকেই তিন তিন ঘড়া দুধ,ঘী, মাখন,পনীর আদি দ্বারা ভোগ দেওয়া হয়।
তিন প্রতিমার সামনে তিন তিন ঘড়া রাখা থাকে ,বিশেষ কারীগড়িতে তৈরি প্রতিটি ঘড়া 3 থেকে 4 ফুট হয়।
যেগুলি ভগবানের ঠোঁট পর্যন্ত ছুঁয়ে থাকে। এক একটি ঘড়াতে 200 কিলো দুধ, মাখন আদি তে পূর্ন থাকে।
ভগবানের ভোগ দেবার পরে ওই ঘড়া গুলি রথেই ভেঙে ফেলা হয়, এতে সমস্ত দুধ, ঘী, মাখন, পনির, রথ থেকে বয়ে সমস্ত পথে ছড়িয়ে পরে।
রথ যাত্রার শেষে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা,সকলে রথ থেকে নেমে মন্দিরে প্রবেশ করার পরে রথ গুলি ভেঙে ফেলা হয়।
যে রথ তৈরি করতে পুরীর পাশের জঙ্গল থেকে সংগ্ৰহ করা প্রায় 2000 রও বেশি গাছের কাঠ,আর সেই কাঠ থেকেই তৈরী হয় রথ ।
রথে ভেঙে ফেলার পরে কিছু কিছু অংশ রথের কারিগরেরা নিয়ে যান, তাদের পারিশ্রমিক ও ঈশ্বরের আশীর্বাদ হিসাবে।
কিছু অংশ যেমন ঘোড়া, সারথি এবং কিছু প্রতিমা সুরক্ষিত রেখে দেওয়ার হয়।
কিছু কাঠ মঠের যজ্ঞের কাজের জন্য রাখা হয়।
বাকি সম্পুর্ন কাঠ বৎসর ভর মন্দিরের রান্না ঘড়ে জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার হয়।
তিনদিন পরে ভগবান জগন্নাথ কে রথ থেকে নামিয়ে মন্দিরের ভিতরে রত্ন সিংহাসন পর্যন্ত আনা হয়, সেখানে
জগন্নাথ ও লক্ষীর বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।তার পরে জগন্নাথ দেব কে গর্ভগৃহে
স্থাপনা করা হয়।
রথ যাত্রার শুরুর আগে নানান উপাচার পালন করা হয়।
এই সকল উপচের একটি উপাচার অধরপনা।
অধরপনা------
এই উপাচারে ভগবান জগন্নার, বলরাম সুভদ্রা সকলকেই তিন তিন ঘড়া দুধ,ঘী, মাখন,পনীর আদি দ্বারা ভোগ দেওয়া হয়।
তিন প্রতিমার সামনে তিন তিন ঘড়া রাখা থাকে ,বিশেষ কারীগড়িতে তৈরি প্রতিটি ঘড়া 3 থেকে 4 ফুট হয়।
যেগুলি ভগবানের ঠোঁট পর্যন্ত ছুঁয়ে থাকে। এক একটি ঘড়াতে 200 কিলো দুধ, মাখন আদি তে পূর্ন থাকে।
ভগবানের ভোগ দেবার পরে ওই ঘড়া গুলি রথেই ভেঙে ফেলা হয়, এতে সমস্ত দুধ, ঘী, মাখন, পনির, রথ থেকে বয়ে সমস্ত পথে ছড়িয়ে পরে।
রথ যাত্রার শেষে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা,সকলে রথ থেকে নেমে মন্দিরে প্রবেশ করার পরে রথ গুলি ভেঙে ফেলা হয়।
যে রথ তৈরি করতে পুরীর পাশের জঙ্গল থেকে সংগ্ৰহ করা প্রায় 2000 রও বেশি গাছের কাঠ,আর সেই কাঠ থেকেই তৈরী হয় রথ ।
রথে ভেঙে ফেলার পরে কিছু কিছু অংশ রথের কারিগরেরা নিয়ে যান, তাদের পারিশ্রমিক ও ঈশ্বরের আশীর্বাদ হিসাবে।
কিছু অংশ যেমন ঘোড়া, সারথি এবং কিছু প্রতিমা সুরক্ষিত রেখে দেওয়ার হয়।
কিছু কাঠ মঠের যজ্ঞের কাজের জন্য রাখা হয়।
বাকি সম্পুর্ন কাঠ বৎসর ভর মন্দিরের রান্না ঘড়ে জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার হয়।
রথ নির্মাণের প্রয়োজনীয় কাঠ জোগাড় করতে বসন্ত পঞ্চমীতে গাছ কাটা শুরু হয়। এবং রথের নির্মাণ অক্ষয় তৃতীয়াতে শুরু হয়।
প্রায় 150 জন কারিগর ( বিশ্বকর্মা)
রথ নির্মাণের কাজে নিযুক্ত থাকেন।
2000 রের বেশি গাছ দরকার হয় রথের কাঠের জন্য।
মন্দিরের পূজারী মহাপাত্রের কথা অনুসারে রথের কাঠ দিয়ে মন্দিরের রান্নাঘরের বৎসর ভরের জ্বালানির পূর্তি হয়।কিছু কাঠ মঠের যজ্ঞের জন্য ব্যবহার হয়।
জগন্নাথের রান্না ঘর দুনিয়ার সর্ব বৃহৎ রান্না ঘর।এখানে 752 টি উনুন ( চুলা) জ্বলে। ভগবানের ভোগ প্রসাদ রান্না করার জন্য।
===========================================================
পুরী ভ্রমণ।---------
প্রায় 150 জন কারিগর ( বিশ্বকর্মা)
রথ নির্মাণের কাজে নিযুক্ত থাকেন।
2000 রের বেশি গাছ দরকার হয় রথের কাঠের জন্য।
মন্দিরের পূজারী মহাপাত্রের কথা অনুসারে রথের কাঠ দিয়ে মন্দিরের রান্নাঘরের বৎসর ভরের জ্বালানির পূর্তি হয়।কিছু কাঠ মঠের যজ্ঞের জন্য ব্যবহার হয়।
জগন্নাথের রান্না ঘর দুনিয়ার সর্ব বৃহৎ রান্না ঘর।এখানে 752 টি উনুন ( চুলা) জ্বলে। ভগবানের ভোগ প্রসাদ রান্না করার জন্য।
===========================================================
পুরী ভ্রমণ।---------
পুরী ভারতের ওড়িশা রাজ্যের পুরী জেলার একটি শহর ও পৌরসভা এলাকা। এই শহর পুরী জেলার সদর শহর এবং বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত। উড়িষ্যার রাজধানী ভুবনেশ্বর থেকে ৬০ কিমি দূরে অবস্থিত। পুরী হিন্দুদের চারধামের অন্যতম একটি ধাম হিসেবে বিখ্যাত। প্রাচীনকালে পুরী শ্রীক্ষেত্র এবং নীলাচল নামে পরিচিত ছিল। এই শহরে হিন্দুদের অনেক মন্দির ও মঠ আছে।
জগন্নাথ মন্দির
1 পুরীর জগন্নাথ মন্দির নানা অলৌকিক রহস্যে ভরা৷ যেমন মন্দিরের চূড়ার পতাকা বায়ুর উল্টো দিকে ওড়ে৷ মন্দিরের উপর আজ পযন্ত কোনো পাখি বসতে দেখা যায়নি৷ মন্দিরের ওপর দিয়ে কোনো বিমান,পাখি উড়ে যেতে পারে না৷ মন্দিরের রান্নাঘরের ভিতর দিয়ে গঙ্গানদী প্রবাহমান,যা বাইরে থেকে দেখা যায় না৷এসমস্ত প্রচলিত কাহিনী মন্দির টি আরও অলৌকিক রুপ দান করে। মন্দিরের পরিসর বিস্তৃত। মন্দিরের গোপন কক্ষে সাতটি ঘর আছে। সেই ঘরগুলিই হল রত্নভাণ্ডার। ৩৪ বছর আগে মাত্র তিনটি ঘরের তালা খুলতে সক্ষম হয়েছিলেন কর্মকর্তারা। বাকি ঘরগুলিতে কী আছে, তা আজও রহস্যই রয়ে গিয়েছে। শ্রীজগন্নাথের ‘ব্রহ্মবস্তু’র মতোই রত্নভাণ্ডারের রহস্য অধরাই রয়ে গিয়েছে। যে কক্ষগুলি খোলা সম্ভব হয়েছিল, সেখান থেকে উদ্ধার হয় ১৮০ রকমের মণিমুক্তো খচিত স্বর্ণ অলঙ্কার।প্রতি বিজয়াদশমী, কার্তিক পূর্ণিমা, পৌষ পূর্ণিমা এবং মাঘী পূর্ণিমার দিন শ্রীক্ষেত্রে ভক্তদের সামনে রাজবেশে দর্শন দেন মহাপ্রভু। তাঁর সেই সজ্জা দেখে ভক্তরা ধন্য ধন্য করেন।
সারাবছর ধরেই দেশে বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্তরা জগন্নাথ দেশের দর্শনের জন্য পুরীর এই মন্দিরে এসে ভিড় জমান। এই ঐতিহাসিক জগন্নাথ মন্দির ১০৭৮ সালে তৈরি হয়।
পুরীর রথযাত্রা :
রথযাত্রা বা রথদ্বিতীয়া একটি আষাঢ় মাসে আয়োজিত অন্যতম প্রধান হিন্দু উৎসব। ভারতীয় রাজ্য ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গে এই উৎসব বিশেষ উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর কৃষ্ণের বৃন্দাবন প্রত্যাবর্তনের স্মরণে এই উৎসব আয়োজিত হয়ে থাকে।
====================================
====================================
পুরী ভ্রমণের সময় কন্ট্রাক্টে অটো পাওয়া যায় ঘুরে দেখবার জন্য।
জগন্নাথ দেবের মাসী বাড়ি, শঙ্করাচার্জের মঠ (গোবর্ধন মঠ), কুলদানন্দ ব্রমহচারির আশ্রম , বিজয়কৃষ্ণ ব্রমহচারির সমাধি আশ্রম , চন্দন সরোবর (জগন্নাথ দেবের পিসি বাড়ি) ও সোনার গৌরাঙ্গ।
সন্ধ্যায় ফিরে পায়ে হেঁটে ইস্কনের মন্দির ( কাকাতুয়া খাজার দোকানের কাছে) , হরিদাস এর সমাধি আশ্রম( ইস্কনের মন্দির এর বিপরীতে) এবং ভারত সেবাস্রম সঙ্ঘ ও তার মিউজিয়াম। এই সব যায়গায় সন্ধ্যারতি খুব ভালো লাগবে।
পুঁজ দেবার জন্য সকালে স্নান করে জগন্নাথ দেবের মন্দিরে গিয়ে পুজো দেওয়া। মন্দির চত্বর ঘুরে দেখতেও বেশ ভালো লাগে ।
দুপুরে ফিরে বিশ্রাম।
বিকালে গম্ভীরা বা শ্রী রাধাকান্ত মঠ (শ্রী চৈতন্য দেব এখানে থাকতেন) এবং সিদ্ধ বকুল ।
সন্ধ্যাটা সমুদ্রের ধারে কাটাতে ভালোই লাগলো।
দুপুরে ফিরে বিশ্রাম।
বিকালে গম্ভীরা বা শ্রী রাধাকান্ত মঠ (শ্রী চৈতন্য দেব এখানে থাকতেন) এবং সিদ্ধ বকুল ।
সন্ধ্যাটা সমুদ্রের ধারে কাটাতে ভালোই লাগলো।
===================================
• শুধু পুরী তে দর্শনীয় স্থান গুলি হল-
১। সমুদ্র
২। পুরীর জগন্নাথ মন্দির
৩। জগন্নাথ দেবের মাসী বাড়ি
৪। ইস্কনের মন্দির ( কাকাতুয়া খাজার দোকানের কাছে)
৫। হরিদাস এর সমাধি আশ্রম( ইস্কনের মন্দির এর বিপরীতে)
৬। ভারত সেবাস্রম সঙ্ঘ ও তার মিউজিয়াম
৭। শঙ্করাচার্জের মঠ (গোবর্ধন মঠ)
৮। গম্ভীরা বা শ্রী রাধাকান্ত মঠ (শ্রী চৈতন্য দেব এখানে থাকতেন)
৯। সিদ্ধ বকুল
১০। গৌরবিহার আশ্রম (মাতাজির আশ্রম)
১১। কুলদানন্দ ব্রমহচারির আশ্রম
১২। বিজয়কৃষ্ণ ব্রমহচারির সমাধি আশ্রম
১৩। চন্দন সরোবর (জগন্নাথ দেবের পিসি বাড়ি)
১৪। লোকনাথ
১৫। ভার্গবি নদীর মোহোনা
১৬। সোনার গৌরাঙ্গ
১৭। তোতাপুরি আশ্রম
এ ছাড়াও পুরীর জগন্নাথ মন্দির এর চত্বরে অনেক কিছু দেখার আছে।
************<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->***************
**************************************************
=========================================================
৬> ষষ্ঠ পর্ব-------- অতিরিক্ত পর্ব
নব কলেবরের প্রস্তুতি পর্ব ----
বিগ্রহের প্রস্তুতির জন্য দারু অন্বেষণ যা কাকটপুরের মা মঙ্গলার স্বপ্নাদেশে বনযাগ যাত্রা নামে বলা হয়। এই যাত্রা থেকে নব কলেবরের প্রস্তুতি পর্ব আরম্ভ।
এই বনযাগ যাত্রাপথের কিছুটা সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেবার চেষ্টা করছি ---------
চলার পথের পোগ্রাম টা মোটামুটি এমনি পুরীর মন্দির থেকে বেরিয়ে কোনারকের
মন্দির, সেখান বেশ কিছু সময় কাটিয়ে সকলে পৌঁছে যায় সঙ্কর্ষণ মহাদেবের মন্দিরে ।
সেখানেই রাত্রি বাস।
পরের দিন সদলবলে হাজির হয় দেউলি মঠে।
এই দেউলি মঠই এক প্রকাশের বেশ ক্যাম্প।
দেউলি থেকে কাকটপুর মঙ্গলার মন্দির মাত্র দুই কিলোমিটার।
সেইদিনই সন্ধ্যা বেলায় দেউলি পৌঁছেই নিয়ম মাফিক দেউল করণ পত্র লিখে দূত মারফত কাকতপুর মঙ্গলার প্রধানকে দারু অনুসন্ধানী দলের দেউলিতে আগমন বার্তা জানান হয়।
যদিও এই খবর আগেথেকেই সকলের জানা থাকে তথাপি নিয়ম রক্ষা হেতু দুত পাঠিয়ে খবর দেওয়া এক বিশেষ রীতি।
মঙ্গলার প্রধান চিঠি পেয়েই পরেরদিন সকাল আটটায় মা মঙ্গলার মন্দিরের তরফ থেকে মূল পুরোহিত মঙ্গলার প্রধান সহ সকলে বাজনা বাজিয়ে বিশাল এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সহকারে
দেউলি মঠে উপস্থিত হন সকল দারু অনুসন্ধানী দলকে আমন্ত্রণ জানাতে।
সেই শোভা যাত্রা আবার ফিরে আসে দৈতাপতিদের নিয়ে মা মঙ্গলা মন্দিরে।
দৈতাপতিরা মা মঙ্গলার কাছে অর্পণ করেন পুরী থেকে আনা শাড়ি ও মহাপ্রসাদ।
এখানে দৈতাপতিগণ হবিষ্যান্ন ছাড়া আর কিছুই গ্রহণ করেন না।
এখানে ব্রহ্মনগণ বেদ পাঠ করে যজ্ঞ করেন।
কাকটপুর মঙ্গলার নির্দেশ দুই--তিন দিনের মধ্যে পেয়েযান দৈতাপতিগণ।
মা মঙ্গলা স্বপ্নে প্রতক্ষ দর্শন দিয়ে দিক নির্দেশ করে দেন।
নির্দেশ পাওয়ার পরেই দলটি চার ভাগে ভাগ হয়ে দারু সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে।
এবার এখানে একটু বলে রাখা উচিত যে যদি কোন কারনে মা স্বপ্নে নির্দেশ না দেন তবে কি করণীয়।
সেই ক্ষেত্রে আবার নুতন করে পূজা পাঠ যজ্ঞ করে পুনরায় মাকে সন্তুষ্ট করে মায়ের
মাথায় ফুল চড়ানো হয়।
তারপরে স্রেফ অধীর অপেক্ষায় সবাই এক দৃষ্টিতে চেয়ে বসে থাকেন কখন ফুলটি পড়ে ,
এবং কোন দিকে পড়ে। এই ভাবেও দিক নির্দেশ পাওয়া যায় মা মঙ্গলার কাছ থেকে।
প্রত্যেক বার আলাদা আলাদা জায়গাতে দারুর সন্ধান পাওয়া যায়।
দারুর সঙ্গে অথবা সামান্য দূরে উই ঢিবি থাকবেই ,এবং তার মধ্যে বিষধর স্যাপ থাকবেই।
যজ্ঞ শুরু হলেই স্যাপ অন্যত্র চলে যায়। এই সাপ গাছটিকে রক্ষা করে যাতে কোন পাখি বাসা না করে ,কোন হাতি গাছের দল ভাঙ্গতে না পারে।
দারু অনুসন্ধানের পরম্পরা এমনি যে মন্দিরে দারু প্রবেশ করবে প্রথমে সুদর্শন ,তারপরে বলভদ্র, তারপরে সুভদ্রা, এবং সর্বশেষ জগন্নাথ।
একবারের খবর জানলাম যে সে বার সুদর্শনের দারু পাওয়া গিয়েছিল পুরী থেকে ৭০ কিমি দূরে ,
কটক জেলায় ,থানা নিয়ালি ,গ্রাম পিন্নিমাল।
বলভদ্রের দারু পাওয়া গিয়েছিল পুরী থেকে ১৪৫ কি মি দূরে ,জেলা কটক ,গ্রামের নাম রামকৃষ্ণ পুর ,থানা সালেপুর,
সুভদ্রার দারু পাওয়া গিয়েছিল পুরী থেকে ৬৫ কি মি দূরে ,জেলা পুরী ,গ্রামের নাম মালদা ,থানা অন্তরঙ্গ ,
আর জগন্নাথের দারু পাওয়া গিয়েছিল পুরী থেকে ৭৫ কি মি দূরে খুরদা জেলায় গ্রামের নাম দধিমাছ
গাড়িয়া।
তবে এই দারু নিমের হলেও তাতে স্বাদে তিক্ততা থাকবে না, মিষ্টত্ব থাকতে হবে ,এই ব্যাপারে কেহই এর সত্যতা নিয়ে কিছু বললেন না কারন ,যে দারু তে ঈশ্বরের মূর্তি তৈরী হবে সে দারু মুখ দিয়ে এঁটো করবে এমন সাহস কার ?
শুধু তাই নয় দারু নির্বাচন হবার পরে প্রয়োজনীয় অংশ টুকু নিয়ে বাকি সম্পূর্ণ দল পাল মাটির নিচে বিশাল গর্ত করে সম্পূর্ণ পুঁতে ফেলাহয়
প্রাথমিক ভাবে সকল লক্ষণ মিলিয়ে দারু নির্বাচিত হলে ,শেষ সিদ্ধান্ত নেবেন বিদ্যাপতি।
সকলকিছু ঠিক হলে সেখানে যজ্ঞ মন্ডপ তৈরি হয় ,তারপরে প্রথমে ভূমি পূজন , জগন্নাথের
পীঠাবরণ দেবতা গণেশের পূজা ,পরে দূর্গা,সূর্য ও ভগবান শ্রী জগন্নাথের অর্চনা হয়।
এই সকল পূজা হোম যজ্ঞ এসকল অনেক খুঁটিনাটি ক্রিয়া ,কর্মকান্ড সম্পন্য হয়।
এরপরে কিছু গুপ্ত পূজা সম্পন্ন হয়। যেখানে কেবল রাজগুরু, বিদ্যাপতি এবং বিশ্বাবসু উপস্থিত থাকেন।
এরপরে দারু তে মাখন লেপন করে নিকটস্থ নদী বা পুষ্করণীতে স্নান করিয়ে নুতন বস্ত্র দিয়ে দারুর মুলদেশ আচ্ছাদন করার পরে বিদ্যাপতি বৃক্ষমূলে পুরীথেকে আনা সেই আজ্ঞামালা স্থাপন করেন।
পরে চক্র স্থাপন করা হয়।
এরপরে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিদ্যাপতি সোনার কুঠার ,বিশ্বাবসু রুপোর কুঠার বৃক্ষমূলে স্পর্শ করার পরে বিশ্বকর্মা লোহার কুঠার দিয়ে প্রথমে দারুচ্ছেদন করেন। এরপরে অবশ্য শুদ্ধাচারী যে কেউ দারু চ্ছেদনা অংশ গ্রহণ করতে পারেন।
দারু ভূপতিত হলে নিয়ম মাফিক কয়েক খন্ডে ভাগ করে বাকি শাখা প্রশাখা মাটিরতে পুঁতে ফেলা হয়।
এই দুইদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের সময় বিদ্যাপতি এবং অন্যান্য দৈতাপতি সম্পূর্ণ উপবাসে থাকেন এবং
ব্রাহ্মণ পণ্ডিতগণের সারাক্ষন বেদের মন্ত্র উচ্চারণ গীত বাদ্য সহযোগে শ্রী শ্রী জগন্নাথের ভজন কীর্তন চলতে থাকে।
এহেন ক্ৰিয়াকাণ্ডে মানুষ বৃক্ষরূপী ঈশ্বরের সাথে একাত্মা হয়ে অন্তরের সম্পূর্ণ আবেগ অনুভূতি দিয়ে বিশেষ আনন্দ লাভ করে।
এরপরে দারু বহন করে নিয়ে যাবার জন্য নুতন শকট নির্মাণ হয় ঐখানে। শকটের জন্য লাগে অন্য্ কাঠ। যেমন কেন্দুয়া ,বট ,তেঁতুল ,এবং বিল্ব। এ ছাড়া অন্য্ কাঠ দিয়ে শকট নির্মাণ হয় না।
কোন কাঠে শকটের কোন অংশ নির্মাণ হবে সেটিও নির্ধারিত থাকে।
শকট তৈরি হয়েগেলে তারও পূজা হয় বিধিমতন।
সেই শকটে বিশেষ ভাবে প্রস্তুত নুতন রঙিন পট্টবস্ত্র দিয়ে দারু ঢেকে শকটে আরোহন করিয়ে পুরী
অভিমুখে যাত্রা করে।
নুতন বেতের দড়ি দিয়ে ভক্তরা টেনে নিয়ে চলে শকট।
এই শকট যত এগোতে থাকে আশে পাশের গ্রামাঞ্চল থেকে শত শত ভক্ত শোভা যাত্রায় যোগ দেন ,
এবং নিজেদ্রে ধন্য মনেকরেন। বহু মানুষ ফল মূল নানা পূজা সম্ভার নিয়ে আসে। দৈতাপতি গন সেই সামগ্রী দিয়ে ভোগ লাগান।
এই ভাবে গ্রামের পর গ্রামের মানুষ শোভাযাত্রায় যোগ দেন ঢোল ,মাদল ,করতাল ,কাঁসর, ঘন্টা নিয়ে
সকলে পাঁচ থেকে আটদিনের মধ্যে শ্রী পুরুষোত্তমেরে আঠারোনালায় এসে উপস্থিত হন।
রাজা এই সংবাদ পেয়ে হস্তী চামর পাখা ও নানান বাদ্য নিয়ে শোভাযাত্রা করে ওই পবিত্র দারুকে প্রণাম জানাতে গুন্ডিচা বাড়ির পাশে নৃসিংহ মন্দিরে উপস্থিত হন এবং দারু অধিষ্ঠিত শকট গুলি
শ্রী মন্দিরের উত্তর দ্বার দিয়ে কৈলি বৈকুন্ঠের দারু মন্ডপে নিয়ে উপস্থিত করেন। ))))
<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->
***************** ***************
**************************************************
================================================================
=========================================================
৬> ষষ্ঠ পর্ব-------- অতিরিক্ত পর্ব
নব কলেবরের প্রস্তুতি পর্ব ----
বিগ্রহের প্রস্তুতির জন্য দারু অন্বেষণ যা কাকটপুরের মা মঙ্গলার স্বপ্নাদেশে বনযাগ যাত্রা নামে বলা হয়। এই যাত্রা থেকে নব কলেবরের প্রস্তুতি পর্ব আরম্ভ।
এই বনযাগ যাত্রাপথের কিছুটা সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেবার চেষ্টা করছি ---------
চলার পথের পোগ্রাম টা মোটামুটি এমনি পুরীর মন্দির থেকে বেরিয়ে কোনারকের
মন্দির, সেখান বেশ কিছু সময় কাটিয়ে সকলে পৌঁছে যায় সঙ্কর্ষণ মহাদেবের মন্দিরে ।
সেখানেই রাত্রি বাস।
পরের দিন সদলবলে হাজির হয় দেউলি মঠে।
এই দেউলি মঠই এক প্রকাশের বেশ ক্যাম্প।
দেউলি থেকে কাকটপুর মঙ্গলার মন্দির মাত্র দুই কিলোমিটার।
সেইদিনই সন্ধ্যা বেলায় দেউলি পৌঁছেই নিয়ম মাফিক দেউল করণ পত্র লিখে দূত মারফত কাকতপুর মঙ্গলার প্রধানকে দারু অনুসন্ধানী দলের দেউলিতে আগমন বার্তা জানান হয়।
যদিও এই খবর আগেথেকেই সকলের জানা থাকে তথাপি নিয়ম রক্ষা হেতু দুত পাঠিয়ে খবর দেওয়া এক বিশেষ রীতি।
মঙ্গলার প্রধান চিঠি পেয়েই পরেরদিন সকাল আটটায় মা মঙ্গলার মন্দিরের তরফ থেকে মূল পুরোহিত মঙ্গলার প্রধান সহ সকলে বাজনা বাজিয়ে বিশাল এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সহকারে
দেউলি মঠে উপস্থিত হন সকল দারু অনুসন্ধানী দলকে আমন্ত্রণ জানাতে।
সেই শোভা যাত্রা আবার ফিরে আসে দৈতাপতিদের নিয়ে মা মঙ্গলা মন্দিরে।
দৈতাপতিরা মা মঙ্গলার কাছে অর্পণ করেন পুরী থেকে আনা শাড়ি ও মহাপ্রসাদ।
এখানে দৈতাপতিগণ হবিষ্যান্ন ছাড়া আর কিছুই গ্রহণ করেন না।
এখানে ব্রহ্মনগণ বেদ পাঠ করে যজ্ঞ করেন।
কাকটপুর মঙ্গলার নির্দেশ দুই--তিন দিনের মধ্যে পেয়েযান দৈতাপতিগণ।
মা মঙ্গলা স্বপ্নে প্রতক্ষ দর্শন দিয়ে দিক নির্দেশ করে দেন।
নির্দেশ পাওয়ার পরেই দলটি চার ভাগে ভাগ হয়ে দারু সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে।
এবার এখানে একটু বলে রাখা উচিত যে যদি কোন কারনে মা স্বপ্নে নির্দেশ না দেন তবে কি করণীয়।
সেই ক্ষেত্রে আবার নুতন করে পূজা পাঠ যজ্ঞ করে পুনরায় মাকে সন্তুষ্ট করে মায়ের
মাথায় ফুল চড়ানো হয়।
তারপরে স্রেফ অধীর অপেক্ষায় সবাই এক দৃষ্টিতে চেয়ে বসে থাকেন কখন ফুলটি পড়ে ,
এবং কোন দিকে পড়ে। এই ভাবেও দিক নির্দেশ পাওয়া যায় মা মঙ্গলার কাছ থেকে।
প্রত্যেক বার আলাদা আলাদা জায়গাতে দারুর সন্ধান পাওয়া যায়।
দারুর সঙ্গে অথবা সামান্য দূরে উই ঢিবি থাকবেই ,এবং তার মধ্যে বিষধর স্যাপ থাকবেই।
যজ্ঞ শুরু হলেই স্যাপ অন্যত্র চলে যায়। এই সাপ গাছটিকে রক্ষা করে যাতে কোন পাখি বাসা না করে ,কোন হাতি গাছের দল ভাঙ্গতে না পারে।
দারু অনুসন্ধানের পরম্পরা এমনি যে মন্দিরে দারু প্রবেশ করবে প্রথমে সুদর্শন ,তারপরে বলভদ্র, তারপরে সুভদ্রা, এবং সর্বশেষ জগন্নাথ।
একবারের খবর জানলাম যে সে বার সুদর্শনের দারু পাওয়া গিয়েছিল পুরী থেকে ৭০ কিমি দূরে ,
কটক জেলায় ,থানা নিয়ালি ,গ্রাম পিন্নিমাল।
বলভদ্রের দারু পাওয়া গিয়েছিল পুরী থেকে ১৪৫ কি মি দূরে ,জেলা কটক ,গ্রামের নাম রামকৃষ্ণ পুর ,থানা সালেপুর,
সুভদ্রার দারু পাওয়া গিয়েছিল পুরী থেকে ৬৫ কি মি দূরে ,জেলা পুরী ,গ্রামের নাম মালদা ,থানা অন্তরঙ্গ ,
আর জগন্নাথের দারু পাওয়া গিয়েছিল পুরী থেকে ৭৫ কি মি দূরে খুরদা জেলায় গ্রামের নাম দধিমাছ
গাড়িয়া।
তবে এই দারু নিমের হলেও তাতে স্বাদে তিক্ততা থাকবে না, মিষ্টত্ব থাকতে হবে ,এই ব্যাপারে কেহই এর সত্যতা নিয়ে কিছু বললেন না কারন ,যে দারু তে ঈশ্বরের মূর্তি তৈরী হবে সে দারু মুখ দিয়ে এঁটো করবে এমন সাহস কার ?
শুধু তাই নয় দারু নির্বাচন হবার পরে প্রয়োজনীয় অংশ টুকু নিয়ে বাকি সম্পূর্ণ দল পাল মাটির নিচে বিশাল গর্ত করে সম্পূর্ণ পুঁতে ফেলাহয়
প্রাথমিক ভাবে সকল লক্ষণ মিলিয়ে দারু নির্বাচিত হলে ,শেষ সিদ্ধান্ত নেবেন বিদ্যাপতি।
সকলকিছু ঠিক হলে সেখানে যজ্ঞ মন্ডপ তৈরি হয় ,তারপরে প্রথমে ভূমি পূজন , জগন্নাথের
পীঠাবরণ দেবতা গণেশের পূজা ,পরে দূর্গা,সূর্য ও ভগবান শ্রী জগন্নাথের অর্চনা হয়।
এই সকল পূজা হোম যজ্ঞ এসকল অনেক খুঁটিনাটি ক্রিয়া ,কর্মকান্ড সম্পন্য হয়।
এরপরে কিছু গুপ্ত পূজা সম্পন্ন হয়। যেখানে কেবল রাজগুরু, বিদ্যাপতি এবং বিশ্বাবসু উপস্থিত থাকেন।
এরপরে দারু তে মাখন লেপন করে নিকটস্থ নদী বা পুষ্করণীতে স্নান করিয়ে নুতন বস্ত্র দিয়ে দারুর মুলদেশ আচ্ছাদন করার পরে বিদ্যাপতি বৃক্ষমূলে পুরীথেকে আনা সেই আজ্ঞামালা স্থাপন করেন।
পরে চক্র স্থাপন করা হয়।
এরপরে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিদ্যাপতি সোনার কুঠার ,বিশ্বাবসু রুপোর কুঠার বৃক্ষমূলে স্পর্শ করার পরে বিশ্বকর্মা লোহার কুঠার দিয়ে প্রথমে দারুচ্ছেদন করেন। এরপরে অবশ্য শুদ্ধাচারী যে কেউ দারু চ্ছেদনা অংশ গ্রহণ করতে পারেন।
দারু ভূপতিত হলে নিয়ম মাফিক কয়েক খন্ডে ভাগ করে বাকি শাখা প্রশাখা মাটিরতে পুঁতে ফেলা হয়।
এই দুইদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের সময় বিদ্যাপতি এবং অন্যান্য দৈতাপতি সম্পূর্ণ উপবাসে থাকেন এবং
ব্রাহ্মণ পণ্ডিতগণের সারাক্ষন বেদের মন্ত্র উচ্চারণ গীত বাদ্য সহযোগে শ্রী শ্রী জগন্নাথের ভজন কীর্তন চলতে থাকে।
এহেন ক্ৰিয়াকাণ্ডে মানুষ বৃক্ষরূপী ঈশ্বরের সাথে একাত্মা হয়ে অন্তরের সম্পূর্ণ আবেগ অনুভূতি দিয়ে বিশেষ আনন্দ লাভ করে।
এরপরে দারু বহন করে নিয়ে যাবার জন্য নুতন শকট নির্মাণ হয় ঐখানে। শকটের জন্য লাগে অন্য্ কাঠ। যেমন কেন্দুয়া ,বট ,তেঁতুল ,এবং বিল্ব। এ ছাড়া অন্য্ কাঠ দিয়ে শকট নির্মাণ হয় না।
কোন কাঠে শকটের কোন অংশ নির্মাণ হবে সেটিও নির্ধারিত থাকে।
শকট তৈরি হয়েগেলে তারও পূজা হয় বিধিমতন।
সেই শকটে বিশেষ ভাবে প্রস্তুত নুতন রঙিন পট্টবস্ত্র দিয়ে দারু ঢেকে শকটে আরোহন করিয়ে পুরী
অভিমুখে যাত্রা করে।
নুতন বেতের দড়ি দিয়ে ভক্তরা টেনে নিয়ে চলে শকট।
এই শকট যত এগোতে থাকে আশে পাশের গ্রামাঞ্চল থেকে শত শত ভক্ত শোভা যাত্রায় যোগ দেন ,
এবং নিজেদ্রে ধন্য মনেকরেন। বহু মানুষ ফল মূল নানা পূজা সম্ভার নিয়ে আসে। দৈতাপতি গন সেই সামগ্রী দিয়ে ভোগ লাগান।
এই ভাবে গ্রামের পর গ্রামের মানুষ শোভাযাত্রায় যোগ দেন ঢোল ,মাদল ,করতাল ,কাঁসর, ঘন্টা নিয়ে
সকলে পাঁচ থেকে আটদিনের মধ্যে শ্রী পুরুষোত্তমেরে আঠারোনালায় এসে উপস্থিত হন।
রাজা এই সংবাদ পেয়ে হস্তী চামর পাখা ও নানান বাদ্য নিয়ে শোভাযাত্রা করে ওই পবিত্র দারুকে প্রণাম জানাতে গুন্ডিচা বাড়ির পাশে নৃসিংহ মন্দিরে উপস্থিত হন এবং দারু অধিষ্ঠিত শকট গুলি
শ্রী মন্দিরের উত্তর দ্বার দিয়ে কৈলি বৈকুন্ঠের দারু মন্ডপে নিয়ে উপস্থিত করেন। ))))
<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->
***************** ***************
**************************************************
================================================================
পুরীর শ্রীজগন্নাথ মন্দিরের সম্পূর্ণ স্থাপত্য কাঠামো 🛕🚩🙌🏻
🛕 শ্রীজগন্নাথ মন্দিরের প্রধান অংশসমূহ
🚩 বিমান (Vimana): মূল গর্ভগৃহ, যেখানে মহাপ্রভু জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা বিরাজমান। উচ্চতা প্রায় ৬৫ মিটার।
🚩 নীলচক্র ও পতিতপাবন ধ্বজা (Neelachakra & Patita Pavana Flag): মন্দিরের শীর্ষে অবস্থিত, সুরক্ষা ও ভক্তির প্রতীক।
🚩 রতমণ্ডপ (Ratnavedi): দেবতাদের রত্নসিংহাসন।
🚩 জগমোহন (Jagamohana): দর্শনার্থীদের জন্য দর্শন মণ্ডপ।
🚩 নাটমন্দির (Natamandira): ধর্মীয় নৃত্য ও আচার অনুষ্ঠানের স্থান।
🚩 ভোগমণ্ডপ (Bhogamandapa): মহাপ্রভুর ভোগ অর্পণের স্থান।
🧱 সুরক্ষা ও প্রবেশপথ
কুর্ম বেধা: অভ্যন্তরীণ প্রাচীর, গর্ভগৃহকে রক্ষা করে।
মেঘনাদ পাচেরি: বাহ্যিক প্রাচীর (দুর্গসদৃশ)।
সিংহদ্বার: প্রধান প্রবেশদ্বার।
অরুণ স্তম্ভ: সূর্য স্তম্ভ, কোনার্ক থেকে আনা।
🍚 অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান
রোসাঘর (Kitchen): বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মন্দির রান্নাঘর, যেখানে প্রতিদিন হাজারো মানুষের জন্য মহাপ্রসাদ প্রস্তুত হয়।
কৈলিবৈকুণ্ঠ: নবকলেবর সময় পুরোনো দারু-বিগ্রহ সমাধিস্থ করার স্থান।
🚩 রথযাত্রার রথসমূহ
নন্দিঘোষ – জগন্নাথদেবের রথ (১৬ চাকা)
তালধ্বজ – বলভদ্রের রথ (১৪ চাকা)
দর্পদলন – সুভদ্রার রথ (১২ চাকা)
জয় জগন্নাথ 🙌🏻☀️🚩🚩🚩
__=============================
🕉️ কোইলি বৈকুণ্ঠ ও নবকলেবর
(দিব্য নবায়নের চক্র)
🔹 কোইলি বৈকুণ্ঠ (Koili Baikuntha)
এটি পুরী শ্রীজগন্নাথ মন্দিরের ভেতরের এক গোপন ও পবিত্র উদ্যান।
এখানেই পুরনো দারুবিগ্রহদের শেষ বিশ্রাম দেওয়া হয়।
এখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ—শুধু নির্দিষ্ট সেবায়েতদের অনুমতি থাকে।
🔹 নবকলেবর নীতি (Nabakalebara Ritual)
নবকলেবর মানে—দেহ পরিবর্তন, আত্মার নয়।
পুরনো বিগ্রহ (Old Idols)
দারু (পবিত্র নিমকাঠ) দিয়ে নির্মিত
দেহ ক্ষয়প্রাপ্ত হলে তা মানবদেহের মতোই নশ্বর
ব্রহ্মপদার্থ (Brahma Padartha)
এটি জগন্নাথের দিব্য চৈতন্য / আত্মতত্ত্ব
গভীর রাতে, সম্পূর্ণ গোপনে
পুরনো বিগ্রহ থেকে নতুন বিগ্রহে স্থানান্তরিত হয়
এই কাজটি করেন দৈতাপতি সেবায়েতরা,
চোখ বাঁধা অবস্থায়, যাতে কেউ সরাসরি ব্রহ্মতত্ত্ব দর্শন না করে।
🔹 নতুন বিগ্রহ (New Idols)
নতুন দারু দিয়ে নির্মিত
নতুন দেহ, কিন্তু একই চিরন্তন জগন্নাথ
আত্মা অমর, দেহ পরিবর্তনশীল—এই তত্ত্বই এখানে প্রকাশ পায়
🔹 সমাধি (The Burial)
পুরনো বিগ্রহগুলোকে কোইলি বৈকুণ্ঠে
সমাধিস্থ করা হয়
একে বলা হয় “পঞ্চমহাভূতে প্রত্যাবর্তন”—
অর্থাৎ দেহ আবার প্রকৃতিতে মিশে যায়
🌿 এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া আমাদের শেখায়—
ভগবান কখনও জন্মান না, মরেন না।
দেহ বদলায়, চৈতন্য বদলায় না।
জগন্নাথ চিরন্তন—নবকলেবর তাঁর লীলা।
===============================
No comments:
Post a Comment