ভ্রমণ উড়িষ্যা --ভুবনেশ্বর, উদয়গিরি আর খণ্ডগিরি গুহা,
লিঙ্গরাজ মন্দির,নন্দনকানন ,কোনার্ক, চিল্কা হ্রদ---
রাজা তখন ভুবনেশ্বরে কর্ম রত।
আমরা পৌঁছলাম ভুবনেশ্বরে ।
রাজা জানে আমি চিংড়ি মাছ, কাঁকড়া খুব ভালো বসি।
সেদিন তখন রাত্রি 11টা বাজে রাজা বললো চলো চিংড়ি মাছ কিনে আনি।
আমি বললাম এতরাত্রে ?
রাজা বললো এখানে রাত্রেই ভালো মাছ আসে।বিশেষ করে চিংড়ি মাছ।
বাজারে গিয়ে একটু অবাক হলাম, এত রাত্রে মনেহচ্ছিল আমাদের কলকাতার সকাল 10 টার বাজার।
এত রাত্রেও প্রচুর মাছের দোকান,অজস্র মানুষের ভিড় মাছ কেনার জন্য।
কিন্তু কোন হৈ হট্টগোল নাই। মাছের বাজার এমন শান্ত পরিবেশ ভাবাই যায়না।
মাছের বাজার প্রবাদ বাক্যটি যেন এখানে বেমানান।
রাত্রে চিংড়ি মাছ কিনে এনে ঘড়ে রান্না করলো সবিতা ,হ্যাঁ সবিটা অর্থাৎ রাজার মা ও গিয়েছিলো আমাদের সাথে। সেদিন আমরা অনেকেই ছিলাম একসাথে অন্তরা ,সাম্যও ছিল আমাদের সাথে।
=============================================
ভুবনেশ্বর ---------
ভুবনেশ্বর ভারতের ওড়িশা রাজ্যের রাজধানী
(ভুবনেশ্বর থেকে কন্ট্রাক্ট টুরে,
ভুবনেশ্বরের ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে মন্দির, চিড়িয়াখানা, সাফারি পার্ক, গুহা ছাড়া আরো কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরিয়ে দেখে নেওয়া যায়। প্যাকেজ টুরে দর্শনীয় স্থানে ঢুকতে আর কোনো টিকিট লাগবে না। প্যাকেজের সাথেই সকল এন্ট্রিফি নিয়ে নেয়।
গোটা মন্দিরটি তৈরি হয়েছে বেলে পাথর ও ল্যাটেরাইট (মাকড়া) পাথর দিয়ে। গোটা উড়িষ্যায় মন্দিরের গায়ে এরকম সূক্ষ্মতম ভাস্কর্যর নিদর্শন আর একটাও নেই। মূল দেউলের গায়ে এক ইঞ্চি এমন জায়গা পাওয়া মুশকিল যেখানে ভাস্কর্য নেই।
এই লিঙ্গরাজ মন্দির ঘিরে বছরভর উৎসবের কমিমনাই । প্রধান উৎসব ‘শিব রাত্রি’। সারা রাত প্রদীপ জ্বালিয়ে চলে প্রার্থনা। শ্রাবণ মাসে ভক্তরা মহানদী থেকে জল নিয়ে পায়ে হেঁটে মন্দিরে আসে। ভাদ্র মাসে বাইশ দিন ধরে চলে ‘চন্দন উৎসব’। অশোকাষ্ঠমীর রথযাত্রা নিয়ে নতুন করে কিছু বলবার নেই। এমনিতেই সারাদিন ধরে চলে নিত্য পূজা, মহাস্নান পর্ব, ভোগ নিবেদন।
এই মন্দির থেকে লুপ্ত হয়েছে দেবদাসী প্রথা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা ছাড়া এই মন্দিরে অন্য ধর্মের কেউ প্রবেশ করতে পারে না। এ ছাড়া চামড়াজাত দ্রব্য নিয়ে মন্দিরে প্রবেশ নিষেধ। মন্দিরের এক সেবায়েত জানালেন, ‘১০৮টি মন্দির নিয়ে এই লিঙ্গরাজ মন্দিরের সৃষ্টি। এক হাজার সালে গঙ্গা রাজা ললাট কেশরী এই মন্দির তৈরি করেন। এখানে ভগবান শিবের লিঙ্গ বিগ্রহ আছে।
পরদিন সকালে রওনা দিয়ে পৌঁছলাম চন্দ্রভাগা সি বিচে উড়িষ্যার কোনারকের এই সূর্য মন্দির দেখতে।
অপূর্ব স্থাপত্যশৈলী ও সমৃদ্ধ ইতিহাসের জন্য ইউনেস্কো বিশ্ব সভ্যতার একটি উত্তরাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছে ।
আমরা বোট ভাড়া করে একটু বেশি পয়সা দিয়ে প্রায় দুই ,আড়াই ঘন্টা চিল্কায় ভ্রমণ করলাম বোটে। বোটে ভ্রমণ করার সময় দেখলাম ডলফিন ,বোটের আসে পশে যেন ডিগবাজি খাচ্ছে ,অপূর্ব সেই দৃশ্য।
হ্রদের মাঝখানে ছোট্ট একটি টাপুটতে কিছুক্ষন ঘুরলাম , চিল্কার চিংড়ি ভাজা আর চা খেলাম।
অপূর্ব এই চিল্কা হ্রদ ,
এটি ভারতের বৃহত্তম উপকূলীয় লেগুন (উপহ্রদ) এবং নিউ ক্যালিডোনিয়ার নিউ ক্যালিডোনিয়ার প্রবাল প্রাচীরের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপকূলীয় লেগুন ।
একটি ঈষৎলোনা জলের উপহ্রদ যা ভারতের পূর্বউপকূলের ওড়িশা রাজ্যের
পুরী, খুরদা ও গানজাম জেলায় বিস্তৃত। দিয়া নদীর তীরে, বঙ্গোপসাগরে এটি ১১০০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
এটিকে ইউনেস্কো (UNESCO) ভারতের বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানসমূহের তালিকা এনেছেন।
হ্রদটি লম্বায় প্রায় ৪০ মাইল। এর আয়তন ১১০০ বর্গ কি. মি.। অনেকগুলি ছোট বড় নদী জলধারা এতে পতিত হয়। 'দয়া' নামে একটা সরু নদী দিয়ে হ্রদটা বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে যুক্ত হয়।
সারা ভারতে সব থেকে বড় পরিযায়ী পাখিদের সমাবেশ এইখানে।
চিল্কা হ্রদে পরিযায়ী পাখি দেখার মতন। এতো পরিয়েরী পাখি আর কোথাও দেখাজায়না ।
হ্রদটির চারদিকে আছে অনেক ছোট বড় গ্রাম ও শহর। মাছ আহরণের জন্য এই হ্রদকে ঘিরে ১৫০,০০০ জেলে থাকে এবং ১৩২টি গ্রাম আছে।
একটি সমীক্ষা দেখানো হয়েছে, এই হ্রদে ৪৫ শতাংশ জলজ পাখি,৩২ শতাংশ আন্সেরিফর্মিস বর্গের পাখি এবং ২৩ শতাংশ পানিকাটা পাখি। এর উপহ্রদে ১৪ প্রজাতির শিকারী পাখি আছে। প্রায় ১৫২ প্রজাতির বিরল এবং বিপন্ন ইরাবতী ডলফিন এই হ্রদে বাস করে খবর পাওয়া গেছে।
চিল্কা হ্রদ-------
পরদিন আমরা গেলাম চিল্কা লেক। ভারতবর্ষের বৃহত্তম আর পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম উপহ্রদ । লেকটা সুবিশাল, তার মধ্যে দু’টো জায়গায় দু’টো ট্যুরিস্ট স্পট আছে – রম্ভা আর বারকুল ।
রাজা তখন ভুবনেশ্বরে কর্ম রত।
আমরা পৌঁছলাম ভুবনেশ্বরে ।
রাজা জানে আমি চিংড়ি মাছ, কাঁকড়া খুব ভালো বসি।
সেদিন তখন রাত্রি 11টা বাজে রাজা বললো চলো চিংড়ি মাছ কিনে আনি।
আমি বললাম এতরাত্রে ?
রাজা বললো এখানে রাত্রেই ভালো মাছ আসে।বিশেষ করে চিংড়ি মাছ।
বাজারে গিয়ে একটু অবাক হলাম, এত রাত্রে মনেহচ্ছিল আমাদের কলকাতার সকাল 10 টার বাজার।
এত রাত্রেও প্রচুর মাছের দোকান,অজস্র মানুষের ভিড় মাছ কেনার জন্য।
কিন্তু কোন হৈ হট্টগোল নাই। মাছের বাজার এমন শান্ত পরিবেশ ভাবাই যায়না।
মাছের বাজার প্রবাদ বাক্যটি যেন এখানে বেমানান।
রাত্রে চিংড়ি মাছ কিনে এনে ঘড়ে রান্না করলো সবিতা ,হ্যাঁ সবিটা অর্থাৎ রাজার মা ও গিয়েছিলো আমাদের সাথে। সেদিন আমরা অনেকেই ছিলাম একসাথে অন্তরা ,সাম্যও ছিল আমাদের সাথে।
=============================================
ভুবনেশ্বর ---------
ভুবনেশ্বর ভারতের ওড়িশা রাজ্যের রাজধানী
ভারতের পূর্ব দিকে অবস্থিত ওড়িশা রাজ্যের রাজধানী। ভুবনেশ্বর, ওড়িশা রাজ্যের বৃহত্তম ও ব্যস্ততম শহর।
উদয়গিরি এবং খণ্ডগিরি গুহা, লিঙ্গরাজ মন্দির, রাজারাণী মন্দির, নন্দনকানন প্রাণি উদ্যান
এবং ধউলি বৌদ্ধ বিহার
এবং ধউলি বৌদ্ধ বিহার
ডাকনাম: One of the Temple City of India
প্রাচীন কালে ভুবনেশ্বর; "কলিঙ্গ" এবং "উৎকল" নামে পরিচিত ছিল। "ভুবনেশ্বর" নামটির উৎপত্তি হয় ত্রিভুবনেশ্বর নাম থেকে, যার আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে ত্রিভূবনের ঈশ্বর, যা পরোক্ষভাবে শিব ঠাকুর কে বোঝায়।
প্রাচীন কালে ভুবনেশ্বর; "কলিঙ্গ" এবং "উৎকল" নামে পরিচিত ছিল। "ভুবনেশ্বর" নামটির উৎপত্তি হয় ত্রিভুবনেশ্বর নাম থেকে, যার আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে ত্রিভূবনের ঈশ্বর, যা পরোক্ষভাবে শিব ঠাকুর কে বোঝায়।
এই শহরের আছে ৩,০০০ বছরের ইতিহাস যা মহামেঘ-বহন ছেদি রাজত্বের আমলে শুরু হয় (আনুমানিক ২য় খৃস্টপুর্ববাব্দে) যখন এর রাজধানী ছিল শিশুপালগড়।
বিশ্বের বিখ্যাত সূর্য মন্দির, কোণার্ক সূর্য মন্দির ভুবনেশ্বরের থেকে ৬৬.১ কি.মি দূরে অবস্থিত।
"ভুবন ভোলানো ভুবনেশ্বর"
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পাশের রাজ্য ওড়িশা। এই রাজ্যের রাজধানী ভুবনেশ্বর।
কলকাতার হাওড়া থেকে ৩৭০ কিলোমিটার ভুবনেশ্বর।
সকালে ট্যাক্সি রিজার্ভ করে ভুবনেশ্বর শহর দেখতে বের হই। চওড়া রাস্তা। যানবাহন আর লোক-চলাচল খুবই কম।
“ওড়িশার আরো নাম রয়েছে—‘কলিঙ্গ’, ‘উত্কল’, ‘উড্রদেশ’।
কলিঙ্গ রাজার দেশ বলে এর নাম ‘কলিঙ্গ’। ২৬১ খ্রিস্টপূর্বে এই কলিঙ্গ রাজার সঙ্গে সম্রাট অশোকের যুদ্ধ হয়। তাতে মৃত্যু হয় দেড় লাখ মানুষের। এত প্রাণহানির ঘটনায় অশোক বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি শপথ নেন, আর অস্ত্র নয়, আর যুদ্ধ নয়, ভালোবাসা দিয়ে মানুষের মন জয় করতে হবে।
সাত শতকে ওড়িশা থেকে বৌদ্ধ ধর্মকে উত্খাত করে হিন্দু ধর্ম। এরপর হিন্দু রাজারা ৫০০ বছর তাঁদের রাজত্বে ওড়িশাকে দৃষ্টিনন্দন মন্দির দিয়ে সাজান। বারো শতকে এসব মন্দিরের সংখ্যা সাত হাজার ছাড়িয়ে যায়।”
ভুবনেশ্বরের ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে গড়েওঠে মন্দির, চিড়িয়াখানা, সাফারি পার্ক, গুহা ছাড়া আরো কিছু দর্শনীয় স্থান।
======
======
(ভুবনেশ্বর থেকে কন্ট্রাক্ট টুরে,
ভুবনেশ্বরের ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে মন্দির, চিড়িয়াখানা, সাফারি পার্ক, গুহা ছাড়া আরো কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরিয়ে দেখে নেওয়া যায়। প্যাকেজ টুরে দর্শনীয় স্থানে ঢুকতে আর কোনো টিকিট লাগবে না। প্যাকেজের সাথেই সকল এন্ট্রিফি নিয়ে নেয়।
উদয়গিরি আর খণ্ডগিরি গুহা।
ফুল বাগানে ঘেরা আর পাহাড়ের কোলে উদয়গিরি আর খণ্ডগিরি গুহা। প্রথমে অনেক সিঁড়ি ডিঙিয়ে ডান পাশের উদয়গিরির ।
এটি হচ্ছে বৌদ্ধ গুহা।
এটি হচ্ছে বৌদ্ধ গুহা।
দুই শতকে পাথর খুঁড়ে ১২৩ ফুট উঁচুতে বৌদ্ধ সাধুদের বসবাসের জন্য এই উদয়গিরি তৈরি করা হয়। লালচে রঙের পাথরের গুহার ভেতর নানা ধরনের টেরাকোটাসদৃশ কারুকাজ দেখে মুগ্ধ হতেই হবে।
উদয়গিরির পাশে খণ্ডগিরিও অনেক উঁচু। ১১৩ ফুট উঁচু এই জৈন গুহাও রহস্যঘেরা। এর চূড়ায় রয়েছে জৈন তীর্থঙ্কর মহাবীর হিন্দু মন্দির।)
উদয়গিরির পাশে খণ্ডগিরিও অনেক উঁচু। ১১৩ ফুট উঁচু এই জৈন গুহাও রহস্যঘেরা। এর চূড়ায় রয়েছে জৈন তীর্থঙ্কর মহাবীর হিন্দু মন্দির।)
উদয়গিরি আর খণ্ডগিরি গুহা।-----------
উদয়গিরি আর খণ্ডগিরি গুহা। প্রথমে অনেক সিঁড়ি ডিঙিয়ে ডান পাশের উদয়গিরির ভেতর ঢুকি। এটি হচ্ছে বৌদ্ধ গুহা। দুই শতকে পাথর খুঁড়ে ১২৩ ফুট উঁচুতে বৌদ্ধ সাধুদের বসবাসের জন্য এই উদয়গিরি তৈরি করা হয়। লালচে রঙের পাথরের গুহার ভেতর নানা ধরনের টেরাকোটাসদৃশ কারুকাজ দেখে মুগ্ধ হই।
উদয়গিরি পাহাড়ে ১৮ টি এবং খণ্ডগিরি পাহাড়ে ১৫ টি গুহা আছে
উদয়গিরি পাহাড়ে ১৮ টি গুহা -------
১--রাণীগুম্ফা,২---বাজাহারাগুম্ফা, ৩--ছোট হাতীগুম্ফা,৪---অলকাপুরীগুম্ফা
৫--জয়-বিজয়গুম্ফা-৬---পানাসগুম্ফা-৭--ঠাকুরাণীগুম্ফা-৮--পাতালপুরীগুম্ফা-
৯--মঞ্চপুরীগুম্ফা-১০--গণেশগুম্ফা-১১--জাম্বেশভরাগুম্ফা-১২--ব্যাঘ্রগুম্ফা-
১৩--সর্পগুম্ফা-১৪--হাতীগুম্ফা-১৫--ধ্যানহারাগুম্ফা-১৬--হরিদাসগুম্ফা-
১৭--জগন্নাথগুম্ফা-১৮--রোসাইগুম্ফা।
খন্ডগিরির ১৫ টি গুহা -------
১--তাতোয়াগুম্ফা ,২--তাতোয়াগুম্ফা ,৩--অনন্তগুম্ফা,৪--তেন্তুলিগুম্ফা ,৫--খন্ডগিরিগুম্ফা
৬--ধ্যানগুম্ফা,৭--নবমুনীগুম্ফা,৮--রড়ভূজিগুম্ফা,৯--ত্রিশূলগুম্ফা,১০--আম্বিকাগুম্ফা
১১--ললাটেদু:খেশ্বরীগুম্ফা,১২--নামহীন,১৩--নামহীন,১৪--একাদশীগুম্ফা,১৫---নামহীন-
এই স্থাটি সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পর্যটক/দর্শকদের জন্য খোলা থাকে।
উদয়গিরি আর খণ্ডগিরি গুহা। প্রথমে অনেক সিঁড়ি ডিঙিয়ে ডান পাশের উদয়গিরির ভেতর ঢুকি। এটি হচ্ছে বৌদ্ধ গুহা। দুই শতকে পাথর খুঁড়ে ১২৩ ফুট উঁচুতে বৌদ্ধ সাধুদের বসবাসের জন্য এই উদয়গিরি তৈরি করা হয়। লালচে রঙের পাথরের গুহার ভেতর নানা ধরনের টেরাকোটাসদৃশ কারুকাজ দেখে মুগ্ধ হই।
উদয়গিরি এবং খণ্ডগিরি গুহা হলো কিছুটা প্রাকৃতিক এবং কিছুটা কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট কতগুলি গুহার সমষ্টি যার প্রত্মতাত্ত্বিক, ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয় দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
উদয়গিরির পাশে খণ্ডগিরিও অনেক উঁচু। ১১৩ ফুট উঁচু এই জৈন গুহাও রহস্যঘেরা। এর চূড়ায় রয়েছে জৈন তীর্থঙ্কর মহাবীর হিন্দু মন্দির।
এরপরে আমরা অনেক সিঁড়ি ভেঙে ধৈলী পাহাড়ের শান্তি স্তূপের পাদদেশে এসে পৌঁছি। এখানেই সম্রাট অশোকের সঙ্গে কলিঙ্গ রাজার যুদ্ধ হয়েছিল। আর যুদ্ধের পর অশোক এখানেই ধ্যানে বসেন। ১৯৭০ সালে এই স্থানে খুবই সুন্দর সাদা ধবধবে শান্তির প্রতীক ‘পিস প্যাগোডা’ নির্মাণ করা হয়। প্যাগোডার ভেতর গৌতম বুদ্ধ বসে আছেন। শান্তির এই স্থাপনা দেখে নামার সময় চোখে পড়ে পাহাড়ের ভেতরে ছোট ছোট দোকান। সেখানে কাজুবাদাম, পোস্তদানা, এলাচ, জায়ফল বিক্রি হচ্ছে।
এরপরে আমরা অনেক সিঁড়ি ভেঙে ধৈলী পাহাড়ের শান্তি স্তূপের পাদদেশে এসে পৌঁছি। এখানেই সম্রাট অশোকের সঙ্গে কলিঙ্গ রাজার যুদ্ধ হয়েছিল। আর যুদ্ধের পর অশোক এখানেই ধ্যানে বসেন। ১৯৭০ সালে এই স্থানে খুবই সুন্দর সাদা ধবধবে শান্তির প্রতীক ‘পিস প্যাগোডা’ নির্মাণ করা হয়। প্যাগোডার ভেতর গৌতম বুদ্ধ বসে আছেন। শান্তির এই স্থাপনা দেখে নামার সময় চোখে পড়ে পাহাড়ের ভেতরে ছোট ছোট দোকান। সেখানে কাজুবাদাম, পোস্তদানা, এলাচ, জায়ফল বিক্রি হচ্ছে।
*********তার পরের দর্শনীয় স্থান লিঙ্গরাজ মন্দির’।
লিঙ্গরাজ মন্দির
লিঙ্গরাজ মন্দির পূর্বভারতীয় রাজ্য উড়িষ্যার ভুবনেশ্বরে অবস্থিত প্রাচীন মন্দির গুলোর মধ্যে অন্যতম। মন্দিরটি শিব এবং বিষ্ণুর মিলিত রূপ হরিহরের নামে উৎসর্গীকৃত। মন্দিরটি ভুবনেশ্বরের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূস্থাপনা এবং প্রধান পর্যটন স্থান।
লিঙ্গরাজ মন্দির ভুবনেশ্বরের সব থেকে বড় মন্দির। কেন্দ্রীয় মিনারটি ১৮০ ফুট উঁচু। মন্দিরটি কলিঙ্গ স্থাপত্যকলা এবং মধ্যযুগীয় ভুবনেশ্বর স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত। ধারণা করা হয়ে থাকে মন্দিরটি সোমবংশী রাজত্বকালে নির্মিত যা পরবর্তীতে গঙ্গা শাসকদের হাতে বিকশিত হয়। মন্দিরটি দেউল শৈলীতে নির্মিত যার চারটি ভাগ আছে। সেগুলো হচ্ছে বিমান, জগমোহন, নাট্যমন্দির এবং ভোগমন্ডপ। ভাগগুলোর উচ্চতা ক্রমান্বয়ে বেড়েছে। মন্দির চত্ত্বরটি দেয়ালঘেরা।
ভুবনেশ্বরকে একাম্রা ক্ষেত্র বলা হয়ে থাকে। তেরো শতকে লেখা সংস্কৃত পুঁথি একাম্রা পুরাণ অনুযায়ী লিঙ্গরাজের মন্দিরটি একাম্রা (আম) গাছের নিচে অবস্থিত ছিলো। লিঙ্গরাজ মন্দিরটি মন্দির ট্রাস্ট বোর্ড এবং আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অভ ইন্ডিয়ার অধীনে পরিচালিত হয়।
এখানকার শিবরাত্রি উৎসব প্রধান।
পান্ডাদের মুখে শোনা কিছু কথা। লিঙ্গরাজ শব্দের আক্ষরিক অর্থ লিঙ্গের রাজা, হিন্দুমতে শিবের প্রতিরূপ। আদিতে শিবকে কীর্তিভাসা এবং পরে হরিহর হিসেবে পূজা করা হতো। তাকে ত্রিভুবনেশ্বর (ভুবনেশ্বরও বলা হয়) বলা হয় যার অর্থ স্বর্গ, মর্ত ও শূন্যলোকের অধিপতি। তার সঙ্গিনীকে বলা হয় ভুবনেশ্বরী।
এগারো শতকের শেষ দশক থেকে মন্দিরটি টিকে আছে। ষষ্ঠ শতকে মন্দিরটি নির্মাণের প্রমাণ পাওয়া যায় কারণ সপ্তম শতকের কিছু সংস্কৃত পুঁথিতে মন্দিরটির উল্লেখ আছে।
তবে এই শতাব্দী প্রাচীন মন্দিরটি গড়ে ওঠার সময় কিন্তু ভুবনেশ্বর নামটাই ছিল না। এই জায়গার নাম ছিলো, একাম্র ক্ষেত্র। পুরাণে বলে, এখানে এক আম গাছ বা এক আম্র গাছের নীচে পূজিত হতেন ‘হর-হরি’, বিষ্ণু ও শিব একসাথে, এক লিঙ্গে। তাঁরা একসাথে স্বর্গ-মর্ত-পাতালের অধীশ্বর, ত্রিভুবনেশ্বর। সেই থেকেই ভুবনেশ্বর।
মূল লিঙ্গরাজ মন্দিরকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অনেক মন্দির ।
লিঙ্গরাজ মন্দির
লিঙ্গরাজ মন্দির পূর্বভারতীয় রাজ্য উড়িষ্যার ভুবনেশ্বরে অবস্থিত প্রাচীন মন্দির গুলোর মধ্যে অন্যতম। মন্দিরটি শিব এবং বিষ্ণুর মিলিত রূপ হরিহরের নামে উৎসর্গীকৃত। মন্দিরটি ভুবনেশ্বরের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূস্থাপনা এবং প্রধান পর্যটন স্থান।
লিঙ্গরাজ মন্দির ভুবনেশ্বরের সব থেকে বড় মন্দির। কেন্দ্রীয় মিনারটি ১৮০ ফুট উঁচু। মন্দিরটি কলিঙ্গ স্থাপত্যকলা এবং মধ্যযুগীয় ভুবনেশ্বর স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত। ধারণা করা হয়ে থাকে মন্দিরটি সোমবংশী রাজত্বকালে নির্মিত যা পরবর্তীতে গঙ্গা শাসকদের হাতে বিকশিত হয়। মন্দিরটি দেউল শৈলীতে নির্মিত যার চারটি ভাগ আছে। সেগুলো হচ্ছে বিমান, জগমোহন, নাট্যমন্দির এবং ভোগমন্ডপ। ভাগগুলোর উচ্চতা ক্রমান্বয়ে বেড়েছে। মন্দির চত্ত্বরটি দেয়ালঘেরা।
ভুবনেশ্বরকে একাম্রা ক্ষেত্র বলা হয়ে থাকে। তেরো শতকে লেখা সংস্কৃত পুঁথি একাম্রা পুরাণ অনুযায়ী লিঙ্গরাজের মন্দিরটি একাম্রা (আম) গাছের নিচে অবস্থিত ছিলো। লিঙ্গরাজ মন্দিরটি মন্দির ট্রাস্ট বোর্ড এবং আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অভ ইন্ডিয়ার অধীনে পরিচালিত হয়।
এখানকার শিবরাত্রি উৎসব প্রধান।
পান্ডাদের মুখে শোনা কিছু কথা। লিঙ্গরাজ শব্দের আক্ষরিক অর্থ লিঙ্গের রাজা, হিন্দুমতে শিবের প্রতিরূপ। আদিতে শিবকে কীর্তিভাসা এবং পরে হরিহর হিসেবে পূজা করা হতো। তাকে ত্রিভুবনেশ্বর (ভুবনেশ্বরও বলা হয়) বলা হয় যার অর্থ স্বর্গ, মর্ত ও শূন্যলোকের অধিপতি। তার সঙ্গিনীকে বলা হয় ভুবনেশ্বরী।
এগারো শতকের শেষ দশক থেকে মন্দিরটি টিকে আছে। ষষ্ঠ শতকে মন্দিরটি নির্মাণের প্রমাণ পাওয়া যায় কারণ সপ্তম শতকের কিছু সংস্কৃত পুঁথিতে মন্দিরটির উল্লেখ আছে।
তবে এই শতাব্দী প্রাচীন মন্দিরটি গড়ে ওঠার সময় কিন্তু ভুবনেশ্বর নামটাই ছিল না। এই জায়গার নাম ছিলো, একাম্র ক্ষেত্র। পুরাণে বলে, এখানে এক আম গাছ বা এক আম্র গাছের নীচে পূজিত হতেন ‘হর-হরি’, বিষ্ণু ও শিব একসাথে, এক লিঙ্গে। তাঁরা একসাথে স্বর্গ-মর্ত-পাতালের অধীশ্বর, ত্রিভুবনেশ্বর। সেই থেকেই ভুবনেশ্বর।
মূল লিঙ্গরাজ মন্দিরকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অনেক মন্দির ।
পুরো মন্দির চত্বরটাই উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা, তাই রাস্তা থেকে মন্দির চত্বর ঠিক মতো চোখে পড়ে না।
চন্দন কাঠের প্রধান ফটক দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলে মন্দিরের প্রথম অংশ, ‘জগমোহন’, ভক্তদের জমায়েত হওয়ার জায়গা। তারপর ‘নাটমন্দির’, মূলত উৎসবের সময়ে ব্যবহার হতো। এরপর অপেক্ষাকৃত ছোটো আয়তনের ‘ভোগ মন্দির’, ভোগ নিবেদনের জায়গা। সব শেষে, ‘বিমান’ অংশ। উচ্চতা ১৮০ ফুট। এখানেই অধিষ্ঠান করছে ‘হর-হরি’ লিঙ্গরাজ। জগমোহন থেকে বিমান পর্যন্ত মন্দির অংশের উচ্চতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।
গোটা মন্দিরটি তৈরি হয়েছে বেলে পাথর ও ল্যাটেরাইট (মাকড়া) পাথর দিয়ে। গোটা উড়িষ্যায় মন্দিরের গায়ে এরকম সূক্ষ্মতম ভাস্কর্যর নিদর্শন আর একটাও নেই। মূল দেউলের গায়ে এক ইঞ্চি এমন জায়গা পাওয়া মুশকিল যেখানে ভাস্কর্য নেই।
বিমান অংশটি ধাপে ধাপে উপরে উঠেছে। পাথরের গায়ে জায়গা পেয়েছে মানুষ, পশুরা ও দেব-দেবীরা। ফাঁকা জায়গাগুলোতে জায়গা করে নিয়েছে সূক্ষ্ম নক্সা। সবার উপরে মাথায় উল্টানো কলস। নাটমন্দিরের গায়ে নারী-পুরুষের যুগল মূর্তি, নর্তকী রমণী, মানব জীবনের নানান মুহূর্ত। তবে, মৈথুন মূর্তি একেবারেই অনুপস্থিত। জগমোহনের প্রবেশদ্বারে রয়েছে, সামনের পায়ে ভর দিয়ে বসে থাকা দুটো সিংহ, দ্বাররক্ষীর ভূমিকায়। এছাড়াও মন্দির চত্বরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে করেছে ভোগ রান্নার জায়গা, পাতকুয়ো, ছোট বড় নানান মন্দির।
এই লিঙ্গরাজ মন্দির ঘিরে বছরভর উৎসবের কমিমনাই । প্রধান উৎসব ‘শিব রাত্রি’। সারা রাত প্রদীপ জ্বালিয়ে চলে প্রার্থনা। শ্রাবণ মাসে ভক্তরা মহানদী থেকে জল নিয়ে পায়ে হেঁটে মন্দিরে আসে। ভাদ্র মাসে বাইশ দিন ধরে চলে ‘চন্দন উৎসব’। অশোকাষ্ঠমীর রথযাত্রা নিয়ে নতুন করে কিছু বলবার নেই। এমনিতেই সারাদিন ধরে চলে নিত্য পূজা, মহাস্নান পর্ব, ভোগ নিবেদন।
এই মন্দির থেকে লুপ্ত হয়েছে দেবদাসী প্রথা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা ছাড়া এই মন্দিরে অন্য ধর্মের কেউ প্রবেশ করতে পারে না। এ ছাড়া চামড়াজাত দ্রব্য নিয়ে মন্দিরে প্রবেশ নিষেধ। মন্দিরের এক সেবায়েত জানালেন, ‘১০৮টি মন্দির নিয়ে এই লিঙ্গরাজ মন্দিরের সৃষ্টি। এক হাজার সালে গঙ্গা রাজা ললাট কেশরী এই মন্দির তৈরি করেন। এখানে ভগবান শিবের লিঙ্গ বিগ্রহ আছে।
========================
নন্দনকানন ---চিড়িয়াখানা=----
এরপরের দর্শনীয় স্থান ভুবনেশ্বর শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরের নন্দনকানন চিড়িয়াখানা।
এই চিড়িয়াখানার ভেতর সামুদ্রিক মাছের একটি জাদুঘর আছে। চিড়িয়াখানার প্রবেশমূল্য ১০০ টাকা।
নন্দনকানন ---চিড়িয়াখানা=----
এরপরের দর্শনীয় স্থান ভুবনেশ্বর শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরের নন্দনকানন চিড়িয়াখানা।
এই চিড়িয়াখানার ভেতর সামুদ্রিক মাছের একটি জাদুঘর আছে। চিড়িয়াখানার প্রবেশমূল্য ১০০ টাকা।
প্রথমে মাছের জাদুঘরে অপরূপ অ্যাঞ্জেল ফিশ, শার্ক, গোল্ডফিশ, স্টারফিশসহ নানা প্রজাতির দুর্লভ সব সামুদ্রিক মাছ । এরপর ছোট একটি ব্যাটারিচালিত বাহনে চড়ে হারিয়ে যাওয়া শকুন, লাভ বার্ড, সাদা বাঘ, সাদা কুমির, গরিলা, গণ্ডার, চিতাবাঘ ছাড়াও নানা রকম জীব-জন্তু দেখে নেওয়া যায়। এরপরের সাফারি
লায়ন সাফারি।
পুরো বাস মোটা মোটা লোহার শিক দিয়ে ঘেরা।
স্বয়ংক্রিয় গেট পার করে কয়েক হাত পরে ফের আরেকটি গেট পার হয়ে গভীর অরণ্যের ভেতর তৈরি লাল পথ ধরে ধীরে ধীরে বাস এগিয়ে গেল । জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকলেই সিংহ দেখা যায়।
এখানে খানিকটা সময় কাটিয়ে পরে বাঘের সাফারি পার্কে। সেখানে বহু বাঘ। বেশির ভাগই সাদা বাঘ।
বাঘের পার্কেই দেখা মিলতে পারে ভালুকের। তবে আমরা ভালুকের দেখা পাইনি।
লায়ন সাফারি।
পুরো বাস মোটা মোটা লোহার শিক দিয়ে ঘেরা।
স্বয়ংক্রিয় গেট পার করে কয়েক হাত পরে ফের আরেকটি গেট পার হয়ে গভীর অরণ্যের ভেতর তৈরি লাল পথ ধরে ধীরে ধীরে বাস এগিয়ে গেল । জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকলেই সিংহ দেখা যায়।
এখানে খানিকটা সময় কাটিয়ে পরে বাঘের সাফারি পার্কে। সেখানে বহু বাঘ। বেশির ভাগই সাদা বাঘ।
বাঘের পার্কেই দেখা মিলতে পারে ভালুকের। তবে আমরা ভালুকের দেখা পাইনি।
======--©-আদ্যনাথ-->======
==================
দেখে এলাম সূর্য মন্দির ||
<--©➽-আদ্যনাথ--->
কোণার্ক সূর্য মন্দির-------পরদিন সকালে রওনা দিয়ে পৌঁছলাম চন্দ্রভাগা সি বিচে উড়িষ্যার কোনারকের এই সূর্য মন্দির দেখতে।
অপূর্ব স্থাপত্যশৈলী ও সমৃদ্ধ ইতিহাসের জন্য ইউনেস্কো বিশ্ব সভ্যতার একটি উত্তরাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছে ।
কোনারকের সূর্য মন্দির,
ইংরেজিতে বলা হয় ‘সান টেম্পল’ বা ‘সোলার টেম্পল’।
বাংলায় আমরা বলি সূর্য মন্দির।
যেটুকু দেখেছি ও শুনেছি---
কোনার্ক সূর্য মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছিল চন্দ্রভাগা নদীর তীরে। কিন্তু কালের বিবর্তনে নদীটির গতিপথ বেঁকে যায়। ফলে মন্দির থেকে নদীটির দূরত্ব বর্তমানে কয়েক কিলোমিটারের মতো। এটি নির্মাণ করা হয় কলিঙ্গ স্থাপত্যশৈলী অনুসরণ করে। পূর্বদিকে মুখ করে রাখা হয়েছে এর প্রবেশদ্বার এবং দেবতার আসন (বেদী)। ফলে প্রতিদিন ভোরবেলায় সূর্যের প্রথম আভা সরাসরি দেবতাকে ছুঁয়ে যায়। ভারতবর্ষের বাইরে থেকে আনা খন্দালাইত পাথরে নির্মিত
এই মন্দির।
কোনার্ক নামটি সংস্কৃত কোনা ,কোনা বা কোণ এবং আর্ক ,সূর্য শব্দগুলির সমন্বয়ে গঠিত, যা মন্দিরের উল্লেখিত সৌর দেবতা সূর্যকে উৎসর্গ করা হয়েছিল। অর্থাৎ সুর্য্যের বিভিন্ন কোণের অবস্থান। এই মন্দিরটি সুর্য্যের বিভিন্ন অবস্থানে গুরুত্বপূর্ণ অর্থ বহন করে।
সভ্যতার সুরু থেকেই মানুষ সূর্যের উপাসক।
তাই সূর্য দেবতাকে সন্তুষ্ট করতে তার জন্য মানুষ তৈরি করেছে শত শত উপাসনালয়। সূর্য দেবতার উপাসনার নিমিত্তে তৈরি এসব মন্দিরকেই বলা হয় সূর্য মন্দির।
দেবতারও রয়েছে একটি দর্শনীয় রথ, যাতে চড়ে তিনি আকাশে ঘুরে বেড়ান।
তাই দেবতার সম্মানে কোনার্কের সম্পূর্ণ সূর্য মন্দিরটি তৈরি করা হয়েছে একটি অতিকায় রথের মতো করে। সাতটি তেজী ঘোড়া টগবগিয়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছে ১২ জোড়া চাকার উপর অবস্থিত একটি অতিকায় রথকে, যেটি আসলে মূল মন্দির। আর এর পুরোটাই পাথরে খোদাই করা ভারী কারুকাজে পরিপূর্ণ।
কোনার্ক সূর্য মন্দিরের ১২ জোড়া রথের চাকার প্রতিটিই একেকটি সূর্যঘড়ি!
বিস্ময়কর দক্ষতায় নির্মিত রথের এই
24 টি চাকা।
প্রতিটি চাকাই একেকটি নিখুঁত সূর্যঘড়ি;
যেগুলো দিয়ে ঘন্টা,মিনিট পর্যন্ত সঠিকভাবে হিসাব করা যায়।
মন্দিরের প্রবেশপথে দৈত্যাকার দুই দ্বাররক্ষী, দুটি সিংহ অতিকায় প্রহরী রূপে।
যুদ্ধের হাতিকে পিষে ফেলতে থাকা দুটি বড় বড় সিংহ মূর্তি, যারা প্রতীকী অর্থে পাপ আর অসত্যকে বিনাশ করার প্রতীক।
পরে জানতে পেরেছি এই অর্থটি আধুনিক কালের।
এর মূল অর্থ হচ্ছে বুদ্ধধর্মের (বুদ্ধধর্মের প্রতীক হাতি) চেয়ে হিন্দুধর্মের (সিংহ হিন্দুধর্মের প্রতীক) শ্রেষ্ঠত্ব নির্দেশ করা।
তবে সম্পূর্ণ মন্দিরটি একত্রে সূর্য দেবতার শ্রেষ্ঠত্ব আর মহিমাই প্রকাশ করে।
সিংহদ্বয়কে পেরিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলে, মূল মন্দিরে প্রবেশের পূর্বে দেখা মিলবে একটি ‘নাট মন্দিরের’। কোনার্কের এই সূর্য মন্দিরটি প্রতিষ্ঠার প্রাথমিককালে এ মন্দিরে নর্তকিরা নৃত্য পরিবেশন করতো দেবতার সন্তুষ্টির জন্য। এরপর ভেতরে প্রবেশ করলে পুরো মন্দিরের প্রাচীর দেয়ালগুলোতে চোখে পড়বে জ্যামিতিক প্যাটার্নে অঙ্কিত ফুল ও অন্যান্য নকশা। তবে দেয়ালের যে কারুকার্য অধিক নজর কাড়বে, তা হলো কামার্ত নরনারী ও দেবতাদের যৌনকর্ম আর প্রণয়ের ছোট ছোট চিত্রকর্ম। প্রতিটি খোদাইয়েই প্রাচীন কামাসূত্রের আদ্যোপান্তই যেন চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
কামদ ভাস্কর্যের জন্য কোনার্কের সূর্য মন্দিরের জুড়ি মেলা ভার। মানব জীবনের আদিম প্রবৃত্তিকে পাথরের মাঝে এমন সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তোলায় এ মন্দিরটি শুধু উড়িষ্যার নয়, পুরো ভারতেরই সবচেয়ে সুন্দর মন্দিরগুলোর একটি। বাস্তবতা আর আধ্যাত্মিকতা এর প্রতিটি দেয়ালে মিলেমিশে দুইয়ের মধ্যে এক কাব্যিক মেলবন্ধন গড়ে তুলেছে। কিন্তু কালে কালে ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ায় এর প্রকৃত সৌন্দর্য থেকে যে আমরা বঞ্চিত হয়েছি, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। মাটি থেকে দুশো ফুট উপরে অবস্থিত মন্দিরটির দেবতার মূর্তির জন্য পবিত্র বেদীটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। প্রবেশপথের নাট মন্দিরেরও যে অংশটুকু দেখা যায় তা এক-তৃতীয়াংশেরও কম। তথাপি যা কিছু অবশিষ্ট আছে, তাতেই এ মন্দিরটি অন্যগুলোর চেয়ে অনন্য।
মন্দিরের দেয়াল ও বেদীর ভাস্কর্য এবং খোদাই করা পাথুরে কাজগুলোকে দু'ভাগে ভাগ করা সম্ভব। একটি উপরের অংশ, অন্যটি নীচের। স্পষ্টত উপরের কাজগুলো নীচেরগুলোর চেয়ে অধিক নিপুণ এবং সৌন্দর্যমণ্ডিত। উপরের অংশে মূলত বিভিন্ন পৌরাণিক পশুপাখি ও দেব-দেবীর ছবি রয়েছে। মা দূর্গার মহিষাসুরকে হত্যার ছবি, নিবিষ্টচিত্ত বিষ্ণু আর শিবলিঙ্গই এদের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয়। তবে কৃষ্ণ, সরস্বতী আর গণেশের ভাস্কর্যও ছিল, যেগুলো ব্রিটিশ শাসনামলে লুণ্ঠিত হয়েছে। এরকম কিছু অত্যন্ত চমৎকার ভাস্কর্য বর্তমানে শোভা পাচ্ছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের জাদুঘরে।
কোনার্কের সূর্য মন্দিরটি কখনো পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি এ ব্যাপারে একমত প্রায় সবাই। তথাপি মন্দিরটি বর্তমানে পুরো অক্ষত নেই। বিভিন্ন সময়ে মন্দিরের বিভিন্ন অংশ ক্ষয়প্রায় হয়েছে।
সেগুলো নিয়ে রয়েছে একটি মুখরোচক গল্প, যা যুগে যুগে এই মন্দিরের পুরোহিতদের মুখে মুখে চলে আসছে। গল্পটি একটি শক্তিশালী চুম্বকের। বলা হয়, সূর্য মন্দিরের ঠিক মাথায় ছিল একটি অত্যাধিক শক্তিশালী এবং বড় চুম্বক। এর চারপাশের দেয়ালে ছিল তুলনামূলকভাবে কম শক্তির চুম্বক। ফলে কেন্দ্রের চুম্বকটির আকর্ষণে পুরো মন্দিরের কাঠামো ভারসাম্যপূর্ণ থাকতো! কিন্তু ঝামেলা বাঁধে মন্দিরের অদূরে চন্দ্রবাঘা নদীতে জাহাজের চলাচলের ক্ষেত্রে। এ চুম্বক এত শক্তিশালী ছিল যে এর কারণে নদীতে যাতায়াত করা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কম্পাস দিক নির্ণয়ে ভুল করতো, কোনো কোনো জাহাজ তো ডুবেই যেত! এ কারণে মুসলিম বণিকরা (আফগান নাকি পারস্যের এরকম কোনো পরিচিতি নেই) একবার কোনার্কে জাহাজ ভিড়িয়ে ছিনিয়ে নেয় মন্দিরের মাথার বড় চুম্বকটি। আর তাতে ভারসাম্য হারিয়ে ধ্বসে পড়ে মন্দিরটি! এর চেয়ে দুর্বল আরো একটি গল্প প্রচলিত রয়েছে। সেটি কালাপাহাড়কে নিয়ে। ১৫ শতকে কালাপাহাড়ের আক্রমণে কোনার্ক সূর্য মন্দির একবার ধ্বসে পড়েছিল বলেও দাবি করেন অনেকে।
<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->
===================
চিল্কা হ্রদ ---
আমরা বোট ভাড়া করে একটু বেশি পয়সা দিয়ে প্রায় দুই ,আড়াই ঘন্টা চিল্কায় ভ্রমণ করলাম বোটে। বোটে ভ্রমণ করার সময় দেখলাম ডলফিন ,বোটের আসে পশে যেন ডিগবাজি খাচ্ছে ,অপূর্ব সেই দৃশ্য।
হ্রদের মাঝখানে ছোট্ট একটি টাপুটতে কিছুক্ষন ঘুরলাম , চিল্কার চিংড়ি ভাজা আর চা খেলাম।
অপূর্ব এই চিল্কা হ্রদ ,
এটি ভারতের বৃহত্তম উপকূলীয় লেগুন (উপহ্রদ) এবং নিউ ক্যালিডোনিয়ার নিউ ক্যালিডোনিয়ার প্রবাল প্রাচীরের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপকূলীয় লেগুন ।
একটি ঈষৎলোনা জলের উপহ্রদ যা ভারতের পূর্বউপকূলের ওড়িশা রাজ্যের
পুরী, খুরদা ও গানজাম জেলায় বিস্তৃত। দিয়া নদীর তীরে, বঙ্গোপসাগরে এটি ১১০০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
এটিকে ইউনেস্কো (UNESCO) ভারতের বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানসমূহের তালিকা এনেছেন।
হ্রদটি লম্বায় প্রায় ৪০ মাইল। এর আয়তন ১১০০ বর্গ কি. মি.। অনেকগুলি ছোট বড় নদী জলধারা এতে পতিত হয়। 'দয়া' নামে একটা সরু নদী দিয়ে হ্রদটা বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে যুক্ত হয়।
সারা ভারতে সব থেকে বড় পরিযায়ী পাখিদের সমাবেশ এইখানে।
চিল্কা হ্রদে পরিযায়ী পাখি দেখার মতন। এতো পরিয়েরী পাখি আর কোথাও দেখাজায়না ।
হ্রদটির চারদিকে আছে অনেক ছোট বড় গ্রাম ও শহর। মাছ আহরণের জন্য এই হ্রদকে ঘিরে ১৫০,০০০ জেলে থাকে এবং ১৩২টি গ্রাম আছে।
একটি সমীক্ষা দেখানো হয়েছে, এই হ্রদে ৪৫ শতাংশ জলজ পাখি,৩২ শতাংশ আন্সেরিফর্মিস বর্গের পাখি এবং ২৩ শতাংশ পানিকাটা পাখি। এর উপহ্রদে ১৪ প্রজাতির শিকারী পাখি আছে। প্রায় ১৫২ প্রজাতির বিরল এবং বিপন্ন ইরাবতী ডলফিন এই হ্রদে বাস করে খবর পাওয়া গেছে।
চিল্কা হ্রদ-------
এটি ঈষৎ লোনা জলের উপহ্রদ যা ভারতের পূর্ব উপকূলের ওড়িশা রাজ্যের পুরী, খুরদা ও গানজাম জেলায় বিস্তৃত। দিয়া নদীর তীরে, বঙ্গোপসাগরে এটি ১১০০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এটি ভারতের বৃহত্তম উপকূলীয় হ্রদ
এটিকে ইউনেস্কো (UNESCO) ভারতের বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানসমূহের তালিকা এনেছেন।
হ্রদটি লম্বায় প্রায় ৪০ মাইল। এর আয়তন ১১০০ বর্গ কি. মি.। অনেকগুলি ছোট বড় নদী জলধারা এতে পতিত হয়। 'দয়া' নামে একটা সরু নদী দিয়ে হ্রদটা বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে যুক্ত হয়। সারা ভারতে সব থেকে বড় পরিযায়ী পাখিদের সমাবেশ এইখানে। হ্রদটির চারদিকে আছে অনেক ছোট বড় গ্রাম ও শহর। মাছ সংগ্রহের জন্য এই হ্রদকে ঘিরে বহু জেলেদের বাস। এখানে ১৩২টি গ্রাম আছে।
এই হ্রদে প্রচুর জলজ পাখি ও প্রায় ১৫২ প্রজাতীর ডলফিন এই হ্রদে বাস করে ।
একটা বোট আমরা ভাড়া করেছিলাম । বোটে ২০ জনের বসার জায়গা আছে । মাথাটা পুরোটাই ছাউনি দেওয়া । বোটে চড়ার জন্য জেটির মতো আছে । সেখান থেকে বোটে চড়ে আমরা রওনা দিলাম ‘কালিজাই দ্বীপ’-এর দিকে । চিল্কায় একটা জায়গা আছে যেখানে গেলে ডলফিন দেখতে পাওয়া যায় তবে দেখতে পাওয়া যাবেই এরকম কোনও কথা নেই –
মোটামুটি সকলেই দেখতে পায় ডলফিনদের দিগবাজি। ভাগ্য ক্রমে আমরাও দেখতে পেলাম বেশ কিছু ডলফিনের ডিগবাজি।
চিল্কার সঙ্গে সমুদ্রের যোগাযোগ আছে আর যেহেতু এর পরিসর সুবিশাল তাই এখানে ঢেউও আছে । তারই মধ্যে আমাদের বোট এগিয়ে চলল । রোদের তেজ বেশ বেশি হলেও জলের মধ্যে সেরকম গরম লাগে না – একটা ঠান্ডা হাওয়া বইতে থাকে ।প্রায় ৪৫ মিনিট চলার পর আমরা পৌঁছলাম
চিল্কার সঙ্গে সমুদ্রের যোগাযোগ আছে আর যেহেতু এর পরিসর সুবিশাল তাই এখানে ঢেউও আছে । তারই মধ্যে আমাদের বোট এগিয়ে চলল । রোদের তেজ বেশ বেশি হলেও জলের মধ্যে সেরকম গরম লাগে না – একটা ঠান্ডা হাওয়া বইতে থাকে ।প্রায় ৪৫ মিনিট চলার পর আমরা পৌঁছলাম
কালিজাই দ্বীপ-এ । এখানে একটা কালিজাই দেবীর মন্দির আছে । দ্বীপটা সবমিলিয়ে খুব একটা বড় না, পুরোটা হেঁটে ঘুরতে বড়জোর ঘন্টাখানেক লাগে। আর সত্যি কথা বলতে কি ঘুরে দেখার মতো সেরকম কিছু নেইও । দ্বীপের মধ্যে একটা ছোট্ট টিলা আছে আর এর ওপরে একটা ছাউনি দেওয়া জায়গা । আমরা সেই ছাউনিটার ওপরে উঠলাম । এটাই দ্বীপের সর্ব্বোচ্চ জায়গা । এখান থেকে অনেকদূর পর্যন্ত দেখা যায় ।
তবে জলের ধারে জায়গা, তাই বাতাসে আর্দ্রতা বেশি, তাই গরমে গা পুড়ে যাওয়ার ব্যাপারটা নেই।
তবে জলের ধারে জায়গা, তাই বাতাসে আর্দ্রতা বেশি, তাই গরমে গা পুড়ে যাওয়ার ব্যাপারটা নেই।
তবে দ্বীপ গুলিতে অন্যান্য খাবারের সাথে জেন্ত চিংড়ির চাহিদা বেশ।
আমরাও সবাই খেলাম জেন্ত চিংড়ি ভাজা। বোটে করে হ্রদে ঘুড়ে বেবাতে বেশ ভালোই লাগলো।
রডের যে অংশে পাখিদের আনাগোনা সেখানে একটু দূরথেকেই দেখলাম নানান রকমের পাখি।
ফেরার সময় আমরা একটা হোটেলে চিংড়ির মালাই করি , চিংড়ি পোস্ত ,চিংড়ির ঝাল ,ও কাঁকড়ার
দুইরকমের রান্না খেলাম। হ্রদের কাছে হ্রদের চিংড়ি ও কাঁকড়া বেশ ভালোই লাগলো।
<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->
=========================
No comments:
Post a Comment