Monday, June 5, 2023

99>|| ইতিহাস সমৃদ্ধ আঁটপুর ও রাজবলহাট |


99>|| ইতিহাস সমৃদ্ধ আঁটপুর ও রাজবলহাট ||

1> || আঁটপুর ও রাজবলহাট শ্বেতকালী বিস্তারিত ইতিহাস :||:--
2>আঁটপুরের টেরাকোটা মন্দির::---
3>এক মহান পুণ্যতীর্থ আঁটপুর।
4>আঁটপুরের প্রাচীন চন্ডীমন্ডপের ইতিহাস::--
==========================

★আঁটপুর রামকৃষ্ণমিশন::--

Ramakrishna Math Antpur

কাছের রেল স্টেশন -হরিপাল।

Train station::--Haripal stn. 


Howrah to Tarkeshwar local -->HARIPAL stn  

   Or

HWH to Arambag local--->Haripal stn.

Haripal stn to Antpur Ramakrishna Math by road 12km

তারকেশ্বর লোকালে  হরিপাল স্টেশনে পৌঁছে হরিপাল স্টেশম থেকে ট্রেকারে করে মিশনে।


★ANTPUT RAMAKRISHNA MATH,

Dt:--Hooghly. West Bengal

Pin::-- 712424.

Phone::---03212-259250/259910

Email= antpur@rkmm.org.

https.//www.rkmantpur.org.

======================




1> || আঁটপুর ও রাজবলহাট শ্বেতকালী বিস্তারিত ইতিহাস :||:--
এক দিনের সংক্ষিপ্ত ভ্ৰমন।
আজ রবিবার 28 মে 2023 সকালে বেরিয়ে পড়লাম আঁটপুর যাবার জন্য।
অনেক দিনের ইচ্ছা আঁটপুর রামকৃষ্ণ মিশন ও ওখানকার টেরাকোটার মন্দির দেখবো।
সকালে বেরিয়ে বাড়ির কাছেথেকে বেলঘড়িয়া এক্সপ্রেস ওয়েতে ম্যাজিক গাড়ি( ট্রেকের মতন ব্যাটারি চালিত ) ধরে বালি ষ্টেশন পৌঁছলাম।
বলি ষ্টেশন পৌঁছে জানতে পারলাম আজ তারকেশ্বর লাইনের সকল ট্রেন বন্ধ, কারন লাইনে জরুরি কাজ চলছে।
অগত্যা আমরা একটু হতাশ হয়ে  ফিরে যাবার মনস্থির করছিলাম।
এমন সময় এক জন দোকানদার জানালেন যে এক্সপ্রেস ওয়েতে 26 নম্বর পাবলিক বাসে গজারমোড় পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকে অটো বা ট্রেকরে আঁটপুর যাওয়া যায়।
(26 নম্বর বাস বনহুগলি থেকে চাপাডাঙ্গা যায় গজার মোড় হয়ে)
ব্যাস আমরাও সেই মতন 26 নম্বর বাস ধরে দের ঘন্টার পথ বাসে করে গিয়ে পৌঁছলাম গজার মোড়, সেখান থেকে
₹100/- টাকায় একটি আটো রিজার্ফ করে পৌঁছে গেলাম আঁটপুর রামকৃষ্ণ মিশনে।
আজকের এই ভ্রমণে কিছু নিজের অভিজ্ঞতা এবং কিছু তথ্য সংগ্রহীত।
এই সকল মিলিয়েই আজকের ভ্রমণ কাহিনী।----
হাওড়া তারকেশ্বর লাইনে
হরিপাল স্টেশনে নেমে বাস অথবা ট্রেকারে আঁটপুর।
হরিপাল থেকে আঁটপুর 12 কি.মি.
হরিপাল থেকে রাজবলহাট 17 কি.মি.
এই আঁট পুর থেকে রাজবলহাট 6কি.মি.

সমস্ত দিন মিশনে কাটিয়ে খুব ভালো করে দেখেলাম স্বামী বিবেকানন্দের
স্মৃতিবিজড়িত আঁটপুরের রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন। দেখলাম শ্রীরামকৃষ্ণ মন্দির,
স্বামী প্রেমানন্দের পৈতৃক বাড়ি,গঙ্গাধর শিবমন্দির,শ্রীশ্রী লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দির,দুর্গামন্ডপ,ধুনিমন্ডপ, নরেন্দ্র সরোবর,  পরমেশ্বর দাস ঠাকুরের শ্রীপাট,
পাঁচটি শিব মন্দির,দোলমঞ্চ,রাসমঞ্চ,শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ জীউর মন্দির, প্রাচীন চন্ডীমন্ডপ ইত্যাদি।

আঁটপুরের বাবুরাম ঘোষ তথা স্বামী প্রেমানন্দের পৈতৃক বাড়ির চীর স্বরনীয়
ধুনিমন্ডপ --
দুর্গা মন্ডপের সামনের ডান কোনে ১৯৮১ সালে একটি স্মারক মন্ডপ দেখলাম যে
মন্ডপের দেওয়ালে স্বামী বিবেকানন্দ সহ নয়জন সংকল্প গ্রহণকারী সন্ন্যাসীর খোদাই করা মূর্তি এবং তাঁদের চারদিকে টেরাকোটার শ্রীরামকৃষ্ণদেবের জীবনী ও রামকৃষ্ণ ভাবসম্ভার বিষয়ক উনপঞ্চাশটি টেরাকোটার মূর্তির  রয়েছে।
১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে ২৪ ডিসেম্বর অর্থাৎ ১২৯৩ বঙ্গাব্দের ১০ পৌষ, শুক্রবার রাত্রে
৯ জন শ্রী রামকৃষ্ণ শিষ্য সংকল্প গ্রহণ করেছিলেন।
১●নরেন্দ্রনাথ দত্ত----------
                   স্বামী বিবেকানন্দ।
২●বাবুরাম ঘোষ------------
                     স্বামী প্রেমানন্দ।
৩●শ্রী শরৎচন্দ্র চক্রবর্তী----
-                    স্বামী সারদানন্দ।
৪●শ্রী শশীভূষণ চক্রবর্তী----
                      স্বামী রামকৃষ্ণানন্দ।
৫●শ্রী তারক ঘোষাল--------
                       স্বামী শিবানন্দ।
৬●শ্রী কালীপ্রসাদ চন্দ্র-------
                        স্বামী অভেদনন্দ।
৭●শ্রী নিত্যরঞ্জন ঘোষ-------
                          স্বামী নিরঞ্জনা নন্দ।
৮●শ্রী গঙ্গাধর গঙ্গোপাধ্যায়--
                            স্বামী অখন্ডানন্দ।
৯●শ্রী সারদাচরণ মিত্র-------
                            স্বামী ত্রিগুণাতীতানন্দ।
এর পরে দোতলায় উঠে দেখলাম স্বামী বিবেকানন্দ ও শ্রীশ্রী মা য়ের শয়ন ঘর।
*********

ঠাকুর ও মায়ের ঘর। বাবুরাম ঘোষ তথা
স্বামী প্রেমানন্দের জন্মস্থান ও বসত বাড়ি৷
দুপুরে মিশনে ভোগ প্রসাদ খেয়ে একটু বিশ্রাম করে গেলাম রাধাগোবিন্দ জিউ মন্দিরের টেরাকোটার মন্দির, পাঁচ শিব মন্দির, দোল মঞ্চ, রাশমঞ্চ, খড় আর  কাঁঠাল কাঠের  সুস্বজ্জিত দারুশিল্পের  অপূর্ব নিদর্শন চন্ডীমন্ডপ দেখতে।
আঁটপুর ভালোকরে দেখে আবার টোটো করে গেলাম রাজবলহাট।
তারপরে বাড়ি ফিরতে একটু রাত হয়ে গেছিল।
একদিন আঁটপুরের মিশনে থেকে গেলে আরও ভালোকরে সকল দেখা যেত।
যাইহোক এবারে হলনা,কারন প্রচন্ড গরম,
গরমে নাজেহাল অবস্থা।
তবুও এখন নির্জন জায়গা গাছ গাছালিতে পরিপূর্ণ শান্ত নির্মল পরিবেশ।
আবার একবার যাবো।
তবে এবার গেলে শীত কালেই যাব।

আঁটপুরের টেরাকোটা মন্দিরে রাধাগোবিন্দ জিউর মন্দির,সিদ্ধেশ্বরী মায়ের মন্দির,
রাজবলহাটের দেবী ও রাজবল্লভী মা শ্বেতকালী।

স্বামী বিবেকানন্দ ও তাঁর গুরুভাইদের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাম আঁটপুর হুগলী জেলার হরিপালের কাছে অবস্থিত৷ ১৭০৮ সালে তৈরি মিত্রদের রাধাগোবিন্দের আটচালা শৈলীর মন্দিরটির টেরাকোটার কাজ অতুলনীয়৷ বাংলার প্রাচীন কাঠ খোদাইয়ের অন্যতম নিদর্শন মেলে কাছের চন্ডীমন্ডপে৷ স্বামীজীর গুরুভাই স্বামী প্রেমানন্দের জন্মস্থান আঁটপুর৷
★আঁটপুর মন্দিরময়৷ বহতা নদীর ধারে অবস্থিত আঁটপুর গ্রামটি আটটি গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত৷
★আটটি গ্রাম ●তড়া, ●বোমনগর, ●কোমরবাজার, ●ধরমপুর, ●আনারবাটি, ●রানিরবাজার, ●বিলাড়া, ●লোহাগাছি৷ ★বর্ধমান রাজা তিলোকচন্দ্র বাহাদুরের দেওয়ান কৃষ্ণরাম মিত্র বৈদ্যবাটির নিমাইতীর্থের ঘাট থেকে গঙ্গাজল, গঙ্গামাটি এনে সেই মাটি পুড়িয়ে তাতে ইট তৈরি করে রাধাগোবিন্দের মন্দির নির্মাণ করেন৷ টেরাকোটার কাজের জন্য তিনি বিষ্ণুপুর থেকে মৃৎশিল্পী আনান৷ মন্দিরটি প্রায় ১০০ ফুট উঁচু৷ মন্দিরের সম্মুখভাগে ও দুই পাশের দেয়ালে অজস্র টেরাকোটার প্যানেল আছে৷ সামাজিক দৃশ্য থেকে পৌরাণিক দৃশ্য সবই দেখা যায় টেরাকোটার ক্ষুদ্র প্যানেলে৷
এই মন্দিরে ঢোকার মুখে বিশাল সিংহ দুয়ার যে দুয়ারের দুই পাশে দুই পিলারের মাথার বিরাজমান বিশালাকার সিংহ মূর্তি।

দেখলাম আঁটপুরের মন্দির গুলি
যেন বিশ্ব ভাতৃত্বের নানান হেতু
মিত্র বাড়ির আঙ্গনে মহাত্মা কৃষ্ণরাম মিত্রের একান্ত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা
সর্বধর্ম সমন্বয়ের মিলন সেতু।
অবাক দৃষ্টিতে দুচোখ ভরে দেখলাম আঁপুরের সুন্দরও মনোরম পরিবেশে  প্রাণ মন ভরে।
আঁটপুর মন্দিরের শহর।
এখানে মন্দিরে স্থান পেয়েছে বিশ্ব ভাতৃত্বের নানান নিদর্শন-সহ মানুষ, ধর্ম, শিল্প,সংস্কৃতি, ইতিহাস সব যেন মিলে মিশে একাকার,
বিশ্বকেই বেঁধে রেখেছে ভাতৃত্বের বন্ধনে।
এমন মেল বন্ধন মিত্র বাড়ির আঙিনায় যা নাদেখলে ভাবনার অতীত হয়ে রয়েযায়।

আমাদের ধর্ম, শিল্প,সংস্কৃতি,ভাষা এসকলের দন্ধ চিরকালের। আসল দন্ধ তো মানুষে মানুষে।
আঁটপুরের মিত্র বংশের মহাত্মা পুরুষ কৃষ্ণরাম মিত্র নিজের মনবলে ও প্রবল আত্মবিশ্বাসে ভর করে সকল দন্ধ কে এক আঙিনার এক আসনে বসিয়ে  বিশ্বের দরবারে ভাতৃত্বের এমন সুন্দর মেলবন্ধনের নিদর্শন আর কোথাও আছে বলে আমার জানা নাই।
সমগ্র বিশ্বই যেন এখানে এক আত্মার নানান রূপও রং।
এ যেন এক স্বপ্ন চিন্তারও অতীত।
এ যেন সমগ্র বিশ্বকে মেলে ধরেছে আঁটপুরের মিত্র বাড়ির আঙিনায়।
এই রাধা গোবিন্দ জিউর মন্দিরের টেরাকোটায় ধরা আছে সমাজের ক্রমবিবর্তনের ইতিহাস,মুনি, ঋষি, দেবদেবী, অষ্টাদশ পুরাণ, রামায়ন, মহাভারত,লোককাব্য, পলাশি যুদ্ধের
শিল্পরূপ। হিন্দু,মুসলিম, খ্রিষ্টান সকলকেই স্থান দিয়েছেন মন্দিরের গায়ে। 100ফুট উঁচু মন্দিরে কোনকিছুই বাদ পড়েনি এই টেরাকোটার মেল বন্ধনে।

শুদু কি তাই!!
রাধাগবিন্দ জিউ মন্দিরের মাথায় ব্রহ্মাণ্ডের নিদর্শন স্বরূপ মহাকাশ, আছে সূর্যের প্রতীকের সাথে গোলাকার ধাতুনির্মিত তারকা ও গ্রহ- উপগ্রহের প্রতীক, যা স্বাচ্ছন্দে ব্যক্ত করে মহাকাশের কাল্পনিক রূপ। অর্থাৎ মহাবিশ্বের পরিবেশে পৃথিবীর রূপটিকে এখানে ধরে রাখা হয়েছে এই মন্দিরের চূড়ায়।
সে এক অদ্ভুত মেল বন্ধন, না দেখলে বিশ্বাস করাই কঠিন।

এই টেরাকোটা মন্দিরের কোন মূর্তিই ছাঁচে ঢেলে তৈরি নয়, প্রতিটি মূর্তি শিল্পীর নিজের হাতে গড়া অপূর্ব সৃষ্টি।
শিল্পীর প্রতিটি চিন্তাকে ফুটিয়ে তুলেছে তার নিজ হাতে গড়া প্রতিটি মূর্তিতে নিরপেক্ষ ভাবে।
টেরাকোটার এমন মন্দির যেখানে এতগুলি ঘর ও দোতলা বিশিষ্ট মন্দির অন্য কোথাও এমন দেখা যায় না।
এ এক অপূর্ব সম্পুর্নএকলা নিদর্শন।

এই মন্দিরের এহেন বিশ্বমৈত্রী,ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানব ভাতৃত্বের শিল্পকলা
দেখে মুগ্ধ হতেই হবে এমনটাই আমার বিশ্বাস। এজেন মানবিকতার মহামন্ত্রের মিলন স্থল।
আঁটপুরের আর একটি বিশিষ্ট শিল্পকীর্তি আছে যেটি হল চন্ডীমন্ডপ। বাংলার গ্রাম্য জীবনের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে এই চন্ডীমন্ডপের সম্পর্ক।
বেশিরভাগ চন্ডীমন্ডপ মাটির দেওয়াল খড়ের চাল। আর এখানেই বাৎসরিক পূজাপার্বন নানান অনুষ্ঠান হত।
এই চন্ডীমন্ড আবার গ্রামের মাতব্বরদের আড্ডা খানাও বটে। তবে নানা প্রকারের চন্ডীমন্ডপের নিদর্শন পাওয়া যায়।
এই আঁটপুরের চন্ডীমন্ডপের দেখা যায় সম্পুর্ন সুন্দর এক বৈশিষ্টপূর্ন এক
অনন্য শিল্প কলার নিদর্শন ।
এখানে আছে বিশেষ ভাবে সুন্দর সজ্জিত কাঠের ফ্রেমে  উপরের দিকে রাধাকৃষ্ণের অতি সুন্দর, অনবদ্য যুগল মূর্তি।
নিচের দিকে মানুষ,ও জন্তুর নিচুর দিকে মাথা করা মূর্তি গুলি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
কাঁঠাল কাঠের উপরে এমন সুন্দর নক্সা করা, কারুকার্য দেখে মহিত হলাম।

আজথেকে 250 বৎসের আগের টেরাকোটা ও দারুশিল্পের  নিদর্শন।
সর্বধর্ম সমন্বয়ে প্রচেষ্টা আজও নানা ভাবে প্রশংসিত।
এখানকার এই মন্দির গুলি ও চন্ডীমন্ডপের প্রাসঙ্গিকতার কথা উল্লেখ করে বহু বিশিষ্ট জনের মত যে মন্দিরগুলিতে সারা পৃথিবীর ধর্ম, বর্ণ,শিল্প, ও সংস্কৃতি মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে।
এই আঁটপুরেই রয়েছে আরেক প্রাচীন মন্দির  আঁটপুর থেকে দুই কিলোমিটার দূরে । - ★সিদ্ধেশ্বরী  কালী মন্দির।

আঁটপুরের সিদ্ধেশ্বরী এবং রাজবলহাটের রাজবল্লভী হুগলির দুই শ্বেত "মা কালী",

জগৎ জননী মা কালী, পরম শক্তির আধার, তাই তো তাঁকে নানারূপে নানাভাবে মাতৃরূপে উপাসনা করা হয়।
ভক্তের সঙ্গে একাত্ম হয়ে দৈবিক সত্ত্বার বাইরেও  তিনি হয়ে উঠেছেন ঘরের মেয়ে। আবার তিনিই 'মা'।
আবার এই দুই 'মা' কালী যাদের গায়েররং সাদা কিন্তু তাঁরা দুই বোন কালী নামেও পরিচিত।
একজন আঁটপুরের সিদ্ধেশ্বরী "মা"শ্বেত কালী,
আর একজন রাজবলহাটের রাজবল্লভী
"মা" শ্বেত কালী।

আঁটপুরের মা সিদ্ধেশ্বরী।
আঁটপুর রামকৃষ্ণ মঠ থেকে দুই কি,মি,
দূরে এই আঁটপুরেই রয়েছে প্রাচীন সেই মন্দির - সিদ্ধেশ্বরী শ্বেত কালী মন্দির।

গড় ভবানীপুরের রাজা সদানন্দ প্রতিষ্ঠা করেন রাজবলহাটের রাজবল্লভী।
আবার সেখানকার রানি তারাদেবীকে
এই সিদ্ধেশ্বরী শ্বেত কালী স্বপ্নাদেশ দেন আঁটপুরে তাঁকে প্রতিষ্ঠা করতে। স্বপ্নের মাধ্যমেই তিনি জানিয়েছিলেন তাঁর রূপের কথা। পূর্ণিমার পূর্ণ চন্দ্রের মতন যেন তাঁর রূপ হয়, এ কথাই মা জানান রানিকে। রানি মায়ের আদেশে মাতৃ মন্দির প্রতিষ্ঠা করা ছাড়াও মন্দিরসংলগ্ন ৩৬৫ বিঘা জমিও দান করেন। আগে মায়ের মূর্তি ছিল অষ্টধাতু নির্মিত। বাংলার ১৪০০ সালে প্রাচীন মন্দিরটি সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত হলে মাতৃভক্ত গ্রামবাসীগণ মন্দিরটি পুনঃনির্মাণ করেন। তারাদেবী মাতৃ মন্দিরের দুই পাশে দুইটি শিব মন্দির নির্মাণ করে দিয়েছিলেন। বর্তমানে সেই দুটির পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে। ১৪২০ সালের ৮ জ্যৈষ্ঠ মায়ের নতুন মূর্তি স্থাপন করা হয়।
এখানে "মা সিদ্ধেশ্বরী" চতুর্ভুজা শ্বেত কালী। ডান হাত দুটিতে অভয় ও বর মুদ্রা আর বাম হাত দুটিতে খড়্গ ও কাটা মুন্ডু।

"মা সিদ্ধেশ্বরী" ও "রাজবল্লভী মা"
দুজনেকেই  আমিষ ঘ্যাঁট তরকারি ভোগ নিবেদন করা হয়। এই আমিষ ঘ্যাঁট তরকারিই মায়ের প্রধান ভোগ।

★★★★
রাজবল্লভী, রাজবলহাট, হুগলী
আঁটপুর থেকে ৬ কি,মি, দূরে রাজবলহাট
এখানকার 'মা' দ্বিভুজা রাজবল্লভী শ্বেতকালী।
রাজবলহাটের সবুজ ঘেরা শান্ত পরিবেশে বিরাজ করছেন 'মা' রাজবল্লভী। মন্দির অঙ্গনে ঢোকার আগেই একটা গোড়া বাঁধানো বটগাছ। মন্দির প্রাঙ্গণে অনেকটা জায়গা জুড়ে নাটমন্দির আর উঁচু ভিতের উপরে প্রতিষ্ঠিত অনাড়ম্বর মন্দির। অনন্য সুন্দর দেবীর গাত্রবর্ণ সাদা, তাই রাজবল্লভী মাতা শ্বেতকালী নামেই  পরিচিত। দেবীর মাথায় কারুমণ্ডিত মুকুট। দেবী ত্রিনয়না। হাত দুটি। ডান হাতে ছুরি, সামনের দিকে প্রসারিত বাম হাতে রুধির অর্থাৎ রক্তের পাত্র। স্মিত হাসি ও প্রসন্নতায় ভরা মুখমণ্ডল, ডাগর ডাগর চোখ। পদপ্রান্তে শায়িত কালভৈরবের বুকে দেবীর ডান পা। আর দেবীর বাঁ পা স্পর্শ করে আছে সুদর্শন বিরূপাক্ষের মাথা। দেবীর  কণ্ঠে শোভাপাচ্ছে নরমুণ্ডমালা ও কোমরে মনুষ্য হস্তের কোমরবন্ধনী আছে। তবে,এই কোমর বন্ধনী দৃশ্যমান নয়। কারণ, দেবী ১৪ হাত শাড়ি পরিহিতা।
এখনকার রাজা ছিলেন সদানন্দ, হঠাৎ একদিন তাঁর নিজেরই শিকার করা পশুদের সামনে বিষণ্ণ মনে দাঁড়িয়ে ভাবছেন যে, তিনি এমন-ই নরাধম! ব্রাহ্মণকুলে জন্মগ্রহণ করেও শুধু এই রাজরক্ষায় নিজেকে আবদ্ধ রেখেছেন।
এমন চিন্তায় রাজা সদানন্দ বিষন্ন হয়ে
উদাস মনে গভীর ভাবনায় ডুবে ছিলেন,
ঠিক সেই সময় অস্তগামী সূর্যের
অস্পষ্ট আলোয় রাজা হঠাৎই লক্ষ করলেন, রুদ্রাক্ষমালা পরে এক সন্ন্যাসী
ধ্যানমগ্ন অবস্থায় বসে আছেন ঠিক তাঁর সামনে পদ্মাসনে। রাজা  সন্ন্যাসীর কাছে গিয়ে প্রণাম করলেন। তারপর রাজা স্ব-ইচ্ছায় সন্নাসীকে তাঁর নিজের মনের দ্বন্দ্বের কথা জানালেন। সন্ন্যাসী সকল কথা শুনে  রাজা সদানন্দকে শক্তিমন্ত্রে দীক্ষত করেন। সন্ন্যাসীর উপদেশেই রাজা সদানন্দ শিবসাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন। ওই সাধনাকালেই দ্বিভুজা মহামায়া, ষোড়শী রমণীমূর্তি রূপে দেখা দেন রাজাকে। 'মা' রাজাকে আদেশ করেন, এই জায়গাতেই যেন তাঁর (মা রাজবল্লভী) মূর্তি প্রতিষ্ঠা ও পুজোর ব্যবস্থা করা হয়। এরপরই সাধক রাজা সদানন্দ বরাভয়দায়িনী, নৃ-মুণ্ডমালিনী, শ্বেতকালিকা দেবী রাজবল্লভী মায়ের প্রতিষ্ঠা করেন রোন নদী ও দামোদর নদের মাঝামাঝি ভূখণ্ডে। জন্ম হল এক নতুন গ্রামের। নাম হল রাজবল্লভহাট।
আনুমানিক ১২৪২ সালে রাজবল্লভীর প্রতিষ্ঠা বছর ধরা যেতে পারে।
এখন থেকে অর্থাৎ আজ ২০২৩ সালে থেকে কমবেশি ৭৮১ বছর আগে শ্বেতকালী তথা মা রাজবল্লভীর প্রথম মন্দির ও বিগ্রহ প্রতিষ্ঠাকাল। এই জায়গার পূর্বে নাম ছিল রাজপুর। রাজা সদানন্দ রায় দেবী প্রতিষ্ঠার পর নামকরণ করেন রাজবল্লভীহাট। দেবীর নামানুসারে হল গ্রামের নাম। কালক্রমে সে নাম রূপান্তরিত হয়ে দাঁড়াল রাজবল্লভহাট। এখন পরিচিত হয়েছে রাজবলহাট। এটি দামোদর নদের পূর্ব তীরে। পশ্চিম তীরে ডিহি ভুরসুট গ্রাম।
প্রতি ১২ থেকে ১৪ বছর অন্তর মায়ের নবকলেবর (নতুন মূর্তি) তৈরি হয় গঙ্গাজল আর গঙ্গামাটি দিয়ে। সেই দেবীমূর্তিকে বৈশাখ মাসে শুভ অক্ষয় তৃতীয়ার দিন প্রতিষ্ঠা করা হয়। যে কারণে অক্ষয় তৃতীয়ার দিন ভোরবেলা মায়ের বিশেষ পুজো অনুষ্ঠিত হয়। এখানে দুর্গাপুজো মহাসমারোহে পালন করা হয়। নবমীর দিন হয় ছাগবলি এবং পুরোনো রীতি মেনে মহিষ বলিও হয়। ওইদিন মায়ের অন্নভোগ হয় না। ●মাকে ওই দিন ছাতুভোগ নিবেদন করা হয়। এছাড়া● চৈত্র সংক্রান্তির দিনও অন্নভোগের পরিবর্তে মাকে নিবেদন করা হয় চিঁড়েভোগ। ●বছরে এই দু'দিন ছাড়া সারা বছর মাকে অন্নভোগ নিবেদন করা হয় এবং সেই প্রসাদ ভক্তরাও পেয়ে থাকেন। তার জন্য সকাল সাড়ে দশটার মধ্যে ২৫ টাকার বিনিময়ে কুপন সংগ্রহ করতে হয়। তবে এখানে অনধিক ৭০০ জনের বসে প্রসাদ গ্রহণের ব্যবস্থা আছে। বর্তমান দেবীমন্দিরে গর্ভগৃহের একটি খপ্পর আছে। ছাগ ও মেষবলির পর খণ্ডিতদেহ ফেলা হয় ওই খপ্পরে। কথিত আছে, ওই খপ্পর নির্মিত স্থানটিতে রাজা সদানন্দ রায়ের পঞ্চমুণ্ডির আসন ছিল। রাজা মন্দির নির্মাণের সঙ্গে নাটমন্দির, নহবতখানা, শিবমন্দির ও প্রতিদিন ভোগের জন্য নির্মাণ করলেন রন্ধনশালা। কালের নিয়মে সদানন্দ নির্মিত কোনো কিছুই একসময় আর রইল না। পরবর্তীকালে এগুলি সব নতুন করে নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করেছেন বিভিন্ন ভক্ত ও স্থানীয় সম্পন্ন গ্রামবাসীরা। তবে যাত্রীদের স্নানের জন্য রাজার খনন করানো বড়ো পুকুরটি আজও আছে মন্দিরের সামনে।
রাজবল্লভী মায়ের মন্দির পরিচালনার জন্য যদিও একটি স্বতন্ত্র কমিটি আছে,
qকিন্তু মা তাঁর সারা বছরের পুজোর খরচ চালানোর ব্যবস্থা নিজেই করে রেখেছেন। মায়ের নামে একটি বড়ো দিঘি এবং বেশ কয়েকটি পুকুর আছে। আছে বেশ কয়েক বিঘা জমিও। আর মায়ের নামাঙ্কিত জমিতে বেশ কিছু দোকানঘর ভাড়া দেওয়া আছে। এইসব মিলিয়ে বছরে যা আয় হয় তা দিয়েই মায়ের সেবা হয়।

এছাড়াও মায়ের অগণিত ভক্তের সক্রিয় সহযোগিতা তো আছেই। বিশেষ করে ওই গ্রামসাসীদের। কারণ এখানে একটা প্রচলিত রীতি আছে যে, যাঁর বাড়িতে বা জমিতে প্রথম যে ফলটা হয় তা রাজবল্লভী মাকে উৎসর্গ করেন। এমনকি নিজের পুকুরের মাছও।

বছরের পুজোর ভার পালা করে চলে। যাঁর যখন পালা হয় তখন তিনিই সব ব্যবস্থা করে থাকেন।

কিন্তু ওই যে ভোগের জন্য মাথাপিছু ২৫ টাকা করে নেওয়া হয় তার থেকে জনপ্রতি ১ টাকা করে যায় মা রাজবল্লভীর এস্টেটে।

প্রতি শনি, রবিবার এবং ছুটির দিনগুলিতে প্রচুর জনসমাগম হয়।

মন্দিরের দরজা খোলা হয় সকাল সাতটায়। পুজো শুরু হয় সকাল এগারোটায়। রাজবল্লভী মায়ের সঙ্গে নিত্যপুজো হয় গণেশ, বাসুদেব, লক্ষ্মী, সরস্বতী, ভগবতী ও মা ষষ্ঠীর। নারায়ণসহ অন্যান্য দেবদেবীদের প্রতিদিন নিরামিষ অন্নভোগ হয়। দুপুর দেড়টায় হয় দেবীর ভোগ নিবেদন। ভাত, ডাল, সব রকমের সবজি দিয়ে তরকারি, তেঁতুল দিয়ে মাছের অম্বল এবং পায়েস।

এরপর সন্ধ্যারতি হয় সাতটায়। আরতি শেষে মাকে নিবেদন করা হয় লুচি, সন্দেশ ও ছানা।

বছরে দু-দিন দুর্গানবমী ও চৈত্র সংক্রান্তিতে অন্নভোগ হয় না।

রাজবল্লভী মাকে প্রায় সারাদিনই পুজো দেওয়া যায়।

সব শেষে মাকে তামাক সেজে দিয়ে দরজা বন্ধ করা হয়। মায়ের মন্দির খোলা থাকে সকাল ৭টা থেকে টানা রাত ১০টা পর্যন্ত (শীতে রাত ৮টা)।

গ্রাম রাজবলহাট,
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হুগলি জেলার অন্তর্গত একটি অঞ্চল। এই জায়গাটি জাঙ্গীপাড়া কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক ও শ্রীরামপুর মহকুমার অধীন।
এখনকার পিন কোড ::--৭১২৪০৮
Telephone code:: ০৩২১২
টেরাকোটায় সমৃদ্ধ মন্দির।
★রাজবলহাট পঞ্চায়েতের অধীন ১৪টি গ্রাম নিয়েই এই গ্রাম।
গ্রামগুলি হল ●শিবচক, ●মোরহাল, ●মুকুন্দপুর, ●কুলিয়ারা, ●ঝান্দা, ●বিনোদবাটি, ●চৈমন চক, ●নস্করডাঙা, ●গুলটিয়া, ●দক্ষিণ গুলটিয়া, ●ত্রিপন, ●নবগ্রাম, ●জাবনী, ●রহিমপুর।
*রাজবলহাটে দুটি উচ্চতর বিদ্যালয় আছে যথা *◆রাজবলহাট হাই স্কুল ও *◆রাজবলহাট গার্লস হাই স্কুল।

১৭৮৯ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী রাজবলহাটে তাদের বাণিজ্যিক রাজধানী প্রতিষ্ঠা করেছিল। সেই সময় হতে রাজবলহাট একটি বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখানকার রেশম তন্তু শাড়ি ও স্বর্ন গহনা প্রধান উৎপন্ন দ্রব্য।

টেরাকোটায় সমৃদ্ধ মন্দির, মাঠের মাঝে ১৭৪৪ এ তৈরি আটচালা রাধাকান্ত ছাড়াও মন্দির রয়েছে আরও অনেক এই রাজবলহাটে। আর আছে ★অমূল্য প্রত্নশালা।
★কবি হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের জন্মভূমি রাজবলহাটে।
দেবী রাজবল্লভী, যার নামে একটা গোটা গ্রাম রাজবলহাট।গোটা অঞ্চলের মানুষ দিন শুরু করেন মায়ের নামে।
★"চার চক চোদ্দ পাড়া তিন ঘাট এ নিয়ে রাজবলহাট।"
এখানে ১৪টি গ্রাম থালেও এই গ্রামে পূজেহয় তেরোটা।
কারণ একটা পাড়ায় শুধু মূসলমানদের বাস।

শুধু দুর্গাপূজো নয়, নিত্যদিন দেবী রাজবল্লভীর দর্শন এবং পূজোর জন্য নানা জেলা. শহর কলকাতা থেকেও যাত্রীরা অাসেন। ইংরেজ অামলে রেভিনিউ সংগ্রহের জন্য বাংলাকে নানা পরগনায় ভাগ করা হয়েছিল।
রেনেল সাহেবের ম্যাপে এই ডিহি.ভরসূট পরগনার উল্লেখ পাবেন। সেই সময়ে খুব সমৃদ্ধ ছিল এই গ্রাম।
তবে আজ অনেক কিছুই হারিয়ে গেলেও এখনও হারাননি "রাজবল্লভী মা"।
৫০০ বিঘা জমিকে দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে দান করেছিলেন ভূরশুট রাজারা দেবী রাজবল্লভীর মন্দিরের সেবায়। এই দেবীর মন্দির বর্তমানে সংস্কার করা হয়েছে।
এক সময় এই জনপদে জলপথই ছিল প্রধান পথ। সে পথেই কৃষি ফসল প্রধানত ধান, সবজী, পাট, তুলো এবং বিখ্যাত ★ভরসূটের তামাক নানা দেশে ছড়িয়ে পড়ত। এখন ও সব নেই। তবে রয়ে গিয়েছে রাজবলহাট গ্রামের বিখ্যাত শাড়ী। রাজবল্লভী দেবী এখানের তন্ত্তুবায়ীদের বোনা শাড়ী পরেন এখনও। রাত্রে শয়নে যাওয়ার অাগে দেবীর জন্য তামাক সেজে গড়গড়ার নলটি মুখের কাছে দেওয়া হয়।

রাধাকান্ত মন্দির, ঘটকতলা, রাজবলহাট, হুগলি,
রাজবলহাটে একাধিক প্রাচীন টেরাকোটা মন্দির আছে যার মধ্যে আঠেরোশো শতকে তৈরী রাধাকান্ত, মতান্তরে রাধাগোবিন্দ মন্দির ও শ্রীধর দামোদর মন্দির অন্যতম। এখানে অমূল্য প্রত্নশালা নামে একটি সংগ্রহালয় আছে।

কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, বাঙলার তালমিছরি শিল্পের জনক দুলাল চন্দ্র ভড়ের বাড়িও রাজবলহাট।

রাজবল্লভী কালীমন্দির,  দেবী রাজবল্লভী শ্বেত বা সাদা কালী নামে পরিচিতা। আদতে দুর্গা, কালী ও সরস্বতীর এক মিশ্র রূপ এই রাজবল্লভীর। ত্রিনেত্রা, মাথায় বিরাট মুকুট, নানা অলংকারে ভূষিতা, প্রসন্নবদনা দেবী। সাদা রঙের ব্যতিক্রমী কালী মূর্ত্তিটি মাটির তৈরী।
অদ্ভুত রূপ এই মন্দিরের মাতৃ বিগ্রহের। দেবীর বর্ণ ধবধবে সাদা;
রাজবলহাটে মা অধিষ্ঠিতা হন শ্বেতকালী রূপে আর পূজিতা হন দুর্গারূপে।
পাশাপাশি এই নতুন প্রতিষ্ঠিত জনপদের নাম হয় রাজপুর। পরবর্তীকালে সেই নাম দেবীর নামানুসারে কিছুটা পরিবর্তিত হয়ে হয়েছিল, রাজবল্লভীহাট। আর বর্তমানে আরও কিছুটা বদলে নাম হয়েছে, রাজবলহাট।
রাজবলহাট তাঁত শিল্পের জন্য বিখ্যাত। সে কারণে আজও এ অঞ্চলের তাঁতীরা প্রথমবার তাঁত বোনা শেখার সময় এবং নতুন কোনও ডিজাইন শুরু করার আগে দেবী মায়ের কাছে শাড়ি মানত করে থাকেন। অন্যদিকে প্রতিবছর দুর্গাপুজোর অষ্টমীর দিন প্রচুর মানতের শাড়ি জমা পড়ে মন্দিরে।

এই মন্দিরের ভোগ নিবেদনেও রয়েছে একটি চমকপ্রদ বৈশিষ্ট্য। এখানে দেবীকে সেদ্ধ ভোগ দেওয়ার প্রথা চালু। কথিত, বহুকাল পূর্বে একবার এক ভক্ত পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তিনি মায়ের ভোগ সাঁতলানোর গন্ধে মোহিত হয়ে মন্দিরে এসে হাজির হন। কিন্তু যে কোনও কারণেই হোক, মায়ের ভোগ পাননি তিনি। ফলে সেই রাতেই মা স্বপ্নাদেশ দেন। এবার থেকে যেন তাঁর ভোগ রান্না করার সময় আর সাঁতলানো না হয়, সেদ্ধ খাবার-ই যেন দেওয়া হয় তাঁকে। তবে সেদ্ধ পদ দেওয়া হলেও ভোগে কুচো চিংড়ির ঘন্ট থাকবেই। এছাড়া, দেবীকে গড়গড়ায় তামাক-ও নিবেদন করা হয় রোজ।

দেবী রাজবল্লভীর বিগ্রহ সম্পূর্ণ গঙ্গামাটি দিয়ে নির্মীত। ফলতঃ ১২ থেকে ১৪ বছর অন্তর দেবীর নবকলেবর ঘটে। অক্ষয় তৃতীয়ার দিন সেই মূর্তি স্থাপন করা হয়। মূল গর্ভগৃহ ছাড়াও মন্দির প্রাঙ্গণে মোট তিনটি আটচালা শিবমন্দির রয়েছে। ●ত্রম্বকেশ্বর, ●সোমেশ্বর আর একই মন্দিরে ●নন্দীশ্বর এবং ●রাজ রাজেশ্বর। ★এছাড়া একটি ষড়ভুজাকৃতি মন্দিরও রয়েছে, সেখানে অবস্থান করেন ●বানেশ্বর শিব। অন্যদিকে মন্দিরের ঠিক গায়েই ★একটি পুকুর— যা শাঁখারী~ নামে পরিচিত।

এক সময় এ জনপদে জলপথই ছিল প্রধান পথ। সে পথেই কৃষি ফসল প্রধানত ধান অার পাট, তুলো এবং বিখ্যাত ভরসূটের তামাক নানা দেশে ছড়িয়ে পড়ত। এখন ও সব নেই। তবে রয়ে গিয়েছে রাজবলহাট গ্রামের বিখ্যাত শাড়ি। রাজবল্লভী দেবী এখানের তন্ত্তুবায়ীদের বোনা শাড়ি পরেন এখনও। রাত্রে শয়নে যাওয়ার অাগে দেবীর জন্য তামাক সেজে গড়গড়ার নলটি মুখের কাছে দেওয়া হয়।

●রাজবলহাটের অমূল্য প্রত্নসালা:;-

১৩৪৮ সালে পন্ডিত অমূল্যাচরন বিদ্যভূষণের স্মৃতিরক্ষার্থে প্রতিষ্ঠিত হয়।

●হেমচন্দ্র স্মৃতি পাঠাগার ও অমূল্য প্রত্নশালা সম্বন্ধে সরকারী গ্রন্থ আছে।

●প্রাচীন শোলার ছবি।

●প্রাচীন বৌদ্ধযুগের দুইটি নিদর্শন 

পাথরের দুইটি মূর্তি।৬ইঞ্চিX৫ ইঞ্চি।


●রাজবলহাটে কবি হেমচন্দ্রের মর্মরমূর্তি।




=========================
■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■
  
2>আঁটপুরের টেরাকোটা মন্দির::---

আঁটপুর এক পুরানো গ্ৰাম,সেখানে মিত্র,ঘোষ,বোসেদের বাস। 
শান্ত, সুন্দর, নিরিবিলি পরিবেশ,
এমন সুন্দর মুগ্ধকর জায়গাতে শীত কালে দুই একদিন ঘুরেবেড়াবার সাথে ভারতের ইতিহাসকে কাছে থেকে জানতে উপযুক্ত জায়গা এই আঁটপুর।
চাইলে দুই একদিন এখানে থেকেও ভালোকরে আসে পাশের  ইতিহাস সমৃদ্ধ গ্রামগুলি দেখে নেওয়া যায়।
রাত্রি বাস,থাকা খাওয়ার জন্য সুন্দর ব্যবস্থা আছে আঁটপুর রামকৃষ্ণ মিশনে।
স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতিবিজড়িত আঁটপুরের রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন,
স্বামী প্রেমানন্দের (বাবুরাম ঘোষের পৈতৃক বাড়ি)
আর এখানেই আছে আঁটপুরের মিত্রবাড়ির রাধা গোবিন্দ মন্দির।
এই মন্দিরটি ১৭০৮শকাব্দে (১৭৮৬ খ্রিষ্টাব্দ) কৃষ্ণ রাম মিত্রএই মন্দির টি প্রতিষ্ঠা করে।পুরোটা গঙ্গা জল গঙ্গা মাটি দিয়ে তৈরি।এটি অন্যদিকে সর্বধর্ম সমন্বয়ে র মন্দির এই মন্দির টি পশ্চিম বঙ্গ এর ২য় বৃহত্তম টেরাকোটা মন্দির,এই মন্দিরের ভেতরে আছে বুলন্দ দরওয়াজা কাজ,চুন সুরকির উপর পঙ্খের কাজ,তাছাড়া আছে১০৮ টা পদ্মের কাজ, রাজস্থানের মিনেয়েচারের কাজ।বাইরে আছে বাবরের ছবি,রনমূর্তি চন্ডী তাছাড়া আছে রামায়ন মহাভারত এর ছবি ভীষ্মের শরশয্যা,মিশরের ফ্যারাও,মিশরের আনুবিস,কবীর গুরু নানক।আছে সাঁওতালি দুগ্গা,আছে জোবচার্নকের ছবি আছে পর্তুগিজ নৈকা,আছে সুমুদ্রগুপ্তের ছবি,আছে পলাশির যুদ্বের কামানের ব্যাবহার,আরো আছে অনেক ছবি বলে শেষ করা যাবে না।এই মন্দির তিনটি সত্বা নিয়ে তৈরি ব্যবলনিয় ,মিশরীয়,সুমেরীয়,।এই মন্দির এর উচ্চতা ১০০ফিট। এত বড় উচ্চতা য় কোন টেরাকোটা মন্দির নেই । এটি উচ্চতায় বাঁকুড়া বিষ্ণুপুর কে টেক্কা দিয়েছেন। এটি আবার বাবুরাম ঘোষের মামার বাড়ি। বাবুরাম এর মা ছিলেন এ বাড়ির মেয়ে।বাবুরাম পরে নাম হয় প্রেমানন্দ মহারাজ। তাছাড়া আছে পাশে ৫টি শিব মন্দির।আছে খড়ের চালের চন্ডী মন্ডপ এটা ও পুরানো,এই কৃষ্ণ মন্দির বানাতে কৃষ্ণ রাম এর ১লাখ টাকা পড়ে। যাইহোক এই মন্দির এর বয়স২৩৫বছর,এই মন্দির টি দেবোত্তর এস্টেট  এর তত্ত্বাবধানে, মন্দিরের দেখাশোনা মিত্ররা করে ,কিন্ন্ত শিল্প সংরক্ষণ এর দায়িত্ব রাজ্যের পুরা তত্ব বিভাগের হাতে। কিছু দিন আগে এই মন্দির সংস্কার করা হয়েছে।এই মন্দির কাছে পিঠে বেড়ানোর সেরা জায়গা।
এই মন্দির, আঁটপুর কেন সারা বিশ্বের কাছে গর্বের ব্যাপার।
শীত কালে বেড়ানোর পক্ষে উপযুক্ত জায়গা।
এই মন্দির খোলার সময়::--
সকাল১১টা থেকে ১ টা পর্যন্ত।
বিকেলে ৪.৩০ থেকে ৭.১০ পর্যন্ত।
         <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->
============================                                       
■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■

3>এক মহান পুণ্যতীর্থ আঁটপুর।

এইযে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন যা সত্যিকারের অজস্র কর্ম যজ্ঞ্যের শাখা প্রশাখা বিস্তার করে সমগ্র বিশ্বের মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে আর্তের সেবার নিমিত্তে,  ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে শহর বন জঙ্গলে, যেখানেই মানুষ অসহায় সেখানেই পৌঁছে যায় ।এখনো এগিয়ে চলছে  উদ্দাম গতিতে ।
সেই রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন রুপি মহান নদীর উৎসস্থল এই আঁটপুরের ঘোষদের দুর্গামন্ডপের সামনের ডান কোনের ধুনিমন্ডপ। সেই ধুনিমন্ডপ যে মন্ডপে
জগৎ-গুরু স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর আট জন গুরু ভাইদের সাথে একসঙ্গে সংকল্প  করেছিলেন।

মন্ডপের গাত্রে আছে স্বামী বিবেকানন্দ সহ নয়জন সংকল্প গ্রহণকারী সন্ন্যাসীর
খোদাই করা মূর্তি এবং তাঁদের চারদিকে টেরাকোটার শ্রীরামকৃষ্ণদেবের জীবনী ও রামকৃষ্ণ ভাবসম্ভার বিষয়ক উনপঞ্চাশটি টেরাকোটার মূর্তি ও  রয়েছে।
১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে ২৪ ডিসেম্বর অর্থাৎ ১২৯৩ বঙ্গাব্দের ১০ পৌষ, শুক্রবার রাত্রে
৯ জন শ্রী রামকৃষ্ণ শিষ্য সংকল্প গ্রহণ করেছিলেন।
১●নরেন্দ্রনাথ দত্ত----------
                   স্বামী বিবেকানন্দ।
২●বাবুরাম ঘোষ------------
                     স্বামী প্রেমানন্দ।
৩●শ্রী শরৎচন্দ্র চক্রবর্তী----
-                    স্বামী সারদানন্দ।
৪●শ্রী শশীভূষণ চক্রবর্তী----
                      স্বামী রামকৃষ্ণানন্দ।
৫●শ্রী তারক ঘোষাল--------
                       স্বামী শিবানন্দ।
৬●শ্রী কালীপ্রসাদ চন্দ্র-------
                        স্বামী অভেদনন্দ।
৭●শ্রী নিত্যরঞ্জন ঘোষ-------
                          স্বামী নিরঞ্জনা নন্দ।
৮●শ্রী গঙ্গাধর গঙ্গোপাধ্যায়--
                            স্বামী অখন্ডানন্দ।
৯●শ্রী সারদাচরণ মিত্র-------
                            স্বামী ত্রিগুণাতীতানন্দ।
<----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->
===========================
■■■■■■■■■■■■■■■■■■■

4>আঁটপুরের প্রাচীন চন্ডীমন্ডপের ইতিহাস::--

আঁটপুরের  প্রাচীন চন্ডী মন্ডপের ইতিহাস
বলতে গিয়ে প্রথমেই বলতে হয় আঁটপুর মিত্রবাড়ি ইতিহাস।
প্রাচীন সুবিশাল এই চন্ডী মন্ডপটি আঁটপুর মিত্রবাড়ি এষ্টেটের অন্তর্গত এবং এর  পেছনে বহু ইতিহাস জড়িয়ে আছে।
সে অনেক কাল আগের কথা। একসময়ে
৺কন্দর্প মিত্র মহাশয় কোন্নগর থেকে
আঁটপুর গ্ৰামে এসে থাকতে শুরু করেন।
তিনি ছিলেন শক্ত, অর্থাৎ শক্তির উপাসক।  তাই তিনি যেখানে বর্তমানে চন্ডী মন্ডপ সেখানে ছোটো করে খড়ের চালায় মা দুর্গা ও কালি পুজো আরম্ভ করেন। (ইংরেজি এর ১৬৮৩ খ্রিস্টাব্দে বাংলার ১০৯০ বঙ্গাব্দেব)। সেই কারনেই বলা চলে যে ১৬৮৩খ্রীঃ থেকে আজ পর্যন্ত আঁটপুর মিত্র বাড়ির  দুর্গা ও কালি পুজো নির বিচ্ছিন্ন ভাবে চলে আসছে ।                                                              অন্যদিকে তার নাতি ৺কৃষ্নরাম মিত্র নিজ গুনে বর্ধমান রাজার দেওয়ান পদ পাবার পর,তিনি ইংরেজি র ১৭৪৭ সালে (১১৫৪ বঙ্গাব্দে)এই চন্ডী মন্ডপের উপর একচালা তৈরি করেন,এই একচালাটি অনেকটা উল্টানো নৈকা এবং প্যাগোডা টাইপের ।এবং তার তলায় আঁটচালা তৈরি করেন।(যেখানে প্রতিমা তৈরি ও বরন হয়)।     কালের প্রভাবে এই একচালা চন্ডী মন্ডপ আজও ঝড়,জল বৃষ্টি কে তুচ্ছ করে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু অন্যদিকে আঁটচালা টি বাংলার ১২৭২ ঝড়ে ভেঙে যায়।                           
    এই আঁটপুর মিত্র বাড়ির খড়ের চালের চন্ডী মন্ডপ টি পশ্চিমবঙ্গের দারু শিল্পের (খড় ও কাঠ)শ্রেষ্ট নিদর্শন,এশিয়ার বিখ্যাত,এটি কাঁঠাল কাঠের চন্ডী মন্ডপ।কৃষ্ণ রাম মিত্র একচালা ও আট চালা চন্ডী মন্ডপ টি যখন করেন ,তিনি তখন কাঁঠাল কাঠের এক অপূর্ব পিলার তৈরি করেছিলেন এই একচালা টি কে ধরার জন্য এই পিলারে নানান ধরনের নকশা করান।
এ ছাড়া চন্ডীমন্ডপের ভিতরে নানান ধরনের ফুলের নকশা,সাহেব মেম দের ছবি, দুর্গা ও কালীর ছবি ,মেরীর কোলে যিশুর ছবি, সবমিলিয়ে এক অন্যরকম বেচিত্র্য আনেন। যা সকালে তথা আজকের সময়েও ভাবনার অতীত ।
কৃষ্ণ রাম তার দাদু কন্দর্প মিত্রর এই চন্ডী মন্ডপে এক অভূতপূর্ব  শিল্পকলার ব্যাবহার করেন যার মাধ্যমে তিনি  একে একে শাক্ত, বৈষ্ণব,শৈব্যর ছোঁয়া দিয়ে সকলকে এক আসনে বসিয়ে দিয়ে সর্ব ধর্মের মিলনের অপূর্ব এক কালজয়ী নজির সৃষ্টি স্থাপন করে যান ।
আঁটপুরের এই চন্ডী মন্ডপ টি দেবোত্তর এষ্টেটের ।এবং শিল্প সংরক্ষণ এর দায়িত্ব রাজ্য সরকারের প্রত্মতত্ত্ব বিভাগের অধীনে।
      এই চন্ডী মন্ডপে এবছর2023 সালে 340 তম বছরের দুর্গা পুজো ও কালি পুজো অনুষ্ঠিত হবে ।এটি এখন সংরক্ষণ এর জন্য রেলিং এর ব্যাবস্থা করা হয়েছে।
এমন ইতিহাস স্বচক্ষে না দেখলে মনকি ভরে! তাই আঁপুরের ভ্রমণ নিতান্ত প্রয়োজন।
    <-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী----->
============================

আটনপুরের মিত্রদের দেবালয়গুলি শিল্পের অক্ষরে লেখা বিশ্বায়িত ভাগবত গীতার রূপ লাভ করেছে।

ধর্মগ্রন্থ গিতায় আমরা জানতে পারি যে অর্জুনকে শ্রীকৃষ্ণ বিশ্বরূপ দর্শন করিয়েছেন।

এই আঁটপুরের  মহাত্মা কৃষ্ণরাম মিত্র

আজও বিশ্ব বাসীকে চাক্ষুষ বিশ্ব রূপ দেখিয়ে চলেছেন  আঁটপুরের তাঁর সৃষ্ট  টেরাকোটা শিল্পকর্মের মাধ্যমে।


আঁপুরের বাবুরামের বাড়ির মূল্যবোধ এবং চর্চা বেশ অন্যরকম ছিল। তাঁদের পূর্বজদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত লক্ষ্মীনারায়ণ শীলা এবং গঙ্গাধর শিবলিঙ্গের সেবাপূজা না হওয়া পর্যন্ত পরিবারের শিশু বা বৃদ্ধ কেউই জলগ্রহণ করতেন না। তাছাড়া 

বাবুরামের মা মাটঙ্গিনী দেবী ছিলেন সৎপ্রবৃত্তি আনয়নের ব্যাপারে আপোষহীন। উত্তরকালে স্বামী প্রেমানন্দ জানিয়েছেন-- " মার খুব কঠোর শাসন ছিল, মিথ্যা বল্লেই মার দিতেন।"স্বামী বিবেকানন্দ একবার বাবুরামকে বলেছিলেন----" এই যেসব ধর্মটর্ম দেখছিস এই সমস্ত কিছুই থাকবে না----

ঠাকুর সব খেয়ে ফেলবেন।"

শ্রী রামকৃষ্ণদেবও তাঁর তরুণ বয়সে আঁটপুরের মিত্রদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত মন্দিরগুলি ও তার গায়ে উৎকীর্ণ টেরাকোটার সংশ্লেষী আদর্শের সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন। সব ধর্মকে খেয়ে ফেলার কাজটির পেছনে আঁটপুর খুব সামান্য অংশ হলেও পূর্বসূত্র রূপে বিবেচিত হতে পারে।

এই সংশ্লেষণ শক্তির যে বিশেষ উত্তরাধিকার রামবাবু বা স্বামী প্রেমানন্দের মধ্যে ছিল তা প্রকাশিত হয়েছে তাঁর পূর্ববঙ্গ পর্যটন এবং আরো খকনো কখনো । ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহ, যাঁর সক্রিয় প্রচেষ্টায় মুসলিম লিগ স্থাপিত হয়েছিল বিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকে, আর যে মুসলিম লিগের সেই সলিমুল্লাহ স্বামী প্রেমানন্দের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা শীল ছিলেন। এমনকি  সলিমুল্লাহর গৃহের  পরদা নসিন মেযেরাও  স্বামী প্রেমানন্দের 

সাথে আলাপ পরিচয় করেন ও শ্রী রামকৃষ্ণদেবের প্ৰসঙ্গ সহ সর্বধর্ম সমন্বয়েকারী আদর্শের বিভিন্ন বিষয়ে প্রেমানন্দ নিজের অনুভ তাদের কাছে  ব্যক্ত করেন। এবং তাদের দেন ঠাকুরের প্রসাদ। তাঁরাও পরম শ্রদ্ধার সাথে সেই প্রসাদ গ্রহণ করেন।

এভাবেই ঢাকার মুশলিম নবাব পরিবারের সঙ্গে মাঠের এক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের সূচনা হয়। ওই পরিবারের নারীরা বেলুড়েও এসেছেন। আর সল্লিমুল্লাহের ভগিনী বেগম আমতারা বানু ঢাকায় রামকৃষ্ণমঠে তাঁর পিতা নবাব আসানুল্লার  স্মৃতিরক্ষার্থে  একটি গৃহ নির্মাণ করেন যা 'আসন-মঞ্জিল' নামে পরিচিত এবং সেই গ্রহ রন্ধনশালা হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

হিন্দু ধর্ম হেশেলে -- এই ভেদ বুদ্ধি দূর করার সেতু কিন্তু স্বামী প্রেমানন্দই।

বাবুরাম ঘোষ থেকে স্বামী প্রেমানন্দ হয়ে ওঠা এবং বিভিন্ন মহত্তর কার্যাবলী এভাবেই আঁপুরের সম্প্রসারিত ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠে।

           The END


No comments:

Post a Comment