পারিবারিক ভ্রমন কাহিনী
তিনচুলে -ও- চটকপুর
আদ্যনাথ রায় চৌধুরী
রোজ কত কি দেখি, কত কি ভাবি,কত কি মনেহয়--সব কি আর সত্যি হয়।কিছু ভুলে গিয়ে ,যেটুকু থাকে মনে হৃদয়ে যায় গেঁথে,সেইটুকু মনে রাখলেই অনেক হয়। নিতান্ত মনের কথা টুকু তো বলা যায়।
আজ ভ্রমন কাহিনী লিখতে বসে, বার বার সেই সেদিনের কথা মনে আসে। যেদিন আমরা বেড়াতে বেরিয়ে পড়েছিলাম, প্রকৃতির সাথে কিছু সময় কাটাতে, পাহাড় ঘেরা বিস্তীর্ন জঙ্গলের মাঝে শান্ত নিরালা ছোট্ট কটি গ্রাম, কিছু অতি সামান্য মানুষের বাস। শান্ত নির্মল পরিবেশ। নাই কোন প্ৰদূষণ,
আছে কেবল কিছু অজানা পাখির ডাক। আর মেঘেদের নানান ছন্দের খেলা। কখনো রোদ্দুর কখনো বৃষ্টি। শুধু মেঘেদের আনাগোনা। আর অতি সরল সুন্দর কিছু মানুষের সাথে ওদের পাশে বসে ওদের মতন করে খাওয়া। খাওয়া মানে বিশুদ্ধ অর্গানিক সাগ সবজি সহ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন বিশুদ্ধ খাবার খাওয়া। আর সমস্ত দিন রাত বিশুদ্ধ অক্সিজেন, বুক ভরে নিয়ে, নিজেকে সতেজ করে তোলা।
এমন সুন্দর পরিবেশ পেতে যেতে হয়নি, বেশি দূরে এইতো উত্তরবঙ্গের ছোট দুটি গ্রাম, দার্জিলিং এর খুবই কাছে, যেখানে এখনো মানুষ করেনি ভিড়। তাই শান্ত অনাবিল, নির্মল কোলাহল হীন। নিবিড় জঙ্গল শাল সেগুনের বন, মনে থাকবার মতন ঘন প্রশান্তির বন। মন প্রাণ ছুঁয়ে থাকবার মতন সুন্দর গ্রাম। তিনচুলে -ও- চটকপুর দুটি পার্বত্য গ্রাম।
ভ্রমন কাহিনী লিখতে আমি পটু নই। তবে যেটুকু দেখেছি বা অন্তর থেকে অনুভব করেছি সেই টুকুই শুধু লিখলাম।
ওই ট্রেনে যাত্রার বিবরণ লিখলাম না কারন কোলকাতা থেকে নিউজলপাইগুড়ি ট্রেনের
বর্ননা করার কিছুই নাই। কারণ অনেকেরই এই যাত্রার অভিজ্ঞতা আছে। তাই আমি ও সকল লিখে কাহিনীকে লম্বা করতে চাই না।
যে উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা সুদু সেই পাহাড় জঙ্গলের বিবরণ লিখলাম। তবে এবারের আমাদের ভ্রমণকে কোন ভ্রমন কাহিনী বললে ভুল হবে। এ এক নিরিবিলি তে শান্ত প্ৰদূষণ মুক্ত জঙ্গলে ঘেরা পাহাড়ে বসে প্রকৃতির সাথে মিশে যাওয়া। পাওয়ার মধ্যে আছে শান্ত স্নিগ্ধ নির্মল পরিবেশ । এখানে প্রকৃতি যেন মানুষকে জড়িয়ে ধরে। আদর করে তাঁর মেঘের ডানা দিয়ে ছুঁয়ে ছুঁয়ে। অপরূপ সেই দৃশ্য ও অভিজ্ঞতা যা ভাবলেও বয়সটা 20 বৎসর কমেজায়। সেই মেঘলা আকাশে অজানা পাখির ডাকে ঘন শাল সেগুনের গভীর বনে হারিয়ে যাওয়ার কয়েকটা দিন কে একটু ফিরে দেখা।
দুটোই দার্জিলিং ডিস্ট্রিক্টের ছোট ছোট পাহাড়ি গ্রাম। অতি শান্তি প্রিয় জায়গা। আরামে সকল প্ৰদূষণ থেকে মুক্ত নির্ঝঞ্ঝাট কিছু পাহাড়ি গ্রাম।যেখানে খুব কম মানুষই পৌঁছোয়। তাই মানুষের ভিড় নাই আছে কেবল অক্সিজেন পূর্ন বাতাস।সবুজ বনানী, মনোরম দৃশ্য মেঘের খেলা। নানা নাম নাজানা পাখির ডাক। সহজ সরল কিছু মানুষ ।আর প্রকৃতির সাথে মিশে যাওয়া বিশুদ্ধ অর্গানিক খাবার।
এমন প্রকৃতির সাথে দুই চার দিন কাটাতে
আমরা প্রথমে গেলাম তিনচুলে;;----
ছবির মতন সুন্দর তিনচুলে ।
তিন চুলে একটি ছোট পাহাড়ি গ্রাম ,দার্জিলিং ডিস্ট্রিকের , তিনচুলের উচ্চতা 5 হাজার 800 ফুট ,তিন চুলে কথার মানে তিনটি চুলা (উনুন )। উত্তরবঙ্গের এই অপূর্ব সুন্দর ও শান্ত স্নিগ্ধ পরিবেশ পার্বত্য অঞ্চলগুলো একবার দেখলে বার বার মনটানে গভীর আকর্ষণে।
এবারের টুরে আমাদের গন্তব্য ছিল তিনচুলে ও চটকপুর । তাই আমরা নিউ জলপাইগুড়ি থেকে রওনা দিলাম তিনচুলের উদ্বেশ্যে। আমরা চারজন ও আমাদের আদরের সানায়া কে নিয়ে। আর সুভব্রত পাল,ওর স্ত্রী শালিনী এবং ওদের বাবা, মা। এরা সকলেই আমাদের প্রিয়। সুভব্রতর মা, বাবার কথা কি আর বলবো।এই সুব্রতর মা বাবার সাথে অনেক ভ্রমন করেছি। আমেরিকাতেও ওনাদের সাথে অনেক ঘুরেছি । একটা কথা প্রাই শুনতাম মাটির মানুষ। এই মাটির মানুষ কেমন হয় সেটা নিয়ে একটু সংশয় ছিলো। সত্যি বলতে কি ওনাদের সাথে মিশে অনুভব করেছি হ্যাঁ মাটির মানুষ হয়। সত্যই ওনাদের পুরো পরিবারটা অমূল্য ধাতু দিয়ে গড়া। ওনাদের প্রশংসা যতই করি সেটা আসলে থেকে কমই হবে।
চিরদিন মনে রাখার মতন পরিবার।
যাইহোক এবারে আবার ফিরে যাই আসল কোথায়।
এন, জি, পি থেকে তিনচুলের দূরত্ব 73 কি মি। পথ বেশ খাড়াই, কিছুক্ষণের মধ্যেই অনেকখানি উচ্চতায় উঠে গেলাম পাক খেয়ে খেয়ে, রোমাঞ্চ আর উত্তেজনা নিয়ে আসে পাশের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে। গাড়ি চড়ে পাক খেতে খেতে পাহাড়ে চড়ার এই অভিজ্ঞতা যেকোনও বিনোদন কে হার মানায়। এই পাহাড়ি পথের সৌন্দর্য বদলে যাচ্ছিল বারবার- কখনও মেঘ মুক্ত আকাশের নীচে বিস্তৃত চা বাগানের সবুজ গালিচা বিছানো প্রাঙ্গন , কখনও আবার কালো মেঘেরা দিচ্ছে হানা। আলোছায়ার এক অপূর্ব খেলা। হঠাৎ করে একপশলা বৃষ্টি আমাদের গাড়ি ভিজিয়ে দিরে গেল যেন শহরের ধুলো বালি ধুয়ে পবিত্র করে নিল প্রকৃতি তার নিজের প্রয়োজনে।
দূর থেকে দেখলাম তিনচুলের অপরূপ দৃশ্য,যেন তিনটি বিশালাকৃতি চুলা ( উনুন )পরপর সারিদিয়ে দাঁড়িয়ে ,মেঘ গুলি তার উপরে ভেসে বেড়াচ্ছে , যেন প্রকৃতি জ্বালিয়ে দিয়েছে চুলা গুলি, তাই ধোঁয়া উঠছে। প্রকৃতির সৃষ্টির নিমিত্তে রান্না হচ্ছে। সেই অপরূপ দৃশ্য ভোলা অসম্ভব। আজীবন মনের গভীরে থাকবে গেথে।
মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা-মাখা পথের অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে পৌঁছলাম এবারের প্রথম গন্তব্যস্থল তিনচুলে-তে। উঠলাম গুরুঙ্গের গেস্ট হাউসে। জিনিসপত্র গাড়ি থেকে নামিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে, দেখতে থাকলাম আশে পাশের মনরম দৃশ্য।,
বারান্দায় এসে দেখি, সাদা মেঘের আস্তরণে পাহাড় তখন অবগুণ্ঠিত। বৃষ্টি এল বোধহয় এক্ষুণি, মেঘেরা বারান্দায় এসে সে কথাই বোধ হয় জানান দিয়ে গেল। কিছু বলতে চাইলো কানে কানে।
পাহাড়ের ধারেই এই গেস্ট হাউস, যারা আসেন তারা জানেন এই গেস্ট হাউজে নির্দিষ্ট সুস্বাদু খাবার অঢেল পরিমাণে পাওয়া যায় কিন্তু যা ইচ্ছে খেতে চাইলেই মিলবে না। তবে যেটুকু মিলবে তার স্বাদ গন্ধ অপূর্ব। এখানে যে ঘি পাবেন আশা করি এমন সুস্বাদু ঘি কোথাও মেলা ভার. তারপর সকল সাগ সবজি সবই বিশুদ্ধ অর্গানিক। এখানে সকালে পুরি-সবজি বা ব্রেড-টোস্ট, ডিম, দুপুরে কাঁসার থালায় গরম ভাত, ঘি,আলুভাজা, মাছভাজা। মাছ টা বেশ বড় কাতলা মাছ ছিল, পাহাড়ে এমন কাতলা মাছ ভাবা যায়না ,ওরা বললো নীচের বাজার থেকে গাড়ি করে আনিয়ে রেখেছে,অন্য কোন মাছ পাওয়া যাবেনা। ডাল, সবজি, জিভে জল আনা আচার আর পাঁপড় ভাজা। রাতে রুটি, ডাল, সবজি, সুস্বাদু তরকারি ,পাঁপড় ভাজা, আচার। সন্ধে বেলা মোমো, পকৌড়া, চা, সবই অরগ্যানিক । পাহাড়ে বেড়াতে এর থেকে বেশি কিছু কি চাওয়ার থাকতে পারে।
আর ওই যে বলেছি এখানকার ঘি, অপূৰ্ব স্বাদে গন্ধে,যা হয়তো মনে থাকবে চিরকাল। তিন বেলাই চাইলেই পাওয়া যাবে। যতটা খুশি ঘি খান। ওরা আদর করে খাওয়ায় ঘি। সত্যিই সুন্দর ঘি।
কতই সুখ্যাতি গাইনা কেন ঐ ঘি য়ের স্বাদে গন্ধে সকল সুখ্যাতি ই কম পড়বে।
পরের দিন গাড়ি করে গেলাম তাকদা অর্কিড বাগানে, বিখ্যাত রঙ্গলি রঙ্গলিয়ত চা বাগানে আর তিস্তা ভিউ-পয়েন্টে, চা বাগান গুলি লেমন গ্রাস দিয়ে ঘেরা । ওরা বলেন লেমন গ্রাস থাকলে নাকি সাপ আসেনা। দেখলাম কত রকমের পাখি। এইসকল পাখির নাম জানিনা ,তবে এদের সৌন্দর্য ভোলার নয়। কতো সুন্দর সুন্দর অর্কিড দেখতে পেলাম যা আগে দেখিনি।
বিখ্যাত রঙ্গলি রঙ্গলিয়ত চা বাগান রাস্তার দু’ধারে ছড়িয়ে আছে সবুজ ঢেউয়ের মতো। মাথার কাঁটার মত তিস্তার সর্পিল বাঁকগুলো উঁচু থেকে দেখে যতটা রোমাঞ্চিত হতে হয়।
তবে তিস্তাকে পাহাড়ি নদী বলে চেনাই মুশকিল। নদীটা তার রূপ রস হারিয়ে শুধু স্মৃতির বোঝা নিয়ে অসহায় পঙ্গু হয়ে টিকে আছে।
এখানকার ভিউ-পয়েন্টগুলো নিরিবিলি প্রত্যেকটি জায়গার সৌন্দর্য মনকে ভীষণ ভাবে আকৃষ্ট করে বেঁধে রাখতে চায়। পাহাড়ি উপত্যকা, রোদমাখা পাহাড়ের কোলে ছায়া-ছবি, বৃষ্টির পরে রোদ ওঠা ঠান্ডা হাওয়ার সাথে স্নিগ্ধ আকাশের হালকা ছোঁয়া, আজীবন মনে থাকবে।
পরের দিন ভোর বেলা উঠেই গিয়েছিলাম সানরাইজ ভিউ পয়েন্ট এর টাওয়ারে।
সানরাইজ দেখে অনেক ছবি তুলে ফেরার পথে বুদ্ধিস্টদের মনস্ট্রি দেখে গেস্ট হাউজে ফিরলাম।
একজন বুদ্ধিস্টের সাথে আলাপ হোল তিনি নাকি সেই তিব্বত থেকে পাহাড়ে পাহাড়ে হেটে হেটে রাস্তায় সবকটি মনস্ট্রি হয়ে আজ দীর্ঘ আড়াই বৎসর পথ চলে প্রত্যেক টি মনস্ট্রিতে কিছু দিন করে থেকে এখানে পৌঁছেছেন এখানে কদিন থেকে আবার রওনা দেবেন। ওনার ইচ্ছা সমগ্র ভারত পায়ে হেটে ভ্রমন করবেন।
যাইহোক আমরা আরও দুইদিনে এখানকার ,নানান জাত ও রংযের পাখি ,কমলালেবুর বাগান ,টকডা বাজার ,টকডা অর্কিড সেন্টার , চা বাগান, তিস্তা বাঁধ,দুরপিন ধারা। সকল একে একে দেখলাম। তবুও মন ভরলোনা। কিন্তু সময় অল্প তাই ফিরতেই হোল।
তিনচুলে থেকে আমরা এবার রওনা দিলাম চটক পুরের উদ্দেশ্যে।
চটকপুর ----
চটক পুরের উচ্চতা 7887 ফুট। ( নিউজলপাইগুড়ি থেকে সোনাদা 60 কিমি। সোনাদা থেকে মাত্র 7 কিমি দূরে চটকপুর আবার দার্জিলিং থেকে 19 কিমি দূরে টাইগারহিলের কাছে। ) তিনচুলে থেকে চটক পুর 57 কি মি। সত্যি চটকপুর প্রকৃতির স্বর্গ উদ্যান।
আমরা Eco Tourism এর কটেজে উঠলাম।এই গুলি দেখাশুনা করে বনদপ্তর । এখনকার মেনেজার বিনোধ রাই। অতি ভদ্র খুব ভালো মানুষ। এখন থেকে কাঞ্চনজঙ্গা র অপরূপ দৃশ্য সত্যি লোভনীয়।
সানরাইজ ভিউ পয়েন্ট তো আছেই। এখানে সামান্য কিছু মানুষের বাস,কয়েকটি মাত্র ছোট ছোট গ্রাম পাহাড়ের ঢালে ঢালে আর হাতে গোনা কজন মানুষ। কিন্তু অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য। চারদিক পাহাড়ে আর সোনাদার জঙ্গলে ঘেরা 18/19 টা ঘর নিয়ে ছোট গ্রাম চটকপুর। পাইনের জঙ্গল ঘেরা, নিঝুম, নিস্তব্ধ রাস্তা দিয়ে পাখির ডাক শুনতে শুনতে মন হারিয়ে যায়, আর উত্তর দিকে কাঞ্চনজঙ্ঘা, সকাল সকাল পায়ে হেঁটে ভিউ পয়েন্টে টাওয়ারে উঠে সূর্যোদয় দেখলে মনটা এমনিই সারাদিন ভালো থাকে।
জঙ্গলেরভেতরে ছোটএকটাপোখরি ( জলাশয় )আছে, জন্তুরা আসে জল পান করতে। এই জলাশয়ে Salamander দেখতে পেলাম ওই পোখরিতে।
(Salamanders are a group of amphibians typically characterized by a lizard-like appearance, with slender bodies, blunt snouts, short limbs projecting at right angles to the body, and the presence of a tail in both larvae and adults. All present-day salamander families are grouped together under the scientific name Urodela. Salamander diversity is most abundant in the Northern Hemisphere and most species are found in the Holarctic ecozone, with some species present in the Neotropical zone.)
পোখরিটা বিশেষ বড় নয় ছোট একটু জলাশয়। ওই জলাশয়ের মাঝখানে একটি বড় কালো পাথর পাখিরা এসে ওই পাথরে বসে জল খায়। আর পশুরা তো চারী ধারে জল খেতে আসে।
গভীর জঙ্গলের মাঝে জলাশয়, সবসময়েই গাছের পাতা গুলি জলে পড়ছে। কিন্তু অদ্ভুত সেই পাতা গুলি সবই আস্তে আস্তে পারের দিগে এসে যায় ফলে জলাশয় টির মাঝখানে কখনই কোন পাতা বা নোংড়া থাকে না। তবুও গ্রামের মানুষেরা মাঝে মাঝে ওই জলাশয় পরিষ্কার করে।
এরপর এখান কার খাওয়া দাওয়া এমন সুস্বাদু খাবার পৃথিবীর কোথাও পাওয়া যায় বলে মনে হয় না।
তবে হ্যা মাছ মাংস পাওয়া মুশকিল। খাবার যা পাওয়া যায় সবই অর্গানিক। বিশুদ্ধ অর্গানিক।
এখানকার মানুষ গুলোও যেন অরিজিনাল অর্গানিক। কত সহজ সরল ভাবা যায় না।
আর মানুষ গুলির শক্তি সামর্থ অপরিসীম। 70/80 বৎসরের বৃদ্ধ পিঠে 50 কিলো বোঝা নিয়ে অনায়াসে পাহাড়ি রাস্তায় চড়াই উৎরাই বেয়ে চলে অনায়াসে। যে পথে আমরা খালি হাতে চলতেই হিমশিম ,
(এ খান থেকে টাইগার হিলে ক্লাইমব করবার রাস্তা আছে। প্রয়োজনে এই গ্রামেই শেরপা পাওয়া যায়।)
ওরা সেইপথে চলে অতি সহজে রোজ সকাল বিকেল। এখানকার বাসিন্দারা রাই অথবা শেরপা গোষ্ঠীর এরা অর্গানিক ফসল চাষ করে সাথে বিভিন্ন ঔষধির চাসও করে।
এখানে দেখলাম একটি প্রাইমারি স্কুল যেখানে মাত্র দুই জন ছাত্র আর একজন শিক্ষক যিনি রোজ 12 কিলোমিটার চড়াই পথ চলে পড়াতে আসেন। তবে একটাই কথা নীরব, নিরিবিলি পাহাড় জঙ্গল আর কাঞ্চনজঙ্ঘার মধ্যে নিজেকে খুঁজে পেতে চাইলে এবং ফ্রি তে বিশুদ্ধ অক্সিজে পেতে চাইলে যেতে হবে চটকপুর কোনো বিলাসিতার টানে নয়।
এবার আমাদের ফেরার পালা।
ফিরতে হবেই তাই ফিরে চললাম এন,জি, পি স্টেশন এর দিকে । ফিরে এলাম একবুক অক্সিজেন আর কিছু স্বর্ণালী স্মৃতি নিয়ে ।
<--©--●অনাথ●--->
【= --anrc-02/10/2018--】
【=:04:15:22 pm=】
【=তেঘড়িয়া=কোলকাতা -59=】
No comments:
Post a Comment